Now Reading
ধর্ষণ নিয়ে বিতর্ক মানেই পোশাক বনাম দৃষ্টিভঙ্গি।দায়ী কোনটি?



ধর্ষণ নিয়ে বিতর্ক মানেই পোশাক বনাম দৃষ্টিভঙ্গি।দায়ী কোনটি?

গত কয়েকদিন ধরেই দেশের অন্যতম এক আলোচনীয় বিষয় হলো ধর্ষণ।

আসলে গত কয়েকদিন না।এর আগেও কয়েকবার এই টপিক নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছিল দেশ।এইতো সেদিন তনুকে ধর্ষণ ও হত্যা করে কিছু নরপশু।যদিওবা আজ পর্যন্ত এর বিচার পাবার মতো কোনো প্রক্রিয়া আমরা দেখতে পারিনি।তাই যা হবার তাই হচ্ছে।পুনরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিছুদিন আগে।তবে এবার আর কাউকে তনুর মতো প্রাণ দিতে হয়নি।তবে যা ক্ষতি হয়েছে তা পূরণীয় নয়।একই সাথে এইসব বিষয় জানান দিচ্ছে জাতি ক্রমাগত অবক্ষয় এর।

তবে আজকের টপিকটা একটু ভিন্ন।এখানে আমরা আলোচনা করবো এইসব ধর্ষণের কারণ কি?কি মনে করে এসব নিয়ে এখনকার সমাজ?কেমন চিন্তাধারা প্রদর্শন করছে আমাদের তরুণ-তরুণীরা?চলুন দেখি তারা কি ভাবে আর তাদের চিন্তা কতটুকু ঠিক বা ভুল।

কিছুদিন ধরে দেখলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বর্তমান সময়ে কোনো ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন এর কোনো টপিক উঠলেই শুরু হয় কাঁদা ছোড়াছুড়ি।ছেলেদের অধিকাংশ স্বাভাবিক ভাবে বা বরাবরের মতোই মেয়েদের পোশাক নিয়ে কথা বলে।অনেকে আবার ‘বোরকা’ পড়ার এডভাইস দেয়।আবার অনেকে বলে অন্তত হিজাব পড়া উচিত।

ছেলেদেরকে দিয়েই শুরু করি যদিও আমরা বলি ‘লেডিস ফার্স্ট’।উপরে লিখিত কথাগুলো বেশিরভাগ ছেলেই বলে থাকে।অনেকে আবার এসবের সাথে কিছু বাণী জুড়ে দেয়।আমি তাদের বলবো তাদের কথা ঠিক তবে যুক্তিসংগত নয়।বোরকা,হিজাব এসব কিছুই হয়ে দাঁড়াবে না যখন আপনার উদ্দেশ্য হবে পিশাচ এর মতো।যখন আপনি নারীর মর্যাদা দিতে না পেরে তার পোশাকের উপর আঙুল দেবেন।নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা খারাপ উদ্দেশ্যকে সামলাতে না পেরে হামলা করে বসবেন একজন নিরীহ মেয়ের উপর?কোথায় বলা আছে এমন পাষণ্ড টাইপ কাজ করার কথা?নিজেকে সামলে রাখার মতো শক্তি কি আমাদের দেয়া হয়নি?আমরা কি এতই কাপুরুষ যে গায়ের জোঁড়ে মায়ের জাতির সম্মানহানি করবো?

আমি কিছুদিন আগে এই টাইপের কমেন্টকারী কয়েকজনের ফেসবুক আইডি ঘুরে আসি।তাজ্জব হয়ে যাই তাদের টাইমলাইন,ছবির কালেকশন দেখে।বেশিরভাগ ব্যক্তির সাথেই অসংখ্য মেয়ে আইডির যোগ রয়েছে।তবে এসব মেয়ের কোনো ছবিতেই তাদের বোরকা পড়া অবস্থায় দেখলাম না।তবে চিন্তা করে দেখুন ওই ব্যক্তির চিন্তাধারা কতটা মারাত্মক।আমাদের যুবসমাজের বেশিরভাগ এর এই অবস্থাই চলছে।নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির কথা না বলে দায় চাপিয়ে দিচ্ছি আরেকজনের ঘাড়ে।আমাদের ছেলেদেরই কাতুকুতু বেশি।আর যাই বলুন এটা বিশ্বাস করাই লাগবে।আমরা যদি নিজেদের দৃষ্টি বা নজর ঠিক রাখি তবে কখনই এমনটা হতো না।

আমার কথার সাথে অনেকেই একমত হতে নাও পারেন।আবার অনেকে অনেক নীতিকথা বলে নিজের পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিতে পারেন।তবে আমি একটা কথাই বলবো নিজের দিকটা ঠিক রাখলে এমন পাপের কর্ম কখনো হতো না।তাই দোষটা আমাদের অর্থাৎ ছেলেদেরই নিতে হবে।কারণ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক থাকলে এমন কাজ হওয়া প্রায় অসম্ভব।

এবার আসি মেয়েদের ব্যাপারে।মেয়েদের আমি তেমন কোনো দোষ দেবো না।তবে আমি জানিনা কোন কারণে একদিনের জন্য আমরা পহেলা বৈশাখ,পহেলা ফাল্গুনসহ আরো কয়েকখানা দিন পালন করি।এখনকার জেনারেশান মানে আমরা সত্যি বলতে একটু উপভোগ করার জন্য দিনগুলোতে রাস্তায় নামি।কাজে দেশের কোনো সংস্কৃতি-ঐতিহ্য এর ধার ধারি না শুধু দিনগুলো আসলেই নানান সাজে নিজেদের উপস্থাপন করি বাঙালি হিসেবে।এসবের কোনো মূল্য নেই।দিনরাত পশ্চিমা সংস্কৃতির পেছনে দৌড় দিতে দিতে আজ আমরা ওয়েস্টার্ন জগতে পা দেয়ার চেষ্টা করছি।আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা বাঙালি।আমাদের আছে গৌরবের এক ঐতিহ্য।একজন জিন্স-শার্ট পড়া বাঙালি মেয়ের চাইতে শাড়ি পড়া বাঙালি মেয়েকে দেখতে আরো বহুগুণ সুন্দর লাগে।বিশ্বাস না হলে দয়া করে একবার যাচাই করে দেখবেন।বাঙালির গৌরবকে ধরে রাখা আমাদেরই কর্তব্য।তাই আমাদের পশ্চিমা অশ্লীলতাকে ছুঁড়ে ফেলে নিজেদেরকে একদিনের নয় চিরদিনের বাঙালি করে তুলতে হবে।তবে আমি মানুষের নিজ ইচ্ছাকে শ্রদ্ধা করি।তাই কেউ সেই পশ্চিমাদের ফলো করতে চাইলে তার প্রতি সমবেদনা এইযে তার কোনো সৌন্দর্য এর মাধ্যমে অন্তত প্রকাশ পাবে না।কারণ বাঙালির সৌন্দর্য বাঙালির সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যতেই লুকিয়ে আছে।যদি আপনি এখন পর্যন্ত ইউরোপ-আমেরিকান মডেলদের ফলো করে এসে থাকেন আর যদি ভেবে থাকেন আপনি নিজের সৌন্দর্যতা প্রকাশ করছেন।তবে আফসোস আপনি এই কাজটিতে ব্যর্থ।

আমি একজন সাধারণ বাঙালি।ধর্ষণ এর মতো কাজ আমার জন্য অপমানের।কারণ এই কাজ দ্বারা আমার মায়ের জাতির উপর কেউ আঘাত এনেছে বলেই আমি মনে করি।আমি ঘৃণা করে তাদের যারা বলে নারী কেবল তার পোশাকের কারণেই ধর্ষিত হয়।খারাপ লাগে এইসব কথা শুনে।কোন সমাজে থাকি আমরা যেখানে নারীকে বিবেচনা করা হয় তার পোশাক দিয়ে?আপনি আজ পোশাকের সমালোচনা করছে কয়দিন পর আপনার বোন বা মেয়েকেই ওই পোশাকে দেখা গেলে আপনি ভেবে দেখুন আপনার মতো লোকেরা কি ভাবতে পারে মনে মনে।ভাগ্যিস বিজ্ঞানীরা এখনো মানুষের প্রতি সেকেন্ডের চিন্তাধারা জানার মতো কোনো প্রযুক্তি তৈরি করতে পারেনি।নইলে সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন আমাদের কি হতো।

পরিশেষে বলতে চাই ধর্ষণ বিতর্কে পোশাকের ব্যাপারটা প্রায় নিরর্থক।কারণ ধর্ষণের মতো নিকৃষ্ট বিষয় থেকে আজ ছোট বাচ্চারাও রেহাই পাচ্ছে না।এই সবই আমাদের অর্থাৎ ছেলেদের নৈতিক অবক্ষয় আর অশ্লীলতাকেই আমাই দায়ী করি।আর মেয়েদের বলবো ভারতীয় বা পশ্চিমা রঙ ঢং ছেড়ে জাতির ঐতিহ্যকে কাছে টেনে নিতে হবে।বাঁচাতে হবে দেশের সংস্কৃতি।

নিজেরা এভাবে চলতে পারলেই হয়ত একদিন আমাদের দেশে ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে না।করতে হবে না তনুর মতো মেয়েদের ধর্ষণ আর হত্যার বিচারের জন্য অপেক্ষা।

“বদলে যেতে হবে আমাদেরই”

About The Author
ih imon
2 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment