Now Reading
বাহুবলি ২ রিভিউ ও অজানা তথ্য



বাহুবলি ২ রিভিউ ও অজানা তথ্য

এই বছরে সবচেয়ে আলোচিত সিনেমার নাম ”বাহুবলি ২ – দ্য কনক্লুশন”। সিনেমাটি ইন্ডিয়া সহ সাড়া বিশ্বে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সিনেমাটির পরিচালনা করেছেন এস এস রাজামৌলি । তার বানানো আরোও কয়েকটি ব্লকবাস্টার সিনেমার নাম Makkhi,Magadheera ইত্যাদি। বাহুবলি দ্য বিগিনিং মুভি মুক্তি পায় ২০১৫ সালে এবং সেখানে কাটাপ্পা বাহুবলিকে খুন করে সিনেমার সমাপ্তি ঘটায় এভাবে অসমাপ্ত রেখেই। আর সেখান থেকেই শুরু হয় দর্শকদের মনে উত্তেজনা। কেন কাটাপ্পা বাহুবলিকে মারলো ? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য দর্শকদের অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ ২ টি বছর। অবশেষে চলতি বছরের ২৮শে এপ্রিল এই অপেক্ষার অবসান ঘটে । যদিও বাহুবলি ২ সিনেমা ২০১৬ সালের শেষের দিকে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিলো আর তা পরে ২০১৭ সালের ১৪ এপ্রিলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অবশেষে ২৮শে এপ্রিলে মুক্তি পায়।

এই সিনেমা তৈরীতে খরচ হয়েছে ২৫০ কোটি রুপি এবং তা বর্তমানে এই সিনেমার আয় ১ হাজার ৫০২ কোটি ছাড়িয়েছে।

বাহুবলি

বাহুবলি

সিনেমার সারসংক্ষেপঃ বাহুবলি ১ এর যুদ্ধে অমরেন্দ্র বাহুবলি এবং ভল্লালদেবের পারফোরম্নেস দেখে শিবগামী দেবী বাহুবলিকে রাজা ঘোষণা করেন এবং ভল্লালদেবকে সেনাপতি ঘোষণা করেন।
সিনেমায় অমরেন্দ্র বাহুবলি কাটাপ্পার সাথে রাজ্য ভ্রমনে বের হয় এবং ভ্রমনের সময় কুন্তল রাজ্যের রাজকুমারী দেবসেনার প্রেমে পড়ে যায়। সেখানে সে নাম বদলে শিবা সেজে বোকার অভিনয় করে। কাটাপ্পা এবং অমরেন্দ্র বাহুবলি কিছু অজুহাত দিয়ে কুন্তল রাজ্যে থাকার অনুমতি নিয়ে নেয়। দেবসেনা অমরেন্দ্রর চলাফেরা এবং স্বভাব দেখে সন্দেহ পোষণ করে। সে কিছুটা আন্দাজ করতে পারে বাহুবলি বোকা নয় বরং সে একজন বড় বীর। এক সময় দেবসেনাও অমরেন্দ্র বাহুবলির প্রেমে পড়ে যায় এবং একসময় এক যুদ্ধের মাধ্যমে দেবসেনা প্রমাণ পায় বাহুবলি একজন বড় বীর। শুধু তাই নয়, সে মহেশমতি সম্রাজ্যের রাজপুত্র। অবশেষে দেবসেনা অমরেন্দ্র বাহুবলির সাথে মহেশমতি সম্রাজ্যে রওনা হয়। সেখানে দেবসেনাকে নিয়ে শিবগামী দেবী এবং অমরেন্দ্র বাহুবলির মধ্যে ভুল বোঝাবোঝি সৃষ্টি হয়। পুরোটাই থাকে ভল্লালদেবের ষড়যন্ত্র। এতে বাহুবলিকে রাজ্য অথবা দেবসেনা যেকোনও একটা বেছে নিতে বলা হয়। অমরেন্দ্র বাহুবলি তার দেওয়া কথা রক্ষা করতে দেবসেনাকেই বেছে নেয় এবং এরপর বাহুবলির উপর চলতে থাকে একটার পর একটা ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রের কারণে বাহুবলীকে প্রথম তার সেনাপতি পদ থেকে এবং পরে রাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হয়।
একসময় শিবগামীকে বিশ্বাস করানো হয় যে অমরেন্দ্র বাহুবলি রাজত্বের লোভে ভল্লালদেবকে হত্যার চেষ্টা করেছে। এ কথা শুনে শিবগামীদেবীর ত্রোধ আরোও বেড়ে যায়। সে ক্রোধের বশে কাটাপ্পাকে আদেশ করে যেন সে বাহুবলি কে হত্যা করে । কাটাপ্পা হুকুমের গোলাম হওয়ায় তার অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বাহুবলিকে হত্যা করে। অবশেষে শিবগামী যখন তার ভুল বুঝতে পারে তখন তার অনেক দেরী হয়ে যায় । শিবগামীদেবী তার ভুল শোধরানোর জন্য অমরেন্দ্র বাহুবলির সন্তান মহেন্দ্র বাহুবলিকে রাজা ঘোষণা করেন এবং নিজের জীবনের বিনিময়ে মহেন্দ্র বাহুবলির প্রাণ রক্ষা করে।

বাহুবলি ও দেবসেনা

বাহুবলি ও দেবসেনা

ছবির পেছনে ছবির গল্পঃ
বাহুবলি সিনেমায় ভল্লালদেবের যে মূর্তিটি দেখা গিয়েছে তা কোনও VFX দ্বারা নির্মিত নয়। কারণ তারা ছবিটিকে আরও বাস্তবমুখী করতে চেয়েছিলো দর্শকের কাছে এবং তারা সফলও হয়েছে। বাস্তবে প্রায় ২০০জন ইঞ্জিনিয়ারের তত্ত্বাবধানে নির্মিত। যার ওজন প্রায় ৮ হাজার কেজির উপরে এবং উচ্চতা ১২৫ ফুট প্রায়। সিনেমাটিতে বিশ্বমানের VFX ব্যবহার করা হয়েছিলো। যাতে প্রায় ১৭ টি কোম্পানির মোট ৬০০ লোক কাজ করেছিলো। আরও অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই সিনেমার ঝর্ণার দৃশ্যটি ধারণ করতে মোট সময়ের বেশ কিছু সময় এই জায়গায় ব্যয় হয়েছে। ধারনা করা হয়, প্রায় ১১০ দিনের উপরে লেগে গিয়েছিলো এই অংশটির কাজ করতে। এটিই ভারতের একমাত্র সিনেমা যার জন্য একটি জাদুঘর বানানো হয়েছে। এতে থাকবে সিনেমায় ব্যবহৃত জিনিসপত্র। যা কিছুদিনের মধ্যেই উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে জনসাধারণের জন্য। সিনেমাটি সারা বিশ্বের ৯ হাজার হলে মোট ৮টি ভাষার উপরে ভিত্তি করে দেখানো হয়েছে। বাহুবলি ১ সমাপ্ত হওয়ার পর বাহুবলিতে এতটাই গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছিলো যে, সিনেমার কলাকুশলীরাও জানতো না যে পরবর্তী ঘটনা কি হতে পারে ! প্রথমে শোনা যাচ্ছিল যে, ছবিতে অভিনয় করার জন্য ঋত্বিক ও জন আব্রাহাম কে প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল কিন্তু তাদের অন্য ছবি নিয়ে ব্যস্ততা থাকার কারনে এই ছবিটি আর করা হয়ে ওঠেনি । এই ছবিটি ভারতের অন্যতম একটি ছবি যা আইমাক্স এ মুক্তি দিয়েছে । আর মুক্তির আগে ছবিটি সফল হয়েছে তার ট্রেলার দিয়ে । ইউটিউব এ প্রথম দিন থেকে প্রায় আজকের দিন পর্যন্ত ৬ কোটির ওপরে দেখা হয়েছে ।
আমার মতামতঃ সিনেমার মধ্যে অমরেন্দ্র বাহুবলির (প্রবাস) প্রবেশ মুহূর্ত ছিলো অসাধারণ। বাহুবলির প্রবেশের পর পরই শুরু হবে একটি গান যা ঐ মুহূর্তে বিশেষ প্রয়োজন ছিলো। এবং সিনেমার ২৩ মিনিটের দিকে প্রবেশ করবে রাজকুমারী দেবসেনা (অনুশকা)। সাথে থাকবে পিন্ডারিদের বিরুদ্ধে নায়িকা, নায়ক এবং কাটাপ্পার ভরপুর রোম্যান্টিক অ্যাকশন। যা দর্শককে মুগ্ধ করবে। সিনেমায় মামা-ভাগিনা (অমরেন্দ্র বাহুবলি এবং কাটাপ্পা)র সম্পর্ক এমন ভাবে দেখানো হয়েছে যেন বাহুবলি হত্যার মুহূর্তে দর্শকের মন তাদের নিজেদের অজান্তে কেদে ওঠে। বাহুবলির ২ তে অমরেন্দ্র বাহুবলির কৌশল ছিলো অসাধারণ। যার ৩ভাগের ১ ভাগও ছিলো না বাহুবলি ১ এ। বাহুবলি ২তে শিবগামী দেবীর অভিনয় ছিলো প্রশংসনীয়।

About The Author
Rohit Khan fzs
বি.এস.সি করছি ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। লিখতে ভালবাসি। নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করি।
4 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment