পাবলিক কনসার্ন

ব্যর্থতায় ভরা জীবন ও সফলতা . . .

আমার এই আর্টিকেলটি এক ব্যর্থতায় ভরা জীবনে সফলতার গল্প নিয়ে। জীবন যখন ব্যর্থতায় জর্জরিত হয়ে যায়, বেঁচে থাকার ইচ্ছা যখন একদম হারিয়ে যায় তখন কি ভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় তাই বলব আপনাদের।

তিনি জন্ম গ্রহণ করেন ৫ সেপ্টেম্বর ১৮৯০ সালে। কোন কিছু বুঝতে শিখার আগেই তাঁর বাবা মারা গেলেন। যখন তাঁর বয়স ৫ বছর তখন তাঁর বাবা মারা যান। এত অল্প বয়সেই তিনি হয়েছিলেন পিতৃহারা। আর জীবনে তাঁর কঠিন সময়ের শুরু হয়তো এখানেই। অতঃপর স্কুলে ভর্তি হলেন। কিন্তু বেশি দিন পড়াশুনা হল না তাঁর। ১৬ বছর বয়সে স্কুল ত্যাগ করলেন। জীবন যখন তাঁর প্রতি নিষ্ঠুর তখন তাঁর বয়সী অন্য সবাই যা করে তাঁর আর সেটা করা হল না। জীবনের তাগিদে তাঁকে ছারতে হয় স্কুল।

নানা ধরণের কাজের খোঁজ করতে থাকেন তিনি। বার বার কাজ পেয়েও যখন হারাতে হয় তখন তখন সেটাকে কি বলা চলে? ভাগ্য নাকি ব্যর্থতা? ১৭ বছর বয়সে তিনি চারটি জব পেয়েও ব্যর্থ হন। তাঁকে সবগুলো চাকরি হারাতে হয়। জীবন যুদ্ধে যখন বার বার হারতে থাকেন তখন ঠিক করলেন তাঁর একজন সঙ্গী প্রয়োজন। হয়তো জীবনে ব্যর্থতা গুচবে এই ভেবে। পরের বছরেই তিনি বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। তিনি ১৮ বছর বয়সে Josephine King নামের একজন ভদ্র মহিলাকে বিয়ে করে ঘরে আনেন।

অতঃপর তিনি সংসার চালানোর জন্য পুনরায় কাজের খোঁজ করতে থাকেন। তিনি একজন রেইলরোড কনডাক্টর হিসেবে কাজে নিয়োজিত হন। কিন্তু ভাগ্য এবারও সহায় হয় না। তিনি আবারও ব্যর্থ হন। তিনি ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকার আর্মি তে যোগ দেন। সেখান থেকেও তাঁকে ওয়াশ আউট করা হয়। তিনি আবারও ব্যর্থ হন। জীবন যখন তাঁর হলুদ সরষে ফুল কি করবেন ভেবে উঠতে পারছেন না। তিনি ভর্তি হলেন Law  স্কুলে। উকালতি নিয়ে পরাশুনা করে উকিল হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। কিন্তু পরাশুনা করবে তো দূরে থাক তাঁর ভর্তি রিজেক্ট করা হল। ভাবলেন একজন বীমা প্রতিনিধি হয়েও যদি পরিবারের ভরণপোষণ করাতে সক্ষম হতে পারেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনি সেটাও করতে পারলেন না। আঠার থেকে বাইশ বছর পর্যন্ত তিনি এত সব কাজ খোঁজেন এবং বরাবরের মতো বার বার ব্যর্থতায় পর্যবষিত হন।

অন্যদিকে তাঁর সংসার আরো বড় হয়। তাঁদের পরিবারে একটি সুন্দর ফুটফুটে মেয়ে জন্ম নেয়। উনিশ বছর বয়সে তিনি পিতা হন। কিন্তু সংসার যেখানে চলে না সেখানে তিনি কি করে তিনজন মানুষের খাবার যোগাবেন? তাঁই তাঁর স্ত্রী তাঁদের ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে তাঁকে ছেড়ে চলে গেলেন। বিশ বছর বয়সে তিনি একদম একা হয়ে যান।

অতঃপর খেয়ে বা না খেয়ে দিনানিপাত করতে থাকেন। চলতে থাকে তাঁর দিন। তিনি একজন বাবুর্চি ও ডিশ ওয়াশার হিসেবে একটি ছট্ট ক্যাফে তে কাজের জন্য যোগ দেন। আর দিন যাপন করতে থাকেন। তিনি এতটাই ব্যর্থ যে তিনি তাঁর মেয়েকে কিডন্যাপ এর হাত থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন। তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছে ফিরে যান তাঁকে ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য। কিন্তু এই ক্ষেত্রেও তিনি আবার ব্যর্থ হন।

জীবনে তাঁর কেটে গেল অনেক গুলো বছর। ৬৫ বছর বয়সে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অবসরগ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি ১০৫ ডলারের একটি চেক হাতে পান। কিন্তু সরকার বলে তিনি তাঁর কাজের সঠিক যোগান দেন নি, তাই কষ্ট সইতে না পেরে তিনি সুইসাইডের পথ বেঁছে নিতে বাধ্য হন।

তিনি তাঁর অছিয়তনামা লিখছিলেন একটি গাছের নিচে বসে। কিন্তু হঠাৎ তিনি ভাবলেন তাঁর স্ত্রীর সাথে সবকিছু সম্পন্ন করা দরকার। তিনি অনুধাবণ করতে পারলেন তাঁর এখনো অনেক কাজ বাকী পড়ে আছে। তিনি ভাবলেন এমন একটি কাজ আছে যা তিনি অন্য যে কোন মানুষের চেয়ে খুব ভালোভাবে করতে জানেন।

আর সেটা হচ্ছে কিভাবে রান্না করতে হয়। তিনি তাঁর চেক এর বিপরীতে প্রায় ৮৭ ডলার ধার করেন সরকারের কাছ থেকে। তিনি কিছু মুরগী কিনেন এবং সেগুলো কে ভাজি করেন তিনি তাঁর নিজস্ব রেসিপি ব্যবহার করে। তিনি তাঁর প্রতিবেশিদের কাছে এবং মানুষের দরজায় দরজায় যান নিজস্ব রেসিপিতে তৈরী করা খাবার বিক্রয় করার জন্য। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি অনেক জনপ্রিয়তা পেয়ে যান।

যে লোকটি ৬৫ বছর বয়সে সুইসাইড করতে উদ্ধ্যত হন, তিনি ৮৮ বছর বয়সে Colonel Senders যিনি Kentacky Fried Chicken ( KFC ) এর প্রতিষ্ঠাতা। উনার পুরো নাম Colonel Harland David Senders. যিনি পরবর্তীতে একজন কোটি পতি হন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই তাঁর কোম্পানীর ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হন। তিনি ১৯৮০ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মৃত্যু বরণ করেন।

আর এটিই হচ্ছে আমার সফলতার গল্প। তাই জীবন যখন শেষ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় তখন আবার ঘুরে দাঁড়ানো শিখতে হয়। নতুন করে শুরু করা শিখতে হয়। আর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনার মনোভাব ( Attitude )। কখনো পিছপা হবেন না। Never give up. No matter how hard to get it. You have what it takes to be SUCCESSFUL and go for it. Also make a DIFFERENCE. সবসময় মনে রাখবেন সফল আপনাকে হতেই হবে যেকোন মুল্যে। আর সফল হতে যা কিছু করা প্রয়োজন আপনি সেটা করতে সর্বদা প্রস্তুত থাকবেন। মনে রাখবেন জীবন একটাই, আর সময় একবার ই আসে। আর ব্যর্থ হলে অবশ্যই ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। অধ্যবসায় সকল সফলতার মূল চাবিকাঠি।

কষ্ট করে ধৈর্য্য নিয়ে পুরোটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

সাবধানতার মোড়কে যৌনতার ডামাঢোল

Rajib Rudra

একের রক্তে অন্নের জীবন, গড়ে উঠুক আত্তার বন্ধন

Ashraful Kabir

অনলাইনে পরিচয়, অতঃপর….

nasrin shahid

2 comments


Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208
johirul islam May 26, 2017 at 7:49 am

koster majhe shukh lukiye thake


Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208

Warning: trim() expects parameter 1 to be string, object given in /nfs/c12/h08/mnt/215533/domains/footprint.press/html/wp-includes/class-wp-user.php on line 208
Rubiks_Cube May 26, 2017 at 9:19 am

Hm….

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: