বাংলাদেশ পরিচিতি

একদিয় ঘুরে আসুন ঝর্না, সমুদ্র আর পাহাড়

ভালোবাসা আর বাংলাদেশ একটি আরেকটির পরিপূরক ।ভালোবাসার আরেক নাম বাংলাদেশ । বাংলাদেশের সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ না করে পারবে না ।

বাংলাদেশ ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে শীত কাল । কিন্তু কিছু কিছু সময় আর কিছু কিছু জায়গা শীত কাল থেকে বর্ষা কালে অপরূপ সৌন্দর্যে সেজে থাকে আমাদের জন্য । আবার এমনো দেখা গিয়েছে কিছু জায়গা বর্ষা কালে এক রকম আর শীত কালে আরেক রকম । যেমন জাফলং । আপনি যদি বর্ষা কালে গিয়ে থাকেন তাহলে জাফলং এর যেই রূপ দেখবেন ঠিক শীত কালে তার বিপরীত রূপ দেখবেন । আসলে প্রকৃতির সাথে খেলা করে আরেক প্রকৃতি ।

আজ আমি এমন একটা জায়গার কথা বলবো আপনি ইচ্ছা করলে ১ দিনের ভিতর খুব কম খরচে ঘুরে আসতে পারবেন পাহাড় , সাগর . ঝর্ণা , ইত্যাদি । কি ভাই বিশ্বাস হচ্ছে না । না হবারি কথা। আসলে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ ভ্রমণ সম্পর্কে আমার জ্ঞান এখনো অনেক কম । চলুন আজ আমি আমার অভিজ্ঞতার কথা বলবো আর আপনিও চাইলে আমার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারেন ।

আপনি যদি একদিনে পাহাড় সাগর ঝর্ণা দেখতে চান তাহলে ঘুম থেকে উঠে সায়দাবাদ আসতে হবে সকাল ৬ টার মধ্যে । আপনি চট্টগ্রাম গামী যেকোনো বাসে উঠে পড়ুন । আমি উঠে পড়লাম এস আলম । তাদের সেবা মোটামুটি ভালো মানের । ভাড়া নিবে ২৫০ টাকা নয়াদুয়ারী মসজিদ বললে আপনাকে তারা সেখানে নামিয়ে দিবে । সকাল সকাল রওনা দিলে আপনি জ্যাম থেকে মুক্তি পাবেন । আমাদের বাস ছাড়লো ৭.২০ মিনিটে । আমরা ১ ঘন্টার মধ্যে ঢাকার বাহিয়ে চলে আসলাম মানে তখন আমরা কুমিল্লায় প্রবেশ করবো । আসার পথে আপনাকে মুগ্ধ করবে সোনারগাঁ এর অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ । আর আপনি যদি এখন হাইওয়ে রোড এ উঠেন তাহলে দেখবেন রাস্তা আগে থেকে অনেক বড় হয়েছে সেই সাথে রাস্তার দুই পাশে গাছ লাগিয়ে সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে । কিছুক্ষনের মধ্যে আমরা চলে আসলাম মেঘনা ব্রিজের উপরে । জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম নদী ও রোদের খেলা । পানিতে রোদ পড়ার সাথে সাথে পানি চিক চিক করছিলো আর সেই পানি ভেদ করে সামনের দিকে এগিয়ে চলছে অনেক নৌকা আর ট্রলার । আসতে আসতে আমরা পৌঁছে গেলাম ফেনী । মানে আমাদের যাত্রা প্রায় শেষের পথে । ফেনী চৌরাস্তা থেকে বরাবর সামনে গিয়ে একটি খাবার হোটেলে বাসটি থামালো আমরা নেমে নাস্তা করলাম না । কারণ আর কিছুক্ষন পর নেমে যাবো । যেখানে নামবো সেখান নাস্তার দাম কম । আমরা শুধু হাত মুখ ধুয়ে নিয়েলাম । ২০ মিনিট পর বাস ছাড়লে আমরা ৪৫ মিনিট পর পৌঁছে গেলাম । তখন ঘড়িতে বাজে ১১.৩০ মিনিট । আপনি যদি আরো ভোরে রওনা দেন তাহলে আপনার জন্য ভালো হবে । সেখানে নেমে নাস্তা করে বের হয়ে গাইড ভাড়া করলাম ২৫০ টাকা দিয়ে । দামাদামি করে নিবেন তা না হলে আরো টাকা বেশি যাবে । সেখানে ১ টার মধ্যে আপনি নাপিত ছড়া ঝর্ণা ও আসে পাশের পাহাড় ঘুরে দেখতে পারবেন । সবচেয়ে ভালো হবে আপনি যদি বর্ষা কালে যেয়ে থাকেন তাহলে । কারণ বর্ষা কালে ঝর্ণাতে পানি বেশি থাকে । ১ টার ভিতর আপনি মন ভরে পাহাড় আর ঝর্ণা দেখতে পারবেন । সেখান থেকে বের হলে আপনি লেগুনা দেখতে পাবেন । লেগুনাতে আপনি উঠে পড়ুন । লেগুনা সীতাকুন্ড যায় । সীতাকুণ্ডে নেমে আপনি ১৩০ টাকার মধ্যে খুব ভালো দুপুরের খাবার খেতে পারবেন । আমি তাই করলাম । খাবার শেষ করে একটি রিকশা ভাড়া করে সীতাকুন্ড ইকো পার্কার ভিতরে চলে গেলাম । ভাড়া নিলো ৬০ টাকা । ইকো পার্কার ভিতরে আপনার টিকিট কেটে ঢুকতে হবে । আমরা ভিতরে গিয়ে একটা সি এন জি নিয়ে নিলাম । ভাড়া পড়লো জন প্রতি ৫০ টাকা । সি এন জি আপনাকে সহস্রধারা পযর্ন্ত নিয়ে যাবে । আমরা যাওয়ার সময় সিএনজি করে গেলেও আসার সময় হেটে আসছি । কাৰণ এতে যেমন টাকা বাঁচলো ঠিক সময় ও । আপনি সহস্রধারা তে গেলে দুইটি ঝর্ণা দেখতে পাবেন একটি সহস্রধারা আরেকটি সুপ্ত ধারা আপনি বিকেল ৪ টার মধ্যে দেখা শেষ করে বের হয়ে আসুন । ইকো পার্ক থেকে মূল রাস্তায় আসতে ভাড়া পড়বে ৫০ টাকা । মূল সড়ক থেকে সামনে এগিয়ে গেলে আমরা দেখতে পেলাম কিছু লেগুনা দাঁড়িয়ে আছে । তারা বাঁশখালী সৈকত বলছে । উঠে পড়লাম বাঁশখালী সৈকত এ যাওয়ার জন্য । আপনি যখন বাঁশখালি সৈকত এর উদ্দেশ্য রওনা দিবেন তখন রাস্তার আসে পাশে দেখতে পাবেন অসংখ্য ছোট বড় পাহাড় ।

বাঁশখালী সমুদ্র
বাঁশখালী সমুদ্র সূর্য ডুবে যাওয়ার দৃশ

dsc_0239.jpg

 

বিকেল ৪.৩০ এর মধ্যে আপনি পৌঁছে যাবেন সেখানে । বাংলাদেশের বাঁশখালী এক মাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে আপনি সমুদ্র এর মাঝে প্রায় অর্ধেক কিলোমিটার হেটে সমুদ্রের মাঝে যেতে পারবেন । সেখানে এক ধরণের রাস্তা বানিয়ে রেখেছে যেন আপনি সমুদ্রর বুকে দাঁড়িয়ে সমদূরকে আরো কাছ থেকে দেখতে পারেন । আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম সেই রাস্তার উপর । ঢেউ যেন আমাদের পায়ের কাছে আসে আছড়ে পড়ছে । সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা সূর্যাস্ত দেখলাম । খুব সুন্দর ছিল সেই দৃশ । মনে হচ্ছিলো সমুদ্রের মাঝে ডুবে যাচ্ছে সূর্যটি । সমুদ্র দেখা শেষ হলে আপনি সেখানে ঢাকা গামী বাস পাবেন উঠে পড়ুন । ভাড়া আগেরটাই নিবে । রাস্তায় জ্যাম না থাকলে পৌঁছে যাবেন ১১ টার মধ্যে । আমাদের ১১ টা বেজেছিল আসতে । আমাদের জন প্রতি খরচ হয়েছিল ১৩০০ টাকার মতো ।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

সূর্য উদয়ের দেশ কুয়াকাটা – কুয়াকাটা ভ্রমণ

Rohit Khan fzs

১০৯তম আসরে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলী খেলা

MP Comrade

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কিছু তথ্য

MD GOLAM KIBRIA SAWON

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy