পাবলিক কনসার্ন

ভয়াবহ ট্র্যাফিক জ্যাম

বাংলাদেশ বিশ্বের একটি সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ট্র্যাফিক জ্যাম দেশের প্রধান সমস্যা, বিশেষত ঢাকা এবং চট্টগ্রাম জেলা এই সমস্যা অনেক বেশি। ঢাকা একটি মেগা সিটি এবং ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। ঢাকায় ১২ লাখেরও বেশি মানুষ বাস করে এবং ঢাকার জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে । সুতরাং, এই বিশাল জনসংখ্যার দ্বারা তৈরি হচ্ছে অনেক সমস্যা। প্রতিদিন সাত লাখ রিক্সা ঢাকার রাস্তায় চলাচল করে এবং এই বিপুল সংখ্যক রিক্সা শহরে ভিতরে একটি ট্র্যাফিক জ্যাম তৈরি করছে কিন্তু মাত্র ৭৫ হাজার রিক্সার রয়েছে আইনি নম্বর বা সরকারি নথি ভুক্ত । সময়ে সময়ে অনেক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে এই সংখ্যা কমাতে কিন্তু উদ্যোগ সাধারণত কোন ফলাফল নিয়ে আসেনি ।

ট্রাফিক জ্যাম ঢাকা শহরের একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। ট্র্যাফিক জ্যাম আমাদের বাণিজ্য ও বাণিজ্য বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত। অফিস বা স্কুলে যাওয়ার জন্য যদি আমরা বাড়ি থেকে বের হই তাহলে আমরা জ্যামের মুখোমুখি হতে পারি এবং জ্যামের কারণে কেবল মাত্র ২০ মিনিটের পথ দুটি ঘন্টা লাগতে পারে।

আমি ঢাকায় বাস করছি, আমার বাসা থেকে মাত্র ২0 মিনিট দূরে আমার বিশ্ববিদ্যালয়, কিন্তু প্রতিদিন ক্লাস শুরু হওয়ার ২ ঘন্টা আগে আমি আমার বাসা থেকে বের হই কারন ভয়াবহ  ট্র্যাফিক জ্যাম । এই  ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামের কারণে, বেশিরভাগ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে প্রায় ২ ঘন্টা সময় লাগে । তাই আমরা আমাদের গন্তব্য পৌঁছাতে আরো সময় প্রয়োজন হয় এবং আমরা আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে থাকি।

ট্র্যাফিক জ্যামের জন্য আমরা আমাদের কাজ সময় মত শেষ করতে পারি না তাতে আমাদের শিল্প-বাণিজ্য অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, যার কারনে আমরা যথাসময়ে পণ্য ও সামগ্রী সরবরাহ করতে পারি না। যদি আমরা শহরের অন্য কোথাও যেতে চাই তবে রাস্তায় দিনের অর্ধেক সময় ব্যয় করতে হবে। একই সাথে এটি আমাদের পরিবেশ দূষিত করেছে কারণ অনেক যানবাহন একসঙ্গে জড়ো হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে শব্দ ও বায়ু দূষণ ।

5-20140712RajibDhar85983_0.jpg

কেন তৈরি হচ্ছে এই ট্র্যাফিক জ্যাম???

ঢাকা শহরের ভেতর ঘন ঘন জ্যাম সৃষ্টি করার জন্য রয়েছে অনেক কারণ। অবৈধ পার্কিং ট্রাফিক জ্যাম এর জন্য একটি প্রধান কারণ । আমরা প্রায় সময় দেখি যেকানে সেখানে গাড়ি,সিএনজি, রিক্সা, বাস ইত্যাদি পার্কিং করে রেখেছে আর এই পার্কিং এর কারনে তৈরি হচ্ছে ট্র্যাফিক জ্যাম । ভুল ট্রাফিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত জনশক্তি ,সংকীর্ণ রাস্তার, এবং ড্রাইভারের ওভারটেক করার মানসিকতা তৈরি করেছে যানজট এবং পাশাপাশি জনসাধারণকে নিমজ্জিত করে ভ্রমণকারীদের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দেয়। বাস ড্রাইভার বেশিরভাগই এই ট্র্যাফিক জ্যামের জন্য দায়ী এবং তারা ট্র্যাফিক নিয়ম এবং সিগন্যালগুলির ব্যাপারে বেশির ভাগ সময় নিয়ম মানছে না। ভিআইপি প্রোটোকল রক্ষণাবেক্ষণ রাস্তায় ঘন ঘন ট্রাফিক জ্যামের আরেকটি কারণ এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলির বিভাজক সমস্যা কারনেও ট্র্যাফিক জ্যাম হয়ে থাকে । এছাড়া, ওয়াক্স অ্যান্ড সিউর অথরিটি (ওয়াসা), ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই অথরিটি (ডিইএসএ), টেলিফোন এবং টেলিগ্রাফ সংস্থার কোনও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়া একই রাস্তায় অবৈধ গাড়ি পার্কিং এবং অপরিকল্পিত সড়ক খনন করা অসম্ভব ট্রাফিক জ্যামের জন্য দায়ী। ঢাকায় যে কোনও রাস্তাঘাট সিএনজি, রিকশা, বাস, ইত্যাদি একাধিক লাইন তৈরি করে কারন সবাই আগে যেতে চায়, কিন্তু একটি  ক্ষুদ্র স্থান দখল করার জন্য নিদারুণ হতাশা হয়ে পরে এবং সেই কারনেই যানযট আরো বেড়ে যায় ।

Behavioral বিজ্ঞানীরা একটি পরিক্ষায় দেখেছেন যে একজন মাণুষ কোন ভিড়ের মধ্যে অবস্থান করে তখন সে যদি তার কাজ করতে না পারে তাহলে সে আক্রমনাত্মক আচরণ প্রদর্শন করে। ঠিক একি রকম ভাবে একজন চালক যখন রাস্তায় গাড়ি চালায় কিন্তু যানযটের কারনে কোন দিকে যাওয়া সম্ভব না তখন চালকরা রাস্তার মাজে একাধিক লেন বা একটি ক্ষুদ্র স্থান দখল করার জন্য নিদারুণ হতাশা হয়ে পরবে । অতএব, ঢাকার পথচারীরা,রিক্সাচালক, সিএনজি ড্রাইভার, ভ্যান চালক এবং বাস / ট্রাক ড্রাইভারদের সব লক্ষণীয় আগ্রাসন এবং অন্যের অধিকার কে উপেক্ষা করে কোন নিয়ম না মেনে একটি ছোট ফাঁকা স্থানের জন্য প্রতিযোগিতা নেমে যাওয়াটা কোন বিস্ময়কর ঘটনা নয় ।

 

ট্রাফিক জ্যাম কমাতে আমরা যা যা করতে পারি

কিছু পদক্ষেপ অনুসরণ করলে আমরা একরকম ট্র্যাফিক জ্যাম হ্রাস করতে পারি, তবে আমরা স্থায়ীভাবে এটি সমাধান করতে পারব না ।

  • যদি আমরা সত্যিই এই সমস্যার সমাধান করতে চাই, তাহলে বিকেন্দ্রীকরণ সবকিছুই আবশ্যক। আমাদের শিল্পোন্নতির উপজেলা ভিত্তিক হওয়া উচিত এটা মহানগরী শহরগুলির উপর নির্ভর করা উচিত নয়। কারন সব কলকারখান যদি একটা মহানগরী শহর গুলোতে হয় তাহলে সে খানে মাণুষ সেশি থাকবেই আর যেখানে মাণুষ বেশি সেখানে গাড়িও বেশি। তাই আমাদের উচ্চিত সব শিল্প-কারখানা গুলো মহানগরীতে না হয়ে উপজেলা ভিত্তিক হওয়া উচিত ।
  • একটি ভাল গণপরিবহন ব্যবস্থা যা মানুষ সহজে পেতে পারে তাহলে ট্রাফিক জ্যাম কমে যাবে ।
  • যদি সম্ভব হয় শহরের প্রধান রাস্তার পাশে একটি রিক্সা এবং সাইকেলর রাস্তা তৈরি করা এবং ঢাকা শহরের প্রধান সড়ক থেকে রিক্সা প্রত্যাহার করা ।
  • একটি ভাল ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন গাড়ির জন্য লেন তৈরি করা এবং কঠোরভাবে এটা বজায় রাখা।
  • জিব্রা ক্রস এবং ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার করুন।
  • আইন মেনে চলা

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

“পাহাড়ের কান্না” এই সংকট নিরসনে আমাদের করণীয় কি ?

Rajib Rudra

সড়ক নিরাপদ হবে কবে?

MP Comrade

A Race To GPA5

Rajib Rudra

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy