Now Reading
অশ্লীলতার পক্ষে যারা আছে… (১ম পর্ব)



অশ্লীলতার পক্ষে যারা আছে… (১ম পর্ব)

সাত কোটি  (এখন ১৭ কোটি) সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী,রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি – কথাটা দিয়েই শুরু করলাম ফুটপ্রিন্টের প্রথম লেখাটা। করার পেছনে যথেষ্ট কারনও আছে। শুরু করার আগে কিছু ফ্যাক্টস। জানেন কি? আমাদের দেশে অশ্লীলতার পক্ষে আন্দোলন হয়? ধর্ষনের পক্ষেও লোক কথা বলে? পুত্রের ধর্ষককান্ডে পিতা গর্বিত বোধ করে? এই ফ্যাক্টস গুলো যদি না জেনে থাকেন, তাহলে বলতে হয় “বোকার স্বর্গে বাস করছেন আপনি। বের হয়ে আসুন সেই জগত থেকে, এখনই।

অশালীনতা, অশ্লীলতা – এই ব্যাপারগুলো আসলে কোথা থেকে আসে? ধরুন আপনার সদ্য টিনেজ বয়স পার করা সন্তান, বয়স ধরেন ১৯/২০, সেই ছেলে যদি হয় অশ্লীলতার আইকন অথবা একই ঘরানার মানুষদের দলপতি বা সেনাপতি, তাহলে সেই ছেলের এই হালের জন্য আসলে দায়ী কে হবেন? পরিবেশ নাকি আপনি অর্থাৎ তার বাবা-মা? অতিরিক্ত আদরে নষ্ট করে ফেলেছেন নিজের প্রিয় সন্তানকে? আর সেই নষ্টের জন্য কি আপনি গর্বিত হবেন নাকি ব্যাথিত হবেন? অবশ্য ব্যাপারটা সম্পূর্ন আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। আর এটিও নির্ভর করবে আপনার বাবা-মা আপনাকে কিভাবে গড়ে তুলেছেন।

পরিবার…… খুব গুরুত্বপূর্ন একটি ইন্সটিটিউশন। যেখানে একাডেমিক শিক্ষা হয়তো দেয়া হয় না কিন্তু ভাল মানুষ হবার সমস্ত বেসিক আসে পরিবার থেকে। আপনি হতে পারেন কোটি টাকার মালিক,  কিন্তু আপনার নষ্ট করে গড়ে তোলা সেই সন্তানই একদিন আপনাকে ডুবিয়ে মারবে। হয় ভাতে, না হয় ইজ্জতে।

কারা আছে অশ্লীলতার পক্ষে? আমাদের দেশে অশালীনতা, অশ্লীলতার পক্ষে আছে অনেকেই! নিয়মিত সাপোর্ট করে এমনকি এধরনের গ্রুপ আছে, কর্পোরেট আছে, আছে বিশাল টিম, তাদের সেনাপতি, আছে লিলিপুট সাইজের “মাস্টারমাইন্ড” যারা বুক ফুলিয়ে এই বাংলার রাস্তায় রাস্তায় হেটে বলে বেড়ায় “তাদের নগ্ন কাজে তাদের পরিবারের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সাপোর্ট। রীতিমত গর্বে গর্বিত। এদের আবার আছে অগনিত শুভাকাঙ্খী। এরা আবার নিজেদের সমাজের এলিট শ্রেনীর লোক মনে করেন এবগ্ন হয়তো সেটিও। আসলে এলিট শ্রেনী বলতে কি আসলে কি বোঝায়? একটু হালকা টাকা পয়সা থাকা নাকি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া। নীতি থাকা, বিবেক থাকা। কোন ধরনের সন্তান আপনার পছন্দ? যে সন্তানকে টাকা দিয়ে শিখিয়েছেন কিভাবে নষ্ট হতে হয় এবং কিভাবে বংশ পরিচয় শেষ করতে হয় নাকি সেই সন্তান আপনার পছন্দ যাকে নিয়ে আপনি সত্যিকারের মানুষ হবার গর্ব করতে পারেন।

কিন্তু, দুঃখের বিষয় এই যে, আজকাল নষ্ট হয়ে যাওয়া ছেলেকে নিয়েই অনেক মানুষের অনেক বেশী গর্ব। কয়েকদিন ধরে খেয়াল করলাম বাংলাদেশের অনলাইন বা ইন্টারনেট বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অশ্লীলতার দাপট। মাস ছয়েক আগে বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট কিছু ফেসবুক গ্রুপের পেছনে উঠে পড়ে লেগেছিল অনলাইন পর্ন ভিডিও বন্ধ করার জন্য। সেসময় গ্রেফতারও করা হয়েছিল অনেককেই। মনে করেছিলাম, যাক কাজ হয়েছে। এবার আর এমন হবে না। কিন্তু বিধি বাম। আসলে এগুলো আরো বেশী ছড়িয়েছে। ফেসবুক ছেড়ে এখন ইউটিউবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে এগুলো বাংলাদেশের মান-সম্মান নষ্ট করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। নষ্ট হচ্ছে ভাবমূর্তি। ইউটিউব ছেয়ে গেছে নোংরা ভিডিওতে। ফেসবুকও। এসব করছে একদল চ্যাংড়া ছেলের দল যারা নিজেদের “ইউটিউবার” বলে দাবী করে। তারা তাদের এই অশ্লীলতাই পক্ষে সর্বদা সোচ্চার। তাদের আবার একটা কমিউনিটিও আছে যাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্মতি দিয়ে আসছে তাদের অভিভাবকগন। একটা টিভি চ্যানেলেরও নাম শোনা যাচ্ছে। যাও হোক, প্রথম সারির কয়েকটা টিভি চ্যানেল ছাড়া বাংলাদেশের আর কোন টিভি চ্যানেল অন্তত আমার দেখা হয় না। তাই এ নিয়ে আমার মাথাব্যাথা নেই।

তবে আমার ব্যাথাটা অন্য জায়গায়। সেটি হলো, আমি আপনাদের জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনি কি নিশ্চিত আপনার সন্তান সুপথে আছে? আপনি কি ১০০% নিশ্চিত? হয়তো উপরে উপরে মনে হতেই পারে, ভেতরে হয়তো আরেক। হয়তো মহা দাপটে অশ্লীলতার স্লোগান গাইছে আপনার ছেলে। হয়তো ইভটিজিং করছে বা করছে ধর্ষন। হয়তো আপনার অনেক টাকা কিন্তু আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলের তো শেষ রক্ষা হলো না। অন্যদের যে হবে তার কি কোন গ্যারান্টি আছে? বাংলাদেশে অশ্লীলতা, অশালীনতা, কুরুচিপূর্ন কন্টেন্ট অনলাইনে ছড়িয়ে যারা এখন বাংলাদেশে “বাহবা” কুড়াচ্ছে, জানেন তাদের বয়স কত? ১৭-২০ বছরের মধ্যেই। যে বয়সে তাদের স্কুল-কলেজ বা ভাল কোন ইউনিভার্সিটিতে পড়ার কথা, সে বয়সে তারা অশ্লীলতার স্লোগান গেয়ে তাদের পিতা-মাতা, পরিবার এবং বংশকে গর্বিত করে তুলছে সেই সাথে দেশকে একেবারে তলায় নামি আনছে। এরাই কিন্তু দেশের ভবিষ্যত। এরাই ভবিষ্যতে হবে দেশের নেতা, বা বড় ব্যবসায়ী বা সিনেমা মেকার বা কোন টিভি চ্যানেলের মালিক। এইসব অশিক্ষিত এবং অনেক ক্ষেত্রে কুশিক্ষিত মানুষগুলোর কাছ থেকে তখন আপনারা কিই বা আশা করবেন? ওয়েল, বি রেডি মাই ফ্রেন্ডস, বিকজ, থিংস আর এবাউট টু গো ডার্টি। এরা নিজেদের অশ্লীলতার কারিগর মনে করে, অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে উলটো তাদের গালমন্দ করে, মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আচ্ছা, তাদের বাবা-মা বা অভিভাবকরা কি সাপোর্ট করে? যেভাবে তারা বলে? গতকাল দেখলাম এক ইউটিউবার যে কিনা অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কথা বলে বেশ নাম কামিয়েছে, তাকে নাকি জীবন নাশের হুমকি সহ অনেক কিছু দেয়া হয়েছে। আমার কথা হলো, এই ব্যাপারগুলো আসলে খুব ওপেনলি হচ্ছে অর্থার পাবলিকলি ফেসবুকে হচ্ছে। তাহলে প্রশাসন কোথায়? যারা হুমকি দেয়, তারা খুব গর্ব করে বলে সরকার নাকি তাদের পকেটে, মন্ত্রীরা নাকি কথায় উঠে বসে আর প্রশাসন নাকি তাদেরই। এমনকি তারা পারলে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও বেচে দেয়। তাদের বাবার অনেক টাকা, তাদের রেডিও চ্যানেল, টিভি চ্যানেল আছে। সেই চ্যানেলে “ভুয়া” খবর ছাপিয়ে তারা যা খুশী তাই করতে পারে। আমার কথা হলো, এরা যদি প্রকাশ্যে এসব করতে পারে তবে গোপনে তারা কত ধরনের ক্রাইম করে? তাহলে কি তারা এসবের ভয় দেখিয়ে অসহায় নারীদের ধর্ষন করে আপন জুয়েলার্সের মালিকের সুপুত্রের মত? খুন করে? অত্যাচার করে ? আমি যতটুকু জানি, যে টাকা এবং যে বাবার নাম ফাটিয়ে এরা চলে, তারা অন্তত সরকারী পর্যায়ে অতটা গুরুত্বপূর্ন কেউ না।

এই ব্যাপারটি নিয়ে একটি মিটিং -এ আলাপের ছলেই কথা বলছিলাম কয়েকজন প্রবীন নেতার সাথে। আসলে তাদেরই একটি কথা থেকে ব্যাপারটা উঠে এসেছে। ইচ্ছে হলো, একটু ঘেটে দেখি আসলেই পর্দার আড়ালে কি আছে? আসলেই কি এরা এতটাই ক্ষমতা বান? নাকি ফাকা কলসী? তাই জিজ্ঞেস করলাম একজন প্রিয় নেতাকে – নাম শুনে উত্তরে যা বললেন তার সরামর্ম অনেকটা এরকম “যখন সরকার ক্ষমতায় থাকে, আশে পাশে অনেক কুকুর ঘেউ ঘেউ করে কিন্তু সবার আওয়াজ গুরুত্বপূর্ন না যত জোরেই ঘেউ ঘেউ করুক না কেন”। কথাটা শুনেই হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়লাম। আসলে আজকাল তো কত কিছুই হয়। ডিগ্রী ছাড়া ডাক্তার, মাইক ছাড়া ভাষন আর তলা ছাড়া কলসী। আসলে একজন আদার ব্যাপারীকে যদি হঠাত করে একটি জাহাজের মালিক বানিয়ে দেয়া হয়, তাহলে একটু হম্বিতম্বি তো করবেই।

অত্যন্ত দুঃখ লাগে যখন দেখি বাংলাদেশের একটা জেনারেশন কেমন জানি হয়ে যাচ্ছে। পড়েলেখা করে যেসময়ে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবার কথা, সেসময়ে কি করছে। শেষ মেষ কি হবে? হয়তো এদের ড্রাইভারের কোয়ালিফিকেশনও তাদের চাইতে বেশী হবে। এরা যখন বড় হবে, তখন এরা হীনমন্যতায় ভুগবে নিজেদের এসব নষ্টামির কারনে। কখন যে এরা সুপথে আসবে?

এই লেখাটি একটি সিরিজের অংশ মাত্র। সবে মাত্র পর্ব ১।  আরো বেশ কটি পর্ব আসবে যেখানে এক এক করে বাংলাদেশের একটি অশ্লীল সমাজকে সবার সামনে তুলে ধরা হবে। যেখানে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করা হবে এই ব্যাপারে এবং সেই সাথে হতে পারে, অশ্লীলতার বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন। না, ফেসবুকে না, আন্দোলন হবে রাস্তায়। বাংলাদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা এধরনের অশ্লীলতাকে প্রমোট করছে, সাপোর্ট করছে এবং তার বড়াই করছে। কিন্তু, বাংলাদেশে এমন আরো অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা এগুলো বিপক্ষে। তারাও আমাদের সাথে সামিল হবেন সেই আন্দোলনে। সেখানে থাকছে নন্দিত তরুন নেতৃত্ব, প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমাজ, প্রিয় কিছু রাজনৈতিক মুখ, একেবারে ক্ষুদ্র থেকে বড় হওয়া বাংলাদেশের বিশাল কোন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ীদের কোন সংগঠন – মোট কথা খাটি দেশপ্রেমিক। এবার হয়তো সুবিচার হবে, সুপথে আসবে। এসব বিপথে যাওয়া নরকের কীট বা তাদের অনুসরনকারীদের যারা নিজেদের ফাকা কলসী বলে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে ইতিমধ্যে বয়সের ফুল ফোটার আগেই।

এর পরের পর্বের জন্য অপেক্ষা করুন। থিংস আর এবাউট টু গেট এ বিট ডার্টি।

About The Author
NahidRains vLog
Independent Film Maker, CEO of NahidRains Pictures and President of Bangladeshism Project.
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment