Now Reading
তীব্র গরমে রোজাদারের করনীয়



তীব্র গরমে রোজাদারের করনীয়

আবার এসে গেল সংযমের মাস, আত্মশুদ্ধিরর মাস প্রবিত্র মাহেরমজান। এই মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা  আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের আশায় রোজা রাখেন।দীর্ঘ ১১ মাস পর এই রমজান মাসে হঠাৎ করে আমাদের স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে একটা বড় পরিবর্তন চলে আসে। তাই এই পরিবর্তনের সাথে আমাদের আমদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখাও জরুরি হয়ে পরে।   বিগত বছরের গুলোর তুলনায় এই বছর সব থেকে বেশী সময় (প্রায় ১৬ ঘন্টা) ধরে রোজা রাখতে হবে, সাথে রয়েছে তীব্র গরমের অসহ্য যন্ত্রনা। তাই এই তীব্র গরমে সারাদিন রোজা রেখে আমাদের সুস্থ থাকার জন্য কি কি করনীয় তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কিছু পরামর্শ :-

 

১. রোজাদারের খাবার: রমজান মাসে আমাদের সুস্থ থাকার জন্য সবার আগে যে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে তা হল, আমাদের খাদ্যাভ্যাস। যেহেতু রোজা রাখলে একটা দীর্ঘ সময় ধরে পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়, তাই এমন খাবার খেতে হবে যেন এই দীর্ঘ সময় ধরে উপস থাকার পরও দেহের সকল খাদ্য চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। এর জন্য আমাদের বেশী বেশী পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। সেহেরিতে অবশ্যই উচ্চ প্রোটিন ও শর্করা জাতীয় খাবার খেতে হবে যাতে করে সারাদিন না খাওয়ার পরও দেহে শক্তি সঞ্চিত থাকে। প্রোটিন জাতীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে- মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ইত্যাদি।  শর্করা জাতীয় খাবার- ভাত,আলু, সকল প্রকার শাকসবজি ইত্যাদি। সেহেরিতে ডাল, শাকসবজি এবং খাবার শেষে ফল (খেজুর উত্তম) খাওয়া ভাল। আর সব থেকে বেশী খেতে হবে পানি। সারাদিন আমাদের দেহের পানির চাহিদা পূরণের জন্য সেহেরিতে আমাদের প্রচুর পরিমানে পানি খেতে হবে।সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে যত পারি খেয়ে অভাবটুকু পূরণ করে নিব, এমন ধারনা আসলে ঠিক নয়। ইফতার হতে হবে  স্বাস্থ্যসম্যত, পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, ইফতারে প্রথমেই খেজুর,সরবত, ফলের রস খাওয়া উত্তম। তবে বাজারে যে কৃত্রিম রং মেশান সরবত জাতীয় খাবার, এবং বিভন্ন ধরনের কোমল পানীয় পাওয়া যায়, এসব আমরা একেবারেই বর্জন করব, কেননা সারাদিন রোজা রাখার পর এসব খাবার খাওয়া দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। আমরা ইফতারে ছোলা, মুড়ি খেতে পারি, তবে তেলেবাজা বেগুনি, পেঁয়াজু, চপ এসব বর্জন করব। দই, চিড়া, কলা,  বিভিন্ন ধরনের ফলমূল খেতে পারি। আর সব থেকে বেশি খাব পানি, পানি আপনার দেহের কোষকে সতেজ করে তুলে। পানি ছাড়া ইফতারিতে বাকি সব কিছু কম খাওয়া ভাল।

 

২. রোজা অবস্থায় করনীয়: রোজাদারের পর্যাপ্ত ঘুম প্রয়োজন (৬-৭ ঘন্টা), তবে অনেকেই দেখা যায় সারাদিন ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়। অতিরিক্ত ঘুম দেহকে আরও ক্লান্ত করে দেয়।যেহেতু এখন তীব্র গরম, সারাদিন রৌদ্রময় থাকে তাই যথাসম্ভব আমরা ছায়াঘন এবং শীতল স্থানে থাকার চেষ্টা করব।

 

৩. অসুস্থ অবস্থায় রোজা: আপনি রোজা রাখতে পারবেন কি পারবেন না সেটা অনেকটাই নির্ভর করে আপনার ধৈর্য শক্তির উপর। যাদের নিয়মিত ঔষধ খেতে হয়, তারা সেহেরি ও ইফতারে ঐ ঔষধ গুলো খেয়ে নিতে পারেন। তবে ইফতারের পর পর কোন প্রকার ঔষধ খাওয়া ঠিক না, ইফতারের করার কিছুক্ষন পর, অথবা রাতের খাবারে সময় খাওয়া ভাল।

তবে সকল অবস্থাতে চিকিৎসক এর পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। 

 

About The Author
Zahid Hasan
3 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment