Now Reading
যদি বাংলাদেশের ড্রোন বিমান থাকতো!



যদি বাংলাদেশের ড্রোন বিমান থাকতো!

কয়েক মাস আগেই বাংলাদেশের নৌ-বহরে যুক্ত হয়েছে দুটি সাবমেরিন। সাবমেরিন দুটি নেয়া হয়েছে চীন থেকে। আর তাতেই প্রতিবেশী দেশ ভারতের মাথা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল: বাংলাদেশের কেন সাবমেরিন নিতে হল? কি প্রয়োজন তাদের? তাদের তো কোনো শত্রু নেই। তাহলে?

খুব হেসেছিলাম সেই সময় তাদের কিছু রাজনীতিবিদ এর কথা শুনে। আমাদের যে কারা শত্রু আর কারা মিত্র সেটা আমরা বাংলাদেশীরা খুব ভালো করেই জানি। ৭১’ এ শরণার্থী আশ্রয়, অস্ত্র দিয়ে সাহায্য আর কয়দিন লোক দেখানো যুদ্ধ দেখিয়ে যারা বলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা তো ভারতের দান, তারা কি করে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র হয়? সীমান্তে নির্বিচারে বন্ধু রাষ্ট্র ভারত আমাদের দেশের মানুষ হত্যা করে। ওহ আচ্ছা! বন্ধু রাষ্ট্র বলে কথা। আর পাকিস্তানের কথা তো বাদই দিলাম, ওরা কি কোনো জাতি হলো নাকি?

তো যা বলছিলাম আরকি! বাংলাদেশের সাবমেরিন কেনা দেখে ভারতের তো মাথা এমনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছে! না জানি পাকিস্তানের ছেঁড়া তার আরো ছিঁড়ে গিয়েছে কিনা? ওরা তো এমনিই বাংলাদেশকে ভয় পায়। তো, ভারতীয় রাজনীতিবিদরা আসলেই ভড়কে গিয়েছিল। কে বলেছে বাংলাদেশের কোন শত্রু নেই? পাকিস্তান তো এমনিই চিরশত্রু।  জাত শত্রু। দেশের মানুষ ভারতকেও আজকাল সহ্য করতে পারেনা। বেশ আগে বাংলাদেশীজম এর ইউটিউব চ্যানেলে নাহিদ ভাইকে দেখেছিলাম ভিডিও তৈরী করেছেনঃ যদি বাংলাদেশের পারমাণবিক বোমা থাকতো?

আসলেই তো, বাংলাদেশের পারমাণবিক বোমা থাকলে ভারত আর পাকিস্তানের সাথে আমরাও সমানে সমান থাকতাম, পাকিস্তান তো এমনিই ভয়ে চুপ করে থাকে, কিন্তু ভারত তো সবসময় চেষ্টা করে আমাদের দেশটাকে কিভাবে চাপে রাখা যায়, কেন? আমরা ছোট দেশ বলে? পশ্চিম বাংলার দাদাদের মুখে তো বাংলাদেশীদেরকে বলার জন্যে ঠোঁটের কোণায় গালি প্রস্তুত হয়েই থাকে। ঐ গালিগুলো “ভূতের মুখে রাম রাম” এর মত শোনা যায়। হাস্যকর বটে।

এইবার আসি আমাদের মূল আলোচনায়, সংবাদমাধ্যমে আমরা প্রায়ই দেখে থাকি, ভারত ড্রোন দিয়ে ঐ করেছে সেই করেছে, চীন আর পাকিস্তানকে চাপে রাখতে চায় তারা, আমেরিকা থেকে শক্তিশালী ড্রোন কিনবে ইত্যাদি ইত্যাদি, এমনকি বেশ আগে ২০১৩ সালে জার্মান ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডয়েচে ভেলে কে সংবাদ করতে দেখেছিলাম যে, ভারত নাকি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ড্রোন মোতায়েন করেছিল বা করতে চেয়েছিল। তো, এই সব সংবাদের ভিত্তিতে যদি বলি আমাদের তথা বাংলাদেশেরও যদি মিলিটারি ড্রোন থাকতো, তাহলে কেমন হতো? কি হতো? চলুন একটু বিশ্লেষণ দেখে আসিঃ

আমরা প্রায়ই নিউজ দেখে থাকি, বিমানবন্দরে ড্রোন আটক। তবে এই ধরণের ড্রোনগুলো মূলত মিডিয়া বা ভিডিও ধারণ করার ক্ষেত্রে উপযোগী। এগুলো এদেশে ঢোকেও ব্যক্তিগত চালান হিসেবে কিন্তু বিমানবন্দরে আটকে দেয়ার সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে যা আমাদের মূল বিষয়বস্তু থেকে ভিন্ন। তাই ওসব নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছিনা। কিন্তু, আমাদের সরকার যদি সামরিক বাহিনীতে সামরিক বা মিলিটারি ড্রোন যুক্ত করে, তবে সেটা কিন্তু ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করি। ঠিক এই মুহুর্তে আমাদের হয়তো ভারত বা পাকিস্তানের মত পারমাণবিক বোমা নেই, হয়তো একদিন হবে কিন্তু সরকার চাইলে ড্রোনের ব্যাপারটা ভেবে দেখতে পারেন।

যতটুকে জেনেছি, ড্রোন অনেক রকমের হলেও মিলিটারি ড্রোনের ক্ষেত্রে মূলত দুই প্রকার ড্রোন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

১। সার্ভেইলেন্স ড্রোন

২। লিথাল ড্রোন

সার্ভেইলেন্স ড্রোন মূলত নজরদারির কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই ড্রোনের মাধ্যমে ছবি ও তথ্য পাওয়া যায়। অন্যদিকে লিথাল ড্রোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।

আমাদের যদি ড্রোন বিমান থাকতো, তাহলে ভারত আর পাকিস্তান এটা নিয়ে একটু হলেও চাপে থাকতো, বিশেষ করে ভারত। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এরা সবাই আমাদের মিত্র। আমাদের সরকার চাইলেই এদের কাছ থেকে ড্রোন বিমান কিনতে পারে। হ্যাঁ, আমাদের অর্থনীতি খুব বেশি বড় নয়; আবার দিনে দিনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধও হচ্ছে কিন্তু। আমাদের ইকোনোমি দিন দিন বাড়ছে। পাশের দেশ ভারতের ড্রোন রয়েছে, তারা বড় দেশ, তাদের বাজার বড় হলেও তাদের ইকোনোমি কিন্তু সেভাবে উপরে উঠছে না। সেদিক দিয়ে তাকালে আমরা ছোট দেশ হয়েও তাদের সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়ে উপরে উঠছি। যদিও তারা বাংলাদেশকে টেনে ধরে নিচে নামানোর চেষ্টায় ব্যস্ত! তো, আমাদের যা অর্থনীতি আছে, তা দিয়ে আমরা ড্রোন কিনতেও পারি, আবার নিজেদের প্রযুক্তি দিয়েও ড্রোন তৈরী করতে পারি। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা কিন্তু প্রায়ই বিভিন্ন ধরণের ড্রোন বানিয়ে থাকে, তাদের সেই মেধা আছে। সরকারী সহযোগীতা আর বিজ্ঞানীদের সাহায্য পেলে আমরা নিজেরাই নিজেদের দেশের সুরক্ষার জন্য মিলিটারি ড্রোন তৈরী করতে পারি। আমাদের তো অন্য দেশের সাথে আসলেই কোনো শত্রুতা নেই কিন্তু শত্রুতা হবেনা এমনটা কোথাও তো বলা নেই তাইনা? নিজের দেশকে সুরক্ষা করতে আমরা সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকতে চাইবো এটাই স্বাভাবিক। ভারত যদি সীমান্তে ড্রোন আনতে চাইতে পারে, আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো? চোরাচালানি কি শুধু বাংলাদেশীরা একাই করে, না ভাই, এক হাতে তালি বাজেনা, দেখেন গিয়ে, ওরাই বেশী ওস্তাদ এসব কাজে। আমাদের ড্রোন বিমান থাকলে, পরবর্তীতে যদি পারমাণবিক শক্তিও আসে, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, পাশের দেশ আমাদেরকে আর বাঁকা চোখে দেখবে না। সীমান্তে মানুষ মারার জন্য রাইফেলের ট্রিগার চাপার আগে একশবার ভেবে দেখবে। আমাদের নদীর পানি চুরি করার আগে মমতা ব্যানার্জিও ভেবে দেখবে কি করা উচিত। দেখা যাবে দিল্লী থেকে আমাদের সরকারের ওপর আর চাপ আসছে না, বরং আমরাই চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের ন্যায্য সুবিধা আদায় করে নিতে পারবো। এখানে পাকিস্তানের কথা তো বাদই দিলাম। একটা কথা আছে, “শক্তের ভক্ত, নরমের যম”- সেটাই প্রয়োগ করতে চাই।

আমরা চাই, আমাদের দেশের সামরিক শক্তি আরো শক্তিশালী হোক, সাবমেরিন যদি আসতে পারে, ড্রোন কেন বাকি থাকবে? নিজেদের সামরিক ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে দোষ কিসের? আমাদের পাশের দুই দেশ ভারত আর বার্মার ওপর তো বিশ্বাস নেই। আমরা কেন চাইবো মাঝখানে কোণঠাসা হয়ে থাকতে? আমাদের কি নেই? আমাদের জিডিপি দিন দিন বাড়ছে, বাইরের বিশ্বে বাজার সম্প্রসারণ করছি আমরা, আমাদের অর্থনীতি দিন দিন উপরে উঠছে। আমাদের দেশে দূর্নীতি কমে গেলে, রাজনীতিবিদরা নিজের স্বার্থকে বাদ দিয়ে দেশের দিকে তাকালে এই এশিয়ার সবচাইতে প্রভাবশালী আর ধনী দেশ হবার ক্ষমতা আমরাও রাখি।

আমরা চাইনা, ফেলানীর মত কোনো বোনের লাশ কাঁটাতারে আর ঝুলে থাক, আমরা এটাও শুনতে চাইনা, দিল্লী ঢাকার ওপর চাপ প্রয়োগ করছে সামরিক চুক্তির জন্য, দেখতে চাইনা ভারতীয় আর পাকিস্তানিদের আমাদের দেশকে নিয়ে ট্রল করার দুঃসাহস, শুনতে চাইনা ভারতীয়দের কাছে যে আমরা তাদের দয়ায় স্বাধীনতা পেয়েছি বা তারা আমাদের স্বাধীন করে দিয়েছে। না, আমরা স্বাধীন হয়েছি ৩০লক্ষ প্রাণ আর দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে।

আমরা চাই, সত্যিকার বাংলাদেশী হয়ে বাঁচতে। এই দেশ আমার মা, আমার রক্তে আমার বাংলা ভাষা!

About The Author
Ferdous Sagar zFs
Ferdous Sagar zFs
Hi, I am Ferdous Sagar zFs. I am a Proud Bangladeshi living in abroad for study purpose. I love to write and it's my passion or hobby. Thanks.
0 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment