Now Reading
Earthquake জানি কিন্তু, Moonquake কি ?



Earthquake জানি কিন্তু, Moonquake কি ?

ভূমিকম্প নাম শুনেনি এমন মানুষ পৃথিবীতে হয়ত পাওয়া যাবেনা | যদি পাওয়াও যায় তাহলে, তারা হয়ত জীবনে একবার হলেও তা অনুভব করেছে | যাদের এই দুটোর একটারও জানার সৌভাগ্য হয়নি তারা হয়ত নাম শুনে বলবে- “ভূমির কম্পন কেই ভূমিকম্প বলে” | অবস্য এইভাবে বলার সুবিধা রয়েছে কারণ, অনেকেই “চাদকম্পন” শব্দটার সাথে পরিচিত না কিন্তু, এসব ব্যক্তিরা এবারও নাম শুনে ঠিকই বলে দিতে পারবে- “চাদের কম্পনকেই চাদকম্পন বলে” ! যেইটা হয়তবা আমরা ঘুনাক্ষরেও কল্পনা করতে পারবনা !!

প্রথমেই বলে ভূমিকম্প বলে যেই নামটা প্রচলিত তা আসলে অযৌক্তিক | ডিকশনারী ঘাটলে এর ইংরেজি পাওয়া যায় “Earthquake” যার আক্ষরিক বাংলা দাড়ায় “পৃথিবীকম্পন” ! আসলে, এরকম হলেই বরং নামটা বেশি যৌক্তিক হত | হয়তবা যখন নামকরণ করা হয়েছে তখন “Moonquake” বলে কোনো কিছুর সাথে বাঙালি মানুষের পরিচয়ও ঘটেনি, কে জানে কোনটা সত্যি ! তবে, আমরা এইখানে যৌক্তিক নামগুলোই অর্থাত, “Earthquake” এবং “Moonquake” শব্দদ্বয় ব্যবহার করব | তবে, শুধু ভুমির কম্পন বোঝাতে ভূমিকম্প শব্দই ব্যবহার করা হবে |

Earthquake কি ?

খুব সাধারণ প্রশ্ন ভূমিকম্প কিভাবে হয় ? যারা একটুখানিও বিজ্ঞান জানে তারা বলবে- “টেক্টোনিক প্লেটের সংঘর্ষে ভূমিকম্প হয়” | আসলে ঘটনাটা এরকমই |

পৃথিবীকে মোট ৪টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে Core, lower mantle, upper mantle এবং Crust | এই Crust নামক অঞ্চলটার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ভাসমান প্লেট, যাদেরকে মূলত টেক্টোনিক প্লেট বলে | আর এই টেক্টোনিক প্লেটগুলো প্রায় সবসময়ই নিজেদের মধ্যে কোনো না কোনো কারণে সংঘর্ষ হয় আর যার ফলেই সৃষ্ঠি হয় ভূমিকম্প ! এখান প্রশ্ন হলো যদি প্রায় সবসময়েই সংঘর্ষ ঘটে তাহলে ভূমিকম্পও তো প্রায় সবসময়েই ঘটার কথা তাইনা ? কিন্তু সেইটাত হচ্ছে না ! আসলে, সেইটাও হচ্ছে কিন্তু, আমরা সবগুলো টের পাচ্ছিনা | কেউ যদি একটু কষ্ট করে USGS এর ওয়েবসাইট এ যায় তাহলেই দেখবে প্রতি মুহুর্তে কতগুলো Earthquake হচ্ছে ! যার বেশিরভাগই আমরা টের পাইনা |

 

earth.jpg

 

Moonquake কি ?

এবার আমাদের মূল আলোচনায় যাব | Moonquake কি ? কোনো কারণে, যদি চাদের কম্পন হয় তাহলেই সৃষ্টি হয় Moonquake.  কিন্তু কেন হয় ? সমস্যা আসলে তখনই বাধে কারণ, Earthquake আর Moonquake ঘটার কারণ আসলে এক নয় | পৃথিবীতে কম্পন ঘটানোর জন্য যা দায়ী থাকে তাহলো টেক্টোনিক প্লেট কিন্তু, চাদে তো টেক্টোনিক প্লেটই নেই !

Moonquake নিয়ে গবেষণা করার জন্য APSE (Apollo Passive Seismic Experiment) , ৪ টি সিসমোমিটার নিয়ে একটা নেটওয়ার্কই গড়ে তোলা হয়েছে | যেইটা ১৯৭০ সালে প্রথম সিসমোমিটার স্থাপন করা হয় এবং শেষ হয় ১৯৭২ সালে | আর তারা গবেষণা করে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত | মূলত, অত্যাধিক খরচের কারনেই, তারা গবেষণাটা আর এগিয়ে নিতে পারেনি |

 

APSE.jpg

 

Moonquake ঘটার কারণ

চাদে কম্পন মোট ৪ ভাবে ঘটে থাকে | প্রথমেই আলোচনা করব Thermal Moonquake নিয়ে যেইটা মূলত ঘটে টেম্পারেচারের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের ফলে | যদিও, তা দুর্বল কিন্তু, খুব বেশি ফ্রিকুয়েন্ট ঘটে থাকে | সাধারণত, সূর্য উঠার পর থেকে শুরু হয় এবং সূর্যাস্ত হবার আগ পর্যন্ত তা কন্টিনিউ চলতে থাকে | তার মানে, সর্বোচ্চ ২ সপ্তাহ পর্যন্ত এই ভূমিকম্প থাকতে পারে |

এর পরেই যার কথা বলে হয় তাহলো, Tidal Stress এর কারণে ঘটা Moonquake. আমরা, যারা একটু বিজ্ঞান জানি তারা জোয়ার-ভাটা ঘটার বৈজ্ঞানিক কারণ, প্রাথমিক স্কুলে থাকতে শিখে এসেছি | আর সেইটা হলো, চাদ কর্তৃক আকর্ষণের কারণে এই জোয়ার-ভাটা হয় | আসলে, এইক্ষেত্রেও ঠিক তাই হচ্ছে | পৃথিবীর আকর্ষণের কারণেই, মূলত চাদের উপর এই স্ট্রেস তৈরী হচ্ছে | অর্থাত, পৃথিবী ও চাদের পরস্পরের আকর্ষণের ফলেই এই ভুমিকম্পের সৃষ্টি হয় | আর, ভূমিকম্প চাদের অনেক গভীরে হয় বিধায় একে অনেকসময় Deep Moonquake বলা হয়ে থাকে | মূলত, APSE এর যেই গবেষণাটা হয় সেখানে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এরকম ৭,০০০ এর উপরে Deep Moonquake ডিটেক্ট করা গিয়েছে |

তৃতীয় যেই ভূমিকম্প রয়েছে তার জন্য দায়ী মূলত meteoroid impacts . অর্থাত, বিভিন্ন উল্কা, গ্রহাণু এ জাতীয় জিনিসগুলো যখন চাদে আছড়ে পরে তখনই এই ভুমিকম্পের তৈরী হয় |

আর সবশেষে, যেই ভূমিকম্প নিয়ে আলোচনা করব তাহলো, Shallow Moonquake. ধারণা, করা হয় যত Moonquake আছে তার মধ্যে এইটা সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী | যেইটা, APSE ১৯৭২ – ১৯৭৭ পর্যন্ত মোট ২৮ টি ডিটেক্ট করে | যার মধ্যে কিছু ছিল রিখটার স্কেল অনুসারে ৫.৫ এর মত | অনেকে হয়ত এই রিখটার স্কেল দেখে হতাশ হবে কারণ, আমরা পৃথিবীতে রিখটার স্কেল ৯.৫ দেখে অভ্যস্থ | (যেইটা ঘটেছিল চিলিতে মে ২২, ১৯৬০ সালে!) কিন্তু, সমস্যা হলো শুধু রিখটার স্কেল দিয়ে ভুমিকম্পের তীব্রতা বোঝা যায়না | এর সাথে আরো যা জড়িত তাহলো, সময় | আর, Moonquake গুলোর সবকটিই অনেকসময় ধরে থাকে | আর, Shallow Moonquake গুলো আনুমানিক ১০ মিনিট থেকে কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত কন্টিনিউ হতে পারে | যা নিসন্দেহে ভয়াবহ |

 

Moonquake গুলো কেন এত বেশি সময় থাকে ?

উপরের প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো “পানি” ! পানি মূলত, একটা ভূমিকে স্পঞ্জের মত আকার দিতে পারে | যার ফলে যখন কোনো এনার্জি প্রোপাগেট হয় তখন পানিই মূলত সেই ভাইব্রেশন কে দুর্বল করার কাজটা করে | ঠিক এই কারণেই, পৃথিবীতে ভূমিকম্প বেশিক্ষণ টিকতে পারেনা | কিন্তু, অপরপক্ষে চাদে কোনো পানি নাই বিধায় ওখানে মাটি খুব শুষ্ক | যার ফলে ওখানে, স্পঞ্জের মত এই আচরণ করতে পারেনা বরং যা হয় তাহলো অনেকটা Tuning Fork এর মত আচরণ ! আর এর ফলে এই Moonquake এর স্থায়িত্ত্বও থাকে পৃথিবীর চেয়ে অনেকগুণ বেশি !

 

আজকে এই পর্যন্তই | আশা করি সবার ভালো লেগেছে | সবাইকে ধন্যবাদ |

 

References:

  1. https://www.earthmagazine.org/article/moonquake-mystery-deepens
  2. http://www.geotimes.org/july06/feature_MoonQuakes.html
  3. https://en.wikipedia.org/wiki/Lists_of_earthquakes
  4. https://weather.com/science/news/what-are-moonquakes-exactly-what-they-sound-20131104
  5. http://adsabs.harvard.edu/full/1972Moon….4..373L
  6. https://bigganjatra.org/earthquake/
  7. https://goo.gl/u2CLJ1

 

About The Author
Jannatul Firdous
Jannatul Firdous
Studying in Computer Science & Engineering (CSE)

You must log in to post a comment