Now Reading
দি রানমেশিন অফ চ্যাম্পিয়ন ট্রফি



দি রানমেশিন অফ চ্যাম্পিয়ন ট্রফি

 

আট জাতির টুর্নামেন্ট যেটা কিনা র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ আট দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ক্রিকেটের নতুন পরাশক্তি তথা বাংলাদেশ “ টাইগার ” এবার জায়গা করে নিয়েছে মর্যাদার এই আসরে।

এইতো আর কয়দিন পর ক্রিকেট পাগল পুরো জাতি ক্রিকেটের উন্মাদনায় ভাসবে সমর্থন আর সাহস জুগিয়ে যাবে দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ক্রিকেটারদের।

টি-টুয়েন্টির মারকাট ক্রিকেটের এই যুগে বোলারদের পাশাপাশি মাঠে সদর্পে বিচরণ করে ব্যাটসমানরা।এই টুর্নামেন্টের এমনই কয়েকজন ব্যাটসমান নিয়ে আজকের আয়োজন যারা কিনা নিজ দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব যেমন করবে তেমনি বিশ্ব আসরে নিজেকে চিনিয়ে আসছে বরাবর।

 

 

virat.jpg

বিরাট কোহলিঃ

“বিরাট”  নামের সাথে মিল রেখে ক্রিকেট মাঠেও তার প্রভাব। দানবীয় ইনিংসগুলো  যেকোন ক্রিকেটপ্রেমীকে আমোদিত করবে নিঃসেন্দেহে। মাঠের পারফরম্যান্সের মতো উগ্র আচরণের জন্য ভক্তদের মাঝে তাকে নিয়ে মতবিরোধ দেখা যায়। ভারতীয় জাতীয় দলের অধিনায়কত্বের আর্ম ব্যান্ড আসার সাথে সাথে অনেকটা পরিণত করে নিয়েছে নিজেকে।

বর্তমানে ক্যারিয়ারে সুর্বণ সময় পার করছে এই ক্রিকেটার।ভারতীয়দের বিদেশেরে মাটিতে গিয়ে পারফরম্যান্স করতে না পারার যে অপবাদ তা নিজের কৃতিত্ব দিয়ে অনেকটা গুছিয়ে দিয়েছে।প্রতিপক্ষ বোলাররা যেখানে পাখির চোখ করে রাখে সেখানে অবলীলায় খেলে যায় নিজের স্বভাবজাত ইনিংস।দল বা সতীর্থরা কতটা ব্যাকফুটে আছে তা দেখেই পরিস্থিতির সাথে ইনিংসের রং বদলায়।

মাঠে স্লেজিংয়ের জবাব দিতে গিয়ে ব্যাটকে যেন বেছে নেয় বরাবর। বর্তমানে রান চেজিংয়ের ক্ষেত্রে অন্যসব ক্রিকেটারের চেয়ে এগিয়ে আছে এই ক্রিকেটার। নিজের ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি যেই গুণ তাকে এগিয়ে রাখে তা হল সাহসী শট সিলেকশন আর চাপ নেয়ার মানসিকতা।

একদিনের আর্ন্তজাতিক ক্যারিয়ারে ১৭১ ইনিংসে ৭৭৫৫ রান নিয়ে যেখানে ব্যাটিং গড় ৫৩.১২ এবং স্ট্রাইক রেট ৯০.৭৭ প্রায়। বর্তমানে ২৭ টি শতকের মালিক যেখানে সর্বোচ্চ ১৮৩ রান। ওয়ান ডে ক্রিকেটে তার র‌্যাংক নাম্বার ৩। এখনো দুইশ রানের শতকের দেখা পাই নি। এবারের আসরে পেয়ে যেতে এমনটা আশা তার ভক্তরা করতেই পারে।

 

 tamim.jpg

তামিম ইকবালঃ

বাংলাদেশে সম্প্রতি যে জয়গুলো এসেছে তার  প্রায়ই সবটাতে একটা ভাল শুরু আসে এই ড্যাশিং ওপেনারের হাত ধরে। সেই ২০০৭ এর বিশ্বকাপ হতে শুরু করে তামিমের বিধ্বংসী ব্যাটিং মানে বাংলাদেশের জন্য ভাল কিছু। ইংল্যান্ডে এই ক্রিকেটারের রয়েছে অনেক সুখস্মৃতি কেননা লর্ডসের মাঠে যে তার শতক রয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে তামিম বরাবরের মতোই ধারাবহিক যতই বয়স বাড়ছে তার ব্যাটিংয়ে গাঁথুনী আরো ভাল হচ্ছে। প্রস্তুতি ম্যাচ আর ত্রিদেশীয় সিরিজে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের সুবাদে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দৌড়ে এই মারকুঠে ব্যাটসমানই হতে পারে বাংলাদেশের ভরসার পাত্র। ওয়ার্ম আপ ম্যাচ আর নিউজিল্যান্ডের সাথে শেষ ওয়ানডে সেই ভরসা জোগায়।

একদিনের আর্ন্তজাতিক ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিষেকের পর এখনো খেলে যাচ্ছে বাংলাদেশ দলের প্রাণভোমরা। একদিনের ম্যাচে ১৬৭ ইনিংসে ৫৪৫০ রান ব্যাটিং গড় ৩৩.৪৪; পাশাপাশি স্ট্রাইক রেট রয়েছে ৭৭.৪৪।ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৮টি শতক রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।সম্প্রতি যে ধারাবাহিকতা আর ব্যাটিং নৈপুণ্য তার সুবাদে বাংলাদেশী ক্রিকেটের ভক্তরা চ্যাম্প ব্যাটসমান হতে একটা চমক আশা করতে পারে।

warner.jpg

ডেভিড ওয়ার্নারঃ

অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের হেইডেন আর গিলক্রিস্ট  ‍যুগের অবসানের পর ওপেনিংয়ে থিতু হওয়া ব্যাটসম্যানের মধ্যে ডেভিড ওয়ার্নার অন্যতম। ঘরোয়া লীগের পারফরম্যান্সের সুবাদে সরাসরি জাতীয় দলে চান্স পাওয়া ব্যাতিক্রমী ক্রিকেটারদের একজন ডেভিড ওয়ার্নার। তার অনেক গুণাবলির মধ্যে সজোরে ব্যাট চালানোর ক্ষমতাও একটি।

ওয়ানডে,টেস্ট আর টি-টুয়েন্টি সব দলে এক অপরিহার্য্ অংশ এই ক্রিকেটার।

দলের চাপের মুহুর্তে দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা আর নান্দনিক সব শটের বাহারে পুরো মাঠকে যেন রাঙ্গিয়ে তোলে।

এই অভূতপূর্ব ক্ষমতার জেরে ইদানীং টেস্টেও তাকে রান তুলতে দেখা যায় ওয়ান ডে স্টাইলে। তাই অস্ট্রেলিয়ানরা এই নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যাটিং দানবের মুখ চেয়ে হয়তো বসে থাকবে। ওয়ানডেতে ৯১ ইনিংসে ৩৯৪৬ রান যেখানে ব্যাটিং গড় ৪৪.৩৪ পাশাপাশি স্ট্রাইক রেট ৯৬.৮৬।বাঁ-হাতি এই ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংসটি ১৭৯ রানের যেখানে ১৩ টি আর্ন্তজাতিক শতকের মালিক।

ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লীগের সর্বোচ্চ স্কোরার চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে যদি ধারাবাহিক থাকে তবে অস্ট্রেলিয়ানদের শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে রাখবে।

 AB-de-Villiers.jpg

এ.বি.ডি ভিলিয়ার্সঃ

দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটিং জিনিয়াস তার নামের বিশালতার সাথে মিল রেখে করা ক্রিকেট মাঠে তার কর্মকান্ডগুলোও যথারীতি বিশাল।এই ক্রিকেটারের দুঃখ ঘোচানোর মোক্ষম সুযোগ এই টুর্নামেন্ট কেননা ক্যারিয়ারের অনেকটা সায়াহ্ণে চলে এসেছে। এখনো যে কোন ট্রফি জয়ের স্বাদ পাই নি।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটের সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ এই লিজেন্ডের মাধ্যমে যদি হয় তবে তা হবে সোনায় সোহাগা।বর্তমানে আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বলে সর্বোচ্চ ইনিংস আর দ্রুততম সেঞ্চুরির মালিকও যে নিজে।

পপিং ক্রিজে তার উন্মাদ নৃত্যে যেকোন বোলারকে বিব্রত করতে যথেষ্ট।ভক্তকূলের ধারণা তার ডিকশনারীতে নেই এমন কোন শর্ট বোধহয় বাকি নেই। নিজের কারিকুরির জন্য ৩৬০ ডিগ্রী এ্যাঙ্গেলের ব্যাটারের তকমা পেয়েছে।

নিজের স্বভাবসুলভ ব্যাটিং পারফরম্যান্স আর দলের সহযোগিতা থাকলে এবারই হয়তো আক্ষেপ ঘোচানোর পালা।তাতে করে এই ক্যারিশম্যাটিক ব্যাটসম্যানের ঝুলি হতে আরো নান্দনিক কিছু হয়তো অপেক্ষা করছে ভক্তদের জন্য।

আর্ন্তজাতিক ক্যারিয়ার বেশ বর্ণিল বলা চলে কেননা একদিনের আর্ন্তজাতিক ম্যাচে ২০৯ ইনিংসে ৯২৭২ রান যেখানে ব্যাটিং গড় ৫৪.২২।ঈর্ষনীয় স্ট্রাইক রেট ১০০ এর উপরে। ওয়ানডেতে ২৪ টি সেঞ্চুরির মালিক সর্বোচ্চ ইনিংস ১৬২।বর্তমান ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে এক নম্বরে রয়েছে এই ব্যাটিং স্তম্ভের নাম।

williamson.jpg

কেন উইলিয়ামসনঃ

আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ড দলের অন্যতম ভরসার নাম কেন উইলিয়ামসন। নিজের ধারাবাহিকতার গুণে এই টপ অর্ডার ব্যাটসমান এখন কিউই দলের নেতা। নিজের স্বভাবসুলভ ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষের বোলারের উপর চাপ সৃষ্টি করে গেলেও কখনো তাকে মাঠে চাপ নিতে দেখা যায় না।

নিজের ব্যাটিংয়ে নির্ভার থাকাটাই যেন স্বভাবজাত অভ্যাস। ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ে একজন ক্লাসিক ঘরানার ব্যাটসম্যানের সবগুলো শর্ট রয়েছে তার হাতে। স্বভাবে বিনয়ী আর স্বল্পভাষী এই ব্যাটসমান তার ব্যাট দিয়ে যেন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে প্রস্তুত। নিউজিল্যান্ডে রাগবির উন্মাদনার পাশাপাশি অনেকটা নিরুত্তাপ ক্রিকেট নিয়ে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।নিজের দলকে নেতৃত্ব আর চ্যাম্পিয়নের দৌড়ে এগিয়ে রাখবে এমন প্রত্যাশা তার ফ্যানদের। দীর্ঘসময় পর সেমিফাইনালের চৌকাঠ পেরিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে রানার আপ হওয়ার মর্যাদা লাভ করে উইলিয়ামসন বাহিনী।

একদিনের আর্ন্তজাতিক ম্যাচে ১০৫ ইনিংসে ৪৫.৬২ ব্যাটিং গড় নিয়ে ৫২০৫ রানের মালিক।তার ব্যাটিংয়ে স্ট্রাইকরেট ৮৩.৮। এই ব্যাটসমান আবার টেস্টের এক নাম্বার র‌্যাংকধারী তাই ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমীচিন হবে না।পাশাপাশি ওয়ানডেতে তার অবস্থান ৯। বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের তারুণ্যনির্ভর এই দলের সাথে উইলিয়ামসনের ব্যাটিং নৈপুণ্য ভর করে কিউইরা আশাবাদী হতে পারে।

joe root.jpg

জো রুটঃ

চ্যাম্পিয়ন ট্রফির স্বাগতিক দেশ হওয়ার সুবাদে দেশীয় ভক্তদের সামনে পারফর্ম করতে মুখিয়ে যেমন থাকবে তেমনি চাপে বোধহয় থাকবে এই ব্রিটিশ ব্যাটসম্যান।

বর্তমান সময়ে যারা ব্যাটিং নৈপুণ্যে দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করছে তাদের মধ্যে জো রুট অন্যতম।নিজের স্বভাব সুলভ ব্যাটিং দিয়ে রানের চাকা সচল রাখাই যেন তার কাজ। যে পজিশনে আসুক না কেন দলের প্রয়োজনে সময়পোযোগি ব্যাটিংটাই করবে।

চেহারায় বিন্দুমাত্র কাঠিন্য না থাকলেও মাঠে বরাবরই আগ্রাসী তার প্রমাণ এ্যাশেজ সিরিজে এবং টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রিকেট দুনিয়া দেখেছে।

স্বাগতিক হওয়ায় অন্য ব্যাটসম্যানদের চেয়ে এগিয়ে থাকবে এটা স্বাভাবিক তবে তার জন্য মাঠ কোন অর্থে বিবেচনার বিষয় না। বর্তমানে টপ অর্ডারে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ভরসার পাত্র।

২০১৩ সালে অভিষেক হওয়ার পর থেকে নিজের জাত চিনিয়ে যাচ্ছে ক্রিকেট বিশ্বকে। স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে ৮৫.৬৬ স্ট্রাইক রেট নিয়ে ৪৮.৫২ গড়ে তার মোট রান ৩৫৪২ যেখানে ম্যাচ খেলেছে ৮২টি। ওয়ানডে তে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ১২৫।বর্তমানে টেস্ট ও ওয়ানডে মিলিয়ে তার র‌্যাংক যথাক্রমে ৩ ও ৪।

এই চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে নিজ দেশে জ্বলে উঠতে পারে এই আগ্রাসী ব্যাটসম্যান।নিজের তারকাদ্যুতিকে আরো বাড়িয়ে নেয়ার পাশাপাশি অবদান রাখতে পারে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জয়ে।আধুনিক ক্রিকেটের পরিসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ আসে নি ক্রিকেটের প্রবক্তাদের।

এই ব্যাটসম্যানদের  বাইরে গিয়ে জ্বলে উঠার সুযোগ আছে আরো অনেকের যেখানে চমক থাকাট স্বাভাবিক। চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং তান্ডবে বুঁদ হয়ে থাকবে পুরো ক্রিকেট দুনিয়া।

 

About The Author
Rajib Rudra
2 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment