সাহিত্য কথা

জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব ১ম

কিছু জিনিস নিয়ে মানুষের জানার আগ্রহ থাকে অনেক আগে থেকেই । আর সেই জিনিস যদি হয় প্যারানোমাল টাইপের কিছু তাহলে তো আগ্রহের মাত্রা থাকে তুমুল পর্যায়ে । মূলত বেশির ভাব প্যারানরমাল জিনিস ঘটে থাকে জ্বীন দ্বারা । আজ থেকে এই পর্বে তেমনি কিছু সত্য গল্প থাকবে আপনাদের জন্য । প্রথম পর্বে থাকছে আমার নিজের সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ।

ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জের জেলায় । প্রথম থেকে শুরু করা যাক । আমি সহ আমার ৩ দিন বন্ধু ঠিক করলাম আমার নানার বাড়ি যাবো । সেদিন রাতেই আমরা রওনা দিলাম । রাট ১০ টায় বাসে করে । সকাল ৬ টার মধ্যে পৌঁছে গেলাম সিলেট শহরে । শাহ জালাল ও শাহ পরানের মাজার জিয়ারত করে সেই দিন দুপুরে ট্রেনে করে ফিরলাম শায়েস্তাগঞ্জে । ট্রেনে থেকে নেমে এক বন্ধু বললো আজ আমরা মুরগি পুরানো মানে বারবিকিউ করবো । আমি বললাম আজ সারা দিন জার্নি করলাম , আজ না কাল করি ? কে শুনে কার কথা মুরগি কিনে ফেললো । বিকেলের আগেই বাসায় পৌঁছে হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে দিলাম ঘুম । আমিও তানভীর ঘুমালেও আনিস আর সৌরভ বের হয়ে পড়লো লাকড়ি এর ধান্দায় । ৩০ মিনিট ও ঘুমাতে পারিনি এসে ডাক দিয়ে বললো চল মুরগি পোড়াবো । আমি বললাম কোথায় মুরগি পোড়াবো । তারা বললো যেই জায়গা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর । আমি প্রথমে ফাজলামো হিসেবে কথাটা নিলাম কিন্তু তারা মোটেও ফাজলামো করছিলো না ।

এর আগে আমার নানার বাড়ির সম্পর্কে কিছু কথা বলে নেই । লোক মুখে প্রায় দুইটি জায়গার কথা শোনা যায় যে , এইসব জায়গা গুলো খুব বেশি ভয়ঙ্কর । একটি জায়গার নাম সারাবাড়ি , আরেকটি জায়গার নাম বেলপোতা । সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জায়গাটি হলো বেলপোতা । সারাবাড়ি নামের জায়গাটি আমার নানার বাড়ির উঠান থেকে দাঁড়িয়ে দেখা যায় । সারাবাড়ির নাম বাড়ি হলেও সেখানে কোনো বাড়ি নেই । স্থানটি দেখলে মনে হবে কোনো এক সমুদ্রের মাঝে দ্বীপ জেগে উঠেছে । চার পাশে ধানক্ষেত আর মাঝে অনেকটা উঁচু জায়গা । অনেকটা বাগান টাইপের । সেখান দুইটি জাম গাছ আর ৩ টি তাল গাছ সহ আরো কিছু গাছ ছিল । প্রায় রাতে নাকি মানুষ সেখান দিয়ে গেলে বা বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পেতো।

এখন মূল ঘটনায় ফিরে আসি । আমি বললাম এই খানে মুরগি পোড়ানোর মতো একটি জায়গা আছে খুব ভয়ঙ্কর । নাম সারাবাড়ি । আমরা সেখানে মুরগি পোড়াতে পারি ।আর যদি ভাগ্যে থাকে তাহলে কিছু একটা দেখতেও পারি । এই বলে আমরা নানাকে বললাম সারাবাড়িতে মুরগি পড়াবো , এই কথা শুনে নানা সহ আসে পাশের অনেকে মানা করলো । সবার একটা কথা জায়গাটা ভাল না । কে শুনে কার কথা । আমরা মুরগি মামী কে দিলাম ভাল ভাবে কেটে মসলা মিশাতে । সেই সাথে কিছু লাকড়ি জোগাড় করে চলে গেলাম সারাবাড়িতে । তখন বিকেল হয় হয় অবস্থা । গ্রামের মানুষ এর আগে সম্ভবত এইভাবে মুরগি পোড়ানো দেখনি । যার কারণে আমাদের সাথে কিছু মানুষ যাচ্ছিলো । কিছু ক্ষণ এর মধ্যে একটি বিশাল সাইজের জাম গাছের নিচে কিছুটা মাটি খুঁড়ে দুইপাশে দুইটা লাঠি দাঁড় করিয়ে উপর দিয়ে আরেকটা লাঠির মধ্যে মুরগি ভরে বাকি দুটো লাঠির উপর বসিয়ে দিলাম । আর নিচে আগুন ধরালাম অনেক কষ্টে । কিছু ক্ষণ পর সবাই চলে গেলো রয়ে গেলাম শুধু আমি আর আমার বাকি ৩ বন্ধু ।তখন বর্ষা কাল ছিল হঠাৎ করে দেখি আকাশ কালো হয়ে গিয়েছে । মামী বাসা থেকে ৪ তা ছাতা দিয়ে পাঠালো । আমি আর চশমা তানভীর দুইটা দুইটা করে ছাতা ধরলাম চার পাশে । সৌরভ তখন আগুন যাতে না নিভে যায় সেদিকে খেলা রাখছে । বাকি যেই একজন ছিল আনিস সে আমাদের হাত থেকে একটি ছাতা নিয়ে ধরলো । তখন চারিদিক একদম অন্ধকার । আমি সারাবাড়ির একদম পারে দাঁড়িয়ে ছিলাম । হুট্ করে মনে হলো কে যেন আমাকে ধাক্কা দিলো । আমি পরে যেতে নিয়েছিলাম তখনি চশমা তানভীর আমাকে ধরে বললো কিরে কি হয়েছে তোর ? আমি বললাম কিছু না বৃষ্টি হয়েছে তো তাই পা পিছলে গিয়েছে । আমি কেউ কে বুঝতে দেয় নি যদি ভয় পেয়ে সব গুলো দৌড় দেয় । কিছুক্ষন পর খেয়াল করলাম চশমা তানভীর তার চশমা খুলে ধোয়া পরিষ্কার করছে চশমা থেকে । ঠিক ওই মুহূর্তে ঘটলো আসল ঘটনা । আমি খেয়াল করলাম কি যেন এক কালো ছায়া ওই সাদা ধোয়া এর মধ্যে দিয়ে ওকে ধাক্কা দিয়ে গেলো । ও তখন কেঁপে উঠলো । আমি জিজ্ঞেস করলাম কিরে কি হয়েছে তোর ? ও বললো কিছু না । আমি আর সে দিকে মনো যোগ দিলাম না । মুরগি পোড়ানো শেষে আমরা সবাই ঘরে ফিরে আসলাম । বাসায় আসে আমি তানভীর কে বললাম কিরে তুই কি কিছু দেখেছিলি ? ও বললো হ্যাঁ , কেন তুই কি কিছু বুঝেছিলি নাকি ? আমি বললাম তুই যখন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলি কিরে তোর কি হয়েছে , আমি বলেছিলাম কিছু না পিচ্ছিল ছিল তাই পরে গিয়েছি তখনি আমার কাছে মনো হলো কিছু একটা আমাকে ধাক্কা দিয়েছে । আর তোকে আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম কিরে তুই কেঁপে উঠেছিলো কেন তখন আমি কিছু একটা দেখেছি । এই কথা শুনে সৌরভ বলে উঠলো তোরা এখন খেয়াল করেছিস, আমি যখন মুরগি পড়েছিলাম আমি দেখছিলাম আমার মুগরী বার বার এক পাশে চলে যাচ্ছে । আবার মুরগি মাঝে আসলে আগুন সরে যাচ্ছে । আমরা সবাই একে অপরকে প্রশ্ন করলাম কেন বললাম না সবার উত্তর আসলো যদি ভয় পাই । যার খুব দেখার ইচ্ছ ছিল মানে আনিস সে কিছুই দেখে নাই । তখন আমরা কি দেখলাম এক এক করে তার কাছে বর্ণনা করলাম । পরে আনিস বললো আমাদের সবার বর্ণনা একই রকম । আমরা না হয় এক জন ভুল দেখতে পারি কিন্তু তিন জন কি ভাবে একই জিনিস দেখবো ?

পরের দিন এক হুজুর কে আমাদের সবার ঘটনা খুলে বললে উনি বলে, মূলত যা দেখেছো সে ছিল জ্বীন । আমাদের সাহস আর আমাদের মধ্যে কেউ একজন আয়াতুল কুরসী পড়ছিলো তাই সে আমাদের ক্ষতি করতে পারেনি । তখন চশমা তানভীর বলে উঠলো আমি আয়াতুল কুরসী পড়ছিলাম । যদি এই গুলো মিথ্যা হয়ে থাকে তাহলে হুজুরী বা কিভাবে জন্য কেউ আয়াতুল কুরসী পড়ছিলো ।

পরবর্তীতে আরো সত্য গল্প নিয়ে আমি হাজির হবো । এইসব গল্প থাকবে মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ।

চলবে

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

সীমাকে যেভাবে ব্ল্যাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল !! (পর্ব-১)

Ferdous Sagar zFs

সাইকো গল্প: কথোপকথন

Maksuda Akter

জানা অজানা রূপকথা | পর্ব -১

Zabin Khan

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: