Now Reading
টিকে থাকার লড়াই . . . ( প্রথম পর্ব )



টিকে থাকার লড়াই . . . ( প্রথম পর্ব )

প্রথমেই বলে নিতে চাই আর্টিকেল এ ব্যবহৃত চরিত্রগুলো পুরোপুরি কাল্পনিক। প্রতিকুল পরিবেশে টিকে থাকার লড়াইয়ে কি ভাবে হার না মেনে বেঁচে ফিরে আসা যায় তা নিয়ে আপনাদের বলব। দুজন মানুষ তাদের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বেঁচে থাকার জন্য একদম প্রতিকুল পরিবেশে কিভাবে টিকে থাকেন এবং সেখান থেকে বেঁচে ফিরে আসেন কিভাবে তাই আপনাদের বলব।

আমি যে প্রতিকুল পরিবেশের কথা বলছি সেটি যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরের তীরে অবস্থিত। অতি অল্প জনবসতি বিশিষ্ট এলাকা। মানুষের সংখ্যা খুবই কম। আর জনবসতির বাইরের এলাকা আরো দূর্গম। মানুষের বসবাসের অনুপযোগী এবং নানা ধরণের হিংস্র জীবজন্তুতে পরিপূর্ণ। আমি যে এলাকা নিয়ে আমার আর্টিকেল সাজিয়েছি তা হচ্ছে ঐ এলাকার LongLeaf Pine Forest এবং Wet Savannas. Wet Savannas    এমন একটা জায়গা যেখানে সারা বছর গাছপালা পানিতে ডুবে থাকে। এমন অনেক স্থান আছে যা প্রায় বুক পর্যন্ত পানিতে প্লাবিত। অর্থাৎ পুরো এলাকার গাছপালা পানিতে নিমজ্জিত থাকে। নেই কোন উঁচু জমি। এছাড়াও পানির উপরে থাকে সবুজ বায়োলজিক্যাল বস্তুর স্তর। যেটাকে আমাদের দেশের গ্রামে অনেক সময় পানা বলা হয়ে থাকে। তবে এই পানা হচ্ছে গুঁটি পানা। যা পানির সাথে লেভেল হয়ে থাকে ফলে পানির নিচে কি আছে তা দেখতে পাওয়ার সাধ্য নেই। আর সেই সাথে পানির তলায় থাকে ভয়ংকর আমেরিকান এলিগেটর। যার এক কামরে একদম নিঃশেষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

টিম বাইশ বছর বয়সী তাগড়া জোয়ান আর জেমস এর বয়স একটু বেশি হলেউ শরীরে শক্তি আছে ঠিক জোয়ানদের মতই। তারা দুজন সেই Wet Savannas  এ কোন কিছু ছাড়াই কিভাবে টিকে থাকতে হয় এবং সেখান থেকে জীবন নিয়ে বেঁচে ফিরতে হয় তার বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়েছে। আমি সেই ঘটনা আপনাদের আলোকপাত করছি।

তাদের কাছে ছিল শুধু গাছের ডালপালা কাটার জন্য একটা ছুরি এবং আগুন জ্বালানোর জন্য চকমকি। তাদেরকে হেলিকপ্টারে করে সেই ভয়ানক দুর্গম জায়গায় রেখে আসা হল। এখন তাদের সার্ভাইবিং যাত্রা শুরু। তারা দুজনেই ছিল অসীম সাহসের অধিকারী এবং চট করে বুদ্ধি করে যে কোন পরিস্থিতি সামলানোর অসাধারণ ক্ষমতা ছিল।যেহেতু পুরো এলাকা পানিতে নিমজ্জিত তার মানে এই পানি কোন না কোন নদী বা হৃদ এ গিয়ে পড়ছে। আর তাই পানির চলার পথকে অনুসরণ করলে তারা যেখানে আছে সেখান থেকে বের হতে পারবে এবং মানুষের সভ্যতার ছোঁয়া পেতে পারে। তাই টিম পানির চলার পথ অনুযায়ী দক্ষিণ দিকে যাবে বলে মনস্থির করে। অন্যদিকে জেমস এর মাথায় অন্য চিন্তা ঘুরছিল। সে ভাবলো তারা যদি উত্তরের দিকে যায় তাহলে উঁচু জমি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর যদি উঁচু জমি পেয়ে যায় তাহলে তারা সেখানে আজ রাত কাটাতে পারবে নিরাপদে। অন্যদিকে দক্ষিণ দিকে গেলে ঠিক কতক্ষণ হাঁটতে হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। আর এই এলিগেটরের রাজ্যে তারা পানিতে কোনভাবেই থাকতে ইচ্ছুক নন। তাই জেমস এর কথায় উপযুক্ত যুক্তি আছে বিধায় তারা উত্তরের দিকেই রওনা দিল উঁচু জমির খোঁজে।

অতঃপর তাদের যাত্রা শুরু হল। বেঁচে থাকার লড়াইয়ের সংগ্রামে টিকে থাকা ঠিক কতটা কঠিন তা আপনারা হয়ত পুরোটা পড়লে জানতে পারবেন।

তারা অনেক্ষণ হাঁটছে। তারা অনেকটা ক্লান্তপ্রায় হয়ে গেছে। অন্যদিকে যত উত্তরের দিকে যাচ্ছে ততই যেন পানির লেভেল বাড়ছে। এছাড়াও সূর্যের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ টিম এর চোখে একটা জিনিস ধরা পড়ল। তারা দেখল একটা উঁচু স্তুপ। আসলে সেটা হচ্ছে কুমিরের ডিমের স্তুপ। টিম জেমস কে বলল তারা যদি সেগুলো সংগ্রহ করতে পারে তাহলে তাদের ২/৩ দিনের খাবারের জোগান হয়ে যাবে। কিন্তু এ ধরণের কুমিরের ডিমের স্তুপ মা কুমির সর্বক্ষণ পাহারা দেয়। তাভয়টা এখানেই। আশেপাশে কোন এলিগেটর নেই তো! অপরদিকে এত বড় সুযোগ তারা হাত ছাড়াও করতে চাচ্ছে না। তাই আর কোন কিছু না ভেবে তারা সেই স্তুপের দিকে এগোতে থাকল। কিন্তু নিমিষেই একটা মস্তবড় এলিগেটর বেড়িয়ে এল। তারা সামান্য খাবারের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিল না। তারা কুমিরটিকে দেখে অতিদ্রুত সেখান থেকে কেটে পড়ল। কারণ কুমিরটি যদি একবার তাদের উপর ক্ষেপে যেত তাহলে তাদের খেলা সেখানেই শেষ হয়ে যেত। কারণ আমেরিকান এলিগেটর গুলো শিকারিকে কামড় বসিয়ে মরণ ঘুরপাক দেয় যেটাকে ইংরেজিতে Death Role বলে। আর এর থেকে বাঁচার কোন রাস্তাই নেই।

এদিকে বেলা শেষ হয়ে আসছে। অবশেষে তারা কিছুটা উঁচু জমির সন্ধান পেল। তাই তারা সেখানেই তাদের সেদিনের মত রাতটি কাটাবে বলে সিদ্ধান্ত নিল। তাই তারা থাকার এবং আগুনের ব্যবস্থা করতে অগ্রসর হল। টিম গেল আগুন ধরানোর জন্য একটা প্লাটফর্মের ব্যবস্থা করতে। কারণ চারিদিকে শুধু পানি। তাই আগুন ধরানোর জন্য এবং সেটা যেন সারারাত জ্বলতে পারে তার জন্য একটা ভালো প্লাটফর্ম দরকার। টিম গাছের কিছু শুকনা ডাল কাটল। প্রথমে কিছু ডাল সারি করে রাখল। তার উপর কিছু কাঁদা মাটি দিল। এরপর তার উপর আবার কিছু ডাল দিল। এভাবে প্রায় ৪/৫ টা লেয়ারের প্লাটফর্ম টিম তৈরি করল। কারণ সারারাত আগুন জ্বলে যেন আগুন তাদের আস্তানায় না লাগে তার জন্য এটাই উত্তম ব্যবস্থা। যেহেতু আগুনের প্লাটফর্মটি তারা তাদের থাকার আস্তানার উপর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যাতে করে সর্বক্ষণ আগুন সুরক্ষিত থাকে।

পরের পর্বটির জন্য অপেক্ষায় রাখার জন্য একান্ত ভাবে দুঃখিত।

চলবে . . .

About The Author
Ashraful Kabir
Ashraful Kabir
Want to be learn how to write..... also trying.....

You must log in to post a comment