বিদেশী সিনেমা রিভিউ

লগানের সমাপ্তি

এক্স ম্যান অ্যাপোক্যালিপ্স এর পর পরবর্তী কিস্তি লগান। লগানে এই প্রথম বৃদ্ধ লগানের পরিচয় পাওয়া যাবে। লগানের হিলিং পাওয়ারের জন্য তার বয়স বাড়তে দেখা যায়নি এর আগে কিন্তু এই সিনেমাটির বিশেষত্ব হচ্ছে এটি যে এখানে সকল কিছু প্রায় রিয়েলেস্টিক মনে হবে।  এজন্য মানুষের মনে এটি নিয়ে উন্মাদনাও কম নেই। মানুষের আগ্রহ বোধ বেশি থাকলেই সিনেমা অর্ধেক হিট। বাকিটুকু ক্যারেক্টার আর কাহিনীর ওপর নির্ভর করে।

সিনামাটির কাস্টিং দেখে নেওয়া যাক এক নজরেঃ

হিউজ জ্যাকম্যান- লগান

পাট্রিক স্টিয়ারট – চার্লস জেভিয়ার

ডেফনি কিন- লারা

বয়ড হল্ব্রক- ডোনাল্ড পিরস

স্টিফেন মার্চেন্ট- ক্যালিবান

রিচারড ই গ্র্যান্ট- জেন্ডার রাইস

একনজরে দেখে নেওয়া যাক সিনেমার সারসংক্ষেপঃ

২০২৯ সাল।

মিউট্যান্টরা বিলুপ্তির দিকে এগোতে থাকে। ২৫ বছরের মধ্যে কোন মিউট্যান্ট জন্ম নেয় না। বার্ধক্যে নিমজ্জিত লগান যে কিনা ওল্ভারিন নামে পরিচিত টেক্সাসে শেষ সময়টুকু অতিবাহিত করছে। লগানের দ্রুত হিলিং করার ক্ষমতা কমে গিয়েছে। তার জন্য তার এখন অনেক বয়স এবং তার কংকাল তার ভেতরটাকে বিষাক্ত করে তুলছে।  লগান মিউট্যান্ট ট্র্যাকার ক্যালিবানের সাথে বসবাস করেন এবং তিনি প্রফেসর চার্লস জেভিয়ারের যত্ন নিচ্ছেন। জেভিয়ার আলঝহেইমার রোগে ভুগছেন এবং তার শক্তিশালী টেলিপ্যাথি পাওয়ার এর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলেন।  একদিন লগানের সাথে বায়োটেক কর্পোরেশনের এক নার্স যোগাযোগ করেন। তিনি লগানের সাহায্য চান লারা নামক ১১ বছরের একটি মেয়েকে নর্থ ডাকোটা এর ইডেন নামক একটি স্থানে নিয়ে যেতে বলেন। লগান অনিচ্ছাকৃত ভাবে প্রস্তাবটি গ্রহন করেন। একটা সময় গ্যাব্রিয়েল হত্যা হন এবং লগান, জেভিয়ার এবং লারা পালিয়ে যান। ক্যালিবান কে বন্দী করা হয় সেখান থেকে। ক্যালিবানকে বাধ্য করা হয় লগান দের খুঁজে বের করতে।

সাবস্ক্রাইব করে রাখুব বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করে নতুন সব আপডেটের জন্য

একপর্যায়ে লগান লারার মায়ের দেয়া একটা মোবাইল পান। সেখানে একটি ভিডিও বার্তা ছিল। সেখানে লগানের জন্য কিছু কথা বলে গেছে সে। লারা হচ্ছে সেই বাচ্চাদের একজন যার জন্ম হয়েছে প্রজেক্ট “এক্স ২৩” থেকে। গ্যাব্রিয়েল অনেক বাচ্চাদের সাহায্য করেছিল। লারার তথ্য মতে লারার জন্ম হয়েছে লগানের ডিএনএ থেকে। রিভিয়ারসরা লগানদের কে ওখলামা শহরে ধরে ফেলে। জেভিয়ার সেই সময় আঘাত পায় এবং আশেপাশে যা ছিল ফ্রিজ হয়ে যায়। তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এই সময় রাস্তায় তারা দেখতে পাত যে এক কৃষক দুর্ঘটনায় পড়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে। সেখানে তাদের ঘোড়াগুলো গাড়ি তেকে বেরিয়ে পড়ে। লগান এবং জেভিয়ার সেই কৃষকদের কে সাহায্য করেন। ফলশ্রুতিতে সেই কৃষক পরিবারের থেকে লগানরা একটি আমন্ত্রন পান। সেই বাসাতে ঠিক লগানের মত দেখতে আততায়ীর আক্রমণ হয়। সেই আততায়ী জেভিয়ার কে খুন করে এবং সেই কৃষক পরিবারকে খুন করে।  জেভিয়ার এর যাত্রা এ পর্যন্তই ছিল। এখন বাকি থাকলো লগান এবং লারা।

জেভিয়ার কে কবর দেয়ার পর লগান এবং লারা বেরিয়ে পড়ে ইডেনের উদ্দেশ্যে। লগান জানতে পারলো সেখানে লারার মত আরো অনেক ছেলে মেয়ে আছে যারা সেখান থেকে পালানোর জন্য প্ল্যান করে বসে আছে। তারা সেখান থেকে কানাডিয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে যাত্রা করার পরিকল্পনা করেছে। শিশুদের সেখানে বাঁধা দেয়া হয় এবং সেখানেও লগানের মত দেখতে আততায়ী আক্রমণ করে। সেখানে লগানকে লারা একটি সিরাম দেয় যার দ্বারা লগানের হিলিং পাওয়ার পুনরায় কাজ শুরু করে দেয়। সেখানে সেই আততায়ী এবং লগানের মধ্যে চরম সংঘর্ষ হয়। সেই যাত্রায় লগানের মৃত্যু হয়। কিন্তু তার মেয়ে লারা এবং তার বন্ধুরা নিরাপদে বর্ডার ক্রস করতে সক্ষম হয়।   রিভিউঃ লগান হচ্ছে অনেক ইমোশনাল একটা সিনেমা। মানুষের এক্স ম্যান দেখার আগ্রহ অনেক আগে থেকেই তুমুল মাত্রায় ছিল। লগান সিনেমাটি নামার আগে থেকেই মানুষ বসে ছিল কবে নামবে কবে নামবে সেই আগ্রহ নিয়ে। এটা সম্পূর্ণ একটি পারিবারিক সিনেমা। আপনি চাইলে ঘরের সকলের সাথে বসে অনেক আরাম করে দেখতে পারবেন। এতে কোন সন্দেহ নেই। লগান নামার পর অনেক সাড়া ফেলে দেয়। রেটিং ও অনেক ভালো ছিল। যারা দেখেন নি দেখে ফেলতে পারেন। অনেক ভালো লাগবে।

লগানের অ্যাকশনের থেকে তার মেয়ে লারার অ্যাকশন ছিল চোখে পড়ার মত এবং তা দর্শক মনে চরম ভাবে জায়গা করে নিয়েছে। মানুষ যে ভাবে আশা করেছিল সে ভাবেই পেয়েছে কিন্তু মানুষ অনেকটা হতাশও হয়েছে বটে কারন এক্স ম্যান সিরিজটি যেটা শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে তার প্রধান আকর্ষণ লগানের মৃত্যু দেখতে হল। তবে সেজন্য অনেকে সিনেমাটি নিয়ে নানা ধরনের কথা বলেছে। কিন্তু সিনেমাটি দেখলে আপনি সত্যি অনেক ইমোশনাল হয়ে পড়বেন এবং প্রতিটি সিন আপনাকে চরমভাবে আকর্ষিত করবে। লগান সারা বিশ্বে মুক্তি পেয়েছিল একযোগে এবং বাংলাদেশেও সিনেমাটি দেখার জন্য মানুষের তুমুল আগ্রহ দেখা গিয়েছে। টিকেটের জন্য অনেক আগে থেকেই অনেক লম্বা লাইন লেগে যেতো। অনেক জায়গায় টিকেট বিক্রয় হয়েছে দ্বিগুণ দামে। কোথাও আবার এর জন্য আলাদা প্রিমিয়ারের আয়োজন করা হয়েছিল। কিছু জনপ্রিয় রেটিংঃ রোটেন টমেটো রেটিংঃ ৯২%আইজিএন রেটিংঃ ৯.৭/১০আইএমডিবি রেটিংঃ ৮.৩/১০

এটা আমার প্রথম মুভি রিভিউ। আশা করছি সামনের দিনে আরো রিভিউ দিবো। আপনাদের পছন্দের মুভি গুলোর রিভিউ পেতে কমেন্ট করে জানান।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ইন্টারস্টেলার বিশ্লেষণ (পর্ব ১)

Mrinmoyi Jahan

ফরেস্ট গাম্প (১ম পর্ব)

Farhana Afrose

The Exam (2009) মুভি রিভিউ এবং ব্যাখ্যা

Shahed Hasan

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy