Now Reading
“ভোগ করতে ভালোবাসি, বিয়ে করতে নয়” – বর্তমান সময়ের প্রেম এবং সামাজিক অবক্ষয় (পর্ব-১)



“ভোগ করতে ভালোবাসি, বিয়ে করতে নয়” – বর্তমান সময়ের প্রেম এবং সামাজিক অবক্ষয় (পর্ব-১)

আমরা বর্তমানে এমন একটা সময়ে বসবাস করছি, যেখানে প্রেম-ভালোবাসা সবচাইতে কমন একটা ব্যাপার। আজকের যুগে প্রেমিক বা প্রেমিকা না থাকলে তাকে নাকি ক্ষ্যাত সম্বোধন করা হয়! ব্যাপারটা যতটানা হাস্যকর, তার চাইতে বেশি বেদনাদায়কও বটে। আর এই বেদনায় শয্যাশয়ী হয়ে ছেলে-মেয়েরা চেষ্টা করে একটা গার্ল-ফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ড জোটাতে। প্রেমের জোয়ারে অজানা তেপান্তরে ভেসে যেতে। তারা জানেনা তাদের কি ঠিকানা, সেই প্রেমেরই’বা কি পরিণতি। বয়ঃসন্ধিকাল সময়টা এক্ষেত্রে খুব বেশি প্রভাব ফেলে, প্রেমে কে পড়েনি এই সময়ে? আমি নিজেও প্রেমে আটকে গিয়েছি, মরীচিকার মত মনে হয়েছে সব কিছু। কাছে গিয়ে দেখেছি শূণ্যতার হাহাকার। প্রেম-বিদ্যায় পাশ-ফেল আছে; কেউ আবার ইচঁড়েপাকা নাম পেয়ে থাকে অল্প বয়সে প্রেমে সিদ্ধহস্ত বা PHD নেয়ায়। আমার এই কথা গুলো পড়ে হাসছেন আর নিজের কথা ভাবছেন না তো? যাইহোক, আজ সমাজের কিছু কঠিন বাস্তবতা আর চরিত্রকে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। যেখানে উঠে আসবে কিছু প্রেম, কিছু ভালোবাসা, ভালোলাগা, ঘৃণা আর সমাজের কিছু নরপশুর কথা। সমাজের পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকা অবক্ষয়ের কথা।

প্রথমেই রূপা আর মেহেদীর গল্প দিয়ে শুরু করছি। গল্প বললে ভুল হবে, আসলে এটি একটি বাস্তব ঘটনা। আরো ৮ বছর আগের কথা। তারা দুজনই তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট। রূপা এসেছে প্রত্যন্ত গ্রাম-অঞ্চল থেকে, আর মেহেদী শহরের ইট-পাথরের কোলাহলে মিশে বড় হওয়া শহুরে ছেলে। রূপা মেধাবী হওয়ায় মেহেদী প্রায়ই তার সাহায্য নিতো। ভার্সিটি লাইফে এটা খুব স্বাভাবিক। এভাবেই একদিন মেহেদী আর রূপার ভালোলাগা ভালোবাসাতে গিয়ে গড়ায়। ভার্সিটির সবচাইতে সুদর্শন ছেলেটা হাবুডুবু খাচ্ছে গ্রাম্য সহজ সরল মেয়েটাতে!! এক মেধা ছাড়া কি আছে এই মেয়ের ভেতরে? যদি রূপ-লাবণ্য এর কথা বলি, নাহ, সেটাও মানা যায়না কোনোভাবে; দেখতে লম্বা আর শারীরিক গঠনটা ভালো এই আরকি! – আসলে, এখানেই কথা। এক বছরের সুমধুর সেই সম্পর্ক, মেহেদীর সুমিষ্ট আচরণ বদলে যেতে সময় লাগেনি। একসময় ভার্সিটিতে খবর রটে যায়, রূপা ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। নাহ, মেহেদী তাকে গ্রহণ করেনি, অ্যবরশন এর টাকাটা দিয়ে রূপাকে সে বলেছিল, “এটাই আমি, কলেজ লাইফ থেকে আমি এমনই, ভোগ করতে ভালোবাসি, বিয়ে করতে নয়”। এরপর রূপার কি হয়েছিল? আত্নহত্যা? নাহ, রূপা গ্রামের সহজ সরল মেয়ে হলে কি হবে? সে ছিল সৎ আর সাহসী। আর ঠিক তখনই রূপার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল তারই ক্লাসমেট, এক মহান পুরুষ জুবায়ের। রূপা তো বিশ্বাস করেছিল মেহেদীকে, মেহেদীর আশ্বাসকে। বিয়ে করবার আশ্বাস। নকল কাবিননামা করেছিল। রূপা যখন তা বুঝতে পারে, ততদিনে অনেক দেরী হয়ে যায়।

সাবস্ক্রাইব করে রাখুব বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করে নতুন সব আপডেটের জন্য! 

কি, এমন ঘটনা তো প্রতিনিয়ত ঘটছে বলে গায়ে মাখছেন না? নিজেও প্লেবয় সেজে কোনো মেয়ের সতীত্ব হরণে ব্যস্ত? ভাই, হ্যাঁ আপনাকেই বলছি, নিজের অবস্থান থেকে একটু চিন্তা করে দেখেন তো, আপনার বোন থাকলে তার যদি এমন কোনো ক্ষতি কেউ করতো, চুপ করে ঘরে বসে থাকতেন? নাকি হাতের কাছে দা থাকলে সেই দা নিয়েই সেই কাপুরুষ হায়েনাটাকে হারিকেন জ্বালিয়ে খুজেঁ বেড়াতেন? অনুরোধ করছি, আপনি নিজেই সেই হায়েনা হওয়ার আগে সুস্থ মাথায় চিন্তা করে দেখুন, ভেবে দেখুন, ভালোবাসা দিয়ে অনেক কিছুই হয়তো পাবেন, আপনার প্রেমিকার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তার ক্ষতিও করতে পারবেন, আপনার চরিত্র একবার নষ্ট হয়ে গেলে সেটা সমাজের কাছে ঠিকই হয়তো অধরা থেকে যাবে, কিন্তু যে মেয়েটাকে চরিত্রহীনা বানিয়ে দিলেন সমাজের কাছে, তার কি হবে? সবাই তো রূপার মত না যে আত্নহত্যা করবে না, সবাই তো জুবায়ের না যে সেই হতভাগী মেয়ের পাশে এসে দাঁড়াবে? ম্যাক্সিমাম তো খারাপ পথটাই বেছে নেয়, পত্র-পত্রিকায় দেখেন তো! আপনার অধিকার নেই কোনো মেয়ের জীবন নষ্ট করে দেয়ার, তার পরিবারকে যন্ত্রণায় ভোগাবার।

ভাইরে, প্রেম করতে পারেন আর বিয়ে করতে কি হয়? ভয় হয়? বিয়ে করতে যদি ভয়ই করে, প্রেম করতে তাহলে ভয় করেনা? নাকি প্রেম-ভালোবাসা পবিত্র এই খোঁড়া অজুহাতে বিয়েকে বস্তাবন্দি করে বুড়িগঙ্গার জলে ভাসিয়ে দেন?

আমাদের সমাজে মেহেদীর মতন নষ্ট পুরুষের যেমন অভাব নেই তেমনি রূপার মত ভুক্তভুগীরও অভাব নেই। মেয়েদেরকে বলছি, কেন এমন ভুক্তভুগী হবেন আপনারা? আপনাদের কি বিবেকে নাড়া দেয়না বিছানার যাবার আগে? এইটা মনে হয়না যে, বিয়ে করলাম না, বিছানায় যাবো কেন? এই ছেলে যদি প্রতারণা করে বসে? এখন তো এটাই বেশি হচ্ছে, ভালোবাসা আর বিশ্বাস হারিয়ে যাচ্ছে সমাজ থেকে। নাকি আপনাকেও সমানে সমান অপরাধী হিসেবে ধরে নেব যে আপনিও শারীরিক চাহিদা মেটাতেই মেহেদীর মত পুরুষের সাথে একান্তে সময় কাটাচ্ছেন?

আপনারা যারা আমার এই লেখাটি পড়ছেন, তাদেরকে অনুরোধ করছি, প্লিজ, দয়া করে এইসব বন্ধ করুন, সুস্থ একটা জীবনে ফিরে আসুন। যারা এমন করে আর বলে যে, “ভোগ করতে ভালোবাসি, বিয়ে করতে নয়” – তারা অসুস্থ, জানোয়ার, কীট, নরপশু। আপনার, আমার, কারোরই এই অধিকার নেই অন্য একজনকে শুধুমাত্র ভালোবাসার বশে কাছে এনে ভোগ করার। বিয়ে করুন, সংসার করুন, সুস্থ জীবন-যাপন করুন। সমাজে বিয়ে বলে কিছু একটা তো আছে নাকি? নষ্টামো করে নষ্ট হবেন কেন?

( রূপা, মেহেদী, জুবায়ের – ছদ্মনাম ব্যবহার করেছি; পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলছি, রূপা এবং জুবায়ের বর্তমানে সুইডেনে আছেন। দুই বাচ্চা নিয়ে সুখের জীবন তাদের; যে বাচ্চাকে অ্যবরশন করার জন্য মেহেদী টাকা দিয়েছিল, সেই বাচ্চা জন্মের পরপরই মারা গিয়েছিল, মস্তিষ্কের সমস্যার কারণে। মেহেদী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ির চাকার নিচে জীবন দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিকগুলোর শিরোনাম হয়েছিল! )

আসছি পরের পর্বে- আপুদের চরিত্রের ঘটনা নিয়ে, শুধুমাত্র ছেলেদেরই যে দোষ তাতো না, তাইনা?

চলবে………

About The Author
Ferdous Sagar zFs
Hi, I am Ferdous Sagar zFs. I am a Proud Bangladeshi living in abroad for study purpose. I love to write and it's my passion or hobby. Thanks.
8 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment