Now Reading
এক ওভার এ ৭৭ রান। গল্প নয় সত্য



এক ওভার এ ৭৭ রান। গল্প নয় সত্য

যখন কেউ প্রশ্ন করে এক ওভার এ সর্বোচ্চ রান কত ? তখন হয় তো সবাই বলবে ৩৬। আর কোন ব্যাটসম্যান এই কৃতিত্ব দেখিয়েছে বললে উত্তর আসবে হার্শাল গিবস ,রবি শাস্ত্রী এবং গ্যারি সোবার্স। হয়তো অনেকেই জানেন না এই উত্তর টি সম্পূর্ণ ভুল। উত্তর তা শুনলে হয়তো রীতিমতো করে যাবেন। কারণ ১৯৯০ সালে বুর্ট ভেন্স এর কুখ্যাত এবং আলোচিত একটি ওভার এ হয়েছিল ৭৭ রান। হ্যাঁ ভুল দেখেননি ,৭৭ রান।ব্যাটসম্যান ছিলেন লি-জর্মন এবং রজার ফোর্ড। কি চোখ কপালে তো। চলুন জেনে নেই কি ঘটেছিলো সেই ওভার এ।
ঘটনা টি ঘটে ওয়েলিংটনের শেল ট্রফির শেষ দিনে। যেখানে ওয়েলিংটন মুখোমুখি হয়েছিল ক্যান্টারবুরী সাথে। ম্যাচ টি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ক্রিস্টচার্চ ক্রিকেট গ্রাউন্ড এ। ম্যাচটি ছিল ওয়েলিংটনের মৌসুমের শেষ ম্যাচ। আর শিরোপা ধরে রাখতে ওয়েলিংটনের দরকার ছিল একটি জয়। দিনের শুরুতে ওয়েলিংটন তাদের ইনিংস ঘোষণা করে। তারা জয়ের জন্য ক্যান্টারবুরীকে ২৯১ রানের টার্গেট দিয়ে ছিল। ব্যাট করতে নেমে ক্যান্টারবুরী পরে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে। ওয়েলিংটনের বোলারদের বোলিং তোপে একে একে তারা হারায় তাদের ৮ টি মূল্যবান উইকেট। ক্যান্টারবুরী লক্ষ্য তখন যেভাবেই হোক ম্যাচ তা ড্র করা।
লি-জর্মন ক্যান্টারবুরী উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান তখন স্ট্রাইক এ। ওয়েলিংটনের ক্যাপ্টেন জন মরিসন এবং এরভি স্বীনি একটি বুদ্ধি আঁটল ক্যান্টারবুরীকে আটকাতে। তারা বোলিং এ বুর্ট ভেন্স কে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলো। বুর্ট ভেন্স ছিলেন একজন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান এবং তার পূর্বে বোলিং করার কোনো রেকর্ড ও ছিল না। তবে কেন তাকে নিয়ে গেম প্ল্যান সাজালো জন মরিসন ?এমন কি ছিল তার সেই গেম প্লেন এ ?

cricket1-1484378219.jpg

লি-জর্মন নিউজিল্যান্ড এর হয়ে খেলা আন্তর্জাতিক একটি ম্যাচে

আলোচিত সেই ওভার এর আগে ক্যান্টারবুরী রান ছিল ১০৮ রান ৮ উইকেট এর বিনিময়ে। মরিসনের গেম প্ল্যান ছিল তারা ক্যান্টারবুরী কে প্রকার রান গিফট দিবে। অর্থাৎ যে ক্যান্টারবুরী ড্র এর জন্য খেলছে তাদেরকে জয়ের আশা দেখিয়ে রক্ষণাত্মক খেলা থেকে আক্রমণাত্মক খেলতে উৎসাহিত করবে। যাতে তার তাদের শেষ ২ উইকেট ঝুঁকিতে ফেলে ম্যাচ জয়ের জন্য বড় শট খেলে। ওভার টি যখন শুরু হয় তখন ক্যান্টারবুরী এর ছিল ১৯৬ রান ৮ উইকেট এর বিনিময়ে। লি*জর্মন এবং রজার ফোর্ড এর ধৈর্যশীল ব্যাটিং এ তারা মোটামোটি শক্ত ভীত গড়ে তুলেছিল ড্র এর জন্য। লি-জর্মন তখন অপরাজিত ছিলেন ৭৫ রান করে।
জন মরিসন বোলিং এ আমন্ত্রণ জানালেন বুর্ট ভেন্স কে।ভেন্স বল করা শুরু করলেন। তার করা শুধু প্রথম এবং দ্বিতীয় বলটি হয়তো লিগ্যাল ডেলিভারি ছিল। এর পর যা হল তা এখন ইতিহাস। ফুলটস এর পর ফুলটস ,একের পর এক নো-বল। আর এই দিকে জর্মন খেলে যাচ্ছিলেন একের পর এক বাউন্ডারি। জর্মন সেই ওভার এ তুলে নেন তার সেঞ্চুরি। মাত্র ৬ বল খেলে তিনি ৮ টি ছক্কা এবং ৫ টি চার হাঁকান সেই ওভার এ। একই সেই ওভার থেকে করলেন ৭০ রান। তবে ফোর্ড ওভার এর ২ টি বল খেলেছিলেন যাতে তিনি ৫ রান সংগ্রহ করেন।
ভেন্সের বোলিংয়ে রানের ধারা ছিল যথাক্রমে ০,৪,৪,৪,৬,৬,৪,৬,১,৪,১,০,৬,৬,৬,৬,৬,৬,০,০,৪,১

cc003905b109fae0d216708e3fd7b562-9.jpg

ভান্স সেই ৭৭ রান দেয়া বোলার

কি হচ্ছে মাঠে এইটা ? এ দেখে সবাই হতবাক। এতটাই হতবাক যে স্কোরবোর্ড এ রান বদলানোর কোথাও ভুলে গিয়েছিলো। এদিকে আম্পায়ারের চোখ ও চড়কগাছ। এতটাই যে ৫ টা লিগ্যাল ডেলিভারি তাই ওভার ঘোষণা করে দিলেন। অবস্থা কিছুতেই সামাল দেয়া যাচ্ছিলো না যতক্ষণ না ইভান গ্যারি সেশন এর শেষ ওভার তা করলো। সেশন শেষ হবার আগে জয়ের জন্য ক্যান্টারবুরীকে দরকার ছিল ১৮ রান। সেশনের শেষ ওভার এ জর্মন আরো ১৭ রান তুলে নিলেন।
কিন্তু স্কোর বোর্ড এর কর্মকর্তারা তখন ভেন্স এর ওভার এ বিচলিত। জয়ের জন্য সেন্টারব্র্যায়ের দরকার ছিল ১ রান। কিন্তু স্কোর দেখতে না পাড়ায় ফোর্ড লাস্ট বলটি ডিফেন্সিভ খেলে। কারণ তার ধারণা ছিল ম্যাচ টি তারা ড্র করতে পেরেছে।

মজার বেপার হলো জন মরিসন ও ভেবেছিলেন টার্গেট এ আরো রান আছে। পরবর্তীতে জন মরিসন বলেন “আমিতো প্রায় হার্ট এটাক করে বসেছিলাম যখন শুনলাম সেন্টারব্র্যায়ের শুধুমাত্র ১ রান লাগতো জয় এর জন্য এবং আমরা ভেন্স এর বোলিং এর জন্য অনেক ঠান্ডা ফিল্ডিং করছিলাম ”

“I nearly had heart failure when I learnt a little time after the game that Canterbury only needed one to win and we had Vance bowling to a very leaky field”
John Morrison

 

4895446.jpg

ট্রফি হাতে ওয়েলিংটনের ক্যাপ্টেন জন মরিসন

ম্যাচ শেষেও ভেন্স এর ওভার নিয়ে কতে থাকলো কঠোর সমালোচনা। এই ব্যাপার নিয়ে মরিসন বলেন ” ঘটনাটি নিয়ে সকল প্রকার বিতর্ক চলছিল। আমাদের কপাল ভালো ছিল যে আমরা কোনো পয়েন্ট হারায়নি। আপনারা ভাবতে পারেন কতটা সৌভাগ্যবান হলে আমরা নিশ্চিত হারানো পয়েন্ট ফিরে পেয়েছি। যদি পয়েন্ট হারাতাম তবে হয়তো চ্যাম্পিয়নশিপ টাও পেতাম না তখন আরো বেশি বিতর্ক হতো। যাই হোক চ্যাম্পিয়নশিপ জেতায় আমরা সকল সমালোচনা থেকে বেঁচে গেছি এবং বিষয়টা বেশিদূর গড়ায়নি। ”

ঘটনাটি অনেকটাই স্টিভ ও ‘শৌঘ্নেসসির ৩৫ মিনিট এর সেঞ্চুরির মতো। অন্য একদিন না হয় সেইটা নিয়ে লিখবো। তবে বলে রাখি আজও জর্মন এবং ফোর্ড এর ৯ম উইকেট এ করা ১৮২ রান এর জুটি ক্যান্টারবুরী ৯ম উইকেট এ করা সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড।

About The Author
Abdul Mueez
Abdul Mueez
Comments
Leave a response

You must log in to post a comment