Now Reading
সফলতার শীর্ষে আমিরের দঙ্গল



সফলতার শীর্ষে আমিরের দঙ্গল

dangal.jpgউনি বলিউডের রাজাও নন বাদশাও নন। তবে তার অবস্থান যে সেই রাজা বাদশাহের থেকে অনেক উপরে তা কার জানা নেই? ছোট বড় সকলেই তাকে চেনে মিস্টার পারফেক্টশনিস্ট নামে। হ্যা কথা বলছি আমির খানের কথা। ভারতের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ব্লকবাস্টার ৫টি মুভির ৩টি মুভি আমির খানের। দঙ্গল, পিকে এবং ধুম থ্রি বাকী দুটি সালমান খান অভীনিত বজরঙ্গী ভাইজান এবং সুলতান। ব্যবসায়িক সফলতা ব্যতিরেকে মুভির কোয়ালিটি বিচারে যদি বলিউডের সেরা দশটি চলচ্চিত্রের নাম বলতে বলা হয় তার অন্তত ৫টি মুভি হবে আমির খানের । আর বাকী সবাই মিলে ৫টি। যদি প্রশ্ন করা হয় শাহরুখ খান অভিনিত সেরা মুভি কোনটি তবে সবাই হয়তো বলবেন দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে। যদি একই প্রশ্ন আমিরখানের বেলায় করা হয়। তাহলে উত্তর হবে তার মুক্তি পাওয়া শেষ ছবিটি । অর্থাৎ এই মুহুর্তে দঙ্গল । বলিউড বাজারে এখন তিনি সবচেয়ে আস্থাভাজন নাম। যার ছবির হিট হওয়া অবশ্যম্ভাবী।

আমিরের ছবি মানেই চরম উত্তেজনা সেই সাথে দারুন কাহিনী এবং কিছু উপদেশ বানীও থাকবে। আর দক্ষ নির্মান শৈলীর কারণে মুভি হয়ে ওঠে হট কেক। তার মত মুভি বিজনেস মস্তিষ্ক এই মুহূর্তে বলিউডে ২য়টি নেই ।তিনি একটি ট্রেন্ড সৃষ্টি করেন আর অন্যরা তা অনুসরণ করতে থাকে।

আমিরের দঙ্গল ভারতে মুক্তি পায় সেই সাথে বিশ্বের নানা দেশে মুক্তি পায় আর সকল স্থানেই সফলতার সাথে ব্যবসায় করে। এর জন্য আইএমডিবি রেটিং এ বিশ্বের সেরা ১০ টা সিনেমার একটি বলে দাবি করা হচ্ছে। এর অবস্থান হচ্ছে ৬ নম্বরে। আমির খান কখনোই ছবি কতজন মানুষ দেখলো তার বিচারে মুভির শ্রেষ্ঠত্ব বিচারে বিশ্বাসী নন। তার ভাষ্যমতে যে ছবির কনটেন্ট যত সমৃদ্ধ সেটি তত সমৃদ্ধ ছবি। তাই তার প্রতিটি ছবি কনটেন্ট অসাধারণ। আর মানুষও মুখিয়ে থাকে তার অভিনীত মুভি দেখার জন্য।

দঙ্গল সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য
অভিনেতা :
আমির খান (মহাবির সিং ফোগাত)
সাক্ষী তানোয়ার(মহাবির সিং ফোগাত এর স্ত্রী)
ফাতিমা সানা শেখ (গীতা ফোগাত)
সানিয়া মালহোত্রা (ববিতা কুমারী)

পরিচালক :নিতেশ তিওয়ারী
প্রযোজক : আমির খান , কিরণ রাও,সিদ্ধার্থ রয় কাপুর
সুরকার : প্রীতম

মুক্তি : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৬
নির্মাণব্যয় ₹৭৬ কোটি

মহাবীর ফোগাতের টাকা পয়সার অভাবে তার কুস্তি খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তার কুস্তির প্রতি যে ভালোবাসা ছিল সেই ভালোবাসার দ্বারা সে কিছুই করতে পারেনি জীবনে। তার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল স্বর্ণ জয়। সেই স্বপ্নটি ভেঙ্গে যায়। তার একটিও পুত্র সন্তান হয়নি। চতুর্থ সন্তানটিও যখন কন্যা হলো তিনি দারুন আশাহত হলেন। কিভাবে তাঁর স্বপ্নপূরণ করবেন ? এর মধ্যেই তার বাড়িতে নালিশ একটা ছেলেকে মেরে ভুত বানিয়েছে তার পরিবারের কেউ। ফোগাত চড়াও হলেন তার সঙ্গে বাস করা ছেলের উপর। পরে জানলেন তার দুই মেয়ে গীতা আর ববিতা এই কাজ করেছে। সেই সময়ই তার মনে স্বপ্ন উঁকিঝুঁকি দিতে থাকে তিনি মেয়েদের কুস্তিগীর বানাবেন। যেই ভাবনা সেই কাজ । গীতা ফোগাতকে কুস্তিগীর বানানোর জন্য আদাজল খেয়ে নামেন আমির। মেয়েদের প্রশিক্ষণ শুরু হয় ভোর পাঁচটায়। হানিকারক বাপু মেয়েদের কুস্তিগীর বানাতে যতটুকু নিষ্ঠুর হওয়া দরকার ততটুকু নিষ্ঠুরতা দেখাতে কার্পন্য করেননা। নানা চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে তবেই চূড়ান্ত সফলতা লাভ করেন মহাবির ফোগাত আর বড় কন্যা গীতা।

রিভিউ ছবির চরিত্রের জন্য পরিশ্রম, প্রস্তুতি কিছু করেন বটে আমির খান৷ ছবিটা দেখবার সময় তাঁকে একজন কুস্তিগির ছাড়া অন্য কিছু মনেই হবে না৷ ঘর্মাক্ত শরীরে মাটি মেখে, ল্যাঙোট পরে আখড়ায় তাঁকে যেভাবে পাওয়া গেল, মনে হবে আসল মহাবীর ফোপটই বুঝি উপস্থিত হলেন৷ সেই পাহলুয়ানসুলভ হাঁটাচলা, লড়ে যাওয়ার খিদে আলগা চালের মস্তানি লুক, সবকিছু পাওয়া গেল তাঁর অভিনয়ে৷ ছবির মধ্যে চরিত্রটায় বাস করলেন তিনি৷এটি আমিরে জীবনে এখন পর্যন্ত করা সেরা কাজ । একজন খেলোয়ারের টানাপোড়েন, মনের ভাল থাকা-খারাপ থাকা, মুডের ফ্লাকচুয়েশন পেরিয়ে কামব্যাক করার জেদ, এটাই দর্শককে পর্দা থেকে চোখ সরাতে দেবে না৷ সেজন্য ক্যামেরাকেও ধন্যবাদ দিতে হবে৷ গীতা হিসেবে নবাগতা ফাতিমা বড় চমত্কার অভিনয় করেছেন৷ কুস্তির রিংয়ে তাঁকেও বিধ্বংসী লেগেছে৷ মহাবীর ফোগতের স্ত্রী চরিত্রতি গতানুগতিক এখানে অভিনেতার তেমন কিছুই করা সুযোগ ছিলনা । মুভিতে কিছু অত্যন্ত চমৎকার চমৎকার দৃশ্য রয়েছে। যেমন ঃ গীতার স্বর্ণ জয়ের চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ। প্রতিটি লড়াইয়ে কোচ নন দর্শক গ্যালারীতে বসে থাকা বাবার বলে দেওয়া কৌশলে একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করতে থাকে গীতা। বাবা তার জয়ের অবশ্যম্ভাবী অংশ। কিন্তু সবচেয়ে বড় ইভেন্টে বাবার দেখা পাচ্ছেন না। বাবা কোথায় কোন হদিস নেই? এর মধ্যেই চলছে চূড়ান্ত কুস্তি। তাঁর বাবার কথা ভীশন মনে পড়ছে। প্রতিপক্ষ তাঁকে ব্যাকফুটে ফেলে দিয়েছে। এ সময় বাবার দেয়া শিক্ষা স্মৃতির মানসপটে ভেসে আসছে। বাবা তাকে এ শিক্ষাও দিয়েছেন যে বাবা সবসময় পাশে থাকতে পারবেন না।সেই সময় কিভাবে এগিয়ে যেতে হবে।ওদিকে বাবা ফোগাতকে একটি ঘরে বন্দি করে রেখেছে গীতার কোচ । সব কৃতিত্ব বাবার হয়ে যাচ্ছে এটি হতে দেয়া যাবে না তাই ঈর্ষাপরায়ন হয়ে এমন গর্হিত কাজ। ঘরে বন্দি বাবা ফোগাত খাঁচায় বন্দি পাখির মত ছটফট করছে। কিন্তু বেড় হতে পারছে না। তার ভীশন চিন্তা মেয়ে কেমন লড়ছে? ফোগাত অনন্যোপায় হয়ে স্রস্টার কাছে প্রার্থনারত। এমন সময় দূর থেকে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ভেসে আসে। মেয়ে তার স্বর্ণ জয় করেছে নিশ্চিত হন ফোগাত।

Ratings

IMDB 8.8/10

HINDUSTAN TIMES 4/5

GOOGLE USERS 95%

About The Author
Farhana Mou
Farhana Mou
I am a crazy movie lover 😀 & Professional Web designer & Wordpress Developer :-)

You must log in to post a comment