Now Reading
আজ আমার বিয়ে – পর্ব ৩য়



আজ আমার বিয়ে – পর্ব ৩য়

বাসায় এসে কোনো রকম নিজের রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম । প্রতিদিনের মত ঘুম থেকে উঠে নিজেকে ঘুছিয়ে বের হলাম অফিসের উদ্দেশ্য । রিকশায় উঠে বসলাম । আজ কেন যেন এক সাইডে বসতে ইচ্ছে করলো । মানে প্রতিদিন রিক্সায় উঠলে নিজে রিলেক্স করে বসতাম । আজ ডান সাইড একটু চেপে বসলাম , বাম সাইডের জায়গাটা উনার জন্য রেখে আগে থেকে অভ্যাস করছিলাম । উনার কথা ভেবে এখন থেকেই লজ্জা লাগছে । আর কিছু দিন পর আমাকে আর এক বসতে হবে না রিকশাতে ।

অফিস করে বাসায় ফেরের পথে হঠাৎ চোখে লাল চুড়ি পড়লো । রাস্তার পাশে এক মহিলা চুড়ি বিক্রি করছে । আমি নেমে তার জন্য দুই ডজন চুড়ি কিনে নিলাম । এই প্রথম কোনো মেয়ের জন্য কিছু কিনলাম । রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি আর কল্পনা করছি , উনাকে প্রথম রাতে নিজ হাতে আমি চুড়ি গুলো পরিয়ে দিয়ে বলবো আপনাকে অনেক সুন্দর লাগছে । মনে হচ্ছে চাঁদের জোছনা একদম পরিপূণ হয়ে গেলো চুড়ি গুলো হাতে দিয়ে ।

বাসায় এসে তারা হুরা করে নিজে রুমের ভিতর ঢুকে গেলাম । যদি কেউ দেখে ফেলে আমি চুড়ি কিনেছি তাহলে আমাকে নিয়ে মজা করবে বলবে বউ আসার নাম নেই উনি আছেন চুড়ি নিয়ে । আচ্ছা বুঝলাম না একটা ব্যাপার । আগে প্রত্যেকটা দিন , রাত, সময় , বছর কিভাবে কেটে যেত টের পেতাম না , কিন্তু কাল থেকে আজ মনে হচ্ছে ১ বছর সময় পার হয়ে গিয়েছে । অপেক্ষা আমাকে মেরে ফেলছে । আমার হবু বউ কে উনি উনি করে বলছি , মোটেও ভাল লাগছে না । তার নাম ও তো জানি নেই । আচ্ছা আমি একটা নাম দিয়ে দেই । তার নাম হবে রুপা । হুমায়ন আহমেদ এর হিমু গল্পের রুপা । না আমি হিমু না । আমি সাদ , আর রুপা হলো সাদের ।

রাতে ভাত খাওয়ার সময় মা বলছিলো – বাবা এখন থেকে তোমার উপর অনেক দায়িত্ব । আর কিছু দিন পর থেকে তুমি একা থাকবে না । তোমার সঙ্গী হবে । আমি তোমার বন্ধু হিসেবে কিছু কথা বলবো তোমাকে তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে ।
আমি কোনো কথা বলছিলাম না , মা বলে যাচ্ছে আমি মনোযোগ দিয়ে শুনছিলাম ।
মা বলছে – তুমি একটা মেয়েকে তার মা . বাবা , ভাই , বোন সবার থেকে আলাদা করে নিয়ে আসবে । মেয়েটা সবাই কে পর করে দিয়ে তোমাকে আপন করে নিবে । তোমার উচিত হবে সর্ব অবস্থায় থাকে ভালোরাখা । কারণ ওর একমাত্র ভরসা তুমি । তুমি যদি তাকে কষ্ট দাও সে অনেক বেশি কষ্ট পাবে । তোমার উচিত হবে সব সময় তার মন জয় করে চলা । সে তোমার অর্ধেক । এই কথাটা মনে রাখবে । তার খুশির দিকটা খেয়াল রাখা তোমার দায়িত্ব । সারা দিনের মধ্যে কিছুটা সময় তোমার উচিত তার জন্য বরাদ্ধ রাখা । তুমি তোমার সারা দিনের কিছু উল্লেখ যোগ্য ঘটনা তার সাথে শেয়ার করতে পারো । তুমি কাজ করে আসার পর যদি মনে হয় তুমি তাকে তার কাজে সাহায্য করতে পারবে তাহলে তুমি অবশ্যই সাহায্য করবে । আরেকটা কথা , আমি তার মায়ের মতো । আমার সাথে শুরুতে তার চলতে একটু সমস্যা হবে । আমি চেষ্টা করবো খুব দ্রুত মানিয়ে নিয়ে চলতে । তখন ও অনেক একাকিত্ব বোধ করবে । তখন তোমার কাজ হবে তাকে বোঝানো । ধর্মীয় কাজে তাকে সহযোগিতা করবে । আর তোমার বৌয়ের শাসন করার ব্যাপারে খুব বেশি করা করি হবে না , আবার একেবারে নরম প্রন্থা অবলম্বন করবে না । তুমি যদি আমার কথা গুলো মেনে চলতে পারো তাহলে বাবা তুমি তোমার বিবাহিত জীবনে অনেক সুখী হবে .

আমি কোনো কোথায়ই বললাম না । একদম বাধ্য ছেলের মতো সব কথা শুনে গেলাম । পরিশেষে মা একটি কথা বললো যা আমার মনে দাগ কেটে গিয়েছে

মা বললো – বাবা সুখ টাকার মাঝে নেই । সুখ হলো একজন কে আরেক জন বিশ্বাস করার মাঝে । ধরো তোমাদের অনেক টাকা কিন্তু একজন কে আরেক জন সন্দেহ করো , তাহলে সারা দিনের পরিশ্রম আর টাকা সব বৃথা । আর যদি ঘরে টাকা না থাকে , খাবার না থাকে কিন্তু ভালবাসা আর বিশ্বাস যদি থাকে তাহলে সুখ নামের পাখিটা ধরা দিতে বাধ্য ।

আমি খেয়ে উঠে পড়লাম । ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চিন্তা করছিলাম , আমার মনের ভিতরে যেই ঘর বেঁধে রেখেছি আমার রুপার জন্য , তাকে আমি সেই ঘরের রানী বানাবো আর আমি হবো একমাত্র রাজা । যেখানে কোনো প্রজা বা আর কোনো মানুষের স্থান থাকবে না । ভাবছিলাম ও যখন প্রেগনেট হবে তখন আমি কাজ করবো না । ছুটি নিয়ে নিবো কয়েক মাসের । রুপা যদি টয়লেটে যায় তাহলে আমি টয়লেট পর্যন্ত কোলা করে নিয়ে যাবে , যদি হাটতে গেলে ব্যথা পায় । ওর সব কাজ আমি করে দিবো । নিজের হাতে খাইয়ে দিবো । নিজে নিজে ভাবছি আর মুচকি হাঁচি । বিয়েই হলো না এখনই বাবা হবার স্বপ্ন দেখছি ।

চলবে….

 প্রথম পর্ব আর দ্বিতীয় পর্বের লিংক দিয়ে দিলাম

 

About The Author
Rohit Khan fzs
Rohit Khan fzs
বি.এস.সি করছি ইলেকট্রনিক এন্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। লিখতে ভালবাসি। নতুন নতুন মানুষদের সাথে পরিচিত হতে পছন্দ করি।
0 Comments
Leave a response

You must log in to post a comment