Now Reading
১০ ওভারে ৩৬ রান ও কিছু কথা



১০ ওভারে ৩৬ রান ও কিছু কথা

BanvEng.jpg

আমরা সবাই জানি যে বাংলাদেশ ইংল্যান্ডের সাথে বড় ব্যবধানে হেরে গিয়ে তাদের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০১৭ এর যাত্রা শুরু করেছে। বাংলাদেশের এই হারটা আর সবার মত আমার কাছেও দৃষ্টিকটু লেগেছে, কারণ আমরা শুরু ও শেষের ১০ ওভারে বেশী রান তুলতে পারিনি। হ্যা, আমি ব্যাটিং এর দোষই দিব, কারণ ম্যাচটা একটি ব্যটিং সহায়ক পিচে খেলা হয়েছিল। টসে হেরে ব্যাটিং এ নেমে আমাদের খেলোয়াড়েরা অতি সাবধানে খেলতে গিয়ে ১০ ওভারে মাত্র ৩৬ রান সংগ্রহ করে, যা কিনা এই ধুম ধারাক্কা ব্যাটিং এর যুগে বেশ বেমানান। যেখানে ১০ ওভারে মিনিমাম ৬০/৭০ রান হয়, সেখানে আমরা করলাম মাত্র ৩৬! এখন অনেকে আবার শান্তনা খুঁজতে যায় যে, রান যাই হোক না কেন, আমাদেরতো কোন উইকেট পরে নাই। আমিও মানলাম আমাদের কোন উইকেট পরে নাই, কিন্তু ভাই আপনিই দেখুন এই যে আপনি ২৫/৩০ রান কম করলেন প্রথম ১০ ওভারে, সেই ধাক্কা কিন্তু বাংলাদেশ আর সামলাতে পারে নাই। যা আমাদের মোট রান ২৫/৩০ রান কম করে দিয়েছে। এই ২৫/৩০ রান বেশী হলেই কিন্তু আমরা ম্যাচ টা আর একটু টাইট হত, হইতবা জিততেও পারতাম, যা মাশরাফিও ম্যাচ শেষে স্বীকার করে নিয়েছে।

ম্যাচ শেষে অনেকেই মন্তব্য করতেছে যে বাংলাদেশ কি আবার আগের যুগে ফিরে গেল কিনা, যে কোন রকমে ৫০ অভার পর্যন্ত খেলে যেতে পারলেই হল, রান যাই হোক না কেন।

আমরা জানতাম যে ইংল্যান্ডের মাঠে ৩০০/৩০৫ কোন ব্যাপারই না চেজ করার জন্যে, সেই জন্যেই মনে হয় আমাদের বোলিংটাও খুব বাজে হয়ে গেছে। আমারা ম্যাচ হারার আগেই হেরে বসে ছিলাম।

আগে আমাদের ব্যাটিং ভালো না হলেও বোলিং ভালো করে আমরা ম্যাচ বের করে আনতে পারতাম, কিন্তু আমাদের বোলিং এর ধারও দিন দিন কমে যাচ্ছে। যাকে নিয়ে আমাদের সবচেয়ে বেশী আশা ছিল, সেই মুস্তাফিজও ওইদিন ফ্লপ ছিল। ইংল্যান্ডের ইনিংসের মাঝখানে কেন বোলিং অতি সাধারণ হলো,জুটি ভাঙা গেল না,৪০-৪২ ওভারের দিকেও যদি একটা বা দুইটা উইকট নেওয়া যেত। যদিও মাশরাফির বলে তামিম ইকবালের ক্যাচ টা পরিষ্কার আউট ছিল, কিন্তু আম্পায়ারদের কল্যাণে ব্যাটসম্যান বেঁচে যায় এবং বাংলাদেশও উইকেট বঞ্চিত হয়।

আমাদের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের দিনগুলো ভালো যাচ্ছে না। না ব্যাটিং না বোলিং। একটা সময় ব্যাটে-বলে দলকে অভয় দিতেন সাকিব। আর এখন সাকিবকে নিয়ে ভরসা পাচ্ছে না দল। নয়তো পুরো ক্রিকেট বিশ্বে টি-টোয়েন্টি ফেরি করে বেড়ানো সাকিব কেন নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেনা। সাকিবের বোলিং আর আগের মত নেই,এটা নিয়ে বিতর্ক করার সুযোগ কম। ওয়ানডেতে গত ১৪ ইনিংসে ৩ উইকেট পেয়েছেন একবার। ২ উইকেট তিনবার। ১ উইকেটও তিনবার। বাকি সাতবার উইকেটের কোন দেখাই পাননি! আয়ারল্যান্ড ও নিউজল্যান্ডের সাথে ত্রিদেশীয় সিরিজ এরপর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো বড় আসরে যেখানে বড় তারকারা আলো ছড়ান। সাকিব সেখানে নিতান্তই মলিন। শেষ ছয় ম্যাচে তার বোলিং বিশ্লেষণ এমন-০/৫০,১/৩৮,২/৪১,১/৪১,০/২৩,০/৬২। সাকিবের সর্বশেষ কয়েকটা ম্যাচের ব্যাটিং পারফরম্যান্সও মোটে আশানুরূপ নয়। দলে সাকিবের অবস্থান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটে রান ও বোলিংয়ে উইকেট। একসঙ্গে তার কাছ দুটোই আশা করে দল। ১৪,৬,১৯,২৩,৭ এবং ১০ শেষ ছয় ম্যাচে সাকিবের কাছ থেকে এমন বাজে ইনিংসই উপহার হিসেবে পেয়েছে বাংলাদেশ।

আমার মনে হয় আমাদের ব্যাটসম্যানদের মানসিকতা আরও বাড়াতে হবে, কারণ যেখানে অন্য দলের ব্যাটসম্যানরা ব্যাটিং করলে ইচ্ছেমত চার ছয় হয়, সেখানে আমরা অনেক সময় ৩০ গজই পার করতে পারিনা, যা আমদেরকে অনেক পিছনে ফেলে দেয় রান করার ক্ষেত্রে। বাংলাদেশ প্রথম ৫ ওভারে করতে পেরেছে মাত্র ১৪, শেষ ৫ ওভারে ৪৩ রান, যেখানে ৬০/৭০ রান নেয়া দরকার ছিল, কারণ আমাদের হাতে উইকেট ছিল। শুরুটা যেমন ধীর,শেষে উইকেট হাতে রেখেও ঝড়টা তীব্র করতে ব্যর্থ, যে উইকেট হারানোর ভয়েই শুরুতে ১০ ওভারে রান ছিল মাত্র ৩৬!

এই হারাতে আমরা আবার রেঙ্কিং এ ৬ থেকে ৭ এ নেমে গেছি।

বাংলাদেশ অনেক বছর পরে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে অংশ গ্রহণ করতে পেরেছে, যা এক সময়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ রা করতে পারেনি। তারা এই আসরে অংশ নিতে পারেনি। যার মানে নিশ্চয় বাংলাদেশ এখন আর আগের বাংলাদেশ নেই।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি শুধু ক্রিকেটারদের ভুল ধরে গেলাম, এটা সত্য, কিন্তু তারপরেও ওই ম্যাচে আমাদের কিছু পজিটিব সাইট আছে। যেমন তামিম ও মুশফিকের ব্যাটিং।

বিশেষ করে তামিম ইকবালের কথা বলব আমি। ইংল্যান্ডকে সামনে পেলেই তামিম কেমন যেন জলে উঠেন। লর্ডস এ সেই ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির কথা বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের মানুষ নিশ্চয় ভুলে যায়নি। সেই তামিম ইংল্যান্ডকে পেয়ে যেন জ্বলে উঠলেন। সেঞ্চুরি করেছেন তামিম ইকবাল। এটি ছিল ওয়ানডেতে তার নবম সেঞ্চুরি। ১১ চার আর ১ ছয়ে ১২৪ বলে শতক হাঁকান তামিম ইকবাল। এনিয়ে একদিনের ক্রিকেটে নবম শতকে নাম লেখালেন তামিম। শেষমেশ ১২৮ রানে থামল তামিমের ব্যাট। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পরে যেন তামিম আরও ধারালো হয়েছেন। যেখানে বিশ্বকাপের আগে আট বছরে ১৪১টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ছিল চারটি সেঞ্চুরি ও ২৮টি হাফ সেঞ্চুরি। সেখানে গত দুই বছরে মাত্র ২৯টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে পাঁচটি সেঞ্চুরি ও আটটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন তামিম ইকবাল।

মুশফিকও কোন অংশে কম ছিলনা, মুশফিকের হাত শুরু থেকেই খোলা। একবারে ভয়ডরহীন ব্যাটিং। ৪৮ বলে তুলে নিলেন হাফ সেঞ্চুরি। তামিমএর সাথে মুশফিকের ১৬৬ রানের পার্টনারশিপ ম্যাচে বাংলাদেশ ম্যাচে ঠিকমতেই ছিল। মুশফিক ৭২ বলে ৭৯ রানের ক্লাসিক ইনিংস খেলে তামিম যে বলে আউট হলেন তার পরের বলেই আউট হয়ে যান

তামিম, সাকিব, সাব্বির, মুশফিকরা ঠিকমতে জ্বলে উঠলে ও মাশরাফি, রুবেল, মুস্তাফিজরা তাদের কাজটি ঠিকমত করতে পারলে, আশা করি আমাদের বিজয় কেউ আটকে রাখতে পারবেনা। পরের ম্যাচের জন্যে শুভ কামনা।

About The Author
Md. Nizam Uddin
Md. Nizam Uddin
HR & Admin In-Charge at my office & article writer.

You must log in to post a comment