বিদেশী সিনেমা রিভিউ

“লিমিটলেস” মুভি রিভিউ

দেয়ার ইজ এ ফেমাস মিথ, মানুষ নাকি তার মস্তিস্কের মাত্র ১০% ব্যাবহার করতে পারে। বাকি ৯০% ব্যাবহার করা মানুষের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। যদিও এর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই, এবং অনেকে এও বলে থাকেন যে মানবসভ্যতায় শুধুমাত্র এলবার্ট আইনস্টাইন ছারা আর কেউ তার মস্তিস্কের ১০% এর উপর ব্যাবহার করতে পারেন নি।
এই কথাটাই যেন খুব সুন্দর ভাবে খেলে যায় হলিউডের ফিল্ম ডিরেক্টর নিল বার্গারের মাথায়। বিষয়টা খুব ভাবিয়ে তোলে তাকে এবং তিনি চিন্তা করতে থাকেন কেমন হত যদি মানুষ তার মস্তিস্কের সম্পূর্ন ব্যাবহার করতে পারত ?

এই চিন্তাকেই স্যেলুলয়েডে নিয়ে আসেন তিনি ২০১১ সালে তার “লিমিটলেস” সিনেমা দিয়ে। অসাধারণ চিন্তাধারা এবং চিত্রনাট্যকার লেসলি ডিক্সনের বুদ্ধিমত্তায় আমরা উপহার পাই ২০১১ সালের অন্যতম হিট এই সিনেমা। বক্সঅফিস কাপিয়ে দেওয়া এই সিনেমা মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই নিজের ব্যাগে পুরেছিল ১৮.৫ মিলিয়ন ডলার, এবং সব মিলিয়ে শেষমেশ ৩০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি কামিয়ে নিয়েছিল ২৭.৫ মিলিয়ন ডলার বাজেটের এই লিমিটলেস।

এবার একটু সিনেমার গল্পে আসি। সিনেমার প্রটাগনিস্ট ‘এডি মোরা’ একজন লেখক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন, কিন্তু প্রকাশকদের কাছ থেকে এডভান্স বুঝে নেওয়ার পরেও প্রায় ১ বছর ধরে তিনি তার প্রথম বই লিখে শেষ করতে পারেন নি। তার একমাত্র কারন তিনি খুবই গোফ খেজুরে স্বভাবের এবং অলস প্রকৃতির। অনেকদিন ধরে তার ঘর ভাড়াও দেওয়া হয়নি, তার ফলে প্রায় প্রতিদিন বাড়িওয়ালার কটুকথা শুনতে হচ্ছে। কিন্তু এ সব বদলে যায় যখন তার শালা তাকে একটা ঔষধ সেবন করতে দেয়। তার শালার সাথে তার দেখাটাও হয়েছিল অনেকদিন পর, এই শালা তার প্রাক্তন বউ এর ভাই যে কিনা এক আন্ডারগ্রাউন্ড ফার্মাসিউটিকেল কম্পানির হয়ে চাকরি করছে। তাই প্রথমত এডি তার শালাকে বিশ্বাস করে নি। করবেও বা কেন ? তার শালা এই ঔষধ সেবনের কোন কারন তাকে জানায় নি। কিন্তু তাও এডি চেখে দেখেছিল ঔষধটা। আর তাতেই হয়ে যায় বাজিমাত। সেই এডি আর ঐ আগের এডি নয়, একদম নতুন এক অবতারে তার নিজের কাছে এসে ধরা দেয়। যেই বই এক বছরেও শেষ হল না সেই বই এডি শেষ করে ফেলল এক বসাতেই। সবকিছু কেমন উজ্বল দেখাচ্ছিল তার কাছে। এ যেন এক নতুন শুরু, কালো আধারের জীবনে স্ফিত হয়ে থাকা এক চিলতে রোদ্দুরের ফিরে  আসা। এই ভেবেই সেদিনের মত ঘুমোতে গিয়েছিল এডি। কিন্তু ঘুম থেকে উঠে যেন সেই আগের এডি আবার ধরা দিল। এডি’র বোঝার বাকি নেই যে এই ড্রাগের কার্যক্ষমতা শুধু ২৪ ঘন্টার জন্য। কিন্তু এডির নতুন অবতারের সাথে যেন প্রেমে পড়ে গিয়েছিল এই এডি। তাই সে তৎক্ষণাৎ ছুট লাগালো তার সেই শালার বাড়ি আরো কিছু ড্রাগ পাওয়ার আশায়। কিন্তু সে গিয়ে যা দেখল তা অবাক করার মত, তার সেই শালা ঘরে মৃত পরে আছে এবং সে জানতে পারল যে কিছু পলিটিকেল কারনে কিছু শত্রু তার এই অবস্থা করেছে। তাতে এডি’র সমস্যা আরো বেরে গেল, সেই ড্রাগস গুলো এখন সে আর কোথাও পাবে না। কিন্তু সে হাল ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নয়, হন্তদন্ত হয়ে পুরো বাড়ি খুজে একসময় সে পেয়ে যায় লুকিয়ে রাখা অনেকগুলো ড্রাগসের ট্যাবলেট এবং সাথে মেঘ না চাইতে বৃষ্টির মত কিছু টাকা।

তারপর শুরু হয় গল্পের আসল প্লট। এডি একদিনের মাথায় পিয়ানো বাজানো শিখে যায়, টিভিতে “ব্রুস লি” কে মার পিট করতে দেখেই মার্শাল আর্টস আয়ত্ত করে নেয়, একবার শোনাতেই শিখে নেয় যেকোন নতুন ভাষা। এর সাথে সে নিজেকে করে তোলে স্টক মার্কেটের এক ওস্তাদ। ৪ দিন ট্রেডিং করার মাথায় তার ব্যাংক একাউন্টে চলে আসে ২ মিলিয়ন ডলার এবং সে পেয়ে যায় এক নতুন গার্লফ্রেন্ড। স্বনামধন্য এক প্রতিষ্ঠানে ফিনান্সিয়াল এডভাইজার হিসেবে চাকরি পায় আর তার বুদ্ধিমত্তায় প্রতিদিনই অবাক হচ্ছিল সবাই। সব মিলিয়ে ভালোই চলছিল তার। কিন্তু সমস্যা শুরু হতে থাকে তখন। তার শত্রু বারতে থাকে, এই শত্রু সেই শত্রু যে তার সেই শালাকে খুন করেছিল। সাথে আরেক দুঃসংবাদ হল প্রতিদিন একটি করে ট্যাবলেট নেওয়ায় তার ড্রাগস এখন প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ার পথে, এবং সেই ড্রাগস গুলো ছাড়া এডি কিছুই নয়। এর সমাধান বের করে নিয়েছিল এডি এক সায়েন্টিফিক রিসার্চ সেন্টারে তার সেই ড্রাগ(এন.জি.টি) বানানোর অর্ডার দিয়ে। এবং সে শত্রুদের হাত থেকে বাচতে প্রতিদিনের জন্য দুইজন বডিগার্ড নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল আর খুব দামী এক হাইলি সিকিওর্ড বাসায় উঠে যায় এডি।

কিন্তু সেই শ্ত্রুরাও কম ধুরন্ধর তো নয়, তারাও তাদের কাজ চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল এবং প্রতি মুহুর্তে বাধা সৃষ্টি করছিল এডি’র জন্যে। এডিও খুব চাটুকারিতার সঙ্গে পেরিয়ে যাচ্ছিল সবগুলো বাধা। কিন্তু শেষমেশ কি হয় তা মুভি না দেখলে বোঝা যাবে না। অসাধারণ সব টুইস্টে থাকা এই সিনেমা দেখা সবারই দরকার।
কিন্তু লিমিটলেস নাম কেন এই সিনেমার? কারন এই ড্রাগটি (এন.জি.টি) মানুষকে তার মস্তিস্কের সর্বোচ্চ ব্যাবহারের সুযোগটা দেয় এবং তখনই মানুষের মস্তিস্কের শক্তিটা হয়ে যায় লিমিটলেস। অসাধারণ এই সিনেমার এডি চরিত্রে আছেন হ্যাঙ্গভার সিরিজ খ্যাত হলিউড হার্টথ্রব ব্র্যাডলি কুপার, যিনি পুরো সিনেমা জুড়ে তার অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।

সিনেমাটি ব্যাবসাসফল হওয়ার পর একই নামে বের হয় একটি টিভি সিরিজ এবং সেটাও দর্শকদের প্রতি মুহুর্তে মুগ্ধ করে গেছেন। তবে আর দেরি না করে এখনই দেখে ফেলুন file_551046_limitlessreview.jpg২০১১ এর এই হিট।

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

The Green Mile – কান্নামিশ্রিত ভালোলাগার অনুভূতি

অন্তর মাশঊদ

গেম অফ থ্রোনসঃ S07E01 Review

Mrinmoyi Jahan

ক্যাপ্টেন আমেরিকা-সিভিল ওয়ার

Sadik Ahmed

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy