হঠাত বৃষ্টি – রিভিউ

Please log in or register to like posts.
News

ছোটবেলায় যে পরিমাণ বাংলা সিনেমা দেখা হতো এখন বেশি আধুনিকতার জন্য আর সেই দিনগুলো নেই। হিন্দি আর ইংলিশ এর ভীড়ে সব হারিয়ে গেছে। তাছাড়া এখনকার পরিচালক আর অভিনেতাদের জন্য বাংলা সিনেমা দেখতে ইচ্ছাটাও করে না।  তারপরও শৈশবের দেখা সুন্দর সুন্দর সিনেমাগুলো এখনও দেখলে অনেক ভাল লাগে। মুভি নিয়ে লেখার কথা ভাবতেই আমার একটা পছন্দের মুভির কথা মাথায় আসলো। ১৯৯৮ সালের দিকে আমাদের দেশের এই দিকে খুব একটা ভাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো না সিনেমা বানানোর জন্য। সেই সময়ে ভারত বাংলাদেশ যৌথভাবে নির্মীত এই সিনেমা পলকেই অনেক দর্শকের নজর কেড়েছে। ফেরদৌস প্রিয়াংকা অভিনীত এই সিনেমার নাম “হঠাত বৃষ্টি”। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বসু চ্যাটার্জী। হঠাত বৃষ্টি সিনেমাটি দুই দেশের যৌথ প্রযোজনা হওয়াতে সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত দর্শক প্রিয় হয়ে আছে। যদিও মুভিটি ১৯৯৬ সালের সুপারহিট তামিল মুভি “কাঢাল কট্টাই” এর রিমেক। তারপরও কাহিনী, সংলাপ, অভিনয় আর সংগীত পরিচালনার দিক দিয়ে সিনেমাটি লাখো দর্শকের মন জয় করেছে। অসাধারণ কাহিনী আর অভিনয় দিয়ে সিনেমাটিকে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সবার সামনে।

বিশেষ চরিত্রে যারা ছিলেনঃ

ফেরদৌস – অজীত চৌধুরী

প্রিয়াংকা – দীপা নন্দী

মানোজ মিত্র – কুন্ডু সিং

 

সিনেমার কাহিনীর কিছুটা সার সংক্ষেপ আমি তুলে ধরার চেষ্টা করলাম

দীপা তার বোন আর দুলাভাই এর সাথে তারামাটি তে থাকে। আত্বীয় স্বজন দের কাছে একটা বোঝা হিসেবে মনে করে সে নিজেকে। এই বোঝা কমাতে সে কলকাতা শহরে যায় নিজের জন্য একটা চাকরী খুজতে। এতে তার বোন আর দুলাভাই রাজী ছিল না। তারপরও সে জেদ ধরে যায়। কলকাতা তে যেয়ে চাকরীর ইন্টারভিউ দেওয়া কালীন সময়ে দীপা কিছুদিন তার বান্ধবী অরূনার বাড়িতে থাকে। সপ্তাহখানেক অনেক চাকরীর ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গাতে বিভিন্ন কোম্পানীতে ঘুরে বেড়ায় দীপা। অনেক ভাল যোগ্যতা আর ভালভাবে ইন্টারভিউ দিয়েও সে কোন চাকরী তে সিলেক্ট হতে পারে না। চাকরী না পেয়ে ব্যার্থ দীপা আবার খালি হাতে তার বোনের বাড়ি তারামাটি তে ফিরে যায়। ফেরার পথে ট্রেনে ওঠার পর ট্রেনের জানালা দিয়ে দীপার ব্যাগ টা ছিনতাই হয়ে যায়, যার মধ্যে তার টাকা পয়সা টিকিট আর সব সার্টিফিকেট ছিল। দীপা সব হারিয়ে ফেলার পর তাকে অন্য এক জন প্যাসেঞ্জার সাহায্য করায় সে বাড়ি ফিরে যেতে পারে। অজিত সেই স্টেশনে জয়সলমার যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠে আর ওই ছিনতাইকারী দীপার ব্যাগ থেকে টাকা বের করে নিয়ে ব্যাগ টা ছুড়ে ফেললে ব্যাগ টা অজীত এর কাছে আসে। অজীত ব্যাগ টা নিয়ে রেখে দেয় আর ভিতরে কাগজপত্র দেখে তা ফিরিয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করে। জয়সলমার পৌঁছানোর পর অজিতের পরিচয় হয় কুন্ডু সিং এর সাথে। কুন্ডু সিং এখানে আসা লোকজন এর সার্ভিসের কাজ করে। অজিত দিপাকে তার ব্যাগ ফেরত পাঠায় আর দীপা খুশি হয়ে ফিরতি চিঠি পাঠায়। এভাবে তাদের চিঠি আদান প্রদান চলতে থাকে আর তাদের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে গীতা অজিতের জন্য একটা হলুদ টি শার্ট কিনে পাঠায়। গীতা আবার ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য কলকাতা যায় আর অজিত কলকাতা ফিরে আসে। স্টেশনে গীতা আর অজিত একে অপরের সাথে ধাক্কা খায় কিন্তু একে অপরকে চিনতে পারে না। অজিতের কলকাতা তে যে কোম্পানী তে চাকরি হয় সেই কোম্পানীর এম ডির মেয়ে অজিত কে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। অজিত তাকে সরাসরি না করে দেয় এবং কোম্পানী ছেড়ে দেয়। পরে বাধ্য হয়ে ট্যাক্সি চালানো শুরু করে। গীতা আবার তারামাটি তে ফিরে গেলে তার জন্য ঠিক করা ছেলের সাথে তাকে দেখা করতে পাঠায়। গীতা তাকে অজিতের কথা বলে দেয় এবং আবার কলকাতা যায় অজিত কে খুজতে। সেখানেই হঠাত বৃষ্টি শুরু হয়, আর গীতা অজিতের ট্যাক্সিতেই বিভিন্ন জায়গাতে ঘুরে বেড়ায় অজিতকেই খুজতে। কিন্তু অজিত তাকে জিজ্ঞেস করলে সে অজিতকে কোন কথা বলে না। এভাবে অনেক জায়গাতে খোজাখুজির পর না পেয়ে যখন ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দীপা। দীপার বান্ধবি অজিতের বন্ধুর ট্যাক্সিতে করে বাড়ি তে যাওয়ার সময় তারা দুজন জানতে পারে যে তাদের বন্ধু আর বান্ধবি একে অন্যকে ভালবাসে। তার পর তারা স্টেশনে যেয়ে দীপাকে আটকানোর সিদ্ধান্ত নেয়। অজিত দীপাকে ট্রেনে তুলে দিয়ে তার গায়ে পরা চাদর টা খোলে যে চাদরের নিচে দীপার দেওয়া টি শার্ট টা ছিল। তারপর ট্রেনের ভিতর থেকে দীপা অজিতকে চিনতে পেরে নেমে আসে আর নিজের পরিচয় দেয়। এভাবেই একদম শেষ পর্যায়ে এসে তাদের দেখা হয় বৃষ্টির মধ্যে।

আমার কাছে সিনেমার দৃশ্যপট থেকে শুরু করে সবকিছুই অনেক ভাল লেগেছে। এই সিনেমাতে তো এখনকার মত আইটেম গান নাই, তাই এটা পরিবারের সাথেই দেখা যাবে। সিনেমার বেশিরভাগ গানই শিল্পী নোচিকেতার কন্ঠে। সিনেমার সবথেকে জনপ্রিয় গান হচ্ছে একদিন স্বপ্নের দিন। এছাড়া হঠাত বৃষ্টি আর সোনালীর প্রান্তরে গানটাও অনেকের মন জয় করেছে। আমি বলবো যারা এখনও মুভিটা দেখেন নি অতি শীঘ্রয় দেখে নিবেন। তা নাহলে অনেক ভাল কিছু মিস করবেন। যারা রোমান্টিক সিনেমা পছন্দ করেন আর যারা সুন্দর কাহিনী পছন্দ করেন তারা অবশ্যই দেখবেন।

Reactions

0
0
0
0
0
0
Already reacted for this post.

Reactions

Nobody liked ?