Now Reading
ব্যর্থতা থেকে মুক্তি পাওয়া কি সম্ভব?



ব্যর্থতা থেকে মুক্তি পাওয়া কি সম্ভব?

এমন কেউ কি এই আর্টিকেলটি পড়ছেন যে কোনদিন ব্যর্থ হননি? ফেইলিউর শব্দটি আপনার ধারে কাছেও ঘেষেনি কোনদিন? হয়তো না, কারন এমন মানুষ হয়তো নেই। প্রত্যেকেই কোন না কোন ভাবে ব্যর্থতার স্বাদ নিয়েছি।
আমরা কি ব্যর্থতাগুলোর সাথে সঠিকভাবে বোঝাপড়া করি? দেখা যায়, যখনই ফেইল হই কোন ব্যাপারে, আমাদের আশেপাশের কিছু মানুষগুলো আমাদের বার বার মনে করিয়ে দেয় যে আমি ব্যর্থ। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় যে বলি – ” আরে ভাই আমি জানি আমার ব্যর্থতা। দরকার নেই আমাকে বার বার স্মরণ করিয়ে দেবার”। ছোট বা বড় , ব্যর্থতা যেমনই হোক না কেন তা আমাদের বেশ পীড়া দেয়।
তো ব্যর্থতার দরুণ আমাদের সাথে কি হয়? আমরা ভিতর থেকে খারাপ অনুভব করি। কারন ব্যর্থতা কারোরই ভাল লাগার কথা না। এমন কখনই হয় নি বা হবে না যে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন এবং সেটা আপনার ভাল লাগছে বা আপনার জন্য ব্যাপারটি উপভোগ্য। তো যখনই আমাদের খারাপ লাগে, আমরা সেই ক্রিয়ার বিপরীত এ প্রতিক্রিয়া করি, রাগ আসে আমাদের । ভিতর থেকে খুব খারাপ অনুভব করি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কান্না আসে আমাদের। এখানে কাঁদা বেশ উপকারী জিনিস হিসেবে কাজ করে কারন কাঁদলে আমাদের ভিতরটা হালকা হয়ে যায়। আমরা একটু মানসিক ভাবে ভাল বোধ করি। মন মত কাঁদুন, এটা খারাপ কিছুই না।
সমস্যা হলো আমরা পৃথিবীর সামনে আমাদের ব্যর্থতাকে গ্রহণ করতে পারিনা। নানা রকম কারন দেখানোর চেষ্টা করি এবং বলার চেষ্টা করি যে এই কারণগুলোর জন্য আমি ব্যর্থ। নিজের ভুল ঢাকার জন্য আমরা অন্য কারো উপর দোষ চাপাতে শুরু করি। যেমন – আপনি পরীক্ষায় খারাপ করেছেন। ফলাফল বের হবার পর কারন দেখাচ্ছেন – ” প্রশ্ন কঠিন ছিল তাই পরীক্ষা ভাল হয়নি। বা আপনি বেশি কঠিন টপিক পড়েছেন, কিন্তু সহজগুলো এসেছে, আপনি পারেন নি কারন সেগুলো পড়েননি”। সর্বাত্মক চেষ্টা করি পরের উপর দোষ চাপিয়ে নিজে সাধু সাজার জন্য। আমরা কেন নিজেদের ভুলগুলো স্বীকার করিনা? কেন ব্যর্থতাকে গ্রহণ করতে পারিনা?

এটাই আমাদের ভুল। আমাদের উচিত ব্যর্থতার মোকাবেলা করা। তা না হলে আমাদের হতাশা বাড়তে থাকবে আর হতাশ মন-মস্তিষ্ক অনেক ভুল সিদ্ধান্তের জন্ম দেয়। এতে করে আমরা সামনের দিকে পজেটিভ চিন্তা করতে পারবোনা। তাই আমাদের প্রথম কাজ ব্যর্থতা কে স্বীকার করে নেয়া। নিজেকে বুঝতে সাহায্য করুন যে – ” হ্যা, আমি ব্যর্থ হয়েছি আর আমি তা স্বীকার করছি”। মনে রাখবেন, যতক্ষন না আপনি নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিচ্ছেন, এর দায়বদ্ধতা থেকে আপনি উঠে আসতে পারবেন না কখনো।
আমাদের দ্বিতীয় কাজ এর কারন বের করা। পুরো ধ্যান-মন দিয়ে মনোযোগ দিন আপনার ব্যর্থতার মূলে। “কেন, কি কারনে, কিসের অভাবে আমি ব্যর্থ” – এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুজার চেষ্টা করুন। যেমন নতুন এক্সপেরিমেন্ট এর জন্য একজন বিজ্ঞানী কৌতূহল বোধ করেন, সেভাবে আপনিও লেগে যান এই প্রশ্নগুলোর পিছে। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে বিশ্লেষন করুন নিজের ব্যর্থতাকে। বের করুন কারণগুলো যা আপনার আজকের এই অবস্থানের জন্য দায়ী। প্রয়োজনে লিখে নোট করে রাখুন যাতে এই কারণগুলোর জন্য ভবিষ্যতে আবার আপনাকে ব্যর্থতার মুখ দেখতে না হয়।
এখন আমাদের তৃতীয় কাজ আর সেটা হলো ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া। আপনি নিজের ভুলগুলো ততক্ষন পর্যন্ত শোধরাতে পারবেন না যতক্ষন না পর্যন্ত আপনি এর থেকে শিখছেন কিছু। আগে আপনার ভুলগুলো বুঝতে হবে এবং সেগুলোর পুনরাবৃত্তি যাতে আর না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যখন আপনি এটা পারবেন তখনই আপনি সামনের দিকে আগাতে পারবেন যেখানে আপনার জন্য সফলতা অপেক্ষা করছে।
আপনার জীবনের লক্ষ্য যদি হয় কোন কিছু অর্জন করা , তাহলে এটাই উপযুক্ত সময় যখন আপনি আবার ভাববেন যে আসলেই কি আমার লক্ষ্য তা হওয়া উচিত? কারন যখন আপনি কোন কিছু পেতে চান এবং সেটা হাতে পাবার পর কিছুদিন পর আপনার আসক্তি ধীরে ধীরে কমে আসবে সেই প্রাপ্ত বস্তু থেকে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ যে আমি নিজে কি হচ্ছি? নিজেকে কোনদিকে নিয়ে যাচ্ছি? কিছু পেয়েছি , কিছু হারিয়েছি আর এর মাঝে আমি নিজেকে কতটা আগে নিয়ে যেতে পারলাম? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোজা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। ব্যর্থতায় মুখ ঢেকেছেন এটা দেখার বিষয় না, সফলতায় চারিদিকে আপনার জয়জয়কার এটাও গুরুত্ব বহণ করে না। যেটা গুরুত্বপুর্ণ সেটা হল নিজেকে কোথায় এনে স্থান দিয়েছেন?
নিজের ভেতর থেকে ভয়টা চিরদিনের জন্য ফেলে দিন। ভাবুন যে – ” যা খুশি হোক, যতই ভেঙে পড়ি না কেন, আমি আবার উঠে দাড়াতে পারবো আর সেই শক্তি আমার ভেতর আছে”। দিন-রাত খেটে পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট, হয়রান হয়ে খুজে পাওয়া ৯-৫ টা চাকরি , চাকরি হারানোর ভয়ে প্রতিদিন একটু একটু করে মরতে মরতে বেচে থাকা – এটাই কি আমাদের জীবন হওয়া উচিৎ?
ব্যর্থতা জীবনে দরকার আছে। এটা আমাদের বড় হওয়ার পথে এগিয়ে নেয়। কখন এটা হয়? যখন আমরা সেই ব্যর্থতা মেনে নিয়ে ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে চলি। অসীম পর্যন্ত নিজেকে এগিয়ে নিয়ে কে না চায়? তার জন্য শিক্ষাটাও তো অসীম হতে হবে তাইনা?

About The Author
Kazi Mohammad Arafat Rahaman
Kazi Mohammad Arafat Rahaman
পড়াশোনা - ব্যাচেলর করছি কম্পিউটার সায়েন্সে। ভাল লাগা - গান, ফুটবল আর বই। খারাপ লাগা - নাই। খারাপ লাগেনা। অনুভূতিহীন। শখ - অনেক আছে। লক্ষ্য - ইন্টারপ্রেনার হতে চাই।

You must log in to post a comment