সাহিত্য কথা

আজ আমার বিয়ে – পর্ব ৪র্থ

মেয়ের মা মেয়েকে বলেছে – মা আমি তোমাকে আজ কিছু কথা বলবো , তুমি তা সারা জীবন মনে রাখবে । আর কিছু দিন পর তুমি তোমার স্বামীর সংসারে যাবে । তোমার শাশুড়ি তার ঘরের সব দায়িত্ব তোমার উপর দিবে । তখন তোমার উচিত হবে তিনি যেভাবে তার সংসার এতো দিন দেখাশুনা করেছে , ঠিক তার মতো করে সংসার দেখাশুনা করা । আর সবচেয়ে জরুরি বিষয় , তোমার স্বামী সারা দিন কাজ করে আসবে , তখন তুমি যদি তার সাথে খারাপ ব্যবহার করো তাহলে সে অনেক বেশি কষ্ট পাবে । তখন তোমার উচিত হবে তার সেবা যত্ন করা । তার দিকে খেয়াল রাখা তোমার প্রধান কাজ । তিনি হয়তো মাঝে মাঝে কাজের প্রেসারে তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে পারে , তুমি তা কিছু মনে রেখো না । সে অসুস্থ হলে তোমার উচিত হবে তার সেবা করা । তিনি কি খেতে পছন্দ করেন সেই দিকে তুমি সর্বদা খেয়াল রাখবে । আর তুমি ওই বাড়িতে যাওয়া মাত্র তোমার শাশুড়ি হয়ে যাবে তোমার মা ।তোমার উচিত আমাকে তুমি যেভাবে সম্মান করো , ঠিক উনাকেও সেভাবে সম্মান করবে । আর কখন স্বামীর সাধ্যের বাহিরে কিছু চাপিয়ে দিবে না । খুব ভালো হয় তুমি তার কাছে কিছু চাইবে না , উনি তোমাকে সেধে জিজ্ঞেস করবে । কারণ তুমি কিছু চাইলে তখন যদি উনি দিতে না পারে তাহলে তার থেকে কষ্ট বেশি কেউ পাবে না ।

মা এই সব কথা বলছিলো আমি চুপ করে শুনছিলাম । মায়ের বলা শেষ হলে আমি চলে গেলাম রান্না ঘরে । আমি মাঝে মাঝে রান্না করি , কিন্তু এখন থেকে নিয়মিত রান্না করবো । আমার উনাকে রান্না করে খাওয়াতে হবেনা । মামা আর মা খাবার টেবিলে বসা । আমি রান্না করে নিয়ে আসলাম তাদের সামনে । মামা গরুর মাংস খেয়ে বলে – কি ব্যাপার ভাগ্নি আজ এতো মজা হলো কি ভাবে ?
আমি বললাম কোথায় মামা , আমি তো সব সময় যেভাবে রান্না করি আজ ও সেভাবে রান্না করলাম ।
তখন মামা বলে উঠলো ও বুঝেছি , কিছু দিন পর স্বামীর বাড়ি যাবে ,এখন থেকে মজার মজার রান্না করছো যাতে জামাইকে ভালো মতো খাওয়াতে পারে ।
মামা আপনি কি সব যে বলেন । এই কথা বলে আমি আর এক মুহূর্ত সেখানে রইলাম না । নিজের রুমে চলে এসে মনে মনে বললাম , আমি তো শুধু আমার স্বামীর জন্য । আমার সব ভালোবাসা তার জন্য রেখে দিয়েছি ।

সাদ রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলো , এমন সময় তার বন্ধুর সাথে দেখা .
কিরে দোস্ত তুই নাকি বিয়ে করবি ।
হুম দোস্ত দোয়া করিস ।
তো বৌয়ের ছবি দেখা দোস্ত ?
হি হি হি সরি দোস্ত দেখানো যাবে না । আমার বৌয়ের দেখার অধিকার শুধু মাত্র আমার । তোমাকে দেখাই আর তুমি তখন বলবে আমার বৌয়ের চোখ সুন্দর , নাক সুন্দর তা হবে না বন্ধু । আমার বৌয়ের প্রশংসা শুধু আমি করবো ।
আচ্ছা তাহলে বিয়েতে দাওয়াত দিস ।
আচ্ছা কিছু খোরমা খেজুর ছিটিয়ে দিমু নে , খেয়েনিস । হাহাহা । এই বলে আমি হাঁটা ধরলাম । আমার বউ আমার কাছে রাজরানী । আমি কেন আমার রানীকে অন্য মানুষ কে দেখতে দিবো ।

একদিন আমি মায়ের মোবাইল থেকে তার নম্বর নেই তাকে কল দেয়ার জন্য । কল দিয়ে শুরুতে পরিচয় দিলে সে আমাকে চিনেও না চেনার ভান করে । পরে আমি রেখে দিলে সে আবার কল ঘুরিয়ে বলে আপনাকে পরীক্ষা করে দেখলাম । আমি বললাম আপনাদের বাসায় ঢোকার আগ থেকে আমাকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে । আচ্ছা যাই হোক , আপনাকে কিছু কথা বলার অন্য কল দিয়েছি । উনি বললো জ্বী বলুন । আমি বললাম – দেখেন বিয়েতে ইচ্ছা করলে অনেক টাকা খরচ করা যায় । অনেক মানুষ কে দাওয়াত করে খাওয়ানো যায় । এতে করে দুই পরিবারের মিলে কম করে হলেও ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা খচর হবে ।
উনি জবাব দিলো জ্বী আপনি ঠিক বলেছেন ।
আমি আবার বলা শুরু করলাম – আমি ভেবেছি অনুষ্ঠানটা পারিবারিক ভাবে করবো । আমার পরিবার থেকে কিছু মানুষ যাবে আর আপনার পরিবারের কিছু মানুষ মিলে ২০ হাজার টাকার মধ্যে করে ফেলবো । তাহলে আমাদের বাকি টাকা আমরা ব্যাংক বা নিজেদের কাছে জমিয়ে রাখতে পারি । পরবর্তীতে এইটা আমাদের সন্তানের কাজে আসবে । আবার আমরা বিয়ে পর দুই ফ্যামিলি মিলে ঘুরে আসতে পারি কিছু টাকা দিয়ে । দেখেন আজ আমরা মানুষ কে খাওয়ালে কাল তারা আর আমাদের মনে রাখবে না । আর যদি না খাওয়াই তাহলে আমাদের অনেক বদনাম হবে ঠিক আছে, কিন্তু আমরা একবেলা না খেয়ে থাকলে তারা কোনো দিন আমাদের খাওয়াবে না । আমাদের খোঁজ খবর নিবে না । আমাদের পরিবারই আমাদের পাশে থাকবে । তাই এমন মানুষের জন্য করা উচিত যে সুখ দুঃখের বন্ধু । তার জন্য করা উচিত নয় যে শুধু সুখের বন্ধু । আমার বলা শেষ ।আমি শুধু আমার মতামত দিয়েছি । এখন আপনি বলতে পারেন ।

উনি বললো – শুরুতে আপনাকে যতটা বোকা ভেবেছি আপনি আসলে ততটা বোকা না
এই কথা শুনে আমি কেশে উঠলাম ।
উনি বললো আসলে আপনি খুব ভালোমানুষ । আমি আপনার বউ হবো এই ভাবে অনেক আনন্দিত ।
এই কথা শোনার পর মনে হলো কেউ বোধ হয় আমার পচাৎ অংশে একটি রকেট লাগিয়ে দিয়েছি আর আমি আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছি ।
উনি আর কথা বাড়ালেন না । এইটুকু বলে লাইন কেটে দিলেন ।

চলবে…

 

একই রকম আরো কিছু ফুটপ্রিন্ট

ধ্রুব’র কাহিনি (পর্ব ৪)

Prashanta Deb

অদৃশ্য অভিমান। বাবা আমায় ভালোবাসে না!

Maksuda Akter

পাপ ছাড়ে না বাপকেও কিংবা আকাশের কান্না

Rihanoor Islam Protik

Login

Do not have an account ? Register here
X

Register

%d bloggers like this: