Now Reading
এক ব্রিটিশ কন্যার প্রেমকাহিনী ও একজন বাংলাদেশী তরুণের গল্প !! (পর্ব-১)



এক ব্রিটিশ কন্যার প্রেমকাহিনী ও একজন বাংলাদেশী তরুণের গল্প !! (পর্ব-১)

DSC 1202.jpg

গত গ্রীস্মের কথা বলছি।

ভার্সিটি বন্ধ হয়ে গেছে আড়াই মাসের জন্য। ইউরোপের সকল স্কুল, কলেজ আর ভার্সিটি জুলাই থেকে সেপ্টেমবর পর্যন্ত বন্ধ থাকে। ভার্সিটি বন্ধ হয়ে যাওয়া মানেই একটা কাজ খুজেঁ কিছু অর্থ উপার্জন করা যেন পরের সেমিষ্টারে পকেটে টান না পড়ে। আর বাবার কাছেও না বলা লাগে, বাবা টাকা পাঠাও; যদিও স্কলারশিপ রয়েছে কিন্তু নেদারল্যান্ডের মত ধনী আর খরুচে ইউরোপিয়ান দেশে তা দিয়ে চলাটা খুব কষ্টসাধ্য হয়ে যায়।

ভার্সিটি বন্ধ হয়ে গেলে রাজধানী আমস্টারডামে একটা কাজ পেলাম, কিন্তু তা দিয়ে ঠিক আমার পোষাচ্ছিল না। তাই বড় ভাই-বন্ধু মশিউরকে বললাম বন্দর নগরী রটার্ডামে আমার জন্য একটা কাজ দেখার জন্য। তিনি সেখানে তখন কেএফসিতে ম্যানেজার। তিনি বললেন, আমার এখানেই লোক লাগবে, দেরী না করে চলে আসো।

আর কে ঠেকায় আমাকে? পরদিনই লাগেজ গুছিয়ে ভোরের ট্রেনে বসে পড়লাম। আমস্টারডাম থেকে রটার্ডাম পৌছাতে ২ ঘন্টা মত সময় লাগে। সুপার স্পিড ট্রেনে বসে চিন্তা করি, আমাদের বাংলাদেশে কবে এমন ট্রেন হবে? খুলনা থেকে ঢাকা যেতে মাত্র আড়াই ঘন্টা লাগবে!

রবিবার ছুটির দিন, স্টেশনে মশিউর ভাই এলেন আমাকে রিসিভ করতে। উনার বাসাতেই থাকা যাবে শুনে খুব ভালো লাগলো। ফ্লাটে আমি আর উনি দুই বাংলাদেশী আর দুইজন বেলজিয়ান। বেলজিয়ানরা কাপল।

বাসে করে বাসায় গেলাম, আধা ঘন্টার পথ। যাওয়ার পথে দেখালেন কোথায় কাজ করতে হবে। বাসা থেকে বাসে ১৫ মিনিটের পথ। বাসায় ঢুকলাম, ফ্রেশ হলাম, দুই ভাই এক সাথে খেলাম। সারা নেদারল্যান্ডে এই একটা মানুষই আছে যাকে বিশ্বাস করা যায়। বেলজিয়ান কাপলদের সাথে দেখা হলো কিচেনে। খুবই মিশুক।

রুমে গিয়ে ফেসবুকিং করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম,  খেয়ালই নেই। দুপুরে খেয়ে বিকেলে একটু রটার্ডাম শহরে ঘুরতে বের হলাম। অসম্ভব সুন্দর শহর। নেদারল্যান্ড এর প্রত্যেকটা শহরই সুন্দর। গরমকাল হলেও খুব একটা যে গরম তা নয় কিন্তু। রাতে কোম্বল ব্যবহার করা লাগে। দারুণ আবহাওয়া। সব মিলিয়ে ভালোই লাগছিল।

রাতে ডিনার করতে গেলাম একটা ইতালিয়ান রেষ্টুরেন্টে। আমি ইতালিয়ান খাবারের কঠিন ভক্ত। মশিউর ভাই বললেন, সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়তে কারণ সকাল সাড়ে আটটায় কাজে ঢুকে যেতে হবে। তাই বাসায় এসে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়লাম।

সকাল আটটার বাসে দুই ভাই রওনা দিলাম কাজের উদ্দেশ্যে। আমস্টারডাম এর কেএফসিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় কাজ বা কাজের ধরণ নিয়ে তেমন টেনশান হচ্ছিলো না। গিয়েই সবার সাথে পরিচিত হলাম, আমাকে সহজেই তারা গ্রহণ করে নিল। প্রতিষ্ঠানের টি-শার্ট পরে নিলাম; মশিউর ভাই আমাকে জানিয়ে দিলেন চিকেন-বাকেট সেকশনে আমার কাজ। কিন্তু কি করতে হবে সেটা ঠিক করে দিবে সেকশন বস। কিন্তু তিনি তখনও না আসায় বসে নতুন কলিগদের সাথে গল্প করছিলাম। একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, বস ডাচ কিনা? উত্তরে জানলাম তিনি ব্রিটিশ মহিলা, খুব বেশি বয়সও না নাকি, ৩০ এর নিচে হবে। উনার কথা বলতে বলতেই উনি রুমে ঢুকলেন, ব্যাগ রেখেই আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, So, you are the new guy? Are you alright? বললাম, Yes, I am; উনি হ্যান্ডশেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেন আর বললেন, I am Isabella and you? I am Ferdous from Bangladesh……. মুখের কথা কেড়ে নিয়ে উনিও আমার সাথেই বাংলাদেশ উচ্চারণ করলেন; এটাই বোঝাতে চাইলেন যে উনি জানেন আমার ব্যাপাDSC 2122.jpgরে। মশিউর ভাই এর কাছ থেকে জেনেছে আরকি! তারপর বললেন, Really It is my pleasure to have a Bangladeshi in my section, I love Bangladeshi people. Our Boss Moshiur is so kind and helpful. I hope you will be enjoying a lot with us – বলেই সুন্দর একটা হাসি দিয়ে ব্যাগ থেকে একটা কিটক্যাট বের করে দিলেন আর বললেন, I love chocolates. তাকে বললাম যে আমিও চকোলেট পছন্দ করি; উনি জেনে খুব খুশি হলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেন আমার কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে কিনা? আমি বললাম আছে, শুধু একবার কি করতে হবে বুঝিয়ে দিলেই চলবে। আমার কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে জেনে উনাকে যেন নির্ভার মনে হচ্ছিলো। এটাই স্বাভাবিক, কারণ কাজ না জানলে মিনিমাম এক সপ্তাহ থেকে দুই সপ্তাহ নতুন ব্যক্তির পেছনে আলাদা সময় দেয়া লাগে এবং কাজও ধীরগতিতে চলে অনেকটা। বিকেল পর্যন্ত ভালোই ব্যস্ত ছিলাম আমরা। লাঞ্চ টাইমে একটা টেবিলও ফাঁকা ছিলোনা, বুঝলাম, রটার্ডামেও আমস্টারডামের মত ভালো ব্যবসা হয়।

দুপুরের খাবার খেলাম তিনিটার দিকে। আমি, আমার ডাচ কলিগ এঞ্জেলিনা আর বস ইসাবেলা বাকি ছিলাম খেতে। একই টেবিলে বসে খাচ্ছিলাম আর অনেক গল্প হচ্ছিলো। ইসাবেলা কয়েক ঘন্টার ভেতরেই আমার খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠলো, ইউরোপিয়ান দেশগুলোতে বন্ধু হতে কেউ বয়স দেখেনা, ইসাবেলা হয়তো আমার থেকে ৪-৫বছরের বড় হবে। সে আমার ব্যাপারে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করলো, কোথায় পড়াশুনা করছি, কি নিয়ে পড়ছি, কি টার্গেট ভবিষ্যতে, দেশে কে কে আছে ইত্যাদি ইত্যাদি। আর দেখলাম উনি বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন। লন্ডনে প্রচুর বাংলাদেশী বসবাস করে এটাও জানালেন, তার ভার্সিটি লাইফে অনেক বাংলাদেশী বন্ধু ছিল। উনি নিজের ব্যাপারেও অনেক কিছু বললেন, উনার মা ডাচ, আর বাবা ব্রিটিশ। কিন্তু উনি নাকি নেদারল্যান্ডকেই বেশি পছন্দ করেন বলে এখানেই বছরের ৯-১০ মাস থাকেন। ভালো ডাচও বলতে পারেন। ডাচ কলিগ এঞ্জেলিনা আমাকে জিজ্ঞেস করলো, আমি ডাচ জানি কিনা? না বোধক উত্তর পেয়ে বললো, হুম, তোমাকে আমি ডাচ শেখাবো, পরে মজা করে বললো, চিন্তা করোনা! আমার দেশে থাকবে আর আমার ভাষা জানবেনা, উহু তাতো হবেনা, অবশ্য তুমি যদি আমাকে বাংলা শেখাও। এটা শুনে তিনজনই একসাথে হেসে উঠলাম।  ইসাবেলা তখন খুব আগ্রহ সহকারে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, ফেরদৌস, আমাকে বাংলা শেখাবে?

চলবে…………

About The Author
Ferdous Sagar zFs
Ferdous Sagar zFs
Hi, I am Ferdous Sagar zFs. I am a Proud Bangladeshi living in abroad for study purpose. I love to write and it's my passion or hobby. Thanks.

You must log in to post a comment