এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তার প্রবাসী ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

Now Reading
এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তার প্রবাসী ভাইয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তার প্রবাসী ভাইয়ের কাছে, ক্ষমা চাওয়া উচিত।

বাংলাদেশ খুব ধীর গতিতে হলেও কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করতে পেরেছে। সেই অগ্রগতির পুরো কৃতিত্ব কিন্তু বেসরকারী উদ্দ্যাগের তথা প্রবাসীদের। সরকারের এই উন্নতির পিছনে প্রত্যক্ষ তেমন কোন ভুমিকা নেই। সত্যি বলতে কি? আমাদের দেশের সরকারের নীতি নির্ধারকরা যদি দুরদর্শী হতেন। বা তারা যদি দক্ষ এবং সৎ হতেন?তাহলে দেশ আরোও বেশী লক্ষণীয় উন্নতি করতে সক্ষম হতো। স্বাধীনতার প্রায় ৪৫ বছর মোটামুটি একটা লম্বা সময়। এই সময়ের ভিতরে, উন্নতি না করতে পারাটা,আমাদের জাতি হিসেবে, খুবই দু:খ করার অবকাশ আছে। কারণ আমাদের দেশের সরকার গুলো দেশের উন্নয়নের কথা বলে, বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋন নেন। সেই টাকা পরিশোধ করার দায়িত্ব আমাদের সকল মানুষের উপরে পড়ে। আমরা যদি মালয়েশিয়া বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে আমাদের উন্নতির কথা তুলনা করি। তাহলে দেখতে পাবো। তাদের এই স্বল্প সময়ে অভাবনীয় উন্নতির পিছনে রয়েছে, সেই সব দেশের সরকারের গতিশীল নেতৃত্ব। আমাদের অত্যন্ত দুর্ভাগ যে, আমরা খুব ভালো কোন দায়িত্বশীল ও স্থিতিশীল সরকার পাইনি। যার নেতৃত্বে আমরা উন্নতির অভীষ্ট লক্ষ্যে আরোহন করতে সক্ষম হতে পারতাম। তবে, আমাদের সরকারের ব্যাবস্থাপনা যতোই অগোছালোই হোক না কেন? আমাদের পরিশ্রমী জনগণ তো আর পরিকল্পনাহীন ভাবে বসে থাকতে পারে না। তাই তো আমরা দেখতে পাই। আমাদের বিপুল জনসংখ্যার প্রায় ১ কোটি লোক প্রবাস জীবন বেছে নিয়েছেন। সেই ১৯৭৬ সাল থেকে প্রথম সৌদি আরবে লোক যাওয়া শুরু। এর পর থেকে আর থেমে নেই। বর্তমানে একক দেশ হিসেবে, শুধু সৌদি আরবেই বাংলাদেশী রয়েছে প্রায় ৩০ লক্ষ। যেইটা একক কোন দেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশীদের অবস্থান। আর লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, সৌদি আরব বা মধ্য প্রাচ্যের অন্যান্য দেশ যেমন, ইউনাইটেড আরব আমিরাত,কুয়েত, কাতার ইত্যাদি দেশ, কখনো কোন বিদেশী লোককে স্থায়ী ভাবে বসবাসের অনুমতি দেয় না। যার কারনে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রবাসীরা, সেসব দেশে কোন টাকা বিনিয়োগ না করে, সেসব দেশে উপার্জিত সকল অর্থই বাংলাদেশে পাঠিয়ে থাকেন। সেই কারণেই দেখা যায়,মধ্য প্রাচ্য থেকে বাংলাদেশ সরকারের সবচেয়ে বেশী রেমিটেন্স আসে। তাদের পাঠানো টাকা বাংলাদেশ সরকারের বাজেট তৈরীর একটা বড় অংশ জোগান দিয়ে থাকে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স ই আমাদের ইকোনোমির মূল বিত্তি। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। যে প্রবাসী ভাইদের অক্লান্ত পরিশ্রমের পাঠানো টাকার মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। সরকারের কিছু অসাধু কর্মচারী আছেন, যাদের বেতন ভাতা, বোনাস সব কিছুই যোগান আসে প্রবাসী ভাইদের পাঠানো ডলারের কারণে, সেই প্রবাসী ভাইদের তারা মনে করেন, তাদের শিকার হিসেবে? তাদেরকে নানান ভাবে হেনস্থা করে, পয়সা উপার্জনের ধান্ধা করেন। আমাদের প্রতিটি প্রবাসী ভাই হলেন স্বার্নের ডিম পাড়া হাঁসের মতো। অথচ আমাদের অভাগা দেশ, সেই স্বার্নের ডিম পাড়া হাঁস কে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে গালি দেই। অযোগ্য লোক বলে হেয় প্রতিপন্ন করি। আমরা যথাযথ ভাবে তাদের মূল্যায়ন করি না। এয়ারপোর্টে আসতে,যেতে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি। আমরা একবারও নিজের মনে এমন চিন্তা আনয়ন করি না। আমি যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে, এই কথা বলতেছি, আমার বেতন, বোনাস এবং ভাতা এসব কোথা থেকে আসে? আমাদের দেশের কিছু কিছু সরকারী কর্মচারী ভাইরা, নিজেদেরকে কি যে মনে করেন? আল্লাহ সোবহান আল্লাহ তায়ালাই ভালো বলতে পারবেন? তবে তারা যে ধরনের বা যে মানের সেবা জনগণকে প্রদান করে, চাকুরীতে বহাল তবিয়তে আসীন থাকেন। তা দেখে অবাক না হয়ে পারা যায় না। কিন্তু বাস্তব সত্যি হলো, এই মানের সার্ভিস প্রদান করে, বাংলাদেশের মতো, দেশে ছাড়া পৃথিবীর কোন দেশে এদের চাকুরী হবে না। এইটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারবো। প্রবাসে আমাদের যে সকল ভাই কাজ করেন। তারা সবাই পরিশ্রমী। তাদের অনেকের বেতন আর যোগ্যতা এতোটাই উপরে, তারা প্রতিমাসে যেই পরিমান বেতন পান, সেই পরিমান টাকা বেতন হিসেবে,আমাদের সরকার প্রধান দুই-চার মাসেও পান না। অতি সম্প্রতি ঢাকা বিমান বন্দরে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকতার দৃস্টিকটু মন্তব্য, আমাকে খুব কস্টো দিয়েছে। তিনি নিজেকে কি মনে করেন? সেইটা আমরা জানতে চাই না। তবে তাকে আমরা যেটা ভাবী, তিনি হলেন আমাদের ১৬ কোটি মানুষের চাকর। কারণ তাদের কাজঁই হলো জনগণের সেবা প্রদান করা। যিনি আমাদের সোনার ডিম পাড়া হাঁসের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন? তিনি নিজে দেশের অন্ন ধ্বংস করা ছাড়া, কয় টাকার ফরেন কারেন্সি দেশে আনতে সক্ষম হয়েছেন? অথচ তিনি নিজের লাজ লজ্জার কঁথা মাথায় না এনে, কিভাবে?আমাদের প্রবাসী ভাইয়ের সমালোচনা করেন? একজন প্রবাসী সাধারণ শ্রমিক দেশের অর্থনীতিতে যে ভুমিকা রাখেন। সেই ভুমিকা আমাদের দেশের খুব কম সরকারী কর্মচারীই পালন করেন। আমি এখানে প্রবাসে অপেক্ষাকৃত অল্প শিক্ষিত বা মধ্যম শিক্ষিত লোকেদের তাদের ভুমিকা পালনের জন্য। ধন্যবাদ দেই। কারণ যারা অপেক্ষাকৃত বেশী আয় করেন এবং নিজের ফ্যামিলি নিয়ে বিদেশে থাকেন, তারা তাদের পুরো টাকাটা নিজ দেশে পাঠান না। বা পাঠাতে পারেন না। অথচ যারা কম টাকা আয় করেন, বা নিজ পরিবার নিয়ে বিদেশে থাকেন না। তারা তাদের আয়ের বেশীর ভাগ টাকাই নিজ দেশে পাঠান। তাই সেই স্বর্নের ডিম পাড়া হাঁসের অধিকারটা বা সম্মানটা, নিশ্চয় একজন ধনী স্থায়ী ভাবে প্রবাসে থাকা প্রবাসীর চেয়ে বেশী হওয়া দরকার।

কোন খাবারের অভ্যাস সন্তানের প্রতি, চাপিয়ে দিবেন না।

Now Reading
কোন খাবারের অভ্যাস সন্তানের প্রতি, চাপিয়ে দিবেন না।

কোন খাবারের অভ্যাস সন্তানের প্রতি,চাপিয়ে দিবেন না।

স্বাভাবিক ভাবে কোন মানুষ, সব ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে জন্মায় না। জন্মের পরে অটোমেটিক্যালি পরিবারের অনেক পছন্দ অপছন্দ জিনিস ছেলে বা মেয়েরা ধারণ করে। খাবারের অভ্যাসের ক্ষেত্রেও এক্সাক্টলি সেইম।
স্বাভাবিক ভাবে ছোট বাচ্চারা মিস্টি জাতীয় খাবারই, খেতে পছন্দ করে বেশী। আর সেভোরি টাইপের খাবারও পছন্দ করে, যেটি ঝালও না বা মিস্টিও না। ধীরে ধীরে বয়স বাড়ার বাড়ার সাথে সাথে পছন্দের পরিবর্তন হতে থাকে। সন্তান মোটামুটি বুঝের না হলে,ঝাল, টক, তিতা এসব খাবার খুব সহজে খাওয়া শিখে না। এসব স্বাদের খাবার অনেক বয়স হলে পরে খেতে শিখে। আমাদের দেশে পরিবার ভেদে, ঝাল বা টক কম বেশী সব পরিবারেই খেয়ে থাকি? সেই ধরনের খাবার অনেক সময় দেখা যায়, অনেক বাবা মা, সন্তানদের জোড় করে খাওয়ানো শিখানোর চেস্টা করেন। অনেক পরিবার ঝাল খাওয়ানোর ব্যাপারে সন্তানদের প্রেসার ক্রিয়েট করেন। পরিস্থিতি এমন করেন, যেটার বিকল্প থাকে না,সন্তানের অন্যটা বেছে নেওয়ার। সন্তান বাধ্য হয়ে সেই অভ্যাস গড়ে তোলে।সেইটা করা আসলে ঠিক না। তবে অনেক পরিবারই নানান পরিস্থিতির কারণে, যেমন আর্থিক দুরবস্থার কারণে, বাবা মা তাদের ছেলে মেয়েদের, তাদের নিজেদের মতো অভ্যাসে গড়ে তুলতে চান। কোন কোন সময় দেখা যায়, পরিবারের সকল সদস্যই খুব বেশী ঝাল দিয়ে, রান্না করা তরকারী খেতে পছন্দ করেন।তাই তারা পরিবারের সবাই মিলে চান তাদের সন্তান যেন, প্রচুর ঝাল খাওয়ার অভ্যাসে বেড়ে উঠুক। আবার অনেক পরিবারে টক খাবার খেতে খুব পছন্দ করেন। তারা চান সন্তান যেন, তাদের মতো টক খাবার পছন্দ করুক। তবে আবার সব কিছুই যে ছেলে মেয়ে মেয়ের ইচ্ছের উপরে ছেড়ে দিবেন। সেইটাও কিন্তু পারবেন না। কারণ ছোট বয়সে কোন ছেলে মেয়েই বোধ করি, বিশেষ করে ঝাল খাবার খেতে খুব একটা চান না। কোন কোন পরিবারে আবার সন্তানের জন্য আলাদা কিছু তৈরী করবে, সেই সামর্থ অথবা পরিবেশ পরিস্থিতিও অনেক সময় থাকে না। তাই পরিবারের সবাই বাধ্য হয়েই, প্রেসার দিয়ে ঝাল খাবার খাওয়ান। এই সমস্যটা সাধারণত পরিবারে মেয়ে সদস্যরা একটু বেশী মোকাবিলা করেন। অনেক সময়ই দেখা যায়, বিশেষ করে গ্রামের মেয়েদের ক্ষেত্রে, মেয়ে হয়ে যদি বলেন, ঝাল খাবার আমি খাব না। আর যদি সেই মেয়ে, গরীব ঘরে জন্মান। তাহলে তো মেয়ের মা বলবেন, কোন লাট সাহেবের বেটি উনি, ঝাল খেতে পারবেন না? তাকে বিয়ে করার জন্য কোন রাজার পুত্র অপেক্ষা করছে? যে উনি ঝাল তরকারী খেতে পারবেন না? তার জন্য কে,পোলাও কোরমা নিয়ে বসে আছে?তোকে ঝাল তরকারী দিয়েই ভাত খেতে হবে। পরে মেয়েটি উপায় অন্ত না দেখে,খুব অপছন্দ হলেও, কস্টো করে ঝাল খাবার খেয়ে নেন নিরবে। সাধারণত মেয়েদের ক্ষেত্রে মায়েরা, শশুর বাড়ীর,একটু বেশী আগাম প্রস্তুতি হিসেবে, সব জটিল আর কঠিন পরিস্থিতির জন্য রেডি করতে চান। কারণ মেয়েটির মা বা নানী কোন কালে হয়তো, বৈরী একটা পরিবেশে সংসার করেছে। সেখানে তার নানী হয়তো ঝাল খাবার খেতো বলে, কস্ট পেয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ইতিহাস মেয়েটির মা হয়তো জানে। তাঁই সে মনে মনে ভাবে, আমার মেয়ে যেন, পরের বাড়ী যেয়ে, এমন অসুবিধায় না পড়ে। তাই তার এতো কঠিন ভাবে বলা। এই কাজটি করছেন, হয়তো মেয়েটির ভালোর জন্যে। কিন্তু মেয়েটি হয়তো বুঝতে চাচ্ছে না। ঐ ধরনের পরিস্থিতিতে আবার অনেক সময় দেখা যায়, পরিবারে মায়ের এক্সট্রা কেয়ারে বড় হওয়া ভাইটিও মায়ের পক্ষ নিয়ে, নিজের বোনকে দুই চারটা চর থাপ্পর দিয়ে, বুঝিয়ে দেন How powerful he is? এবং বলেন এই ঝাল তরকারী দিয়েই তোকে ভাত খেতে হবে। অনেক মায়েরাই তাদের একটি ছেলে আর একটি মেয়ে থাকলে, ছেলের প্রতি একটু বেশী পক্ষ পাতিত্ব আচরণ করেন, ছেলেকে খুশী রাখার চেস্টায় ব্যতিব্যস্ত থাকেন মায়েরা। ছেলেকে একটু বেশী খেতে দেন, বা তার চাহিদার প্রতি বেশী খোঁজ রাখেন। ছেলের মর্জিটা একটু বেশী রাখার চেস্টা করেন। কারণ তিনি হয়তো মনে মনে ভাবেন, এই ছেলেই আমার ভবিষ্যত। মেয়ে তো, দুইদিন পরে বিয়ে দিলে পরের বাড়ী চলে যাবে। তাই তার আশা করে কোন লাভ নেই। এই ধরনের আচরণ কোন মায়েরই করা উচিত না। এছাড়া খাবার দাবাবের ক্ষেত্রে, আমার মতে ছেলে মেয়েদের প্রতি প্রেসার না দিয়ে, বুঝিয়ে শুনিয়ে, বিভিন্ন ধরনের খাবারে অভ্যস্ত করালেই ভালো।
তবে ইদানীং শহরে বড় হওয়া ছেলে মেয়েরা কাটাওয়ালা বা ছোট মাছ খেতে তেমন পছন্দ করেন না। আমি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি। আর তিতা খাবার মানেই তো করোলা। সেই করোলা খায় এমন ছেলে মেয়ে খুব কমই দেখেছি। তবে একটা লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, এখনকার ছেলে মেয়েদের কাছে খাবারের যেমন বিকল্প ব্যাবস্থা রয়েছে বা বৈচিত্র পূর্ণ খাবার সহজলভ্যতা রয়েছে। একটা সময় ছিলো এদেশে খাবারের এতো বৈচিত্র ছিলো না। মানুষ অল্প কিছু খাবারের মধ্যেই তাদের পছন্দ কে সীমাবদ্ধ রাখতো।
যেটা এখন হাজারও পছন্দের ব্যাপারে পৌছেছে। ইচ্ছে করলেই ছেলে মেয়েরা তাদের পছন্দ মতো খাবার খেতে পারেন।

ক্রিকেট খেলার ফর্মেট সংক্ষিপ্ত করন শেষ হবে কবে?

Now Reading
ক্রিকেট খেলার ফর্মেট সংক্ষিপ্ত করন শেষ হবে কবে?

ক্রিকেট খেলার ফর্মেট সংক্ষিপ্ত করন শেষ হবে কবে?

ক্রিকেট। বর্তমান বিশ্বে ফুটবলের পরে, দ্বিতীয় পপুলার দলীয় খেলা হিসেবে সারা পৃথিবীতে মোটামুটি পরিচিত।এই খেলায় বর্তমান আইসিসির সহযোগী সদস্য রয়েছে, বিশ্বের প্রায় ১০০ টিরও অধিক দেশ। কিন্তু পূর্ন সদস্য বা টেস্ট খেলুড়ে সদস্য রয়েছে মাত্র ১২ টি। এখানে উল্লেখ্য, অতি সম্প্রতি আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তানকে টেস্ট মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এখন বাকিরা কবে পূর্ন সদস্য পদ লাভ করবে? সেইটা হয়তো কেহই বলতে পারবে না? তবে বেশ অনেক বছর সময় লাগবে, এইটা নিশ্চিত করে বলা যায়। কারণ বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার বেশ অনেক বছর পরে, নতুন দুইটি দেশ কে টেস্ট মর্যাদা দেওয়া হলো। এখানে অনেকের কাছেই খুব আশ্চর্যের বিষয় মনে হয়, যেই টেস্ট খেলা দিয়ে ক্রিকেট খেলা শুরু।সেই টেস্ট খেলার পূর্ণ সদস্য দেশদলগুলোকে নিয়ে, আইসিসি একটি টেস্ট বিশ্বকাপ কোন দিন চালু করেনি বা চালু করতে পারেনি। তবে আমরা শুনেছি,, আইসিসি একবার টেস্ট বিশ্বকাপ আয়োজনের চিন্তা ভাবনা করেছিলো। পরে তারা হিসাব করে দেখেছেন। প্রায় চার মাসের মত সময় লাগবে। একটি পূর্নাংগ টেস্ট বিশ্ব কাপ আয়োজন করতে। এখন আপনারা একবার ভাবুন তো, চারমাস ধরে একটা টুর্নামেন্ট? কি অদ্ভুত টুর্নামেন্ট ই না হতো সেইটা? তাই না? তাই আইসিসি এইমর্মে সিদ্ধান্তে পৌচ্চোছে যে, এইটা আয়োজন করা সম্ভব নয়। ইদানীং আরেকটি কথা বেশ শোনা যাচ্ছে, সেইটা হলো, আইসিসি টেস্ট ম্যাচগুলো, পাঁচ দিনের স্থলে চারদিন করার চিন্তা ভাবনা করতেছে। এই সিদ্ধান্ত কবে নেওয়া হবে, আর কখনই বা কার্যকর করা হবে। সেইটা সময়ই বলে দিবে। আমাদের কেবল অপেক্ষা করে দেখতে হবে। পৃথিবীতে খুব সম্ভবত ক্রিকেট খেলাই একমাত্র খেলা, যেটার নিয়ম কানুন প্রায়াসই পরিবর্তন করা হয়। এছাড়া এ খেলায় রয়েছে, জটিল আর কঠিন সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো সিচুয়েশন।এই খেলার এল বি ডব্লিউ এমন একটি জটিল বিষয়। এছাড়া কট বিহাইন্ড বা লো ক্যাচ ধরার মতো ঘটনা ঘটলে, প্রযুক্তি ছাড়া সত্য তথ্য আপনাকে কে দিবে? সব খেলোয়ার তো আর হাশিম আমলার মতো সৎ না? তাই আপনাকে যেতে হবে প্রযুক্তির কাছে। একথা সত্যি এল বি ডব্লিওর মতো বিষয়ে, কোন আম্পায়ারের পক্ষেই, সব সময় ১০০ ভাগ সঠিক সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়। যার কারণে অনিবার্য ভাবে, এখানে প্রযুক্তির নিয়মিত ব্যাবহার আমরা লক্ষ্য করি। অদূর ভবিষ্যতে এই খেলায় যদি রোবট আম্পায়ার ব্যাবহার করা হয়। তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না? এছাড়া এই খেলার ব্যাট ও বলের ক্ষেত্রে এসেছে আমূল পরিবর্তন। আজ আমরা যেই মাপের ব্যাট আর বলের খেলা দেখি। সেই মাপের ব্যাট আর বল পরিবর্তন হয়ে আসতে, সময় লেগেছে বহু বছর। আমি কখনোই একটা ব্যাপার বুঝি না, ক্রিকেটে এক ওভারে ছয় বল হলো কেন? যদি প্রতি ওভার পাঁচ বলে ধরা হতো। আর ছয় মারাকে পাঁচ হিসেবে ধরা হতো। তখন আমরা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা দেখার দর্শক হিসেবে, প্রিয় খেলোয়ার পাঁচ মারলে, এক হাতের পাঁচ আংগুল উচিয়ে দেখাতে পারতাম। তাছাড়া ৫০ ওভারের ম্যাচ, পাঁচ বলে এক ওভার, এক বলে সর্বোচ্চ পাঁচ রান, একজন বোলার সর্বোচ্চ ১০ ওভার বল করার অধিকার,ইত্যাদিতে খুব মিল থাকতো। আইসিসির উচিত ছিলো, এই খেলায় পাঁচ সংখ্যার অধিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। এদিকে ১৮৪৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যে যাত্রা শুরু। সেইটার পরির্বতন হতে হতে, প্রথমে টেস্ট। পরে চালু হলো ওডিআই, এই ওডিআই আবার শুরু হয়েছিলো ঘটনা চক্রে। অনেকেই হয়তো জানেন, ১৯৭৩ সালে এসেজ সিরিজের টেস্ট খেলা, বৃস্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ার কারণে, আয়োজকরা এক দিনের একটি ওডিআই ম্যাচ এর আয়োজন করেছিলেন। দর্শকদের টিকেটের পয়সা উসুল করার ব্যাবস্থা হিসেবে। সেই থেকে ওডিআই চালু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপের আয়োজন করেন। এর পরবর্তীতে ২০০৩ সালে আবার শুরু হয় T 20 এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে T 10 খেলা হচ্ছে দুবাইতে। যদিও T 10এর আইসিসি কোন টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষনা দেয়নি। তবে যদি দুবাইতে T 10 সাকসেসফুল হয়। তাহলে আইসিসি হয়তো, সেইটা নিয়েও একটা ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্ট আরম্ভ করে দিতে পারে। যেমন, হতে পারে T 10 বিশ্বকাপ। এখন আইসিসি যেভাবে সংক্ষিপ্ত ওভারের দিকে ঝুকেছেন।, তাতে দেখা যায়, এর পরে আইসিসির হাতে বাকি থাকবে মাত্র দুইটা টুর্নামেন্ট। একটি হলো আইসিসি T 5 বিশ্বকাপ। এবং আরেকটি হলো আইসিসি Toss বিশ্বকাপ। এখন আমি খুব চিন্তায় আছি, যেভাবে একের পরে এক, ওভার কমিয়ে আনা হচ্ছে। তাতে আইসিসি আবার, শুধু মাত্র Toss বিশ্বকাপ শুরু করে দেয় কিনা? কে জানে? আইসিসি আসলে ক্রিকেট খেলার সময় নিয়ে খুব চিন্তিত। তারা এখন বুঝতে পেরেছেন, ক্রিকেট খেলায় যে অত্যোধিক সয়ম লাগে, সেই কারণেই সারা পৃথিবীতে এক নাম্বার খেলায় পরিনত করা যাচ্ছে না। কারণ সবার কাছেই সময়ের মূল্য আছে। যদিও সময়ের দাম নেই, কেবল আমাদের বাংগালীদের। আর ভারতের ক্রিকেট পাগল কিছু দর্শকদের কাছে। ভারতে এমনও ক্রিকেট পাগল দর্শক আঁছেন, যারা টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিনের স্থলে, ১০ দিন করা হলেও, তারা খুব উৎসাহ নিয়েই খেলা দেখবেন, তাদের উৎসাহের বরং এতোটুকু ভাটা পড়বে না। এইটা নিশ্চিত করে বলা যায়। প্রকৃত পক্ষে, আইসিসি আন্তরিক ভাবে সময় কমানোর কথা ভাবছেন। এরপরে আইসিসি আবার যদি মনে করেন। আরোও সময় কমানো দরকার। তাহলে, আবার পাঁচ ওভার কমিয়ে, T 10 কে, T5 করে দিতে পারেন। তারপর যদি আইসিসি মনে করেন যে, না Short ফর্মেটে পাঁচ ওভারও বেশী মনে হচ্ছে। তাই পাঁচ ওভারও খেলার দরকার নেই। খেলার মাঠে শুধু টসই হবে।আর Toss হয়েই খেলা শেষ হয়ে যাবে। আইসিসি সেইটাও করলে করতে পারেন। তখন অবশ্য খারাপ হবে না। ধরুন তখন, আইসিসি Toss বিশ্বকাপ চালু করলো। Toss বিশ্বকাপে শুধু টসে টসে খেলা শেষ হয়ে যাবে। তবে টসের সংখ্যা বাড়ানো লাগবে আরকি? যদিও মাঠে তখন কোন বল গড়াবে না। শুধুমাত্র দুই দলের অধিনায়ক মাঠে যেয়ে টস করবেন। টস হবে বহুবার এবং বিজোড় সংখ্যায় Toss হলে ভালো হবে, যাতে কিছুটা সময় লাগে রেজাল্ট আসতে। এই ধরুন এগারো বার Toss করা হলো। জোড় সংখ্যায় টস না করা ভালো। তাতে খেলায়, টাই হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এই Toss বিশ্বকাপে ম্যাক্সিমাম যে দল টস জিতবে, সেই দলকেই বিজয়ী ঘোষনা করা হবে। সেই ধরনের বিশ্বকাপ হলে,তখন কমন্টেটররা টসের ই ধারাবিবরনী দেওয়া আরম্ভ করবেন। অনেকটা লটারীর টিকেটের ড্র হলে, যেভাবে ডিজিট গুলো নিয়ে, নানান ধরনের কথা বলে মানুষকে একটা টেনশনে রাখেন। এক্সাক্টলী সেইভাবে, ধারাভষ্যকাররা তখন নাটকীয় ভংগীমায়, তার বর্ণনা দিবেন। তখন দেখা যাবে, কোন দল যদি, কয়েক বছর Toss বিশ্বকাপ জয়ী হন। তখন হয়তো বলা হবে, তিন বারের Toss বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়া।বা দুইবারের Toss বিশ্বকাপ জয়ী বাংলাদেশ। বা একবারের Toss বিশ্বকাপ জয়ী ভারত।একবারের Toss বিশ্বকাপ জয়ী পাকিস্তান। পরিশেষে আমি বলবো, T 10 বিশ্বকাপ হলে ভালো। তবে আমরা T 10 এর পরে, আর কোন Short Format এ আমাদের প্রিয় ক্রিকেট খেলাকে,দেখতে চাই না।

সরকারী পদে বা কাজে সাজা প্রাপ্তদের সুযোগ না দেওয়া।

Now Reading
সরকারী পদে বা কাজে সাজা প্রাপ্তদের সুযোগ না দেওয়া।

সরকারী পদে বা কাজে সাজা প্রাপ্তদের সুযোগ না দেওয়া।

পৃথিবীর কোন দেশ,অন্য দেশ কে শাসন করলে, সে তার স্বার্থের জন্যই করে। আমাদের দেশে বহু প্রচলিত একটা কথা আছে যে, বিনা লাভে কেউ তুলার বোঝাও বহে না। তেমনই, লাভ ছাড়া কেউ খামাখা শাসন করতে কেউ আসে না। আমাদের পূর্ব বাংলার ইতিহাসে, আমাদের সুলতান বা রাজা বা বাদশা যারাই শাসন করেছেন। তারা অন্য রাজ্য জোর করে অধিকারে রেখে শাসন করেছেন, এমন কোন নজির নেই। অথচ আমরা বাংলার মানুষেরা ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে অন্য রাজা বা বাদশার শাসন বা শোষনের স্বীকার হয়েছি। আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজদের প্রায় দুশো বছর শাসন আমল ছিলো। খুবই পীড়াদায়ক একটি অধ্যায়। অথচ আমরা কি এক অদ্ভুত কারণে যেন, ইংরেজদের সেই শাসন শোষনের ইতিহাস নিয়ে, নতুন প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের কোন শিক্ষাই দেই না। অথবা ঐসব ঐতিহাসিক দিন গুলো সরকারী ভাবে আর পালনও করতে দেখি না। মনে হয় বাংলদেশের ইতিহাস মানেই ১৯৭১ সালের মহান মুক্তি যুদ্ধ। আর পাকিস্তানের শাসনের ২৩ বছর। তার আগে কোন সমস্যাই ছিলো না। তার আগে বোধ হয়, দেশের ভূখন্ডটি আসমানে ছিলো। তারপর হঠাৎ করেই আসমান থেকে জমিটি মাটিতে পড়েছে। আর সেই জমিতে আমাদের পূর্বপুরুষগণ বসবাস করা আরম্ভ করেছে। এখানে দেখা যায়, আমরা ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সালের ইতিহাস নিয়ে রহস্যজনক ভাবে চুপ থাকি। কোন মিটিং এ বা জনসভায় শুনি না সেসব কথা বলতে। অথচ কোন জাতি যদি তার পূর্নাংগ ইতিহাস না জানে, তাহলে সে নিজেকে কিভাবে প্রস্তুত করবে? তার তো দেশ প্রেম ভালো ভাবে মনে প্রানে জন্মাবে না। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন কিভাবে দমন করা হতো। কতো ভালো ভালো সাহসী লোকেদের নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। সেই কথা আজকাল খুব একটা শোনাও যায় না। ১৯৪৭ এর আগে, কি পরিমান রক্তক্ষয়ী দাংগা বা রায়ট হয়েছিলো। কতো দেশ প্রেমিক জনতার প্রান গেছে, বৃটিশদের শোষনের হাত থেকে রক্ষা পেতে বা বৃটিশদের থেকে ভারত ও পাকিস্তান আলাদা হতে। তা সত্বেও অত্যন্ত দু:খ জনকভাবে লক্ষ্য করি, আমাদের দেশে অনেক রাজনীতিবিদই আঁছেন, যারা হয়তো ১৯৪৭ সালের আগের ইতিহাস সম্পর্কে তেমন জানেন না। বা জানলেও কৌশলে এড়িয়ে যান। বলতে চান না। ইদানীং সংখ্যায় খুব অল্প পরিমান হলেও, অনেকেই আবার মনে করেন, বৃটিশরা নাকি আমাদের উপমহাদেশ শাসন শোষন করতে আসে নি। শিক্ষা ও জ্ঞান প্রসারের জন্য দায়িত্ব ভার নিয়েছিলো। যদিও কথাটা মোটেও ঠিক না। তবে এইটা সকলেই দেখেছেন, উপমহাদেশে আধুনিকতার ছোয়া লেগেছিলো বৃটিশ শাসন আমলে। আমাদের দেশে প্রচলিত একটি কথা আছে, যা আমরা সবাই মোটামুটি জানি, কেউ খুব চতুরতার পরিচয় দিলে, আমরা তখন বলি, শালায় তো একটা বৃটিশ। সুতরাং বৃটিশরা যে চতুরতায় উস্তাদ, সেইটা আমাদের সমাজ স্বীকার করে। সত্যি বলতে কি, বৃটিশরা এমন চালই চালিয়েছে, যেটার মাধ্যমে আপনাকে বুঝতেও দিবে না। তার লাভের জন্য সে ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করেছে। এখন ভারতীয় জনগষ্ঠীর একটা বড় অংশ মনে করেন, বৃটিশরা এসে ভারতের পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠিকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছে। তবে একথাও সত্যি বৃটিশরা ভারতীয় হিন্দুদের বিশ্বের বুকে একটা আইডেন্টিটি এনে দিয়েছে। এপ্রসংগে আরেকটি কথা বলতে হয়, উপমহাদেশ থেকে বৃটিশদের বিপুল পরিমান রেভিনিউ যেয়ে, বৃটিশ অর্থনীতিকে সেই সময় খুব সবল করে রেখেছিলো। পাশাপাশি এই কথাও ঠিক যে, বৃটিশরা কূট কৌশলে ভারত তথা সিরাজ- উ- দ্দৌলা কে পরাজিত না করলে, হয়তো অন্য শক্তি যেমন ফরাসী বা পর্তুগীজরা এই ভারতীয় উপমহাদেশ অধিকার করে নিতো। তখনকার দুর্বল মুসলিম রাজাদের শাসন কার্য আর বেশীদিন চলতো না। আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশ যেহেতু বৃটিশদের কলোনী ছিলো। তাই বাংলাদেশের প্রায় সব আইন কানুন ই পরিচালিত হয়, বৃটিশ আইনের অনুকরনে। অথচ বৃটেনে প্রচলিত অনেক ভালো আইনই আমরা এখানে ইমপ্লিমেন্ট করি না। রাস্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রকৃয়ায় আমরা বৃটিশদের অনুসরন করি না। এইসব আইনের একটি হলো পুলিশ সার্টিফিকেট মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে লোক নিয়োগ। বৃটেনে দেখা যায়, সেখানে তারা একজন ড্রাইভার নিয়োগ করলেও তার সি আর বি চেক করেন। অথ্যাৎ তার সারা জীবনের যাবতীয় ক্রিমিনাল হিস্ট্রি চেক করেন। যার মাধ্যমে দেখা হয়, যে লোকটি নিয়োগ পাচ্ছেন। সে কি জীবনে কখনো, কোন ধরনের দন্ডনীয় অপরাধ করেছিলেন কি না? শুধু ড্রাইভারই না, সেখানে আপনি দেখবেন, একজন ডাক্তার, একজন ইন্জিনিয়ার, একজন শিক্ষক, একজন বিচারক ইত্যাদি নিয়োগ দানের আগে তার সি আর বি রিপোর্ট ছাড়া, সেই লোক নিয়োগ পান না। সরকারের এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পেতে, লোকেদের উত্তম চরিত্রের অধিকারী হতে হয়। স্বাভাবিক ভাবে আপনি উত্তম চরিত্রের লোকের কাছ থেকে উত্তম সেবাই পাবেন। আর যদি কোন খুনী বা দন্ডিত আসামী বা কোন অপরাধে অভিযুক্ত কোন লোককে আপনি নিয়োগ দেন। তার কাছ থেকে ভালো কোন সেবা আশা করতে পারবেন না। এবার যদি আমরা বাংলাদেশের দিকে তাকাই তাহলে দেখবো। আমাদের দেশে ড্রাইভারদের অতীতে সে কি করেছে, কেহ ই জানে না। সে হয়তো কোন খুনের আসামীও হতে পারে। তারপর ধরেন একজন পুলিশে নিয়োগ পেয়েছেন, তিনি আগে এলাকার মাস্তান ছিলেন। যার কারণে এলাকার লোকেরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো। এমনও লোক হয়তো পাবেন, যিনি উকিল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি তার অতীতে মাস্তানীর মাধ্যমে হাজারও অন্যায় কাজ করে বেড়িয়েছেন। অথবা যিনি শিক্ষক হয়েছেন, তার অতীত রেকর্ড হয়তো খুব একটা প্রীতিকর নয়। এই ধরনের অপরাধীরা যদি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পান। তাহলে আপনি তাদের কাছ থেকে, কখনোই ভালো কিছু আশা করতে পারবেন না। কিন্তু দু:খ জনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে ভালো চারিত্রিক গুনাবলী সম্পন্ন লোকদের জনগণের সেবায় নিয়োগ দিতে পারি না। যদিও প্রথম শ্রেনীর গেজেটেড অফিসারের চারিত্রিক সনদ কোন কোন চাকরীতে বাধ্যতামূলক। তারপরেও সব গ্যাজেটেড অফিসার তো আর, তার পূর্ববতী জীবনের অনেক অপরাধের খোঁজ রাখতে পারেন না। বা খোঁজ রাখা তার পক্ষে সম্ভবও নয়। এখন আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, এখন থেকে সরকারী সকল নিয়োগে পুলিস সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করলেই,সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু এইটা এখনই চালু করতে পারবেন না। কারণ আপনি আজই যদি আইন করেন যে, সরকারী সকল নিয়োগে পুলিশ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করতে, তাহলে দেখা যাবে মানুষের হয়রানী আগের থেকে কয়েক গুন বাড়বে। পুলিশের টাকা ইনকামের একটা নতুন উৎস খুলবে। আমাদের দেশে এখনো টাকা হলে ভালো পুলিশ রিপোর্ট পাওয়া যায়। তারপরে আমাদের দেশ এখনো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ডিজিটালাইজেশনে পৌচ্ছাননি। বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণ নীতিতে আধুনিকায়ন করেনি। বাংলাদেশের টেকনাফ থানার কোন খুনী বা দাগী আসামীর তথ্য তেঁতুলিয়া থানায় আপনি পাবেন না। তাছাড়া মিথ্যা আর হয়রানী মূলক বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত মামলা কারীর বিরুদ্ধে, কঠোর ভাবে জেল জরিমানা আরোপ করতে পারিনি। অথ্যাৎ মিথ্যা বা হয়রানী মূলক মামলা হ্রাস করতে সক্ষম হইনি। প্রকৃত অপরাধী আর মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত এদেরও পৃথক করা জরুরী। তারপর অপরাধীদের তথ্যের সমন্বয়হীনতা সেইটা দূর করা দরকার। তারপর পুলিশ রির্পোটের নির্ভযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সময়ে পুলিশ রিপোর্ট পেয়েও, আপনি ১০০ ভাগ নিশ্চিত হতে পারবেন না। এই রিপোর্ট প্রাপ্ত ব্যাক্তি পূর্বে কোন অপরাধ করেনি। কারন এখনো সেই ধরনের কোন ব্যাবস্থাপনা পুলিশ ডিপার্টমেন্টে গড়ে উঠেনি। বা সেই ধরনের বিশ্বাস যোগ্য আস্থা এখনো নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়নি। অথচ আমাদের ১৬ কোটি জনগণের চাওয়া, কোন অপরাধী যেন, সরকারের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত না হতে পারে? কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, সেইটা দেখার প্রচলিত রাজনীতির উর্ধ্ধে, নিরপেক্ষ কোন অভিবাবকও তো আমাদের রাস্ট্রে নেই।

১২ কোটি টাকার লজ্জার ক্র্যাশ

Now Reading
১২ কোটি টাকার লজ্জার ক্র্যাশ

[এই পোস্টের লেখককে অনুরোধ জানানো হচ্ছে কমেন্টে এই পোস্টে দেয়া নানা ধরনের তথ্যের রেফারন্স দেয়ার জন্য।]

গ্রামে খুব প্রচলিত একটা কথা আছে। গরীবের ঘোড়া রোগ। এখন আমাদের বাংলাদেশ সরকারের উচ্চাভিলাষের মাত্রাতিরিক্ত বহি:প্রকাশ,বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ দেখছে। এরই অংশ হিসেবে, সরকারের বিপুল পরিমান টাকা খরচ করে, সোফিয়া নামের একটি রোবট ভাড়া করে আনা হয়েছিলো।এতে আমাদের তথ্য প্রযুক্তির কিভাবে কতোটা উন্নতি হবে, আমার সেইটা জানা নেই। বা সরকারের নীতি নির্ধারকগণ কিভাবে কতোটা ফলাফল পাবেন। সেঁইটা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন।তবে গরীব দেশের জনগণের টেক্সের বারো কোটি টাকা দিয়ে, দেশের শিক্ষিত তরুন ছেলেদের অপমান করা, কোন যুক্তিতেই মেনে নিতে পারি না। তার চেয়ে বরং এই পরিমান টাকা দিয়ে, প্রতিবছর আইটি সেক্টরে মেধাবী শত শত বৃত্তিপ্রদান করলে, সেইটা গরীব অথচ অত্যন্ত মেধাবী ছেলেদের মেয়েদের মেধার বিকাশ ঘটানো যেতো।

আমাদের দেশের ছেলেরা হয়তো, এর চেয়েও আরোও স্মার্ট রোবট নিজ দেশে তৈরী করে, সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিতে পারতো। সম্প্রতি রোবট সোফিয়া কে নিয়ে, যমুনা টেলিভিশন তার লাইভ একটি সাক্ষাত্কার প্রচার করেছে দেখলাম। তাতে যা দেখলাম, তাতে মনে হলো রোবটকে যিনি প্রশ্ন করেছেন। তিনি যদি ছেলে হতেন, তাহলে নিশ্চয় ক্র্যাশ খাওয়ার কথাটা কখনোই বলতেন না। কারণ কোন ছেলেই স্বাভাবিকভাবে, কোন জড় বস্তুর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন না। আমি জানি না, উপস্থাপিকা কিভাবে বুঝলেন, বাংলাদেশের অনেক ছেলে নাকি, রোবট সোফিয়াকে দেখে ক্র্যাশ খেয়েছেন। এখানে অনেক ছেলেই কি উপস্থাপিকার কাছে যেয়ে বলে এসেছেন? যে তারা সোফিয়ার মতো একটি অসম্পূর্ণ সিলিকন ডলের প্রতি তাদের মনে, ক্র্যাশ অনুভূতি পাচ্ছেন? নাকি নিজে নিজেই ধারনা করেই বলে দিয়েছেন? আমরা জানি আমাদের বাংলাদেশের সমাজে, যে শ্রেনীর ছেলে মেয়েরা ক্র্যাশ কথাটা নিয়ে পরিচিত। তারা সবাই মোটামুটি একটি শিক্ষিত শ্রেনী। তারা সবাই বুঝেন ক্র্যাশ কি জিনিস? কি কি পরিস্থিতিতে একটি ছেলে বা মেয়ে ক্র্যাশ খায়। এখানে উপস্থাপিকা বললেন, বাংলাদেশের অনেক ছেলেই নাকি রোবট সোফিয়া কে দেখে, ক্র্যাশ খেয়েছেন। আমার মতে উপস্থাপিকা বাংলাদেশের সব ছেলেদের অপমান করেছেন এবং লজ্জায় ফেলেছেন। তবে তিনি যদি বলতেন,  ১২ কোটি টাকা ভাড়া অনুপাতে  এতো সাধারণ মানের রোবট সেই হিসেবে, ছেলেরা ক্র্যাশ খেয়েছেন। তাহলে সেইটা হয়তো স্বাভাবিক  হতো।

এখানে যেই উদ্দেশ্যে কে সামনে রেখে, উপস্থাপিকা বলেছেন। তাতে আমার তো মনে হয়, ক্র্যাশ শব্দটির যদি প্রান থাকতো। আর ক্র্যাশ শব্দটি শুনতে পেতো।তাকে এমন একটি সম্পূর্ন সিলিকন পুতুলের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, তাহলে ঐ শব্দটি জায়গায় বসেই হার্ট এট্যাক করে মারা যেতেন। আমার তো ধারনা, মাথায় কোন সমস্যা আছে, এমন কোন ছেলে ছাড়া, কোন সুস্থ্য ছেলে। এমন একটি জড় বস্তুর প্রতি,কখনোই আকর্ষণ অনুভব করবে না। এখানে দেখা, এই রোবটটি খুব বেশী স্মার্ট আমি বলতে পারছি না। তার ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন বাদ দিলে, রোবট সোফিয়া খুব বেশী সাকসেস ফুল নয়। কারণ তাকে উপস্থাপিকা জীজ্ঞাসা করেছেন। আপনার পছন্দের রং কি ? তাতে তার কেন সারা মিলেনি। তবে এইটাও সত্য রোবটটি সব ধরনের একসেন্ট বুঝতে পারেন না। আর সবচেয়ে অবাক লেগেছে এই ব্যাপারটা দেখে, রোবটটি সেলফ মুবমেন্ট করতে সক্ষম নয়। তাহলে তো আপনি আপনার প্রয়োজনীয় কাজ তাকে দিয়ে করাতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে শুধু কঁথা বলার পুতুল দিয়ে আমাদের কি হবে? তবে সিলিকন সেক্স ডলের মতো তার
কোন গোপনাংগ আঁছে কি না, সেইটা আমার জানা নেই।বা সে সেই ধরনের কোন পারপাস সার্ভ করে কিনা, কে জানে?

সূত্রঃ ডেইলী স্টার, প্রথম আলো, যুগান্তর।

জামাল মিয়ার কস্টো।

Now Reading
জামাল মিয়ার কস্টো।

জামাল মিয়ার কস্টো..!!

জামাল মিয়া থাকেন, ঢাকার কোন এক বস্তিতে। তার একটা রিক্সা আছে। তিনি তার এই রিক্সাটা ২০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছেন। তিনি তার রিক্সাটা, একটা গ্যারাজ / গ্যারেজ এ রাখেন। তার জন্য তাকে,গ্যারেজ এর মালিককে ভাড়া বাবদ কিছু টাকা দিতে হয়। তার রিক্সাটি বস্তির পাশে ইলেক্ট্রিসিটির তার খাম্বার সাথে তালা দিয়ে রাখা যায়। কিন্তু প্রায়ই দুস্ট পোলাপান এসে রিক্সার চাকার পাম্প ছেড়ে দেয়। তাই তার পয়সা খরচ করে,গ্যারেজ এ রাখতে হয়।জামাল মিয়া খুব সকাল বেলা রিক্সা নিয়া বের হয়। সে প্রথম প্যাসেনজারকে বা বওনির প্যাসেন্জারকে ছাড়তে চায় না। অনেক সময় কম ভাড়া বললেও নিয়ে নেয়। তার রিক্সা চালানোর বয়স প্রায় দশ বছর হতে চললো। সে আগে অন্য কাজ করতো এখন রিক্সা চালানোই তার কাছে ভালো লাগে। তবে তার এই রিক্সা চালানোর জীবনে হাজারো তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। তিনি একটি জীনিসের কখনো হিসাব মিলাতে পারেন না যে, সরকারী রাস্তা সবার জন্য সমান হলেও, যারা দামী গাড়ী নিয়ে রাস্তায় চলাচল করেন। তারা যেন, মানুষ কে মানুষ মনে করেন না। তাদের মাঝে এমন লোকও আছেন। যারা রিক্সা চালকদের মানুষ ভাবেন কিনা সন্দেহ হয়। তারা ভাবেন রিক্সাওয়ালারা হলো। পশু বা জানোয়ার শ্রেনী। তাদের কোন অধিকার থাকতে নেই। এছাড়া রাস্তায় আরোও কয়েক ধরনের মানুষ দেখতে পান। তার মধ্যে অন্যতম হলো। এক শ্রেনীর লোক ভাড়া কম দেওয়ার চেস্টা করেন বা ন্যায্য ভাড়া দিতে চান না। জামাল মিয়া অনেক সময়, কলেজের ছেলেদের তার রিক্সায় নিতে চায় না। আজকালকার খুব কম কলেজ ছাত্রেরই বিচার বিবেচনা ভালো থাকে। দেখা যায় ভাড়া করে দুই জনে,উঠে বসে চারজন। সেই হিসেবে আবার ন্যায্য ভাড়া দিতে চায় না। অনেক সময় ন্যায্য ভাড়া চাইলেও তারা বলে, এতোটুকু যায়গা এতো ভাড়া? মাঝে মাঝে রগচটা কতো গুলো ছেলে উঠে,চড় থাপ্পর দিতে চায়। যতো মাস্তানী গরীব আর দূবর্লের উপর দেখায়।তখন জামাল মিয়ার খুবই মন খারাপ লাগে। তখন তার মনে হয়, স্কুল কলেজে এদেরকে কি শিখায়? একজন গরীব সাধারন রিক্সা ওয়ালার সাথে,যে ছেলে খারাপ ব্যবহার করে।তার কাছ থেকে,জাতি কি ই বা আশা করতে পারে?জামাল মিয়া আরো কিছু প্যাসেনজারকে খুবই ভয় পায়। তারা হলেন, কিছুটা মাস্তান টাইপের। তারা এই রিক্সা বলে,ডাক দিয়ে রিক্সায় উঠে পড়েন।তারপর বলে ওমুক যায়গায় যাব চল।কোন রকম ভাড়া ঠিক না করেই উঠে পড়ে। তাদেরকে যাব না বললে, চড় থাপ্পর দিতে চায়।পরে নেমে আর ন্যায্য ভাড়া দেয় না। তাদের পোষাক আশাক এবং চাল চলনে মনে হয় রাজা বাদশাহ। কিন্তু পয়সা দেওয়ার বেলায়,তারা হয় ফকিরের চেয়ে অধম। কিছু লোক আবার ছেঁড়া নোট দিয়ে, কোন কথা না বলে, সোজা হাটতে থাকেন। হাজার ডাকলেও পিছনে ফিরে আর তাকান না। মনে হয়,ছেঁড়া নোট চালানোর জন্যই বুঝি রিক্সায় উঠেন।অথচ নবীজির সুন্নত হলো, কারো কাছে পুরাতন নোট আর নতুন নোট থাকলে, নতুন নোটটাই অন্যকে দেওয়া। আবার অনেক সময় দেখা যায়, কিছু প্রতারক রিক্সায় উঠে প্যান্ট শাটর্ টাই পড়ে। তারা কোন কোন সময় ব্যস্ত মার্কেটের সামনে নেমে বলে, ১০০০টাকা নোটের ভাংতি হবে?আমার কাছে ১০০০টাকার নোট আছে। ভাংতি নাই। পারলে ভাংতি দাও। নাহলে এই মার্কেটের ভিতরে আমার দোকান আছে।আমি এক্ষুণি টাকাটা পাঠিয়ে দিচ্ছি। এই বলে,মাকের্টের ভিতরে চলে যান, তারপর আর তার কোন খোঁজ থাকে না। একদিন অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে থেকে, টাকা না পেয়ে চলে আসতে হয়েছে তাকে। একবার একলোক একঘন্টা ধরে রিক্সায় ঘুরা ঘুড়ি করে।এক মার্কেটের সামনে থামিয়ে,একটা সপিং ব্যাগ রিক্সায় রেখে বললো, আমার এই ব্যাগটা তুমি দেখে রেখো! আমি ছোট্র একটা জীনিস কিনে,দুই মিনিটের ভিতরেই চলে আসতেছি। এই বলে গেলেন, পরে আরোও ঘন্টা খানেক,তার জন্য বসে থেকে। কৌতুহলী হয়ে, প্যাসেনজারের রেখে যাওয়া ব্যাগ খুলে দেখেন! আলুর খোসা, পিয়াজের খোসা,বাসার যতো ময়লা আবর্জনা আছে তাতে ভরপুর। পরে জামাল দুঃখ করে বলেন।আমার ১০০টাকা ভাড়া মার গেছে,তার জন্য কোন দুঃখ নাই।কিন্তু ১ঘন্টা ধরে ময়লার ব্যাগ পাহারা দিলাম, এইটা ভাবতেই লাগে যতো কস্টো!!

রোবট সোফিয়া

Now Reading
রোবট সোফিয়া

রোবট সোফিয়া।

কিছুদিন ধরে বিশ্বে, তথা বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে, খুবই আলোচিত হচ্ছে, সেফিয়া নামের একটি রোবট।
এই রোবট টি তৈরী করেছে,হংকং বিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান Hanson Robotics.

এটি সর্বপ্রথম একটিভেট করা হয় ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে। পরবর্তীকালে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে, এটি বিভিন্ন  দেশ ভ্রমন করা শুরু করে।এইটিকে বিখ্যাত মডেল অভিনেত্রী Audrey Hepburn এর আকৃতি দিয়ে তৈরী করা হয়েছে। এই রোবটটির বৈশিষ্ট হলো, এইটি মানুষের মতোই দেখতে, এবং এটি মানুষের ফেসিয়াল কিছু expression দিতে পারে। আর প্রিডিফাইনড কিছু বিষয়ে সিম্পল কনভার্সেশন করতে পারে। যা এযাবৎ কালে বানানো, অন্য রোবট গুলোর থেকে একটু স্মার্ট এবং আলাদা। এই রোবটটির ব্যাপারটিকে শুধু শুধুই খুব গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। সাধারণত ইউরোপ আমেরিকা তুচ্ছ বিষয়ে, তারা এমন পাগল প্রায় হয় না। যারা কম্পিউটার বা প্রগ্রামিং বা সফট ওয়্যার নিয়ে কাজ করেন। তারা নিশ্চয় এইটাকে বড় কিছুই ভাবেন না। তারা এর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে খুব বেশী অভিভূত হন না। কারণ তারা সবাই মোটামুটি জানেন, এই রোবটের ভিতরে যেই

প্রোগ্রাম সেট করে দেওয়া হয়েঁছে। এই রোবটিক ফেস Exactly তাই, গড়গড় করে বলে যায়। এর বাহিরে তার কোন কিছুই করার নেই। আমাদের দেশ এম্নিতেই সাধারণ বিষয় নিয়ে, ঝড় তুফান তুলে ফেলার ওস্তাদ। রোবট সোফিয়া ক্ষেত্রেও অনেকটা এমন ঝড় তোলার চেস্টা ছিলো অনেকের। আপনাদের সবার নিশ্চয় মনে আছে। গত বন্যায় বংগবাহাদুর নামে, ভারতীয় পথ হারা এক হাতীকে নিয়ে, নানান ধরনের নাটক আমরা দেখেছি। সেই সময় দেশের বড় বড় সব পত্রিকা, প্রথম পেজ জুড়ে এই বংগবাহাদুরের সংবাদ ছাপিয়েছে। যা দেখে আমাদের কেবলই মনে হয়েছে, সারা দেশে বোধ হয়,আর কোন খবর নেই! এদিকে সম্প্রতি একটি খবর শুনে খুবই অদ্ভুত লেগেছে আমার। ব্যাপারটি হলো যে, সৌদি আরবের মতো কনজারভেটিভ একটি দেশে। এমন এক পাগলামীর সাথে তাল মিলিয়ে, সেই সোফিয়া রোবট কে তার দেশের নাগরিকত্ব দিয়ে দিয়েছে। এম্নিতেই সৌদি আরবের কঠোর নিয়ম কানুনের সাথে আমরা মোটামুটি সবাই অবগত আছি। সাধারণত সৌদি আরবে মেয়েরা গাড়ীর ড্রাইভিং করবে, সেইটার অনুমতি নেই। তাছাড়া মেয়েদের ভোটাদিকার সেইদিন মাত্র ২০১৫ দেওয়া হয়েছে। সেই দেশ কিনা, রোবট সোফিয়া কে তার দেশের নাগরিকত্ব দিয়েছেন?  অবশ্য বর্তমান বাদশা সোলেমান,তার ছেলেকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য। পাশ্চাত্য দেশগুলোকে হাত রাখতে, নানা ধরনের আজব আজব কাজ ও কথা বলে যাচ্ছেন। যেমন কিছুদিন আগে সৌদি গ্রান্ড মুফতি বলেছেন। ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ করা ঠিক না। আবার সরকারী স্ট্যাটমেন্ট দেওয়া হয়েছে। তারা নাকি মর্ডান মুসলিম রাস্ট্র। সুতরাং তাদের এই সরকার দ্বারা এমন আজব সিদ্ধান্ত আসবে, সেইটা খুব সহজেই বিবেচনা করা যায়। অথচ সৌদি আরব সাধারণ ভাবে, কোন বিদেশী নাগরিক কে নাগরিকত্ব দেয় না। তবে আমার ধারনা, সোফিয়া রোবট কে নাগরিকত্ব দেওয়াটা তাদের কাছে। অনেক বেশী নিরাপদ মনে হয়েছে কয়েকটি কারণে, একে তো এইটা একটা রোবট মহিলা। তার কোন জৈবিক চাহিদা নেই। ফলে এর কোন বংশ বৃদ্ধির ভয় নেই। তারপরে কোন অন্যায় করলে, বা ভালো না লাগলে,এক আছাড় দিয়ে ভেংগে ফেলা যাবে। তখন কেউ কিছু বলতে পারবে না। কেউ বলতে পারবে না যে,মানুষ খুন করা হয়েছে। এপ্রংসে উল্লেখ্য এখন তো প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়, সৌদি আরবে অনেক বাসায় ই, কাজের মানুষের উপরে নির্যাতন করা হয়। সুতরাং সেইসব বিবেচনায় হয়তো, এই রোবট  সোফিয়া মহিলাকে নাগরিকত্ব দিয়েছেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীলগণ। আমাদের দেশে রোবটটির ভিডিওতে যা দেখলাম, প্রধান মন্ত্রী যখন রোবট সোফিয়ার, প্রিসেটেড কনভার্সেশনে অংশ নিলেন, তখন দেখা গেলো। সোফিয়া মানুষের মতো খুব দ্রুত তার expression আনতে পারে না। তারপর হাত পা তো নাড়াচাড়াই করতে পারে না। আর তার মাথার অংশটা দেখলে মনে হঁয়, এই মাত্রই বুঝি, অপারেশন থিয়েটার থেকে এক রোগী চলে এসেছে। এখন আমার প্রশ্ন, রোবট বানিয়েছে ভালো কথা, এর চুল কোথায়?

একজন একট্রেস এর মুখঅবয়ব যখন দেওয়াই হলো। তাহলে চুল দিলে ক্ষতি কি ছিলো? এইটা আমার বুঝে আসে না? সর্বপরি, এই রোবট মানুষের দ্বারা তৈরী এবং নিয়ন্ত্রীত একটি যন্ত্র। এর বাহিরে এইটি কিছুই না। অথচ যিনি আমাদের এমন অসাধারণ এক ব্রেন দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যিনি এমন একটি  sophisticated  যন্ত্র বানানোর বুদ্ধি দিয়েছেন। তার জ্ঞান আর বুদ্ধি কতোই না বিশাল, আমরা কি তা চিন্তা করি কখনো?

প্রযুক্তির বিবর্তন।

Now Reading
প্রযুক্তির বিবর্তন।

প্রযুক্তির বিবর্তন।

রেডিও আবিস্কারের পর থেকে যদি বলি, একটা সময় ছিলো যখন রেডিও আবিষ্কারটা ছিলো সেই সময়কার যুগান্তকারী এক উদ্ভাবন। সেই সময়কার সেই আবিষ্কার দেখে, তখনকার মানুষেরা নিশ্চয় খুবই অভিভুত হয়েছেন। কারণ তারা খুব কম মানুষই, এমন একটি আবিষ্কারের কথা চিন্তা করতে পেরেছিলেন। কারণ তখনকার সমাজ ছিলো খুবই পশ্চাদপদ, তখনকার যুগ হিসেবে রেডিওই অদ্ভুত সুন্দর এক আবিষ্কার। কোথায় না, কোথায়, গান বা খবর হচ্ছে, সেইটা তারা শুনতে পাচ্ছেন। সেইটা কি সহজ কথা? আমি শুনেছি, সেই সময়ে অনেক মানুষই নাকি বিশ্বাস করতেন, খুব ছোট ছোট একধরনের মানুষ, যারা এক আংগুল বা তার চেয়েও নাকি ছোট, রেডিওর ভিতরে আছেন, তাঁরাই এই বক্সের ভিতরে কথা বলে, বা খবর পড়ে বা গান গায়। সেগুলোই নাকি মানুষজন শোনে? তখন রেডিওর বক্সটা ছিলো আকারে খানিকটা বড়। তাই এই ভাবনাটাও অনেকের মনে দীর্ঘদিন স্থির হয়ে ছিলো। এর পরে আবিষ্কার হলো টেলিভিশন। এবার তো মানুষের মনে আরোও বিস্ময়! এই বক্স তো শুধু কথাই বলেনা। এখানে সত্যিকারের মানুষও দেখা যায়। আগে কেবল কল্পনা করতো ছোট মানুষগুলো কেমন হতে পারে। এখন দেখে, না তারা তো আমাদের মতোই, আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করা এক জাতের মানুষ। মোটামুটি সেই সময়েই কলের গান নামক যন্ত্রটি আবিস্কৃত হয়। এভাবেই মোটামুটি একটা সময় কাটতে না কাটতেই, আমরা পেলাম টেপ রেকর্ডার। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই, আমরা পেলাম ভিসিপি এবং ভিসিআর। তারপর আমরা পেলাম সিডি ও ডিভিডি। পাশাপাশি ডিজিটাল ক্যামেরা তো আছই। এরপরে আরেকটা নতুন জীনিস আবিষ্কার হলো, সেইটা হলো মোবাইল ফোন। এই মোবাইল ফোন প্রথম দিকে ছিলো,শুধু কথা বলার একটা যন্ত্র। এরপরে দিন দিন কথা বলার এই যন্ত্রই হয়ে গেলো। নানাবিদ কাজের এক দরকারী যন্ত্র।এখন এই যন্ত্রে আমরা সব কিছুই দেখতে পাই। ক্যামেরা, মোবাইল, ছোট টেলিভিশন, বা বিনোদনের নানা উপকরনের একটি যন্ত্র হিসেবে। প্রযুক্তির এই যে দ্রুত পরিবর্তন। এই পরিবর্তন কিন্তু খুব অল্প সময়ের মাঝেই ঘটেছে। আমরা যারা এসময়ের মাঝে পৃথিবীতে আছি। তারা সবাই পৃথিবীর নিশ্চয় আমাদের থেকে শত বছর আগে, যারা পৃথিবীতে এসে মৃত্যুবরণ কারেছেন, তাদের চেয়ে নি:সন্দেহে ভাগ্যবান। এইসব প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা বিবেচনায়। এখন আবার আমরা যেটা হয়তো কল্পনা করতে পারছি না। সেই চমক হয়তো, আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে আমরা হয়তো জানিও না। আচ্ছা আমরা কি কল্পনা করতে পারি? কি কি আবিষ্কার হতে পারে আগামীতে? কি কি চমক অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। যদিও আমার ব্রেন সেইভাবে শার্প নয়। তাই আমার চিন্তাও ততদুর যাবে না। তারপরেও আমার ধারনা। খুব শিগ্রই মোবাইল ফোনটাকে আরোও ছোট করে ফেলা হবে। আরোও পাতলাও করবে।এমনও হতে পারে, ছোট করতে করতে এটাকে একটি আংগুলের সমান করা হতে পারে। অথবা এমনও হতে পারে, এর প্রয়োজন নাও হতে পারে। হয়তো এমনও সময় আসবে, এই যন্ত্র মানুষ আর ব্যবহার করবে না।নতুন আরোও কোন মাইক্রো ডিভাইস আসবে। সেই ডিভাইস এর জায়গা দখল করবে। সেইসময় এখনকার দারুন দারুন, চমৎকার সব মডেলের মোবাইলগুলোর জায়গা হবে জাদুঘরে। তখন সব মোবাইল দোকানদার গুলো নতুন ডিবাইস বিক্রি করা আরম্ভ করবে। অনেকেই বর্তমানে মোবাইল মেকানিকদের বেকার হয়ে যাবেন। তারপর আর কি করবে? আগামীতে মোবাইল ফোন, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড। এতো ছোট করা হতে পারে, যেইটা ছোট হতে হতে এক ইন্চি পরিমান জায়গায় বা তার চেয়ে ছোট করে নিয়ে আসা হবে। এমনকি সবকিছুই খুবই ছোট একটা চিপের ভিতরে বা ডিভাইসেই নিয়ে আসা হবে। এবং সেই চিপটি মানুষের হাতের বৃদ্ধাংগুলি এবং তর্জনীর ফাকার মাঝে প্রতিস্থাপন করা হতে পারে। তখন কোন ফোন কল আসলে, বৃদ্ধাংগুলির ফাকে থাকা, চিপে টিপ দিলেই কানের মধ্যে আগে থেকেই থাকা, খুব ছোট স্পিকারের মাধ্যমে শব্দ কানে পৌছাবে। আর কঁথা বলতে চাইলে, সবাই তখন ডান হাত বা বাম হাত কেবল মুখের সামনে ধরে রাখবেন। তাতেই অপরপক্ষে হাজার হাজার মাইল দুরে কথা শুনতে পাবেন। আর কল করতে চাইলে হাতের মাঝেই মোবাইলের স্ক্রীনের মত ভাসবে। সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় নাম্বারে অডিও বা ভিডিও কল করা যাবে। আর কোন কিছু কেনাকাটা করার পরে, কার্ড পেমেন্টের দরকার হলে। হাতের মধ্যে থাকা চিপটি স্ক্যান করেই সব কাজ করা যাবে। কারণ হাতের ঐ চিপেই সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। সেই চিপটি স্ক্যান করিয়ে প্রয়োজনীয় পিন নাম্বার চাপলেই চলবে। সেই ডিভাইসেই একেধারে থাকবে,মোবাইল ফোনের সুবিধা, ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ডের সুবিধা। আইডেন্টিটি কার্ড, ইত্যাদি সবই একটি ডিভাইসেই পাবে মানুষ।এভাবেই একটার পরে আরেকটা প্রযুক্তি, মানুষের প্রয়োজনে মানব সমাজে আসবে। সেইটা আমরা এখন হয়তো কল্পনাও করতে পারি না। আর সেই প্রযুক্তি আমরা হয়তো দেখতে নাও পারি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো দেখতে পাবে সেগুলো।

পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী

Now Reading
পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী

পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী ।।।

কেউ আপনাকে যদি প্রশ্ন করে, মানুষ বাদে,পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী কোন টি? স্বাভাবিক ভাবেই আপনি হয়তো বলবেন।
ওহ আচ্ছা এইটা তো খুব সহজ একটা প্রশ্ন। রয়েল বেংগল টাইগার বাঘ। বাঘই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী। আবার কেউ হয়তো বলতে পারেন, বনের রাজা সিংহ। আচ্ছা সিংহ কে আমরা বনের রাজা বলি কেন? সিংহ বনের রাজা হলো কিভাবে? সিংহ কি পৃথিবীর রাজা বাদশাহদের মতো মাথায় মুকুট পড়ে, বনের মধ্যে ঘুড়াঘুড়ি করেছিলো কোনদিন? কেউ কি দেখেছেন কখনো? আমার তো মনে হয় কেহ দেখেনি। তাহলে সিংহ কে বনের রাজা বলে, সম্বোধন করা দরকার কি? শক্তি আর বিশালত্বের বিবেচনায় হাতিই কিন্তু বনের রাজা উপাধী পাওয়ার যোগ্য। তাছাড়া, আগের দিনে রাজা বাদশারা কিন্তু হাতির পিঠেই চড়ে, নানান জায়গায় ছুটে বেড়িয়েছেন। সেই হিসেবে রাজাদের চালচলন হাতিদেরই জানা থাকার কথা বেশী। কোন রাজাই বোধ করি সিংহের পিঠে চড়েন নাই। তাঁই বনের রাজা হাতি বলাটা অধিক যুক্তি সংগত। যাই হোক সেই তর্কে যেতে চাই না। আসলে আমার কঁথা হলো, তাহলে কি পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী আমরা খুঁজে পাবো না। ইতিমধ্যেই অনেকেই হয়তো মনে মনে ঠিক করে নিয়েছেন বলবেন। হাতি পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী। আবার অনেকেই যারা তিমি মাছের বিশালতা সম্পর্কে জানেন, তারা হয়তো বলবেন, নীল তিমি মাছই পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী। এভাবে আমরা এমন অনেক প্রানীর কথাই আমরা হয়তো ভাবতে পারি। কিন্তু আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানীর উপাধীটা একটি ক্ষুদ্র প্রানীকে দিতে চাই। সেই প্রানীটা হলো আমাদের সবারই পরিচিত প্রানী, “মশা।“ চরম বিরক্তিকর একটি প্রানী এই মশা। (এপ্রসংগে বলে রাখা ভালো, আল্লাহ সোবহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনুল মজিদে বলেছেন, আমি কোন কিছুই অনর্থক সৃস্টি করিনি। অথচ অবিশ্বাসীদের ধারণা তাহাই।) তাই আমি মনে করি, মশা নিশ্চয় কোন ভালো কাজের জন্য,আল্লাহ সোবহান আল্লাহ সৃস্টি করেছেন। আমরা হয়তো সেঁইটা জানি না। সে যাই হোক, মশা পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী প্রানী। আমার এইটা বলার পিছনে কারণ হলো। স্বাভাবিক ভাবে মানুষ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রানী। এই শ্রেষ্ঠ মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও তার সাহস সব প্রানী থেকে বেশী। কিন্তু এতো বুদ্ধি আর সাহস মানুষের থাকার পরেও। বাঘ বা সিংহের কাছে যেতে ভয় পাই। এমনকি আমরা খুব কম মানুষ ই হাতির কাছে ভিড়তে সাহস পাই। যদিও হাতি তেমন হার্মফুল প্রানী না।তারপরেও আমরা যেতে চাই না। তবে হাতি যদি আবার পাগলা হয়ে যায়, তাহলে সেইটা ভিন্ন কথা। তখন দেখা যায় তার আরেক রুপ, সেই সময় কাউকে সামনে পেলে,শুর দিয়ে পেচিয়ে একটা আছাড় দিতে ভুল করে না। তখন হাতির উপরে বসা ছেলেটিকেও বাদ দেয় না সে? তখন হয়তো হাতি মনে মনে বলে, এতোদিন তো আমার ঘাড়ের উপর বসে বসে উস্তাদী করেছিস। এঁখন দেখ উস্তাদের মাইর কারে কয়? তখন ঘাড় থেকে নামিয়ে দেয় এক আছাড় অথবা পায়ের নিচে ফেলে গেলে ফেলে। যদিও একটি হাতি আমাদের মানুষের চেয়ে শরীরের দিক দিয়ে অনেক গুন বড়। তথাপিও আমরা মানুষরা সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রানী হওয়া সত্তেও।আমাদের মনে একটা ভীতি কাজ করে, হাতি যদি আমাদের আক্রমণ করে বসে, তাহলে সেইটা প্রতিহত করবো কিভাবে? কিন্তু আশ্চর্য্যের বিষয় হলো। মশা আমাদের শরীরের তুলনায় লক্ষ কোটি গুন ছোট হওয়া সত্তেও, সে আমাদের রক্ত খেতে চলে আসে নির্ভয়ে  এমন কি রক্ত খেয়ে চলেও যায়। বেশীর ভাগ সময়ই আমরা তাদের কিছুই করতে পারি না।  সত্যিই তাদের এই সাহসের প্রশংসা করতে হয়। কারন কোন মানুষ যদি জানে সে, তিমি মাছের কাছে গেলে, সে তার পাখনা দিয়ে, নিমিষেই তাকে মেরে ফেলবে। তাহলে এই বিশাল প্রানীর কাছে যেতে মানুষ নিশ্চয়। ১০০ বার চিন্তা করতো। এই ভেবে যে, আমি এই বিশাল প্রানীর সামনে যাচ্ছি যে, আমি আবার জান নিয়ে ফিরতে পারবো তো? সেই ধরনের সিচুয়েশনে মানুষ তিমির কাছে গেলে, নিশ্চয় দল বেঁধে নানান অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে, তারপরেই যেতো। কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়া বড় রকমের পাগল বা বোকাও বের হতো না। অথচ মশার ক্ষেত্রে দেখুন ঢাল নেই, তলোয়ার নেই।
কোন আগ্নেয়াস্ত্রও নেই। অথচ নির্ভাবনায় চলে আসে মানুষের রক্ত খেতে। সে একটি বারও চিন্তা করে না। এই বিশাল মানুষটির রক্ত খেতে যাচ্ছি। নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারবো তো? আবার দেখা যায়, মানুষের কানের কাছে বিরক্তিকর শব্দও করে। এই শব্দের মাধ্যমে কোন ম্যাসেজ দেঁয় কিনা কে জানে? তবে আমার ধারণা, মশার কাছে মানুষের অসহায়ত্ত দেখে, মশা বোধ হয়,আনন্দে আবেগ আপ্লুত হয়ে,গানের সুরে বলতে থাকে, তোরা মানুষরা তো এতো বড় প্রানী। পারলে আমার একটা বাল ছিড়ে দেখা তো দেখি? এই কথাটা বলে, তাদের ভাষায় ঘেন ঘেন করে শব্দ করে। আর আমরা হয়তো তাদের এই ভাষা বুঝি না। তার প্রমান হিসেবে আমি দেখেছি, যেসব মশা কানের কাছে এসে ঘেন ঘেন শব্দ করে, তারা হলো মহা ধুরন্ধর। তাদেরকে আমি কখনোই মারতে পারিনি।

মহসিন সাহেবের আচরণ

Now Reading
মহসিন সাহেবের আচরণ

মহসিন সাহেবের আচরণ..!

মহসিন সাহেব অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তিনি সবর্দা হাসিখুশি থাকেন। তার আচরণ একটু ভিন্ন প্রকৃতির।তিনি তার বন্ধু বান্ধব বা আত্বীয় স্বজনের বাসায় বেড়াতে গেলে। তিনি ঐ বাসায় কাজের লোককে ডাক দিয়ে,কিছু টাকা হাতে দিয়ে দেন। প্রায়ই তিনি পন্চাশ বা একশ টাকা বকশিশ হিসেবে,হাতে তুলে দেন। এইটা তার স্বভাব। তিনি যখন কোন বাসায় বেড়াতে যেয়ে, খাবার শেষ করেন। খাবার খাওয়ার পর পরই, এমন একটা ভাব করেন,এদিক ওদিক কিছু একটা যেন,খুজঁতে থাকেন? সবাই যখন কৌতুহলী হয়ে জীজ্ঞাসা করেন,ভাই আপনি কি খুঁজছেন? তখন তিনি বলেন, ভাই আপনার বাসায় কি,কাজের লোক নেই? অনেকেই তখন রীতিমত অবাক হয়ে জীজ্ঞাসা করেন। ভাই কাজের লোক দিয়ে, আপনার কি দরকার? তখন মহসিন সাহেব বলেন, দরকার আছে ! ভাই। দরকার আছে। সাধারনত অনেকের বাসার ই কাজের লোক থাকে না। সেইটা শুনলে তার মুখ মলিন হয়ে যায়। তার মুখে হতাশার ভাব ফুটে উঠে। আবার কেউ কেউ যখন বলেন,কাজের লোক তো ভিতরের রুমে আছে! তখন মহসিন সাহেবের মুখে হাসি ফুটে ওঠে এবং তিনি প্রানচান্চল্য ফিরে পান। সাথে সাথে তিনি বলেন, অনুগ্রহ করে একটু ডেকে দিবেন কি, কথা বলতাম? তখন প্রায় সবাই ইতস্ততঃ করে, তাদের কাজের লোককে ডেকে দেন। আবার অনেকে নানান বাহানা করে তাকে দেখাতে চান না। কিন্তু মহসিন সাহেব নাছোর বান্ধা। তিনি যে করেই হোক বাড়ীর গৃহকর্তাকে রাজি করিয়েই ছাড়েন। পরে তিনি কাজের লোকের সাথে দেখা করেন। তারপর তিনি কাজের লোকের সাথে, দুই চারটা কথা বলেন।কুশলাদি জীজ্ঞাসা করেন। এর পর তিনি জীজ্ঞাসা করেন, আমাদের জন্য বিশেষ আয়োজনে রান্নায়, তোমার নিশ্চয় বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে? এরপর তিনি বলেন,এই নাও তোমার বকশিশ! বলেই পকেট থেকে কিছু টাকা হাতে দিয়ে দেন।এতে কাজের লোকেরা যে খুশি হন। তা দেখেই তিনি পান আনন্দ! তার এই আচরণ অনেক ফ্যামিলিই ভালো চোখে দেখেন না। কিন্তু তিনি কারোর কোন কথা না শুনে, এই কাজ করে যান দিনের পর দিন। যেসব বাসায় কাজের বুয়ারা বা কাজের লোকেরা নিদির্স্ট টাইমে টাইমে এসে,কাজ করে দিয়ে যান। তিনি সেইসব বাসার মালিকের কাছ থেকে। কাজের লোক আসার সময় জেনে,পরে টাইম মত এক সময় যেয়ে, কাজের লোককে তিনি বকশি দিয়ে আসেন। একবার এক বাসায় যেয়ে তিনি, ২৬-২৭ বছরের এক কাজের বুয়াকে, ১০০টাকা বকশিশ দেওয়ার সাথে সাথেই মহিলা, ১০০ টাকার নোটটি, মহসিন সাহেবের গায়ের উপর ছুঁড়ে মেরেছেন। এবং বুয়া বলেন, ছিঃ ছিঃ বুইড়ার ঘরের বুইড়ার শখ কতো? তখন তিনি খুবই লজ্জায় পড়েগিয়েছিলেন? মহসিন সাহেব ইতস্ততত:করে পরে যখন, তিনি বুয়াকে বললেন, মা,আমি এই টাকাটা তোমাকে বকশিস হিসেবে দিয়েছি। এই বলে,টাকাটা আবার বুয়ার হাতে তুলে দিলেন। তখন বুয়া তার ভুল বুঝতে পেরে,মহসিন সাহেবের নিকট ক্ষমা চাইলেন। মহসিন সাহেব মাঝে মাঝে ভাবেন, তার এই বকশিশ দেওয়ার রেওয়াজটা যদি,সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যেতো! তাহলে নিশ্চয়, দেশের সব কাজের মানুষের মুখে হাসি দেখা যেতো।।