ভালোবেসে প্রেম

Now Reading
ভালোবেসে প্রেম

নিঝুম প্রহরের স্বভাব অনেকটা সিক্ত মনের মত। দুটই ক্ষনিকের। কেউ একা থাকতে পারে না। নিঝুমকে যখন ঝুমিয়ে দিয়ে এমন এক সময় আসে। এমন কাল। এমন ক্ষণ। তখন ভালোবাসার মানুষী প্রেম না করে কি থাকতে পারে? বল? কিন্তু তিক্ত হলেও অসীমতাময় বাস্তবতা এই যে,
শুধু প্রেম যারা বুঝে ফেলে তাদের কপালে আর প্রেম জোটে না।
আমি বলব কি, ভালোবাসতে হয়। ভালোবাসলে ভালোলাগা শুরু হয়। ভালোলেগে ভালোবাসা হয়ে যায়।
আর ভালোবাসাই এক পর্যায় প্রেম করতে বাধ্য করে।
প্রেম ছাড়া ভালোবাসা যে অমরত্ব লাভ করতে পারে না।

যেমন একটি ছোট্ট শিশির বিন্দু সারাজীবন প্রেমি হয়ে থাকল। সে তার প্রেমে দুর্বাকে পাগল করে দেয়। তাদের ছোট্ট সময়ের ভাব অসীমে চলে যায়। তাদের সারা অঙ্গ প্রেমে কাতর হয়ে থাকে। তারা তাদের মন দুজনকে বিলিয়ে দেয়।

আমাদের দেহে দুটি স্থানে প্রেম বা ভালোবাসা হয়ে থাকে। দুটোই একসাথে থাকতে পারে না। আমি তাদের শত্রু বলি না। তারা সহযোগী। কারন, একটি ছাড়া অপরটি অস্থায়ী।

তাই শিশির-দুর্বা শুধু প্রেম করতে জানে। তাদের প্রেমকে রক্ষাকারী বিনয়ী ভালোবাসা নেই। তাদের চোখে আর মনে প্রেম জায়গা করে নিয়েছে। তারা ভালোবাসার স্থান রাখতে পারেনি। ফলে কারোর পায়ে ঝাপ্টা তাদের প্রেমকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। তাদের জীবনপাতা থেকে সব প্রেম মুছে যায়। ফলে তারা কেউ থাকতে পারে না। একপর্যায় তাদের রিক্ত মনে হারিয়ে যায় বাস্তবতা থেকে। কল্পনাই এখন ভরসা। তাদের কি কোনো ভূল ছিল? তারা ভালোবাসাকে ভালোবাসেনি। যদি বাসত, তাহলে শিশির বিন্দু দূর্বার শিকড় সিক্ত করে তার মনে চলে যেত। আর মনে ভালোবাসা ছাড়া আর কিছু থাকতে পারে না।

তাই,
প্রেম চোখে থাকুক আর মনে থাকুক ভালোবাসা।

আবার ভালোবাসায় মনটাও ভারি অদ্ভুত হয়ে ওঠে। হঠাৎ ভালোবেসেই ভালোবাসতে চায় না। ঠিক তখনই সজীব মনে প্রেম পোকা কুড়তে থাকে আর চোখদুটো হয়ে ওঠে প্রেমময়। ভালোবেসেই প্রেম করতে ইচ্ছে হয়। সব স্বপ্ন নিয়ে মন ডানামেলা পরীর মত উড়তে থাকে। কিন্তু স্বপ্নগুলোও হয় আবার স্বপ্নকেই নিয়ে। কি জানি, হয়ত স্বপ্নগুলো একদিন সত্যি হবে!

খেলবে আলো
স্বপ্ন বল
সব পাতারই শেষে
শব্দ কেমন
সপ্ন দেখে
সত্যি হবে
ভোরের আলো
শিশির ভেজা বিনে।

আবার আমি
থমকে চলা
সাঝের বেলা
ঠান্ডা লাগে
সপ্নচূড়া গল্পজোটে
ঊষার বেলা
দরমরিয়ে
ঘাসে গায়ে বিছে।

সপ্ন আমার
একলা ডাকে
চুপটি বলে
দেখব তারে
ভাগ্য রেখা
সাঁতরে চলে
লাম্বা কথার ভিড়ে।

যাই হোক প্রেমিক এবং অপ্রেমিক দুটো আলাদা অর্থ হলেও উৎস একই। তা হল মানুষ। । এখনে মানুষ বলে চোখকে বুঝাই। কারন মানুষ চোখকেই সবথেকে বেশি বিশ্বাস করে। ফলে মানুষের স্বভাব চোখকে ঘিরেই তৈরী হয়। যার চোখ যত সিক্ত তার মন ততটাই পিয়াসী। তাই বাঙালির রসসিক্ত মন বার বার প্রেমে পড়ে। আর প্রেমের প্রধান বৈশিষ্ট হল যখন-তখন ঘটান যায়। প্রেমে পড়া সহজ কিন্তু সফলতা খুব কঠিন। প্রেমে সফল হওয়ার শুধুমাত্র একটি মন্ত্র,

নিজেকে বিলিয়ে দাও।

এই মন্ত্রে সিদ্ধ হয়ে মানুষ ভালোবাসতে শেখে।
আর ভালোবাসা শুধুমাত্র হয় মনে। না ভাবতে চাইলেও ভাবতে থাকার নাম ভালোবাসা। যত দূরেই থাকুক না কেন আবার ফিরে আসার নাম ভালোবাসা। ভালোবাসা হঠাৎ করেই বাসা যায় না। ভালোবাসা হয়ে যায়, ঘটে যায় না বোঝার আগে। তাই শুধু প্রেম বা ভালোবাসা হয় না। প্রেমের পরেই ভালোবাসা আসে। তারপর সারাজীবন একসাথে থাকা। ভালোবাসা। যা একটি পবিত্র সম্পর্ক গড়ে তোলে। কোনো পোষ্যকে চিনতে বা কাছে নিতে প্রেম করতে হয় না। তাকে শুধু একটু ভালোবাসতে হয়। একসময় হয়ত পোষ্য ও আপনার প্রেমে পড়তে পারে। খুজে পেতে পারে অভুতপূর্ব আনন্দ, সাথে অসীম ভালোবাসা।

এভাবেই ভালোবাসা হয়ে ওঠে সবচেয়ে মর্যাদাবান শব্দ। আর প্রেম এই মর্যাদার মৃত্যুঞ্জয়ী মুকুট।

sunset_love.jpgআবার প্রেম-পাগলা মনভাব আমাদের জীবনকে প্রিয় করে তোলে। অন্যদিকে প্রেমের পোকা ভালোবাসা অর্থকে আঁকড়ে ধরে ভালোলাগারকে প্রেমে করে বসে। ফলে ভালোবাসা তার সর্বস্বকে প্রেমের কাছে বিলিয়ে দিয়ে মনে স্থান করে নেয়। এটা ভালোবাসার ধর্ম। এতে ভালোবাসাই হয়ে ওঠে প্রেমের ফল। তাই ভালোবাসা প্রেম না করে থাকতে পারে না আর প্রেম ভালোবেসেই প্রেমময় হয়ে ওঠে।

অন্যদিক দিয়ে বলতে গেলে প্রেম অশালীন, ভালোবাসা শালীন। কিন্তু দুই প্রেমির কাছে প্রেমের শালীনতা কোনো একসময় ভালোবাসা থেকে উর্ধে উঠে যায়। তখন মন ভালোবাসায় আপ্লুত হয়ে তৃপ্তার শিখড়ে পৌছায়। আর ঠিক তখনই ভালোবাসার সত্যিকারের মর্মকে আপন করে নেওয়া যায়। পরক্ষণেই প্রেম হয়ে ওঠে স্বার্থপর। কারন, ভালোবাসা তৃপ্ততার সাগরে অতলে ডুবে প্রেমকে সার্থক করে তোলে। যা প্রেমকে নিঃস্ব করে দেয়। আর প্রেম একা থাকতে পারে না। ফলে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে সে নিজের কথা ভাবতে শুরু করে। এই ভাবনাই একসময় প্রেমকে জয়ী করে তোলে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যায় । প্রেমের এই বিলুপ্তির পথে ভালোবাসা আবার হাল ধরে। প্রেমকে আবার নতুন করে ভালোবাসতে শিখায়। ভালোবাসার এই মনভাব তার মর্যাদাকে অমর করে রাখে। এই ক্রিয়ার মাঝে ভালোবাসাই আবার ভালোবাসতে শেখে। তাই ভালোবাসা পিয়াসী ভালোবাসাকেই ভালোবাসতে শুরু করে। যা আবার তাদের প্রেম করতে বাধ্য করে। এইভাবেই চলে সারা জীবন। এই প্রেম-ভালোবাসা একসময় মিলিত হয়ে অধিকারবোধের জন্ম দেয়। তাই অধিকারবোধ, প্রেম-ভালোবাসার সূর্য সন্তান।

A/C কেনার আগে !

Now Reading
A/C কেনার আগে !

গ্রীষ্মকাল। আস্তে আস্তে বেশ গরম পরছে। এছাড়া সামনে রমজান মাস আসছে। অনেকেই একটা নতুন  A/C কেনার কথা ভাবছেন। চলুন এসি সম্পর্কে জেনে আসি,

আমরা এসি সাধারণত ধরনের দেখতে পাই,
১. ইনভার্টার এসি।
২. নন-ইনভার্টার এসি।

ইনভার্টার এসির কথা বলার আগে নন- ইনভার্টার এসির কথা বলি। কারন, নন- ইনভার্টার এসি আমরা আগে থেকে ব্যাবহার করছি যা পূরানো টেকনোলোজিতে তৈরি। এ ধরনের এসিতে রোট্রি কম্প্রেসার থাকে।
অপরদিকে ইনভার্টার এসি আজ থেকে প্রায় ৫ বছর আগে আসা শুরু হয়েছে। এই এসির দাম নন- ইনভার্টার এসির তুলনায় অনেক বেশি। এটি dc কারেন্টে চলে। বর্তমানে ইনভার্টার এসির দাম অনেকাংশে কম হয়ে গিয়েছে। তবু নন- ইনভার্টার এসির তুলনায় এখনো  প্রায় ২০% দাম বেশি।

এখন আমরা এই দুই ধরনের এসি সম্পর্কে একটু গভীর  ভাবে জানব। বলব এগুলো কিভাবে চলে।

১. নন- ইনভার্টার এসি:- এ ধরনের এসি অনেক বেশি কারেন্ট ব্যাবহার করে। ফলে অনেক সময় দেখা যায় এসি অন করলে রুমের লাইটের আলো একটু কমে যায়। এর কারন এই ধরনের এসিতে যে কম্প্রেসার থাকে তা শুরুতেই একদম ফুল স্পিডে চলা শুরু করে। ফলে অনেক বিদ্যুৎ ব্যাবহার করে। এতে ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যে বেশ ঠান্ডা বাতাসের মাধ্যমে রুম ঠান্ডা করে ফেলে। মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায় যাকে আমরা বলি থার্মস্টাট। ধরুন আমি এসির তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রিতে দিয়ে রেখেছি। এসি চলতে চলতে ৫-৭ মিনিট পর বন্ধ হয়ে যায় আবার ৫-৭ মিনিট পর চলতে শুরু করে। এভাবে নন- ইনভার্টার এসি বা নরমাল এসি চলে। অর্থাৎ নন- ইনভার্টার এসি, হয় ফুল স্পিডে চলবে না হয় একদম বন্ধ হয়ে যাবে। এরা কম্প্রেসারের পাওয়ার কন্ট্রোল করতে পারে না।
২. ইনভার্টার এসি:- এ ধরনের এসি সবসময় কারেন্টে চলে এবং এরা কম্প্রেসারের স্পিড বা পাওয়ার কম-বেশি করে অর্থাৎ পরিবর্তন করতে পারে। ধরি আমি মাত্র এসি অন করলাম। আমার রুম গরম তাই এসি ধীরে ধীরে ১০০% স্পিডে কাজ করবে। তখন আমি তাপমাত্রা  ২৫ ডিগ্রিতে সেট করলে ১০ -১৫ মিনিট পর তাপমাত্রা ২৫ এর আশেপাশে আসলে এসি তার কম্প্রেসারের পাওয়ার আস্তে আস্তে ৩০% থেকে ৪০% কমিয়ে দিবে। অর্থাৎ এসি একদম বন্ধ না হয়ে আমি যে তাপমাত্রায় সেট করিছি তা ধরে রাখবে। নন-ইনভার্টার এসির মত কম্প্রেসার বারবার অন-অফ হবে না।

ইনভার্টার এসি এবং নন- ইনভার্টার এসি মধ্যে ব্যাবহারিক পার্থক্য?

* চলার পদ্ধতিটাই ইনভার্টার আর নন- ইনভার্টার এসির প্রধান পার্থক্য। এছাড়া ইনভার্টার এসি শব্দ কম করে থাকে আর এতে ইলেক্ট্রিক বিল অনেক কম আসে। কারন যখন আমি তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রিতে সেট করি তখন ২৫ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা আসার পর অনেক কম পাওয়ার নিয়ে চলে ফলে বিদ্যুৎ খরচ নরমাল এসি থেকে অনেক কম হয়। ইনভার্টার এসি লাগানোর ফলে বিদ্যুৎ খরচ নরমাল এসি থেকে প্রায় ২০%-৩৫% কম হয়।

* ইনভার্টার এসি সব ক্ষেত্রে ভালো না। আপনি যদি খুব তাড়াতাড়ি রুম ঠান্ডা করতে চান তাহলে ইনভার্টার আপনার জন্য নয়। কারন ইনভার্টার এসি ধীরে ধীরে রুম ঠান্ডা করে। অপরদিকে নন- ইনভার্টার এসি চালানোর ২-৫ মিনিটের মধ্যে রুম ঠান্ডা করতে পারে ইনভার্টার এসির ক্ষেত্রে যা প্রায় ১০-১২ মিনিট লাগে।

* আপনি যদি খুব কম চালান অর্থাৎ আপনি রুমে কম থাকেন তাহলে আপনার জন্য নন-ইনভার্টার এসি প্রয়োজন। কারন এটি খুব তাড়াতাড়ি পরিবেশকে ঠান্ডা করে যা ইনভার্টার এসি করে সময় লাগায়। কিন্তু আপনি যদি প্রায় সময়ই এসি চালান তাহলে ইনভার্টার এসি বেশি ভালো হবে। কারন, এটি খুব পাওয়ার কম ব্যাবহার করে।

* নরমাল এসিতে বেশ তাপমাত্রার পার্থক্য দেখা যায়। আমি যদি তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রতে রাখি তাহলে এসি প্রথমে ২৩ ডিগ্রিতে তাপমাত্রা নিবে এবং কম্প্রেসার বন্ধ হয়ে যায় তারপর তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি হলে কম্প্রেসার অন হয়। ফলে মাঝে মাঝে বেশি গরম বা বেশি ঠান্ডা লাগে।

এসি কিনতে গেলে আরেকটি সবথেকে বড় বিষয় হল টন। আমরা এসি কেনার সময় ভাবি আমার জন্য কয় টনের এসি ভালো হবে। আসুন টন সম্পর্কেও আরেকটু গভীর থেকে জানি,

টন কি? কেন এসিতে পরিমাপ একক হিসেবে টন ব্যাবহার করা হয়?

ধরুন আমি এক টনের এসি আমার রুমে লাগিয়েছি। এই এক টন আমাকে ওইরকম ঠান্ডা দিবে যে রকম একটা এক টন ওজনের বরফ যদি আমার রুমে রাখার ফলে রুম যত খানিক ঠান্ডা হবে বা এক টন বরফ গলাতে যে টুকু তাপ লাগবে তা শোষন করে নিবে।

1 ton A/C = 12000 BTU/Hour

অর্থাৎ এক টনের এসি প্রতি ঘন্টায় রুম থেকে 12000 BTU তাপ শোষন করতে পারে। এখনে  BTU মানে ১ পাউন্ড পানিকে ১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে গরম করতে প্রয়োজনীয় তাপ।
এখন মুখস্থ বলি
1 ton = 12000 BTU/h
1.5 ton = 18000 BTU/h
2 ton = 24000 BTU/h
এভাবেই বাড়তে থাকবে।

এসি কেনার আগে কি কি বিষয় মাথায় রাখতে হবে?

* বেশি ব্যাবহার করলে ইনভার্টার এসি ভালো হবে। কম ব্যাবহার এবং তাৎক্ষনিক ঠান্ডা করতে নন- ইনভার্টার এসি ভালো হবে।
* কম শব্দের জন্য ইনভার্টার এসি ভালো হবে। নন- ইনভার্টার শব্দ বেশি করে থাকে।
* নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার জন্য ইনভার্টার এসি ভালো হবে।
* বিদ্যুৎ কম খরচের জন্য ইনভার্টার এসি ভালো।
* যে এসির ডেসিবল কম তার শব্দ কম।
* বেশিরভাগ নরমাল এসি অন করার সাথে সাথে লাইটের আলো কমে যায়। যা ইনভার্টার এসির ক্ষেত্রে হয় না।

>এছাড়া আপনার জন্য কত টনের এসি ভালো হবে তা নির্ভর করে আপনার রুমের অবস্থার উপর। এক্ষেত্রে আমি একজন এক্সপার্টের পরামর্শ নিতে পারেন।

Wi-Fi কে হটিয়ে যখন Li-Fi

Now Reading
Wi-Fi কে হটিয়ে যখন Li-Fi

আমরা সবাই Wi-Fi সম্পর্কে জানি। হয়ত বা Wi-Fi এর মাধ্যমে এই আর্টিকেল পড়ছি অর্থাৎ যে ইন্টারনেট ব্যাবহার করছি তা Wi-Fi এর সাথে সংযুক্ত । কিন্তু এখন একটি নতুন প্রযুক্তি চলে এসেছে যার নাম Li-Fi বা Light Fidelity. এই ধরনের নাম থেকে এইটুকু বোঝা যায় যে এর সাথে আলোর (Light) সম্পর্ক আছে। এই প্রযুক্তির প্রতিষ্টাতা Professor Harald Hass ২০১১ সালে প্রথম Li-Fi এর ধারনা প্রদান করেন।

আমরা জানি Wi-Fi তে ডেটা অর্থাৎ ইন্টারনেট রেডিও ওয়েভের আকৃতিতে চলাচল করে । আর Li-Fi তে যে ডেটা যাবে তা আলোর মাধ্যমে চলাচল করবে। ধরি আমি কোনো ফাইল কোথাও পাঠাব তাহলে তখন আমার ডিভাইস থেকে আলোক রশ্মি বের হবে এবং তা নিদৃষ্ট ডিভাইসে (balb) মাধ্যমে যেখানে পাঠাব সেখানে চলে যাবে। অর্থাৎ সম্পূর্ণ কাজ বা যোগাযোগই হবে আলোর মাধ্যমে। Wi-Fi তে ফাইল পাঠানোর সময় আমার মডেম বা রাউটার রেডিও ওয়েব ছাড়ে। তখন আমি আমার মোবাইল বা কম্পিউটারে সেই সিগনাল ধরি এবং ইন্টারনেট ব্যাবহার করি। এখন Li-Fi তে ডিভাইস হিসেবে স্মার্ট LED লাইট এর ব্যাবহাব দেখতে পাব। লাইট ইন্টারনেটকে আলো রশ্মি রূপে ছাড়বে। তখন সেই আলোক রশ্মি আমাদের ডিভাইসে এসে পরবে আর আমরা ইন্টারনেট ব্যাবহার করে পারব। এখানে ডেটা বা ইন্টারনেট আলোতে ঘুরাঘুরি করবে। এই টেকনোলোজি VLC বা visible light communication কনসেপ্টে তৈরি। এখন প্রশ্ন আসে,

VLC কি?

উত্তর:- আমি কোন LED balb এ নিদৃষ্ট ইনপুট পাওয়ার দিলে আউটপুট ও নিদৃষ্ট থাকবে। এখন যদি ইনপুটে কিছু পরিবর্তন করলে আউটপুটেও পরিবর্তন হবে। আমি যত তাড়াতাড়ি ইনপুট পরিবর্তন করব ঠিক তত তাড়াতাড়িই আউটপুট পরিবর্তন হবে। এর মাধ্যমে আমি যোগাযোগ করতে পারব কারন এখানে সব জায়গায় একই রকম অর্থাৎ সুস্থিতি পাওয়ার দেখতে পাই। অর্থাৎ ডেটা সুস্থিত ভাবে চলাচল করবে।

এছাড়া ধরা যাক আমি আমার টিভি দেখার সময় রিমোটের সাহায্যে চ্যানেল পরিবর্তন করি। আমি রিমোটের কোনো বাটনে চাপ দিলে সেই কমান্ড IR balb এর মাধ্যমে টিভির রিসিভারে পৌছায় তখন চ্যানেল পরিবর্তন হয়ে যায়। লাই-ফাই তে ঠিক একই রকম টেকনোলোজি ব্যাবহার করা হবে এখানে শুধু সিগনাল  অনেক গুলো যাবে।

এখনে লাইটের তারের সাথে ইন্টারনেটের লাইন  সংযুক্ত থাকবে। ফলে ইন্টারনেট তারের দ্বারা লাইটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরবে আর যে লাইটের নিচে থাকবে তার হতে থাকা ডিভাইসটিতে ইন্টারনেট যুক্ত হয়ে যাবে।  অর্থাৎ লাইটের আলো যত দূর যাবে ইন্টারনেট ও তত দূর থাকবে। এখানে লাইটের সাথে অবশ্যই পাওয়ার ড্রাইভার সংযুক্ত থাকতে হবে। এখন আবার আরেক টা প্রশ্ন,

এক লাইটের আলো থেকে অন্য আলোতে গিলে ইন্টারনেট কানেকশন কি নষ্ট হয়ে যাবে?

উত্তর:- অবশ্যই না। কারন প্রতিটি লাইট যা একই IP Address হলে তারা পরস্পরের সাথে একটি ব্যান্ড তৈরি করবে যার ফলে আপনি এর রুমের লাইট থেকে অন্য রুমের লাইটের নিচে গিলে ইন্টারনেট কানেকশন নষ্ট হবে না।

এখন Li-Fi এর কিছু উপকারীতা সম্পর্কে কথা বলব,

১.ডেটা সিকিউর থাকবে। কারন Wi-Fi এর মত ডেটা দেওয়াল পার করতে পারে না। এটা এক ক্ষেত্রে অসুবিধাজনক।
২.স্পিড Wi-Fi এর তুলনায় অনেক বেশি যা প্রায় ১০০ GB/s. এছাড়া এর ব্যান্ডউইথড ও প্রায় ১০০০০ গুন বেশি। এতে আমরা একসাথে অনেক গুলো সিগনাল অপারেট করতে পারব।
৩.সিগনাল নষ্ট হয় না। Wi-Fi এ সিগনাল চারদিকে ছড়িয়ে পরে ফলে বেশির ভাগ সিগনাল নষ্ট হয়। অপরদিকে Li-Fi একটি লাইট। এটাকে যেইদিক মন চায় আমি সেইদিকে তা নিতে পারি ফলে সিগনাল ওয়েস্ট হয় না।
৪.এতে কোন তেজস্ক্রিয় সিগনাল থাকে না। Wi-Fi রেডিও ওয়েভ সিগনাল ছড়ায় তা আমাদের স্বাস্থ্যে ক্ষতি করে যা লাই-ফাই করে না কারন আলো তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয়।

এছাড়া লাই-ফাই সম্পর্কে কিছু ভূল ধারনা যা আমারা করি বা শুনে থাকি,

১.লাই ফাই, ওয়াই ফাই থেকে ১০০ গুন বেশি। যা ভূল ধারনা। লেটেস্ট ওয়াই ফাই ভার্সনে ৭ জিবি /স পর্যন্ত স্পিড আর লাই ফাই ১০০ জিবি/স স্পিড পাওয়া যায়।

২.মুভি ১ সে ডাউনলোড হবে। যা ভূল ধারনা। কারন যদিও আপনার ইন্টারনেট অনেক বেশি স্পিডি হয় তবু এমন কোন সারবার নাই যেখানে ১ সেকেন্ডে মুভি নামানো সম্ভব।

কীভাবে এর ব্যবহার হতে পারে?

১.স্ট্রট লাইটে ব্যাবহার করা যায়। ফলে অনেক অনেক মানুষ আলোর সাথে ইন্টারনেটের সুযোগ পাবে।
২.ল্যাপটপ বা কম্পিউটার বা মোবাইল নিজেদের সাথে যুক্ত হতে পারে।
৩.বিভিন্ন নিউক্লিয়ার গবেষণাকেন্দ্রে ব্যাবহার করতে পারি যেখানে ওয়াই ফাই ব্যবহার করা যায় না। এখানে Li-Fi ব্যাবহার করতে পারব কারন আলো কোনো রেডিয়েশন না।
৪.প্লেনে ব্যবহার করতে পারি।
৫.পানির নিচে (ডুবুরী দের জন্য) ব্যাবহার কতে পারি যা Wi Fi এর মাধ্যমে সম্ভব না।
৬. MRI স্ক্যানে ব্যাবহার করা যায় কারন সেখানে ওয়াই ফাই ব্যবহার করা যায় না তেজস্ক্রিয়তার কারনে।
ইত্যাদি।

নতুন প্রযুক্তি Augmented Reality (AR)

Now Reading
নতুন প্রযুক্তি Augmented Reality (AR)

Virtual Reality ( VR) এর পরের ধাপ হল Augmented Reality যাকে সংক্ষেপে AR বলা হয়। ১৯৯০ সালে শুরুর দিকে এর যাত্রা শুরু হয়। এটি VR এর থেকে বেশি উন্নত ও এর দামও বেশি এবং অনেক অনেক বেশি মজাদার। VR এ আমরা সম্পূর্ণ কাল্পনিক জগতে থাকি এবং AR এর মাধ্যমে আমরা

এই বাস্তব জগতে কাল্পনিক বস্তুকে আনতে পারি। আরো সহজে বলা যায়,বাস্তব জগতে থেকে নতুন কিছু তৈরি করার নাম AR অথবা কল্পনা এবং বাস্তবতা একত্রে মিলে যা সৃষ্টি হয় তাকেই Augmented Reality বলে। বর্তমানে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ‘নাসা’ তাদের বিভিন্ন কাজে এর ব্যাবহাব করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন এডভান্স যুদ্ধ বিমানে এর ব্যাবহার রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানি এই প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা করছে। এছাড়া আইফোন ৮ এ এই প্রযুক্তি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।*এখন উদাহরণে আসি, ধরুন আমি একটা টেবিল কিনব। কিন্তু আমি জানিনা আমার রুমে কোন ডিজাইন  ভালো লাগবে।

AR এর সাহায্যে আমি আমার ফোনের ক্যামেরায় বা নির্দিষ্ট চশমায় ঠিক একই মাপের একটি টেবিল দেখাবে। এতে আমি আমার রুমে কাল্পনিক ভাবে টেবিল বসিয়ে দেখতে পারি কোন ডিজাইন ভালো লাগবে।আবার আমি যদি কোন গেমস খেলি Augmented Reality এর মাধ্যমে আমি আমার প্রতিপক্ষের ফাইট করতে পারব। কিন্তু এই ফাইট হবে এই বাস্তব জগতে। হতে পারে আমার সামনের দেওয়াল ভাঙে এক যোদ্ধা আসল এবং যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। VR এর মত চোখ আটকে না অর্থাৎ বাস্তবতা দেখার সাথে নতুন কিছু উপভোগ করা। এখানে আমরা সব দেখতে পাই এবং আমাদের দেখার মধ্যেই চারপাশ থেকে ভার্চুয়াল ভাবে সব তৈরি হবে।এছাড়া আমরা সবাই pokemon go গেমস খেলেছি। এখানেও AR এর  ব্যাবহার হয়েছে। আমরা যখন পোকিমন ধরার জন্য ক্যামেরা অন করি তখন আমরা যেখানেই থাকি সেখানে পিকাচু চলে আসে। তখন আমরা ক্যামেরার ডিসপ্লে থেকে পোকিবল নিক্ষেপ করে পিকাচু কে ধরতে পারি।AR technology এর সাহায্যে কিছু মজার কাজ করা যায়। গুগোল,  লেনেভো ফোনের camera তে কিছু মজার ফিচার আ্যাড করেছে। যেমন ক্যামেরা অন করলাম এবং একটা গাছের চারা লাগালাম। এরপর পানি দিলাম। সূর্যের আলোতে চারা বড় হয়ে গাছে পরিনিত হল। অথাবা ডায়নাসর আমার সামনে এসে হাটছে অথবা বসে আছে ইত্যাদি।>কোন ডিভাইসের মাধ্যমে আমরা AR ব্যাবহার করতে পারব?
→google glass:-  গুগল চশমা হল চশমার মত চোখে পরে থাকার উপযোগী খুব  হাল্কা কম্পিউটার যা গুগল কোম্পানির একটি নতুন গবেষণা উদ্ভাবন। এটাতে AR এর প্রাথমিক সব ফিচার দেওয়া হয়েছে।

Microsoft hololens:- ‘Project Baraboo’ এর আওতায় এই প্রযুক্তি গবেষণা করা হয়। এটি সব থেকে বেশি জনপ্রিয় হয় উইন্ডোজ মিক্সড রিয়েলিটির মাধ্যমে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমে ব্যাবহারের ফলে। এর মধ্যে অনেক বেশি এবং উন্নত সব ফিচার দেওয়া আছে যা গুগল গ্লাস এ নাই। এটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয় অর্থাৎ শুধু মাত্র ডেভেলপার বা ইঞ্জিনিয়ার অথবা টেক রিভিউয়ার যারা আগে অর্ডার দিয়েছে তারাই পাবে। এর মুল্য প্রায় ৩০০০$ যা অনেক বেশি।

sony smart eye glass:-  AR technology তে সনির বিশেষ ভুমিকা রয়েছে। মাইক্রোসফট হলোলেন্সের মত এটাও AR এর কিছু এডভান্স ফিচার রয়েছে।এছাড়া বিভিন্ন প্রিমিয়াম স্মার্ট ফোনেও AR থাকে। যেমন সনির কিছু প্রিমিয়াম ফোনে ক্যামেরার সাথে AR অপশন থাকে যার মাধ্যমে ক্যামেরায় AR এর বিভিন্ন ইফেক্ট দেখতে পাওয়া যায়।*আমারা AR technology তে আর কী কী  যুক্ত করতে পারি? অর্থাৎ ভবিষ্যতে আর কি কি নতুন আসতে পারে বলে আমি মনে করি ?

→ AR technology এর অগ্রগতি দেখার মত। প্রথমে শুধুমাত্র গেমস থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে সকল স্তরে এর ভূমিকা দিন দিন বেড়েই চলছে। এখন আমরা একটু ভাবনার জগতে যাই।> কোনো জায়গা খুঁজতে এর ব্যাবহার হতে পারে। অর্থাৎ ক্যমোরা অন করার সাথে সাথে আমরা দেখতে পারব ভালো কাপড়ের দোকান কোথায় বা ভালো রেস্টুরেন্ট কোনটা।>বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন গবেষণাতে অনেক সাহায্য করতে পারে। অর্থাৎ কোন কিছু নিয়ে ভাবার সাথে সাথে  তা স্ক্রিনে দেখাতে পারবে। ফলে সেই গবেষণার ফল কেমন হবে তা সহজে জানা যাবে।>পুলিশ অন্যরুপধারি ক্রিমিনালকে AR এর মাধ্যমে আসল রুপে আনতে পারবে।> চশমাতে AR ব্যাবহার হলে আমরা আমাদের দৈনিক সকল কাজের কথা রিমাইন্ডারের মাধ্যমে মনে রাখতে পারব.

সব মানুষের নাম তাদের মাথার উপর লেখা দেখাবে ফলে নাম ভুললে খুব সহজে মনে।>দুরের জিনিস যতটুকু দেখতে ইচ্ছে করবে বড় করে দেখতে পারব। অর্থাৎ সংক্রিয় ভাবে বড় বা ছোট হবে।> একা একা থাকলে যার সাথে ইচ্ছা তার সাথে পাশাপাশি কথা বলতে পারব। বলতে পারেন ভিডিও কলের মাধ্যমেই।>আমরা অবহাওয়ার অবস্থা জানতে পারি।>যেকোনো অজানা কিছুকে ক্যামেরা বা বিশেষ চশমার সাহায্যে জানতে পারি।>চিকিৎসা ক্ষেত্রে এটির ব্যাবহার হতে পারে।>এর সবথেকে বড় কাজ হতে পারে কাজ বিল্ডিং বানাতে। বিল্ডিং বানানোর সময় ওয়ার্কারদের মথায় AR ডিভাইস থাকে যার ফলে তারা সহজে বুঝতে পারে কোথায় কতটুকু রড বা সিমেন্ট লাগবে। ইত্যাদি।

হ্যাকারদের প্রধান অস্ত্র! (Kali Linux)

Now Reading
হ্যাকারদের প্রধান অস্ত্র! (Kali Linux)

  1. যারা কম্পিউটারে ব্যাবহার করে থেকে তারা হয়ত বা Kali Linux সম্পর্কে শুনে থাকবেন। বেশিরভাগ মানুষ যারা এ সম্পর্কে শুনেছেন তারা ভাবে এটি একটি হ্যাকিং টুল যা ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা কারো ইনফরমেশন হ্যাক করতে ব্যাবহার করে। আসলে এটি কোনো খারাপ টুল না বরং এটি উইন্ডোজ xp বা 7 বা 8 অথবা 10 এর মত এক প্রকার অপারেটিং সিস্টেম যা কম্পিউটারে ব্যাবহার হয়ে থাকে। মাটি আহার্নি,ডেভান কেয়ার্ন্স এবং রাফায়েল হার্টজগ ছিলেন এর প্রধান ডেভেলপার। এটি পরিচালনা ও অর্থদান করে “অফেন্সিভ সিকিউরিটি লিমিটেড।” এটি কম্পিউটারের পাশাপাশি এন্ড্রয়েডে ব্যাবহার করা যায়। লিনাক্স নেটহান্টার সাহায্যে কালি লিনাক্স কিছু এনড্রয়েড ডিভাইসেও চালানো যায়। কালি ব্যাবহারকারীদের কমিউনিটি ও অফেন্সিভ সিকিউরিটি সিস্টেমের যৌথ উদ্যোগে নেটহান্টার তৈরি হয়েছে।

কালি লিনাক্স শুধুমাত্র হ্যাকারদের জন্যই তৈরি কারন এখানে কিছু বিশেষ টুল’স রয়েছে যার সাহায্যে তারা কোডিং অর্থাৎ কমানন্ডের সাহায্যে কোনো ওয়েবসাইটের দূর্বল দিকগুলো বের করতে পারে যেখান থেকে তাদের (ওয়েবসাইটকে) হ্যাক করা যেতে পারে । এর একটি ভালো ব্যাবহার আছে আর এক খারাপ ব্যাবহার আছে। ভালো ব্যাবহার হল আপনি আপনার ওয়েবসাইটে বা অন্যের ওয়েবসাইটের দূর্বল দিকগুলো ধরে তাদেরকে  বলতে পারেন যে এখান থেকে তারা হ্যাক হতে পারে। আর খারাপ ব্যাবহার আপনি অন্যের ওয়েবসাইট হ্যাক করতে পারেন এবং তাদের ইনফরমেশন লিক করতে পারেন ইত্যাদি।
নরমাল উইন্ডোজে কিছু সিম্পল টুল’স থাকে যেমন  পেইন্ট, ক্যাললকুলেটর বা ওয়ার্ডপ্যাড ইত্যাদি। এই সকল টুল’স থাকার কারন আমরা উইন্ডোজ ঘরে বা অফিসে সাধারন কাজে ব্যাবহার করি। কিন্তু kail linux এ কি কি থাকে? কিসের মাধ্যমে হ্যাক করা যায়? এখানে অবশ্যই কিছু বিশেষ সফটওয়্যার থাকে। এখানে তো আর নোটপ্যাড থাকবে না কারন হ্যকাদের নোটপ্যাড লাগে না, তারা কমান্ডিং এর মাধ্যমে তাদের কাজ করে থাকে। এখানে বিভিন্ন হ্যাকিং টুল, ব্রুইফোর্স আ্যাটাক করা যায় অথবা কারোর পাসওয়ার্ড  দিয়ে কিছু করা ইত্যাদি টুল ‘স থাকে। এ সম্পর্কে কেউ বেশি কিছু বলে না কারন এর ফলে বিভিন্ন ক্রাইম হতে পারে।

কোন হ্যাকার যেন বেশি কষ্ট না করতে হয় তার জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় টুল’স এখানে বিল্ড ইন থাকে। kali Linux ইন্সটল করার পর এডভান্স হ্যাকিং শুরু করা যায়। অবশ্য উইন্ডোজেও হ্যাকিং করা যায় কিন্তু সেখানে বেশ কষ্ট হয়ে পরবে। উইন্ডোজে হ্যাকিং করতে হলে নিজে থেকে সফটওয়্যার বানিয়ে হ্যাক করতে হয়। অপরদিকে Kali Linux এ এসকল আপ্লিকেশন আগে থেকে থাকে যা ইথিকাল হ্যাকার কমিউনিটি বা লিনাক্স থেকে তৈরি। আরো যারা এডভান্সড তারা তাদের কাজের জন্য আরো কিছু সফটওয়্যার ব্যাববহার করে থাকে।
Kali Linux অপারেটিং সিস্টেম আপনি ফ্রি ডাউনলোড করতে পারবেন। অবশ্যই লাপটপ বা কম্পিউটার  ব্যবহার করা হয়।

আমরা শুনি থাকি kali Linux এটা,সেটা আরো কত কি। মূলত এটি একটি অপারেটিং সিস্টেম যা শুধু মাত্র হ্যাকারা ব্যবহার করে থাকে।

>এখন আসি Kali Linux এ কী কী সফটওয়্যার দেখতে পাই এবং এর কাজগুলো কী?

>আর এডভান্স হ্যাকিং এর ক্ষেত্রে এরা কেমন ভূমিকা রাখে?

*আমরা আপ্লিকেশনসে (মেনু) ক্লিক করলে দেখতে পারব। আমরা যে সকল আপ্লিকেশন দেখতে পারব তা কোনো গ্রাফিকাল আ্যাপ না। কালি লিনাক্সের প্রায় সকল আ্যাপ-ই কমান্ড ফ্রম সিস্টেমেই দেখা যায়। এখানে বেশি ছবি দেখতে পারব না। সব কিছু কমান্ড ল্যাংগুয়েজে দেখতে পারব।

১.information gathering- এই ক্যাটাগরির কিছু আ্যাপ আছে। এর সাহায্যে যেকোনো ওয়েবসাইট বা সারবারের ইনফরমেশন জানতে পারব।

2.Vulnerabilities analysis- এই ক্যাটাগরির ৮ টি আ্যাপ আছে। এর সাহায্যে যেকোনো ওয়েবসাইট বা সারবারের দূর্বল দিক বের করা যায়।

৩.web application analysis- এই ক্যাটাগরির ৯ টি আ্যাপ আছে। এর সাহায্যে যেকোনো web application এর সিকিউরিটির বিশ্লেষণ করা যায়। যেমন ওয়ার্ডপ্রেস বা জুমলা ইত্যাদি।

৪.detabase assessment- এই ক্যাটাগরির ১০ টি আ্যাপ আছে। এর সাহায্যে যেকোনো ওয়েবসাইট বা সারবারের ডেটা বেস রিলেটেড কাজ করে থাকে। স্ক্যান বা ইনফরমেশন নেওয়া যায়

৫.password attack – নাম দেখে সবাই হয়ত বুঝেই গিয়েছেন এটার কি কাজ। এটা অবশ্যই illegal আ্যাপ। আমি শুধু মাত্র আপনাদের শেখার জন্য জানাচ্ছি। এই আ্যাপের সাহায্যে অন্যের পাসওয়ার্ডের উপর আ্যাটাক করা যায়।

৬.wireless attack -একি ওয়াই ফাই এ সংযুক্ত থাকলে আ্যাটাক।

৭.reverse engineering – এক অপারেশন করার মধ্য অন্য দিক কি রি-আ্যাকশন হয় তা দেখা। এটি এডভান্স ফিচার।

৮.sniffing &spoofing – বিভিন্নভাবে ধোকা দেওয়ার সিস্টেম।

৯.forensic – এটার মাধ্যমে কারো কম্পিউটারের উপর নজর রাখা যায়। এটা শুধুমাত্র হাই লেভেলের হ্যাকাররাই পারে।
*এছাড়া আরো কিছু টুল’স থাকে।

বি:দ্র: আমি শুধু মাত্র শেখার জন্য লেখেছি। কেউ দয়াকরে অসৎ কজে জন্য উৎসাহী হবেন না। যদি শিখতে চান ন্যশনাল সিকিউরিটির জন্য শিখতে পারে। আর সবথেকে বড় কথা ইথাইকাল হ্যাকিং সবক্ষেত্রে সম্মানের।

পাসওয়ার্ড, আমরা যেভাবে ব্যাবহার করি

Now Reading
পাসওয়ার্ড, আমরা যেভাবে ব্যাবহার করি

আমরা প্রতিনিয়ত একই কাজ করি তা হল আমাদের পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া। তারপর খুজে বেড়াই কিভাবে পাসওয়ার্ড ঠিক করা বা নতুন করে দেওয়া যায়। এ থেকে বোঝা যায় যে আমরা পাসওয়ার্ড নিয়ে বেশি ভাবিনা। এর গুরুত্বও আমাদের কাছে ততটা বেশি না।
আবার আমরা মাঝে মাঝে ফেসবুকে ফ্রেন্ডদের পোস্ট দেখি অথবা আমরাই মাঝে মাঝে দেই, “আমার একাউন্ট হ্যাক হয়ে গিয়েছে” । তখন আমাদের মাঝে কাঁদাই শুধু অপেক্ষা রাখে। যাই হক এখন দুটি প্রশ্ন করি
পাসওয়ার্ড কি?
কেন আমারা এটা ব্যাবহার করি?

সবার আগে ২য় প্রশ্নের উত্তরটা দিনে ভালো হয়। এর মাধ্যনেই আমারা ১ম প্রশ্নেরও উত্তর পাব।

বাস্তব জীবনের সাথে আরেকটি জীবনে আমরা বাস করি। সেটা হল ইন্টারনেটের দুনিয়াতে বা আমাদের আরেকটি পরিচয় । আমাদের বাস্তব জীবনে যেমন সবকিছু সেয়ার করি না। কিছু কিছু কথা আমাদের মধ্যে থাকে যা আমরা নিজস্ব বিষয় বলে থাকি। এছাড়া আমাদের বাইকের বা গাড়ির চাবি অথবা আমাদের ফোন আমরা সবসময় দেখে দেখে রাখি যাতে তা হারিয়ে না যায়। আমাদের মানিব্যাগের টাকা বা আমাদের বিভিন্ন আইডি আমরা সবসময় সাবধানে রাখি যাতে তা না হারায়। কিন্তু আমরা সবসময় ভুলে যাই আমার আরেটা পরিচয় অনলাইনে আছে আর ওইখানে আমাদের যে পাসওয়ার্ড আছে ওটাই আমাদের চাবি বা টাকা বা বলতে পারেন সবকিছু। আর এটাই যদি হারায় যায় তাহলে তো সব শেষ। আমি শুধু facebook বা gmail অথবা অন্য কোনো সোস্যাল একাউন্টের কথাই বলছি আপনার ব্যাংক একাউন্ট ও হতে পারে। আর এইক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড অবশ্যই মনে রাখতে হবে।
আমরা ব্যাবহার করি 123 ….. বা 256…… বা zzzzzzzz বা abc123 এইরকম সহজ পাসওয়ার্ড।
আর ভাবি “হ্যা, আমার সব কিছু নিরাপদ।” কিন্তু আসলেই কি তা? আমরা যেমন আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিস আমাদের কাছে রাখি এবং নিশ্চিত থাকি আমার জিনিসটি নিরাপদ। কিন্তু পাসওয়ার্ড তো আমাদের কাছে থাকে না। কোনো একটা সারবারে জমা থাকে। যা আমাদের হতের কাছে না। তাহলে কিভাবে আমরা এতো আরামে থাকি?
সবার প্রথমে আমি কথা বলব,

কিভাবে একাউন্ট হ্যাক হয়?
এরপর, আপনি কিভাবে আপনার পাসওয়ার্ড শক্তিশালী বানাতে পারবেন?

এভাবে কখন সম্ভব না যে একজন হ্যাকার বসল এবং আপনার একাউন্ট টার্গেট করে হ্যাক করে ফেলল। এখানে বিভিন্ন ধরনের আ্যাটাক হতে পারে। যেমন ফিসিং আ্যাটাক, আপনার কম্পিউটারে ম্যালভেয়ার আসলে সেখান থেকে যদি কোনো কিল অরগান ইন্সটল হয় তখন আপনি যা যা করবেন তা হ্যাকাররা দেখতে পারবে আর সেখান থেকে সহজেই পাসওয়ার্ড নিতে পারবে। অনেক সময় কল করে ভুলভাল বুঝিয়ে পাসওয়ার্ড বেড় করতে পারে। বুঝলাম আপনি ওখান থেকে বেচে গেলে কিন্তু আপনার পাসওয়ার্ড যদি খুব সহজ হয় তাহলে হ্যাকাররা নিদৃষ্ট সফটওয়ারের সাহায্য নিয়ে খুব সহজে বেড় করতে পারবে।

আমরা অনেক ওয়েবসাইট ও সোশাল একাউন্ট ব্যাবহার করে এবং সহজের জন্য একই পাসওয়ার্ড দিয়ে সব একাউন্ট অন করে থাকি। এখন যদি একটা একাউন্ট হ্যাক হয় তাহলে সব একাউন্ট সহজেই হ্যাক হতে পারে কারন পাসওয়ার্ড একই ব্যাবহার করা হয়েছে।

এবার আসি কিভাবে একটা শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি করব।
>এর জন্য কখনই সহজ ১২৩ যুক্ত পাসওয়ার্ড ব্যাবহার করা যাবে না।
>abc বা zzzz অথবা কোনো কিবোর্ড নরমাল কম্বিনেশন দিয়ে পাসওয়ার্ড দেওয়া যাবে না।
>মোবাইল নাম্বার বা কারো নাম ব্যাবহার করা যাবে না।কারন সবাই প্রথমে এটাই চেষ্টা করবে।
>যত বড় সম্ভব তত বড় পাসওয়ার্ড দিতে হবে।
>অক্ষর বড় বা ছোট সব মিশিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে।
>বিভিন্ন একাউন্ট এর জন্য আলাদা আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে।
>পাসওয়ার্ড মেনেজার ব্যাবহারের করা জেতে পারে। অবশ্যই ৫ স্টার যুক্ত আপ্লিকেশন ব্যাবহার করতে হবে।
>বিভিন্ন ওয়েবসাইটে লগ ইন করার সময় 2 ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যাবহার করা যেতে পারে ফলে সহজে হ্যাক করা যাবে না।

*তো মোট কথা আমার ঘরের চাবি যেমন আমি খুব নিরাপদে রাখি তেমনি আমার অনলাইন ঘরের চাবিও নিরাপদে রাখতে হবে। কে জানে কখন কথায় কিভাবে হ্যাকের শিকার হয়ে যাই।

আজ পবিত্র ‘সবে বরাত’

Now Reading
আজ পবিত্র ‘সবে বরাত’

হিজরি:-১৪৪৮, ১৫ই শাবান

হিজরি বর্ষপঞ্জির শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতে বান্দাদের জন্য তাঁর অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন। মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ‘সবে বরাত’। একে হাদিসের ভাষায় ‘নিসাফে শাবান’ বলে। দীর্ঘ এক বছর পর পর এই রাত পালন করা হয়। এই রাতে মুসলমানররা নামাজ, জিকির ও কোরআন শরিফ তিলাওয়াতের মাধ্যমে পালন করে।
‘সবে’  ফারসি শব্দ। যার অর্থ ‘রাত’। ‘বরাত’ আরবি এবং ফারসি দুই ভাষারই শব্দ। যার ফারসি অর্থ ‘ভাগ্য’ এবং আরবি অর্থ ‘দায়মুক্তি, আব্যাহতি’। অর্থাৎ সবে বরাত অর্থ ‘ভাগ্যের রাত’ অথবা ‘অব্যাহতির রাত’। এছাড়া কোরআনে এ রাত সম্পর্কেও বলা হয়েছে। শবে বরাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। ‘লাইলা’ আরবি শব্দ, আর ‘শব’ শব্দটি ফার্সি। দুটি শব্দের অর্থই হলো “রাত”। তাই কোরআন শরিফে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। এর এক পক্ষ পর আসে পবিত্র রমজান। ফলে একে “রমজানুল মুয়াজ্জিন” বলা হয়। আরববাসীরা এ রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান’ বলেন। এছড়া এর আরও নাম রয়েছে, লাইলাতুল বরাত, লাইলাতুল দোয়া, ইরান ও আফগানিস্তানে নিম শা’বান, মালয় ভাষাভাষীর বলে নিসফু শা’বান,  তুর্কি ভাষাভাষীর বলে বিরাত কান্দিলি।

*হাদিসে নিসাফে শাবান বা মধ্য শাবান সম্পর্কে বলা হয়েছে। হযরত আলি (রা:) থেকে বর্নিত, নবী করিম (স:) বলেন, যখন শাবানের ১৫তম রাতের আগমন ঘটে তখন তাতে কিয়াম (ইবাদত) করো আর দিনে রোযা রাখো । নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলা সূর্যাস্তের পর থেকে প্রথম আসমানে বিশেষ রহমত বর্ষন করেন, এবং ইরশাদ করেনঃ কেউ আছ কি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কারী? তাকে আমি ক্ষমা করে দিব ! কেউ আছ কি জীবিকা প্রার্থনাকারী? তাকে আমি জীবিকা দান করব ! কেউ কি আছ মুসিবতগ্রস্ত? তাকে আমি মুক্ত প্রদান করব! কেউ এমন আছ কি! কেউ এমন আছ কি! এভাবে সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ পাক তার বান্দাদেরকে ডাকতে থাকবেন ।
[সুনানে ইবনে মাযাহ, ২য় খন্ড, পৃঃ ১৬০, হাদিস নং-১৩৮৮]

*কোরআন শরিফের ২৫ তম পারা ও ৪৪ নং সূরা “ দুখানের ”শুরুতে যে পাঁচটি আয়াত রয়েছে সে আয়াতগুলোই সবে বরাত বিষয়ক আলোচনা রয়েছে।

حم وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ ۚ إِنَّا كُنَّا مُنذِرِينَ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ أَمْرًا مِّنْ عِندِنَا ۚ إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ

অর্থ:-
>হা মীম।
>শপথ প্রকাশ্য কিতাবের।
>নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি এক বরকতময় >রাতে। নিশ্চয় আমি সতর্ককারী।
>এ রাতে প্রত্যেক জ্ঞানপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।
>আমার পক্ষ থেকে আদেশক্রমে আমিই প্রেরণকারী।

( সূরা দুখানঃ ১-৫ )

আয়াতে উল্লেখিত ليلة مباركة লাইলাতুম মুবারাকাহ(বরকতময় রাত) এর কথা বলা হয়েছে।

স্বপ্নের কাছেও স্বপ্ন

Now Reading
স্বপ্নের কাছেও স্বপ্ন

সদ্য ডানা মেলা পাখি যখন নীল আকাশের নীরব প্রান্তরে তাকায়। প্রতিটি স্মিতি ক্ষনে আবাক কোটরে সবাক চাহনিতে সজীব চক্ষু মেলে স্বপ্নের বাধ ভেঙে বারে বারে ফিরে আসার গান গায়।সেই গানের মধ্যে কোন লোভ নাই, নেই কোন লালসা। একরাশ ইচ্ছে নিয়ে স্বপ্ন গুলো ঝাপটা মেরে শুধু ক্ষণিকের ভরসা। সব যন্ত্রণা-মন্ত্রণা মুছে দাও।
জানালা খোলা,
নীল আকাশ রয়েছে এখনও নীল,
সন্ধ্যাদীপে আছে বেধ-বেদনার মিল।
তারপরও ভালোলাগে,
রাতবিরেতে রিক্তা জীবনের পথে শিলে,
ভোর-ডাকে সিন্ধু নদের তীরে।

অতপর,
আবার জানালা খোলা,
এবার মনে হয় এঁটে গেছে চাকতিতে,
জীবনে মত থমকে থেকে দাড়াতে।
তা ঠিক সেই বিকেলের স্মৃতির মতই পূরোনো,
কবে চলে গেছে…
মনে আছে তবু, মনে নেই।

আমি আবার আগের মত জানালা খুলেছি।  এবার মনের জানালা। দেখি কোনো রুপকথার স্বপ্নের মত নীল কোনো লাল ঝুটিকে দেখতে ভালো লাগে কিনা। কত জিনিসই তো ভালো লাগে। না, এবার মন দিয়ে দেখি।
মনটাও ভারি আদ্ভুত। ওর ভালো লাগানো, তা যেন  স্বপ্নের কাছেও স্বপ্ন (more…)

রাজপথে বাংলার মেলা

Now Reading
রাজপথে বাংলার মেলা

রাজপথে বাংলার মেলা

ম্ভাবনার সকল দার খোলা। ভাষার পরেই এল স্বাধীনতা। তারই হাত ধরে আমাদের পথ  চলা। বলতে গেলে সবই একই সূত্রে গাঁথা। আমাদের হোস্টেলেই আবার আমাদের মুখে চড় পরল। রক্ত গরম। এবার আর মানতে পারলাম না। যাদের আপন ভেবেছি শেষ পযর্ন্ত তারা। ভাবতে খানিক টা অবাকই লাগে। ভাই বলেছিলাম, আপন করেছিলাম। কিন্তু সেই মর্যাদা তারা রাখতে পারল না। এবার আমাদের পালা।

হোস্টেলের সব থেকে রাগী ছেলে আমার বন্ধু, সালাম।
সে দিন তাকে চেনা যাচ্ছিল না। তার মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। চোখ গুলো থেকে যেন রক্ত ঝরছে। আগুনের শিখা দাউ দাউ করছে। মুখে যেন তামা পিটিয়েছে। মুষ্টিবদ্ধ হাত।

আমাকে রাগান্বিত সরে এসে বলে গেলো
-“নিচে আয় কথা আছে”

কি হল আবার। নিচে গিয়ে দেখলাম শুধু আমি না। সবাই আছে। সকলের মুখ লাল। কাঁদছে সবাই। আমার গালের উপর দিয়ে কি যেন বেয়ে বেয়ে পরছে। হয়তো,

পরেছে আঘাত
বাংলা ভাষায়
বাঙালি জাতি
সামনে তাকায়

এরপর, আমতলা। ১০ জন করে মিছিল।ভেঙে ফেললাম ৪৪ ধারা। গ্রেফতার হল আফজাল ভাই,মাহামুল,শিবু। রাজপথ লাল।

হঠাৎ,
-সালাম.. সালাম..
আমার সাথে কথা বললনা।
একের পর এক। এবার আমার পালা,

পরন্তো বিকেল
আকাশে আবির মাখা
নীর শান্তো
পাতা শান্তো
শান্তো সকলি
যেন  চলছেনা কিছু
আসীম স্নিগ্ধাতার মধ্যেও
উতলা আমার মন

খনে খনে
বেড়ে জাচ্ছিলো
মনের ভাবুকতা
পেন্সিল হাতে
মনে
কল্পনার পাতা
আমার বুকের
রক্ত দিয়ে
লিখে গেলাম
“বাংলা”

আমি দেখে যেতে পারলাম না
আর পারলাম না
ভালো থেকো,
ভালো থাকুক আমার সোনার বাংলা।

VPN কি? এটা কি নিরাপদ?

Now Reading
VPN কি? এটা কি নিরাপদ?

আমরা মাঝেমধ্যেই vpn ব্যাবহার করে থাকি। কিন্তু vpn সম্পর্কে  বেশি কিছু জানি না। শুধু মাত্র এটা জানি যে vpn হল অন্য কোনো দেশের ইন্টারনেট সারবারের সাথে সংযুক্ত হয়ে ওই দেশের ইন্টারনেটের তথ্য ব্যাবহার করার পদ্ধতি। এর উদাহরণ হল, ধরুন আমাদের দেশে facebook বন্ধ রয়েছে। এখন আমি যদি facebook এ লগ ইন করার চেষ্টা করি তাহলে তা পারব না। কারন, আপাতত আমাদের দেশের জন্য facebook বন্ধ আছে। এতে বুঝা যায় যে ইন্টারনেট বুঝতে পারে আমরা কোন দেশে আছি। এর কারন আমি যে IP address  ব্যাবহার করি তার মাধ্যমে আমাদের সারবারকে facebook ব্যাবহারের জন্য বার্তা পাঠাই। তখন আমাদের সারবার আমার জন্য facebook এর কাছে একই IP address এ বার্তা পাঠানোর কথা।  যেহেতু আমাদের দেশের জন্য facebook বন্ধ রয়েছে তাই সেই বার্তা সারবার আর পাঠায় না। ফলে আমরা facebook ব্যাবহার করতে পারি না।

কিন্তু vpn দিয়ে তা সহজে করতে পারি। এখানে আমি আমাদের দেশের সারবারে কোনো বার্তা না পাঠিয়ে সকল বাধা অতিক্রম  অন্য কোনো দেশের সারবারে বার্তা পাঠাই যেখানে facebook অন রয়েছে। ফলে ওই সারবার ভাবে যে আমি ওই দেশেই রয়েছি। ফলে ওই দেশের সারবার ব্যাবহার করে আমরা facebook চালাতে পারি। প্রকৃতপক্ষে আমরা আমাদের দেশের সারবার এবং সরকারকে ফাকি দিয়ে এ কাজ করে থাকি।

এখন প্রশ্ন হল, vpn কি নিরাপদ?
অবশ্যই, কারন আমরা আমাদের wifi zone তৈরি করলে ভাবি যে এখন আমরা নিরাপদ। কারন, এখানে আমরা পাসওয়ার্ড দিয়ে নিরাপদ ব্যাবহার করার চেষ্টা করি। কিন্তু যখন আমরা ইন্টারনেট ব্যাবহার  করি তখন আমাদের উপর সহজেই নজর রাখা যেতে পারে। এটা হলে পারে আমাদের সারবার অথবা আমাদের সরকারের মাধ্যমে। আবার যদি কোনো হ্যাকার আমাদের  নেটওয়ার্ক এর মধ্যে থাকে তাহলে আমাদের প্রাইভেসি প্রশ্নের মধ্যে পরে যেতে পারে।

vpn দিয়ে আমরা অন্য দেশের সারবারের মাধ্যমে ইন্টারনেটের তথ্য ব্যাবহার করি তাই আমাদের সারবার বা সরকার অথবা কোনো হ্যাকার আমাদের প্রাইভেসি নষ্ট করতে পারে না। ফলে আমরা নিরাপদে ইন্টারনেট ব্যাবহার করি।