বিধবা বিবাহ আন্দলোনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

Now Reading
বিধবা বিবাহ আন্দলোনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

উনবিংশ শতাব্দীতে সমাজসংস্কারের জন্য যে কয়েটি আন্দলনের  ইতিহাস আমরা দেখতে পাই তার মধ্যে  হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আন্দোলন অন্যতম। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহরে  ব্যাপক প্রচলনের কারনে সমাজে বিধবার সংখ্যা মারাত্নক ভাবে বেড়ে যায়। কিন্ত তখন বিধবা বিবাহের প্রচলন ছিল না। তাই তখন বিধবা পুনর্বিবাহের জন্য সমাজসংস্কার আন্দোলন সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। উনবিংশ শতাব্দীর এই নবজাগরনের অন্যতম পথিকৃত ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। অক্লান্ত পরিশ্যম ও নানা বাধাবিপওি পেরিয়ে তিনি এই নবজাগরন ঘটাতে সক্ষম হন। অর্থাৎ ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই ‘বিধবা বিবাহ পুনর্বিবাহ আইন’ পাশ হয়। এই আইন পাশের মাধ্যমে বিধবা বিবাহের সকল বাধা দুর হয়। এই বিধবা বিবাহ আইন পাশ করাটা মোটেও সহজ ছিলনা। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরেরও একশত বছর পূর্বে বিধবা বিবাহের পক্ষে লেখালেখি শুরু হয়। কিন্ত কট্টর হিন্দুদের কারনে তা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি।রাজা রাজবল্লভ তার নিজ বাল্যবিধবার বিয়ে দেবার জন্য পন্ডিতদের প্রচুর ভেট দিয়ে শাস্ত্রসম্মত অনুমতি লাভ করেছিলেন। কিন্ত তা অন্য আরেক প্রভাবশালী রাজা কৃষ্ণচন্দের কারনে ব্যার্থ হয়। এই ঘটনা ঘটেছিল বিদ্যাসাগরের ও একশত বছর পূর্বে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগেও রাজা রামমোহন রায়ের ‘আত্নীয় সভা মাধ্যমে এবং পরে ১৮২৮-২৯’ সালে ডিরোজিওর অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েসন একে ইয়ংবেঙ্গল আন্দোলন ও বলা হয়, বিধবা বিবাহের পক্ষে লেখালেখি করা হয়েছিল। জাতীয় আইন কমিশনও তখন বাল্যবিধবাদের পুনর্বিবাহেনর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন। কিন্ত কট্টর হিন্দুত্ববাদের বিপক্ষে যেতে তারা শেষ পর্যন্ত সাহস করেন নি। হিন্দুদের ধর্মীয় গোড়ামী, কুসংস্কার ও কুপ্রথার বিরুদ্ধে যে কয়জন মনীষী অন্দোলন,প্রতিবাদ করে সফলকাম হয়েছেন বিদ্যাসাগর তাদের মধ্যে অন্যতম। বিদ্যাসাগর প্রথম অবস্খায় জনমত তৈরিতে ব্যার্থ হয়ে ছিলেন এবং প্রাচীনপন্থীদের চরম বিরোধীতার সম্মুখীন হন। এমনকি তাকে প্রান নাশের হুমকিও দেওয়া হয়। কিন্ত এতে অসীম সাহসী বিদ্যাসাগর থেমে থাকেননি । বিদ্যাসাগর তার নিজ কাজ চালিয়ে গেছেন নির্ভিকভাবে। ১৮৫৫ সালে বিধবা বিবাহ প্রচলন হৗয়া উচিত কিনা িএই বিষয়ে  প্রস্তাব ( প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রস্তাব ) রচনা করেন। তারানাথ বাচস্পতি তার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে বিদ্যাসাগর বেনামে ‘ কস্যাচিত উপযুক্ত ভাইপোষ্য’ এবং ‘ অল্প হইল’ রচনা করেন। বিধবা পুনর্বিবাহ আন্দোলনের জন্য ঈশ্বরচন্দ্রকে শাস্ত্রীয় যুক্তি এবং মানবমুখী যুক্তিবাদের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা করতে হয়েছে। এজন্য তিনি শাস্ত্রীয় অস্ত্র হিসাবে বিধবাদের আর্থ-সামাজিক সমস্যার বিবরন দিয়েছেন। যে সকল হিন্দু পন্ডিতগন বিদ্যাসাগরের চরম বিরোধিতা করেছিলেন তাদের মধ্যে ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন, কাশীনাথ তর্কালঙ্কার, রমাতনু তর্কসিন্ধান্ত, গঙ্গাধর কবিরাজ, মহেশচন্দ্র চূড়ামনি, দীনবন্ধ ন্যায়রত্ন, ইষানচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ এদের মদ্যে অন্যতম। শুধুমাএ এ সকল পন্ডিতগনই যে তার বিরোধিতা করেছেন এমন নয়, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পন্ডিত ব্যক্তিত্ব বঙ্কিমচন্দ্রও রীতিমতো তার বিরোধিতা করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র তার ‘বিষবৃক্ষে’ সূর্যমুখীকে দিয়ে উক্তি করান যে, “ যে বিধবা বিবাহের ব্যাবস্থা দেয়, সে যদি পন্ডিত হয় তবে মূর্খ কে?” এসকল পন্ডিত ব্যক্তিদের প্রচ্ন্ড বিরোধিতার পরও তিনি ( বিদ্যাসাগর ) একটুকুও পিছপা হননি। বিদ্যাসাগর তখন বলেছিলেন, “ বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্ববৃহৎ সৎকর্ম” । এ জম্নে ইহার চাইতে সৎকর্ম করতে পারব তাহার সম্ভাবনা নাই। এ বিষয়ের  জন্য সর্বশান্ত হইয়াছি এবং আবশ্যক হইলে প্রান দিতেও দ্বিধাবোদ  করব না। তিনি আরও বলেছেন, “ অামি দেশাচরের নিতান্ত দাস নহি, নিজের বা সমাজের মঙ্গলেরজন্য যা করা উচিৎ আবশ্যক বোধ হইবে তাই করিব । লোকের বা কুটুম্বদের ভয়ে কদাচ সঙ্কচিত হইব না । বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ আন্দোলনের সপক্ষে ব্যাপক জনমততৈরি হয়ছিল । ঈশ্বরচন্দ্র তার কবিতায় লিখেছিলেন যে-

সুখের দিন কবে হবে বল , দিদী কবে হবে বল লো,
কবে হবে বল।
শান্তিপুরের তাতিরা তো ‘বিদ্যাসাগর পেড়ে ’ শাড়িও বেড় করেছিল ।  শাড়ির পাড়ে লেখা ছিল
বেচে থাক বিদ্যাসাগর চিরজীবি হয়ে
সদরে করেছ রিপোর্ট বিধবাদের হবে বিয়ে  ।
অবশেষে  পর্বতসম বাধাবিপওি উপেক্ষাকরে সমাজ সংস্কারের বিদ্রহী নায়ক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৫৫ সালের ১৭ই নভেম্বর বঙ্গীয় ব্যপস্থাপক সভায় বিধবা বিবাহ আইনের খসড়া পেশ করলে ভারতে এ পক্ষে বিপক্ষে তুমূল আন্দোলন শুরু হয়। ভারত সরকারের কাছে রাজা রাধবকান্ত এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৮,০০০ হাজার লোকের সাক্ষরিত এক আবেদনপএ পাঠান। বিভিন্ন পন্ডিতগনও এর বিরুদ্ধে আবেদনপএ পাঠান । অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে বিধবা বিবাহের পক্ষে বহু আবেদন পাঠানো হয়। অবশেষে ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাস হয়। বন্ধ হয় প্রথার নামে পরোক্ষ ভাবে নারী হত্যা। বিধবাদের পুনর্বিবাহ চালু হওয়ায় হিন্দু নারীগন তাদের বিবাহের অধিকার ফিরে পায় এবং সতীদাহ কুপ্রথার হাত থেকে রক্ষা পান।

ছাত্র রাজনীতির অতীত ও বর্তমান

Now Reading
ছাত্র রাজনীতির অতীত ও বর্তমান

হাজার বছর আগে এই পৃথিবীতে মানুষের আর্বিভাব। তবে বর্তমানের ন্যায় সেই সময়ের মানব সভ্যতা এতটা আধুনিক ও সুশৃঙ্খল ছিল না।মানব সভ্যতার উষালগ্ন থেকে আজঅবধি মহান লক্ষ ও আদর্শ কে সামনে রেখে যতগুলো সংগঠন আত্নপ্রকাশ করেছে তার মধ্যে ছাত্র সংগঠন অন্যতম। কিন্ত দু:খজনক হলেও সত্য যে , বহুমূখী কারনে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র রাজনীতি আজ বিতর্কের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। সামপ্রতিক সময়ে ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষাঙ্গনে যেভাবে সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটছে, তাতে ছাত্র রাজনীতির সোনালী অতিত ছাড়া বর্তমানে দেখাবার মতো কিছুই থাকছে না। ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করবার আগে আমাদের প্রত্যেকের যেনে নেওয়া দরকার ছাত্র রাজনীতি কি ? লেখাপড়ার পাশাপাশি দেশপ্রেমিক ছাত্রসমাজ তাদের নিরেজদের ও দেশ মাতৃকার স্বার্থে যে প্রতীবাদী ভূমিকা পালন করে তাই ছাত্র রাজনীতি। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে ছাত্ররা অন্যয়ের বিরুদ্ধে যে প্রতীবাদী হয়ে ওঠে। বাঙালি জাতি যখনই কোন অপশক্তির দ্বারা নির্যাযিত হয়েছে তখনই ছাত্ররা নি:শঙ্কচিত ভাবে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে সেই অপশক্তিকে রুখে দিয়েছে। আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতি খুব একটা পুরোনো নয়। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মূলত এই অঞ্চলে ছাত্র রাজনীতি মাথাচারা দিয়ে ওঠে। ছাত্ররা বুঝতে শুরু করে শুধু লেখাপড়ার মাঝে তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য সীমাবধ্য নয়।তাইত কবি নজরুল বলেছিলেন “আমরা শক্তি আমরা বল আমরা  ছাএ দল” কবির এই কথার মাঝেই ছাত্র রাজনীতির বীজ লুকায়িত ছিল। অতীতে ছাত্র সংগঠন গুলোর ছিল গৌরবদীপ্ত অতিত।কিন্ত বর্তামান সময়ে ছাত্র সংগঠন গুলোর সেই সোনালী অর্জন আজ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তাই আজকে আমরা কথা বলবো ছাত্র সংগঠন গুলোর সেই সোনালী অতীত ও বর্তমান নিয়ে….
অতীত:
১৯৪৭-১৯৭১ । বাংলাদেশ তৈরির পেছনে ছাত্র সংগঠন গুলোর ছিল অনবদ্য ভূমিকা। ৫২’র ভাষা আন্দোলনে ছাত্র সমাজের ভূমিকার কথা কম বেশি আমরা সকলেই জানি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে। ছাত্ররা সেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য মিছিল শুরু করে। সেই মিছিলে পুলিশ গুলি বর্ষন করে। সেদিন পুলিশের গুলিতে সালম, সফিক, রফিক জব্বার, বরকত সহ আরও অনেকে প্রান হারান।অবশেষে ১৯৫৬ সালে সরকার বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতী দিতে বাধ্য হয়। বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে স্বীকৃতী আদায়ে ছাত্ররা বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ৬২’র শিক্ষা আন্দলোন, ৬৯’র গনঅভ্যুত্থান ও সবশেষ ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলার ছাত্র সমাজ যে ভূমিকা রেখেছে তা নি:সন্দেহে  প্রশংসার দাবিদার। ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে ছাত্র সমাজ এর বিরুদ্ধে সারা বাংলায় প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলে এর পেক্ষিতে পাকিস্থান সরকার শিক্ষানীতিতে  আমূল পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। মার্শাল ডিক্টেটর আইয়ুব খানের নির্মম নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলায় সর্বএ ১৯৬৯ সালে এক দুর্বার গন আন্দোলনের গড়ে তোলে। ছাত্র সমাজ ১১ দফা ঘোষনা করে। সুচনা হয় গন আন্দোলনের ভয়ে ভীত হয়ে পাকিস্থান সরকার আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে। সবশেষ ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজ উল্লেখযোগ্য ভুমিকা রেখেছে। মুক্তিযদ্ধে  ছাত্ররা গেরিলা ট্রেনিং নিয়ে পাকিস্থানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ মুক্তিযদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। ৭১’র  স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার ছাত্র সমাজ যে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছে, দেশবাসী তা চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্বরন করবে। ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনেও ছাত্র সমাজ মূখ্য ভুমিকা পালন করে। অছাত্ররা ২৮ নভেম্বর ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে। সেনাবহিনী ও পুলিশ তাতে সমর্থন জানায়। অবশেষৈ পদত্যগে বাধ্য হয় এরশাদ সরকার এবং এর মাধ্যমেই অবসান ঘটে সামরীক শাসনের। অতীতে বাংলার  ছাত্র সংঠনের ছিল একটা গৌরবদীপ্ত সোনালী অতীত।যা বর্তমান সময়ের ছাত্র সংগঠন গুলো হারাতে বসেছে।

বর্তমান :
বর্তমান ছাত্র সংগঠন গুলো অতীত ঐতিহ্যকে আর ধরে রাখতে পারছে না। বর্তমান ছাত্র সংগঠন গুলো এখন আর জাতীয় স্বার্থের দিকে নজর দেয় না। কারন তারা এখন সন্ত্রাস নামক কঠিন ব্যাধিতে আক্রান্ত। এখন প্রায়শই আমরা দেখি বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্ররা রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করে নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা করছে। এসব বিশৃঙ্খলার কারনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা সেশন জটে পড়ছে। আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলো বর্তমান সময়ে সন্ত্রাসে ছেয়ে গেছে। মেধাবী ছাত্রদের যখন দেশ গড়ার কারিগর হবার কথা ছিল, তখন তারা হচ্ছে কুখ্যাত সন্ত্রাসী। আমাদের দেশে যে ব্যাপকভাবে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার প্রধান কারন ছাত্র রাজনীতি। ছাত্রদের প্রধান কাজ হলো লেখাপড়া করে নিজের উজ্জল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। বর্তমান সময়ের ছাত্র সংগঠনগুলো ছাত্র রাজনীতির অপপ্রয়োগ করছে। তারা হাতে অন্ত্র তুলে নিচ্ছে। ক্ষমতার লোভে তারা প্রতিদিনি কোন না কোন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটাচ্ছে। ফলে সাধারন শিক্ষার্থিদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র রাজনীতি ব্যপক আলোচনা-সমালোচনার জম্ন দিয়েছে। বিতর্ক হচ্ছে ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মকান্ড নিয়ে।

অতীতের বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে যে, আমাদের দেশে ছাত্র রাজনীতির অত্যাধিক গুরুত্ব রয়েছে। আমরা অবশ্যই সুষ্ঠ ও ইতিবাচক ছাত্র রাজনীতির  গুরুত্ব স্বীকার করি। সকল প্রকার সন্ত্রাস ও কুলষিত চিন্তা-চেতনা বাদ দিয়ে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলায় সুষ্ঠ ও সুন্দর ছাত্র রাজনীতি অব্যাহত থাকুক এটিই আমাদের সকলের একান্ত কাম্য।

উন্নয়নের মহা সোপনে বাংলাদেশ

Now Reading
উন্নয়নের মহা সোপনে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি অন্যতম দারিদ্র দেশ ।  তবে আশার কথা হলো বাংলাদেশ ধীরে ধীরে দারিদ্রতা দূর করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হচ্ছে । ইতোমধ্যে বাংলাদেশ তার নামের পাশ থেকে দারিদ্র শব্দটি মুছে দিয়েছে । এবং নিম্ন  মধ্যআয়ের দেশ হিসেবে বর্হিবিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে ।  এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ  মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা । একটি দেশের উন্নয়নের জন্য সর্বাগে যা প্রয়োজন তা হলো দেশটির মুল অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উন্নত যোগাযোগ ব্যাবস্থা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা । বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প প্রনয়ন এবং তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই  দেশের সার্বিক উন্নয়ন সকলের নিকট পরিলক্ষিত হয় । ইতোতমধ্যে বড় ধরনের কয়েকটি প্রকল্প বান্তবায়নের ফলে দেশের সার্বিক চিত্র বদলাতে শুরু করেছে এবং বাংলাদেশ বর্হিবিশ্বে আলাদা একটি জায়গা তৈরি করে নিয়েছে । বাংলাদেশকে বদলে দেওয়া তেমন কিছু প্রকল্প, যেমন: হাতিরঝিল, ঢাকা ও চট্টোগ্রামে নির্মিত একাধিক ফ্লাইওভার, ঢাকা এরিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে (নির্মানাধীন), কর্ণফূলী টানেল (নির্মানাধীন)। সবথেকে গুরুত্বপূর্ন এবং আলোচিত প্রকল্প যেটি তা হলো পদ্মা সেতু (নির্মানাধীন)। স্বপ্নের পদ্মা সেতু ।কোটি মানুষের স্বপ্নের এই পদ্মা সেতু নির্মান বাংলাদেশের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না ।খরস্রোতা এই পদ্মার দুই কূল জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে আপ্রানভাবে ।আমাজনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বচ্চো গতি সম্পন্ন নদী হলো পদ্মা । পদ্মা সেতু নিয়ে কিছু কথা বলা খুবই প্রসঙ্গিক । পদ্মা সেতু নির্মানের খবরে নতুন দিনের আশায় বুক বাধে দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষ। পদ্মা সেতু নির্মানের প্রধান দাতা সংস্থা বিশ্ব ব্যাংক ও জাইকা । দুর্নীতির অভিযোগ এনে সেতু নির্মান প্রকল্পের এই বড় দুই দাতা সংস্থা তাদের ঋণ চুক্তি সহায়তা বাতিল করে । দুর্নীতির যে অভিযোগ এনে  তারা (বিশ্ব ব্যাংক ও জাইকা ) এই প্রকল্প থেকে তারা সরে যায় তা পরে একটি আন্তর্জাতিক ( কানাডীয় ) আদালতে মিথ্যা অভিযোগ বলে প্রমানিত হয় । নির্মানের শুরুতেই যখন প্রকল্পটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তখন পুরো প্রকল্পটি মুশরে পড়ে । বাংলাদেশের মানুষের মনে তখন একটি আশঙ্কা দেখা দেয় নির্মিত হবেতো স্বপ্নের পদ্মা সেতু ? সবার মনেই একটা অজনা আশঙ্কা দেখা দেয হয়তো আর কখনোই নির্মিত হবে না স্বপ্নের পদ্মা সেতু ।সেতু নির্মান তখন একটি বড় চ্যালেন্জের সম্মুখীন হয়ে পড়ে ।অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা-সমালোচনাকে পিছনে ফেলে নিজস্ব অর্থায়নেই শুরু হয় সেতু নির্মান কাজ । স্বপ্নের পদ্মা সেতু সির্মানের কাজ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলের চাপ ও দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগ মাথায় নিয়েই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১২ ডিসেম্বর ২০১৫ খিষ্টাব্দে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মূল সেতু নির্মান কাজের শুভ উদ্দোধন করেন । সেতু নির্মান কাজ কয়েকটি উপভাগে ভাগ করা হয় ।
১. মূল সেতু নির্মান
২. নদী শাসন
৩.সংযোগ সড়ক নির্মান
৪.পূর্নবাসন প্রকল্প
সেতু নির্মান কাজ কয়েকটি উপভাগে ভাগ করে শুরু হয় এর নির্মান কাজ ।সেতু নির্মানে মোট ব্যায় ধরা হয় ২৮,০০,০০,০০০ কোটি  টাকা ।যার পুরো টাকাটাই দেওয়া হবে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ।ইতোমধ্যেই মূল সেতু নির্মান প্রকল্পের ৪৩ শতাংশ  কাজ সম্পন্ন হয়েছে । সংযোগ সড়ক নির্মান ও পুর্নবাসন প্রকল্পের কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পূর্ন সফলতার সাথে শতভাগ কাজ শেষ করেছেন । শরীয়তপুরের জাজীরা অংশে সংযোগ সড়কের ৮ কিলোমিটার নতুন রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে জানচলাচলের জন্য । ইতোমধ্যেই পদ্মা সেতু সির্মানে র সুবিধা ভোগ করতে শুরু করেছে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ । শরিয়াতপুরের জাজিরা পয়েন্টে নতুন ৮ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক খুলে দেওয়ায় নদী পার হতে এখন সময় এবং খরচ দুটোই কমে গেছে ।সেতু নির্মানের  ফলে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে যেতে শুরূ করেছে । ৬.১৫০ মি (২০,১৮০ ফুট ) মূল সেতু সির্মান কাজ দেওয়া হয়েছে চীনের নির্মানাধীন প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রীজ কোম্পানী কে এবং নদী শাসনের কাজ দেওয়া হয়েছে একই দেশের আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো কে ।খরস্রোতা এই পদ্মার বুকে সেতু নির্মানে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে দেশী-বিদেশী হাজারও প্রকৌশলী কে ।নৃত্য নতুন চ্যলেন্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের ।বিশেষত বর্ষাকালে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে । তখন অধিকাংশ সময় নির্মান কাজ বন্ধ রাখতে হয় ।প্রতিকূল পরিবেশের চ্যালেন্জ কে সামনে নিয়েই দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতু নির্মান কাজ ।সবকিছু ‍ু ঠিক থাকলে অগামী বছরের ডিসেম্বর মাসে পদ্মা সেতু সকলের জন্য উন্মক্ত করা সম্ভব বলে আশা করছেন সেতু প্রকল্প নির্মানের সাথে সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তারা । পদ্মা সেতু নির্মান কাজ শেষ হলে বদলে যাবে পুরো দেশের অর্থনীতি ।গতি বাড়বে পুরো দেশের অর্থনৈতিক ব্যাবস্থায় । বিশেষ করে বদলে যাবে পুরো দক্ষিনাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য ।পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে দক্ষিনাঞ্চলে গড়ে উঠবে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ইন্ডাষ্টিয়াল পার্ক । দক্ষিনাঞ্চলে গড়ে উঠবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইকো পার্ক । এতেকরে কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা হবে বিপুল সংখ্যক কর্মহীন মানুষের ।এ ফলে অনেকটা চাপ কমে যাবে তিলোত্তমা ঢাকা শহরের উপর থেকে ।  নদী ভাঙন সহ আরও বিভিন্ন কারনে দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ ক্রমেই ঢাকা মুখী হচ্ছে । পদ্মা সেতু নির্মান ও এর আশেপাশে গড়ে উঠা বিভিন্ন শিল্প কারখানা স্থাপনের ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখার চাপ ঢাকার উপর থেকে অনেকাংশেই কমে যাবে । পদ্মা সেতু কেবল মাত্র নদীর উপর দিয়ে প্রবাহমান একটি সেতুই নয় এটি পুরো বাঙালি জাতির ভাগ্য উন্নয়নের সেতু । এই সেতু দিয়েই বদলে যেতে শুরু করবে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য ।সম্পূর্ন নিজস্ব অর্থায়নে  পদ্মা সেতু নির্মান করে বাংলার মানুষ আরেক বার বিশ্ববাশীকে দেীখয়ে দিল আমরাও পারি । আমাদের ভাগ্য আমরা নিজেরাই উন্নয়ন করতে পারি । বাঙালি জাতি কখনো কারো কাছে মাথা নত করেনি, করবেও না।বাঙালি জাতি প্রমান করে দিল আরও একবার তাদের দাবায়ে রাখা সম্ভব না । নির্মানাধীন পদ্মা সেতু সহ আরও বড় ধরনের যে সকল উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে সে সকল উন্নয়ন প্রকল্প পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে বাংলদেশের সার্বিক চিত্র বদলে যাবে। এই ধরনের বড় প্রকল্প বা মেগা প্রকল্প যা একটি দেশের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করে, সে সকল প্রকল্পগুলো রাতারাতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় ।দেশের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা হয়ে দারায় রাজনৈতিক অস্থিরতা । আমাদের দেশের রাজনৈতিক ইতিহান পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে সেটা আমাদের জন্য খুব একটা সুখকর নয় । ঘণ ঘন সরকার পরিবর্তন ও একটা লম্বা সময় ধরে চলা সামরিক শাসন আমাদের দেশের উন্নতির প্রধান অন্তরায় হিসেবে রয়ে গেছে । দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকলে উন্নয়ন প্রকল্প গুলো স্থবির হয়ে পরে । স্বল্প সময়ের মধ্যে বারবার সরকার পরিবর্তনের ফলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হয় । বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বৃদ্ধি পায়। দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় । তথা দেশের সার্বক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পরে । তাই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে হবে । উ্নিতির অন্তরায় সকল বাধা-বৃপওি কে  দূরে ঠেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বায়লাদেশ এগিয়ে যাবে । এবং বাংলাদেশ একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে সকল রাষ্ট্রের কাছে পরিচিতি লাভ করবে ।