ইউরোপে মিলেছে ভ্যাম্পায়ারের অস্তিত্ব!! সত্যি নাকি গুজব?

Now Reading
ইউরোপে মিলেছে ভ্যাম্পায়ারের অস্তিত্ব!! সত্যি নাকি গুজব?

আমার বড় ভাই ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে থাকেন, তার কাছ থেকে জেনেছি গত কয়েকদিন ধরেই ইউরোপিয়ান টেলিভিশনে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছিল, ফ্রান্সে নাকি সত্যিকার ভ্যাম্পায়ারের খোঁজ মিলেছে। আর সেই খবর একটি টেলিভিশন চ্যানেল আর এফ.এম রেডিওতে প্রচারের পরেই আশেপাশের দেশগুলোতেও এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সত্যতা যাচাই না করেই নিউজ প্রচারের জন্য প্রশাসন এই সংবাদ প্রচারে বাঁধা দেয় লোকজনের মনে অহেতুক ভীতি না ছড়ানোর জন্য। হঠাৎ কি হয়েছিল যে এমন খবর মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গেল?

ঘটনাটি ঘটেছিল ফ্রান্স এর তুলুজ নগরীতে। আর দশদিনের মতই ফরাসি নাগরিক মারিয়ানা কাজ শেষে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফিরছিল। আচ্ছা আগে মারিয়ানার পরিচয় দিয়ে দেয়া উচিত। মারিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রী। গ্রীস্মের ছুটিতে সময় কাটানোর জন্য কাজ করে, বয়স ২৫ এর বেশি নয়। যুবতী মারিয়ানা বেশ সাহসী হলেও সেদিন কেন জানি তার মনে মৃদু ভয়ের উদ্রেক হয়েছিল, হয়তো রাতে রাস্তার ধারে থাকা গাছগুলোর বাতাসের শব্দ শুনে। কিংবা কোন এক অজানা কারণে। যদিও সে এমন রাতে একা একা মূলত কখনো বাড়ি ফেরেনি, দোকানের মালিক পৌঁছে দিত। কিন্তু মালিক অসুস্থ থাকায় লাঞ্চ হাওয়ারের পর আর কাজে আসেনি, তাই কি আর করা? বাধ্য হয়ে মারিয়ানা একাই বাড়ি ফিরছে।

বাড়িতে যেতে হলে মারিয়ানাকে একটা ছোট ব্রিজ পার হয়ে যেতে হয়। একটু ঝোপ টাইপের এলাকা। বেশ পুরোনো। দ্বিতীয় বিশ্ব-যুদ্ধে মৃত সৈনিকদের কবর দেয়া হয়েছিল পাশেই যদিও তা পরে সরিয়ে নেয়া হয়েছিল, এটা মারিয়ানা জানতো, তাই ভয়টা যেন বেশি করে জেঁকে বসেছিল। মারিয়ানা ভয় দূর করার জন্য গান গাইছিল আনমনে। হঠাৎ তখন ঝরে পড়া পাতার মর্মর শব্দে মারিয়ানার সংবিৎ ফিরলো। কিছুটা ভয় পেল তাই দ্রুত পদে হাটঁতে লাগলো। শব্দটা আরো তীব্র হতে লাগলো। আরেকটু সামনে ব্রিজ পার হবার পরেই মারিয়ানা ঘাড়ে কিসের ছোঁয়া পেয়ে যখনই ঘাড়ে হাত দিতে যাবে তখনই দুইটা সুঁচ যেন তার ঘাড়ের নিচ দিয়ে ঢুকে যেতে লাগলো। মারিয়ানা চিৎকার দিয়ে পাতার ভেতর পড়ে গেল।

পরদিন দুপুর বেলা, মারিয়ানা হাসপাতালে। ইমারজেন্সি প্যারিসে নিয়ে আসা হয়েছিল হেলিকপ্টারে করে। মারিয়ানার জ্ঞান ফেরে বিকাল নাগাদ। তার ঘাড়ে জখম হওয়ার দুটি দাগ দেখতে পাওয়া যায়। মারিয়ানা উপরে উল্লেখিত ঘটনার বাইরে আর কিছুই বলতে পারেনা! যে খবর তাক লাগিয়ে দেয় তা হলো ডাক্তারি রিপোর্ট। ডাক্তারি রিপোর্টে আসে ঐ দুইটা গর্তে দাঁত টাইপের কিছু প্রবেশ করেছিল। ব্যস, এর পরেই ধারণা করা হয় যে ওটা ভ্যাম্পায়ার ছিল।

পরবর্তীতে সারা এলাকা তন্ন তন্ন করেও ভ্যাম্পায়ারের খোঁজ মেলেনি। কিন্তু পুলিশের নতুন কিছু তথ্যই মিডিয়াকে এমন খবর ফলাও করে প্রচার করতে সাহায্য করে। পুলিশ যে কয়দিন টহলে ছিল ঐ এলাকাতে, সেই কয়দিনই তারা এমন কিছুর টের পেয়েছে যাতে তারাও ভাবতে আরম্ভ করে ওটা ভ্যাম্পায়ার ছিল। একজন পুলিশ সদস্য সেই ব্রিজের পাশেই এক রাতে ঘাড়ে কিছুর স্পর্শ পেলে ব্যাপারটা আরো তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে যদিও সেই পুলিশ সদস্য জর্জ আনাবেলের বাস্তবিক কোনো ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়নি।

এরপরেই সেই রিপোর্টের সূত্র ধরে মিডিয়াও একটু রস মিশিয়ে গণ মাধ্যমে একবেলা প্রচার করলেই তা কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে। ব্যস! মানুষের মাঝে আতংকও ছড়িয়ে পড়ে, তারা রাতে বের হওয়া বন্ধ করে দেয়- এই নিয়ে বিভিন্ন দেশের অনলাইন পোর্টাল থেকে শুরু করে কিছু ম্যাগাজিন ও জাতীয় দৈনিক রিপোর্ট লেখা শুরু করে দেয়। কিন্তু শেষমেষ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে একসময় সেই সংবাদ মিলিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু মানুষের মনে প্রশ্ন রয়ে যায়, মারিয়ানা কিংবা সেই পুলিশ অফিসার কি সত্যিই কোনো ভ্যাম্পায়ার এর আক্রমণের শিকার হয়েছিল নাকি তা অন্য কোনো প্রাণী ছিল?

ইউরোপে কি তাহলে সত্যিই ভ্যাম্পায়ারের অস্তিত্ব রয়েছে? পরবর্তী অনুসন্ধানী রিপোর্টের জন্য এই কেস লন্ডনের একটি বিশেষ টিমের কাছে গিয়েছে। দেখা যাক, তা সত্যি নাকি গুজব – এর রহস্য উদঘাটিত হয় কিনা!

যুবসমাজ জুড়ে চলছে ভার্চুয়াল সম্পর্কের আগ্রাসন

Now Reading
যুবসমাজ জুড়ে চলছে ভার্চুয়াল সম্পর্কের আগ্রাসন

বর্তমানে ভার্চুয়াল জীবনের একটা কমন বিষয় হলো প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া। স্বভাবগত কারণেই আমাদের বিপরীত লিঙ্গের দিকে আকর্ষণ কাজ করে। তাদের সাথে চ্যাট করতে ভালো লাগে।ভালো  একটা বন্ধুত্তের সম্পর্ক গড়ে উঠে। চ্যাট করতে করতে একটা সময় সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। কিন্তু এ সম্পর্কে জড়িয়ে আমরা কি পেয়েছি এবং কি হারিয়েছি তা কি আমরা একবারও ভেবে দেখেছি?

আমাদের যুবসমাজ কি এতটা বোকা?

আমরা যদি একটু খেয়াল করি তাহলে দেখতে পারবো এই ভার্চুয়াল জীবনের সাথে জড়িয়ে অনেক মেয়েই তাদের সবটা হারিয়েছে। অনেক সময় ছেলেরাও। তাও আমরা ভূল করি। ভার্চুয়াল জগতের আবেগ গুলো বড়ই অদ্ভুত। কত সহজে একটা মানুষকে মনের উচ্চ স্থানে জায়গা দেই আবার  ঠুনকো কোন কারণে একমিনিটেই ছুড়ে ফেলে দেই। কারো সাথে সম্পর্ক গড়তে যেমন সময় লাগে না, ঠিক তেমনি ঠুনকো আঘাতে সম্পর্ক গুলো ভেঙে চুরমার হতেও সময় লাগে না। যে মানুষ টি আজ আমাদের ক্লোজ লিষ্টে আছে, দু’দিন পর সেই মানুষটিই চলে যায় আমাদের ব্লক লিষ্টে অথবা আমাদের আইডির ঠিকানা হয় তাদের ব্লক লিষ্টে ; নাহয় হয়ে যাই দুজনের দু’চোখের বিষ !

কেউ দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করতে থাকলেও খুব তুচ্ছ একটা কারণে ঘৃণার সম্পর্ক শুরু হয়। বিশ্বাস কেমন জানি ঠোনকো একটা বিষয় হয়ে গেছে। কত সহজে একটা মানুষকে বিশ্বাস করে,কথা বলে,একজন অন্যজনকে নিজেদের গোপন কথা শেয়ার করে। অনেক সময় ব্যক্তিগত  ছবি ও আদান প্রদান করে। আবার ঠিক তাকেই কোন একটা কারণে অবিশ্বাস করে। ভেঙ্গে যায় বিশ্বাস নামক ভিত্তিটা।

সম্পর্ক ভেঙ্গে দেওয়ায় মেয়েদের থেকে পাওয়া ব্যক্তিগত ছবিগুলা আবার ভার্চুয়াল সাইডে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমন ধাক্কা খেয়ে মেয়েদের বিপরীত লিঙ্গের প্রতি একটা ঘৃণা শুরু হয়। অনেক মেয়ে আবার আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আবার ছেলেরা ও মেয়েদের কাছ থেকে প্রতারিত হয়ে নানান অনৈতিক কাজে জড়ায়। আবার স্বভাবগত কারণে মেয়েটা কোন ছেলের প্রতি এবং ছেলেটা কোন মেয়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়। আবার ভূল করে।

তবে হ্যাঁ এটা শুধু ভার্চুয়াল জীবনেই হয় না। বাস্তব জীবনেও হয়। তাই বলছি বাস্তব জীবনে যেখানে মানুষ প্রতারিত হচ্ছে সেখানে ভার্চুয়াল জীবন কতটা বিশ্বাসযোগ্য?

তবে একটা কথা না বললেই নয়। তা হলো ভার্চুয়াল জীবনের সবটাই যে মিথ্যে তা বলা যাবেনা। মানুষ ভার্চুয়াল জীবন থেকেও সত্যিকারের মানুষ খুঁজে পেয়েছে। এমন মানুষ যার কাছে চোখ বন্ধ করে নিজেকে তোলে দেওয়া যায়। তবে তা খুবই কম। যেমন কিছুদিন আগে একটা নিউজ পড়েছিলাম। “ছেলেটা এবং মেয়েটার ফেইসবুকে পরিচয় তারপর বন্ধুত্ব। পরিচয়ের পরই মেয়েটা জানতে পারে যে ছেলেটার দুইটা কিডনি নষ্ট। মেয়েটা চাইলেই ছেলেটাকে ছেড়ে চলে যেতে পারতো।  কিন্তু যায়নি। ছেলেটাকে একটা কিডনি দান করবে বলেছে এবং বিয়ে করে ছেলেটার পাশে দাঁড়িয়েছে।”

ভার্চুয়াল জীবনে এমন আরো কিছু ভালোবাসার নিদর্শন আমরা দেখতে পারলেও তা খুবই কম।

একেবারে অবিশ্বাস করে জীবন চলে না। সব মানুষ খারাপ হয়না। তবে অনেক খারাপের ভিতর থেকে বা কারো কাছ থেকে ধোঁকা খাওয়ার পর কাওকে খুব সহজে বিশ্বাস করা যায় না বা উচিৎ না। মনে রাখবেন অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো না। কাওকে অতিরিক্ত বিশ্বাস করা ও উচিৎ না। ভার্চুয়াল জীবনে হোক অথবা বাস্তব জীবনে কাওকেই অতিরিক্ত ভালবাসবেন না,কাওকে এতটা বিশ্বাস করবেন না যার কারণে আপনাকে সব হারিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয় বা খারাপ পথে পা এগিয়ে দিতে হয় অথবা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়।

আমরা সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব। আমাদের ভালো মন্দ বিচার করার ক্ষমতা আছে। আমরা জানি আমরা কিভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারবো।আর কোন কাজটা করলে আমরা ভালো থাকবো। ভালো থাকা মানে এই না যে কোন একজনকে বিশ্বাস করে নিজের সবটা বিলিয়ে দিব। এবং তার থেকে প্রতারিত হয়ে আবার নিজেকে শেষ করে দিব। ভার্চুয়াল লাইফে নিজেকে জড়ান। তবে লিমিট মেনে।  মনে রাখবেন মাত্রারিক্ত কোন কিছুই ভালো না। বর্তমান যুবসমাজ ভার্চুয়াল লাইফে একটু বেশি জড়িয়ে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল লাইফ যুবসমাজের কাছে এক ধরণের নেশায় পরিণত হয়েছে। যে নেশা থেকে বের হয়ে আসা সত্যিই খুব কষ্টের।

আমি নেশা বলেছি এবং এর জন্য যঠেষ্ট কারণ আছে।একটা মানুষ যখন নেশাগ্রস্থ হয় আমরা তাদের ভিতর কি কি অনিয়ম দেখতে পাই?

১.ইনসমনিয়া(নিদ্রা রোগ)

২.খাবারে অনিয়ম।

৩.পরিবার থেকে দূরে থাকা।

৪.বাস্তব জীবন থেকে কিছুটা দূরে চলে যাওয়া।

ভার্চুয়াল জীবনে জড়ানোর পরেও যুবসমাজের ৬০% এ সব অনিয়মে জড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা যুবসমাজ ভার্চুয়াল জীবনে জড়িয়ে যাওয়ার পর নিজেদের পরিবারকে কতটা সময় দেই? ভার্চুয়াল জীবনে জড়ানোর পর আমরা অনেকে ভূলে যাই যে আমাদের একটা পরিবার আছে। অনেক সময় ভার্চুয়াল কাওকে সময় দিতে গিয়ে নিজের পরিবারের কারো না কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করছি।

আমার লেখা কথাগুলো কতটা সত্যি তা যে বা যারা আমার লেখাটা পড়ছেন তারা একবার ভেবে দেখেন।

যুবসমাজের কাছে একটাই অনুরোধ, ভার্চুয়াল লাইফ আমাদের সব কিছুনা। নিজের বাস্তব মানুষদের সময় দিন। পরিবার,আত্মীয়দের সময় দিন। তাহলে হয়তো আমরা ভার্চুয়াল লাইফে ভূলটা কম করবো। লিমিট রেখে চলুন।

স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ

Now Reading
স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ

কিছুদিন হলো ফেইসবুকে সালমান শাহ এর মৃত্যুর রহস্য ফাঁস করে রুবি নামের একজন ভিডিও ছেড়েছে।

সে ভিডিও এর পর সামিরার বাবা বলেছে সালমান শাহ জনপ্রিয়তা হারচ্ছিল তাই আত্মহত্যা করেছে।

 

তার এ কথাটা আমি মানতে পারছিনা।

কারণ যে মানুষটার মৃত্যুর ২১ বছর পরেও মানুষের মনে জায়গা করে আছে সে মানুষটা কি ভাবে জনপ্রিয়তা হারায়?

সামিরার বাবা কি জানে সালমান শাহ মানুষের মনে কতটা জায়গা নিয়ে আছে?

সালমানের মৃত্যুর পরে যাদের জন্ম,তাদের মনেও সালমান একটা জায়গা নিয়ে আছে।

তাহলে সামিরার বাবা কি করে বলে যে সালমান শাহ জনপ্রিয়তা হারানোর কারণে আত্মহত্যা করেছে?

সামিরার বাবা মনেহয় জনপ্রিয়তা কি বা জনপ্রিয়তা বলতে কি বুঝায় তা জানেন না।তাই এ ধরণের কথা বলে ফেলেছে।

সালমানকে যারা চিনে তারা এখনও সালমানের ছবি দেখে।

দেখা ছবি বার বার দেখ।

টিভি চ্যানেল ঘুরাতে গিয়ে যদি সালমানের কোন ছবি চোখে পড়ে তাহলে আমি সিওর এখনো মানুষ চ্যানেল না ঘুরিয়ে কিছুটা সময় অপেক্ষা করে।

 

বাংলা সিনেমায় তো আরো অনেক নায়ক মারা গেছে।কই তাদের তো মানুষ এতটা মিস করে না যতটা সালমান মিস করে?

তাহলে সামিরার বাবা কি করে বলে সালমান শাহ জনপ্রিয়তা হারিয়েছে?

রুবি নামের ঐ মহিলা বলেছেন যে সালমান কে হত্যা করা হয়েছ।

তার কয়েক ঘন্টা পর আবার বলেছে যে তার আগের বলা কথাগুলা সব মিথ্যে।

 

আর তার এ কথা শুনে কিছু মানুষ তাকে নানান গালি দেওয়া শুরু করলো।

তার সম্পর্কে খারাপ কথা বলতে শুরু করলো।

কমেন্ট বক্সে ৮০% লোক তাকে নিয়ে নেগেটিভ কমেন্ট করা শুরু করলো।

 

এক দাঁড়িওয়ালা লোক কমেন্টে গালি দিয়ে কমেন্ট করলেন। একজন তার কমেন্টে রিপ্লাই করলো” ভাই দাঁড়ি রেখে এভাবে গালি দেওয়াটা কি ঠিক হচ্ছে?”

ঐ ভদ্র লোক বললো এমন সব মহিলাকে গালি দেওয়া যায়েয আছে।

মানুষ আজ কোথায় নেমে এসেছে?

 

অনেকে আবার তাকেই খুনি বলে দাবি করছে।

 

কিন্তু কেও একবারও ভাবলো না যে মহিলা কেন তার বক্তব্য পরিবর্তন করেছে।

আচ্ছা আমরা এত অসভ্য কেন? কারো সম্পর্কে ভালো ভাবে না জেনেই তাকে নিয়ে নানান আলোচনা সমালোচনা শুরু করি কেন?

আমাদের বিবেক বুদ্ধি আজ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?

একজন মহিলা যে কিনা সালমান শাহ খুনের ৭ নাম্বার আসামি  সে কেন নিজ দায়ীত্বে আবার সবার সামনে আসবে?

সে যদি খুনি হয় তাহলে কেন মাটিচাপা পরা জিনিষ নিয়ে ঘাটাঘাটি করবে?

 

আমাদের দেশের মানুষ কি এটা জানে না যে খুনির থেকে সাক্ষীর জীবনের ঝুঁকি বেশি থাকে?

জীবনের ভয় কার নেই?

রুবি নামের মহিলা যদি প্রথমে সত্যিটা বলে থাকে তাহলে তার জীবন হুমকির সামনে পরতেই পারে। এ নরমাল বিষয়টা আমরা বাঙ্গালী কেন বুঝিনা?

সে জন্যই তিনি ভিডিওতে বলেছিলেন

” বাঙ্গালি কিছু বুঝেনা।যুক্তি বুঝেনা শুধু লাফাতে পারে।তাই আপনাদের খারাপ কথায় আমার কিছু আসে যায় না।”

 

তার বক্তব্য পাল্টানোর পর সালমান এর মা এবং মামা একবার ও তো বলেনি যে রুবি খুনি,রুবি পল্টিবাজ,রুবি খারাপ।তারা শুধু একটা কথাই বলেছেন যে রুবির জীবন হুমকির মুখে আছে।তাকে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাবস্থা করা হোক।

 

যাদের সন্তান হারিয়েছে তারা যদি বিষয়টা মানতে পারে তাহলে আমরা কেন রুবি কে নিয়ে এত বাজে কথা বলছি?

 

আমরা সবাই চাই সত্যিটা বের হয়ে আসুক।

সালমান খুন হয়ে থাকলে তার খুনিরা শাস্তি পাক।

 

সালমান শাহ যখন মারা যায় তখন আমি খুব ছোট।প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি মাত্র।

 

সালমান শাহ্ এর মারা যাওয়াটা তখন বুঝিনি।বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ড্রাসট্রি কি হারিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ কি হারিয়েছে তা বুঝিনি।

ঐ বয়সে তা বুঝারও কথা না।

আস্তে আস্তে বাংলা মুভিতে কিছু একটা মিস করা শুরু করলাম।হয়তো আমার মত সবাই তা করছে।

 

সালমান অল্প কয়েক বছরে এতটা জনপ্রিয় হয়ে গিয়েছিল যে তা সহজে ভুলার না।

যে জিনিস দ্রুত বেড়ে উঠে তা তাড়াতাড়ি ভেঙ্গে যায়।আমরা এমনটাই জানি।

সালমান শাহ এর প্রতি আমাদের অতিরিক্ত ভালোবাসাই হয়তো তাকে হারানোর কারণ ছিল।

এটা আমাদের ব্যার্থতা ছিল যে আমরা তাকে ধরে রাখতে পারিনি।

পারিনি তার মৃত্যুর ২১ বছর পরেও তার হত্যার বিচার করতে।

 

সালমান যদি বেঁচে থাকতো তাহলে ইন্ডিয়া যেমন একজন কিং খান পেয়েছে আমরা ও একজন কিং পেতাম।

বাংলা সিনেমায় প্রাণ খুঁজে পেতাম।

 

তার মৃত্যুটা এখনো রহস্যজনক।জানিনা তার মৃত্যুর জটলা এভার খোলবে নাকি আগের মত আবার ধামাচাপা পড়ে যাবে।

আমাদের দেশে আবার এসব ধামাচাপা দেওয়ার খুব নাম আছে।

সামান্য ভক্ত হিসেবে আমাদের সবার একটাই চাওয়া।তা হলো সালমানের মৃত্যুর সত্যি রহস্য বের হোক এবং খুন হলে তার খুনিদের শাস্তি হোক।

 

কোন ক্ষমতার বলে যেনো কোটি মানুষের আশা হতাশায় পরিণত না হয়।

 

সালমানের মামা এবং মা এর প্রশ্নের উত্তর গুলা সামিরাকে দিতে বলা হোক।

সামিরা  যদি খুন না করে থাকে তাহলে মুখ লুকিয়ে না থেকে সবার সামনে আসুক।১৬ কোটি মানুষের চোখে চোখ রেখে কথা বলুক।

 

সালমান বেঁচে আছে কোটি মানুষের স্বপ্নের নায়ক হয়ে।

আর আমরা আশায় আছি তার খুনের সঠিক বিচারের।

এবার অন্তত সত্যিটা বের হোক

প্রতিশোধ- পর্ব ১০(শেষ পর্ব)

Now Reading
প্রতিশোধ- পর্ব ১০(শেষ পর্ব)

তামিম খাবার খেতে বসে আবার খাবার রেখে দিল।হেমা খায়নি।

তামিমেরও একা খেতে ইচ্ছে করছেনা।
তামিম বসে বসে ওর বন্ধুদের কথাগুলা ভাবছে।এত দিন পর সে বুঝতে পারছে যে এত দিন হেমার সাথে যা করেছে তা ঠিক হয়নি।

হেমার মাঝ রাতে জ্ঞান ফিরে আসলো।তাকিয়ে দেখে তামিম পাশে বসে আছে।
হেমা অন্যদিকে ঘুরে আবার শুয়ে পরলো।
তামিমঃ হেমা উঠে কিছু খেয়ে ঔষধ খেয়ে নাও।
হেমা কিছু না বলে চুপ করে শুয়ে রইল।
তামিম কি করবে বুঝতে পারছেনা।হেমাকে জোর করে খাওয়াবে সে অধিকারবোধ এখনও হেমার প্রতি গড়ে তোলে নি তামিম।
তামিম হেমাকে আর জোর করলো না।
চুপ করে বসে রইল।

সকালে হেমা জেগে দেখে তামিম আধশুয়া অবস্থায় খাটে বসে আছে।
হেমা কিছু না বলে উঠে চলে গেল।উঠার সময় হেমা দেখল যে রুমে খাবার রাখা আর খাটের পাশে কতগুলা ঔষধ।
একটা খাবারের প্লেটে খাবার ছিল।
হেমা বুঝতে পারল যে রাতে তামিম খাবার নিয়ে খায়নি।

হেমা ফ্রেস হয়ে বারান্দায় চলে গেল।
তামিম ও বারান্দায় গেল।
হেমাঃকিছু বলবেন?
তামিমঃকিছু খেয়ে ঔষধ খেয়ে নাও।
হেমাঃকোন দরকার নেই।
তামিম হেমার হাত ধরল।
হেমা তামিমের থেকে হাতটা ছাড়িয়ে নিল।
তামিমঃসরি….

হেমা রান্না করার জন্য রান্নাঘরে গেল কিন্তু হেমা এতটা অসুস্থ ছিল যে আবার রুমে চলে আসলো।
তামিমঃতোমাকে আজ রান্না করতে হবে না।আমি হোটেল থেকে খাবার নিয়ে আসব।

তামিম আজ অফিস যায়নি।সারাদিন বাসায় ছিল
দুপুরে তামিম গিয়ে খাবার কিনে আনল।
হেমা খাবার নিয়ে খেতে বসল।তামিম কিছু খেয়েছে কিনা সেদিকে হেমার খেয়াল নেই।

খাওয়া শেষে তামিম হেমার দিকে ঔষধ এগিয়ে দিল।
হেমাঃ আমার ঔষধ দরকার নেই।
এ কথা বলে হেমা উঠে চলে গেল।
এমন করেই কিছুদিন পার হল।হেমা তামিমের ব্যাবহার দেখে অবাক হচ্ছে।হঠাৎ তামিমের এত ভাল হওয়ার কারণটা হেমা বুঝতে পারছেনা।
এ নিয়ে হেমা তামিমকে কিছু জিজ্ঞেসও করেনি।

১০ দিন পর…
ঐ দিন ছিল হেমার জন্ম দিন।হেমার ঐ দিকে খেয়াল নেই।
কিন্তু তামিম কোন ভাবে ব্যাপারটা জেনেছে।
তামিমঃহেমা আজ বিকেলে একটু বের হব।তুমি রেডি হয়ে থেকো।
হেমাঃআমার বের হওয়ার ইচ্ছে নেই।
তামিমঃপ্লিজ হেমা।

হেমা কিছুদিন হল তামিমকে চিনতে পারছেনা।
তামিম কি নতুন করে কোন প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ভাবছে?

বিকেলে হেমা তামিমের সাথে বের হল।
তামিম হেমাকে নিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে গেল।
হেমাঃহঠাৎ আমাকে এখানে নিয়ে আসলেন কেন?
তামিমঃকেন তোমার ভালোলাগছে না?
হেমাঃবন্ধ জায়গা থেকে বাহিরে আসতে পেরেছি এতে খারাপ লাগারতো কথা না।
তামিমঃকি খাবে?
হেমাঃআমি খাওয়ার জন্য আপনার সাথে আসিনি।
আমার শরীর আপনার অত্যাচার আর নিতে পারছেনা।তাই বাঁচার জন্য বের হয়েছি।

তামিম হেমার হাতের উপর হাত রাখল।
হেমা হাতটা সরিয়ে নিতে গেল কিন্তু তামিম হাতটা ধরে রাখল।
হেমা তামিমের মুখের দিকে তাকাল।
তামিমঃহেমা আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।
হেমাঃনতুন করে আবার কোন প্রতিশোধে নেওয়ার ইচ্ছে হয়েছে?

তামিমঃহেমা আই এম সরি।আমি জানি আমি এত দিন ভুল করেছি।আমার মাথা ঠিক ছিলনা।আমার জন্য তোমার অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।আমি আমার ভুলটা শোধরে নিতে চাই।
হেমাঃমানে?

তামিম পকেট থেকে একটা বক্স বের করল।বক্সটা খোলে
টেবিলের উপর হেমার সামনে রাখল।
বক্সে একটা রিং ছিল।
তামিমঃহেমা আজ তোমার জন্মদিন।আজকের এই দিন থেকে আমরা কি নতুন করে আমাদের জীবনটা শুরু করতে পারি?

হেমা তামিমের চোখের দিকে তাকাল।
তামিমঃহেমা আমার জন্য তোমার যে ক্ষতি হয়েছে আমি জানি আমি তা পূরণ করতে পারবনা।কিন্তু আমি তোমার জীবনের বাকি দিনগুলোর দায়িত্ব নিতে চাই।
তামিম আবার ও হেমার হাত ধরলো।

তামিমঃহেমা আমি আমার বাকিটা জীবন তোমার সাথে কাটাতে চাই।প্লিজ আমাকে ছেড়ে যেওনা।

হেমা আজ তামিমের চোখের ভাষা কিছুতেই বুঝতে পারছেনা।কারণ তামিমের এমন রূপ হেমা আগে কখনও দেখেনি।তামিমের হঠাৎ কি এমন হল যে আজ এসব কথা বলছে!
তবে হেমা আজ তামিমের চোখে কিছু হারানোর ভয় দেখতে পেয়েছে।যা এত দিন দেখেনি।

তামিমঃহেমা কিছুতো বল?
হেমা মনে মনে ভাবছে যে মানুষটার জন্য হেমা সব কিছু হারিয়েছে,হিমেলকে হারিয়েছে।কোন দোষ না করেই বারবার প্রতিশোধের কবলে পরেছে সে মানুষটার সাথে জীবন কাটাবে?এত দিন তামিমের সবটা মেনে নিলেও আজ তামিমের এ কথাগুলা মেনে নিতে কেন জানি কষ্ট হচ্ছে।

তামিমঃহেমা কি ভাবছ?
হেমাঃনা তেমন কিছু না।শুধু ভাবছি একদিন আপনি প্রতিশোধ নামক যে খেলাটা শুরু করেছিলেন আজ আমি তা শেষ করব।
এ কথা বলে হেমা উঠে রেস্টুরেন্ট থেক দৌড়ে বের হয়ে গেল।
তামিমঃহেমা কোথায় যাচ্ছ?
তামিম ও দৌড়ে বের হল।

বের হয়ে তামিম হেমাকে কোথাও খুঁজে পেলনা।
রেস্টুরেন্ট থেকে কিছুটা দূরে তামিম একটা ভির দেখতে পেল।তামিম দৌড়ে গেল।গিয়ে দেখে হেমার রক্তাক্ত শরীরটা রাস্তায় পড়ে আছে।
তামিম গিয়ে হেমার মাথাটা কোলে তোলে নিল।
তামিমঃহেমা….হেমা চোখ খোল!

হেমা চোখ খোলল।একটা হাসি দিয়ে বললো প্রতিশোধ নামক খেলাটা একদিন আপনি শুরু করেছিলেন আর আজ আমি সেই খেলাটা শেষ করলাম।
তামিমঃএটা তোমার কেমন প্রতিশোধ হেমা?
হেমা আর কিছু বললোনা। আস্তে আস্তে চোখ দুটো বন্ধ করে তামিমের কোলে শেষ নিঃশ্বাস ছাড়ল।
আর তামিম হেমার মৃত দেহটা কোলে নিয়ে রাস্তায় বসে আছে…..

প্রতিশোধ -পর্ব ৯

Now Reading
প্রতিশোধ -পর্ব ৯

তামিম রুম থেকে বের হয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে চলে গেল।
বন্ধুরা সবাই বুঝতে পারল যে তামিমের মেজাজ গরম আছে।
বন্ধু ১ঃ কিরে কি হইছে।
তামিম সব কিছু বলল।
তামিমের বন্ধুদের কাছে ব্যাপারটা ভাল লাগেনি।এর আগেও সবাই তামিমকে বুঝিয়েছে কিন্তু তামিম বুঝেনি।

বন্ধু ১ঃদেখ তামিম তোকে একটা কথা বলি।তুই যা করছিস তা মোটেও ঠিক হচ্ছেনা।তুই হেমার সাথে যেইটা করছিস তা অন্যায়।
বন্ধু ২ঃহুম ও ঠিক কথা বলেছে।আমিও এই ব্যাপারটা সাপোর্ট করিনা।
আর তোর বোন মারা গেছে তার জন্য হেমা দায়ী না।তুই নিজেই দায়ী।

তামিমঃমানেে? কি বলতে চাচ্ছিস তুই?
বন্ধু ২ঃ তুই তোর বোনকে অনেক বেশি ভালোবাসতি।চাওয়ার সাথে সাথে সব কিছু দিয়ে দিতি।আবার অনেক সময় কোনকিছু চাওয়ার আগেও তুই এনে দিতি।
তোর বোন এই সবকিছুতে অভ্যস্ত হয়ে গেছিল।
তাই ও যে ছেলেটাকে পছন্দ করত তার ফিরিয়ে দেওয়াটা মেনে নিতে পারেনি।

বন্ধু ১ঃহুম। আর তাই জিদ করে এমন একটা কাজ করেছে।আর তুই ভেবে দেখত হেমার সাথেত ওই ছেলের কোন সম্পর্ক ছিল না।হেমা এই সব ব্যাপারে কিছু
জানতোও না।তাও তুই হেমাকে শাস্তি দিচ্ছিস।

বন্ধু ২ঃ তামিম তুই মেয়েটাকে বিয়ে করেছিস।হেমাকে নিয়ে ভাল ভাবে সংসার কর।হেমাকে ভাল রাখ আর না হয় ওরে মুক্তি দে।হেমার মত করে হেমা ভাল থাক।

তামিম চুপকরে ওর বন্ধুদের কথা শুনছিল।
হয়ত বুঝতে পারছে যে তামিম ভুল করেছে।
তামিমঃআমি বাসায় যাচ্ছি
বন্ধু ১ঃ আমাদের কথাগুলা ভেবে দেখিস।
তামিমঃ হুম।

তামিম বাসায় এসে দেখে হেমা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে।হেমার কপালের কাটা জায়গায় রক্ত জমে আছে।
হাত এবং পিঠে বেল্টের আঘাতে দাগ হয়ে আছে।অনেক জায়গায় কেটে রক্তও বের হয়ে আছে।
তামিম হেমাকে ডাকল।কিন্তু হেমা ডাকে সারা দেয়নি।তামিম হেমাকে কোলে করে বিছানায় তোলে শুইয়ে দিল।
তামিম ভাবছে এ অবস্থায় হেমাকে হসপিটালে নিয়ে গেলে নানান জন নানা প্রশ্ন করবে।নিজের অমানুষিক ব্যাবহারের কথা সবার সামনে বলবে কি করে?

তাই তামিম গিয়ে ডাক্তার নিয়ে আসলো।
ডাক্তারঃওনি আপনার কি হয়?
তামিমঃআমার ওয়াইফ।
ডাক্তার তামিমের দিকে তাকালো।
তামিম চুপ করে আছে।
ডাক্তার হেমার কপালে ড্রেসিং করে স্টিচ করে দিল আর হাতের কাটা জায়গাতে ড্রেসিং করে দিল।
ডাক্তার তামিমকে একটা পেসক্রিপশন দিয়ে বলল এখানে কিছু ঔষধ আর একটা মলমের নাম লিখা আছে।রাতে ওনাকে কিছু খাইয়ে ঔষধটা খাইয়ে দিবেন আর মলমটা এনে কাটা জায়গায় লাগিয়ে দিবেন।
এ কথা বলে ডাক্তার বের হয়ে গেল।

তামিম ও বের হল।ডাক্তারকে ভিজিট দিয়ে বিদায় করে ঔষধ আনতে চলে গেল।ঔষধ কিনে আনার সময় হঠাৎ তামিমের মনে পরল বাসায় আজ রান্না হয়নি।হেমা দুপুরে কিছু খায়নি। রাতে হেমাকে ঔষধ খাওয়াতে হবে।তাই কিছু খাবার কিনে নিয়ে বাসায় গেল।

তামিম বাসায় গিয়ে দেখে হেমার এখন জ্ঞান ফিরে আসেনি।
তামিম গিয়ে হেমার পাশে বসল।মলমটা হাতে নিয়ে বসে আছে।
হেমার গাঁয়ে হাত দেওয়াটা ঠিক হবে কিনা তামিম তা বুঝতে পারছে না।
তামিম এ কয়দিনে হেমাকে অনেক মারধোর করেছে।কিন্তু আজকের ব্যাপারটা একটু ভিন্ন।
তামিম ভাবছে হেমা আমার বিয়ে করা বৌ।ওর গাঁয়ে হাত দেওয়াটা অন্যায় কিছু হবেনা।
যদিও তামিম কখনো হেমাকে স্ত্রীর চোখে দেখেনি।সব সময় বোনের মৃত্যুর কারণ ভেবে এসেছে।

তামিম হেমার হাতে এবং পিঠে মলম দিয়ে দিল।মলম দিতে গিয়ে হেমার হাত ও পিঠের কাটা দাগ দেখে তামিম মনে মনে ভাবতে লাগল এতটা অমানুষ তামিম কখনোই ছিল না।
তামিমের বোন পছন্দ করতোনা তাই তামিম কখনও পোঁকামাকড় ও মারত না।অথচ এখন সে এতটা হিংস্র হয়ে গেছে যে যখন তখন হেমার গাঁয়ে হাত তোলে।

 

চলবে…

প্রতিশোধ -পর্বঃ ৮

Now Reading
প্রতিশোধ -পর্বঃ ৮

পরেরদিন ভোরে হেমা কলেজে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে।কলেজটা ওদের বাসা থেকে অনেক দূরে। তাই আগেই বের হতে হবে।
হেমা দেখল তামিম ও রেডি হচ্ছে
হেমাঃআপনি কোথায় যাবেন?
তামিমঃতোমার সাথে।
হেমাঃআমি একাই যেতে পারব।
তামিমঃআমি জানি তুমি একা যেতে পারবে।কিন্তু আমি তোমাকে বিশ্বাস করি না।
হেমাঃ মানে?
তামিমঃতুমি কলেজে গিয়ে যে হিমেলের সাথে দেখা করবে না বা হিমেলের সাথে পালিয়ে যাবে না তার কি গেরান্টি আছে?

হেমা মনেমনে ভাবছে কাল হিমেলকে দেওয়া টেক্সট টা কি তামিম দেখে ফেললো?
কিন্তু টেক্সট টা তো ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।
হিমেল কি টেক্সট পাওয়ার পর আমাকে কল বা টেক্সট করেছিল?

তামিম আর হেমা কলেজে যাওয়ার জন্য বের হয়ে গেলো।
কলেজে যাওয়ার পর হেমা ওর ফ্রেন্ডের কাছে গেলো
এত দিন পর হেমাকে দেখে সবাই প্রশ্ন করতে শুরু করল।
হেমা দেখল তামিম আশেপাশেই আছে।
হেমার খুব টেনশন হচ্ছে।তামিম কিছুতেই দূরে যাচ্ছে না।হিমেলের সাথে কথা বলবে কি করে?তামিম দেখলে সমস্যা করবে।
হেমা দেখল হিমেল চলে এসেছে।
হেমা ঠিক করল ভাইভা দিয়ে তারপর হিমেলের সাথে কথা বলবে।
হেমার এক ফ্রেন্ডকে দিয়ে হেমা হিমেলের কাছে খবর পাঠাল যে ভাইভার পর হেমা দেখা করবে।

হেমার সিরিয়াল আগে ছিল তাই ভাইভা শেষ করে লুকিয়ে হিমেলের সাথে কথা বলতে গেল।
হেমা হিমেলকে দেখে কান্না করে দিল।
হিমেল হেমার হাত ধরে বলল,
হিমেলঃহেমা কান্না করো না।কি হয়েছে আমাকে বল?তুমি এত দিন কোথায় ছিলে? তোমার মেবাইল বন্ধ ছিল কেন?
হেমা কি ভাবে শুরু করবে বুঝতে পারছেনা।
হেমা সবটা বলতে যাবে এমন সময় তামিম এসে সামনে দাঁড়াল।
হেমা কি করবে বুঝতে পারছে না।

তামিমঃতুমি বলেছিলে পরীক্ষাটা দিবে তাই তোমাকে একটা সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।এখন দেখছি তোমাকে সুযোগ দেওয়া ঠিক হয়নি।
হিমেলঃহেমা লোকটা কে? আর এ সব কি বলছে?
হেমা চুপ করে আছে।
হিমেলঃহেমা কি হল? এ লোকটা কে?
তামিমঃআমি ওর হাজবেন্ড।
হিমেলঃমানে? হেমা তুমি বিয়ে করেছ?
তামিমঃহেমা চল।তোমার পরীক্ষা দেওয়া হয়ে গেছে।
হেমা দাঁড়িয়ে আছে।

তামিম হেমার সামনে গিয়ে আস্তে আস্তে বলল
তামিমঃতুমি যদি হিমেলের ভাল চাও তাহলে আমার সাথে চল।আর না হয় হিমেলকে এর জন্য ভোগতে হবে।
হেমা চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো।
হিমেল হেমার হাত ধরে রাখলো।
হিমেলঃহেমা আমার সাথে এমনটা কেন করলে?আমাকে ভালোবেসে অন্য একজনকে বিয়ে করলে কেন?
হেমাঃতোমাকে অনেক কিছু বলার ছিল।কিন্তু বলার সুযোগটা হল না।
শুধু একটা কথা বলি।আমি এ বিয়েটা করতে চাইনি।
আমার জীবনটা নষ্ট করার জন্য শুরু থেকে এ লোকটা দায়ী।
এ কথা বলে হেমা হিমেলের থেকে হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে চলে গেল।
হিমেল হেমার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আছে।হিমেল কি বলবে তা খুঁজে পাচ্ছেনা।

তামিম হেমাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলো।
বাসায় এসেই তামিম হেমার গালে একটা চড় বসিয়ে দিল।
হেমা চুপ করে আছে।
তামিমঃআমি জানতাম তুমি এমন করবে।তাইত তোমাকে একা যেতে দেইনি।
তুমি কি ভেবেছিলে? তুমি তোমার প্রেমিকের হাত ধরে পালাবে আর আমি তা চুপ করে দেখব?
হেমাঃপালাব নাত কি করব? তোমার মত একটা জানোয়ারের সাথে সারাজীবন কাটাব নাকি?

তামিম হেমার দুইহাত পিছনে নিয়ে ধরে বলল
তামিমঃহুম আমার সাথেই কাটাবে।এ ছাড়া তোমার আর কোন সুযোগ নেই।আর তুমি যদি হিমেলের সাথে পালানোর কথা চিন্তা কর তাহলে তোমার ভুলের জন্য হিমেলকে শাস্তি পেতে হবে। এ কথা বলে তামিম হেমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল।
খাটের সাথে ধাক্কা লেগে হেমার কপাল কেটে গেল।
হেমাঃআগে ভাবতাম আপনি একটা জানোয়ার কিন্তু এখন দেখছি আপনি তার চেয়েও বেশি খারাপ।

তামিমঃআমার খারাপটাত তুমি এখনও দেখনি।আজ দেখবে আমি কতটা খারাপ এবং ভয়ংকর।

একথা বলেই তামিম কোমর থেকে বেল্ট খোলে নিয়ে হেমাকে আঘাত করতে শুরু করল।

হেমা ভাবছে হয়ত আজই হেমার শেষ দিন।তবে এটাও ভাবছে যে আজ যদি শেষ দিন হয় তাহলে সব কিছু থেকে মুক্তি পাবে। এ কথা ভাবতে ভাবতে হেমা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

তামিম এমন ভাবে হেমাকে আঘাত করল যে হেমা কখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে তা তামিম খেয়াল করেনি।

 

 

(more…)

প্রতিশোধ -পর্বঃ ৭

Now Reading
প্রতিশোধ -পর্বঃ ৭

হেমা ভাবলো তামিমের কাছ থেকে ফোন নিয়ে হিমেলের সাথে কথা বলবে।
কিন্তু তামিমকে সত্যিটা বলা যাবে না।বাসায় কথা বলার কথা বলে মোবাইলটা নিতে হবে।
রাতে হেমা তামিমকে বললো বাসায় কথা বলবে।
তামিম হেমার মোবাইলটা বের করে দিলো।

হেমা মোবাইল পেয়ে অবাক হয়ে গেলো।তারমানে হেমার মোবাইল তামিমের কাছে ছিল।

হেমাঃআমার মোবাইল আপনার কাছে আসলো কি করে?
তামিমঃকাল আসার সময় তোমার বাসা থেকে দিয়ে দিছে।
হেমাঃআমাকে আগে দেননি কেন?
তামিমঃতোমাকে মোবাইল দিলে তুমি হিমেলের সাথে কথা বলতে।তাই দেইনি।আমি চাইনা তুমি হিমেলের সাথে যোগাযোগ করো।
এখন বাসায় কথা বলে মোবাইলটা আমাকে দিয়ে দিবে।
হেমাঃআমার মোবাইল আমি আপনাকে দিব কেন?
তামিমঃকেন দিবে মানে? আমি বলছি তাই দিবে।
যখন দরকার হবে তখন আমার থেকে নিয়ে নিবে।
হেমাঃআপনিতো সব সময় বাসায় থাকেন না।
তামিমঃএই জন্যই তোমাকে মোবাইল দেওয়া যাবে না।কারণ আমি চাইনা আমি না থাকা অবস্থায় তুমি তোমার প্রেমিকের সাথে যোগাযোগ করো।

হেমা হিমেলকে কল দিতে গিয়ে দেখে তামিম সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
তাই হিমেলকে কল না করে হেমার বাসায় কল করলো।

হেমার মা কল রিসিভ করলো

হেমাঃমা আমার সব দায়িত্বপালন অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছিলে।বিয়ে দেওয়ার দায়িত্বটা তোমরা পালন না করলেও পারতে।

এ কথা বলে হেমা কল কেটে দিল।

তামিম মোবাইল চাইলে হেমা মোবাইল দিবেনা বললো।
মোবাইল নিয়ে তামিমের সাথে হেমার ঝগড়া হলো।তামিম হেমার গাঁয়ে হাত ও তোললো।
শেষ পর্যন্ত হেমা তামিমের সাথে পেরে উঠলো না।বাধ্য হয়ে মোবাইলটা দিয়ে দিল

তামিম হেমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিল।সে হাসিতে পৈচাশিক এক আনন্দ ছিল।

এমন করেই ঝগড়া করে আর মার খেয়ে হেমার দিন কাটছিল।
হেমা কিছুতেই হিমেলের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেনা।

কিছুদিন পর হেমা তামিমের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে এক ফ্রেন্ডের কাছে কল করলো।ঐ ফ্রেন্ডের কাছ থেকে জানতে পারলো যে কিছুদিন পর ওদের ভাইভা।

হেমা কি করবে বুঝতে পারছে না।তামিম যে ভাবে প্রতিশোধ নেওয়ার নেশায় মেতে আছে তামিম কি হেমাকে পরীক্ষা দিতে দিবে?
এতটা লড়াই করে এত দূর এসে হেমাকে এভাবে হেরে যেতে হবে হেমা তা ভাবতে পারছেনা।

হেমা তামিমকে বলল কিছুদিন পর ওর ভাইভা।
তামিমঃভাইভা তো কি হয়েছে?তুমি কি পরীক্ষা দিতে চাচ্ছ নাকি?
হেমা মনে মনে ভাবলো এখন মাথা গরম করলে হেমারই ক্ষতি।
মাথা ঠান্ডা করে তামিমকে বোঝাতে হবে।
আর একবার পরীক্ষার জন্য কলেজে গেলে হিমেলের সাথেও দেখা করতে পারবে হেমা।

হেমা অনেক কান্নাকাটি করে,তামিমকে বোঝিয়ে শেষ পর্যন্ত রাজি করালো।

পরীক্ষার আগের রাতে হেমা তামিমকে বলল পরীক্ষা কখন শুরু হবে তা জানার জন্য ওর এক ফ্রেন্ডকে কল করতে হবে। এ কথা বলে তামিমের কাছ থেকে মোবাইল নিল।
মোবাইল নিয়ে ফ্রেন্ডকে কল করলো।
হেমা ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলে তাড়াতাড়ি হিমেলকে একটা টেক্সট করলো।

Himel kal amar sathe ekto college meet koro plz..tomar sathe amar onek kotha ase.r amar number a call ba sms dio na..

টেক্সটটা তাড়াতাড়ি সেন্ড করে আবার ডিলিট করে দিল।
তামিম মেবাইল নিয়ে গেলো।
হিমেল টেক্সট টা পেয়েছে কিনা তা হেমা বুঝতে পারছেনা।কারণ টেক্সট টা ডেলিভারড হওয়ার আগেই হেমা ডিলিট করে দিছে।

হেমা ভাবছে হিমেল কি টেক্সট টা পেয়েছে?না পেয়ে থাকলে হেমার সব শেষ হয়ে যাবে।কারণ হিমেলই এখন হেমার একমাত্র ভরষা।
হিমেলই পারে হেমাকে এ সব থেকে মুক্ত করতে।

হেমার মনে আরো একটা ভয় কাজ করছে।হিমেল সবটা জেনে যদি হেমাকে মেনে না নেয়? তখনতো হেমার সব শেষ হয়ে যাবে।হেমার যাওয়ার মত আর কোন জায়গাই থাকবেনা।

 

চলবে…

প্রতিশোধ- পর্ব ৬

Now Reading
প্রতিশোধ- পর্ব ৬

হেমার বিয়ে হয়ে গেলো।
বর এর সাথে বরের কয়েকটা বন্ধু ছাড়া আর কেও আসেনি।
বিয়ের দিনই হেমা বর এর সাথে চলে গেলো।যাওয়ার আগে বাসার কারো সাথে কথা বলে নি।বিদায় ও নেয় নি।

হেমা ভাবছে এমন কি পাপ সে করেছে যে এমন শাস্তি পেতে হচ্ছে!
হঠাৎ গাড়িটা একটা বাসার সামনে এসে থামলো।এই বাসাটা হেমা চিনতে পারছে না।কারন এটা তামিমের বাসা না।

কারন তন্নি মারা যাওয়ার পর হেমা তন্নিদের বাসায় এসেছিলো।
হেমা মনে মনে ভাবছে তামিম কেন এমন করলো? নতুন করে আবার প্রতিশোধ নিতে?

তামিম হেমাকে নিয়ে একটা ফ্লাটে উঠলো।বাসায় তেমন কেহ নেই।হেমার কাপড়ের ব্যাগ টা হেমার বাসা থেকে দিয়ে দিয়েছিল।
ব্যাগ থেকে জামা নিয়ে শাড়িটা পাল্টে নিল।

তামিমের এক বন্ধু রাতের জন্য খাবার কিনে দিয়ে গেলো।
এতক্ষণে হেমা বুঝে গেছে তামিম যে হেমার সাথে সংসার করার জন্য বিয়ে করেনি।হেমা ভাবছে না করা অপরাধের জন্য কি আবার নতুন করে শাস্তি পেতে হবে?
হেমা যখনি নতুন করে জীবন টা গুছিয়ে নিতে চেয়েছে তখনি একটা তুফান এসে হেমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়ে গেছে।

রাত ১১ টা..
হেমা রুমে একা।
তামিম তার বন্ধুদের বিদায় দিতে গেছে।
হেমা কাপড়ের ব্যাগে তার মেবাইলটা খোঁজছে।হিমেলকে খবরটা দিতেই হবে।তামিমের সাথে কিছু হওয়ার আগেই হিমেলের কাছে চলে যাবে হেমা।কিন্তু এবারও হেমার কপাল খারাপ ছিলো।মোবাইলটা খুঁজে পায়নি।
বিয়ের আগে হিমেলের কথা শুনে বাসা থেকে হেমার মোবাইলটা নিয়ে গেছিলো।হয়ত ইচ্ছে করেই বাসা থেকে মোবাইলটা দেয়নি।

তামিম খাবার নিয়ে রুমে এসে হেমাকে খেয়ে নিতে বলল।
হেমাঃআপনি আমার সাথে এমনটা কেন করলেন?
তামিম হাসলো।
হেমাঃএকটা মেয়ের জীবন আর কতবার নষ্ট করবেন আপনি? আমি আপনার বোন এর বন্ধু ছিলাম।এইটা কি আমার খুব বড় অপরাধ ছিল?
তামিমঃতোমার জন্য আমি আমার বোনকে হারিয়েছি।এত সহজে আমি তোমাকে ছাড়বো না।

হেমাঃতাহলে আমাকে খুন করলেইতো পারেন।বিয়ে করলেন কেন?
তামিমঃতোমাকে কিডন্যাপ করার জন্য আমাকে ৬ মাস জেলে থাকতে হয়েছে। খুন করলে আবার জেলে যেতে হবে।কি দরকার এত কিছুর? আমি জানি তুমি হিমেল নামের একটা ছেলেকে ভালোবাস।ছেলেটা তোমার সব কিছু জেনেও তোমাকে ভালোবেসেছে।আর তাইতো তোমার পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে তারপর তোমাকে বিয়ে করেছি।যাতে ঐ ছেলের সাথে তুমি সুখে সংসার করতে না পার।
হেমাঃতাহলে আপনি সবটা জানেন!
তামিমঃহুম।তুমি কি ভেবেছিলে আমার প্রতিশোধ নেওয়া শেষ?

হেমা চুপ করে আছে।
তামিমঃ তুমি যতদিন বাঁচবে আমার প্রতিশোধ ও ততদিন চলবে।
হেমাঃআমার মনে হয় আপনাকে মানষিক ডাক্তার দেখানো উচিৎ।আপনি মানষিকভাবে অসুস্থ।
এ কথা শুনে তামিম হেমার গালে একটা চড় বসিয়ে দেয়য়।

তামিমের মোবাইলে একটা কল আসে।তামিম মোবাইল নিয়ে বারান্দায় চলে যায়।
হেমা রুমে বসে আছে।নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে হেমার।কিন্তু আবার হিমেলের কথাও ভাবছে।
যে করেই হোক হিমেলের সাথে যোগাযোগ করতেই হবে।এই সব থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হল হিমেল।
হেমার কাছে এখন হিমেলই একমাত্র ভরষা।

হেমা রুম থেকে তামিমের কিছু কথা শুনেছে।হেমা বুঝতে পারছে তামিমের বাসা থেকে কল করেছে।কারন তামিমের কথা গুলো এমন ছিলো….
“মা আমি সংসার করার জন্য বিয়ে করিনি।তাই বিয়ে করে বৌ নিয়ে বাড়িতে যাইনি…..
আমার ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে হবে না।আমার বোন ছিল আমার কাছে সব কিছু।ও মারা যাওয়ার পর আমার জীবনের সব শেষ….
মা প্লিজ আমি বৌ নিয়ে বাড়িতে যেতে পারবো না….আমি ফোন রাখছি”

তামিম রুমে ঢুকে দেখে হেমা কান্না করছে।গালটা লাল হয়ে আছে।
তামিম খাবারের প্যাকেট নিয়ে হেমাকে দিল আর একটা প্যাকেট থেকে খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে পরলো।
হেমা একটা বালিশ নিয়ে নিচে শুয়ে পরলো।এত কিছু ঘটে যাওয়ার পর হেমার গলা দিয়ে খাবার নামবে না।

সকালে জেগে দেখে তামিম রুমে নেই।এদিক ওদিক খোঁজে না পেয়ে হেমা পালানোর কথা ভাবলো।পালাতে গিয়ে দেখে দরজা বাইরে থেকে লক।
তাই রুমে বসে রইলো।
প্রায় ঘন্টা খানেক পর তামিম সকালের খাবার আর দুপুরের জন্য বাজার নিয়ে আসলো।
হেমাকে বললো নাস্তা করে দুপুরের রান্না করতে।

হেমা তেমন কিছু রান্না করতে জানে না।হোস্টেলে থাকার কারনে টুকটাক কিছু রান্না শিখেছিল।
কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে খুব ভয়ে রান্না করলো।
কারন হেমা জানে রান্না খারাপ হলে তামিম আবার হেমার গাঁয়ে হাত তোলবে।

দুপুরে খাবার খেয়ে তামিম কিছু বলে নি।তারমানে রান্না তেমন খারাপ হয়নি।

 

চলবে….

প্রতিশোধ – পর্ব ৫

Now Reading
প্রতিশোধ – পর্ব ৫

 

হেমা রুমমেটদের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে এবং ২ টা স্টুডেন্ট পড়িয়ে যে টাকা পেত তা দিয়ে পরীক্ষা পর্যন্ত চলে।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আবার জব খুঁজা শুরু করে।
একটা জব পেয়েও যায়।
নতুন জব এ ঢুকার পর একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয়। ছেলেটার নাম হিমেল।হেমা ছেলেটাকে এড়িয়ে চলে। নতুন কোন ঝামেলায় আর নিজেকে জড়াতে চায় না।
একদিন হিমেল হেমার সামনে এসে দাঁড়ায়।

হিমেলঃ আমি জানি তুমি কেন আমাকে এড়িয়ে চলো।
হেমা ভয় পেয়ে যায়। যে ঘটনা থেকে দূরে থাকার জন্য এত দূর আসা তা এখানে ও তাকে তাড়া করছে!
হেমাঃ কি জানেন আপনি?
হিমেলঃ তুমি কেন ছেলেদের এড়িয়ে চলো তা।
হেমা চুপ করে আছে।
হিমেলঃ তোমার জীবনে এমন কিছু ঘটে গেছে যার জন্য তুমি দায়ী না। কোন অপরাধ না করেই তুমি শাস্তি পেয়েছিলে।
হেমাঃ আপনি কি করে জানলেন?
হিমেলঃ তুমি যেদিন এখানে জয়েন করেছো সেদিন তোমাকে দেখেই আমার ভালো লেগে যায়।তোমার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি।কিন্তু তুমি আমাকে এড়িয়ে গেছো।

তোমার সিভি থেকে তোমার বাড়ির ঠিকানা যোগার করে তোমাদের গ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে সবটা জানতে পারি।
ভেবেছিলাম তোমার বাসায় যাবো।কিন্তু পরে আর সাহস পাইনি।
হেমাঃ সবটাই তো জেনে গেছেন।এখনো আমার পিছনে পরে আছেন কেন?
হিমেলঃহুম সবটা জেনেছি।আর আমি জানি এতে তোমার কোন দোষ ছিলো না।তুমি শুধু শুধু নিজেকে এভাবে সব কিছু থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছো।

হেমাঃ মানে?
হিমেলঃ দেখো আমি সবটা জেনেছি এবং সত্যিটা জেনেছি।যে সত্যিটা তুমি সবাইকে বলেছো কিন্তু কিছু লোক ছাড়া আর কেও বিশ্বাস করেনি।আর আমি তোমার বলা সত্যিটা বিশ্বাস করেছি।
হেমা চুপ করে আছে।

হিমেলঃহেমা আমি আমার মা কে তোমার কথা বলেছি।তোমার সাথে যা যা ঘটেছে সবটা বলেছি।আমার মা বলেছে তোমাকে মেনে নিতে তার কোন সমস্যা নেই।তুমি চাইলে মা তোমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবে বলেছে।
হেমাঃ এসব জেনে ও তিনি রাজি হলেন?
হিমেলঃ হুম। মা শুধু একটা কথাই বলেছে,এর থেকে বেশি কিছু হলে ও মা তোমাকে মেনে নিতো।যে অন্যায় তুমি করোনি তার শাস্তি ও তুমি প্রাপ্য না।
হেমা হিমেলের দিকে তাকিয়ে আছে।
হিমেলঃতুমি ভাবার জন্য সময় নাও।ভেবে আমাকে জানিও।
এ কথা বলে হিমেল চলে গেলো।

 

হেমা কি করবে বুঝতে পারছেনা।নতুন কোন আঘাত হেমা সামলাতে পারবে না।হিমেলের বলা কথাগুলা বিশ্বাস করবে কিনা তাও বুঝতে পারছে না।এ ব্যাপারে কথা বলবে এমন কেউই নেই।

অনেক দিন হয়ে গেলো।হেমা হিমেলকে কিছু জানায়নি।
হিমেল ছেলে হিসেবে ভালো।কিন্তু হেমা ভয়ে হিমেলের সাথে কোন সম্পর্কে জড়াতে চায় না।
একদিন হিমেল হেমাকে বললো…

হিমেলঃহেমা তুমিতো আমাকে কিছু জানালে না।
হেমা হিমেলকে কি বলবে তা ভেবে পাচ্ছে না।
হিমেল হেমাকে অনেক বুঝানোর পর হেমা রাজি হলো।
হেমা হিমেলকে বললো ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা শেষ হলে তারপর হেমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে।
হিমেল ও রাজি হলো।
হেমা আর হিমেল এর জীবন ভালোই কাটছে।
হঠাৎ করে এলোমেলো হয়ে যাওয়া হেমার জীবন নতুন করে রং খুজে পেয়েছে।

ফাইনাল ইয়ার এর পরীক্ষা চলে আসলো।
হেমা আর হিমেল খুব খুশি।পরীক্ষা শেষ হলেই হিমেল ওর মা কে নিয়ে হেমার বাসায় যাবে।

হেমার পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো।
হেমার বাসা থেকে হেমাকে কল করে বলল যেনো ঐ দিনই হেমা বাড়ি আসে।

হেমা বাসায় জানালো ভাইবা পরীক্ষার পর বাসায় আসবে।কিন্তু হেমার বাবা কিছুতেই রাজি হলো না।ঐ দিনই বাসায় যেতে বললো।
বাবা অনেক জোর করার পর হেমা বাসায় যেতে রাজি হলো।
হেমা ভাবলো এখন তাদের কথা না শুনলে বাসা থেকে হিমেল কে সহজে মেনে নিবে না।

তাই ব্যাগ গুছিয়ে বাসার দিকে রওনা হলো।
বাসায় গিয়ে যা শুনলো তাতে হেমা নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।হেমাকে না জানিয়েই বিয়ের সব আয়োজন করে ফেলেছে।
হেমা কিছুতেই বিয়ে করতে রাজি হলো না।
বাবাঃএই বিয়েটা তোকে করতেই হবে।সমাজে মুখ দেখাতে পারছিনা।আর কোন ছেলেই তোকে বিয়ে করতে রাজি হয় না।ছেলেটা ভালো তাই তোকে বিয়ে করবে বলেছে।
হেমাঃকিন্তু বাবা আমাকে একবার জিজ্ঞেস ও করলে না? চিনি না জানিনা একজন কে কিভাবে বিয়ে করবো?
আর তাছাড়া আমি একজনকে পছন্দ করি।ও আমার সবটা জানে।আর জেনেই আমাকে বিয়ে করতে চেয়েছে।কিছুদিন এর মধ্যে আমাদের বাসায় আসবে বলেছে।বাবা তুমি বিয়েটা না করে দাও।এই বিয়েটা করা আমার পক্ষে সম্ভব না।

বাবাঃআমি ছেলেটা কে কথা দিয়েছি।বিয়েটা তোকে করতেই হবে।এমতেই তোর জন্য আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না।তোর জন্য নতুন করে আমি আর কারো কাছে অপমানিত হতে পারবো না।বিয়েটা না করলে এ বাড়ির কারো সাথে আর তোর সম্পর্ক থাকবে না।
হেমা সবাইকে বুঝাতে চেষ্টা করলো।কিন্তু কেও হেমার কথা শুনলো না।
বাধ্য হয়ে হেমা বিয়ে করতে রাজি হলো।
বিয়ে পড়ানোর সময় বর এর নাম শুনে হেমা চমকে গেলো।
হেমা দ্বিতীয় বারের মত ধাক্কা খেলো।হেমার সাথে এসব কি হচ্ছে?

 

চলবে….

প্রতিশোধ -পর্বঃ ৪

Now Reading
প্রতিশোধ -পর্বঃ ৪

 

বাসায় যাওয়ার পর সবাই হেমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পরলেন।এত দিন কোথায় ছিলো,কি ঘটেছে সব জিজ্ঞেস করছে।হেমা বাসায় সব কিছু খোলে বলল। হেমার বাবা তামিমের নামে থানায় কমপ্লেন করলো।
হেমাকে কিডন্যাপ করার অপরাধে তামিমকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেলো।
হেমার বাবা মা হেমার কথা বিশ্বাস করলেও সমাজের মানুষগুলা হেমার কথা বিশ্বাস করেনি। সবাই হেমার পিছনে খারাপ কথা বলে।
সমাজের শিক্ষিত এক শ্রেণীর মানুষ হেমা যে পবিত্র তার প্রমাণ দেওয়ার জন্য মেডিকেল টেস্ট করাতে বলল।
হেমার বাবা আর ভাই বাহিরে বের হলেই নানা কথা শুনে।সবাই তাদের উদ্দেশ্য করে নানা কথা বলে।লোকের এত বাজে কথা শুনতে শুনতে তারা বিরক্ত হয়ে গেলো।তাই তারা হেমার মেডিকেল টেস্ট করানোর কথা চিন্তা করল ।
কিন্তু হেমা রাজি হলো না।হেমা ভালো করেই জানে মেডিকেল টেস্ট করানো মানেই তার সম্মানের বলি দান।আর মেডিকেল টেস্ট এর রিপোর্ট সমাজের কয়েকজন ছাড়া অন্যান্যরা বিশ্বাস করবেনা।

অনেকদিন পর হেমা কলেজে গেলো।কলেজের সবাই কেমন একটা আচরণ করছে।
যে আকাশ বলেছিলো হেমাকে সে ভালোবাসে সে আজ হেমার দিকে কেমন করে তাকাচ্ছে। হেমা আকাশের কাছে গেলো।আকাশ চুপ করে আছে।হেমা আকাশের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।
হেমার মনে হচ্ছে আর সবার মত আকাশের চোখ কিছু জানতে চাচ্ছে।
হেমা আকাশের সাথে কথা না বলেই চলে গেলো।
এমন করে আর চলা যাচ্ছে না।
বাসার সবাই কেমন জানি অদ্ভুদ একটা আচরণ করছে। চলার পথে হেমাকে সাপোর্ট করার মত এখন আর কেউ নেই।
হেমা কয়েকবার আত্নহত্যা করার চেষ্টা করলো।কিন্তু পারল না।আত্মহত্যা করার মত এতটা সাহস হেমার নেই।
জীবনের কাছে,সমাজের কাছে হেমা হেরে যেতে চায়না।তাই নতুন করে জীবন শুরু করার কথা চিন্তা করল।
হেমা ভাবল কলেজ থেকে ট্রান্সফার হয়ে অন্য কলেজে চলে যাবে।যেখানে কেউ হেমাকে চিনবেনা।হেমাকে নিয়ে বাজে কথা বলবে না।
বাসায় এ কথা জানানোর পর বাসার সবাই রাজি হয়।কারণ হেমা এখানে থাকলে সবাই কথা শুনাবে। আর এ অবস্থায় হেমাকে বিয়ে দেওয়া যাবে না।সব কিছু ভেবে হেমার বাবা রাজি হয়ে গেলো।
ঢাকার বাইরে হেমার এক ফুফু থাকে।হেমা সেই ফুফুর কাছে চলে যাবে এবং সেখানকার কলেজ থেকে অনার্সটা শেষ করবে বাসা থেকে এমনটা ঠিক হলো।
হেমার ভাই কলেজ ট্রান্সফার এর সব ব্যবস্থা করে দিলো।হেমাকে ফুফুর বাসায় দিয়ে আসলেন।

হেমা আস্তে আস্তে নিজেকে নতুন কলেজে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।এখন আর আগের মত হাসেনা।আগের মত আর এতটা চঞ্চল নেই।কলেজের কারো সাথে মেশে না।
বন্ধুত্ব করতেও এখন হেমা ভয় পায়।এমন করেই কাটছে। দুই ঈদ ছাড়া বাড়িতেও যায় না।বাড়িতে যাওয়ার পর কয়েকটা বিয়ের প্রোপোজাল আসে।আবার তা ফিরেও যায়।অন্যের কথা শুনে কেউ আর ২য় বার আসে না।

ফুফুর বাসা থেকেই হেমা ২য় বর্ষের ফাইনাল দিলো

হেমার ফুফু কিভাবে জানি হেমার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা জেনে যায়।
ফুুফুঃ আমার কাছে এসব বলিসনি কেন?
হেমাঃ ফুফু আপনি যা ভাবসেন তা না।আমার সাথে এমন কিছু ঘটেনি।
ফুফুঃ সবাইকি তাহলে মিথ্যে বলছে?আমি তোকে আর বাসায় রাখতে পারব না।তুই তোর ব্যবস্থা করে নে।
হেমাঃ ফুফু আমার এখন ও ২ বছর বাকি অনার্স শেষ করতে। এখন আমি কোথায় যাব?
ফুফুঃ তুই এখানে থাকলে আমার মেয়ে বিয়ে দিতে পারব না।
এ কথা বলে ফুফু চলে গেলো।
হেমা বাসায় ফোন করে সবটা জানানোর পর হেমার বাবা হেমাকে বাসায় চলে যাওয়ার কথা বলে।
হেমা রাজি হয় না।
হেমার বাসা থেকে বলে অন্য জায়গায় থাকলে তারা পড়ার খরচ চালাতে পারবে না।
হেমা ফুফুকে অনেক বলে ফুফুর বাসায় কিছুদিন থাকার অনুমতি পায়।
এখন হেমার একটাই কাজ।একটা জব খোঁজা।
কয়েকদিন খোঁজ করার পর একটা পার্টটাইম জব পেল।তাও যে কোন সময় চলে যেতে পারে।
এক ক্লাসমেট এর সাহায্যে লেডিস হোস্টেল এ থাকার মত একটা ব্যবস্থা ও করল।রুমটাতে হেমা ছাড়া ৩ জন মেয়ে আছে।
ফুফুর বাসা থেকে সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে চলে আসার সময় ফুফু হেমাকে জিজ্ঞেস করল কোথায় থাকবে?
হেমাঃ চলে যাওয়ার কথা বলার সময় একবার ও ভাবেননি কোথায় থাকব। এখন জেনে কি করবেন?
এ কথা বলে হেমা বের হয়ে গেল।

হোস্টেলে এসে সব কিছু আবার নতুন করে গুছিয়ে নিচ্ছে।

নতুন জবে জয়েন করেছে।তাছাড়া হোস্টেলের কাছে ২ টা বাচ্চাকে পড়ায়।জবটা যে কোন সময় চলে যাবে।তাই নতুন জবের ও খোঁজ রাখছে।
বাড়িতে ফিরে না যাওয়ায় বাসা থেকে হেমাকে কোন খরচ দেয়না।বাসা থেকে কেউ খোঁজও নেয়না।হেমা ফোন করলেও সবাই খারাপ ব্যবহার করে।
হেমা এখন কলেজের কারো সাথে তেমন কথা না বললেও রুমমেটদের সাথে টুকটাক কথা বলে।
হেমার রুমমেটরা প্রায়ই জানতে চায় হেমা এমন চুপচাপ থাকে কেন?
হেমা তখন এড়িয়ে যায়।

হেমার থার্ড ইয়ার ফাইনালের আগে জবটা চলে যায়।
সামনে পরীক্ষা এমন সময় জব চলে যাওয়ায় হেমা সবকিছু অন্ধকার দেখে।এখন জব খোঁজবে কি করে?

 

চলবে….