সেই মেয়েটির প্রেম -১ম পর্ব

Now Reading
সেই মেয়েটির প্রেম -১ম পর্ব

সেই মেয়েটির প্রেম
-বিপ্লব হোসেন মোল্লা

হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছে । চারিদিক অন্ধকার । নির্জন জঙ্গল ,কোথায় মানুষের ছায়া দেখা যায় না । দমকা হাওয়া শুরু হলো । আকাশে বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করলো । গুড়ুম গুড়ুম শব্দ । আমার বুকের মাঝে কেমন একটা অনুভূতি হচ্ছে । বোঝার কেন উপায় নাই । আমি সবার সঙ্গে থাকতে ভালবাসি কিন্তু আজ একা । হঠাৎ একটা শব্দ শুরু হলো । কি ভয়ংকর ? এদিক ওদিক ছোটাছুটি শুরু করলাম । বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে শুরু করলাম । আম গাছের ওপর থেকে একটা মেয়ে মাটিতে আচড়ে পড়লো এবং হা হা করে হাঁসতে শুরু করলো । বলল, বোকা ..আবার হাঁসতে শুরু করলো । ভয় পেয়েছ ?ছি এত বড় ছেলে ভয় পেয়েছে ! বলে একপা তুলে নাচতে নাচতে যাওয়া শুরু করলো । আমিয়ো তার পিছু নিলাম ।
আমার পিছে আসছো কেন ? আমি বললাম, না এমনি ।
কখন জানিনা এক পলকেই মেয়েটি অভিরুপের মন কেড়ে নিয়েছে । অভিরুপ মাথার চুল গুলো হাত দিয়ে এলোমেলো করতে শুরু করলাম । একটি অন্যরকম মানসিকতা । মুখে বলে বোঝানো যায় না । এমন মেয়ে অনেক দেখেছি তবে কখনো এমন ভাল লাগেনি । সন্ধ্যাও ঘনিয়ে এসেছে ,কোথায় গিয়ে রাত কাটাবো ,এটাও ভাবতে হচ্ছে । মেয়েটির পিছু পিছু যেতে যেতে ,মেয়েটিকে আর দেখা যায় না । পাশে অবস্থিত একটা বটবৃক্ষের নীচে বসে ভাবছে ,কোথায় যাবো? কোথায় থাকবো ?ভাবতে ভাবতে একটা লোক অভারুপকে জিঙ্গাসা করল,
কে তুমি? কার বাড়ি এসেছো ?
– জি কারো বাড়ি না ।
তবে ?
– হঠাৎ আসতে আসতে পথ হারিয়ে ফেলেছি ।
এখন কোথায় যাবে ?
-জি
আমার সঙ্গে এসো ।
আপরিচিত হলেও ,লোকটির সঙ্গে যেতে সংকোচ করলাম না অভিরুপ । লোকটির পিছু পিছু হাটিতে থাকলো ।লোকটি চিৎকার দিতে শুরু করলো । অভিরুপের ভয় হলো । ভাবলো আমার সঙ্গে হয়তো খারাপ কিছু হতে যাচ্ছে ।শেষে লোকটি বলল,
‘মা’ লাবণ্য ,এখানে এসো ! এই পরদেশীকে ঘরে নিয়ে যাও ।
একটি মাটির ঘর , উপরে খড় দেওয়া । অভিরুপ ঘরের ভীতর প্রবেশ করিলাম । মেয়েটি অর্থাৎ লাবণ্য ,একটি থালায় করে কিছু মুড়ি দিয়ে অভিরুপকে বলল,
খেয়ে নেন !
-উ ।
কিছু ভাবছেন ?
না না ।অভিরুপ বলল ।
লাবণ্য অভিরুপকে মুড়ি দিয়ে ঘর থেকে বাহির হয়ে গেল । অভিরুপ খেয়ে ,ঘরের বাইরে গিয়ে দেখলাম ,বাড়িতে কোন লোক নাই । ভয়ে অভিরুপের বুকটা কেঁপে উঠলো । হঠাৎ দূর থেকে একটা ঢোলের শব্দ ভেসে আসছে । অভিরুপ সেখানে গেল । সেখানে গানের আসর বসেছে । শিল্পি হিসেবে লাবণ্য গান করিতেছে । লাবণ্যর কন্ঠে গান শুনে আবারো ,লাবণ্যর প্রেমে পড়ে গেল অভিরুপ ।লাবণ্য ,লাবণ্যর বাবা ও অভিরুপ একসঙ্গে বাড়িতে আসতেছি । প্রথমে লাবণ্যর বাবা মহির মিয়া , তাহার পিছৈ লাবণ্য ,র্সবশেষে অভিরুপ । লাবণ্যর বাবা বলল,
বুঝলে পরদেশী ; গান দেহের খুরাক । গানের মাঝে খুজলে সবি পাওয়া যায় ।
অভিরুপ বললাম, জি ।
কি করা হয় ? কাম কাজ তো কিছু করো ।
আমি লেখাপড়া করি । আর মাঝে মাঝে সিনেমার কথা লিখি ।
‘মহির মিয়া ‘ একটু দ্রুত হাটতেছে । অভিরুপ সুযোগ পেয়ে লাবণ্য’র হাত ধরে ,মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরল । লাবণ্য’র মুখ ভয়ে লাল হয়ে গিয়েছে । লাবন্য দ্রুত শ্বাস নিতে শুরু করেছে । আর ছোটফোট করতে লাগলো ।লাবণ্যের মুখ ছেড়ে দেওয়া মাত্র ..
এ কি করছেন ? সামনে বাবা । হাত ছাড়ুন !
-তোমাকে একটা কথা বলার আছে ।
ওসব কথাতথা বাদ দেন ! আপনি পরদেশী । আজ আছেন কাল সকাল হলে আর থাকবেন না ।
-কথাটা তো শোন ।আমি তোমাকে ভালবাসে ফেলেছি ।
ভুলে যান । বলে লাবণ্য চলে গেল । বাবার হাত ধরে হাটছে লাবণ্য । অভিরুপ নিজেকে শান্ত রাখল এবং লাবণ্যর পাশাপাশি হাটতে থাকল । জঙ্গলের পথ ধরে হাটছে । হঠাৎ করে একদল ডাকাত সম্মুখে হাজির । তারা লাবণ্যের দিকে কুদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো এবং লাবণ্যের উপর হামলা করল । লাবণ্যের বাবাকে ডাকাত দলের একজন লাঠি দিয়ে মেরে মাটিতে ফেলে দিয়েছে । অভিরুপ হাত-পা ছুটিয়ে তাদের সঙ্গে মারামারি করল । তারা পরাজিত হলে তবে ,অভিরুপের ক্ষতি কম হয়নি ! কপালের ডান পাশটা ছিড়ে গিয়েছে । লাবণ্য তাহার শাড়ী ছিড়ে অভিরুপের মাথায় বেঁধে দিল । এপর বাড়িতে আসল । সকাল হয়ে গেল ,এবার অভিরুপের নিজের বাসায় যাওয়ার সময় । সকলকে বিদায় দিয়ে অভিরুপ হাটা শুরু করল । লাবণ্য দূর থেকে অভিরুপের দিকে তাকিয়ে আছে । অভিরুপের মাথায় বাঁধা শাড়ীর অংশটিকে ছাড়েনি ,সঙ্গে করে নিয়ে হাটছে এবং তা হাতের উপরে নিয়ে,হাত মাথার উপরে তুলে লাবণ্যকে দেখাল । লাবণ্য অভিরুপের পিছে হাটতে শুরু করলো । মেন রাস্তায় এসে অভিরুপ গাড়িতে উঠেছে , গাড়ি চলতে শুরু করেছে,সেই সময় লাবণ্য চিৎকার দিয়ে অভিরুপকে বলল,
পরদেশী … আমি তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি ।
অভিরুপ শুনতে পেয়ে গাড়ি অর্থাৎ বাস থেকে নেমে দৌঁড়াতে শুরু করল । লাবণ্য বিপরীত দিক হতে দৌঁড়াতে শুরু করল । দুজন এক জায়গায় এসে দুজন দুজনকে চাপটে ধরলো ।
অভিরুপ বলল, লাবণ্য…এই কথাটা বলতে এত দেরি ।
-উপায় কি বলো ,পরদেশী ? তুমি তো চলে যাচ্ছো ,আমার কি হবে ভেবেছ ?
কেঁদো না । আমি কয়েক দিন পরে চলে আসবো । তুমি ভাল থেকো !
বলে পরদেশী অভিরুপ চলে গেল । লাবণ্য বাড়িতে চলে । বাড়ি গিয়ে লাবণ্য তার বাবার মাথায় হাত দিয়ে বলল,
আচ্ছা বাবা পরদেশী কি আবার আসবে ?
-নারে মা । পরদেশীরা বছরে দু একবার আসে; আবার চলে যায় । আনন্দ নিতে আসে ,নিয়ে চলে যায় ।
না বাবা । এই পরদেশী অন্য পরদেশী থেকে অনেক ভিন্ন । দেখ বাবা পরদেশী আবার আসবে ।

বলে নদীর দিকে রওনা হলো । সেখানে তার বান্ধবী ‘করিমন’র সঙ্গে দেখা হলো

করিমন বলল, কিরে সই এত উদাস কেন ? মন চুরি হইছে ?

 

বৃদ্ধা মায়ের আহাজারি

Now Reading
বৃদ্ধা মায়ের আহাজারি

মা শব্দটি সঙ্গে সকল ব্যক্তিই পরিচিত । প্রত্যেক ব্যক্তিই মায়ের গর্ভে জন্ম লাভ করিয়া থাকে । মায়ের রক্ত মাংস সেবন করিয়া জীবনধারন করিয়া থাকে । মায়ের গর্ভে তিলে তিলে বড় হয় । দশমাস দশ দিন মা একটি শিশুকে উদরে রেখে ,প্রশবযন্ত্রনা নিয়ে শিশুটিকে পৃথিবীর আলো দেখায় । হাটিহাটি পা পা করিযা বড় করিয়া তুলে ।মা একটুও মাত্র বিচলিত হয় না । কেননা , শিশুটির মুখ হইতে অমূল্য ‘মা’ ডাক শোনার জন্য । তবে কেন ‘মা’ নামের প্রায় প্রেত্যেক নারীকে ছেলের বা ছেলের বউ এর অমানুষিক অত্যাচার সহ্য করিতে হয় ? কেন দিন ভরে অনাহারে থাকিতে হয়?
যাহা বলিতে সংকোচ হইলেও বলিতে দিধা থাকে না যে ,ছেলেরা বউ ওর আচলের নীচে চাপা পড়িয়া বয়। বউ তখন তাহার সবকিছু হইয়া যায় আর মা হয়ে উঠে কাজের মানুষ । তবে কেন ? এই প্রশ্নটা আমি পৃথিবীর সকল বিবেকমান মানুষের জন্য রাখিয়া দিলাম ।

“বৃদ্ধা মায়ের আহাজারি” এই উদ্দেশ্যে লিখিলাম যে , আমার এক প্রতিবেশি বৃদ্ধা মহিলার আত্নজীবনী সম্পর্কে জানলে সকলের চোখে পানি না আসলেও ,চোখে পানি আসতে বিন্দুমাত্র বাকি থাকিবে না । দুই সন্তানের জননী নাম “আন্জুমা” । দুই ছেলের একমাত্র জননী আন্জুমা । তাহার বয়স প্রায় ৬৫-৭০ বছরের কাছাকাছি বা উদ্ধে । খুব অল্প বয়সে তাহার বাবার ঘরের ভাত পেটে সহ্য হয়নি । আমাদের সমাজে সাধারনত মেয়েদের বোঝা ভাবা হয় । কেন?সেই কারণেই বাবা আন্জুমা’র বিবাহ দিয়া দিল পাশের গ্রামে । সেখানেই তাহার সংসার জীবন শুরু । একের পর এক নিয়মিত ভাবেই দুইটি সন্তানের জননী হয়ে উঠলো । এখন বর্তমানে আন্জুমান সাত সন্তানের জননী । অবাক হবার কিছুই নাই । কেননা আন্জুমানের বিবাহ হয় এক বিবাহিতা পুরুষের সঙ্গে । যাহার দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে প্রথম স্ত্রী মারা যায় ।আজ আন্জুমান বড়ই অসহায় । কারণবসত চোখের আলো হারাইয়া প্রায় অন্ধ । চোখে দেখেনা । লাঠি নিয়ে চলাফেরা করে । কখনো কখনো মাটিতে পড়ে গড়া দেয় । তাহার চোখে আলো নাই এছাড়া কি হইবে তাহার জীবনে ? বাবার ঘর হইতে স্বামীর ঘরে এসে সে কখনো সুখের মুখ দেখেনি ।আজ সে বড় অসহায় ,সাহায্য করার মত কেউ তাহাকে সাহায্য করে এগিয়ে আসেনা । বাকি রইলো তাহার জন্ম দেওয়া দুই ছেলে । পূর্বেই বলেছি ,ছেলেদের বিয়ে হয়ে গেলে বউ এর আচলের নীচে চাপা পড়ে যায় । এরাও তার ব্যতিক্রম নয় । একটি মাত্র মা , দিন একটি । দিনে খাবার সময় তিনটা ।যদি মনে করা যায় দুই ছেলের নিকটে দিনে তিনবার করে খেলে ,ছয় বার খাওয়া হয় ।কিন্তু দিনে তাহার পেটে ছয়বার তো দূরের কথা ,তিনবারও খাবার জোটেনা আন্জুমা’র পেটে । তাহাকে পালা করে খেতে হয় । পালা বলিতে ,একবার এই ছেলের কাছে একবার অন্য ছেলের কাছে । পর্যাক্রমে একমাস পর পর । পেট ভরার মত পর্যাপ্ত খাবার পায় না , পরিধানের মত পোশাক পায়না ,মাথায় দেবার মত নারিকেল তৈল পায় না । এই কি বৃদ্ধা মহিলার সাজ ? আজ আন্জুমা আর মা ডাক শেনে না । ছেলে ঠিকমতো কথা বলে না । মায়ের খোজ করে না ।মায়ের অবস্থার অবনতি দেখে জিঙ্গাসা করে না ,মা তুমি কেমন আছো ? একমাস খাবার পর বড় ছেলের নিকট হতে ছোট ছেলের নিকট অসেছে আন্জুমা । ছোট ছেলে আর্থিক দিক থেকে সচল নয় । আন্জুমা আজ না খেয়েই দিন কাটায় । দিনের প্রথম ভাগে পান্তা ভাত ,মধ্য জোগাড় হয়কি না ঠিক নাই ,দিনের শেষে হাল্কা খেয়েই রাত কাটায় । আবার সকাল হয় ,সূর্য উঠে ,অন্ধকার দূর হয় কিন্তু আন্জুমা’র জীবনের সূর্য তো উঠে না । বৃদ্ধা হলেও পূর্বের চেহেরা হারিয়েছে । হায়িয়েছে নতুন দিনের পথচলা । সন্তানেরা তার পূর্বের দিন গুলো মনে করে না । মায়ের কথা ভাবে না ।
আন্জুমা একটা কথা বলে শুরু হয় ছেলের বউ’র সঙ্গে ঝগড়া । ঘর হইতে বাহির করিয়া দেয় । খেতে না দেওয়ার ভয় দেখায় । তবে কেন? বউয়েরা কি একটুও ভাবে না যে , তাহারও মা আছে । তাহারে জীবন আছে । তাহার মায়েরও এমন অবস্থা হইতে পারে । আধুনিক যুগে এমন অবস্থার সম্মুখে প্রায় সকল বৃদ্ধা বাবা-মা’কে পড়তে দেখা যায় । আচ্ছা এই পরিনতির কি অবসান ঘটানো যায় না? বৃদ্ধাদের প্রতি একটু সহনভূতিশীল হওয়া যায় না ? মানুষ আজ আছে কাল নেই তবে কেন ,এত অহংকার ? কেন এত অমানবিক কাজ র্কম ? ছেলেরা কি বউ’র হাতের পুতুল ?আন্জুমা’র কি হবে তা হয়তো কেউ জানেনা ,তবে পৃথিবীর প্রত্যেক দেশে আন্জুমা’র মত হাজারো আন্জুমা রয়েছে । যাদের পরিনতি প্রায় এক ।

মা সন্তান জন্ম দেয় উপরিক্ত কিছু পাওয়ার জন্য না । সমাজে সুখে, সুন্দর ভাবে জীবন কাটানোর জন্য । আর সন্তানেরা কি করে ? পিতা-মাতা উপর তার যে দায়িত্ব ,তা থেকে পিতা-মাতাকে বঞ্চিত করে । সম্পর্কের বাধন ছিন্ন করে । মা’কে চাকরের মত খাটিয়ে নেই । এটাই কি সন্তানের দায়িত্ব? আমার এই লেখনি ,কাউকে উদ্দেশ করিয়া লিখি নাই । যাহারা মায়ের প্রতি এইরুপ আচরন করে তাহাদের উদ্দেশ্য করিয়া বলিলাম । যদিও সে ব্যক্তি সমাজের কোন উচ্চ আসনেও অবস্থান করিয়া থাকে ।মা সন্তান জন্ম দেয় উপরিক্ত কিছু পাওয়ার জন্য না । সমাজে সুখে, সুন্দর ভাবে জীবন কাটানোর জন্য । আর সন্তানেরা কি করে ? পিতা-মাতা উপর তার যে দায়িত্ব ,তা থেকে পিতা-মাতাকে বঞ্চিত করে । সম্পর্কের বাধন ছিন্ন করে । মা’কে চাকরের মত খাটিয়ে নেই । এটাই কি সন্তানের দায়িত্ব? আমার এই লেখনি ,কাউকে উদ্দেশ করিয়া লিখি নাই । যাহারা মায়ের প্রতি এইরুপ আচরন করে তাহাদের উদ্দেশ্য করিয়া বলিলাম । যদিও সে ব্যক্তি সমাজের কোন উচ্চ আসনেও অবস্থান করিয়া থাকে । কেননা সে সন্তান মা’কে সম্মান দিতে পারে না সে সন্তান পৃথিবীর উচ্চস্থানে বসিয়া , উচ্চ মর্যাদা নিয়া বেঁচে থাকিতে পারে না । মানুষ একে অন্যের পরিপূরক । তার সুকর্ম ও কুকর্মের সাজা তাকেই পেতে হবে । অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করিবে না ।প্রত্যেক নর-নারীর উচিত যাহার যে স্থান,তাহাকে সেই স্থানে বা মর্যাদায় পদারর্পন করানো । পৃথিবীতে মহান আল্লাহর পর পিতা-মাতার অবস্থান । তাহারা যেন কোন কারণে কষ্ট না পা তাদের দায়িত্ব তার সন্তানের এবং ছেলের পর তার স্ত্রী’র ।পৃথিবীর সকল মাকে যদি যোগ্য স্থান প্রদান করা হয় তাহলে, পৃথিবী অনেক পরিবর্তন হবে । বৃদ্ধ মায়েরা বেঁচে থাকার সাহস পাবে । বৃদ্ধাদের মর্যাদা রক্ষাত্রে সন্তানের প্রতি ,দেশেষ সরকার নতুন ণীতি বা অাইন তৈরি করেন ,তাহলে পৃথিবীর প্রতি সবচেয়ে সুকর্ম বলিলা বিবেচিত হইবে ! অর্থা মানব জগৎতে শ্রেষ্ট নেতা-নেত্রী বলিয়া মানিয়া নিতে কাহারও কোন দিধা থাকিবে না ।

ছোট প্রেমের গল্প-১ম পর্ব

Now Reading
ছোট প্রেমের গল্প-১ম পর্ব

ঈশ্বরের ইচ্ছাক্রমে এই পৃথিবী ধাবিত হয় । অাকাশে সূর্য দেখা দেয় ,বাগানে ফুল ফোঁটে , পাখি গান গাই এই সবি ঈশ্বরের ইচ্ছাক্রমে ধাবিত হয় ।মানুষ মানুষকে ভালবাসতে শুরু করে ,মেঘ থেকে বৃষ্টি হতে পারে ,নদীতে জোয়ার ভাটার সৃষ্টি হতে পারে এসবি ঈশ্বরের কৃপার কারণে হয়ে থাকে । মানব মনে কখন প্রেমের অানাগেনা শুরু হয় তা বলা খুবি কষ্টের ব্যাপার । কেননা যদি বলা যেত তাহলে, ঈশ্বরের কৃপা ও ঈশ্বর অাছে বলে একথাটি মানুষ ভুলেই যেত !লেখকের নিকট বাস্তবতা সবচয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ন । লেখক কলম ধরে বাস্তবতাকে জনসম্মুখে উনমোচন করার জন্য , অামিও এর বাইরে নয় । গ্রামে এক ছোট ছেলে বাস করিতো । বয়স ১৩ কিংবা ১৪ হইতে পারে অাবশ্যক ।ছেলেটি নিয়মিত স্কুলে যেত। স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পর ,অার কেউ ছেলেটিকে দেখিতে পেত না । কারণ ছেলেটি স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পর লেখা লেখি নিয়ে ব্যস্ত থাকিতো । বন্ধুদের সঙ্গে সময়ও কাটাতো তবে ,সপ্তাহে দুই-এক দিন । দিনের শেষের ভাগে । একদিন স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পর ছেলেটি জানতে পারিলো ,যে তাহার মামার বিয়ের জন্য ,মায়ের সঙ্গে মামা বাড়ি যেতে হবে ।ছেলেটিকে তাহার মা নাম ধরে ডাকিলে ‘বিপু’। বিপু মায়ের ডাকে সাড়া না দিয়ে মায়ের সম্মুখে হাজির । মা ও বিপু মামার বাড়ি গিয়ে পৌঁছালো । অনেক লোকের ভিড়ে বিপু নিজেকে সামলাতে পারছেনা । কেননা বিপু এর অাগে হয়তো লোকভর্তি কোন বাসায় গিয়ে এমন পরেবেশে পরেনি ।এখান থেকে হয়তো তাহার প্রেমের সম্পর্ক শুরু হইতে পারে । মামার বাড়িতে কালো রঙ্গের ছালোয়ার পরিধান অবস্তায় একটি মেয়েকে দেখতে পেল । শুরু হলো পরিচয় বিনিময় । মেয়েটিকে দেখে বিপুর ভাল লেগেছে । মেয়েটির নাম বিন্নি ।

বিন্নিকে বিপু জিঙ্গাসা করিলো,” তোমার একটা ফটো তুলবো”? বিন্নি মাথা নাড়িয়ে না বলে বিপুর সম্মুখ হইতে পালায়ন করিল ।বিপু আবারো বিন্নির সম্মুখে গিয়ে ফটো তুলতে চাইলো ।বিন্নি সম্পর্ক বিপুর মামাতো বোন । একটু দূরের । ফটৌ তোলাতে গিয়ে বিন্নির মায়ের সঙ্গে দেখা হলো বিপুর ।কোন প্রশ্ন ছাড়ায় বিপুকে  ফোট তোলার অনুমতি দিল মামিমা । ফটো তুলিলো । বিয়ের অনুষ্ঠান প্রায় শেষ । বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হলো । দুজন দুজনের বাসায় চলে গেল।  মাস ছয়েক পল বিপু ,বিন্নির সঙ্গে যোগাযোগ করিলো ।

বিন্নি ভাল অাছো ? আমাকে চিনতে পারছো? হযতো চিনতে নাও পারো! বিন্নি জবাবে বলিল , চিনতে পারবো না কেন ? অাপনি তো বিপু ভাইয়া ,তাই না ? বিপু মনে মনে মুচকি হাসিলো অার বলিলো ,তাহলে মনে রেখেছে অামাকে ! কি করছো ? খেয়েছো ? হ্যাঃ ভাইয়া ,অাপনি ? বিপু উত্তর না দিয়ে অাবার একটি প্রশ্ন করিবে বলিয়া সিদ্ধান্ত নিয়াছে । প্রশ্নটি হইলো ,ভান ধরিয়া বিপু ,বিন্নিকে বলিল, কি করে যে বলি ? বলতে পারছিনা তবুও বলতে  হচ্ছে ,তুমি কি অামাকে পছন্দ করো ?বিন্নি , হ্যাঃ করি । কেন করবো না ? অাপনিতো অার দেখতে অসুন্দর না। সুন্দর ,খুবই সুন্দর । তখন বিপু কোন দিধা ছাড়ায় বলিয়া  দিল , তুমি কি অামার জীবনের অাগামী দিনের  সঙ্গী হবে ? বুঝলাম না ভাইয়া , বিন্নি বলিল ! বলছি যে অামি তোমাকে ভালবাসি  !

ঐকথা বলিয়া বিপু  ফোন কাটিয়া দিল  , এবং বিন্নির  নিকট হইতে ফোন অাসার অপেক্ষা করিলো । সেই দিনটায় অার ফোন অাসিলো না । এক সপ্তাহ ,দুই  সপ্তাহ করিয়া এক মাস পার হইয়া গেল ,কিন্তু বিন্নির নিকট হইতে কোন ফোন অাসিলো না ।  বিন্নি হয়তে বিপুকে ভুলিয়া গিয়াছে,বিপু ভাবিলো । বিন্নিকে বিপু প্রথম ভালবাসিয়াছে । আন্তর অঙ্গের ভালবাসা নিয়া বিপু ছয় মাস অতিক্রম করিল ।

হঠাৎ আপরিচিত একটা ফোন হইতে বিপুর ফোনে ফোন অাসিলো !হ্যালোঃ ভাইয়া । ভাল অাছেন  ? বিপু বলিলো হ্যাঃ ভাল তুমি হঠাৎ , মনে করে ?বিন্নি বলিল, ওই যে অাপনি একটা কথা বলেছিলেন না ,ওটা সম্ভব না  । বিপু বলিল, কেন?  বিন্নি বলিল, অামি এসব পছন্দ করিনা  । বিপু অবাক হয়ে বলিল , অাচ্ছা ঠিক অাছে । তোমাকে যে অামি একথা বলেছি মামা-মামি যেন না জানে ! জানলে হয়তো তোমাদের অামাদের যে সম্পর্ক সেটা নষ্ট হতে পারে । তুমি যেন বলো না ! বিন্নি যথাসাধ্য বিপুর কথা রাখিলো ।কাউকে একথা বলিলো না , পার হয়ে গেল অাবার একটা বছর । দুজনের দেখা হয়নি একটি বছর । হঠাৎ  বিপু অানন্দ ভ্রমনে গিয়াছে বিন্নির পাশের গ্রামে এক ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন করতে । ঐতিহাসিক স্থানের সমস্থ কিছু দেখতে দেখতে সন্ধ্যা হয়ে গিয়াছে । বিপু রাত কাটালো বিন্নির বাসায়।মামিমা বিপুকে জামায় ভোজন করে খাওয়ালো ।

বিপু বাসায় অসিলো । একদিন পর বিন্নি ফোন করিলো বিপুর নিকটে ।বিন্নিকে দেখে এসে বিপু অাবারে প্রস্তাব দিলে বিন্নিকে । বিন্নি এবার সাদরে গ্রহন করিয়া নিল ।কেননা কোন প্রেমীক প্রেমীকার দেখা বা কথা না হলে সেই প্রেম স্থায়ী হয়না ।বিন্নি বলিল, অামি অাপনাকে অনেক ভালবাসি ।তবে সে দিনটায় অামি অাপনাকে বলতে পারিনি । তখন নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিল ।তবে অাজ বলছি অামি অাপনাকে ভালবাসি । বিপু সাদরে গ্রহন করিলো , অার পিছু পা হইলো না । বিপু বিন্নির প্রেমের প্রথমাংশ শুরু হলো ১ বছর ৬ মাস পর ।তবে সেটা কতদিন স্থায়ী হবে ।বেশ কিছু দিন  ভাল ভাবেই কাটিলো তাদের প্রেমের  দিনগুলো ।অাবারো ৬ মাস পর বিন্নি অাসিয়াছে বিপুর মামার শ্বশুর বাড়ি , বিপুর বোন্‌ও গিয়াছে। বিন্নি বিপুর বোনকে তাদের প্রেম সম্পর্কে এমন একটা কথা বলিয়া বসিলো যে, তাহার  প্রেমের  আঘটন ঘটিতে একটুমাত্র বাকি থাকিবে না …

এই ভিন্নজগৎতে ভিন্ন রুপ

Now Reading
এই ভিন্নজগৎতে ভিন্ন রুপ

আনন্দের সময়

-বিপ্লব হোসেন মোল্লা

 

বাংলাদেশের ছোট একটা জেলা চুয়াডাঙ্গা। এখানে বসবাস করে নানান জাতের মানুষ । তাদের নৈতিক দায়িত্ব মাঝেমাঝে ভিন্ন দেখা দেয় । চুয়াডাংগা জেলার এক পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ,মাথাভাঙ্গা নদী । সেখানে রোজ সকালে মাঝি ও  জেলের অাবিরভাব হয় ,কেননা পেটের জন্য অন্ন প্রয়েআজন ,তার জন্য প্রয়োজন নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র ।সকালে যে যার মত নিজের কাজে অংশগ্রহন করে । ফাল্গুন মাসের মধ্যভাগে মনের শীতল অনুভূতির জন্য  প্রায় সকলেই   আনন্দ উপভোগ করতে বিভিন্ন স্থানে যায় ।সকালবেলা পান্তাভাত খাইয়া ,বই-পত্র লইয়া স্কুলে রওনা হলাম । স্কুলটির নাম ” কুতুবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়” ।অামি অামার কয়েকজন বন্ধু ও শ্রেণীIMG_14345832331132.jpeg শিক্ষক মিলে শিক্ষাসফরে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিলাম ।প্রধান শিক্ষকের নিকট একটা অাবেদন করা হলো ,অনুমতি পেলাম  । কয়েক দিন পর শিক্ষাসফরে যাওয়ার জন্য বাস ভাড়া করা হলো । সকলে যাওয়ার জন্য প্রস্থুত ।রাত ৮ টার সময় যাওয়া শুরু করবো স্বপ্নপুর ও ভিন্নজগৎতের উদ্দেশ্যে ।বন্ধু-বান্ধব সকলেই এসে হাজির । তবে সেই সময় সকলের একটাই ভয় হয় যদি, পথের মাঝে কোন সমস্যা হয় । তাই নিকটস্থ ডাক্তারের কাছ থেকে” ডমপেরিডম” নামক এক ধরনের ঔষধ নিয়ে বাসে উঠলাম । একটি খেয়েও নিলাম । সকলের উপস্থিতিতে ঠিক সময যাত্রা শুরু করলাম । রাতের আধারে সে যেন ওক অন্যরকম রুপ । এর অাগে আর কেউ কখনো রাতে ভ্রমন করে নি ,এই প্রথম । দ্রুত গতিতে বাস যখন চলে তখন ঠিক কেমন হয় তা তো অাপনারা জানেন । রাতে বাস যখন বিটের উপর উঠে তখন মনে হয় যেন,মাজা ভেঙ্গে গেল । ঠিক গন্তব্য স্থানের কাছাকাছি  ভোর বেলা কুয়াশায় চারিদিক ঢেকে গিয়েছে দুই হাত অাগে কি অাছে দেখা যায় না । তখনি বন্ধুরা গান শুরু করলো ,কেউ কেউ নাচতে শুরু করলো । অামি গায়ে গরম পোশাক জড়িয়ে দেখতে থাকলাম । সকাল ৮ টার সময় ভিন্নজগৎ গিয়ে বাসটি দাড়াইলো । সকলে বাস থেকে নেমে যার যার মত ফ্রেশ হয়ে ,নাস্তা করলাম । সকাল ১০ টা  ।ভিন্নজগৎতে মানুষের তৈরিকৃত একটি গুহা রয়েছে  সেখানে  অাগে পরিদর্শন করবো । গুহার ভিতর যেতে একটু ভয় করলো কেননা গুহায় ঢুকতে একটা বিশাল মানুষের মাথা । মানুষের মাথার ভিতর দিয়ে গুহায় প্রবেশ করলাম ।গুহার ভিতরটা একটু অন্ধকার হলেও সেখানসে রয়েছে দেখার মত কত জিনিস । লাঙ্গল কাঁধে নিয়ে কৃষক মাঠে যায়  । বিভিন্ন মাটির তৈরি সরাঞ্জাম ।কাঁকে কলসি নিয়ে গায়ের বধু নদীতে জল অানতে যায়  । গুহা অতিক্রম করে বের হলাম ,দেখলাম  বিভিন্ন ধরনের ফুল গাছ  । দূর থেকে দেখতে পেলাম একটা  উড়োজাহাজ ।ভাবলাম জীবনে প্রথম সরাসরি উড়োজাহাজ দেখাল সুযোগ বুজি হলো । উড়োজাহাজের  নিকট গিয়ে দেখলাম যে উড়োজাহাজের  মত মডেল। অাসলেই দর্শনার্থীর উপভোগ করার জন্য ,একটা মেশিনের অংশকে কাজে লাগিয়ে  চলা ।ভিন্নজগৎতের সমস্থ কিছু দেখে বেড়িয়ে পড়লাম স্বপ্নপুরের উদ্দেশ্যে । স্বপ্নপুর এসে পৌঁছালাম । ঢুকতেই একটা বিশাল বড় গেট । ভিতরে প্রবেশ করলাম । ভিতরে বিভিন্ন দোকান । সেখানে গিয়ে কিছু কেনা-কাটা করলাম । দুপুরে খাওয়া শেষ করে দেখতে লাগলাম স্বপ্নপুর । স্বপ্নপুরন বলতে সত্যিই স্বপ্নপুর । মাছের মুখ দিয়ে পানি বার হয় এর অাগে কখনো দেখিনি ,পানিতে নৌকায় চড়ে পা’য়ে পেডেল করা যায় তাও কখনো দেখিনি । একটা সাদা ঘোড়া দেখলাম । সবচেয়ে যেটা ভাল লাগলো স্বপ্নপুরের সারর্কাস । সে কি অন্যরকম দূশ্য ,খাঁচার ভিতর মটর সাইকেল চলে,আগুন মানুষে গিলে খায়,ইয়া বড় বড় মানুষ ইত্যাদি সে এক অপরুপ দৃশ্য ।

 

স্বপ্নপুর গিয়ে যে শুধু অানন্দ উপভোগ করেছি তা নয় । একটু বিপদে পড়ে বিষাদ অনুভোব করেছি । এর অাগে কখনো শহরের মানুষ সম্পর্ক  জানতাম না । স্বপ্নপুর গিয়ে হাড়ে হাড়ে বুঝলাম । একটা দোকানের সম্মুখে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় দোকান মালিক অামার কাছ এসে বললো তুমি অামার ক্যামারার  ফ্লিম চুড়ি করেছ । অামি হতবাক হয়ে গেলাম  । মিনিট ৫ এক অাগে যে দোকান থেকে ফ্লিম কিনে আসলাম সেই এসে চোর বলে !‍ একটু তর্কাতর্কি হলো  । অামার কয়েকজন বন্ধুয়ো এসে পৌঁছালে অামার নিকট ।বন্ধুরা পার্ক কমিটির সাহায্য দোকান মালিকের কাছ থেকে অামাকে উদ্ধার করলো । সেকখান থেকে অাসের পর মন অার ভাল বললো না ।  একা গিয়ে বাসের ভিতর গিয়ে বসে রইলাম । ভাবতে থাকলাম এ কি অবস্থা । বন্ধুরা ঘোরা ঘুড়ি করে বাসে অাসলো । হালকা নাস্তা করে ,এবার বাড়ির পথে রওনা হলাম । ঝিনাইদহ এর মাঝা মাঝি এসে বাসের টায়ার নষ্ট হয়ে গেল । কনকনে শীতের মাঝে একটা খোলা রাস্তায় নিজেকে দাড় করিয়ে রাখলাম  । শরীরে মাঝে ,মাঝে কাপুনি অাসে ,তবুও নিজেকে সামলায় । রাস্তার একপাশে দেখতে পেলাম ,একটা ফল ব্যবসায়ি ফল বিক্রি করছে । সেখানে গিয়ে কিছু পরিমানের অাঙ্গুল ফল কিনে বন্ধুরা মিলে ভাগাভাগি করে খেলাম । কিছুক্ষন পর বাস ঠিক হয়ে গেল । অামরা অাবারো বাসে উঠলাম ।বাসের ভিতর এবার শ্রেণী শিক্ষক গান ধরেছে ,” ওরে অামার পাগল মন ..সকলেই শ্রেণী শিক্ষকের গানটি উপভোগ করলাম । ভোর হবার অাগেই স্কুলমাঠে এসে হাজির হলাম অামরা সবাই । আজ স্কুল মাঠের পরিবেশটা একটু ভিন্ন । যে খেলার মাঠে দিনের মধ্যভাগে পা পড়ে, সেই মাঠে কিনা এত ভোরে পায়ের তলার শিশিরের ছোয়া  । পায়ের জুতা খুলে মাঠের চারি দিকটা একবার অতিক্রম করে এলাম । এলা হায় তুলে বন্ধুদের বললাম কিরে  কেমন অানন্দ হলো ? সবাই একটি কথায় বললো দারুন ।তবে অামারটা একটু অন্য রকম ,কখনো খালি পায়ে শিশিরের উপর হাটা হয় নি ।যাইহোক, স্কুলের পাশে থাকা বাঁশের তৈরি মাচার উপর বসে সকালের অালোর দিকে তাকিয়ে থাকলাম  । সকাল হলো বন্ধুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলাম ।সকলকে সোনালী দিনের অঙ্গীকার দিয়ে বাসার পথে রওনা হলাম ।

কেন এই পতিতালয় ?

Now Reading
কেন এই পতিতালয় ?

মানব সভ্যতা বিভিন্ন ভাবে বিনিষ্ট হচ্ছে । কেননা এই মানবি তার একমাত্র সহযোগী, মানব সভ্যতাকে ধংসে রুপ প্রদান করার জন্য।অাজ সমাজের সকল স্থানে পতিতা নামটি হরে হরে শোনা । ছোট কিংবা বড়,যুবক কিংবা বৃদ্ধ সকলের মুখে যেন পতিতার নামটি শোভা পায় । তবে কেন এই পতিতার সৃষ্টি ? কেন এর ভিন্ন পথ ? কেউতো পতিতা নিয়ে ভাবে না ? পতিতা তো জন্ম থেকে সৃষ্টি হয় না । বিভিন্ন কারণ বা বিভিন্ন পরিস্থির শিকার হয়ে একজন নারীকে পতিতা হতে হয় ।এই অাধুনিক সভ্যতাই একজন নারীকে পতিতা নামটি প্রদান করে । তারা শোষনের শিকার হয়ে পতিতা হয় । যাইহোক, সকলে যাকে হীন নীচ বলে আখ্যা দিয়েছে ,তাহাকে অামি মাথায় করে রাখিলাম । সে সকলের চোখে ব্যভিচারি বা সোজা বাংলা কথায় বেশ্যা হলেও অামার কাছে একজন নারী ।বেশ্যা বলতে অর্থের প্রয়োজনে নিজের দেহ টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করার মাধ্যম । কেউ কি সাধ করে বেশ্যা হয় ? এই প্রশ্নের সম্মুখ হলে অাপনি কি বলবেন? হয়তো মুখ বুজে অানন্দ উপভোগ করবেন । তবে কেন অাপনিয়ো তো সত্যটা বলতে পারেন ।সমাজে অমর্যাদা, শোষন ও যন্ত্রনায় পড়ে সে বেশ্যা হয়েছে হসমাজে তথা সারাবিশ্বে তারাই শোষিত বা নির্যাতিত হয়,যাদের দিকে কারো চোখ নেই । তারাই শোষিত হয়,I know that Man is powerful,on chinless and helpless. গ্রামে বা শহরে  যেকোন স্থানে মহিলারা কোন বিপদে পড়ে ,কোন ব্যক্তির নিকট শরাপন্ন হয় এবং সাহায্য কামনা করে । ঠিক তখনি অাধুনিক সভ্যতার সাহায্যকারী ব্যক্তি সাহায্যের বিপর ঈতে কুপ্রস্তাব প্রদান করিয়া থাকে। মানবতার যে কত বড় ক্ষয় তা তাহারা ঠিক তথনি প্রমাণ করিয়া দেয় । ঐব্যক্তি ভাবে না বা ভাবার প্রযোজনো মনে করে না যে ঐবয়সের কোন অাত্মীয় তাহার ঘরে বিদ্যামান রয়েছে । ঐব্যক্তি অসহায় দূর্বল মহিলার প্রতি রাক্ষুসে হইয়া উঠে এবং তাহাকে নষ্ট করে । ঠিক তখনি অামাদের জাতি ধর্মের সম্রাট যথা: ঈমাম, পুরহিত,ফাদার বা সমাজের বিচারকগণ  তাহাকে বেশ্যা নাম দিয়া গ্যাম হইতে বিতাড়িত করে । তখন সে বাধ্য হইয়া বলিতে থেকে …

অামি চায়না মান,চায়না খ্যাতি

চায়না ধর্মের চাবিকাঠি

চায়না অামি অধিকার

যেথা নেই মানুষ হয়ে থাকার কোন অধিকার !

যে সভ্যতা মানুষকে মানুষ হয়ে থাকার মত পথ দিতে পারে না,মর্যাদা দিতে পারে  না; শুধুমাত্র অপবাদ দিতে পারে ,সেই সভ্যতার কি দরকার ?

যাইহোক, সকলে যাহাকে বেশ্যা বলিয়া সমন্ধনা দিয়েছে ,তাহাকে অামি ফুলদানি বলিয়া নীচ করিবো না । কেননা ফুলদানিতে একটা কিংবা দুইটা  ফুল থাকিতে পারে । তাহার সৌরভ ঐ দুই প্রকার ।তাই অামি তাহাকে পুষ্পবাগিচা বলিতে দিধা করিলাম না । যেথা হাজারো ফুলের সমাগম,তাহাকে দেখতে এক অপরুপ সৌন্দর্যে ভরপুর । যাহার গন্ধে সমস্থ পথচারি সতেজ সুগন্ধ নিয়া দিনের প্রথমাংশ শুরু করে ।কয়জনের  কপালে জোটে এই সুগন্ধ ? হাজারো পর্যটক যেমন পুষ্পবাগিচা দেখতে মালিককে অর্থ দিয়া পুষ্প না নিয়া পুষ্পবাগিচা হয়তে বাহির হইয়া যায়,সুগন্ধ নইয়া । কোন লাভ লোসের দিধা করে না  তবে, কেন অামার নাম দেওয়া পুস্প বাগিচা গিয়া ফুল নিতে সাধ জাগে ?কেন তাহাকে স্পর্য করিতে মন চায়? পার্ক দেখিবার মত কইরা বাহির হওয়া যায়  না! বাস্তবতা প্রমাণ করিতে গিয়া একথা  বলিতে হয় যে, অাধুনিক সভ্যতার হাতে গড়া বেশ্যা পল্লীতে তাহারা ঘর বরাদ্ধ করিয়া গ্রাম হইতে বিতাড়িত মহিলার সঙ্গে সঙ্গমে অাকৃষ্ট হইয়া পড়ে । তবে তাহারা কেন গ্রাম হইতে বিতাড়িত হয়না ?  নিজের কাল্পনিক বা মনের আবেগ দিয়া বলিনাই । নিজের চোখ এড়িয়ে না যাওয়া ঘটনা হইতে বলিলাম । সমাজে যাহারা মানুষকে অমানুষ হিসেবে খ্যাতি প্রদান করে,তাহারা  কেন ঐ অমানুষের সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হয় ? তাহারা বিভিন্ন বেশভূষার কারণে দোষটি গোপন করিয়া রই  এবং অাতপ চাউলের ময়দা ও গোল অালুর মত সমাজে ঠাই কইরা নেই ।মর্যাদায় রাজসিংহাসন লাভ করে । তাহাদের কাছে সভ্যতা হইলো ছাগলের মাংস ও চিতই পিঠার মত মূল্যবান ।সভ্যতার নাম ব্যবহার  করিয়া সভ্যতাকে ধংসে পরিনত করা এই অাধুনিক সভ্যতার মূলনীতিতে রুপ নিতে বিন্দুমাত্র বাকি অাছে কিনা সন্দেহ ! অামার এই লেখনি সত্য না ভাবিয়া মিথ্যা ভাবিয়া বাস্তবতা দিয়া প্রমাণ করিয়া সত্য হইলে সত্য মিথ্যা হইলে মিথ্যা বলিলে অামি নিজেকে সার্থক বলিয়া মানিয়া নিতে পারিবো ।

যদি অামার পুষ্পবাগিচাকে পতিতালয় বলিয়া খ্যাতি প্রদান করেন ,তাহলে এই অাধুনিক সভ্যতাকে কি বলিবেন ?পরিশেষে, সমাজের সকল মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করিয়া সকলকে মানুষ বলিয়া শিকার করায় মানুষের নৈতিক দায়িত্ব  ।কেননা মানুষ তো মানুষই । যাহার দ্বিতীয় কেন পরিচয় হইতে পারে না । নারীর প্রতি এমন দৃষ্টি যত দ্রুত পরিবর্তন করা যায় ,এই বিশ্বের সকল  পরিস্থি মোকাবেলা করা সম্ভব । অামি অামার কলমের এটাই বলতে চায় “নারীর যোগ্য অধিকার চায় ” ।  নারীর প্রতি সকলকে সহনশীল  দায়িত্বশীল হবার জন্য আনুরোধ করছি । কেননা ঐ নারীই কারো মা, কারো বোন. খালা,ফুফু ইত্যাদি  ।তাই একটাই কথা বলতে চায় , নারীর  অধিকার চায় ।IMG_17364753510291.jpeg