ভারত ভ্রমন (জাম্মু+কাশ্মির)

Now Reading
ভারত ভ্রমন (জাম্মু+কাশ্মির)

ভারতে সপ্তম দিন আজ । রাজস্থান হোটেল এ ঘুম থেকে উঠলাম ঠিক সকাল  ৪.১৫  তে( রাত বললে ভাল হয়)  লক্ষ্য জয়পুর থেকে দিল্লী ফ্লাইট ৬.০৫ মিনিটে যেতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ০৫ মিনিট পৌঁছাব ৭ টা ১০ এ,  আবার ০৮ টা ২০ মিনিটে শ্রীনগর অর্থাৎ কাশ্মীর এর ফ্লাইট  দিল্লী থেকে । সামনে ২ টা ফ্লাইট এবং লক্ষ্য যখন কাশ্মীর তখন আমার মত আলসে মানুষও সকালে ঊঠতে পারে । আমি একটু বেশিই আগে উঠেছিলাম । যাইহোক , ঘুম থেকে উঠে বাইরে কুয়াশা দেখে মনটা ভাল হয়ে গেল । এয়ারপোর্ট যেতে হবে রাস্তা দেখি ফাঁকা । দুই একটা বাস যায় । নিরুপায় হয়ে হোটেল থেকে মোটা টাকায় গাড়ি নিতে হল ।(বেশি দামি হোটেল হলে ওরা এয়ারপোর্ট এ দিয়ে+নিয়ে আসে,আমি নরমাল হোটেলে ছিলাম) । এয়ারপোর্ট এ গিয়ে পৌঁছালাম  ৫.৩০ এ । ছোট এয়ারপোর্ট তাই সময় লাগেনি ফেছিলিটি শেষ করতে । যথাসময় প্লেন ছাড়লে পৌঁছে যাই দিল্লী। এক ঘণ্টা পরই আবার ফ্লাইট তাই আর বাইরে গেলাম না । ভিতরে বসেই অপেক্ষা করতে লাগলাম । ৮.২০ এ  ফ্লাইট এর সময়  গেলেও  যাত্রী প্ল্বনে নিচ্ছে না । আমার পাশে  একজন কাশ্মীরী জোয়ান ছেলে বসা ছিল উনি বললেন এমনটা কেন হচ্ছে । আমি উত্তর MY COUNTRY IS WAY BETTER THAN YOURS.( আমার দেশে আসলে হয়ত আমার চাপাটা ধরে ফেলত,তাও দেশকে একটু উপরে নিলাম।) একটা গোলযোগ বেধে গেল । এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট ছিল । ওরা সরকারি হওয়ায় একটু গরম বেশি । আমরা একেরপর এক প্রশ্ন করেও জবাব পেলাম না । আমার পাশে বসা জোয়ান ভাই( নাম এজাজ আহমেদ ,এখন আমার খুব ভাল বন্ধু) মুটামুটি মারামারির পর্যায়ে চলে গেছে । আমি আর কি বলব ভিন দেশে চুপ রইলাম । ৫ ঘন্টা পরও কিছু হল না। এর পর আমার মাথা গরম হল এক অফিছার এর কথায় । আমি একটা প্রশ্ন করতেই উনি ধমকের সুরে হিন্দিতে কিছু একটা বললেন যেটা আমার ভাল লাগেনি । আমিও বিদ্রহিরুপ ধারন করলাম যুক্তি সহকারে । সবাই সাপোর্ট দিলে আমিও নেতা হয়ে যাই । আমার বন্ধু এজাজ ত আমার ফ্যান হয়ে যায় (কাশ্মীরের মানুষ গুলো একটু উগ্র মনভাব পছন্দ করে,বিদ্রহ করতে পারলেই আপনি নেতা) ।  তারপর চিফ অফিছার এসে আমাদের ব্রিফ দিলেন যে আবহাওয়া ভাল না থাকায় ফ্লাইট বাতিল( এটা সত্যি কিন্ত ৫ ঘণ্টা আগে বললে সবাই শান্ত থাকত) তারপর আর কি? কালকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ফিরতি ফ্লাইট  একদিন পিছিয়ে নিয়ে এয়ারপোর্ট ত্যাগ করি আমি আর আমার কাশ্মীরি বন্ধু। বন্ধু  আমাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম সম্পর্কে বললে খুব ভাল লেগেছিল । ও আমায় বলল ওর বাসায় থাকতে ,রাজি হই(টাকার সংকট) । চলে যাই ওর ঘরে কিন্ত কোন কথা না বলে রুম আটকিয়ে ঘুম , অনেক ক্লান্ত । রাতে একবার উঠেছিলাম ভাত খেতে তারপর আবার ঘুম । যাইহোক , অনেক হাঙ্গামা করার পর স্বপ্নের কাশ্মীরের উদ্দেশ্যে পরদিন এয়ারপোর্ট এ যাই। এবার কোন সমস্যা হল না । প্লেনে বসা আছি একটা টিশার্ট পরে( টিশার্ট পরা আছি কেন বললাম পড়তে থাকেন বুজতে পারবেন)সময়ত প্লেন ছাড়ল । অবশেষে আমি কাশ্মীর যাচ্ছি । ফিলিং প্রাউড । ৪৫ মিনিট পর কাশ্মীর সিমানায় আসলাম । প্লেন থেকে ভিউ অমায়িক লাগে, যে কারও ইচ্ছা করবে লাফ দিতে  ঐ সবুজ সর্গে । কিন্ত বেচে  থাকতে হবে, তাই এই কাজটি করবেন না । ত কিছুক্ষণ পর প্লেন ল্যান্ড করলে একটা ঘোষনা শুনলাম , আমরা এখন আছি কাশ্মীর এয়ারপোর্ট এ বাহিরের তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হোয়াট? আমি একটা টিশার্ট পড়া । বাইরে গেলে মরে যাব । তাই ব্যাগ থেকে আমার কোর্ট বের করে পরলাম ভাবলাম শীতের বাপও আমাকে ধরতে পারবে না ।  কিন্ত আমি ভুল ছিলাম বাইরে গিয়ে আমি আরও ৪ টা গেঞ্জি পরিধান করিতে বাধ্য হই। দুপুর ১ টা । এয়ারপোর্ট থেকে নেমে এজাজ এর গাড়ি আসল ,আমাকে ফ্রি লিফট দিলে আমি চরম খুশি । চলে গেলাম পূর্ব বুকিং করা হাউজ নৌকায় । ভাবছেন এটা আবার কি? Houseboat_Trip_alappuzha_Kerala_Backwater_Cruise_Upper_Deck_Inside.jpgএটা এমন একটা হোটেল যেখানে আপনি থাকতে পারবেন,খেতে পাড়বেন কিন্ত ঐটার আকার নৌকার মত আর অবস্থান পানির মধ্যে ।আমি অবাক প্রথমবার দেখে । বেশ ভালই লাগছিল । ভিতরে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেই । বিকালে ছোট ছোট নৌকায় ডাল্লেক নামক লেকের মধ্যে ঘুরাঘুরি করি প্রায় ২ ঘণ্টা । বিশাল বড় মানবসৃষ্ট লেক । সন্ধ্যা হলে আবার আমার হোটেল  ও, সরি নৌকায় ফিরে আসি । তখন বিপিএল হচ্ছিল । তাও আবার আমার বরিশালের খেলা । তাই সর্গ সুখ ভুলে গিয়ে খেলায় মন দিলাম( ভারতে প্রচুর মানুষ বিপিএল পছন্দ করে) । রাত হলে ভাত খেয়ে ঘুম দিলাম। আমার রুমে ছিল তাপ দেওয়ার হিটার । আমার বেডের নিচে ছিল হিটার। তাও শীতে মরে যাচ্ছি। বাইরে হয়ত মাইনাস  ডিগ্রি তাপমাত্রা । ঘুম দিয়ে পরের দিন সকালে উঠলাম খুব ভোরে । অসুস্থ হয়ে যাই ঠাণ্ডায় । কিন্ত সকালের প্রকৃতি দেখে অসুখ আর অনুভূত হল না। বেড়িয়ে পরলাম ঘুরতে লক্ষ্য গুল মারগ গোন্ডোলা (Gulmarg Gondola)। জায়গাটা বরফে আচ্ছাদিত । জীবনের প্রথম বরফ দেখলাম শত কিলমিটার বিস্তৃত । আহ্লাদে ১০ খানা । লাফ দিলাম জয় বাঙলা বলে। কিন্ত ঠাণ্ডায় শেষ । এরপর কি যেন একটা যানে উঠলাম ,সেটার  নাম জানি না তবে তারে তারে যায় উপর থেকে, আপনি উঠলে পুরো এরিয়া দেখতে পারবেনgulmarg-gondola2.jpg ।  ঘুরে ফিরে খুদা নিয়ে একটু জনপদে দিয়ে কাশ্মীরের সেরা খাসীর মাংস দিয়ে রুটি  খেলাম পেট পুরে । সুস্বাদু কিন্ত অন্যান্য  তরকারীর চেয়ে বেশ দামি । খাওয়া শেষ হলে একটা ধর্ম স্থানে গেলাম নাম হযরত বাল দরগাহ । বাল শব্দ টা কেমন লাগলেও এই জায়গাটা কিন্তু অনেক পবিত্র । বাল মানে হিন্দিতে চুল । মহানবী (সঃ) চুল সংরক্ষিত আছে এখানে । ভিতরে ঢুকতেই মনটা ভরে গেল। সব কিছু দেখা হয়ে গেলে বাস এ উঠলাম  হোটেলে যাওয়ার জন্য । না আজকে আর নৌকায় না । দালানে উঠব । সন্ধ্যা নেমে আসতেই ঘুম পেল । তাও কষ্ট করে একটু কেনাকাটা করলাম । কাশ্মীরের শীতের বস্ত্র খুব ভাল আর সস্তা । রাত ৮ টা পর্যন্ত বাজারে ঘুরে আর থাকতে পারলাম না । খুব শীত । মনে হবে ১০০ ছুড়ি আপনার মুখমণ্ডল আঘাত করছে । হোটেলে গিয়ে আবার খাসী দিয়ে রুটি  (মজা লাগলে কি আর করার দামি হলেও খেতে হবে)। কাল আমার কাশ্মীর ভ্রমন শেষ । স্বপ্নটা পুরন হওয়ার অনন্দের পাশাপাশি কোস্টও ছিল। প্রতিদিনের মত খুশি মনে নয় । বরং কষ্ট নিয়েই ঘুম।

 

এখানে জেনে রাখা ভাল.১. কাশ্মীরে নিরাপত্তা খুব কড়া। বিমানবন্দরে আপনাকে সেই আকারে চেক করবে, আপনার জামা প্যান্ট খুলে চেক করতে চাইলেও অবাক হবেন না। ২. নৌকায় কখনই থাকবেন না যদি শীতে সমস্যা হয়। ৩.অনেকে দিল্লী থেকে ট্রেনে যায় ।এটা বোকামি । টাকা বাচাতে আপনি অনেক কিছু মিস করবেন আর  ২ দিন ট্রেনে শেষ করবেন । বিমানের টিকিট আর ট্রেনের টিকেট এর পার্থক্য বেশি না । বিমানে বসে আপনি যে দৃশ্য দেখবেন তাতে আপনার পয়সা উসুল হয়ে যাবে যদি আপনি প্রকৃতিপ্রেমি হন। ৪. কাশ্মীরে কারও সাথে বিতর্কে যাবেন না, সমস্যায় পরলে সাহায্য চান করবে । মনের দিক থেকে ভাল ওরা । ৫. আপনি মুসলিম হলে পরিচয় দিতে দেরি করবেন না। ৭ খুন মাফ । আমার নাম ফাহাদ বিন হুসনে আলি । একটু আরবি  টাইপের হওয়ায় অনেক বেশি সন্মানে  সন্মানিত হয়েছি ।

সামনের ভ্রমন কাহিনী বেঙ্গালর (BENGALORE)ভ্রমন নিয়ে  , আশা করছি সাথেই থাকবেন ।

 

(চলবে)

ভারত ভ্রমনের ৫ম দিন (রাজস্থান দা পিংক সিটি )

Now Reading
ভারত ভ্রমনের ৫ম দিন (রাজস্থান দা পিংক সিটি )

৫ম দিন ভারতটা ইতিমধ্যে বন্ধু হয়ে গেছে । পরম আত্মীয়তা । ঘুম থেকে উঠলাম ৬ টায়। আগেরদিন রাতেই হোটেলের একজন কে আমাকে উঠাতে বললাম।(ভাল বিছানা পেলে কার নিজে থেকে উঠতে মন চায়?) যথারীতি আমাকে উঠিয়ে দিল। ৬ টায় ব্রেকফাস্ট হয় নি। তাই আগ্রায়ও ব্রেকফাস্ট করা হল না কারন ঠিক ৭.১৫ তে ট্রেন ছাড়বে রাজস্থান এর উদ্দেশ্যে । ট্রেন স্টেশন আমার হোটেল থেকে দূরে থাকায় ৬.৩০ এর মধ্যে চেক আউট করে বের হয়ে আসলাম। ৭.১০ এ স্টেশন এ পৌঁছে ট্রেন এ উঠে পরলাম, ঠিক ৭.১৭  তে ছাড়ল । বেশ গতি ,আমি ভাবলাম ১ ঘণ্টায় রাজস্থান পৌঁছে যাব । কিন্তু পথ টা যে এত লম্বা কে জানে? হোটেলে বসে একবার গুগল ম্যাপ থেকে দেখেছিলাম মাত্র ২ টা বিন্দু  ।ঐ দুইটা বিন্দু যে ২২৮ কি.মি কে জানে, ঐভাবে দেখাও হয় নি । যেতে সময় লাগল অনেক। রাজস্থান গিয়ে নামলাম  তখন ঘড়ির কাটায় ১২.৫০ ।দুপুর বেলা অনেক গরম। কি করব ভাবতে ভাবতে একটা ট্যাক্সি নেই হোটেল খোজার জন্য। ট্যাক্সিওয়ালা হোটেলে নিয়ে গেলে রুম বুক করে একটু ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিলাম। না, এই ৪ দিনের মত আজ আর বিরিয়ানি খেলাম না। বাংগালি খাবার পেয়ে খাওয়া শুরু করলাম দাম একটু বেশি হওয়া সত্যেও । কারন জয়পুর (রাজস্থান এর রাজধানী) শহরে বাঙালি  খাবার পাওয়া মুশকিল হি নেহি না মুমকিন হ্যায় সেটা আমি জানতাম। খাবার খেয়ে হোটেল রুম এ গিয়ে দেখি সর্বনাশ বেলা ১.৩০ টা বাজে। দিন ত একটা শেষ করে ফেললাম, চট করে বের হলাম ট্যাক্সির খোজে হোটেল থেকে গাড়ি দিতে চাইলেও এই ৫ দিনে আমি অনেক বুজদার হয়ে গেছি ,ওরা টাকা বেশি নিবে ।তাই নিজেই একটা গাড়ি ঠিক করলাম। খুব ই নরমাল। কিন্ত টাকার পরিমান কম তাই আমার মুখে ছিল  হাসি। তা  ঠিক ২ টার দিকে আমার ভ্রমন শুরু।  চলে গেলাম পিংক সিটিতে । সব বড়ি , দোকান পিংক। যেদিক তাকাবেন এক রং,এক নকশা,এক উচ্চতা । সবাই যেন জমজ ভাই। সত্যি কথা বলতে আপনার মনে হবে আপনি সেই স্বপ্নের ডিসনি ল্যান্ড এ চলে এসেছেন । আমি এমন ধরনের টুরিস্ট যে এক জিনিষ সারাদিন বসে দেখে না । হুম,সত্যি পিংক সিটি ছিল অমায়িক এর মানে এই না এক জিনিষ সারা দিন দাড়িয়ে দেখব ।  নতুনের সন্ধানে বের হলাম। সামনেই চরম ভিড় । মনে মনে ভাবতে লাগলাম এত ভিড় কেন? শুধু এখানেই কেন? ভিড় ঠেলে ভিতরে গিয়ে দেখি বিশাল এক মন্দির। আমি খুব বেশি সন্তুষ্ট হলাম না,কিন্তু মন্দিরের ভিতরে ঢুকে মন্দির নির্মাতাদের শত সালাম। ঘাঁটতে ঘাঁটতে পেলাম মন্দিরের নকশার কাজে ছিলেন একজন মুসলিম । গর্বে বুক ভরে গেল । এক বস্তা ভালোবাসা নিয়ে বের হয়ে আসলাম । ভাবতে লাগলাম নাহ,রাজস্থান শুধু বইতেই সুন্দর । আমার গাড়িওয়ালাকে ফোন করলে সে এসে আমায় তেমন একটা খুশি না দেখে প্রশ্ন করল স্যার কিছু হারিয়ে গেছে? নাহলে জায়পুর এসে কেউ গোমরা মুখে থাকে না। তখন বাজে বিকাল ৫ টা। আমি বললাম আজকের দিন ত শেষ কিছুই দেখতে পালাম না। উনি বললেন স্যার চলেন নিয়ে যাই অ্যাম্বার( Amer fort)দুর্গে। সত্যি কথা বলতে আমি তখন প্রথম বিদেশ যাই, কোথায়  কোন জায়গা ঘুরবো ঠিক না করেই পাড়ি দেই।এইটা ঠিক না বাংলাদেশে  বসেই সব ঠিক করে যাওয়া উচিত । ত অ্যাম্বার দুর্গে গেলাম,যেতে যেতে ৬.০০ টা। রাস্তাটা দারুন, মরুভূমি কেটে করা। আমি  এখনো মানি না যে ঐ রাস্তা মানুষের বানানো ।হাহা,  ভাবছেন আমি সেকেলে,নাহ। কিন্ত আপনি নিজের চোখে দেখলেও একই কথা বলবেন। অ্যাম্বার দুর্গের কোন সিমানা নাই। এর বিশালতা আমি বলে বুঝাতে পারব না। এই দুর্গে ইংরেজ শাসনের অনেক কিছুই পাবেন ।কামান,গলাবারুদ ইত্যাদি । মাটির উপরে উঠতে উঠতে ক্লান্ত তবু নতুনের টানে আমি উন্মাদ । ভেতরে ঢুকতে যাব সেই মুহূর্তে বাধা । স্যার,প্রাসাদের অন্দর মহলে যেতে আপনাকে গুনতে হবে ৫০০ রুপি। সন্ধ্যা তখন ৭ টার বেশি । এক বিদেশিনী আমায় পরামর্শ দিলেন ভিতরে ঘুরতে আপনার মিনিমাম ৪ ঘণ্টা লাগবে । এখন ৭ টা,  আপনি আর এক ঘণ্টা ঘুরতে পারবেন তারপর বন্ধ হয়ে যাবে। আমি বিদেশিনী কে ধন্যবাদ দিলেও দুর্গের দালাল দের ব্যাবসা বন্ধ করায় বিদেশিনী কে বকা শুনতে হল । এরপর অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, শত শত বছর  আগের খোদাই করা পাথর দেখে মন টা ভরে গেল,ইতিহাস কে যেন তালুবন্ধি করে ফেলেছি। যাই হোক ,আমার সময় শেষ । বের হয়ে শত শত গাড়ির মধ্যে আমার টা বের করে নিতে সময় লাগল। সোজা হোটেল। রাত তখন ঠিক ৯.০০ টা। হোটেলে খাবার আইটেম দেখে মেজাজ খারাপ, শরীর টা ভাল না। গরম ছিল অনেক। তাই খেতে মন চাইল না ।বাইরে থেকে কিছু চকলেট আর বিস্কুট  কিনে রুম এ গিয়ে ঘুম। দিনটা অনেক মজার ছিল কিন্ত ততটাও না যতটা আমি রাজস্থান দিয়ে আশা করি । চিন্তা করলাম কালকে একটা দিন থাকব নাকি । ফোন করলাম ড্রাইভার কে আমার ফোন পেয়ে খুশি মনে বল্ল জী স্যার বলেন। আমি জিজ্ঞাস করলাম আর কি কোন  জায়গা দেখার আছে? আমাকে একটু উপহাসের  সুরে  বলল স্যার আপনি ত কিছুই দেখলেনই  না। রাজস্থান ঘুরতে কম করে হলেও ১০ দিন লাগে। আমি ড্রাইভার কে বললাম কালকেও আস। কাজের সন্ধান পেয়ে খুশি ।ওর আনন্দ দেখে আমিও খুশি । রাত ১১.০০ টায় ঘুম দিলাম কাল খুব তাড়াতাড়ি উঠতে হবে সেই পরিকল্পনায় । যেই কথা সেই কাজ, ভোর ৬.০০ টায় উঠলাম । বাইরে গিয়ে রাস্তার চা খেলাম । সাথে দুইটা ইয়া বড় বড় রুটি । সকালের খাবার শেষ (আমি একটু খাই কম, চিকন মানুষ ) নাস্তা শেষ করে ড্রাইভার এল ৭.০০ টায়। বলল চলেন ঘুরে আসি ।আজকে ওর মনটা ভাল দেখাচ্ছে । বললাম চল যাই। ২ ঘণ্টা পর কোথাও একটা গেলাম সব  বালি আর বালি , এটা আবার কি? নিজেকে প্রশ্ন করতে করতে আবিষ্কার করলাম বিশাল মরুভূমি । সাথে শত শত উঠ। আমার জীবনে মরুভূমি এই প্রথম ।আর উঠ  এক সাথে এত দেখিনি। অসম্ভভ গরম ।তাও হাটা দিলাম আমার ব্যাগে থাকা এক বোতল পানি খুব সাহায্য করল । একটু পর ঘটল এক অভূতপূর্ব ঘটনা যা আমি আর আমার ড্রাইভার কেউ আশা করিনি। আপনারা কেউ ভারতীয় কমেডিয়ান কাপিল শর্মা কে চিনেন কিনা জানি না তবে আমার খুব পছন্দের একটা মানুষ । ওর জীবনের প্রথম ছবির শুটিং হচ্ছিল । একটা গান ধারন করা হচ্ছে । সামনা সামনি দেখে আমি ত আবেগে লুতুপুতু হয় গেছি। কথা বলার অনেক চেষ্টা করেও বলতে পারলাম না কারন ওখানে প্রচুর গরম আর ওরা যত তাড়াতাড়ি পারে ওখান থেকে কাজ শেষ করে চলে যাবে। অগত্যা  মন খারাপ করে উঠের কাছে গেলাম। পিঠে উঠব। টাকার পরিমান শুনে আমার গলা শুকিয়ে গেল । এক ঘুললি ৩০০ রুপি। অনেক চাপাবাজি করেও কিছু কমাতে পারলাম না। শেষে উঠলাম উঠের পিঠে । বেশ ভালই লাগছিল সাথে ভয় ছিল অনেক। নিজেকে বাহাদুর প্রমান করতে ভয়টা সামনে আনলাম না। এরপর ফিরে গেলাম শহরের দিকে। ড্রাইভারের সাথে একটা আত্মার সম্পর্ক হয়ে গেল। শহরে গিয়ে দুজনে বেশ আচ্ছা করে ছাগলের মাংস দিয়ে একটা মুসলিম হোটেলে ভাত খেলাম। এরপর গেলাম বিখ্যাত হাওয়ামহলে, যার নাম শুনেছি হাজারবার আর ভারতের সবাই হাওয়ামহল কে একটা আলাদা সন্মান দেয়। মনে হয় ধর্মীয় কোন সম্পর্ক আছে কিন্ত অনেকের কাছে জিজ্ঞেস করেও এই ব্যাপারে কিছু জানা গেল না । রাত ৮.০০ টায় হোটেলে গেলাম একটু বেশিই ক্লান্ত ছিলাম । হোটেলে আমার রুমেই ফ্রিজে ঠাণ্ডা পানীয় রাখা ছিল,খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম। রাতের খাবার আর হল না। কাল ভোরে ফিরে যেতে হবে দিল্লী কারন টার্গেট কাশ্মীর যাব ফ্লাইট এ। সকালের ট্রেন ধরার লক্ষ্যে ঘুমিয়ে গেলাম খুব তাড়াতাড়ি আর শরীরটাকেও ত একটু বিশ্রাম দিতে হয়।  কাশ্মীর আমার ছোটবেলার স্বপ্ন তাই অনেক সুন্দর একটা মন নিয়ে ঘুমালাম। কাল সূর্য উঠলেই কাশ্মীরের পানে ছুটে যাব এই স্বপ্নে ঘুম…………

এখানে জেনে রাখা ভাল । ১. রাজস্থান এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি ১০ হাজারেও ঘুরতে পারবেন আবার ১০ লক্ষ নিয়েও ঘুরতে পারবেন। ২. রাজস্থান এ সব রকমের খাবার পাবেন । ৩. গরম যদি আপানার কাছে ভয়ের নাম তাহলে শীতের দিনে যান। ৪. মরুভূমিতে  যাওয়ার আগে বড় জুতা আর স্যালাইন পানি নিয়ে যাবেন। ৪. রাজস্থান এ খুব কম দামে ভাল হোটেল আছে ,শুধু একটু ঘুরে দেখতে হবে। ৫. আগে থেকেই একটা প্লান করে রাখেন কোথায় কোথায় ঘুরবেন।৬.ভুলেও হোটেলে আপনার রুমে রাখা কিছু খাবেন না যেগুলো ফ্রি না । কারন আমি এক বোলত পানি খাই ১৫ রুপি দামের,কিন্ত হোটেল চেক আউটের সময় দেখলাম বাড়তি ৪০ টাকা দিতে হবে কারন আমি ফ্রিজে রাখা ১৫ রুপির পানি খেয়েছি।  (তবে আপনার যদি এমন অবস্থা হয় যে পানি না খেলে আর বাচব না সেক্ষেত্রে খেয়ে নিবেন, টাকার চেয়ে জীবনের মুল্য অনেক বেশি,হাহাহাহাহা)
আশা করি সাথেই থাকবেন, কাশ্মীর ভ্রমন আসছে পরবর্তীতে খুব তাড়াতাড়ি ।
(চলবে)

ভারত ভ্রমনের ৩য় দিন(আগ্রা)

Now Reading
ভারত ভ্রমনের ৩য় দিন(আগ্রা)

ভ্রমনের ৩য় দিন । সকালে উঠলাম ।দিল্লী হোটেলে ফ্রি ব্রেকফাস্ট থাকা সত্যেও খেতে পারলাম না(এত খারাপ লাগছে যা বলার মত না,খুব মুখরোচক তাও আবার ফ্রি) কারন দিল্লী থেকে ৭.০৫ এর তাজ এক্সপ্রেস এর ট্রেন ধরতে হবে আগ্রার জন্য । যথারীতি ট্রেন এ চড়ে চলে এলাম আগ্রায় ১০.৪৫ এ। দিল্লী একটু নোংরা হলেও আগ্রা খুব পরিষ্কার সেটা ট্রেন থেকে নেমে বুজে ফেললাম। একটা ট্যাক্সিওয়ালার কাছে গিয়ে বিনম্র ভাষায় বললাম আজকের জন্য আপনার ট্যাক্সি ভারা নিব সিটি ট্যুর এর জন্য ,কত রুপি লাগবে। উনিও বেশ ভদ্র ভাষায় বললেন ৩০০০ রুপি।  এখন  ১১ টা বাজে আর দিনের বাকিই বা আছে কি? তাছাড়াও আপনার ত জিপ না ট্যাক্সি এত দাম কেন? অনেক কথার পর রাজি হলেন ২৫০০ রুপি তে। ঠিক ১.০৫ মিনিটে ভাত খেয়ে ঢুকলাম আগ্রার তাজমহল এর গেটে। উনার নাম্বার রেখে ছেড়ে দিলাম। গেটের আশেপাশে অনেক ছোট গাড়ি আমাকে নেওয়ার জন্য উৎসুক। আমি বললাম যাব না। এইটুকু পথ গাড়ি নিব নাকি? কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। পথ অনেক খানি। তাও হেটেই গেলাম। কই তাজমহল? দেখি না কেন? পরে শুনি টিকিট কেটে এরিয়ার ভিতরে ঢুকতে হবে। বাইরে অনেক মানুষ টিকেট নিচ্ছেন । ভারতীয় দের জন্য ২০রুপি, সার্ক ভুক্ত দেশ হলে ৫১০ রুপি,আর অন্যান্য ৭৫০ রুপি। আমার পাশেই এক ব্রাজিল এর নাগরিক ৭৫০ রুপি তে টিকেট কিনছে দেখে মজাই লাগল । কিন্ত আমি ভাবলাম ভারতীয় সাজা যায় কিনা। দেখতে ত একিরকম। বড় ধরনের একটা অপরাধ করে ফেললাম। ভারতীয় লাইনে ঢুকে পরলাম। কোন সমস্যা ছাড়াই ২০ রুপির টিকেটে ভিতরে(ভয় ছিল,ভালও লাগছিল।ইস্কুল পালানোর অনুভূতি হচ্ছিল) ভিতরে ঢুকার আগে দুইদফায় চেক করে। পায়ে পড়ার জন্য একটা মাস্ক দেয় যাতে তাজমহল অপরিষ্কার না হয়। ভিতরে ঢুকেই একটা কথাই মুখ থেকে বের হয়েছে ওয়াও। এত সুন্দর কোন দালান দেখে লাগেনি। সাদা ধবধবে রঙ যেন বুকে টেনে নিচ্ছে। প্রিয় মানুষের সাথে কোন রোম্যান্টিকে জায়গায় যেতে চাইলে তাজমহল সেরা জায়গা । স্বপ্নের মত লাগছিল। অনেক মানুষের ভিড়। হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলাম তাজমহল এর ভিতরে। শাহ জাহান ও মমতাজ বিবির মাজার। শাহ জাহান ও মমতাজ দুইজনকেই এক রাস ধন্যবাদ দিলাম। তোমরা ভালবেসেছিলে বলেই আজ তাজমহল দেখছি। যদিও ইতিহাস এই প্রেম টাকে নিয়ে নাড়াচাড়া করে। আমি ভাবনায় মন না দিয়ে ঘুরতে লাগ্লাম, সব দিক পরিপাটি । চোখে পরল শাহজাহান আর মমতাজ এর খাসকামরা । উকি মেরে দেখলাম ভিতরটা। এক সাদা চামরা টুরিস্ট আমায় একটা ছবি তুলে দেওয়ার জন্য বললে চট করে তুলে দিলাম, একটা হাসি দিয়ে বিদায় নিল। ওখানে বসেই একটা কবিতা লিখলাম (একটু ব্যক্তিগত তাই শেয়ার করতে পারলাম না) । কিছুক্ষন পর ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি হায় হায় ২ টা বাজে। বিদায় নিলাম তাজমহল থেকে। বের হতে হতে আরও ৩০ মিনিট লাগল। আমার ট্যাক্সিওয়ালা কাকাকে ফোন দিলাম। আসছি বলে ৩০ মিনিট শেষ করে দিলে(হয়ত অন্য কথাও ধান্দা করছিল)। তারপর বললাম কাকা এখন কথায় যাওয়া যায়? কাকা বল্ আগ্রা দুর্গ। চলেন তাহলে। যেতে সময়ই লাগল না। আগ্রা দুর্গে কিচ্ছু লাগেনা । ঢুকে যান আপনার মত। এবার আর সাদা দেখবেন না,লালের খেলা। রুপের দিক থেকে আমার আগ্রা দুর্গ তাজমহল থেকে  ভাল লেগেছে বেশি যদিও আলাদা। লালের সর্গে হারিয়ে গেলাম। এটাই সেই  জায়গা যেখানে ইতিহাসের অনেক কিছু ঘটেছে। শাহজাহান এখানেই বন্দি ছিলেন। এখন আগ্রা দুর্গের মাত্র ৩০% টুরিস্ট দের জন্য আর বাকিটা মিলিটারির আস্থানা। আপনি জানবেনও  না বুজবেনও না যে ঘুরার পর আরও জায়গা বাকি পরে আছে। আগ্রা দুর্গে সব লাল ইট দিয়ে দালান  উঠানো । তাজমহল এর মত জুয়েলারি দেওয়া না কিন্তু তারপরও অবাক করবে আপনাকে ।এত বিশাল,শক্তপক্ত দালান সাথে এত ভাল নকশা ঐ আমলে কিভাবে সম্ভভ? জাদুর মত লাগে। কিন্তু দুর্ভাগা আমি বেশিখানি দেখতে পারিনি। কারন সময় তখন সন্ধ্যা ৬ টা। আমার যেতে হবে ,এক হিন্দু বন্ধুর মেয়ের জন্মদিন।আমি ঐ শহরে আছি আর না গেলে ভীষণ রাগ করবে, তাই প্রস্থান করলাম আগ্রার দুর্গ থেকে, নিয়ে এলাম এক মুঠো সৃতি ।বাইরে এসে আবার কাকার সন্ধান,না এবার উপস্থিত ছিলেন। চলে গেলাম দক্ষিন আগ্রা।যেতে যেতে  শহরটা দেখে নিলাম। রাতে মনে হচ্ছে জিলিক দিচ্ছে। একটা ফুলের তোরা কিনে বন্ধুর বাড়ী গিয়ে জন্মদিন পালন করতে করতে রাত ১০.৩৫। বিদায় জানিয়ে চলে এলাম। ও ্ট্যাক্সি কাকাকে ছেড়ে দিছিলাম। তাই এবার আরেকটা ট্যাক্সি ভাড়া করে হোটেল এর পথে রওয়ানা । হোটেলে আসলাম ১১.৩০ বা ৫ মিনিট আগে পরে। হোটেল এর রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে আবার পছন্দের বিরিয়ানি খেয়ে ,ক্লান্ত শরীর টানতে টানতে বিছানায় নিয়ে গেলাম। পরের দিন ভ্রমন পরিকল্পনা রাজস্থান ! সেই সপ্নে বিভোর হয়ে ঘুম………
এখনে জেনে রাখা ভাল।১. আগ্রায় সব কিছু দামি। হোটেল থেকে শুরু করে যানবাহন  এমনকি জামা কাপড়ও .২. আপনি গেলে কখনই ট্যাক্সি দিন অনুযায়ী ভাড়া করবেন না। আমি একদিনের জন্য নিলেও ঘুরা বেশি হয় নি । কারন তাজমহল  আর আগ্রা দুর্গ এক জায়গায়। আর একদিনে আপনি এই দুই জায়গার বেশি দেখতে পারবে না, আর যদিও দেখেন সেটাকে আমি বলব দৌড় যাপ ,ঘোরাফেরা আর হোল কই? আগ্রায় ভুলেও হোটেল আগে বুক করবেন না। ১০০০-১৫০০ বেশি রাখতে পারে! ট্যাক্সির ক্ষেত্রেও তাই। জামা কাপড় না কেনাটা শ্রেয় .৩. আগ্রায় যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনি আগের দিন রাতের বাসে আসবেন এর ফলে সকালে আসলেন  আগ্রায় ফলে সারা দিন পাবেন। সকালের ট্রেনে আসলে কখনই সিট পওয়ার আশা করবেন না। প্রচুর ভিড় থাকে। আমি একটা পেয়েছিলাম( বাংলাদেশি ত ্‌চাপাচাপির মধ্যে সামলিয়ে নিতে পারি ) কিন্তু অনেক মানুষ দাড়িয়ে এসেছে। ৪. আগ্রায় তাজমহল থেকেও আগ্রা দুর্গের জন্য বেশি সময় বরাদ্দ রাখুন। ৫.আমি তাজমহলে ঢুকে ছিলাম ভারতীয় সেজে,এই ভুলটা কখনই করবেন না। আমি বেচে গেছি কিন্তু আপনি ধরা খাবেন না  তার কোন নিশ্চয়তা নাই। আর ধরতে পারলে মোটা অংকের টাকা জরিমানা সাথে আপনার জেল হওয়ায় সম্ভাবনা আছে যা আমি পরে জেনেছি। জানলে কখনই ঢুকতাম না.৬. টিকিটের সাথে আপনাকে একজন লোক ফ্রি দেওয়া হবে গাইড হিসেবে ,ভুলেও  সাথে নিবেন না। ফ্রি ঠিকি ,দিন শেষে আপনার ৫০০ রুপির উপরে দিতে হবে এটা চা্ -নাস্তা খেতে। দূর দেশের দাদাদের নিয়ম মান্তেই হয়। আমি নেই নি,কারন একা ঘুরতে বরাবর ভালবাসি ।

আশা করি ৪র্থ দিন অর্থাৎ রাজস্থান ট্যুর সম্পর্কে জানতে সাথে থাকবেন।
(চলবে)

ভারত ভ্রমনের ৩ সপ্তাহের ১ম ও ২য় দিন।

Now Reading
ভারত ভ্রমনের ৩ সপ্তাহের ১ম ও ২য় দিন।

ঘুরতে কেনা ভালোবাসে? এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৯৮% শতাংশ তরুন পৃথিবী ঘুরার স্বপ্ন দেখে। আমার বাবার চাকরিতে প্রায়ই ট্র্যান্সফার হওয়ার দরুন বাংলাদেশের অনেক জায়গাই দেখে ফেলেছি। জন্ম ভোলায় । প্রাইমেরি মাদারিপুর এ,হাই ইস্কুল পিরজপুর এ । এখন কলেজের জন্য খুলনায়। তাহলে বুজতেই বুজতেই পারছেন আমার জীবনটাই ঘুরাঘুরি। সেই ছোট বেলা থেকেই বিশ্ব ভ্রমনের চিন্তা মাথায় নিয়ে ঘুরেছি বাংলাদেশের অনেক জায়গা। এরপর মনে হল একটু  দেশের বাইরে যাওয়া উচিত। যেই ভাবা সেই কাজ। মাথায় চিন্তা আসলো ভারত ঘুরবো । তাই পাসপোর্ট করে ভিসা করে দে দৌড় । আমার লক্ষ্য ছিল কলকাতা , দিল্লী ,আগ্রা, রাজস্থান,আজমির,জাম্মু,কাশ্মীর । সময় টা ছিল ২০১৫ সালের নভেম্বর এর ১৫ তারিখ। আমি বেনাপোল স্থলবন্দর পার হয়ে ওপারে দিয়ে টাকা ভাঙিয়ে নেই।ও হ্যা, কেউ আপনার পাসপোর্ট চাইলে দিবেন না যদি উনি সরকারি কর্মকর্তা না হয়। টাকা ভাঙিয়ে এক কাপ গরম চা খেয়ে গ্রিনলাইন বাস এ উঠলাম বিমান বন্দর যাওয়ার জন্য । আমার প্লান ছিল সবার শেষে কলকাতা ঘুরবো। বাসে বিমানবন্দর পর্যন্ত ভাড়া ১০০ রুপি। বাস ভাল ,এসি আছে। ঘুম থেকে কেউ ডেকে উঠাল, দাদা বাস থেমেছে এখানে দুপুরের খাবার খেতে হবে। তা বেশ,খুদাও লেগেছিল অনেক। বাস থেকে নেমে ভাত আর মুরগির মাংস অর্ডার দিলাম। খাওয়া শেষ করে ফের বাস এ,এবার আর ঘুম এলো না। একটু পর চলে এলাম কলকাতা নেতাজী সুভাসচন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট। আমার জীবনে আমি এয়ারপোর্ট এ আসি নি,আর না কখনো প্লেন এ উঠিনি । তাই খুব ভাল লাগছিল নতুন কিছুর অভিজ্ঞতায় ।বড় বিমানবন্দর তাই সব কিছু গুলিয়ে ফেললাম। একটু পর একজন অফিসার টাইপের কারো কাছে জিজ্ঞেস করায় সব বুঝিয়ে দিলেন। ভিতরে ঢুকেই বিপত্তি,আমার টিকেটে কি যেন একটা সমস্যা হয়েছে। আমার অবস্থা খারাপ হয়ে গেল। পরে এক পাঞ্জাবি অফিসার সব ঠিক করে দিলেন,সব থেকে সুন্দর লাগল আমি বাংলাদেশি বলে এক্সট্রা খাতিরদারি পেলাম।  ফ্লাইট এর সময় হয়ে গেলে প্লেন ছাড়ল চলে এলাম দিল্লী ।অনেক  শুনেছি দিল্লির নামে। হোটেল থেকে গাড়ি চলে আসছে। গাড়িতে করে সোজা হোটেল এ ।তখন রাত ৮.৩০ মিনিট । কলকাতা থেকে দিল্ল যেতে ২.৪৫ মিনিট লাগে।ঐদিন কিছু খেলাম না সোজা হোটেল রুম এ ঘুম। পরদিন দিল্লী ঘুরার স্বপ্ন নিয়ে ঘুমিয়া গেলাম। সকাল হতেই নাস্তার জন্য হোটেল এর রেস্টুরেন্ট এ চলে গেলাম। ফ্রি ব্রেকফাস্ট (হ্যাপি) ,বুফে সিস্টেম হওয়ায় নিজের খাবার নিজেই আনতে হবে। খেয়ে নিলাম,সকাল ৯.০০ বাজে। হোটেল থেকে বের হয়ে হয়ে গাড়ির খোজ লক্ষ্য একদিনেই দিল্লী দেখতে হবে। কিন্তু আধা ঘণ্টা পরেও গাড়ি পেলাম না। একটা পেয়েছিলাম দাম চড়া। একটুপর হোটেলের একটা লোক আমাকে উদ্বিগ্ন দেখে হোটেলের গাড়ি আর ড্রাইভার দিল বেশ কম দামে।  তখন ১০.৩০ বাজে। তখন চলে গেলাম কুতুব মিনার । বিশাল মিনারের সামনে নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মনে হল । বিশালতা আমায় মুগ্ধ করেছে।

আমার কাছে ভাল কোন ক্যামেরা না থাকায়  কোন ছবি উপহার দিতে পারব না বলে দুঃখিত । ২ ঘণ্টা  কাটালাম কুতুব মিনারের এলাকায় যদিও যার একদিনে দিল্লী দেখার ইচ্ছা তার ঐখানে ২ ঘণ্টা কাটানো বোকামি । এরপর চলে গেলাম দিল্লীর সব থেকে বিখ্যাত লাল দুর্গে (The Red Fort) এ । লাল দুর্গ এমন একটা জায়গা এখানে না এসে যদি আমার কাছে বলেন আমি দিল্লী ঘুরে এসেছি তাহলে আমি আপনাকে বলব আপনার দিল্লী ভ্রমন বৃথা গেছে। কুতুব মিনারে অনেক টুরিস্ট দেখেছি কিন্তু লাল দুর্গের কাছে ঐ সংখ্যা কিছুই না। অবাক নয়নে তাকিয়ে ছিলাম।শুধু আমি না,আরও অনেক মানুষ ছবি তুলতেই ভুলে গেছে। এরপর ওখানে কিছু সময় থেকে অনেক দেশ বিদেশ এর টুরিস্ট দের সাথে কথা বলে এবার যাত্রা এমন একটা জায়গায় যেটা কোন টুরিস্ট পয়েন্ট না তাও হাজার হাজার মানুষের ভিড় ,জায়গাটির নাম ইন্ডিয়া গেট। অনেক বড় করে গেট করা রাস্তার মাঝখানে । দেখতে অমায়িক। যদিও গাড়ির শব্দে মেজাজ খারাপ হচ্ছিল। কিছুক্ষন থাকলাম। এরপর অনুভব করছি শরীরী শক্তি লোপ পাচ্ছে কারন সকালের পর এখন বিকাল ৫.৪৫ আমি এখনো কিছু খাই নি্‌আর আমার ড্রাইভারও কিচ্ছু খায় নি। চলে গেলাম খেতে । হাইদ্রাবাদি বিরিয়ানি খাওয়ার পর একটু ঘুম পাচ্ছিল। এরপরও শহরের মধ্যে ঘুরলাম । রাত ৮ তায় হোটেলে গিয়ে গোছল করে,  রাস্তায় বের হলাম রাস্তার খারাব খেতে,ভারত এসে রাস্তার খাবার না খেলে ভ্রমণই মাটি । ১০ টা পর্যন্ত ঘুরে হোটেলে এসে শুয়ে পরলাম , পরের দিন আগ্রার তাজমহল ,আগ্রা দুর্গ দেখার স্বপ্ন নিয়ে ঘুম। ৩ সপ্তাহ অর্থাৎ ২১ দিনের প্রথমদিন শেষ হল।

এখানে কিছু জিনিস জেনে রাখা ভাল হবে দিল্লী এবং কলকাতা এয়ারপোর্ট এর জন্য,১.আপনি কলকাতা এয়ারপোর্ট এ গেলে একটু ভদ্র থাকার চেষ্টা করবেন। কোন রকম অসুবিধায় পরলে নিজেকে বাংলাদেশি বলে পরিচয় দেন। আমার অভজ্ঞতা থেকে বলছি আপনার অসুবিধা একটু আগে হলেও দূর হবে কারন ভারত এর একটা সব থেকে ভাল গুন হল এরা টুরিস্ট দের সন্মান করে আর বাংলাদেশিদের একটু বেশি ভালবাসার কারন ভারতে বাংলাদেশি টুরিস্ট দের সংখ্যা ব্যাপক। ২.আপনি কোন হোটেল থেকে গাড়ি নিয়ে যাবেন না, একটু কস্ট করে সময় নিয়ে খুজুন কারন আমি পরে আরেকবার কাজের জন্য দিল্লী গিয়ে দেখেছি খুজলে ভাল মানের গাড়ি পাওয়া জায় কম দামে আর ড্রাইভার আপনার টুরিস্ট গাইডের কাজও করতে পারে। কিন্তু হোটেলের ড্রাইভার গাড়ি চালানো ছাড়া আর কিচ্ছু পারে না। আর বাইরে থেকে গাড়ি নিলে হোটেলের ড্রাইভারের মত বাধ্যগত খাওয়াতে হয় না।৩.আপনি যদি হিন্দি জেনেও থাকেন তাহলে এয়ারপোর্ট ,হোটেল ছাড়া বলবেন না,ইংরেজি বলুন বাহিরে গেলে। সন্মান পাবেন ভাব্বে টুরিস্ট। আর বাইরে গিয়ে হিন্দি বললে ভাব্বে ভারতীও সন্মানটা একটু কম(এইটা একটা আনঅফিসিয়াল টিপস ) হাহা। ৪.হোটেল বুক করার ক্ষেত্রে কখনই অনলাইন বুক করবেন না। আমি অনেক জায়গায় সরাসরি গিয়ে ৫০০-১০০০ রুপি কম পেয়েছি। অনলাইন বুক করার কোন দরকার নেই। একটা না একটা হোটেল পেয়েই যাবেন। আপনি যে বাজেটে চাইবেন সেই বাজেটেই হোটেল পাবেন। খরচ নির্ভর করবে সম্পূর্ণ আপনার উপর। এটা ধরাবাধা বলা যায় না।  গাড়ি না নিয়ে আপনি মেট্ররেল না বাস ব্যাবহার করতে পারবেন এ ক্ষেত্রে আপনার খরচ ৫০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ৫. এয়ারপোর্ট থেকে একটু দূরে থাকুন হতেল,খাওয়া দাওয়া অনেক কম। ৬. আমার দিল্লী ট্যুর টা ছিল ছোট কারন আমি আরো অনেক জায়গায় যাব, কিন্তু আপনি যদি যান তাহলে বলব দুইদিন থাকতে কারন অনেক জায়গা আছে যা দেখার মত।

(চলবে)

বাংলাদেশিজম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি কবিতা ।

Now Reading
বাংলাদেশিজম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি কবিতা ।

2_17.jpg

বাংলাদেশিজম এর লিখনি অনেক আগে থেকেই নিয়মিত পড়ি। সব থেকে ভাল একটা পোস্ট ছিল বিভিন্ন ধর্ম ও তাদের শ্রেনীবিভাগ নিয়ে। বাংলাদেশিজম শেখানে দেখিয়েছিল অনেক কিছুর সংমিশ্রন ।হয়ত বাংলাদেশিজম এরই মনে নেই এই পোস্ট এর কথা। আমি ভাল লিখনি গল্প মনে রাখার জন্য একটা পদ্ধতি অবলম্বন করি তা হল ঐ লিখনিকে একটা কবিতার আকারে নিজের কাছে সংরক্ষন করে রাখি। বাংলাদেশিজম এর সেই পোস্ট টা আমার কবিতাটা পরলেই বুজতে পারবেন।জানি না আমার এই আজীব পোস্ট টা থাকে নাকি বাদ হয়ে যাবে। তবুও বাংলাদেশিজম এর প্রতি ভালবাসা থেকেই লিখা।

 

ধর্মযুদ্ধ

ধর্ম,ধর্ম, ধর্ম বলে কর্ম থেকেই দূরে,
জানিনা কবে মানবতার কথা বলব সব্বাই এক সুরে ।
কেউ করে নিখুত কূটনীতি,কেউ দেয় বালি গুঁড়ে,
জানি সবাই এক হবই হয়ত কিয়ামতের আগে নইলে পরে ।
কিকরেছে মহানবী কি করেছে কৃষ্ণ,
কখনও কি করেছি নিজের কাছে প্রশ্ন ।
সত্যের সন্ধান না করেই করি সত্যের বরাই,
এই থেকেই জন্ম নেয় নির্ঘাত বাক কিংবা হস্থ লড়াই ।
একটা প্রথা খুব বেশি, না পারলে দেই গালি,
ও… গালি টাও তো তেমন কিছু না আমাদের নিত্যদিনেরই বুলি।
সাবধান,কারে দেও গালি বুজে শুনে দিও,
অন্যরে গালি দাও না নিজ কে, সেটা একবার যাচাই করে নিও।
দুনিয়ায় কত যুগে কত কালে আসল কত পয়গম্বর আর নবি,
না জানি সব নাম,না জানি দেখেছি ছবি।
ধর্ম বলে পয়গম্বর ছিল লক্ষের অধিক,
মতান্তরে সংখ্যা দেওয়া নয় ঠিক সঠিক।
বি,পয়গম্বর পাব,
বাকি লক্ষ লক্ষ আল্লাহর দূত কোথায় খুজে পাব?
কে জানে কোন ধর্মের কোনায় আসেন আমার কোন নবী?
আমি জানিনা আল্লাহ জানেন সবই।
কালের বিবর্তনে কোন পয়গম্বর কোন ধর্মের দূত,
হিন্দু, বৌদ্দ,খ্রিস্টান,শিক্ নাকি শুত?
অন্য ধর্ম কে গালি দেওয়ার আগে তাদের স্মরণ করে নিও,
সাবধান,কারে দেও গালি বুজে শুনে দিও,
মোসলমানের সন্তান আমি কে আমারে ঠেকায়?
বিদায় হাজ্জ এ নবি আমার, বংশ অহংকারকে করে গেছেন বিদায় ।
ব্রাম্নন আমি, কে আমার সমতুল্য ?
জাত পাত নিয়ে ব্যাবসা করলে নরকে দিতে হবেই মূল্য ।
খ্রিস্টের পুত্র আমি স্বয়ং ঈশ্বর আমার বাবা, আমার তো জান্নাত আছেই কিছু করি আর না করি,
না ছুয়ে কাদা আর পানি, মৎস্য আমি ধরি।
আমাকে একটা ধর্ম দেখাও যেখানে আছে কিছু বৈরি,
তবে কেন কথায় কথায় আমরা মরনাস্ত্র করি তৈরি?
কেন আমাদের এমন এই দশা?
এক বাক্যেই বলতে  পারব না সহসা।
আল্লাহ দেখছে,ঈশ্বর দেখছে তাই করি ভাল?
ধরি, কেউ দেখসে না কোন শাস্তি নেই,তাহলেই কি আমদের রুপ হবে কালো
?
জান্নাতের লোভে কর্ম আর জাহান্নের ভয়ে ধর্ম যদি ঘটে,
কিয়ামত এর আর বাকি নাই,খুব ই সন্নিকটে ।
নেকি কামাও একদিন উঠতে হবে মরার খাটে,
এত ধর্ম নয় ধর্ম ব্যাবসা হল বটে।
প্রতিবেশি না খেয়ে মরে, আমরা ঈদে পরি নতুন জামা আর কোরবানিতে গরু কিংবা খাসী,
আমদের অবস্থা এমন আল্লাহ কে শুধু ভয় পাই, না ওনার মত চলি না ভালবাসি ।
সত্য জানতে রাসুল আমার করেসেন ৪০ বছর সাধন,
আর সাড়া জীবন করে গেছেন উম্মতের জন্য ক্রন্দন ।
৪০ বছর পর নবী আমার হয়েছেন উন্মুক্ত মহাজ্ঞানী,
আজ দু এক পাতা বই পড়ে কে কোদ্যুর জাণে তাও আমি জানি।
হানাহানি ছেড়ে চল একে অপরের হাত ধরি,

সব্বাই মিলে সুস্থ,সুন্দর একটা পৃথিবী গড়ি।

(ফাহাদ বিন হুসনে আলি)