খোলামেলা মিউজিক ভিডিও এখন জনপ্রিয় হবার মাধ্যম !! ( কুসুম সিকদারের অবক্ষয় )

Now Reading
খোলামেলা মিউজিক ভিডিও এখন জনপ্রিয় হবার মাধ্যম !! ( কুসুম সিকদারের অবক্ষয় )

( প্রথমেই বলে রাখি, আমার এই লেখাটি কুসুম সিকদারের ভালো নাও লাগতে পারে, কারণ আমি উনার ভক্ত হয়েই একটু সমালোচনা করতে বাধ্য হলাম। এটার অবশ্যই প্রয়োজন আছে )

কুসুম সিকদার- যিনি কিনা এক সময় “মহিলা আসিফ আকবর” হতে চেয়েছিলেন শিল্পী আসিফ আকবরের গান শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে। প্রায় দেড় যুগ পর তিনি আবার গানে কন্ঠ দিয়েছেন এবং নিজেই সেই মিউজিক ভিডিওতে মডেল হয়েছেন। সাথে রয়েছেন আরেক র‌্যাম্প মডেল সুজন।

কুসুম সিকদার বাংলাদেশে অতি পরিচিত একটা মুখ। নাটক, মডেলিং কিংবা টিভিসি করে অতি দ্রুত খ্যাতি অর্জন করেছেন। “গহীনে শব্দ” সিনেমার মাধ্যমে কুসুম চলচিত্রে নাম লেখালেও তার অভিনীত “শঙ্খচিল” সিনেমাটি বাংলাদেশ এবং কোলকাতা – দুই বাংলাতেই তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

শুধুই কি অভিনয়? না, তিনি লেখালেখি এবং গান গাওয়াতেও কম যান না! ২০১৫ সালে “নীল ক্যাফের কবি” শিরোনামে একটি বইও বের হয়েছিল যা পাঠক মহলে বেশ সাড়া জাগিয়েছিল।

গান গাওয়ার তাড়া অনুভব করে তিনি গত পহেলা বৈশাখে “নেশা” নামের একটি নতুন গান রেকর্ডিং করেন এবং ঘোষণা দেন সেটি নিয়ে মিউজিক ভিডিও তৈরী করবেন।

আর সেই মিউজিক ভিডিও নিয়েই আমার আজকের লেখা।

“নেশা’ নামের মিউজিক ভিডিওটি সত্যিই খুব প্রশংসনীয় এবং তুমুল আলোচিত হবার কথা ছিল। হ্যাঁ, আলোচিত হয়েছেও কিন্তু তুমুল সমালোচনার মুখেও পড়েছে এর ভেতরে থাকা কিছু দৃশ্য নিয়ে। কারণ কুসুম সিকদার সেখানে উপস্থিত হয়েছেন বেশ খোলামেলা দৃশ্যে। আবেদনময়ী কুসুম সিকদারকে এবারই প্রথম দেখলেন দর্শকেরা।

ভিডিওর প্রথমদিকের একটা দৃশ্যে দেখা যায়,

3.JPG

কুসুম যখন ব্যাকগ্রাউন্ডে ভয়েস দিচ্ছেন, তিনি শুয়ে আছেন  এবং উনার হাতটা উনি উনার এক পাশের বুকের উপর দিয়ে সরিয়ে আনলেন। খুবই বিরক্তিকর একটা দৃশ্য। বুকের উপর দিয়ে হাত টেনে নিয়ে যাওয়াটা অশ্লীলতার পর্যায়ে পড়ে যা কিনা কুসুমের মত একজন অভিনেত্রীর করাটা মানায় না।

এর ঠিক কিছু দৃশ্য পরেই আসে আরেকটু আপত্তিকর দৃশ্য, যা কিনা সচরাচর ভারতীয় বলিউড নামক বস্তাপচা নগ্নতায় ভরা সিনেমার গানের দৃশ্যে দেখা যায়। কোন ধরণের দৃশ্য বুঝতেই পারছেন।

0003.jpg

এছাড়া বাকি সবকিছুই ঠিক ছিল। ওয়েষ্টার্ন পোশাকে কুসুমকে আগে থেকে দেখা গেলেও আবেদনময়ী দৃশ্যে এই প্রথম এবং তা বিতর্কিতও বটে।

kusum western inside article.jpg

কুসুম সিকদার আপনাকে বলছি,

আপনি একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী, আপনাকে নিয়ে এই ভিডিওর আগে বাংলাদেশে কোনো  সমালোচনা হয়নি, সত্যি কথা হলো, আপনার ভিডিওটি যারা তৈরী করেছেন, এডিট করেছেন তারা সকলেই স্যালুট পাবার যোগ্য। তাছাড়া আপনার পোশাক নির্বাচন ছিল খুবই সময়োপযোগী এবং মানানসই। শুধু সমস্যা হয়ে গিয়েছে অমন দৃশ্য থাকার জন্য যা আপনার লেভেলের সাথে যায়না।আপনি একজন মিষ্টি অভিনেত্রী, এমন দৃশ্য না থাকলে আপনি আরো বেশি সাড়া পেতেন এবং সেটা কোনোভাবেই নেতিবাচক দিক থেকে নয়।

আর আপনার গায়কীর কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলবো,

গান নিয়ে আপনার আরো অনেক সাধনা প্রয়োজন, আপনার গলা ভালো কিন্তু কন্ঠ স্পষ্ট নয়, জড়িয়ে আসে আই মিন জড়তা আছে। সুরের সাথে সমন্বয় হয়না ঠিকঠাক।

তো আপনার কাছে আসলে আমার একটা অনুরোধ,

নিজের ইমেজটাকে এভাবে নষ্ট করবেন না প্লিজ, নেতিবাচক ইমেজ এনে কেউ মিডিয়াতে বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনা কারণ একটা সময় দর্শক তাদেরকে আর ইতিবাচকভাবে নিতে চান না। এত সুন্দর একটা মিউজিক ভিডিওতে অমন দৃশ্যের কোনো প্রয়োজনই ছিলো না।

0002.jpg

আশা করি, পরবর্তীতে আমরা এমনটা দেখবো না। দেখার আশাও করিনা। মনে রাখা উচিত এটা বাংলাদেশ। আপনার জন্মস্থান আর সেখানে মানুষগুলো কেমন সেটা আপনি যথা+ইষ্ট = যথেষ্টই বোঝেন। নতুন করে আপনাকে বোঝানোটা আমার বোকামি ছাড়া আর কিছুই হবেনা।

 

যারা ইউটিউব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইটে কুসুম সিকদারকে যাচ্ছেতাই ভাষাতে গালিগালাজ করছেন তাদের উদ্দেশ্যে একটু বলি,

কুসুম সিকদার দেশের মেয়ে বলে আজ এভাবে গালিগালাজ করছেন দুইটা তিনটা দৃশ্যের জন্য। আজ ওখানেই যদি ভারতের কোনো অভিনেত্রী কাজ করতো, তাহলে কি করতেন আপনারা? মনে করেন, কোলকাতার শ্রাবন্তি কিংবা শুভস্রী এসে যদি অভিনয় করতো, তাহলে বলতেন শালার বাংলাদেশের অভিনেত্রীদের দিয়ে কিছুই হবেনা। তাইতো?

আরেকটা কথা, আপনাদের অমন গালি দেয়ার অর্থ কি? নিজেদের জাত চেনানো তাইনা? ভাই, ভালো না লাগলে দেখবেন না, তাই বলে গালি দেয়ার মাঝে কোনো স্বার্থকতা নেই। সে মিডিয়ার মানুষ যা খুশি করে বেড়াক, আপনার আমার কি? ভালো লাগলে ভালো, না ভালো লাগলে আরো ভালো। এভাবে যৌক্তিক সমালোচনা দেখাতে পারেন তাই বলে সেটা গালিগালাজ করে নয়।

শেষে কিছু কথা বলি,

0001.jpgচোখের সামনে বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীর ইমেজ সংকটে পড়ে মিডিয়া থেকে বিদায় নিতে দেখেছি। বাংলাদেশের মিডিয়াতে একটা সুবিশাল পরিবর্তন দরকার, দরকার নির্মাতা আর আর্টিষ্টদের মানসিকতার পরিবর্তনও। আমরা কেন অন্যান্য দেশের স্টাইলকে অনুকরণ করতে যাবো? আমাদের কি নিজস্বতা নেই? আবেদনময়ী ঐ সকল দৃশ্য কি নির্ণয় করে আমার অজানা, শুধু জানি অর্থপূর্ণ কিছু দেখতে চাই আমরা।

পাবলিক ঐসব দৃশ্য বুঝতে চায়না। বাংলাদেশের দর্শকেরা নিরেট বিনোদন আশা করে, ভালোবাসে।

কুসুম সিকদার, আশা করছি আরো ভালো কিছুর কিন্তু এভাবে আর নয়।

ভালো থাকবেন।

সীমাকে যেভাবে ব্ল্যাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল !! (শেষ পর্ব)

Now Reading
সীমাকে যেভাবে ব্ল্যাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল !! (শেষ পর্ব)

প্রথম পর্বের পর থেকে…

সীমার চিৎকার শুনে সবাই কেবিনে ছুটে গেল, দেখলো সীমার নাক দিয়ে আবার অস্বাভাবিকভাবে রক্ত ছুটছে। রক্ত বন্ধ করার কোনো উপায় না দেখে ইমারজেন্সী রক্তের জন্য অর্ডার দেয়া হলো ব্লাড ব্যাংকে।

এদিকে জহির সুস্থ হয়ে ওঠে একদিনেই। আর এনামুল এইসব খবর শুনেই চলে যায় তান্ত্রিকের কাছে। তান্ত্রিক তো অবাক, কি হলো? এমন তো হবার কথা না। সাথে সাথে রুমে গেল, বাইরে এলো শুকনো মুখ নিয়ে। তান্ত্রিক বলে, জনাব, একটা বিশাল ভুল করে ফেলেছি! আমি “বাইন-মারা”র ফল দিয়ে ফেলেছি, যাতে কেউ রক্তক্ষরণ হয়ে মারা যায়। এই কথা শুনে এনামুলের মাথা নষ্ট হয়ে গেল, সে উন্মাদের মত তান্ত্রিককে মারা শুরু করে দিল। মারতে লাগলো আর বলতে লাগলো, তুই জানিস আমি সীমাকে কতটা ভালোবাসি? নিজের জীবনের চাইতে বেশি ভালোবাসি, ছোট থেকে ভালোবাসি, আমি তো চেয়েছিলাম ওকে নিজের করে পেতে। আর তুই কিনা ওকে মেরে ফেলার জাদু করলি? হাউমাউ করে কাদঁতে লাগলো এনামুল। কিছুক্ষণ পর তান্ত্রিকের জোরাজুরিতে শান্ত হয়ে বললো, এখন যদি আমার সীমাকে সুস্থ না করে তুলিস, তাহলে তোকে মেরেই ফেলবো। তান্ত্রিক বলে, ঠিক আছে, আমি কালকের ভেতরেই কিছু একটা করার চেষ্টা করবো।

এনামুল এমন কথা শুনে বলে, কাল কিরে? আজই এখনই! তোকে ভরসা নেই, আমি প্রতিটা সেকেন্ড তোর সাথে থাকবো, আমি জানি তুই এখন পালিয়ে যাওয়ার ফন্দি করছিস কিন্তু কি ভেবেছিস আমি কিছুই বুঝিনা? কি করবি এখন বল?

রুবেল তান্ত্রিক ভয় মেশানো কন্ঠে বলে, এখন আমার গুরুর কাছে যেতে হবে। – তোর গুরু কোথায় থাকে?

চট্ট্রগ্রাম এর এক পাহাড়ি এলাকায়।

– ঠিক আছে, এখনই যাবো, ব্যাগ গোছা।

সবকিছু গুছিয়ে প্রথমে একটা বেসরকারি ফ্লাইটের অফিসে খোঁজ নিল সন্ধ্যাঁয় কোনো ফ্লাইট আছে কিনা! সৌভাগ্যবশত একটা ফ্লাইট পেয়েও যায়।

এদিকে সীমার অবস্থা কাহিল, শরীরে একদিক দিয়ে রক্ত প্রবেশ করে আর অন্যদিক থেকে বের হতে থাকে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশে। বিভিন্ন চ্যানেল আর সংবাদপত্রের সাংবাদিক এসে নিউজ কভার করার চেষ্টা করে যদিও পারেনা।

তান্ত্রিক আর এনামুল সন্ধ্যাঁর ফ্লাইটে রাতেই চট্ট্রগ্রাম পৌছে যায়। কুয়াশার জন্য ফ্লাইট দেরী করে। এরপর একটা গাড়ি ভাড়া করে দূর্গম সেই পাহাড়ি এলাকায় যায় ওরা।

রাত তখন প্রায় ১২টা। ওখানে পৌছানোর পর তান্ত্রিক তার গুরুর বাড়িতে প্রবেশ করে কিন্তু এনামুল আর গাড়ির ড্রাইভারকে একটু দূরে মেইন রোডের কাছে দাঁড় করিয়ে রেখে। তান্ত্রিক যেন পালিয়ে না যেতে পারে, তাই ওর কাছ থেকে ওর মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ যা কিছু ছিল সব নিয়ে রেখে দেয়। যদিও সে ঘন্টাখানেকের ভেতর ফিরে আসে। হাতে একটা পানির বোতল নিয়ে শুধু। আর কিছুই না। হাপাতে হাপাতে বললো, ভাই, এইটা পানি না, পানির মত দেখালেও অন্য কিছু। শরীর থেকে সব রক্ত বের হয়ে যাবার আগেই সীমাকে এই পানি পান করাতে হবে?

কি? শুনতে খুব আশ্চর্য লাগছে তাইতো? মনে হচ্ছে কাল্পনিক কোনো গল্প পড়ছেন? নাহ, আসলে এটাই বাস্তব ঘটনা। আলিফ লাইলা টাইপের হলেও ঠিক এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটেনি বা আমিও কিছু বানিয়ে লিখছি না। পরবর্তীতে পুলিশি তদন্তে সবকিছু বেরিয়ে আসে, কিন্তু সীমা আর সীমার পরিবারের কথা চিন্তা করে সেই সময়ের পুলিশের এসপি মিডিয়া বা পত্র-পত্রিকাকে এসবের কাছে ঘেষতে দেয়নি।

এরপর?

বাকিটুকু আসলেই কষ্টদায়ক; তান্ত্রিক আর এনামুল ফিরে আসতে আসতেই সীমা মারা যায়। তান্ত্রিক গুরুর সেই পানি নিয়ে ওরা যখন পরদিন বিকেলের ফ্লাইটে রাজশাহীতে পৌছায়, সীমার লাশ তখন গোরস্থানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দিয়েছে।

সীমার মৃত্যুর খবর শুনে এনামুল নিশ্চুপ হয়ে যায়। সে আসলে সীমাকে আপন করে পাবার জন্য শয়তানের কাছে নিজেকে সঁপে দিয়েছিল। আর তারই ফল সে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারছিল।

বিমান থেকে নামার পর সেই তান্ত্রিক উধাও হয়ে যায় আর এনামুল ফিরে আসে বাড়িতে। নাহ! নিজের বাড়ি নয়, সীমার বাড়িতে।

হঠাৎ উদ্ভ্রান্তের মত ঢুকে কাদঁতে থাকে আর চিল্লাপাল্লা করে বলতে থাকে নিজের কৃতকর্মের কথা। সীমার স্বামী জহির আর সীমার বাবা এসে এনামুলকে ইচ্ছা মত মারতে আরম্ভ করে কিন্তু বাড়ির অন্যান্য লোকজন তাদেরকে শান্ত করে। এনামুল অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে মেঝেতে।

শেষ কথাঃ

পরদিন বিকেলে এনামুলকেও সাদা কাফন পড়িয়ে কবর দেয়া হয়। তবে সেখানে পুলিশের সংখ্যাই বেশি ছিল। এনামুল আসলে রাতে অজ্ঞান হয়ে যায়নি। পোষ্টমর্টেম রিপোর্টে দেখা যায় সে বেশ আগেই বিষ খেয়েছিল, মনে হয় সীমার মৃত্যুর খবর শোনার পরেই কোনো এক সময়। আর সেই বিষ সে আগেই কিনে রেখেছিল সীমার অসুস্থ হয়ে যাবার কথা শুনে।

উপরোক্ত ঘটনা সীমার স্বামী জহিরের কাছ থেকে শোনা। জহির আজও বিয়ে করেনি তারপর থেকে। করবেওনা কোনোদিন। সে সীমার ভালোবাসা আর বিয়ের পরের ঐ কয়েকদিনের স্বৃতি আকঁড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চায়। মাঝে তিনটা জীবন বিপন্ন হয়ে গেল, এক কালোজাদুর প্রভাবে তিনটা পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়, দুইটা জীবন নিঃশেষ হয়ে কবরে শুয়ে আছে। মাঝখানে সেই জাদুকর লাপাত্তা। কেউ কোনোদিন তার খবর জানেনি। এনামুলের সেই বন্ধু জহিরকে ভেতরের এমন খবর বলেছিল, সাথে ক্ষমা চাইতে এসেছিল। জহির ক্ষমা করে দিয়েছে। কিন্তু তদন্তের কাজে সেই বন্ধুকে পুলিশ নিজেদের জিম্মায় রেখেছিল কিছুদিন।

আমার এই লেখাটাই হয়তো কালোজাদু নিয়ে শেষ ঘটনা, আপনাদের অনুরোধ করবো কালোজাদু বা ব্ল্যাক-ম্যাজিক থেকে দূরে থাকতে। আর যেসকল মুসলমান ব্ল্যাক-ম্যাজিক নিয়ে সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা খোজেঁন, তাদেরকে বলছি কোরআন শরীফ ঘেঁটে দেখার জন্য। উত্তর পেয়ে যাবেন।

সীমা আজ প্রায় ৭ বছর হলো মারা গিয়েছে। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।

সীমা ভালো থাকুক আল্লাহর কাছে।

সীমাকে যেভাবে ব্ল্যাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল !! (পর্ব-১)

Now Reading
সীমাকে যেভাবে ব্ল্যাক-ম্যাজিকের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিল !! (পর্ব-১)

ব্ল্যাক-ম্যাজিক বা কালোজাদু সংক্রান্ত কিছু বাস্তব ঘটনার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে আপনারা দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের নানা প্রকার কালোজাদুর ঘটনা জেনেছিলেন। বরাবরের মত পাঠক-পাঠিকাদের তুমুল সাড়া আমাকে আবারও বাধ্য করেছে আজকের এই ঘটনা লিখতে।

আচ্ছা, ফল দিয়েও যে জাদু করা যায় তা আগের পর্বেই জেনেছিলেন, আজ বলবো আরেক ঘটনা।

প্রথম যখন এই ঘটনা শুনি, যেমন অবাক হয়েছিলাম তেমনি চোখ দিয়ে অঝোর ধারায় অশ্রুও ঝরেছিল। তাহলে বুঝতেই পারছেন এটা কতটা ভয়ংকর সাথে কষ্টদায়ক? গল্পের আকারে লিখছিঃ

এটা ঠিক প্রেমের ঘটনা না হলেও প্রেম জাতীয় ঘটনা আরকি! জহির আর সীমার কথা বলছি। একই সাথে রুয়েটে পড়াশুনা করতো। দুইজনই দুজনাকে মনে মনে প্রচন্ড ভালোবাসলেও কেউ কাউকে বলতোনা। যাইহোক, একটা সময় তাদের মাঝে উপস্থিত হয় একজন তৃতীয় ব্যক্তি। তৃতীয় ব্যক্তিটা আর কেউ না, সীমার খালাতো ভাই এনামুল। এনামুল বিদেশ ফেরত যুবক, সীমাকে নিয়ে তার বহুদিনের স্বপ্ন কিন্তু সীমার মনে স্বপ্ন জহিরকে নিয়ে।

এনামুল এসেই সীমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলো। কিন্তু সীমা রাজি হলো না। ওদিকে সীমা জহিরকে এই কথা বলার পরই জহির বুঝতে পারলো যে সীমা ওকে চায়। জহির তখন বাংলালিংকের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ঢুকেছে মাত্র। জহির তাই সীমার মনের চাওয়া বুঝতে পেরে আর দেরী করলো না। ওদের বাসায় বিয়ের প্রপোজাল নিয়ে গেল। ব্যস, ভালো-ভদ্র পাত্র দেখে সীমার বাবা-মা রাজি হয়ে গেল। কোনো এক রোজার ঈদের কয়দিন পর ওদের বিয়ে হয়ে যায়।

এদিকে এনামুল তো রাগে অস্থির। খালা-খালু এমন করলো? সীমাকে আমার সাথে বিয়ে দিলো না?- এমন মনোভাবে সে দিনে দিনে হিংস্র হয়ে উঠলো। এনামুল সীমাকে এসিড মারার চিন্তাও করেছিল যা পরবর্তীতে তার এক বন্ধুর কাছ থেকে জানা যায়।

সীমার সুখের সংসারে আগুন লাগানোর হাজার চেষ্টা করেও যখন সে ব্যর্থ, তার মাথায় হঠাৎ ব্ল্যাক-ম্যাজিক বা কালোজাদু করার চিন্তা এলো। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও সত্যিকার কালোজাদুকর কিংবা তান্ত্রিক খুঁজে পাচ্ছিলো না। এক বন্ধু বললো, তার মামা টুকটাক সাধনা করে ওসবের। গোপনে সেই মামার সাথে এনামুল দেখা করে সমস্ত ঘটনা খুলে বললো, সেই মামার নাম রুবেল। রুবেল তান্ত্রিক জিজ্ঞেস করলো, কোন ধরণের ক্ষতি করতে চাও?

এনামুল বললো, যেভাবেই হোক ওদের সংসার যেন আর না টিকে এমন কিছু করতে। রুবেল তান্ত্রিক এর ডিম্যান্ড অনেক। দশ হাজার টাকা চেয়ে বসলো, এনামুল অর্ধেক দিয়ে বললো, আগে কাজ চাই, পরে বাকি অর্ধেক দেয়া হবে। তান্ত্রিক ওকে পরদিন দেখা করতে বললো আর জানিয়ে দিলো যে সে পরদিন কিছু ফল আনবে।

আগের দিনের কথামত এনামুল পরদিন সেই ফল আনতে গেল। দেখলো রুবেল তান্ত্রিক কমলালেবু, আপেল, ডালিম ফল- এইসব এনেছে। এনামুল এমনটা দেখে রাগ হয়ে জিজ্ঞেস করে, এইসব কি? ফল দিয়ে কি হবে? যত্তসব ফাজিল লোকজন। দেন টাকা ফেরত দেন, জানি আপনিও নামে তান্ত্রিক, কাজ হবেনা।

তান্ত্রিক তখন মুচকি একটা হাসি দিয়ে বলে, এত সহজে বিশ্বাস হারালে কি চলবে জনাব? বিদেশেই তো সারাজীবন কাটিয়ে এলেন তাই বলে দেশী মানুষের প্রতি কি বিশ্বাস হারাবেন এভাবে?- এই বলে পকেটে হাত দিয়ে নেয়া টাকা ফেরত দিয়ে বললো, এই নেন আপনার টাকা, সাথে ফলও নেন। যদি আমার জাদুতে কাজ হয়, তাহলে পুরো টাকা নিয়ে চলে আসবেন আর না হলে আসবেন না।

এনামুল তখন নরম কন্ঠে জানালো, তা নাহয় বুঝলাম কিন্তু ফল দিয়ে হবেটা কি শুনি? আর কি আছে এই ফলের ভেতর?

– এইতো জনাব, এতক্ষণে লাইনে এলেন তাহলে। এই কথাগুলো আগে বললেই ভালো শোনাতো। আসলে কথা হচ্ছে এই ফলের ভেতরে ইঞ্জেকশন এর মাধ্যমে কিছু তরল পদার্থ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। গ্লিসারিনের সাথে কিছু গোপন রস যা বলা যাবেনা। এই গোপন রস অনেক দূর থেকে আনতে হয়। এটা কোনো এক পশুর কিছু একটা হবে! যাইহোক, এত জেনে তো আর আপনার লাভ নেই, আপনি ফলগুলো ঐ মেয়ের বাসায় পাঠানোর ব্যবস্থা করুন, খাওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় খবর পাবেন কি ঝড় বয়ে যাচ্ছে দুজনার ভেতরে। সংসারে অশান্তির ঝড়!

সবকিছু শুনে এনামুল একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বাসার দিকে পা বাড়ালো। বাড়ি বসে ও চিন্তা করতে লাগলো কিভাবে ফলগুলো সীমার বাসায় পাঠানো যায়?

কি করবে? নিজেই যাবে নাকি অন্য কাউকে পাঠাবে? এমন চিন্তা করতে করতে সিদ্ধান্ত নিল ও নিজেই যাবে। হাজার হলেও খালাতো ভাই তো। সমস্যা নেই!

যেমন ভাবা তেমন কাজ। এক শুক্রবার বিকেলে এনামুল সীমার বাসায় গিয়ে উপস্থিত। সাথে সেই ফল আর দোকান থেকে কেনা মিষ্টির প্যাকেট। সীমা মনে মনে খুশীই হয়েছিল যে খালাতো ভাই বেড়াতে এসেছে, কারণ ওর মনে তো আর কুটিলতা নেই!

ভাইকে অনেক আদর যত্ন করে খাওয়ালো নিজের হাতে রান্না করে। অমন মধুর রান্না খেয়ে এনামুল মনে মনে বললো, আর কয়টা দিন যাক, এই এমন রান্না প্রতিদিন ও নিজেই আমাকে রান্না করে খাওয়াবে! এমন ভেবে মনে মনে ও একটা ক্রুর হাসি হাসলো- ভিলেনের পাঠে এনামুল মন্দ যায়না কিন্তু!

সপ্তাহ খানেকের মাথায় এনামুল জানতে পারলো, সীমা আর জহির দুইজনই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি! এর মধ্যে সীমার অবস্থা করুণ, ডাক্তার বলেছে নাক দিয়ে নাকি প্রচুর ব্লিডিং হয়েছে এবং প্রায়ই ব্লিডিং হচ্ছে তাই রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরেও ডাক্তার হিসাব মেলাতে পারছেনা যে কিভাবে কি হচ্ছে? শারীরিক তো কোনো সমস্যাই চোখে পড়ছে না ওদের, তাছাড়া সীমার নাকেও কোনো ফাটল নেই, চেকআপেও কিছুই ধরা পড়েনি। ঠিক এমন সময় কেবিন থেকে সীমার চিৎকার…………

 

চলবে

বাংলাদেশকে নিয়ে আল-জাজিরার চক্রান্ত ?

Now Reading
বাংলাদেশকে নিয়ে আল-জাজিরার চক্রান্ত ?

আল-জাজিরার নাম শোনেনি এমন ব্যক্তি পাওয়া মুশকিল, ছোট বাচ্চারাও হয়তো টিভি চ্যানেল ঘোরাতে ঘোরাতে আল-জাজিরা টিভি চ্যানেলের নাম মুখস্থ করে ফেলেছে। আল-জাজিরাঃ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কাতারের একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম, যারা কিনা হঠাৎ বাংলাদেশের পতিতালয় নিয়ে গবেষণায় লেগে পড়েছে!

সারা দুনিয়ায় এত বিষয়বস্তু থাকতে, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ভেতর এদের এত সমস্যা আর কামড়াকামড়ি ছেড়ে হঠাৎ এরা আমাদের দেশের দৌলতদিয়ার পতিতাপাড়া নিয়ে কেন উঠেপড়ে লাগলো ঠিক বোধগম্য নয় আমার কাছে।

দুইদিন আগে তথা জুলাই এর ২৯ তারিখে আল-জাজিরার ইংরেজি ভেরিফাইড পেইজে হঠাৎ নজর পড়লো Prostitution is usually hidden away, but not here – এই শিরোনামে একটি ভিডিও যেখানে মূলত একটি ট্রেইলার দেখানো হয়েছে সেই পতিতালয় নিয়ে। ভিডিওর একদম শেষে লেখা Watch – Bangladesh’s biggest brothel……

এরপর সেই ভিডিওরই কমেন্ট বক্সে প্রথম কমেন্টে পুরো ভিডিও সহ ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করা হয়। ওয়েবসাইটে ঢুকেই প্রথমে পুরো ভিডিও চোখে পড়লো, এরপর ইংরেজিতে কিছু কথা যা কিনা ভিডিওতে দেখানো সার্বিক অবস্থার সারমর্ম।

মূল আর্টিকেলের প্রথম লাইন বাংলায় অনুবাদ করলে ঠিক এমনটা দাঁড়ায়ঃ

এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহত্তম পতিতালয় এবং সম্ভবত পৃথিবীরও – যা কিনা সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত কেননা এটি বাংলাদেশে বৃহত্তম হলেও বিশ্বের বৃহত্তম কখনো নয়। উদ্দেশ্য প্রণোদিত এইজন্যই বললাম কারণ It’s the biggest brothel in Bangladesh – and possibly the world – এই একটি বাক্যই পারে এই আর্টিকেলকে সার্চ লিষ্টে টপে রাখতে কারণ কেউ যখন Biggest brothel / biggest brothel in / Asia / world লিখে সার্চ করবে, প্রথম পাতাতেই এই ভিডিও চলে আসবে যা কিনা বাংলাদেশের জন্য সত্যিই অপমানজনক সাথে লজ্জাকর। নেট ঘাটাঘাটি করে দেখলাম পাশের দেশের দাদাদের কোলকাতার সোনাগাছিতেই রয়েছে প্রায় ১১০০০ যৌনকর্মী।

ডকুমেন্টারি ভিডিও হলেও আমার কথা হল, বাংলাদেশের ব্যাপারে তুলে ধরার মত আরো অনেক ব্যাপার থাকা স্বত্ত্বেও তারা কেন এই ধরণের ভিডিও তৈরী করলো? তাছাড়া এটাই প্রথম নয়, এর আগেও তারা আমাদের দেশের ব্যাপারে এমন নেতিবাচক কথা লিখে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশকে ছোট করেছে। ভিডিওর নিচে মানুষের কমেন্টগুলো পড়লে ইচ্ছে করে আল-জাজিরার ঐ রিপোর্টারকে কষে কষে মুখে আর পেছনে কয়েকটা লাথি মেরে বলি আর এই দেশে আসবি না, নিজেদের চরকায় তেল দে, নিজেরা তো কফির কাপে মদ গিলিস, এখন আসছিস অন্যের পাছায় কতটুকু ময়লা আছে সেটা দেখার জন্য।

জিসান আসিফ নামক বাংলাদেশী একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী সেখানে মন্তব্য করেছেন ঠিক এমনটাঃ

Al-jazeera doesn’t see anything except brothels in Bangladesh. There have a lot of bigger problems in Bangladesh rather than prostitution such as drugs, child labor, political unrest, radical Islamic movements etc. My request to Al-jazeera that, stop portraying Bangladesh as country of harlot. Go to Thailand and see what is happening in there.

সত্যি কথা হলো, একটা মুসলমান দেশ যেখানে কিনা ৯০ শতাংশ মুসলমানের বাস, সেখানে পতিতালয় থাকাটা অবশ্যই একটা অভিশাপের মধ্যেই পরে। ক্ষমতায় একজন নারী থাকলেও দেশে সত্যিকার অর্থেই নারীর কতটুকু ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে সেটা এই ভিডিও বা ডকুমেন্টারি আমাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উচিত এদিকে ভালোভাবে নজর দেয়া, আজ দেশে আক্ষরিক অর্থে নারী শিক্ষা, ক্ষমতায়ন কিংবা নারীর মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকলে এমন অভিশপ্ত স্থান হয়তো দেখা যেতো না, তাছাড়া মানুষের মাঝে ধর্মীয় আচার বোধ কমে যাওয়াতে পাপাচার বেড়ে গিয়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশী- ফলে কিশোর বয়সী ছেলেরাও সেখানে আজকাল নিয়মিত খদ্দের।

কিন্তু এতকিছুর পরেও আল-জাজিরার কেন এত মাথা ব্যথা হলো এই বিষয়কে এত দক্ষতার সাথে তুলে ধরার? আল-জাজিরার তো উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা ইসরাইল-আমেরিকাকে তুলোধুনা করার, কিন্তু সেটা নয়, বরং এই চ্যানেল ঐ ইহুদী নাসারার পরম বন্ধু। এরা নামে আল-জাজিরা কিন্তু কাজে ইহুদী-নাসারা, বেধর্মীর পা-চাটা কুত্তা। কি, আমার কথা খারাপ শোনাচ্ছে? আমি দুঃখিত আসলে, আমার দেশকে এভাবে উপস্থাপন করাটা আমার কাছে অত্যন্ত অপমানজনক। কাতার বর্তমানে যে সংকটে রয়েছে, সেদিকে এদের মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল, তা তো নয়ই দূর দেশের পতিতাপাড়া নিয়ে এদের গবেষণা।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে খুব শীঘ্রই এর জবাব দেয়া হবে ভিডিওর মাধ্যমেই, আমার দেশকে নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করা হবে আর আমরা চুপ করে থাকবো? আমাদের সবার উচিত নিজেদের জায়গা থেকে ইন্টারনেটে এর প্রতিবাদ করা, ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করা। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষের ভেতর সেই জোস দেখিনা, তাহলে কি আমরা নিজের দেশকে সেভাবে ভালোবাসছিনা, নাকি?

ভিডিওটি ফেসবুকে প্রায় ২.১ মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে, ১২০০০ এর বেশি শেয়ার সাথে ২০০০ কমেন্ট, এটা একটা দেশকে ছোট করে নিজের ভান্ডার সমৃদ্ধ করা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বা আরব দেশগুলো এইকাজে ওস্তাদ বলা যায়, আর সেই কারণেই মূলত তাদের এই অবস্থা। নিজেদের ভেতর কাটাকাটি,  মারামারি আর আহাজারি নিয়ে ক্লান্ত হয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে নেগেটিভ প্রতিবেদন করেছে মনে হয়।

বিদেশী চক্রান্ত প্রসঙ্গ নিয়ে বলা যায় হয়তো কোনো নীরব শত্রু-দেশ নীরব ঘাতকের মত করে এভাবে বাংলাদেশকে ইমেজ-সংকটের মধ্যে ফেলতে চায়, তৃতীয় শক্তি নিশ্চিত বিরাজমান কিনা সন্দেহ থাকলেও নীরব শত্রুর অবস্থান নিশ্চিত।

সরকার বরাবর অনুরোধ রইলো, পতিতালয় এর নারীদের উদ্ধার করার মাধ্যমে তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে এনে পতিতালয় বন্ধ করে দেয়ার অনুরোধ রইলো আর যুবক-যুবতীদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ ধর্মীয় নীতি মেনে চলা এবং সামাজিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হওয়া।

তাহসানকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যে গুজব এবং তাহসানের সুস্পষ্ট জবাব !!

Now Reading
তাহসানকে নিয়ে ফেসবুকে মিথ্যে গুজব এবং তাহসানের সুস্পষ্ট জবাব !!

একাধারে তিনি একজন গায়ক, মিউজিক কম্পোজার, অভিনেতা, শিক্ষক – বহু পরিচয়ে তিনি পরিচিতঃ বাংলাদেশের মিডিয়া অলরাউন্ডার তাহসান রহমান খান।

আসছে ঈদের জন্য তিনি যখন নাটকের শুটিং আর গান রেকর্ডিং নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই হঠাৎ করে বিভিন্ন আইডি ও পেইজের মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে তার নামে এক মিথ্যে গুজব যা কিনা তাহসান-ভক্ত থেকে শুরু করে সর্বসাধারণের মাঝে এক প্রকার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। মিথ্যে গুজবটা ছিল ঠিক এমনঃ

“অনেকেই জানেন তাহসান নটরডেমের ছাত্র ছিল। তবে গল্পের পরের অংশটা আমি শুনাই। কদিন আগে তাকে নটরডেম কালচারাল ক্লাব থেকে অনুরোধ করা হয় ক্লাব ডে তে অতিথি হিসেবে আসার জন্য। সেই এক্স নটরডেমিয়ান তখন মোটা অংকের টাকা দাবী করে বসেন। একজন শিক্ষক তখন তাকে বলেন, “ভাই আপনি তো নটর ডেমের ছাত্র ছিলেন, কিছুটা কন্সিডার করেন” তাহসানের উত্তর ছিল, “নটরডেম কি আমাকে ফ্রিতে পড়াইছে?” কথাটা পরে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্মানিত রেজিস্ট্রার স্যার শুনে বলেন,”নটর ডেম তাকে ফ্রিতে পড়ায় নি, তবে যা শিখিয়েছে বা দিয়েছে তার পুরো মূল্য ও সে দেয়নি।” তাহসানের পরিবর্তে এসেছিলেন আরেক সাবেক নটরডেমিয়ান আর্টসেলের ভোকাল লিংকন ডি কস্তা। শুধু অতিথি হিসেবেই আসেননি, গানও গেয়েছেন। একটা পয়সাও চাননি এবং ফ্রিতে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ে মিউজিক শেখানোর আগ্রহ প্রকাশ করে গেছেন। বাকিটা আপনাদের বিবেচনা”।

এটি ভিত্তিহীন এক মিথ্যে গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়, নিরহংকার ও সাধাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত মানুষ তাহসান জনসাধারণের মাঝে সেই বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক ফ্যান পেইজ থেকে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছেন যেখানে তিনি লিখেছেনঃ

“No one from Notre Dame College contacted me or my manager regarding any show. So please stop spreading false rumors. I have performed at my college before. Would love to come again if I’m invited. I would really appreciate if someone can give me the contact details of the person who is spreading the false claim regarding the show.

আমার প্রথম অ্যালবামের ছবিটা কলেজের কনসার্টেই তোলা। ২০০৪ সালে। এরপর আরো দুবার কলেজ থেকে আমন্ত্রন পেয়ে যাই। এবারতো আমন্ত্রন পাইনি।

Sad indeed.”

তাহসানের এই পোষ্টে অবশেষে সর্বসাধারণের মাঝে স্বস্তির নিশ্বাস পড়ে আর ঠিক এরপরেই সেই ব্যক্তি যে কিনা এর জন্য দায়ী ছিল, সেও ফেসবুকে একটি স্টাটাসের মাধ্যমে তাহসান এবং সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এই বলে যে,

“তাহসানকে নিয়ে দেয়া পোষ্টটি ভিত্তিহীন। তার সাফল্যে জেলাস হয়ে খবরটা ছড়ানো হয়েছে। আমিও শুনে বোকার মতো বিশ্বাস করেছিলাম। এখন সত্য জানতে পেরে নিজের কাছে খারাপ লাগছে। প্লিজ আগের পোষ্ট রিমুভ দিয়ে এটা শেয়ার করুন সবাই”।

কিন্তু এতকিছুর পরেও দুঃখের বিষয় এটাই,

যে পেইজ থেকে ঐ মিথ্যে গুজব ছড়িয়ে এটাকে অনলাইন দুনিয়ায় ভাইরাল করা হয়েছে, সেই পেইজ এখনো মিথ্যে গুজবের খবরটি মুছে দেয়নি কিংবা ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।

নিজের দেশের একজন জনপ্রিয় আর্টিষ্টের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যে গুজব রটিয়ে কি লাভ এদের? এরা কি কোনদিনও মানুষ হবেনা? এরা কি জানে একজন তাহসান হতে কত সাধনা করার প্রয়োজন হয়? নাহ! এরা অমানুষ। এই অমানুষগুলো শুধুই জানে বিদেশী গানের তালে “সানি সানি পানি পানি” করে নাচতে আর শরীর দোলাতে, নিকৃষ্ট জাতের সেরা উদাহরণ এই সকল মিথ্যে গুজব রটানো মানুষ আর ফেসবুক পেইজের এডমিন।

এক ব্রিটিশ কন্যার প্রেমকাহিনী ও একজন বাংলাদেশী তরুণের গল্প !! (শেষ পর্ব)

Now Reading
এক ব্রিটিশ কন্যার প্রেমকাহিনী ও একজন বাংলাদেশী তরুণের গল্প !! (শেষ পর্ব)

আজ প্রথমেই কিছু কথা বলে নিই। অনলাইনে একটা রোমান্টিক ঘটনা বা গল্পের প্রতি মানুষের এত আবেগ, চাহিদা, অনুরোধ, ভালোবাসা- এর আগে কখনোই দেখিনি যা এই ঘটনার ক্ষেত্রে দেখেছি। এটা আমার জীবনের বাস্তব ঘটনা নাকি আসলেই কি , তা আমি রহস্য হিসেবেই রেখে দিতে চাই। শেষটা পাঠকদের মাঝে কিছু একটা জানার প্রবল আগ্রহ আর হাহাকার রেখে শেষ করে দিচ্ছি বলে কিছু মনে করবেন না, শেষটা নিজেদের মতো করে মিলিয়ে নিবেন একটা নিছক গল্প ভেবে। শুধু এতটুকুই বলবো, ঘটনা আজ যেখানে শেষ হয়ে যাচ্ছে, এর পর যেকোন কিছু লেখা বা বলাটা শুধু শুধু বাড়িয়ে বলা হবে।

আজ এতগুলো দিন যারা এক একটা পর্বের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন, তাদের সবার প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা রইলো। আপনারা কমেন্টে কিংবা আমার ফেসবুক ইনবক্সে ব্যক্তিগতভাবে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন, ভালো কিছু মন্তব্য করেছেন – বলেই আজ শেষ পর্ব পর্যন্ত আসতে পেরেছি। আপনাদের সকলের প্রতি আমার সালাম; পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন, ভালোবাসুন নিজের দেশ, মানুষ, ভাষা ও ঐতিহ্যকে। ভালোবাসা অবিরাম…………

 

সপ্তম পর্বের পর থেকে……………

 

খাট কেনার কথা শুনে ইসাবেলার ভ্রু কুচঁকে গিয়েছে। সে আমাকে আবার জিজ্ঞেস করলো, কি হলো, নতুন এই খাট দিয়ে কি হবে? ওকে এক সাইডে ডেকে নিয়ে বললাম, এই খাট আমার জন্য, মানে যতদিন তুমি থাকবে। ইসাবেলা তো সেই রেগে-মেগে অস্থির। আমি ওকে শান্ত করে বললাম, শোনো, একটা পুরুষ আর একটা মেয়ে পাশাপাশি থাকা মানে কি জানো? আগুনের পাশে মোম রাখা। আর আগুনের পাশে মোম রাখলে গলে যাবে এটাই স্বাভাবিক, তো তোমার মতো এতটা আকর্ষণীয় একটা মেয়ের পাশে আমি যদি রাতে ঘুমায়, নিজেকে কন্ট্রোল করাটা খুব বেশী কঠিন, ব্রাসেলস-এ থাকতে বুঝেছি। শয়তান ইবলিস এসে আমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত ভর করে, আর আমি চাইনা শয়তান কোনো সুযোগ পাক। তুমি একটু বোঝার চেষ্টা করো।

ইসাবেলা শান্ত ভদ্র বুঝমান মেয়ে, আমার কথা সহজেই বুঝে নিল, বললো, আমি চাইনা আমার কারণে তোমার কোনো ক্ষতি হোক। ব্যস, একটা খাট কিনে নিলাম, কোম্পানি গাড়িতে করে দিয়ে গেল। পরদিন একসাথে ভার্সিটি গেলাম, বন্ধুদের সাথে ইসাবেলাকে পরিচয় করিয়ে দিলাম। বন্ধুরা তো খুব দুষ্টু। একজন তো বলেই ফেললো “মামা, সেই একটা মাল পটিয়েছিস!” বললাম, এইসব মাল টাইপের শব্দ উচ্চারণ করবিনা তো, তোর বোন থাকলে তাকে কেউ মাল ডাকলে কি তোর ভালো লাগবে বল? যাইহোক জানি বন্ধু একটু মজা করেছে, আকর্ষণীয় ফিগার এর কোনো মেয়েকে দেখলেই আজকাল একটা জেনারেশান তাদেরকে মাল বলে সম্বোধন করে, এটা খুবই খারাপ মনে হয় আমার কাছে।

আমার ক্লাস টাইমে ইসাবেলা ক্যান্টিনে বসে রাগবি খেলা দেখছিল। আমার ক্লাস শেষ হলে আমি আর ও একসাথে ভার্সিটি ক্যান্টিনে খেয়ে নিলাম। খেয়ে বাসায় এসে কাপড় ওয়াশিং মেশিনে দিয়ে আমি ঘুম, বিকেলে আরেকটা ক্লাস আছে। আর ইসাবেলা গিয়েছে কাজ খুজঁতে। ও আমার সাথেই থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ও কাজ পেয়ে গেল একটা শপিং-এ। আর আমি এদিকে ভার্সিটি, ক্লাস, পরীক্ষা – এইসব নিয়ে ব্যস্ত। রাতে দুজন একসাথে ডিনার করি বাসায়, মুভি দেখি। ও অংকে ভালো হওয়াতে আমার জন্য খুব সুবিধা হলো। তাছাড়া ব্রিটিশ একসেন্ট শুনতে শুনতে আমি দিনে দিনে সেটাতেও পারদর্শী হয়ে উঠছিলাম।

আল্লাহর রহমতে সব গুলো টেষ্ট পাস করি, ফলে ফাইনাল এক্সামে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়েনা, ইসাবেলাও খুব খুশি, আমাকে বলে, এইবার তো তাহলে নেদারল্যান্ড ইমিগ্রেশনও ফেরদৌসকে আটকাতে পারবেনা। একটা কথা বলে রাখা ভালো, নেদারল্যান্ড-এ উচ্চশিক্ষায় প্রথম দুই বছর খুব বেশী ক্রিটিক্যাল, একবার দুই বছরে মিনিমাম ৬০ ক্রেডিটের ঝামেলা পার করে ফেলতে পারলে বাকি সময়টা অনেক ইজি হয়ে যায়, যদিও অনেকের অনেক বিষয় যা পাস করতে পারেনি, পরে পাস না করতে পারলে ভার্সিটি সেই স্টুডেন্টকে বের করে দেয় আর নতুন ভার্সিটিতে ভর্তি না হতে পারলে মহাবিপদ।

সেমিষ্টারে ভালো রেজাল্ট করাতে মশিউর ভাই আমাকে তথা আমাদেরকে দাওয়াত দিয়েছেন। ডিসেম্বর মাস, কনকনে ঠান্ডা বাইরে। মাইনাস ৫ কিংবা ৭; তুষারপাত এই সময়ে নরমাল। আমস্টারডামের সব লেক বরফে জমে গিয়েছে। স্কেটিং করে সবাই। দেখতে দারুণ লাগে।

ভাই এর বাসায় ঢুকেই বিরিয়ানির ঘ্রাণে তো আমার মাথা নষ্ট। আর ইসাবেলা তো ঘ্রাণ শুকেই পেট ভরিয়ে ফেলবে এমন অবস্থা। ধুমসে খাওয়া শুরু করে দিলাম, সেই স্বাদ, যেন বহুকাল বিরিয়ানি খাইনি। কিন্তু ইসাবেলার তো অবস্থা কেরোসিন, মশিউর ভাই এর খেয়াল ছিলোনা যে আমাদের সাথে একজন নন-দেশী খাবে, ভাই তাই ঝাল দিয়ে রান্না করেছে, আর ইউরোপিয়ানরা ঝালকে খুব ভয় পায়, বরফ পানির সাথে বিরিয়ানি খেতে হলো ওকে। আর খাওয়া শেষে আইস মুখে নিয়ে প্রায় ২০ মিনিট বসে ছিল, সেদিন আমার ওদিকে তাকানোর সময় ছিলো না। আমি বিরিয়ানিতে মজে গিয়েছিলাম, শেষে পেটে একবিন্দু ফাঁকা জায়গা না নিয়েই বাসায় এসেছিলাম, অতিরিক্ত খাওয়ার মজা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছিলাম। ইসাবেলা তো বলেই বসলো, আমার ঝাল খেয়ে কষ্টের সময় তোমাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, এখন বোঝো কেমন মজা?

পরদিন আমি বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম, ভুলে মোবাইল রেখে এসেছিলাম, ইসাবেলা ছিল বাসাতে। আম্মু ওদিকে কল দিয়েছিল। আম্মুর সাথে কথা বলে ও জানতে পারে সেই গিফট এর কথা। বাসায় এসে দেখি সবকিছু এলোমেলো মানে ইসাবেলা রাগে কাপড় এলোমেলো করে রেখেছে। মেয়ের রাগ আছে বেশ, তেজী।  আমাকে জিজ্ঞেস করে, কোথায় সেই গিফট যেটা তোমার মা আমার জন্য পাঠিয়েছে? কি করেছো?

আমি ওকে সবকিছু বোঝানোর চেষ্টা করি, কিন্তু মেয়ে এইবার একদম বেঁকে বসেছে। ওর সামনে সেই গিফট প্যাক রাখলাম, বললাম, দেখো আজ পর্যন্ত ওপেন করিনি, তোমাকে বিশেষ কোনো দিনে উপহার দিবো বলে, কিন্তু তারপরেও তার অভিমান ভাঙ্গার নয়, রাতে ডিনার না করেই ঘুমিয়ে পড়েছে। একটু রাত হলে ( দেশে তখন সকাল ) আমি আম্মুকে কল দিয়ে সব ঘটনা বলি, আম্মু যদিও জানেনা ও আমার বাসাতেই থাকে, মাইন্ড করতে পারে না বুঝেই। আম্মু বলে ওর সাথে আমাকে আবার কথা বলিয়ে দিও, আমি বুঝিয়ে বলবো। পরদিন ব্রেকফাষ্ট আমার সাথে করেনি রাগ করে। বাসায় এলে ওকে বললাম আমার আম্মু তোমার সাথে কথা বলবে। আমার আম্মুর সাথে দেখলাম তার দারুণ ভাব হয়ে গিয়েছে অলরেডি। আম্মু দেশে যেতে বলেছে আমাদেরকে, যেহেতু আমার এক্সাম শেষ। আমি আসলে দেশে যেতে চাইছিলাম না একদম, ভাবছিলাম ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজ করে কিছু টাকা জমালে খারাপ হতোনা। তারপরেও কিছু কথা ভেবে দেশে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম, আর ইসাবেলাও খুব চাপাচাপি করছিল, বলছিল ক্রিসমাস আর নতুন বছরটা সে আমার পরিবারের সাথে বাংলাদেশে কাটাতে চায়।

কি আর করা, আম্মু-আব্বুর চাওয়া, ইসাবেলার আগ্রহে ক্রিসমাসের আগেই ইতিহাদ এয়ারলাইন্সে দুইটা টিকেট কেটে নিলাম বার্লিন টু ঢাকা। ভার্সিটিকে জানিয়ে দিলাম আমি ফেব্রুয়ারিতে ব্যাক করবো, ইসাবেলা হয়তো ফিরে আবার রটার্ডামে মশিউর ভাই এর KFC তে জয়েন করবে, কারণ ওখানে স্যালারি ভালো, পুরোনো কাজের স্থান তার।

ফ্লাইট ছিল ১৮ই ডিসেম্বর, ২১শে ডিসেম্বর আমার ছোট বোনের জন্মদিন। আমরা পনেরো তারিখে বার্লিন চলে গেলাম, ইসাবেলার জার্মান বান্ধবী লিনার বাসায় ছিলাম, তার সৌজন্যে পুরো বার্লিন ঘুরে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। সবার জন্য কেনাকাটা করে নিলাম। ছোট বোনের জন্য একটা ল্যাপটপ জন্মদিনের গিফট।

আচ্ছা, একটা কথা বলে নিই, বার্লিন থেকে আসার মূল কারণ হলো বার্লিন-ঢাকা ফ্লাইটের ভাড়া কম, অনেক কম।

বার্লিনে হঠাৎ একটা ইন্ডিয়ান পার্লার খুঁজে পেয়েছিলাম সৌভাগ্যবশত। (মালিক কোলকাতার মহিলা – সুপ্রিয়া দেবী)। ফ্লাইট ছিলো বিকেলে, লিনার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে লাগেজ নিয়ে ইসাবেলাকে সকালেই নিয়ে গেলাম সেই পার্লারে শাড়ি পড়াতে। সুপ্রিয়া তো খুব খুশী ব্রিটিশ কন্যাকে বাঙ্গালী সাজে সাজাতে পেরে। আম্মু টিপ, চুড়ি গায়ে জড়ানো চাদঁর, নূপুর- সব দিয়েছিল যা প্রয়োজন সাজার জন্য। আমি বাইরে বসা ছিলাম, ইসাবেলার সাজতে প্রায় দুই ঘন্টা লেগে গেল, ও যখন বাইরে এলো, মনে হচ্ছিলো এক অপরূপা সুন্দরী যেন তার রূপের সকল সৌন্দর্য নিয়ে আমার সামনে এসে বলছে, আমাকে শুধু তোমার করে নাও। শাড়ির ওপর একপাশে চাঁদর, টিপ, চুড়ি, পায়ে নূপুর। জানিনা কতক্ষণ ওর দিকে এক পলকে তাকিয়ে ছিলাম, ইসাবেলার ডাকে ঘোর ভাঙলো, বললো, চলো এবার, দেরী হয়ে যাবে নাহলে।

সুপ্রিয়াকে ধন্যবাদ আর বাংলাদেশ আসার নিমন্ত্রণ জানিয়ে চলে এলাম আমরা। ট্যাক্সিতে ওঠার পর খুব আবেগী কন্ঠে ইসাবেলা আমাকে আর আমার আম্মুকে ধন্যবাদ জানালো। ইসাবেলা অনেক খুশী যা তার চোখ দেখেই বুঝতে পারছিলাম। ভালোবাসার মানুষের চোখ দেখেই অনেক কিছু আন্দাজ করা যায়। ট্যাক্সি ড্রাইভার একজন অস্ট্রিয়ান, খুব আগ্রহ নিয়ে আমাদেরকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করলেন, শুভকামনা জানালেন যেন একসাথে থাকতে পারি সারাজীবন।

ট্যাক্সি থেকে Berlin Tegel Airport-এ নামার পর থেকে শুরু করে বিমানে ঢোকা পর্যন্ত এমনকি বিমানে ঢোকার পরেও বেশ ভালোবাসাময় বিড়ম্বনা পোহাতে হলো ইসাবেলাকে, সাউথ এশিয়ানরা তো আছেই, ইউরোপিয়ান, আমেরিকান সবাই এসে শুধু ইসাবেলার সাথে সেলফি তোলে আর আমাদের কথা জানতে চায়, সবাই মোটামুটি ভাবে যে আমি ইন্ডিয়ান আর ইসাবেলাকে নিয়ে ইন্ডিয়া যাচ্ছি, কিন্তু তাদের ভুল ভাঙ্গে আমাদের সাথে কথা বলার পরে। আমরা দারুণ উপভোগ করেছি। জার্মান ইমিগ্রেশন অফিসার যখন আমাদের সাথে সেলফি তুললেন, তখন আরেকবার দেখলাম, ভদ্র জাতির ভদ্রতা আর উদারতা। উনি বাংলাদেশ সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন। উনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে এলাম, এদিকে বিমান বালাও সেলফিতে আক্রান্ত, অনেক দেশী ভাই তাদের ফ্যামিলি নিয়ে দেশে যাচ্ছেন যারা জার্মিনিতেই স্থায়ী। তারাও এসে দেখা করে গেলেন, মনে হচ্ছিলো, আমরা বিশেষ করে ইসাবেলা সেলিব্রেটি হয়ে গিয়েছে এক জামদানী শাড়ি পরাতে কিংবা বাঙ্গালীয়ানা সাজে সাজার কারণে। নিজের দেশকে এভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়াতে এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে।

বিমান আর কিছুক্ষণ পরেই আবু-ধাবির উদ্দেশ্যে রওনা দিবে, দুই ঘন্টা ট্রানজিট, তারপর আবু-ধাবি থেকে ঢাকা। বিমান ছাড়ার আগে আম্মুকে কল দিলাম, বললাম, আম্মু আমরা আসছি। ইসাবেলা ভাঙ্গা বাংলায় বললো, আম্মু তোমাকে অনেক ভালোবাসি।

বিমান আকাশে উড়লো।

ইসাবেলা আমার বুকে নিশ্চিত ভরসায় মাথা গুজে দিল। পরম মমতায় ওকে আগলে রাখলাম !!

( শেষ )

এক ব্রিটিশ কন্যার প্রেমকাহিনী ও একজন বাংলাদেশী তরুণের গল্প !! (পর্ব-৭)

Now Reading
এক ব্রিটিশ কন্যার প্রেমকাহিনী ও একজন বাংলাদেশী তরুণের গল্প !! (পর্ব-৭)

ষষ্ঠ পর্বের পর থেকে……

আমি আসলে ইসাবেলার কথা সম্পূর্ণভাবেই বুঝতে পেরেছিলাম, একটু না বোঝার ভান করেছিলাম এই জন্যই যে আমি তার মুখ থেকে শুনতে চেয়েছিলাম।  তার কথাটা ছিল মূলত এটাই যে, সে আমাকে বিয়ে করে ফেললে আমি এমনিতেই ইংল্যান্ড এর বাসিন্দা হয়ে যাবো। এই আর কি!

কিন্তু সত্যি কথা হলো, আমি এমনটা কখনওই চাইনা। পাস তো আছেই সাথে আমার যথেষ্ট যোগ্যতা আছে ৭৫% মার্ক্স তুলে স্কলারশিপ পাবার। কিন্তু স্টাডি যে খুব ইজি তা নয়। আমি যখন কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম, তখন দেখেছি শিক্ষকেরা জানেন না কিভাবে প্রোগ্রামিং করতে হয়। কারণ তারা জানবেন কিভাবে? তারা তো ছাত্র থাকাকালীন সময়ে রাজনীতি আর ভণ্ডামি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। শিক্ষকদের বাসায় ইলিশ মাছ নিয়ে পাস করে লবিং করে শিক্ষক হয়েছেন। আমাদের কি শেখাবেন? আমাদের নিজেদের দায়িত্বে পড়াশুনা করতে হতো। কিন্তু এখানে? বেশিরভাগ শিক্ষক PhD করা। তাদের জ্ঞানের পরিধি সুদূর বিস্তৃত। ক্লাস লেকচার ২ ঘন্টা যে কিভাবে কেটে যায় বোঝায় যায়না। আর বুঝতে না পারলে আপনাকে না বুঝিয়ে সেই শিক্ষকের ভেতর স্যাটিসফ্যাকশন আসবে না।

যাইহোক,  ওর মুখ থেকে সরাসরি বিয়ের কথাটা বের করাতে পারলাম না। লাজুক মেয়ে বলে কথা!

পরদিন দুপুরের ফিরতি ফ্লাইটে আমি চলে এলাম নেদারল্যান্ডস।  ইসাবেলা ইংল্যান্ড রয়ে গেল। বললো, পরে আসবে। আমি আর দশদিন KFC তে কাজ করে ভার্সিটিতে চলে এলাম। মশিউর ভাই আমার বোনাসের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।  কারণ কিছুদিন আমি একইসাথে দুই পদে কাজ করেছিলাম। অসম্ভব ভালো একটা মানুষ। আমার জন্য অনেক করেছেন। যখন যেভাবে চেয়েছি ঠিক সেভাবেই।

ভার্সিটি ফিরে আবার বন্ধুদের সাথে দেখা, কে কোথায় ছিল, কে কত ইউরো সেইভ করলো, কেউ দেশে গিয়েছিল কিনা, কে গার্লফ্রেন্ডের সাথে ছিল – অনেক গল্প। নতুন সেমিস্টারে দেশ থেকে নতুন কেউ এলো কিনা। নতুন কোন টিচার আমাদের ক্লাস নেবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমার মনটা পরে ছিল ইসাবেলার কাছে। যদিও প্রতিদিন নিয়ম করে অনেক কথা হতো। আমি ঘুম থেকে উঠলেও ইসাবেলা, ঘুমোতে গেলেও সে, ক্লাসে মহিলা টিচারের ভেতরেও ওকে খুঁজে পাওয়া, ওর মতন সোনালী চুলের কাউকে দেখলেই মনে হয় এই বুঝি ইসাবেলা। বড় এক মানসিক যন্ত্রণা।  ভালোবাসাময় এক যন্ত্রণা।

মন খারাপ হলে আম্মু ওর জন্য যে গিফট প্যাক পাঠিয়েছিল,  ঐটা দেখি আর ভাবি ইসাবেলা যেদিন জামদানী শাড়ি পড়বে, কেমন দেখাবে ওকে? কপালে যদি একটা টিপ, হাতে চুড়ি  থাকে? পুরোপুরি বাঙ্গালি মেয়ে সাজলে নিশ্চিত সুন্দর লাগবে ওকে।  ও এখন পর্যন্ত এই গিফট এর কথা জানেনা। সারপ্রাইজ দেবো বলে জানাইনি ওকে।

সেদিন ছিল রবিবার।  ক্লাস নেই। ঘরে বেঘোরে ঘুমোচ্ছি। হঠাৎ বেল। আমার তো মাথা গরম। ছুটির দুইটা দিনও শান্তি করে ঘুমোতে পারিনা। রাগে নিজের চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু দরজা খুলে আমি বাইরে দাঁড়ানো মানুষকে দেখে তো মহাখুশী। কি পাঠক- পাঠিকা, কি ভাবছিলেন,  ইসাবেলা এসেছে? নাহ! সে এলে তো হতোই। আমার মনের অব্যক্ত যন্ত্রণার একটু হলেও অবসান হতো। মশিউর ভাই এসেছেন আমার এখানে একদিন বেড়াতে। PSV EINDHOVEN এর ফুটবল ম্যাচ দেখার জন্য। উনি আবার ফুটবল প্রেমী।  আমার জন্যও টিকেট এনেছেন। ভালোই হলো, বিকেলে দুজন একসাথে খেলা দেখতে গেলাম। শেষ মিনিটের নাটকীয় গোলে PSV জিতে যায়। সত্যি কথা, আমার মন ইসাবেলাতে আসক্ত। এসব কি আর ভালো লাগে?  ইসাবেলার মুখটা ছাড়া আর কিছুই ভালো লাগেনা। দিনে দিনে কেমন একটা নেশাগ্রস্ত মানুষের মতো মনে হয় নিজেকে।

দেখতে দেখতে অক্টোবর মাস চলে এলো, ইসাবেলা আর এলো না। আমার প্রতীক্ষার প্রহর দিনে দিনে বাড়তে লাগলো। ফোন করলেই বলে বাবার ব্যবসার কাজে ব্যস্ত। হতেই পারে, অনেক ব্যবসা ওদের।

কম্পিউটার আর্কিটেকচার পরীক্ষা দিয়ে সোজা বাসায় চলে এলাম, পরীক্ষা মন মতো হয়নি তাই মন খুব খারাপ। ফ্রেশ হয়ে মাত্র একটু ঘুমিয়েছি আর এর ভেতর দরজায় নক। মনে হচ্ছিলো, দরজায় এক একটা নক পড়ছিলো আর আমার বুকে গুলি বিধছিল। কারণ, ঘুম হঠাৎ ওভাবে ভেঙে গেলে আমার মানসিক অস্থিরতা বেড়ে যায়। হবে কোনো বাংলাদেশী বন্ধু, ফুটবল খেলার জন্য ডাকতে এসেছে। কি আর করা, দুই-তিন মিনিট ইচ্ছা করে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে তারপর দরজা খুললাম। কিন্তু এ আমি কাকে দেখলাম? আমি যেন আমার চোখ দুটোকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না, আমার বিদেশ জীবনে এত আনন্দ কখনো আসেনি বোধহয়। কি পাঠক, এইবার আর আপনারা হতাশ হচ্ছেন না, আমিও না। হ্যাঁ, অবশেষে ইসাবেলা এসেছে। এক তোড়া ফুল আর আমার প্রিয় Hofner ব্রান্ড এর গীটার নিয়ে। আমি আমার মনের আনন্দ ধরে না রাখতে পেরে যা আগে করিনি তাই করে বসলাম, গালে একটা আলতো চুমু। তারপর কোলে করে ভেতরে ঢোকালাম, ও তো ভয় পেয়েই চিৎকার, “পড়ে যাবো, পড়ে যাবো, আমাকে নামাও”। ওকে বললাম, আজ আমার দিন, আমি যা বলবো তাই হবে, তুমি একদম চুপ। কোলে করে এনে আমার বিছানায় ফেলে দিলাম, ও তো ব্যথায় ওমা! করে উঠলো। আমি ভয় পেয়ে গেলাম, জিজ্ঞেস করলাম কি হলো? বললো সেদিন ঘোড়ায় চড়া শিখতে গিয়ে ঘোড়া নাকি ওকে ফেলে দিয়েছে আর তাতে কোমরে প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছে। বললাম, আমার তো মাথা ঠিক নেই, সরি, বুঝতে পারিনি। ও আমাকে স্থির করতে বলে ইটস ওকে, ডন্ট ওরি। ভয় পেওনা, হালকা লেগেছে, ফোমের বিছানা না হলে নিশ্চিত আমাকে আর খুজেঁ পেতেনা। আমি বললাম, এই ধরণের কথা যেন আর মুখ থেকে বের না হয়!

জিজ্ঞেস করলাম, তো কোন হোটেলে উঠেছো? এই কথা শুনে ও যেন আকাশ থেকে পড়লো, বললো, what? Are you kidding? You are here, why should I go for a hotel ah? আমি ওর কথায় দারূণ মজা পেলাম, ইচ্ছে করে ওকে ক্ষেপাতে লাগলাম আরো, বললাম, Who am I to you? I am not even your boy friend, isn’t it? ও তখন কি বলবে বুঝে উঠতে না পেরে মনের কথাটাই বলে ফেললো, You aren’t my boy friend, So? At least you are my best friend forever. কথাটা সিরিয়াসলি নিলাম না, আবার জিজ্ঞেস করলাম, So are you still single? বললো, তা নয়, তবে আমার কেউ একজন তো আছে। রাগের ভান করে বললাম, তো তুমি সেই একজনের কাছে যাও, আমার কাছে কেন থাকতে এসেছো, আমার তো একটাই খাট, তোমাকে কোথায় রাখি?

ওর তখন চোখে মুখে রাগ, পারলে আমাকে ছিঁড়ে-কুটে ফেলে এমন অবস্থা। পাঠক-পাঠিকাদের বলছি, কেউ হাসবেন না কেমন, আমি দেশ থেকে যাবার সময় ইতিহাদ এয়ারলাইন্সে ২৩+২৩ কেজি=৪৬ কেজি বহন করার সুযোগ পেয়েছিলাম, তো আমার প্রিয় কোলবালিশটাকেও সঙ্গে করে এনেছিলাম, আর সেই কোলবালিশ নিয়ে ইসাবেলা আমার দিকে তেড়ে এলো, আমি তো ভয়ে এক দৌঁড়ে টয়লেটে। যাইহোক, দুই মিনিট ভয়ে ভেতরে থেকে বাইরে এসে দেখি ও নেই। আমার তো মাথায় হাত, দেখি দরজা খোলা, সে হনহন করে বাইরে হেঁটে চলেছে, আমি দৌঁড়ে গিয়ে তাকে আটকায়, বলি, কি হয়েছে? এমন কেন করছো? ও বলে, কেন এমন করবো না? আমি তো তোমার কেউ না, সরো, আমাকে যেতে দাও। কিন্তু ও আমার সাথে শক্তিতে কি কুলিয়ে ওঠে? ধরে নিয়ে আবার ঘরে আসি, বলি, আমি তোমার যেই হই না কেন, আমার বাসা মানেই তোমার বাসা, আমি জানি , আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড না, আমি এই শব্দটাকে পছন্দ করিনা বলেই তুমি বয়ফ্রেন্ড শব্দ উচ্চারণ করোনা, আমি তো তোমার সেই মানুষ। নাকি? ইসাবেলার মন মরা মুখে সেই ভুবনভোলানো হাসি দেখলাম বহুদিন পরে। বিদেশী মেয়েরা কথায় কথায় এই একটা কাজ খুব পারে, জড়িয়ে ধরা, কি আর করা, আমার কথা শুনে সেও আমাকে জড়িয়ে ধরলো। ঐ জড়িয়ে ধরা পর্যন্তই। কেউ আবার গভীরভাবে নিবেন না প্লিজ, আমি ঐসব বিয়ের আগে পছন্দ করিনা, সেও জানে- আগের এক পর্বে পড়েছিলেন। নিয়ত করেছিলাম ক্লাস টেনে থাকতে, যা হবে বিয়ের পরে বউ এর সাথে। যাইহোক, ওকে বললাম ফ্রেশ হতে, ও শাওয়ার নিতে চলে গেল, আমি গেলাম Lidl-এ । Lidl হলো জার্মান-ভিত্তিক ইউরোপের খুব জনপ্রিয় একটা সুপারমার্কেট। বাজার করে এনে রান্না করতে শুরু করলাম, ও খুব টায়ার্ড থাকায় ঘুম।

বিকেলে গেলাম শপিং করতে।

একটা খাটের দোকানে ঢোকায় ইসাবেলা আমাকে জিজ্ঞেস করলো, এখানে কি কাজ? বললাম, একটা সিংগেল খাট কেনা লাগবে। ও তো অবাক, বলে তোমার তো দুইজন থাকার জন্য বিশাল বড় খাট আছেই, এইটা কার জন্য?

 

চলবে……….  ( তবে ঘটনা শেষের দিকে চলে এসেছে , ঠিক যা ঘটেছিল, যেভাবে ঘটেছিল, সেভাবেই তুলে ধরার চেষ্টা করছি  )

এক ব্রিটিশ কন্যার প্রেমকাহিনী ও একজন বাংলাদেশী তরুণের গল্প !! (পর্ব-৬)

Now Reading
এক ব্রিটিশ কন্যার প্রেমকাহিনী ও একজন বাংলাদেশী তরুণের গল্প !! (পর্ব-৬)

পঞ্চম পর্বের পর থেকে………..

ইসাবেলার বাবা খুব রসিক মানুষ। মজা করে কথা বলেন। এসেই বললেন, একটা ইংলিশ সিংহী রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হাত শক্ত করে ধরে রেখেছে। ভাগ্যিস, বেঙ্গল টাইগার হাতে আচঁড় মারেনি! এটা শোনা মাত্র লজ্জায় ইসাবেলা আমার হাতটাও ছেড়ে দিল। আমরা সবাই হেসে উঠলাম। ওর ফর্সা গাল লাল হয়ে উঠলো।

ইসাবেলা যখন লজ্জা পায়, ওকে খুব মায়াবী লাগে দেখতে। ইচ্ছে করে, সারাজীবন ওর ঐ লাজুক মুখ দেখে যদি সময়টা কাটিয়ে দিতে পারতাম!

এরপর আরো কিছু গল্পগুজব করে বাসায় এলাম সবাই। ইসাবেলার রুমে গেলাম প্রথম। ঢুকেই মনে হলো, একটা ছোট বাচ্চার রুমে ঢুকেছি। খুব বেশি সাজানো গোছানো আর পুতুলে ভরা। সাথে অনেক  ট্রফি। কাছে গিয়ে দেখলাম ট্রফিগুলো সব ক্রিকেটের। আমি তো একেবারেই অবাক! এতদিন দুজন দুজনাকে জানি অথচ সে যে মহিলা লীগে এক সময় ক্রিকেট খেলতো তা আমাকে বলেইনি।

জিজ্ঞেস করলাম, কেন বলোনি যে তুমি ক্রিকেট খেলতে? ও যা বললো, তা একটু কষ্টদায়ক। ফিল্ডিং প্র্যাকটিস করতে গিয়ে তার হাতের হাঁড়ে ফাটল ধরেছিল। বহু দিন ভুগেছিল, অনেক যন্ত্রণা সহ্য করেছিল। তাই ক্রিকেটের প্রতি তার মায়া উঠে গিয়েছিল। আর ক্রিকেট খেলেনি। এমনকি ক্রিকেট খেলাও নাকি সে সহ্য করতে পারেনা।

বললাম, তুমি এগুলো বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছো না মনে হচ্ছে। থাক বাদ দাও। ইসাবেলাকে বললাম, আমি আজ রাতে সবার জন্য রান্না করি, কেমন? ওরা সবাই তো খুব খুশি। পাশের শপ থেকে বাসমতী চাল আর দুইটা চিকেন আনলাম। বাসায় এসেই রান্না শুরু করে দিলাম। ইসাবেলা আমাকে হেল্প করলো।

আমি সত্যিই জানিনা আমি কেমন রান্না করি, আমার রান্না ভালো কি মন্দ আমার বন্ধুরাই ভালো জানে। তবে বন্ধুরা খেয়ে কোনদিন খারাপ বলেনি। কিন্তু সেদিন জানিনা কি হলো, আমার চিকেন-কারী খেয়ে ওরা সবাই মুগ্ধ। এমনকি আমার নিজের কাছেও অনেক সুস্বাদু লেগেছিল। একটু ধনিয়া পাতা দিতে পারলে আরো স্বাদ হতো কিন্তু কোনো দোকানেই পাইনি। শহরের একটু বাইরে হলে এমন সমস্যা হবে এটাই স্বাভাবিক তাছাড়া ইংরেজরা ধনিয়া পাতার সাথে মনে হয়না অতটা অভ্যস্ত।

ইসাবেলার বাবা আমার রান্না খেয়ে তো বলেই ফেললো, “এখানে অনেক টুরিস্ট আসে পাশের ইকো পার্কের জন্যে। আমি একটা রেস্টুরেন্ট খুলে বসি,  তুমি শেফ হও”।

বাংলাদেশী খাবার মানুষ খুব পছন্দ করবে। ইউরোপিয়ান বা ওয়েস্টার্নদের কাছে  যদিও এগুলো ইন্ডিয়ান ফুড নামেই পরিচিত। আই মিন, কারী, মসলা জাতীয় খাবার গুলো। কিন্তু আমি কখনোই ইন্ডিয়ান বলতে আগ্রহী নই। কারণ,  খাবার প্রায় সিমিলার বলে বাংলাদেশী ফুড তো ইন্ডিয়ান ফুড হবেনা তাইনা?

উনাকে বললাম, আমি যে রেষ্টুরেন্টে রান্না করবো, সেখানে শুধু বাঙ্গালী খাবার তৈরী হবে। সাথে ডাচ, পর্তুগীজ, ইটালিয়ান আর ইংরেজি খাবার তো অবশ্যই। কিন্তু কোথাও লেখা থাকতে পারবেনা ইন্ডিয়ান ফুড। কারণ, মানুষ বাংলাদেশী ফুড খেলেও বলবে ইন্ডিয়ান ফুড। ব্যাপার টা এমনই দাঁড়িয়ে গিয়েছে দেখলাম। তাই আমি চাই আমার দেশের খাবারকে হাইলাইট করতে। এর আগে এক ফরাসি মালিককে একই কথা বলেছিলাম, সে রাজী হয়নি, কিন্তু পরে ঠিকই কল করেছিল,  আমি ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।

ইসাবেলার বাবা উদারমনা বাংলাদেশ প্রেমী। তিনি বলেলন, আমিও তো এটাই চাই। উনার কথায় খুব বেশী খুশি হলাম আর আশ্বস্ত করলাম এই বলে যে, আমি যদি কোনদিন ইংল্যান্ডে স্থায়ী হবার চিন্তা করি তাহলে অবশ্যই বাংলাদেশী শেফ হিসেবে দায়িত্ব নিবো। উনিও আমার উত্তরে খুশি হয়ে মজা করে বললেন, “কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার শেফ হলে মন্দ হবেনা, আমি অবশ্য দুইটার জন্যই পে করবো, কারণ আমার পুরোনো ল্যাপটপটা প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায় আর আমি ওটাকে এতটাই ভালোবাসি যে ছাড়তেও পারিনা, নষ্ট হয়ে গেলে ঠিক করে দেবে।” উনি বেশ পুরোনো একটা ডেল এর ল্যাপটপ ব্যবহার করেন যেটা ডাক্তারি ভাষায় এক কথায় কোমায় চলে গিয়েছে, মাঝে মাঝে জীবিত হয়, আবার কোমায় চলে যায়।

রাতে ঘুম আসেনা। আকাশে ভরা পূর্ণিমা চাঁদ। ইসাবেলা খুব টায়ার্ড থাকায় ঘুমিয়ে পড়েছে। আমার একদমই ভালো লাগছিলো না। ওকে তারপরেও ফেসবুকে নক করলাম। কল দিলাম। ঘুম জড়ানো কন্ঠে যখন ফেরদৌস নাম ধরে ডাকে, আমার হৃদয়ে কেমন একটা শিহরণ বয়ে যায়। লিখে বা বলে বোঝাতে পারবোনা এই অনুভূতি। আমাকে জিজ্ঞেস করলো, এখনও কেন ঘুমাওনি?

বললাম, তুমি একটু বারান্দায় এসো। বাইরে অনেক সুন্দর পূর্ণিমা চাঁদ। ও চোখ মুছতে মুছতে এলো। বিধাতা যেন ওর চোখে মুখে পূর্ণিমাতিথি ঢেলে দিয়েছেন। এসেই বললো, আমাকে এমন মাঝরাতে না ডাকলে কি হতো না? নাহ, হতো না। তোমার সাথে আমার খুব প্রয়োজনীয় কথা রয়েছে। যা না বলা পর্যন্ত আমি একটুও শান্তি পাচ্ছি না। আমায় একটু শান্তি দাও তুমি, প্লিজ। আমার করুণ চাহনি দেখে মনে হলো ওর চোখের ঘুম চলে গিয়েছে। বলে, প্লিজ এভাবে কথা বলে না ফেরদৌস। আমার সাথে কেন এভাবে অসহায় চোখে কথা বলবে? তুমি কি চাও আমি কষ্ট পাই,  বলো?

আমি বললাম, তুমি কেন কষ্ট পাবে? তুমি কি আমাকে ভালোবাসো? নাকি আমরা শুধুই বন্ধু? আসলে কি?  তুমি আমাকে কোন দৃষ্টিতে দেখো আমি পরিষ্কার জানতে চাই! কষ্টটা কি আমার বেশি না? এভাবে আর কতদিন? আমি তো দিনেদিনে বিরহের অনলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছি। না আমি রাতে ঘুমোতে পারি, না আমি কাজে মন বসাতে পারি, এভাবে চললে তো আমি কয়দিন পর সামনের সেমিস্টারে ফেইল করে বসবো, আর নেদারল্যান্ড সরকার আমাকে বের করে দিবে। কি হবে আমার তখন??

ও বলে, কি আর হবে, তুমি ইংল্যান্ড এর বাসিন্দা হয়ে যাবে। নেদারল্যান্ড সরকার তোমার পরীক্ষায় পাশ না করার দায়ে বের করে দিলেও ইংল্যান্ড সরকার তো তোমাকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাবে। নাকি?

আমি ওর কথার আগা মাথা কিছু বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করি, মানে কি? কি বোঝাতে চাচ্ছো তুমি? ইংল্যান্ড সরকার বা ইমিগ্রেশন কেন আমাকে আমন্ত্রণ জানাবে? আমি তো এখানে কিছুই না একজন শর্ট টার্ম টুরিষ্ট ছাড়া কিংবা এমন ভিআইপি কেউও হয়ে যায়নি।

আমার কথা শুনে ইসাবেলা হেসে দেয়। সেই ভুবনভোলানো হাসি আমার অন্তর-আত্নাকে কাপিঁয়ে তোলে।

সে আমাকে বলে, এইবার তো শর্ট টার্ম টুরিষ্ট ভিসা নিয়ে কয়েকদিনের জন্য অতিথি হয়ে এসেছো। ইন কেস, কথার কথা বলছি, তুমি যদি আমার কারণে ফেইল করে বসো আর এইজন্য নেদারল্যান্ড ইমিগ্রেশন তোমাকে না রাখতে চায়, পরেরবার ইংল্যান্ড ইমিগ্রেশন তোমাকে সারাজীবন থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানাবে! কি জনাব, এখনো আমার কথা কি তোমার মাথায় ঢোকেনি? নাকি মাথা একদম গোল্লায় গেছে যে এই সামান্য ব্যাপারটিও ধরতে পারছো না?

( আমার প্রিয় পাঠকদের উদ্দেশ্যে বলছি, আচ্ছা, আপনারা কি ইসাবেলার কথাটা ধরতে পেরেছেন? নাকি আমার মতো এখনো বুঝে উঠতে পারেননি? )

 

চলবে…….

এক ব্রিটিশ কন্যার প্রেমকাহিনী ও একজন বাংলাদেশী তরুণের গল্প !! (পর্ব-৫)

Now Reading
এক ব্রিটিশ কন্যার প্রেমকাহিনী ও একজন বাংলাদেশী তরুণের গল্প !! (পর্ব-৫)

চতুর্থ পর্বের পর……….

ইসাবেলার ইমারজেন্সী নক পেয়ে মনে হলো আমি হাসপাতালের ইমারজেন্সীতে চলে যাচ্ছি। কারণ অনেক আশা নিয়ে ফোনটা বের করেছিলাম গিফট গুলো দেবো – এই কথা বলার জন্য। অথচ………?

যাই হোক, ব্যাপার না, সময় সব সময় আপনার সাথে ভালো আচরণ দেখাবে এমনটা নয়, সময় বড়ই অদ্ভুত। এই সময়ের সাথে সাথেই আমাদের চলতে হয়, আরো কত কি! সময় নিয়ে এখানে মহাকাব্য লিখতে চাইনা। তাহলে ইসাবেলা কষ্ট পাবে, আমার প্রিয় পাঠকেরা মনঃক্ষুণ্ণ হবেন।

মশিউর ভাই এর কাছে পরে জেনেছিলাম, বাবার কি এক ব্যবসায়িক কাজে ইসাবেলা হঠাৎ লন্ডন গিয়েছে নাকি। নিজের দেশ, নিজের শহর বলে কথা। আমি আর কথা বলিনি তারপর। আমাকে সে ফেসবুকে কল দিয়েছিল, কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে কথা হয়নি, আবার আমি যখন কল দিয়েছিলাম, সে ফোন কেটে দিয়ে মেসেজ করেছিল, বাবা-মা এর সাথে কথা বলছে। এভাবেই আমাদের ব্যস্ততা আমাদেরকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে দেয়। আমার মনে সে যে ঝড় তুলেছিল, তা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। আমি এমন প্রেমে পরবো জানলে এই শহরে কোনোদিন আসতাম না। কিন্তু আপনারাই বলেন, প্রেম কি বলে কয়ে আসে? নাহ! প্রেম আসে হঠাৎ বৃষ্টির মতো করে। আবার এসে চলেও যায় দমকা হাওয়ার মত।

দুই সপ্তাহ কেটে গেল, ইসাবেলার কোনো খোঁজ নেই। অথচ সে গিয়েছিল এক সপ্তাহের জন্য। এদিকে তার জায়গাতে এসেছে নতুন ইটালিয়ান সেকশন বস। ব্যাটা বেশী একটা সুবিধার না, মূর্খ টাইপের কিন্তু কাজে ওস্তাদ। মশিউর ভাই এর বন্ধু সে, আর আমি যেহেতু এতদিন ইসাবেলার স্থানে কাজ করেছি, সবাই আমাকে একটু সম্মানের সাথেই দেখে। আসলে যে যত ভালো কাজ পারবে, তার সম্মানটাই বেশী। আবার কেউ কাউকেই ছোট করে দেখেনা। সবাই সবাইকে সম্মান করে বলেই এরা এতো উন্নত।

আমি ইসাবেলার নাম্বারে, ভাইবারে, ফেসবুকে কোথাও কল করে পাচ্ছিলাম না। এদিকে আগষ্ট মাস শেষের দিকে। সেপ্টেম্বরে আমি চলে যাবো EINDHOVEN – আমার ভার্সিটি খুলে যাবে। হঠাৎ মনে পড়লো, আমাদের অফিসের ডিরেক্টরিতে তার লন্ডনের স্থায়ী ঠিকানা দেখেছিলাম, ব্যস, মশিউর ভাই ঠিকানা বের করে দিল। পরদিনই আমি DEN HAAG এ অবস্থিত ইংল্যান্ড অ্যাম্বাসিতে চলে গেলাম। আমার আগে ভিসা থাকায় নতুন ভিসা পেতে খুব একটা অসুবিধা হলোনা। দশদিনের মাথায় শর্ট টার্ম ভিজিট ভিসা পেয়ে গেলাম। এর মধ্যে একবার ওর সাথে কথা হয়েছিল, ও বলেছিল ও অনেক ভেতরের একটা গ্রামের দিকে ছিলো একটা কাজে। সেখানে নেটওয়ার্ক একটু ঝামেলা করে। এখন নাকি ও বাসাতেই আছে। ও বাসাতে থাকলেই হবে, ওকে চমকে দেবো।

দুপুর নাগাদ LONDON CITY AIRPORT- এ পৌছালাম, একটা বাঙ্গালী রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেয়ে ঠিকানা অনুযায়ী রওনা দিলাম, ওদের বাসা একেবারে শহরে না, একটু গ্রাম অঞ্চলের দিকে। মাঝে একটা ট্রেন মিস হওয়াতে পৌছাতে পৌছাতে সন্ধ্যাঁবেলা। বাসার দরজাতে নক করলাম। প্রায় ৩মিনিট পর এক বয়স্ক ভদ্রলোক দরজা খুললেন, বুঝলাম সে ইসাবেলার বাবা। নিজের পরিচয় দিলাম, উনি খুব খুশী হয়ে আমাকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। বসতে দিলেন। জিজ্ঞেস করলাম, ইসাবেলা কোথায়? সে কি বাসায় নেই? ওর বাবা জানালো, ও নাকি আবার সেই গ্রামাঞ্চলে গিয়েছে তার মা’র সাথে। মাঝে এসে দুইদিন ছিলো কিন্তু আবার যেতে হয়েছে। সমস্যা হলো, ওদিকে হঠাৎ বন্যায় বেশ কিছু গ্রাম তলিয়ে গিয়েছে।uk flood.jpg

কি ভাবছেন, ইউরোপেও বন্যা হলে শহর কিংবা গ্রাম তলিয়ে যায়? হ্যাঁ, আসলেই তাই, অনেক জায়গা আছে যা খুব নিচু এলাকা, বাঁধ শক্ত হলেও প্রবল জোয়ারে পানি চলে আসে। মানুষ মারাও যায়। এটা খুবই সাধারণ ঘটনা। তো, ইসাবেলা গিয়েছে সেই সব দূর্গত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে। নেটওয়ার্কও বিচ্ছিন্ন, যোগাযোগ নেই বললেই চলে। নাহ, আমি আসলে এইবার হতাশ হইনি তার সাথে দেখা হলোনা বলে, বরং ইসাবেলা আর তার পরিবারের উদারতায় আমি মুগ্ধ। তার বাবার সাথে কথা বলে জানলাম, উনি উচ্চশিক্ষিত এবং নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। নিভৃতে থাকার জন্য শহরের এক কোণায় স্থায়ী হওয়া, দুইদিন ছিলাম ওদের বাড়িতে। ওর বাবা অনেক ভালো রান্নাও জানেন। আমাকে ইংলিশ ফুড খাওয়ালেন, নিজের গাড়িতে করে অনেক স্থান ঘুরিয়ে আনলেন। ফ্যামিলি ফটো এলব্যামে দাদা-দাদীর সাথে ছোট ইসাবেলাকে দেখালেন। তিনি বাংলাদেশ সম্পর্কেও অনেক ভালো জানেন, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সব দিকেই উনি খোজঁ রাখেন, উনার পূর্ব পুরুষদের একজন সম্পর্কে তার চাচা নাকি এক সময় ব্রিটিশ ইন্ডিয়াতে আমাদের বেঙ্গল অঞ্চলে দায়িত্বরত ছিলেন এবং সেখানেই একজন বাঙ্গালী নারীকে বিয়ে করে স্থায়ী হয়েছিলেন।

এদিকে আমি কি করবো তাই ভাবছিলাম, ইসাবেলার সাথেও মনে হয়না সহজে দেখা হবে। যেহেতু এক সপ্তাহের জন্য এসেছি, তাই ভাবলাম, লন্ডনে গিয়ে মামাতো ভাই এর সাথে দেখা করে আসি। ইসাবেলার বাবাকে বললাম, ইসাবেলার সাথে যোগাযোগ হলে অবশ্যই যেন আমার কথা বলেন আর আমার সাথে যেন যোগাযোগ করে। মামাতো ভাই এর বাসায় গিয়ে ছিলাম দুইদিন। সারা লন্ডন শহর ঘুরেছি। ইসাবেলা ছাড়া ঠিক ভালো লাগেনি। অথচ ইচ্ছা ছিলো ইসাবেলার সাথে লন্ডনের এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে ঘুরে বেড়াবো। ভালোবাসার নতুন এক অধ্যায় শুরু করবো। তার টোল পড়া গালে আমার ভালোবাসা একেঁ দেবো। নাহ! কিছুই হয়নি। ওর বাবা আমাকে কল দিয়ে জানালো, “ইসাবেলার সাথে যোগাযোগ হয়নি, তুমি আমার এখানে এসো, দেখি আমরা সেখানে যেতে পারি কিনা, এতো কষ্ট করে এলে, আমি কোনো উপকারে আসতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে করবো”। হাতে ছিলো আর দুইদিন। রিটার্ন টিকেট কাটা আছে, যেতেই হবে, তাছাড়া ভার্সিটিতে Re-enrollment করতে হবে। ডেডলাইন পার হয়ে গেলেই বিপদ।

ওদের বাড়িতে পৌছালাম। সকাল বেলাটা একা একা এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করেই কাটলো। বিকেলে রওনা দেবো। রওনা দেয়ার আগে পাশেই একটা কফি শপে টিভি দেখছিলাম আর কফির কাপে চুমুক দিচ্ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো কফি শপে ইসাবেলার মতো কেউ ঢুকেছে। প্রথম পলকে পাত্তা না দিলেও আবার বাধ্য হয়ে ভালো করে দেখলাম এটাই ইসাবেলা, ঘাড়ে ব্যাগ, সাথে একজন মহিলা, মানে ওর মা। তার মানে ওরা এখানে এসে পৌছেই বাসায় না গিয়ে সরাসরি কফি শপে ঢুকেছে কিছু খেতে কিংবা কিনতে। আমি আল্লাহকে ধন্যবাদ দিলাম যে আমার মনের ইচ্ছাটা তিনি পূরণ করেছেন। দেখলাম ওরা সামনের দিকে একটা টেবিলে কফি আর কেক নিয়ে বসেছে। আমি ধীর পায়ে ইসাবেলার পেছনে গিয়ে পেছন থেকে দুই হাত দিয়ে চোখ চেপে ধরলাম আর ওর মা কে ইশারা দিয়ে জানালাম আমি ফেরদৌস। ওর মা ওর মুখোমুখি বসা ছিল। আমাকে দেখে ওর মা খুব খুশি। আমার কন্ঠ শুনলে চিনে যাবে বিধায় ওর মা ইসাবেলা কে জিজ্ঞেস করলো, কে বলোতো? প্রথমে কি বুঝেই বলে, কে? বাবা তাইনা? আমি তো চুপিচুপি হাসি আর ওর মা ও হাসে, ও বুঝতে পারে ওর বাবা না। তাই দুই হাত দিয়ে আমার হাত, আঙ্গুল স্পর্শ করে হঠাৎ বলে ওঠে, Who is this? I know this hand, Ferdous? বলেই আমার হাত সরিয়ে পেছনে তাকিয়ে দেখে আমি। পাগলের মতো আমাকে জড়িয়ে ধরেই কান্নাকাটিঃ Oh Ferdous, I missed you, I missed you too much! I tried a lot to make a connection but I couldn’t. I am so sorry. পুরো কফি শপের সব মানুষের নজর এদিকে। সবাই হাত তালি দিয়ে ওঠে। ও লাজুক স্বভাবের হওয়াতে হাত তালির শব্দে লজ্জা পেয়ে শান্ত হয়। আমার হাত সে মোটেও ছাড়বেনা। হাতের আঙ্গুলগুলো হাতের ভেতর নিয়ে রেখে দিয়েছে যেন ছেড়ে দিলেই হারিয়ে যাবো, ওর মা ব্যাপারটা লক্ষ্য করে মিটিমিটি হাসছিল। আমাকে পেয়ে ইসাবেলার খুশী ধরেনা, আর আমার কথা নাই’বা বললাম। এই কয়দিন কিভাবে কি হয়েছে সব বললাম, এর মধ্যে ওর বাবাও কফি শপে এসেছে আমাকে খুজঁতে কিন্তু এসে দেখে এদিকে মিলনমেলা বসে গিয়েছে।

চলবে…………….

বাংলাদেশকে নিয়ে অপমানজনক ভুল তথ্যে ভরা ভিডিও তৈরীর জন্য বাংলাদেশীজমের অভিনব প্রতিবাদ !!

Now Reading
বাংলাদেশকে নিয়ে অপমানজনক ভুল তথ্যে ভরা ভিডিও তৈরীর জন্য বাংলাদেশীজমের অভিনব প্রতিবাদ !!

আর কত? বাংলাদেশ নিয়ে আর কত অপমানজনক, মিথ্যা, ভুল, মনগড়া, আজগুবি ভিডিও বানালে ভারতের ইউটিউবাররা শান্তি পাবে? আমি জানি, কুত্তার লেজ যেমন সোজা হয়না, তেমনি এই ইউটিউবারগুলোও ঠিক হবেনা। আমাদের বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট তথা অফিসিয়াল পেইজ, ইউটিউব চ্যানেল থেকে বারবার সতর্কবার্তা দেয়া হলেও এরা বন্ধ যায়নি। এক একটা ভিডিওতে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ রয়েছে। এইজন্যই দেখি বাইরের মানুষ বাংলাদেশের ব্যাপারে এত ভুল তথ্য কিভাবে জানে। কেন বাংলাদেশ সম্বন্ধে তাদের এতো নেগেটিভ ধারণা। একটা দুইটা বা দশটা নাহ, সারা ইউটিউব ঘেঁটে এমন হাজার হাজার ভিডিও পাওয়া যাবে যা কিনা ভারত আর পাকিস্তানের গাঁজাখোর ইউটিউবাররা বানিয়ে রেখে দিয়েছে আর এদিকে আমাদের দেশের ভাবমুর্তি দিনে দিনে নষ্ট হচ্ছে। কয়জন এর সত্যতা যাচাই করতে যাবে বলেন? মানুষ তো ভিডিও দেখেই অন্য ভিডিওতে চলে যাচ্ছে। মাঝে থেকে যাচ্ছে বাংলাদেশ নামক এই ছোট সুন্দর দেশটার প্রতি নেতিবাচক কিছু ধারণা। আর এই বাংলাদেশই আমাদের দেশ। আমরা কি করছি? আমরা সেইসব ভিডিওতে গিয়ে ইচ্ছামতো গালিগালাজ করে সেই ইউটিউবারের চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করছি সাথে ভিউ বাড়িয়ে বাড়িয়ে সেই ভিডিও আরো ভাইরাল করে ফেলছি। কেউ নেই এইগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলার। আর কেউ এইগুলোকে প্রোটেষ্ট করতে গেলেই বলে আরে ভাই, কুত্তায় কামড়াইছে বলে কি আপনিও কুত্তারে কামড়াইতে যাবেন? হাউ ফানি? এই হলাম আমরা। আর ওদিকে প্রতিবাদ না করতে করতে অনলাইনে দেশটাকে যে আবর্জনার স্তুপ বানিয়ে ফেললো, সেদিকে নজর যায়না আপনাদের? তারা অমন করবে, আমার দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করবে আর আমরা বসে বসে আঙ্গুল চুষবো? এই কি আমরা বাংলাদেশী? এই কি আমাদের পরিচয়? নাকি আমরা সংগ্রামী জাতি যারা বারবার লড়ে , যুদ্ধ করে আজ বাংলাদেশী হয়েছি? বিড়ালের মত মিউ মিউ করে বসে থাকলে চলবে না, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মত গর্জন দিয়ে এদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। তবে অবশ্যই সেটা ভদ্রতা বজায় রেখে, কারণ ওরা অভদ্রের মত আচরণ করে। আর আমাদের ভদ্র জবাবই তাদের থেকে আমাদের পার্থক্য প্রকাশ করবে যে আমরা আসলেই ভদ্র জাতি। একটা কথা বলি, আজ কেউ যদি আপনার মায়ের ছবিকে নগ্নতার সাথে আর দশজনের সামনে প্রকাশ করে, আপনি কি ঘরে বসে আঙ্গুল চুষবেন? বলেন? একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবুন? নাহ, আপনি কল্পনাতেও আনতে পারছেন না তাইতো? সেই ব্যক্তিকে পেলে নিশ্চিত মার্ডার জাতীয় কিছুও করে ফেলতে পারেন, আর এটাই বাস্তবতা। আচ্ছা, আপনাদের কাছে এই সোনার বাংলাদেশটাকে কি মায়ের মত মনে হয়না বলেন? এই বাংলাদেশ তো আমাদের মা-ই নাকি? কেন এই দেশের বিরুদ্ধে কথা বললে চুপ করে থাকবেন? কেন? রক্তে কি জ্বালা ধরেনা? অনলাইন হোক আর যেখানেই হোক, যেভাবেই হোক, এই দেশের ভাবমূর্তিই তো নষ্ট হচ্ছে নাকি?

তাই সবাইকে অনুরোধ করছি, যে যার স্থান থেকে প্রতিবাদ করুন, ভদ্র ভাবে, যেন অন্য দেশের মানুষও বুঝতে পারে যে ভারত বা পাকিস্তানের মত দেশের ইউটিউবাররা কতটা জঘন্য।

আমরা মুখে বললেই হবেনা যে আমরা বাংলাদেশকে ভালোবাসি। কাজে করে দেখাতে হবে। আমাদেরকে কেন ওয়ান ম্যান আর্মি হতে হবে? ষোল কোটি বাংলাদেশীই হবে দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ। তাই বলছি,

যত পারুন ভিডিওটি শেয়ার করুন, ভাইরাল করুন, আর নিজেরাও নিজেদের প্রতিবাদী কন্ঠের আওয়াজ তুলুন।