আবার দেখা হবে। পর্ব-২

Now Reading
আবার দেখা হবে। পর্ব-২

মিতুর রক্ত দেয়া শেষ। এখন আমরা চলে যাচ্ছি। আম্মু ফোন দিয়েছে, তখন মনে হল সকালে আমার বড় খালার বাসায় যাওয়ার কথা ছিল।
হ্যালো, পাভেল। কয়টা বাজে এখন?
আম্মু, ২টা ১০।
সকালে না তোর বড় খালার বাসায় জাবার কথা ছিল। যাসনি কেনো? কোথায় তুই?
আম্মু, বৃষ্টির কারণে………
থাক। আমাকে লেম এক্সকিউজ দিবি না। রাস্তায় ঘুরাঘুরি বাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি তোর বড় খালার বাসায় যা। তোর খালা আমাকে বারবার ফোন দিয়ে বলছে তুই নাকি এখনো উনাদের বাসায় যাসনি। তাড়াতাড়ি যা। বলেই আম্মু ফোন রেখে দিলো।
কে ফোন দিয়েছিলো?
আমার আম্মু।
অহ। আপনাকে শুধু শুধু বিপদে ফেলে দিলাম।
না না। ঠিক আছে। চলুন আপনাকে বাসে তুলে দেই। মহাখালী থেকে মিতুকে বাসে তুলে দিলাম। আমি বড় খালার বাসার দিকে হাঁটা ধরেছি। মিতু পিছনে থেকে ডাক দিয়ে দৌড়ে আমার সামনে এসে দাঁড়াল।
আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না। আপনার মোবাইল নাম্বারটা দেয়া যাবে? যদি আপনার কোনো সমস্যা না থাকে। আপনার মত ভালো মানুষের সাথে যোগাযোগ রাখা দরকার।
আচ্ছা নিন। ০১৭………………। বাসায় পৌঁছে জানাবেন। ভালো থাকবেন। আল্লাহ্‌ হাফেজ।

আমি বড় খালার বাসায় গেলাম। দরজা খুলল বড় খালা।
কিরে তোর আসার কথা সকাল ৯ টায়। এখন সাড়ে ৩ টা বাজে। ভিতরে আয়। দুপুরে কোথায় খেয়েছিস?
ঢাকা মেডিকেল।
ঢাকা মেডিকেল কেন? তুই কি অ্যাকসিডেন্ট করেছিলি ?
না। ব্লাড ডোনার নিয়ে গিয়েছিলাম।
আচ্ছা শোন কি কারণে তোকে আসতে বলেছি। আজকে সন্ধ্যায় রিমাকে দেখতে আসবে ছেলে পক্ষ। তোকে থাকতে হবে।
আমাকে কেন থাকতে হবে? দেখতে আসবে রিমাকে। আমি থেকে কি করবো।
কোনো কথা বলবি না। যা বলেছি তাই করবি। তুই গিয়ে বস। একটু পর রিমাকে নিয়ে পার্লারে যাবি।
আমি রিমার ঘরে গেলাম। পার্লারে যাবি কখন?
পাভেল ভাইয়া। তুমি কখন এলে? তোমার না সকালে আসার কথা ছিল।
একটা মহৎ কাজে দেরি হয়ে গেলো।
তোমার মহৎ কাজটি কি সেটা কি জানতে পারি?
পারিস। তবে এখন না, পরে বলবো। পার্লারে যাবি কখন ? বড় খালা বলল তোকে পার্লারে নিয়ে যেতে।
আমার একটা বান্ধবী আসবে, ওর জন্য অপেক্ষা করছি। তুমি বসে একটু রেস্ট নাও।
পিচ্চিটা কইরে রিমা? আমার বড় খালার দুই মেয়ে। রিমা আর সুমা। রিমা অনার্স সেকেন্ড ইয়ার আর সুমা ক্লাস এইট এ পড়ে।
সুমা আব্বুর সাথে বাইরে গেছে, এখনই চলে আসবে।
বড় খালা ভালই আয়োজন করেছেন। বাসায় পোলাও,রোস্ট, খাসির রেজালা,পায়েস করেছেন। সাথে রেস্টুরেন্ট থেকে চাইনিজ আনিয়ে রেখেছেন। বড় খালাকে বললাম এতো আয়োজন করার কি দরকার? এতো খাবার কে খাবে? উনারা কি মেয়ে দেখতে আসবেন নাকি পেটচুক্তি খেতে আসবেন?
আমার কথায় বড় খালা রেগে গেলেন। তুই চুপ থাক। তুই কি বুঝবি এসবের? নতুন একটা পরিবারের সাথে নতুন একটা সম্পর্ক হতে যাচ্ছে। একটু ভালভাবে খাতির না করলে চলে?
বড় খালু আর সুমা এসে পড়েছে। সাথে রিমার সেই বান্ধবীও এসেছে।
আমি,রিমা,সুমা আর রিমার বান্ধবী পার্লারে যাচ্ছি। বড় খালাদের গাড়িতে করে। এই প্রথম বাবের মত আমি বড় খালাদের গাড়িতে চড়লাম। ১৭ দিন হয়েছে নতুন গাড়ি কিনেছেন তাঁরা। গাড়ি কিনার দিন আমাকে সাথে যেতে বলেছিল, আমার ইচ্ছা ছিল না বলে যাইনি। তবে গাড়িটা বেশ সুন্দর। গাড়ির কালারটা বেশি ভালো লেগেছে। গাড়ির কালার কালো; আমার পছন্দের কালার। গাড়ির ভিতরের জায়গাও বেশ বড়। এসি চলছে, ড্রাইভার সাহেব এয়ারফ্রেশনার দেয়ার কারণে আমার ঘুমিয়ে পড়তে ইচ্ছে করছে।
পাভেল ভাইয়া, আমরা পার্লারে চলে আসছি।
মেয়েদের সাজুগুজু বলে কথা। পাক্কা ২ ঘণ্টা লাগল। আমি অবশ্য গাড়িতে এতক্ষণ ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি, টেরই পাইনি।
আমার পকেটে ফোন বাজছে। আম্মু ফোন দিয়েছে।
হ্যালো পাভেল, তোর বড় আমাকে ফোন দিয়েছিল আবার। তুই আজকে তোর বড় খালার বাসায় থাকবি। বুঝেছিস?
জি, বুঝেছি।
আচ্ছা ঠিক আছে, আমি রাখলাম।
বড় খালার বাসায় ফিরে দেখি ছেলে পক্ষের লোকজন এসে পড়েছে। তাদের নাস্তা দেয়া হয়েছে। ছেলে পক্ষ থেকে মাত্র ৫ জন এসেছে। বড় খালার খাবারের আয়োজন দেখে আমি ভেবেছিলাম উনারা কমপক্ষে ১৫/১৬ জন আসবেন।
রাত নয়টা বাজে। ছেলে পক্ষের লোকজন মেয়ে দেখে চলে গেছে। আমার পেট একদম হাউজফুল। মেহমানদের সাথেই রাতের খাবার সেরে নিয়েছি আমি। বড় খালু আর আমি ছেলে পক্ষের সাথে খেয়েছি। আমি বারান্দায় চেয়ারে বসে আছি। সুমা এসে বলল, পাভেল ভাইয়া চল ছাদে যাই। আমাদের বাসার ছাদ থেকে আকাশের তারা দেখা যায় ভালো।
নারে, আজকে সারাদিন আমার শরীরের উপর দিয়ে অনেক ধকল গেছে। আমার ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে।
আমি গেস্ট রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম। ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলাম। আবার আমার মোবাইল বাজছে। কাচা ঘুম ভেঙ্গে গেল রিংটোনের শব্দে। রিসিভ করেই বিরক্তির স্বরে বললাম বারবার ফোন দাও কেন আম্মু? মাত্রই ঘুমিয়েছিলাম। কাচা ঘুমটা ভেঙ্গে দিলে।
আমি আপনার আম্মু না। আমি মিতু। চিনতে পেরেছেন?
অহ মিতু, আপনি। সরি, আমি ভেবেছিলাম আম্মু ফোন দিয়েছে। আই এম এক্সট্রিমলি সরি। মিতু মেয়েটার কণ্ঠ অনেক মধুর মনে হল আমার কাছে। আহ কি মায়াবী কণ্ঠ।
না না, আপনি সরি বলছেন কেন ? ভুলটা আসলে আমারই হয়েছে। আমি বুঝতে পারিনি আমি এতো তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েন।
ইটস অকে। বলুন কি খবর? রাস্তায় কোনো অসুবিধা হয়নি তো?
না। সন্ধ্যার মধ্যেই আমি বাসায় চলে এসেছি। রাস্তা ফাকা ছিল। আজ সকালে আপনি আমার জন্য যা করলেন। আমি চিরকৃতজ্ঞ আপনার কাছে। আপনার কাচা ঘুম ভাঙ্গিয়ে আর বিরক্ত করবো না। ঘুমান। পরে কথা হবে।
পরদিন সকালে আমি আমাদের বাসায় চলে আসলাম।

চলবে………………………………………..

আবার দেখা হবে। পর্ব-১

Now Reading
আবার দেখা হবে। পর্ব-১

চারদিকে খুব বৃষ্টি হচ্ছে। আমি দাঁড়িয়ে আছি রাস্তার পাশের একটি চায়ের দোকানের সামনে। বড় খালার বাসায় যাচ্ছিলাম , হঠাত আচমকা বৃষ্টি নামার কারণে অনেকটা ভিজে গেছি। আমার বাসা মিরপুর আর বড় খালার বাসা বনানী। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভিতর দিয়ে যাওয়ার কথা আমার। কিন্তু বৃষ্টির কারণে আমি এখন দাঁড়িয়ে আছি মিরপুর১৪ তে, একটি চায়ের দোকানের সামনে। বড় খালার বাসায় একটা জরুরী কাজে যাচ্ছিলাম; পারিবারিক কাজ। কিন্তু এখন মনে আসছে না ঠিক। গত কয়েকদিন ধরে আমি নিজেই বুঝতে পারছি যে আমার মাথায় কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে। সবকিছু কেমন যেন ভুলে যাই , আবার কিছু সময় পর মনে পড়ে। চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছি , এমন সময় একটা মেয়ে তাড়াহুড়া করে ছাতা বন্ধ করতে করতে আমার সামনে এসে দাঁড়াল।
এইযে একটু সড়ে দাঁড়ান।
আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই সড়ে বাইরের দিকে দাঁড়ালাম।
আমি মেয়েটার ঝাড়ি খেয়ে লজ্জায় চুপ করে আছি। মেয়েটার বয়স কত হবে? ১৮ বা ১৯ বড়জোর। আর আমার বয়স ২৬। কেউ দেখেনি বলে এই পুচকি মেয়ের ঝাড়িতে প্রেস্টিজে লাগলো না। মেয়েটার চুল বৃষ্টির পানিতে ভিজে আরো কালো দেখাচ্ছে। চুলগুলো কেমন যেন আকর্ষণ করছে আমাকে। আমি চা খাওয়া শেষ করে বাইরের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টি দেখছি আর কখন বৃষ্টি থামবে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছি। মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি সুরে বলল- আচ্ছা, এখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কিভাবে যাবো বলতে পারেন?
আমি অবাক। কিছুক্ষণ আগে যে মেয়ে আমাকে ঝাড়ি দিল, সে এখন আমাকে মিষ্টি সুরে কিছু জিজ্ঞেস করছে। মেয়েটা কে প্রথমে খুব রাগী মনে হচ্ছিলো কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এই মেয়ের মত মায়াবী মেয়ে আর একটিও নেই।
ঢাকা মেডিকেল এখান থেকে অনেক দূরে।
অনেক জরুরী। আমাকে যেতেই হবে।
আচ্ছা, আমি আপনাকে বলে দিচ্ছি কিভাবে যেতে হবে। আশা করি যেতে পারবেন।
এখন বৃষ্টি থেমে গেছে অনেকটা।
আসলে আমি ঢাকায় নতুন আর ঢাকার রাস্তায় পথ চলতেও কেমন যেন ভয় লাগে, অনেক গাড়ি। আপনার যদি সময় থাকে আর কিছু মনে না করেন তাহলে আমাকে প্লিজ একটু পৌঁছে দিন।
আপনি আমাকে চিনেন? অপরিচিত লোকের সাথে যেতে ভয় লাগবে না?
আমি আপনাকে না চিনলেও আরও ২০মিনিট আগে আপনাকে দেখেছি একজন বৃদ্ধকে রাস্তা পার করিয়ে দিচ্ছেন। মন বলছে আপনি অতটা খারাপ মানুষ নন।
বৃষ্টি নামার আগে দেখলাম একজন বৃদ্ধ লোক রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু সেখানে ওভারব্রিজ না থাকায় ও রাস্তায় প্রচুর গাড়ি থাকার কারণে লোকটি রাস্তা পার হতে পারছেন না। তাই আমি সাহায্য করেছিলাম। তবে এই মেয়ে দেখলো কিভাবে সেটা বুঝতে পারলাম না।
চুপ করে আছেন যে, আমাকে পৌঁছে দিতে পারবেন?
আমি রাজি হয়ে বললাম চলুন।
থ্যাংকস। আচ্ছা, আপনার চুলগুলো এতো বড় বড় কেনো?
আমি রীতিমত আকাশ থেকে পড়লাম। আরে এই মেয়েকে চিনি না, জানি না। বিপদে পড়েছে বলে সাহায্য করছি। আমি এমনিতেই মেয়েদের থেকে দূরে দূরে থাকি। কিন্তু এই মেয়ে আমার চুল নিয়ে কথা বলে ফেলল। কি সাংঘাতিক।
এমনি। শখ করে চুল বড় রেখেছি।
ছেলেদের এত বড় চুল আমি কখনো দেখিনি। মেয়েদের চুল থাকবে বড়। ঠিক আমার চুলের মত। আচ্ছা বলুন তো আমার চুলগুলো কেমন? সুন্দর লাগছে দেখতে?
আমি মনেমনে ভাবলাম এই মেয়ে বাচাল নাকি। নাহ, মনে হয় মাথায় ডিস্টার্ব। বললাম, আপনার চুলগুলো অনেক কালো আর সুন্দর।
আপনি তখন বলছিলেন আপনি ঢাকায় নতুন এসেছেন। তাহলে আপনার বাসা কোথায়?
ময়মনসিংহ। তবে এটা ভেবে ভুল করবেন না যে আমি গ্রামে থাকি। ময়মনসিংহ সদরেই আমাদের বাসা।
আসলেই। এই মেয়ের কথাবার্তা শুনেই বুঝা যায় শহরে থাকে। তা ঢাকা মেডিকেল কেন যাচ্ছেন?
রক্ত দিতে।
আপনার আত্মীয় কেউ অসুস্থ?
না। আত্মীয় না, ফেসবুকে একটা গ্রুপে দেখলাম একজনের হার্টে অপারেশন হবে আজ রাতের মধ্যে ২ ব্যাগ রক্ত লাগবে। ও নেগেটিভ রক্ত। সহজে নাকি পাওয়া যায় না। আর রোগীর পরিবার থেকে এক ব্যাগ ম্যানেজ করেছে, বাকি এক ব্যাগ আমি দিবো। ব্লাড ব্যাংকে খুঁজেও পায়নি। সময়ও কম ছিল। তাই আমি রাজি হলাম। জানেন রোগীর স্বামী আমাকে ফোন দিয়েই কেদে দিয়েছে।
আচ্ছা। আমরা চলে এসেছি বাকি কথা পড়ে শোনা যাবে। চলুন রোগীর কাছে যাই।
ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে মেয়েটি সম্ভবত রোগীর স্বামীকে ফোন দিল। ভদ্রলোক এসেই আমাদের সালাম দিলেন। তিনি মনে হয় কল্পনাও করতে পারেননি রক্ত দিতে এই মেয়ে এত দূরে চলে আসবে , তাও একা। ভদ্রলোক আমাদের ব্লাড ব্যাংকের সামনে বসিয়ে রেখে খাবার আনতে গেলো।
আচ্ছা, আমি তাহলে যাই। আপনি থাকেন।
চলে যাবেন ? আমার জন্য আরেকটু কষ্ট করুন। আরেকটু সময় থাকুন। রক্ত দেয়া হয়ে গেলে আমাকে প্লিজ বাসস্ট্যান্ডে দিয়ে আসবেন।
অকে। আচ্ছা, আপনার নাম তো জানা হয়নি।
আমার নাম মিতু। আপনার?
আমি পাভেল। আপনি যে একা ঢাকা চলে আসলেন বাসার কেউ চিন্তা করবে না ?
না। বাসায় বলেছি বান্ধবীর বাসায় যাব।
আপনি মিথ্যা বলেন?
ভালো কাজের জন্য এমন ছোট মিথ্যা বলা যায়।
ভদ্রলোক মিতু আর আমার জন্য ৪টা ডাব, পাউরুটি, ১ লিটার জুস, ২ প্যাকেট তেহারী, পানি নিয়ে এসেছেন।

 

চলবে ……………………………………………………………………

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খুঁটিনাটি

Now Reading
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খুঁটিনাটি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরমধ্যে একটি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কি বিশ্ববিদ্যালয় নাকি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্বর্গ তার উত্তর আমি আজও পাইনি। আপনি যখন\ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে রাস্তা দিয়ে হাঁটবেন, তখন মনে হবে কোনো এক গাছের নিচে বসে ঘুমিয়ে\ পড়তে। প্রায় সব রাস্তার দুইপাশে সারি সারি গাছ। ভরদুপুরেও এসব রাস্তায় ছায়া থাকে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের তৃতীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়। চলুন জেনে নেয়া যাক চট্টগ্রাম

বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
আচার্যঃ রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্যঃ ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী
শিক্ষার্থীঃ ২৭০০০ (প্রায়) ছেলেঃ ১৭০০০(প্রায়) মেয়েঃ ১০০০০(প্রায়)
শিক্ষকঃ ৭০০(প্রায়)

অবস্থানঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে হাটহাজারী থানায় অবস্থিত।

শুরুর কথাঃ বিংশ শতাব্দীর শুরু দিকে চট্টগ্রামে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় চট্টগ্রামের মানুষ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুভব করে। ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় সম্মেলনে মওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামবাদী সভাপতির ভাষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলে একটি ‘ইসলামিক ইউনিভার্সিটি’ নির্মাণের কথা উপস্থাপন করেন। পরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার দেয়াং পাহাড়ে কিছু জমি কিনেন। ১৯৪২ সালে নূর আহমদ বঙ্গীয় আইন পরিষদে চট্টগ্রামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক দাবি পেশ করেন। ষাটের দশকে তৎকালীন পাকিস্তানের দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৬০-১৯৬৫) প্রণয়নকালে চট্টগ্রামে একটি ‘বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ১৯৬২ সালের নির্বাচন প্রচারনায় ফজলুল কাদের চৌধুরী এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাধারণ প্রতিশ্রুতি দেন। এবং পরবর্তীকালে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালের ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের বৈঠকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ মঞ্জুর করা হয়। ১৯৬৪ সালের ২৯ আগস্ট পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে।

একাডেমিক কার্যক্রমঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৭টি অনুষদে ৫২টি বিভাগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ এবং অন্তর্গত বিভাগসমূহ হলো-

  • কলা ও মানববিদ্যা অনুষদঃ
  • আরবি বিভাগ
  • ইংরেজি বিভাগ
  • ইতিহাস বিভাগ
  • ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
  • ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
  • দর্শন বিভাগ
  • নাট্যকলা বিভাগ
  • পালি বিভাগ
  • ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
  • ভাষাবিজ্ঞান বিভাগ
  • বাংলা বিভাগ
  • ভাষা ও ভাষাতত্ত্ব বিভাগ
  • সঙ্গীত বিভাগ
  • সংস্কৃতি বিভাগ
  • আধুনিক ভাষা ইন্সিটিউট

জীব বিজ্ঞান অনুষদঃ

  • উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ
  • জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ
  • প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ
  • প্রাণীবিদ্যা বিভাগ
  • ফার্মেসী বিভাগ
  • ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ
  • মনোবিজ্ঞান বিভাগ
  • মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ
  • মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ

ব্যাবসায় প্রশাসন অনুষদঃ

  • একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ
  • ফাইন্যান্স বিভাগ
  • ব্যুরো অব বিজনেস রিসার্স বিভাগ
  • ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ
  • মার্কেটিং বিভাগ
  • ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ
  • সেন্টার ফর বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন
  • হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ

ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদঃ

  • কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
  • ফলিত পদার্থবিদ্যা, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ

আইন অনুষদঃ

  • আইন বিভাগ

বিজ্ঞান অনুষদঃ

  • পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ
  • রসায়ন বিভাগ
  • গণিত বিভাগ
  • পরিসংখ্যান বিভাগ

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদঃ

  • লোক প্রশাসন বিভাগ
  • রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ
  • অর্থনীতি বিভাগ
  • সমাজতত্ত্ব বিভাগ
  • নৃবিজ্ঞান বিভাগ
  • যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
  • আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
  • সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট
  • সেন্টার ফর এশিয়ান স্টাডিজ
  • পুলিশ সায়েন্স ও ক্রিমিনোলোজি বিভাগ
  • উন্নয়ন গবেষণা বিভাগ

ইন্সিটিউটসমূহঃ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬টি ইন্সিটিউট রয়েছে। ইন্সিটিউটগুলো হলঃ

  • ইনস্টিটিউট অব এডুকেশান, রিসার্স এ্যন্ড ট্রেনিং
  • আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট
  • নস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিশ
  • চারুকলা ইন্সিটিউট
  • সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট
  • ইনস্টিটিউট অব ফরেষ্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস

গবেষণা কেন্দ্রসমূহঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫টি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। গবেষণা কেন্দ্রগুলো হলঃ

  • নজরুল গবেষণা কেন্দ্র
  • ইনস্টিটিউট অব এডুকেশান, রিসার্স এ্যন্ড ট্রেনিং
  • ব্যুরো অব বিজনেস রিসার্চ
  • সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট
  • গণিত ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র

লাইব্রেরীঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরী। এবং দেশের অন্যতম সেরা ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরী। ১৯৬৬ সালে মাত্র তিনশ(৩০০) বই নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এই লাইব্রেরীর বর্তমান সংগ্রহ সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন(৩.৫) লক্ষ। যার মধ্যে রয়েছে বিরল বই, জার্নাল, অডিও-ভিজ্যুয়াল উপাদান, পান্ডুলিপি এবং অন্ধদের জন্য ব্রেইল বই।

আবাসিক হলসমূহঃ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে সর্বমোট ১২টি আবাসিক হল রয়েছে। যার মধ্যে ৮টি ছাত্র হল ও ৪টি ছাত্রী হল। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে ১টি হোস্টেল রয়েছে

ছাত্র হলঃ

  • আলাওল হল
  • এ.এফ.রহমান হল
  • শাহজালাল হল
  • সোহরাওয়ার্দী হল
  • শাহ আমানত হল
  • শহীদ আব্দুর রব হল
  • মাস্টারদা সূর্যসেন হল
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল

ছাত্রী হলঃ

  • শামসুন্নাহার হল
  • প্রীতিলতা হল
  • দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হল
  • জননেত্রী শেখ হাসিনা হল

ছাত্রাবাসঃ

গোবিন্দ গুণালংকার ছাত্রাবাস

ক্যাফেটেরিয়াঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশকয়েকটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে। যারমধ্যে চাকসু ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি ক্যাফেটেরিয়া অন্যতম।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারঃ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য রয়েছে একটি মেডিকেল সেন্টার। শিক্ষক ও কর্মচারীদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও রয়েছে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা। এখানে ১১ জন চিকিৎসক ও ৪ টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে।রাজনৈতিক চর্চাঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি রয়েছে রাজনৈতিক চর্চার সুযোগ। যেকোনো শিক্ষার্থী চাইলেই এসব রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে যোগ দিয়ে নিজ নিজ রাজনীতির চর্চা করতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট উল্লেখযোগ্য।

শাটল ট্রেনঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যাতায়াত ব্যাবস্থার কথা মনে করলেই সবার আগে মনে পড়বে শাটল ট্রেনের কথা। ১৯৮০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য এই শাটল ট্রেন চালু করা হয়। ১০টি বগি বিশিষ্ট দুইটি শাটল ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় দশ হাজার(১০০০০) শিক্ষার্থী যাতায়াত করে থাকে। বর্তমানে ট্রেন দুইটি দৈনিক সাত(৭) বার যাতায়াত করে থাকে।জাদুঘরঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে তিনটি(৩) জাদুঘর রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর, প্রাণীবিদ্যা জাদুঘর, সমুদ্র সম্পদ জাদুঘর।

স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্যঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে স্মরণ স্মৃতিস্তম্ভ, বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভ, স্বাধীনতা স্মৃতি ম্যুরাল ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।কৃতি শিক্ষার্থীঃ শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস(পিএইচডি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তাছাড়াও একুশে পদক বিজয়ী সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ, চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর প্রমুখ এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন।

আশা করছি এই লেখাটি আপনাদের ভালো লাগবে এবং কিছু তথ্য জানতেও সাহায্য করবে। লেখাটি কেমন লাগলো নিচে মন্তব্য করে আমাকে জানাতে পারেন। আর অবশ্যই সময় পেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে আসতে পারেন। —- ধন্যবাদ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কিছু তথ্য

Now Reading
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কিছু তথ্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি অন্যতম সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিবছর লাখ-লাখ শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য ভর্তি যুদ্ধে অংশ নিয়ে থাকে। কিন্তু সুযোগ পায় খুবই কম সংখ্যক শিক্ষার্থী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। চলুন জেনে নেয়া যাক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

আচার্যঃ রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ
উপাচার্যঃ ড. ফারজানা ইসলাম
ডীনঃ৬
শিক্ষার্থীঃ ১৭০০০ (প্রায়)

ইতিহাসঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মূলত ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন এর নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকা শহরের মুঘল আমলের নাম “জাহাঙ্গীরনগর” থেকে এই নামকরণ করা হয়। ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন করেন। প্রথম ব্যাচে ১৫০ জন ছাত্র নিয়ে ৪ টি বিভাগ চালু হয়; বিভাগগুলো হচ্ছে অর্থনীতি, ভূগোল, গণিত এবং পরিসংখ্যান।

ক্যাম্পাস ও আয়তনঃ ঢাকার সাভারে প্রায় ৬৯৭.৫৬ একর এলাকা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস একটি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরম। প্রতিবছর শীতকালে দেশের বাইরে থেকে অতিথি পাখি এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসে। অতিথি পাখি দেখতে সারাদেশ ও দেশের বাইরে থেকে পর্যটক আসে এখানে।
শহীদ মিনারঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু শহীদ মিনারটি অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর উচ্চতা ৭১ ফুট ও ব্যাস ৫২ ফুট।

ভাস্কর্যঃ
সংশপ্তকঃ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য সংশপ্তক। এর স্থপতি হামিদুজ্জামান খান । এই ভাস্কর্যে এক পা ও এক হাত হারিয়েও এক সংশপ্তক মুক্তিযোদ্ধা বিজয়ের হাতিয়ার উর্ধে তুলে ধরেছেন।
অমর একুশেঃ সমাজবিজ্ঞান ভবনের সামনে রয়েছে ভাষা আন্দোলনের স্মরণে ভাস্কর্য অমর একুশে। এর স্থপতি শিল্পী জাহানারা পারভীন।

মাঠঃ খেলাধুলার জন্য রয়েছে একটি কেন্দ্রীয় মাঠসহ প্রায় ১০-১২ টি মাঠ। বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট এর শিক্ষার্থীদের খেলার জন্য রয়েছে এই মাঠগুলো। তাছাড়াও রয়েছে টেনিস কোর্ট, ভলিবল মাঠ, হ্যান্ডবল মাঠ ইত্যাদি। ইনডোর খেলার জন্য আছে ইনডোর স্টেডিয়াম।

ব্যায়ামাগারঃ শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ব্যায়ামাগার। দিনের সবসময় খোলা থাকে এটি।

ক্যাফেটেরিয়াঃ কম খরচে খাবারের জন্য রয়েছে ক্যাফেটেরিয়া। একসাথে ৬০ জনের খাবারের ব্যাবস্থা আছে এই ক্যাফেটেরিয়ায়। দিনের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায় এখানে।
বটতলাঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে খাবারের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা হল এই বটতলা। এখানে ঘরোয়া পরিবেশে বিভিন্ন খাবার রান্না ও পরিবেশন করা হয়। কমপক্ষে ১৮-২০ ধরণের ভর্তা পাওয়া যায় বটতলায়। একবার খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করবে। আপনি চাইলে মাত্র ২০-২৫ টাকার মধ্যে ভরপেট ভাত খেতে পারবেন এখানে।

অনুষদসমুহঃ
বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ টি অনুষদের অধীনে ৩৫ টি বিভাগ রয়েছে।

গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদঃ

  • কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগ
  • গণিত বিভাগ
  • পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ
  • পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ
  • পরিসংখ্যান বিভাগ
  • ভূতাত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ
  • রসায়ন বিভাগ
  • কলা ও মানবিকী অনুষদঃ

দর্শন বিভাগ
ইংরেজি বিভাগ
ইতিহাস বিভাগ
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ
বাংলা বিভাগ
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যায়ন ‍বিভাগ
চারুকলা বিভাগ
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ
সমাজবিজ্ঞান বিষয়ক অনুষদঃ

অর্থনীতি বিভাগ
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ
নৃবিজ্ঞান বিভাগ
লোকপ্রশাসন বিভাগ
সরকার ও রাজনীতি বিভাগ
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ
ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদঃ

ফিনান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ
মার্কেটিং বিভাগ
অ্যাকাউন্টিং ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
জীববিজ্ঞান বিষয়ক অনুষদঃ

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ
জীবপ্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশল বিভাগ।
ফার্মেসী বিভাগ
প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগ
অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগ
জনস্বাস্থ্য ও তত্ত্ব
আইন অনুষদঃ

আইন বিভাগ

আবাসিক হলসমূহঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অন্যতম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট হল সংখ্যা ১৫ টি, এর মধ্যে ছাত্রদের জন্য ৭টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৮টি হল রয়েছে।

ছেলেদের হলঃ
১.আল বেরুনী হল
২.মীর মশাররফ হোসেন হল
৩.শহীদ সালাম-বরকত হল
৪.আ. ফ. ম. কামালউদ্দিন হল
৫.মওলানা ভাসানী হল
৬.বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল
৭.শহীদ রফিক-জব্বার হল

মেয়েদের হলঃ
১.ফজিলাতুন্নেসা হল
২.নওয়াব ফয়জুননেসা হল
৩.প্রীতিলতা হল
৪.জাহানারা ইমাম হল
৫.বেগম খালেদা জিয়া হল
৬.শেখ হাসিনা হল
৭.বেগম সুফিয়া কামাল হল
৮.বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেসা হল

ধন্যবাদ। সবাই সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন।

মুস্তাফিজ ও একটি মুদ্রার কয়েন

Now Reading
মুস্তাফিজ ও একটি মুদ্রার কয়েন

মুস্তাফিজুর রহমান; এক বিস্ময়ের নাম। জন্ম বাংলাদেশের সাতক্ষীরায়(৬ সেপ্টেম্বর,১৯৯৫)। বয়স হিসাব করলে যে খুব বেশি হবে, তাও নয়। মাত্র একুশ(২১)। কিন্তু মুস্তাফিজকে যদি বিস্ময় দিয়ে হিসাব করি, তাহলে সেটা আকাশচুম্বী। কারণটা বাংলাদেশসহ পৃথিবীর ক্রিকেটপ্রেমী সবারই জানা।

বাংলাদেশ টিমের লাল-সবুজের জার্সি প্রথম গায়ে জড়ান ২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে(টি-২০)। এবং প্রথম দিন মাঠে নেমেই আফ্রিদি ও হাফিজকে আউট করে নিজের আগমন জানান দিচ্ছিলেন এই বাঁহাতি বোলার। তারপর রূপকথার মতো অভিষেক হয় ‘ওডিআই’ তে। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট নেয়ার পর;দ্বিতীয় ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে ক্রিকেট দুনিয়ায় হইচই সৃষ্টি করেন।ওয়ানডে ক্রিকেটের অভিষেক সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিকও এখন মুস্তাফিজুর রহমান। [উল্লেখ্যঃ মুস্তাফিজের টি-২০ ও ওয়ানডে দুটি অভিষেকের ম্যাচেই জয় পায় বাংলাদেশ।]

নিজের বোলিং ভেল্কি দিয়ে বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানকে ঘায়েল করার সুবাদে ২০১৬ সালের আইপিএল এ ডাক পান হায়াদ্রাবাদ টিমে। নিলামের মাধ্যমে হায়াদ্রাবাদ টিম মুস্তাফিজকে ১ কোটি ৭০ লাখ বাংলাদেশি টাকায় কিনে নেয়।

প্রথম ম্যাচ থেকেই টিম হায়াদ্রাবাদ এর বোলিং অ্যাটাকের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেন মুস্তা। কম খরুচে বোলার হিসেবে আইপিএল এ নিজের নামকে নিয়ে যান ওপরের সারিতে। প্রতি ম্যাচেই মুস্তাফিজ অন্তত ১২-১৫ রান সেভ করতেন নিজ বোলিং প্রতিভা দ্বারা। “দ্যা ফিজ” এর কাটারের কল্যাণে হায়াদ্রাবাদ দল প্রায় সব ম্যাচেই জয়ের দেখা পায়। মাত্র ১৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নিয়ে আইপিএল এ ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন এই বাংলাদেশী তরুণ। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মত আইপিএল এ সানরাইজার্স হায়াদ্রাবাদ চ্যাম্পিয়ন হয়। যেখানে নায়কের ভুমিকায়ই ছিলেন কাটার মাস্টার ‘দ্যা ফিজ’। মুস্তাফিজুর রহমান তাঁর প্রথম আইপিএলেই  বাজিমাত করে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন এবং নিজেও আইপিএল ২০১৬ এর মোস্ট ইমারজিং প্লেয়ার এর খেতাব পান। আইপিএল থেকে ফিরে এলে বাংলাদেশের মানুষ মুস্তাফিজকে ঢাকায় এয়ারপোর্টে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। সাতক্ষীরার বাসায় যাওয়ার পর নিজ জেলা প্রশাসকও “দ্যা ফিজ” কে সম্মান জানাতে ভুলেননি। মুস্তার চারদিকে শুধু মানুষের সম্মান আর শুভেচ্ছা। ঠিক যেন স্বপ্নের মত এলেন,দেখলেন,জয় করলেন।

তার কিছুদিন পরই ইংল্যান্ডের সাসেক্স এ কাউন্টি লীগ খেলতে যান। সেখানেও দেখা গেলো সেই চিরোচেনা মুস্তাফিজুর রহমানকে। ব্যাটসম্যানরা তাঁর বিষাক্ত কাটারের যন্ত্রণায় মাঠ ছাড়তে বাধ্য(আউট) হতেন। সাসেক্সে খেলার সময় কাঁদে চোট পান এবং ইংল্যান্ডেই তাঁর কাঁধের অস্ত্রপচার করা হয়। তারপর বেশ কিছুদিন বিশ্রামের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন।

বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফরে দলে ফিরলেন, কিন্তু ঠিক আগের মুস্তাফিজকে কেনো যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। মনে হচ্ছিলো কাঁধের অপারেশনের পর তাঁর কাটারের ধার আগের মত নেই। শ্রীলঙ্কা সফরেও একই অবস্থা। আগের বোলিং আর নেই। খুব সহজে উইকেট পাচ্ছেন না; আউট করতে পারছেন না বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের। দেখতে দেখতে আইপিএল ২০১৭ চলে এলো।

আইপিএল ২০১৭ তে নিজ দল সানরাইজার্স হায়াদ্রাবাদের সাথে যোগ দেয়ার পরের দিনই মাঠে নেমে যান। কিন্তু ২.৪ ওভারে রান দেন ৩৪, কোনো উইকেট পাননি। ঠিক তখনই বোধ হয় কাটার মাস্টার খ্যাত “দ্যা ফিজ” মুদ্রার উল্টা পিঠ দেখতে শুরু করলেন। হায়াদ্রাবাদ টিম ম্যানেজমেন্ট কেনো যেন এক ম্যাচ দিয়েই মুস্তাফিজকে বিচার করে ফেললেন। যেই মুস্তাফিজকে দলে পাওয়ার জন্য হায়াদ্রাবাদ টিম অস্থির হয়ে পড়ত, সেই মুস্তাফিজকেই তারা ম্যাচের পর ম্যাচের সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রাখল। আর একটি ম্যাচেও নামানো হলনা মুস্তাকে। মুস্তাফিজ নিজেও খুব অসহায় বোধ করতে লাগলেন। মাত্র এক বছর আগেও বিপক্ষ দলের রান চেক দেয়ার জন্য যার ৪ ওভারের ৩ ওভারই শেষের দিকে করানোর জন্য রেখে দেয়া হত, আজ তাকে অতিরিক্ত খেলোয়ার হিসেবে মাঠের বাইরের বেঞ্চে বসে থাকতে হচ্ছে। হয়তো এটাকেই মুদ্রার ২ পিঠ দেখা বলে।

সবশেষে আশার কথা শুনিয়ে শেষ করছি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মুস্তাফিজ আগের রুপেই ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সামনে বাংলাদেশের ট্রাই-নেশন সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির খেলা আছে। আশা করছি আবার আমরা আগের সেই কাটার মাস্টার “দ্যা ফিজ” কেই দেখতে পারবো।
ধন্যবাদ।