স্মার্টফোন বাজারে শাওমি মি-৬ এর হানা

Now Reading
স্মার্টফোন বাজারে শাওমি মি-৬ এর হানা

স্মার্ট ফোন নির্মাতা শাওমি, বরাবরেই তারা তাদের প্রোডাক্ট দিয়ে বাজারে আলোচনায় এসেছে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিছুদিন আগে শাওমি তাদের বহুল প্রতিক্ষিত ফোন এমআই৫ সকলের কাছেই খারাপ বা সমালোচিত ছিলো কারন ফোনটি ডিজাইন বা ফিচার এর কিছু সমস্যা ছিলো ।

সব বাধা দূরে রেখে এবার তারা এমআই৬ নিয়ে এসেছে । ফোনটি ডিজাইন থেকে শুরু করে সব কিছুই আগের এমআই৫ বা ৫এস এর তুলনায় অনেক ভালো ।
মি৫ এ আগের মতো ব্যাক পার্টের জন্য বিরক্ত হবেন না কারন এবারে মি৬ এ ব্যাক পার্ট টা প্রায় সামসাং এস৭ এর মতো ভালো মানের গ্লাস দিয়ে তৈরী । কিন্তু এ ফোনটি ওজন একটু বেশি আগের ফোন গুলোর থেকে,বেশ কিছু দিন ব্যবহার করলে সে সমস্যা মনে হবে না ।
এ ফোনটির মাধ্যমে শাওমি তাদের প্রথম ওয়াটার প্রফ ফোন আনলো তাদের এই ফোনটি বেশ ভালো ভাবেই ওয়াটার থেকে ফোনটি বাচাঁতে পারবে ।

চলুন এবার দেখা যায় এ ফোনটির ফিচার গুলোঃ

শাওমি মি৬ এ তারা ৫.৫ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহার করেছেন যার  রেজোলেশন ১০৮০*১৯২০ পিক্সেল ।

ডিসপ্লের সব কিছুই খুব ভালো যেমন কালার,কনটেস্ট সব কিছুই ছিলো একদম পারফেক্ট ।

মি৬ এর প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে QualComm SnapDragon 835

Octa Core(4*2.45 GHz Kryo & 4*1.9 kryo)

গ্রাফিক্স এর জন্য GPU ADRENO 540

৭.১ এন্ডোয়েড ভার্শন রয়েছে এ ফোন টি তে ।

এছাড়া ফোনটি তে ৬ জিবি র‍্যাম ও ৬৪ জিবি বা ১২৮ জিবি রোম এর অপশন পাবেন কিন্তু এ ফোন এ কোনো এক্সা এসডি কার্ড লাগানোর জায়গা নেই ।

এছাড়া এ ফোনটি তে ফাস্ট ফিঙ্গার প্রিন্ট ব্যবহার করা হয়েছে যা অন্য সব ফিঙ্গার সেন্সর এর থেকে ভালো।

এ ফোন এর লাইড স্পিকার খুব ভালো মানের এখানে গান বা যেকোনো সাউন্ড কোয়ালিটি পারফেক্ট ।

এবার চলুন ক্যামেরা দিকে যাওয়া যাক

এ ফোন টিতে প্রাইমারি দুটি ক্যাম ব্যবহার হয়েছে

Primary :Dual 12 MP (27mm,f/1.8>52mm,f/2.6)

Secondary : 8MP ,1080P

 

এ ফোনটির ক্যামেরা মানসম্মত । আর এ ফোনটির লো লাইট এর ছবি অনেক ভালো ।

আর এ ক্যামেরার পোর্টেট মোড এর ছবি ব্যাকগ্রাইন্ড এ Blur মোটামুটি মানসম্পূর্ণ ।

আর ফোনটিতে ৩৩৫০এমএইচ নন রিমুভাল ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়েছে । ফাস্ট চার্জার তো রয়েছেই।

কিন্তু সব ভালোর মধ্যে সমস্যা তো থাকবেই এ ফোনটির অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে এ ফোন এ কোনো মাইক্রোফোন এর পোর্ট নেই।আইফোন এর মতো ।

মাইক্রোফোন ব্যবহারের জন্য মাইক্রোফোন এডোপ্টার লাগবে যা শাওমি ফোন এর সাথে দিয়ে দিবে ।

যাই হোক ফোনটি সব কিছু মিলিয়ে বেশ ভালো একটি ফোন।

এর বর্তমান বাজার মূল্য ৪০০০০-৪২০০০ টাকার মতো যদি কারো কিনার ইচ্ছা থাকে তাহলে কিছু দিন অপেক্ষা করুন দাম কমে যাবে ।

মানুষের জন্মকথা

Now Reading
মানুষের জন্মকথা

পৃথিবী সৃষ্টির পর প্রথমে ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত,সুতরাং তখন প্রাণের উৎপত্তি হওয়া ছিলো অসম্ভব। তাই পরবর্তীতে পৃথিবী শীতল হওয়ার পর যখন পানি ভর্তি এলাকার সৃষ্টি হয় তখনই আসে প্রাণের অনুকূল অবস্থা।আনুমানিক ২০০ কোটি বছর আগে সমুদ্রের পানিতে প্রথম প্রাণের উৎপত্তি হয়।বিজ্ঞানীদের ধারনা,প্রথম প্রাণকনা ছিল সুচের আগার মতো খুব ছোট এককনা আঠার মতো।সাগরের পানিতে এগুলো ভেসে বেড়াতো। সেসব জলজ প্রাণীগুলো ছিল এককোষী জাতীয়। এদের আচরন ছিলো অনেকটা উদ্ভিদের মতো।এককোষী প্রাণীদের মধ্যে অ্যামিবা জাতীয় প্রাণী এখনও টিকে আছে।

মানুষের প্রথম জন্ম
ধর্ম সংক্রান্ত বিভিন্ন মতবাদ বাদ দিলে বিশেষজ্ঞদের মতে,বর্তমান কালের সভ্য মানুষের সৃষ্টি হতে লক্ষ কোটি বছর লেগে গিয়েছে।প্রথমে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন অাকৃতি ও প্রকৃতির উদ্ভিদ।তারপর উদ্ভিদের খাবার তৈরির জন্য বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শুষে নিয়ে পৃথিবীর বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে যখন একটা ভারসাম্য অবস্থার সৃষ্টি হয় তখন পৃথিবী প্রাণীকুলের বসবাসযোগ্য হয়ে ওঠে।অবশ্য তখনও মানুষের জন্ম হয়নি।আনুমানিক ১৭ লক্ষ বছর আগে মানুষের জন্ম হয় বলে ধারনা করা হয়।৪ লক্ষ বছর আগে দেখা “জাভা মানুশ” বা সটান খাড়া হয়ে চলা”হোমো ইরেকটাস” মানুষের উৎপত্তি ঘটে।৭০০০০ হাজার বছর আগে দেখা যায় “নিয়ানডারথাল মানুষ”।এদের বাস ছিল ইউরোপ,এশিয়া,উত্তর আফ্রিকায়।আধুনিক মানুষের পুর্বপুরুষ “ক্রো ম্যানিয়ঁ মানুষ”-এরও আবির্ভাব ঘটে অনেক পরে।

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব 
সৃষ্টির শুরুতে জীবজগতের যে বিভাজন ঘটতে শুরু করে তার মধ্যে মানুষের আগমন সবচেয়ে শেষে।তবে বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশের দিক থেকে এগিয়ে আছে মানুষ।মানুষের মস্তিষ্ক অন্য প্রাণীদের থেকে আলাদা হওয়ার কারনে স্বাভাবিক মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির উন্নয়ন খুব দ্রুত হয়েছে।আমরা অনেকেই জানি,আমাদের মস্তিষ্কই আমাদের চাল চলন বুদ্ধি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে।লক্ষনীয় যে,স্তন্যপায়ীদের মধ্যে যারা উন্নত ধরনের প্রাণী তাদের মস্তিষ্কও ততই বড়।মানুষের বেলায় এই মস্তিষ্ক পরিপূর্ণ আকার পেয়েছে যার কারনে অপরিণত মস্তিষ্কের প্রাণী গুলোর উপর মানুষ তার নিজের কতৃত্ব স্থাপন করতে পেরেছে যা অপরিণত মস্তিষ্কের প্রাণীরা পারেনি।এছাড়াও পাশবিক আর মানবিক দিকগুলোর পার্থক্য অনায়াসে নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা কেবল।মানুষেরই আছে।তাই মানুষ পৃথিবীর তথা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে স্বীকৃত।

উপ মানুষ বা প্রায় মানুষ 
পৃথিবীতে সত্যিকারের মানুষ কবে আবির্ভূত হয়েছিলো এই নিয়ে বিজ্ঞানীদের তর্ক বিতর্কের শেষ নেই।তবে শেষ পর্যন্ত আধুনিক বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে আজ থেকে প্রায় পাচ থেকে আড়াই লক্ষ বছর আগে পৃথিবীতে সত্যিকারের মানুষের আবির্ভাব ঘটে।এর আগে যে সব মানুষের চিহ্ন পাওয়া যায় তাদের কখনোই সম্পূর্ণ মানুষ বলা যায়না।বড়জোর উপ মানুষ বা প্রায় মানুষ বলা যায়।তাদের মস্তিষ্ক বন্য জন্তুজানোয়ার দের চাইতে অনেক উন্নত ছিলো যা তাদের বাচার ও আত্মবিকাশের প্রধানতম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতো।উপ মানুষ বা প্রায় মানুষদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিয়ানডার্থাল ম্যান,হাইডেলবার্গ ম্যান,জাভা ম্যান বা যবদ্বীপ বানর-মানুষ, অস্ট্রালোপিথেকাস,সিনানথ্রপাস(পিকিং ম্যান), ক্রো ম্যানিঅঁ ম্যান।

নিয়ানডার্থাল ম্যান

আদিম মানুষের অস্তিত্ব সম্পর্কে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছিলো।আদিম হাতিয়ার আর অস্রশস্র নিয়ে সব সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি,আর তাই অনুসন্ধান চলল নৃতত্বের।১৮৫৭ সালে জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরের কাছে একটা জায়গা থেকে পাওয়া গেলো এক জাতের প্রানীর মাথার খুলি আর কয়েকখানা হাড়।জায়গাটার নাম নিয়ানডার্থাল।এই ফসিলের খুলি আর হাড়ের অন্যান্য বানর জাতীয় জীবের চাইতে মানুষের খুলি আর হাড়ের সাথে খুব বেশি সাদৃশ্য থাকায় বিজ্ঞানীরা প্রথম দিকে এদের আদিম মানুষ হিসেবে সন্দেহ করেছিলেন।এছাড়া এরা ডান হাত দিয়ে হাতিয়ার ব্যবহার করত এমন প্রমানও পাওয়া যায়।বাইরের প্রাকৃতিক আবহাওয়ার সঙ্গে লড়ার জন্য এরা পশু চামড়ার পোশাক পরিচ্ছদ ও ব্যবহার করত বলে জানা যায়।তবু বিজ্ঞানীরা বলেন এরা সত্যিকার মানুষ ছিলেন না।এরা ছিলেন বড় জোর উপ-মানুষ বা প্রায়-মানুষ।এদের অস্তিত্ব নিয়ানডার্থালে পাওয়া গিয়েছিলো বলে এদের নাম দেয়া হয়েছিলো নিয়ানডার্থাল ম্যান।

এই নিয়ানডার্থাল ম্যানের সঙ্গে এখনকার মানুষের কোন শারীর সংস্থানের কোন মিলই পাওয়া বর্তমানে পাওয়া যাবেনা।এদের কপাল ছিলো মানুষের চাইতে অনেক নিচু আর ভ্রু ছিলো তেমনি উচু আর চওড়া।এদের ঘাড়ের গড়ন দেখলে মনে হবে এরা বোধহয় পিছনের দিকে মাথা হেলাতে পারত না।সেই জন্য আমাদের মত তুলে আকাশ দেখাও বোধ হয় এদের পক্ষে সম্ভব ছিলোনা।এই রকম অঙ্গ সংস্থানের ফলে তাদের নিশ্চয়ই মাথা নিচু করে সামনের দিকে ঝুকে চলতে হত-যেমন ভাবে বানররা আজও চলে।আর চলার সময় হাত দুটো প্রায় মাটিতে ঠেকিয়ে ঠেকিয়ে চলতে হত-যেমনটা ওরাং ওটাংরা চলে।আমাদের সাথে এসম প্রাইমেটদের মাথার ও দাতের যথেষ্ট পার্থক্য খুজে পাওয়া যায়।যেমন আমাদের মুখের দাত ৪ প্রকার।এই চার প্রকার হলো কষের দাত(মোলার),প্রি মোলার,কুকুরে দাত(ক্যানাইন),আর কাটবার দাত(ইনসিসর)।নিয়ানডার্থাল মানুষের কষের দাত ছিলো এক্কেবারে অন্যরকম,আর কুকুরে দাত(যা দিয়ে আমরা মাংস খাই) এক্কেবারেই ছিলোনা।এ ছাড়া আমাদের মস্তিষ্ক যেখানে থাকে এদের মস্তিষ্ক ছিলো তার চাইতে খানিকটা পেছনে আর সামনের দিকটা ছিলো নিচু মতো।এই নিয়ানডার্থালদের বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলা হতো ‘হোমো’।

নিয়ানডার্থলি মানুষেরা ছিলেন নিরামিষাশী।গাছের নরম ডাটা,মাটির তলার কন্দ-এইসব ছিলো তাদের প্রধান খাদ্য।তবে এদের গুহার অনেক ক্ষেত্রে বড় বড় জানোয়ারের হাড় ফাটানো অবস্থায় পাওয়া গেছে,তাই বিজ্ঞানীরা মনে করেন এরা জানোয়ারদের হাড়ের ভেতরকার মজ্জা শুষে খেতো।

হাইডেলবার্গ ম্যান কারা?

নিয়ানডার্থাল উপ-মানুষের প্রসঙ্গে বলতে গেলে আরও এক জাতের উপ-মানুষের কথা এসে পড়ে । এরা হল হাইডেলবার্গ বা হাইডেলবুর্গ উপ-মানুষের প্রজাতি । হাইডেলবার্গ এর বেলে পাথরের গর্তে এই জাতের উপমানুষের হাড় পাওয়া যায় তাই থেকে এদের নাম হয়েছে ‘হাইডেলবার্গ ম্যান’ । হাড় বলতে চোয়ালের হাড় একখানা । অবশ্য সত্যিকারের মানুষের চোয়ালের হাড় থেকে এর পার্থক্য অনেক বেশি । এই চোয়ালের হাড়ের গড়ন বলতে যেমন সরু তেমনি ভারী , চিবুকের কোন বালাই নেই বললেই চলে । বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছেন এই উপ-মানুষের নিশ্চয় কথা বলতে পারত না। কারন মুখের ভেতরটা এরকম হলে জিভ নেড়ে কথা বলতে খুবই শক্ত। হাইডেলবার্গ ম্যান এর সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা ধারনা করেছেন যে এই উপ-মানুষের ওজন এখনকার মানুষের ওজরের থেকে অনেক বেশি ছিলো – প্রায় গরিলার মতো । চেহারাটা ছিলো নিশ্চয়ই দত্যিদানবের মতো । হাতপাগুলো ছিল লম্বা লম্বা আর মাথার চুল ছিলো যেমন পুরু তেমনি ঘন ।

পিথাক্যানথ্রোপাস ইরেকটাস বা জাভা ম্যান(যবদ্বীপ মানুষ)

ইউজিন ড্যুবয় নামে এক ওলন্দাজ বিজ্ঞানী জাভা বা যবদ্বীপে(বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে)ট্রিনিটি নদীর ধারে মাটি খুড়তে খুড়তে হঠাৎ এক ধরনের প্রাচীন মানুষের ফসিল আবিষ্কার করেন।হাড়গুলি ছিল মাথার খুলি,পায়ের হাড় আর দু’পাটি দাঁত।বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সাব্যস্ত করেন যে এগুলি বনমানুষ ও মানুষের সংমিশ্রণ-জাত এক অদ্ভুত জীব।এই জীবটির মুখের সঙ্গে বানর ও মানুষের সাদৃশ্য ভীষণ ভাবে ধরা পড়ে।তাদের পায়ের গড়ন দেখে মনে হয় বর্তমান যুগের মানুষের মতো তারা সোজা দু পায়ে হাটতে পারতো। বিজ্ঞানীরা এদের নাম দিলেন ‘পিথাক্যানথ্রোপাস ইরেকটাস’ অর্থাৎ খাড়া বানর জাতের মানুষ বা জাভা ম্যান।এই প্রাণীটি প্রায় পাঁচ লক্ষ বছর আগে ছিলো।

অস্ট্রালোপিথেকাস বা আফ্রিকার প্রাক্-মানুষ

আফ্রিকার নানা জায়গাতে প্রাক্ মানুষের অনেক চিহ্ন পাওয়া যায়।প্রথমে আফ্রিকার এক চুনা পাথরের খনিতে ১৮৪২ খ্রিস্টাব্দে এক জাতের প্রায় মানুষের হাড়গোড়ের সন্ধান পাওয়া যায়।বিজ্ঞানীরা তাদের নাম দেয় অস্ট্রালোপিথেকাস- অর্থাৎ দক্ষিণী বনমানুষ। এর কিছুদিন পরে একটি স্কুলের ছেলে একটি পাথর নিয়ে খেলতে খেলতে পাথরটা ভেঙে ফেলে।সেই পাথরের ভেতর থেকে বের হলো একটা মাথার খুলি।বিজ্ঞানীরা দেখে ধরতে পারলেন যে এটা অস্ট্রালোপিথেকাসের প্রায় নিখুঁত একটি মাথার খুলি।কিন্তু মাথার খুলিটি পাওয়া গেলেও চারটে দাত পাওয়া গেলোনা।বিজ্ঞানীরা খোজ করে সেই স্কুলের ছেলের কাছে গেলেন এবং দেখতে পেলেন তার পকেটে মানুষের ইতিহাসের এক বিশেষ অংশ বা অমূল্য নিদর্শন সেই চারটে দাত তার পকেটে,,,যা তার কাছে খেলার জিনিস বা খেলনা।অস্ট্রালোপিথেকাস গোষ্ঠীর প্রাক্-মানুষেরা সোজা হয়ে হাটতে পারত।তারা মাটিতে বাস করত এবং সম্ভবত তারা ছিলো প্রধানত নিরামিষহারী।এরা আত্মরক্ষার জন্য পাথর ব্যবহার করতো।

সিনানথ্রপাস/পিকিং ম্যান

চীনদেশে ১৯২০ সালে প্রায় মানুষের হাড়ের নমুনা পাওয়া যায়।তার প্রথমটা পাওয়া গিয়েছিলো পিকিং শহরের চুকৌতিয়েন গুহায়।তাই এর নাম রাখা হয় পিকিং ম্যান এবং সিনানথ্রপাস।বিজ্ঞানীদের অনুমান তিন লক্ষ থেকে ছ’লক্ষ বছর আগে এরা পৃথিবীতে ছিল।একটি বিশেষ লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ধরা পড়েছে এই সিনানথ্রপাসদের ক্ষেত্রে।সেটা হলো এদের মাথার খুলি অর্থাৎ মগজের আধারটি জাভা মানুষের চাইতে অনেক বড় ছিলো।এরা আগুনের ব্যবহার জানতো।

 ক্রো ম্যানিঅঁ মানুষ

আগেই বলছি যে জার্মানির নিয়ানডারথাল নামে একটি জায়গায় আদিম মানুষের কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিলো । ১৮৫৭ সালে আবিষ্কৃত সেই প্রথম আসরের মানুষাআকৃতির ফসিল প্রমান । এই নিয়ান্ডারথালরা এক সময় মনে হয় বেশ নিরুপদ্রবে বাস করেছিলো । এই ক্রো ম্যানিও মানুষদের শারীরিক গঠন এখান কার মানুষ দের মতোই। তাদের মাথার খুলির গড়ন ছিল প্রায় এখনকার মানুষদের মতোই । তাদের বুদ্ধিমত্তা সব কিছুই ছিলো আগের মানুষ জাতির থেকে উন্নত । তারা ছবি আকঁতে পারতো । পাহাড়ের পাথরে তারা ছবি আকঁত যা এখনো অনেক পুরোনো পাহাড় গুলোতে দেখা যায়। এই থেকে শুরু হল মানুষের ইতিহাস ও সভ্যতার এক অভিজান । মানুষ সভ্য হতে আরম্ভ করলো ।বাহিরের জিনিস নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করাশুরুচ করলো। প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজ এ লাগাতে শেখার কৌশল হল মানুষের ইতিহাসের যুগান্তকারী ঘটনা ।