বিশ্বকাপ ফুটবল-আবেগ…. সাপোর্ট নাকি বাড়াবাড়ি?

Now Reading
বিশ্বকাপ ফুটবল-আবেগ…. সাপোর্ট নাকি বাড়াবাড়ি?

বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই চার বছর পর পর সবার মাঝে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করা।আর এ জন্যই একে “গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ” বলা হয়।

৯০ মিনিটের এ খেলা প্রচলিত আছে শত বছর ধরে।আর তা একে নিয়ে আবেগটাও কম নয় মানুষের।আর যদি বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বলতে হয় তবে নিজ দেশের নাম আগে চলে আসে।আর নামটা আসে ফেভারিট টিম নিয়ে অবশ্যই নয়।বরং পাগল সাপোর্টার নিয়ে।আজ যদি সাপোর্ট এর দিক দিয়ে বিবেচনা করা হয় তবে আমার মনে হয় বাংলাদেশ সেরা পাচঁ এ জায়গা করে নিতেই পারে।কারণগুলো খুবই সহজঃ

১।বিশ্বে জার্মানির সবচেয়ে বড় পতাকা তৈরি হয়েছে এ দেশেরই এক কৃষক দ্বারা ।
২।নিজের জমি বিক্রি করে অন্য দেশের পতাকা বানানো লো আমাদের দেশেরই।
৩।খেলার ফলাফল নিয়ে রাইভেলসদের ফ্যানদের মাঝে এ বিশ্বকাপে মারামারি হয় এ দেশেই।
৪।নিজের সাপোর্ট করা দল হেরে গেলে বা বাদ পড়ে গেলে নিজের প্রাণটা সহজেই দিতে পারে এ দেশেরই কিছু মানুষ।
৫।দল হারলে আবেগে সারাক্ষণ কাদঁতে পারে এ দেশের মানুষ।
৬।অন্য দেশকে সাপোর্ট করতে প্রতিটি বাড়িতে কোনো না কোনো দেশের পতাকা দেখা যাবেই এ দেশে।
৭।ফ্যানসদের নানান কীর্তিকলাপে ব্যস্ত থাকে সামাজিক যোগাযোগ থেকে বাস্তবিক যোগাযোগ।

আরো নানান কারণে আমরা সেরা সাপোর্টার হিসেবে টপে থাকতেই পারি।যতটা অন্য দেশকে সাপোর্ট এর দিক থেকে এগিয়ে রয়েছি ঠিক ততটাই পিছিয়ে এ দেশের জাতীয় দল।ফুটবল খেললেও তাদের নেই কোনো প্যাশন ।এ যেন জীবিকার তাগিদে আট দশটা কাজের মতোই করে তারা।আর তার ফলাফল দেখিতে ফিফার র‍্যাঙ্কিং এর তলানিতে যেতে হবে আপনাকে।একদম শেষে তাকাবেন।খুব কম কষ্টতেই পেয়ে যাবেন মাতৃভুমিকে রিপ্রেজেন্ট করা দলটিকে।যদিও আরো বড় খবর তিন বছরের নিষেধাজ্ঞায় আছে জাতীয় দল।সর্বনিম্ন ম্যাচও জিততে না পারায় এ শাস্তি ।যা খুব আরামেই উপভোগ করছে সবাই।যদিও আমার কাছে এটা অপমানের।তিন বছর আগে র‍্যাঙ্কিং এ আমাদের সাথে থাকা পাশের দেশ ভারত আজ সেরা ১০০ দলের একটি।এত কম সময়ে তাদের উন্নতি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।তাদের চিন্তা ভাবনাই তাদের ২০২২ সালে বিশ্বকাপ খেলায় চান্স এনে দিতে পারে বলে আশা করছে তারা।তবে আমি বলে রাখতে পারি ২০২২ না হলেও ২০১৬ সালের বিশ্বকাপ অবশ্যই খেলবে ভারত।কারণ তারা জানে, কেবল অন্য দেশকে সাপোর্ট করলেই নয়।এমনই ন কিছু করতে হবে যেন অন্যের কাছে না যেতে হয়

ভারতেও আমাদের দেশের মতো অনেক পাগল ফ্যান রয়েছে ফুটবলের।তবে আমার কাছে আমরা তাদের থেকে একটু হলেও এগিয়ে আছি।আর তা কেবল এ বিশ্বকাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ।এরপর আসল সাপোর্টার মানে ফুটবলের আসল সাপোর্টার খুব কমই পাওয়া যাবে বলে আমি আশাবাদী ।”খালি কলসি বাজে বেশি” এ কথার পুরো সত্যতা আমাদের মাঝেই বলতে পারেন।

পুরো সাড়ে তিনটি বছর ফুটবলের কোনো খবর নেই কিন্তু আর পিতৃ বা কোনো এক সূত্রে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হয়ে বনে যান ফুটবলের সবজান্তা।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গঠনমূলক সমালোচনা বা যে কোনো ধরনের ফুটবল বিষয়ক বিষয়ে করে বসেন যত ধরনের আবেগী কমেন্ট ।অনেকে রেগে মনের ডিকশনারি থেকে গালাগালির ভান্ডারটা বের করে প্রয়োগ করে দেন অন্যের উপর।এ কেমন বাড়াবাড়ি?

দল হেরে বাদ নিয়েছে।ফেভারিট প্লেয়ার খারাপ খেলছে।আবেগে নিজের প্রাণটাকে দড়ির সাথে ঝুলিয়ে শেষ করে দেয়ার মতো সহজ কিন্তু পাপের কাজ করতে পিছপা হতে ভয় পাইনা আমরা।হ্যাঁ এই আমরা যারা দেশের জন্য বা দেশের স্বার্থের জন্য প্রাণ দিতে পারবো কিনা এখন একাত্তরের মতো তা জানিনা তবে অন্য কোনো দেশের ফুটবল দলের জন্য দিয়ে দিতে পারি।

সারা বছর নানান দেশে নানান ফুটবলের লীগ বা টুর্নামেন্ট চলে।সেগুলোর কোনো ম্যাচই দেখা হয়না অথচ বিশ্বকাপ এলেই যেন লোকের এসব লীগ পকেটে চলে যায়।মানে এগুলা ব্যাপার না।বিশ্বকাপে দল সাপোর্ট করবো।আর দল নিয়ে কেউ কিছু করলে তাকে গালি দেবো,নিজের প্রাণ দিয়ে দেবো,মিষ্টি বিতরণ করবো আরো কত কি।

পরিশেষে অনেক কিছুই বলতে চাই।চার বছর পর পর আসে এ টুর্নামেন্ট।খেলে বিশ্বের বাঘা বাঘা দলগুলো।আর এ শুধু দল নয় পুরো জাতীয় দল।আপনি সাপোর্ট করতেই পারেন যে কোনো দলকে।কিন্তু আপনার আমার এটাও মনে রাখতে হবে যাদের জন্যে আমরা এতোকিছু করি তারা আমাদের বলতে গেলে চেনেই না।তাদের আমাদের নিয়ে অত মাথাব্যাথা নেই।তারা কেবল তাদের নিজ দেশের জন্য খেলে।আর ফ্যানদের আনন্দ দিতে খেলে।এর বেশি হলে টাকা পায় তারা আর কিছুই নেই।

আর সেখানে আমরা তাদের জন্য নিজের জমি বিক্রি করি।পরিচিতদের সাথে অনেক সময় ঝগড়া করে ফেলি।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একে অপরের সাথে খারাপ আচরণ করি।নিজের মহামূল্যবান জীবনটা বিলিয়ে দেই কাদের জন্য?ওই দলের জন্য যারা আমাদের নিয়ে জানে না অনেক কিছুই।যারা জানে না আমরা কতটা পাগল বলে এমন করি।তারা জানে না আমরা নিজেদের মাঝে বিবাদে জড়াই তাদের নিয়ে।

আমাদের উচিত নিজেদের মাঝে ফুটবল নিয়ে বা খেলাধুলা নিয়ে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করা।খেলাধুলা কেবল বিনোদনেরই একটি অংশ।এর চেয়ে বেশি কিছু তা হতে পারে না।আর এ বিনোদনের অংশকে নিয়ে এমন কর্মকাণ্ড সত্যিই হাস্যকর।নিজের দলকে মন দিয়ে সাপোর্ট করলে এমনটা হয়না।ফুটবলকে সাপোর্ট করলে এমন কাজ করার প্রশ্নই আসে না।কারণ ফুটবল তার সাপোর্টারদের আক্রমণাত্মক হতে শেখায় না।ফুটবল মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়।আপনি কোনো দলের জন্য প্রাণ দিচ্ছেন,জমি বিক্রি করছে বা যা যা বিরাট কাজ করছেন সাপোর্ট এর নামে তা আপনার ফেভারিট দল জানলেও অবাকের আগে লজ্জা পাবে বা হাসবে।আর প্রাণ দিয়ে দিয়েছেন জানলে তারা নিজেদেরকেই অপরাধী ভাবতে পারে।তার আর বাড়াবাড়ি নয়।

ভালোবাসুন কেবল ফুটবলকে,
তবেই ভালোবাসতে পারবেন সবকিছুকে।

রক্ত (১ম পর্ব)

Now Reading
রক্ত (১ম পর্ব)

শীতের বিকাল।রিমাদের বাড়িতে আজ বিরাট আয়োজন হয়েছে।আর হবেই না কেন?আজ যে রিমার বড় দিদির গায়ে হলুদ।বোনের গায়ে হলুদ হলেও রিমার সাজ দেখে যে কারো মনে হবে আজ ওর নিজেরই বিয়ে হতে চলেছে।

যাই হোক,বহুদিন পর বাড়িতে সব আত্বীয়রা একত্রিত হয়েছেন।এই দেখুন রিমার বোনের নামটা বলতে ভুলে গেলাম।আমাদের কনের নাম সুমোনা।রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগ হতে স্নাতক পাস করেছে।সেখানেই তার হবু বরের সাথে দেখা,পরিচয়,একে অপরকে চেনা আর এইযে পরশু বিয়ে।খুব সহজ ব্যাপারটা।বরের নামটা আপাতত গোপন থাক।সে সময় বুঝে ঠিকই এসে পড়বে।

রিমা,সুমোনার কিন্তু একজন বড় ভাই রয়েছে।তার পুরো নামটা বলি।তার পুরো নাম “মাহমুদ আল রিমন” ।বয়স প্রায় ২৮ এর মতো হবে।রিমন তার ইন্টারমিডিয়েট শেষ করেই জার্মানিতে পা দেয়।কয়েক বন্ধুর সাথে সেখানের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়েছিল সেখানে।যদিও সেখানে এক মজার কান্ড বাঁধিয়ে আসে আমাদের রিমন ভাই।কৌতুহলবশত জার্মানির এক বেসরকারী গোয়েন্দা সংস্থায় চাকরি পেতে পরীক্ষা দেয় সে।ছোট থেকেই বিচক্ষণ রিমনের চাকরিটা পেতে দেরি হয়নি।তবে এক বছরের মাথায় কোনো এক কারণে তার বাবার অনুরোধে দেশে ফিরে আসে।এখানে এসেও তিনি থামেননি।ইনভেস্টিগেটর হিসেবে কাজ করছেন দেশের এক গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে।বহু ব্যস্ততার মাঝেও একমাত্র নিজের বোনের বিয়ে আছে বলেই মাত্র তিনদিনের ছুটিতে বাড়িতে আছে।

এদিকে বাড়িতে আসা আত্বীয়দের নিয়ে ব্যস্ত আছেন রহমান সাহেব।তিনি আর কেউ নন।রিমা,সুমোনা আর রিমনের বাবা।বুড়োদের নিয়ে আড্ডার আসরে বসেছেন তিনি।এত কিছুর ব্যবস্থা করতে হবে তাও যেন এসব কিছুই না তার কাছে।কিছু বললেই বলেন দুই মেয়ে আর এক ছেলেকে বড় করেছি।এগুলো এর চেয়ে কঠিন কাজ হবে কি?হ্যাঁ বলতে গেলে দুই মেয়ে আর ছেলেকে একাই বড় করেছেন তিনি।রিমার জন্মের দুই বছরের মাথায় এক রোড এক্সিডেন্টে মারা যান তার স্ত্রী সুষমা।এত তাড়াতাড়ি ছেলে-মেয়েদের ছেড়ে চলে গেলেও রহমান সাহেব ভেঙে পড়েননি।তিনি জানতেন তার সামনে বহু চ্যালেঞ্জ।আর ভেঙে পড়লে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে না।আর আজ তো মনে হচ্ছে তিনি তার চ্যালেঞ্জকে দুমড়ে দিয়েছেন।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।সবাই বসে আছে কখন সব আয়োজন শুরু হয়।এদিকে রহমান সাহেব ছেলে রিমনকে খুঁজছেন।অবশেষে খুঁজে পেলেন বারান্দায়।তবে একি!ছেলে অনুষ্ঠানের সাজ না সেজে নিজের ডিউটির পোশাক পড়েছে যে?যা তিনি ভেবেছিলেন তাই হলো।জরুরি ভিত্তিতে ডাক পড়েছে রিমনের।কোনো এক ইনভেস্টিগেশন এর কাজে এখনই তাকে ঢাকা ছাড়তে হবে।বোনের বিয়েতে একমাত্র আর বড় ভাই থাকবে না ভেবে ভেঙে পড়তে বসেছেন রহমান সাহেব।ছেলে বাবাকে বোঝানোর সব চেস্টাই করছে তবে কাজ হচ্ছে না।এদিকে রিমা তার কাজ করে চলছে।বাবার অনুপস্থিতিতে সে নিজেই যেন বাড়ির বড় কর্তী হয়েছেন।আর তাই শুরু হয়ে গেছে হলুদের মূল আনুষ্ঠানিকতা।সবার মনে তখনো অনেক আনন্দ।কিন্তু তখনো কেউ জানেই না বোনের হলুদে বাড়িতে থাকবে না ভাই।রিমা আর সুমোনা জানতে পারলে কি হবে ভেবে দেখুন একবার।

রিমন বাড়ি থেকে বেড়িয়ে সিএনজি নিয়ে রওনা দিয়েছেন শাহজালাল বিমান বন্দরের দিকে।সেখানেই তার সাথে দেখা করবেন এ ইনভেস্টিগেশনে তার সহযোগী সাত্তার।রিমন এখনো কিছুই জানে না কি হয়েছে বা কি ঘটতে চলেছে।বাবাকে শুধু কথা দিয়েছে বিয়েতে সে উপস্থিত থাকবেই থাকবে।যদিও সে জানে তা সম্ভব না হবার সম্ভাবনাই বেশি।বিমানবন্দরের সামনে আসতেই তার মনে পড়লো ভুল করে নিজের মানিব্যাগ ফেলে এসেছেন।নিজের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে তার।কিন্তু দেখলেন সিএনজি চালক চলে যাচ্ছেন।অবাক হয়ে হা করে দাঁড়িয়ে থাকলেও সিএনজি যাবার পর তার কাছেই দাঁড়িয়েছিল একজন।ব্যক্তিটি বললো,”কিছু মনে করবেন না।আমিই ভাড়া দিয়ে দিয়েছি।আমার নাম সাত্তার।আমার সাথেই আপনার দেখা করার কথা ছিল।”এতক্ষণে রিমন বুঝতে পারলো আসল ব্যাপার।ইনিই তার সহযোগী হবেন এ ইনভেস্টিগেশনে।সাত্তারকে ধন্যবাদ জানিয়ে দুজনই হাঁটা দিলেন বিমানবন্দরের ভেতরের দিকে।যেতে যেতে কথা হচ্ছিল তাদের।

রিমনঃ”আচ্ছা,বলুনতো কি হয়েছে?আমাকে এখনো হেডকোয়ার্টার থেকে কিছুই বলা হয়নি।”
সাত্তারঃ”আসলে একটা জোঁড়া খুন হয়েছে রাঙামাটির এক গ্রামে।জায়গাটা আমার পরিচিত বলেই আমাকে আপনার সাথে পাঠিয়েছে।”
রিমনঃ”তারমানে আমরা রাঙামাটি যাচ্ছি?ওহ আমার আর নিজের বোনের বিয়েতেও উপস্থিত থাকা হচ্ছে না তাহলে।”
সাত্তারঃ”ব্যাপারটা দুঃখজনক।তবে এটাই আমাদের কাজ।”
রিমনঃ”চলুন,কি আর করার আছে?ছুটিটাও ঠিকমতো পেলাম না এবারো।”
রিমনের কথায় মৃদু একটা হাসি দিল সাত্তার।হাসিটা রিমনের কাছে কিছুটা রহস্যের মনে হলেও তার কাছে এখন এসব নিয়ে চিন্তা করে কাজ নেই।

সব কাজ শেষ।এবার শুধু বিমানে উঠে রওনা দেবার পালা।বিমানে ওঠার আগে সরাসরি বাবাকে ফোন না দিয়ে ভয়েস মেসেজে নিজের ব্যস্ততার সারাংশ পেশ করে দিলেন।মনে মনে ভাবছে আবার বোধহয় আর বাড়িতেই ঢুকতে পারবেন না আর।বিমান চলতে শুরু করেছে।সাথে শুরু হয়েছে রিমনের নতুন অভিযান।এবার সাথে সঙ্গী সাত্তার।প্রথমে চট্টগ্রাম তারপর সেখান থেকে সংস্থার দেয়া গাড়িতে করে যাবে সেই জায়গায় যেখানে তাদের কাজ করতে হবে।খুনের কেইস আর তাই রিমনের মনে অনেক কৌতুহল ।কি হতে যাচ্ছে?ছোটবেলায় পড়া গল্পের মতোই কি হবে অভিযান নাকি এবার আরো দুর্ধর্ষ কিছু হতে চলেছে?পাশে সাত্তার প্রায় ঝিমুচ্ছে ।বিমানের জানালা দিয়ে বাইরের আবহাওয়া দেখছে রিমন।কালো আঁধারের মতোই যেন দিনটা পার হয়েছে তার।আগামীকাল কি হবে তা সে জানে না।আশেপাশের সবাই প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে।ক্লান্ত রিমনেরও ঘুম পাচ্ছে।মনে মনে কি যেন ভাবতে ভাবতে তার দুচোখের পাতা মিলে গেল। (চলবে….)

ধর্ষণ নিয়ে বিতর্ক মানেই পোশাক বনাম দৃষ্টিভঙ্গি।দায়ী কোনটি?

Now Reading
ধর্ষণ নিয়ে বিতর্ক মানেই পোশাক বনাম দৃষ্টিভঙ্গি।দায়ী কোনটি?

গত কয়েকদিন ধরেই দেশের অন্যতম এক আলোচনীয় বিষয় হলো ধর্ষণ।

আসলে গত কয়েকদিন না।এর আগেও কয়েকবার এই টপিক নিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছিল দেশ।এইতো সেদিন তনুকে ধর্ষণ ও হত্যা করে কিছু নরপশু।যদিওবা আজ পর্যন্ত এর বিচার পাবার মতো কোনো প্রক্রিয়া আমরা দেখতে পারিনি।তাই যা হবার তাই হচ্ছে।পুনরায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে কিছুদিন আগে।তবে এবার আর কাউকে তনুর মতো প্রাণ দিতে হয়নি।তবে যা ক্ষতি হয়েছে তা পূরণীয় নয়।একই সাথে এইসব বিষয় জানান দিচ্ছে জাতি ক্রমাগত অবক্ষয় এর।

তবে আজকের টপিকটা একটু ভিন্ন।এখানে আমরা আলোচনা করবো এইসব ধর্ষণের কারণ কি?কি মনে করে এসব নিয়ে এখনকার সমাজ?কেমন চিন্তাধারা প্রদর্শন করছে আমাদের তরুণ-তরুণীরা?চলুন দেখি তারা কি ভাবে আর তাদের চিন্তা কতটুকু ঠিক বা ভুল।

কিছুদিন ধরে দেখলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বর্তমান সময়ে কোনো ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন এর কোনো টপিক উঠলেই শুরু হয় কাঁদা ছোড়াছুড়ি।ছেলেদের অধিকাংশ স্বাভাবিক ভাবে বা বরাবরের মতোই মেয়েদের পোশাক নিয়ে কথা বলে।অনেকে আবার ‘বোরকা’ পড়ার এডভাইস দেয়।আবার অনেকে বলে অন্তত হিজাব পড়া উচিত।

ছেলেদেরকে দিয়েই শুরু করি যদিও আমরা বলি ‘লেডিস ফার্স্ট’।উপরে লিখিত কথাগুলো বেশিরভাগ ছেলেই বলে থাকে।অনেকে আবার এসবের সাথে কিছু বাণী জুড়ে দেয়।আমি তাদের বলবো তাদের কথা ঠিক তবে যুক্তিসংগত নয়।বোরকা,হিজাব এসব কিছুই হয়ে দাঁড়াবে না যখন আপনার উদ্দেশ্য হবে পিশাচ এর মতো।যখন আপনি নারীর মর্যাদা দিতে না পেরে তার পোশাকের উপর আঙুল দেবেন।নিজের ভেতর লুকিয়ে থাকা খারাপ উদ্দেশ্যকে সামলাতে না পেরে হামলা করে বসবেন একজন নিরীহ মেয়ের উপর?কোথায় বলা আছে এমন পাষণ্ড টাইপ কাজ করার কথা?নিজেকে সামলে রাখার মতো শক্তি কি আমাদের দেয়া হয়নি?আমরা কি এতই কাপুরুষ যে গায়ের জোঁড়ে মায়ের জাতির সম্মানহানি করবো?

আমি কিছুদিন আগে এই টাইপের কমেন্টকারী কয়েকজনের ফেসবুক আইডি ঘুরে আসি।তাজ্জব হয়ে যাই তাদের টাইমলাইন,ছবির কালেকশন দেখে।বেশিরভাগ ব্যক্তির সাথেই অসংখ্য মেয়ে আইডির যোগ রয়েছে।তবে এসব মেয়ের কোনো ছবিতেই তাদের বোরকা পড়া অবস্থায় দেখলাম না।তবে চিন্তা করে দেখুন ওই ব্যক্তির চিন্তাধারা কতটা মারাত্মক।আমাদের যুবসমাজের বেশিরভাগ এর এই অবস্থাই চলছে।নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গির কথা না বলে দায় চাপিয়ে দিচ্ছি আরেকজনের ঘাড়ে।আমাদের ছেলেদেরই কাতুকুতু বেশি।আর যাই বলুন এটা বিশ্বাস করাই লাগবে।আমরা যদি নিজেদের দৃষ্টি বা নজর ঠিক রাখি তবে কখনই এমনটা হতো না।

আমার কথার সাথে অনেকেই একমত হতে নাও পারেন।আবার অনেকে অনেক নীতিকথা বলে নিজের পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিতে পারেন।তবে আমি একটা কথাই বলবো নিজের দিকটা ঠিক রাখলে এমন পাপের কর্ম কখনো হতো না।তাই দোষটা আমাদের অর্থাৎ ছেলেদেরই নিতে হবে।কারণ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক থাকলে এমন কাজ হওয়া প্রায় অসম্ভব।

এবার আসি মেয়েদের ব্যাপারে।মেয়েদের আমি তেমন কোনো দোষ দেবো না।তবে আমি জানিনা কোন কারণে একদিনের জন্য আমরা পহেলা বৈশাখ,পহেলা ফাল্গুনসহ আরো কয়েকখানা দিন পালন করি।এখনকার জেনারেশান মানে আমরা সত্যি বলতে একটু উপভোগ করার জন্য দিনগুলোতে রাস্তায় নামি।কাজে দেশের কোনো সংস্কৃতি-ঐতিহ্য এর ধার ধারি না শুধু দিনগুলো আসলেই নানান সাজে নিজেদের উপস্থাপন করি বাঙালি হিসেবে।এসবের কোনো মূল্য নেই।দিনরাত পশ্চিমা সংস্কৃতির পেছনে দৌড় দিতে দিতে আজ আমরা ওয়েস্টার্ন জগতে পা দেয়ার চেষ্টা করছি।আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা বাঙালি।আমাদের আছে গৌরবের এক ঐতিহ্য।একজন জিন্স-শার্ট পড়া বাঙালি মেয়ের চাইতে শাড়ি পড়া বাঙালি মেয়েকে দেখতে আরো বহুগুণ সুন্দর লাগে।বিশ্বাস না হলে দয়া করে একবার যাচাই করে দেখবেন।বাঙালির গৌরবকে ধরে রাখা আমাদেরই কর্তব্য।তাই আমাদের পশ্চিমা অশ্লীলতাকে ছুঁড়ে ফেলে নিজেদেরকে একদিনের নয় চিরদিনের বাঙালি করে তুলতে হবে।তবে আমি মানুষের নিজ ইচ্ছাকে শ্রদ্ধা করি।তাই কেউ সেই পশ্চিমাদের ফলো করতে চাইলে তার প্রতি সমবেদনা এইযে তার কোনো সৌন্দর্য এর মাধ্যমে অন্তত প্রকাশ পাবে না।কারণ বাঙালির সৌন্দর্য বাঙালির সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যতেই লুকিয়ে আছে।যদি আপনি এখন পর্যন্ত ইউরোপ-আমেরিকান মডেলদের ফলো করে এসে থাকেন আর যদি ভেবে থাকেন আপনি নিজের সৌন্দর্যতা প্রকাশ করছেন।তবে আফসোস আপনি এই কাজটিতে ব্যর্থ।

আমি একজন সাধারণ বাঙালি।ধর্ষণ এর মতো কাজ আমার জন্য অপমানের।কারণ এই কাজ দ্বারা আমার মায়ের জাতির উপর কেউ আঘাত এনেছে বলেই আমি মনে করি।আমি ঘৃণা করে তাদের যারা বলে নারী কেবল তার পোশাকের কারণেই ধর্ষিত হয়।খারাপ লাগে এইসব কথা শুনে।কোন সমাজে থাকি আমরা যেখানে নারীকে বিবেচনা করা হয় তার পোশাক দিয়ে?আপনি আজ পোশাকের সমালোচনা করছে কয়দিন পর আপনার বোন বা মেয়েকেই ওই পোশাকে দেখা গেলে আপনি ভেবে দেখুন আপনার মতো লোকেরা কি ভাবতে পারে মনে মনে।ভাগ্যিস বিজ্ঞানীরা এখনো মানুষের প্রতি সেকেন্ডের চিন্তাধারা জানার মতো কোনো প্রযুক্তি তৈরি করতে পারেনি।নইলে সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন আমাদের কি হতো।

পরিশেষে বলতে চাই ধর্ষণ বিতর্কে পোশাকের ব্যাপারটা প্রায় নিরর্থক।কারণ ধর্ষণের মতো নিকৃষ্ট বিষয় থেকে আজ ছোট বাচ্চারাও রেহাই পাচ্ছে না।এই সবই আমাদের অর্থাৎ ছেলেদের নৈতিক অবক্ষয় আর অশ্লীলতাকেই আমাই দায়ী করি।আর মেয়েদের বলবো ভারতীয় বা পশ্চিমা রঙ ঢং ছেড়ে জাতির ঐতিহ্যকে কাছে টেনে নিতে হবে।বাঁচাতে হবে দেশের সংস্কৃতি।

নিজেরা এভাবে চলতে পারলেই হয়ত একদিন আমাদের দেশে ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে না।করতে হবে না তনুর মতো মেয়েদের ধর্ষণ আর হত্যার বিচারের জন্য অপেক্ষা।

“বদলে যেতে হবে আমাদেরই”

কেমন চলছে ‘ফেসবুক’ বাংলাদেশে? (and its no good!)

Now Reading
কেমন চলছে ‘ফেসবুক’ বাংলাদেশে? (and its no good!)

ফেসবুক,বিজ্ঞানের এগিয়ে যাওয়ার পথচলায় প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে ইন্টারনেট জগতে।বর্তমানে আমাদের দেশের কয়েক কোটি মানুষ এই সাইটের সাথে জড়িত। যেখানে মাত্র কয়েক বছর আগেও এর সংখ্যা এক কোটিরও কম ছিল।আর এখন অনেক মোবাইল অপারেটর এ বিষয়কে মাথায় রেখে দিচ্ছে নানা অফার।হঠাৎ এই সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেকে যেমন বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে তেমনি এর নেতিবাচক ফলাফলও অসংখ্য।

এ কথা অস্বীকার করা যাবে না যে আইসিটির উন্নয়ন এর ফলে আজ কোনো কিছুই আমাদের অগোচরে নেই।সবার কাছে ইন্টারনেট পৌছে যাওয়া শুরু হয়েছে।আর এখন মানুষ ফেসবুক ছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহার প্রায় করে না বললেই চলে।সকলেরই ফেসবুকে একটা আইডি চাই।ছোট ছেলে-মেয়েরাও আজ খুব একটিভ এই সাইটে।তবে আমাকে যদি কেউ বলে ফেসবুক কি আসলেই এতো জরুরি?এতটাই প্রয়োজনীয়?

বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় আজ এখানে জুড়ে বসেছে সস্তা নোংরামি,বেহায়াপনা,ডিজিটাল ডাকাতিসহ নানান ধরনের সাইবার অপরাধ।যা শুধু দেশ না পুরো জাতির ইমেজ খারাপ করছে কখনো কখনো।

ফেসবুকের নেতিবাচক দিকগুলোর অন্যতম একটি হলো পর্নোগ্রাফি।হয়তো ভাবতে পারেন ফেসবুকে আবার এইসব কিভাবে সম্ভব?ওই যে প্রযুক্তি,তার কারণ এ আজ এটা সম্ভব।ফেসবুক লাইভকে কাজে লাগিয়ে আজ কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ ছড়াচ্ছে এইসব।অনেক পেজেই আজ এইসব ছড়ানো হচ্ছে।তবে এগুলো কোনোটিই বাংলাদেশি পেজ নয়।এখন আপনার মনে আসতে পারে,তাহলে আমরা এইসব থেকে মুক্ত।না,কারণ কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষ রয়েছে আমাদেরই মাঝে।বাংলাদেশি কয়েকটি গ্রুপে লাইভ পর্ন জাতীয় পোষ্ট দেখা গিয়েছে।আর এগুলো সবই কোনো না কোনো মেম্বার দ্বারা ওই গ্রুপে শেয়ার করা হয়েছে।আমি নিজেই এমন এক বিষয় লক্ষ্য করেছি একটি ফেসবুক গ্রুপে।বিশাল সংখ্যক মেম্বার নিয়ে গঠিত এইসব গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন।আর এটিকে পুঁজি করে এইসব ছড়ায় গুটিকয়েক অমানুষ।তাহলে বুঝতেই পারছেন কতটা খারাপের দিকে যাচ্ছে এই ফিচারটি।

এটিই শেষ নয়।সম্প্রতি এক ফেসবুক গ্রুপের এডমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে ‘ডিজিটাল চাঁদাবাজি’র।খাবারের রিভিউ বিষয়ক ওই গ্রুপটি ভোজন রসিকদের মাঝে বেশ পপুলার।সেই গ্রুপেরই এক এডমিনের উপর উঠেছে এমন অভিযোগ।তার বিরুদ্ধে কিছু ক্যাফে,রেস্তোরাঁ,হোটেলের ভালো রিভিউ পাইয়ে দেয়ার বদলে মাসে কয়েক হাজার টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠে।যদিও সে এইসব মিথ্যে দাবি করে থানায় জিডি করেছে।ধরুন ব্যাপারটি সত্যি হলে তা কতটা ভয়াবহ?

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এই সাইটে থাকে একে অপরের প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ,থাকে অশ্লীলতাকে নিয়ে দিনরাত মজা-ঠাট্টা।চলে একে অপরের ক্ষতি করার লক্ষ্যে অপপ্রচার।চলে মানুষকে ধোকা দেয়ার মাধ্যমে কিছু নোংরা উদ্দেশ্য হাসিল করা(সচেতন অনেকেই দেখে থাকবেন নানান পেজের কমেন্ট বক্সে)।চলে লাইভে এসে নোংরামি করা,সস্তায় পাবলিসিটি পাবার আসায় নিম্নমানের কর্মকাণ্ড।চলে মাদকের দিকে ধাবিত করার নোংরা খেলা(কিছু ‘memes’ এর জন্য দায়ী)।চলে সেলেব্রিটিদের হেয় করার মতো বাজে খেলা,স্ক্যান্ডেল শব্দটিকে পুঁজি করে তাদের করা হয় হেনস্থা। এতেই শেষ করছি যদিও লিস্টটা এতো সহজে শেষ করার মতো না।

তবে একটা বিষয় না বললেই নয়।বেশি ফেসবুক নির্ভরতা ভালো নয় আমাদের জন্য।এর ইফেক্ট খুবই মারাত্মক হতে পারে ছোটদের জন্য।অতিরিক্ত ফেসবুক ব্যবহারকারীরা একাকীত্বে ভোগে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।একইসাথে এটি অবসাদের কারণ হতে বলে তারা ধারনা করছেন।ফেসবুকের জন্মস্থান আমেরিকায় এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।তারা নিজেদের অঞ্চল ভিত্তিক নতুন সামাজিক মাধ্যমে যোগ দিতে বেশি পছন্দ করছেন নিজেদের সামাজিকতাকে বজায় রাখতে।

এতো খারাপের মাঝেও ফেসবুকের রয়েছে ইতিবাচক কিছু ব্যবহার।আর এই ব্যবহারগুলোই আমাদের করা উচিত নিজেদের এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য।

আজকাল প্রায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ফেসবুক লাইভের উৎকৃষ্ট ব্যবহার করছে। তারা ফেসবুক লাইভে এসে পড়ালেখার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।যার ফলে আজ অনেকের টিউশনের প্রয়োজন হচ্ছে না।এতে বেশ লাভবান হচ্ছে শহরের বাইরের ছাত্র-ছাত্রীরা।কিছু প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে প্লাটফর্ম। যার সম্পর্কে অনেকেই ফেসবুকে সহজেই জানতে পারছে।’ফুটপ্রিন্ট’ ঠিক এমনই এক প্লাটফর্ম।

এছাড়াও আজ এই ইতিবাচক দিকে জায়গা করে নিয়েছে।যে কোনো দুর্যোগ এ এক হয়ে কাজ করছে অনেকে।শীতের সময় ফেসবুক ইভেন্ট এর মাধ্যমে চেষ্টা করা হয় অসহায়দের মাঝে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া।চলে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে রক্তের সন্ধান।চলে এক হয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করে নিজেদের অবস্থানের জানান দেয়া।চলে মানুষের মাঝে মানবতাবোধ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা।ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে করা হয় প্রোমোশনাল,সাইন্স ফেয়ারসহ নানান ইভেন্ট।যার মূল লক্ষ্য থাকে দেশের সেবা,দেশের মানুষের সেবা,বিজ্ঞানের উন্নয়নসহ আরো নানান ইতিবাচক বিষয়।

এতো নেতিবাচক আর ইতিবাচকের মাঝে খারাপ বিষয়গুলোই আমাদের সামনে অনেক বেশি আসে।যার কারণে আমরা খারাপের প্রতি বেশি আসক্ত হয়ে পড়ি।ভুলে যাই নিজেদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য এর কথা।নেমে পড়ি ভার্চুয়াল লাইফে তথাকথিত ফেমাসের তকমা গায়ে লাগানোর প্রতিযোগিতায়।

সবখানে ভালো-মন্দ রয়েছে।আমরা সৃষ্টির সেরা।আর আমাদের কাজও তাই হওয়া প্রয়োজন অন্যদের থেকে আরো ভালো।আর তা না হলে কি পার্থক্য রয়ে যাবে আমাদের আর পশুদের মাঝে?মনুষ্যত্বকে হারিয়ে ফেলতে নয় বরং এর এটিকে আরো বেগবান করার জন্য ‘ফেসবুক’ নামক এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা উচিত বলে আমি মনে।ভুল মানুষই করে তাই আমাদের উচিত নিজেদেরকে শুধরে ফেসবুকের নেতিবাচক দিকগুলোকে এড়িয়ে চলে তার ইতিবাচক দিকগুলোর দিকে নজর দেয়া।

দেশপ্রেম কি শুধু মুখেই? কতটুকু দেশপ্রেমিক আমরা?

Now Reading
দেশপ্রেম কি শুধু মুখেই? কতটুকু দেশপ্রেমিক আমরা?

দেশপ্রেম কথাটা আমরা সবাই শুনেছি।

তবে আসল কথা হল এর প্রকৃত অর্থ আমরা অনেকেই জানি না।একটা শব্দের অর্থ কখনোই সামান্য হয় না।আর তা যদি হয় ‘দেশপ্রেম’! তবে এর অর্থ হবে একেবারেই অন্যরকম। কারণ আপনি শুধু কথায় নয় কাজে পরিণত করে দেখাতে হবে আপনার মাঝে থাকা দেশপ্রেমকে।আর যদি তা পারেন,তবেই আপনাকে বলা হবে একজন দেশপ্রেমিক।আর আপনার এই দেশপ্রেমই পারে আপনার দেশকে এগিয়ে নিতে।

আজকাল দেশপ্রেমিক শব্দটা একটি ট্যাগে পরিণত হয়েছে।যে কেউ নিজেকে দেশপ্রেমিক বলে দাবি করে বসে। যদিও বাস্তব জীবনে তার কাজে কর্মে এর বহিঃপ্রকাশ দেখা যায় না।সবাই নিজের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার কথা বলে ফেসবুকের কমেন্ট বক্সে।কিন্তু দিনে একটি কাজ দেশ ও দেশের মানুষের মঙ্গল এর জন্য করেছে এমন মানুষ পাওয়া ধীরে ধীরে মুস্কিল হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের দরকার কেবল মুখে আর লেখায় নয় কাজের মাধ্যমে দেশের জন্য কাজ করা।দেশপ্রেমে বলিয়ান হয়ে দেশের মাঝে নিজেদের মাঝে এক ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

অনেক তো সমালোচনা করলাম সে সকল লোকদের যারা মুখে নিজে দেশকে বদলানোর কথা বলে কিন্তু বাস্তবে এর পুরো উল্টো। আসুন দেখা যাক আমাদের দেশকে আমরা কেমন ভালোবাসি আর আমাদের দেশপ্রেম কতটুকু।

একটা সাধারণ উদাহরণই দিই।আপনারা প্রায় সবাই দেখেছেন বর্তমান ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এর একটি প্রকল্প ছিল রাস্তার পাশে মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা।আর এর জন্য প্রায় ৩০০০ এর বেশি মিনি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়।এ কাজটি আমার মতে একটি অসাধারণ পদক্ষেপ ছিল।আমাদের শহরকে পরিষ্কার রাখার জন্যে এর খুবই প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন অনেকেই।তবে আফসোস এর বিষয় বেশির ভাগ লোকই ডাস্টবিনের ব্যবহার জানলেও তার উপযুক্ত ব্যবহার না করে ময়লা ফেলল ওই রাস্তার উপর।মজার ব্যাপার ডাস্টবিনগুলো স্থাপনের মাত্র কয়েক দিন পর এগুলোর কয়েক ভাগ চুরি হয়ে গেল।হায়রে দেশ আমার।তখনই মনে আসে কবির সেই কথা,

“সাত কোটি সন্তানের মুগ্ধ জননী,        রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করো নি”

তবে আমার দেখা অনেকেই একটু কষ্ট করে হলেও কয়েক পা এগিয়ে মিনি ডাস্টবিনের ব্যবহার করেছেন।তবে এতেই তাদের পুরো কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে বলে আমি মনে করি না।আমাদের উচিত ছিল যারা রাস্তায় না বুঝে এসব ময়লা ফেলে তাদের দেখলে ওই ময়লা কষ্ট করে পাশের ডাস্টবিনটিতে ফেলার জন্য বিনীত অনুরোধ করা।অনেকেই বলবেন ভাই এটা করে লাভ নাই।তবে ভাই আমার মতে লাভ না হলেও দিন শেষ ঘুমানোর আগে এটার স্বস্তিতে থাকতে পারব যে আজ অন্তত একটা ভালো কাজ দেশের জন্য করেছি।

সামান্য ডাস্টবিন ব্যবহারের উদাহরণ দিয়েছি।অনেকেই একমত হবেন আবার অনেকেই কিছু ত্রুটির কথা জানাবেন।আমার মতে যদি আপনি ত্রুটি দেখতে পান তবে তা অবশ্যই আমাদের মেয়র অথবা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাতে পারেন।আমার দেখা মতে আমাদের বর্তমান মেয়ররা যথেষ্ট চেষ্টা করছে শহরটাকে ঠিক করার।

যাক এই টপিক।আমাদের মাঝে আসলেই দেশপ্রেমটা কম।তা না হলে পর পর তিনবার দুর্নীতিতে আর যাই হোক চ্যাম্পিয়ন হতাম না।বাদ দেই এসব কথা।অতীতকে নিয়ে কান্না করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা সরু না করাই ভালো।

তবে আশার বিষয়কে আজ তরুণ প্রজন্মের অনেকেই দেশে বাইরে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করছে।দেশের জন্য কিছু করতে চাইছে অথবা করছে।আর যখন আপনি দেশের জন্য কিছু করছেন তা অবশ্যই মানুষের জন্যও করা হয়।আর এটাই হলো মানবতা।তাহলে বুঝতেই পারছেন দেশপ্রেমের মহত্ত্ব।

বর্তমান সময়ে বিশেষ কোনো দিনে যেমন একুশে ফেব্রুয়ারি,২৬শে মার্চ,১৬ই ডিসেম্বর এর দিনগুলোতে বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানকে শহীদ মিনার,স্মৃতিসৌধ এসব জায়গায় নিয়ে যায়।তাদের বেশির ভাগই মনে করে এতে সন্তানের কাছে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।হবে তবে অন্যরকম এক দেশপ্রেম।আর তা হলো এই দিনগুলোতে শুধুমাত্র ঘুরতে যাবার জন্য ওই সব যায়গা ঘুরে আসা।কারণ যদি দেশের জন্য কাজ করাই না শিখে তবে এসবের মূল্য বৃথা।

দেখতেই পারছেন নতুন প্রজন্মের কিছু নমুনা আজকাল।এক এক এলাকায় আজ ছোট ছোট বাচ্চাদের ‘গ্যাং’ নামক জিনিষটা প্রায় ট্রেন্ড হয়ে গিয়েছে।আর এই গ্যাংগুলোর মধ্যে মারামারির ফল হলো প্রাণ ঝড়ে পড়া।কি শিখেছে তারা?কি শিখানো হয়েছে তাদের?তাদের এই কর্মকান্ডের দায় কি তাদের পরিবার এড়িয়ে যেতে পারে?না কখনোই না।কারণ আজ যদি তাদের বাবা মা তাদের সামনে দেশপ্রেমের উদাহরণ রাখতো তবে তারা এই পথে যাবার কথা ভাবতো না।

প্রজন্মের অনেকেই আজ দেশকে নিয়ে ভাবাকে একঘেয়েমি বলে মনে করে।তবে বিশেষ দিনে ঠিকই পৌছে যায় বিশেষ স্থানে একটা সেলফি তোলার জন্য।এইকি পূর্বের সন্তানদের আত্নত্যাগের মূল্য?

এখনই সময় পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে দেশের প্রতি কাজ করার জন্য নৈতিক শিক্ষা প্রদান করার।কেবল প্রশাসন এর ভুল না ধরে তাদের সাহায্য করার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যই পারে এ দেশকে বিশ্বের মাঝে এক রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে।আপনি কি চান না অন্য দেশে গিয়ে নিজেকে ‘বাংলাদেশি’ বলে গর্ব বোধ করতে?অবশ্যই চান বলে আমি মনে করি।

তবে আজই চেষ্টা করে দেখুন দেশের জন্য কিছু করার।মনে শান্তি না পেলে জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।

১৮ বছর বয়সী বালকের চমক,তৈরি করল বিশ্বের সবচেয়ে ছোট স্যাটেলাইট

Now Reading
১৮ বছর বয়সী বালকের চমক,তৈরি করল বিশ্বের সবচেয়ে ছোট স্যাটেলাইট

ভারতের তামিলনাড়ু এর ছাত্র রিফাত সারুক তৈরি করল বিশ্বের সবচেয়ে ছোট আকারের স্যাটেলাইট। আগামী ২১ই জুন তার এ স্যাটেলাইট নাসার একটি রকেটের মাধ্যমে ‘wallops island’ থেকে উৎক্ষেপন করা হবে।এটিই প্রথম কোনো ভারতীয় শিক্ষার্থীর তৈরি করা এক্সপেরিমেন্ট নাসার মাধ্যমে স্পেসে পাঠানো হবে।

সারুকের বয়স মাত্র ১৮ বছর এবং সে দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। তার বিস্ময় জাগানো স্যাটেলাইট এর ওজন মাত্র ৬৪ গ্রাম।ইন্ডিয়া টাইমসের কাছে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সারুক বলেন,”স্যাটেলাইটটির মূল কাজ হবে থ্রিডি প্রিন্টেড কার্বন ফাইবারের পারফর্মেন্স প্রদর্শন করা।স্যাটেলাইটের যে বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয়েছিল তা হলো এর ডিজাইন।”

স্যাটেলাইটটি বানানো হয় একটি প্রতিযোগিতায় উপস্থাপনের জন্য।’কিউবস অন স্পেস’ নামের এই প্রতিযোগিতায় আয়োজকের ভূমিকা পালন করা স্বয়ং’নাসা’ এবং ‘আই ডুডল লার্নিং’ নামক প্রতিষ্ঠান।ভারতের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট এবং প্রখ্যাত বিজ্ঞানী এপিজে আব্দুল কালামের নামানুসারে স্যাটেলাইট এর নাম রাখা হয়েছে ‘কালামস্যাট’।

সারুক আরো বলেন,”এটি তৈরি করার আগে আমি অনেক স্যাটেলাইট নিয়ে গবেষণা করেছিলাম ।স্যাটেলাইটটি তৈরির কিছু সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আনা হয়েছে এবং বাকিগুলো এখান থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে।”

সারুকের এই আবিস্কার নিয়ে আলোচনা চলছে ভারত জুঁড়ে।অবশ্য এটিই সারুকের প্রথম আবিষ্কার নয়।এর আগে ২০১৫ সালে মাত্র ১2০০ গ্রাম ওজনের একটি হিলিয়াম ওয়েদার বেলুন উৎক্ষেপণ করে সে।

ইতিহাসে ডেসমন্ড থমাস ডস

Now Reading
ইতিহাসে ডেসমন্ড থমাস ডস

ডেসমন্ড থমাস ডস,আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম কোনো সৈনিক যিনি নিজের ইচ্ছায় শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নিতে অপারগতা জানিয়েও ‘Medel of Honor’ পেয়েছিলেন।পেয়েছিলেন মানুষের ভালোবাসা।

ডসের জন্ম ১৯১৯ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি,আমেরিকার ভার্জিনিয়ায়।ছোটকাল থেকেই মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ডসের পিতাও ছিলেন সাবেক একজন যোদ্ধা।বাবা-মায়ের মধ্যকার কলহ তাকে আরো মানসিকভাবে ভেঙে দিত।এ ধারা বজায় থাকে মিলিটারিতে যোগ দেয়ার পরও সুঠাম দেহের অধিকারী না হওয়ায় শুনতে হতো সহযোগীদের নানান কটু কথা।হেয় করা হতো আরো নানা তুচ্ছ কারণে।যদিও তখনো তারা জানতো না এই ডসই হয়ে যাবে যুদ্ধের ময়দানে তাদের প্রাণ বাঁচাতে ঈশ্বরের পাঠানো দূত।কারন নিজ ব্রতের কারণে মিলিটারি ট্রেনিং এর সময়ই তিনি অস্ত্র হাতে নিতে অপারগতা জানান।যার কারণে তাকে চেইন অব কমান্ড মেনে না চলার অপরাধে আসামী করা হয়।পরে যদিও এ অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়ে তাকে নিযুক্ত করা হয় একজন কমবাট মেডিক হিসেবে।যে দায়িত্ব তাকে করে দেয় সকলের প্রিয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এর সময় জাপানে এক যুদ্ধে আমরিকান আর্মির সাথে জাপানি সৈনিকদের জাপানের ওকিনাওয়ায় হওয়া যুদ্ধে বোমার আঘাতে মৃতপ্রায় ৭৫ জনের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখেন।তিনি নিজেও কয়েকবার বোমার আঘাতে আহত হলেও নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন নিষ্ঠার সাথে।মজার ব্যাপার তিনি নিজ কমান্ডারকেও রক্ষা করেন যিনি তাকে ট্রেনিং এর সময় হেয় করেছিলেন।অনেকেই এরপর তাকে সম্মানের চোখে দেখতে থাকে।

এরপরও কিছু বছর কাজ করে গেছেন এ মহান বীর।এখনো তাকে ইতিহাসের অন্যতম বীর হিসেবে শ্রদ্ধা করা হয়।দেশের সেবা ককরার দৃঢ় ইচ্ছা থাকলেও রোগে আক্রান্ত হবার কারণে তার শারীরিক সক্ষমতা কমতে শুরু করে।১৯৪২ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত তিনি দেশের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।নিজের নানান বীরত্ব এর জন্য পান অসংখ্য মেডেল।মেডেল পেয়েছিলেন স্বয়ং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট এর থেকেও।

ব্যক্তি জীবনে ডস বিয়ে করেন দুটি।যদিও প্রেম করেই করেছিলেন প্রথম বিয়েটি।ডেসমন্ড ডস মারা যান ২৩শে মার্চ,২০০৬ সালে।তার জীবনীকে তুলে ধরে একটি মুভিও তৈরি করা হয়েছে।মুভিটির নাম হ্যাক’স রিডজ।মুভিটিতে তুলে ধরা হয় তার জীবনের কিছু মূল বিষয় ও অর্জন।মুভিতে তার ভুমিকায় অভিনয় করেন এন্ড্রু গারফিল্ড।এছাড়া তার স্ত্রীর ভুমিকায় অভিনয় করেন তেরেসা পালমার।গত বছর মুক্তি পায় মুভিটি।

ইতিহাসের পাতায় আজীবন রয়ে যাবেন ডস।তিনি শিখিয়ে গেছেন কিভাবে মানুষের জীবন বাঁচাতে হয় নিজের জীবনের পরোয়া না করে।কিভাবে পালন করে যেতে হয় কঠিন দায়িত্ব নিজের কথা না ভেবে।দেখিয়েছেন কোনো কাজের জন্য নিজের ইচ্ছাই যথেষ্ট।