5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

কিছু ছবিরমত স্থান যেগুলো সত্যিই আছে

Now Reading
কিছু ছবিরমত স্থান যেগুলো সত্যিই আছে

দ্য রিড ফ্লুট কেভ- গুয়াংজি, চীন

মাটির নিচে তৈরি এ গুহায় বাতাসের খেলায় নানা সুরের মূর্ছনা তোলে। তাই এর নাম ‘ফ্লুট কেভ’ রাখা হয়েছে। তার সঙ্গে সূর্যের আলোতে স্ট্যালামাইট আর পাথরের পিলারগুলোকে হাল্কা নীল রঙের মনে হয়। দূর থেকে এ গুহাকে নীল রঙে আঁকা একটি ক্যানভাস বলে অনেকেরই ভুল হবে।

 

বৈকাল হ্রদ : রাশিয়া

 

বৈকাল হ্রদ রাশিয়ার সর্ব-উত্তরের অঞ্চল সাইবেরিয়ার দক্ষিণে প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এবং পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন হ্রদ। এটির চারদিক পাহাড় ঘেরা। ধারণা করা হয়, ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন বছর আগে ‘বৈকাল ফাটল এলাকা’র ভূগর্ভে তীব্র আলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠে একপ্রকার ফাটলের সৃষ্টি হয়; আর তারই ফলে এই বিশাল জলাশয়— বৈকাল হ্রদের সৃষ্টি। আয়তনের মতো গভীরতার বিচারেও এটি পৃথিবীর সর্ববৃহত্ হ্রদ।
৫ লাখ ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার বা ২ লাখ ১৬ হাজার বর্গমাইল এলাকা জুড়ে এর অবস্থান। এই হ্রদ লম্বায় ৬৩৬ কিলোমিটার বা ৩৯৫ মাইল; চওড়ায় সর্বোচ্চ ৭৯ কিলোমিটার বা ৪৯ মাইল। এর গড় গভীরতা ৭৪৪.৪ মিটার বা ২ হাজার ৪৪২ ফুট; আর সর্বোচ্চ গভীরতা ১ হাজার ৪৪২ মিটার বা ৫ হাজার ৩৮৭ ফুট। সৈকত বা বেলাভূমির দৈর্ঘ্য ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার (১ হাজার ৩০০ মাইল)। বৈকাল হ্রদ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ১৮৬.৫ মিটার বা ৩ হাজার ৮৯৩ ফুট নিচে।
এই হ্রদে রয়েছে ছোট-বড় ২৭টি দ্বীপ। সবচেয়ে বড় দ্বীপটির নাম ওলখন, যা লম্বায় ৭২ কিলোমিটার। বৈকাল হ্রদ পৃথিবীর মধ্যে সর্ববৃহত্ স্বচ্ছ পানির হ্রদ। বিশালতার কারণে প্রাচীন চীনা পাণ্ডুলিপিতে এই হ্রদকে ‘উত্তর সাগর’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।প্রকৃতির বিস্ময় বৈকাল হ্রদে সারা পৃথিবীর অনুসন্ধানী গবেষক আর সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে সারাবছর।

 

টানেল অফ লাভঃ ইউক্রেন

“আরও দূরে চল যাই/ ঘুরে আসি/ মন নিয়ে কাছাকাছি তুমি আছো আমি আছি”। আপনিও কি চান ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে রোম্যান্টিক মুহূর্ত কাটাতে? হাতে হাত রেখে পথ চলতে? এমনই এক আদর্শ ঠিকানা “টানেল অফ লাভ”। ইউক্রেনের ক্লেভ্যান শহরে রয়েছে অসাধারণ সুন্দর এই জায়গাটি। জায়গাটি প্রেমের জুটিদের জন্য অন্যতম রোম্যান্টিক জায়গা।ক্লেভ্যান শহরের অদূরে জংগলের মাঝে অবস্থিত এই প্রাকৃতিক টানেল ইউক্রেন এবং পোল্যান্ড বাসী প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য এক পবিত্র স্থান। ক্লেভ্যান শহরের অদূরে জংগলের মাঝে অবস্থিত এই প্রাকৃতিক টানেল ইউক্রেন এবং পোল্যান্ড বাসী প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য এক পবিত্র স্থান। এ টানেলের সৌন্দর্য তিন ঋতুতে তিন রকম যেমন শীত কালে টানেলের সকল গাছ ঢেকে যায় বরফে ফলে এই সময় বরফে ঢাকা টানেলের সৌন্দর্য বিমোহিত করে সকল দর্শনার্থীদের। আবার বসন্ত কালে একই রূপে দেখা দেয় ভিন্নতা! এসময় সম্পূর্ণ টানেলে দেখা দেয় সবুজের আবহ ফলে টানেলটিকে মনে হয় সবুজ দুর্গ! এসময় টানেলের ভেতর দিয়ে হেঁটে বেড়ানো এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা। একই টেনেলের আরেক রূপ দেখা যায় যখন গ্রীষ্ম কাল আসে! এসময় টানেলের আশেপাশে সকল গাছ পালা হয়ে যায় পাতা শূন্য শুষ্ক!
৩ কিলোমিটারের এই রেলপথটি সবুজে ঢাকা। সারাদিনে সেই রেলপথে ৩বার ট্রেন চলাচল করে। রেললাইনের দু’পাশে শুধুই সবুজ গাছ। সেই পথ দিয়ে পথ চলার অভিজ্ঞতা অসাধারণ।

স্পটেড লেকঃ কানাডা

 

কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার ওসোয়ো তে অবস্থিত এই লেক। বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে রূপ বদলায় লেকটি। গ্রীষ্মে প্রখর রৌদ্রে লেকের পানি বাষ্পীভূত হতে শুরু করে। পানি অনেক কমে আসে। লেকের জায়গাটিতে তৈরি হয় ছোট ছোট অসংখ্য পুল, আর সেগুলো হয় নানান বর্ণে বর্ণিল। এই অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটে কারণ লেকের পানিতে রয়েছে উচ্চ মাত্রার খনিজ পদার্থ। আছে ম্যাগনেশিয়াম সালফেট, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম সালফেটস। যে পুলের পানিতে যে খনিজ বেশি থাকে সেই অনুযায়ী কোন পুলের রঙ হয় সাদা, কোনটা হলুদ, কোনটা নীল আর কোনটা সবুজ।
চোখজুড়ানো সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে ভূপৃষ্ঠে অবস্থান করা এই লেক প্রকৃতির অপরূপ রূপসুষমার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। লেকটির বিস্ময়কর সৌন্দর্যে বিমোহিত হতে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন কানাডা থেকে!

দ্য ডার্ক হেজেসঃ নর্দান

18 তম শতাব্দীতে স্টুয়ার্ট পরিবার দ্বারা বীচ গাছের বিরোধিতামূলক সারিগুলি তাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রেসহিল হাউস পর্যন্ত একটি চিত্তাকর্ষক, সুন্দর রাস্তা তৈরির উদ্দেশ্যে ছিল। তবে গাছগুলি পরিপক্ক হয়ে যাওয়ার ফলে তারা রাস্তার উপরে বাঁকতে শুরু করে এবং তাদের উপরের শাখাগুলি একটি ছায়াপথীয় মেরুদণ্ডের সুড়ঙ্গ তৈরি করে।একবার আপনি আপনার গাড়ী থেকে বেরিয়ে আসেন এবং একবার নজর রাখেন, আপনি দেখতে পারেন কেন এটি কয়েক দশক ধরে ফটোগ্রাফার, চিত্রশিল্পী এবং উত্সাহী পর্যটকদের আকর্ষণ করেছে। জনমতে জানা যায় এই পথটিতে দেখা মেলে ‘গ্রে লেডি’ নামক একটি অতৃপ্ত আত্মার।

তৈমুর লং

Now Reading
তৈমুর লং

পৃথিবী শাসন করা বীরদের নাম নিলে প্রথমেই উঠে আসবে আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, চেঙ্গিস খান, কুবলাই খান, জুলিয়াস সিজার, তৈমুর লং সহ বহু শাসকের নাম। কিন্তু অন্যান্য শাসকদের ন্যায় তৈমুর কোনো রাজপরিবারের সন্তান ছিলেন না। সামান্য ভূস্বামীর সন্তান তৈমুর ধীরে ধীরে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করেছেন, হয়েছেন বিশ্বজয়ী বীর। তৈমুর তার নিষ্ঠুরতার জন্য অন্যান্য শাসকদের নিকট ছিলেন এক মূর্তিমান আতংক। এমনকি মৃত্যুর পরেও তিনি পৃথিবীকে জানান দিয়ে গেছেন তার ফিরে আসার কথা।

তৈমুর বিন তারাগাই বারলাস (চাগাতাই ভাষায়: تیمور – তেমোর্‌, “লোহা”)। তৈমুর ১৩৩৬ সালের ৯ এপ্রিল ট্রানসোক্সানিয়ার বার্লাসে (বর্তমানে যা উজবেকিস্তান) জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা তারাক্বাই বার্লাসের একজন মধ্যবিত্ত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ছিলেন। জেরার্ডচালিয়ান্ডের মতে তৈমুর মুসলিম ছিলেন। তার পিতার নাম আমীর তারাগাই এবং তার মাতার নাম তেকিনা খাতুন। তিনি চেঙ্গিস খানের বংশধর না হওয়া স্বত্বেও নিজেকে চেঙ্গিস খানের উত্তরাধিকারী মনে করতেন। একারণে তিনি স্পষ্টতই তাঁর জীবনকালের সব সময় চেঙ্গিস খানের বিজয়কে উত্তরাধিকারসূত্রে দাবী করতে চেয়েছিলেন। তিনি একজন তুর্কি-মংগোলিয় বংশোদ্ভূত শাসক ও রাজ্য বিজেতা ছিলেন। তিনি পারস্য ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলে তৈমুরী সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং তৈমুরী রাজবংশের প্রথম শাসক ছিলেন । জন জোসেফ সন্দার্সের মতে তৈমুরের পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ইরানে এবং তিনি যাযাবর ছিলেন না। ট্রানসোক্সানিয়ার বার্লাসে (বর্তমানে যা উজবেকিস্তান) ৯ এপ্রিল ১৩৩৬ সালে জন্মগ্রহণকারী তৈমুর ১৩৭০ সালে পশ্চিম চাঘাতাইখানাত এর শাসন নিয়ন্ত্রণে নেন এবং সেটিকে ভিত্তি করে পশ্চিম, দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়া, ককেশাস এবং দক্ষিণ রাশিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে থাকেন। তিনি মিশর এবং সিরিয় অঞ্চলের মামলুকের পতন, ওসমানী সাম্রাজ্যের উত্থান এবং দিল্লীর সুলতানি শাসনের উৎখাত করে একসময়য় মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর শাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।

মঙ্গল সেনা আক্রমণের মুখে মাত্র নয় বছর বয়সে তৈমুরকে তার মা ও অন্য ভাইদের সাথে যুদ্ধবন্দী হিসেবে সমরকান্দে যেতে হয়। খুব ছোট বয়সেই তৈমুর এবং তার অনুসারীদের একটি ছোট দল ভেড়া, ঘোড়া এবং গবাদি পশু নিয়ে পণ্যদ্রব্যের ভ্রমণকারীদের উপর আক্রমণ চালায়।

কথিত আছে কৈশরের কোন এক সময়ে তৈমুর একটি মেষপালের কাছ থেকে মেষ চুরির চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু শরীরে দুটি তীর বিদ্ধ হওয়ায় তার চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তীর দুটির একটি তার ডান পায়ে ও আরেকটি তার ডান হাতে বিদ্ধ হয় ফলে তিনি দুটি আঙ্গুল হারান। এরপর থেকে পঙ্গুত্ববরন করে এই আঘাতের চিহ্ন তাকে সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়। অনেকে আবার তার পঙ্গুত্বের পেছনে ভেড়া চুরির এই ঘটনাকে মেনে নিতে নারাজ তাদের মতে তৈমুর সিস্টানের খানের হয়ে খোরাসানে (বর্তমানে যা আফগানিস্তানের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলে দাশ্তিমার্গো নামে পরিচিত) ভাড়াটে যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করার সময় আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরন করেন। তৈমুরকে সামরিক প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মধ্য এশিয়া শাসনকালে চরম রাজনৈতিক তারল্য পরিস্থিতিতেও মেধা ও কৌশল দিয়ে তিনি যাদুকরের মতো যাযাবরদের অনুগত করে রাখেন। শুধু স্বতন্ত্রভাবে নয় বুদ্ধিবৃত্তিকভাবেও তিনি অসাধারণ বুদ্ধিমান হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। শৈশব থেকেই সমরকান্দ সহ অনেক স্থানে ভ্রমণের কারণে তৈমুর অনেক পণ্ডিতের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং ফার্সি, মঙ্গোল এবং তুর্কি ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। আহমদ ইবনে আরবা শাহ এর মতে তৈমুর আরবি ভাষা জানতেন না। আরও মনে করা হয় তিনি একজন সুবিধাবাদী মানুষ ছিলেন এবং তিনি তুর্কি-মঙ্গোল পূর্বপুরুষের পরিচয় দিয়ে অনেক সুবিধা ভোগ করতেন। তিনি সামরিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে যেখানে যেমন প্রয়োজন সে অনুযায়ী কোথাও ইসলাম ধর্ম আবার কোথাও মঙ্গোল সাম্রাজ্যের আইনকানুন ব্যবহার করতেন।

এক পা খোঁড়া হয়ে গেলেও তৈমুর দমে যাননি। আহত বাঘের মতো আরও হিংস্র হয়ে ওঠেন তিনি। তৈমুরের সময়ের প্রায় একশত বছর পূর্বে চেঙ্গিস খান পুরো পৃথিবীর শাসন করেছিলেন। তৈমুর মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন, তিনিও চেঙ্গিসের মতো পৃথিবী শাসন করবেন। তাই খোঁড়া পা নিয়ে সমরবিদ্যার প্রশিক্ষণ নেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি অস্ত্র চালনায় বেশ পারদর্শী হয়ে ওঠেন।

তৈমুর যখন টগবগে যুবক, তখন সমগ্র মধ্য এশিয়া (আমু দরিয়া এবং সির দরিয়া নদীবিধৌত অঞ্চল) জুড়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। বিভিন্ন যাযাবর দল এবং স্থানীয় নেতাদের মধ্যে প্রায়ই যুদ্ধ লেগে থাকতো। অপরদিকে স্থানীয় নেতারা অনেকটা পশ্চিমা মতাদর্শে শাসন করতেন। তারা চেঙ্গিস খান, কুবলাই খানের শাসনব্যবস্থা পরিত্যাগ করেছিলেন। এই কারণে স্থানীয় জনগণ তাদের উপর অসন্তুষ্ট ছিল। ১৩৪৭ সালে আমির কাজগান স্থানীয় নেতা চাগতাই খানাতের সর্দার বরলদেকে হটিয়ে নিজে ক্ষমতা দখল করেন।

তৈমুর তার জীবনের পরবর্তী ৩৫ বছর বিভিন্ন যুদ্ধ এবং অভিযান পরিচালনা করে কাটান। তিনি যে শুধু তার শত্রুদের মোকাবিলা করে নিজ সাম্রাজ্যকে সুসংহত করেছেন তাই নয় বরং তিনি এই সময়ের মধ্যে পার্শ্ববর্তী অনেক রাজ্য সীমানা আক্রমণ করে নিজ সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করতে থাকেন। পশ্চিম এবং উত্তর পশ্চিমে পরিচালিত তার অভিযানে তিনি কাস্পিয়ান সমুদ্র এবং উড়াল ও ভলগা নদীর তীর পর্যন্ত বিজয় করেন। এবং দক্ষিণ পশ্চিমের অভিযানে বাগদাদ, কারবালা, উত্তর ইরাক সহ পারস্যের প্রায় সবগুলো অঙ্গরাজ্য তার দখলে আসে।

১৩৩৫ সালে আবু সাইদ এর মৃত্যুর পর পারস্যে নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দেয়। ফলে পারস্য দ্রুত মুজাফফরি, কার্টিজস, ইরেটিনিডস, চবনাইডস, ইনজুয়েড, জালাইরাড এবং সারবারদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ১৩৮৩ সাল থেকে তৈমুর পারস্যের তার দীর্ঘ সামরিক বিজয় শুরু করেন, যদিও তিনি ১৩৮১ সালে সারবাদার বংশের খাজা মাজুদের পরে ফার্সি খোরসনের বেশিরভাগ শাসন করেছিলেন।

এরপর তৈমুর তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের দিকে অগ্রসর করেন হেরাত দিয়ে যা ছিল কার্টিজ রাজবংশের রাজধানী। হেরাত যখন আত্মসমর্পণ করেননি তখন তিনি শহরটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেন এবং তার অধিকাংশ নাগরিককে হত্যা করেন। এরপর তৈমুর জার্গস পর্বতমালা দখলের উদ্দেশ্যে পশ্চিমের দিকে রওয়ানা করেন এবং পথিমধ্যে তেহরান বিজয় করেন।
১৩৮৬ খ্রিস্টাব্দে পূর্ব দখলকৃত মিজারদান অঞ্চলে তৈমুর যান এবং সেখানে বিদ্রোহের সম্ভাবনা দেখে সাধারণ মানুষের ওপর ভারী করের বোঝা চাপিয়ে দেন। এরপর পুরোদমে পারস্য আক্রমণ করার জন্য তিনি উত্তরে তার জর্জিয়ান ও গোল্ডেন হর্ডের দিকে চলে যান। ফিরে এসে তিনি দেখেন তার নিযুক্ত সেনাপতি সফলতার সাথে সেই অঞ্চলটি রক্ষা করেছে।

এরপর তিনি দক্ষিণের প্রধান দুটি শহর ইসফাহান ও সিরাজের দিকে অগ্রসর হন। ১৩৮৭ খ্রিষ্টাব্দে যখন তিনি ইসফাহানে পৌঁছেন তখন দ্রুত শহরের শাসনকর্তারা তার কাছে আত্মসমর্পণ করে। একারণে তিনি শহরের জনগণকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন যা তিনি সাধারণত যারা তার কাছে বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পণ করে থাকে তাদের করতেন। কিছুদিন পরে সামান্য বিদ্রোহের জের ধরে তিনি ইসফাহান শহরে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালানোর নির্দেশ দেন তার সেনাবাহিনীকে যার ফলে সেখানে প্রায় ১০০০০০ থেকে ২০০০০০ সাধারণ নাগরিককে হত্যা করা হয়।১৩৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তৈমুর দিল্লীর সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ্‌ তুঘলককে আক্রমণের মাধ্যমে উত্তর ভারত আক্রমণ করেন। আহির এবং জেটরা তাকে সামান্য মাত্রায় প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু দিল্লীর সুলতানদের তাকে থামানোর মত ক্ষমতা ছিলোনা।
৩০ সেপ্টেম্বর ১৩৯৮ সালে ইন্দু নদী পাড়ি দিয়ে তিনি তুলাম্বা আক্রমণ করেন এবং সেখানে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালান। তারপর অক্টোবরে তিনি মুলতানের দিকে অগ্রসর হন।
১৭ই ডিসেম্বর ১৩৯৮ সালে তৈমুর লং বনাম সুলতান নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ্‌ তুঘলক ও মাল্লুইকবালের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। সুলতানের পক্ষে অনেক হাতি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে।মুহুর্তেই তুঘলকদের হস্তি বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং প্রায় অনায়াসেই তৈমুর দিল্লী জয় করেন। দিল্লীর যুদ্ধে তৈমুর প্রায় ১০০০০০ জনকে যুদ্ধবন্দী করেন।

তৈমুর, যার নাম শুনলে পৃথিবীর যেকোনো রাজার সিংহাসন থর থর করে কাঁপে, তার পরিস্থিতিও বেশ সুবিধাজনক না। তার উপরে আজ সকাল থেকে তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বেড়ে গেছে। দলের কবিরাজরা তৈমুরকে পরীক্ষা করেন। তাদের চোখে মুখে ফুটে উঠে শঙ্কার ছাপ। এই মুহূর্তে পিছু না হটলে তৈমুরকে বাঁচানো সম্ভব নয়। কিন্তু তৈমুর নাছোড়বান্দা। রাগে গজ গজ করে উঠেন তিনি। শেষপর্যন্ত কাজাখস্তানের শীতের কাছে পরাস্ত হবেন! তিনি তার সিদ্ধান্তে অটল, “পিছু হটা চলবে না। তৈমুর কখনও পিছু হটতে পারে না”। হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না। তাই শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এগিয়ে চললো তৈমুর বাহিনী। কিন্তু পথিমধ্যে শত শত সৈনিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো। তৈমুরের নিজের অবস্থারও দিন দিন অবনতি হতে থাকলো।
শেষ পর্যন্ত তৈমুর হার মানলেন। কাজাখস্তানের ওতরার পর্যন্ত এসে ভেঙে পড়লেন তৈমুর। শীতের কারণে পিছু হটাও অসম্ভব হয়ে উঠলো। শেষপর্যন্ত ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখ সকালে কাজাখস্তানের শীতের থাবায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এশিয়ার ত্রাস তৈমুর লং। পৃথিবীর রাজাধিরাজরা যা করতে পারেননি, তা করে দেখালো সামান্য শীত!

দাফনের উদ্দেশ্যে তৈমুরকে সমরকন্দে ফিরিয়ে আনা হলো। শেষ ইচ্ছানুযায়ী তার কবরে বড় বড় অক্ষরে লিখে দেয়া হলো, “আমি যেদিন ফের জেগে উঠবো, সেদিন সমগ্র পৃথিবী আমার ভয়ে কাঁপবে!”

এরিয়া ৫১(Restricted Area)

Now Reading
এরিয়া ৫১(Restricted Area)

বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষ অনেক রহস্যের জাল উম্মেচন করেছে। শুধু পৃথিবী নয় মহাকাশের বিভিন্ন রহস্য প্রতিনিয়ত মানুষ উম্মেচন করে চলেছে। কিন্তু পৃথিবীতে এমন কিছু জায়গা বা স্থান রয়েছে , যার রহস্য এখনও উম্মেচন হয়নি। এই পৃথিবীতে এমন কিছু স্থান রয়েছে, যেসব স্থানে মানুষ চাইলেও যেতে পারে না। এইসব স্থান নিয়ে মানুষের কৌতূহলের অভাব নেই।

এই রকম একটি জায়গার নাম এরিয়া ৫১। এই পৃথিবীর রহস্যময় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। এরিয়া ৫১ এর আরও কিছু নাম রয়েছে যেমন ড্রিমল্যান্ড, প্যারাডাইস র‍্যাঞ্চ, হোম বেজ এবং ওয়াটারটাউন। এরিয়া ৫১ যুক্তরাষ্ট্রের নেভেডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান। কিন্তু ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই স্থানটির কথা স্বীকার করে নি। ১৯৮৮ সালে রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইট থেকে প্রথম বারের মত এরিয়া ৫১ এর একটি ছবি নেওয়া হয়। তারপর পৃথিবীর মানুষ এই স্থানটির ছবি দেখতে পায়, এবং মানুষ এই স্থানটি নিয়ে কৌতূহলী হয়ে পরে।

এরিয়া ৫১ প্রায় ২৬,০০০ বর্গ কিঃমিঃ জায়গা নিয়ে অবস্থিত। আর এই এরিয়ার ভিতরে কোন মানুষ বা যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না। এই এরিয়ার চারপাশে টহল দেয় কালো চশমা এবং কালো কোট পরা বিশেষ নিরাপত্তা কর্মী। এরিয়া ৫১ এর উপর দিয়ে কোন সামরিক বা বেসামরিক বিমান বা অন্য কিছু চলাচল করতে পারেনা। এরিয়া ৫১ এর প্রবেশ পথে লিখা আছে এলাকায় প্রবেশ করার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করা হবে। অনেক কৌতূহলী মানুষ এরিয়া ৫১ এর ভিতর প্রবেশ করতে গিয়ে মারা গেছেন।

২০১৩ সালে প্রথম বারের মত আমেরিকার সরকার এরিয়া ৫১ এর কথা স্বীকার করে। CIA বা মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার একটি নথি থেকে প্রথম জানা যায়, এখানে U2 বিমানের পরীক্ষা মূলক উড্ডয়ন করা হয়েছিল। ধারনা করা হয় এখানে আমেরিকার পারমাণবিক বমারও পরীক্ষা করা হয়েছিল।

অনেকে বলে থাকেন তারা এরিয়া ৫১ এ ফ্লাইং সসার দেখতে পেয়েছিলেন। এবং এমন কিছু বিমান দেখতে পেয়েছেন যেগুলা দেখতে অদ্ভুত আর যুদ্ধ বিমান থেকেও বেশি গতি সম্পন্ন।
একজন দাবি করেন তিনি এরিয়া ৫১ এ পদার্থ বিজ্ঞানি ছিলেন। তার নাম বব লাজার। তিনি দাবি করেন সেই জায়গাটি এতটাই গোপনীয় যে, ঐ প্রজেক্টে তিনি এবং তার অন্যান্য সহকর্মীদের যে বাসে করে নেয়া হয়েছিলো, তার জানালাগুলো বন্ধ ছিলো যাতে করে তারা যাতায়াতের রাস্তা মনে রাখতে না পারেন। এস-৪ এর বিমান ছাউনিতে লাজার এমন সব ফ্লাইং সসার দেখতে পেয়েছিলেন, যেগুলো কোনোভাবেই পৃথিবীতে তৈরি হতে পারে না বলে দাবী লাজারের। সেগুলোর শক্তি সরবরাহ করা হচ্ছিলো এন্টিম্যাটার রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে, জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিলো লালচে-কমলা বর্ণের একটি পদার্থ যার নাম ‘এলিমেন্ট-১১৫’। সসারটি এতটাই শক্তিশালী গ্র্যাভিটি ওয়েভ তৈরি করছিলো যে, সেটার উদ্দেশ্যে কোনো গলফ বল ছুঁড়ে মারলে সেটাও ফিরে আসছিলো!

লাজারের মতে, সামরিক খাতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করছিলো ইউএফও (আনআইডেন্টিফাইড ফ্লায়িং অবজেক্ট)! দুর্ভাগ্য বলতে হবে লাজারের। একবার বন্ধুদের নিয়ে তিনি লুকিয়ে সেসব সসারের টেস্ট ফ্লাইট দেখতে গিয়ে ধরা পড়ে যান। এরপরই তার চাকরি চলে যায়। তিনি আরও বলেন এখানে এমন কিছু পদার্থ নিয়ে গবেষণা করা হয়, যেগুলা আবিস্কারের ঘোষণা এখনও পৃথিবীতে দেওয়া হয়নি। এবং বেতার তরঙ্গের মাধ্যমে ভিন গ্রহের প্রানিদের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে।

অনেকের মতে চাঁদে অবতরণে ঘটনাটি মিথ্যা এবং এই ঘটনাটি ভিডিও করা হয় এরিয়া ৫১ এ। এ ধারণাটির প্রবক্তা কনস্পিরেসি লেখক বিল কেসিং। তার মতে, ষাটের দশকের শেষের দিকে নাসার বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন যে, তীব্র তেজষ্ক্রিয়তার জন্য চাঁদের বুকে অবতরণ করা কোনো মানুষ আর বেঁচে ফিরতে পারবে না! কিন্তু এতদিন ধরে চালানো এই প্রোগ্রামও বাতিল করা সম্ভব ছিলো না। তাই তারা আশ্রয় নেয় ইতিহাসের অন্যতম সেরা জালিয়াতির! এজন্য অ্যাপোলো-১১ জনগণের দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাওয়ার পরই গোপন একটি মিলিটারি এয়ারক্রাফটে করে ক্রুদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো পূর্বপ্রস্তুত একটি মুভি স্টেজে! এর কিছুদিন পরে সেখানেই স্থাপন করা সব ক্যামেরার সামনে অভিনয় করেন নীল আর্মস্ট্রং এবং বাজ অলড্রিন। এরপর সেই ভিডিওই বিশ্বজুড়ে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয় নাসার পক্ষ থেকে। আর এই চলচিত্রে ব্যয় হয়েছিল ২৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

এরিয়া ৫১ এ যে আসলে কী আছে সেই সম্পর্কে জনগণের ধারণা বেশ কম। এই কম ধারণা থেকেই পরবর্তীতে জন্ম নিয়েছে নানা কল্পনার শাখা-প্রশাখা।

এই যেমন মাটির তলার বাঙ্কারটির কথা বলা যায়। কোনো কোনো কন্সপিরেসি থিওরিস্টের মতে, এরিয়া ৫১ এ মাটির নিচে বিশাল বাঙ্কার গড়ে তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। আর সেখানেও রয়েছে প্রযুক্তির অত্যাধুনিক আশীর্বাদপুষ্ট বিমানের আনাগোনা। সেই বিমানগুলোকে সেখানে লুকিয়ে রাখা হয় যাতে করে স্যাটেলাইটের মাধ্যমেও সেগুলোর কোনো হদিস কেউ না পায়। কারো মতে সেই বাঙ্কারগুলো ৪০ তলা ভবনের সমান উঁচু! আবারো বব লাজারের শরণাপন্ন হওয়া লাগে বাঙ্কারের কথায়। তার মতে, এলিয়েনদের সেই স্পেসক্রাফটগুলো লুকিয়ে রাখা হয় পাহাড়ের নিচে। সেই বাঙ্কারের প্রবেশপথে রয়েছে বিশাল বড় দরজা যার ডিজাইন আশেপাশের মাটির মতোই করা। ফলে দূর থেকে দেখে একে পাহাড়ের অংশই ভাববে যে কেউ!