সবুজের উদ্যান ‘জিন্দা পার্ক’

Now Reading
সবুজের উদ্যান ‘জিন্দা পার্ক’

 

কুড়িল বিশ্বরোড থেকে মোটে ১৭ কিলোমিটার রূপগঞ্জ জিন্দা পার্ক। নগরীর এত কাছে অপরূপ লেক আর গাছগাছালিতে 11831639_1067551066590160_1744736372974165797_n.jpg22528350_10213510909223025_6993402932141859996_n.jpg10329252_1185862661425666_2916547327986013209_n.jpg11828727_1067549599923640_268196165863989345_n.jpgপাখির কিচিরমিচির শোনা বিরল বটে।

 

বুজের মধ্যে অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী আর কারুকাজের নিদর্শন জিন্দা পার্ক। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার একটি গ্রামের প্রায় ৫০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই পার্ক। সম্পূর্ণ এলাকাবাসীর নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলা জিন্দা পার্কের মূল কাণ্ডারি ‘অগ্রপথিক পল্লী সমিতি।২৫০ জাতের ১০ হাজারেরও বেশি গাছ আছে পার্কটিতে। পার্কে রয়েছে বিশাল শালবন বিহার। পরিচিত গাছের মধ্যে চোখে পড়ল আম, কাঁঠাল, লিচু, তাল, হিজলসহ নানা রকম ফল ও ফুলের গাছ। অনেক পাখির ডাক কানে এলো। একটা খুব কাছে। চিউই-চিউই। কি জানি কী নাম পাখিটার! তবে শুনতে বেশ লাগছে। মনে হচ্ছে কানের ভেতর দিয়ে একেবারে মাথার মধ্যিখানটায় গিয়ে লাগছে। যেদিকেই তাকাই সবুজ আর ছায়াঘেরা। কোথাও আবার গাছের ওপর টংঘর। একটু উঠে বসেও থাকা যায়। চারদিকের কৃত্রিম লেক বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে পার্কটির শোভা। মোট পাঁচটি লেক। লেকের মাঝখানে সুসজ্জিত বাংলো। পানিতে টলমল করে গাছগুলোর ছায়া। দেখে মনে হয়, গাছগুলো নিজের ছায়া দেখছে। আপনিও কি পানিতে নিজের ছায়া দেখতে চান? লেকগুলোতে রয়েছে ভাসমান আর ঝুলন্ত সাঁকো। সেগুলোতে উঠে পানির দিকে সামান্য ঝুঁকে দেখলেই নিজের ছায়াটা ভেসে উঠবে। ইচ্ছা হলে লেকের পানিতে কিছুক্ষণ ভেসেও বেড়ানো যায়। তার জন্য কয়েকটি নৌকা বাঁধা আছে ঘাটে। লেকে ভেসে বেড়ানোর পাশাপাশি উপভোগ করতে পারেন প্রকৃতিকে। ঘুরতে ঘুরতে মনে হবে আপনি একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মধ্যে রয়েছেন। পার্কটি কিন্তু কম বড় নয়। পুরোটা মিলে ৫০ একর। এর মাঝে একটি অন্যরকম ব্যাপারও আছে। হাঁটতে হাঁটতে যদি বনের মধ্যে আপনার চোখে পড়ে একটি পাঠাগার! হ্যাঁ, সত্যিই তাই। পার্কের বনের ভেতরেই করা হয়েছে একটি পাঠাগার। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে একটি মিনি চিড়িয়াখানা। তাই বলে কি খোলা জায়গা নেই! পার্কে রয়েছে কয়েকটি খোলা উদ্যানও। ইচ্ছা হলে কিছুক্ষণ খেলাও করা যাবে। এই পার্কের ভেতরেই আবার স্কুল, কলেজ, মসজিদও।সবুজ গাছপালা আর নিবিড় প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যেতে যেতে যদি পেটে টান পড়ে, সমস্যা নেই। খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে। মহুয়া স্ন্যাকস অ্যান্ড মহুয়া ফুডস রেস্টুরেন্টে কিছু খেয়ে নিন। আর যদি ভাবেন রাতটা থেকেই যাবেন, তারও ব্যবস্থা আছে। মহুয়া গেস্ট হাউস আপনাকে স্বাগতম জানাবে। পার্কে শুটিং করতে মাঝে মাঝেই ঢাকা থেকে চলে আসেন নাটক-সিনেমাওয়ালারা। বেশ কয়েকটি নাটক-চলচ্চিত্রও এখানে চিত্রায়িত হয়েছে। নাভিশ্বাসগ্রস্ত নগরের ছুটির দিনটি প্রকৃতির কাছাকাছি কাটাতে চাইলে ঠিকানা হতে পারে জিন্দা পার্ক। তবে ঢুকতে গুনতে হবে ১০০ টাকা।

১৯৭৯ সালে রূপগঞ্জ পূর্বাচল উপশহরে ঢাকা ইস্টার্ন বাইপাস সড়কঘেঁষে জিন্দা পার্ক (ঐকতান) গড়ে তুলেন অগ্রপথিক পল্লী সমিতির সদস্যরা। এখনো এই সমিতির পরিচালনায় চলছে পার্কটি। এখানে পিকনিকও করা যায়। দুই-তিন দিন আগে যোগাযোগ করলে খাবারের ব্যবস্থায় সহযোগিতা করে পার্ক কর্তৃপক্ষ।