5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

উচ্চ মাধ্যমিকের নিম্নগতি

Now Reading
উচ্চ মাধ্যমিকের নিম্নগতি

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে । কবি সুফিয়া কামাল তার এই অমর বাণী দিয়ে এই দেশের বহু ছেলের চিত্ত সজাগ করে গিয়েছেন যেন তারা তাদের কাজের দ্বারা সর্বদা দেশের মুখ উজ্জ্বল করে । মেয়েদের ব্যাপারে কেন বলেননি তা আমার জানা নেই । তবে  উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের পর পেপার পত্রিকায় ছেলেদের কলেজের  ছবি  ৪টা  ছাপা হলে মেয়েদের ছাপা হয় ১০ টা।

তুলনা করার সময় নেই। ফেসবুক , হোয়াটসাপ , ইউটিউব ইত্যাদিতে লাইক কমেন্ট শেয়ার দেয়ার বেলায় ছেলেদের কে হারানো কোন দিনও সম্ভব না , তারা এই কাজে পিএইচডি প্রাপ্ত , এটা অনেকটা কথার কাজ , কাজের কাজ কিছু না । কিন্তু  ফলাফলের সময় যদি ঐ কমেন্ট ধারীদের হারিকেন দিয়ে খুঁজতে হয় তাহলেই সাময়িক নয় এ যেন ভয়াবহ বিপর্যয়। একটা মেয়ে একটা পোস্ট দিল, সেলফি আপলোড করলো , স্ট্যাটাস দিলও আর লাখ লাখ ছেলে তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়লো আর সেই ছেলেরা যদি ফলাফলের পরে বাসায় অকৃতকার্যতার সার্টিফিকেট নিয়ে ফেরে তাহলে জাতির জন্য এর চেয়ে বড় দুঃখের কারণ আর কি হতে পারে ?

যারা পাশ করলো তারা তো বেঁচে গেলো এখন শান্তিতে খুব ঠাণ্ডা শান্ত মন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে কিন্তু যারা উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার পর থেকে এখন পর্যন্ত ভর্তি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো কিন্তু ফলাফল প্রাপ্তির পর দেখল ফেল করেছে  তাদের কি হবে ? এটা কি তাদের দোষ ? না এটা  তাদের দোষ নয় এটা তাদের কপালের দোষ ?

তো আসল কথা হচ্ছে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে এ নিয়ে আর মন খারাপ করে লাভ নেই এখন যেহেতু পুরনো পড়া আবার পড়তে হবে তাহলে তাতেই মনোনিবেশ করা ভাল। এমনটাই হওয়া উচিত অকৃতকার্য ছেলেমেয়ের বাবা মায়ের বক্তব্য কিন্তু কিভাবে তারা তাদেরকে শান্ত রাখবে ? তাদের আদরের সোনামণি যে সমাজে তাদের মুখ দেখানোর কোন পথ খোলা রাখেনি । যেখানে গোল্ডেন A+ পেলে কোন দাম নেই সেখানে অকৃতকার্যতা তো  ভয়াবহ অপরাধ ।  কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমি এমন অনেককে চিনি যারা উচ্চ মাধ্যমিকের  খারাপ ফলাফলের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবনে অসাধারণ রেজাল্ট করেছে কারণ তাদের গার্ডিয়ান ছিল তাদের উপর ধৈর্যশীল এবং তারা তাদের গার্ডিয়ানের ধৈর্যের যথাযথ প্রমাণ দিয়েছে  পরবর্তী জীবনে ।

শিক্ষা জীবনে এক বা দুই বছর গ্যাপ এটা কোন বড় ধরনের ফ্যাক্ট না যদি কেউ একে তেমন গুরুত্ব না দেয় । যে সকল চাকরি দাতারা এই গ্যাপ নিয়ে বেশী মাতামাতি করে তাদের চাকরি না করলেই হল । আর ফেল করা মানেই যে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে তা নয়  , আমিতো বলবো  এটা একটা বড় সুযোগ , যেমন হয়ত কেউ এই অল্প সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি নিতে পারত না ।  কিন্তু এখন পড়ে ফেলা এক বা দুই বিষয় যেগুলোয় ফেল করেছে সেটার পাশাপাশি এক বছর ধরে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি নিতে পারার একটা চমৎকার সুযোগ হাতে এসেছে । যাতে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা শত ভাগ বেড়ে গেলো ।  আমার এক দুঃসম্পর্কের  ভাগ্নি যার উচ্চ মাধ্যমিকে  A+ তো বটেই গোল্ডেন A+ ছিল চরম আকাঙ্ক্ষিত সে কিনা ফেল করে বসে ,  তো তার কি জীবন থেমে রয়েছিল ? না বরং তার গার্ডিয়ান এটাকে নিছকই একটা দুর্ঘটনা ভেবে এটাকে ভুলে যেতে বলে , যেখানে তার অন্য বান্ধবীরা অনেকেই গোল্ডেন A+ পেয়েছিলো । তার গার্ডিয়ান যদি ঐ সময়ে বিচক্ষণতার পরিচয় না দিত তাহলে  সে  হয়তো পরবর্তীতে  যে অসাধারণ রেজাল্ট করেছে তা আর করা হতোনা অথবা তার চাইতেও খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারত ,  সে হয়তো গার্ডিয়ানের  গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিত ।

 

আসুন দেখে নেই এবারের ফলাফলের কিছু নমুনা

৬৮.৯১% পাশের গড় হার দশ শিক্ষা বোর্ডে

৭৭ দশমিক ০২ শতাংশ মাদ্রাসা বোর্ডের পাসের হার

৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ কারিগরি বোর্ডে পাসের হার

৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের

 

ঢাকা বোর্ডে  ৬৯.৭৪ ,রাজশাহী বোর্ডে ৭১.৩০,  কুমিল্লা বোর্ডে  ৪৯.৫২, সিলেট বোর্ডে ৭২.০০, যশোর বোর্ডে ৭০.০২,বরিশাল বোর্ডে  ৭০.২৮,

দিনাজপুর বোর্ডে ৬৫.৪৪, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬১.০৯ পাশের হার এই বছরে। তথ্য ঃ আমাদের সময় ।

তো খতিয়ানে দেখা যাচ্ছে কুমিল্লায় অর্ধেকের বেশী ফেল। আমরা সবাই জানি কুমিল্লা জেলা পুরোটাই সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ।

আর আমাদের সীমান্ত এলাকাগুলোর অনেক বদনাম আছে  , সেখানে সীমান্ত দিয়ে এহেন চোরাচালান নেই যে না হয় তার ওপর ইয়াবা , মাদক , জুয়া , প্লাস্টিকের ডিম আমদানি  , লাইসেন্স বিহীন মোটর সাইকেল আমদানি , যাত্রা , বাজি ধরা, অশ্লীলতা , বেহায়াপনা আর রাজনৈতিক কোন্দল তো লেগেই রয়েছে।

তার একটা খুব খারাপ প্রভাব এবার পড়তে দেখা গেলো কুমিল্লা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে । সীমান্তে চোরাচালান করে যদি কোন ছাত্র মাসে দুই লক্ষ টাকা আয় করে তাহলে সে পড়াশুনায় মন বসাবে কেমন করে ?

তখন তো সে ঐ আয় করা টাকা কিভাবে ফুর্তি করে খরচ করবে সেই চিন্তায়ই সারাদিন মশগুল থাকবে । তাই এখনও সময় শেষ হয়ে যাইনি ,  কুমিল্লার ছাত্রছাত্রীরা ভীষণ মেধাবী , তাদের গার্ডিয়ানরা যদি তাদের সন্তানদের দিকে একটু নজর দেয় তাহলেই এই ভরাডুবি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

 

আল্লাহ্‌ হাফিয ।

 

খোকা বাবুর প্রত্যাবর্তন )

Now Reading
খোকা বাবুর প্রত্যাবর্তন )

 

_90740631_failthinksto.jpg

 

 

 

অনেক দিন কথা উঠছিল যে আমাদের সোনামণিরা অধিকাংশয়ই  পড়াশুনায় মনোযোগী না ।  কদিন  যাবতই  এর বিশেষ সব বিরূপ প্রভাব একটা একটা করে আমাদের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে । কিন্তু আমাদের সোনামণিরা বা আমাদের গার্ডিয়ানরা কেউ সচেতন হচ্ছেনা কারণ দুধের পাতিল থেকে দুধ পুরোপুরি উতলে উঠে যতক্ষণ না শব্দ করে বের হয়ে এসে আমাদের ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য না হয় ততক্ষণ আমাদের হুঁশ হয়না ।  আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে । কবি সুফিয়া কামাল তার এই অমর বাণী দিয়ে এই দেশের বহু ছেলের চিত্ত সজাগ করে গিয়েছেন যেন তারা তাদের কাজের দ্বারা সর্বদা দেশের মুখ উজ্জ্বল করে । মেয়েদের ব্যাপারে কেন বলেননি তা আমার জানা নেই ।

 

তবে  উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের পর পেপার পত্রিকায় ছেলেদের কলেজের  ছবি  ৪টা  ছাপা হলে মেয়েদের ছাপা হয় ১০ টা। তুলনা করার সময় নেই। ফেসবুক , হোয়াটসাপ , ইউটিউব ইত্যাদিতে লাইক কমেন্ট শেয়ার দেয়ার বেলায় ছেলেদের কে হারানো কোন দিনও সম্ভব না , তারা এই কাজে পিএইচডি প্রাপ্ত , এটা অনেকটা কথার কাজ , কাজের কাজ কিছু না । কিন্তু  ফলাফলের সময় যদি ঐ কমেন্ট ধারীদের হারিকেন দিয়ে খুঁজতে হয় তাহলেই সাময়িক নয় এ যেন ভয়াবহ বিপর্যয়। একটা মেয়ে একটা পোস্ট দিল, সেলফি আপলোড করলো , স্ট্যাটাস দিলও আর লাখ লাখ ছেলে তাতে হুমড়ি খেয়ে পড়লো আর সেই ছেলেরা যদি ফলাফলের পরে বাসায় অকৃতকার্যতার সার্টিফিকেট নিয়ে ফেরে তাহলে জাতির জন্য এর চেয়ে বড় দুঃখের কারণ আর কি হতে পারে ?

 

যারা পাশ করলো তারা তো বেঁচে গেলো এখন শান্তিতে খুব ঠাণ্ডা শান্ত মন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে কিন্তু যারা উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার পর থেকে এখন পর্যন্ত ভর্তি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো কিন্তু ফলাফল প্রাপ্তির পর দেখল ফেল করেছে  তাদের কি হবে ? এটা কি তাদের দোষ ? না এটা  তাদের দোষ নয় এটা তাদের কপালের দোষ ? তো আসল কথা হচ্ছে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে এ নিয়ে আর মন খারাপ করে লাভ নেই এখন যেহেতু পুরনো পড়া আবার পড়তে হবে তাহলে তাতেই মনোনিবেশ করা ভাল। এমনটাই হওয়া উচিত অকৃতকার্য ছেলেমেয়ের বাবা মায়ের বক্তব্য কিন্তু কিভাবে তারা তাদেরকে শান্ত রাখবে ? তাদের আদরের সোনামণি যে সমাজে তাদের মুখ দেখানোর কোন পথ খোলা রাখেনি ।

যেখানে গোল্ডেন A+ পেলে কোন দাম নেই সেখানে অকৃতকার্যতা তো  ভয়াবহ অপরাধ ।  কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমি এমন অনেককে চিনি যারা উচ্চ মাধ্যমিকের  খারাপ ফলাফলের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবনে অসাধারণ রেজাল্ট করেছে কারণ তাদের গার্ডিয়ান ছিল তাদের উপর ধৈর্যশীল এবং তারা তাদের গার্ডিয়ানের ধৈর্যের যথাযথ প্রমাণ দিয়েছে  পরবর্তী জীবনে । শিক্ষা জীবনে এক বা দুই বছর গ্যাপ এটা কোন বড় ধরনের ফ্যাক্ট না যদি কেউ একে তেমন গুরুত্ব না দেয় । যে সকল চাকরি দাতারা এই গ্যাপ নিয়ে বেশী মাতামাতি করে তাদের চাকরি না করলেই হল ।

আর ফেল করা মানেই যে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়েছে তা নয়  , আমিতো বলবো  এটা একটা বড় সুযোগ , যেমন হয়ত কেউ এই অল্প সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি নিতে পারত না । কিন্তু এখন পড়ে ফেলা এক বা দুই বিষয় যেগুলোয় ফেল করেছে সেটার পাশাপাশি এক বছর ধরে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রস্তুতি নিতে পারার একটা চমৎকার সুযোগ হাতে এসেছে । যাতে  বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা শত ভাগ বেড়ে গেলো ।  আমার এক দুঃসম্পর্কের  ভাগ্নি যার উচ্চ মাধ্যমিকে  A+ তো বটেই গোল্ডেন A+ ছিল চরম আকাঙ্ক্ষিত সে কিনা ফেল করে বসে ,  তো তার কি জীবন থেমে রয়েছিল ? না বরং তার গার্ডিয়ান এটাকে নিছকই একটা দুর্ঘটনা ভেবে এটাকে ভুলে যেতে বলে , যেখানে তার অন্য বান্ধবীরা অনেকেই গোল্ডেন A+ পেয়েছিলো । তার গার্ডিয়ান যদি ঐ সময়ে বিচক্ষণতার পরিচয় না দিত তাহলে  সে  হয়তো পরবর্তীতে  যে অসাধারণ রেজাল্ট করেছে তা আর করা হতোনা অথবা তার চাইতেও খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারত ,  সে হয়তো গার্ডিয়ানের  গঞ্জনা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিত ।

 

আসুন দেখে নেই এবারের ফলাফলের কিছু নমুনা

 

 

৬৮.৯১% পাশের গড় হার দশ শিক্ষা বোর্ডে

৭৭ দশমিক ০২ শতাংশ মাদ্রাসা বোর্ডের পাসের হার

৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ কারিগরি বোর্ডে পাসের হার

৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের

 

ঢাকা বোর্ডে  ৬৯.৭৪ ,রাজশাহী বোর্ডে ৭১.৩০,  কুমিল্লা বোর্ডে  ৪৯.৫২, সিলেট বোর্ডে ৭২.০০, যশোর বোর্ডে ৭০.০২,বরিশাল বোর্ডে  ৭০.২৮,

দিনাজপুর বোর্ডে ৬৫.৪৪, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬১.০৯ পাশের হার এই বছরে। তথ্য ঃ আমাদের সময় ।

 

তো খতিয়ানে দেখা যাচ্ছে কুমিল্লায় অর্ধেকের বেশী ফেল। আমরা সবাই জানি কুমিল্লা জেলা পুরোটাই সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ।

আর আমাদের সীমান্ত এলাকাগুলোর অনেক বদনাম আছে  , সেখানে সীমান্ত দিয়ে এহেন চোরাচালান নেই যে না হয় তার ওপর ইয়াবা , মাদক , জুয়া , প্লাস্টিকের ডিম আমদানি  , লাইসেন্স বিহীন মোটর সাইকেল আমদানি , যাত্রা , বাজি ধরা , অশ্লীলতা , বেহায়াপনা আর রাজনৈতিক কোন্দল তো লেগেই রয়েছে ।

তার একটা খুব খারাপ প্রভাব এবার পড়তে দেখা গেলো কুমিল্লা বোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলে । সীমান্তে চোরাচালান করে যদি কোন ছাত্র মাসে দুই লক্ষ টাকা আয় করে তাহলে সে পড়াশুনায় মন বসাবে কেমন করে ?

তখন তো সে ঐ আয় করা টাকা কিভাবে ফুর্তি করে খরচ করবে সেই চিন্তায়ই সারাদিন মশগুল থাকবে । তাই এখনও সময় শেষ হয়ে যাইনি ,  কুমিল্লার ছাত্রছাত্রীরা ভীষণ মেধাবী , তাদের গার্ডিয়ানরা যদি তাদের সন্তানদের দিকে একটু নজর দেয় তাহলেই এই ভরাডুবি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

পড়াশুনার মতিভ্রম – ৩ { বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি ঃব্রান্ডিং-এ টালমাটাল }

Now Reading
পড়াশুনার মতিভ্রম – ৩ { বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি ঃব্রান্ডিং-এ টালমাটাল }

tomasz-zaborek-tomasz-zaborek-mag-render.jpg

 

 

 

 

আমরা শুধু আমাদের সোনামণিগুলোকে মানুষের মত মানুষ দেখতে চাই। কিন্তু কতজন বাবা মা আছেন তাদের ছেলে মেয়েদের ব্যাপারে শত ভাগ না হলেও ৮০ ভাগ নিশ্চয়তা সহকারে খবর রাখেন । তারা কোথায় বেশী মনোযোগ দেয় কোথায় দেয়না , সারাদিনে কতক্ষণ পড়াশুনা করে ? স্কুল কলেজে ঠিক মত যায় কিনা ? কাদের সাথে দিনের অধিকাংশ সময় কাটায় ?   ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ায় কিনা , তা  আমাদের একবার ভেবে দেখা দরকার ।   আরেফিন রুমি দুইটা বিয়ে করলো না চারটা করলো তাসকিন সাব্বির কাকে বিয়ে করবে , বিয়ের জন্য বাংলাদেশে এখন হট ফেভারিট কে ? এগুলার পিছনেই সময় নষ্ট করবেন ?  আপনার কি খেয়ে দেয়ে আর কাজ নেই ? সারাদিন ফেসবুক, হোয়াটসাপ আর ইউটিউব নিয়ে বসে থাকলে সমাজের কথা তো বাদই দিলাম বন্ধু মহলেই তো আপনি আর দাম পাবেননা , এই কথা কি কখনও ভেবে দেখেছেন ?

 

এবার আসুন সমস্যা কোথায় তৈরি হয়েছে তাতে একটু নজর বুলিয়ে আসি , আশা করি আপনাদের সবার সময় হবে । তো আসল এবং সবচাইতে বড় সমস্যা সবার আগে বলি যাতে আপনাদের ব্রেন হ্যাং হয়ে যাওয়ার আগে ক্যাচ করতে পারে , তার নাম হচ্ছে ব্রান্ড ।

 

জি ঠিক শুনেছেন , এই ব্রান্ডিং মেনটালিটি দেশের বারটা বাজিয়েছে । মোবাইল ,টিভি,ফ্রিজ,গাড়ি,প্লেন এগুলো না হয় ঠিক ছিল কিন্তু যখনি এটা আস্তে আস্তে কাপড় চোপড়ে ঢোকা শুরু করলো তখন থেকেই শুরু হল যত গণ্ডগোল । এই ব্রান্ডিং এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন তো আন্ডার গার্মেন্টস আর চুরিওব্রান্ডের চাই। ব্রান্ডিং-এর কল্যাণে ৭০০ টাকার জিন্স ৫০০০,৫০ টাকা উৎপাদন মূল্যের টিশার্ট হাতে আর কলারে সামান্য একটা লোগো নিয়ে হয়ে যায় ১০০০ টাকা,চায়না থেকে আনা ১৫০ টাকার কেডস ১২০০ ,২০ টাকার হেডফোন ৫০০,২০০ টাকার শার্ট ৩০০০, ১০০০ টাকার ব্লেজার ১০,০০০ টাকা । আর বাইরে থেকে কিছু আনলে তো কথাই নেই ৫০০০ টাকার জিনিসও ৫০,০০০ টাকার সমাদর পায় । এবার আসি মেয়েদের কাপর চোপড়ে । সেগুলোর দাম না বলে বলা উচিৎ এই যে কিরণমালা পাখি ড্রেসের জেদ করে কিছু অবুঝ মা বোন আত্মহত্যা করলো তার দায়ভার কারা নেবে ?

 

অবশ্যই যারা এই দেশে ভারতীও সিরিয়াল প্রদর্শন করে নিঃসন্দেহে তাদেরকেই এর দায়ভার নিতে হবে এবং নিতে হবে যে সকল মায়েরা না বুঝে প্রশ্রয় দিয়ে তাদের আদরের সন্তানদের মাথায় তুলে একসঙ্গে ভারতীও সিরিয়াল দেখায় মজেছে তাদেরকে । অনেক মায়েরা তো নিজেরাই এসব ড্রেসের বায়না ধরে বসে কি তাজ্জব ব্যাপার !!

 

বুড়ো বয়সে ভীমরতি আরকি । এ আর এমন কি মেয়েরা বায়না ধরবে স্বামী আর বাবারা কিনে দিবে এটাই তো স্বাভাবিক । হ্যাঁ অবশ্যই স্বাভাবিক থাকত যদি বাংলার ডাকাতরা থুক্কু যে সব দোকানদার রুপী ডাকাতেরা এসব মেয়েদের ড্রেস বিক্রি করেন তারা যদি সেগুলো সাধারণ জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখত ?

 

তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই কথা এসে যায় যাদের সামর্থ্য নেই তারা কিনবেনা । কিন্তু আমাদের এই সামর্থ্য অসামর্থ্যের ব্যবধান বোঝার সক্ষমতা আমাদের সিরিয়াল দেখা মায়েদেরই হয়নি তো তাদের মেয়েদের কি হবে ? প্রত্যেক ব্যাচের ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উচ্চবিত্ত থাকে ।

আর এই উচ্চবিত্ত শ্রেণির মধ্যে কিছু থাকে লাফাঙ্গা টাইপের যাদের গার্ডিয়ানও সেই টাইপ। এরা তাদের ছেলে মেয়েদের যখন যা খুশী কিনে দেন । এসব দেখে সেইসব ছেলে মেয়েদের ব্যাচের অন্য মধ্যবিত্ত  শ্রেণীর ছেলেমেয়েদের হতাশা তীব্রতর হয় । তারাও ভাবতে থাকে কবে যে এরা এদের সহপাঠীদের মত অবিরত ধারায় অর্থের অপচয় করতে পারবে , আর তখন তাদের সামনে সবেধন নীলমণি হিসেবে প্রকাশ পেতে থাকে সালমান মুক্তাদিরের সেই ওমর বাণী ” ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে শুধু একটা জিমেইল অ্যাকাউন্টই যথেষ্ট” যেটা এক প্রাইভেট টেলিভিশনে আউটসোর্সিং এর সাক্ষাতকারে দিয়েছিলেন ।

ব্যাস আর পায়কে — এবার ফেরারি কিনেই ছাড়বে জনার্দন । তো ভিডিও কিভাবে বানাবে ? এটাও আবার শিখিয়ে দিতে হবে ? সালমান মুক্তাদিরের প্র‍্যাঙ্ক ভিডিও দেখে নিজেদের মত করে আপলোড করলেই হল , ইউটিউব জামাই আদর করতে এদেশে এসে যাবে। সালমানের একটা ভিডিওতে দেখা যায় সে এবং তার বন্ধুরা রাস্তায় চলাচল-রত গাড়িগুলোকে থামিয়ে বিভিন্ন ভাবে বিরক্ত করতে থাকে , এভাবে যদি সারা দেশের পোলাপান সবাই রাস্তার গাড়িগুলির সাথে এই আচরণ করে তাহলে জ্যামের শহর গুলিতে কি অবস্থা হবে ভেবে দেখেছেন ? ডেমো দেখুন তাহলেই বুঝতে পারবেন ।

 

 

 

 

মেকআপ খরচ, পার্লার খরচ, ফাস্ট ফুডের খরচ, মোবাইল খরচ, রেস্টুরেন্টের খরচ,কিরণমালা পাখি ড্রেস এগুলোর জন্য আর কত মায়ের কাছ থেকে টাকা নেয়া যায় তাই শর্টকাটে সেলিব্রিটি হওয়ার জন্য ফেসবুক লাইভ । আর পায়কে — যা ইচ্ছা তাই দেখাও যা ইচ্ছা তাই কর আর মানুষের কাছ থেকে বিকাশে টাকা নেও। ইচ্ছা করলে সেই ভিডিও শেয়ার করতে পারতাম কিন্তু কারা বিকাশে মানুষের কাছে টাকা চায় আর কারা ছ্যাঁচড়া বিনোদনের নামে মানুষকে দেশী মুরগির ভিডিও বানিয়ে নিজেরাই দেশী মুরগি হয় তা হয়তো এখন কারোরই অজানা নেই।

 

যত যাহাই করিও একটু ভাবিয়া চিন্তা করিও কেমন ।

মানুষ চিনে গেলে বিয়ে করার সময় ছেলের জন্য মেয়ে আর মেয়ের জন্য ছেলে পাওয়া বড় দুষ্কর হয়ে যাবে যে ।

গ্রহের নাম গার্ডিয়ান – ২ { রাজা আকার মিরাক দেশ আক্রমণের প্রস্তাব }

Now Reading
গ্রহের নাম গার্ডিয়ান – ২ { রাজা আকার মিরাক দেশ আক্রমণের প্রস্তাব }

wallpaper_god_of_war_2_11_1920x.jpg

 

 

 

বিশ্বযুদ্ধে যে বা যারা জয়ী হয় পরবর্তীতে তারাই বিশ্ব  শাসনের ভার পায় এটাই স্বাভাবিক । আমাদের পৃথিবীতে ২য় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ২য় বিশ্বযুদ্ধে জয়ী জোট   যেমন সারা  বিশ্বে নিজেদের চাওয়া পাওয়াটাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সত্য মিথ্যার ধার না ধেরে নিজেদের অত্যাচার অনাচারকে আড়াল করে মানবতার ধোয়া তুলে বৈশ্বিক সম্পদ কুক্ষিগত করে হিংসার দাবানলের যে লেলিহান শিখা ছড়িয়ে দিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল  ঠিক  সেভাবেই আকার জোটও একই কাজ করে আসছে বিগত বিশ্বযুদ্ধ গুলোয় জয় লাভের পর।

 

আবার যখন কোন মিত্র দেশ রাজা আকার আবদার না মেটায় তখন প্রথমে মিত্র দেশটিকে অন্যান্য মিত্র দেশ থেকে একঘরে করে দেয়া  হয় যাতে সেই দেশ আবার নতি স্বীকার করে কিন্তু তাতেও যদি কাজ না হয় তাহলে ঐ দেশ যাদের সাথে বর্তমানে মিত্রতায় আবদ্ধ আছে তাদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ও  মতভেদ  তৈরি করে দেয়া হয় । উদাহরণস্বরূপ বলা যায় আমেরিকার সাথে তুরস্কের আগে খুব ভাল বন্ধুত্ব ছিল কিন্তু গেলো কয় বছরে তা তলানিতে এসে ঠেকে তারপর তুরস্ক রাশিয়ার সাথে নতুন বন্ধুত্ব তৈরি করে । এরপর তুরস্কের এক অনুষ্ঠানে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আততায়ীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় এবং কিছুদিন আগে তুরস্কে মিশরের আদলে সেনা বিদ্রোহ  সংঘটিত হয় যা তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে প্রতিহত করে । তারপর এই সেনা বিদ্রোহের উস্কানির জন্য তুরস্ক এক তরফা ভাবে আমেরিকাকে দোষারোপ করে ।  আটা দেশের রাজা আকার  কাজের ধরণও অনেকটা একই রকম ।

 

 

 

_91914520_gettyimages-4695855.jpg

 

 

আবার প্রতিপক্ষ  বা মিত্র যে দেশেরই হোক না কেন কোন নেতা বা দেশ প্রধানের কারণে যদি আকার ইচ্ছা অনিচ্ছার ব্যত্যয় ঘটে তাহলে মন্ত্রী ইনের প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত অত্যন্ত দক্ষ, কুশলী , জানবাজ, চৌকস,তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী , প্রতিজ্ঞাবদ্ধ গুপ্তচর বাহিনীকে দিয়ে ঐ নেতাকে মারার একশ একটা কৌশল প্রয়োগ করতে থাকে। যতদিন না ঐ নেতা গুপ্তচর বাহিনীর হাতে মারা যায় ততদিন তার ওপর হামলা চালাতেই থাকে আর যদি ঐ নেতা এই হামলা আর মৃত্যুর ভয়ে আকার কাছে নতি স্বীকার করে নেয় তাহলে এবারের মত ঐ নেতাকে প্রাণে বাঁচিয়ে রাখা হয় তবে তার ওপর তীক্ষ্ণ নজরদারি রাখা হয় যাতে ভবিষ্যতে সে আর বিরোধিতা করতে না পারে ।

 

আর যদি আকার গুপ্তচর বাহিনী ঐ নেতাকে কোন রকম নতি স্বীকার না করাতে পারে এবং  হেনস্তা করার সুযোগ না পায় তাহলে ঐ নেতার দেশের মীরজাফর টাইপের লোকের অনুসন্ধান করা হয় যারা নিজ দেশের  মাটি মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে কুণ্ঠিত বোধ করেনা এবং লোভের কারণে যে কোন পর্যায়ের নিচে নামার দরকার নামতে রাজি থাকে । তা যে  শেষ পর্যন্ত তাদেরকে মীরজাফরের মত অবমাননাকর পরিণতির দিকে নিয়ে যায় তা তারা ক্ষুনাক্ষরেও  টের পায়না । ঐ দেশ প্রেমিক নেতার মন্ত্রী বা খুব কাছের লোভী বেপরোয়া মানুষদেরকেই এই কাজে ব্যবহার করার বেশী প্রয়াস চালান হয় । ঐ    মীরজাফরদের এই বলে লোভ দেখানো হয় যে ,”যদি তুমি এই দেশ প্রেমিক নেতাকে হত্যা করতে পারো তাহলে আমরা তোমাকে পরবর্তীতে এই দেশের রাজা বানিয়ে দেবো । আর তোমার ভোগ বিলাসের জন্য  যা যা প্রয়োজন তা আমরা অবিরত ধারায় তোমাকে দিয়ে যাব , তুমি শুধু আমাদের কথা মত চলবে । নারী ,বাড়ি, গাড়ি , সোনাদানা , প্রাচুর্য সবই বলার আগেই তোমার সামনে হাজির হয়ে যাবে , যা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না “।  তারপর ঐ দেশ প্রেমিক নেতাকে হত্যা করে মীরজাফরদেরকে তাদের কাজের ভয়ংকর শেষ পরিণতি অবলোকন করিয়ে ঐ দেশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আকার গুপ্তচর বাহিনী । অনেক সময় তারা নিজেরাই ঐ দেশের নিয়ন্ত্রণ করে যেভাবে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করেছিল ভারত উপমহাদেশ আবার অনেক সময় নিজেদের পছন্দ মত আফগানিস্তান টাইপের  পুতুল রাজা বসিয়ে ঐ দেশের নিয়ন্ত্রণ করা হয় । ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যেমন আমাদের জমিদারদের কাছ থেকে প্রজাদের মেরে কেটে একাকার করে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে  খাজনা নিত ঠিক সেই ভাবে ঐ পুতুল রাজার কাছ থেকেও  আকার গুপ্তচর বাহিনী খাজনা আদায় করে ।

 

 

B-179traitor.jpg

 

 

 

আর এভাবে নিজ গ্রহ  নিয়ন্ত্রণ করে রাজা আকা খুবই সন্তুষ্ট এবং তার এই নিয়ন্ত্রণের ধরণকে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত করার জন্যও আছে তার এক অসাধারণ প্রয়াস । সেই প্রয়াসের নাম তার অনুগত মিডিয়া । এই মিডিয়া তার যে কোন ছোট খাট খারাপ কাজ থেকে শুরু করে ভয়ংকর জঘন্য কাজকেও  অতি অসাধারণ কৌশলে পজিটিভ  দিকে নিয়ে যায় যেমন ধরা যাক আকা ইচ্ছা করলো মিরাক দেশকে আক্রমণ করবে এবং তার মিত্র দেশ এবং তার অনুগত মিডিয়াকে তা জানিয়ে দিল। কিন্তু আক্রমণ করার জন্য একটা জুতসই কারণও তো দরকার । তো কারণ হিসেবে ঠিক করা হল বলবে মিরাক দেশে পারমাণবিক অস্ত্র আছে যা ঐ গ্রহের মানুষের জন্য ভীষণ ক্ষতির কারণ কিন্তু হাজার চেষ্টা করেও যখন মিরাক দেশে অস্ত্র আছে এটা প্রমাণ করা গেলনা তখন আকার অনুগত মিডিয়া এই বলে প্রচার করলো মিরাক দেশের কাছে মানব বিধ্বংসী পারমাণবিক অস্ত্র নেই তবে তারা এই রকম অস্ত্র তৈরির সামর্থ্য রাখে যা বিশ্বের শান্তিপ্রিয় জনগণের জন্য হুমকি স্বরূপ তাই রাজা আকা এবং তার মিত্ররা বিশ্বমানবতা  রক্ষার খাতিরে নিজেদের সামরিক শক্তির অপচয় করে মিরাক দেশ আক্রমণ করে সমগ্র গ্রহে শান্তি বজায় রাখার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেছে এবং বিশ্ববাসীর সমর্থন  আহবান করছে । কি অসাধারণ যুক্তি বিজ্ঞান , সত্যি যে কোন প্রশংসাই কম হয়ে যায় রাজা আকার এই নির্লজ্জ  আন্তর্জাতিক নীতির কাছে । চলবে …………।

 

আল্লাহ্‌ হাফিয।

 

 

 

 

 

গ্রহের নাম গার্ডিয়ান -১ { রাজা আকার রাজ্য বিস্তার }

Now Reading
গ্রহের নাম গার্ডিয়ান -১ { রাজা আকার রাজ্য বিস্তার }

এই গল্পে এ কিছু মজার তথ্য শেয়ার করা হয়েছে যা অনেকেই জানেন , যারা জানেন তারা নিঃসন্দেহে অনেক অভিজ্ঞ আর যারা জানেননা তারা এক ভরপুর রোমাঞ্চ উপভোগ করতে যাচ্ছেন নিশ্চিত থাকতে পারেন । বৈশ্বিক , আন্তর্জাতিক , কূটনৈতিক অনেক তথ্য এখানে অত্যন্ত সুকৌশলে প্রবেশ করানো হয়েছে যা একটু সূক্ষ্ম বিচার বুদ্ধি দিয়ে বিশ্লেষণ করে করায়ত্ত করতে হবে , না ভয় পাওয়ার কিছু নেই , বিষয় বস্তু অত্যন্ত সহজ ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে কিন্তু রূপকের আশ্রয়ে । রূপক বলতে কি বোঝায় তা নিশ্চয়ই আপনাদেরকে বুঝিয়ে দিতে হবেনা ? সব কিছুর সাথেই কোথায় যেন একটা মিল খুঁজে পাওয়া যাবে , একটু খেয়াল করে পড়লেই আসল রহস্য উন্মোচিত হবে । গল্পের আসল আকর্ষণ গল্পের একদম শেষে রেখে দেয়া হয়েছে। গল্পটি একদম প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত না পড়লে গল্পের আসল নির্যাশ উপভোগ করা যাবেনা । তাই পাঠকগণকে গল্পটি শুরু করলে শেষ পর্যন্ত পড়ার অনুরোধ জানানো গেলো । তো চলুন আর কথা না বাড়িয়ে চলে যাই আমাদের মূল গল্পে যেখানে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে গার্ডিয়ান গ্রহ , সেই গ্রহের মূল চরিত্র রাজা আকা আর তার মন্ত্রী ইন ।

 

পৃথিবী থেকে লক্ষ কোটি আলোক বর্ষ দূরে হুবহু পৃথিবীর মত দেখতে আর একটি গ্রহের নাম গার্ডিয়ান । সেই গার্ডিয়ান গ্রহের সবচাইতে শক্তিশালী দেশের নাম আটা। আর এই আটা দেশের রাজার নাম আকা।আকা খুবই কূটনৈতিক উপায়ে তার দেশ পরিচালনা করেন । অনেকটা ধরি মাছ না ছুঁই পানির মত।আর তার এই কূটনৈতিক পন্থা অবলম্বনে তাকে সাহায্য করেন তার মন্ত্রী ইন । মন্ত্রী ইন খুবই তীক্ষ্ণ আর সূক্ষ্ম বুদ্ধির অধিকারী । রাজা আকা নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করেন যে তিনি ইনের মত এতো বুদ্ধিমান লোককে মন্ত্রী হিসেবে তার রাজ্যে পেয়েছেন । এই এক ইনের জন্যই পুরো গ্রহ তার নিয়ন্ত্রণে এবং সবচাইতে মজার বিষয় ইন কূটকৌশলে এতই সিদ্ধহস্ত যে তার বুদ্ধির জোরে আকা অনেক সময় বিনা যুদ্ধেই অনেক রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিতে পেরেছেন।

king-avalon_bannerdfd.jpg

এই যেমন রাজা আটার যদি কোন মহাদেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তাহলে সেই মহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশকে প্রথমে বন্ধুত্বের আবরণে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয় যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে তার আশে পাশের দেশ গুলো দিয়ে সেই দেশকে চাপে ফেলা হয় তাও যদি না হয় তাহলে ঐ দেশকে বিভিন্ন ভাবে যেমন অর্থনৈতিক , আন্তর্জাতিক , খাদ্যসংক্রান্ত , বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক অবরোধের মধ্যে নিয়ে আশা হয় তারপরও যদি সেই দেশ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হয় তাহলে আকা তার মিত্র দেশ গুলোকে নিয়ে সামরিক জোট করে ঐ দেশকে হামলা করে , আর যদি হামলা করা সম্ভব না হয় তাহলে দিন দিন অবরোধের পরিমাণ বাড়ানো হয় যাতে একসময় ঐ দেশ অবরোধের চাপে নতি শিকার করতে বাধ্য হয় । কিন্তু ঐ দেশ নিয়ন্ত্রণের চাইতে যদি সে দেশকে দখল করলে বেশি লাভজনক মনে হয় তাহলে সে সব লজ্জা শরমের মাথা খেয়ে লক্ষকৃত দেশকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত , সন্ত্রাসের মদতদাতা ঘোষণা করে একাই ঐ দেশকে আক্রমণ করতে নেমে পড়ে উল্লেখ্য যে তখন আর অন্য মিত্রদের সাথে নেয়ার প্রয়োজন মনে করেনা কারণ সাথে নিয়ে আক্রমণ করলে তাকে তাদের ভাগ দিতে হবে , এই ভাগ দেয়া মতাদর্শে সে আবার বিশ্বাসী নয় ।

maxresdefaultdfsdf.jpg

আবার অনেক সময় নিজের মিত্র দেশের সাথে অন্য দেশের যুদ্ধ লাগিয়ে মিত্র দেশকে অতি উচ্চ দামে অস্ত্র বিক্রি করে ব্যাপক বাণিজ্যিক লাভ করে , অস্ত্র বিক্রির জন্য সারা বছর কোথাও না কোথাও যুদ্ধ বাজিয়েই রাখে । আর কোন দেশ যদি এর বিরোধিতা করে তাহলে তো কথাই নেই ঐ দেশ আক্রমণ করার জন্য যত রকমের ফন্দি ফিকির আছে তা সর্বান্তকরণে চেষ্টা করতে থাকে । এর মধ্যে ঐ দেশে আত্মঘাতী কিছু আক্রমণ করে ঐ দেশকে অনিরাপদ বলে স্বীকৃতি দেয়া , ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য অনিরাপদ এবং ব্যবসায়ীদের জন্য যাতায়াত নিষিদ্ধ করে দেয়া , পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে ঘোষণা করা , নিজ দেশের নাগরিকদের ঐ দেশে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা আরও কত কি ।

এখন সবচেয়ে লক্ষ করার বিষয় এই যে , সে সব সময় যে কোন মহাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশকে কেন নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে ? খুবই সহজ বনের নিয়ন্ত্রণ পেতে হলে আগে হয় বনের রাজার সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে , তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে অথবা তাকে আক্রমণ করে তাকে পরাজিত করে নিয়ন্ত্রণ নিতে হবে । তাহলে বনের আর বাকি যত কম শক্তিশালী পশুরা আছে তারা ভয় পেয়ে যাবে আর ভবিষ্যতে কোন উচ্চবাচ্য না করে দাসত্বের আড়ালে মিত্রতাকেই বেছে নেবে । আর যদি সব পশুরা মানে সব শত্রু-দেশ একত্র হয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করে তাহলে-তো বিশ্ব যুদ্ধ করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকেনা। তখন ঐ বিশ্বযুদ্ধে যে কোন মূল্যেই জয়ী হওয়াটাই আসল কথা । তাই আমাদের গ্রহের মত গার্ডিয়ানেও বিশ্বযুদ্ধ বেঁধে গেলে প্রতিপক্ষকে মেরে কেটে একাকার করাই মূল লক্ষ্য হয়ে দাড়ায় । যুদ্ধে কত মানুষ মরল বা কত দেশ ধূলিসাৎ হয়ে মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে গেলো সেটা এখানে ধর্তব্য নয় ।

 

war-01dsdf.jpg

 

 

চলবে ……………

 

আল্লাহ্‌ হাফিজ

ভারতে জিও ফোনের জোয়ার আর আমাদের বাস্তবতা – ১

Now Reading
ভারতে জিও ফোনের জোয়ার আর আমাদের বাস্তবতা – ১

জুলাই মাসের একুশ তারিখে  পর্দা উঠল রিলায়েন্সের জিও ফোনের । অসাধারণ সব চমক আর আর ভরপুর বিনোদনের পাশাপাশি রিলায়েন্স অফার করেছে এক রাশ পয়সা  বাঁচানোর প্রক্রিয়া যা আমাদের দেশে কল্পনাকেও হার মানায়। যেটা আজ ভারতবাসী উপভোগ করছে অনেক সাশ্রয়ী   মূল্যের সাথে । আমার এই লেখাটার মুখ্য উদ্দেশ্য মোটেই ভারতের কোন কোম্পানির বন্দনা করা বা ভারতবাসীর সুখের নিবাসের গল্প করা নয় বরং আমরা বাংলাদেশীরা যাতে দেশী সেজে ইস্ট ইনডিয়ার মত ব্যবসা করা বিদেশী কোম্পানিগুলোর নিষ্পেষণের শিকার না হই  সে ব্যাপারে আপনাদের সচেতন করা যাতে ভবিষ্যতে আমরা তাদের ওপর আরও বেশী চাপ প্রয়োগ করতে পারি আমাদেরকে বিশ্বমানের ভাল সার্ভিস প্রদান করতে। উল্লেখ্য ভারতে মোট ফোন আছে ৭৮ কোটি যার মধ্যে ৫০ কোটি ফিচার ফোন। আর জিও চালু হওয়ার আগে ভারতে ডাটা খরচের পরিমাণ ছিল প্রতিদিন ২০ হাজার কোটি জিবি  যা জিও চালুর পর দাঁড়িয়েছে ১২০ হাজার কোটি জিবি। সুতরাং এ থেকেই অনুমান করা যায় জিও ভারতে কি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে । জিও চালুর আগে ভারত ছিল  বিশ্বের ৫৫ নম্বর মোবাইল ডাটা ব্যবহারকারী দেশ কিন্তু জিও চালুর পর ভারত এখন বিশ্বে এক নম্বর।  তো কথা না বাড়িয়ে আসুন দেখে নেই জিও তাদের দেশের মানুষের কল্যাণে কি কি সেবার দুয়ার উন্মোচন করেছে ?

১. প্রথমেই বলা ভাল এটি একটি ফিচার ফোনের আধুনিকায়ন । সাধারণ ফিচার ফোনে যা থাকে এতে অনেকাংশে তাই আছে শুধু মিলিত হয়েছে কিছু চোখ ধাঁধানো ব্যতিক্রম
২. Foxcon jior জন্য এই ফোন তৈরি করছে
৩. ফোনে থাকছে ভারতের সেরা 4G সুবিধা
৪. এখন এই ফোন নিতে হলে ১৫০০ টাকা ডিপোজিট দিয়ে নিতে হবে যা ৩ বছর পরে ফোন ফেরত দিলে পুরো টাকা ফেরত দেয়া হবে
৫. তারমানে ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ফোন ফ্রি
৬. বাস্তবিক দৃষ্টিতে এর খরচ ১৫০০ টাকা
৭. ২৪ আগস্ট থেকে অগ্রিম বুকের জন্য আবেদন করা যাবে
৮. সেপ্টেম্বরে হাতে পাবে
৯. প্রধান আকর্ষণ মাসিক ১৫৩ টাকার প্যাকেজ
১০. যাতে আছে আনলিমিটেড কল
১১. আনলিমিটেড এসএমএস
১২. আনলিমিটেড ইন্টারনেট
১৩. প্রতিদিন ৫০০ এমবি পর্যন্ত হাই স্পিড তারপর ১২৮ কেবিপিএস স্পিড কিন্তু আনলিমিটেড ।
১৪. ৩০৯ টাকার মাসিক প্যাকেজে প্রতিদিনের হাই স্পিড লিমিট ১ জিবি তারপর ১২৮ কেবিপিএস স্পিড ।
১৫. ৩০৯ টাকার প্যাকেজে লাইভ টিভি দেখার সুযোগ থাকছে সারা মাস।
১৬. তবে ৩০৯ টাকার প্যাকেজ ঐ ১ জিবি হাই স্পিড ইন্টারনেটের সাহায্যে ৩-৪ ঘণ্টা পর্যন্তই টিভি দেখা যাবে ।
১৭. Small recharge start from 24 taka for 2 dys and 54 taka for 7 days.
১৮. ফোনের সাথে ফ্রি থাকছে জিও মুভি , মিউজিক এবং টিভি Apps
১৯. ফোন আসছে বিভিন্ন মডেলে
২০. কোয়ালকম প্রসেসরে
২১. অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকছে ফায়ার ফক্সের কাই।
২২. ডুয়াল সিম একটা জিও বাধ্যতামূলক।
২৩. ২২ টি আঞ্চলিক ভাষা আছে এর মধ্যে ।
২৪. এর স্ক্রিন ২.৪ ইঞ্চি QVGA .
২৫. FM RADIO.
২৬. TORCH.
২৭. WhatsApp নেই ।
২৮. Voice Assistant আছে কিন্তু করটানার মত না।
২৯. আপাতত Voice Assistant হিন্দি আর ইংরেজি ছাড়া অন্য কোন ভাষায় ব্যবহার করা যাবে না
৩০. Microphone and Speaker
৩১. 4G support and GPS
৩২ . Voice command support for calls, sms ,  music and video
৩৩. NFC support for Tap and GO PAY.
৩৪ . User can link his bank account with it.
৩৫. 4 way navigation
৩৬. SD card slot
৩৭. Headphone jack
৩৮. টেস্টিং শুরু হবে ১৫ আগস্ট থেকে
৩৯. এবং গ্রাহক হাতে পাবে সেপ্টেম্বর মাসে।

মোট কথা বন্ধুরা এটা ফিচার ফোনের আদলে একটা স্মার্টফোন । যেটা একটা এক্সট্রা ফোন হিসেবে সাথে রাখতে ভারতবাসীর কারোরই আপত্তি থাকবেনা
এবং এর মার্কেটিং পলিসি এতটাই চমকপ্রদ যে ৩ বছর পরে কেউ ফোন ফেরত দেয়ার অবস্থায় রাখতে পারবেন কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ থাকলেও এই
ফেরত দেয়ার সুযোগ রাখাটাকে সবাই স্বাগত জানিয়েছেন ।

বিশেষজ্ঞরা একটা যে সমস্যা পেয়েছেন যে WhatsApp ব্যবহার করার উপায় নেই যদিও ২২ টির মত ভাষা ব্যবহারের সুযোগ থাকছে ।
WhatsApp এর ব্যাপারে জিও বলেছে তারা শীঘ্রই এর সমাধান নিয়ে আসবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জিও কে পরিচিত করানো হয় ভারতের সর্বপ্রথম ইনটেলিজেন্ট স্মার্টফোন হিসেবে ,
এর পাশাপাশি এটাকে বিশ্বের সবচাইতে কম দামের স্মার্টফোন বলে অভিহিত করা হয় ।
অনুষ্ঠানে কিরণকে আকাশের কাছে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে এসএমএস পাঠাতে দেখা যায় যেটা সত্যি আকর্ষণীয় ।
ভয়েস কমান্ডে ডিভাইসের রিসিভিং পাওয়ার ছিল অবিশ্বাস্য রকমের দ্রুত , স্পষ্ট এবং সাবলীল । যা এই ডিভাইসের মার্কেট করায়ত্ত করতে বেশ সুবিধা হবে ।
এটাতে গুগলের ভয়েস সার্চের মত সুবিধা দেখা যায় । শুধু তাই নয় ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে এটাতে ভিডিও চালানোর সুবিধাও রাখা হয়েছে ।
জরুরি পরিস্থিতিতে ৫ নং বাটন চেপে ধরে রাখলেই যে বন্ধু বা ফ্যামিলি মেম্বারকে আগে থেকে বাছাই করে রাখা হবে তার কাছে জরুরি বার্তা পৌঁছে যাবে ।
এটাকে জিওর লাইফ সেভিং সুবিধা হিসেবে দেখানো হয়েছে । ১০০ এর বেশী   ফিচার বিশিষ্ট এই ফোনে ব্যাংক হিসাবধারীদের
জন্য বিশেষ এনএফসি ফিচার রয়েছে যাতে একজন ব্যাংক হিসাবধারী সাবলীল ভাবে কোন রকম ঝামেলা ছাড়া ব্যাংকের সমস্ত কাজ জিও মোবাইলে সেরে নিতে পারবেন ।
জিও ফোনে যে কোন পেমেন্টের জন্য অত্যন্ত সুরক্ষিত হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে  যা অটোম্যাটিক আপগ্রেড হয়ে যাবে ।

যারা উদ্বোধনি অনুষ্ঠানটি দেখতে চান তাদের জন্য এই লিঙ্ক –

আজ এ পর্যন্তই আগামী পর্বে  আলোচনা করবো ভারতের রেভলুশনের সাথে আমাদের বাস্তবতা ।

আল্লাহ্‌ হাফিজ ।

 

 

আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশীর দায়িত্ববোধ এবং বাংলার ইউটিউবারদের প্রাঙ্ক সমাচার

Now Reading
আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশীর দায়িত্ববোধ এবং বাংলার ইউটিউবারদের প্রাঙ্ক সমাচার

 

একটা সময় ছিল যখন মেট্রিক পাশ করলেই চারিদিকে হৈ হৈ রৈ রৈ পড়ে যেত , দশ গ্রামের মানুষ তাদের দেখতে আসত , সারা গ্রামের মানুষ তাদের নিয়ে গর্ব বোধ করত ।

গ্রামের মেম্বার চেয়ারম্যান তাদের পড়াশুনার খরচ নিজেদের কাঁধে তুলে নিতেন নিজেদের দায়িত্ববোধ থেকে । আর স্টার মার্ক বা ফার্স্ট ডিভিশন পেলে তো কথাই নেই , সারা দেশে তার নাম ছড়িয়ে যেত আর পেপার পত্রিকায় তার ছবি ছাপা হতো । চাকরি খোঁজার আগেই চাকরি তার পায়ের কাছে এসে লুটোপুটি খেত । আমরা সেই দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য অর্জন করিনি । যতদূর দেখেছি একসময় ফার্স্ট ডিভিশনের চল ছিল । সারা দেশে সর্বোচ্চ প্রাপ্ত নাম্বারের ভিত্তিতে প্রথম দশ জনকে  দেশবাসীর সামনে পরিচয় করিয়ে দেয়া হতো , এরা পেতো  জাতিও বীরের খেতাব

আর ৭৫০ মার্ক পেলেই যে কেউ হতো স্টার ছাত্র ছাত্রী । আমার মতে তখন বর্তমানের চেয়ে হাজার গুনে ভাল ছিল অন্তত ছাত্র ছাত্রীরা জীবন প্রাণ দিয়ে প্রথম দশ জনে ঢোকার চেষ্টা করতো , তা না হলে স্টার মার্ক ৭৫০ তো আছে আর তাও না হলে ৬০০ মার্কে ফার্স্ট ক্লাস তো আছেই। তাই তাদের পড়াশুনায় ছিল ব্যাপক আগ্রহ । আমার মনে আছে ছোটকালে যখন মেট্রিক পরীক্ষার সময় নামায পড়তে যেতাম তখন মেট্রিক পরীক্ষার্থীদের দিকে তাকালে দেখতাম তারা ভীষণ টেনশন নিয়ে নামায পড়তে আসত আর নামায পড়েই দিত বাসার দিকে  ভোঁদৌড় । আর এখন মেট্রিক পরীক্ষার সময় নামায পড়তে পরীক্ষার্থীদের খুব একটা দেখা যায়না , বরং তারা এইসময় ব্যস্ত থাকে ফেসবুকে প্রশ্ন ফাঁস হল কিনা , আর কেউ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন প্রদান করছে কিনা এই তালে ।

এর চাইতে হাজার গুণে ভাল ছিল ফার্স্ট ডিভিশন আর দশজনের তুমুল রেস । যে আশি নাম্বার পায় আর যে নিরানব্বই পায় দুই জনের মান কখনও এক হতে পারেনা। আর তাই আজকের এই বিপর্যয় । এখনও সবাই সর্বোচ্চ নাম্বারের ভিত্তিতে মেধা তালিকা নির্ধারণকেই সেরা বলে মনে করে । না জানি আরও কত অমিত মেধাবী এই সিজিপিএ নামক অভিশাপের বলি হবে ? বিদেশে যে জিনিস ভাল তা আমাদের দেশে ভাল নাও হতে পারে , তা  যেকোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষই  বুঝতে সক্ষম

তারপরও যদি গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়ে সমাজে মুখ দেখানো যেত । যে কেউ রেজাল্ট শুনলেই যত ভালই হোক না কেন বলে ওঠে , ” প্রশ্ন ফাঁসের আমল এই রেজাল্টের কি কোন দাম আছে ? যখন পরীক্ষায় অনুপস্থিতরাও এ  প্লাস পায় “। আর কোন মতে জিপিএ ৫ মিস হলে তো কথাই নেই পরিবারের আর মুখ লুকানোর জায়গা থাকেনা ।  ছেলে জীবন প্রাণ বাজি রেখে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে  বাবার কাছে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গেলে শুনতে হয় , “দেখ কোন কলেজে চান্স পাও কিনা ” ? আর যাদের মন একটু দুর্বল তাদের তো কথাই নেই তারা ভাবে এতো কষ্ট করে কি লাভ যখন পরীক্ষার আগের রাতেই প্রশ্ন পাওয়া যায় ? তবে আশার বিষয় সরকার কিছুটা হলেও নজর দিয়েছে ।

20155969_1475263135869017_594771644231363602.jpg

এই হচ্ছে দেশের বেইজ লেভেলের পড়াশুনার  অবস্থা  আর বেকারত্বের কথা না হয় বাদই দিলাম।  কিন্তু আসল সমস্যাটা এখানেই । ছাত্র ছাত্রীদের মাথায় ঢুকে গেছে তারা পোস্ট গ্রাজুয়েট করার পরও চাকরি পাবেনা আর ব্যবসার মূলধন তো সবার থাকেনা তাই যত দ্রুত সম্ভব নিজের পায়ে দাড়াতে হবে আর তার শর্টকাট উপায় সালমান মুক্তাদিরের মত প্রাঙ্ক ভিডিও বানাতে হবে আর এতে সাবস্ক্রাইবার বাড়বে আর টাকা আসতে থাকবে। ব্যস পরিবারের মান সম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে যত পারো দেশের মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের রাস্তায় তাদেরকে বিরক্তির চূড়ান্ত সীমায় নিয়ে গিয়ে  প্রাঙ্ক বানাতে থাকো , সাবস্ক্রাইব করার জন্য তো লাখ লাখ পাবলিক রেডি আছেই , তাদের তো আর কোন কাজ নেই ইউটিউবে ভিডিও দেখে হো হো  করে হাসা আর যাকে তাকে সাবস্ক্রাইব করা ছাড়া । আর মেয়েরাও অতি উৎসাহে মাথা আর বুকের ওড়না খুলে কোমরে বেঁধে নেমে পড়লো ক্লাস-হীন ছেলেদের সাথে প্রাঙ্কে সামিল হতে 

 

এতে কখন যে ভয়াবহ  দুর্ঘটনা ঘটবে কেউ জানেনা।  

আচ্ছা এখন যদি বাংলাদেশ সরকার বা খোদ ইউটিউব যদি ঘোষণা দিয়ে বসে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে ইউটিউবের ইতি টানা হবে তাহলে তাদের ব্যাকআপ প্লান কি ? সেটাও কি সালমান মুক্তাদির ঠিক করে দেবে ?

maxresdefau.jpg

এই লেখাটা মূলত এক প্রবাসী বাংলাদেশীর অনুরোধের ফল যা তিনি তার দায়িত্ববোধ থেকে করেছেন এবং এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে এর মাধ্যমে সে নিজেকে দেশ প্রেমিক হিসেবে জাহির করছেন  বা এই ভিডিও ভাইরাল করে তিনি দুই পয়সা কামাবেন । বরং আসল সত্যিটা হল আমরা যারা ইউটিউব নিয়ে একটু গভীর গবেষণা করি তারা সবাই জানি এবং চিনি হরিয়ানার ললিত সৌখিনকে যে কিনা আমেরিকা গিয়েছিলো স্ত্রীর সাথে পিএইচডি করতে , যাওয়ার পর এয়ারপোর্টে খাবার দাবাড়ের দাম দেখেই তার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো তাও বহু বছর আগে আর এখন তো কথাই নেই।  এখানে ললিত সৌখিনকে টেনে নিয়ে আসার কারণ তার সাবস্ক্রাইবার ৭ লাখ দশ হাজার কিন্তু এই আয় দিয়ে ওখানে  শুধু তার খাবার খরচ ওঠে কিনা সন্দেহ , তার ওপর পিএইচডির খরচ ,পুরো পরিবারের  বাসা ভাড়া , যাবতীয় দৈনন্দিন খরচের  কথা তো বাদই দিলাম ।  তো বাংলাদেশী গুটিকয়েক ভিউ আর একলাখের কম সাবস্ক্রাইবার নিয়ে আমেরিকায় আর যাই হোক আরামে থাকা যায়না , যদি কেউ সেখানে থেকেও  বাংলা  ভাষায় কিছু করে তবে বুঝতে হবে তিনি তার অতি মূল্যবান সময় জলাঞ্জলি দিয়ে দেশের প্রতি তার দায়িত্ববোধ থেকে এটি করছেন।

19059496_1436335539761777_675624221547406692.jpg

লেখাটা লেখার আগে ভেবেছিলাম বাংলাদেশী ইউটিউবারদের  প্রাঙ্ক ভিডিও বানানো নিয়ে কিছু লিখব কিন্তু লিখতে গিয়ে ভাবলাম যা বোঝানোর তা জনাব তাহসিন তার ভিডিওতে দ্রুতলয়ে অত্যন্ত কম সময়ে এত বিস্তারিতভাবে হাতেকলমে সব কিছু বর্ণনা করেছেন যে এই ব্যাপারে কিছু না লিখে বরং কেন এবং কিভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি তাই নিয়ে লিখলে পাঠকগণের কিছুটা হলেও উপকারে আসবে। আমরা সাধারণত ইউটিউবে পাঁচ মিনিটের বেশী দীর্ঘ ভিডিওতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলি এবং যে কোন মুহূর্তে অন্য ভিডিওতে চলে যাই কিন্তু জনাব তাহসিনের ভিডিও কখন যে ১৭ মিনিট গিলে ফেলে আমি নিজেও জানিনা । এর কারণ তার ভিডিও অত্যন্ত তথ্যপূর্ণ , প্রাঞ্জল , সাবলীল এবং আকর্ষণীয় যে কিনা একই সাথে ভিউয়ারদের সেনটিমেনট ক্যাচ করে টোন ধরে রাখতে পারে , এটা অবশ্যই একটা বিরল প্রতিভা।

poleclimbe.jpg

ভিডিওটা নিয়ে দুই লাইন না লিখলেই না , এক জায়গায় দেখা যায় এক প্রাঙ্ক নির্মাতা মেয়েদের গায়ে সাপ  ছুড়ে দিচ্ছে , এতে এক মেয়ে তো প্রায় শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে খুব খারাপ ভাবে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় । ভাগ্যিস পড়ে গিয়ে মাথা ফাটেনি । অন্য এক প্রাঙ্কে দেখা যায় একজন পাগল সেজে রিক্সা আটকে সত্তর ঊর্ধ্ব বয়স্ক রিক্সা চালকের চারপাশে লাঠি দিয়ে খুব জোড়ে বারি মারছে যা কিনা যেকোনো মুহূর্তে তার মাথায় বা  পায়ে আঘাত লেগে যেতে পারত । এই ভিডিও গুলো দেখে একটা কথাই শুধু মনে হয়েছে এই ছেলেগুলি কি পিতৃ-মাতৃ পরিচয়-হীন ?

58242451.jpg

বাকিটুকু লাইভ ভিডিওতেই দেখে নিন লিঙ্ক দিয়ে  

 দিলাম —

আমার লেখা ভাল লাগলে অন্য লেখা গুলো পড়ে আসতে পারেন , কথা দিচ্ছি সময় নষ্ট হয়েছে বলে মনে হবেনা 

আল্লাহ্‌ হাফিজ

 

http://footprint.press/পড়াশুনার-মতিভ্রম-১-বর্তম/

http://footprint.press/পড়াশুনার-মতিভ্রম-২-ব/

 

পড়াশুনার মতিভ্রম-২ (বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি :   সাংবাদিক হতবাক )

Now Reading
পড়াশুনার মতিভ্রম-২ (বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি :   সাংবাদিক হতবাক )

rtyrt.jpg

পড়াশুনার মতিভ্রম-২ (বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি :   সাংবাদিক হতবাক )

আগের পর্বে আমি বলেছিলাম কালক্ষেপণ বা Procrastination আমাদের অন্যতম সমস্যা । এছাড়াও আরও ভয়াবহ জটিল কিছু সমস্যা তাদের রয়েছে  যেগুলো সৃষ্টি হয়েছে পড়াশুনায়  তাদের অমনোযোগীতার কারণে , সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনের অর্ধেকের বেশী সময় ব্যস্ত থাকার ফলে , বিনোদনের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত ঝোঁকের কারণে , তাদের সময়ের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনে , সুযোগের সদ্ব্যবহারের কৌশল ব্যাবহারে , প্রতিযোগিতার মর্ম বোঝার ক্ষেত্রে, গুরুজনদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শনে, পূর্ব পুরুষদের ইতিহাস না জানা থাকার কারণে  , অতি প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে ভীষণ উদাসীনতা প্রদর্শনের কারণে , অভিভাবকদের মূর্খতায় , জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য না জানার কারণে , অভিভাবকদের দুর্বল মনিটরিং-এর ফলে এবং সর্বোপরি ধর্মীয়, পারিবারিক এবং সামাজিক প্রকৃত মূল্যবোধ না জানার কারণে। এর ফলে কি হয়েছে আমরা আমাদের জাতির সবচাইতে মূল্যবান প্রজন্মের ধ্বংস চেয়ে চেয়ে দেখছি।

sspp.2.jpg

আজকে দেখা যায় স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা ক্লাস করা বাদ দিয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে সহপাঠী আর বন্ধুদের নিয়ে পার্কে গিয়ে ফুর্তি করছে , ইউটিউবের জন্য অযাচিত ভিডিও বানাচ্ছে  পারিবারিক মান সম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে । আর  ভাবছে আমাদের সামনে তো বিল গেটস আর মার্ক জাকারবারগের আদর্শতো আছেই ড্রপ আউট করার । আজকের দিনে নাকি ড্রপ আউট করলেই খুব দ্রুত জীবনে শাইন করা যায় ।  ফুর্তি শব্দটি ব্যবহার করতে হচ্ছে এই কারণে যে তাদের আবার কোন মূল্যবোধ নেই , কারণ মূল্যবোধ থাকলে তারা বাপ মায়ের এত কষ্টের টাকায় এই ভাবে জীবনের অতি মূল্যবান সময় বেলেল্লাপনা করে অপচয় করতো না। আর কিছুদিন আগে বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে গোল করে মানব দেয়াল বানিয়ে কি অভিনব পদ্ধতিতে ভালবাসার প্রস্তাব প্রদানের কি অমায়িক  ভিডিও ভাইরাল হয়েছিলো তাতো আমরা সবাই জানি। তাদের এই ক্ষণিকের উচ্ছন্নে যাওয়ার অনুভূতিতে আবার দেশবাসী দুই ভাগ হয়ে গিয়েছিল । বাস্তববাদীরা বলেছে দেশটা রসাতলে যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে আর প্রগতিশীল বেহায়া-বাদীরা আবার যার  যার নিতান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে দেশের সর্বস্তরে এই আধুনিকতা ছড়িয়ে দেয়ার পক্ষ অবলম্বন করেছে । যদি নিতান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার হয়ে থাকে তাহলে ভিডিও করে দেশবাসীকে দেখানো কেন ? ঘরোয়া পরিবেশে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে আংটি পরিয়ে দিলেই হত ওহ  থুক্কু তাহলে তো আর থ্রিল থ্রিল ভাবটা আসতনা , আর এই থ্রিল ভাব উপভোগ করতে গিয়ে তারা যে ঐ সময় স্কুল ড্রেস পরিহিত ছিল তাও ভুলে গিয়েছিলো । স্কুল প্রশাসনের তো আর থ্রিলের মাহাত্ম বোঝার সময় নেই তাদের থ্রিল তো ছাত্র ছাত্রী ভর্তি নেয়ার পরই শেষ হয়ে গিয়েছে । তাদের এখন মানইজ্জত নিয়ে টানাটানি , তাই তারা পরের দিনই TC দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেছে ।  দুই জুটির বেচারা অভিভাবকদ্বয় , তাদেরই শেষ পর্যন্ত যত নাকানি চুবানি খাওয়া লেগেছে , প্রগতিশীল বা আধুনিকতাবাদীদের নয় ।  তারা তো শুধু ইন্ধন জুগিয়েই পগারপার ।

michelle-barack-obama.jpg

 

বেসরকারি এক টেলিভিশন আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের নিয়ে একটি বিস্তারিত  রিপোর্ট করেছিল তাদের এই অমায়িক অবস্থার উপর। যেখানে দেখা যায় অনেক মেয়েরা রেস্টুরেন্টে গিয়ে নিজেদের কলেজ বা স্কুলের ড্রেস চেঞ্জ করে তারপর বাইরে বন্ধু বা বয়-ফ্রেন্ডের সাথে ঘুরে বেড়ায় অথবা ঐ রেস্টুরেন্টেই আড্ডা দেয় পুরো ক্লাস আওয়ার । এখন প্রশ্ন হচ্ছে এরা কি ঐ সময় ভাল কিছু শিখছে ? এদের অভিভাবকরাই বা এদের কীরকম মনিটরিং-এর মধ্যে রাখে ? সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার এই যে টিভিতে তারা ধরা পরে যাওয়ার পরও তাদের হাবভাব দেখে মনে  হচ্ছিলো  তারা পার্কে এসেছে অভিভাবকদের পূর্ণ অনুমতি নিয়ে পিকনিক করতে। অনেকে তো এই রিপোর্ট দেখার পর  এমন মন্তব্য করেছেন , “মনে হয়েছে এদের কোন বাপ মা নাই এরা নিজেদের খরচ নিজেরা চালায়”। সাংবাদিক যখন এক মেয়েকে প্রশ্ন করে  ক্লাস চলাকালীন সময়ে তোমরা এখানে কি করছ ? তার সাবলীল উত্তর   “শিক্ষকদের আজাইরা প্যাঁচাল শুনতে আর  ভাল লাগেনা বরং আমরা এখানে বন্ধুদের সাথে পার্কে আড্ডা মেরে টাইম পাস করতেই বেশি পছন্দ করি “।

 

badgirl.1.jpg

আর রেজাল্ট নিয়ে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই, তারা নাকি আবার উচ্চ মাধ্যমিক ১ম বর্ষে  পরে । তো এখনি যদি তাদের হয় এই অবস্থা তাহলে আরও তো দিন পরেই রয়েছে । এখন তাদের এই অধঃপতনের জন্য কি শুধু তারাই দায়ী না কি এর সাথে তাদের অভিভাবক,শিক্ষক,সমাজ,বাস্তবতা,পার্কের নিরাপত্তা  কর্মী সকলেই দায়ী। আর ছেলেদের স্কুলে তো সেই চিরাচরিত দৃশ্য আগে ব্যাগ ছুড়ে দিয়ে তারপর দেয়াল টপকিয়ে স্কুল পালানোর দৃশ্য , তবে লাইভ দেখলে যে কেউ অবাকই হবেন । এক সাংবাদিক  রিপোর্টার এক স্কুলের পিছন দিয়ে যাচ্ছিলেন হঠাৎ তিনি খেয়াল করেন  স্কুলের  পিছনের দেয়ালের  ওপরে উঠে এক ছেলে দেয়াল টপকানোর চেষ্টা করছে , এক সময় দেয়াল টপকে স্কুলের বাইরে বেরিয়ে এলো এবং বাইরে আসার পর সে তার সহপাঠীদের বলছে ওপাশ থেকে ব্যাগ ছুড়ে মারতে , তিন সেকেন্ড পরে দেয়ালের ওপাশ থেকে পাঁচটা ব্যাগ উড়ে চলে এলো দেয়ালের এপাশে , তারপর আরও চারজন টপাটপ চলে এলো স্কুলের দেয়াল টপকে রাস্তায় । তারা এতো বেশি উত্তেজিত ছিল যে দেয়াল টপকানোর সময় সাংবাদিক যে পুরো ব্যাপারটা ভিডিও করেছে তা তারা খেয়ালই করেনি । সাংবাদিক  দৌড়ে গিয়ে এক ছেলেকে জিজ্ঞেস করলো তোমরা স্কুল পালাচ্ছ কেন ? তার এই হঠাৎ প্রশ্ন করা দেখে আবার পলায়নরত স্কুল পড়ুয়ারা একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায় যে ক্যামেরার সামনে কথা বলবে না আগে মুখমণ্ডল ঢেকে এই যাত্রায় ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি বলে পালাবে । হঠাৎ এক ছেলে বলে উঠল দৌড়া , এতে বাকিরা সম্বিৎ  ফিরে পেলো আর ভোঁদৌড় দিয়ে এ যাত্রায় বেঁচে গেল। চলবে ……………

 

Bad-Studentp.jpeg

 

যারা পড়াশুনার মতিভ্রম-১ ( বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি)

পড়েননি তাদের জন্য লিঙ্কটা দিয়ে দিলাম।

http://footprint.press/পড়াশুনার-মতিভ্রম-১-বর্তম/

 

পড়াশুনার মতিভ্রম-১ ( বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি)

Now Reading
পড়াশুনার মতিভ্রম-১ ( বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি)

fst1.1.jpg

পড়াশুনার মতিভ্রম-১ ( বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি)

এটা একটা গবেষণামূলক কেইস স্টাডি। বর্তমানের তরুণ প্রজন্মের সূক্ষ্ম জটিল সমস্যা যা অনেকে জেনে ,না বুঝে , বন্ধু বান্ধবের পাল্লায় পড়ে , অসৎ সঙ্গের কারণে অথবা মনের অজান্তেই করে থাকে সেই বিষয় গুলোই এখানে অত্যন্ত বিশদ ভাবে উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সমস্যা গুলো একদমই সমসাময়িক , জটিল , সূক্ষ্ম এবং কৌশলগত। তাই অনেক সময় তা হাতে কলমে না বুঝিয়ে দিলে হৃদয়ঙ্গম করা মুশকিল । তাই পাঠকগণকে অনুরোধ করবো এই লেখাটা পড়ার সময় অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করবেন এবং অবশ্যই দুনিয়ার ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্ত হয়ে শান্ত চিত্তে স্থির মস্তিষ্কে লেখাটা পড়ার চেষ্টা করবেন। কে জানে হয়তো অত্যন্ত মূল্যবান কিছু পেয়ে যেতে পারেন যা আপনার সারাজীবনে কাজে লাগাতে পারবেন অথবা আপনি কোন ধোঁকার মধ্যে আছেন যা এতদিন জানতেন না , যা এই লেখাটা পড়ার পর বুঝতে পারবেন।

 

এই লেখাটা নিম্নলিখিত উপায়ে শ্রেণীবিন্যাস করা হয়েছে –

@ বর্তমানের ভয়াবহ পরিস্থিতি

@ কিছু জীবন-ভিত্তিক বাস্তব উদাহরণ

@ পূর্বপুরুষ আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য

@ অবনমনের কারণ

@ উত্তরণের উপায়

 

যতই দিন যাচ্ছে ততই পড়াশুনা সহজ হয়ে আসছে। এই যেমন বিশ বছর আগের কথাই ধরা যাক । তখন পড়াশুনা করার জন্য কোন কম্পিউটার ব্যবহার করা হত না , ব্যবহার করা হত না কোন ট্যাব , মোবাইল , ইলেক্ট্রনিক ডিকশনারি , প্রোজেক্টর । শুধু হাতে গোনা কয়েকজন ব্যক্তিগত  কম্পিউটার ব্যবহার করতেন জটিল প্রোগ্রামিং শেখার জন্য । বাদবাকি বেশিরভাগ কম্পিউটারই ব্যবহার হতো অফিসিয়াল কাজের জন্য , চিকিৎসার জন্য অথবা গবেষণামূলক কাজে । কিন্তু আজ ঘরে ঘরে টিভি থাকুক আর না থাকুক কম্পিউটার ঠিকই আছে । কারও কারও ক্ষেত্রে তো এমনও দেখা যায় দুইটা ল্যাপটপ আর তিনটা ডেস্কটপ নিয়ে একসাথে কাজ করে ।

আর কম্পিউটার যদি নাও থাকে Android Mobile দুইটা তিনটা থাকা তো এখন স্বাভাবিক ব্যাপার  , আর Apps গুলো ফ্রি হওয়ায় আমেরিকার ছাত্র আর অন্য দেশের ছাত্রের মধ্যে কোন পার্থক্য রইলনা ।  তাই এখন পড়াশুনার এমন কোন বিষয় নেই যা অনলাইনে পাওয়া যায়না। কোন কোন বিষয় ইন্টারনেটের  মাধ্যমে পাওয়া যায় এবং তা কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা জানার চেয়ে  অনেক জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে , আমাদের শিশু কিশোরেরা পড়ার এত এত অনুঘটক হাতের কাছে পাওয়ার পরও তাদের কেন পড়ার প্রতি এত অনীহা ?

এর কারণ এই নয় যে পড়া গুলো অনেক কঠিন  বা যারা পড়ায় তারা কম শিক্ষিত বা তাদের পড়ানোর  ধরণ  যাচ্ছেতাই বা পাঠ্যবইয়ের পড়াগুলো মোটেই আকর্ষণীয় নয় বা এগুলো পড়ে মনে থাকেনা  বা  পড়ে  মজা পাওয়া যায়না বা কি পড়বে তাই বুঝতে পারেনা , এমন কোন সমস্যাই নেই বরং পড়াশুনা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় , সহজবোধ্য এবং উপভোগ্য । এটা এখন এতটাই সহজ হয়ে গিয়েছে  যে শুধু  শুনে  শুনেই  পড়া অনেকাংশে  মনে রাখা যায়  এবং পড়ানোর স্টাইলেও এখন এতটা টেকনিক ফলো করা হয় যে তা ক্লাসে বসেই মুখস্থ হয়ে যায় ।  তাহলে প্রশ্ন আসে সমস্যাটা আসলে কোথায় ?

সমস্যাটা আসলে এখানেই , এই যে এত সহজ পড়াশুনায় ছেলে মেয়েরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে গিয়েছে , তারা ভাবে আরে যে পড়া আমরা ক্লাসে বসেই শেষ করে ফেলি বাসায় গিয়ে তা দেখে কি লাভ ? বরং ঐ সময় আমরা রিলাক্স মুডে ফেসবুকে সেলফি আপলোড করবো আর অন্যদের আপলোড করা গুলায় লাইক দিবো , শেয়ার দিবো আর কমেন্ট করবো ।  ব্যাস এভাবেই দিন কেটে যাবে আর গোল্ডেন A+ তো এমনিতেও আসবে অমনিতেও আসবে তাই এগুলা নিয়ে টেনশনের কিছু নাই ।

এভাবে তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে কালকে করবো মন-মানসিকতা । এই কালকে করবো মন-মানসিকতা যে কতটা ভয়াবহ তা বলে বোঝানোর অপেক্ষা রাখেনা । এটাকে ইংরেজি শব্দ Procrastination  নামে অভিহিত করা হয় । এটি একটি ব্যক্তি বিশেষের অভ্যাস । কিন্তু যখন এই অভ্যাস মারাত্মক আকার ধারণ করে তখন এটিকে মানব মস্তিষ্কের মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে বিবেচনা করা হয় । শুধু মাত্র এই ভয়াবহ ব্যাধিটির জন্য বহু প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে গেছে। উন্নত বিশ্বে এটা একটা জাতিও সমস্যা , আর আমাদের জন্য একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় দুরারোগ্য মহামারী । কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এই যে , উন্নত বিশ্ব যেখানে এটাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এর সমাধান করছে , স্কুল কলেজ , ভার্সিটির  শিক্ষার্থীদের খুব ভালোকরে এই রোগটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে , প্রচুর কৌশল বের করে শিক্ষার্থীদের  শিখিয়ে দিচ্ছে কিভাবে এর থেকে সর্বাধিক দূরে থাকা যায় , কারও মধ্যে এটা কিভাবে বিস্তার লাভ করে , কিভাবে কারও মধ্যে এই রোগ বাসা বাঁধলে তা থেকে খুব দ্রুত বেরিএ আসবে , যারা জানেনা তাদেরকে  কিভাবে এই ব্যাপারে সচেতন করা যায় এবং এর বিপরীত অভ্যাস গড়ে তুলে কিভাবে সময়ের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় । সেখানে আমদের শিক্ষার্থীরা এর সাথে একদমই পরিচিতই না । ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু মোটিভেশন প্রোগ্রাম চালু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় সত্যি নগণ্য। কিন্তু আশার বিষয় দেরিতে হলেও তা চালু হয়েছে। কিন্তু প্রান্তিক এলাকা গুলো এখনও এর সুফল পাওয়া থেকে যোজন যোজন দূরে।  চলবে…………