প্রবীণরা নয়, অনলাইন জরিপে তরুণরাই রয়েছেন এগিয়ে

Now Reading
প্রবীণরা নয়, অনলাইন জরিপে তরুণরাই রয়েছেন এগিয়ে

বাংলাদেশের আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের তারিখ পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করে দিয়েছে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।  বলা যায় গোটা দেশেই বইতে শুরু করে দিয়েছে নির্বাচনী হাওয়া। এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের আদিক্য দেখা যাবে। এদিকে নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন বেসরকারি অনলাইন জরিপে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। আওয়ামীলীগ ও ঐক্যফ্রন্ট এর মধ্যে কে বেশি জনপ্রিয় এরুপ একটি অনলাইন জরিপে দেখা গেছে আওয়ামীলীগ এগিয়ে রয়েছে। দেশের জনগণ পূর্বের মত আওয়ামীলীগ উপরই পুনরায় আস্থা রাখতে চায়।

অপরদিকে অন্য আরেকটি জরিপে দেখা গেছে প্রবীণ নেতৃত্ব এর চাইতে তরুণ নেতৃত্বকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জরিপে অংশগ্রহণকারীরা। যেহেতু অনলাইনে বেশিরভাগ সময় পার করে তরুণরা সুতরাং জরিপের শীর্ষে অবস্থান করছে এসব তরুণ রাজনীতিবিদরা। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতে মেধাসম্পন্ন তরুণ নেতৃত্বের উপর ভর করে দেশের উন্নয়ন এবং পরিবর্তন দ্রুত সময়ে সম্ভব।

এক্ষেত্রে তরুণদের আবেগ অনুভূতি এবং চাহিদার সন্নিবেশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন এসব তরুণ রাজনীতিবিদরা যাদের মধ্যে সিংহভাগই আবার আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তেমনই একজন তরুণ রাজনীতিবিদ হচ্ছেন ফরিদ মাহমুদ যিনি যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী-যুবলীগের।

রাজনীতিতে ক্লিন ইমেজের অধিকারী হিসেবে যথেষ্ট পরিচিতি আছে ফরিদ মাহমুদের। জনাব ফরিদ একাধারে একজন সাহসি,অন্যায়ের প্রতিবাদকারী, প্রজ্ঞাবান, বিনয়ী, স্বহৃদয়বান ব্যাক্তি হিসেবে যুব সমাজে ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে। চট্টগ্রামে তাঁকে বলা হচ্ছে তরুণ রাজনীতির ট্রেন্ড। ফরিদ মাহমুদ প্রথম চট্টগ্রামে বর্তমান আওয়ামী সরকারের উন্নয়ন চিত্রগুলি পোস্টার আকারে নগরীর অলিতে গলিতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি সরকারের এ সফলতার চিত্র লিফলেট আকারে প্রকাশ করে কখনো মসজিদের মুসল্লিদের, কখনো মানুষের দুয়ারে, কখনো বাজারে, কখনোবা ওয়ার্ডের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে বিতরণ করছেন। চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক এর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে তিনি রোদ বৃষ্টি এবং শীতকে উপেক্ষা করে ছুটেছেন মানুষের ধারে ধারে। রাজনীতিতে একটা সময় ছিল যখন দলীয় প্রবীণ নেতা কিংবা কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সহমর্মিতা জানাতে ছুটে যেত দলের নেতারা, সেটা দিন দিন যখন অনেকটাই লোপ পেতে শুরু করে তখন ফরিদ মাহমুদ সেই ধারাটি পুনরায় ফিরিয়ে আনেন মহানগরের রাজনীতিতে। দলের নেতা কর্মীদের খোঁজ খবর রাখার পাশাপাশি তাদের বিপদে আপদে এবং অসুস্থতার খবর পেয়ে চট জলদি ছুটে গিয়েছেন তাদের কাছে। এতে করে কর্মীদের ভেতর স্তমিত হয়ে থাকা আত্মবিশ্বাস পুনর্জীবিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে তাঁকেই চট্টগ্রামে প্রথম এই ধারাটির আইকন ধরা যায় কেননা তাঁর দেখাদেখিতে নিজ দলসহ বিরোধী শিবিরের নেতারাও একই পদাঙ্ক অনুসরণ করছে। কর্মী বান্ধব ফরিদ মাহমুদের আরেকটি বিশেষ গুণ লক্ষ্যনীয় যে তিনি সহজেই সকলকে আপন করে নিতে পারেন ফলে আজকের দিনে পরিচয় হওয়া কর্মী সমর্থকও সহজেই তাঁর সাথে মানিয়ে যায় সহজে। তরুণদের কাছে ফরিদ মাহমুদ নামটি একটি অনুপ্রেরণার নাম। আগামী সংসদ নির্বাচনে ফরিদ মাহমুদ চট্টগ্রাম ১০ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করায়  কর্মীদের ভেতর উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম ১০ আসনের এমন কোন এলাকা বাকী নেই যেখানে ফরিদ মাহমুদের বিচরণ হয়নি। আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডেই প্রায় প্রতিদিনই কোননা কোন অনুষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়েছেন। কর্মীদের কাছে তিনি এতটা প্রিয় হওয়ার কারন, সহজেই তাঁকে আপন করে পাওয়া যায়। যেখানে অন্য নেতাদের সাক্ষাৎ পেতে বেগ পেতে হয় উল্টো ফরিদ মাহমুদ নিজেই হাজির হয়ে যান কর্মীদের কাছে। দলীয় কর্মীদের ভেতর তাঁর প্রতি এক বিশেষ আস্থা আছে যে, অন্য কেউ নিজ স্বার্থে দলের বিরুদ্ধে যেতে পারেন কিন্তু ফরিদ মাহমুদ সম্পূর্ণ বিপরীত। দলীয় এই আস্থাভাজন নেতার উপর আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে তাই আস্থা রাখতে চান উজ্জীবিত দলীয় কর্মীগণ। নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চলা এই সাহসী তরুণ নেতার সাথে সার্বক্ষণিক সহযোগীতা করছেন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের চৌকষ একটি শক্তিশালী টিম। কর্মীদের এই নিরন্তর ভালবাসাই জনাব ফরিদ মাহমুদকে সামনে এগিয়ে যেতে প্রেরণা যোগাচ্ছে যা তাঁকে পৌঁছে দেবে সাফল্যের শীর্ষে।

১ম দফাতেই কি হোঁচট খাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া?

Now Reading
১ম দফাতেই কি হোঁচট খাবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া?

শুরুতে ৫০টি রোহিঙ্গা পরিবারের প্রায় দেড়শ জনকে দিয়ে প্রত্যাবাসন শুরুর কথা ছিল আজ বৃহস্পতিবার। কিন্তু প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের শেষ মূহুর্তে এসে গভীর অনিশ্চয়তা নিমজ্জিত হয়েছে। রোহিঙ্গারা জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থাকে বলছে তারা কেউই মিয়ানমারে ফিরতে ইচ্ছুক নয়। তাই তাদের অনুরোধ কাউকে যেন জোর করে পাঠানোর ব্যবস্থা করা না হয় এবং এই বিষয়ে তারা সরাসরি বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা বা ইউএনএইচসিআর এর সাথে কথা বলার অনুমতি চায়। গত কয়েকদিন ধরে ঐ ৫০টি পরিবারের উপর জরিপ করে ইউএনএইচসিআর তাদের একটি রিপোর্ট গত বুধবার বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং পুনর্বাসন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করে। রিপোর্টটিতে উল্লেখ ছিল, তালিকাভুক্ত দেড়শ শরণার্থীর একজনও মিয়ানমার ফিরে যেতে চায়না। তারা ‘যাবো না যাবো না’ বলে স্লোগান দিয়ে উত্তাল রেখেছে ক্যাম্প এলাকা।

গত ফেব্রুয়ারি হতে পর্যায়ক্রমে আট হাজার শরণার্থীর তালিকা তৈরি করে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বুঝিয়ে ফিরতে রাজী করিয়েছিল। যদিও বাংলাদেশ সরকারের এই দাবীর প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ সবসময়ই প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। এদিকে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে শরণার্থী কমিশনার বেশ কবার কমিশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা, সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং অন্যান্য স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করেন। আর এই বৈঠকগুলো ছিল রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরু হওয়ার প্রাক প্রস্তুতি। বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করতে পারেনি সীমান্তের ঠিক কোন জায়গা দিয়ে শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন শুরু করা হবে । তবে বিভিন্ন সূত্র হতে জানা যায়, প্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরু হলে টেকনাফের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়েই হবে যার প্রস্তুতি হিসেবে সেখানে ট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। ঘুমধুমের এই ট্রানজিট ক্যাম্পটি সীমান্তের শূন্য রেখা হতে আড়াই কিলোমিটার দূরে রাবার বাগান নামক একটি স্থানে স্থাপন করা হয়েছে । যেখানে সাময়িক ৩শ জন শরণার্থীর রাতে থাকার জন্য তৈরি করা হয়েছে ৬০টি কামরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত টেকনাফের উনচিপাং এলাকার ২২ নম্বর ক্যাম্পে তিনদিনের খাবার দাবার ও জরুরি প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করে মিয়ানমারে ফিরে যেতে জড়ো করা কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে। বিভিন্ন সুত্রে জানা যায় ঐ ক্যাম্প হতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ২৯৮ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসন করার একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে তাদের বাসস্থানে ফিরে যেতে পারে তাই তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত এই পদক্ষেপ নস্যাৎ করতে তৎপর রয়েছে কিছু স্বার্থনেষী মহল। তারা বিভিন্নভাবে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে নানা ধরণের গুজব ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ভেতর একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করে দেয়া হচ্ছে যে তারা মায়ানমার ফিরে গেলে নিরাপদ থাকবেনা। যদিও বিনা পরিশ্রমে ফ্রিতে দুবেলা অন্ন পাওয়ার এই সুযোগ তারা হাতছাড়া করতে চাচ্ছেনা। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ সরকারের উপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে তারা কিছুতেই নিজভূমি মায়ানমারে ফিরে যেতে ইচ্ছুক নয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ম দফায় তালিকাভুক্ত যে ১৫০জন শরণার্থীকে প্রত্যাবাসন করার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে, তাদের অনেকেই শরণার্থী শিবির থেকে প্রত্যাবাসন এড়াতে পালিয়ে যাচ্ছেন। সুতরাং বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ তাদের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের উপর নজরদারি বাড়িয়ে দেয়ার। রোহিঙ্গাদের যতই আমরা শরণার্থী কিংবা আক্রান্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে ধরে নিই না কেন তাদের আচার আচরণ এবং স্বভাব আগ্রাসী ধরনের। ত্রান এবং সাহায্য তাদের আশানুরূপ ও মনপুত না হওয়ায় অনেক সময় তারা সাহায্যকারী সংস্থার লোকজন ও পুলিশের উপর আক্রমন চালিয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের উচিৎ যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশের এই বিষ ফোঁড়া রোহিঙ্গাদের নিজ ভুমিতে প্রত্যাবাসন করিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার। অন্যথা অদূর ভবিষ্যতে এই রোহিঙ্গারা মিশে যাবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সাথে এবং তখন তাদের সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পরবে। ইতিমধ্যে টেকনাফ ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা ও বনাঞ্চল রোহিঙ্গাদের আগ্রাসনে ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠিয়ে দ্রুত এসব খতিগ্রস্থ এলাকা পুনর্গঠনে মনোযোগ দিতে হবে প্রশাসনকে।

সাম্প্রতিককালের বিমানে ঘটে যাওয়া অদ্ভুদ সব কাণ্ড যা আপনি মিস করে গেছেন!

Now Reading
সাম্প্রতিককালের বিমানে ঘটে যাওয়া অদ্ভুদ সব কাণ্ড যা আপনি মিস করে গেছেন!

১। গত সেপ্টেম্বর ২০১৮তে হংকং কেন্দ্রিক বিমান সেবা প্রতিষ্ঠান ক্যাথি প্যাসিফিক (Cathay Pacific) তাদের একটি ফ্লাইটের বহির্ভাগে নাম ভুলের কারনে সারা বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিরোনামে পরিণত হয়েছিল। এতে প্রতিষ্ঠানটি বেশ অস্বস্তিতে পড়ে। প্রতিষ্ঠানটির বোয়িং ৭৭৭-৩৬৭ একটি এয়ারক্রাফটের বাইরে ভুল করে পেইন্ট করা ছিল “CATHAY PACIIC” যেখানে F ভুলে বাদ পড়ে যায়। এটা স্বাভাবিক একটা ঘটনা হতে পারত যদি পেইন্টের দায়িত্বে নিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ভুল করেও জানার পর তা সংশোধনের সুযোগ থাকত। কিন্তু বিষয়টি ধরা পরে ওয়াশিংটন ডিসিতে যখন বিমানটি ১৩,১২৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসে হংকং হতে, আর বিমানের এই রুটটি আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ দূরত্বের ১৫টি রুটের একটি। ক্যাথি প্যাসিফিক এর এই দায়িত্ব জ্ঞানহীন বিষয়ের কারণে তারা যথেষ্ট ইমেজ সঙ্কটে পড়ে যায়।

২। সাউথ ইষ্ট এয়ারলাইন্স গত অক্টোবর ২০১৮ তে লস এঞ্জেল হতে ডালাস যাওয়ার একটি ফ্লাইটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ফ্লাইটের একজন পুরুষ প্যাসেঞ্জার কর্তৃক অন্য একজন নারী প্যাসেঞ্জার যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন যার ফলে তাকে আসন পরিবর্তন করতে হয়েছিল। এই জঘন্য ঘটনার জন্য সেই পুরুষ যাত্রী জাস্টিন রলে ব্রাফোর্ডকে ফ্লাইটের ক্রুদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে যে, প্রতিবার টেক অফের সময় সে তার হাত দিয়ে উক্ত মহিলার পা স্পর্শ করতেন। এমনকি অস্বস্তিতে পরা মহিলা যাত্রীটি বার বার তাকে এড়িয়ে যেতে চাইলেও পুরুষ যাত্রীটি ক্রমশ তার ঘনিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মহিলাটি তাকে সরাসরি বারণ করে দিলে পুরুষ যাত্রীটি তাকে বিভিন্ন প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত বাক্য বিনিময় করেন। তাই অপারগ হয়ে যখন মহিলাটি ফ্লাইট এটেনডেন্সকে তার সিট পরিবর্তনের অনুরোধ করেন তখনি প্রকাশ পায় ঘটনাটি। যখনি ফ্লাইট এটেনডেন্স এর কারন জিগ্যেস করতে পুরুষ যাত্রী ব্রাফোর্ডকে জিগ্যেস করে উল্টো সে ক্ষেপে যায়। এতে ফ্লাইট এটেনডেন্ট পাইলটকে বিষয়টি অবগত করে এবং পাইলট দ্রুত বিমানকে ল্যান্ড করিয়ে ঐ পুরুষ যাত্রীকে ফ্লাইট হতে নামিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বিমানে যাত্রীকে যৌন হেনস্থা এবং ফ্লাইট ক্রুর সাথে অসাধাচরন এর দায়ে ২০ বছরের সাজা হয় এবং অনাদায়ে ২৫০০০০ ইউএসডলার জরিমানা হয়।

৩। মার্কিন বিমানসংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স প্রায়ই বিতর্কের মুখে পড়ে তাদের কিছু কর্মকাণ্ডের জন্য। ২০১৭ সালে তাদের একটি ফ্লাইট থেকে এক যাত্রীকে মারধর করে জোড় পূর্বক নামিয়ে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ আসে। জোড় করে নামিয়ে দেয়ার দৃশ্যটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে অপর এক যাত্রী । মাত্র ৫০সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে প্রকাশের পর জোরেশোরেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে আমেরিকান বিমানসংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। ভিডিওটি প্রায় ১৬ হাজার বার রিটুইট করা হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা- বিবিসি বরাতে আরো জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এর বিমান ৩৪১১ শিকাগো ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কেন্টাকির লুইসভিলের উদ্দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রাক্কালে ইউনিফর্ম পরা তিন নিরাপত্তারক্ষী আসনে বসে থাকা এক যাত্রীকে টেনে জোড় করে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আসন থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামানোর সময় ওই যাত্রীর পোশাকের কিছু অংশ খুলে যায় এবং চোখের চশমা খুলে যায়। টানা হেঁচড়ার এক পর্যায়ে তাঁর নাক দিয়ে অনেকটা রক্ত বের হয়ে যায়। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের বিমানকর্মীদের বিরুদ্ধে বিমান থেকে এভাবে যাত্রীকে জোর করে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয় । তারা এর আগেও লেগিংস পরার দায়ে দুই নারীকে বিমান থেকে জোড় করে নামিয়ে দেয়।
ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের দাবি, যাত্রীরা নিয়ম না মানায় এভাবে বিমান থেকে নামাতে হয়েছে তাঁদের। কিন্তু কোন নিয়মটি ভঙ্গ করেছেন ঐ চিকিৎসক তা তারা স্পষ্ট করেননি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্টাকিতে অতিরিক্ত ক্রু মেম্বার পাঠাতে হয়েছিল তাই তারা ঐ চিকিৎসককে বিমান থেকে নেমে যেতে অনুরোধ করেন। কিন্তু চিকিৎসক এর দাবী, রোগীর কাছে পৌঁছানো তাঁর কাছে অত্যন্ত জরুরি ছিল। এদিকে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স। তারা দ্রুত যে তিন নিরাপত্তা কর্মী ওই ঘটনায় জড়িত ছিলেন, তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

৪। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মশার উপদ্রবে বিক্ষোভ বা অভিযোগ নতুন কিছু নয় বরং নৈমিত্তিক ঘটনা। কিন্তু এই মশা নিয়ে এবারে অভিযোগ উঠেছে ভারতের জনপ্রিয় বিমান পরিসেবা সংস্থা ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে। এক যাত্রীর মুখে মশার কামড়ের অভিযোগ পেয়ে উল্টো তাকেই ফ্লাইট হতে নামিয়ে দিয়েছেন মশা না তাড়িয়ে। সৌরভ রাই নামে এক যাত্রী ভারতের লখনউ বিমানবন্দর হতে ভোর ৬টার দিকে ইন্ডিগোর বিমানে ওঠেন। আর বিমানে ওঠার পর থেকেই তাকে মশা কামড়াতে শুরু করে, তিনি এর পরিত্রাণে বিমানকর্মীদের অনুরোধ করলেও তারা তাকে চুপ করে নিজের আসনে বসে থাকতে বলেন। এ নিয়ে ঐ যাত্রী এবং বিমানসংস্থার কর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে এয়ারক্রুরা তাকে জোর করেই বিমান থেকে নামিয়ে দেয়। এ ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সৌরভ রাই নামের ঐ যাত্রী আর তাতেই ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলোধুনো শুরু করে দিয়েছিল সবাই। যদিও ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স তাদের বিবৃতিতে ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে উস্রিঙ্খল আচরণের জন্য সৌরভ রাই নামের ওই ব্যাক্তিকে বিমান থেকে তারা নামিয়ে দেয়। তারা আরো অভিযোগ করে যে বিমানের কর্তব্যরত কর্মীরা ব্যবস্থা নেয়ার আগেই তিনি নাকি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং বিমানের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও তাকে শান্ত করা সম্ভব হয়নি। সৌরভ নাকি অন্য যাত্রীদেরও বিমানের ক্ষতি করার জন্য প্ররোচিত করছিলেন, এমনকি সে বিমান ছিনতাই এর হুমকি দেন। এই পরিস্থিতিতে যাত্রী সুরক্ষার কথা প্রাধান্য দিয়ে তাকে বিমান থেকে নামিয়ে দেয়া ছাড়া তাদের আর উপায় ছিলনা।

৫। ২০১৬ এর এপ্রিলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আকাশে ঘটে যাওয়া অদ্ভূত ঘটনাটি যেন একটু আড়ালেই থেকে গেল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, কলকাতার আকাশ থেকে প্রায় ১০ মিনিটের জন্য রাডারে হারিয়ে যায় একটি দু’টি নয় ৮৫টি বিমান। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পায়, ২০১৬ এর এপ্রিলের ৮ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টায় আকাশে থাকা সবগুলো বিমান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে ১০ মিনিটের জন্য সংযোগ হারায়। রাডার হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে হঠাৎ সব বিমান এক নিমিষেই হারিয়ে যায়। যদিও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সকল যন্ত্রপাতি ঠিকঠাক ছিল। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ বিমান কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত ভিএইচএফ (Very High Frequency) লিঙ্ক চালু করে কিন্তু তাও অকার্যকর হয় এবং বিমানগুলোর সাথে যোগাযোগে ব্যর্থ হয়। এদিকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি কলকাতার আকাশে থাকা হাজার হাজার যাত্রীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পাটনা , বারানসি ও গয়ার এয়ারপোর্টে জরুরি বার্তা পাঠায়। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় আবারও সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যায়। অদৃশ্য বিমানগুলো ১০ মিনিট বাদে আকাশে পুনরায় উদয় হল। বিমান কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিলেও পরবর্তীতে এটিকে যান্ত্রিক ত্রুটি হিসেবেই জানায়।

৬। আমেরিকার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনাগুলোর ভেতরে অন্যতম হচ্ছে ১৯৭৯ সালের ফ্লাইট ১৯১ এর বিধ্বস্ত হওয়া। রানওয়ে হতে উড্ডয়নের খানিক বাদেই দুর্ঘটনার পতিত হয় বিমানটি তাৎক্ষণিক মারা যান ২৫৮ যাত্রী ও ১৩ জন বিমান কর্মীর সকলে। এর কিছু বছর আগে ১৯৬৭ সালে একই নামের (১৯১) আরেকটি ফ্লাইট বিমান দুর্ঘটনার কবলে পতিত হলে সেখানেও মারা যায় বিমানটির পাইলট। এসব ঘটনা ঘটে যাওয়ার বেশ কয়েক বছর পর ২০১২ সালে ১৯১ সংখ্যাযুক্ত আরেকটি বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানটিতে পাইলটের পরিবর্তে বিমানের দায়িত্ব নিয়ে নেয় যাত্রীরাই। জনশ্রুতি আছে যে, পরপর তিনবার এমন ঘটনা ঘটার পরই কোন এয়ারলাইন্সই আর ১৯১ সংখ্যাটি ব্যবহার করতে চায় না!

৭। বিমান পরিসেবা সংস্থা হিসেবে এয়ার ফ্রান্স যথেষ্ট প্রসিদ্ধ এবং জনপ্রিয়। বিমানের অন্য দুর্ঘটনার চেয়ে এয়ার ফ্রান্সের একটি বিমান দুর্ঘটনার ব্যাপার একটু আলাদা। হঠাৎ করেই বিমানটির কো পাইলট বিমানটিকে উপরের দিকে নিয়ে যেতে শুরু করেন যখন মেইন পাইলট সাময়িক সময়ের জন্য টয়লেটে যান। দুর্ঘটনা পরবর্তীতে ব্ল্যাক বক্সে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কো পাইলটের একটি ভয়েস রেকর্ড এমন ছিল যে, বিমানে আমার নিয়ন্ত্রণ আছে! তবে নিয়ন্ত্রণ থাকার পরও কেন বিমানটি বিধ্বস্ত হয় তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। যদিও মেইন পাইলট ককপিটে পৌঁছে দেখেন অবস্থা মোটেই নিয়ন্ত্রণে ছিল না। প্রায় ৩৮ হাজার ফিট উপরে নাক উঁচু করে থেমে থাকা বিমানটি খুব দ্রুতই ভুমিতে পতিত হয়! আর এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মারা যায় কয়েকশ মানুষ। এ ঘটনার পরও সেই কো পাইলটের আচরণ এবং তার রহস্যময় কণ্ঠ বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাসে এখনো রহস্যই থেকে গেল।

মাশরাফির রাজনীতিতে আসা নিয়ে এত কথা কেন?

Now Reading
মাশরাফির রাজনীতিতে আসা নিয়ে এত কথা কেন?

ম্যাশকে নতুন করে পরিচয় দেয়ার কিছু নেই। ক্রিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাম বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে যে কজন খেলোয়াড়ের নাম শুনা যায় তাদের মধ্যে মাশরাফির নাম তুঙ্গে। মাশরাফির আনন্দে যেমন ভেসেছে গোটা দেশ ঠিক তেমনি তার কান্নায় কেঁদেছে গোটা জাতি। মাশরাফিকে ক্রিকেট প্রেমীরা এতটাই ভালবাসে যে আদর করে নামই দিয়েছে ম্যাশ। সে যাই হউক তার গুণগান গাইতে এখন আর ভাল লাগছেনা কেননা সে এখন রাজনীতিতে যোগ দিয়েছে। রাজনীতিতো ভাল জিনিস নয় বলে অনেকের ধারণা! সুতরাং ম্যাশ কাজটা মোটেই ভাল করেনি! তার উপর নিয়েছে আওয়ামীলীগ এর নমিনেশন ফরম।

ভাই হইছে, এবার আসল কথায় আসি… রাজনীতি নিয়ে যাদের নাক সিটকানি ভাব আছে কিন্তু দিন শেষে তারাও রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝতে কিংবা রাজনীতির খবরাখবর পেতে মুখিয়ে থাকেন। রাজনীতি তো রাজার নীতি, হতে পারে গুটি কয়েক রাজনীতিবিদ কিংবা দলের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারনে মানুষ সাময়িক এই পদ্ধতি হতে আস্থা হারায়। কিন্তু এই রাজনীতি ব্যাতিত একটি সমাজ তথা দেশকে পরিচালনা করা যে মোটেও সহজ কাজ নয় তা সকলের কাছে অনুমেয়। এই রাজনীতির মাধ্যমে সমাজ উন্নয়নের অংশীদার হওয়া সবচেয়ে সহজ এবং উত্তম। যাকে নিয়ে শুরুটা করেছিলাম, সেই মাশরাফি কিন্তু ১৬কোটি মানুষের আস্থায় পরিণত হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম এর ক্যাপ্টেন হয়ে। আর এই আস্থা অর্জনে ম্যাশকেও যথেষ্ট মুল্য দিতে হয়েছে। দেশের জন্য পায়ের লিগামেন্ট এর সমস্যা নিয়েও ঝুকিতে খেলে গেছেন ম্যাচের পর ম্যাচ, আর গুরুত্বপূর্ণ সেসব ম্যাচগুলোতে জয় উপহার দিয়ে দেশকে আনন্দেও ভাসিয়েছেন। ২০০১ এর ৮ নভেম্বর টেস্ট ম্যাচ দিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। বিগত ১৭ বছরের ক্যারিয়ারে দারুণ প্রতিভা, অদম্য সাহস, বুদ্ধি আর সাফল্য দিয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র রুপে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে। বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল এই অধিনায়কের নেতৃত্বে টাইগাররা প্রথমবারের মতো উঠেছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে এবং ২বার খেলেছে এশিয়া কাপের ফাইনালে। শুধু যে তিনি সফল অধিনায়ক তা কিন্তু নন, ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও তিনি যার ভাণ্ডারে আছে ২৫০টি উইকেট। সে যদি দেশের জন্য নিজেকে এভাবে উজাড় করে দিতে পারে তবে তার সামান্য ব্যাক্তিগত চাওয়া বা অধিকারকে আমরা কি নুন্যতম সম্মান দিতে পারিনা? অনেকেই বলছেন খেলা বাদ দিয়ে সে রাজনীতিতে জড়িয়েছেন, সেইসব মানুষরা এই খবর রাখেননা যে আগামী বিশ্বকাপ পর মাশরাফি অবসরে যাবেন তার ফিটনেস জঠিলতায় ধরুন। এখন বলতে পারেন অবসরে গেলেও তার রাজনীতি করার এমন কি প্রয়োজন হয়ে পড়ল! সোশ্যাল মিডিয়ার ঘুরে বেড়ানো এসব প্রশ্ন অহরহ। সত্যিকার অর্থে খেলোয়াড়ি জীবনের এই সাফল্য, নেতৃত্ব গুণ ও ব্যক্তিমানুষ হিসেবে নিজ এলাকা ও সমগ্র দেশে বিপুল জনপ্রিয়তা মাশরাফিকে তুলে দিয়েছে রাজনীতির মঞ্চে। আসুন তবে একটু জেনে নিই খেলার বাইরের মাশরাফি সম্পর্কে। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্রে ভর্তি হন যদিও ক্রিকেট ব্যস্ততার দরুন পড়াশোনার ইতি টানতে পারেননি। মাশরাফির পরিবার শুরু হতেই আওয়ামী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ চর্চা করে আসছে। তার বাবা গোলাম মুর্তজা একজন আওয়ামী ঘরনা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে অনুপ্রাণিত ব্যাক্তি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। যদিও মাশরাফি নিজে কিংবা তার পরিবার সেভাবে কখনো রাজনীতিতে নিজেদের জড়াননি। এলাকার উন্নয়নে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন’। তিনি প্রায়ই ছুটে জান নড়াইলে আর বেশির ভাগ সময় কাটান সেইসব বন্ধুদের সাথে যারা সমাজে সুবিধাবঞ্চিত। মাশরাফির স্বপ্ন, নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে গোটা নড়াইলকে বদলে দেয়ার। এমন নয় যে মাশরাফি এটা খেয়ালের বশে করছে, নিজের এলাকার উন্নয়নের এই পরিকল্পনা মনে এঁকেছেন যখন খেলোয়াড়ি জীবনে প্রতিটি সাফল্য তাকে একে একে ধরা দিচ্ছিল। তিনি উপলব্দি করলেন নিজ এলাকার জন্য এবার কিছু করা দরকার। সেই পরিকল্পনা ও মনের অদম্য ইচ্ছা হতেই প্রতিষ্ঠা করলেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তিনি নিজেই আর কোষাধ্যক্ষ করেছেন নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সর্বজন প্রিয় মির্জা নজরুল ইসলাম’কে। নড়াইলে দলমত-নির্বিশেষে মাশরাফি সব মহলে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব সুতরাং আওয়ামীলীগ এর মনোনয়নে তিনি নির্বাচন করলে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তেমন কেউ আর সুবিধা করতে পারবেননা। মাশরাফির স্বপ্ন, পুরো নড়াইলকে একদিন বদলে দেবে নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন।’ সুতরাং নড়াইলকে বদলে দিতে মাশরাফির বর্তমান সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাতেই হয় কেননা সঠিক সময়ে তিনি রাজনীতির মঞ্চে অবতীর্ণ হয়েছেন। স্বাভাবিক বিএনপি কিংবা অন্য রাজনৈতিক দলগুলো আশাহত হতেই পারে দেশের এমন এক রত্ন আওয়ামীলীগের ভাণ্ডারে যুক্ত হওয়াতে। ফুটবলার আমিনুল ইসলাম, গায়ক মনির খান, আসিফ আকবর, বেবি নাজমীন, ন্যান্সি এমনকি নায়িকা ময়ূরী যখন বিএনপি থেকে নমিনেশন নেয় কই তখনতো এভাবে কেউ নেতিবাচক কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ায়নি! তাই আসুন মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাই আর দেশকে সামনে এগিয়ে নিই।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সম্পূর্ণ মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের

Now Reading
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সম্পূর্ণ মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের

অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ এই যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১) এর সম্পূর্ণ মালিকানা এবং নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের কাছেই। বাংলাদেশের জন্য এ এক ঐতিহাসিক অর্জন। গত ১১ মে ২০১৮ রাত সোয়া ২টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বাংলাদেশের প্রথম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফলভাবে উৎক্ষেপণ হয়। বিশ্বের অন্যান্য স্পেস স্যাটেলাইট অধিকারী দেশের বহরে যুক্ত হল বাংলাদেশের নাম। বিএস-১ উৎক্ষেপণের ৬ মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ তার প্রেরিত প্রথম উপগ্রহ এর সম্পূর্ণ দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পেয়েছে। এরই মধ্য দিয়ে বিএস-১ এর রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনাসহ সব দায়িত্ব বাংলাদেশের হস্তগত হয়েছে।

গত ৯নভেম্বর ২০১৮ইং শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের হস্তান্তর’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) কার্যালয়ে এই দায়িত্ব আনুষ্ঠানিক বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস হতে বাংলাদেশের পক্ষে দায়িত্ব বুঝে নেয় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এবং তারাই আবার বিসিএসসিএল এর কাছে এই দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন।

আজ একটু পেছনে ফিরে যাব কবে হতেই বাংলাদেশ স্যাটেলাইট ব্যবহার ও অর্জনের ভিত রচিত হয়। দেশ স্বাধীনের পরবর্তীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের আওতাভুক্তির। ফলশ্রুতিতে ১৯৭৫ সালের ১৪ই জুন তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের বেতবুনিয়ায় প্রথম দেশের উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র স্থাপন করেন।  শুরুতে আমাদের অংশগ্রহণ ব্যবহারকারী হিসেবে থাকলেও বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং বর্তমান বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেদের একটি উপগ্রহ স্যাটেলাইট প্রয়োজনীয়তা উপলব্দি করলেন। সেই প্রয়োজনীয়তার তাগিদে বাংলাদেশ সরকার ২০১৫ সালের ১১ই নভেম্বর ‘’থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস’’ নামক এক ফরাসি কোম্পানির সাথে যাবতীয় যন্ত্রপাতি ও ডিজাইনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। স্পেস এক্স-এর তৈরি ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটের স্পেস শাটলের কার্গো বে’র মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাতে অবস্থিত ক্যাপ ক্যানাভেরাল-এর ‘কেনেডি স্পেস সেন্টার লঞ্চ প্যাড ৩৯এ থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কে উৎক্ষেন করা হয়। ১৬০০ ওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন স্যাটেলাইটটির ওজন ১৩০০ কেজি এবং বয়ে নিয়ে যাওয়া ফ্যালকণ রকেটসহ এর উৎক্ষেপণ ওজন ছিল প্রায় ৩৬০০ কেজি । কৃত্রিম উপগ্রহটির সর্বমোট ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ব্যান্ড আছে। চলবে…

রহস্যময়তায় ঘেরা ভৌতিক অরণ্যভূমি “বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল”

Now Reading
রহস্যময়তায় ঘেরা ভৌতিক অরণ্যভূমি “বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল”

রহস্যজনক স্থান ‘বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল’ এর নামকরণ করেন প্যারানরমাল গল্প লেখক জোসেফ এ সিত্রো। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম ভারমন্টে অবস্থিত  এই স্থানটির অদ্ভুতরে নাম রাখেন । অরণ্যেঘেরা এই অঞ্চলটি এখনো অনেকের কাছেই রহস্যময়তায় ঘেরা, এখানে প্রতিনিয়ত ঘটে রহস্যজনক সব ঘটনা। লোকমুখে প্রচলন আছে যে, এই অরণ্যে  ঢুকলেই শুনতে পাওয়া যায় অদ্ভুত সব আওয়াজ, কেউ কেউ বনের মধ্যে পথ হারিয়ে ফিরে পর্যন্ত আসে নি, আবার ফেরার পর অনেকেই হয়ে পড়েছে বদ্ধ উন্মাদ। স্থানীয়দের ধারণা, স্থানটিতে নাকি এক অশুভ শক্তির ভয়ংকর প্রভাব আছে। তার ফলে ঘটেছে একের পর এক রহস্যজনক নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা।

বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল

১৮৯২ সালে এলাকাটির রহস্যময়তার প্রথম সূত্রপাত ঘটে বলে অনেকেই মনে করে থাকেন। এ সময় হেনরি ম্যাকডওয়েল নামের এক স্থানীয় মাতাল জিম ক্রাউলি নামের এক কারখানার শ্রমিককে হত্যা করে। বিচারে ম্যাকডওয়েলকে উন্মাদ ঘোষণা করা হয় এবং ওয়াটারবেরি অ্যাসাইলামে পাঠানো হয়, কিন্তু তার আগেই সে জেলখানা থেকে পালিয়ে যায়। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলের প্রবেশ পথ

এর প্রায় ৩০ বছর পর একের পর এক রহস্যময় ঘটনা ঘটতে শুরু করে। ১৯২০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলে ঘটেছিল এমন কয়েকটি নিখোঁজের ঘটনা, যার রহস্যভেদ করা এখনো কোনো সার্চ টিম বা তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। কীভাবে একের পর এক এসব নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছিল, চলুন তাহলে তা জেনে আসি।

প্রথম ঘটনা

প্রথম যে ঘটনায় বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল তোলপাড় হয়, তা আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা, ১৯৪৫ সালের ২ নভেম্বরের ঘটনা। ৭৫ বছর বয়সী মিডি রিভার্স নামের একজন গাইড ৪ জন শিকারীকে নিয়ে পাহাড়ে গেলেন শিকারের উদ্দেশ্যে। দলটিকে নিয়ে ফিরে আসার সময় লং ট্রেইল রোড ও ৯ নম্বর রুটের কাছাকাছি এসে রিভার্স তার সহযাত্রীদের থেকে সামান্য এগিয়ে যান। এরপর থেকে তার সহযাত্রীরা তার আর কোনো হদিশই পাননি। হঠাৎই ঐ জায়গা থেকে তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। পরে স্থানীয় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকের দল চিরুনি অভিযান চালিয়েও রিভার্সের দেখা তো দূরে থাক, তার দেহ পর্যন্ত খুজেঁ পায়নি।

দ্বিতীয় ঘটনা

পরের ঘটনাটি ঘটে প্রায় এক বছর পর। ১৯৪৬ সালের ১ ডিসেম্বর। বেনিংটন কলেজে অধ্যয়নরত পলা ওয়েল্ডেন নামের এক ১৮ বছরের যুবতী ভ্রমণের নেশায় লং ট্রেইলের উদ্দেশ্যে বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলের বনের মধ্যে ঢুকে পড়েন। তার পরিচিত অনেকেই তাকে বনের মধ্য দিয়ে যেতে দেখেছে। কিন্তু সে আর জঙ্গল থেকে কখনো ফিরে আসেনি। এরপর তাকে খুজেঁ দেওয়া বা তার সন্ধান দেয়ার জন্য ৫,০০০ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়। কিন্তু কোনোভাবেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পলা ওয়েল্ডেন

তবে তাকে নিয়ে এমন গুজব ছড়ায় যে, পলা হয়তোবা তার প্রেমিকের সাথে কানাডায় চলে গেছে। আরেকটি ধারণাও তখন বেশ প্রচলিত ছিল, আর তা হচ্ছে প্রকৃতির মাঝে একাকী নিরিবিলি জীবনযাপনের জন্য নির্জন জঙ্গলকে বেছে নিয়েছে পলা। কিন্তু এর সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তৃতীয় ঘটনা

তৃতীয় ঘটনাটি ঘটে তার ৩ বছর পর, ১৯৪৯ সালের ১ ডিসেম্বর তারিখে। জেমস ই টেটফোর্ড নামের একজন প্রবীণ সামরিক ব্যক্তি তার এক আত্মীয়ের সাথে দেখা করার জন্য সেইন্ট এলবান থেকে বাসে করে বেনিংটনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। বাসে যাত্রী ছিলেন মাত্র ১৪ জন। কিন্তু বাস গন্তব্যস্থলে পৌঁছার পর দেখা গেল, জেমস বাসে নেই! বাসযাত্রীদের তথ্যমতে, বাসটি কোথাও যাত্রাবিরতি করেনি। কিন্তু সেইন্ট এলবান থেকে বাস যখন যাত্রা শুরু করে, তখন বাস ড্রাইভারসহ যাত্রীরা জেমসকে তার নির্ধারিত সিটে বসতে দেখেছে। বাস চলা শুরু করলে তিনি তার সিট থেকে একবারও ওঠেননি। আবার কয়েকজন যাত্রী শেষ স্টপেজের আগের স্টেশন পর্যন্ত জেমসকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেছেন বলে জানান। কিন্তু তারা কেউই বলতে পারলেন না, জেমস কোথায় হারিয়ে গিয়েছেন। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, জেমসের লাগেজ ব্যাগ সহ তার টাকাভর্তি ওয়ালেটটি তার আসনে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

চতুর্থ ঘটনা

পরের ঘটনাটি ঘটে পল জেপসন নামের এক আট বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে। ১৯৫০ সালের ১২ অক্টোবর এক সকালের ঘটনা। জেপসন ছিল তার মায়ের সাথে, তিনি এ সময় শুকরছানাদের খাবার খাওয়াচ্ছিলেন, আর জেপসন বাড়ির চারপাশে ছুটোছুটি করছিল। ঘণ্টাখানেক পর মা ঘরে এসে দেখেন, জেপসন ঘরের আশেপাশে কোথাও নেই। জেপসনের গায়ে ছিল লাল রঙের জ্যাকেট, দূর থেকেও যা সকলের চোখে পড়ার কথা। কিন্তু সার্চ টিম অনেক অনুসন্ধান করেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি।

পল জেপসনের হারিয়ে যাওয়ার পর সেসময়ের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর

পঞ্চম ঘটনা

জেপসনের ঘটনার মাত্র ১৬ দিন পর, অক্টোবরের ২৮ তারিখ। ৫৩ বছরের ফ্রিডা ল্যাঙ্গার ও তার চাচাতো ভাই হার্বার্ট এলসনার সমারসেট রিজার্ভেরারের কাছে ক্যাম্পিংয়ের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। হঠাৎই একটি ছোট স্রোতের নদী পার হতে গিয়ে ফ্রিডা পানির মধ্যে পড়ে যান। ভিজে যায় তার পরনের কাপড়চোপড়, এরপর তিনি হার্বার্টকে একটু অপেক্ষা করতে বলেন। পোশাক পরিবর্তনের জন্য ফ্রিডা ফিরে যান ক্যাম্পে। অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরও তিনি আসছেন না দেখে, হার্বার্ট ক্যাম্পে ফিরে আসেন। কিন্তু হার্বাট ক্যাম্পে এসে ফ্রিডাকে খুঁজে পাননি। এলাকাটি ফ্রিডার কাছে বেশ পরিচিত, ফলে দিনের আলোয় হারিয়ে যাওয়া তার পক্ষে বেশ অসম্ভবই বটে। আবার শুরু হলো ব্যাপক তল্লাশি। দুই সপ্তাহ ধরে ৩০০ জন অনুসন্ধানকারীর সমন্বয়ে গঠিত ৫টি অনুসন্ধান টিম হেলিকপ্টার, এয়ারক্রাফট থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে তন্নতন্ন করে অনুসন্ধান চালিয়েও ফ্রিডার অস্তিত্ব কোথাও খুঁজে পায়নি।

পল জেপসনের হারিয়ে যাওয়ার পর সেসময়ের পত্রিকায় প্রকাশিত খবর

তবে অদ্ভুত এক ব্যাপার হলো, এই ঘটনার এক বছর পর, ১৯৫১ সালের ১২ মে সমারসেট রিজার্ভের কাছাকাছি এক জায়গায় ফ্রিডার দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু তার দেহ ময়নাতদন্ত করেও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে ফ্রিডাই একমাত্র নারী যার লাশটি খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল।

 

কেন ঘটছে একের পর এক এই অদৃশ্য হওয়ার ঘটনা?

অনেক প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে তাদের নানা অভিমত উপস্থাপন করেছেন। নেটিভ আমেরিকানরা গ্লসটেনবারি মাউন্টেনের আশেপাশের এলাকাটি ‘অভিশপ্ত ভূমি’ বলে মনে করেন। এলাকাটিতে বসবাস স্থাপনকারী প্রথম ইউরোপীয় অধিবাসীদের এক অংশের অভিমত, পাহাড়ের পিছনের আকাশে প্রায় সময়ই এক অদ্ভুত আলোর ঝলকানি দেখা যায়। বাতাসে ভেসে বেড়ায় এক মাদকতাময় গন্ধ আর মাঝে মাঝে শোনা যায় নানা অদ্ভুত ধ্বনি। স্থানীয় কারো কারো মতে, এক বিশাল দৈত্যাকার প্রাণীর বাস রয়েছে জঙ্গলটিতে। এই প্রাণীটির অকস্মাৎ আক্রমণের শিকার হয় অভিযাত্রীরা।

অনেক প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞের মতে, স্থানটিতে বাস্তব চেনা ত্রিমাত্রিক জগতের প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে কেউ এই জগতে প্রবেশ করতে গেলে সে দিকভ্রান্ত হয়ে হারিয়ে যায়। আবার অনেকের মতে, ভিন্ন গ্রহের প্রাণীদের অবস্থান রয়েছে এই বেনিংটন টায়াঙ্গল জঙ্গলে, তাদের কারণেই ঘটছে এসব অস্বাভাবিকতা। আরেকটি মত হচ্ছে, কোনো সিরিয়াল খুনী বনের মধ্যে বসতি গড়ে আছে, সে-ই এই সব খুনের পেছনে দায়ী। বিষয়টি যদি সত্যি হয়, তাহলে একটি প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়, এতগুলো হত্যাকাণ্ডের কোনো হদিশ কেন পাওয়া গেল না। একটি ছাড়া কেন পাওয়া গেলো না আর কোনো মৃতদেহ।

এরপরও এমন কিছু তথ্য এসব অদৃশ্য ঘটনার পেছনে পাওয়া যায়, যেগুলো বেশ রোমাঞ্চকর।

১. সবগুলো হত্যাকাণ্ড একটি বিশেষ সময়ে ঘটেছে। শীতের সময় ছাড়া বছরের অন্য সময়ে কেন এমন কিছু ঘটে না?

২. ১৯৪২ ও ১৯৫০ সালের মধ্যে এসব অদৃশ্য হওয়ার ঘটনাগুলো ঘটেছে।

৩. ফ্রিডা ছাড়া আর কারো কোনো হদিশ শেষপর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কিন্তু কীভাবে ফ্রিডা তার তাঁবু থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলো, সেটিই একটি রহস্য।

৪. হারিয়ে যাওয়ার পর অনুসন্ধান দল তন্নতন্ন করে খুঁজেও ফ্রিডার কোনো হদিশ পায়নি। অথচ এক বছর পর যে জায়গা থেকে তিনি হারিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানেই তার লাশ পাওয়া যায়, যা এক বড় রহস্য।

৫. ফ্রিডা এবং রিভার দুজনই বয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন এবং এলাকাটি তাদের নখদর্পনে ছিল। তাই পথ হারিয়ে ফেলা তাদের পক্ষে একবারেই অসম্ভব।

৬. অপর দুই ভিক্টিম ওয়েল্ডন ও জেপসন উজ্জ্বল লাল জ্যাকেট পরিহিত ছিল। ফলে অনেক দূর থেকে তাদের দেখতে পাওয়া যাওয়ার কথা। কিন্তু তাদের পরিহিত কোনো কাপড় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

৭. আবার ওয়েল্ডন ও ট্রেডফোর্ড এই দুই ভিক্টিম তিন বছরের ব্যবধানে একই তারিখে অদৃশ্য হয়ে যান, যা বেশ কাকতালীয়।

জনমানবহীন ভূতুড়ে শহরে পরিণত হওয়া বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলের পাশের শহর গ্লসটেনবারি

১৯৩৭ সালের পূর্বে এলাকাটি বেশ জনবহুল ছিল। কিন্তু ১৯৩৭ সালের দিকে গ্লসটেনবারি শহরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারি দেখা দেয়, ফলে অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটে। সে সময় নগরটি পরিত্যক্ত হয়। ২০১০ সালের একটি আদশুমারীর তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকাটিতে সব মিলিয়ে মাত্র আটজন বাসিন্দা বাস করে। বর্তমানে এটি ভূতুড়ে শহর হিসেবেই পরিচিত।

 

নেবুলা সম্পর্কিত অজানা বিষয়গুলি

Now Reading
নেবুলা সম্পর্কিত অজানা বিষয়গুলি

সত্যি বলতে আকাশ বলতে কোন কিছুর অস্তিত্ব নেই ফলে এটি ছোঁয়াও সম্ভব নয়। কিন্তু এর পরও এই আকাশের খুঁটিনাটি জানতে তার পিছু নিয়েছে মানুষ। তাইতো এই আকাশ-মহাকাশ নিয়ে মানুষের কল্পনা আবর্তিত। এই মহাকাশের একটি অংশ নেবুলা নিয়ে লিখছি যাকে বাংলায় নীহারীকা বলা হয়। এই নেবুলাকে আকাশের ডাস্ট বলা হয় অর্থাৎ মহাকাশের ধুলিকণা একত্রে মিলিত হয়ে নেবুলা বা নীহারীকার সৃষ্টি করে। মহাকাশে গ্যাস কিংবা ধূলিকণা একত্রে মিশে মেঘের মত আকার ধারণ করে নেবুলার সৃষ্টি করে যা রাতের আকাশে স্পষ্ট দেখা মিলে। এই গ্যাসের মধ্যে আছে ইন্টারস্টেলার ক্লাউড ,হিলিয়াম গ্যাস, হাইড্রোজেন গ্যাস এবং সাথে অন্যান্য আয়নিক গ্যাসসমূহ। সাথে আরো রয়েছে প্লাজমা যা রয়েছে নীহারিকার মধ্যে। গ্যাস প্লাজমা অবস্থায় থাকার কারন হচ্ছে উচ্চ তাপ। মুলত নেবুলা  হচ্ছে ছায়াপথ সহ অন্য সকল মহাজাগতীক বস্তুর সাধারন নাম যা মিল্কি ওয়ের বহির্ভাগে অবস্থিত। চলুন জেনে নিই এমন কিছু নেবুলা সম্পর্কে…

হ্যালিক্স নেবুলাঃ

পৃথিবী থেকে ৭০০ আলোকবর্ষ দূরে অ্যাকুয়ারিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত নির্জীব প্রাণহীন এই তারাটিকে বিজ্ঞানীরা যেভাবে এতদিন ভেবে আসছিলেন, স্পিটজার টেলিস্কোপের পাঠানো সে চিত্র পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীদের এতদিনের সকল ধারণা নিমেষেই নস্যাৎ হয়ে গেছে। ছবিটি দেখেই মনে হয় বিশালাকার এক রক্তচক্ষু জীব তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। সে যেন নিভে যাওয়ার আগে নিজের খোলস থেকে মুক্ত করে দিচ্ছে উচ্চ মাত্রার বিকিরণ জনিত শক্তি। তাপমাত্রা ১১০,০০০ ডিগ্রি কেলভিন। সাদা বামন সদৃশ এই তারাটির বিচ্ছুরিত বিকিরণ এক্স –রে ছাড়া কিছুই নয়। এর নাম হ্যালিক্স নেবুলা। ব্যাস ২.৫ আলোকবর্ষ। একে ঘিরে থাকা ধূম্রজালের আবরণের ছবি পাঠিয়ে স্পিটজার টেলিস্কোপ সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এর আগে ধূলোর এই আবরন সমেত তথ্য বিজ্ঞানীদের কাছে ছিল না। ইনফ্রা রেড ক্যামেরা দিয়ে ধরা এ আলোকচিত্র মহাকাশের ক্যানভাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ৩৫ থেকে ১৫০অ্যাস্ট্রনোমিকাল ইউনিট দূর পর্যন্ত এই ধূম্রজাল বিস্তৃত।

[ সূর্য হতে পৃথিবীর দূরত্ব কে বলে এক অ্যাস্ট্রনোমিকাল ইউনিট=৯৩ মিলিয়ন মাইল=১৫০ মিলিয়ন কি.মি.]

কিন্তু কোথা হতে আগমন এই ধূম্রবলয়ের? অনেক ভেবে চিন্তে বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে নেবুলার পাশ দিয়ে নিশ্চয়ই কোন ধূমকেতুর সবেগে মন্থন ঘটেছিল যার কারণে এই ধূম্রবলয়ের সৃষ্টি। আমাদের সৌরমন্ডলের সূর্য নামক নক্ষত্রটিও একদিন নিস্প্রভ হয়ে পড়বে। পর্যায়ক্রমিক রূপান্তরের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি হতে ৫ বিলিয়ন বছর আরো যদিও বাকী, তখন আমাদের সূর্যও প্রচণ্ড শক্তি নির্গত করে আলোর তীব্র ছটায় আলোকজ্জ্বল হয়ে মহাকাশের গর্ভে নিস্প্রভ হয়ে সমস্ত শক্তি হারিয়ে সাদা বামন সদৃশ পিন্ডে পরিণত হবে। ইনার প্ল্যানেটসমূহ যেমন বুধ শুক্র পৃথিবী মঙ্গল অর্থাৎ যাদের কক্ষপথগুলো সূর্যের কাছাকাছি তাদের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে সূর্যের এই বিস্ফোরণে। আর সৌরবলয়ের আউটার প্ল্যানেটগুলো যারা কিনা মঙ্গল হতে দূরে অবস্থিত যেমন বৃহস্পতি ইউরেনাস নেপচুন প্লুটো এবং কিছু অবশিষ্ট ধূমকেতুসমূহ বলয় আকারে ঘুরতে থাকবে অনন্তকাল এই নিভে যাওয়া তারাটিকে ঘিরে। মানব প্রজাতি হয়তো বা এরমাঝে অন্য কোন গ্রহে আবাস স্থাপন করবে। শুরু থেকে শুরু হবে মানব সভ্যতার নতুন ইতিহাস, নতুন অগ্রযাত্রা। ভেবে ভেবে একদিন হয়তোবা আবিষ্কার করে বসবে মানুষের পূর্ব আবাসস্থল ছিল পৃথিবী নামক এক গ্রহে সূর্য নামক সৌরমণ্ডলের অধীনে মিল্কিওয়ে নামক ছায়াপথে।

কারিনা নেবুলাঃ

ইওরোপীয়ান সাউদার্ন মান মন্দির,নভোমন্ডলের অন্যতম বৃহত ও উজ্জ্বল যে নেবুলার জটিল গঠনের বিস্তৃত বর্ণনা আমাদের কাছে উন্মোচন করেছে তার নাম কারিনা নেবুলা। আমাদের হতে ৭৫শত আলোকবর্ষ দূরে কারিনা নক্ষত্র মন্ডলে এটি অবস্থিত। ১০০ আলোকবর্ষ অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত অরাইওন নেবুলা হতে এটি ৪ গুণ বড় এবং উজ্জ্বলতর।

নক্ষত্র উতপাদনের কারখানা হিসেবে এ নেবুলাটি একটি উপযুক্ত স্থান। ঘন মেঘপুঞ্জ দ্বারা আবৃত নেবুলাটির আনাচে কানাচে প্রতিনিয়ত তৈরী হচ্ছে নক্ষত্রগুচ্ছ। তবে নবজন্ম লাভকারী ভয়ঙ্কর আকৃতির নবীন নক্ষত্রগুলো যে তীব্র বিকিরণ জনিত শক্তির বিচ্ছুরণ ঘটায় তার কারণেই এত উজ্জ্বল আভাময় দেখায় কারিনাকে। লালচে রক্তিমাভ আভার জন্য হাইড্রোজেন ও আলট্রা ভায়োলেট রশ্মির সংমিশ্রণই দায়ী। প্রায় ডজন খানেক নক্ষত্রের সন্ধান এ নেবুলাতে সহজেই পাওয়া যাবে, যারা আমাদের সূর্য হতে ৫০ থেকে ১০০ গুন বেশী ভর বিশিষ্ট। অত্যাধিক ভারী বলেই কয়েক মিলিয়ন বর্ষেই তারা তাদের জীবনচক্র সমাপ্ত করে। সেখানে কিনা আমাদের সূর্যের আয়ুষ্কাল ১০ বিলিয়ন বছর। এই দশ বিলিয়ন দীর্ঘ সময়ের সাথে তুলনা করলে কারিনা নেবুলার ঐ ভারী নক্ষত্রগুলোর আয়ুষ্কাল সূর্যের জীবদ্দশার এক পল মাত্র।

কারিনা শব্দটি ল্যাটিন, যার অর্থ keel of a ship. Keel মানে জাহাজের তলি। জাহাজ যেন এদিক ওদিকে বারবার দুলে না উঠে অর্থাত জাহাজকে স্থিতিশীল রাখার নিমিত্তে নির্মিত ধাতব খন্ড বিশেষ। বা আক্ষরিক অর্থে নয় বরং আলঙ্কারিক অর্থে এর অর্থ হতে পারে জাহাজ। দক্ষিণ গোলার্ধের আকাশে একটি নক্ষত্রমন্ডলীর নাম ছিল Argo Navis. Argo মানে জাহাজ। নামকরণ করেছিলেন টলেমি। অসম্ভব বড় আকৃতি বিশিষ্ট হওয়ার দরুণ এর নাম বিলুপ্ত করে এই নক্ষত্রমন্ডলীকে তিন ভাগে বিভক্ত করে তিনটি নামকরণ করা হয়। যেমনঃ

১ carina (keel) অর্থ জাহাজ

২ puppis অর্থ জাহাজের পশ্চাতভাগের ডেক

৩ vela অর্থ পাল

নেবুলাটির মধ্যস্থিত অতিউজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ইটা-কারিনা। সূর্যের চেয়ে প্রায় ১০০ গুন ভরবিশিষ্ট ও চার মিলিয়ন গুন বেশী উজ্জ্বল বলেই এই নক্ষত্রটি আমাদের ছায়াপথ মিল্কওয়েতে অবস্থানকারী জ্যোতির্ময় সৌন্দর্য্যে সর্বোচ্চ খ্যাত ও হৃদয়গ্রাহী বৈশিষ্ট্যে মন্ডিত। তাই ইটা-কারিনা এতটা নজড়কাড়া। এটি খুব অস্থিতিশীল হওয়াতে প্রচন্ড গতিশক্তি সম্পন্ন বহিঃ বিস্ফোরণের নমুনা বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছিলেন ১৮৪২ সালে।কয়েকবছর ধরেই ইটা-কারিনা ছিল দ্বিতীয় উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।

সুপারনোভা বা অতিকায় নব-নক্ষত্র বিস্ফোরণের সময় উতপন্ন প্রচন্ড আলোর ছটা যেমন চারিদিক ঝলসে দিয়ে নভোমন্ডলকে আলোকজ্জ্বল করে তুলে, ইটা কারিনা ঠিক তেমন উদাহরণ স্থাপন করলেও বিস্ফোরণে একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়নি।এর একটি সঙ্গী নক্ষত্র আছে যে কিনা একে প্রদক্ষিণ করে ৫.৫৪ বছরে। প্রদক্ষিণ কালে কক্ষপথের খুব কাছাকাছি এলে প্রবল শক্তি সম্পন্ন বায়ু প্রবাহের সংঘর্ষ তখন বিস্ময়কর ঘটনার সৃষ্টি করে। ২০০৯ এর জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে তারা দুজন সবচেয়ে নিকটবর্তী হওয়ার দরুণ অনন্য এক নভোমন্ডলীয় অবস্থার উতপত্তি হয়েছিল যা পর্যবেক্ষণ করে বিজ্ঞানীরা নক্ষত্রদুটির গ্যাসীয় পরিমন্ডলের ধরণ ও গঠণ সম্বন্ধে ব্যাপক ধারণা লাভে সক্ষম হন। সেই সময়টুকুতে ইউরোপীয়ান সাউদার্ন মান মন্দির পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল অসংখ্য বৈজ্ঞানিক যন্ত্রাংশের সমাহারে। হঠাতই মনে হতো এ মান মন্দির যেন ছোটখাটো এক রণতরীর অন্য আরেক রূপ।

বাবল নেবুলাঃ

ঐ দূরের আকাশে আমাদের অজান্তেই গ্যসীয় ধূম্রকুন্ডলী প্রলেপে প্রলেপে আবৃত হয়ে অধিকার করে ফেলেছে এক বিশাল অঞ্চল যা ধীরে ধীরে প্রায় ৬ আলোকবর্ষ স্থান জুড়ে গ্যাসীয় বুদবুদ আর ধোঁয়াটে অথচ মনোমুগ্ধকর লালচে আভার এক অপূর্ভ শোভা হয়ে ধরা দিচ্ছে আমাদের চোখে। নক্ষত্র বানাবার এক বিশাল কারখানা এ যেন। নাম বাবল নেবুলা NGC 7635.

এর কেন্দ্রে জ্বলজ্বল করছে উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। অসম্ভব উত্তপ্ত এ নেবুলা সারাক্ষণ ছড়িয়ে দিচ্ছে উত্তপ্ত গ্যাসীয় কণা সমগ্র মহাকাশে। তাপমাত্রা ২৫ হাজার ডিগ্রী কেলভিন ছাড়িয়ে তারও বেশী হতে পারে , প্রায় ৩০ হাজার ডিগ্রী কালভিনের মতন। আসলে ঐ নক্ষত্রটি থেকে শক্তিশালী বিকিরণ চারিদিকের গ্যাসীয় মন্ডলীকে বিদ্যুতায়িত করে তৈরি করেছে এই উজ্জ্বল রক্তিম আলোকচ্ছটা।সাবানের বুদবুদের মতো সমতল ও মসৃন নয় এই গ্যাসীয় বুদবুদের পৃষ্ঠভাগ। কিছুটা ঢেউ খেলানো এবড়ো থেবড়ো বহির্ভাগ নির্দেশ করে বিভিন্ন ঘনত্ব সমৃদ্ধ গ্যাসীয় আস্তরণ।

ঘন্টায় ৪ মিলিয়ন মাইল বেগে প্রসারনরত এই নেবুলাটি তার উত্তপ্ত বিক্ষিপ্ত গ্যাসীয় মন্ডল নিয়ে তৈরি করছে এ মনোমুগ্ধকর আলোকচিত্র, ক্যসিওপিয়া নক্ষত্রমন্ডল বরাবরে। পৃথিবী হতে প্রায় ৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এ নেবুলাটি আমাদের কাছে অনন্ত বিস্ময়ের বিষয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বহু কাঙ্ক্ষিত তফসিল ঘোষণা।

Now Reading
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বহু কাঙ্ক্ষিত তফসিল ঘোষণা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুলহুদা জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে জানিয়েছেন আগামী ২৩ডিসেম্বর ২০১৮ইং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেছেন প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর ২০১৮ ইং এবং মনোনয়ন পত্র বাছাইয়ের তারিখ ২২নভেম্বর এবং প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯নভেম্বর। বলা যায় তফসিল ঘোষণার পর হতেই কার্যত নির্বাচনপূর্ব সময় শুরু হয়ে গেছে। গত ৪ নভেম্বর ২০১৮ইং নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ সভায় আজ ৮ নভেম্বর ২০১৮ ইং তফসিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয় এবং সেই মোতাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে সরাসরি সন্ধ্যা ৭টায় সংবিধানের অনুচ্ছেদ এর ১২৩ দফা (৩) উপদফা (ক) এর আলোকে একাদশ জাতীয় নির্বাচন এর সময়সূচী ঘোষণা করেন। তিনি বলেন সকল দলমত নির্বিশেষে সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, ধর্ম, জাত, বর্ণ, নারী ও পুরুষ সকলেই নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এবার সংসদের ৩০০টি আসনের বিপরীতে ভোট দেবেন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন ও নারী ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার দীপ্ত কণ্ঠে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এছাড়াও  তিনি তাঁর ভাষনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন(EVM) ব্যবহারেরও ঘোষণা দেন এবং এর সামগ্রিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত করেন। তিনি বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাজনৈতিক দল সমূহের ফলপ্রসূ সংলাপের ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণমূলক অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচনের পথ প্রশস্থ হয়েছে। সংবিধান মোতাবেক সঠিক সময়ে নির্বাচন দিতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন তার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

ব্ল্যাক স্যুটের আড়ালে দুর্ধর্ষ এক সুপুরুষ “জেমস বন্ড”

Now Reading
ব্ল্যাক স্যুটের আড়ালে দুর্ধর্ষ এক সুপুরুষ “জেমস বন্ড”

“মাই নেম ইজ বন্ড, জেমস বন্ড”

জেমস বন্ড নামটির সাথে পরিচিত নন এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। নামটি মুখে নিলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে একজন তুখোড় গোয়েন্দা এজেন্ট এর প্রতিছবি। আমার ছোট বেলা অর্থাৎ স্কুল লেভেল হতেই এই নামটির সাথে বেশ সখ্যতা। বলা যায় নিজের নামের সাথে ০০৭ জুড়ে দিতাম পাঠ্য বইয়ের কাভারে এবং খাতায়। বলা যায় বাল্যজীবনের সেই সময় হতে এখনো অবধি জেমস বন্ড এর পুরোদুস্তুর একজন ভক্ত। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘ ডাই হার্ড ফ্যান’, জেমস বন্ড সিরিজের প্রতিটি পর্বই কমপক্ষে ৪-৫বার দেখা হয়েছে। চলচিত্রে জেমস বন্ড চরিত্রটিকে ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের একজন এজেন্ট হিসেবে রুপ দেয়া হয়েছে যে কিনা নিজের বুদ্ধি ও কৌশলগুণে অসাধ্যকে সাধন করে ফেলতে পারেন অনায়াসে এবং যেকোন মিশন সফলভাবে সমাপ্ত করতে পারেন। জেমস বন্ড ছেলে-বুড়োদের কাছে এতটাই জনপ্রিয় যে সকলেই চরিত্রটিকে সত্যিকার ভাবেন, কিন্তু আসলে এটি কোন বাস্তব চরিত্রের আলোকে নির্মিত চলচিত্র নয় বা জেমস বন্ড বাস্তবের কোন হিরো নন। মূলত বিখ্যাত উপন্যাসিক ইয়াং ফ্লেমিং ১৯৫৩ সালে তার গোয়েন্দা উপন্যাসে জেমস বন্ড চরিত্রটি সৃষ্টি করেন যা পরবর্তীতে চলচিত্র রুপে প্রকাশ পায়। ইয়াং ফ্লেমিং এর উপন্যাসকে কেন্দ্র করেই জেমস বন্ড সিরিজের প্রতিটি চলচিত্র নির্মিত। ইয়াং ফ্লেমিং বেঁচে থাকা অবস্থায় ১৪টি বই লিখে গেছেন যার প্রতিটি জেমস বন্ড চরিত্রের উপর ভিত্তি করে। বাকি সিরিজগুলো অন্য লেখকদের হাত ধরে প্রকাশ পায়। প্রথম উপন্যাসে জেমস বন্ডকে একজন রয়েল নেভির কমান্ডার হিসেবে দেখানো হলেও পরবর্তী উপন্যাসে সেই চরিত্র বদলে ব্রিটিশ সিক্রেট এজেন্ট এর রুপ দেয়া হয়। রুপ দেয়ার কথা বললে কিছুটা ভুল হবে কেননা তাকে নেভি হতে সিক্রেট সার্ভিসে রিক্রুট করা হয়। মূলত সেই পরিবর্তনের ফলে জেমস বন্ড সিরিজের প্রতিটি উপন্যাসই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। ১৯৯৫ সালে ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের নাম পরিবর্তন হয়ে MI6 (Majesty’s Secret Service) নাম ধারণ করে। জেমস বন্ড এর কোড 007 নিয়ে অনেকের কৌতূহল কাজ করে। আসলে এই কোডটি হচ্ছে এজেন্ট কোড অর্থাৎ সিক্রেট সার্ভিস কর্তৃক নিযুক্ত এজেন্টরা তাদের প্রতিটি মিশনে খুন করার লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়, যাদের কোড সিরিজ শুরু হয় 00 দিয়ে । ইয়াং ফ্লেমিং এর উপন্যাসে তার সৃষ্ট ১৩জন এমন এজেন্টের মধ্যে জেমস বন্ড হচ্ছেন ৭ নাম্বারে তাই তার কোড 007। যদিও জেমস বন্ড ছাড়া বাকি এজেন্টদের নাম উপন্যাস এবং চলচিত্রে ভিন্নভাবে ব্যবহত হয়েছে, এ নিয়ে কারো কারো দ্বিমত ও থাকতে পারে। উপন্যাস ও বিভিন্ন অফিসিয়াল সাইট হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চলুন দেখে নেই সেই ১৩জন এজেন্ট কারা?

১। এডওয়ার্ড ডন (কোড 001)

২। বিল ফেয়ারব্যাংকস জন (কোড 002)

৩। জেক ম্যাসন (কোড 003)

৪। স্কারলেট পাপাভা (কোড 004)

৫। স্টূয়ার্ট থমাস (কোড 005)

৬। এলেক ট্র্যাভেলিয়ান (কোড 006

৭। জেমস বন্ড (কোড 007)

৮। বিল টিমুথি (কোড 008)

৯। পিটার স্মিথ (কোড 009)

১০। জন উলফগ্রাম (কোড 0010)

১১। (কোড 0011) নাম অজানা এই এজেন্ট সিঙ্গাপুরে হারিয়ে যায়

১২। স্যাম জনস্টন (কোড 0012)

১৩। ব্রাইয়নি র্থন (কোড 0013)

যদিও ইয়াং ফ্লেমিং শুধুমাত্র ৫জন এজেন্টের নাম উল্ল্যেখ করেছেন আর বাকি এজেন্টদের নাম ফ্রান্সাইসি কর্তৃক এসেছে।  কোড বিহীন অন্যান্য এজেন্টদের মধ্যে আরো রয়েছে- রাউল সিল্ভা, দাউস, হ্যামিলটন, বেইনেস, মিরাণ্ডা ফ্রস্ট, এজেন্ট ইয়র্ক, সুজি কেউ, হ্যানরি ফ্রেসার, ক্লাইব উডস্লো। যদিও চলচিত্র নির্মাণ হয়েছে কেবল জেমস বন্ডকে প্রাধান্য দিয়ে এবং অন্য এজেন্টদের ভুমিকা এখানে লক্ষ্য করা যায়না। শুধু মাত্র ‘গোল্ডেন আই’ সিনেমাতে 006 কে অল্প সময়ের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। ইয়াংফ্লেমিং জেমস বন্ডকে কোন বয়সের উল্ল্যেখ না করলেও চলচিত্রে জেমস বন্ড চরিত্রের নায়ক নির্বাচন করা হয় চল্লিশোর্ধ্ব হ্যান্ডসাম পুরুষকে। জেমস বন্ড এমন একজন পুরুষ যিনি বেশ আকর্ষণীয় এবং আবেদনময়ী। যার কথায় এবং আচার-আচরণে আছে ব্যাক্তিত্বের চাপ, যিনি অনায়াসেই সুন্দরী নারীদের নিজের প্রতি আকর্ষিত করতে পারেন। এলকোহলের মধ্যে ভদকা মার্টিনি ককটেল বেশি পছন্দ করেন বন্ড, উপন্যাস ও চলচিত্রের প্রায় সবখানে তার প্রমান পাওয়া যায়। সবসময় হাতে রোলাক্স ব্র্যান্ড এর ঘড়ি ব্যবহার করেন এবং পোশাকের মধ্যে ডিনার জ্যাকেটই তার সবচেয়ে প্রিয়।

 

এ পর্যন্ত জেমস বন্ড সিরিজের মুক্তি পাওয়া চলচিত্র হচ্ছে ২৬টি, চলুন দেখে নিই চলচিত্রগুলার নাম এবং সেই সাথে জেমস বন্ড চরিত্রে অভিনয়কারী আকর্ষণীয় নায়কদের নাম।

১. “ড নো” মুক্তির সালঃ ১৯৬২, পরিচালকঃ টেরেন্স ইয়ং জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৫৯.৫মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২. “ফ্রম রাশিয়া ইউথ লাভ” মুক্তির সালঃ ১৯৬৩, পরিচালকঃটেরেন্স ইয়ং জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৭৮.৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৩. “গোল্ড ফিঙ্গার” মুক্তির সালঃ ১৯৬৪, পরিচালকঃ গাই হেমিল্টন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১২৪.৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৪. “থান্ডারবল” মুক্তির সালঃ ১৯৬৫, পরিচালকঃ টেরেন্স ইয়ং জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৪১.২ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৫. “ক্যাসিনো রয়াল” মুক্তির সালঃ ১৯৬৭, পরিচালকঃ জন হাস্টন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ ডেভিড নিভেন, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৪১.৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৬. “ইউ অনলি লিভ টোয়াইস” মুক্তির সালঃ ১৯৬৭, পরিচালকঃ লুইস গিলবার্ট, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১১১.৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৭. “অন হার মেজিস্টে’স সিক্রেট সার্ভিস” মুক্তির সালঃ ১৯৬৯, পরিচালকঃ পিটার আর হান্ট, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ জর্জ লাজেনবাঈ, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৮২ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৮. “ডায়মন্ডস আর ফরেবার” মুক্তির সালঃ ১৯৭১, পরিচালকঃ গাই হেমিল্টন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১১৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

৯. “লিভ এন্ড লেট ডাই” মুক্তির সালঃ ১৯৭৩, পরিচালকঃ গাই হেমিল্টন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৬১.৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১০. “দ্যা ম্যান উইথ দ্যা গোল্ডেন গান” মুক্তির সালঃ ১৯৭৪, পরিচালকঃ গাই হেমিল্টন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৯৭.৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১১. “দ্যা স্পাই হু লাভড মি” মুক্তির সালঃ ১৯৭৭, পরিচালকঃ লুইস গিলবার্ট, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৮৫.৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১২. “মুনরেকার” মুক্তির সালঃ ১৯৭৯, পরিচালকঃ লুইস গিলবার্ট, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ২১০.৩ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৩. “ফর ইউর আইস অনলি” মুক্তির সালঃ ১৯৮১, পরিচালকঃ জন গ্লেন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৯৫.৩ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৪. “অক্টোপূসি” মুক্তির সালঃ ১৯৮৩, পরিচালকঃ জন গ্লেন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৮৭.৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৫. “নেভার সে নেভার এগেইন” মুক্তির সালঃ ১৯৮৩ পরিচালকঃ আরভিন কার্সনার, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ শ্যেন কনারি, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৬০ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৬. “অ্যা ভিউ টু এ কিল” মুক্তির সালঃ ১৯৮৫, পরিচালকঃ জন গ্লেন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ রজার ম্যুর, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৫২.৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৭. “দ্যা লিভিং ডে লাইটস” মুক্তির সালঃ ১৯৮৭, পরিচালকঃ জন গ্লেন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ টিমুথি ডাল্টন, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৯১.২ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৮. “লাইসেন্স টু কিল” মুক্তির সালঃ ১৯৮৯, পরিচালকঃ জন গ্লেন, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ টিমুথি ডাল্টন, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১৫৬.১৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

১৯. “গোল্ডেন আই” মুক্তির সালঃ ১৯৯৫, পরিচালকঃ মার্টিন ক্যাম্পবেল, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ পিয়ার্স ব্রুসনান, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৩৫৬.৪২ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২০. “টুমোরো নেভার ডাইস” মুক্তির সালঃ ১৯৯৭, পরিচালকঃ রজার সপটিসউড, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ পিয়ার্স ব্রুসনান, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৩৩৯.৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২১. “দ্যা ওয়ার্ল্ড ইস নট এনাফ” মুক্তির সালঃ ১৯৯৯, পরিচালকঃ মাইকেল এপটেড, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ পিয়ার্স ব্রুসনান, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৩৬১.৭৩ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২২. “ডাই এনাদার ডে” মুক্তির সালঃ ২০০২ পরিচালকঃ লি তামাহুরি, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ পিয়ার্স ব্রুসনান, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৪৩১.৯৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২৩. “ক্যাসিনো রয়াল” মুক্তির সালঃ ২০০৬ পরিচালকঃ মার্টিন ক্যাম্পবেল, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ ড্যানিয়েল ক্রেগ, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৫৯৪.৪২ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২৪. “কোয়ান্টাম অব সোলেস” মুক্তির সালঃ ২০০৮, পরিচালকঃ মার্ক  ফরস্টার, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ ড্যানিয়েল ক্রেগ, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৫৯১.৬৯ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২৫. “স্কাই ফল” মুক্তির সালঃ ২০১২, পরিচালকঃ স্যাম মেন্ডেজ, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ ড্যানিয়েল ক্রেগ, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ১.১১০ বিলিয়ন ইউএস ডলার।

২৬. “স্পেকট্রি” মুক্তির সালঃ ২০১৫, পরিচালকঃ স্যাম মেন্ডেজ, জেমস বন্ড চরিত্রে ছিলেনঃ ড্যানিয়েল ক্রেগ, বক্স অফিসে ছবিটি আয় করেছিলঃ ৮৭৯.৬ মিলিয়ন ইউএস ডলার।

২৭. “বন্ড টুয়েন্টি ফাইভ” মুক্তির সালঃ ২০১৯ (প্রস্তাবিত), পরিচালকঃ ক্যারি জজি ফুকুনাগা, জেমস বন্ড চরিত্রে থাকবেঃ ড্যানিয়েল ক্রেগ। ২৪তম সিরিজের এই ছবিটির বাজেট এখনো প্রকাশ করেনি তবে ২০১৯ সালের মার্চে শুরু হচ্ছে জেমস বন্ড সিরিজের “বন্ড টুয়েন্টি ফাইভ” ছবিটির শুটিং। যদিও ছবিটি মুক্তির কথা ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে কিন্তু সময় পাল্টে ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সেটি মুক্তির সময় পুনরায় নির্ধারণ করা হয়। সিরিজে সৃজনশীল পরিবর্তন আনতে গত আগস্টে পরিচালক ড্যানি বয়েলকে সিরিজ থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এরপর পরিচালক খুঁজতে শুরু করেন ছবিটির প্রযোজক মাইকেল জি উইলসন ও বারবারা ব্রোকলির। শেষ পর্যন্ত পরিচালক হিসেবে তারা দায়িত্ব দিয়েছেন এইচবিওর ‘ট্রু ডিটেকটিভ’ সিরিজের পরিচালক ক্যারি ফুকুনাগাকে, ‘জেমস বন্ড’ সিরিজের টুইটার পেজ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।। জেমস বন্ড সিরিজের পূর্বের দুই খ্যাতিমান চিত্রনাট্যকার নিল পারভিস ও রবার্ট ওয়েডকেও পুনরায় সিরিজে ফিরিইয়ে আনা হয়েছে। সুতরাং ধরে নেয়াই যাচ্ছে জেমস বন্ড সিরিজের পরবর্তী ভার্সন দর্শক মহলে বেশ আশা জাগিয়েছে। এখন অপেক্ষা কেবল মুক্তির…

স্কাউটিং এর ব্যাজ পদ্ধতি (পর্ব-০৯)

Now Reading
স্কাউটিং এর ব্যাজ পদ্ধতি (পর্ব-০৯)

স্কাউট আন্দোলনের কাঙ্খিত লক্ষ্য হচ্ছে শিশু, কিশোর ও যুবদেরকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতাবৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মনির্ভরশীল ও যোগ্য মানব রুপে গড়ে তোলা। এই শিশু-কিশোররা তাদের অবসর সময়কে সঠিকরুপে কাজে লাগিয়ে পর্যায়ক্রমিক প্রশিক্ষণ নিয়ে বৈচিত্র্যময় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে একজন স্কাউটকে ক্রমান্বয়ে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলে। আর এই গড়ে তোলার এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে স্কাউটিং এর ভাষায় ক্রমোন্নতিশীল প্রশিক্ষণ বলে যা স্কাউট পদ্ধতির একটি অন্যতম প্রশিক্ষণ পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত।

স্কাউটিং এ ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য বয়সভেদে এবং চাহিদানুসারে আনন্দমুখর প্রোগ্রামের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের স্বীকৃতি স্বরূপ অনুমোদিত ব্যাজ এবং অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়ে থাকে। এই জন্য ক্রমোন্নতিশীল প্রশিক্ষণকে ব্যাজ পদ্ধতিও বলা হয়।

ব্যাজ পদ্ধতি প্রবর্তনের উদ্দেশ্য হলঃ

ক) দক্ষতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী করা

খ) বিভিন্ন বিষয়ে জানার কৌতূহল সৃষ্টি

গ) স্কাউটিংয়ের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হওয়া

ঘ) নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানো

ঙ) আত্ম-উন্নয়নবোধ সচেতনতা সৃষ্টি করা

সর্বোপরি ব্যাজ পদ্ধতির মাধ্যমে জ্ঞান, দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়ন সাধন করে সৎ, চরিত্রবান, আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব।

ব্যাজের প্রকারভেদঃ

ব্যাজ সাধারণত দুই প্রকারঃ

১) দক্ষতা বা এফিসিয়েন্সি ব্যাজ, অন্যটি হচ্ছে

২) পারদর্শিতা বা প্রফিসিয়েন্সি ব্যাজ।

দক্ষতা বা এফিসিয়েন্সি ব্যাজঃ

এই ব্যাজ অর্জনের মাধ্যমে কাবদের জ্ঞান, দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়ন সাধন করা সম্ভব। এই ব্যাজ চার প্রকার। যথাঃ (১) সদস্য ব্যাজ (২) তারা ব্যাজ (৩) চাঁদ ব্যাজ (৪) চাঁদ তারা ব্যাজ।

পারদর্শিতা বা প্রফিসিয়েন্সি ব্যাজঃ

পারদর্শিতা ব্যাজের মাধ্যমে একজন কাব স্কাউট তার আগ্রহ ও পছন্দ অনুসারে বিভিন্ন বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করে। স্কাউটিং এর কাব পর্যায়ে মোট ৩৮ টি পারদর্শিতা ব্যাজ আছে।

এখন এফিসিয়েন্সি ও প্রফিসিয়েন্সি ব্যাজ কিভাবে অর্জন করতে হয় তার নিয়মগুলি বলছি-

সদস্য ব্যাজঃ  স্কাউটিং এ নবাগত বালক-বালিকাকে সদস্য স্তরের মান ও বিষয়গুলো অনুশীলন করিয়ে এর উপর পরীক্ষা শেষে দীক্ষা প্রদানের মাধ্যমে ইউনিট লিডার তাদের বাম পকেটের মাঝখানে এ ব্যাজ পরিয়ে দেন। এই স্তরে থাকাকালীন সময়ে তারা জানবে কাব স্কাউটিং কি? পাশাপাশি কাব স্কাউট আইন, প্রতিজ্ঞা ও মটো এবং সালাম প্রদর্শন ইত্যাদিও তারা এই স্তরে থাকতেই জানবে।

তারা ব্যাজঃ সদস্য ব্যাজ প অন্ততপক্ষে প্রাপ্তির ৬ মাস পর তারা ব্যাজের সিলেবাসসহ সমাপ্ত করতে হয় এবং নিম্নোক্ত ৮টি পারদর্শিতা ব্যাজের যেকোন দুটি ব্যাজ অর্জন করতে হবে। পারদর্শিতা ব্যাজগুলো হলো- ১) সমাজ সেবা ২) গৃহ পরিচর্যা ৩) চিত্ত বিনোদন ৪) পাখি পর্যবেক্ষণ ৫) খেলনা তৈরি ৬) খেলাধুলা ৭) দড়ির কাজ ৮) সেলাই ব্যাজ।

তারা ব্যাজ স্কাউট ইউনিফর্মের বাম হাতের কনুই এবং কাঁধের মাঝখানে সেলাই করে পরতে হয়। পারদর্শিতা ব্যাজগুলো স্কাউট ইউনিফর্মের ডান হাতের কনুই এবং কাঁধের মধ্যে লাগিয়ে কিংবা সেলাই করে পরতে হবে।

চাঁদ ব্যাজঃ তারা ব্যাজ অর্জনের নুন্যতম ৬ মাস পরে চাঁদ ব্যাজের সিলেবাস সম্পন্নসহ  ১০টি পারদর্শিতা ব্যাজের মধ্যে যেকোন  তিনটি ব্যাজ অর্জন করতে হয়। আর এই পারদর্শিতা ব্যাজ গুলো হল – ১) কৃষ্টি  ২) সংগ্রহ  ৩) প্রকৃতি ও পরিবেশ  ৪) কবুতর পোষা  ৫) বনকলা  ৬) সবজি চাষ  ৭) মডেল তৈরি  ৮) ক্রীড়া কুশলী  ৯) সাঁতার  ১০) হস্তলিপি।

তারা ব্যাজের স্থানে চাঁদ ব্যাজ পরতে হয় অর্থাৎ পূর্বের ব্যাজ উঠিয়ে সেখানে পারদর্শিতা ব্যাজ পূর্বের নিয়মে পরতে হবে। পূর্বের ব্যাজগুলো যথারীতি পূর্বের মতই লাগানো থাকবে।

চাঁদ-তারা ব্যাজঃ চাঁদ-ব্যাজ অর্জনের কমপক্ষে ৬ মাস পরে উক্ত ব্যাজের সিলেবাস সমাপ্তসহ ১৩টি পারদর্শিতা ব্যাজের যেকোন তিনটি ব্যাজ অর্জন করতে হবে। পারদর্শিতা ব্যাজগুলো হলোঃ ১) জনস্বাস্থ্য ২) প্রাথমিক প্রতিবিধান ৩) নিরাপত্তা ৪) বই বাঁধাই ৫) পরিবেশ সংরক্ষণ ৬) আবহাওয়া ৭) মুরগী পালন ৮) হাঁস পালন ৯) ফুল বাগান ১০) চিত্র কলা ১১) সাইকেল চালনা ১২) ক্রীড়ক ১৩) ভূগোল। এই ব্যাজ ও পারদর্শিতা ব্যাজ পূর্ব নিয়মে পরতে হবে।

শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডঃ এই অ্যাওয়ার্ড কোন দক্ষতা অর্জনের ব্যাজ নয় কিন্তু একজন কাবের জন্য এটি একটি সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত প্রাপ্তি। একজন কাব স্কাউটকে চাঁদ-তারা ব্যাজ অর্জন পরবর্তী কমপক্ষে ৩ মাস পরে শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডের সিলেবাস সমাপ্ত করতে হয় এবং ৭টি পারদর্শিতা ব্যাজের মধ্যে যেকোন ৩টি ব্যাজ অর্জন করতে হয়। ৭টি ব্যাজ যথাক্রমে – ১) সাঁতার ২) সাক্ষরতা ৩) ফুলের বাগান ৪) কম্পিউটার ৫) ব্যক্তিগত লাইব্রেরী ৬) রান্না ৭) নকশা তৈরী। সাঁতার ব্যাজ কিন্তু আবশ্যকীয় ভাবে অর্জন করতে হয়।  আর এই অ্যাওয়ার্ডটি ইউনিফর্মের ডান পকেটের ওপরে লাগাতে হয়। বয় স্কাউট ও রোভার শাখায় অংশগ্রহণকালীন সময়েও এই অ্যাওয়ার্ড পরিধান করা যায়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনারের স্বাক্ষরসম্বলিত সনদপত্রসহ শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা হয়।