কর্ণফুলীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ডলফিন?

Now Reading
কর্ণফুলীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ডলফিন?

চমকে উঠলেন নাকি? উঠারই কথা একসময় দৃশ্যপট এমন থাকলেও কর্ণফুলী নদীর চির চেনা গ্যাঞ্জেস ডলফিন বা গাঙ্গেয় ডলফিন কালের বিবর্তনে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।  চট্টগ্রামে স্থানীয়রা এদের উতোম আবার অনেকেউ শুশুক নামে ডাকে। এর ইংরেজি নাম Ganges River Dolphin আর বৈজ্ঞানিক নাম হল Platanista gangetica।  বেশ কয়েক বছর পূর্বের এক গবেষণায় জানা যায়- কর্ণফুলী ও এর আশে পাশের শাখা নদীতে গেঞ্জেস ডলফিনের সংখ্যা প্রায় ১২৫ এর মত। আর সারা বিশ্বে এই প্রজাতির ডলফিন আছে মাত্র ১১-১২শ’টি। হালদায় পূর্বে অধিক সংখ্যায় ডলফিন বিচরন করতে দেখা গেলেও, কালের পরিক্রমায় নদী দূষণ এবং বসবাস অনুপযোগী হওয়াতে বহু ডলফিন অসহায়ভাবে মারা যাচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন)’র লাল তালিকাভুক্ত হয়েছে এ ডলফিন। এর অর্থ দাঁড়ায়, এ প্রজাতির ডলফিন এর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। ২০১২ সালের বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের তফসিল-১ অনুসারে এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত বলে উল্ল্যেখ আছে।

স্থানীয় ও গবেষকদের অভিমত কর্ণফুলীতে এখন শতশত ড্রেজার। বালু উত্তোলনকারী এসব ড্রেজারের প্রপেলারের আঘাতে মারা যাচ্ছে একের পর এক ডলফিন। এসব ড্রেজারের সৃষ্ট কম্পন ও শব্দ দূষণে ডলফিনরা একস্থান হতে অন্য স্থানে ছুটাছুটি করে। দেখা যায় অনুকুল পরিবেশ থেকে তারা প্রতিকুল পরিবেশে প্রবেশ করে। তাছাড়াও নদীতে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও সাম্পানের দৌড়াত্ন বাড়ছে দিন দিন। এসবের ইঞ্জিনের ব্লেডে কাটা পড়ে মারা যাচ্ছে এই ডলফিন। এসব ডলফিনের চোখ নেই, মূলত ইকো সাউন্ড দিয়ে তারা চলাফেরা ও খাবার সন্ধান করে। এদের শরীরের গঠনও বেশ নরম প্রকৃতির ফলে ড্রেজারের প্রপেলার বা অন্য কোনো অংশের আঘাত এরা সহ্য করতে পারে না। পাশাপাশি নদীর পানিতে অতি মাত্রায় বর্জ্য জমে রাসায়নিক দূষণ এবং জেলেদের অবাধে মাছ ধরার কারণেও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে এ প্রজাতির ডলফিন। গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি মারা পড়েছে কর্ণফুলীর শাখা নদীতে। এ পর্যন্ত ভাসমান অবস্থায় ১৬টি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। কর্ণফুলীতে প্রজনন শেষে এ ডলফিন বিচরণ করতে শাখা নদী হালদা ও সাঙ্গুতে প্রবেশ করে। কিন্তু হালদায় মাত্রাতিরিক্ত নৌযান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে এদের স্বাভাবিক জীবনচক্রে। এদিকে হুমকির মুখে আছে তাদের প্রজনন ক্ষেত্র কর্ণফুলীও। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখনও যে স্বল্প সংখ্যক ডলফিনের দেখা মিলছে আগামী কয়েক বছরে হয়ত তাও হারিয়ে যাবে। ডলফিনের এই অস্তিত্ব সংকটে উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে এরই মধ্যে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে তারা। এ বিষয়ে ভিন্নমত এসেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী ও পরিবেশবাদী গবেষকদের তথ্যে, তাদের গবেষণা বলছে বন্দরের এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ডলফিনের প্রজনন ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বন্দরের জেটি নির্মাণ ডলফিন এবং সম গোত্রীয় অন্যান্য প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর হবে কিনা, তা জানতে গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, পরিবেশ ও বন বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন এবং মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক আয়েশা আক্তার এ গবেষণা পরিচালনা করেন।তাদের অভিমত আটটি বিষয়কে গুরুত্বে নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে ডলফিনের জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখা সম্ভব।

ডলফিন সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞদের ৮টি সুপারিশ হলো-

১. নদীতে বিভিন্ন আবর্জনা, রাসায়নিক পদার্থ, তেল ইত্যাদি নিঃসরণে কঠিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

২. নদীতে বন্দরের অপারেশন কাজের সময় সৃষ্ট শব্দদূষণ এবং নদীতে চলতে থাকা নৌযানের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা।

৩. নদীর পাড়ে থাকা বিভিন্ন কলকারখানার দূষিত বর্জ্য নদীতে আসতে না দেওয়া।

৪. ডলফিনগুলোর জন্য একটি জোন করা এবং ওই জোনে মাছ ধরা বন্ধ করা।

৫. শুস্ক মৌসুমে নদীর ওপরের শাখা নদী এবং অন্যান্য খালের বাঁধ অপসারণ করে পানির প্রবাহ ঠিক রাখা।

৬. অভয়ারণ্য এবং ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের আনন্দ দেওয়া।

৭. ডলফিন সংরক্ষণের জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো এবং

৮. মনিটরিং সেল গঠন করা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আয়েশা আক্তার এবং পরিবেশ বন বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন এর যৌথ গবেষণায় উক্ত সুপারিশখানা বন্দর কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়।

নদীতে অনেক দূষণ থাকার পরও এ প্রজাতির ডলফিনগুলো এখনও টিকে আছে বলে তাঁদের অভিমত।  তাই ডলফিনগুলো যেন অবাধে বিচরণ করতে পারে, তার জন্য আলাদা জোন করার প্রতি তারা গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

কর্ণফুলী নদী ঘিরে যেন তেন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে এর প্রাণীকুলে মারাত্মক বিপর্যয় দেখা দেয়ার সম্ভাবনা তাই অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করে তা বাস্তবায়ন প্রয়োজন। অন্যদিকে হালদাতে নাব্যতা কম, যা ডলফিনের বসবাস অনুপযোগী পাশাপাশি দূষণও হচ্ছে বেশ। সাগরের পানি প্রবেশ হলে কর্ণফুলী নদীতে লবণাক্ততা বেড়ে যায় তখন ডলফিন ওপরের দিকে উঠে হালদা ও সাঙ্গুতে চলে যায়। তাছাড়া প্রজনন শেষেও কর্ণফুলীর এসব শাখা নদীতে বিচরণ করতে চলে যায় মিঠা পানির এই গাঙ্গেয় ডলফিন। ফলে বসবাসের পরিবেশ সংকটে পড়ে সেখানে একের পর এক ডলফিন মারা যাচ্ছে। ডলফিনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে জেলা মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারাও মাঠে নেমেছেন। সবচেয়ে বেশি ডলফিন মারা যাওয়ার জায়গা হিসেবে একটি স্থান অধিক পরিচিতি লাভ করেছে স্থানীয়দের কাছে। হালদা নদী সংলগ্ন গড়দুয়ারা ইউনিয়নের গচ্ছাখালী খালটি বর্তমানে ডলফিনদের জন্য বিপদসংকুল হয়ে পড়েছে। গচ্ছাখালী খালের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক মৃত ডলফিনকে সনাক্ত করা গেছে। গত ৬ মাসে ১৬টি ডলফিনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭ এর ২৭ ডিসেম্বর গচ্ছাখালি খালের মাস্টার বাড়ি কালভার্টের নিচে পাওয়া যায় একটি মৃত ডলফিন, ২০১৮ এর ২ জানুয়ারি গড়দুয়ারা সুইস গেট এলাকায় এবং ৫ জানুয়ারি গচ্ছাখালি খালে আরও তিনটি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে। পরবর্তীতে হালদা নদী সংলগ্ন গড়দুয়ারা ইউনিয়নের গচ্ছাখালী খালের কান্তর আলী চৌধুরীহাট বাজারের সেতুর নিচেও একটি মৃত ডলফিন ভেসে ওঠে যেটি প্রায় ছয় ফুট দৈর্ঘ্যের ও আনুমানিক ৭০কেজি ওজন এর।

মৎসজীবী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত ডলফিন মারা যাওয়ার এ চিত্র অত্যন্ত বিপজ্জনক।  গচ্ছাখালি খাল ধরে হালদায় প্রতিদিন শত শত ড্রেজার চলাচল করে। আর এখানেই ড্রেজারের প্রপেলারের আঘাতে ডলফিনগুলো আহত হয় এবং পরে মৃত অবস্থায় ভেসে ওঠে। ডলফিনের মৃত্যুর প্রধান কারণ তাই এসব ড্রেজারকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। স্থানীয়রা মারা যাওয়া ডলফিনের গায়ে জখমের চিহ্ন দেখে থাকেন। নদীতে একদিকে ড্রেজার চলে অন্যদিকে মাছ ধরার জন্য অনেকেই গোপনে বিষ প্রয়োগ করে থাকেন। এসব কারণে ডলফিন বাঁচার উপযোগী পরিবেশ পাচ্ছে না।

কর্ণফুলীর শাখা নদী হালদার দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার যা প্রবাহিত হয়েছে হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা ঘেঁষে। আবার এই হালদার সাথে সংযুক্ত আছে ১৭টি খাল। মুলত বিচরণ করতে এসব খালে এসে ডলফিনের মৃত্যু ঘটছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে একদিন হালদা ডলফিনশূন্য হয়ে পড়বে।

সুতরাং কর্ণফুলীর তীরবর্তী সকল মানুষের মত আমার দাবী  হালদার প্রিয় চেনামুখ এই ডলফিন রক্ষায় অবিলম্বে নদীতে ড্রেজারে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে কর্তৃপক্ষের যথাযথ হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত নদীটিকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ও ডলফিনের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হউক।

 

সুপারহিরো সোয়াত

Now Reading
সুপারহিরো সোয়াত

ইউরোপ ও আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোতে সোয়াত টিমকে এলিট ফোর্স হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রয়ারি আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর আদলে গঠন করা হয় স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাক্টিকস যা সংক্ষেপে সোয়াত নামে পরিচিত। এটি মুলত পুলিশের একটি এলিট ফোর্স হিসেবে স্পেশাল অপারেশন গুলি পরিচালনা করে। যেসব অভিযান সাধারণ পুলিশের পক্ষে পরিচালনা সম্ভব নয় সেসব ঝুঁকিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালায় এ টিম। তাদের কাজের মধ্যে আছে- যদি কোনো হাই প্রোফাইল ব্যক্তি সন্ত্রাসীদের দ্বারা জিম্মি কিংবা অপহরণের শিকার হলে বা বড় ধরনের কোন জঙ্গি হামলা হয় তখন আক্রান্ত ব্যাক্তিদের উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী বা জঙ্গিদের গ্রেফতারের কাজ করে সোয়াত টিম। আমেরিকাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের ভিআইপিসহ অন্যান্য নাগরিকদের সোয়াত আলাদাভাবে নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। তার পাশাপাশি দেশে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সোয়াতকে তলব করা হয়। দুষ্কৃতকারীদের হাতে জিম্মি লোকজনকে উদ্ধারে সোয়াত টিমের সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে। একই সঙ্গে জঙ্গি হামলা মোকাবেলা ও ছিনতাই হওয়া বিমান উদ্ধার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে এ টিমকে। যদিও বিগত বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ, পহেলা বৈশাখ এবং বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে শোডাউন ছাড়া বড় ধরনের কোনো তৎপরতায় যেতে হয়নি এ টিমকে।

বর্তমানে নানা কারণে সোয়াত টিম বাংলাদেশের মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।  খুব শীগ্রই এই টিমকে এলিট ব্যাটলিয়নে রূপান্তর করার পরিকল্পনা আছে সরকারের, তবে আলাদা ব্যাটেলিয়ন তৈরির আগ পর্যন্ত সোয়াতের সদস্যরা বিগত বছরগুলোতে রুটিন ওয়ার্ক হিসেবে মূলত ঢাকা মহানগর ও চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অধীনেই কাজ করেছে। বর্তমানে তারা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ইউনিটের সাথেও কাজ করছে। সোয়াত টিমের সদস্যদের সার্বিক প্রশিক্ষণ দেয় যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের অ্যান্টি টেরোরিজম অ্যাসিস্ট্যান্স (এটিএ) পাশাপাশি ভার্জিনিয়ায় অত্যাধুনিক অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণও নেয় এই টিমের সদস্যরা। এমন অনেকেই আছেন যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন একাধিকবার। সোয়াত সদস্যদের ট্রেনিং এর মধ্যে ছিল গ্লোক-১৭ পিস্তল ও এম-৪ রাইফেল হ্যান্ডলিং, ডায়নামিক এসল্ট, ভেহিকেল এসল্ট, টেকনিক্যাল প্ল্যানিং, ডাইভারশনালি টেকনিক প্রোগ্রাম ইত্যাদি। বর্তমানে সোয়াতের সদস্য সংখ্যা স্পষ্টভাবে নিরূপণ করা না গেলেও এরা প্রত্যেকেই কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাছাড়া বাংলাদেশে সিলেটের স্কুল অব ইনফরমেটি অ্যান্ড ট্যাকটিস সেন্টারে সেনাবাহিনী দ্বারা হেলিকপ্টার রেপলিংবিষয়ক ট্রেনিং নিয়েছেন তারা। সোয়াতের প্রশিক্ষণে মাথাপিছু ব্যয় আনুমানিক লাখ টাকারও বেশি। সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি চৌকস এলিট ফোর্স গড়তে মূলত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই টিমের জনবল বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। যেসব অস্ত্র সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআইর সদস্যরা ব্যবহার করে থাকেন তেমনি সব অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র আমেরিকা থেকে আনা হয়েছে সোয়াতের জন্য। সোয়াতকে দিন দিন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও আধুনিক অস্ত্র সরঞ্জাম দিয়ে শক্তিশালী করা হচ্ছে। সোয়াতের ব্যাবহার করা অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে আছে তুলনামূলক হালকা ও সহজে বহনযোগ্য ক্রিস সুপার ভি সাবমেশিনগান, আছে কারবাইন রাইফেল, ব্লক সেভেনটিন পিস্তল এবং স্নাইপার রাইফেলসহ বিপুল পমিরাণ অস্ত্র ও গোলা-বারুদ। সোয়াতের জন্য কেনা হয়েছে দুটি অত্যাধুনিক বুলেটপ্রুফ সোয়াত ভ্যান যার চাকা গুলিবিদ্ধ হলেও নির্বিঘ্নে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে।

কোটি টাকা ব্যয়ে সোয়াতের জন্য মিরপুরের পাবলিক অর্ডার মেনেজমেন্ট (পিওএম)-এ তৈরি করা হচ্ছে স্যুট হাউস যেখানে টিমের সদস্যদের পাশপাশি পুলিশের অন্য সদস্যদেরও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হবে । ২০০৮ এর অক্টোবরে শুরুর দিকে সোয়াতের সদস্য ছিল মাত্র ২৪ জন। যার মধ্যে ২জন সহকারী পুলিশ কমিশনার, ২জন ইন্সপেক্টর, ৪জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও ২জন সার্জেন্টসহ প্রত্যেক চৌকস পুলিশ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয় বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য। প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরার পর তাদের দিয়ে সোয়াতের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় জিম্মি উদ্ধারে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সোয়াত বাহিনীকে প্রত্যাশিত ভূমিকায় দেখা যায়নি। অভিযানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তে তাদের অভিযান চালানো থেকে বিরত রেখে সেনাবাহিনীর কমান্ডোদের দায়িত্ব দেয়া হয়, যদিও অভিযানের দ্বিতীয় স্তরের দায়িত্বে ছিল তারা। কিন্তু কল্যানপুর এবং নারায়ণগঞ্জের পাইক পাড়ায় জঙ্গি আস্তানা দুটোর অপারেশনে SWAT সদস্যরা যে মাত্রার ঝুঁকি নিয়ে সফল অপারেশন চালিয়েছে তাতে সর্বমহলে তাদের প্রতি আস্থা বহুগুণে বেড়ে যায়। জনবহুল এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষের কোন প্রকার জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ছাড়া সফল অভিযান তাদের প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনাকে অধিকগুণে জাগিয়ে তুলেছে। তাই পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যাণ্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এর মতো মনে করি সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় সোয়াত কার্যত সুপার হিরোতে পরিণত হয়েছে।

 

শক্তিমান প্রেসিডেন্ট শক্তিশালী বলয়

Now Reading
শক্তিমান প্রেসিডেন্ট শক্তিশালী বলয়

আয়তনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ১৪ কোটি ৭০ লাখ নাগরিকের দেশ রাশিয়ায় ৭ম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে আবারো ক্ষমতার মসনদে বসেছেন বিশ্ব ক্ষমতাধরদের একজন হিসেবে পরিচিত ভ্লাদিমির পুতিন। তাকে বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে ‘আনপ্রেডিক্টেবল পাওয়ারফুল ম্যান’। রুশদের কাছে পুতিন একজন শক্তিশালী নেতা ও লৌহমানব হিসেবে পরিচিত। তাই এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুতিন এর শ্লোগান ছিল-   ‘শক্তিমান প্রেসিডেন্ট, শক্তিশালী রাশিয়া’

রুশ নির্বাচন পরিচালনা বিষয়ক কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্যমতে, সারাদেশে ৩০ হাজার পর্যবেক্ষক এবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেছেন।  রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১০৮ মিলিয়ন। আর সমগ্র দেশজুড়ে ৯৭ হাজার ভোটকেন্দ্রে মোট ৭৩ মিলিয়ন ভোট ব্যালট বাক্সে জমা পড়েছে। ৬৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ রুশ ভোটকেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি আট প্রার্থীর মধ্যে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সর্বোচ্চ ৭৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট পদে জয়লাভ করেন ভ্লাদিমির পুতিন। সংখ্যার হিসেবে ৫ কোটি ৬২ লাখ ৬ হাজার ৫১৪ জন রুশ পুতিনকে ভোট দিয়েছেন এবার। ২০১২ সালের নির্বাচনের চেয়ে এবার বেশি ভোটে জয়ী হন পুতিন। তিনি গত নির্বাচনে ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।

২০১৪ সালের গণভোটে ক্রিমিয়া রাশিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম সেখানকার অধিবাসীরা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পান। ক্রিমিয়ায়ও পুতিনের জয়জয়কার এখানে তিনি পেয়েছেন ৯২ দশমিক ১৫ শতাংশ ভোট। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, সিরিয়ায় অবস্থানরত প্রায় তিন হাজার রুশ সেনার প্রত্যেকেই পুতিনকে ভোট দিয়েছেন।

সংবিধান অনুযায়ী রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট এর মেয়াদকাল ছয় বছর। ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের এই মেয়াদ ছিল মাত্র চার বছর, কিন্তু একই বছর সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এই মেয়াদকাল চার থেকে বাড়িয়ে ছয় বছরে উন্নীত করেন। সোভিয়েত একনায়ক যোসেফ স্ট্যালিনের পর দ্বিতীয় নেতা হিসেবে সবচেয়ে বেশি মেয়াদে ক্রেমলিনের ক্ষমতার মসনদে আসীন হয়েছেন পুতিন। ১৯৯৯ সালের শেষ থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতার কেন্দ্রে আছেন তিনি। বর্তমানে গণমাধ্যমসহ রাশিয়ার পুরো প্রশাসনে একছত্র নিয়ন্ত্রণের অধিকারী তিনি।

কেউ যদি ভাবেন পুতিন উড়ে এসে জুড়ে বসেছে তাহলে সেটি তার অজ্ঞতা। তিনি একদিনেই রাশিয়ার প্রতাপশালী নেতায় পরিণত হননি পরিবেশ-পরিস্থিতিই তাঁকে করেছে দৃঢ়চেতা। সাফল্যকে রপ্ত করার কৌশল জীবন থেকে শিখেছেন তিনি।

এর জন্য একটু পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। ১৯৫২ সালের ৭ অক্টোবর তৎকালীন লেনিনগ্রাদের (বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গ) একটি দরিদ্র পরিবারে পুতিন জন্ম গ্রহন করেন। পুতিনের ঠাকুরদাদা লেনিনের গ্রামের বাড়িতে শেফ হিসেবে কাজ করতেন, তিনি একটা সময় স্টালিনের বাবুর্চির কাজও করেছেন।  ছাত্রাবস্থা থেকেই পুতিন জুডো-কারাতের প্রতি আগ্রহী ছিলেন, এ বিষয়ে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা আছে।১৯৭৫ সালে লেনিনগ্রাদ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আন্তর্জাতিক শাখা থেকে উত্তীর্ণ হয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিভাগে কাজ করতে পাঠানো হয়। এরপরই রুশ গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিতে যোগ দেন ১৯৭৬ সালে। এই পেশাটার প্রতি পুতিন এর আলাদা কৌতহল ছিল, কেননা রুশ সিনেমায় গোয়েন্দাদের ভূমিকা দেখে তাঁর গোয়েন্দা জীবনের প্রতি কৌতূহল জন্মে। কেজিবি’র এজেন্ট হিসেবে ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে দায়িত্ব পালন করেছেন পুতিন। সেন্ট পিটার্সবার্গে ফিরে এলে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল থাকাকালীন ১৯৯২ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষদ থেকে অবসর নেন। ১৯৯৪ সালে পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গ প্রশাসন চীফ এর প্রথম ডেপুটি হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে মস্কোতে তাঁর ডাক পড়ে, সোভিয়েত ইউনিয়ন পরবর্তী রাশিয়ায় প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন কেজিবির উত্তরসূরি গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবির প্রধান করেন পুতিনকে। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের আগস্টে ইয়েলৎসিনের মন্ত্রিসভার সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদ পূর্ণ হবার পূর্বেই প্রেসিডেন্ট ইয়েলিসনের পদত্যাগ করলে দায়িত্বভার প্রত্যাবর্তনের পর পুতিন প্রথমবার কার্যকরভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর রাশিয়ার প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের অধীনে ক্রেমলিনে কাজ করার সুযোগ হয় পুতিনের।

২০০৮ এর নির্বাচনে পুতিন তাঁর প্রেসিডেন্টের মেয়াদের দ্বিতীয় দফা পূর্ণ করেন। তবে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার ফলে তাঁরই ঘনিষ্ঠ সহচর দিমিত্রি মেদভেদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিজে হন প্রধানমন্ত্রী। কার্যত ক্ষমতার নাটাই ছিল পুতিনেরই হাতে। রাষ্ট্রীয় সকল গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তিনিই দিতেন। ২০১২ সালে তিনি ফের প্রেসিডেন্ট হন আর এই দফায় পুতিন ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাশিয়াকে নেতৃত্ব দেয়ার অধিকার লাভ করলেন।

যদিও বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা রাশিয়ায় তেমনভাবে বিকশিত হয়নি। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর রাশিয়া স্বাধীন হলেও সে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো কার্যত দুর্বলই রয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট পুতিন ও তাঁর দল অন্যদের ওপর একচেটিয়া প্রভাব রেখেছে। তবে এ কারণে রাশিয়াকে বা প্রেসিডেন্ট পুতিনকে কেউ দোষ দিতে পারেনা কেননা রাষ্ট্রীয় সমাজ ব্যাবস্থাটাই সেখানে এমন।

বর্তমানে রাশিয়াসহ প্রায় সব দেশ অর্থনৈতিক মন্দা বিরাজ করছে। তাই প্রত্যেক  দেশের মানুষই চায় সে দেশে একজন শক্তিশালী ও জনপ্রিয় নেতা ক্ষমতায় থাকুক। আর ঠিক সেই জায়গায় দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন পুতিন। পশ্চিমাদের চোখের সামনেই ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়াকে রীতিমতো ছোঁ মেরে ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বদলে দিয়েছেন সেখানকার যুদ্ধের সব হিসাব নিকাশ। আইএসের বিরুদ্ধে রাশিয়া যে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করেছে তাতে দাবার দান এখন উল্টো পথে। বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ‘ভূরাজনৈতিক বিপর্যয়’ হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনকে দেখছেন পুতিন। আর এই বিশ্বাস থেকে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে রাশিয়াকে আনতে মরিয়া তিনি। দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার ক্ষমতায় আছেন পুতিন আর এই সময়ে দেশটির সর্বস্তরে কর্তৃত্ব বলবৎ করে নিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রচেষ্টায় আবারো শৌর্যবীর্যে ফিরেছে রাশিয়া।  মস্কোর প্রভাববলয় ক্রমেই বাড়ছে, ইউরোপের সীমানা বদলানোর বিষয়ে বরাবর সোচ্চার পুতিন। অভিযোগ রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইউরোপের সীমানা পুনরায় নির্ধারণ করতে চান তিনি। গণভোটের মাধ্যমে ক্রিমিয়ার অধিবাসীরা রাশিয়ায় যোগ দেওয়ার পক্ষে রায় দেয়ার পরবর্তি এ-সক্রান্ত বিলে সই করে পুতিন পৃথিবীর নতুন মানচিত্র বানানোর কথা বিশ্ববাসীকে জানান দেন।

রাজনীতিটা বেশ ভালোই রপ্ত করেছেন পুতিন, যা বিশ্লেষণ করার সাধ্য অন্য কারও নেই। বিশ্ব রাজনীতিকে কখন কোন দিকে ঘুরিয়ে দেবেন সে হিসাব কষতে গিয়ে বিশ্লেষকরা এটা মানছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় পুতিন যা ভাবান বিশ্লেষকরাও তাই-ই ভেবে নেন। সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট নতুন পরমাণু অস্ত্র উন্নয়নের কথা ঘোষণা করেন, যা কিনা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা দিয়েও শনাক্ত করা যাবে না। তাই ঘটনা পর্যবেক্ষণে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে পশ্চিমের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক এখনই সবচেয়ে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। পুতিন নিজেকে ও তাঁর দেশকে এমন জায়গায় দাঁড় করিয়েছেন যে এতে তাদের আরেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ আমেরিকার ঘুম হারাম হওয়ার জোগাড়।

সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়া যুদ্ধে আইএসকে কঠোরভাবে মোকাবিলা করে বৈশ্বিক অঙ্গনে নিজের শক্ত পদচারণার কথা জানান দিয়েছেন পুতিন। সিরিয়ায় পশ্চিমা মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি গুলোতে এখনো অভিযান চালাচ্ছে মস্কো-সমর্থিত বাশার আল আসাদের বাহিনী।

সন্ত্রাসবাদ নির্মূল অভিযানে রাশিয়ার সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালভাবেই ঝাঁকিয়ে দিয়েছে বলা যায়। ফলশ্রুতিতে আমেরিকার মিত্র মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন পরোক্ষ আবার কখনো প্রত্যক্ষভাবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এমনকি ফ্রান্স ও সৌদি আরবের মতো দেশকেও রাশিয়ার গুণগান করতে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে স্নায়ুযুদ্ধে পুতিনকে মাস্টারমাইন্ড ভাবতে শুরু করেছেন অনেকেই। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, গত কয়েক বছর পূর্বে দক্ষিণ চীন সাগরের কিছু ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ বাঁধে চীনের। সেখানে চীনের প্রতিপক্ষদের সাহায্যার্থে আমেরিকা রণপ্রস্তুতি নিলেও চীনের প্রতি ভ্লাদিমির পুতিন সমর্থন দিলে আমেরিকা তৎক্ষণাৎ তার যুদ্ধজাহাজ প্রত্যাহার করে নেয়। এতে বুজাই যায় রাশিয়া তথা পুতিনকে কত সমীহ করে আমেরিকা।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এক সতর্ক অভিনন্দন বার্তায় পুতিনকে ট্রাম্প বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, কিন্তু আমাদের যা আছে কাউকে আমরা কখনো তার কাছাকাছি আসতে দিবো না”                                                                                               

চলবে…

গর্বিত পাইলটিয়ানদের একজন

Now Reading
গর্বিত পাইলটিয়ানদের একজন

স্মৃতির পাতায় ঝলমল করা ১৯৯৯সাল, এখনো অনুভুত হয় এইতো সেদিনই ছিল দিনগুলি। স্মরণীয় হয়ে থাকা দিনগুলি ছিল যেমন মধুময় ঠিক তেমনি দূরে সরে যাওয়ার বেদনায় ভরা। সালটা উল্ল্যেখযোগ্য এই কারনেই যে সেই বছরই অন্যতম একটা ব্যাচকে বিদায় দিয়েছে স্কুল। স্কুল থেকে বিদায় নেয়া যে কত কষ্টের যারা এই পরিস্থিতিতে পড়েছে কেবল তারাই বুজবে। স্কুল থেকে বিদায়ের দিন বেশ বিষণ্ণতায় ভুগছিলাম যা আগে কখনো অনুভব করিনি। স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেছি, বন্ধুদের সাথে হাসি ঠাট্টা করেছি কিন্তু এর পরও বেদনা ছুঁয়ে গেছে পুরো শরীরটায়। ভেতরে ভেতরে কিসের যেন হাহাকার! বেশ বুজতে পারছিলাম নিয়মিত আর আগমন ঘটবেনা এই আঙিনায়। মাঠের দুরন্তপনা, টেবিল চাপড়ে ভাণ্ডারী গান করা, স্কাউটিং ইত্যাদিতে নিজেকে আর দেখা যাবেনা কখনই। ধূসর রঙের দ্বিতল দালান, প্রিয় শিক্ষক মণ্ডলী, আয়া, বন্ধু সবাইকে ছেড়ে যেতে বড্ড খারাপই লাগছিল।

এ স্কুলের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক ও সহপাঠীদের সান্নিধ্যে কেটেছে আমার সেই রঙিন দিনগুলি। তাই আজ আমার প্রিয় স্কুলকে নিয়ে লিখতে বসে স্বভাবতই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। মনে পড়ে যায়- একদিন এই স্কুলের গন্ডিতে পা রেখেছি মায়ের হাত ধরে। নিজেকে সৌভাগ্যবান বলতেই হবে কারণ তৎকালীন স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় নিধু ভূষণ আচার্য স্যার সর্বপ্রথম আমাকে কোলে তুলে বরণ করে নিয়েছিলেন। আমার এও ভেবে ভীষণ গর্ববোধ হয় তিনি আমার প্রয়াত পিতারও শিক্ষক ছিলেন। আমার বাবা এই স্কুলের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন অর্থাৎ ভর্তি হয়েছিলেন ১৯৫৮সালে, তখন অবশ্য আমাদের স্কুলটি জুনিয়র হাই ছিল। স্কুলে ক্লাস সিক্সে ভর্তি হয়ে শুরুতে সহপাঠী হিসেবে যাদের পেয়েছি তাদের মধ্যে মানস, বাবলু, শওকত, সিরাজ, নজরুল, লিংকন, জন রড্রিক্স, অহিদ, রোমেন, আনোয়ার, মুরাদ, বশীর, বিষু, মিন্টু, সালাউদ্দিন, আলমগীর, আরমান, মফিজ, সাইফু, লোকমান, বাপ্পি, প্রশান্ত, খোরশেদ ১-২, আশরাফ, দেবু, ইকবাল, ত্রিদিপ চক্রবর্তী  ছিল উল্লেখযোগ্য।

ভর্তি হয়েছিলাম বিজ্ঞান বিভাগে, ভাল ছাত্র ছিলাম এমনটা দাবী নেই। তবে  ক্লাস করতে ভালোই লাগতো আমার, মাসিক রুটিন এর গ্রাফে ক্লাস ফাঁকি নেই বললেই চলে বরং বাড়িতেই সময় কাটতো না। শ্রদ্ধেয় মোসলেম উদ্দিন স্যারের ক্লাস বেশ ভাল লাগত তিনি আমাদের ইংরেজি পড়াতেন, শ্রদ্ধেয় বিষু কুমার স্যার সাবলীলভাবে পড়াতেন উচ্চতর গণিত। ক্লাসে মৃণাল মুহুরি স্যার এর ক্লাস ভীষণভাবেই উপভোগ করতাম সবাই কেননা পড়া পারলেই তিনি সুন্দর একটি ডায়লগ দিয়ে বলতেন ব্রেশ অর্থাৎ বেশ। বাবার বন্ধু বলে নিজের সন্তানের মতই স্নেহ করতেন শ্রদ্ধেয় মাবুদ স্যার। মনে পড়ে শ্রদ্ধেয়া দীপ্তি বীষাঙ্গি ম্যাডামের কথা তিনি সবসময় উপদেশ দিতেন সঠিকভাবেই যেন পড়া লেখা সমাপ্ত করি। ফেনীর আঞ্চলিক ভাষার সাথে পরিচয় ঘটেছে প্রিয় ভুপাল স্যারের কল্যাণে। শ্রদ্ধেয়া আরেফা ম্যাডামকে ভীষণ পছন্দ করতাম তিনি খুব স্নেহ করতেন। শ্রদ্ধেয় মনজুর আলম স্যারের হাত ধরেই স্কাউটিং এ প্রথম অংশগ্রহণ। তিনি আমাকে স্কুল ইউনিটের পেট্রোল লিডার মনোনীত করেছেন। জীবনে দারুণ পরিবর্তন আনা স্কাউটিং এর এই সাফল্যে তাই প্রিয় স্যারের অবদান কোনভাবেই অস্বীকার করতে পারিনা। অন্যান্য শ্রদ্ধেয় শিক্ষক যারা আছেন তাঁদের সকলের কাছেই শ্রদ্ধাবনত হয়ে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাদের শাসন, শিক্ষা, স্নেহ, ভালবাসায় আজ এতদূর আসতে পারা।

সুখ-স্মৃতিময় অতীতকে নিয়ে ভাবতেই প্রত্যেকেই বড্ড ভালোবাসে। যদি সেটা শৈশব-কৈশরের স্মৃতি বিজড়িত অতীত হয় তবেতো কথাই থাকে না। প্রায় প্রতিটি মানুষকেই প্রবলভাবে আকর্ষণ করে সে অতীত। সত্যিকার অর্থে মানুষের জীবনের সেরা সুন্দর সময় হচ্ছে তার শৈশব-কৈশোর এর ফেলে আসা দিনগুলো। আমিও এর ব্যতিক্রম নই, প্রবলভাবে আকর্ষণ করে আমার শৈশব-কৈশোরের সেই মধুমাখা স্মৃতিগুলো। মনে পড়ে যায় স্কুল জীবনের সেই হাসি-আনন্দেভরা দিনগুলোর কথা। আমার ভালবাসার বিশেষ স্থান এই স্কুল তাই আমি আমার স্কুলকে ভীষণ ভালবাসি।

স্কুলের স্মৃতি রোমন্থনে কিছু মজার স্মৃতি আছে। আমাদের ব্যাচ ‘৯৯ এ প্রায় ২০০জন ছাত্র-ছাত্রী ছিল। ছাত্ররা নিচ তলায় আর ছাত্রীরা আলাদাভাবে দ্বিতীয় তলায় ক্লাস করত। বলতে আজ দ্বিধা নেই এই একসাথে ক্লাস করতে না পারার বৈষম্যে উপরের তলার প্রতি একটু বাড়তি জোঁক তৈরি হত সবার। যদিও কিছু কম্বাইন্ড ক্লাসে সবাই একসাথে হতাম কিন্তু অনেকের কাছে আবার এই একসাথে হওয়াটাও বিড়ম্বনার ছিল। পূর্বের দিনে স্যারের দেয়া শ্রেণী পাঠ এর নির্ধারিত পড়া শিখে না আসার শাস্তি বন্ধুদের সামনে হজম করা গেলেও বান্ধবীদের সামনেতো কোনভাবেই নয়। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়ে ক্লাসের অমনোযোগী বন্ধুটিও শ্রেণী পাঠে কিছু আয়ত্ত করে আসার চেষ্টা করত।

পার হয়ে গেল দীর্ঘ ১৯টি বছর ব্যাচের প্রত্যেকেই স্বস্ব পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত আজ। কেমন জানি সবাই কাছে থেকেও নেই, দীর্ঘদিনের এই দূরত্ব ঘুচাতে গত ১৩ অক্টোবর ২০১৭ইং অনেক শ্রম ও সময়ের বিনিময়ে আয়োজন করলাম আমাদের ৯৯ ব্যাচের রিইউনিয়ন এবং প্রাক্তন শিক্ষকদের সন্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। র‍্যালি, পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত, স্মৃতি চারণ, স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন,প্রাক্তন শিক্ষকদের সন্মাননা প্রদান, বন্ধুদের সকলেই প্রিয় শিক্ষকদের হাত থেকে শুভেচ্ছা স্মারক গ্রহণ, প্রাণবন্ত আড্ডা, গ্রুপ ছবি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে বেশ সফলভাবেই সম্পন্ন করেছি তা।

ব্যাচের এই একটা প্রোগ্রামের কারণে আবারো বেশ কাছাকাছি চলে এলাম স্কুলের। বর্তমান প্রধান শিক্ষক শ্রদ্ধেয় মঈনুল আবেদীন নাজিম স্যার বেশ সাদরে আমাদের আপন করে নিলেন। উনার আতিথেয়তা, ব্যাবহার ও ভালবাসায় পূর্বের মতই স্কুল এর প্রতি ভালবাসা অনুভব করলাম। তাইতো স্কুল এর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদ এর ব্যানারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এই ৯৯ ব্যাচ। জাতীয় করন তালিকা হতে অন্যায়ভাবে বাদ দেয়ার প্রতিবাদে অন্যান্য ব্যাচকে সংঘটিত করে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ এর আয়োজন করেছি। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজন করেছি সাংবাদিক সম্মেলন এর। দলবদ্ধ হয়ে ছুটে গেছি সুদূর ঢাকায় সেখানেও জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছি, তুলে ধরেছি প্রিয় বিদ্যালয়ের সাথে বিমাতা ও বৈষম্যমূলক আচরণের খুঁটিনাটি। আমাদের এই আন্দোলনের প্রতিটি খবরই জাতীয় দৈনিকসহ টিভি চ্যানেল গুলো গুরুত্বসহকারে ফলাও করে প্রচার করেছে। ক্রমেই আমরা স্কুল সংশ্লিষ্ট সকলের খুব আপন হয়ে উঠলাম। তাই প্রাক্তন হয়ে গেলেও স্কুলের প্রতি আলাদা একটা দায়িত্ব আছে বলে ব্যাচের প্রত্যেকেই এখন ধারণ করি। যদিও অনেকেই বলেছেন আমাদের কি স্বার্থ উত্তরে বলেছি কেবল- ভালবাসি স্কুলকে। মনে মনে ব্যাচের সকলেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কোন অবস্থাতেই ছেড়ে যাবনা স্কুলকে।

আমাদের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হতে চলেছে। ১৯৫৮-২০১৮ দীর্ঘ ৬০বছরের বর্ণিল পথ পরিক্রমায় আগামী ৩এপ্রিল ২০১৮ইং পালন হতে যাচ্ছে হীরক জয়ন্তী উৎসব। স্কুলের এই অর্জন একদিন প্রিয় গোমদণ্ডী পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়কে পৌঁছে দেবে সাফল্যের স্বর্ণ শিখরে। সমগ্র বোয়ালখালী তথা বাংলাদেশে শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে একদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে সেই প্রত্যাশাই করি। জয় হউক হীরক জয়ন্তীর, জয় হউক পাইলটের।

পাল্টা পাল্টি বহিস্কার সেয়ানে সেয়ানে (৩য় বিশ্ব যুদ্ধের ডাক?)

Now Reading
পাল্টা পাল্টি বহিস্কার সেয়ানে সেয়ানে (৩য় বিশ্ব যুদ্ধের ডাক?)

চলছে পাল্টা পাল্টি বহিস্কার, কে কার চেয়ে শক্তিশালী বুজা দায়। একজন রুশ ডাবল এজেন্টকে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে রাশিয়ার ২৩ জন কূটনীতিকে ব্রিটেন থেকে বহিষ্কার করেছেন। তার এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে রুশ দূতাবাসের এক তৃতীয়াংশ কর্মকর্তাদের ব্রিটেন কর্তৃক বহিষ্কার করা হল।

মে এর দাবী ঐ ২৩ জন রুশ কূটনীতিক প্রকৃতপক্ষে গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং তাদের ৭দিনের মধ্যেই ব্রিটেন ছেড়ে যাওয়ার আল্টিমেটাম দেন। ব্রিটেনে কেজিবির সাবেক গুপ্তচর কর্নেল সার্গেই স্ক্রিপাল এবং তার কন্যার ওপর স্নায়ু-বিধ্বংসী কেমিকেল এজেন্ট বা নার্ভ গ্যাস দিয়ে আক্রমণের ঘটনার পর মিসেস মে এই পদক্ষেপের কথা ঘোষণা দেন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অভিযোগ করেছেন, ব্রিটেন এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

এদিকে রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কারের পাল্টা জবাবে দুদিন আগে রাশিয়াও সমান সংখ্যক কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে তাদের দেশ থেকে । পাশাপাশি রাশিয়ায় ব্রিটিশ কাউন্সিল আর সেন্ট পিটার্সবুর্গ শহরে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধেরও নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্বের প্রতিটি দেশেই কূটনীতিকরা ইম্যুনিটি বা সাধারণ ক্ষমার আওতায় তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এর অর্থ দাঁড়ায় নিযুক্ত কোন কূটনীতিকদের সেসব দেশে বিচার করা যাবে না। তবে যদি কোন কারনে তারা আইন অমান্য করেন বা দেশ বিরোধী কোন কাজ করেন বলে সংশ্লিষ্ট দেশ মনে করে, অথবা কোন পরিস্থিতিতে যদি কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয় তবে হোস্ট কান্ট্রি এসব অধিকার এককভাবে প্রত্যাহার করার ক্ষমতা রাখে। ব্রিটেন আর রাশিয়ার মধ্যে চলা বর্তমান ঘটনাটি তেমনি একটি।  

প্রাচীনকাল থেকে বিশ্বের অধিকাংশ জাতি ও রাষ্ট্রের মধ্যে আন্ত:রাষ্ট্রীয় কুটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান থাকলেও এর আইনগত কোন স্বীকৃতি বা ভিত্তি ছিল না।  তাই সকল রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ বিষয়ক জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের আওতাভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনগত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ফলশ্রুতিতে রুপ লাভ করে “ভিয়েনা কনভেনশন” যার মাধ্যমে প্রতিটি দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উন্নয়নের লক্ষ্যে  কুটনৈতিক সংসর্গ, অধিকার ও দায়মুক্তি নিশ্চিতকরনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও সামাজিক ব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটানো। তবে এও উল্ল্যেখ আছে- প্রদত্ত অধিকার ও দায়মুক্তি কোনভাবেই ব্যক্তি স্বার্থে নয় বরং কুটনৈতিক মিশনসমূহের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রযোজ্য হবে। ১৯৬১ সালের ১৮ এপ্রিল ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের কূটনৈতিক আদান-প্রদান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রতিনিধি সম্মেলনে ভিয়েনার কূটনৈতিক সম্পর্কের কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয়। ভিয়েনা কনভেনশনের ৯ আর্টিকেলে স্পষ্ট বলা আছে যে কোন দেশ যেকোনো কারণে কূটনৈতিক কোন ব্যক্তিকে নন গ্রাটা বা ঐ দেশে অবাঞ্ছিত বলে ঘোষণা করতে পারবে। আর মুলত কনভেনশনের এই অণুচ্ছেদের যথাযত প্রয়োগ ঘটিয়েছে যুক্তরাজ্য ও রাশিয়া।

সাবেক সোভিয়েত জামানা থেকে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর সাথে এক ধরনের দ্বন্দ্ব রয়েছে রাশিয়ার। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে ঘায়েল করতে আমেরিকার নেতৃত্বে তাদের মিত্র দেশ নিয়ে গঠন করা হয়েছে সামরিক জোট ন্যাটো। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা সাথে রয়েছে ইউরোপের বেশীর ভাগ দেশ। ন্যাটো জোটের সদস্য দেশ গুলি হছে- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানী, কানাডা, ইতালি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, স্পেন, বেলজিয়াম, ল্যুক্সেমবার্গ, নরওয়ে, পর্তুগাল, গ্রীস এবং তুরস্ক । ন্যাটো জোটের ২টি অংশ বিভক্ত এর একটি রাজনৈতিক এবং অন্যটি সামরিক। নেটো সামরিক জোটের ঘোষিত অন্যতম একটি লক্ষ্য যেটি তাদের সংবিধানের ৫ ধারায় উল্ল্যেখ আছে – কোনো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে হামলাকে জোটের বিরুদ্ধেই হামলা হিসাবে গণ্য হবে। এই ধারা কেবল একবারই কার্যকর করা হয়েছিলো ৯/১১ আমেরিকার টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর। তবে ব্রিটেন এখনও স্যালসবেরির ঘটনাকে আর্টিকেল ৫ বিষয় বলে দেখাতে চাইছে না।

কূটনীতিক প্রত্যাহারে নির্দিষ্ট কোন নিয়মনীতি নেই। সংশ্লিষ্ট দেশ প্রত্যাখ্যাত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সরাসরি যেমন জানিয়ে দিতে পারে আবার আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চিঠি দিয়েও জানাতে পারে। রুশ কূটনীতিক বহিস্কারের পাল্টা জবাবে মস্কোতে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ল্যরি ব্রিস্টোকে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের চলে যেতে হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে রাশিয়া ব্রিটেনের চেয়েও কঠোরতর পথ নিচ্ছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবী করছে, প্রমাণ ছাড়া রাশিয়াকে দায়ী করে এমন উস্কানিমুলক আচরণের জবাবে রাশিয়াও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন আরেকটু আগ বাড়িয়ে বলেছেন- রুশ ডাবল এজেন্ট হত্যায় প্রেসিডেন্ট পুতিনও নাকি জড়িত! বিষয়টিকে সহজভাবে নেয়নি রাশিয়া, প্রতিক্রিয়ায় মি পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, “এ ধরণের কথাবার্তা ক্ষমার অযোগ্য”। দুই দেশের বর্তমান আচরণে পরিস্থিতির যে অবনতি ঘটবে তা অনুমান করাই যায়।

 

এর মধ্যে গত রবিবার ফের চতুর্থ বারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন মিঃ পুতিন। ৬ বছর মেয়াদে তিনি ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকছেন। অসম্ভব জনপ্রিয় এই নেতা সম্পর্কে রাশিয়ানদের ধারণা মি: পুতিনের মাধ্যমে তারা আবার সুপার পাওয়ার দেশে আসীন হবে।

ঘরে বসেই আজ মুড়ি খাচ্ছেন শ্রীলংকান দর্শকরা

Now Reading
ঘরে বসেই আজ মুড়ি খাচ্ছেন শ্রীলংকান দর্শকরা

ফাঁকা প্রেমাদাসা, চারিদিকে যেন নিস্তব্দতা। টুর্নামেন্টের শুরু হতেই প্রায় সবখানেই ছিল উৎসবের আমেজ। তবে শেষতক উদযাপনের শেষদিনে শ্রীলঙ্কা কেবল দর্শক হয়েই রইল। এদিকে দর্শক বনতেও যেন তাদের ঘোর আপত্তি, স্টেডিয়ামে বাইরে টিকেট কাউন্টারে নেই দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। অবশ্য থাকার কথাও না, এমন উৎসবে নিজেদের মাঠে অন্যের নাচ দেখতে কারই বা ভাল লাগবে? তাও সেটা যদি ভয়ংকর নাগিন নৃত্য হয় তবেতো সহ্য হওয়ার কথাই না। তার চেয়ে ভাল বাড়ীতে বসে মুড়ি খাওয়া।

স্বাধীনতার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ত্রি-জাতীয় নিদাহাস ট্রফি টুর্নামেন্ট এর আয়োজন করে শ্রীলংকা। সিংহলি শব্দ ‘নিদাহাস’ এর অর্থই হচ্ছে স্বাধীনতা। নিজেদের এমনই এক উৎসবে আজ তারা নিরব দর্শক। একটু পর  ফাইনালে স্বাধীনতা উৎসবের সেই ট্রফির জন্য লড়বে বাংলাদেশ ও ভারত।

এদিকে চাপ মুক্ত হয়ে খেলবে বাংলাদেশ এমনটাই প্রেস ব্রিফ করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, তবে সত্যি সত্যি যে টাইগারদের সমীহ করছেন তা ভারতীয় অধিনায়কের সুরেই ফুটে উঠেছে।

দুর্দান্ত এক জয়ের পর উৎসবটা কেমন হতে পারে, তা তো ম্যাচ শেষে টাইগারদের ঐ ‘নাগিন’ নাচ দেখলেই অনুমান করা যায়। দলের অতি ভদ্র সুবোধ হিসেবে পরিচিত খেলোয়াড়টিও এসে যোগ দিয়েছিলেন ওই উচ্ছ্বাসে বাদ জাননি টিম ম্যানেজারও। এমন জয়ের পর একটু নেচেগেয়ে উল্লাস না করলে বোধয় জয়ের আনন্দটা পরিপূর্ণতা পেতনা।

নিজেকে সামলে রাখাই অসাধ্য হয়ে উঠেছে, কিন্তু প্রকাশ্যে উদ্‌যাপনটা খুব সামান্যই ছিল। বাকিটা ড্রেসিংরুমের জন্য জিইয়ে রেখেছিলেন টাইগাররা । এই ড্রেসিং রুমেই কিন্তু বহিঃপ্রকাশ ঘটে খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরের অপ্রকাশিত সব প্রতিভা। আর সেখানেই হয়তো জীবনের সেরা আনন্দটা গতকাল উদযাপন করেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। সেই আনন্দে ভাগ বসাতে যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান যান তখন অনেকেই ভরকে গিয়েছিল। তিনি তাদের বলেছেন- এই থামবা না, আমি দেখব না চলে যাচ্ছি, তোমরা নাচো! তবে এটা ভিডিও করে আমাকে পাঠাবে।

শ্রীলংকার বিপক্ষে জয়টা এত সহজে আসেনি। শেষের ওভারে তো ম্যাচ বয়কট করার মতো ঘটনার সুত্রপাত হতে যাচ্ছিল। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক হতে পারে অনেকের ধারণা হলেও বিসিবি সভাপতি সেই শঙ্কা দূর করে দিয়ে জানিয়েছেন যে, খেলা শেষে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ টিমকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কটা যে ঠুনকো নয় তা জোড় দিয়েই বলেছেন মি. পাপন।

 

সার্থক জন্ম তোমার হে স্বাধীনতাকামী বাঙালীর নেতা

Now Reading
সার্থক জন্ম তোমার হে স্বাধীনতাকামী বাঙালীর নেতা

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির দিশারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ তদানীন্তন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মাতা সায়েরা খাতুন এর চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়। গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্ম নেয়া শৈশবের ‘খোকা’ নামের শিশুটি পরবর্তীতে হয়ে উঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালি জাতির মুক্তির নায়ক।

১৯২৭ সালে শেখ মুজিব গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন যখন তার বয়স সাত বছর। ১৯২৯ সালে নয় বছর বয়সেই ভর্তি হন গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে এবং এখানেই ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। চোখে জটিল রোগের কারণে সার্জারি হওয়াতে ১৯৩৪ থেকে চার বছর তিনি বিদ্যালয়ে নিয়মিত থাকতে পারেননি কারণ সম্পূর্ণ সেরে উঠতে তাঁর বেশ সময় লেগেছিল। ১৯৩৭ সালে গোপালগঞ্জ মাথুরানাথ ইনস্টিটিউট মিশন স্কুলে সপ্তম শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে সেখান থেকেই তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন।

১৯৩৮ সনে মাত্র আঠারো বছর বয়সে বেগম ফজিলাতুন্নেসার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শেখ মুজিবুর রহমান। এই দম্পতির ঘরে জন্মেছে দুই কন্যা এবং তিন পুত্র সন্তান। কন্যাদের মধ্যে প্রথমজন বর্তমান বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যজন হলেন শেখ রেহানা। আর বঙ্গবন্ধুর পুত্রদের নাম যথাক্রমে শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল।

ভারত বিভাগ পরবর্পূতী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন ছাত্রনেতা। ক্রমান্বয়ে তিনি আওয়ামী লীগের মূল নেতৃত্বে আসীন হন। অনেক গুণের অধিকারী বঙ্গবন্ধুর একটি বড় গুণ ছিল তিনি তুখোড় বক্তা ছিলেন। সমাজতন্ত্রের পক্ষসমর্থনকারী একজন অধিবক্তা হিসেবে জনগণের স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ছয় দফা স্বায়ত্ত্বশাসন পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন, পশ্চিম পাকিস্তান বরাবরি এটিকে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করেছে। এই ছয় দফার কারণে তিনি আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অন্যতম বিরোধী পক্ষে পরিণত হন। তিনি বাঙালীর অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ ভারত পিরিয়ড থেকে ভারত বিভাজনের আন্দোলন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র রুপে প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রদান করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি যিনি ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম। পরবর্তীকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রাচীন বাঙ্গালি সভ্যতার বাংলাদেশের আধুনিক স্থপতি বলা হয়ে থাকে। তাঁর নেতৃত্ব সুলভ মনোভাব, বাঙালিকে উজ্জীবিত করতে পারার ক্ষমতা, বাঙালীর অধিকার আদায়ে যোগ্য ভূমিকা ও ত্রাণকর্তা রুপে আগমন সবকিছুতেই পরিপূর্ণতা লাভ করে তিনি হয়ে উঠেছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি।

দুই কন্যা ছাড়া বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে ১৯৭৫ এর ১৫আগস্ট এর এক কালো রাতে কিছু বিশ্বাস ঘাতক ও উশৃঙ্খল সেনা কর্মকর্তাদের দ্বারা নির্মমভাবে নিহত হন। দুই কন্যা দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাঁরা প্রাণে বেঁচে যান।

দেখতে দেখতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী পূর্ণ হল। যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা জাতি এ মহান দিনটিকে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও পালন করে।

শ্রীলংকা কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে আদৌ নিরাপদ?

Now Reading
শ্রীলংকা কি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে আদৌ নিরাপদ?

গতকাল বাঘের গর্জনে কেঁপেছে শ্রীলংকার প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম। পালাবার পথ খুঁজে পায়নি লংকানরা কথাটা এই অর্থেই বলা তারা আসলে লজ্জায় মুখ লুকাবার জায়গা খুঁজেছিল। স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেনি বাংলাদেশের কাছে তাদের এভাবে হেরে যাওয়া তাও আবার নিজেদের ঘরের মাঠে। গত ম্যাচের মুশফিকের মতই এইবার জয়ের নায়ক ছিলেন মাহমুদউল্লাহ।  ১৮ বলে অপরাজিত ৪১ রানে ভর করে ফাইনালের টিকিট পেয়ে যায় টিম বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহর নৈপুণ্যেকেই ম্যাচ জেতার কৃতিত্ব দেয়া যায়। চার বলে ১২ রানের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। স্নায়ু চাপে পড়েছে গোটা বাংলাদেশের দর্শক, জানিনা এই অবস্থায় কিভাবে টিকে থাকার শক্তি পেয়েছেন উইকেটে থাকা মাহমুদউল্লাহ! দুঃসাহসিক যোদ্ধার মত বুক চিতিয়ে খেলেছেন তিনি। উদানার করা তৃতীয় বলে চার, চতুর্থ বলে দুই ও পঞ্চম বলে বিশাল ছক্কায় বাংলাদেশকে এনে দেন রুদ্ধশ্বাস জয় এবং নিদাহাস কাপের ফাইনালের টিকিট।

প্রথমে ব্যাট করতে নামা শ্রীলংকা সাত উইকেটে নিয়েছিল ১৫৯ রান জবাবে বাংলাদেশ দুই উইকেট ও এক বল হাতে রেখেই ১৬০রান তুলে নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। ১৮ বলে অপরাজিত থেকে ৪৩ রানের ইনিংস খেলে মাহমুদউল্লাহ হয়েছেন ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ।

১৫৯ রান তাড়া করে দলীয় ১১ রানে লিটন দাস ডাক নিয়ে ফিরেন ড্রেসিং রুমে। সাব্বির রহমান আউট হন ১৩রানে, তামিম-মুশফিকের দায়িত্বশীল জুটিতে ভর করে জয়ের পথে পা বাড়ায় বাংলাদেশ। ১৩তম ওভারে এসে ঘটে বিপত্তি মাত্র ৬৪ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হওয়া জুটি থেকে ছিটকে পড়েন মুশফিক, ২৮রানে কভারে ক্যাচ হয়ে যান তিনি। যদিও উজ্জ্বল ছিলেন তামিম, তিনি ৪১ বলে ম্যাচের পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কিন্তু ব্যাক্তিগত ৫০রানেই গুণাথিলাকার বলে তিনিও ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। এদিকে দলীয় ১০৯ রানের মাথায় দুর্ভাগ্যবশত সৌম্যও ব্যাক্তিগত ১০ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন। ১২ রানে যখন তিন উইকেট এর পতন তখন মারাত্মক স্নায়ু চাপে বাংলাদেশ। কিছুটা এলোমেলো হলেও পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থানে ফেরার দারুণ চেষ্টায় ছিল টাইগার দল। একপর্যায়ে ভরসা জাগিয়েছিল মাহমুদউল্লা-সাকিব জুটি, কিন্তু ১৮তম ওভারে সাকিব ব্যাক্তিগত ৭রান যোগ করে ফাইন লেগে ধরা পড়েন। এবার দলের জন্য ত্রাতা হয়ে ক্রিসে আশা জাগান মাহমুদউল্লাহ-রুবেল জুটি।

ম্যাচে ৬ বলে ১২ রানের স্নায়ুর যুদ্ধে প্রথম দুটি বলে আসেনি কোনো রান। তারমধ্যে দ্বিতীয় বলে মুস্তাফিজ হয়েছেন বিতর্কিত রানআউট। পরপর দুটি বাউন্সার অথচ নো বল দেননি আম্পায়ার! পিচে থাকা মুস্তাফিজের মাথার ওপর দিয়ে অস্বাভাবিকভাবে বল চলে যাওয়াতে আম্পায়ার প্রথমে নো বল দিলেও পরে সিদ্ধান্তটি তুলে নেন। মেনে নিতে পারেননি টাইগার অধিপতি সাকিব, রিজার্ভ আম্পায়ারের কাছে তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করেন। গোটা দল তখন মাঠে, টাইগার দলপতি ইশারায় মাহমুদউল্লাহ-রুবেলকে বের হয়ে আসার নির্দেশ দেন। প্রায় সীমানার কাছে চলেও এলেও টিম ম্যানেজারের হস্তক্ষেপে ম্যাচে ফিরে যায় তারা। এর পরেই তো সব ইতিহাস…

শুরুতেই একটু নেতিবাচকভাবেই শ্রীলংকাকে উপস্থাপন করেছি এর সঙ্গত কারনও অবশ্য আছে। ম্যাচে তাদের করুণ পরিণতি দেখে বেসামাল হয়ে পড়েছিল শ্রীলংকান দর্শকরা, শুধু দেশের টানে খেলা দেখতে যাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেট পাগল দর্শকদের হেনস্তা করেছে তারা। শুধু তাই নয় শ্রীলংকার এসব উস্রিঙ্খল দর্শক স্বয়ং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সামনেই শারীরিক আক্রমণ করে বসে বাংলাদেশী ক্রিকেট ভক্তদের। ভিডিওতে বাংলাদেশী দর্শকদের অভিযোগ নিয়ে কাঁদতে দেখে দর্শক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, ক্রিকেটের এই বিমাতা সুলভ আচরণে আদৌ কি শ্রীলংকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনে অধিকার রাখে কিনা?

সর্বশেষ আরেকটু হাস্যরসের যোগান দিয়ে যাই- ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট বক্সের আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড যানবাহনের যে কার পাস ছেপেছে, তাতে আগে ভাগেই ফাইনালের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ‘ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা এর নাম আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ প্রেসিডেন্ট বক্সের সকল আমন্ত্রিত অতিথিই পেয়েছেন এই কার পাস, জানা গেছে টুর্নামেন্টের শেষ দুই ম্যাচের জন্য দু-তিন দিন আগেই ‘ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা’ ছাপিয়ে ফাইনালের কার পাস সরবরাহ করে শ্রীলঙ্কা বোর্ড। ম্যাচের পূর্বেই ভাগ্য নির্ধারণ করা এই কার পাস সত্যি আনন্দের খোরাক হিসেবে জন্ম দিয়েছে, আর টিম বাংলাদেশ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে তারা কি জিনিস।  

ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে ট্রফির জন্য লড়বে বাংলাদেশ। তাতে যদি বাংলাদেশ জিতে যায় সত্যি বলছি মাইরি এইবার নাগিন নৃত্যটি আমিও একবার চেষ্টা করে দেখতে পারি।

 

মাদকাসক্তের সহজ যাত্রা এবং একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা

Now Reading
মাদকাসক্তের সহজ যাত্রা এবং একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা

চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের পাশ দিয়ে রিক্সাতে করে আসছিলাম, হটাৎই চোখে পড়া দেয়ালের একটি চিকা খুব মনে ধরল। যদি ভুল করে না থাকি দেয়ালে লিখা ছিল “কৌতহলে মাদক সেবন ভবিষ্যতে পরিণত হওয়া নেশা” অনেক্ষন ধরেই চিকার লাইনটি মনে ঘুর পাক খেতে লাগল। আরে! সত্যিইতো কৌতহলের বশবর্তী হয়েই বিশেষ করে একজন যুবক বা যুবতি প্রথম মাদক গ্রহন করে বসে। এটাতো নিজের জীবনে বাস্তবেই উপলব্ধি করেছি।

মনে পড়ে গেল আমার ছাত্রাবস্থার একটি রঙিন স্মৃতি, সবে ইন্টারমিডিয়েট এর গণ্ডি পেরিয়েছি। শহুরে বন্ধুদের নিয়ে নিজেই তৈরি করে নিলাম একটি আন্ডার গ্রাউণ্ড ব্যান্ড দল সময়টা ছিল ২০০১সাল। আমাদের সময়কার একটি আন্ডার গ্রাউণ্ড ব্যান্ডের টিম করা কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রদের কাছে রীতিমত স্বপ্নই ছিল।

এই ব্যান্ড টিম গঠনের আগে অবশ্যই আমাকে বছরখানেক টানা তালিম নিতে হয়েছিল চট্টগ্রামের দুজন কিবোর্ডিষ্ট আইডল ট্রাইঙ্গেল ব্যান্ড এর রনি ভাই এবং স্টিলার ব্যান্ড এর সুজন ভাইয়ের কাছে। ছোট বেলা থেকেই স্বল্প পরিসরে গান শিখেছি যেটা পরবর্তীতে আমাকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। যেটা বলার উদ্দেশ্য, এই ব্যান্ড টিম করার পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামের নামকরা বেশ কয়েকটি ব্যান্ড এর প্যাডে দৈনিক ২ঘণ্টা করে গানের প্র্যাকটিস করতাম।

আমাদের টিমের প্রত্যেকেই ছিল ফ্রেস এবং ছাত্র। নিয়ম করে ঘণ্টা হিসেবে ভাড়া নেয়া প্যাডে সপ্তাহে ২দিন চলত আমাদের টিম প্র্যাকটিস। বদ্ধ রুমে ঘামার্থ শরীরে টানা প্র্যাকটিস শেষে সকলেই খুবই হাঁপিয়ে যেতাম। আর রিফ্রেশমেন্ট এর জন্য হন্যে হয়ে খুঁজতাম পানি সহ খাওয়ার এটা ওটা। আমাদের টিমের একজন ছাড়া বাকী সকলেই ছিল নন স্মোকার, আর যার অভ্যাস ছিল সে ছিল মারাত্মক রকমের চেইন স্মোকার। এক বসাতেই ২-৩টা সিগারেট খতম করতে বেশ পারদর্শী ছিল সে, অবশ্য এটা কোন প্রশংসার গুণগান নয়। বিষয়টি আমার খুব অপছন্দের ছিল তাছাড়াও সিনিয়র বড় ভাইদের অনেক অনুরোধ করে তাদের প্র্যাকটিস প্যাড বুকিং নিতাম, আর টিমের কেউ সিগারেট ফুঁকলে তাদের চোখে পড়ে গেলেতো মানসম্মান সব শেষ। পরিচিত ছাড়া তখন কোন ব্যান্ড তাদের প্র্যাকটিস রুমে অন্য ব্যান্ডকে প্র্যাকটিস করার অনুমতি দিতনা, কেননা প্যাডে তাদের নিজস্ব ইন্সট্রুমেন্ট থাকত। ভয় ছিল এই ভুলের কারনে প্র্যাকটিসের সুযোগটাই জানি মিস করে ফেলি। প্রচুর মানা করতাম স্মোকার বন্ধুটিকে,  কে শুনে কার কথা উল্টো এক টান দেয়ার অফার করত। সামলে চলতাম নিজেকে কেননা মা মোটেই পছন্দ করেননা এসব, আর এই অভ্যেস যেন নিজের মধ্যে না আসে স্কুল জীবনেই মাথা ছুঁয়ে শপথ করিয়েছেন তিনি। ছোট বেলায় পড়েছিলাম ধূমপানের ক্ষতিকর দিক নিয়ে এক প্রখ্যাত সমাজবিজ্ঞানীর উক্তি- ‘Drink poison but leave smoking’। বিষপানের সাথে সাথেই মৃত্যু ঘটে কিন্তু ধূমপানের ফলে মানুষকে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হয় কথাটি বিশ্বাস করতাম এবং করি। স্বাস্থগত দিক থেকে সিগারেট যদিও অনেক ক্ষতিকর, তবে এটাকে মাদকের আওতাভুক্ত ধরা হয় না। তবে ধূমপান ও মাদক সেবনে রয়েছে পারস্পরিক সম্পর্ক। এর কারণ, পৃথিবীতে যত মাদকাসক্ত ব্যক্তি আছে তাদের প্রত্যেকেই প্রথম ধূমপান দিয়ে শুরু করে মাদকে অভ্যস্ত হয়েছেন।

এদিকে প্র্যাকটিস এর পর প্র্যাকটিস করে যতই পরিণত হওয়ার দিকে এগুচ্ছি সহসাত এই অভ্যাসটা টিমের আরো দুজনকেগ্রাস করে বসল। খুব কাছ থেকেই প্রত্যক্ষ করলাম কেবল কৌতহলের বশেই এই অভ্যাসটা কিভাবে তারা রপ্ত করল। তারুন্যের ঐ বয়সে কে শুনে কার কথা তাই বার বার বারণ করেও তাদের থামাতে পারিনি। কিন্তু টিমের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সমমনা হওয়াতে তাকে আটকিয়েছি। অন্যদের সাথে যোগাযোগ না থাকলেও সেই বন্ধুটি আমার প্রিয় বন্ধুদের একজন হয়ে আছে এখনো। যাই হউক ফিরে যাই আগের প্রসঙ্গে- মোটামুটি ভালই নাম করতে লাগল আমাদের ব্যান্ড। মেটাল ও পাশ্চাত্য ধাঁচের গানে অভ্যস্ত ছিলাম তাই বিয়ে কিংবা মেহেদী অনুষ্ঠানে আমাদের তেমন ডিমান্ড না থাকলেও কলেজ এবং ইউনিভার্সিটির র‍্যাগ ডে গুলাতে বেশি পারফর্ম করা হত। আর যে সব প্রোগ্রামগুলিতে অংশগ্রহন করতাম তার কন্ট্রাক্ট পারসন বা পার্টিকে পূর্বেই সিগারেট এর প্যাকেট সহ এটা ওটার ডিমান্ড দিয়ে দিত আমাদের টিমে সিগারেটে অভ্যস্থ সদস্যটি। বিষয়গুলি আস্তে আস্তে অন্যদিকে মোড় নিতে লাগল, আজকে এটা কাল ওটা এ যেন এক স্বাভাবিক ব্যাপার। আস্তে আস্তে তারা ঢুকে পড়ল মাদকের রাজ্যে যদিও সেসব আর মনে করতে চাইনা। তখন ভেবেছি প্রচুর দীর্ঘদিনের দিনের পরিশ্রমে গড়া টিম চাইলেও ভেঙ্গে দিতে পারছিনা, শুধু ২জনই থেকেছি বাকিদের চেয়ে আলাদা। বলছিনা টিমের বাকী মেম্বাররা নৈতিকভাবে খারাপ কিন্তু খুব কাছ থেকে দেখেছি মাদকের পথে তাদের সহজ যাত্রা। চিত্রটি ছিল এমন- সংকোচে প্রথমে হাতে নেয়া এদিক ওদিক তাকানো তারপর মুখে দিয়ে গাল দিয়ে ধোঁয়া বের করা তারপর নাক দিয়ে বের করার চেষ্টা, কাশি। এভাবে ১-২টা থেকে প্রতিদিন ১প্যাকেট(২০টা) কিংবা তারও অধিক সিগারেটে তারা অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের ভাবটাও ছিল সিগারেট খাওয়া একটি ফ্যাশন। প্র্যাকটিস প্যাডের ভাড়া বাবদ মেম্বারদের নির্ধারিত ফি দিতে অনেকেই গড়িমসি করলেও সিগারেট কিনতে তাদের টাকার কোন সমস্যা হতনা। ব্যাক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি আমার পরিবারের ভাই বোনদের মধ্যে এই বাজে অভ্যাসটি নেই যার কারনে গর্ববোধও করি। আর পরিবারের জুনিয়রদের মধ্যে যারা সামনে অগ্রসরমান হচ্ছে দৃঢ় বিশ্বাস তারাও এই ধারাবাহিকতা পূর্ণাঙ্গ রক্ষা করবে। আগে পরিবার বাঁচাই তারপর না হয় সমাজের কথা বলি। আপনার পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্যদের খোঁজ খবর রাখছেনতো সে কি করছে? কৌতহল বশে যদি এমন কিছু করেই থাকে তবে না শাসিয়ে বন্ধুর মত মিশে তার এই বদ অভ্যাসে বাঁধা দিতে হবে। মাদকের শুরুই কিন্তু সিগারেটের হাত ধরে যা পর্যায়ক্রমে মরণ ব্যাধি পর্যন্ত পৌঁছে দেবে।

বিজ্ঞানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের অবসান

Now Reading
বিজ্ঞানের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের অবসান

মাত্র ৭৬বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন ব্রিটিশ পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, তাঁর মৃত্যুতে শ্রদ্ধায় অবনত হয়েছে গোটা বিশ্ব। হিসেব মতে হকিং জন্মেছিলেন ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি, আরেক মহান বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর মৃত্যুর ৩০০ বছর পর। মহান এ বিজ্ঞানীর মৃত্যুর ঘটনা জানার পরপরই টুইটারসহ সোশ্যাল বিভিন্ন মাধ্যমে শোক জানিয়েছেন বিশ্বের খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।  যিনি বিজ্ঞানকে তাঁর নিয়তি মনে করতেন সেই নিয়তিই তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে করেছে নিষ্ঠুর আচরণ। এএলএসে আক্রান্ত হয়ে হুইলচেয়ারে ভর করে কেটেছে তাঁর পুরোটা জীবন। স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারতেননা তিনি, বলতেন কম্পিউটার স্পিচ সিনথেসাইজারের মাধ্যমে।

 

শৈশবে খুব একটা ভাল ছাত্র ছিলেন না হকিং, তবে তীব্র বুদ্ধিমত্তার দরুন শিক্ষকদের নিকট অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। বিজ্ঞান সর্ম্পকে প্রবল আগ্রহ থাকায় স্কুলে সকলে আদর করে তাঁকে আইনস্টাইন ডাকতেন। ছাত্র ভাল না হলেও অক্সফোর্ডের স্কলারশিপ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে টিকে গেলেন হকিংস। গণিতে প্রবল আগ্রহ থাকলেও অক্সফোর্ডে ভর্তি হয়ে বেছে নিলেন পদার্থ বিজ্ঞানের কসমোলজিতে।

হকিং এর কাজের বেশির ভাগই ছিল মহাবিশ্ব ও সময়ের প্রকৃতি, আপেক্ষিকতা, কোয়ান্টাম তত্ত্ব, মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র কণা কিভাবে কাজ করে ইত্যাদি নিয়ে। তাছাড়া তিনি তাঁর গবেষণায় খুঁজে বেরিয়েছেন মহাবিশ্বের সৃষ্টি কোথা হতে, কেমন করেই তা নিয়ন্ত্রিত হয় এসব। ১৯৭৪ সালে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান রয়েল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন যখন তাঁর বয়স ছিল ৩২বছর। ১৯৭৯ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের লুকেসিয়ান প্রফেসর হন। ব্রিটিশ আরেক বিজ্ঞানী স্যার আইজ্যাক নিউটন ও পূর্বে একই পদে ছিলেন। পরে পরিবর্তিত হয়ে হকিং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তাত্ত্বিক জ্যোতির্বিদ্যা ও মহাজাগতিক বিদ্যা পড়াতে যান।

সমসাময়িক বিজ্ঞানীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অধিক খ্যাতিমান। ১৯৮৩ সালে আরেক প্রখ্যাত বিজ্ঞানী জিম হার্টলের সাথে যৌথভাবে আবিষ্কার করেন মহাবিশ্বের আকার আকৃতি সর্ম্পকিত অজানা তথ্য। এই মহাবিশ্বের গূঢ় রহস্য উদ্‌ঘাটনের চেষ্টায় জীবনের শেষটুকু লড়ে গেছেন তিনি।

অধ্যাপক হকিং সত্যিকার অর্থেই ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্বের অধিকারী, লাখো মানুষের অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন তিনি। বিজ্ঞানে রয়েছে তাঁর বিরল অবদান এবং বিজ্ঞান ও গণিতকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তিনি যে অসামান্য অধ্যায় রচনা করেছেন তা চির স্বীকার্য। তাঁর বিদায়ে এক অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে বেড়াবে বিশ্ব। ।