ঠিকানা শুধু এক সমাধি সাড়ে তিন হাত মাটি

Now Reading
ঠিকানা শুধু এক সমাধি সাড়ে তিন হাত মাটি




বিশ্বাস করতেই মন চাইছেনা যে বাংলাদেশের রক মিউজিকের কিংবদন্তী, সুর ও গিটারের জাদুকর সবার প্রিয় আইয়ুব বাচ্চু আর বেঁচে নেই। আজ ১৮আগস্ট সকাল ৯.৪৫মিনিটে তিনি হৃদ রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ  নিশ্বাস ত্যাগ করেন। চট্টগ্রামের পটিয়ার খরনা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৬২সালের ১৬ আগস্ট জন্ম নেন আইয়ুব বাচ্চু। তিনি নিজে তাঁর বহু টিভি ও পত্রিকার সাক্ষাৎকারে বলেছেন কিভাবে তাঁর সংগীত জীবনের  পথ চলা শুরু। আসুন এক নজরে দেখে নিই এই গুণী ব্যান্ড শিল্পীর সংগীত জীবন…


সংগীত জীবনে আইয়ুব বাচ্চুর পদার্পণ ১৯৭৭ সাল এবং তাঁর প্রথম গান হচ্ছে “হারানো বিকেলের গল্প”। জীবনের প্রথম ব্যান্ড লাইনআপ ছিল “ফিলিংস (১৯৭৮)। পরবর্তীতে ১৯৮০ সাল হতে এক দশক পর্যন্ত যুক্ত থাকেন সোলস ব্যান্ড এর সাথে। সোলস ছেড়ে ১৯৯১ সালে নিজেই গঠন করে ফেলেন তাঁর নতুন ব্যান্ড “লিটল রবিনস ব্যান্ড” সংক্ষেপে এলআরবি। পরে আইয়ুব বাচ্চু ব্যান্ডের সংক্ষিপ্ত রুপ ঠিক রেখে পরিবর্তন আনেন পরিপূর্ণ নামে, নতুন নাম হয় “লাভ রানস ব্লাইন্ড”।


তাঁর প্রথম একক অ্যালবাম এর নাম রক্তগোলাপ বাজারে ক্যাসেট আকারে এসে ১৯৮৬ সালে। ব্যান্ড এর নিজস্ব নাম “এলআরবি” দিয়ে প্রথম অ্যালবাম বাজারে আসে ১৯৯২সালে। তাঁর একক অ্যালবামগুলি যথাক্রমে- রক্তগোলাপ (১৯৮৬), ময়না (১৯৮৮), কষ্ট (১৯৯৫), সময় (১৯৯৮), একা (১৯৯৯), প্রেম তুমি কি! (২০০২), দুটি মন (২০০২), কাফেলা (২০০২), প্রেম প্রেমের মতো (২০০৩), পথের গান (২০০৪), ভাটির টানে মাটির গানে (২০০৬), জীবন (২০০৬), সাউন্ড অব সাইলেন্স (ইন্সট্রুমেন্টাল, ২০০৭), রিমঝিম বৃষ্টি (২০০৮), বলিনি কখনো (২০০৯), জীবনের গল্প (২০১৫)।


এভাবে ব্যান্ডের অন্যান্য এ্যালবামের মধ্যে- এলআরবি (১৯৯২),  সুখ (১৯৯৩), তবুও (১৯৯৪), ঘুমন্ত শহরে (১৯৯৫), ফেরারী মন (১৯৯৬), স্বপ্ন (১৯৯৬),  আমাদের বিস্ময় (১৯৯৮), মন চাইলে মন পাবে (২০০০), অচেনা জীবন (২০০৩), মনে আছে নাকি নেই (২০০৫), স্পর্শ (২০০৮), যুদ্ধ (২০১২)।  ব্যান্ডের নিজস্ব ও একক এ্যালবাম ছাড়াও আইয়ুব বাচ্চু অনেক মিশ্র অ্যালবামে কাজ করেছেন যেসব গান শ্রোতাদের হৃদয় অসম্ভবভাবে নাড়া দিয়েছে এবং পেয়েছে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা। প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি আছে তাঁর বহু চলচ্চিত্রেও তাঁর গাওয়া গান পেয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।


তাঁর গায়ক হয়ে উঠার সংগ্রাম অনুপ্রাণিত করবে যেকোন বয়সের সংগীত অনুরাগীকে। পকেটে মাত্র ৬০০ টাকা নিয়ে ১৯৮৩ সালে চট্টগ্রাম হতে ঢাকায় পাড়ি জমান আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর কাছে ঐ ৬০০ টাকা ছিল ৬ কোটি টাকার মতোই। উঠেছিলেন এলিফ্যান্ট রোডের একটি হোটেলে। যদিও ঢাকাতে তাঁর অনেক আত্মীয় সজন থাকতেন কিন্তু কারো বাসায় তিনি উঠেননি। গান চর্চার খরচ জোগাতে অনেক সময় অনাহারে কিংবা একজনের খাবার কয়েক বন্ধু মিলে খেয়ে তাঁকে দিন পার করতে হয়েছিল। অনেক অমসৃণ পথ একক প্রচেষ্টায় পাড়ি দিয়ে আজকে সকলের ভালবাসায় পরিণত হয়েছেন আমাদের আইয়ুব বাচ্চু তথা বাচ্চু ভাই… তিনি অমর হয়ে থাকবেন লাখো ভক্তের মণি কোঠায়, হৃদয়ের গভীর থেকে গভীরে।


চলবে…

যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে রোভারিং (স্কাউটিং পর্ব-৮)

Now Reading
যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে রোভারিং (স্কাউটিং পর্ব-৮)

রোভার অঞ্চল, বাংলাদেশ স্কাউটস এর ১২টি অঞ্চলের মধ্যে একটি অঞ্চল। স্কাউটিং বিষয়ক ধারাবাহিক প্রবন্ধের আজকের পর্ব রোভারিং নিয়ে।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিট এবং বিভিন্ন মুক্তদল নিয়ে রোভার অঞ্চল গঠিত। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে স্কাউটদের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ, যার মধ্যে ৫০ হাজারের মত রোভার। ব্যাডেন পাওয়েলের ভাষায় রোভার হচ্ছে মুক্তাঙ্গনে সেবার আদর্শে ভ্রাতৃত্ব। রোভারিং হচ্ছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে সমাজ উন্নয়ন ও সেবার লক্ষ্যে আজীবন আত্মনিয়োগ। রোভারিং এমন একটি অভিজ্ঞতা যার মাধ্যমে সে সুনাগরিকত্ব অর্জন করে সমাজসেবা ও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নেয়। রোভারিং পরিচালনার জন্য ব্যাডেন পাওয়েল তার বইগুলিতে লিপিবদ্ধ করেন একটি প্রোগ্রাম বা সিলেবাস এবং কিছু নিয়মাবলি। রোভারদল পরিচালনার জন্য একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোভার স্কাউট লিডার থাকেন। রোভারদলের জন্য একটি অফিস থাকে যাকে বলা হয় ডেন, যেখানে দলের জন্য প্রোগ্রামভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। রোভার প্রোগ্রামের সময়কাল সাড়ে তিন বছর (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দুবছর)। রোভার কার্যক্রম ৪টি স্তরে বিভক্ত রোভার সহচর, সদস্য, প্রশিক্ষণ এবং সেবা স্তর। এসব স্তরে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে রোভারদেরকে পর্যায়ক্রমে স্কাউট আন্দোলন, সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজে দক্ষতা অর্জনে ট্রেনিং দেওয়ার পর এদেরকে আর্ত-মানবতার সেবা ও সমাজ উন্নয়নে কাজে লাগানো হয়। রোভারিংয়ের মূলনীতি হচ্ছে স্কাউট আইন ও প্রতিজ্ঞা পালন করা। প্রতিজ্ঞায় সে সৃষ্টিকর্তা ও দেশের প্রতি কর্তব্যপালন, সর্বদা অপরকে সাহায্য করতে এবং স্কাউট আইন মেনে চলতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে।

স্কাউট আইন ৭টি: স্কাউট আত্মমর্যাদায় বিশ্বাসী, সকলের বন্ধু, বিনয়ী ও অনুগত, জীবের প্রতি সদয়, সদাপ্রফুল্ল, মিতব্যয়ী এবং চিন্তা, কথায় ও কাজে সে নির্মল। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ও মুক্ত দলে রোভারগণ নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে স্কাউট পদ্ধতিতে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে থাকেন। স্কাউট পদ্ধতির মূল কথা হচ্ছে ক্রমোন্নতি ব্যবস্থা যার মধ্যে রয়েছে স্কাউট আইন ও প্রতিজ্ঞা, নিজে কাজ করে শেখা, উপদল ব্যবস্থা, পরিবেশ সংরক্ষণ, ক্যাম্প এবং হাইকিং, পাইওনিয়ারিং এবং প্রাথমিক প্রতিবিধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন এবং সমাজসেবা ও সমাজ উন্নয়নে অংশগ্রহণ। প্রতিটি দক্ষতা অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট ব্যাজ রয়েছে। যেমন সেবা প্রশিক্ষণ ব্যাজ, পরিভ্রমণকারী ব্যাজ (৫ দিনে ১০০ মাইল পায়ে হেটে ভ্রমণ বা রেম্বলিং), স্কাউট কুশলী ব্যাজ, প্রকল্প ব্যাজ (৬ মাস কোনো একটি লাভজনক অ্যাওয়ার্ড হচ্ছে ‘প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৪৮ জন এই অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে, যার মধ্যে চট্টগ্রামের রয়েছে ১২জন। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২২০০টিরও অধিক রোভার ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলাতেই রয়েছে ১১৪টি। এসব দলের মধ্যে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে টি এবং মুক্তদলের সংখ্যা হচ্ছে টি। চট্টগ্রাম জেলার প্রতিটি ইউনিট চট্টগ্রাম জেলা রোভারের অন্তর্ভুক্ত, আর চট্টগ্রাম জেলা রোভার,  রোভার অঞ্চলের অন্তরভুক্ত। বাংলাদেশে স্কাউট কার্যক্রম অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশেষ করে দেশটি দরিদ্র, জনবহুল ও দুর্যোগপ্রবণ হওয়ায় এখানে রোভার কার্যক্রম ব্যাপকভাবে প্রসারলাভ করেছে এবং দেশ ও বিশ্বাঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, স্কাউটের সংখ্যা, কার্যক্রমের ব্যাপ্তি ও গুণগত মান বিচারে বাংলাদেশ বিশ্ব স্কাউট আন্দোলনের শীর্ষ ৫টি দেশের মধ্যে অন্যতম।এছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটস রোভার অঞ্চল বিপির লেখা রোভারিং টু সাকসেস বইটির অনুবাদসহ প্রায় ডজন খানেক বই প্রকাশ করেছে।

 

বাংলাদেশ স্কাউট “জাম্বুরী” এর ইতিহাস (স্কাউটিং পর্ব-৭)

Now Reading
বাংলাদেশ স্কাউট “জাম্বুরী” এর ইতিহাস (স্কাউটিং পর্ব-৭)

বাংলাদেশে স্কাউট “জাম্বুরী” এর ইতিহাস জানতে হলে ফিরে যেতে হবে একটু পেছনে। ১৯৭৮ সালের ১ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৪৬৪ জন স্কাউটের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গাজীপুরের মৌচাকে প্রথম জাতীয় স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়। এই জাম্বুরীর থিম ছিল “সুন্দর পৃথিবীর জন্য আমরা”।

১৯৮০ সালে বাংলাদেশের ২য় এবং ৫ম এশিয়া প্যাসিফিক জাম্বুরীও অনুষ্ঠিত হয় গাজীপুরের মৌচাকে আর থিম ছিল “উন্নয়নের জন্য নেতৃত্ব”। পরবর্তীতে গাজীপুরের এই মৌচাকেই ১৯৮৫সালে তৃতীয়,  ১৯৮৯সালে ৪র্থ, ১৯৯৪সালে ৫ম বাংলাদেশ ও ১৪শ এশিয়া প্যাসিফিক, ১৯৯৯ সালে ৬ষ্ঠ, ২০০৪ সালে ৭ম বাংলাদেশ ও ৪র্থ সার্ক জাম্বুরী ও ২০১০ সালে ৮ম বাংলাদেশ স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়। স্কাউটিং একটি বিশ্বব্যাপী অরাজনৈতিক আন্দোলন। এর জনপ্রিয়তা প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর আইন প্রতিজ্ঞা গ্রহণপূর্বক বালক-বালিকাদের নৈতিক চরিত্র গঠনে খুবই সহায়ক হচ্ছে।

একজন আদর্শবান স্কাউট জীবনে উন্নতি করবেই এবং কর্মক্ষেত্রে সফলতা আসবেই। স্কাউটিংয়ের মধ্যে ধর্মকর্ম সব কিছুই আছে। বর্তমান অবক্ষয় যুক্ত সমাজে সংঘাতময় পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে জীবনমুখী স্কাউটিং পদ্ধতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা, সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে স্কাউটিং শিক্ষায় দেশে দেশে জাম্বুরীর কোনো বিকল্প নেই। ফলে, স্কাউটদের অর্জিত হবে জ্ঞানের দক্ষতা প্রদর্শন, হবে নবীন ও প্রবীণ প্রজন্মের মহামিলন এবং তৈরি হবে নব নব স্কাউটার।

ভারতবর্ষে ১৯১০ সালে স্কাউট আন্দোলন শুরু হলে তখন এটি ইংরেজ ছেলেমেয়েদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ইংরেজ সরকার তখন আইন করে এই উপমহাদেশের ছেলেমেয়েদের জন্য স্কাউটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। উপমহাদেশে ইংরেজ সরকার স্কাউটিং জনপ্রিয়তা দেখে ১৯১৯ সালে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে, স্কাউটিং আরো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯২০ সালে এই উপমহাদেশের ছেলেরা ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে স্কাউটিং করার অধিকার পায়। এভাবেই বাংলাদেশে প্রতি ৪ বছর অন্তর অন্তর স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বিশ্বব্যাপী স্কাউটিং কার্যক্রম চালু থাকলেও সকল দেশের প্রোগ্রাম এক রকম নয়। মূলত বি.পির অনুসৃত নিয়ম ঠিক রেখে দেশে দেশে এক এক রকম প্রোগ্রাম পরিচালিত হয়। বয় স্কাউটদের জন্য যেমন জাম্বুরী, ঠিক তেমনিভাবে কাবদের সমাবেশকে ক্যাম্পুরী ও রোভারদের সমাবেশকে রোভারমুট বলা হয়।

দুই পরাশক্তির বাণিজ্যের কঠিন লড়াইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হবে বিশ্ব!

Now Reading
দুই পরাশক্তির বাণিজ্যের কঠিন লড়াইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হবে বিশ্ব!

ইতিমধ্যে চীন আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হয়েছে ইতিহাসের কঠিনতম বাণিজ্যিক যুদ্ধ। ইতিমধ্যে গোটা বিশ্ব এর ভয়াবহতার আঁচ পেতে শুরু করেছে। বিষয়টি এমন নয়জে তা এই দুটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এর প্রভাব কিন্তু বিশ্ব ব্যাপী ছড়াবে। বিশ্বের এক নম্বর এবং দুই নম্বর অর্থনীতির মধ্যে এই বাণিজ্য যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে বিশ্ব জুড়ে উদ্বেগ গভীর থেকে গভীরতর হচ্ছে। মি. ট্রাম্প কোনভাবেই এই উদ্বেগকে পাত্তা দিতে রাজী নন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন – বাণিজ্য যুদ্ধ ভালো এবং আমেরিকার তাতে লাভই।

এরই মধ্যে পরস্পর দুই দেশের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে, একে অপরকে দিয়েছে পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের কড়া হুমকি। অবশ্য শুরুটা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার মতে- চীনের কাছে বাজার খুলে দিয়ে আমেরিকার মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলছেন, ২০১৭ সালে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি ৮০০ বিলিয়ন (৮০,০০০ কোটি) ডলারে পৌঁছেছে যার প্রধান কারণ চীনের সাথে বাণিজ্যের ব্যাপকতা এবং তার ফলে ক্রমবর্ধমান ভারসাম্যহীনতা।

তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন- চীন নানান কারসাজি করে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পণ্য পাঠায় যার পরিণতিতে আমেরিকার শত শত শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়েছে ফলে লাখ লাখ মানুষ চাকরিহীন হয়েছে। তাই চীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত সপ্তাহেই মি ট্রাম্প আমদানি করা ৬,০০০ কোটি ডলারের অ্যালুমিনিয়াম এবং ইস্পাত সহ চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে চীনও বসে নেই, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে গত সোমবারেই মার্কিন মদ, ফল, শুয়োরের মাংস সহ প্রায় ৩০০ কোটি ডলার মুল্যের আমদানি করা মার্কিন পণ্যের উপর শুল্ক বসিয়েছে।

এই যুদ্ধে কে জিতবে আর কে জিতবেনা তার চেয়ে বড় কথা হল এর নেতিবাচক প্রভাব গোটা বিশ্বকেই ভুগতে হবে। চলুন জেনে নিই কি কি মারাত্মক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে শক্তিধর এই দুই দেশের মধ্যকার বানিজ্যিক যুদ্ধে।

  • বাড়তি শুল্কের ফলে ইস্পাত শিল্পে দাম বাড়বে আমেরিকায় যা সেখানকার মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জীবন যাত্রায় মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
  • আমেরিকায় স্টিল এবং অ্যালুমিনিয়াম শিল্প পুনর্জীবিত করতে এসব পণ্য আমদানিতে শুল্ক আরোপ করা হলেও আদৌ এই শিল্পে কত খানি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে কিংবা নাগরিকগণ আগ্রহী হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞগণ সন্ধিহান।
  • বাড়তি শুল্কে যে চীন ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা কিন্তু নয় এতে মার্কিনীদের মিত্ররাও যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এতে তারা পাল্টা ব্যবস্থাও নিতে পারে।
  • চীনের অনমনীয় মনোভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ১৮০টির মত মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক বসিয়েছে।
  • ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইতিমধ্যে প্রভাব ফেলেছে। এই সিদ্ধান্তে সংসদেই নিজ দলের সদস্যদের তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউজের নীতি নির্ধারকদের মধ্যেও পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে।

“বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী” উচ্ছ্বাসে তারুণ্যের মেল বন্ধন (স্কাউটিং পর্ব-৬)

Now Reading
“বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী” উচ্ছ্বাসে তারুণ্যের মেল বন্ধন (স্কাউটিং পর্ব-৬)

স্কাউট প্রোগ্রাম জাম্বুরী এই নামটির সাথে পরিচিত নয় এমন লোকের সংখ্যা খুবি কম। আজকে জানব “বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী” সম্পর্কে বিস্তারিত।

অনেকের ধারণা জাম্বুরী শব্দটির উৎপত্তি জ্যাম শব্দ থেকে। তবে এর তেমন কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। শব্দটির আভিধানিক অর্থ আনন্দ মেলা হলেও এর প্রায়োগিক অর্থ আরো ব্যাপক এবং বিস্তৃত। বিশদভাবে বলতে গেলে- ‘বালক-বালিকারা স্কাউট আদর্শে দীক্ষা প্রাপ্ত হয়ে যেন স্কাউট আইন ও প্রতিজ্ঞা তাদের বাস্তব জীবনে প্রতিফলন ঘটাতে পারে সেই লক্ষে নির্দিষ্ট সময়ান্তে কয়েক বছর পর পর স্কাউটদের জন্য যে বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয় তার নামই জাম্বুরী। যেখানে থাকে অনাবিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাস’। স্কাউটের জনক ব্যাডেন পাওয়েল বালক-বালিকাদের স্কাউট আদর্শ ও দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য একটি বৃহৎ পরিবেশে স্কাউটদের আমন্ত্রণ করে একত্র করতে চেয়েছিলেন। এ ধরনের একত্র বা সমবেত হওয়ার বিষয়টি তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন।

বি.পি সর্বপ্রথম এর নামকরণ করেন ‘কারোবোরি’। এটি একটি অস্ট্রেলিয়ান শব্দ এর অর্থ হলো ‘পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে বড় ধরনের সমবেত হওয়ার দৃশ্য’। তিনি চিন্তা এবং উপলব্ধি করেন যে, বালকেরা বৃহদায়তনে সমবেত হয়ে কোনো স্থানে ভিড় করবে। তিনি বালকদের ‘ভিড় হওয়া’ এবং ‘পর্যবেক্ষণ প্রদর্শন করা’ শব্দ দু’টিকে সমন্বয় করে সংযুক্তপূর্বক একত্র করে একটি বিশেষ শব্দ সৃষ্টি করে এর নামকরণ করেন ‘জাম্বুরী’। তখন থেকে জাম্বুরী শব্দটিও এর প্রতিশব্দ ‘বয় স্কাউটদের বড় ধরনের সম্মেলন বা সমাবেশ হিসেবে প্রচলন হয়ে আসছে।

জাম্বুরী সম্পর্কে বি.পি বলেছেন, ‘জাম্বুরী হবে স্কাউটসদের উৎফুল্ল আনন্দময় সমাবেশ এবং স্কাউটরাই জাম্বুরীর অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ’। জাম্বুরীর আনন্দঘন পরিবেশ আর বিনোদনমূলক কর্মকান্ডের উপর তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন এর প্রভাব ও কার্যকারিতার নিরিখে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে জাম্বুরীর গুরুত্ব ও তাৎপর্য বৃদ্ধি পেয়েছে বহুমাত্রিক প্রয়োজনে। স্কাউট জাম্বুরী আজকে শুধু আনন্দ মেলায় সীমাবদ্ধ নেই। স্কাউট কলাকৌশল অনুশীলনের মাধ্যমে জ্ঞান ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে আদর্শ মানুষ হওয়া এবং  নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানোর ভূমিকা পালন করে জাম্বুরী। জাম্বুরী স্কাউট জীবনে অতীব প্রত্যাশিত একটি প্রোগ্রাম। প্রতি চার বছর অন্তর অন্তর জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। জাম্বুরীতে অংশগ্রহণ করে স্কাউটরা যেমন দক্ষতা প্রদর্শন করে আর বয়স্করা প্রোগ্রাম পরিচালনা করে।

বিশ্বের সকল দেশের স্কাউটদের নিয়ে বি.পি ১৯০৭ সালে প্রথম স্কাউট ক্যাম্প এর দশম বর্ষপূর্তি উৎযাপন করার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ১ম বিশ্ব যুদ্ধ চলায় তা আর সম্ভব হয়নি। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে অনেক স্কাউট প্রাণও হারায়। পরবর্তীতে ১৯২০ সালের জুলাই মাসে বিশ্বের প্রথম স্কাউট জাম্বুরী আয়োজন করা হয় ইংল্যান্ডের অলিম্পিয়াতে। ৩৪টি দেশ থেকে ৮০০০ হাজার স্কাউট অংশগ্রহণ করা এই জাম্বুরীতে  বি.পি কে বিশ্বের চীফ স্কাউট বলে আখ্যায়িত করা হয়। এর ৪বছর পর ১৯২৪ সালের আগস্টে ডেনমার্কের এরমিলান্দেনে ৪,৫৪৯জন স্কাউট এর অংশগ্রহণে ২য় বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়। জাম্বুরীর শেষ দিনে প্যারেড এর মাধ্যমে বি.পি কে স্বাগত জানায় স্কাউটরা। ১৯২৯ সালে ইংল্যান্ড এর বারকেনহেডের এরো পার্ক এ ৩য় বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়। ৬৯টি দেশ থেকে ৫০,০০০ স্কাউট এর আগমন ঘটে। বি পি এর উপস্থিতিতে স্কাউটিং এর ২১তম বার্ষিকী পালিত হয় এই জাম্বুরীর মাধ্যমে। হাঙ্গেরির গোদোলোতে ১৯৩৩সালে ২৫,৭৯২জন স্কাউট নিয়ে ৪র্থ বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী অনুষ্ঠিত হয়। এই জাম্বুরীতে প্রথম বারের মত এয়ার স্কাউটরা অংশগ্রহণ করে। ৫৪টি দেশের ২৮,৭৫০জন স্কাউট এর অংশগ্রহণে ১৯৩৭সালে নেদারল্যান্ড এ অনুষ্ঠিত হয় ৫ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। তখনকার মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে পরিছন্ন জাম্বুরী। গার্ল গাইড থেকে বিশ্বের চীফ গাইড লেডি ব্যাডেন পাওয়েলকে স্বাগত জানানো হয়। পরে বি.পি ও সেখানে যান। তখন তার বয়স ছিল ৮০বছর, তিনি স্কাউটদের উদ্দেশে বলেন “এখন সময় এসেছে আমার বিদায় নেয়ার। আমি চাই তোমরা সুখী জীবনযাপন কর। তোমরা জান যে আমাদের অনেকেরই আর কখনো দেখা হবে না এই পৃথিবীতে।”

এরই মধ্যে ১৯৪১সালে বি.পি মৃত্যু বরণ করেন। ২য় বিশ্ব যুদ্ধের পর শান্তির প্রতীক নিয়ে ১৯৪৭সালে অনুষ্ঠিত হয় ৬ষ্ঠ বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১০বছর পর অনুষ্ঠিত হয় এই জাম্বুরী। এই জাম্বুরীতে ভারত থেকে আগত স্কাউটেরা তাদের স্বাধীনতা উৎযাপন করে। ১৯৫১সালে অনুষ্ঠিত হয় ৭ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। অস্ট্রিয়ায় অনুষ্ঠিত এই জাম্বুরীতে ১২,৮৮৪জন স্কাউট অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি জাম্বুরীর স্মৃতিতে ৭টি টাওয়ার বানানো হয়। প্রথমবারের মত জার্মান স্কাউটরা অংশগ্রহণ করে। এমনকি জাপান থেকেও একজন স্কাউট আসে। সে তার ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষা জানত না। শুধু জাম্বুরী শব্দটা জানা ছিল তার। কোন অসুবিধা ছাড়াই উপভোগ করে পুরো জাম্বুরী। ১৯৫৫সালে প্রথমবারের মত ইউরোপ এর বাইরে কানাডায় অনুষ্ঠিত হয় ৮ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ৭১টি দেশ থেকে ১১,১৩৯জন স্কাউট এর আগমন ঘটে। এবার ইংল্যান্ড এ, ১৯৫৭সালে সুতন পার্কে অনুষ্ঠিত হয় ৯ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। স্কাউটিং এর ৫০বছর পূর্তি হয়। ৮০টি দেশ থেকে ৩০,০০০ হাজারেরও বেশি স্কাউট উপস্থিত হয়। কাল গড়ব আজ এর প্রত্যয় নিয়ে ১৯৫৯সালে ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত হয় ১০ম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১২,২০৩জন স্কাউট এর আগমন ঘটে ৪৪টি দেশ থেকে। সকলের মনে স্থান করে নেয় জাম্বুরীর বিষয়বস্তু। গ্রিসে অনুষ্ঠিত হয় ১১তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৯৬৩সালের এ জাম্বুরীতে ১৪,০০০হাজার স্কাউট এর আগমন ঘটে। জাম্বুরীতে আসতে গিয়ে বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয় ফিলিপাইন স্কাউটরা। তাদের স্মরণে জাম্বুরীতে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। “বন্ধুত্বের জন্য স্কাউটিং” এই প্রত্যয় নিয়ে ১৯৬৭সালে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হয় ১২তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১০৫টি দেশ থেকে ১২,০১১জন স্কাউট উপস্থিত হয়। একে অপরকে বোঝার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৭১সালে জাপানে শুরু হয় ১৩তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ৮৭টি দেশ থেকে আসা ২৩,৭৫৮জন স্কাউট বন্যার কারণে মাঝপথে কিছুটা ব্যাঘাতগ্রস্থ হলে জাপানিস স্কাউটরা তা দক্ষতার সাথে সামলে নেয়। ১৯৭৫সালে নরওয়েতে অনুষ্ঠিত হয় ১৪তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ৯১টি দেশ থেকে ১৭,২৫৯জন স্কাউট এর আগমন ঘটে সেখানে। “পাঁচটি আঙুল, এক হাত” এই প্রত্যয় নিয়ে নরওয়ের ৫টি স্কাউট অঞ্চল আয়োজন করে এই জাম্বুরী। জাম্বুরী উদ্বোধন করেন নরওয়ের রাজা। ১৯৭৯সাল পুরোটাই ছিল বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। কার্যক্রম চলে পুরো বিশ্বে। সবাই মিশে যায় একে অপরের সাথে স্কাউট ভ্রাতৃতে। ১৫তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী যা ইরানে হওয়ার কথা ছিল, স্থগিত করা হয়। অবশেষে ১৯৮৩সালে  কানাডায় অনুষ্ঠিত হয় ১৫তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৪,৭৫২জন স্কাউট আসে এই জাম্বুরীতে। “স্পৃহা বেঁচে থাকে” এই প্রত্যয় নিয়ে উৎযাপন করা হয় স্কাউটিং এর ৭৫তম বার্ষিকী এবং একই সাথে বি.পি এর ১২৫তম জন্মদিন। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ১৬তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৯৮৭সালের ৩০শে ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ১৯৮৮সালের ৭ই জানুয়ারী শেষ হওয়া এই জাম্বুরীতে ৮৪টি দেশ থেকে অংশগ্রহণ করে ১৪,৪৩৪জন স্কাউট। পুরো বিশ্বকে একসাথে আনার প্রত্যয় নিয়ে ও দারুণ সব কার্যক্রম এর মাধ্যমে ইতি টানে এই জাম্বুরী। এই জাম্বুরীতে সার্ফ কার্নিভাল দেখার সুযোগ পায় স্কাউটরা। ১৯৯১সালে ১৩৫টি দেশ ও বিভিন্ন অংশ থেকে ২০,০০০ স্কাউট এর উপস্থিতে কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ১৭তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। প্রথমবারের মত এত দেশের উপস্থিতি দেখা যায় জাম্বুরীতে। “অনেক মাটি, একটি বিশ্ব” এই ছিল সেবারের প্রত্যয়। নেদারল্যান্ড এ অনুষ্ঠিত হয় ১৮তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৯৯৫সালের এই জাম্বুরীতে ১৬৬টি দেশ থেকে ২৮,৯৬০জন স্কাউট ও কর্মকর্তা আসে। দেশের উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়। “ভবিষ্যৎ এখনই” এই প্রত্যয় নিয়ে চলতে থাকে ১৮তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ১৯৯৮সালের ২৭শে ডিসেম্বর এ শুরু হয়ে ১৯৯৯সালের ৬ই জানুয়ারী চিলিতে শেষ হয় ১৯তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। “গড়ব শান্তি একসাথে” এই প্রত্যয় নিয়ে প্রথম বারের মত ল্যাটিন আমেরিকায় অনুষ্ঠিত এই জাম্বুরীতে ১৫৭টি দেশ থেকে ৩১,০০০হাজার স্কাউট, দলনেতা ও কর্মকর্তা আসেন। থাইল্যান্ড এ অনুষ্ঠিত হয় ২০তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ২০০২সালের ২৮শে ডিসেম্বর এ শুরু হয়ে এ জাম্বুরী শেষ হয় ২০০৩সালের ৮ই জানুয়ারী। ১৪৭টি দেশ থেকে ২৪,০০০হাজার স্কাউট আসে এই জাম্বুরীতে। নিজেদের বিশ্ব,নিজেদের সংস্কৃতি ভাগ করে নেয়ার প্রত্যয় নিয়ে চলতে থাকে ২০তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। “একটি বিশ্ব, একটি প্রতিজ্ঞা” এই প্রত্যয় নিয়ে স্কাউটিং এর ১০০তম বার্ষিকী উৎযাপিত হয় ২০০৭সালের ২১তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরীতে। ইংল্যান্ড এ অনুষ্ঠিত এই জাম্বুরীতে ৪০,০০০হাজার এরও বেশি স্কাউট অংশগ্রহণ করে। সুইডেন এ অনুষ্ঠিত হয় ২২তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। ২০১১সালের এই ৪০,০০০হাজার স্কাউট অংশগ্রহণ করে। “সহজ-সরল স্কাউটিং”-ই ছিল সেবারের প্রত্যয়।

Bangladesh Contingent

২৯ জুলাই ২০১৫ থেকে ৭ আগষ্ট ২০১৫ তে জাপানের ইয়ামাগুচিতে অনুষ্ঠিত হয় ২৩তম বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী। জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্কাউটস জাম্বুরীতে বাংলদেশ থেকে সর্বমোট ৪৩১ জন স্কাউট এবং স্কাউটার অংশগ্রহন করছেন। এদের মধ্যে কন্টিজেন্ট ম্যানেজম্যান্ট টিমে ১৩জন, আন্তর্জাতিক সার্ভিস টিমে ১২০জন, স্কাউট লিডার ২৯জন, স্কাউট ২৫৩ জন অংশগ্রহন করেছেন। বিশ্ব স্কাউট জাম্বুরী ছাড়াও প্রতিটা দেশের স্কাউট সংস্থা তাদের নিজস্ব স্কাউট জাম্বুরী এর আয়োজন করে থাকেন। পরের পর্বটি থাকছে বাংলাদেশে স্কাউট “জাম্বুরী” নিয়ে।

চট্টগ্রামে সড়ক কতটা নিরাপদ?

Now Reading
চট্টগ্রামে সড়ক কতটা নিরাপদ?

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম কিন্তু এখানকার রাস্তাঘাট দেখলে কেউ বুজবে না আদৌ কি এটা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিভাগীয় শহর নাকি অন্য কিছু! দেশের আমদানি রপ্তানির সিংহভাগই পরিচালিত হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। ফলে সারাদেশের সাথে যুক্ত চট্টগ্রাম সড়ককে বাংলাদেশের লাইফ লাইন বলা হয়। ব্যাপারটা এমন যে কোন কারণে গোটা দেশ হতে চট্টগ্রাম বিচ্ছিন্ন হলে দেশে পণ্যের যোগান স্থবির হয়ে যায় এবং তার বিরুপ প্রভাব পরে। অর্থনীতি নিয়ে আলোচনাটা এখানে মুখ্য নয় তবুও প্রসঙ্গটা টেনেছি এই কারণে যে, দেশের এই অর্থনৈতিক প্রাণ সচল রাখতে এখানকার সড়ক ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও অনেক বেশি। যদিও শহরের ভেতর উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে, তৈরি হচ্ছে বিশালাকার ফ্লাইওভার, বাইপাস, মেরিন ড্রাইভ ইত্যাদি। কিন্তু যেই বন্দর নিয়ে আমরা গর্ব করি সেই বন্দর কানেক্টিং রোড, এক্সেস রোড সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল দশা। এসব রোড দিয়েই চলে বন্দরের সকল কাভারড ভ্যান, লড়ি, ট্রাক ইত্যাদি। প্রায়শই চোখে পড়ে এসব যানবাহনের দুর্ঘটনার চিত্র, দেখা যায় রাস্তার পাশে একেকটা চিৎপটাং হয়ে উল্টে আছে। এসব রাস্তাঘাটে খানা খন্দরে এতটাই পরিপূর্ণ যে গাড়ীর ভারসাম্য রাখাটাই কঠিন হয়ে পড়ে। চৈত্র ও বৈশাখ মাসের অকাল ভারী বর্ষণ, জোয়ার ও পানিবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামের বেশিরভাগ সড়ক, রাস্তাঘাট খানাখন্দে চরম বেহাল দশায় পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে হালিশহর এলাকার রাস্তাঘাটের করুন দশায় মানুষের নাভিশ্বাস চরমে উঠেছে। পূর্বের ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, সড়কগুলো আরো ভেঙে গিয়ে বর্তমানে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যা অবশিষ্ট আছে তা খানাখন্দে ভরে গেছে অনেক জায়গায়। এতে করে সড়কে দিন-রাত যানজট লেগেই থাকছে যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফলে মানুষ রাস্তায় অলস বসে সময় কাটাচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার-কাপাসগোলা-বাদুরতলা, বহদ্দারহাট-সিঅ্যান্ডবি-চান্দগাঁও হয়ে কাপ্তাই রাস্তার মাথা ও কালুরঘাট সড়ক, মুরাদপুর-বিবিরহাট-অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়ক, অন্যদিকে আগ্রাবাদ-বারিক বিল্ডিং, বন্দর-সল্টগোলা-সিমেন্ট ক্রসিং হয়ে কাঠগড় বাজার ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কসহ চট্টগ্রাম মহানগরীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দুরবস্থা প্রকট। ফলে প্রতিদিনই অসহনীয় দুর্দশা পোহাচ্ছে লাখ লাখ শ্রমজীবী ও কর্মমুখী মানুষকে। 

যদিও বিভিন্ন জায়গায় সড়ক সংস্কারের কাজ চোখে পড়ছে কিন্তু তা শ্লথ গতিতে এগুচ্ছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, সারা বছর বাদ রেখে কেন এসব কাজ বর্ষা মৌসুমে করতে হবে? চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি সড়ক স্থানে স্থানে বিপজ্জনক ফাটল, ভাঙন ও খানাখন্দে ভরে গেছে যা সংস্কারে পর্যাপ্ত সরঞ্জামাদি অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেননা যে কাজ টানা করলে দ্রুত শেষ করা সম্ভব সে কাজ চলছে বিরতি দিয়ে এবং স্বল্প পরিমাণে ইকুপমেন্ত ব্যবহার করে। রাস্তার পাশেই জড়ো করা হচ্ছে ইট, বালি ইত্যাদি যা যানবাহন ও মানুষ চলাচলের অন্যতম প্রতিবন্ধক হিসেবে দৃশ্যমান। আবার অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে কাজের মান অত্যন্ত নিন্ম মানের হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে কাজ শুরু করাতে অনেক ক্ষেত্রেই অসুবিধা দেখা দিচ্ছে সংস্কার কার্যক্রমের কেননা জমে থাকা পানিই অন্তরায় সৃষ্টি করছে। প্রাক-বর্ষায় সাপ্রতিক অতিবর্ষণ ও পানিবদ্ধতা, জোয়ার ও পাহাড়ি ঢলের তোড়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলজুড়ে সড়ক-মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়কসহ স্থানীয় রাস্তাঘাটের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে চলেছে। জরাজীর্ণ এসব সড়ক- মহাসড়কে যানজট নিত্য দিনের সঙ্গী। বিপর্যস্ত সড়ক-মহাসড়কে জ্যাম লেগে থাকার দুর্দশাকে পুঁজি করে একশ্রেণীর পরিবহন মালিক-শ্রমিক যথেচ্ছ হারে ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে যাত্রী সাধারণ থেকে। বাস-মিনিবাস, কোস্টার, কোচ, সিএনজি অটোরিকশা, রাইডার, টেম্পো, লেগুনার হেল্পার ও ড্রাইভারদের কাছে বাড়তি ভারার কৈফিয়ত চাওয়াতে তারা যাত্রীদের সাথে দুরব্যাবহারও করছে। সত্যিকার অর্থে সাধারণ মানুষের এসব ভোগান্তি দেখার কেউ নেই। আসলে সবার মাঝেই কেমন যেন এক অস্থিরতা বিরাজ করছে, মন মেজাজ ঠিক জায়গায় ধরে রাখতে না পেরে সবাই খেইল হারিয়ে ফেলছে। এর প্রধান কারণ সড়কের মারাত্মক অব্যবস্থাপনা। সড়কের ট্রাফিক সিস্টেম সন্ধ্যার পর কোনভাবেই যেন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা পুলিশ, কেননা এই সময়টাতে অফিস ও বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে ছুটি হয় ফলে রাস্তায় মানুষের আদিক্য দেখা দেয়। গাড়ী শ্লথ গতিতে চলে কারণ অধিকাংশ সড়কেরই বেহাল দশা। সড়কের উপরিভাগের পিচ উঠে গিয়ে ছাল-বাকল, আস্তর-ইট-কঙ্কর পর্যন্ত উঠে গেছে, অসংখ্য গর্ত, ফাটল ও খানাখন্দে ভরে গেছে সড়ক। আর এসব সড়কের উপর দিয়ে কাদা-পানি জমে আছে। এ অবস্থায় যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মহানগরীর অনেক সড়ক। সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং জনপ্রতিনিধিদের কথার ফুলজুরিতে প্রায়ই শোনা যায় চট্টগ্রাম এখন উন্নয়নের শহর। স্বাধীনতার ৪৭বছর পরে এসে দেশের এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ শহরকে সাজাতে যে সময় লাগছে তা হতাশাজনক বটে। কেননা এখানকার মানুষের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মুল্যায়ন ঠিক মত হয়নি, সঠিক পরিকল্পনার প্রয়োগও যথাযতভাবে ঘটছেনা। আমরা ধরে নিচ্ছি সরকারের স্বদিচ্ছা আছে, কিন্তু নগর পরিকল্পনাবিদ যারা আছেন তারা তাদের মেধার সঠিক বিচার করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। বুজতে হবে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব ছাড়াও এই অঞ্চল পর্যটনের অন্যতম কেন্দ্র। ইট সিমেন্টে গোটা শহরকে মুড়িয়ে দিলে এখানকার স্বকীয়তা ও সৌন্দর্য অনেকাংশে ম্লান হবে। তবে উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং তা করতে হবে সদুরপ্রসারি চিন্তা ও পরিকল্পনা করে যেন চট্টগ্রামের ভাবগাম্ভীর্যতা নষ্ট না হয়। নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বাস্তবায়নকারীদের বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা এবং সদুরপ্রসারি পরিকল্পনায় চট্টগ্রামের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি পাবে এই আশা করছি।

পরস্পর বিরোধী তিন দেশের প্রত্যেকেই চীনের পরম মিত্র

Now Reading
পরস্পর বিরোধী তিন দেশের প্রত্যেকেই চীনের পরম মিত্র

মধ্যপ্রাচ্যের তিন শক্তিধর দেশ ইরান, সৌদি আরব আর ইসরায়েল পরস্পর বিপরীত শিবিরে অবস্থান করছে দীর্ঘদিন ধরেই। শুধু বিপরীত শিবিরে বলা হলে কম বলাই হবে এরা প্রত্যেকেই একে অপরের ঘোরতর শত্রু। ব্যাপারটা এমনযে তাদের ভেতর আদতে কোন সুসম্পর্কই নেই আর যা দেখা যায় তা বেশ বৈরী ভাবাপন্ন। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো এই তিনটি রাষ্ট্রই চীনের সাথে বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করে চলে। হিসেব যদিও কিছুটা জঠিল কিন্তু সাধারণের বুজতে অসুবিধা নেই এই বৈপরীত্যের।  মধ্যপ্রাচ্যে চীনের তিনটি লক্ষ্য – জ্বালানি নিরাপত্তা, হাই টেক সেক্টরে বাণিজ্যের সুযোগ, এবং বেল্ট এ্যান্ড রোড উদ্যোগে বিনিয়োগ। এগুলোর সাথে ইরান, ইসরায়েল এবং সৌদি আরবের সাথে সম্পর্কের ব্যাপারটা মিলে যায়। বিশ্ব বেশ পূর্ব হতেই দুই শিবিরে বিভক্ত যার একটার নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যটির রাশিয়া ও চীন। কোন দেশ যদি অন্যদেশের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়ে কিংবা যুদ্ধংদেহীভাব প্রকাশ করে সেক্ষেত্রে দেখা যায়যে কোন পক্ষকে দুই শিবিরের কেউ সমর্থন দিলে অন্য পক্ষকেও শিবিরের অপর পক্ষ সমর্থন প্রদান করে। এটা কেবল যুদ্ধংদেহী মনোভাব প্রকাশ করা দেশ সমূহতেই প্রযোজ্য হয়। আসুন ফেরা যাক মূল জায়গায় যেটা নিয়ে শুরুতেই আলোকপাত করেছি। সৌদি আরব, ইরান আর ইসরায়েল প্রত্যেকেরই মধ্যে রয়েছে অপরের সম্পর্কে গভীর অবিশ্বাস এবং তিক্ততা। তারা একে অপরকে যেভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে শাসিয়ে থাকে তাতে যেকোন মুহূর্তে পরস্পরের ভেতর একটি যুদ্ধের সম্ভাবনা বিরাজ করে।  দেখা যায়যে পরস্পর বিরোধী দুই দেশের মধ্যে ইরান হচ্ছে শিয়া আর সৌদি আরব হচ্ছে সুন্নি মতাদর্শের মুসলিমদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। কিন্তু অপর তিন মুসলিম প্রধান দেশ সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ফিলিস্তিনে তারা তাদের মিত্রদের দিয়ে পেছন থেকে প্রক্সি যুদ্ধ লাগিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে ইরান এবং সৌদি আরব দুটি দেশই ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক এবং এই ইহুদী রাষ্ট্রটির সাথে কোন আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কই রাখেনি। অন্যদিকে ইরানের দাবী করা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে এক প্রকার হুমকি বলেই মনে করে ইসরায়েল আর সৌদি আরব। সৌদি আরব এবং ইসরায়েল আবার আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রধান শত্রুতে পরিণত আজ। চীন আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শীতল যুদ্ধ এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ইরানের সাথে চীনের সুসম্পর্ক দেখে অনেকেই ভাবেন অপর দুইদেশের পক্ষেতো রয়েছে আমেরিকা। এটা একদমই ভুল ধারণা, মধ্য প্রাচ্যের এই বিষয়টিতে চীন একটু অন্যভাবে রাজনীতি খেলছে। সৌদি আরব এবং ইসরায়েল এর সাথেও রয়েছে চীনের সুসম্পর্ক। এই তিন শক্তির আঞ্চলিক বৈরিতা চীনের সম্পর্কের উপর কোনরুপ প্রভাবই ফেলে নি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে চীন মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর দেশগুলোর ক্ষেত্রে দূরদর্শী নীতি গ্রহণ করেছে। চীন মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করলেও চীনের মত কোন শর্ত জুড়ে দেয়নি। চীন বারবারই বলে এসেছে কোন দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কিংবা মতাদর্শ পরিবর্তনে তারা প্রভাব বিস্তার করতে আগ্রহী নয়।

এদিকে দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ দেশগুলোর সাথে চীনের রাষ্ট্রীয় সফর বিনিময় হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জুন মাসের শুরুতেই চীনে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এর সাথে সাক্ষাৎ করে এসেছেন । উল্লেখ্য যে, ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর আন্তর্জাতিক যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়েছিল ঠিক সেসময়ই চীনের সাথে তাদের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এমনকি ইরাক-ইরান যুদ্ধকালীন চীন ছিল ইরানের অস্ত্রের প্রধান উৎস। এছাড়াও আরো অনেক ক্ষেত্রে চীন এগিয়ে এসেছে ইরানকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা দিতে। বিনিময়ে চীনও সুবিধা আদায় করে নিয়েছে, তারা ইরানের তেল আমদানির পথ প্রসস্থ করেছে। ইরানকে বন্ধু ভাবা কিংবা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা দেয়ার পেছনে চীনের কিছু নীতিগত বৈশিষ্ট স্পষ্ট। প্রধান কারণ হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য ইরানের অবস্থান এমন এক জায়গায় যেখানে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যখান বরাবর এবং  তা চীনের ‘বেল্ট এ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ নামে বিশাল অবকাঠামো প্রকল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চীন এই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কথা বিবেচনা করে এটিকে বাণিজ্যের নতুন করিডোর বানাতে তৎপর। এদিকে “ইরান ডিল” নামক পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহারে কার্যত লাভ হয়েছে চীনেরই। কেননা ইরানে পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ফলে তাদের সে শূন্যস্থান পূরণ করতে মরিয়া চীনা কোম্পানিগুলো। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগের নতুন কৌশলও নির্ধারণ করতে চলেছে চীন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চিত্রটা একটু ভিন্ন বটে, জাতিসংঘে উত্তাপিত অনেক বিষয়ে যদিও চীন বরাবরই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভেটো দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সমানে ইসরাইলেও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে চীন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও চীনের সাথেও দ্রুত গতিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলও ভিসা অবমুক্ত করে দিয়েছে চীনা পর্যটকদের জন্য, ফলে বছরে গড়ে প্রায় লক্ষাদিক চীনা নাগরিক সেখানে ভ্রমণ করছেন। উচ্চ প্রযুক্তি সেক্টরে ইসরায়েলে প্রায় ১৬০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন। গত বছর চীন সফর করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি তার বাণিজ্যিক এই সফরে দুদেশের মধ্যে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের চুক্তি সম্পাদন করেছেন।

সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও অনেকটা একই নীতি অনুসরণ করছে চীন যদিও তারা ভালভাবেই জানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের পরম মিত্র। চীন মধ্যপ্রাচ্যে তার বিনিয়োগ বাড়াতে সৌদি আরবে অবকাঠামোগত প্রকল্পে আগ্রহী। ইতিমধ্যেই সৌদিআরবের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে চীন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রায় সবক্ষেত্রেই মতৈক্য নেই। যেমন ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থক সরকারকে চীন হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমর্থন দিচ্ছে, কিন্তু সিরিয়ায় তা উল্টো। সেখানকার গৃহযুদ্ধে চীন আবার বাশার আল-আসাদ সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে যা সৌদি আরবের চরম শত্রু। সবকিছুর পরও গত বছর সৌদি বাদশা সালমান চীন সফর করেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সাথে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সাক্ষাতকার করেন। বলা হচ্ছে এটাই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের সাথে সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশের প্রধানের সাক্ষাৎ।

ঘাতক জাবালে নুর পরিবহনকে পরবর্তী কি নামে দেখতে পাব?

Now Reading
ঘাতক জাবালে নুর পরিবহনকে পরবর্তী কি নামে দেখতে পাব?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল তাঁর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে বলেছেন, ‘শিক্ষাথীদের সব দাবি যৌক্তিক। সরকার তাদের দাবিগুলো মেনে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, আইজিপি জাভেদ পাটোয়ারি, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, বাস মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েতউল্লাহ সহ প্রমুখ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিডিয়াকে বলেন, ‘ছাত্রদের সব দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। ঘাতক গাড়ি জাবালে নূরের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। বাসের ড্রাইভার-হেলপারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

বেশ ভালই, অন্তত প্রশংসার দাবী রাখে মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান। কিন্তু প্রশ্ন জাগে মনে, জাবালে নূর আবার অন্য নামে বডির রঙ পাল্টে সড়কে ফিরে আসবে নাতো? সেই শঙ্কাই ভবিষ্যৎ হতে চলেছে। কয়েকটি অনলাইন সংবাদ মাধম্য সুত্রে জানা গেছে রেজিস্ট্রেশন বা রুট পারমিট বাতিল হবে জেনে জাবালে নূর বাস গুলো তাদের মিরপুর ১০ এ অবস্থিত গ্যারেজে দ্রুত রঙ পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছে। সেখানে বাসের পূর্বের রঙ তুলে নতুন করে রঙ করছে। কেননা রেজিস্ট্রেশন বাতিল করলেতো আবার পুনরায় অন্য নামে দেয়া সম্ভব, সেই সুযোগটাই তারা কাজে লাগাচ্ছে। আমার তাতেও সমস্যা নেই যদি তা পুনরায় ফিরে আসে অন্য কোন নামে। আমার আপত্তি তখনি যখন ফিটনেস বিহীন বাসগুলি রাস্তায় দেখব, যেগুলি হয়ত চালাবে লাইসেন্সবিহীন আনকোরা সব চালক। এই অভ্যাসের পরিবর্তন দরকার, মাননীয় মন্ত্রী দয়া করা রাস্তায় পর্যাপ্ত ডিভাইডারের ব্যবস্থা করুন, নির্দিষ্ট স্টপেজ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় স্পিড ব্রেকারসহ যাত্রীচাউনি স্থাপন করুন, রাস্তা পারাপারে প্রয়োজনে আরো ওভারপাস এবং আন্ডার ওয়ে রাস্তা তৈরি করুন, জেব্রা ক্রসিং স্পষ্ট করে দিন পাশাপাশি সেকেলে ট্রাফিক ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে পরিহার করে আধুনিক ট্রাফিক সিস্টেমকে গ্রহণ করুন। আসলে অনেক কিছুরই পরিবর্তন দরকার, তাই বলে বলছিনা দিনে দিনেই তা করতে হবে। কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আসলে জনগণের ভেতর স্বস্তি ফিরে আসবে তা অনুমেয়।

 

সুত্রঃ সংবাদ মাধ্যম

সড়ক নিরাপদ হবে কবে?

Now Reading
সড়ক নিরাপদ হবে কবে?

আমরা নড়ে চড়ে বসি তখনি যখন অকালে ঝড়ে যায় তাজা প্রাণ। প্রতিবারই আমাদের হুঁশটা হয় মারাত্মক রকমের ক্ষতি হয়ে গেলে। সবার আগেই সচেতন হতে হবে নিজেকেই কেননা অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে কার্যত ক্ষতি হচ্ছে নিজেরই। তার অর্থ এই নয়যে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবনা বা দোষীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হব না। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলি, আমি প্রতিদিনকার বাস প্যাসেঞ্জার আর এই প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় চলাচল করতে বাধ্য হই। প্রতিদিনই চড়তে হয় চট্টগ্রামের ১০নং এবং ৪নং রুটের বাসে। এই দুইটা রুটের বাস একই রাস্তায় চলচল করে যা চট্টগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে খ্যাত সিডিএ এভিনিউ। কিন্তু এই সড়কের প্রতিদিনকার চিত্র হচ্ছে উল্ল্যেখিত ২রুটের বাসের মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা। এমন নয় যে তারা অন্য রুটের বাসের সাথে এই প্রতিযোগিতা করে, বরং তারা নিজেদের মধ্যেই এই প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে নিত্যদিনই। বাসের যাত্রীদের কোন কথায় কর্ণপাততো করেইনা উল্টো কড়াভাবে শাসিয়ে দেয় এই বলে যে, তাদের ব্যাপারে যেন কেউ নাক না গলায়। তাদের এহেন আচরণের কারণ হচ্ছে তাদের শক্তিশালী বাস মালিক সমিতি এবং প্রতিটা পয়েন্টেই তাদের একাধিক প্রতিনিধি কিংবা লাইন ম্যানের উপস্থিতি। ফলে তারা যেকোন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যাকাপ পায়, এই লাইন ম্যানরা পুলিশ ও অন্যান্য সবকিছু ম্যানেজ করে। ফলে তাদের দিনের পর দিন এই বেপরোয়া গাড়ী চালানো কিংবা যাত্রীদের সাথে অভদ্র ব্যবহার করা তাদের কাছে সাধারণ ব্যাপার মাত্র। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি এসব রুটের গাড়ীর ড্রাইভারদের অধিকাংশরই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। বন্দর নগরীর এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কেই রয়েছে চট্টগ্রামের বেশ কিছু স্বনামধন্য স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি ঢাকায় ঘটে যাওয়া বীভৎস দুর্ঘটনা আমাকে দারুনভাবে নাড়া দেয় কবে না জানি তা এখানেও ঘটে বসে। কেননা প্রায়ই দেখছি ছাত্র-ছাত্রীরা হুটহাট করেই চলন্ত বাস কিংবা অন্যান্য গাড়ীর সামনে দিয়ে রাস্তা পার হতে। এতে যেকোন মুহূর্তেই দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে যেটি প্রায়ই প্রত্যক্ষ করি তাহল, বাস চালকদের নিজেদের ভেতরকার অসম একটা প্রতিযোগিতা কে কাকে ওভারটেক করে আগে যাবে। অনেক সময় এক বাসের বডির সাথে অন্য বাসের বডি লেগে ঘষাঘষি খাওয়ার দৃশ্যও দেখেই আর এতে কখনো জুরজুর করে ভেঙ্গে পরে জানালার গ্লাস। সারা দেশেই একই চিত্র প্রতীয়মান। চালকদের এসব হেয়ালিপনার দরুন প্রতিদিন গণমাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি সড়ক দুর্ঘটনার অসংখ্য বিভৎস ছবি। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারানোদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে পরিবেশ। না এসব মোটেও ভাল লাগছেনা, মাঝে মধ্যে হয়ত রাগ সংবরণ করতে না পেরে কোন কোন চালকদের উপর চরাও হই কিন্তু এভাবেতো আর সমস্যার সমাধান হবেনা। আসুন নিজেরাই সচেতন হই নিজেদের নিরাপত্তা বিধানে এবং সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হই বেপরোয়া গাড়ী চালনার বিরুদ্ধে।

সড়ক দুর্ঘটনার কতিপয় কারনঃ সার্বিক বিবেচনায় দেখতে পাইযে দেশের আন্তজেলা মহাসড়কগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনার হার কিছুটা বেশি হয়ে থাকে কেননা সেখানে যানবাহন চলাচলের বেগ থাকে দ্রুত। এসব সড়কগুলোতে মুখোমুখি যানবাহন চলাচল করলেও দেখা যায় সড়কগুলো বেশ প্রশস্ত নয় এবং কোনো কোনো জায়গায় ডিভাইডার একদমই নেই। ফলে যানবাহনগুলোতে নিরাপদ দুরত্ব না থাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। অন্যদিকে এসব গাড়ীগুলোর মধ্যে নিরাপদ দুরত্ব রাখতে হলে রাস্তা ছেড়ে যানবাহনগুলো অনেক ক্ষেত্রে নিচে নেমে আসে। ফলে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ে যায় অথবা রাস্তার ধারে দাড়িয়ে থাকা যাত্রী কিংবা পথচারীর উপর আঁচড়ে পড়ে।

বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে চলেছে, সুতরাং দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সেকেলে ধাঁচের করে রাখা উন্নয়নের অন্তরায় স্বরূপ। কেননা সড়কপথ একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। যেকোন ধরনের সড়ক নির্মাণে আমাদের অধিক যত্নবান হতে হবে। মহাসড়কের রাস্তা তৈরির পূর্ব শর্ত হচ্ছে যুগোপযোগী, টেকসই, ভালো বা উন্নতমানের ব্যবহার উপযোগী করে তোলা। কিন্তু উল্টো দেখতে পাই দেশের অধিকাংশ রাস্তঘাটগুলো জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করা হয় যা তৈরির ছয়মাসের মধ্যেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে সড়ক নির্মাণে সরকারের নজরদারি আরো বাড়ানোসহ আন্তরিকতার প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনায় অদক্ষ ড্রাইভারদের ভূমিকা সবেচেয়ে বেশি বলে মনে করেন অনেকেই। যদিও এই মনে করাটা অমূলক নয় কেননা দেশের বেশির ভাগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী থাকে চালকের অদক্ষতা। ড্রাইভিং পেশাটা আমাদের দেশে এখনো নিম্নমানের পেশা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে গরীব খেটে খাওয়া মানুষ অভাবের তাগিদে এই পেশায় জড়িয়ে পড়েন। আর এই আধিক্ষের কারণে এ পেশায় অদক্ষ ড্রাইভারদের ব্যাপকতাও বেশি। অধিকাংশ চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা দেওয়ার মতো অবকাঠামোগত সরকারী ব্যবস্থা এখনো গড়ে উঠেনি। ড্রাইভিং পেশার উৎকর্ষ বাড়াতে সচেষ্ট হতে হবে সরকারকেই। এদিকে বাস ও ট্রাক চালকরা দিনে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টাই পরিশ্রম করে থাকেন। এই দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করে। এরা শারীরিক ও মানষিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, যার ফলে সঠিকভাবে তারা তাদের পেশায় মনোনিবেশ করতে পারেন না। এটিও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ হিসেবে বিবেচ্য।

সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি অন্যতম কারণ হচ্ছে রাস্তায় চলাচলকারী ফিটনেসবিহীন লক্কর ঝক্কর মার্কা পুরানো গাড়ী। সরকারের উচিৎ দ্রুত পুরোনো এবং ফিটনেস বিহীন যানবাহনগুলো রাস্তা হতে দ্রুতই সরিয়ে নেয়া। যদিও বছরখানেক আগে ঢাকার ভেতর চলাচলকারী ২৫ বছরের পুরোনো যানবাহনগুলো সরিয়ে নিতে সরকার একটি পদক্ষেপ নিয়েছিলো। কিন্তু তা বাস্তবায়নের মুখ দেখা যায়নি। ঢাকার বাইরেতো বছরের পর বছর অসংখ্য পুরাতন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে যেগুলো দুর্ঘটনা ঘটানোর অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচ্য। বাংলাদেশের ট্রাফিক সিগনাল ব্যবস্থা পুরাতন পদ্ধতি অনুসারেই চলছে। এই ট্রাফিক সিগনালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে গতি পরিমাপক, ওজন পরিমাপক, জিপিএস প্রযুক্তি ইত্যাদির অন্তর্ভুক্তি এখন সময়ের দাবীতে পরিণত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা নির্দিষ্ট কোন গণ্ডীতে সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন কারণেই অহরহ ঘটছে তা। যোগাযোগ মন্ত্রনালয়, বিআরটিএ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং পরিবহন সেক্টরের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে  সরকারের উচিৎ এসকল বিষয়ের দ্রুত নিষ্পত্তি করার পদক্ষেপ নেয়া।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে চীন ও রাশিয়ার পাল্টা চ্যালেঞ্জ

Now Reading
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে চীন ও রাশিয়ার পাল্টা চ্যালেঞ্জ

বিশ্বের তাবদ শক্তিধর দেশগুলো একে অন্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রতিনিয়ত উন্নত করে চলেছে নিজেদের সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তি। বিশেষ করে তারা মনোনিবেশ করেছে পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে। আবার প্রতিপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা পরমাণু অস্ত্র হামলা মোকাবিলায় তৈরি করেছে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। শক্তির বিচারে যেন কেউ কারো চেয়ে কম নয়। কম বেশি পৃথিবীর অনেক দেশই নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে স্বতন্ত্র ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে শক্তির বিচারে বলা চলে এ মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন। মূলত পৃথিবীর প্রায় দেশই এ সকল দেশের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র ও তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের চেষ্টা চালায়। চলুন জেনে নিই এমনি কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ সকল দেশ তৈরি করেছে যা অপ্রতিদন্ধি এবং প্রতিটি দেশের কাছেই সবচেয়ে তা বেশি গ্রহণযোগ্য।

THAAD হল যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপনাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। থাড বা Terminal High Altitude Area Defense (THAAD) হচ্ছে তিন স্তর বিশিষ্ট মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। থাড মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমেরিকান ডিফেন্স নেটওয়ার্কের অংশ যা তৈরি করে থাকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী সংস্থা লকহিড মার্টিন। থাড এ ব্যবহত রাডারটি হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্থানান্তরযোগ্য এক্স ব্যান্ড রাডার। থাড মিসাইল ব্যাটারির প্রতিটিতে থাকে ৮টি মিসাইল যা একসাথে নিক্ষেপ করতে পারে, এর এক ব্যাটারিতে ৮টি লঞ্চার ভেহিকল থাকে। এটি সল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলকে ধ্বংস করতে বেশ কার্যকরী। শত্রু কোন দেশ থেকে যদি কোন মিসাইল নিক্ষেপিত হয়, থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা মহাশূন্যেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। তবে THAAD (Terminal High Altitude Area Defense) থাড এর মিসাইল গুলোতে কোন বিস্ফোরক ওয়ারহেড থাকে না এবং এই মিসাইল কাইনেটিক এনার্জি ব্যাবহার করে পরিচালিত হয়। থাড এর এর মূল কার্যপদ্ধতিই হল অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের থ্রেট মিসাইল ধ্বংস করে দেয়া। থাডের হিট টু কিল টেকনোলজি MIM-104 Patriot PAC-3 এর মতোই কার্যকরী। যদিও PAC-3 এর হেডে সামান্য বিস্ফোরক থাকে যা থাডে সংযুক্ত করা হয়নি। থাড মিসাইলের গতি ৮.২৪ ম্যাক যা সেকেন্ডে ২.৮ কি.মি.।

এদিকে থাডকে মোকাবেলায় চীন ও রাশিয়া বেশ তৎপর। তারা এর বিপরীতে তৈরি করেছে নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অামেরিকার শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চিন ডিএফ-২৬ নামের এমন একটি নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল যা মার্কিন ‘থাড’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ধ্বংস করতে সক্ষম। চীনের এই ক্ষেপণাস্ত্রকে ‘এয়ারক্রাফট কেরিয়ার কিলার মিসাইল’ও বলা হচ্ছে যা সহজেই  মার্কিন এয়ারক্রাফট কেরিয়ারে আঘাত করতে বেশ কার্যকরী। এটি আঘাত হানার ফলে সৃষ্ট ইলেকট্রোম্যাগনেটিক পালস এয়ারক্রাফট কেরিয়ারের কমান্ড সিস্টেমকে নষ্ট করে দিতে সক্ষম।

এদিকে রাশিয়াও তৈরি করেছে এস-৪০০নামের সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র যা ট্রায়াম্ফ নামে পরিচিত। রুশ আলমাস সেন্ট্রাল ডিজাইন ব্যুরো এটি তৈরী করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রতিটিতে ৮টি স্তর রয়েছে যার মাধ্যমে ৭২টি লাঞ্চারকে একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এমনকি ৩৮৪টি মিসাইলকে একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং একই সাথে ৩০০টি টার্গেটের উপর নজরদারি চালাতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় মিসাইল ব্যাটারি এক সঙ্গে ৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম যার এক একটির পাল্লা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এরই মধ্যে চলে এসেছে এস ৪০০ এর উন্নত সংস্করণ ও পরবর্তী ভার্সন এস-৫০০। এটি সম্পূর্ণ একটি অত্যাধুনিক প্রমিথিউস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এটি পূর্বের এস-৪০০’এর চেয়ে অনেক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা দিয়ে একযোগে পৃথক ১০ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা যাবে। এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থেকে প্রতি সেকেন্ডে সাত কিলোমিটার গতিতে ছুটে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র তার নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম। যদি শত্রু পক্ষের কোন পরমাণু বোমাবাহী ক্ষেপণাস্ত্র একই গতিতে লক্ষ্যে আঘাত হানার জন্য ছুটে আসে তার প্রতিরোধেকারী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে এস-৫০০ এর গতিও একই হবে বলে দাবী করছে রুশ অ্যারোস্পেস ফোর্সেস। এস-৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা যেখানে স্থাপন করা হবে তার ৬০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ১৮০ থেকে ২০০ কিলোমিটার উচ্চতা দিয়ে ছুটে আসা লক্ষ্যবস্তুকে অনায়াসেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধ্বংস করে দেয়া যাবে। মস্কোর বর্তমান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এস-৫০০’এর সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।