5
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

পাশ্চাত্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের কালজয়ী দুই বিজ্ঞানী

Now Reading
পাশ্চাত্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের কালজয়ী দুই বিজ্ঞানী

হিপোক্রাটিসঃ

ওষুধ বিজ্ঞানের ইতিহাসে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে গ্রিস ও রোমের চিকিৎসকদের অবদান সুবেদিত। তাদের মধ্যে হিপক্রাটিস এর অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। তিনি খ্রিস্টপূর্ব ৪২৫ সালে গ্রিসের কস দ্বীপে জন্ম গ্রহন করেন। আর ক্রমে হয়ে উঠেন এক প্রভাবশালী ব্যাক্তিত্ত।
হিপক্রাটিস পেরিক্লেসের যুগে একজন প্রাচিন গ্রিক চিকিৎসক ছিলেন, যাকে চিকিতসাশাস্ত্রের ইতিহাসে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য ব্যাক্তিদের মধ্যে একজন গণ্য করা হয়। হিপোক্রাটিসকে প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে গণ্য করা হয় যিনি বিশ্বাস করতেন যে, কুসংস্কার বা ঈশ্বর থেকে নয় বরং প্রাকৃতিক উপায়ে রোগের প্রকোপ ঘটে।


তার শৈলী দর্শন ও ধর্মীও রীতিনীতি থেকে পৃথক করে চিকিৎসাশাস্ত্রকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে প্রাচীন গ্রিক চিকিতসাশাস্ত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে।
হিপোক্রাটিস এতোই বিখ্যাত যে তাঁকে ইউরোপ মহাদেশের বিজ্ঞানীরা “ফাদার অব মেডিসিন” (Father of Medicine) নামে অবিহিত করেন।
হিপোক্রাটিস নামটি ছিল তৎকালীন গ্রিসের খুব সাধারন একটি নাম। এ জন্য ইতিহাসবিদ্গন তার পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে তাঁকে “হিপোক্রাটিস অব কস” অথবা “হিপোক্রাটিস দ্যা গ্রেট” নামে অভিহিত করেন।
তাঁর লিখিত বইয়ের নাম “ম্যাটেরিয়া মেডিকো”। বইটিতে অসংখ্য গাছ-গাছড়াজাত ওষুধ, সেগুলো সেবনের প্রক্রিয়া, সেবনের বিধি ও মাত্রা ইত্যাদি রয়েছে। তাঁর এ বই তাঁর মৃত্যুর বহু বছর পর পর্যন্ত মেডিক্যাল কলেজগুলোতে পড়ানো হতো। তিনি চিকিৎসকদের নৈতিকতার ওপর খুব জোর দিতেন। যে কারণে নবীন চিকিৎসকদের পেশায় প্রবেশকালে নৈতিকতার শপথ নেয়ার জন্য “হিপোক্রাটিক ওথ” রচনা করেন, যা আজো পৃথিবীতে বিভিন্ন দেশে অনুসরণ করা হয়।

 

ডিওসকোরাইডিসঃ

 

ডিওসকোরাইডিস ৩০ খ্রিস্টাব্দে তুরস্কে জন্ম গ্রহন করেন। এ মহান বিজ্ঞানী তুরুস্কে জন্ম গ্রহন করলেও পরবর্তীতে তিনি রোমে চলে যান। এবং সেখানে বিখ্যাত সম্রাট নিরোর প্রধান চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত হন। সম্রাট ও সেনাবাহিনীর সাথে তিনি বিভিন্ন দেশে গিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের চাইতে তিনি ভ্রমণরত সেইসব দেশের চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে তথ্য বিনিময়ে তিনি আগ্রহী ছিলেন। মুলত তিনি মানব সেবায় বেশি মনোনিবেশ করেন যার ফলে আজো মেডিক্যালের ছাত্ররা বিশ্ব জয়ী এই গবেষকের নীতি অনুসরণ করতে হয়।

ডিওসকোরাইডিস চিকিৎসাশাস্ত্রের উপর লেখা বইটির নাম “দ্যা ম্যাটেরিয়া মেডিকো”। তিনি বিভিন্ন দেশে ঘুরে সহস্রাধিক গাছ-গাছড়ার ছবি এঁকে এগুলোর ওষুধি গুনাগুনের কথা লিপিবদ্ধ করেন এই বইতে।
পরবর্তীতে তাঁর এ গ্রন্থ ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতে অনেক গুলো ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
তাঁর মৃত্যুর দেড় হাজার (১৫০০) বছর পর পর্যন্ত এই বইটি মেডিক্যাল ছাত্রদের পাঠ্য ছিল।

পৃথিবীর বুকে বিষাক্ত ১০টি সাপ

Now Reading
পৃথিবীর বুকে বিষাক্ত ১০টি সাপ

সাপ দেখলে ভয় পান না এমন মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছেন। আবার অনেকের কাছে সাপ হচ্ছে পৃথিবীর সব থেকে ভয়ঙ্কর প্রাণী। সাপ দেখলে গা শিরশির করে উঠবেই। সাপের বৈজ্ঞানিক নাম হল Animalia।  এই সাপের মধ্যে কিছু আছে বিষহীন, আবার কিছু আছে খুবই বিষাক্ত। পৃথিবীর সব থেকে বিষধর সাপ কোনগুলো?  চলুন তবে জেনে নেয়া যাক –

 

১। ইনল্যান্ড তাইপেন
স্থল তাইপেন পৃথিবীর বিষধর সাপদের মধ্যে শীর্ষে। স্থল তাইপেনের বসবাস অস্ট্রেলিয়ায়। এ সাপ খুব হিংস্র হিসেবে পরিচিত। এদের বৈজ্ঞানিক নাম হল (Oxyuranus microlepidotus) এরা ক্ষুদ্র ও আশযুক্তহয়। গোখরা সাপ এর চেয়ে এর বিষ ৫০ গুন বেশি বিষাক্ত।

২। টাইগার সাপ
এ সাপের ও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস। এ সাপও বিষধর সাপদের মধ্যে অন্যতম। এরা বিশেষ করে উপকুলীয় স্থান বেশি পছন্দ করে। টাইগার সাপ ের বৈজ্ঞানিক নাম হল (Notechis scutatus). এরা লম্বায় ৭ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। এই সাপ বেশি হিংস্র নয়।

৩। কালো টাইগার সাপ
এরা সাধারনত দেড় মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। Black Tiger snake শুধুমাত্র তাসমানিয়া দ্বীপ এ পাওয়া যায়। এদের বৈজ্ঞানিক নাম (Notechis ater) এ সাপ ২০ থেকে ৩০ টি ডিম দেয়। এদের খাবার হচ্ছে ছোট স্তন্যপায়ী, ব্যাঙ ইত্যাদি। শুকনা জায়গা এদের পছন্দ।

৪।কোস্টাল/ উপকূলীয় তাইপেন
Coastal Snake এর বৈজ্ঞানিক নাম (Oxyuranus scutellatus) এরা বড় আকারের সাপ হয়,তারা সাধারনত ৪.৯ থেকে ৬.৬ পর্যন্ত লম্বা হয়। এদের দাঁতও বেশ লম্বা ও তীক্ষ্ণ হয়। এদের খাদ্য হচ্ছে ব্যাঙ, ইদুর,অ ছোট স্তন্যপায়ীরা। এদের শরীরের রঙ ক্রিম-হলুদ হয়।

৫। পূর্বাঞ্চলীয় বাদামী সাপ
Eastern Brown Snake ঘনবসতী অঞ্চলে এরা থাকতে পছন্দ করে। ইদুরের লোভে এরা প্রায় বের হয়। অস্ট্রিলিয়ার পূর্বাঞ্চলে এদের বসবাস। এর বিষ মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্র ধ্বংস করে দেয়। এদের বৈজ্ঞানিক নাম হল (Pseudonaja textiles)

৬। চঞ্চু সামদ্রিক সাপ
Beaked Sea Snake আরেক নাম হল Hook-Nosed sea Snake. এর বৈজ্ঞানিক নাম হল (Enhydrina schistose). ইহা সামদ্রিক সাপদের মধ্যে অন্যতম বিষধর প্রজাতী। এদের নাকের কারনে এমন নাম দেয়া হয়েছে।
তারা দিনে এবং রাতে সজাগ থাকে। তারা ১০০ মিটার পর্যন্ত ডুবতে সক্ষম হয় এবং টানা ৫ ঘন্টা পর্যন্ত থাকতে পারে। এধরনের সাপ প্রায় সাড়ে ৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়।

৭। বাদামী দাগের সাপ
এর বৈজ্ঞানিক নাম হল (Pseudonaja affinis). এদের গায়ে সাধারনত বাদামী , কমলা ও হলুদ রঙের ও হতে পারে। এরা ঘাষে কালো মাটিতে বসবাস করে। এ প্রজাতি দিনে গভীর মাটিতে আশ্রয় দ্বারা সক্রিয় হয়। তাদের খাদ্য হচ্ছে ব্যাঙ , সরীসৃপ ও ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী। এরা সাধারনত লম্বায় ২ মিটার পর্যন্ত হয়। এরা সাধারনত মানুষদের আক্রমন করেনা।

৮। মৃত অ্যাডার
Deth Adder এর বজ্ঞানিক নাম হল (Acanthophis antarcticus) এরা সাধারনত ১.৪ মিটার বা ৪ ফুট ৭ ইঞ্চি হয়। এদের মাথা ছোট হয়। এরা গাছের আড়ালে শিকারের জন্য লুকিয়ে থাকে। সাপ্টি দেখতে যতটা শান্ত মনে হয় ততটা শান্ত না সামনে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে আপনার উপর আক্রমণ করতে পারে।

৯। চ্যাপেল দ্বীপের কালো টাইগার সাপ
বিষধর এ সাপের বৈজ্ঞানিক নাম হল (Notechis serventyi) এরা টাইগার সাপের অন্য এক প্রজাতি। এরা লম্বায় ৬ ফুটের ও বেশি হয়। সাপটি খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে।

১০। গোয়ার্ডার
Gwardar পুরো অস্ট্রেলিয়া জুরেই এদের বসবাস। এদের বৈজ্ঞানিক নাম হল (Pseudonaja nuchalis) এর আরেক নাম হল পশ্চিমীয় বাদামী সাপ। এরা খুব দুর্ধর্ষ ও আক্রমণাত্মক। এদের বিষে একই সাথে রক্ত ও মস্তিষ্কের কার্যকরীতা নষ্ট করে দেয়।

মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ “আল রাজী” (র‍্যাজেস)!!

Now Reading
মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ “আল রাজী” (র‍্যাজেস)!!

অন্যান্য সভ্যতার তুলনায় আরব চিকিৎসকদের ইতিহাস অত্যন্ত নবীন। মাত্র ১০০০ বছর প্রায় পূর্বে এই চিকিৎসকরা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে তাদের অসামান্য জ্ঞান-প্রতিভার সাক্ষর রাখেন। এদের মধ্যে এমনই একজন ছিলেন আল রাজী। চিকিৎসাশাস্ত্রে তার মৌলিক অবদানের জন্য তাকে মুসলিম গ্যালেন হিসেবে সম্বোধন করা হয়।

তিনি ৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ইরানে জন্ম গ্রহন করেন। পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন ইরাকের বাগদাদে অবস্থিত বিখ্যাত মুক্তাদারি হাসপাতালের প্রধান। আল রাজীর শৈশব জীবন ছিল সংগীতময়। শৈশব থেকে শেষ বয়স অবধি তিনি সংগীত চর্চা করেছিলেন এবং গণিত ও রসায়নের গবেষণায় ও আত্মনিয়োগ করেছিলেন। পরবর্তী চল্লিশ বছর বয়সে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় মগ্ন হন। তিনি একজন ইসলামি চিন্তাবিদও ছিলেন। তার নামে ইরানে রাজী ইনস্টিটিউট এবং রাজী বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। প্রতি বছর ২৭শে আগস্ট ইরানে রাজী দিবস পালন করা হয়।

আল রাজী চিকিৎসার মূল ভিত্তি হিসেবে রসায়নকে গ্রহন করেন। তখন রসায়নকে বলা হত ‘আল কেমি’। তিনি রসায়ন শাস্ত্রের অত্যন্ত বিখ্যাত বিজ্ঞানী ছিলেন। ইউরোপের বিজ্ঞানীরা আল রাজীকে ‘র‍্যাজেস’ বলে ডাকতেন।
তার জ্ঞান ও যোগ্যতার ফলে তিনি তখন মুসলিম বিশ্বে সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে পরিনত হন। চিকিৎসা হিসেবে তার খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পরে। তিনিই প্রথম গাছগাছড়ার বদলে মূল উপাদান বা পিওর কেমিক্যাল ব্যবহার করেন।
পরবর্তীতে তিনি বাগদাদের চিকিৎসালয়ে প্রধান চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত হন চিকিৎসক প্রধান হিসেবে অসামান্য খ্যাতি অর্জন করেন।
অনেকে তাকে শিশুচিকিৎসার জনক হিসেবে গণ্য করেন।

তার মোট গ্রন্থের সংখ্যা ২৩৭টি। ‘কিতাব আল মনসুরি’, ‘আল-হাউয়ি’, ‘মানলা ইয়াহদুরু আল-তাবীব’ ইত্যাদি তার বিখ্যাত গ্রন্থ।

তিনিই প্রথম গুটি বসন্ত ও হামের চিকিৎসা শুরু করেন। তিনি হাম ও বসন্তের মধ্যকার পার্থক্য করেন। ফুলের পরাগ রেণু থেকেও যে এলারজি হতে পারে তা তিনি প্রমাণ করেন। এছাড়া তিনিই প্রথম অনুধাবন করেন যে, শরীরে রোগ বিকাশের প্রথম ধাপ হল জ্বর।
আল রাজী ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে তার নিজ জন্মস্থান রায়ে ইন্তেকাল করেন।
তার লিখা গ্রন্থ গুলো ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়ে  পাঠিত হত।

সমুদ্রের মাঝে এক বিস্ময়কর প্রাণী নীল তিমি

Now Reading
সমুদ্রের মাঝে এক বিস্ময়কর প্রাণী নীল তিমি

নীল তিমি আসলে অনেক অনেক বড় একটি প্রাণী। পানিতে এবং স্থলে দুটিতেই নীল তিমি সবচেয়ে বড়। এ পর্যন্ত পৃথিবীতে যত প্রাণী ছিল এবং আছে নীল তিমিই সবচাইতে বড়। এই প্রানিটি লম্বায় ৩০ মিটার বা ৯৮ ফুট এবং ওজনে প্রায় ১৮০ টন বা এর বেশিও হতে পারে। যা প্রায় ১৮০০০ (আঠারো হাজার) জন মানুষের ওজনের যোগফল। নীল তিমির জিব্বহার ওজন একটি হাতির সমগ্র ওজনের চেয়েও বেশি। এর হৃদযন্ত্রের ওজন প্রায় ২০০০ পাউন্ড। পুরুষ নীল তিমির চেয়ে স্ত্রী নীল তিমি কিছুটা লম্বা হয়। এরা সাধারনত ৭০ থেকে ৯০ বছর বাঁচে।

পানির নিচে এদের আসলে নীল লাগে, কিন্তু পানির উপরে যখন ভেসে উঠে তখন দেখা যায় এর শরীরে বিবর্ণ নীল রঙের ছোপ। এর চামড়া সিদ্ধ ডিমের মত মসৃণ এবং পিচ্ছিল।

নীল তিমিরা জীবনের বেশিরভাগ সময়ই আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে মহাসাগরে কাটায়। ওদের প্রধান খাদ্য বিভিন্ন ক্রিল। একটি পূর্ণবয়স্ক নীলতিমি দৈনিক প্রায় ৮ টন ক্রিল খেতে পারে।

প্রাণীজগতে প্রাণীদের মধ্যে নীল তিমি সবচেয়ে জোরে শব্দ করতে পারে। নীলতিমির হুইসেলের শব্দ প্রায় ১৮৮ ডেসিবল। সাগরে নীল তিমির কণ্ঠস্বর ৫০০ কিলোমিটার দূর থেকেও শুনা যায়।

নীল তিমি এক নিঃশ্বাসে প্রায় ৩০ মিনিট থাকতে পারে। এরা ঘন্টায় প্রায় ৮ কিলোমিটার বা তার চেয়ে বেশি সাঁতার কাটতে পারে এবং তার গতিসীমা ৩০ কিলোমিটার উঠতে সক্ষম।

এরা স্তন্যপায়ী প্রানী। নারী নীল তিমি ৩ বছরে মাত্র একটি বাচ্চা দেয় এবং এবং গরবকালিন সময় ১১ থেকে ১২ মাস। একটি বাচ্চা তিমি তার মায়ের স্তন থেকে দৈনিক প্রায় ৬০০ লিটার দুধ পান করে। পৃথিবীর মাঝে নীলতিমিই দ্রুত বর্ধনশীল প্রানী।

সমুদ্রের গভীরে এদের বসবাস, মাঝে মাঝে এরা মধ্যবর্তী অঞ্চলেও সাঁতার কাটতে আসে।
দিনের মধ্যভাগে ঘুমানো নীলতিমির অভ্যাস।

রহস্যে ঘেরা (ডেড সি)মৃত সাগরের অজানা কিছু তথ্য!

Now Reading
রহস্যে ঘেরা (ডেড সি)মৃত সাগরের অজানা কিছু তথ্য!

জর্ডানের ডেড সি নাম নিশ্চয় জানেন। ডেড সি বা মৃত সাগর এর নামটি হয়তো আপনাদের কাছে অদ্ভুত লাগছে । নামটা শুনলেই নিজের মধ্যে কৌতূহল জন্মায়। তাহলে জেনে নেয়া যাক ডেড সি সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য।
ডেড সি এর একটি বিস্ময়কর বিষয় হল এর পানিতে কন প্রাণী বাঁচে না এবং কন মানুষ ডুবেও না বরং ভেসে থাকে। কি অদ্ভুত কেউ ডুবেও না আর কন প্রাণী বাঁচেও না, কি এমন রহস্য আছে ডেড সি তে। আর কেনইবা এর নাম ডেড সি বা মৃত সাগর দেওয়া হল।

আসুন তবে জেনে নেয়া যাক এর সম্পর্কে কিছু তথ্য।

আমরা জানি মৃত সাগরে কেউ ডুবে না। আমরা এও জানি মৃত সাগরে লবণের পরিমাণ বেশি। যার কারণে এর ঘনত্বও বেশি। এর ঘনত্ব ১.২৪ লিটার। লবণে রয়েছে ১৪% ক্যালসিয়াম, ৪% পটাশিয়াম, ৫০% ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড এবং ৩০% সোডিয়াম যা পানির প্লাবতা বৃদ্ধি করে। এই প্লাবতার কারণেই মৃত সাগরে মানুষ বা অন্য কিছু ডুবে যায় না।। এটি পৃথিবীর গভীরতম লবণাক্ত পানির হ্রদ। এর গভীরতা ১০০৪ ফুট বা ৩০৬ মিটার। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর সমুদ্রতটের ব্যবধান ১৪০১ ফুট বা ৪২৭ মিটার যা পৃথিবীর সর্বনিম্ন সমুদ্রতট। যদিও এটিকে মৃত সাগর বা ডেড সি বলা হয়ে থাকে।

কিন্তু অবাক করা বিষয় হল এটি আসলে কোন সাগরই নয়। মূলত মৃত সাগর একটি লবণাক্ত পানির হ্রদ। কিন্তু যেখানে কাস্পিয়ান সাগরের উপহ্রদ গ্যারাবোগেযকলের লবনাক্ততা ৩৫%, জিবুতির আসাল হ্রদের ৩৪.৮%, এন্টার্কটিকার ভান্ডা হ্রদের ৩৫%, এবং এন্টার্কটিকার ডন জুয়ান হ্রদের লবনাক্ততা ৪৪% সেখানে মৃত সাগরের পানিতে লবণের পরিমাণ শতকরা ৩৩.৭ ভাগ। এর দৈর্ঘ্য ৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৯ মাইল বা ১৫ কিলোমিটার।এটি অন্যান্য সাগরের তুলনায় ৯.৬ গুণ লবণাক্ত যার মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড, ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং অন্যান্য উপাদানের মিশ্রণ। তাই এর অপর নাম সল্ট সি। তীব্র লবনাক্ততার কারনে এ সাগরে কন প্রানির অস্তিত্ব নেই। অতিরিক্ত লবণ পানিকে প্রাণী বসবাসের অনুপযোগী করে তুলেছে।মূলত প্রাণীর অস্তিত্বহীনতার কারণেই এই হ্রদের নামকরণ করা হয় ডেড সি বা মৃত সাগর। যদিও ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। বর্ষাকালে পানির পরিমাণ বাড়লে লবনাক্ততা হ্রাস পায়। তখন কিছু ব্যাকটেরিয়ার জন্য বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। খাবারের লবণের তুলনায় মৃত সাগরের লবণের স্বাদ খুবই তিক্ত যা চর্মরোগ নিরাময়ে খুবই কার্যকরী। সোরিয়াসিস, সেলুলাইট, ব্রণ, ফুস্কুড়ি, খুশকি দূর করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শরীরের ব্যথা ও মানসিক চাপ কমাতেও এই লবণের জুড়ি নেই।

এই হ্রদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এটি পিচ উৎপাদনের অন্যতম আধার। মৃত সাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে পিচ নির্গত হয় যা মিশরের মমি তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতো। অস্বাভাবিক রকমের পিচ উৎপাদন ক্ষমতার জন্য গ্রীকরা এর নাম দিয়েছিল লেক অফ এসফালটাইটস বা পিচের হ্রদ। এর পানি কখনও হ্রদের বাইরে প্রবাহিত হয় না। এর তিনদিকেই ঘেরাও করা। একটি মাত্র পথ খোলা আছে যেখান দিয়ে অন্যান্য নদী বা ঝরনা থেকে পানি প্রবেশ করতে পারে কিন্তু বের হতে পারে না। এই হ্রদটিই হচ্ছে পটাশিয়ামের প্রাথমিক উৎস যা সারা পৃথিবীর কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। মৃত সাগরে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫০ মিলিলিটারেরও কম। স্বল্প বৃষ্টিপাত ও তপ্ত আবহাওয়ার কারণে এর জলবায়ু সারাবছরই শুষ্ক থাকে।

মৃত সাগর হচ্ছে একটি প্রাগৈতিহাসিক হ্রদ। ২ থেকে ৩.৭ মিলিয়ন বছর পূর্বেই এর ইতিহাসের সূচনা হয়। হ্রদটি ইসরায়েল, পশ্চিমতীর ও জর্ডানের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত।

এখানকার খনিজ ও লবণ সুগন্ধি ও প্রসাধনী তৈরীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাণী ক্লিওপেট্রা, যিনি সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত ছিলেন তিনি নিজেও রূপচর্চার ক্ষেত্র হিসেবে মৃত সাগরকেই বেছে নিয়েছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে মৃত সাগরের তীরেই প্রসাধনী কারখানা গড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এখানকার আবহাওয়া অনেক রোগ সারিয়ে তোলার জন্য তো ভালোই, এই হ্রদের তীর সূর্যস্নান করার জন্যও যাকে বলে একেবারে মোক্ষম জায়গা। তাই জায়গাটি দিন দিক।