প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করা কিংবা ঘুষ খাওয়া অামাদের বিড়াল প্রজাতির কাছে অপরাধ না তবে প্রেমিকাকে অালিঙ্গন করা অপরাধ!

Now Reading
প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করা কিংবা ঘুষ খাওয়া অামাদের বিড়াল প্রজাতির কাছে অপরাধ না তবে প্রেমিকাকে অালিঙ্গন করা অপরাধ!

কলকাতার দমদমের মেট্রো রেলওয়ে ষ্টেশনে আলিঙ্গনরত একজোড়া যুবক যুবতীকে প্রহার করেছে জনতা। বয়সে যারা প্রবীন তারা শুরু করেছেন আর বয়সে যারা নবীন তারা তাল মিলিয়েছেন।খবরটা শুনে আমি চোখ বন্ধ করে ঘটনাটি বাংলাদেশে ঘটেছে এমন কল্পনা করলাম। দেখলাম একইতো। বরং বাংলাদেশে হলে প্রহারের পরিমানটা আরও বেশী হয়ে যেতো। নরমালি এলাকায় কোনো মেয়ে কোনো ছেলের সাথে রাস্তা দিয়ে দুই দিন হাত ধরা ধরি করে হাসাহাসি করতে গেলেই ছেলে বুড়ো সবাই চোখ পাকিয়ে তাকায়। কেউ কেউ চেহারায় অতিমাত্রায় রাগ ও গাম্ভীর্য এনে বলে,’হুমম, চোখের সামনে এই সব নোংরামি করা যাবেনা। এলাকা থেকে উঠায়া দিবো। এইসব নষ্টামী নোংরামী এইখানে চলবেনা।’ আরও কত কি! যারা এই বয়ান দেয় তাদের বলতে ইচ্ছে করে, আপনারা নষ্টামী নোংরামী বরদাশত করবেননা ভালো কথা, দেশজুড়ে যে জাতীয় থেকে তৃনমূল পর্যায়ে আরও কত শত নোংরামি চলছে,নষ্টামী চলছে (এই যেমন সুদ,ঘুষ,ছিনতাই, রাহাজানি, খুন-গুম)তারা সেগুলো বন্ধ করতে এইরকম ভাবে মুরুব্বী টাইপের ঝাড়ি মারেননা কেনো? নাকি শুধু নারী পুরুষের চুমু আলিঙ্গনকেই আপনাদের নষ্টামী মনে হয়? আর কিছুকে আপনাদের নষ্টামী মনে হয়না? নাকি ঐসব নষ্টামীর বিরুদ্ধে এরাম ঝাড়ি দিলে সেরাম প্যাদানী খেয়ে চাঙারীতে করে ঘরে ফেরার বদলে হাসপাতালের ফিরতে হবে বলে ঝাড়ি মারেননা?’ আমারতো মনে হয় পরেরটাই ঠিক। বিড়াল কুকুরের সাথে পারেনা, আবার ইদুরের ওপর যেয়ে হুদাই ঝাপিয়ে পড়ে। ঠিকই ইদুরকে দৌড়িয়ে মেরেই ফেলে। আপনারা হচ্ছেন ঐ বিড়াল টাইপের একটা প্রজাতি। যে মানুষগুলো সর্বস্তরের গায়ে কাটা দেয়ার মতো নিন্দনীয় নষ্টামী, নোংরামিগুলো করে বেড়াচ্ছে তার প্রতিবাদ করাতো দূরে থাক, ঐ মানুষগুলো আপনার বাড়ি এলে আরও নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করে কোথায় বসাবেন কি আপ্যায়ন করবেন সেই টেনশনেই আপনি দৌড়াদোড়ি শুরু করেন।কারন ঐ মানুষগুলোরতো পাওয়ার আছে। তাদের কিছু বলতে গেলেতো আপনার নিজেরই চাট্টিবাটি গোল হয়ে যাবে। আর যে ছেলে মেয়েগুলো একটু আধটু প্রেম করে একটু আধটু একে অপরকে গভীর আবেগে কড়িয়ে ধরে আপনারা তাদের ওপর ভয়ংকর হুংকার দিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে তাদের চাট্টিবাটি গোল করার ব্যাবস্থা করেন। কেননা হিসাবতো সোজা!ঐ ছেলে মেয়েগুলোতো আপনাদের ঠ্যাঙাইতে বা চাট্টি গোল করতে পারবেনা।তাদেরতো আর পওয়ার টাওয়ার নেই। কারন তারা সাধারন মানুষ। আর যায় কই। আপনারা বিড়ালগুলো তাদের ইদুর করে নিজেরাই হাকিম হুকুম হয়ে ইচ্ছামতো নাস্তানাবুদ করতে থাকেন। নীতি কথা শুরু করেন। নষ্টামি ফষ্টামি চলবেনা বলে ডায়লগ মারা আরম্ভ করেন। এগুলো কিছুইনারে বিড়াল ভাইয়েরা। কারন আপনারা এত বিবেকবান হন নাই যে আপনাদের চোখে নষ্টামী ধরা পড়বে। মেইন কথা হচ্ছে অাপনারা শক্তের ভক্ত, নরমের যম। শক্তের কাছে লাথি খাওয়ার ভয়ে তার পিছনে লাগেননা অার নরমকে পান থেকে চুন খসার অাগেই লাথি মারতে রেডী হয়ে যান অার লাথি মেরে ফাকা বুলি মারেন।

অামারতো অারেকটা সন্দেহ শুরু হয়েছে। অচ্ছা রাস্তায় প্রকাশ্যে প্রস্রাব করাওতো অন্যায়।কই অাপনারাতো তারও প্রতিবাদ করেননা। যত দোষ শুধু ঐ চুমু ও অালিঙ্গনেই।নাকি অাপনারা নিজেরা যেটা করার সাহস করেন নাই তা এ খ্যাপাটে যুগল করেছে দেখে অাপনাদের সহ্য হয়নি? নিজেদের ব্যর্থতার জ্বালা মেটালেন এভাবে? অদ্ভুত অাপনাদের মানসিকতা! প্রকাশ্যে মূত্রত্যাগ করা কিংবা ঘুষ খাওয়া অামাদের বিড়াল প্রজাতির কাছে অপরাধ না তবে প্রেমিকাকে অালিঙ্গন করা অপরাধ!

 

সড়ক দূর্ঘটনা ও বাংলাদেশ এক সাথে হাত ধরাধরি করে ঘুরে বেড়াচ্ছে সবসময়ের জন্য

Now Reading
সড়ক দূর্ঘটনা ও বাংলাদেশ এক সাথে হাত ধরাধরি করে ঘুরে বেড়াচ্ছে সবসময়ের জন্য

সড়ক দূর্ঘটনা ও বাংলাদেশ এক সাথে হাত ধরাধরি করে ঘুরে বেড়াচ্ছে সবসময়ের জন্য।এক সেকেন্ডও একজন আরেক জনকে ছেড়ে থাকতে পারে না।তাদের এই সখ্যতা, তাদের এই বন্ধুত্ব দেখার মত।এ যেন লাইলী-মজনু,শিরি-ফারহাদ ও প্রাচ্যের রোমিও জুলিয়েটকেও হার মানায়।এই সখ্যতার উপঢৌকন হিসেবে বাংলাদেশ তার বুকের ওপর দিয়ে বয়ে চলা রাজপথ,ফুঠপথ,মেঠোপথসহ সমস্ত পথে তাকে দিয়েছে শুল্কমুক্ত ট্রানজিট ব্যাবস্থা। ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন সড়কে সে তার একাধিক স্থায়ী আাবাসস্থল গড়ে তুলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে। এতেই ক্ষান্ত হয়নি সে।মাঝে মাঝেই তার অবকাশ যাপনের ইচ্ছে জাগে।অবকাশের যাপনের নিমিত্তে সে যখন তখন যেকোনো সড়কে ঢু দেয়।কখনো তার অবকাশ যাপন তাবু দেখা যায় রাজপথে,কখনো ফুঠপথে আবার কখনো মেঠোপথে।এই সুবাদে প্রতিটি সড়কে সে নির্বিঘ্নে কৃতিত্বের সাথে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে সড়ক দূর্ঘটনায় বাংলাদেশ অতিজর্জরিতভাবে সাজিয়ে তুলে বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্ব আরো গাড়ো করে যাচ্ছে।তাদের এই সখ্যতা ভাঙতে কতৃপক্ষের কোন মাথাব্যাথাই দেখা যায় না।বরং তারা দূর্ঘটনার পর হাসি মুখে ‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিছে’বলে নিজেদের দায় আল্লাহর কাধে চাপিয়ে এই সখ্যতাকে আরো দৃড় ও মজবুত করে তুলতে সাহায্য করেন।সুস্থ সবল ও রোগমুক্ত (ভালো রাস্তা) সড়ক দূর্ঘটনার বসবাসের অযোগ্য বলে তারা এদেশের প্রমান সংখ্যক ভাঙা চোরা রোগ শোক অনাহারে অর্ধাহারে ও অপুষ্টিতে ভোগা রাস্তাগুলোর আহার,পুষ্টি সুচিকিৎসার(মেরামত) ব্যবস্থা না করে তাদে সড়ক দূর্ঘটনার বাসযোগ্য রাখতে যেন সদা ততপর থাকেন।ফলস্বরুপ সড়ক দূর্ঘটনা তাদের তাদের ধন্যবাদ দিতে দিতে আরো শক্তি ও আন্তরিকতা নিয়ে আজীবনের মেয়াদে বাংলাদেশের হাত ধরে আছে।
এছাড়া রয়েছে এদেশ বিপুল সংখ্যক লক্কর ঝক্কর,মুড়ির টিন নামে পরিচিত শত শত গাড়ী এবং সেগুলোর ওপর উপবিষ্ট একদল অদক্ষ অনভিজ্ঞ অশিক্ষিত চালক,যা সড়ক দূর্ঘটনার প্রধান উপাদান হিসেবে গন্য।এসব মুড়ির টিন মার্কা গাড়িগুলোকে কতৃপক্ষ মাঝে মাঝেই নিষিদ্ধ করে থাকে। এরা তখন ওয়ারেন্টপ্রাপ্ত আসামীর মত কয়েকদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকে।তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত হলে এবং ভুলোমনা কতৃপক্ষ সব ভুলে গেলে তারা আবার বেরিয়ে এসে রাজপথে রাজত্ব শুরু করে দেয়।ফলে অনূকুল পরিবেশ পেয়ে আগের চেয়ে দ্বিগুন উৎসাহে সড়ক দূর্ঘটনা ফ্রেন্ডশীপ ডে পালন করতে থাকে বাংলাদেশের সাথে।তাদের বন্ধুত্ব সকলের সহযোগীতায় আরও অটুট হতে থাকে।
বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই দেখছি ইলিয়াস কান্ঞ্চন নামক এক ভদ্রলোক,যিনি চলচিত্রের এক সময়ের দাপুটে নায়ক ছিলেন তিনি তার স্ত্রী সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরন করায় ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন করে যাচ্ছেন।কিচ্ছু হচ্ছে না তাতে।এক সময়ের দাপুটে নায়ক এই কান্ঞ্চন সড়ক দূর্ঘটনার দাপটের কাছে দাড়াতেই পারছেন না।বাংলা সিনেমায় সর্বদা তিনি খলনায়কের বিরুদ্ধে সফলতা অর্জন করে দেশ ও সমাজকে বিপর্যয়ের হাত থেকে বাচালেও বাস্তব জীবনে সড়ক দূর্ঘটনা নামক খলনায়কটির হাতে দেশ ও জাতিকে কিছুতেই মুক্ত করতে পারছেন না।তিনি সড়ক দূর্ঘটনার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভাঙাতো দূরের কথা বিন্দুমাত্র চিড়ও ধরাতে পারছেন না।বরং তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে তার সম্মুখেই কোলাকুলি করছে বাংলাদেশ ও রোড অ্যাক্সিডেন্ট।
সবচেয়ে খুশীর কথা হলো এই লিখা যখন লিখছি তখন আমিও সড়ক দূর্ঘটনার ও বাংলাদেশের প্রবল বন্ধুত্বের শিকার হয়ে পা ভেঙে পঙ্গুত্বের দায় নিয়ে আছি।
আরো দীর্ঘস্থায়ী হোক তাদের বন্ধুত্ব।আমরা যারা তাদের বন্ধুত্বের বলি, তারা সবাই তাদের বন্ধুত্বকে সেলিব্রেট করতে থাকি।প্রতিদিনই পালিত হোক সড়ক দূর্ঘটনা ও বাংলাদেশের ফ্রেন্ডশীপ ডে।

প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষা এ বঙ্গে দীর্ঘজীবী হোক।

Now Reading
প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষা এ বঙ্গে দীর্ঘজীবী হোক।

এ জাতি চাতক হয়ে অপেক্ষায় ছিলো।অপেক্ষাটা জলের জন্য ছিলো না,অপেক্ষাটি ছিলো একটি প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষার জন্য।এ জাতি তীর্থের কাক হয়ে অপেক্ষায় ছিলো।অপেক্ষাটি ছিলোএকটি প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষার জন্য। দীর্ঘদিন এ বংগে তার কোনো দেখা ছিলোনা। তিনি লাপাত্তা ছিলেন। জাতি তার দেখা পেতে উদগ্রীব হয়ে ছিলো।তার দেখা না পেয়ে জাতি কর্তাব্যাক্তিদের অমনোযোগীতা ও উদাসীনতাকে দায়ী করছিলো। কর্তাব্যাক্তিরা তার এই অভাব অস্বীকার করে অবশ্য বলেছিল প্রশ্নফাস বলে কিছু নেই। সব মিডিয়ার সৃষ্টি।অথচ গলি থেকে রাজপথ সর্বোচ্চ খোজাখুজি করে দেখা গিয়েছিলো,এ বঙ্গে তখন প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষা বলে কিছু নেই। ‘প্রশ্নফাস বলে কিছু নেই’কথাটি কর্তাব্যক্তিদের সৃষ্টি।তারপর অনেক দিন গত হলো, প্রশ্নফাস পরীক্ষায় পাশ করা প্রজন্মের জন্ম হলো। অত:পর অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষে দীর্ঘদিন পর এইচ এস সি পরীক্ষার প্রথম প্রহরের এক শুভলগ্নে তিনি পা রাখলেন এই বঙ্গে। জাতির জন্য এ এক অন্যরকম প্রশান্তি, এ এক অনাবিল সুখের প্রাপ্তি।সেহরির পর সারাবেলা অনাহারে কাটিয়ে ইফতারের প্রথম চুমুক পানি যেমন প্রশান্তিদায়ক,প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষা জাতিকে ঠিক তেমন একটি প্রশান্তি এনে দিলো।

যাই হোক আশা করবো তিনি কদিনের অতিথি হয়ে নয়, তিনি এদেশে আবার পূর্বের মতো বাড়ি করে বসবাস করত এসেছেন। তিনি য়েনো সেই পরিবেশ পান, আশা করবো এ দিকে কর্তাব্যক্তিগণ নজর রাখবেন অত্যন্ত বিচক্ষনার সহিত। কেনোনা তাকে লুন্ঠন করার মতো বহুচক্র তৎপর রয়েছে এদেশে। তারা যেনো রাতের আধারে তার বাড়িতে ঢিল ছুড়ে উত্যক্ত করার সুযোগ না পায়। আশা রাখবো তার নিরাপত্তা ব্যাপারে কর্তাব্যক্তিগন সদা আন্তরিক থাকবেন। প্রয়োজনে তাকে উত্যক্তকরন নিষিদ্ধের নিমিত্তে আইন করবেন এবং এদেশে অধিকাংশ আইনের প্রয়োগ না থাকলেও এই আইনটার প্রয়োগ বলবৎ রাখবেন।

তবেই সারাবছর পড়ার টেবিলে না বসে পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকার অলিখিত মুখ থুবড়ে পড়বে। এ এক ভয়াবহ রকমের ধংসাত্মক রীতি। একটি জাতিকে গোমূর্খ প্রজন্ম উপহার দিতে এই একটি রীতিই ভীষনভাবে যথেষ্ট। এই রীতির সাথে রতিক্রিয়ায় ইতিমধ্যে প্রমান সাইজের একটি গোমূর্খ প্রজন্ম জন্ম হয়েছে, যার খেসারত ভবিষ্যতে এই জাতিকে দিতে হবে ভাবতে গায়ে কাটা দিয়ে ওঠে।

যাই হোক প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষার আগমনে জাতি আবার একটি সুশিক্ষিত প্রজন্ম উপহার পাবে,যারা সমস্ত বাধা অতিক্রম করে জাতিকে সম্মুখ দিকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। তারা এদেশের অর্থনীতি,রাজনীতি, সংস্কৃতির চাকাকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে অতন্দ্র প্রহরী সেজে জেগে থাকবে।

পরিশেষে প্রশ্নফাসের দায় এতদিন আমরা যাকে দিয়ে এসেছি,প্রশ্নফাসের জন্য এতদিন আমরা যাকে অযোগ্য অথর্ব বলে ছোট বড় অগনিত কলাম, স্যটায়ার, স্ট্যাটাস লিখেছি। প্রশ্নফাসের জন্য দায়ী করে যাকে নিয়ে আমরা অসংখ্য ট্রল করেছি সে তাকেই অন্তরের অন্তস্থল থেকে কাচা, টাটকা ধন্যবাদ ও শুভকামনা জানিয়ে শেষ করছি।

প্রশ্নফাস নিপাত যাক।
প্রশ্নফাসহীন পরীক্ষা এ বঙ্গে দীর্ঘজীবী হোক।

রেপিস্টদের পরিচয় রেপিস্ট ভিন্ন কিছু নয়

Now Reading
রেপিস্টদের পরিচয় রেপিস্ট ভিন্ন কিছু নয়

পৃথিবীতে এক শ্রেণীর প্রানী আছে,যারা আকার আকৃতিতে হুবুহু মানুষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ন এবং মানুষের ঔরষজাত ও গর্ভজাত হওয়া স্বত্তেও বিবেকের চোখে ও সমাজের চোখে তারা মানুষ না।তাদের একটাই পরিচয়।আর সেই পরিচয়টি হলো,তারা রেপিস্ট।আর রেপিস্টরা কখনোই মানুষের সাথে কোনো সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেনা।রেপিস্টদের কোনো মা বোন নেই এবং রেপিস্টরা কারো বাবা বা ভাই হতে পারেনা।

রেপিস্টরা এতটাই জঘন্য যে,কোন পশুর সাথেও যদি তাদের তুলনা করা হয় তবে সেই পশুটির প্রতিও অবিচার করা হবে।কেননা পশু যতই হিংস্র এবং বিবেকহীন হোক না কেন,এদের ভিতরও মমত্ববোধ থাকে যা ঐ রেপিস্টদের ভিতরে নেই।আর তাই যদি থাকতো তবে তারা কখনোই রেপিস্ট হতে পারতো না।কারণ একটি মেয়ে যখন রেইপের শিকার হয় তখন সে দূর্ঘটনাটা ঘটার শেষ সেকেন্ডেও কাতর গলায় অনুনয় বিনয় করে থাকে যা দেখেও রেপিস্টদের মন গলাতো দূরে থাক এতটুকু কাঁপেনা।উল্টো তারা নির্দ্বিধায় কর্মটা সম্পাদন করে হাসতে হাসতে চলে যায়।শুধু এখানেই তারা ক্ষান্ত দেয়না।কখনো কখনো প্রমান নির্মূলের নিমিত্তে তারা ভিকটিমকে খুন করে ফেলে হাসিমুখে।যার জলন্ত উদাহরন রুপা।

আর যদিও ধর্ষিতা বেঁচে থাকে তাহলে তারা তাকে জীবন্ত লাশের মতো করেই বাচিয়ে রাখে।ধর্ষিতা মেয়েটি তাদের হুমকির মুখে ধর্ষনেট বিচার চাইতে সাহস পায়না,তাদের বিরুদ্ধে মুখ তুলে কথা বলার সাহস পায়না।আর যদি কোন ধর্ষিতা তাদের বিরুদ্ধে নালিশনামা নিয়ে আদালত অথবা ইউনিয়ন পরিষদের দ্বারস্থ হয়ও তবুও ফলাফল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফলাফল ধর্ষিতার বিন্দুমাত্র স্বান্তনা স্বরুপ কিংবা বিপক্ষে যাওয়া ব্যাতীত ভিন্ন কিছু হয়না।আর এর প্রতিদান হিসেবে ধর্ষকদের দ্বারা তার ও তার গোটা পরিবারের জীবন হয়ে ওঠে নরক স্বরুপ।যার হাত থেকে নিস্তার পেতে গোটা পরিবারকে বেছে নিতে হয় আত্মহত্যার পথ।আবার কখনো কখনো পুনরায় রেইপ হতেও খুন হতে হয় রেপিস্টগুলোর দ্বারা। যার জলন্ত উদাহরন বিউটি।

এই হচ্ছে রেপিষ্টদের বৈশিষ্ট,যে বৈশিষ্ট কোনো মানুষেরও নেই এমনকি কোনো পশুরও নেই।সেজন্যই এদের পরিচয় একটাই।আর তা হলো এরা রেপিষ্ট।এর জগতের সবচেয়ে ঘৃনিত,নিকৃষ্ট এবং জঘন্যতম প্রানী।
আসুন আমরা কোন রেপিষ্টের নাম উচ্চারন করতে গেলে উচ্চারনের আগে তাদের উদ্দেশ্যে একবার থুতু ফেলি,উচ্চারনের পরে তাদের উদ্দেশ্যে আরও একবার থুতু ফেলি।

 

[পোস্টটি সামহোয়ার ইন ব্লগ থেকে নেয়া হয়েছে]

তনুর চেয়ে বিউটিকে ভাগ্যবানই মনে হলো আমার

Now Reading
তনুর চেয়ে বিউটিকে ভাগ্যবানই মনে হলো আমার

খবরের জন্য আজকাল খবরের কাগজে চোখ টোখ রাখতে হয়না, টিভি টুভিও দেখতে হয়না, রেডিও দিনতো কবেই শেষ। হতে একখান স্মার্টফোন থাকলেই হলো। কাহিনী শেষ। ঐটার ভিতরে কি নাই? নাচ, গান, ভিডিও ভুডিও এবরিথিং আছে। আর খবরতো এভেইলেভল।একটু খুজলেই রাজ্যের খবর পাওয়া যায়।যেটা দরকার সেটাও, যে না দরকার সেটাও।শেষমেশ খবরের লোড নিতে না পেরে হ্যাং হয়ে যেতে হয়। আমিও এই যাদুকরী বাক্সের কল্যানে অনেক খবর পাই,জানা, না জানা অজানা অনেক ঘটনা জানি।

এই যেমন আজ জানলাম বিউটি ধর্ষক বাবুল গ্রেফতার হয়েছে। খবরটা দেখে আনন্দিত হওয়ার কথা থাকলেও আমি আনন্দিত না হয়ে আফসোস করতে লাগলাম।আমার আফসোসটা কি লেভেলের ছিলো জানেন? ঐ যে বাংলা সিনেমায় নায়ক যখন পত্রিকা হাতে নিয়ে দৌড়ে এসে মাকে বলে, মা আমি ফার্স্টক্লাস পেয়েছি,আমি পাশ করেছি।’ মা তখন আনন্দিত ও আফোসসিত হয়ে বলেন, ‘আজ যদি তোর বাবা বেচে থাকতো!’ আমার আফসোসটাও ঠিক ঐ লেভেলের ছিলো।আমিও বিউটির ধর্ষকের গ্রেফতারের খবর শুনে মনে মনে বিড় বিড় করে বললাম,’এই গ্রেফতার যদি দুই মাস আগে করা হতো, তাহলে বিউটিকে এভাবে মরতে হতোনা।’ হুম, প্রথম যখন বিউটিকে ধর্ষন করা হলো তখনই যদি বাবুলকে গ্রেফতার করা হতো তাহলে কি বিউটিকে খুন হতে হতো? না হতোনা।

তাহলে এখন আমার একটা ছোট্ট ও হালকা পাতলা টাইপের একটি প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে। প্রশ্নটা হলো – ধর্ষককে গ্রেফতার হতে হলে ধর্ষিতাকে কি খুন হতে হবে? অবশ্য খুন হলেই যে ধর্ষক সাজা পাবে কিংবা গ্রেফতার হবে তারইবা নিশ্চয়তা কি? তনুর কথাটাই ধরি। তনুকেতো কে বা কাহারা ধর্ষন করে হত্যা করে ফেলে রেখেছিলো। বিউটির মতো তারওতো লাশ পাওয়া গিয়েছিলো। কই তারপরওতো কিছু হলোনা। দেশব্যাপী কত আন্দোলন টান্দোলন হলো তনু হত্যাকান্ড নিয়ে। গনজাগরন জেগে উঠলো, থিয়েটার কর্মীরা প্রতিবাদ করলো, স্কুল কলেজে প্রতিবাদ হলো। কিছুইতো হলোনা। পান থেকে একটু চুন পর্যন্ত খসলোনা। তনুর লাশও মনে হয় একাধিকবার কবর থেকে উঠানো হলো পোস্ট মর্টেমের জন্য। কিন্তু শেষমেশ পর্যন্ত কি হলো? কিছুইনা। কে বা কাহারাদের হদীসই ধোয়াটে হয়ে রইলো। সেদিক থেকে তনুর চেয়ে বিউটিকে ভাগ্যবানই মনে হলো আমার।

এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে কি জানি এক বাংলা সিনেমায় মান্নার সেই ডায়লগটা আমারও মনের অজান্তেই ঠোটের আগায় চলে আসে, ‘দ্যাশের………. শ্যাষ’।