3
New ফ্রেশ ফুটপ্রিন্ট
 
 
 
ফ্রেশ!
REGISTER

ক্ষয়িষ্ণু,মুমূর্ষু গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ

Now Reading
ক্ষয়িষ্ণু,মুমূর্ষু গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ

বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীতেই অনেক প্রাণীর বিলুপ্তি ঘটেছে; যেমন : ঘড়িয়াল,সাইগা এন্টিলপ,কোকোনাট ক্র্যাব, লেঙ্গুর চাটো প্রভৃতি ;এই তালিকা নেহাত কম নয়।অদূর ভবিষ্যতে এসব প্রাণীদের গল্প ঠিক যেন রুপকথার মতই শোনাবে।প্রাণী আর উদ্ভিদকূলের প্রধান অভয়ারণ্যগুলো আজকে নগরায়ন, বিশ্বায়ন কিংবা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, ক্রমবর্ধমান জনশক্তির চাহিদার বলি হচ্ছে প্রতিনিয়ত ; পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রবাল রিফ, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ ও এই নীল নকশার বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে নি।
মহাশূন্য হতে পৃথিবীর দৃশ্যমান বস্তুসমুহের মধ্যে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের পূর্ব পাশের কয়েকশো দ্বীপপুঞ্জ অন্যতম।অস্ট্রেলিয়ার  কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের উপকূল ঘেঁষে কোরাল সাগরে অবস্থান করা জলজ সম্পদপুষ্ট এই সুদীর্ঘ অঞ্চলকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জীবন্তবস্তু হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।১৯৮১ সালে,ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্ভুক্ত হয় গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ।আবার, কয়েক যুগ সময়ের পরই এক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে, এই গ্রেট ব্যারিয়ার রিফকে জাতিসংঘের ‘বিপন্ন’ তালিকাভুক্ত করার জন্যে প্রস্তাব দেয়া হয়ে থাকে।এত কম সময়ে এত বড় পরিবর্তত প্রধানত দুটি বিষয়কে ইঙ্গিত করে, ১)বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব এখনই কতটা ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে শুরু করছে এবং কত দ্রুতগতিতে জ্যামিতিক হারে তা হচ্ছে ; ২)জলবায়ু পরিবর্তনের বিপরীতে বিশ্ববাসীর এহেন উদাসীনতা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত তথা দূরদর্শিতার অভাব। মার্কিন প্রচারমাধ্যম সিএনএন, এই সুবিশাল প্রবাল প্রাচীরঘেরা প্রকৃতির নিজ  হাতে গড়া এই অ্যাকুরিয়ামকে পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের একটি বলে ঘোষণা  করে।জাতিসংঘের  অনুসন্ধানী রিপোর্ট অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ প্রবাল অঞ্চলের খনিজ শিল্পের পুঁজি বিনিয়োগ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। খনিজ শিল্প-প্রতিষ্ঠান গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ নিকটবর্তী অঞ্চলে পোতাশ্রয় নির্মাণ করে,সেখানেই বর্জ্য নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকে, সমুদ্রপথের সাথে যোগসূত্রিতা ঘটে । ফলে, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের  প্রাকৃতিক পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় এখনও প্রতিনিয়ত ক্ষতি হচ্ছে।২০১২ সালের প্রাক্কালে, অস্ট্রেলিয়ান সরকার কুইন্সল্যান্ড প্রদেশের অ্যাবট পয়েন্টের কয়লা বন্দরটিকে সুবিস্তৃত করার মহাপরিকল্পনা নেয়। কয়লা উত্তোলন, রপ্তানি করা ছাড়াও এই শিল্পের সাথে জড়িত অনেক বহুজাতিক কোম্পানি এই বন্দরটি ব্যবহার করতে চাইছে।আর, স্বাভাবিক ভাবেই পণ্য বহনের জন্যে জাহাজ চলাচলের পথ সুগম করতে গিয়ে পলিমাটির ব্যবহার শুরু হয়। যার ফলশ্রুতিতে,এই ব্যবহৃত পলিমাটিই প্রত্যক্ষভাবে প্রবাল প্রাচীর ক্ষয়ের অন্যতম কারণ।প্রবালপ্রাচীরের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে ক্ষয়ের সূচনা। আর তা প্রকট আকার ধারণ করে উত্তর প্রান্তে এসে। ৯০০’র অধিক রিফের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে কেবলমাত্র ৬৭টিতে ক্ষয়ের চিহ্ন পাওয়া  যায়নি।জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এল নিনো পরিস্থিতির তৈরি হচ্ছে;এল নিনো বন্যা, খরা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে সম্পর্কযুক্ত। যেসব দেশ কৃ্ষিকাজ এবং মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল ( উদাহরণস্বরূপ-অস্ট্রেলিয়া এবং ওসেনিয়ান দ্বীপপুঞ্জ), তারাই এল নিনো দ্বারা অধিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। “এল নিনো” হচ্ছে একটি স্প্যানিশ শব্দ; পূর্ব-কেন্দ্রীয় গ্রীষ্মমন্ডলীয় শান্ত সমুদ্রের পানির গড়পড়তা তাপমাত্রা যখন কমপক্ষে ০.৫°সেলসিয়াস (০.৯°ফারেনহাইট) হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে  তখন সে ধরনের পরিস্থিতিকেই সাধারনত এল নিনো হিসেবে আক্ষ্যা করা হয়।এল নিনোর এসব অবস্থা সমুদ্রে কয়েক মাস যাবৎ বিরাজ করে, তখন অত্যধিক গরম সামুদ্রিক জলরাশি দেখা যায় এবং স্থানীয় মাছ ধরার ব্যবসার উপর বড় একটি প্রভাব দেখা দিতে পারে।বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং এল নিনো- দুটি ঘটনাই পরিবেশে ব্যাপক পরিবর্তন আনে।১৯৯৮ সালে এল নিনোর প্রভাবে প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে প্রবাল প্রাচীরের “ব্লিচিং প্রক্রিয়া” শুরু হয়েছিল,তখন গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের অর্ধেকের বেশি প্রবাল এর দ্বারা আক্রান্ত যা শতকরা হিসেবে মোট প্রবালের প্রায় ১০ ভাগের কাছাকাছি।এরপর কিছুটা সময় বিরতি রেখে ২০০৯ সালের শেষ দিকে আবার ব্লিচিং শুরু হয়; তবে সেবার খুব বেশি ক্ষতিসাধন হয় নি তাপমাত্রার খুব বেশি পরিবর্তন না হওয়াতে। কিন্তু, অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা অনেক বেশি চিন্তিত; ২০১৬ থেকেই ক্ষয়িষ্ণু এক গ্রেট ব্যারিয়ার রিফকেই দেখছেন তাঁরা।  বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এল নিনোকে প্রভাবিত করতে পারে-যদিও এখন পর্যন্ত এটি একটি তত্ত্ব মাত্র। অস্ট্রেলিয়ান সরকার তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবসায়িক স্বার্থে আহরণ করে  বিলিয়ে দেবার পাশাপাশি বিপন্ন করে তুলেছে সহস্রাধিক দ্বীপপুঞ্জের জীব-বৈচিত্রকে।  দা গার্ডিয়ানসের মতে, অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের বাণিজ্যিক সুবিধার জন্যে অনুন্নত দেশগুলোতে এবং পলিনেশিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রের  কয়েকটিতে  কয়লার যোগান দিচ্ছে ; এতে করে বিশাল জীব-বৈচিত্রের এই অঞ্চল প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারাচ্ছে।গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ যে কেবল প্রাকৃতিক সম্পদের আধার তা নয়; প্রায় দুহাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ,সহস্রাধিক দ্বীপ নিয়ে পৃথিবীর   অন্যতম আকর্ষণীয়  স্থানগুলোর মধ্যে একটি ভ্রমণপিপাসুদের জন্যে।
অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসীরাই সর্বপ্রথম এই সুবিশাল অঞ্চলের সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয়। গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ মূলত নানান বর্ণের  শৈবাল,জু-প্লাঙ্কটন, ফাইটোপ্লাঙ্কটনের জন্য বৈচিত্র্যময়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরের পানির উষ্ণতা দিনকে দিন কেবল বেড়ে চলছেই ;প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বড় আকারের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হচ্ছে প্রায়শই।বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে, তাপমাত্রার তারতম্য ঘটছে যখন-তখন;  এ কারণেই প্রবালগুলো ওদের রঙ হারিয়ে বিবর্ণ হচ্ছে ; মহাসাগরের শৈবাল- জু-প্লাঙ্কটন- ফাইটোপ্লাঙ্কটগুলো ক্রমশ মারা যাচ্ছে; আর এভাবেই সার্বিক বিবেচনায় গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ ও ধীরে ধীরে মরতে বসেছে।এখন আসলে যা ঘটছে , বিশেষজ্ঞরা এর নাম দিয়েছেন “প্রবাল প্রাচীরের ক্ষয় “। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় কোরাল ব্লিচিং টাস্কফোর্সের বিবৃতি অনুযায়ী, এর আগে ১৯৯৯-২০১০ সময়কালে বেশ কয়েকবার ক্ষয়ের মুখে পড়েছিল গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি বেশি গুরুতর।আলোকচিত্রশিল্পীদের ক্যামেরায় বাঁধা পরা কিছু  স্থিরচিত্র দেখে উদ্বিগ্ন না হয়ে উপায় নেই। মানুষ তার চাহিদা পুরনে স্থলসম্পদের বাইরে এখন ব্লু ইকোনমিতেও মনযোগী হচ্ছে;বিকল্প শক্তির খোঁজে আমরা পরিবেশের উপযোগিতাকে কমিয়ে ফেলছি ; পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে ;অভয়ারণ্য হারিয়ে বিলুপ্ত হওয়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রাণীর নাম।তবে, আপাতত গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ যে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে তা কিন্তু বলে দেওয়া যায়।  ডেভিড অ্যাটেনব্রোর প্রামান্যচিত্র “ প্ল্যানেট আর্থ” থেকেই হয়ত পরবর্তী প্রজন্ম গ্রেট ব্যারিয়ার রিফকে নতুন করে চিনতে পারবে।

http://www.gbrmpa.gov.au/visit-the-reef/current-conditions-on-the-great-barrier-reef
http://www.gbrmpa.gov.au/visit-the-reef/current-conditions-on-the-great-barrier-reef/latest-detailed-observed-forecast-and-environmental-conditions
https://www.theguardian.com/environment/2016/jun/07/the-great-barrier-reef-a-catastrophe-laid-bare

কোরিয়া সমাচারঃএকাল-সেকাল

Now Reading
কোরিয়া সমাচারঃএকাল-সেকাল

দুটি দেশের, ভাষা, শিক্ষা, কৃষ্টি-কালচার সবই অভিন্ন, অথচ আন্তর্জাতিক সীমারেখা আর চরম বৈরিতার দরুণ দুটি ভিন্ন দেশ উত্তর কোরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়া।কোরিয়া পেনিনসুলাতে যুদ্ধ আর অস্থিরতার শুরু অনেক আগেই।
কোরিয়া একটা সময় অবিভক্ত থেকে জাপানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল।1910 সালে কোরিয়া জাপানের অধীনে চলে যায় এবং তারা ১৯৪৫ সাল নাগাদ পর্যন্ত জাপান কর্তৃক শাসিত হয়।দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছরেরও বেশি সময় যাবত জাপানের নিয়ন্ত্রণে ছিল কোরীয় উপদ্বীপ।কোরিয়ার পশ্চিমে গণচীন আর উত্তর- পশ্চিমের অনেকটা জুড়ে রাশিয়া(তদকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন); পীত সাগর  আর জাপান সাগরের মাঝামাঝি সমগ্র কোরিয়ার ভৌগলিক অবস্থান। কোরীয় প্রণালী ও জাপান সাগর পূর্বে এটিকে জাপান থেকে আলাদা করেছে আর দক্ষিণে এটি আর পূর্ব চীন সাগর দ্বারা তাইওয়ান থেকে আলাদা হয়েছে।১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ  শেষে জাপানী সম্রাজ্যের আত্মসমর্পণের পরবর্তীতে বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্র নামের দুটি নতুন স্বতন্ত্র সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটার মাধ্যমে অঞ্চলটি বিভাজিত হয়।বিশ্বযুদ্ধের পরপরই পরাজিত জাপানি সৈন্যরা কোরিয় উপদ্বীপ ত্যাগ করে।জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের কারণে রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্রকে যথাক্রমে কোরিয়ার উত্তর অংশ এবং দক্ষিণ অংশের দায়িত্ব দেওয়া হয়।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত কোরীয় উপদ্বীপ একই সাধারণ রাজনৈতিক আদর্শে প্রতিষ্ঠিত ছিল।নানাবিধ জটিল কারণ এবং দুটি অঞ্চলের মানুষের মধ্যে বৈরি সম্পর্ক তৈরি হওয়াতে ১৯৪৮ সালে কোরিয়  উপদ্বীপে দুটি পৃথক  রাষ্ট্রের সৃষ্টির সম্ভাবনা জোড়ালো হয়। উত্তর কোরিয়া, ১৯৫০ সালে সমাজতান্ত্রিক দেশ রাশিয়ার মতাদর্শে   সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় চলে যায়, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া পুঁজিবাদি আমেরিকার অনুশাসনে দীক্ষিত হয়ে পুঁজিবাদি শাসনতন্ত্রে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে। তখন থেকে কোরিয়া দুটি ভিন্ন নাম যথা উত্তর ও দক্ষিণ তথা দুটি পৃথক-পৃথক অথনৈতিক ব্যবস্থাতে চলতে শুরু করে। দক্ষিণ কোরিয়াতে আমেরিকার পুঁজিবাদ আর উত্তর কোরিয়াতে সোভিয়েত ইউনিউনের মত সমাজতন্ত্রবাদ চালু হয়।ভাষা, শিক্ষা, কৃষ্টি-কালচার সবই অভিন্ন থাকলেও আন্তর্জাতিক সীমায় বিভক্ত হয়ে আলাদা দুটি জাতি হিসেবে বিশ্বমানচিত্রে পরিচিত হল।একদিকে, উত্তর  কোরিয়ার নামকরণ  হয় গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়ার  নাম দেওয়া হয় প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া। উত্তর কোরিয়া এর রাজধানী নির্ধারিত হয়  পিয়ং ইওং আর দক্ষিণ কোরিয়া এর রাজধানীর হয় সিউল।
এরপরে কোরিয়ানদের নিজেদের মাঝে কিছু যুদ্ধ সংঘটিত হয়।রাশিয়ান আর মার্কিনীদের পরোক্ষ এবং সমান্তরাল প্রভাব ও লক্ষণীয় ছিল।১৯৫০ সালের জুন মাসে”কোরীয় যুদ্ধ” এর প্রারম্ভিকা; চলতে থাকে তিন বছর সময়কাল ধরে।উত্তর কোরিয়ার পক্ষে লড়াই করার জন্যে গণচীন যুদ্ধে প্রবেশ। চীনা মধ্যস্ততায় দক্ষিণী স্বজাতীয় বাহিনী ৩৮তম সমান্তরাল রেখার পিছনে পশ্চাদপসরণ করে। যতক্ষণ পর্যন্ত রাশিয়া সরসরি যুদ্ধে না নিলেও তারা উত্তর কোরীয় ও চীনা উভয় বাহিনীকে সরঞ্জামিক সহয়তা প্রদান করে। এই যুদ্ধ সমাপ্ত হয় যখন  ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।কোরীয় যুদ্ধে কয়েক লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হরায়; ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় অনেক শহর।ভয়াবহ এই যুদ্ধের পর দক্ষিণ কোরিয়া সাময়িকভাবে হলেও ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার সম্মুখীন হয়।উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থাও ছিল ভয়াবহ-নির্মম।
বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া উদীয়মান সামরিক শক্তির একটি দেশ।২০০২ সালের এক ভাষণে দক্ষিণ কোরিয়ার মিত্র তদকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ উত্তর কোরিয়াকে শয়তান চক্র আখ্যা দিয়েছিলেন। উত্তর কোরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক শক্তির পার্থক্যই এমন মন্তব্যের কারণ।সিউলের তুলনায় পিয়ং ইওং অনেক অনেক বেশি শক্তিশালী।তবে, আজকের এ সময়ে বাজার অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বের জিডিপি-দিক থেকে অবস্থান পঞ্চদশ তম।২০০৯ সালে অষ্টম বৃহৎ রপ্তানীকারক দেশের স্বীকৃতি পায় দেশটি। উত্তর কোরিয়ার সাধারণ মানুষেরা অনেকবেশি স্বাধীনচেতা আর স্বাভাবিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত , বৈশ্বিক ভাবধারার সাথেও পরিচিত। মুদ্রার উল্টোপিঠে,উত্তর কোরিয়ার শাসকদের উদাসীনতার কারনে,সাধারণ জনমানুষ অনেক  আগে থেকেই সুবিধা বঞ্চিত। বেশ কিছু দুর্ভিক্ষে অনেক বেসামরিক মানুষের প্রাণ যায়।কিন্তু, এতকিছুর মধ্যেও উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা দুঃসাহসিকতার সাথে চালিয়েই যাচ্ছে; অনেক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পরেও।২০০৬ এর পর ২০০৯ সালেও এর পুনরাবৃত্তি করে উত্তর কোরিয়া; ধারাবাহিকভাবে এখনও করছে; দুএকটা পরীক্ষা বিফলেও গেছে।সম্রতি, ২০১৭ তে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে যে টানটান উত্তেজনা শুরু হয়েছিল, তাতে অনেক মনিষীরা আগাম সতর্কবাণীও দিচ্ছিলেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের।প্রতিবেশী দেশ গণচীন পরিস্থিতি কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি সামলে দেবার চেষ্টা করে;কিম জং উনের উত্তর কোরিয়া তবু পিছু হটবার পাত্র নন;বারবারই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখাচ্ছেন।উল্লেখ্য যে,উত্তর কোরিয়া নিউক্লিয়ার নন-প্লোরিফেরাশন চুক্তিতে সই করলেও ২০০৩ সালে প্রত্যাহার করে নেয়; পুরো বিশ্ব থেকে নিজেদের গুটিয়ে একঘরে রাখার প্রক্রিয়া এখান থেকেই শুরু। অতীতে জাপানের উপনিবেশ থাকার কারণেই, জাপান ও জাপান সাগর তৎসংলগ্ন দ্বীপবাসীদের প্রতিটা দিনই ভয়াবহ রকমের আতঙ্কের; যতটা দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের জন্যে।দক্ষিণ কোরিয়া ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র – যুক্তরাজ্য- ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসঙ্ঘের সামরিক হুমকির মধ্যে রয়েছে উত্তর কোরিয়া।
আপাতদৃষ্টিতে এটাই যৌক্তিক,কেননা লিটলবয় আর ফ্যাটম্যানের নৃশংসতার কথা শুধু নিপ্পনবাসীরাই নয় পুরো পৃথিবীই মনে রেখেছে।হিরশিমা-নাগাসাকির দগদগে ক্ষত এত জলদি শুকিয়ে যায় নি; তবু সময়ের এই ফ্রেমে এসে একসময়ের শত্রুপক্ষ আজ মিত্রপক্ষ।পুরো দুনিয়াতে সমাজতান্ত্রিক দেশ কয়টাই বা আছে? পুঁজিবাদী, সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে পেরে ওঠা বড্ড দুরূহ ব্যাপার।আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে উত্তর কোরিয়াকে যেভাবে আমরা উপস্থাপন হতে দেখছি, তা কি শুধুই ভেল্কিবিশেষ; নাকি ৩৬০ ডিগ্রি বেঁকে বসে ভূল রথ দেখছি।যে যুদ্ধটা মূলত হচ্ছে তার শুরু টা বিধ্বংসী স্নায়ুযুদ্ধ থেকে, কিম জং ঊনদের কো আর বিশ্বায়নে বিশ্বাসী অসংখ্য সামরিক আর বেসামরিক মানুষের ভাগ্য কি এখন পুতিন-ট্রাম্পদের চালে শান্তি নাকি সংঘর্ষের দিকে মোড় নিবে তা এখনই বলা মুশকিল।
তবে,ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে,সাম্রাজ্যবাদীরা মানবতা বোঝে না; ছোট শিশুর কোমল নিষ্পাপ মুখ অমলিন থাকুক এমন বোধ ওদের হয় না,লোভে পাপকে ধারণ করে সেই পাপেই যে ওদের মৃত্য ওরা ভূলে যায়; পরবর্তী প্রজন্মের খলনায়ক হয়ে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নেয় এই নরপশুরা।
কৃতজ্ঞতাঃ  https://en.wikipedia.org/wiki/Korea
এবং বিবিসি প্যানারোমার একটি প্রামান্যচিত্র থেকে অনুপ্রাণিত

অশ্রুত, অপরিচিত রথসচাইল্ড পরিবার

Now Reading
অশ্রুত, অপরিচিত রথসচাইল্ড পরিবার

কিভাবে এই রথসচাইলড পরিবারের উত্থান ?যাদের এ পৃথিবীতে ৫০০ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি সম্পদ রয়েছে;হাতেগোনা কয়েকটি দেশ ছাড়া সবগুলো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক;পর্দার আড়ালে থেকেই সম্রাট নেপোলিয়নের সময় থেকেই অনেক যুদ্ধের অর্থ-অস্ত্রের যোগানদাতা;তাবৎ দুনিয়ার খনিজ সম্পদ দখল করে নিতে মরিয়া আর মূলধারার গনমাধ্যম তাদের হাতের পুতুল।একসাথে কতকিছুই না নিয়ন্ত্রণ করছে, অবাক করার মত ব্যাপার। কিন্তু, এমন আমরা অনেকেই আছি যারা হয়তো রথসচাইলড শব্দটির সাথেই পরিচিত নই।
এই ধরণীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ও ধনী পরিবার হিসেবে পরিচিত রথচাইল্ড পরিবারের কারো নাম কখনো কোন ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় পাওয়া যাবে না।এত প্রভাবশালী মানুষগুলো নিয়ে মিডিয়াতে তেমন একটা প্রচার-প্রচারণা নেই,নেই বিশদ আকারের প্রতিবেদন-প্রামান্যচিত্র ;সেলিব্রেটিদের স্ক্যানডাল সম্বলিত খবর হয়তো তার বিপরীতে অনেক।
বর্তমান এ পৃথিবী প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাচ্ছে নিঃসন্দেহে।কিন্তু লক্ষ করলে এটা স্পষ্টত যে ,ধনী আর গরিবের মধ্যেকার ব্যবধান দিন দিন বেড়েই চলছে।একটা নির্দিষ্ট অংশ যারা পৃথিবীর সিংহভাগ প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্তা;নানান দেশে যুদ্ধের পরোক্ষ কিন্তু মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। “বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক (নিম্নতর আয়ের) সমপরিমাণ লোকের সম্পদের পরিমাণ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী ৮ জন লোকের  সম্পদের পরিমাণের সমান “ অক্সফ্যাম এর একটি রিপোর্টে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।
“বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কিং সিস্টেম “ নামক ধারণাটিকে সর্বপ্রথম বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে রথসচাইলড পরিবার। আর এখান থেকেই অর্থনৈতিক বৈষম্যের অনানুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।রথসচাইলড পরিবারের বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের শুরু হয় অষ্টাদশ শতাব্দীতে জার্মানীতে।ইহুদী স্বর্ণকার পিতার ব্যবসায়ী ছেলে মায়ের আমসেল বঊয়ার তার পাঁচ পুত্রকে পাঁচটি দেশে পাঠিয়ে তাদের ব্যাংক কে প্রথম আন্তর্জাতিক ব্যাঙ্ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।নেপলস,প্যারিস,ফ্রাঙ্কফুর্ট,ভিয়েনা এবং লন্ডনে তাদের ব্যাংক/ঋণ ব্যবসার একচ্ছত্র আধিপত্যের শুরু হয়।১৭৬০ সালেই এই আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার শুরু হয়।“ রথসচাইলড ফ্যামিলি” ট্যাগে ইউরোপের এই শহরগুলোতেই প্রথম ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রচলন হয়।ইউরোপের ধনী পরিবারগুলোকে তাদের ব্যবসার সাথে ধীরে ধীরে সংযুক্ত করতে থাকে রথসচাইলড পরিবার। আর এভাবেই বৈশ্বিক একটা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করে রথসচাইল্ডরা।আর্থিক অবস্থান পাকাপোক্ত করার পাশাপাশি ক্রমেই প্রভাবশালীদের তালিকায় চলে আসতে থাকে।
ইউরোপের এই পাঁচটি  শহরকে কেন্দ্র করেই ওদের ফুলে ফেঁপে বেড়ে ওঠার গল্পের শুরু। বৃটিশ ও ফ্রেঞ্চ সাম্রাজ্যের মধ্যে যে যুদ্ধ হয় তাতে দুইপক্ষকেই অর্থ সমর্থন করে রথসচাইলড পরিবার, ইতিহাস তাই বলছে।বৃটিশ ও ফ্রেঞ্চ অর্থনীতি বধের মাধ্যমেই ইউরোপের অর্থনীতি নিজেদের কব্জায় নিয়ে আসে রথসচাইল্ডরা।ইউরোপের রণক্ষেত্র ওয়াটারলুতে ফ্রেঞ্চদের পরাজয় হয়।প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যারন রথসচাইল্ড ব্রিটিশ সরকারকে লোন দেন এই শর্তে, যুদ্ধের পর ফিলিস্তিনে ইহুদীদের জন্য নিজস্ব দেশ তৈরি করতে হবে।স্মরণকালের ভয়াবহ যুদ্ধ “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের” কয়েক বছর পরেই ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হয়।
তদকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লর্ড বেলফোর রাজি হয়ে যে ঘোষণা দেন এই ইস্যুতে তা “বেলফোর ঘোষণা” নামে পরিচিত।
আর ফলাফল হিসেবে আমরা জানি যে, ইসরাইল নামক একটি আলাদা রাষ্ট্রের জন্ম হয় ; দিনকে দিন তাদের বিস্তৃতির কারণে মানচিত্র থেকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আয়তন ছোট থেকে আরো ছোট হয়ে যাছে।জায়নবাদী ইসরাইলীদের আগ্রাসী মনোভাবে প্রাণ যাচ্ছে অসংখ্য ফিলিস্তিনিদের;পরিবার-গৃহহারা হয়ে হাজারো ফিলিস্তিনিদের পরিচয় হল, তারা আজ নিজ ভূমিতেই উদ্বাস্তু।
আর আজকের এ সময়ে রথসচাইল্ডরা খুবই শক্তিশালী অবস্থানে আছে।ইউরোপ নিয়ন্ত্রনের পরেই তাদের পরবর্তী লক্ষ্য ছিলঃ আমেরিকা ও বিশ্বনিয়ন্ত্রণ। অন্য অর্থে,মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার পিছনেও তাদের স্বরচিত নীল নকশা।তাদের সম্পদ বেশিরভাগই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা। তেল, কয়লা, ব্যাংক প্রভৃতি নানা ধরণের কোম্পানীতে তাদের বিনিয়োগ আছে। ধারণা করা হয় আমেরিকান কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা বড় ব্যাংকেই তাদের শেয়ার আছে।
আজকের বিশ্বে রথসচাইল্ডরা এবং তাদের মিত্ররাই রাজনীতি,যুদ্ধ,অর্থনীতি সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে। কমার্শিয়াল কোম্পানি, মাইনিং কোম্পানি,খনিজ তেল-গ্যাস উত্তোলনকারি কোম্পানিগুলো রথসচাইল্নামটা ব্যবহার করছে না, তবে নিয়ন্ত্রণে সেই রথসচাইল্ডরাই।পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তি গুলোর নিন্দা হয় বেশি ;কিন্তু প্রভাবক হিসেবে পর্দার আড়াল থেকে কাজ করা রথসচাইল্ডদের সম্পর্কে হয়তো প্রতি ১০ জনের ৯ জন মানুষও ঠিকভাবে দুইটা লাইনও বলতে পারবে না।পৃথিবীর কারো ক্ষমতা নেই বের করবে এই পরিবার তাদের প্রাইভেট পার্টনারশীপের মাধ্যমে এই পৃথিবীর অর্থ সম্পদের ঠিক কত অংশের মালিক এবং আরো কত অংশ নিয়ন্ত্রন করে ।সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে রথসচাইল্ডদের অপতৎপরতা। আজ আবধি কোন মানবিক কাজে তাদের অংশগ্রহণের কোনরকমের রেকর্ড নাই। একবার চিন্তা করে দেখেন,এই পরিবারটি শুরু থেকেই এত প্রভাবশালী আর ক্ষমতাবান ছিল যে, ষড়যন্ত্র করে দুই দেশের রাজার মধ্যে (ওয়াটারলুর যুদ্ধ) যুদ্ধ লাগিয়ে দিতে পারত তারা । এরপর দুই রাজাকেই উচ্চ সুদে ঋণ দিত যুদ্ধের খরচ মেটানোর জন্য । যে দেশই জিততো না কেন, লাভের ভাগ ঘুরেফিরে ওই রথচাইল্ডের হাতেই যেত।
সর্বশেষ,উত্তর কোরিয়া আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান নিয়ে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে তার পিছনেও রথসচাইল্ডদের যোগসাজশ রয়েছে।কেননা, এই দুটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপরে এখন পর্যন্ত অন্য কোন দেশ বা তাদের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। দেশ দুটির উপর অনেক আগে থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি আছে; অনেকটা একঘরে করেই রাখা হয়েছে দেশ দুটিকে।
রথচাইল্ড পরিবারের প্রকৃত অর্থসম্পদের পরিমান কোন বাইরের লোক জানতে পারবে না , পরিবারের কেউ জানাতে পারবে না । রথচাইল্ড পরিবারের কথা উঠলে জায়নবাদিদের সম্পর্কেও বলতে হয়; সেসব কথা আপাতত তোলা থাক।