জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব- কালো জাদু

Now Reading
জ্বীন সমাচার – সত্য ঘটনা অবলম্বনে গল্প- পর্ব- কালো জাদু

আমার অন্যতম সফল একটি সিরিজ হল জ্বীন সমাচার ।

বেশ কিছুদিন পর আবার আরেকটি নতুন পর্ব নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি । আজকের পর্বটি বিগত পর্বের থেকে একটু আলাদা থাকবে । বিগত পর্বে মূলত সরাসরি জ্বীন এর কর্মকাণ্ড নিয়ে লেখা হলেও আজ একটু ভিন্ন ধরণের লেখা হবে । লেখার আগে বলে নিই , এই সিরিজের প্রতিটা গল্প সত্য । হয়তো আপনাদের কাছে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে । এখানে প্রতিটা ঘটনা আমার সাথে না হয় আমার কাছের মানুষদের সাথে ঘটে যাওয়া । আমার ঘটনার সাথে হয়তো খোঁজ নিলে আপনার বা আপনার আশেপাশের মানুষদের সাথে মিলে যাবে ।

মূলত আজকের ঘটনা কালো জাদু নিয়ে । কালো জাদু নিয়ে ইতিমধ্যে আমার প্রিয় লেখক ও বন্ধুসুলভ ফেরদৌস ভাই লিখেছেন । আমি আজ আপনাদের সাথে একটা ঘটনা শেয়ার করবো যা আমার কাছের একজন মানুষের সাথে ঘটে গিয়েছে ।

প্রথমে আপনাদের কালো জাদু সম্পর্কে ধারণা দিয়ে নিই । কালো জাদু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক হল এমন একটা মাধ্যম , যার সাহায্যে আপনি অন্যের ক্ষতি করতে পারবেন , সেই সাথে অনেক নিষিদ্ধ কাজ কিছুটা সহজ উপায়ে করতে পারবেন । নিষিদ্ধ কাজ বলতে বোঝানো হয়েছে , আমাদের ধর্মে বলা হয়েছে আপনি কোনো জ্বীনকে নিজের বশ করতে পারবেন না । কিন্তু কালো জাদুর মাধ্যমে আপনি খারাপ বা দুষ্ট জ্বীনদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন , আবার অনেক সময় আপনি তাদের হুকুমের গোলামও করতে পারবেন । কিন্তু এতে আপনার উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কা অনেক বেশি । কি রকম ক্ষতি বা কালো জাদু – তা নিয়ে আমি আরেকটি লেখা লিখবো !! আজ আমি সরাসরি আমার ঘটনায় চলে আসি ।

সুমির ( ছদ্ম নাম ) বিয়ে হয়েছে আজ ৫ বছর । বিয়ের আগে থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ২ বছর । একে অপরকে অনেক ভালোবাসে । সম্পর্কের দুই বছরের মাথায় ভালোবাসাকে পরিপূর্ণতা দেয় বিয়ের মাধ্যমে । খুব ভালো ভাবে চলছিল তাদের সংসার । সাগর ( ছদ্ম নাম ) মানে সুমির হাজবেন্ড মূলত একজন ব্যবসায়ী । প্রায় তাকে ব্যবসার কাজে ঢাকার বাহিরে যেতে হয় । বিয়ের দুই বছরের মাথায় তাদের সংসার আলোকিত করে আসে এক মেয়ে । সুখের যেন অভাব ছিল না । ঠিক বিয়ের ৩ বছরের মাথায় সাগরের ব্যবহারে কিছুটা পরিবর্তন দেখতে পায় সুমি । কেমন যেন তাকে ইগনোর করে । হুট করে ক্ষেপে যায় । প্রথম দিকে সুমি ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবে নিলেও পরবর্তীতে অস্বাভাবিক আকার ধারণ করে । কথায় কথায় গালি দিয়ে কথা বলে সাগর , যা এর আগে কখনো করেনি । এখন সুমির গায়ে হাত তুলতে লাগলো । সুমি কিছুতেই বুঝতে পারছে না সাগরের কি হয়েছে । সুমির বান্ধবীর মামা একজন সাইক্রিয়াটিস্ট । সুমি একদিন তার সাথে দেখা করে ও তার সব সমস্যা খুলে বলে । সমস্যা অনুযায়ী তাকে সমাধান দেয়া হলেও , সেই সমাধান কোনো কাজেই আসছে না । দিন দিন তাদের সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করছে । শেষে সুমি উপায় না পেয়ে তাদের এলাকার এক হুজুরের কাছে দ্বারস্থ হয় । হুজুর সম্পূর্ণ ঘটনাটি মনোযোগ দিয়ে শোনেন । হুজুর তখন বলেছিলেন,তিনি সমস্যাটা ধরতে পেরেছেন । এটার চিকিৎসাও আছে কিন্তু তার হাজব্যান্ডকে নিয়ে আসতে হবে । সুমি চিন্তায় পড়ে যায় । সাগর আর আগের মতো নেই । আর যেই ব্যবহার সাগর সুমির সাথে করে, কিভাবে এখন ওই হুজুরের কাছে নিয়ে যাবে বুঝে উঠতে পারছে না । একদিন দেখতে পেল সাগরের মনটা কিছুটা ভালো । সেইদিন সাগরকে অনেক বুঝিয়ে নিয়ে গেলো হুজুরের কাছে । বিকেল ৪ টার দিকে গেলেও তাদের মাগরিবের ওয়াক্ত পর্যন্ত বসিয়ে রেখেছে । মাগরিবের পর তাদেরকে একটা রুমের মধ্যে নিয়ে বসালো । প্রথমে হুজুর সাগরকে এক গ্লাস পানি খেতে দিলো । পানি খাওয়া মাত্রই সাগর বমি করা শুরু করলো । প্রচুর বমি শুরু হল । সুমি ভয় পেয়ে গিয়েছে । পানির মধ্যে এমন কি আছে যে খাওয়া মাত্র বমি শুরু করলো – হুজুরকে প্রশ্ন করলো সুমি ।
হুজুর বলল মা একটু চুপ থাকো আমি তোমাদের সব খুলে বলবো । ১০ মিনিট পর তার বমি বন্ধ হয়ে যায় । বমির কারণে সাগর খুব দুর্বল হয়ে পড়ে । তখন হুজুর মূল ঘটনা খুলে বলে। আমি হুজুরের কথা সম্পূর্ণ তুলে ধরলাম ।

মা তোমার জামাই মনে হয় ঢাকার বাহিরে যায় কাজের জন্য । ঠিক এই রকম কাজের জন্য একবার চট্টগ্রামে যায় তোমার জামাই । সেখানে এক ক্লায়েন্ট এর বাসায় সম্ভবত উঠে । সেইদিন রাতে সেখানে ভাতের সাথে চিলের আর মুরগির মাংস মিলিয়ে খেতে দেয়া হয় । ওই চিলের মাংসে কুফুরী কালাম করা ছিল । সেদিনকার পর থেকে তোমার জামাই তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে । মূলত তারা চেয়েছিল তোমার জামাই পাগল হয়ে যাক । তাহলে আর ব্যবসা করতে পারবে না । তার মার্কেট দখল করবে । এখানে আমি পানিপড়া দিয়ে দিয়েছি । আজ রাতে তাকে কিছু খেতে দিয়ো না । কাল সকালে খালি পেটে এই পানি খেতে দিও ।হয়তো আরেকবার বমি করলেও করতে পারে । তার পেটের ভেতরে যা ছিল বের হয়ে গিয়েছে । এখন আশা রাখি আর কোন সমস্যা হবে না ।

সুমি হুজুরের কথা মতো কাজ করলো । এরপর দেখলো ধীরে ধীরে সাগর এর উন্নতি হচ্ছে । তারপর থেকে সাগর বাহিরে কাজের জন্য বের হলেও কোনো ক্লায়েন্ট এর বাসায় কিছু খায় না ।

আমি আবারও বলছি । লেখাটা আপনার বিশ্বাস যোগ্য নাও লাগতে পারে । বা আপনার কাছে এর ব্যাখ্যা থাকতে পারে । আবার এমনও হতে পারে এই রকম একটি ঘটনা আপনার বা আপনার কাছের মানুষের সাথেও ঘটে যেতে পারে । আমি যা শুনেছি তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম ।

হয়তো প্রেমের গল্প

Now Reading
হয়তো প্রেমের গল্প

সূচনা –

প্রথম প্রথম সব কিছু ভালো লাগে । যেমন, প্রথম দিন স্কুলে যাওয়া । সবার ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা এক না । কিন্তু প্রথম স্কুল জীবন পেরিয়ে কলেজে যাওয়াটা কিন্তু সবার কাছে আনন্দের । আবার কলেজ পেরিয়ে ভার্সিটি , এইটা মনে পড়লে নিজেকে তখন অনেক বড় বড় লাগে । ঠিক আমার প্রথম দিনটাও ছিল স্মরণীয় । ভার্সিটির প্রথম দিন আমি র‍্যাগিং নামক একটি বস্তুর সম্মুখীন হয়েছিলাম । আমাকে বলা হয়েছিল পানিওয়ালা ডান্স নামক গানের সাথে নাচতে । আমি জীবনে কখনো নিজের অজান্তে নাচ করিনি । সেদিন আমাকে বাধ্য হয়ে করতে হয়েছিল । আমার পাশে একটা আপু , মনে হয় আপুই হবে , সে খুব হাসছিল । বুঝতে পেরেছিলাম উনাকে খুব আনন্দ দিতে পেরেছি । র‍্যাগিং শেষে তার পাশের সিটে গিয়ে বসে প্রথমে মুচকি হাসি দিলেও . নিজের কৃতকর্মের জন্য হাসি আর ধরে রাখতে পারছিলাম না । পরিচিত হলাম । আমি শান্ত । আপনি ?
আমি চাঁদনী ।
না আমি কোনো লেখক নই , না আমি কোনো কবি , তার নাম শোনা মাত্রই আমি কবিতা বানিয়ে ফেলবো । শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম আপু কোন সেমিস্টারে আছেন ?
৪র্থ সেমিস্টারে আছি ।
বুঝতে পারছিলাম না কি করবো । প্রথম দেখায় প্রেম কি এখানে কবর দিয়ে দিবো নাকি আরো একটু সময় নিবো । যাই হোক কিছু না বলে উঠে আসি । যেহেতু একই ভার্সিটিতে লেখা পড়া . সেই সুবাদে প্রায় তার সাথে আমার দেখা হয় । ক্যান্টিনে বসে প্রায় আড্ডা দেয়া হয় । ভাব শুরু , এক সময় ভাব পরিণত হয় ভালোবাসায় । আজ আমি তাকে নিয়ে কবিতা লিখি । তাকে নিয়ে ভাবি । কারণ আজ যে আমি তার প্রেমিক ।

পরিণাম

সব কিছুর সুন্দর শেষ হবে তা কোথাও লেখা নেই । লেখা থাকলে ভালো হতো । আজ অন্তত সে আমার হতো । বিছানার পাশে একটি বিয়ের কার্ড । বেশি কিছু হয়নি , যেখানে আমার বাবা ডাক শোনার কথা ছিল সেখানে হয় আমি মামা না হয় চাচা । কথা গুলো শুনতে অনেক সহজ শোনালেও , আমি জানি আমার মধ্যে দিয়ে কি যাচ্ছে । কারণ তার সাথে সময় কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত , প্রতিটা জায়গা আমাকে প্রতিদিন মেরে ফেলবে । আর সে ঠিক তার জামাইকে নিয়ে ভালো থাকবে । আসলে আমাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো প্রকৃতি । আবার খুব কাছের বন্ধু হলো প্রকৃতি । প্রকৃতির খেলা বোঝা বড় মুশকিল । আজ প্রকৃতি আমাদের আলাদা করে দিয়েছে । যেখানে আজ সমাজ নামের প্রকৃতি সমবয়স মেনে নেয় না , আর সেখানে আমার থেকে বড় । অনেকটা হাসির মতো শোনালেও কথা সত্য । আমার জীবনে সবচেয়ে বড় অভিশাপ আমি এখনো ছাত্র , মানে আমি বেকার । প্রতিরাতে অনেক পরিমাণ অশ্রুবৃষ্টি হয় আমার ঘরে । চাঁদনীর ঘরে যে অশ্রু বৃষ্টি হচ্ছে না , তা কিন্তু নয় । ওদের ঘরেও হচ্ছে কিন্তু সেই বৃষ্টি তার জীবনের ভালোবাসার বৃষ্টি । এইখানেও আমাদের প্রকৃতি তার অদ্ভুত রূপ দেখিয়েছে । একই বৃষ্টি আজ দুই জায়গায় । পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ার কারণে আজ অশ্রুর নামও পরিবর্তন হয়েছে । আজ আমার সঙ্গী কিছু গান –

অন্ধকার ঘরে, কাগজের টুকরো ছিঁড়ে
কেটে যায় আমার সময়
তুমি গেছো চলে
যাওনি বিস্মৃতির অতলে
যেমন শুকনো ফুল বইয়ের মাঝে রয়ে যায়

রেখেছিলাম তোমায় আমার হৃদয় গভীরে
তবু চলে গেলে এই সাজানো বাগান ছেড়ে
আমি রয়েছি তোমার অপেক্ষায়……

নিকষ কালো এই আঁধারে
স্মৃতিরা সব খেলা করে
রয় শুধু নির্জনতা
নির্জনতায় আমি একা
একবার শুধু চোখ মেলো
দেখো আজ পথে জ্বালি আলো
তুমি আবার আসবে ফিরে
বিশ্বাসটুকু দু’হাতে আঁকড়ে ধরে।

গানটার সাথে আজ আমার বড়ই মিল ।

উপসংহার

আজ আমার ২য় বাচ্চাটি জন্ম নিয়েছে । বড় ছেলে ক্লাস ৫ এ পড়ে । প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে অফিসে যেতে আর ভালো লাগে না । ইচ্ছে করে বৌয়ের সাথে কিছু সময় কাটাই । ওর পাশে আমার থাকাটা অনেক জরুরি । কিন্তু ব্যস্ত নগরী তার ব্যস্ততার মাঝে আমাকে গিলে খেয়েছে । আচ্ছা ভার্সিটিতে থাকতে আমি একটা মেয়েকে ভালোবেসে ছিলাম । কি যেন তার নাম ? বেশ কিছু দিন ধরে অনেক চেষ্টা করছি মনেই করতে পারছি না । ও হ্যাঁ , চাঁদনী । মনে পড়েছে । আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একা একা হাসি । কতই না বোকা ছিলাম । হাহাহা কত রাত কেঁদে কাটিয়েছি । ধন্যবাদ দিতে চাই স্রষ্টাকে । আমার জীবন থেকে ওই মেয়ে না গেলে হয়তো এই রকম মিষ্টি একটি বউ পেতাম না । না নিজের সাথে আর আয়নায় দাঁড়িয়ে কথা বলা যাবে না । অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে । চলে যাই ।

লেখকের মন্তব্য

জীবন থেমে থাকে না । কারণ জীবনের সংজ্ঞায় আছে , জীবন থেমে থাকার নয় , প্রবহমান নদীর মতো । কোনো রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে , নিজের চলার জন্য আরেকটি রাস্তা তৈরি করে নেয় । হয়তো আমরা কাউকে পেয়ে খুব ভালো থাকি । আবার কয়েক বছর পর আমাদের মনে হয় . আজ তাকে না পেয়ে আমি অনেক ভালো আছি কি মনে হয় সেটা পরের কথা । আমি লেখক হিসেবে আপনাকে এইটা বলতে পারি , নিজের কথা নিজে বোঝার চেষ্টা করবেন । নিজের মন কি চায় সেটা বোঝার চেষ্টা করবেন । অন্যদের প্রতি স্বার্থপর হয়ে নিজের সুখের দিকটা ভাবেন । কারণ আপনি দুঃখী হলে কেউ এসে আপনাকে সুখী করবে না । নিজেকে নিজেরই সুখী করতে হবে । ভালো রাখেন নিজেকে , আগলে রাখেন নিজের ভালোবাসাকে ।

জয় হোক সত্যের ।

স্বল্প দৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী – শেষ পর্ব

Now Reading
স্বল্প দৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী – শেষ পর্ব

দ্বিতীয় পর্বের পরে

শুনবেন, আমার কি সমস্যা ?
বলেন শুনি ।
চোখ বন্ধ করে কথা বলা শুরু করলাম , কাল রাত থেকে ঘুমোতে পারছিনা । জানি না কি হয়েছে । এই প্রথম কাউকে দেখে আমার এতো ভালো লেগেছে । আমার চারপাশে মনে হচ্ছে কেউ গুন গুন করে গান গাইছে । তোমার সাথে আমার জোছনা বিলাস করতে খুব ইচ্ছে করছে । ইচ্ছে করছে কোনো এক জোছনা রাতে তোমায় নিয়ে নদীর পাশে পা ভিজিয়ে জোছনা দেখি । কিন্তু আকাশের দিকে তাকিয়ে নয় , নদীর বুকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখে , তোমার মুখের সাথে মিলিয়ে দেখবো কোন চাঁদ বেশি সুন্দর । আমার পাশে বসা সে , নাকি আকাশের বুকে যে রয়েছে সে । বৃষ্টির মধ্যে তোমার হলুদ শাড়িতে বৃষ্টিতে ভেজা মাথা লুকাতে চাই । যদি আমি সব কথাকে এক কথায় প্রকাশ করি তাহলে বলবো – আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি । আমি তোমাকে ভালোবাসি ।
একদমে কথা গুলো বলছিলাম । কথা বলা শেষ হলে বড় বড় নিঃশ্বাস নিচ্ছিলাম । ভয়ে চোখ খুলছি না । জানিও না আমার পাশে আছে নাকি নেই । চোখ বন্ধ করে বলে উঠলাম , কি ব্যাপার কিছু বলবেন না ?

মেঘলা বলে উঠলো – আমি অন্ধ মানুষের সাথে প্রেম করি না । এই কথা বলে আমার হাত ধরে বলল চোখ খুলবে নাকি চোখের মধ্যে সুপার গ্লু লাগিয়ে দিবো ।

আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিনা , আচ্ছা আমি কি ঘুমিয়ে আছি ? না, ঘুমিয়ে নেই। কারণ আমার হাতে নীলার হাতের স্পর্শ বুঝতে পারছি । তাহলে আমি যা শুনেছি তা সত্য । আমি চোখ খুলে নীলার চোখের দিকে তাকালাম । কারণ চোখ কখনো মিথ্যা বলে না । ও আচ্ছা পাঠক, আপনারা হয়তো গুলিয়ে ফেলবেন নীলা আর মেঘলা দুইজন আলাদা নাকি ? না , তারা দুইজন একই । মেঘলা আমার পরী , আবার আমার নীলা । এখন থেকে ওকে আমি নীলা বলে ডাকবো । নীলার চোখ মিথ্যা বলছে না ।
আমি ওর হাত শক্ত করে ধরে বলি , কখনো এই হাত ছেড়ে যেও না । আমার পক্ষে এই হাতের উপর অন্য কোনো নারীর হাত পড়বে তা মেনে নেয়া সম্ভব না । তুমি হয়তো ভাববে আমি মেয়েদের মতো কথা বলছি কেন ? আসলে এই প্রথম কোনো নারীর হাত আমার হাতের উপর এসে পড়লো । আমি চাই তুমি আমার জীবনে প্রথম আর শেষ নারী হয়ে থাকো ।

আমার কথা শুনে নীলার চোখে কালো রঙের পানি দেখলাম । পাঠক, হয়তো আপনারা ভাবছেন পানি আবার কালো রঙের হয় কিভাবে । নীলার চোখের কাজল বেয়ে পড়ছে পানি । আমি মুছে দিয়ে বললাম , কি ব্যাপার কান্না করছো কেন ?
উত্তর আসলো – আমি আমার বান্ধবীদের প্রেম করতে দেখেছি , কিন্তু এইভাবে তাদের ভালোবাসার মানুষ ও মনে হয় তাদের ভালোবাসেনা যেভাবে তুমি আমাকে ভালোবাসছো । শুধু চিন্তা করছি এই ভালোবাসা আমার কপালে থাকবে তো ?
আরে তুমি ভয় পেয়ো না । আমি তোমাকে ছেড়ে কখনো যাবো না ।

এই ভাবে আমাদের ভালোবাসা চলতে থাকে । কিছুদিনের মধ্যে আমার ভিসা এসে পড়ে । মানে মালয়েশিয়ার ভিসা এসে পড়ে । আমি অনেক আগেই সেখানে আবেদন করে রেখেছিলাম । পড়াশুনার জন্য দেশের বাহিরে চলে যেতে হবে । কিন্তু আমার নীলার কি হবে ? ভাবতেই কান্না পাচ্ছে , এই প্রথম কাউকে ভালবাসলাম , কিন্তু তাকে রেখে এখন আমার চলে যেতে হবে । নীলাকে ব্যাপারটা বললে সে অনেক কান্না করে সেদিন । বুঝতে পারছিলাম না কাকে সান্ত্বনা দিবো ? নিজেকে নাকি নীলাকে ? যাই হোক, জীবনের কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতে হবে তাই আমাকে । ১৫ দিনের মধ্যে ফ্লাইট । বুকের মধ্যে পাথর রেখে উড়াল দিলাম দূরদেশে । প্রথম প্রথম অনেক খারাপ লাগতো । কত রাত কান্না করে কাটিয়েছি হিসেব নেই । আস্তে আস্তে নিজেকে মানিয়ে নিলাম । নীলার সাথে আমার প্রতিদিন কথা হতো । ভিডিও কলে বেশি কথা হতো । পড়াশুনার পাশাপাশি ভালো একটা জবও পেয়ে গেলাম ।
দুই বছর কিভাবে কেটে গেলো বুঝতেই পারলাম না । বিদেশ জীবনে এক এক জনের কাছে এক এক রকম ভাবে যায় । কারো কাছে খুব দ্রুত যায় , আবার কারো কাছে যেতেই চায় না ।

আজ সকাল থেকে কল দিচ্ছি নীলাকে । ফোনে পাচ্ছি না । ভাবলাম কোনো কারণে হয়তো মোবাইল বন্ধ । সারা দিন কাজ করে এসে রাতে কল দিলাম । দেখি তখনও মোবাইল বন্ধ । ফেসবুকে গিয়ে দেখি ফেসবুক ডিএকটিভ করা । মানে তার সাথে আমার কোনো ভাবেই আর যোগাযোগ হচ্ছে না । দুই বছরে এই প্রথম বার আমার সাথে এমন হচ্ছে । চিন্তায় খাওয়া দাওয়া সব বন্ধ হয়ে গিয়েছে । এই রকম দুই মাস কেটে গেলো । নীলার কোনো খবর নেই ।

আজ দুই বছর পর ঢাকায় আসব । বন্ধু সাগরের বিয়ে হয়েছে আজ ১ বছর । মন খারাপ থাকায় তার বিয়েতে আমি ভালো মতো উইশও করিনি । যাই হোক, আসার সময় শুধু বন্ধুকে বলে এসে ছিলাম বন্ধু আমাকে কিছু সময় দিতে হবে তোমাকে নিয়ে আমি আমার নীলা কে খুঁজবো । বন্ধু বলেছিল সমস্যা নাই তুমি বাংলাদেশে আগে এসো ।

বাংলাদেশে এসেই নীলাকে খোঁজা শুরু করে দিলাম । প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত খুঁজে বেড়াই সব পরিচিত জায়গা গুলো । আগে যেখানে থাকতো এখন আর সেখানে নেই । কোথায় থাকে তাও কেউ বলতে পারে না । এই রকম ১০ দিন খোঁজার পর বন্ধু লজ্জা ভেঙে বলেই ফেললো , রিফাত আর মনে হয়না তোর নীলা কে খুঁজে পাবি । আশা ছেড়ে দে । চল, আমার বাসায় চল । তোর ভাবীকে তো এখনো দেখিসনি । আজ রাতে না হয় আমার বাসায় থেকে , সকালে তোর বাসায় চলে যাবি । অনেকটা জোরাজোরি করে নিয়ে গেলো ওর বাসায় ।
সরাসরি বেড রুমে নিয়ে ভাবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো ।
প্রথম দেখাতে আমার আর চিনতে বা বুঝতে কিছু বাকি রইলো না ।
সাগর বলে উঠলো মেঘলা, এই দেখ কে এসেছে । মেঘলাও মনে হয় এর জন্য প্রস্তুত ছিল না ।
ও রিফাত, মালয়েশিয়া থাকে । ওর ভালোবাসা নীলার জন্য বাংলাদেশে এসেছে । আজ ১০ দিন যাবত খুঁজে বেড়াচ্ছে পাচ্ছে না । বন্ধু, এ তোর ভাবি মেঘলা । খুব ভালো একটা মেয়ে । আমাকে খুব ভালোবাসে ।
ওর কথা থামিয়ে আমি বললাম বন্ধু আমি যাই । কাল আবার দেশের বাহিরে চলে যাবো ।
সাগর বলল – কেন তুই না তোর নীলাকে খুঁজতে এসেছিস । ওরে না খুঁজে চলে যাবি ?
বন্ধু, আমি আর ওকে পাবো না । সে হারিয়ে গিয়েছে আমার থেকে । আজ আমি যাই রে । ভালো থাকিস তোরা ।
সাগর – ভাত খেয়ে যা ।
না বন্ধু পেট ভরা ।

এই কথা বলে আমি মাথা নিচু করে ঘর থেকে বের হয়ে আসলাম । পিছন ফিরে আর দেখতে ইচ্ছে করলো না ।

তার পর কি ঘটলো ? পাঠক আপনারাই কল্পনা করে নিন তারপর কি হয়েছে ।
কিছু গল্পের শেষ হয়েও যেন শেষ হয় না । আমি চাইনা নীলা আমার মাঝ থেকে হারিয়ে যাক । আমি চাইনা গল্পের মতো শেষ হয়ে যাক নীলা । নীলা শেষ হয়নি । বরং আমার গল্পটাই এখানে শেষ হয়ে গিয়েছে ।

ঘুরে আসুন বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত মাত্র ৫১০ টাকায়

Now Reading
ঘুরে আসুন বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত মাত্র ৫১০ টাকায়

ভাই একটা ম্যাজিক দেখবেন ।
আমার বন্ধু আমাকে বলছিল । আমি বললাম কি ম্যাজিক ? সে আমাকে বলল আমি সাগরের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে পারি । আমি এই কথা শুনে হাসবো নাকি কাঁদবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না । জিজ্ঞেস করলাম পাগল হয়ে গেলি নাকি ?
বন্ধু বলল পাগল না , বাংলাদেশে এই প্রথম চট্টগ্রামের মানুষ সমুদ্রের উপর দিয়ে হাঁটার ব্যবস্থা করে দিয়েছে ।
তখন আমার মাথায় কিছু ঢুকছিল না । আমি আবারো বললাম , বন্ধু ব্যাপারটা খুলে বলো । তখন সে আমাকে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত এর কথা বলল । সে আমাকে সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলল । আমি শুনে অবাক । পরের দিন আমি প্ল্যান করে ফেলি আমিও যাবো বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত ।

অনেক জায়গায় ট্যুর দিয়েছি । সব জায়গায় চেয়েছি কম টাকায় কিভাবে আরামদায়ক ভ্রমণ করা যায় । সাথে সাথে নেটে বসে তথ্য নেয়া শুরু করলাম । সব ঠিকঠাক করে বন্ধু অভি কে নিয়ে বের হয়ে পড়লাম বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত জয় করার জন্য ।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

আমাদের যাত্রা শুরু পকেটে ১ হাজার টাকার কচকচে নোট নিয়ে বের হয়ে গেলাম দুই বন্ধু । রাত তখন ৮টা বাজে । তাড়াতাড়ি না গেলে মেইল ট্রেনের টিকিট পাবো না । রাত ৯ টার মধ্যে টিকিট পেয়ে গেলাম । স্টেশন এ দাঁড়িয়ে ছিলাম । কারণ মেইল ট্রেনের নিয়ম হলো যে আগে উঠে সিট নিতে পারবে সিট তার হবে । রাত ১০ টায় ট্রেন আসলো । ট্রেনে উঠেই সিটে বসে পড়লাম । কেন জানি খুব ক্লান্ত লাগছিলো । উঠেই আমি আর অভি শুয়ে পড়ি ।মাঝে একবার ঘুম ভাঙলেও আবার শুয়ে পড়ি । খুব ভোরে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছাই । নেমে দ্রুত নাস্তা করে বাহিরে বের হয়ে একটি লোকাল সিএনজি তে বসে পরি । আমাদের সাথে আরো ৩ জন যাত্রী ছিল । তাদের প্রায় সবাই ফেনী মহীপাল যাবে । সিএনজি তে করে মাত্র ২০ মিনিটে পৌঁছে যাই মহীপালে । আমরা সবচেয়ে বড় যে সমস্যায় পড়েছি তা হলো, মহীপাল থেকে লোকাল বাস পাওয়া । চট্টগ্রাম গামী কোনো লোকাল বাস সহজে পাওয়া যায় না । দুই একটা পাওয়া যায় তা আবার অনেক ভাড়া । একটা বাস পেয়েছিলাম ভাড়া ৬০ টাকা করে । বাঁশবাড়িয়া বাজার বললেই হবে , আপনাকে তারা সেখানে নামিয়ে দিবে । আমি যেদিন রওনা দিয়েছিলাম তার আগের দিন অনেক বৃষ্টি হয়েছিল । যার কারণে রাস্তা অনেকটা পিচ্ছিল । বাঁশবাড়িয়া যাওয়ার সময় দুই পাশের দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য । বেশি সময় নেয়নি মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের বাঁশবাড়িয়া বাজারে নামিয়ে দিলো ।
সেখান থেকে আমি অনেক লোকাল অটো পাবেন । যা আপনাকে বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যাবে । আমার আর অভির জন্য খুশির খবর হল , আজ আকাশ একদম ফকফকে । কিছুক্ষণ এর মধ্যে পৌঁছে গেলাম । স্বর্গে আসলাম? না ভুল বলছি না একদম স্বর্গের মতো দেখতে । উপরে খোলা আকাশ পাশে খোলা জায়গা , একটু সামনে এগিয়ে গেলে বিশাল সমুদ্র । আপনি যদি একটু মনোযোগী হন , তাহলে আপনি সাগরের শো শো শব্দ শুনতে পাবেন । আমি আর আমার বন্ধু জুতা এক পাশে রেখে দৌড় দিলাম সমুদ্রের দিকে । নিজেদের ভিজিয়ে নিলাম সমুদ্রের জলে । এই আনন্দ মনে হয় লিখে প্রকাশ করার মতো না । সমুদ্র দেখতে যাচ্ছি সাথে জামা কাপড় নিবো না . তা কি হয় নাকি । ইচ্ছে মতো দৌড় ঝাঁপ করে ভিজিয়ে নিলাম নিজেদের । হাতের ডান দিক দিয়ে একটু সামনে এগিয়ে গেলে দেখতে পাবেন বাঁশের তৈরি একটি ব্রিজ । ব্রিজ বললে ভুল হবে , দেখে মনে হবে কেউ একজন সমুদ্রের উপর আপনার হাঁটার ব্যবস্থা করে দিয়েছে । ঠিক তখন আমার সেই বন্ধুর কথা মনে পরে গেলো । যে আমাকে বলেছিল সমুদ্রের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার কথা । দুপুর গড়িয়ে তখন বিকেল । ব্রিজের উপর দিয়ে হেঁটে একদম শেষ প্রান্তে পৌঁছলাম । একটু পর পর ঢেউ আছড়ে এসে আমার পায়ে পড়ছে । নিজেকে মনে হচ্ছে সমুদ্রের বুকের উপর আমি দাঁড়িয়ে আছি ।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

ফেরার পথে – পৃথিবীতে সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত হল কোনো কিছু বিদায় দেয়া । ঠিক প্রকৃতিকে বিদায় দিতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো । কিন্তু কি করবো সব কিছুর শেষ আছে । শেষ হয় আবার নতুন করে শুরু করার জন্য । বিকেলের শেষে আবার অটো তে করে বাঁশবাড়িয়া বাজারে এসে পৌঁছলাম । সেখান থেকে লোকাল বসে করে মহীপালে এসে পড়লাম । আসার সময় একটু বেশি ভাড়া নিয়েছিল । মহীপাল থেকে সিএনজি করে চলে এলাম ফেনী রেলওয়ে স্টেশন । ট্রেন রাতে ছাড়বে । তার মধ্যে ক্ষুধাও লেগেছে । আশে পাশে থেকে খেয়ে নিলাম ।

বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত

খরচ –

ঢাকা থেকে ফেনী , ফেনী থেকে ঢাকা ট্রেন ভাড়া – ৯০*২ = ১৮০ টাকা
স্টেশন থেকে মহীপাল ভাড়া – ২০ টাকা জন প্রতি । মোট পড়েছে ৪০ টাকা
মহীপাল থেকে বাঁশবাড়িয়া ৬০ এবং বাঁশবাড়িয়া থেকে মহীপাল ৮০ টাকা । মোট ১৪০ টাকা ।
সকাল ও দুপুরের খাবার ১২০ টাকা । সকালের নাস্তা ৩০ টাকা । আর দুপুরের খাবার ১৫০ টাকা ।
সর্বমোট খরচ হয়েছে ৫১০ টাকা ।

স্বল্প দৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী – পর্ব – ২য়

Now Reading
স্বল্প দৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী – পর্ব – ২য়

প্রথম পর্বের পর

মাংস নিতে গিয়ে আমি তার শরীরে কিছুটা ঝোল ফেলে দিলাম । কি পরিমাণ বোকা নিজেকে মনে হচ্ছে তা বলে বোঝাতে পারবো না । আমি তাকে সরি বলতে বলতে শেষ । উনি আমার দিকে তাকিয়ে এমন একটা হাসি দিলেন মনে হচ্ছে আমার পেছনে কেউ রকেট লাগিয়ে দিয়েছে আর আমি আকাশে ভাসছি। উনি আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন,

আরে এতে সরি বলার কি আছে । আপনি তো আর ইচ্ছে করে ফেলেননি ।
এই কথা শোনার পর ইচ্ছে করছিলো আরেক বাটি ঝোল ফেলে দেই। বিনিময়ে শুধু তার হাসিটা আমার চাই ।
আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম , চলুন আপনাকে আমি নামিয়ে দিয়ে আসি । কোনো রকম খাবার খেয়ে , বন্ধুর থেকে বিদায় নিয়ে আমার গাড়িতে করে বের হয়ে পড়লাম ।
গাড়ির ভেতর আমাদের বেশ ভাব জমে উঠেছিল । আমি তার দিকে তাকিয়ে বুঝলাম তার মন খারাপ , কেন মন খারাপ সেটা জিজ্ঞেসও করতে পারছি না । প্রথম দেখাতে একদম ব্যক্তিগত কিছু জিজ্ঞেস করা মনে হয় ভদ্রতার মধ্যে পড়ে না । মাথায় হুট করে একটা জোকস আসলো । আমি মেঘলা কে বললাম,

একটা জোকস শুনবেন ?
উনি কোনো শব্দ না করে , মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ ইঙ্গিত করলেন ।
আমার বন্ধু এক মেয়ের সাথে প্রেম করতো , একদিন মেয়ের সাথে ব্রেক আপ হয়ে যায় । মেয়ের পেছনে সে অনেক টাকা খরচ করে । সেই টাকা ফেরত নেয়ার জন্য মেয়ের কাছে গিয়ে বলে,
একদিন তোমার জন্য বুকে পাথর রেখে প্রেম করেছিলাম । এখন সে পাথর বুক থেকে নেমে কিডনিতে এসেছে । অপারেশন করামু টাকা দাও ।
এই জোকস শুনে মেঘলা হাসতে হাসতে যেন আমার গায়ের উপর পড়ে যায় ।
বললাম, মন ভাল হয়েছে ?
আপনি যেই জোকস শুনিয়েছেন মন ভালো না হয়ে পারে ?
এই রকম দুষ্ট মিষ্টি কথা বলতে বলতে পৌঁছে গেলাম মেঘলার বাড়ি । নামার পথে শুধু বলেছিলাম আমি আবার তোমার ওই হাসি মাখা মুখ দেখতে চাই । যদি এর জন্য পাড়ি দিতে হয় কোনো লংকা , তাও না হয় দেব ।

সেদিন রাতে আর ঘুমাতে পারলাম না । চোখ বন্ধ করলে সেই হাসি মাখা মুখ, আমাকে পাগল করে দিচ্ছিল ।

আচ্ছা পাঠক, আমি কি প্রেমে পড়েছি ? আচ্ছা, আপনারা যখন প্রেমে পড়েছিলেন তখন কি আপনাদের সাথে এমন হয়েছে , আশেপাশের বাতাসের ঘ্রাণ মিষ্টি লাগে , বৃষ্টি থেকে মিষ্টি মাটির গন্ধ নাকে এসে সজোরে ধাক্কা দেয় , বিকেলবেলা মুক্ত আকাশে পাখি উড়া দেখতে ভালো লাগে । ভালোবাসার গানে বারবার নিজেকে খুঁজে পান । জানেন, আমার সাথে না এমনটা ঘটছে । তাহলে কি আমি প্রেমে পড়েছি ?

আমি এতো বোকা কেন ? এত রাস্তা গাড়িতে করে আসলাম তার মোবাইল নম্বরটা পর্যন্ত নিইনি । রাত তখন বাজে ৩.৫০ । সাথে সাথে বন্ধুকে কল দিলাম ।
দোস্ত কি করিস ?
শালা আজ আমার বাসর রাত , তুই এতো রাতে কল দিয়ে বলিস আমি কি করি ? ইচ্ছে করছে তোরে এসে সজোরে কানের নিচে লাথি মারি ।
আরে দোস্ত, আমি তো একটা ভুল করে ফেলেছি। মেঘলার নম্বরটা নেয়া হয়নি । এখন কি হবে ?
দোস্ত আমারে ঘুমাইতে দে সকালে আমি তোরে নম্বর দিচ্ছি ।
আচ্ছা দোস্ত ঘুমা। এই কথা বলে কানের সামনে মোবাইলে “আভ ফিরসে যাব বারীশ হোঙ্গি ” এই গান ছেড়ে , গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়লাম ।
সকালে উঠে দেখি বন্ধুর নম্বর থেকে ম্যাসেজ , মেঘলার নম্বর ম্যাসেজ করে পাঠিয়েছে । সাথে আরো কিছু কথা লিখেছে , যা লিখলে আমাকে ৫৪ ধারায় জেলে ভরা হবে । হাহাহা ।

সাথে সাথে মেঘলাকে কল দিলাম । সকাল কয়টা বাজে তাও জানি না । কল দিয়ে বললাম,
আজ দেখা করবেন আমার সাথে ?
হ্যালো আপনি কে ?
ও সরি , নিজের পরিচয় দিতে ভুলে গিয়েছিলাম । আমি রিফাত ।
মাফ করবেন, আমি ঠিক চিনতে পারছি না । আপনি কোন রিফাত ?
আপনাকে কাল বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসলাম ।
ও আচ্ছা, আপনি । আচ্ছা, আমার নম্বর কিভাবে পেলেন ?
সেই কথা না হয় সামনাসামনি বলা যাবে । আজ দেখা করবেন ?
আচ্ছা বিকেল ৫ টার দিকে বাড়িতে ।
ওকে , বলেই লাইন কেটে সেলুনে দৌড় দিলাম । নিজেকে আজ সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ লাগতে হবে । প্রেমের কথা বলার আগে অর্ধেক পাগল হয়ে গিয়েছি । বাকিটা মনে হয় বলার পরে হবো ।

বিকেল ৩ টায় বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে পড়লাম । পৌঁছে গেলাম বিকেল ৪ টার মধ্যে । অপেক্ষার প্রহর শেষ হতেই চায় না ।বিকেল ৫ টায় একটা নীল রঙের পরী আসলো আমার সামনে । না, আমি ভুল দেখছি না । এইটাই পরী । হ্যাঁ, এইটাই পরী । আমি কিছু না বুঝে জিজ্ঞেস করলাম
পরী কেমন আছো ?
আবার সেই হাসি । উত্তর আসলো
কে পরী ?
কেন তুমি।
আমি কবে পরী হলাম ?
এই কথা বলার পর আমার হুশ ফিরে আসলো । আরে হ্যাঁ তুমি , ইয়ে মানে আপনি । কেমন আছেন ?
জি আমি ভালো আছি , কিন্তু আপনি ভালো আছেন বলে মনে হচ্ছে না । কোনো সমস্যা ?

হ্যাঁ অনেক সমস্যা ?

পাঠক রিফাতের কি হলো জানতে অপেক্ষা করুন তৃতীয় পর্বের জন্য ।

চলবে …

একদিনের রিলেক্স টুর – মহেড়া জমিদার বাড়ি

Now Reading
একদিনের রিলেক্স টুর – মহেড়া জমিদার বাড়ি

এখন বর্ষার সময় ঘুর ঘুরি করার জন্য সবার পছন্দে থাকে ঝর্ণা , না হয় পাহাড় । কিন্তু বাঁচা সহ মেয়েরা ইচ্ছে করলে পাহাড় বা ঝর্ণা ঘুরতে পারে না । এখন ঝর্ণায় প্রচুর পানি তাই নদীতে অনেক স্রোত , সেই সাথে পাহাড় এখনো পরিপূর্ণ পিচ্ছিল হয়ে আছে । তাহলে কি মেয়েরা ঘুরতে বের হবে না ? হ্যাঁ হবে , তাদের জন্য অপেক্ষা করছে টাঙ্গাইলের মহেড়া জমিদার বাড়ি । কিছু দিন আগে শরীয়তপুর ভ্রমণ করে ছিলাম । সেখান থেকে এসে ব্যাগ গুছিয়ে একই রওনা দিলাম জমিদার বাড়ি দেখার জন্য । আজ আমি আপনাদের দেখাবো কিভাবে একদিনের মধ্যে একটি রিলাক্স টুর দিয়ে আসতে পারেন । তাও স্বল্প খরচে ।

জমিদার বাড়ি নিয়ে কিছু কথা – দিন দিন জমিদার বাড়ি গুলো মনে হয় ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হচ্ছে । কেন এই কথা গুলো বললাম ? কারণ জমিদার বাড়ি গুলো ভালো মতো রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না ।কোনো কোনো জমিদার বাড়ির এক অংশ ধ্বংস হয়ে পড়ে যাচ্ছে । আবার কোথাও পরিচর্যার অভাবে পর্যটক হারাচ্ছে । কিন্তু মহেড়া জমিদার বাড়ি আবার সে দিক থেকে অন্য রকম । দেখলেই আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে । ভেতরে প্রবেশ করেই আপনি চার পাশে চারটি অট্টালিকা দেখতে পাবেন । ১৮৯০ সালে চার ভাই মিলে টাঙ্গাইলে জমিদারি শুরু করেন । তারা মূলত স্পেন এর জমিদার প্রথা থেকে উৎসাহিত হয়ে এই প্রথা শুরু করেন । শুরু দিকে ইংরেজরা তাদের অনেক উপর কার করে । মূলত চার ভাই বুদাই সাহা, বুদ্ধু সাহা, হরেন্দ্র সাহা এবং কালীচরণ সাহা মিলে এই জমিদার প্রথা শুরু করেন । চার ভাই চার বাড়িতে তাদের নিজস্ব উপায়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতেন । পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী এই জমিদার বাড়িতে আক্রমণ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে করে । ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার বাড়িতে নিজেদের দখলে নিয়ে নেন আর জমিদারের বংশধর চলে যায় ভারতে ।

জমিদার বাড়ি

কিভাবে যাবেন – শরীয়তপুর টুর দিয়ে আসার কারণে পকেটে যথেষ্ট টাকা ছিল না । ১০০০ হাজার টাকার মতো হবে . ডান বাম না ভেবে বেরিয়ে পড়লাম মহেড়া জমিদার বাড়ি দেখার জন্য । আমি সকাল সকাল রওনা দিলাম । সকাল ৭ তার মধ্যে চলে আসলাম মহাখালী বাস স্ট্যান্ড । দুঃখের বিষয় টাঙ্গাইলের গাড়ি সকাল ৮ তার আগে ছাড়ে না এখন থেকে । তাই ১ ঘণ্টা আমাকে অপেক্ষা করতে হলো । অনেক ধরণের বাস পেলাম । যেহেতু টাকা কম আমার কাছে তাই আমি মনে মনে একটু সস্তা খুঁজে ছিলাম । পেয়ে ও গেলাম । নিরিলা বাস । ভাড়াও বেশি না মাত্র ১৫০ টাকা নিলো । বসে উঠে আরাম করে বসে পড়লাম । যদি জ্যাম না থাকে তাহলে আপনি ২ ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাবেন টাঙ্গাইলে । আমার তার থেকে একটু সময় বেশি লেগেছিল । আমাকে তারা নামিয়ে দিলো ডুবাইল এর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার । সেখানে নেমে হালকা পাতাল নাস্তা সেরে নিলাম । নাস্তা করে আশে পাশের মানুষদের বললাম মহেড়া জমিদার বাড়ি যাবো কিভাবে ? তারা আমাকে কিছু সিএনজি দেখিয়ে বলল , এই সিএনজি গুলো মহেড়া জমিদার বাড়িতে যাবে । আমি সেখানে গিয়ে দুই ধরণের সিএনজি দেখতে পেলাম । একদম রিজার্ভ নিয়ে যাবে আপনাকে । আরেক দল রিজার্ভ ও তে যাবে আবার লোকাল ও যাবে । যেহেতু আমি এক তাই লোকালে করে চলে গেলাম মহেড়া জমিদার বাড়িতে । ভাড়া মাত্র ১৫ টাকা । এক সিএনজি তে ৫ জন বসতে পারে । আর আপনি যদি সম্পূর্ণ একটা যেতে চান তাহলে আপনাকে গুনতে হবে ৭৫ টাকা । প্রবেশ পথে অবাক হয়ে গেলাম । বাড়িতে প্রবেশের জন্য রয়েছে ২টি সুরম্য গেট । বিশাল বিশাল দুইটি গেট । চার পাশে বাগানের মতো । আর মাঝ বরাবর বিশাখা সাগর নামের একটি অনেক বড় দীঘি । ও আপনাদের একটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছি ভিতরে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে গুনতে হবে ৫০ টাকা মানে প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা ।

প্রত্যেকটা মহলে আপনি কমন একটি জিনিস দেখতে পাবেন , তা হলো প্রতিটা মহল সারা রং করা । সাদার মাঝে কিছু কারুকাজ করা । বলতে গেলে আপনি ভেতরের প্রবেশের সাথে সাথে নিজেকে খুব রিফ্রেশ মনে করবেন । আপনি আশে পাশে ঘুরে দেখতে পারেন । মাঝে বিশাল এক মাঠ রয়েছে । মাঠের মধ্যে রয়েছে ফুলের বাগান । খুব পরিষ্কার আর গোছানো একটি জায়গা । সারা দিন সেখান থেকে আমি বের হয়ে আসলাম বিকেলের দিকে । দুপুরের খাবার খেয়ে আবার ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম ।

খরচ – খরচ বলতে তেমন একটা টাকা আমার খরচ হয়নি অবশ্য

গাড়ি ভাড়া পড়েছে ১৬০*২ = ৩২০টাকা
সিএনজি ভাড়া পড়েছে ১৫*২ = ৩০ টাকা
সকাল আর দুপুরের খাবারের খরচ পড়েছে – ৩০ + ১০০ = ১৩০
অন্যান্য খরচ হয়েছে – ১০০ টাকা
সর্বমোট ৬২০ টাকার মধ্যে সম্পূর্ণ টুর সেরেছি ।

মাঝে মাঝে আমাদের উচিত একটু সময় পেলে এই ব্যস্ত নগরী থেকে পালানো , কিছুটা সময়ের জন্য । তাহলে জীবনে আনন্দের ধারা বজায়ে থাকে । হ্যাপি ট্রাভেলিং ।

 

জমিদার বাড়ির তথ্য রেফারেন্স লিঙ্ক https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BE_%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%B0_%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%BF#.E0.A6.A6.E0.A6.B0.E0.A7.8D.E0.A6.B6.E0.A6.A8.E0.A7.80.E0.A6.AF.E0.A6.BC

আমাদের সমাজের তেলতেলে নেতা ।

Now Reading
আমাদের সমাজের তেলতেলে নেতা ।

বাংলাদেশে আজ তেলের দাম যত বেশি হক না কেন নিজ থেকে উপরের লেভেলের কাউকে তেল মারতে তাদের তেমন বেগ পেতে হয় না।হক সে পিয়ন পদে আছে , বা হক সে বাংলাদেশে রাজনীতির সাথে জড়িত আছে । বাংলাদেশী ব্যতীত অন্য কোনো দেশে এই রকম নিজের থেকে উপরের লেভেলের বসদের তেল দেয়ার সিস্টেম আছে কিনা তা আমার জানা নেই ।

আমাদের সমাজে একটা প্রচলিত কথা আছে , অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে , নিজেকে সেই গর্তে পড়তে হয় । ঠিক আজ এই কথা টা আমাদের সামনে প্রমাণ করে দিলেন বরিশাল জেলার আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু । তিনি এক ধারে বরিশাল জেলার ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন তিনি । ইউএনও তারিক সালমানের বিরুদ্ধে সাজু সাহেব মামলা করেন , কারণ তারিক সালমান বঙ্গবন্ধু এর বিকৃত ছবি ২৬ মার্চ এর আমন্ত্রণ পত্রে ব্যবহার করেছেন । সব কিছুর একটা সীমা রেখা থাকে । কিন্তু আমাদের সাজু সাহেব মনে হয় তার সীমারেখা বুঝে উঠতে পারেন নি । যার কারণে তিনি তার নিজের তেলে পা পিছলে পরে গিয়েছেন ।

বাংলাদেশের অন্যতম ইউটিউববার ও বাংলাদেশীজম প্রজেক্ট এর সিইও নাহিদ সাহেব এই নিয়ে গত কাল বাংলাদেশীজম ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও আপলোড দিয়েছেন । তিনি তার ভিডিওতে বলেছেন . তেলাতেলি আজ এমন এক পর্যায় চলে গিয়েছে যে , এখন বড় বড় মানুষের এমন ভাবে তেল ঢালে যে সে নিজেরা পা পিছলে পরে যায় । আসলে উনি ঠিক কথা বলেছেন । ওবায়েদ উল্লাহ কে আজ অতিরিক্ত তেল ঢালার কারণে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে

ঘটনা ঘটেছিলো একটি বাচ্চা ছেলে বঙ্গবন্ধুর ছবি তার ভালোবাসার জায়গা থেকে এঁকে ছিল । সেই ছবিটি ইউএনও এর পছন্দ হবার কারণে তিনি আমন্ত্রণ কার্ডে ছবিটি ব্যবহার করেছিল । যা আমাদের সাজু সাহেবের নাকি পছন্দ হয়নি । অতিরিক্ত ভালোবাসা থেকে তিনি মামলা ঠুকে দেন সালমান এর নাম ।

ভিডিও তে আরো বলা হয়েছে , একটা মানুষ এর ব্যক্তিগত জীবনে সুখ , দুঃখ . হাসি , কান্না এই সব থাকবে । কখনো তাদের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হবে , আবার কখনো তাদের মধ্যে পুনরায় ভালোবাসা সৃষ্টি হবে । আবার কেউ তাদের ঝামেলার কাৰণে এঁকে অপর থেকে সরে আসবে । এইটাই নিয়ম । আমরা হয়তো ভুলে গিয়েছি যারা সেলেব্রিটি তাদের ব্যক্তিগত জীবন আছে । এতক্ষণে পাঠক নিশ্চয় বুঝে গিয়েছেন নাহিদ সাহেব ভিডিও তে কাকে নিয়ে কথা বলেছে । হ্যাঁ আপনারা ঠিক ধরেছেন । তাসান মিথিলা ইস্যু নিয়ে কথা বলা হয়েছে । তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত ঝামেলার কারণে তারা একে অপর থেকে দূরে থাকছেন , যখন দেখলেন দূরে থেকে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না তখন তারা সিদ্ধান্ত নিলেন তারা তাদের সম্পর্ক বেশ করে দিবেন মানে ডিভোর্স করবেন । ফেসবুকে কতিপয় কিছু মানুষ এই বিষয়টাকে নিয়ে প্রচণ্ড পরিমাণে নাচানাচি শুরু করে দিয়েছেন । এমনকি তারা ফেসবুকে ইভেন্ট খুলেছে । ইভেন্ট এর নাম দিয়েছে ” তাসান মিথিলার ডিভোর্স আমরা মানি না ” । আরে ভাই আপনি কেন তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে টানা টানি করবেন ।
নাহিদ সাহেবের সাথে আমি একটা কথায় এক মোট পোষণ করছি , তিনি বলেছেন তাসান কেন তার ব্যক্তিগত ব্যাপার তার ব্যক্তিগত পেজে শেয়ার করছেন ।
আসলে ঠিক , আপনার নিজেদের ব্যাপার নিজেদের কাছে রাখলে হয়তো আমাদের এই রকম কিছু দেখতে হতো না ।

তিনি তার ভিডিও তে আরেকটি ব্যাপার তুলে ধরেছেন – আজ দুই দিন ধরে ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে । একটি মেয়ে কেঁদে কেঁদে ভিডিও করছে , অবশ্য তার চোখে পানি নামের কোনো রাসায়নিক বস্তু দেখা যায়নি । মেয়েটি তার ভিডিও তে বলেছেন তার বাবা নাকি তার অপর অনেক অত্যাচার করে ।ক্লাস ফাইভ এ থাকতে তার দেহের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিয়েছে । মেয়েটি এমন ভাবে কথা কে সাজিয়ে বলেছে যে কেউ তার কথা শুনে কনভেস হতে বাধা । কিন্তু কিছু অতিবাহিত না হতে নাটকের মোড় অন্য দিকে ঘুরে যায় । মেয়েটির ভাই আরেকটি ভিডিও করে । তার ভাই বলে এই মেয়েটি তার আপন বোন । আর কিছু দিন আগে সে বাসা থেকে পালিয়েছে । যখন বাসায় থাকতো তখন সারা দিন দরজা বন্ধ করে লাইট অফ করে থাকতো । এমনকি তার ভাই বলেছে , তার নাকি সন্দেহ হয়েছিল মেয়েটি ড্রাগ সেবন করে কিনা এই ব্যাপারে । এই ব্যাপার গুলো নাহিদ সাহেব তার ভিডিওতে খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলে সবার কাছে ।

আসলে আমাদের সমাজ আজ ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে । আমাদের কে আরো সচেতন হতে হবে । আমাদের কাজ কে আমাদের সীমার মধ্যে আনতে হবে । অন্যের ব্যক্তিগত ব্যাপার এ নাক কম গলাতে হবে । আর খুব সহজে বিশ্বাস না করে সময় নিয়ে যাচাই বাছাই করতে হবে । তাহলে সমাজ থেকে এই সব কীট একদিন লেজ গুটিয়ে পালাবে । আর আমরা যদি তাদের ভিডিও বা তাদের অন্যায় কে প্রশ্রয় দেই বা নীরব থাকে , তাহলে একদিন দেখবো ওই সব কীট গুলো আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে ।

স্বল্প দৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী – পর্ব – ১ম

Now Reading
স্বল্প দৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী – পর্ব – ১ম

আজ তিন বছর প্রবাস জীবনে আছি । তিন বছর আগে মালয়েশিয়া এসে ছিলাম পড়া শুনার জন্য । পড়া শুনা শেষ করে এখন একটি পার্ট টাইম জব করছি ।

সময়টা বেশি দিন আগের না ঠিক আজ থেকে ৫ বছর আগের কথা মানে আমি বিদেশ পড়া শুনা করার ২ বছর আগের কার ঘটনা । সজল এর বিয়ে। সজল আমার ছোট বেলার বন্ধু । অনেক কষ্টের পর বন্ধুর ভালোবাসা আজ সফল হতে চলেছে । মানে সে যেই মেয়ে কে কলেজ জীবন থেকে ভালোবেসে আসছে তার সাথে আজ বিয়ে । এতো দিন ছিল মেয়েটি ভালোবাসার মানুষ , আর আজ থেকে সে তার জীবনের অর্ধেক । সে গল্পে পরে আসি । সজল আমাকে প্রায় বলতো কিরে রিফাত বিয়ে কবে করবি ? আর তুই বিয়ে করবি কি এই জীবনে তো তোরে প্রেম করতে দেখলাম না । কিরে ভাই ডাক্তার দেখতে হবে নাকি তোরে ? আমি হেসে দিয়ে বললাম , হ্যাঁ রে বন্ধু ডাক্তার দেখতে হবে . মনের ডাক্তার । এখন পর্যন্ত মনের মতো কাউকে পেলাম না । তো সেদিন ওর বিয়ে পরিচিত হলাম একটা মেয়ের সাথে । এই প্রথম কোনো মেয়ে কে দেখে আমি চোখের পলক পড়ার আগে অব্দি চেয়ে ছিলাম । সাধারণত কোনো মেয়ের দিকে তাকালে সঙ্গে সঙ্গে আমি চোখ নামিয়ে নেই । আচ্ছা মেয়েটার বর্ণনা দেই

প্রথম দেখাতে তার চোখের দিকে নজর গিয়েছে আমার । আচ্ছা আপনারা কি কখনো কুচ কুঁচে কালো দেখেছেন ? অন্ধকারের কালো না কিন্তু । চাঁদ বিহীন আকাশ যে রকম কালো হয়ে থাকে সে রকম কালো । ঠিক মেয়েটির চোখের মনি সে রকম কালো । আর চুলের কথা কি বলবো , মনে হচ্ছে আকাশ থেকে এক গুচ্ছ কালো মেঘ এসে তার মাথায় বাসা বেঁধেছে । কালো ঘন চুল । আরেকটি হলে মাটিতে চুল ছুঁয়ে গিয়েছিলো । গালের বাম পাশে একটি তিল রয়েছে । এই তিলটি এই মানুষটা কে পরিপূর্ণ করে দিয়েছে । গায়ে জড়িয়েছে হালকা হলুদ রঙের শাড়ি । কেউ মনে হয় ছবি আঁকতে বসেছে । তা না হলে এতো সুন্দর কিভাবে হয় । শুধু একটি জিনিস মিস ছিল তার মধ্যে । তার দুই হাতের পাশে যদি দুইটি ডানা থাকতো , তাহলে তাকে পরী মনে হতো ।শুধু দুইটি ডানার জন্য মানুষ রুপি পরী বলতে হচ্ছে ।

প্রথম দেখতে প্রেমে পড়ে গেলাম । বন্ধু কাছে জানতে পেলাম উনি হলেন আমার ভাবি মানে বন্ধু বৌয়ের বান্ধবী । বন্ধু কে বললাম , দোস্ত মেয়েটা আমার খুব ভালো লেগেছে । এই কথা শুনে বন্ধুর খুশি দেখে কে ? আজ বন্ধু তার বিয়েতে যত না খুশি তার থেকে মনে হয় আমার এই কথা শুনে অনেক বেশি খুশি । খুশি না হয়ে কি করবে আমার তিন বন্ধু , সজল , আমি , সাগর । এর মধ্যে আমার আর সাগরের কোনো প্রেমিকা ছিল না । সাগর আরো দুই বছর আগে লন্ডনে চলে গিয়েছে পড়া শুনার জন্য । আর সজল এর সাথে রয়ে গিয়েছি আমি । আমাদের বন্ধুত্বের ১৫ বছর জীবনে এই প্রথম সে আমার মুখে শুনলো আমার কেউ কে ভালো লেগেছে । এই কথা সে তার বউ কে গিয়ে বলল । কিছুক্ষণ পর ভাবি আমাকে ডেকে এনে উনার বান্ধবীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন । পরিচয়টা কিভাবে শুরু করবো বুঝে উঠে পারছিলাম না ।

উনি আমাকে বলতে উঠলো

আমার নাম মেঘলা ।

এই নাম শুনার পর থেকে মাথায় খালি একটা গান বাজছিল , আকাশ এতো মেঘলা যেয়ো নাকো একলা । আর ভাবছিলাম আমি তো যেতেই চাই না । মেঘলা আকাশের বুকে এক টুকরো সাদা মেঘ হয়ে ভেসে থাকতে । যখন তখন আমাকে কালো মেঘের বুকের মাঝে লুকিয়ে রাখবে । এই সব কথা ভাবতে ভাবতে কে যেন আমাকে নাড়া দিচ্ছিল সজল সজল বলে । যখন হুশ আসলো তাকিয়ে দেখলাম আমার বন্ধু আমার হাত ধরে নাড়া দিয়ে ডাকছে আর বলছে কিরে সজল কোথায় হারিয়ে গেলো । আমি তাড়াতাড়ি বলে উঠলাম কোথাও না আমার নাম আকাশ ।
কি বললাম নিজেই জানি না । আমার আকাশ নাম শুনে আমার বন্ধু হেসে দিলো । হেসে দিয়ে আমাকে বলল কিরে তুই সজল থেকে আকাশ কবে হলি? আমি মুচকি হাসি দিয়ে বললাম

আমার নাম সজল । অনার্স শেষ করেছি । এখন মাস্টার্স এর জন্য প্ৰস্তুত হচ্ছি । আপনি কি করেন ?

আলতো করে মুচকি হাসি দিয়ে বলল অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি ।

মনে মনে আমি বলি কিসের আমি মাস্টার্স পড়ছি আমার তো মনে হচ্ছে আমি তোমার প্রেমের স্কুলে ভর্তি হয়েছি ।

এখানে আমাদের পরিচয় পর্ব শেষ হয়েছে । আমি আর কথা লম্বা করিনি ।

কিছুক্ষণ পর আমার বন্ধু , তার বউ , আমি ও মেঘলা খেতে বসলাম এক টেবিলে । আমার পাশের সিটে বসেছিল । উনার দিকে তাকিয়ে তার সামনে থেকে মাংস নিতে গিয়ে বাধিয়ে দিলাম একটা কাণ্ড ।

কি কাণ্ড বাধাল জানতে অপেক্ষা করুন দ্বিতীয় পর্বে । খুব শিগ্রহি দ্বিতীয় পর্ব লেখা হবে .

চলবে ……

তামিম কি তবে অদৃশ্য শক্তির চাপে সত্য গোপন করলেন?

Now Reading
তামিম কি তবে অদৃশ্য শক্তির চাপে সত্য গোপন করলেন?

গতকাল থেকে ফেসবুকে কিংবা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে একটি খবর দেখা যাচ্ছেঃ বাংলাদেশী ওপেনার ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও তার স্ত্রী, সন্তান ইংল্যান্ডে “হেইট ক্রাইমের” স্বীকার হয়েছেন। তামিমের স্ত্রী আয়েশা হিজাব পরেন আর সেই কারণেই নাকি কিছু ইসলাম বিদ্বেষী নরপশু তাদেরকে এসিড মারার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করেন, দৌড়ে পালিয়ে তারা রক্ষা পান।

প্রথম আলোর খেলার পাতার সংবাদে জানা গিয়েছিল ঠিক এমন ঘটনাঃ

  • “নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড পরিচালক বলেছেন, ‘তামিম ও তার পরিবারকে ধাওয়া করেছিল কয়েকজন লোক। দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ায় তাদের কিছু হয়নি। এ ঘটনার পরই তামিম দেশে চলে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।’ আক্রমণকারীদের হাতে অ্যাসিড ছিল বলেও শুনেছেন তিনি। বিসিবির দায়িত্বশীল এই কর্মকর্তার ধারণা, ‘তামিমের স্ত্রী মাথায় হিজাব পরেন। হয়তো সে কারণেই তাঁদের টার্গেট করা হয়েছে।’ এ ব্যাপারে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি তামিমকে”।

ব্যক্তিগত ভাবে আমি নিজেও আমাদের দেশের এই হার্ড হিটার এর এমন খবরে চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। কেননা Daily Star যা কিনা নির্ভরযোগ্য পত্রিকা – তাতেই এটি প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর এটি ভাইরাল হয়ে যায় সারা দেশে সাথে দেশের মানুষও চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, কেন তামিম কোনো অ্যাকশনে গেলেন না। হঠাৎ কেন তিনি চুপ হয়ে গেলেন এবং দেশে ফেরার চিন্তা-ভাবনা আনলেন? এরপরই প্রথম আলোতে সংবাদ আসে আজ এই শিরোনামে, “তামিম বলেছেন, কিছু হয়নি” সেই সংবাদে বলা হয়েছে ঠিক এমনটাঃ

  • আজ সকালে তামিম তাঁর টুইটারে জানিয়েছে, ‘আমার পরিবারের ওপর হামলা হয়েছে বলে বেশ কিছু খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো সত্য নয়। ব্যক্তিগত কারণেই এসেক্স থেকে ফিরে আসছি আমি।’ বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার অ্যালান উইলকিনস এ বিবৃতিতে স্বস্তি প্রকাশ করে বলেছেন, ‘স্রষ্টাকে ধন্যবাদ। ব্যাপারটা খোলাসা করার জন্য তামিমকে ধন্যবাদ। আশা করি, সব ঝামেলা মিটে যাবে।’ কাল বিকেলে কাউন্টি ক্লাব এসেক্স তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ব্যক্তিগত’ কারণে তামিম ক্লাব ছেড়ে যাচ্ছেন। বিবৃতিতে এই ইংলিশ কাউন্টি দলটি আরও লিখেছে, ‘আমরা তার মঙ্গল কামনা করছি। এই সময়ে তামিমের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি সম্মান জানালে আমরা খুশি হব।’

এতকিছুর পরেও মানুষের মনে হাজার প্রশ্নের উঁকি দিচ্ছে। আরমান নামক একজন তার মতামতে এমনটাই জানিয়েছেন যেঃ হয় প্রথম আলোর রিপোর্টার ভিত্তিহীন রিপোর্ট করেছেন৷ নতুবা মেরুদণ্ডহীন বিসিবির চাপে তামিম বিষয়টা এড়ানোর চেষ্টা করছেন৷ কিন্তু ব্রিটেনে ‘হেট ক্রাইম’ ছড়িয়ে পড়েছে এটা যখন প্রমাণিত সত্য, তাহলে বলতে হবে তামিম ইকবাল মিথ্যা বলছেন বা সত্যটা চেপে যাচ্ছেন যাতে ভবিষ্যতে ইংল্যান্ডে খেলার সুযোগ বন্ধ না হয়৷ বেশ কয়েকজন ফেসবুকে তাদের ব্যক্তিগত মতামত থেকে জানিয়েছেনঃ 2019 বিশ্বকাপ তো ওখানেই খেলতে হবে।তাই হয়তো নিরাপত্তার কথা ভেবে কিংবা বোর্ডের চাপে সত্যটা তামিম চেপে গেছে।

জুয়েল নামে একজনের মন্তব্য ঠিক এমনঃ হেট ক্রাইমের ঘটনাটা হয়তো সত্য। তবে তামিম একজন অনেক বড় মানের ও বড় মনের খেলোয়ার। আন্তর্জাতিক ভাবে তিনি পরিচিত। তাই হয়তো ভদ্রতার খাতিরে একটা দেশের নাজুক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নেতিবাচক কথা না বলে বারবার ব্যক্তিগত কারনের কথাই বলছেন। আবার সত্য না বলার জন্য বিসিবির চাপও থাকতে পারে । তবে যাইহোক , বাংলাদেশে এমনটা হলে বিদেশীরা হৈচৈ ফেলে দিতো!

যাইহোক, এতকিছুর পরেও মানুষের মনে ধোয়াঁশা কাটছে না, ধরেই নিলাম এমন কিছু ঘটেছে কিন্তু আমাদের তামিম ইকবাল ও তার পরিবার সুস্থভাবে দেশে ফিরছেন – এটাই আমাদের জন্য বড় কথা। বিসিবি যে সত্যিই মেরুদন্ডহীন সেটা মানুষ আরেকবার প্রমাণ পেলো।

রেফারেন্সঃ প্রথম আলো ( খেলার খবর ) – ১২/০৭/২০১৭ [under fair usage policy]

আমি পতিতা বলছি । শেষ পর্ব

Now Reading
আমি পতিতা বলছি । শেষ পর্ব

প্রথম পর্বের পর

মেজাজটা খারাপ হয়েছে আমার আগে আসবে বলে আমাকে ১ ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখেছে । ১ ঘণ্টা পর হাঁপাতে হাঁপাতে আসে আমার সামনে । মেজাজটা এতো খারাপ হচ্ছিলো যে , ইচ্ছে করছিলো কষিয়ে একটা থাপ্পড় মারি , কিন্তু না আমি থাপ্পড় তো মারলাম না উল্টো রাসেল কে দেখে কেঁদে দিলাম । যাই হোক আমাকে শান্ত করে রিকশা করে একটা বাসায় নিয়ে গেলো ।

রাসেল আমি যদি আজ হারিয়ে যেতাম । আমার অনেক ভয় করছিলো । ঢাকায় এতো মানুষ !
হা হা হা কি যে বলো না , রাস্তায় এতো জ্যাম ছিল যা বলার বাহিরে । তাই দেরি হয়েছে । আচ্ছা এই সব কথা বাদ দাও তো । যাও হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে নাও । আমি তোমার জন্য হোটেল থেকে খাবার এনে রেখেছি ।

আমি আর কোনো কথা না বলে হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নিলাম । আমি যেই রুমে আছি সেখানে একা আমি একটা মেয়ে না , আমার সাথে অনেক মেয়ে আছে । আর তাদের দেখতে অনেক অদ্ভুত লাগছে । কি রকম ভাবে যেন সেজে আছে । আমি রাসেল কে বললাম ওরা করা ? আর আমার কাজ কি ?
রাসেল বলল ওরা ও নাকি কাজের জন্য ঢাকায় আসছে । আর আমাকে কাল বা পরশু জয়েন করবে ।
আমি আর কোনো কথা বললাম না । আমাকে খাওয়ানো শেষ হলে রাসেল চলে গেলো । আমি একা একটা রুমে শুয়ে পড়লাম । পরের দিন সন্ধ্যায় একটা লোক কে নিয়ে আসলো রাসেল । আমাকে দেখিয়ে কি যেন বলে চলে গেলো লোকটি । আমি রাসেল কে বললাম

রাসেল এই লোকটি কে ?
তুমি যেখানে কাজ করবে তার বস উনি । তোমাকে দেখতে এসেছে । কাল সন্ধ্যা থেকে তোমার কাজ শুরু ।
কাল সন্ধ্যা ? কাল সন্ধ্যা কেন । মানুষ তো দিনে কাজ করে আমি রাতে কেন করবো ?
আসলে এইটা একটা বিদেশী কোম্পানি তো তাই ।

আমি আর কোনো কথা না বলে খেয়ে গতকালের মতো আজকেও শুয়ে পড়লাম । কাল সন্ধ্যায় রাসেলের সাথে যেই লোকটি এসেছে সে আসলো আমার রুমে । আমি খাটের এক পাশে বসে আছি । উনি ঢুকে রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো । আমি সাথে সাথে বলে উঠলাম , আপনি কি করছেন দরজা বন্ধ করেছেন কেন ? উনি জবাব না দিয়ে আমার সামনে এসে বসে আমার গায়ে হাত দিচ্ছিল । আমি সাথে সাথে দৌড়ে ঘরের এক কোনায় চলে গেলাম । উনি বলে উঠলো দৌড়িয়ে লাভ নেই । আমার কাছে তোমাকে ধরা দিতে হবে । রাসেল হেব্বি একটা মাল রেডি করেছে আমার জন্য ।

দেখেন আপনি ভুল করছেন । আমি কাজ করতে এসেছি । গ্রামে আমার বাবা । খুব অসহায় । আমার কোনো ক্ষতি করবেন না । আমাকে যেতে দিন । রাসেল কোথায় । এই বলে আমি চিৎকার চেঁচামেচি করা শুরু করলাম ।
উনি বলে উঠলো রাসেল তোমাকে আমার কাছে আজ রাতের জন্য বেঁচে দিয়েছে । এখন তুমি আমার । এই কথা বলে হিংস্র ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লো । আমি কত না চিৎকার করছি । উনাকে আমি বাবা বলেও ডাকছি নিজের ইজ্জত টুকু বাঁচানোর জন্য ।কিন্তু না কোনো কিছু তে কাজ হচ্ছে না । আমার কান্নায় সেদিন সেই রুমের বাতাস পর্যন্ত কেঁদে ছিল । কিন্তু ওই নর পিচাশের মন একবার কেঁদে উঠেন । সেদিন থেকে আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গিয়েছে । সারা রাত চলে আমার উপর অমানবিক নির্যাতন । ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে আমাকে উলঙ্গ রেখে আমার দেখার উপর ২ হাজার টাকা রেখে উঠে চলে যায় ।
আচ্ছা পাঠক আপনাদের কাছে একটা প্রশ্ন আমার ইজ্জত কি ২ হাজার টাকা ? আপনার মা বোনের ইজ্জত কি ২ হাজার টাকা ?
কিছুক্ষণ পর রাসেল আসে আমার রুমে । কি আমার ভালোবাসা ! আহা আমাকে উলঙ্গ দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি আমার ভালোবাসা । আমার এই নির্যাতিত দেখার উপর চলে আরেক দফা নির্যাতন । বিশ্বাস করেন এইবার আমি চিৎকার করেনি । আমি নড়াচড়াও করেনি । শুধু কান্না করেছি , নীরব কান্না । আমাকে এমন একটা ঘরে রাখা হয়েছিল আশে পাশে কি ঘটছে বলাও যায়না ।

তারপর থেকে আমাকে আর জোর করতে হয়নি , আমি নিজে স্বেচ্ছায় গিয়েছি তাদের সাথে । আর যেটাকে কামাই করেছি তা দিয়ে আমি এতিমদের খাইয়েছি । সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত নিজের বাবাকে একটা টাকাও পাঠায়নি । কিভাবে পাঠাবো ? নিজের দেহ বেচা টাকা কিভাবে নিজের বাবাকে খাওয়াই ।

আর রাসেল এর অবস্থা হলো . রাসেল দুই বছর পর একটি মেয়েকে বিয়ে করে । কিন্তু তাদের কোনো বাচ্চা হচ্ছিলো না । অনেক চেষ্টার পর একটা বাচ্চা হলো , তাও মেয়ে ! কিন্তু মেয়েটি সর্ব অঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী । না কথা বলতে পারে না ভালো ভাবে হাঁটতে পারে । রাসেল কোনো দিন তার সন্তানের মুখে বাবা ডাক শুনেনি । আমি যেখানে আজ দেহ ব্যবসা করি এখানে অনেক মেয়ের আশা হয়েছে তার হাত ধরে । আজ রাসেল ভালো হয়ে গিয়েছে . কিন্তু আমার মতো অনেক মেয়ের কান্নার আর্তনাদ মিশে আছে তার আশে পাশে ।

আজ আমি আপনাদের ভদ্র সমাজে পতিতা । কিন্তু আপনারা ?