বাংলাদেশে শিল্প বিপ্লব !! Shipbuilding in BANGLADESH, massive change of ECONOMY !!

Now Reading
বাংলাদেশে শিল্প বিপ্লব !! Shipbuilding in BANGLADESH, massive change of ECONOMY !!

বাংলাদেশের একটি ক্রমবর্ধমান ও সম্ভাবনাময় শিল্প জাহাজনির্মাণ । সাম্প্রতিক বছরগুলিতে জাহাজনির্মাণ একটি প্রধান প্রতিশ্রুতিশীল শিল্প হয়ে উঠেছে যখন স্থানীয়ভাবে দেশীয় তৈরি জাহাজ বিদেশে রপ্তানি করা শুরু হয়। বাংলাদেশ এখন ২00 টির ও বেশি জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, শিপইয়ার্ড বা ডকইয়ার্ড নৌযান নির্মাণ সংক্রান্ত কারখানা আছে যেগুলোর বেশির ভাগই চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও খুলনায় গড়ে উঠেছে । জাহাজ, লঞ্চ, কার্গো, সিট্রাক, বার্জ, স্টিমার অর্থাৎ পানিতে চলাচলের জন্য যে কোন ধরনের যান তৈরি বা মেরামতের কাজ এই কারখানা গুলোতে করা হয়। বাংলাদেশের শিপইয়ার্ড গুলো আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন ১০০০০ ডি ডব্লিও টি ( DWT ) মানের জাহাজ তৈরি করতে সক্ষম। বাংলাদেশে তৈরি নতুন জাহাজ গুলো বিভিন্ন ইউরোপিয়ান মার্কেটে রপ্তানি হচ্ছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড এবং জার্মানি। এছাড়াও পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামে রপ্তানি করে থাকে।

বাংলাদেশের নদনদী ভৌগলিক কারণে জাহাজনির্মাণ প্রাচীনকাল থেকেই এই দেশের জনগণের বাণিজ্যিক দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। বাংলাদেশের জাহাজ তৈরি শিল্পের ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। মোগলদের সময়ে বা তার আগে ও পরে বাংলাদেশের কাঠের তৈরি জাহাজ একসময় ইউরোপে রপ্তানি হত। খুলনা শিপইয়ার্ড বাংলাদেশ প্রথম আধুনিক শিপইয়ার্ড, একটি জার্মান ফার্ম দ্বারা ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমত এটি একটি ব্যক্তিগত উদ্বেগ ছিল, পরে তা জাতীয়করণ করা হয় এবং ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে।

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কিছু জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে খুলনা শিপইয়ার্ড লিঃ, কর্নফুলি শিপইয়ার্ড লিঃ, আনন্দশিপ ইয়ার্ড এন্ড স্লিপওয়েস লিঃ, চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিঃ, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিঃ, খান ব্রাদার্স শিপবিল্ডিং লিঃ, নারায়নগঞ্জ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড শিপবিল্ডিং লিঃ, ঢাকা ডকইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস ইত্যাদি। এছাড়াও আরো অসংখ্য শিপবিল্ডিং কারখানা বাংলাদেশে আছে। কয়েকটি নামকরা শিপইয়ার্ড সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

খুলনা শিপইয়ার্ড

খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যা  বাংলাদেশ নৌবাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং খুলনায় অবস্থিত একটি জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত কারখানা। এটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য পদ্মা-শ্রেণির অফশোর পশুর জাহাজ নির্মাণ করে। দুটি দুর্জয়-শ্রেণী এলপিসি নির্মাণাধীন আছে। এটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য দুইটি কন্টেইনার জাহাজের পাশাপাশি পাঁচটি পেট্রল কার্ট নির্মাণ করেছে।

রেডিয়েন্ট শিপইয়ার্ড লিমিটেড

রেডিয়েন্ট শিপইয়ার্ড লিমিটেড (আরএসএল) – রেডিয়েন্ট মেরিন ডিজাইন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের নতুন অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। ঢাকা থেকে এক ঘন্টা দূরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এটির যাত্রা শুরু হয় ২0১২ সালে শীতলক্ষ্যা নদীর পাশে ১২ একর জমির উপর। ২0১২ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই, আরএসএল দেশের সবচেয়ে উন্নত জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের একটি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।

কর্নফুলি শিপইয়ার্ড

কর্ণফুলি শিপ বিল্ডার্স (প্রাঃ) লিমিটেড (কেএসবিএল) বাংলাদেশের বৃহত্তম বেসরকারি মালিকানাধীন একটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান যা ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়। আট একর জমির উপর সম্পূর্ণ আধুনিক  মেশিনে সজ্জিত এবং ৬৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের ২ টি স্লিপওয়েজ রয়েছে। কেএসবিএল সাধারণত ড্রেজার, বরজ, কার্গো শিপ, মাছ ধরার ট্রলার, যাত্রী ভ্যাসেল, প্যাট্রোল এবং পাইলট ভ্যাসেল, ক্রু নৌকা ইত্যাদি নকশা এবং তৈরি করে থাকে। কেএসবিএল বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছরে প্রায় ৪৫০ টা জাহাজ সংস্কার করেছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রায় ৬২ টি নতুন জাহাজ নির্মাণ করেছে।

খান ব্রাদার্স শিপবিল্ডিং

খান ব্রাদার্স জাহাজনির্মাণ প্রতিষ্ঠানটি ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, এটি বাংলাদেশের একটি দ্রুত বেড়ে উঠা শিপইয়ার্ড কোম্পানি। এটি মেঘনা নদীতে অবস্থিত। এই শিপইয়ার্ড মোট ১৮৭০০০ বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত। এটি বছরে ১০০০০ টন ইস্পাত প্রক্রিয়া করার ক্ষমতা রাখে। এটি প্রতি বছর ৪০০০ টন DWT এর ৪ টি জাহাজ সরবরাহ করতে সক্ষম।

আনন্দ শিপইয়ার্ড এবং স্লিপওয়েস লিমিটেড

আনন্দ শিপইয়ার্ড এবং স্লিপওয়েস লিমিটেড বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। এটি টাগ বোটস, ট্যাঙ্কার, ড্রেজার, ফেরি / যাত্রী জাহাজ, পাশাপাশি অফশোর পেট্রল জাহাজ নির্মাণ করে। কোম্পানিটি এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপে তাদের জাহাজ রপ্তানি করে। আনন্দ শিপইয়ার্ড এবং স্লিপওয়েস লিমিটেড ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড বাংলাদেশের প্রধান জাহাজ নির্মাতা কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সামুদ্রিক শিল্পের বৈশ্বিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের বিকাশ সাধন করা। ধীরে ধীরে কোম্পানিটি ২০০০ সালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠে। এদের অভ্যন্তরীণ নৌপথ ১.৫ একর জমির উপর তৈরি করা হয়।আজ পশ্চিম মেরিন শিপইয়ার্ড দেশের বৃহত্তম জাহাজ নির্মাতা যা ৪২ একর জমির উপর অবস্থিত, একটি বিশ্বমানের শিপইয়ার্ড, নিজেদেরকে আধুনিকায়ন করার জন্য প্রায় 3 হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে সব ধরনের হাই-টেক ও ভারী কারিগরি যন্ত্রপাতি আমদানি করে। এটি দক্ষ, আধা দক্ষ মজুরসহ ৩৫০০ জন কর্মীর একটি কর্মসংস্থানের বিরাট উৎস। নৌবাহিনী, মেকানিক্যাল, বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী, নৌ-স্থপতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের সহ এই কোম্পানিতে পাঁচশর ও বেশি কর্মী কাজ করে। এই শিপইয়ার্ড এত দ্রুত স্বীকৃতি লাভ করেছে যে তার খ্যাতি সারা দুনিয়ার সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আজ তারা জার্মানি, ডেনমার্ক ও পাকিস্তানের জন্য বিভিন্ন মহাসাগরীয় জাহাজ নির্মাণ করছে।

দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প খুব কম সময়েই ব্যাপক বিস্তৃতি পেয়েছে বিশ্ব দরবারে। বৈদেশিক বাজারের চাহিদা ও প্রয়োজন অনুযায়ী এই কোম্পানি গুলো কাজ করে যেতে পারলে দেশের ইকোনমিতে আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে বলে আশা করা যায়।

Reference:

www.wikipedia.org

www.wms.com.bd

www.khulnashipyard.com

www.ksblbd.com

www.rsl.org.bd

www.kbgbd.com

 

পর্দা নামলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির, সেরা একাদশে তামিম ইকবাল !!!

Now Reading
পর্দা নামলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির, সেরা একাদশে তামিম ইকবাল !!!

হাজারো জল্পনা কল্পনার অবসানের পর পর্দা নামলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। টান টান উত্তেজনার ফাইনাল ম্যাচে দুই চির প্রতিদ্বন্দী ভারত বনাম পাকিস্তানের ম্যাচে ভারত কে প্রায় ঝড়ের মত উড়িয়ে দিয়ে প্রথম বারের মত আই সি সির এই ইভেন্ট এ চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। ভারতকে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে র‍্যাঙ্কিং এ ৮ নাম্বারে থাকা পাকিস্তান ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মত দলকে টপকে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।

এদিকে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে প্রতিটি ম্যাচ ছিল ব্যাপক নাটকীয়তা পূর্ণ। বৃষ্টিতে কিছু ম্যাচ পন্ড হলেও ফলাফল হওয়া সবকটি ম্যাচ ছিল অসাধারণ চ্যালেঞ্জিং পূর্ণ। আর যার ফলেই কিনা টুর্নামেন্টকে বলা হয় চ্যাম্পিয়ন্স দের টুর্নামেন্ট। আর সেই চ্যাম্পিয়ন্স দের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান।

তবে পুরো টুর্নামেন্টে যেন এশিয়াদের দখলে ছিল বেশি। চার সেমিফাইনালিস্টের তিনটিই ছিল এশিয়ার মধ্যে। র‍্যাঙ্কিং এর প্রথম সারির দলগুলোকে ঠিক যেন কোন রকম পাত্তা না দিয়েই শেষ সারির দল গুলো টুর্নামেন্টে রীতিমত রাজত্ব করে গেল। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে পোড়া কপাল নিয়ে এবার টুর্নামেন্টে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ পর্যায়ে তিনটি খেলার দুইটি বৃষ্টিতে পন্ড ও শেষটিতে ইংল্যান্ড এর কাছে লজ্জাজনক হারে মনে হয় যেন সত্যি তারা পোড়া কপাল নিয়ে এসেছিল ইংল্যান্ড এ আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে। ফেবারিটের তকমা মাখা ইংল্যান্ড প্রথমে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম পাকিস্তান, ভারত বনাম শ্রীলঙ্কার ম্যাচে অদ্ভুত নাটকীয়তা যেন সব সমীকরণ উলট পালট করে দেয়। নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের পর অসাধারণ ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। এরপর ঐতিহাসিক ম্যাচে নিউজিল্যান্ড এর বিপক্ষে অসম্ভাব্য জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। এরই মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মত দল এত বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে পড়ে। ফেবারিটের তকমা মাখা ইংল্যান্ড সহ সেমিফাইনালে যায় ভারত ও পাকিস্তান এবং প্রথম বারের মত আই সি সির কোন ইভেন্টে সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ অর্জন করে বাংলাদেশ। এতেই বুঝা যায় টুর্নামেন্টে এশিয়ার দলগুলোই রাজত্ব করে গেছে।

টান টান উত্তেজনা ও সমালোচনার প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত ও বাংলাদেশ। হাজারো প্রাপ্তির টুর্নামেন্টে ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও ঠিক মত কাজে লাগাতে পারে নি বাংলাদেশ। ভারতের কাছে ব্যাপক ভাবে ধরাশায়ী হয়। নয় উইকেট এ ভারতের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। তবে এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল এর মিলেছে অসাধারণ কিছু প্রাপ্তি। তামিম ইকবালের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং, সাকিব – মাহমুদুল্লাহর বিশ্ব প্রশংসনীয় ইনিংস ও প্রথম বারের মত সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ এ সবই যেন বাংলাদেশের জন্য এই টুর্নামেন্টে সেরা প্রাপ্তি। অপরদিকে যে ইংল্যান্ড কিনা টুর্নামেন্ট সেরা সেই ইংল্যান্ডকেই নাটকীয় ভাবে হারিয়ে টুর্নামেন্টে ভারতের সাথে ফাইনালের যাত্রী হয় পাকিস্তান।

দুই চির প্রতিদন্ধী ভারত বনাম পাকিস্তানের ফাইনাল ম্যাচ। অন্যরকম আমেজ তো থাকবেই। এমনিতেই চির প্রতিদন্ধী তার উপর তাদের ফাইনাল ম্যাচ। ফর্মে তুঙ্গে থাকা কোহলির দল ও সরফরাজের হারিয়ে ফিরে পাওয়া দল ( খেলোয়াড়দের ফর্ম কে বোঝানো হয়েছে )। তাই বলে কি ভারত – পাকিস্তানের খেলায় ক্রিকেট যুদ্ধ হবে না তা কিভাবে হয়। টসে জিতে ব্যাটিং এ পাঠায় পাকিস্তানকে ভারতের অধিনায়ক কোহলি। এই সিদ্ধান্তই যেন সেদিনের সবথেকে ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। পাকিস্তানের তরুণ খেলোয়াড় ফখর জামানের ঝড়ো ব্যাটিং এ লন্ড ভন্ড হয় ভারতের সেরা বোলিং। ফখর জামানের সেঞ্চুরির উপর ভর করে পাকিস্তান সংগ্রহ করে ৩৩৮ রান। ৩৩৯ রানের পাহাড় তুল্য টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ভারত। আমিরের বোলিং তোপে উইকেটে টিকতে পারেনি ভারতের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। রোহিত, কোহলি ও ধাওয়ান ৩৩ রানে মাঠ ছাড়লে পরাজয়ের ঘন্টা বাজতে শুরু করে। ধোনি, যুবরাজের মত অভিজ্ঞ সিনিয়র রাও যখন ব্যর্থ তখন পান্ডিয়া হাল ধরার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয় নি ভারতের। আমির, হাসান আলি, শাদাব খানের বোলিং ঝড়ে উড়ে যায় ভারতে ব্যাটিং দূর্গ। যে ভারতে ব্যাটিং কে কিনা বিশ্বের এক নাম্বার ব্যাটিং লাইন আপ বলা হয় সেই ব্যাটিং ৩৩৯ রান তাড়া করতে নেমে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৫৮ রানে। ৫০ ওভার তো দূরে থাক মাত্র ৩০ ওভার ৩ বলেই ইতি টানে ভারত।

প্রথম বারের মত আই সি সির চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। কোন রকম লড়াই ছাড়াই আত্মসমর্পন করে ভারত। ফখর জামানের অসাধারণ সেঞ্চুরির জন্য ম্যাচ সেরা ঘোষণা করা হয় ফখর জামানকে। অন্যদিকে চমৎকার বোলিং নৈপূণ্যে টুর্নামেন্ট সেরা হয় পাকিস্তানের আরেক তরুণ ক্রিকেটার হাসান আলি।

সেই সাথে আই সি সি প্রকাশ করেছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বিশ্ব সেরা একাদশ। যেখানে স্থান করে নেয় বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল। তবে তার অবস্থান তিনে। সেরা একাদশে আরো যারা রয়েছেনঃ শিখর ধাওয়ান (ভারত), ফখর জামান (পাকিস্তান), তামিম ইকবাল (বাংলাদেশ), বিরাট কোহলি (ভারত), জো রুট (ইংল্যান্ড), বেন স্টোকস (ইংল্যান্ড), সরফরাজ আহমেদ (পাকিস্তান), আদিল রশিদ (ইংল্যান্ড), জুনায়েদ খান (পাকিস্তান), ভুবনেশ্বর কুমার (ভারত), হাসান আলি (পাকিস্তান), দ্বাদশ স্থানে কেন উইলিয়ামসন (নিউজিল্যান্ড)। ৪ ম্যাচে ২৯৩ রান করে দেশের একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে সেরা একাদশে জায়গা করে নেয় তামিম।

তবে স্টার স্পোর্টসের প্রকাশিত সেরা একাদশে স্থান পায় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বিডিক্রিক টাইমে প্রকাশিত নিউজে এমনটাই জানা যায়। কিন্তু আই সি সি প্রকাশিত সেরা একাদশ সত্যিই কি সেরা একাদশ হয়েছে? প্রশ্ন থাকল আপনাদের কাছে। আপনি আপনার নির্বাচিত সেরা একাদশ জানাতে ভুলবেন না।

 আমার তৈরি সেরা একাদশঃ শিখর ধাওয়ান, তামিম ইকবাল, জো রুট, কেন উইলিয়ামসন, বেন স্টোকস, সরফরাজ আহমেদ, আদিল রশিদ, ভুবনেশ্বর কুমার, হাসান আলি, জুনায়েদ খান, দ্বাদশ স্থানে ইয়ন মর্গান।

২০১৬ সালের ব্যবসা সফল সিনেমা . . .( পর্ব – ১ )

Now Reading
২০১৬ সালের ব্যবসা সফল সিনেমা . . .( পর্ব – ১ )

লাগ ভেল্কি লাগ ভেল্কি

আয়নাবাজির ভেল্কি লাগ।

সত্যিই যেন আয়নাবাজির ভেল্কির মত আমাদের দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন পুরোপুরি পাল্টে গিয়েছে। অল্প কয়েক দিনেই দেশের চলচ্চিত্র বিশ্ব দরবারে প্রশংসা কুড়ানো শুরু করেছে। কিন্তু এর পিছনে আসলে কি রয়েছে? কিভাবে ঘটল দেশের চলচ্চিত্রে এমন আমূল পরিবর্তন? কিছুদিন আগেও দেশের চলচ্চিত্র গুলো নিয়ে দেশের মানুষের নাক ছিটকানো অবস্থা ছিল। সিনেমা হল গুলোতে কেউ ছবি দেখতে তো যেতই না এমনকি দেশের মানুষই ছবি নিয়ে অনেক অনেক বাজে মন্তব্য করত।

বাংলাদেশের পুরোনো দিনের ছবিগুলো দেশের সম্পদ হয়ে ছিল এতদিন। রাজ্জাক, আলমগীর, শাবানা, মৌসুমি তারা আমাদের যে সব ঐতিহ্যপূর্ণ চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে গিয়েছিল সেই ঐতিহ্য আমরা অনেক আগেই হারিয়েছি। দেশের চলচ্চিত্রে স্থান নিয়েছিল নোংরামি, অসভ্যতা, অপসংস্কৃতি। তেমনি ছবিগুলো ছিল খুবই বাজে কোয়ালিটির। আমি বাজে কোয়ালিটি বলতে ছবিতে ব্যবহৃত ক্যামেরা, সাউন্ড সিস্টেম ইত্যাদি আনুষঙ্গিক বিভিন্ন বিষয় গুলোকে বুঝাচ্ছি। তবে চলচ্চিত্র জগতে অসাধারণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় ২০১৬ সালের কিছু ব্যবসা সফল ছিনেমা গুলোতে। যেগুলো বিভিন্ন পুরস্কার পাওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অসাধারণ গল্প নিয়ে তৈরি ছবি গুলো সব ধরণের গুণাবলির দিক দিয়ে ছিল সয়ংসম্পূর্ণ। স্টোরি টেলিং, ক্যামেরা, সাউন্ড, অভিনয় থেকে শুরু করে গ্রাফিক্স সবই ছিল যেন অসাধারণ। প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে দেশের চলচ্চিত্র জগত। ‘আয়নাবাজি’ দেখে কারোর মন ভরে নি, ‘মুসাফির’ দেখে কেউ উপভোগ করে নি, ‘আইসক্রিম’ দেখে কেউ রোমাঞ্চ পায় নি, ‘শিকারি’ দেখে কেউ বলে নি অভিনয় ভালো হয় নি, ‘অজ্ঞাতনামা’ দেখে কারোর মন কাঁদে নি এমন হয়ত কোথাও শোনা যায় নি। ২০১৬ সালকে দেশের চলচ্চিত্র জগতের উন্নতির স্বর্ণযুগ বলা যেতেই পারে। আর কেউ বলুক বা নাই বলুক আমার মতে ২০১৬ সাল দেশের চলচ্চিত্রের মোড় পাল্টে দিয়েছে। সেই সাথে দেশের সিনেমা হল গুলোর ও কদর বেড়েছে। এখন মানুষ সিনেমা হলে স্ব-পরিবারে গিয়ে সিনেমা দেখে আসছে। যা কিছুদিন আগেও আমাদের দেশে দুঃস্বপ্ন ছিল। ঠিক এমন করেই যখন পাল্টে গিয়েছে দেশের চলচ্চিত্র তখন সেই সব চলচ্চিত্র নিয়ে কথা না বললেই নয়। কথা বলব সেই সব ব্যবসা সফল ও অসাধারণ গল্প নিয়ে গড়া চলচ্চিত্র নিয়ে।

আয়নাবাজিঃ

গল্প ও অভিনয়ের দিক থেকে আমি আয়নাবাজি ছবি টিকে রেখেছি এক নাম্বারে। তবে ছবিটি অনেক প্রশংসা, পুরস্কার কুড়ানোর সাথে সাথে হয়েছে ব্যবসা সফল। অমিতাভ রেজা চৌধুরীর প্রথম ছবি হিসেবে ছবিটি এতটা জনপ্রিয় ও ব্যবসা সফল হবে তা আশাতীত ছিল। ২০১৬-র ৩০ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার তিন সপ্তাহের মাথায় ছবিটি আয় করে ২১.৩ মিলিয়ন বাংলাদেশী টাকা। যা পূর্ববর্তী প্রায় সব রেকর্ড ভেঙ্গে দেয়। ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে চঞ্চল চৌধুরী, মাসুমা নাবিলা, পার্থ বড়ুয়া। IDMb তে ৯.৬ রেটিং পেয়ে শিকারির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়ের সিনেমা আয়নাবাজি। প্রথম চলচ্চিত্র হিসেবে অমিতাভ রেজার এই ছবিতে মোট আয় ১৪০ মিলিয়ন টাকা।

ছবির মূল কাহিনী আয়না নামের একজন মানুষকে নিয়ে। যে কিনা অভিনয় নিয়ে জীবনে অনেক সংগ্রাম করে। কিন্তু অভিনয়ের মাধ্যমে কর্মজীবনে সফল হতে পারে নি। আয়নার মায়ের মৃত্যু, অভিনয়ের অসাধারণ মেধার স্বীকৃতি না পেয়ে পরবর্তীতে সে বাস্তব জীবনে অভিনয়কে প্রয়োগ করতে শুরু করে। আয়না চরিত্রে অভিনয় করেন চঞ্চল চৌধুরী। অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে যে কোন মানুষের রূপ দিতে পারে আয়না। এভাবেই সে সমাজের নানা ধরণের অসংগতিকে আইনের বেড়া জালের বাইরে রাখে। এছাড়াও ছবিটির মূলে ছিল ঢাকা শহরের কিছু রাজনৈতিক অন্ধকার চিত্র। যা অমিতাভ রেজা অসাধারণ ভাবে ছবিটিতে তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ক্ষমতাবান মানুষ তাদের টাকার ক্ষমতায় কিভাবে আইনকে কিনে নেয় এবং আইনের চোখে ধুলা দেয় সেটাই এই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে।

অজ্ঞাত নামাঃ

ইমপ্রেস টেলিফিল্ম পরিবেশিত চলচ্চিত্রটির পরিচালক তৌকির আহমেদ। ছবিটি ব্যবসা সফল না হলেও হয়েছে অ্যাওয়ার্ড সফল। ছবিটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে মোশারফ করিম, নিপুণ আক্তার, ফজলুর রহমান বাবু, শহীদুজ্জামান সেলিম, শতাব্দী ওয়াদুদ। ছবিটি সারা বাংলাদেশে মুক্তি পায় ২০১৬ সালের ১৯ আগস্ট। ট্রাজিক ধর্মী ছবিটির মূল গল্প বেনামী প্রবাসীর কফিন-বন্দি লাশ নিয়ে। একটি গ্রাম্য পরিবারের কফিনটি আবেগের গল্প এ ছবিটিতে রূপ দেয়া হয়। সাথে রয়েছে ছেলে হারানো বাবার আর্তনাদ। ছবিটি শুরুর প্রথম দিকে অনেকটা কমেডি থাকলেও, ধীরে ধীরে মূল কাহিনী দৃষ্টি গোচর হয়। অসাধারণ গল্প শৈলী নিয়ে তৈকির আহমেদ ছবিটি তৈরির মাধ্যমে ২০১৬ সালে আবারো চলচ্চিত্র জগতে আলোচিত হন। ছবিটির কাহিনী ধারা ও অভিনয় ছিল সত্যি প্রশংসা পাওয়ার মত। ইতালীর কান চলচ্চিত্র উৎসবে মনোনয়ন পাওয়া সহ মোট ১৫ টি চলচ্চিত্র পুরস্কার পায় এই চলচ্চিত্রটি।

আইসক্রিমঃ

ত্রিকোণ প্রেমের অসাধারণ গল্পের চলচ্চিত্র এটি। ছবিটির পরিচালক দেশের অন্যতম সফল ও নামকরা পরিচালক রেদোয়ান রনি। তরুণ ও নতুন অভিনয় শিল্পীদের নিয়ে রেদোয়ান রনির ছবিটি ব্যবসা সফল হয়। ছবিটি মূলত তরুণদেরকে আকর্ষণ করে। ফলে সিনেমা হল গুলোর পাশাপাশি রেদোয়ান রনির পুরো টাকা সুদে আসলে উসুল হয়। পুরোপুরি নতুনদের নিয়ে ছবি করে ব্যবসা সফল হওয়া সত্যি অবাক করার মত। ছবিটি গোটা বাংলাদেশে মুক্তি পায় গত বছর ২৯শে এপ্রিল। তরুণ অভিনয় শিল্পী উদয়, রাজ, তুষীর পাশাপাশি ছিল ওমর সানী, দিতি ও এটিএম শামসুজ্জামান।

চলবে . . .

 

বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণ !!!

Now Reading
বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণ !!!

স্বপ্নের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমি ফাইনাল নিশ্চিত হল বাংলাদেশের। গতকালের ঐতিহাসিক জয়ের পর আজ ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয়ে সেফি ফাইনাল নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।

গতকাল কার্ডিফে ঐতিহাসিক ম্যাচটিতে জয় পায় বাংলাদেশ। সেই সাথে বাংলাদেশের টিম ওয়ার্ক ছিল দুর্দান্ত। বোলিং এ নিউজিল্যান্ডকে ২৬৫ রানে আটকানো ও সাকিব-মাহমুদুল্লাহর জোড়া সেঞ্চুরি বাংলাদেশকে গতকাল কার্ডিফের মাঠে ঐতিহাসিক জয় এনে দেয়। তারপর আজকের ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের দিকে চোখ ছিল বাংলাদেশ দল সহ ১৬ কোটি ক্রিকেট প্রেমীর।

ইংল্যান্ডের সাথে শুরুটা বেশ ভালোভাবেই করেছিল অজি খেলোয়াড়রা। কিন্তু শেষটা ভাল হয় নি তাদের। ইংল্যান্ড বোলারদের বোলিং তোপে অজি খেলোয়াড়রা খুব বেশি সুবিধা করে উঠতে পারে নি। মার্ক উড ও আদিল রশিদ এর দুর্দান্ত বোলিং অজিদের ২৭৭ রানেই থামিয়ে দেয়। জবাবে ব্যাটিং করতে নেমে হোঁচট খায় ইংল্যান্ড দল। ৩৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে প্রায় দিশেহারা অবস্থা তৈরি হয় ইংল্যান্ড এর। কিন্তু মাহমুদুল্লাহ- সাকিব এর মত ইংল্যান্ড দলপতি ইয়ন মর্গান ও স্টোকস যে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে তা সত্যি অসাধারণ। মর্গান সেঞ্চুরির দ্বারে গিয়ে ব্যার্থ হয়ে সাজ ঘরে ফিরলেও ব্যার্থ হয়নি স্টোকস। স্টোকস এর অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস ইংল্যান্ড কে সহজ জয় এনে দেয়। কিন্তু ম্যাচে বাধা হয় বৃষ্টি। ইংল্যান্ড ব্যাটিং এ আসলে দুই দুই বার বৃষ্টির কবলে পড়ে তারা। প্রথম বার বৃষ্টি থামার পর আবার খেলার সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। কিন্তু ৪০ ওভারের মাথায় পুনরায় বৃষ্টি শুরু হলে ম্যাচ রেফারি বৃষ্টি আইনে ইংল্যান্ডকে জয়ী ঘোষণা করে। ম্যাচ জয়ের নায়ক হয় বেন স্টোকস।

এর আগে টসে জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় মর্গান। জবাবে শুরুটা ভালোই করে অস্ট্রেলিয়া। মার্ক উড অজি খেলোয়াড়দের শিবিরে প্রথম আঘাত হানে। ওয়ার্নারকে সাজ ঘরে ফেরায় মার্ক উড।  এরপর ফিঞ্চ ও ক্যাপ্টেন স্মিথ মিলে রানের খাতা সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যায়। এক পর্যায়ে অর্ধ শতক তুলে নেয় ফিঞ্চ। কিন্তু তার অর্ধ শতক বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় নি। দলীয় ১৩৬ রানের সময় ফিঞ্চকে ৬৮ রানে আউট করে স্টোকস। মাঠ ছাড়ার আগে ৮টি চার মারে ফিঞ্চ। এরপর আসা যাওয়ার মিছিলে ছিল অজি খেলোয়াড়গণ। হেডের অপরাজিত  ৭১ রানের ইনিংস অজিদের ২৭৭ রানের সংগ্রহ এনে দেয়। মার্ক উড ও আদিল রশিদ দু’জনেই অনেক ভালো বোলিং করে। তাদের সাশ্রয়ী বোলিং ও দুর্দান্ত বোলিং তোপে বড় রানের সংগ্রহ আনতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ২৭৭ রানেই গুটিয়ে যায় অজি খেলোয়াড়দের ইনিংস।

জবাবে ইংল্যান্ড ব্যাটিং এ নামলে অজিরা ইংলিশ শিবিরে আঘাত হানে বেশ তুখোড় ভাবে। ৩৫ রানেই সাজ ঘরে ফেরে রয়, হেলস ও রুট। এমতাবস্থায় ইংলিশ শিবিরে হাল ধরেন ক্যাপ্টেন মর্গান ও বেন স্টোকস। তাদের ১৫৯ রানের পার্টনারশিপ ইংল্যান্ডকে জয়ের প্রান্তে পৌঁছে দেয়। কিন্তু ইংল্যান্ড ৫ ওভারে  তিন উইকেট হারালে ম্যাচ বৃষ্টির কবলে পড়ে। যদিও আবহাওয়া বার্তা থেকে আগেই অনেকটা সন্দেহ করা হচ্ছিল যে আজকের ম্যাচে বৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু বৃষ্টি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় নি। ইংল্যান্ড আবার মাঠে নামে। এ সময় যেন অন্য রূপে মাঠে আসে তারা। রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে মর্গান ও স্টোকস অসাধারণ ইনিংস খেলতে থাকে। তারা দুজনেই নিজেদের রানের খাতায় অর্ধশতক তুলে নেয়। অস্ট্রেলিয়ার ক্যাপ্টেন স্মিথ কে মাঝে মাঝে ক্যাপ খুলে মাথায় হাত দিতে দেখা যায়। বেচারার ভাগ্য যেন এই টুর্নামেন্টে সহায় হল না।  পরপর দুই ম্যাচ বৃষ্টিতে পন্ড হওয়ার পর আজকের ম্যাচে হার। এ যেন সত্যিই ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। মর্গান শতক পূরণের দ্বার গোড়ায় পৌছালেও তাকে সফল হতে দেয় নি জাম্পা। ৮৭ রানে রান আউট হয়ে মাঠ ছাড়ে মর্গান। সাজ ঘরে যাওয়ার আগে ৮ চার ও ৫ ছয়ে অসাধারণ ইনিংস উপহার দেয় মরগান। সাথে ইংল্যান্ডকে জয়ে প্রান্তে পৌঁছে দেয়।

মর্গান ব্যর্থ হলেও ব্যর্থ হয় নি বেন স্টোকস। এক প্রান্ত আগলে রেখে চমৎকার শতক তুলে নেয় স্টোকস। তার সাথে খুব ভালো সঙ্গ দেয় উইকেট  রক্ষক জর্জ বাটলার। কিন্তু আবারও বাধা হয়ে আসে বৃষ্টি। ৪০ ওভার ২ বল খেলা শেষ হলে বৃষ্টি আবার খেলায় বিগ্ন ঘটায়। কিন্তু এর আগে স্টোকস ১৩ চার ও ২ ছয়ে ইংল্যান্ড এর জয় রচনা করে ফেলে।

ম্যাচ রেফারি ডি এল মেথডে ইংল্যান্ডকে ৪০ রানে বিজয়ী ঘোষণা করে। ইংল্যান্ড এর সেমি ফাইনাল আরো আগেই নিশ্চিত হয়েছিল। আর আজকের ম্যাচের পর ইংল্যান্ডের সাথে সেমি ফাইনালের যাত্রী হল বাংলাদেশ।

‘ বি ‘ গ্রুপে এখনো নির্ধারিত হয় নি দুই সেমিফাইনালিস্ট। পাকিস্তান ও শ্রীলংকা তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে যে ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাতে এখনো সেমি ফাইনালের টিকেট পায় নি কোন দল। ‘বি’ গ্রুপের গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের সাথে সেমি ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ। তাই কোন দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে তা দেখার জন্য আগামীকাল ভারত বনাম দক্ষিণ  আফ্রিকার ম্যাচ ও পরের দিন পাকিস্তান বনাম শ্রীলংকার ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকবে সবাই।

এদিকে সেমি ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় আনন্দের জোয়ার বইছে বাংলাদেশ শিবিরে ও দেশের ১৬ কোটি মানুষের মনে। বাংলাদেশের টাইগাররা সেমি ফাইনালে আমাদেরকে অসাধারণ একটি ম্যাচ উপহার দিবে সেই প্রত্যাশাতেই শেষ করছি। টাইগারদের প্রতি রইল অনেক অনেক শুভ কামনা।

ARBOVIRUS – ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে যে ব্যান্ড

Now Reading
ARBOVIRUS – ভালোবাসা ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে যে ব্যান্ড

অনেকটা পথ হেটেছি একসাথে

কতগুলো ভোর দেখেছি পাশাপাশি

তারপর সবকিছু ফেলে দূরে সরে গিয়েছি

একটু একটু করে।

হারিয়ে যাও তুমি দূরে আরো দূরে।

গানটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্বোভাইরাসের। দেশের ব্যান্ড সংগীত জগত বর্তমানে খুবই প্রশংসা কুড়াচ্ছে সংগীত প্রাঙ্গণে। জনপ্রিয়তা পেয়েছে বেশ কয়েকটি নামকরা ব্যান্ডগুলো। তবে জনপ্রিয়তার মূলে রয়েছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। দেশের তরুণ প্রজন্মের সাপোর্টের জন্য ব্যান্ডগুলো এখনো দেশের মাটিতে টিকে রয়েছে। আর্বোভাইরাসের নাম হয়ত সবাই শুনে থাকবে। কারণ সম্প্রতি সময়ে ব্যান্ড সংগীত প্রাঙ্গণে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে আর্বোভাইরাস ব্যান্ডটি।

আর্বোভাইরাস ব্যান্ডটি মূলত ঢাকায় বেড়ে উঠে। ব্যান্ডটি গঠনের পেছনে যে মানুষ দুটির হাত ছিল তারা সম্পর্কে ছিলেন কলেজের বন্ধু। ঢাকার সেরা কলেজগুলোর একটা নটর ডেম কলেজ এর দুই বন্ধু সোহার্ত ও রঞ্জন মিলে ২০০২ সালে আর্বোভাইরাস নামের ব্যান্ডটির যাত্রা শুরু হয়। বন্ধুত্বের বন্ধন ও গানের প্রতি ভালোবাসা তাদের হয়ত আজ এতটা জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে। ব্যান্ডটির নামেও এক অসাধারণ নতুনত্য রয়েছে। তবে এর পিছনে মূল কাহিনী হল নামটি নেয়া হয়েছিল একটি কমিক বই থেকে যে বইয়ের নাম Blade II. বইটিতে arbovirus নিয়ে কিছু কথা লিখাছিল। তারা সেই লেখাগুলোর মূল হিসেবে ব্যান্ড এর নাম করে আর্বোভাইরাস। Blade II কমিক বইটিতে যে কথাগুলো ছিল- Vampirism is an arbovirus, one that’s spread through the saliva of parasitic organism. In this case, vampires are the vector. The virus replicates within the human bloodstream, evolving its host into an entirely new life-form.

তাদের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হচ্ছে তাদের ইন্সট্রুমেন্ট বাজানোর ধরণ যা সত্যি চমৎকার এবং অসাধারণ। রক ব্যান্ড হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়া ব্যান্ডটি সবধরণের Genres এ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। নিজেদের স্টুডিওতে সমকালীন বিভিন্ন গান ছাড়াও heavy metal, punk rock, nu metal এ তারা গান করে থাকে। এছাড়াও তাদের জনপ্রিয়তার আরো একটি কারণ হচ্ছে প্রাণবন্ত লাইভ কনসার্ট। যা সত্যি অনেক মুগ্ধ করে। তাদের লাইভ কনসার্টগুলোর কারণে তারা আজ তরুণদের মনে দারুণভাবে জায়গা করে নিয়েছে। তবে Rocknation সিরিজ এর বিভিন্ন কাজ যা Livesquare ইভেন্ট এর সম্পাদনে অনুষ্ঠিত হয় খুবই চিত্তাকর্ষক। এছাড়াও লাইভ কনসার্টে স্পেশাল ড্রামস ও আসিফ রঞ্জনের গিটার ভাঙ্গা দর্শকের মনে অনেক বেশি কড়া নাড়িয়ে দেয়। যার ফলে তাদের সরাসরি সম্প্রচারিত বিভিন্ন কনসার্টের জন্য তারা এতটা জনপ্রিয়তার আসন পেয়েছে।

তবে ব্যান্ড এর শুরুর দিকে অনেক চিরায় উতরায় পার হয়ে আসতে হয়। অনেক পরিশ্রমের মাধ্যমে আজকের এই অবস্থানে তারা আসতে পেরেছে। ২০০২ সালে দুই বন্ধু মিলে যে ব্যান্ডটি শুরু করেছিল পরবর্তীতে সোহার্ত ও রঞ্জনকে তাদের সেরা লাইন আপ তৈরির জন্য খুব বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। ২০০৬ সালে তারা তাদের প্রথম এলবাম বের করে জি-সিরিজ এর ব্যানারে। এলবামের নাম 64m 53s. এলবামে মোট ১২টি গান ছিল। এর পরবর্তী সময়ে তাদের দুই বন্ধুকে লাইন আপ নিয়ে সময়ের সেরা স্ট্রাগল করতে হয়। সোহার্ত নিজে ছিলেন গিটারিস্ট হিসেবে আর রঞ্জন ছিলেন গিটারিস্টের সাথে অসাধারণ লিরিক্স লেখক। বিভিন্ন ছন্দছাড়া কনসার্টে অন্যান্য ব্যান্ডদের সাথে তারা তাদের কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। এরপর সুফি, এল্ডনেন ও নাফিজ কে সাথে নিয়ে তারা তাদের লাইন আপ বেশ পোক্ত করে ও পরবর্তী এলবামগুলো প্রকাশ করে। ২০১২-১৩ সালে তাদের দ্বিতীয় এলবাম ‘মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন’ প্রকাশিত হয়। এর মাঝামাঝি সময়ে তারা বিভিন্ন মিশ্র এলবামে একক গান প্রকাশ করে। এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে ‘বিশেষ দ্রষ্টব্য’ অনেক সারা ফেলে। ১৫ বছরের সূচনায় তাদের প্রথম একক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয় চলতি বছরের জানুয়ারিতে।

আর্বোভাইরাসের ব্যবহৃত ধরণ ও স্টাইল হরেক রকমের হওয়ার এটা সত্যিই বলা কঠিন কোনটা তাদের নিজস্ব ধরণ। তবে মূলত তারা রক ব্যান্ড হিসেবেই নিজেদের আত্মপ্রকাশ করেছে। আর্বোভাইরাসের গানের ভাষা ঠিক যেন অন্য লেভেলের ইঙ্গিত বহন করে। মূলত সব গান তারা বাংলাতেই গেয়ে থাকে এবং তাদের প্রায় সব গানের লেখক ছিলেন রঞ্জন। রঞ্জন ছাড়াও সুফি, সোভন, রুম্মান আলম বেশ কয়েকটি গান লিখেছিলেন। সুফি মাভেরিক ২০০২ সাল থেকেই আর্বোভাইরাসের মূল গায়ক বা ভোকাল হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাই সেরা লাইন আপের সংগ্রামে তিনিও বেশ ভালো সাক্ষী হয়ে আছেন। তারা তাদের  গানের কথায় বাংলাদেশের সবধরণের ইস্যু তুলে ধরার চেষ্টা করতেন এবং করছেন। যা তাদের জনপ্রিয়তায় অন্য এক মাত্রা যুক্ত করে।

তাদের সর্বকালের সেরা তিনটি এলবাম হচ্ছে

  • 64m 53s
  • মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন
  • বিশেষ দ্রষ্টব্য

যা আমি আগেই লিখেছি। এছাড়াও বিভিন্ন মিশ্র এলবামে তাদের একক গান প্রকাশিত হয়। সেগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় গান হচ্ছে ‘শহর’ বোকা মানুষ এলবামের, ‘আর্তনাদ’ আগন্তুক ২ এলবামের, ‘কেউ কারো নয়’, ‘প্রার্থনা’ অনেক জনপ্রিয়তা পাওয়া কিছু গান। আর্বোভাইরাসের ‘ হারিয়ে যাও তুমি’ গানটি ইউটিউবে ব্যান্ড মিউজিকের সেরা রেকর্ড জড়ে। গানটি ইউটিউবে ২.২ মিলিয়ন ভিউ হয়।

আর্বোভাইরাসের বর্তমান সদস্যদের নাম গুলো না জানলেই নয়। যেন এত কিছুর মাঝে কমতি রয়ে যাবে একটা কিছুর। ব্যান্ড এর শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দুজন মানুষতো প্রথম থেকেই ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন সোহার্ত শরিফ (গিটার), অন্যজন হলেন আসিফ আসগর রঞ্জন (গিটার ও লিরিক্স)। জীবনের টানা পোড়ায় ও ক্যারিয়ারের টানে অনেককেই ব্যান্ড ছেড়ে চলে যেতে হয়। এরপর তাদের সেরা লাইন আপ যাদেরকে নিয়ে গঠিত হয় তাদেরকে সত্যি ভালোবাসার  স্থানে রাখতে হয়। মূল ভোকাল বা গায়ক হিসেবে আছেন সুফি মাভেরিক, নাফীজ আল আমিন (ড্রামস) এবং এল্ডনেন আলম (বেস)।

হয়ত তারা সময়ের সাথে পাড়ি দিবে আরো অনেক খানি পথ, সেটাই আশা করি আর্বোভাইরাসের একজন ছোট ফ্যান হিসেবে।

Information Source – wikipedia

Image – google

টিকে থাকার লড়াই ( শেষ পর্ব )

Now Reading
টিকে থাকার লড়াই ( শেষ পর্ব )

প্রথম পর্বের পর   . . .

http://footprint.press/%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B2%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%87-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%AE-%E0%A6%AA%E0%A6%B0/

অন্যদিকে জেমস থাকার জন্য আস্তানা তৈরি করছিল। আস্তানা তৈরি শেষ হতেই অন্ধকার নেমে আসল। আর তাই জেমস প্রথমেই চকমকি দিয়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করছিল। চারিদিকে এতটাই ভেজা যে কোনমতেই আগুন জ্বালানো সম্ভব হচ্ছিল না। অবশেষে অনেক্ষণ চেষ্টা করার পর আগুন জ্বালাতে পেরে খুব স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করছিল তারা। কারণ একটা নির্জন জঙ্গলে আগুন মনের জোর অনেকটা বাড়িয়ে দেয়।
যেহেতু তারা কোন খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে নি তাই তাদেরকে আজ রাত না খেয়েই কাটাতে হবে। টিম এদিকে আগুনের প্লাটফর্ম বানানোর সময় পুরোনো একটা কৌটা পেয়েছিল। তাই সে ভাবলো তাতে করে পানি ফুটিয়ে সেই পানি পান করা যেতে পারে। কারণ পরের দিন তাদেরকে আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আর তার জন্য তাদের শক্তির প্রয়োজন। রেইন ফরেস্ট এর সেই কাদামাখা পানি তারা ফুটিয়ে অনেক কষ্টে পান করল।
পরের দিন খুব ভোরে তারা আবার রওনা দিল। তারা আবার সেই সবুজ আস্তরণের পানিতে হাটতে লাগল। যতই তারা হেটে সামনের দিকে এগোচ্ছে ততই দিন যাচ্ছে সময় যাচ্ছে সাথে দিনের তাপমাত্রাও বাড়ছে। হাটতে হাটতে হঠাৎ ই তাদের চোখে কিছু একটা ধরা পড়ল। অনেক দিনের পুরোনো একটা নৌকা। তারা সেটি দেখে ওটার কাছে গেল। কাছে গিয়ে যা দেখল তা তারা সত্যি বিশ্বাস করতে পারছিল না। নৌকাটি প্রায় ৪০ বছরে পুরোনো। নৌকার তলায় পুরোটা ভাঙ্গা। তাই তারা নৌকাটি ব্যবহার করতে পারছে না। কিন্তু নৌকার পাশেই তারা আরেকটি জিনিস লক্ষ্য করল। পুরোনো কাঠের মাস্তুল দড়ি দিয়ে বাধা।
মাস্তুলটি দেখে তারা কিছুক্ষণ চিন্তা করল। তারা দুজনে মিলে যদি মাস্তুলটিকে ভালোভাবে মেরামত করে তবে তারা মাস্তুলটি ব্যবহার করে এই নির্জন বন থেকে বের হতে পারবে। যেই ভাবনা সেই কাজ। তারা দুজনে মিলে কাঠের মাস্তুলটি ঠিক করতে লাগল। পুরোনো পচা কাঠের বিভিন্ন অংশ তারা কেটে বাদ দিল এবং গাছের ডালপালা দিয়ে অসাধারণ একটা মাস্তুল তৈরি করল। কিন্তু তারা আজ মাস্তুলে করে যাত্রা শুরু করল না। কারণ মাস্তুলটি অনেক বছরের পুরোনো। পথের মধ্যে যদি তা ভেঙ্গে যায় তবে তারা অনেক বিপদের সম্মুখীন হবে। আর বেলা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। দিনের আলো আর বেশিক্ষণ থাকবে না। রাতের অন্ধকারে তারা পানিতে বিপদে পড়তে চায় না। অন্যদিকে আকাশে মেঘের গর্জন শোনা যাচ্ছে। মাস্তুল বাইতেও অনেক শক্তির প্রয়োজন। কিন্তু এত শক্তি তাদের এই মুহূর্তে নেই। তাই সবদিক বিবেচনা করে তারা সেদিন ওখানেই রাতটি কাটাবে বলে সিদ্ধান্ত নিল।
টিম আজ আগুনের প্লাটফর্মটি খুব দ্রুতই বানিয়ে ফেলল। কারণ আজ তাদেরকে কিছু খাবার খেতে হবে। নাহলে পরেরদিন মাস্তুল বাইতে যে শক্তির প্রয়োজন হবে তা শরীরে থাকবে না। তাই টিম মাছ ধরার পরিকল্পনা করছিল। তার কাছে কিছু শক্ত রশি ছিল। তা দিয়ে সে বড়শি বানাবে ঠিক করল। পুরোনো মাস্তুল থেকে একটি তারকাটা নিল এবং সেটা দিয়ে বড়শি বানাল। টোপ হিসেবে সে একটি জীবিত ঘাসফড়িং ব্যবহার করল। যাতে করে মাছ দ্রুত আকর্ষিত হয়। এরপর সে জেমস কে সাহায্য করতে গেল। জেমস থাকার জন্য আস্তানা তৈরি করছিল গাছের ডালপালা দিয়ে। আস্তানা বানানো শেষ হলে তারা আস্তানার উপর একটি ছাউনি দিল যা তারা ঐ পুরোনো নৌকাটিতে পেয়েছিল। ছাউনিটি এমন ভাবে তারা দিল যাতে বৃষ্টি হলে তাতে পানি জমা হয়। এতে করে তাদেরকে ঐসব পচা পানি পান করতে হবে না। বৃষ্টির বিশুদ্ধ পানি তারা পান করতে পারবে।
ছাউনি বানানো শেষ হলে টিমের বড়শিতে কি যেন একটা আটকালো। বেশ বড় ধরনের কিছু। অনেক্ষণ চেষ্টার পর তারা সেটা ধরতে পারল। সেটা আসলে একটা বড় ক্যাটফিস ছিল। কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি শুরু হল। টিম আর জেমস এর মুখে আনন্দের হাসি। তারা বৃষ্টিতে গোসল করে নিল। বৃষ্টির পানিও তারা খাওয়ার জন্য সংগ্রহ করল। সেদিন রাতে তাদের ডিনার বেশ ভালোভাবেই হল। ক্যাটফিসটি খুব সুস্বাদু ছিল। তাদের কাছে খাওয়ার জন্য বিশুদ্ধ পানি ছিল। আহ! আর কি লাগে ভালো থাকার জন্য।
রাতে তাদের বেশভালো ঘুমও হল। এবার হয়ত জঙ্গল থেকে বের হওয়ার পালা। সকাল হলে তারা আর দেরি না করে মাস্তুলটিকে পানিতে ভাসানোর চেষ্টা করল। অবশেষ এ মাস্তুলটি পানিতে ভাসল। পাশেই তারা একটি খাল দেখেছিল। খালটি ধরেই এগোতে থাকলে তারা বড় ও খোলা কোন পানির উৎস পাবে। আর সেই আশায় তারা খালটি ধরেই সামনের দিকে এগোতে থাকে। কিন্তু পথে বিপদ আসন্ন যা তারা ভালোভাবেই বুঝতে পারছিল। পুরোনো এই পচা কাঠের মাস্তুলের উপর এতটা ভরসা করা উচিত হয় নি তাদের। কারণ যাত্রাপথে মাস্তুলটির অংশ ভেঙ্গে যাচ্ছিল। পানির কোন বড় উৎসে পৌঁছানোর আগেই যদি পুরো মাস্তুল পানিতে নিমজ্জিত হয় তাহলে তাদের কুমিরের পেটে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। এদিকে হঠাৎ করেই তারা পাড়ের দিকে কয়েকটি এলিগেটর দেখতে পেল। ভয়ে তাদের বুকের পানি শুকিয়ে এল। তারা অনেক সাবধানতার সাথে আস্তে আস্তে বাইতে বাইতে পাড়ি দিতে থাকল। এরপর অল্পকিছুক্ষণের মধ্যেই তারা একটি নদী দেখতে পেল। পাশে তারা কিছু ঘরবাড়ি ও মানুষও দেখতে পেল। অবশেষে তারা মানব সভ্যতায় ফিরে এল।
তাই যেকোন পরিস্থিতিতে মনের জোর ও ইচ্ছাশক্তি হারানো উচিত নয়। মনে ইচ্ছাশক্তি রেখে বুদ্ধি দিয়ে কাজ করলে যে কোন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা যায়।

ছিলেন বস্তির ছেলে, হয়েছেন জীবন্ত কিংবদন্তী !!!

Now Reading
ছিলেন বস্তির ছেলে, হয়েছেন জীবন্ত কিংবদন্তী !!!

“ Some people want it to happen, some wish it would happen, others make it happen.

I can accept failure, everyone fails at something. But I can’t accept not trying.

You have to expect things of yourself before you can do them. ”

উক্তিগুলো বিশ্বের প্রথম বিলিয়নিয়ার খেলোয়াড়, বাস্কেটবলের জীবন্ত কিংবদন্তী মাইকেল জর্ডান এর। Michael Jefffrey Jordan ( M J ) ১৯৬৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক এ জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি আমেরিকার অবসরপ্রাপ্ত বাস্কেটবল খেলোয়াড়, বিজনেসম্যান ও Charlotte Hornets এর মালিক। বাস্কেটবল ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়।

“ The game is my wife. It demands loyalty and responsibility and it gives me back fulfillment and peace.

I realize that I’m black, but I like to be viewed as a person and this is everybody’s wish.”

আমেরিকার বর্ণবৈষম্যকে পিছনে ফেলে তিনি হয়েছেন একজন কিংবদন্তী খেলোয়াড়। ১৯৭৪ সালের কিছু কথা বলি। যা তার জীবনকে বদলাতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল। তিনি তখন ১৩ বছরের কিশোর। আমেরিকায় বর্ণবৈষম্য তখনও পুরোপুরি গোচেনি। তাই সে সময় আমেরিকায় কালো বর্ণের মানুষদের জন্য চাকরি ছিল এক দুষ্কর বস্তু। সাথে তারা ছিল চার ভাইবোন। তাই তার বাবাকে ছয় জনের সংসার চালাতে রিতিমত হিমসিম খেতে হচ্ছিল।

প্রত্যেক কিংবদন্তী মানুষের জীবনে কিছু না কিছু অসাধারণ ঘটনা ঘটে যার জন্য তারা কিংবদন্তী হয়ে ওঠেন। ১৩ বছরের কিশোর মাইকেল এর জীবনেও এমনই  কিছু ঘটেছিল।

একদিন মাইকেল এর বাবা তাকে একটি পুরোনো টি-শার্ট হাতে দিয়ে বলে এটি কত দাম  হতে পারে? মাইকেল  বলেছিল এক ডলার। তার বাবা তাকে সেটি দুই ডলারে বিক্রি করার জন্য বলে। সে অনেক চিন্তা করতে ছিল। পুরোনো টি-শার্ট কিভাবে সে দুই ডলারে বিক্রি করবে। কিশোর মাইকেল পুরোনো ও ময়লা টি-শার্টটিকে ধুয়ে পরিষ্কার করল। এরপর রোদে শুকিয়ে পুরোনো কাপড়ের স্তুপের নিচে রেখে সমান করল টি-শার্টটি। তারপর দীর্ঘ ছয় ঘন্টা চেষ্টার পর সে পাতাল রেলের এক যাত্রীর কাছে টি-শার্টটি দুই ডলারে বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছিল। তার বাবা তার ছেলের কাজে খুশি হয়েছিল।

পরের দিন ঠিক একই রকম একটি ময়লা টি-শার্ট মাইকেলকে দিয়ে বলে তা ২০ ডলারে বিক্রি করতে। এই ২০ ডলার তার পরিবারের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। মাইকেল তার বাবার কথায় হেসেছিল। কারণ এত পুরোনো জামা ২০ ডলারে কোনভাবেই বিক্রি সম্ভব না। তবুও সে চেষ্টা করে দেখলো। প্রথমে তা সুন্দর করে ধুয়ে পরিষ্কার করল। সে আগের দিনের দুই ডলার দিয়ে কিছু রঙ ও তুলি কিনল। সে তার এক বন্ধুর কাছে গেল যে কিনা ভালো ছবি আঁকাতে পারতো। তার বন্ধু ঐ টি-শার্টটির উপর একটা মিকিমাউসের ছবি একে দিল। তারপর মাইকেল জামাটি বিক্রি করার জন্য অনেক জায়গায় গেল। প্রায় সারাদিন চেষ্টার পর শহরের ধনী শিশুদের কিন্ডারগার্ডেন এর এক শিশুর অনেক পছন্দ হয়ে গেল এবং সেটা কিনার জন্য বায়না ধরল। শিশুটির ভদ্রলোক বাবা জামাটি ২০ ডলারে শুধু কিনলেনই না তাকে আরো পাঁচ ডলার বখশিশও দিল। আর এই ২৫ ডলার ছিল তার পরিবারের সারা সপ্তাহের উপার্যন যা সে একদিনেই আয় করেছিল।

ছেলের উদ্দীপনা দেখে মাইকেলের বাবা অনেক আনন্দিত। পরেরদিন একই ভাবে আরেকটি পুরোনো জামা মাইকেলকে দিয়ে তা ২০০ ডলারে বিক্রি করার জন্য বলে। এবারে মাইকেল খুব চিন্তা করে আর ভাবতে থাকে কিভাবে সে এই কাজটি করতে পারে। সে সময় আমেরিকায় ‘ চার্লস এঞ্জেলস ’ চলচ্চিত্রটি ছিল জনপ্রিয়তার শীর্ষে। ছবিটির নায়িকা ফারাহ ফওলার নিউইয়র্কে আসেন চলচ্চিত্রটির প্রোমোশনের কাজে। প্রেস কনফারেন্স শেষে যখন তিনি গ্রীণরুমে যান তখন দেখেন এক ছোট কিশোর দাঁড়িয়ে আছে। সে তার টি-শার্টে অটোগ্রাফ চায়। এমন ফুটফুটে ছোট ছেলেটির আবদার তিনি ফেলতে পারেন নি। পরের দিন মাইকেল ব্রুকলিনের নিলাম ঘরে যান মিস ফারাহ ফাওলারের নিজের হাতে অটোগ্রাফ দেয়া জামাটি নিলামে বিক্রি করার জন্য। নিলামে টি-শার্টটি মাইকেল ১২৫০ ডলারে বিক্রি করতে সক্ষম হন।

মাইকেল যখন নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিল, পড়াশুনায় একদম ই ভালো লাগছিলনা তখন সে তার বস্তির পাশের টিলার উপরে প্রতিদিন বসে থাকত আর সূর্যাস্ত দেখত। ঠিক তেমন সময় মাইকেলের বাবা তাকে পাশে ডেকে নিয়ে বললেন,” মাইকেল তুমি টি-শার্ট বিক্রি থেকে কি শিক্ষা পেলে?” মাইকেল তখন অনেক চিন্তা ভাবনা করে গম্ভীর ভাবে উত্তর দিয়েছিল, “ Where there’s a will, there’s a way.”

মাইকেলের জীবনে  ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা পরবর্তীতে মাইকেলকে বড়  হতে প্রেরণা যোগায়। মাইকেল জর্ডান National Basketball Association ( NBA ) এর ১৫ টি সিজন খেলেন Chicago Bulls এবং Washington Wizards এর হয়ে। NBA এর ওয়েবসাইটে তার বায়োগ্রাফিতে বলা হয়েছে “ Michael Jordan is the greatest basketball player off all time.” তার বাৎসরিক আয় ৪০ মিলিয়নেরও বেশি। তিনি তার এক উক্তিতে বলেন,

“ There is no ‘i’ in team but there is in win.

If you accept the expectations of others, especially negative ones, then you never will change the outcome.

I never looked at consequences of missing a big shot… when you think about the consequences you always think of a negative result.”

মাইকেলের বাবা তাকে বলেছিলেন, তারা বস্তিতে অভাবের সংসারে জন্ম নিয়েছেন মানে এই না যে সারা জীবন সেখানেই থাকবেন। নিজের চেষ্টায় ও পরিশ্রমে তারাও সফল হতে পারেন। জীবনে হতাশ না হয়ে জীবনকে অন্যভাবে দেখতে শিখতে হয়। পরবর্তীতে মাইকেলকে আর কখনও পিছনে তাকাতে হয় নি।

তথ্য – wikipedia

ছবি – গুগল

অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ ও বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ . . .

Now Reading
অস্ট্রেলিয়ার হারের কারণ ও বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ . . .

গতকাল মাঠে গড়ায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ। বৃষ্টির কারণে ম্যাচটির ফলাফল হয় পরিত্যক্ত। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয় দুই দল। এতে করে দুই ম্যাচ খেলে কোন ম্যাচের ফলাফল না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট দুই আর দুই ম্যাচ এর একটিতে হেরে বাংলাদেশের পয়েন্ট এক।

ইংল্যান্ড এর সাথে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেট এ হেরে যায় বাংলাদেশ। এরপর অস্ট্রেলিয়ার সাথে দ্বিতীয় ম্যাচে টসে জিতে বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের বোলিং তোপে মাঠে টিকতে পারেনি বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা। শুধু মাত্র তামিমের ৯৫ রানের অসাধারণ ইনিংস বাংলাদেশকে ১৮২ রানের সংগ্রহ এনে দেয়। দলের বাকি ১০ জন মিলে করেন মাত্র ৮৭ রান।

অপরদিকে ১৮৩ রান তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের জয়ের শঙ্কা দেখা দেয়। আকাশে মেঘ করার অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়গণ অনেকটা চিন্তিত হয়ে পড়েন। আর কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ অন্যদিকে ব্যাটসম্যানদের হিমশিম খাওয়াতে থাকেন। ১৬ ওভার পর ৮৩ রানে ১ উইকেট হারিয়ে পানি বিরতিতে গেলে বৃষ্টি শুরু হয়। আর অস্ট্রেলিয়া দলের কপাল পোড়ে। পরবর্তীতে ম্যাচ আম্পায়ার ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নেয় দুই দল।  এতে করে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে ১৬ ওভারে অস্ট্রেলিয়া যে রান করেছিল, ২০ ওভারে যদি আর রান নাও করত কিংবা আরো ২/৩ টি উইকেট হারাতো তাহলেও অস্ট্রেলিয়াকে বৃষ্টি আইনে জয়ী করে দেয়া হত। কিন্তু তারা হেরে যায় বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন মাশরাফির বুদ্ধির কাছে। আসলে মাশরাফি আগে থেকেই জানত যে ইংল্যান্ডে ৬ টা বা ৭ টা নাগাদ বৃষ্টি হতে পারে। আর তাই নিশ্চিত পরাজয় জেনেও মাশরাফি বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করতে থাকে। আর সেই জন্যে যাতে সময় বেশি লাগে এবং ২০ ওভার যেন তাড়াতাড়ি শেষ না হয়ে যায় তাই তিনি দলের পেসার বোলারদেরকে বেশি সময় নিয়ে বোলিং করতে বলেন এবং যাতে তারা দৌড়ে রান করে সেভাবে বোলিং করতে বলেন। মাশরাফি নিজেও এক ওভার বোলিং করতে সময় নেয় প্রায় ৮ মিনিট আর দলের অন্য পেসার রুবেল এক ওভার বোলিং করতে সময় নেয় ৬ মিনিট করে। ১৬ ওভারের মধ্যে ১৫ ওভারই মাশরাফি পেসারদের দিয়ে বোলিং করান। বোলিং এ যাতে বেশি সময় যায় তাই তিনি মিরাজকে বোলিং এ এনেও আবার সরিয়ে নেন। অতঃপর পানি বিরতিতে গিয়েও মাশরাফির মনে হচ্ছিল তাদেরকে আরো বোলিং করতে হতে পারে। কিন্তু ভাগ্য সাথে থাকায় তাদেরকে আর বোলিং করতে হয় নি। বৃষ্টি তাদের ভাগ্য খুলে দেয়। মাঠে ব্যাটিং করা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদ্বয় মাশরাফির চালাকি ধরতে পেরে রিতিমত রাগারাগি শুরু করে দেয়। যা তাদের আচার ভঙ্গি দেখেই বুঝা যাচ্ছিল। মাশরাফি বোলিং এ বেশি সময় লাগাচ্ছিল বলে ওয়ার্নার ও স্মিথ অনেকটা রেগে যায়। কিন্তু মাশরাফি তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।

বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় টুর্নামেন্টে এখনও টিকে থাকার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার দুটি ম্যাচের একটিতেও ফলাফল আসে নি। তাই অস্ট্রেলিয়া দলের খেলোয়াড়রা এখন কপাল চাপড়াতে ব্যস্ত। কারণ তাদের হাতে যে কেবল একটি ম্যাচ বাকি আছে ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে। এই ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়া জিতলেই কেবল তারা টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল খেলতে পারবে। তবে বাংলাদেশেরও রয়েছে এই টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল খেলার হাতছানি।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড জয় লাভ করে। ইংল্যান্ডকে তাদের পরবর্তী দুটি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জিতলে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতে পারে। তবে ইংল্যান্ডকে অবশ্যই অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে হবে। অপরদিকে নিউজিল্যান্ডকেও হারাতে হবে ইংলিশদের। আর যদি বাংলাদেশ তাদের শেষ ম্যাচ এ নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারতে পারে তবে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ থাকবে।

যেহেতু ইংল্যান্ড তাদের নিজস্ব কন্ডিশনে খেলছে তাই তারা অস্ট্রেলিয়াকে হারাতেই পারে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া যদি তাদের সাথে জিতে যায় তাহলে নিউজিল্যান্ডকেও ইংল্যান্ড এর বিরুদ্ধে জিততে হবে। আর নিজেদের শেষ ম্যাচ এ বাংলাদেশকে অবশ্যই হারাতে হবে নিউজিল্যান্ডকে এবং তা বড় ব্যবধানে। তাহলে বাংলাদেশের অনেক  আকাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ অর্জন করবে।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আয়ারল্যান্ড এ বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে ত্রিদেশীয় সিরিজে হারিয়েছিল। তাই বাংলাদেশ শেষ ম্যাচ নিয়ে অনেক আশাবাদী। তারা এখন নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারানোর পরিকল্পনা করছে। চলুন দেখে নেই ঠিক কিভাবে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনাল খেলার সুযোগ অর্জন করতে পারবে।

ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড এর ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয় এবং ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে ইংল্যান্ডের জয় হতে হবে। তবে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে। তাহলে ইংল্যান্ডের হবে ৬ পয়েন্ট, বাংলাদেশের ৩ পয়েন্ট, অস্ট্রেলিয়ার ২ ও নিউজিল্যান্ড এর ১। তাহলে সেমিতে যাবে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড এর ম্যাচে যদি নিউজিল্যান্ড জয়ী হয় তাহলে ইংল্যান্ড বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়াকে জিততে হবে। আর বাংলাদেশ যদি নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারে তাহলে ইংল্যান্ডের হবে ২ পয়েন্ট, বাংলাদেশের ৩ পয়েন্ট, অস্ট্রেলিয়ার ৪ ও নিউজিল্যান্ড এর ৩। এক্ষেত্রে সেমিতে যাবে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ যদি রান রেটের দিক দিয়ে এগিয়ে থাকে তবে সেমিতে যাবে বাংলাদেশ।

বৃষ্টি এখনও বাংলাদেশকে সেমিতে খেলার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কি ঘটবে তা খেলার মাঠেই দেখা যাবে। যদি বাংলাদেশ টিমের ভাগ্য ভালো থাকে, যদি বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারাতে পারে তবে বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতেও পারে। আর এটা এখন পুরোটাই সময়ের ব্যাপার।

ছবি – গুগল

তামিমের ৯৫ রান যখন অন্য ১০ জনের মোট রানের চেয়েও বেশি . . .

Now Reading
তামিমের ৯৫ রান যখন অন্য ১০ জনের মোট রানের চেয়েও বেশি . . .

শুরু হয়েছে চ্যাম্পিয়নদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। আর গতকাল বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার খেলা হয়ে গেল। ম্যাচটি যদিও অজিদের হাতেই ছিল। কিন্তু ভাগ্যের ফেরে খেলার ফলাফল হল ভিন্ন। গত কাল বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে করে দুই দলই পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিয়েছে। ‘এ’ গ্রুপ এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে ইংল্যান্ড এবং সবশেষে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বনাম ইংল্যান্ড এর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ইংলিশদের কাছে ৮ উইকেট এ পরাজিত হয়। গত কালের ম্যাচটিতেও হয়ত এমন কোন ফলাফলের সম্ভাবনা ছিল। চলুন জেনে নেই গত কালের ম্যাচ নিয়ে খুঁটিনাটি।

ম্যাচটি মাঠে গড়ায় বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয় টায়। প্রথমে টসে জিতে  ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন মাশরাফি।

বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার শুরুটা খুব ধীর গতিতে করলেও শেষটা বাংলাদেশের জন্য খুব খারাপ ছিল। ধৈর্যহীন সৌম্য আবারও ধৈর্যহীনতার পরিচয় দিল। দলীয় ২২ রানের মাথায় Hazlewood এর বলে ক্যাচ তুলে দেয় উইকেট রক্ষক Wade এর হাতে। ১১ বলে ৩ রান করে সাজ ঘরে ফেরেন সৌম্য। অতঃপর ১০ ওভারের পাওয়ার প্লে তে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে মাত্র ৩৭ রান। গত ম্যাচ এর চেয়ে মাত্র ১ রান বেশি।

তিন নাম্বারে নেমেছিল আরেক বাহাতি ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস। তিনিও পারলেন না তিন নাম্বার পজিশনে নামার দায়িত্ব পালন করতে। ১০ ওভারের পাওয়ার প্লে শেষে ১১ তম ওভারে ইমরুল কে সাজঘরে পাঠায় Pat Cummins. ১৬ বলে ৬ রান করা ইমরুল কায়েস এর ক্যাচ তালুবন্দী করে Aaron Finch. দলীয় ৩৭ রানে ইমরুল মাঠ ছাড়েন।

অন্যদিকে ওপেনার তামিম ইকবাল একাই অজি বোলারদের মোকাবেলা করে যাচ্ছেন। গতকালের ম্যাচের একমাত্র কাণ্ডারী ছিলেন একমাত্র  তামিম ই। অন্যরা সবাই ছিল অজি বোলারদের খেলনা। ইমরুল কায়েস আউট হলে মাঠে তামিম কে সঙ্গ দিতে আসেন বাংলার আরেক কাণ্ডারী মুশফিক। বাংলাদেশের অনেক অনেক ম্যাচ যিনি একাই লড়েছেন এবং ম্যাচ জিতিয়েছেন। তার খানিকটা  প্রমাণ মেলে ইংল্যান্ডের ম্যাচে তামিম এর সাথে মুশফিকের পার্টনারশিপ দেখলে। হয়ত এ ম্যাচেও তিনি তেমন কিছু একটা করতে চেয়েছিলেন। তামিমের সাথে আবারো আরেকটি বড় রানের জুটি। কিন্তু ভাগ্য যখন বিরুদ্ধে চলে তখন কি চেষ্টা  করেও সফল হওয়া যায় কিনা আমার জানা নেই। Henriques এর বলে এক বিতর্কিত lbw তে মুশফিককে  সাজঘরে ফিরতে হয়। মাঠ ত্যাগ এর আগে মুশফিক রানের খাতায় যোগ করেন মাত্র ৯ রান ২০ বলের বিনিময়ে। সে সময় বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ ছিল ৫৩ রান ৩ উইকেটের বিনিময়ে।

অতঃপর মাঠে প্রবেশ করেন অফ ফর্মে থাকা বিশ্বের এক নাম্বার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মাঠে নেমেই তিনি তার মেজাজের পূর্ব পরিচয় আবার তুলে ধরেন। নিজের খেলা দ্বিতীয় বলেই তিনি ৪ মেরে রানের খাতা খুলেন। সাকিবকে নিয়ে তামিম অজি বোলারদের বিরুদ্ধে ব্যাটিং চালিয়ে যান। সাকিব যখন উইকেটে প্রায় সেট হয়েই গেছেন তখন আবারও আশা জাগতে থাকে। এবার বুঝি বড় রানের জুটি হবে। বাংলাদেশ ভালো রান সংগ্রহ করবে। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে দেয় Head. Head এর বলে Down the wicket এ এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে সাকিব lbw এর শিকার হয়। যদিও সাকিব নিশ্চিত ছিলেন বলে আউট এর থার্ড আম্পায়ার রিভিউ নেন। কিন্তু তিনি রিভিউ এ সফল হন নি। আবারো আরেকটি উইকেট। ৪৮ বলে ২৯ রানে সেট হয়ে যাওয়া সাকিব ২ চার মারেন। দলীয় ১২২ রানে সাকিব মাঠ ছাড়েন।

অজি বোলারদের বোলিং তোপে যখন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা মাঠে আসছে আর যাচ্ছে তখন তাদের রাজ করে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তামিম ইকবাল। সাকিব চলে গেলে তামিম এর সঙ্গ হয় টি-২০ স্পেশালিষ্ট খ্যাত সাব্বির রহমান। তবে এখন শুধু যাওয়া আসার মিছিলে আছে বাংলাদেশ দলের খেলোয়ারগণ। সাব্বিরও বেশিক্ষণ উইকেটে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারলেন না। তরুণ অজি বোলার Adam Zampa-র বলে  Steven Smith  এর হাতে সাব্বির ৩৪.২ ওভারে ক্যাচ তুলে দেন। সাজঘরে ফেরার আগে সাব্বির মাত্র ৮ রান করতে সক্ষম হয়।

এরপর মাহমুদুল্লাহ যিনি গত বিশ্বকাপে পরপর দুটি শতরান করেন তিনিও ৮ রান করেই মাঠ ত্যাগ করেন। একপ্রান্ত কঠিন ভাবে আগলে রাখা তামিম ইকবালও অবশেষে কুপোকাত হলেন অজিদের অন্যতম সেরা বোলার Starc এর বলে। ক্যাচ তুলে দিয়ে তিনি মাঠ ছাড়েন দলীয় ১৮১ রানের মাথায়। শতক পুরণের মাত্র ৫ রান দূরে থেকে ৯৫ রান করে আউট হন তামিম। তারপর তো পুরোটাই অজিদের কথা। মাশরাফি, রুবেল, মেহেদি মিরাজ মিলে দলীয় রানের মাত্র ১ রান যোগ করেন। Starc ব্যর্থ হন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করতে।

ম্যাচ বিরতির পর অজিরা ব্যাটিং এ নামলে মুস্তাফিজ কিছুটা হিমশিম খাওয়ালেও ১৬ ওভারে অজিরা সংগ্রহ করে ৮৩ রান। রুবেল এর বলে lbw হন Aaron Finch. তারপর অজিদের ভাগ্যের পরিহাস যেন নির্মম। নিউজিল্যান্ড এর সাথে তাদের প্রথম ম্যাচের মত এই ম্যাচেও বৃষ্টি তাদের ম্যাচ জয়কে বাধা দেয়। অবশেষে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

যে ম্যাচটি জুড়ে  অজিরা রাজত্ব করল সেখানে তামিম অন্যতম একটি বিশ্বরেকর্ড গড়া থেকে মাত্র ৫ রান দূরে ছিলেন। তিনি শতক পূর্ণ করতে পারলে হয়তো পৃথিবীর আরো অনেক বড় বড় খেলোয়াড়ের পাশে নাম লিখানোর সুযোগ পেতেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পরপর দুই ম্যাচে শতক করার রেকর্ড গড়তে পারতেন এবং ইতিহাসে নিজের নামকে স্থান দিতে পারতেন।

ফিচার ছবি- গুগল

তথ্য সূত্র – cricbuzz.com

ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করবেন? ফুটপ্রিন্ট স্পেশাল (শেষ পর্ব)

Now Reading
ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইনে কিভাবে টাকা আয় করবেন? ফুটপ্রিন্ট স্পেশাল (শেষ পর্ব)

ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে এটাই আমার শেষ আর্টিকেল। এই পর্বে থাকবে কিভাবে ফেসবুক, ইউটিউব এবং ফুটপ্রিন্টে কাজ করে আপনি অনলাইনে টাকা উপার্যন করবেন তা নিয়ে বিস্তারিত। যদিও আমার দ্বিতীয় আর্টিকেল এ এই সম্পর্কে অল্প আলোচনা করেছি। তবে আজ বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করব। তার আগে আপনাদের দ্বিতীয় পর্ব ভালো ভাবে পড়া থাকতে হবে। যারা পড়েন নি তাদের জন্য দ্বিতীয় আর্টিকেল এর লিংক দেয়া হল।

কথা না বাড়িয়ে মূল টপিক নিয়ে লিখা শুরু করলাম। প্রথমেই শুরু করতে চাই ফেসবুক দিয়ে। বর্তমান সময়ের অতি জনপ্রিয় সাইট ও সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগ ছাড়াও ফেসবুকে যাতে মানুষ অর্থ আয় করতে পারে তার জন্য ফেসবুক কোম্পানী কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে তারা একটি ফিচার চালু করেছে যার মাধ্যমে ফেসবুকে অর্থ আয় করা শুরু করেছে অনেকেই। ফিচারটির নাম  ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল। ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল এর মাধ্যমে টাকা উপার্যন করতে হলে কিছু জিনিস আবশ্যক। সেগুলো হলঃ

  • একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট
  • একটি নিজস্ব ফেসবুক পেইজ

আপনার ফেসবুক পেইজ এ যদি লাইকের সংখ্যা লক্ষের ঘরে থাকে তবে সেক্ষেত্রে এই উপায়ে আপনার ভালো পরিমাণ টাকা আয়ের সম্ভাবনা থাকবে। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে আপনার বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করবেন এবং সেসব লেখা ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনার পেইজ এ শেয়ার করে অর্থ আয় করতে পারবেন। ঐ শেয়ারকৃত ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল আপনার পেজের মানুষ যতবার দেখবে বা যত বেশি বেশি পড়বে আপনার টাকা আয়ের পরিমাণ তত বেড়ে যাবে। এছাড়াও ইউটিউবের মত ফেসবুকও চালু করতে যাচ্ছে ভিডিওর মাধ্যমে টাকা আয়। আর অচিরেই ফেসবুক এই নতুন ফিচারটি লঞ্চ করবে। তখন আপনি ইউটিউবের মত ফেসবুকেও ভিডিও আপলোড করে টাকা আয় করতে পারবেন।

এবারে আসুন ইউটিউব নিয়ে কথা বলা যাক। ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে টাকা আয় করা যায় এ কথা এখন প্রায় সবাই জানে। ইউটিউবে কাজ করার জন্য প্রথমেই আপনাকে একটি চ্যানেল খুলতে হবে। তারপর সেই চ্যানেল এ ভিডিও আপলোড করতে হবে। অবশ্যই ভিডিওগুলো আপনার নিজস্ব কন্টেন্ট এর হতে হবে। তারপর সেই ভিডিও যত বেশি দর্শক দেখবে তত আপনার টাকা আয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। এক্ষেত্রে আপনার চ্যানেল এর অবশ্যই হাজার খানেক সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে। আপনাকে ভালো শিক্ষামূলক  ভিডিও আপলোড করতে হবে যাতে করে বেশি মানুষ আপনার ভিডিও দেখে। তবে অন্যের ভিডিও আপনি কপি করে ইউটিউবে কখনোই আপলোড করবেন না।

আপনাকে আপনার নিজস্ব টপিক বেছে নিতে হবে। কোন ধরণের দর্শক আপনার চ্যানেল এর ভিডিও দেখছে সে সম্পর্কে আপনার ভালো ধারণা থাকতে হবে। তাহলে আপনি তাদের চাহিদা অনুযায়ী ভিডিও আপলোড  করতে  পারবেন যা ইউটিউবে টাকা উপার্যনের জন্য অনেক কার্যকরী। ফটোগ্রাফির মাধ্যমেও আপনি ইউটিউবে টাকা আয় করতে পারেন। আপনি অনেক গুলো ছবির সমাবেশে বিভিন্ন স্লাইড তৈরি করে তা ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। তবে স্লাইড গুলো অবশ্যই ভালো কোন গল্প নিয়ে গঠিত থাকতে হবে। ছবি দিয়ে ভালো স্টোরি গঠন করতে পারলেই কেবল তা দর্শককে আকর্ষণ করবে। এছাড়াও আপনি দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ডকুমেন্টারি বানিয়ে তা ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। তবে কারেন্ট ইস্যু নিয়ে আপলোড করা ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আপনার ভিডিও যদি একবার ভাইরাল হয়ে যায় তবে যেন আপনার ভাগ্য খুলে গেল। আপনি জার্নালিজম নিয়েও বিভিন্ন ছবির স্লাইড বানিয়ে তা ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। তবে ইউটিউব বর্তমানে তাদের এলগোরিদম হারিয়ে ফেলেছে। কারণ ঠিক কোন এলগোরিদম এ তারা ইউটিউবের ভিডিও মেইনটেইন করছে তা তারা নিজেরাও হয়ত জানে না।

আমাদের দেশের নতুন একটি ফ্রিল্যান্সিং সাইট মাত্র অল্প কিছুদিন আগে আত্মপ্রকাশ করেছে। সাইটটির নাম ফুটপ্রিন্ট (www.footprint.press)। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই সাইটটি দেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যা  আমি আপনাদের গত আর্টিকেল এ দেখিয়েছি। ফুটপ্রিন্টে কিভাবে টাকা আয় করবেন হয়ত এখনও অনেকের অজানা। চলুন ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

ফুটপ্রিন্টে লেখালেখির মাধ্যমে টাকা আয় করা শুরু করেছে অনেকেই। যারা লেখালেখি করেন বা টাইপিং এ বেশ পারদর্শী তাদের জন্য এটি অনেক ভালো একটি প্লাটফর্ম টাকা আয় করার জন্য। এখানে যারা লেখালেখি করে তাদেরকে ফুটপ্রিন্টার বলা হয়।

আপনাকে যেকোন টপিকের উপর ৭০০ শব্দ বা তার বেশি শব্দ নিয়ে একটি আর্টিকেল লিখতে  হবে। তবে অবশ্যই তা আপনার নিজস্ব লেখা হতে হবে। আপনি কোন কপি করা বা অন্যের লেখা এখানে ব্যবহার করতে পারবেন না। যদি করেন তাহলে আপনাকে সাইট থেকে চিরতরে নিষিদ্ধ করা হবে।

৭০০ শব্দের আর্টিকেলটির সাথে আপনাকে একটি ফিচার ছবি দিতে হবে। আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে ছবিটি যেন অবশ্যই এইচ ডি কোয়ালিটির হয়। তা না হলে আপনার আর্টিকেলটি সাইটে পাবলিশ নাও হতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।

বানান ভুলের জন্য এখানে অনেক ধরণের পেনাল্টি আছে। তাই আপনাকে বানানের ক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে। কারণ একই আর্টিকেল এ তিনটির বেশি বানান ভুল হলে ঐ আর্টিকেল এ বরাদ্দকৃত টাকার অর্ধেক টাকা কেটে নেয়া  হবে। আর পরপর তিনটি আর্টিকেল এ  পেনাল্টি পেলে পূর্বরর্তী দুটি আর্টিকেল এর পুরো টাকা কেটে নেয়া হবে। অনেক ধরণের category বা বিভাগ আছে যেগুলোতে আপনি বিভিন্ন টপিক নিয়ে লিখতে পারবেন। এছাড়াও সাইটে আপনার আর্টিকেল প্রকাশ হলে তা ফেসবুকের একটি পেইজ এ শেয়ার করা হবে যেন অনেক মানুষ আপনার আর্টিকেলটি পড়তে পারে।

নতুন যারা ফুটপ্রিন্টে আসছেন তাদের জন্য এই আর্টিকেলটি হয়ত অল্প হলেও কাজে লাগবে বলে আশা করি। অবশেষে যারা ফুটপ্রিন্টে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তাদের জন্য বলছি আপনারা প্রথমে সাইটে দেয়া সম্পুর্ণ নির্দেশাবলী ভালো ভাবে পড়ুন। তাহলেই আশা করি সব সমস্যা সমাধান হবে। এখনকার মানুষ এতটাই  অলস যে সামান্য কিছু লেখা পড়তেও তাদের অনেক কষ্ট হয়। এছাড়াও আপনি ফেসবুকের ফুটপ্রিন্ট গ্রুপে যোগ দিন। সেখানে পুরোনো ফুটপ্রিন্টারদের আপনার সমস্যার কথা জানান। আপনি  সমাধান অবশ্যই  পাবেন। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, ধন্যবাদ। Happy Footprinting, Happy Earning.