মা

Now Reading
মা

1501518015391.jpgকখনো ভাবিনি।

তোমাকে এভাবে হারিয়ে ফেলব।
অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম তোমায় নিয়ে।
তোমায় পৃথিবীর সব থেকে সুখি করতে চেয়েছিলাম।
মা….পারিনি আমি।
আমার জ্ঞান হবার পর থেকেই দেখেছি তোমাকে যন্ত্রনা পেতে।
অনেক আশা ছিল তোমায় একটা সুন্দর জীবন কাটাতে দেখব। মাঝে মাঝে তোমায় হাসাতে পারলে পৃথিবীর সব থেকে সুখি মনে হতো নিজেকে। আমি সেই দিনটা পৃথিবীর সব থেকে অসহায় ছিলাম মা।
যে দিন তোমায় হাসপাতালের ট্রলিতে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিলাম। তোমার নাক, মুখ, কান দিয়ে রক্ত পরতে দেখেছিলাম মা। তোমায় হারানোর ভয়ে আমি অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম মা। চোখের সামনে তোমাকে যন্ত্রনায় ছটফট করতে দেখে আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম মা। চোখের পানি আটকিয়ে রাখতে পারেনি তোমার এই পাগলটা। আব্বুর বুকে মাথা রাখা তোমার সেই রক্তাক্ত মুখটা দেখে মা। এখন কেউ খুব সকালে এসে বলে না,
ওঠ উঠে নামায পর। এখন খুব অলস হয়ে গেছি মা। যে মানুষটার সুস্থ্যতা আর সুখের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামায পরতাম, তাকেই তো সুস্থ্য এবং সুখি দেখতে পেলাম না। নামায ছাড়িনি মা। তোমায় যখন খুব দেখতে ইচ্ছে করে তখন নামায পরি শুধু তোমায় স্বপ্নে এক পলক দেখার আশায়। মা তোমায় অনেক মিস করি মা। প্রতিটা সেকেন্ড মিস করি। আমি রুমের লাইট বন্ধ করে শুয়ে থাকলে শুধু তুমি বুঝতে তখন আমার মাথা ব্যাথা করত। তুমি বুঝতে ডিম লাইট জ্বালানো থাকলেও আমার রাতে ঘুম আসে না। আমার মাথা ব্যাথা করলে তুমি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে। ব্যাথা কোথায় হারিয়ে যেত বুঝতেই পেতাম না।  এখন আমি হাজার বার নিজের মাথায় হাত বুলালেও ব্যাথা যায় না মা। খুব সকালে আব্বু কখনো তোমায় জাগিয়ে দিলে তুমি আমার রুমে এসে আমায় ঠেলে একটা বালিস নিয়ে আবার ঘুমিয়ে পরতে। মা আমি ওই জন্যই নিজের সাথে দুইটা বালিস নিয়ে ঘুমাতাম। আমি কখনো না খেয়ে বাইরে গেলে বারান্দায় বসে কেউ আর কাঁদে না মা। তোমার মতো করে কেউ আমাকে ভালবাসতে পারে না মা।
মায়ের কথা মনে হলেই আমার ছায়াশীতল শাখা প্রশাখা বিস্তৃত একটি ছায়াবৃক্ষের কথা মনে পড়ে। মায়ের কথা মনে হলেই আমার মায়াবী জোছনার কথা মনে পড়ে যার আছে আধার নিবারক হিমেল আলো অথচ উত্তাপ নেই। মায়ের কথা মনে হলেই আমার চৈত্রের গরম লাগা ভরদুপুরে একটি শান্ত শীতল সরোবরের কথা মনে পড়ে যার জলে ঝাঁপ দিলে মুহূর্তে জুড়িয়ে যায় দেহ মনের উত্তাপ। আর মনে পড়ে সেই দুটি চোখ অফুরন্ত স্নেহ ঝরা সেই দৃষ্টি যা সর্বক্ষন ছায়ার মতো আমার যাত্রাপথে নিবদ্ধ থাকত। সেই শুভ দৃষ্টির অমৃত পরশ সর্ব বিপদ আপদ থেকে আমাকে আগলে রাখত। মায়ের কথা মনে হলেই চলার পথে অদৃশ্য বনফুলের হাওয়ায় মেশা অমৃতময় সৌরভের কথা মনে পড়ে। যা নিমিষে অস্তিত্বের পরতে পরতে মোহময় আমেজ ছড়িয়ে সারাক্ষন এ মনটাকে মাতিয়ে রাখে সুমধুর সুগন্ধে। আমার চলার পথে নিরন্তর আমায় ক্লান্তিহীন প্রেরনা যোগায়। আর আমি একটু একটু করে এগিয়ে চলি আরো এগিয়ে চলি এক সময় গন্তব্যে পৌঁছে যায়।
তোমার কারনে এই পৃথিবীর আলো দেখা। পথ চলতে, কথা বলতে শিখিয়েছ। ভালবাসি তোমায় মা। কষ্ট দেই বলে sorry মা। আমরা যত অপরাধই করি না কেন তুমি তাও কখনো মুখ ফিরিয়ে নাও না। আমাদের সব অপরাধকে ক্ষমা করে কাছে টেনে নাও মা। ভুল করি বলে sorry  মা। promise  করছি আর কষ্ট দিব না। তুমি গর্ব করে বলতে পারবে আমি তোমার সন্তান। আমার কারনে আর তোমাকে অপমানিত হতে হবে না। আব্বুর কাছে মিথ্যা বলতে হবে না। রাতের পর রাত আর খাবার টেবিলে বসে থাকতে হবে না। আমার জন্য আর কাঁদতে হবে না মা। promise করছি আর এমনটি হবে না মা। ভালবাসি তোমাকে মা। ইতি তোমার সন্তান। কারনে অকারনে বাবা মাকে কষ্ট দেয়া বন্ধ করেন। ভুলে যাবেন না তাদের ঋণের কথা।
মা এমন একটি সম্পদ যা হারিয়ে গেলে পৃথিবীর কোথাও তা আর খুজে পাওয়া যায় না। পৃথিবীর বুকে এক তুকরো বেহেশতের নাম মা। প্রতিটি সন্তানের জন্য আল্লাহর দয়াময় নিয়ামত হলো মা। যার মা নেই সেই জানে ব্যাথার স্বরূপ কেমন। শ্রেষ্ঠ ভালো বাসার প্রতিক হচ্ছে ‘ মা ‘ । মা কে ছাড়া পৃথিবী অন্ধকার । যত্ন করে রাখো অমূল্য রত্ন, চলে গেলে ছেড়ে পৃথিবী হবে অন্ধকার ,আলো হলেও তুমি দেখিবে অন্ধকার । জগতে তুলনা নাই মায়ের সমান। মা যে আমার নেই গৃহে বুঝতে পারি জ্বালা, জগতে আছে শুধু ঊচ্চ ভালোবাসা ‘ মা ‘ । মা পৃথিবীর সব ব্যপারে স্বার্থপর হলেও সন্তানের ব্যপারে সব সময় নিঃস্বার্থ। অতি ছোট্ট একটি শব্দ এবং সবচেয়ে সুন্দর ও মধুর শব্দটি হচ্ছে মা। জাতি-ধর্ম-বর্ণ সবকিছুর ঊর্ধ্বে মা, তার নেই কোনো উপমা-তুলনা। পূথিবীর সব কিছু বদলাতে পারে,কিন্তু মায়ের ভালোবাসা কখনো বদলায় না! মায়ের মত আপন কেহো নাই। মা হলো শুধুই মা। মধুর আমার মায়ের হাসি    তোমায় বড় ভালবাসি। মা আমার জান্নাত। আমার মা আমার পৃথিবী।