প্রতিবিম্বঃ পর্ব ২

Now Reading
প্রতিবিম্বঃ পর্ব ২

ক্যাম্পাসে সকাল সকাল চলে এল জাবির। আজ এক্সাম আছে, আর সে নাকি বাসায় কিছুই পড়তে পারেনি ।এসেই ক্যান্টিন থেকে দুইটা বার্গার নিয়ে  শীট খুলে বসলো।  আর কেউ নাই ক্যান্টিন এ। যাক, এই পরিবেশে পড়া ভাল হবে। আর ক্যান্টিনেই পড়া লাগছে কারন লাইব্রেরীয়ান এখনো লাইব্রেরী খুলে নাই। পড়ার সময় জোরে জোরে না পড়লে জাবিরের নাকি মাথায় পড়া ঢুকেনা। আর আজ তো এক্সাম, টেনশনে গলার শব্দের ভলিউম বেড়ে গেছে কয়েক গুন।

“ এক্সকিউজ মি, আচ্ছা আপনি কি একটু আস্তে পড়ে পারেন? আমার সমস্যা হচ্ছে” – ৩ বার বলার পর জাবির শুনতে পেল। পিছে ফিরে দেখে জান্নাত।  হার্ট বিট বেড়ে গিয়ে বুকে কেউ মনে হচ্ছে দমাদম হাতুড়ি পিটাচ্ছে। “অহ আল্লাহ!! এই মেয়ে এত জোস কেন? কি সুন্দর করে কথা বলে!!” – ভাবতে ভাবতে উত্তর দিল

– আমাকে কিছু বলছেন?

– জ্বী , একটু কম শব্দ করে পড়বেন ? লাইব্রেরী বন্ধ তো, আমার আজেক এক্সাম। তাই পড়তে ক্যান্টিনে এসেছি।

– জ্বী জ্বী , কোন সমস্যা নাই। একদম সাইলেন্ট হয়ে যাব আপনি বললে।

– স্যরি?

– বললাম, সাইলেন্ট হয়েই পড়বো। আর আমি স্যরি জোরে পড়ার জন্য।

– ধন্যবাদ। বাই দ্যা ওয়ে, দুটো বার্গার ই আপনি খাবেন?

– না কিনে রেখেছি, ব্ল্যাকে সেল করে দিব।

– মানে?

– এমনেই ফ্রেন্ড আসবে , কিনে রেখেছি। এদের এখানে বার্গার অলয়েজ থাকেনা।

– জ্বী, আমিও সকালে কিছু খেয়ে আসিনি আর ক্ষুধাও লেগেছে। আমি কি আপনার এই বার্গারটা নিতে পারি য? অবশ্যই যদি কিছু মনে না করেন তাহলে।                 আর হ্যা, আমি এটার দাম দিয়ে দিব।

– অবশ্যই মনে করবো। অনেক কিছু করবো। নিন খান।

– মনে করলে খাবোনা। আপনার বার্গার আপনি রেখে দিন। আমি অপেক্ষা করবো এদের বার্গার আসার জন্য।

– আরে নিন নিন, খান। মজা করছিলাম।

– ধন্যবাদ।

জান্নাত বার্গারটা নিয়ে যেভাবে খাচ্ছে তাতে জাবির এর মনে হলো সে বিরিয়ানিও এত আহ্লাদ করে খায় না। মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছে প্রতিটা বাইট এর মজা নিচ্ছে।  জাবির এর মনে হলো তারও একবার ট্রাই করা উচিত। আজকের বার্গার কি বেশি টেস্টি? এমনে খাওয়ার কি আছে? মেয়ে মানুষ বেশি আহ্লাদ করে সবকিছুতে। এত আহ্লাদে কান্ড কারখানা জাবিরের মোটেও পছন্দ না। কিন্তু কেন জানি এই মেয়ের আহ্লাদ খুব ভাল লাগছে। নিজেরও ট্রাই করতে ইচ্ছা করছে। বার্গারটা এভাবে। বার্গারের এক কামড় খেল  জাবির। কই? এতো নরম্যাল জিনিস। ফিল তো আসেনা। তাহলে জান্নাত এভাবে খাচ্ছে কেন?

জিজ্ঞেস করে বসলো ,

– আচ্ছা এভাবে কেন খাচ্ছেন?

– কিভাবে খাব তাহলে?

– মানে এত ফীল নিয়ে কিভাবে খাচ্ছেন?

– খাবার তো ফীল নিয়েই খাবো। নাইলে মজা কিভাবে পাবো?

– ফীল নিয়ে খেলে মজা পাওয়া যায়?

– জ্বী, ফীল নিয়ে খেলে স্বাদহীন খাবারেও অনেক মজা পাওয়া যায়।

– আচ্ছা খেয়ে দেখি ফীল নিয়ে।

এবার সে বার্গার এ কামড় দেয়ার সময় মনে মনে ভেবে নিল নানীর হাতের রান্না করা বিরিয়ানী খাচ্ছে। বার্গারের ভিতরের ইনগ্রিডিয়েন্স কে তার মনে হল নরম মাংসের টুকরা আর বান টাকে মনে হলো বাসমতী রাইস। অহ! কামড়ের সাথে সাথে সেই টেস্ট আসলো মুখে। মনে হলো আসলেই অমৃত খাচ্ছে জাবির।

– এবার বুঝেছেন?

– জ্বী জ্বী ম্যাডাম। ধন্যবাদ অখাদ্য-কুখাদ্যকে সুখাদ্যে পরিনত করার উপায় শিখিয়ে দেবার জন্য।

– আচ্ছা আসি, লাইব্রেরী খুলে ফেলেছে হয়ত।

– আপনি নতুন ভর্তি?

– জ্বী মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্ট এ।

– আমি জাবির, মেকানিক্যাল ৭ম সেমিস্টার।

– আমি জান্নাত। আপনি তো তাহলে আমার অনেক সিনিয়র।

– ২ বছর খুব বেশি না।

– আমি আসি, আর এইযে বার্গারের টাকা।

– এটা লাগবেনা, রেখে দেও।

– না না, আপনার বন্ধুর জন্য কেনা বার্গার আমি ফ্রিতে কেন খাবো?

– রেখে দিতে বলেছি, রেখে দাও। সিনিয়র রা কিছু বললে শুনতে হয়।

– তারপরেও ……

– তারপরে কিছু নেই। যাও ক্লাসে যাও।

– বাই।

জান্নাত চলে গেল। সাথে সাথে মনে হল পিঠের মেরুদন্ড দিয়ে শীতল একটা বাতাস নেমে এলো। কি সুন্দর করে কথা বলে এই মেয়ে! দেখলে দেখতেই মন চায়। এই মেয়ের মাঝে জাদু আছে। পকেট থেকে মোবাইলটা  বের করে জান্নাতের নাম্বারটা দেখলো। খুব শীঘ্রই এই নাম্বারে কল দেবার মত অবস্থা তৈরী করতে হবে। আগে সব ঠিক ছিল, জান্নাতকে দেখার পর সব কাজেই তালগোল লেগে যাচ্ছে জাবিরের। এর সমাধান একটাই, এই মেয়েটাকে তার জীবনে চাই। এ ছাড়া দ্বিতীয় কোন উপায় নেই।

ভাবতে ভাবতে ডর্মের দিকে হাটা শুরু করলো । গিয়ে নাহিদ কে জাগাতে হবে। আলসে হারামী ইউনিভার্সিটির ডর্মেটরিতে থাকার পরেও রোজ লেট করে। প্রায় জাবির গিয়ে নাহিদের ঘুম ভাঙ্গায়।

দরজায় প্রচন্ড জোরে জোরে আঘাত করার পরো নাহিদ রুমের দরজা খুলছে না। মোষের মত পড়ে ঘুমাচ্ছে নাকি? এক হাতে মোবাইল দিয়ে কল দিচ্ছে নাহিদের নাম্বার এ, আরেক হাতে দরজা নক করছে। তাও দরজা খুলছে না কেন নাহিদ? মিনিট বিশেক পর জাবির আর ধৈর্য্য ধরে না রাখতে পেরে ডর্মের কেয়ারটার কে জানাল। কেয়ারটেকার গিয়ে ডর্ম মনিটর কে জানাতে উনি ছুটে এলেন। অনেক ক্ষন ধরে উনিও ট্রাই করলেন , কিন্তু নাহিদ এর কোন সাড়া নেই।  শেষে যোগালী এনে রুমের দরজা ভাঙ্গা হলো।

ভিতরে তাকিয়ে জাবির ছিটকে পড়লো ডর্মের বারান্দায়। ওর চোখ নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। সিলিং এর সাথে নাহিদ এর আধা পোড়া শরীর টা ঝুলছে।

প্রতিবিম্বঃ পর্ব ১

Now Reading
প্রতিবিম্বঃ পর্ব ১

সকালের ঘুমটা নষ্ট হলে সারাদিন মেজাজ বিগড়ে থাকে জাবিরের। তার উপর এর বৃষ্টিস্নাত সকালের ঘুম বলে কথা, রাগে চুল ছিড়তে ইচ্ছা করছে। আবার কি কল দিবে? ২বার কল দিয়েছে ইতিমধ্যে। অপাশ থেকে কল ধরে কোন কথা বলেনা। দুইবারই জাবির বিরক্ত হয়ে কল কেটে দিয়েছে। কথা না বলার কেউ থাকলে সেই ৬ টা থেকে ১৯ টা কল দিয়ে ঘুম ভাঙ্গানোর দরকার কি ছিল?

না, আর শোয়া হবেনা। শুলেও ঘুম আসবেনা। তাই সোজা ব্রাশ হাতে শাওয়ার করতে ঢুকে গেল। বাথরুমে গিয়েও শান্তি পাচ্ছেনা মনে। কে এই অধম যে তার সকালের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটালো। কাছে পেলে ওর হকিস্টিক দিয়ে পেটাতে মন চাইছে। এই সাত-পাচ ভাবতে ভাবতে  শাওয়ার শেষে রুমে এসে ঢুকলো। এমন সময় আবার ফোন। হাতে নিয়ে দেখলো বন্ধু নাহিদ কল দিয়েছে।

– হুম মামা বল।

– বলা বলির কিছুনাই। তুই কই?

– শাওয়ার করে বের হইছি মাত্র। কিছু না বলার থাকলে কল দিছিস কেন?

– তুই ক্লাসে আয় খালি দোস্ত। তোকে জান্নাত দেখাবো।

– মাইরা ফেলবি নাকি? মরার আগে জান্নাত জাহান্নাম কিভাবে দেখবো?

– কথা প্যাচাইস না। আয় আগে।

– মাথা খারাপ? এই বৃষ্টি দিয়ে কেমনে আসবো?

– তোমার বাপের একটা গাড়ী আছে আর সেইটাতে চড়া যায় , আর সেইটা দিয়া ক্লাসে আসলে গায়ে বৃষ্টি পরবো না আর তোমার বাপেও কিছু কইবো না।

– হ হ ঠিকাছে। হোজ্জার মত জ্ঞান দিস না। আসতেছি তোর জান্নাত রে জাহান্নাম বানাইতে।

– আয় আয়।

সকালের এই ঘুম বাদে জাবিরের নিজের অতি কাছের যক্ষের ধন বলতে আছে একটা হাই এন্ড কনফিগারেশন এর গেমিং ডেস্কটপ কম্পিউটার আর রুমের বারান্দা। বারান্দা থেকে সামনের দিকের দৃশ্যটা ওকে কেন যেন খুব টানে। মোটেও রোমান্টিক ছেলে না জাবির। বরং বলা যায় রোমান্টিসিজম আর জাবির বিপরীতমুখী। তাও এই বারান্দায় আসলে মনে হয় এখানে দাড়িয়ে কথা বলার মত একজন মানুষ জীবনে থাকা উচিত।

রেডি হয়ে আব্বা-আম্মার রুমের সামনে এসে দাঁড়ালো। আব্বা তো জাবিরকে দেখে কোনরকম চমকে উঠলেন। সকাল সাড়ে আটটার মত এত সকালে ছেলের ঘুম ভেঙ্গে গেছে এটা দেখে উনি ভাল রকম ধাক্কা খেয়েছেন।

– কিরে বাবা তুই এত সকালে?

– সকাল কই সাড়ে আটটা বাজে।

– তুই তো এত সকালে উঠস না। আজকে উঠছিস আবার রেডিও হয়ে গেছিস। কিরে, প্রেম ট্রেম করছিস নাকি?

– ধুর আব্বা, কি যে বলোনা। আচ্ছা আমারে গাড়িটা দাও। আমি ক্লাসে যাব।

– তোর ভার্সিটি তো দুপুরে। এখন কিসের ক্লাস?

– আরে দাওতো মিয়া। তুমিও না!!!

– আচ্ছা নে, কিন্তু নাস্তা খেয়ে যা।

– বাইরে খাব।

জাবির এর বাবা-মা দুজনেই খুবই বন্ধুভাবাপন্ন। ছেলের সাথে সেই ছোটকাল থেকেই বন্ধুর মত আচরন করে  এসেছেন। একমাত্র সন্তান কে নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নিয়েছেন যাতে সন্তান অসৎ সঙ্গে না জড়ায়।

 

জাবির গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেল। এই বৃষ্টির মাঝেও ট্র্যাফিক লেভেল অসাধারন। জ্যামের কারনে ধুকতে ধুকতে জাবির ক্যাম্পাসে পৌছালো ১০ টায়। গেটের সামনেই দাড়িয়ে ছিল নাহিদ।

– ধুর বলদা এত লেট করে কেউ?

– আমি কি উইরা উইরা আসবো?ঢাকার জ্যাম তুমি জানো না?

– হইছে আয় তাড়াতাড়ি।

– কই?

– আয় তো।

একপ্রকার টানতে টানতে জাবিরকে লাইব্রেরিতে নিয়ে গেল নাহিদ। ঢুকে একটা কোনায় বসে লাইব্রেরীর অন্যদিকে দেখিয়ে দিল। এক নজর তাকাতেই জাবিরের মনে হল তার গলা দিয়ে অমৃত নামছে। চারপাশে হাজারখানেও ভায়োলিন বাজছে। পাখি গান গাচ্ছে, আর বাইরে বৃষ্টি পড়েতেছে। থ্রি ইডিয়ট মুভিতে আমির খানের লাভ এট ফার্স্ট সাইট এর পুরো ডিসক্রিপশন একটার পর একটা ঘটছে।

মেয়েটা একটা হালকা নীল জামা পরে কপালে হাত রেখে গভীর মনোযোগ দিয়ে কি যেন পড়ছে। হালকা ভেজা চুল, টানা দেয়া চোখ আর মুখে মায়া ভরা একটা ডাক। আলফ্রেড নোবেল বেচে থাকলে আজ ওর জন্য নোবেল পুরষ্কার এ “সৌন্দর্যের জন্য নোবেল” নামে নতুন ক্যাটাগড়ি যোগ করে এই মেয়েকেই  প্রথম পুরষ্কার দিত। নাহিদের ডাকে হুশ ফিরলো ।

-কিরে জান্নাত দেখলি?

-দোস্ত মেয়েটা কে?

-ওরে বাব্বা, এত জলদি? ক্যাম্পাসের কত মেয়ে পিছে ঘুরে, স্যার পাত্তাই দেন না। আর এর জন্য এত আগ্রহ?

-ওরে হাদা, নাম বল।

-জান্নাত।

-আরে দেখতে তো  জান্নাতের হুরপরী, নামটা বল।

-আরে নামই জান্নাত।

-বাহ!!! নামটা সার্থক ওর জন্য।

-মেকানিকাল ১ম সেমিস্টার।

-কস কি? এই মেয়ে ইংলিশ বা বিবিএ তে থাকার কথা। মেকানিক্যাল এ কি করে? কি বুঝে আসছে?

-তোর কি? যেখানে ইচ্ছা পরুক। চল আমরা নাস্তা খাই।

-দাড়া, আমার কি মানে? আমার অনেক কিছু। খামু। আগে দেখে নাই।

-অনেক সময় আছে দেখার জন্য, পড়ে দেখিস। আগে চল ক্ষুধায় পেটে গডজীলা সাম্বা করতেছে। আগে খাই গিয়ে।

-এটু পরে খেলে নিশ্চয়ই মারা যাবিনা। আগে দেখি মন ভরে। তারপর।

-তুই থাক আমি গেলাম ক্যান্টিন এ।

-যাহ, খা গিয়ে। খাদক শালা।

-ঠিক আছে, জান্নাতের নাম্বার রেখেছিলাম তোয়ার জন্য। নাম্বারটা ডিলিট করে দিচ্ছি।

বলেই হাটা শুরু করলো নাহিদ।

পিছন থেকে জাবির দৌড় দিল নাহিদ এর পিছু – “দাড়া সোনা বন্ধু, আজকে আমি খাওয়াব। আসতেছি ।”

ফেমাস হবেন যেভাবে…

Now Reading
ফেমাস হবেন যেভাবে…

 ফেমাস!!! ভাইরাল!!! এটেনশন সীকার!!! ফলোয়ার!!!

শব্দগুলো আমাদের রেগুলার ভার্চুয়াল লাইফের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েছে। রাতারাতি যে কেউ ফেমাস হয়ে যাচ্ছে। রাতে শুরুতে যার ২০০ ফলোয়ার ও নেই , সকালে তার দশ হাজার ফলোয়ার হয়ে যায়। হুট করে সেলিব্রেটি বনে যান এই মানুষ গুলো। কেমনে সম্ভব? অল্প সময়ে কি এমন মহভারত উল্টায়া ফেলেন উনারা যে এত নাম ডাক হয়ে যায়?

সম্প্রতি একটি ভিডিও অনেক ভাইরাল হয় যেখানে একটি মেয়ে তার বাবাকে চাইল্ড মলেস্টার বলে আখ্যা দেয়। বলে যে তার বাবা তাকে বেদম প্রহার করতো, সেক্সুয়ালি হ্যারাস করতো, মেরে গলায় পাড়া দিয়ে দাড়িয়ে থাকত আর এসবে তার মা ইন্ধন যোগাত তার বাবাকে। অনেকেই ভিডিওটি দেখেছেন, না দেখে থাকলে নিজের পিঠ নিজে চাপড়ান কারন বছরের এখন পর্যন্ত সেরা অভিনেত্রীকে দেখেন নাই।  কথা হলো মেয়েটি যা বলেছে তার সবই মিথ্যা । এটি প্রথমে তার ভাই আর পরে সাংবাদিক তাদের বাসায় গিয়ে প্রতিবেদন তৈরী করেছে যেখানে তার বাবা মা উভয়েই কান্না-জড়িত কণ্ঠে মেয়েকে ফিরে পেতে চাইছেন ।  মেয়েটি তার বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে নেশার পথে হেটেছে । তার মায়ের ভাষ্যমতে মেয়ে রাতে অনেক দীর্ঘ সময় লাইট অফ করে রুমে একা অবস্থান করত । যারা এই মেয়েটির ভিডিও শেয়ার করেছে সেখান থেকে বেশ কিছু শেয়ার ঘাটতে দিয়ে একস্থানে কমেন্ট দেখলাম একজনের যেখানে তিনি বলেছেন যে প্রতিদিন জগিং এর সময় তিনি মেয়েটাকে দেখেছেন এবং এমন কোন দিন বাদ ছিল না যেদিন মেয়েটির হাতে সিগারেট ধরা না ছিল। এখন ফেমিনিস্টরা “নারীদের সমান স্বাধীনতার” পতাকা গেড়ে দিতে চাইবেন, কিন্তু বাংলাদেশ এর মত একটি দেশে একটি মেয়ের খোলামেলা ভাবে ধূমপানকে নেশাখোর হিসেবেই আখ্যা দেয়া হয়।

ঐশীর কথা মনে আছে? আমি জানি আপনাদের মনে আছে । ভুলবেন কি করে? এত সহজে দেশের প্রথম ফিমেল বাবা-মা খোর ইয়াবাসেবীকাকে কি ভওলা যায়? জ্বী বাবা-মা খোর  কারন নেশার টাকার জন্য পুলিশ অফিসার বাবা আর জন্মদাত্রী মাকে খুন করে সে।  নেশার এত ক্ষমতা?

ঐশী কে সাইডে রেখে দেই আমরা। কথা বলছিলাম বাবাকে চাইল্ড মলেস্টার আখ্যাদানকারী এক রাতে ১০,০০০ এর বেশি ফলোয়ার উপার্জনকারী ফেমাস আহমেদ ফারিয়া এর সম্পর্কে। জ্বী উনি এখন ফেমাস, উনার ভিডিও পুরা ভাইরাল আর উনি ট্রেন্ডিং ফেবু সেলেব্রেটি।

এমন সেলেব্রেটি আগেও অনেক এসেছে। কলাপু , হাতিপু , বদনাবাবা এরা ট্রলিং ম্যাটারিয়াল হিসেবে এটেনশন সীকিং করে ফেমাস হলেও গত বছর জুনায়েদ আল ইমদাদ তার বন্ধু আবদুল্লাহ কে পিটিয়ে লাইম লাইটে আসেন। ফেইসবুকে ৩-৪ মাস ট্রেন্ডিং হিসেবে চলে সেই ভিডিও , আপনি যদি সেই ভিডিও না দেখে থাকেন তাহলে আপনি লেজেন্ড। আপনাকে ফেমাস করে দিব আমরা।

আজকাল ফেমাস হওয়া কোন ব্যাপার না। আপনি অনেক ভাবে ফেমাস হতে পারেন। কাউরে বেধড়ক পিটিয়ে ভিডিও করে ফেমাস হতে পারেন। বাবা মা কে সমাজে অপরাধী বানিয়ে ফেমাস হতে পারেন। আবার ৩য় শ্রেনীর অসভ্য ইতরের মত কোন মেয়েকে রাস্তায় ইভটিজং করে ফেমাস হতে পারেন। অনেক উপায় আছে, নিজে বের করে নিয়েন উপায়। কারন কম সমায়ে নাম কামাতে চান, একটু বুদ্ধি তো খরচ করতেই হবে, তাইনা?

 

কেন হয় এগুলা ? কিসের জন্য মানুষের এত এটেনশন দরকার ? কেন এত ফলোয়ার দরকার ? কি আছে আপনার যে মানুষ আপনাকে ফলো করবে ? – আমরা অনেক বোকা কারন আমরা ভাল খারাপ যাচাই না করেই নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতার ম্যানিফেস্ট দেখিয়ে একটা ফালতু পোস্ট বা ভিডিও শেয়ার করে সেটা ১০ টা মানুষের কাছে পৌছে দেই। বিবেককে প্রশ্ন করিনা যে আমি যে তাকে ভাল অথবা মন্দ বলে  আরো মানুষের কাছে পৌছে দিলাম , তারা তো সেইম কাজ করবে । কারন আমরা কপি-পেস্ট এ অতুলনীয় আর একটা নেগেটিভ ব্যাপারে মানুষের আগ্রহ বেশি। যার যোগ্যতা নাই কোন তাকে আমরা শেয়ার করে সমাজের সামনে তুলে ধরছি ?

আপনাদের এই “অবাক  করা” মানসিকতার কারনে আজকে কামলা শ্রেণীর কিছু প্রাণী ফেমাস। অবাক করা মানসিকতা বলার কারন এর পিছে কোন উপযুক্ত কারন দেখাতে পারবেন না যেটা দিয়ে প্রমান করতে পারেন যে এই কারনে আপনি তাকে সমাজে উপস্থাপিত হতে সাহায্য করছেন । আপনাদের এই মানসিকতার কারনে জুনায়েদ, সো কলড র‍্যাপার “আলি জি-স্টার” আর “রাইসুল ইসলাম আতিফ AKA হারামখোর” (তার নিজের ভাষ্যমতে)  আর ট্যাবলেট বাবা খেয়ে  জন্মদাতা বাবার মান সম্মান খেয়ে দেয়া ফারিহা এর মত অনেকে রাতারাতি নাম ডাক কামাচ্ছে যা তারা ডিজার্ভ করেনাই ।

যারা সত্যিকারের মানুষ, যারা সমাজের জন্য ভাল কিছু করছেন তাদের ফলো করুন। যারা ভাল কাজ আপনাদের সামনে এনে উপস্থাপন করছে তাদের ফলো করুন। ভাল কাজ এর নমুনা শেয়ার করে মানুষকে জানিয়ে দিন সেই ক্রিয়েটিভ মানুষগুলোর ব্যাপারে।

শব্দগুলোর সঠিক ব্যাবহার করতে শিখা উচিত আমাদের। তাহলেই অনেক লুকায়িত প্রতিভা উঠে আসবে যারা আসলেই ফেমাস হবার যোগ্য ,যাদের কাজ ভাইরাল হবার যোগ্য, যাদের আসলেই এটেনশন দরকার যেন আরো ভাল কাজ আমাদের উপহার দিতে পারে, তারাই ফলোইং হবার দাবী রাখে।

একজন চেস্টার বেনিংটন এর মৃত্যু আর তার কারন

Now Reading
একজন চেস্টার বেনিংটন এর মৃত্যু আর তার কারন

আমরা যারা নব্বই দশকের মানুষ, অধিকাংশের ইংরেজি গান শুনার হাতেখড়ি হয়েছিল In The End নামের একটা গান দিয়ে। একটা ভিডিও যেখানে একটা অনেক লম্বা মুর্তির উপর একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে কলার বোতাম লাগানো একজন গান গাচ্ছে, আরেকজন র‍্যাপ দিচ্ছে। চেস্টার চার্লস বেনিংটন কে সেখান থেকেই আমরা বেশিরভাগ মানুষ চিনি। সাথে মাইক শিনোডার র‍্যাপ পার্ফরমেন্স আমাদের মুগ্ধ করে দিয়েছিল। গানের কোরাস লাইন এর কথাগুলোতে চেস্টার বলেছিল –

I tried so hard and got so far
But in the end, it doesn’t even matter
I had to fall to lose it all
But in the end, it doesn’t even matter

কাল রাতে যখন চেস্টারের মৃত্যুর খবর পেলাম, তখন মনে হলো  It maters.  খবর শোনার পরপরই খুব অশান্ত লাগছিল ভিতর থেকে। মনে পড়ছিল  কিভাবে স্কুলের শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে লাইনগুলো আওরাতে আওরাতে বন্ধুদের সাথে প্রতিযোগীতা করতাম যে কে বেশি ভাল করে গাইতে পারে। বাসায় সন্ধ্যায় বাবা ফিরলে বাবার ফোন নিয়ে বারান্দায় চলে গিয়ে অল্প শব্দে গান শুনতাম। যেদিন এক বড় ভাই বলেছিল যে ইংরেজি গান শুনতে, মুভি দেখতে – তাহলেই ইংরেজিতে আরো ভাল কথা বলতে পারবো, সেদিন আর আমাকে পায় কে! সারাদিন লিনকিন পার্ক এর গান শুনেছিলাম। কারন তখন এই একটা ব্যান্ডকেই চিনতাম আর রক-হেভিমেটাল-অল্টারনেটিভ রক গাইত বলে ভাল লাগত।

ভালবাসাটা সেখান থেকেই শুরু । তখন বুঝিনি এর সাদা মানুষটার মৃত্যু এক নির্ঘুম রাত এনে দিবে আমাকে, কাদাবে প্রতিক্ষণে যতবার আমি তার কন্ঠ শুনবো। আমাদের কৈশোর কালের অনুপ্রেরণা ছিল এই মানুষটা। তার মত শার্টের টপ বোতাম লাগিয়ে ঘুরতাম, হাতে মার্কার দিয়ে ট্যাটু করতাম,  আয়নার সামনে চিল্লিয়ে দেখতাম ঘাড়ের রগ ফুলে উঠে নাকি। বন্ধুদের সামনে গাইতে চেস্টা করতাম উলটা পালটা লিরিক্স দিয়ে ভাব নেয়ার জন্য। পুরো কৈশোর কালটাই মনে পড়ছে আজ। নতুন এলবাম বের হলে দৌড় শুরু হয়ে যেত আমাদের যে কে আগে গান সংগ্রহ করতে পারে।

চেস্টার বেনিংটোন আর নেই। গত ২০ জুলাই,২০১৭ তারিখে, লস এঞ্জেলস এ তার নিজের এপার্টমেন্ট এ তার লাগ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দিনটা স্পেশাল ছিল কারন সেদিন চেস্টার এর ঘনিষ্ট বন্ধু ক্রিস কর্নেলের জন্মদিন ছিল যে কিনা ঠিক দুইমাস আগে নিজেও সুইসাইড করেছে। বন্ধুর জন্মদিনে লিংকিন পার্ক তাদের নতুন এলবামের টাইটেল ট্র্যাক “Talking To Myself” গেয়ে বন্ধুকে উৎসর্গ করে আর ইউটিউবে অফিসিয়াল ভিডিও রিলিজ করে ।

তো এমন আবেগঘন খুশির দিনে কেন চেষ্টার সুইসাইড করলো? বলা হচ্ছে অতিরিক্ত ড্রাগস আর হতাশার কারনে সুইসাইড করেছে আমাদের চাইল্ডহুড হিরো। আসলেই কি তাই? নাকি এর পিছনে অন্য কোন রহস্য আছে।

এন্টিনিউজ নেটওয়ার্ক নামের একটি সাইটে বলা হচ্ছে – “চেস্টার বেনিংটন তার বন্ধু ক্রিস কর্নেল এর মৃত্যু রহস্য প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন”। তবে কি ক্রিস কর্নেল ও সুইসাইড করেননি? আর সেটা যেন জনসম্মুখে না আসে সেটার জন্যই চেস্টারকে সরিয়ে দেয়া হল?

আরো বলা হচ্ছে চেস্টার এর হত্যায় তার স্ত্রীর প্ররোচনা ছিল। চেস্টার এর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী টালিন্ডার টুইটার থেকে কিছু টুইট করা হয় ।  বলা হয় – “আত্নহত্যার জন্য আমিই তাকে প্ররোচনা দেই। আমি বলেছিলাম এটা করলে কারো যায় আসেনা। ”

“আমার মনে হচ্ছে এখন এটা প্রকাশ করা উচিত। আমি মাইক শিনোডার সাথে সম্পর্ক করে চেস্টারকে ধোকা দিচ্ছিলাম।”

“আমার দৃষ্টিতে মাইক বেশি যোগ্য। আমি তাকে কখনোই ভালবাসিনি এবং আমি হ্যাকারদের শিকার নই। বলতে খারাপ লাগছে আমি তার অর্ধেক ভালবাসতাম”

পোস্টগুলো করার একঘন্টার মাঝেই সরিয়ে নেয়া হয়। অনেকের ধারণা হ্যাকিং এর শিকার হয়েছে ট্যালিন্ডার একাউন্ট।

তবে কি ক্রিস জেনে গিয়েছিল এই সম্পর্ক তাই প্রথমে ক্রিস আর পরে চেস্টার নিজেও এই সম্পর্কের বলি হলো? সত্যিই কি মাইক শিনোডার সাথে টালিন্ডার সম্পর্ক আছে? যাই থাকুক, সত্য দ্রুত উন্মোচিত হবে।

আমরা যারা ছোটকাল থেকে চেস্টার বেনিংটন এর ফ্যান, তারা সবাই কমবেশি তার জীবন সম্পর্কে জানি। ছোটোকালে সে চাইল্ড মলেস্টার এর হাতে নির্যাতিত ছিল এবং বাবা-মার ডাইভোর্স হয়ে যাবার পর তার বাবা যখন তার দ্বায়িত্বে আসলেন, তারপর চেস্টার  বিভিন্ন ড্রাগসে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। তারপর ড্রাগস ছেড়ে ২০১১ সালে,ওয়ার্ল্ড ট্যুর এর সময় মদ্যপান করেন প্রচুর আর বলেছিলেন – “I just don’t want to be that person anymore.”

প্রথম স্ত্রী সামান্থার অলিট সাথে বিচ্ছেদ এর পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন টালিন্ডা বেন্টলিকে।  ৬ সন্তানের জনক এই ৪১ বছর বয়সী চেষ্টার জীবনে অনেক চড়াই উৎরাই পার করে এসেছেন। যতবার ডিপ্রেশন তাকে আকড়ে ধরেছে তিনি বলেছেন – “আমি কথা বলেছি। নিজের সাথে, বন্ধুর সাথে, সন্তান আর স্ত্রীর সাথে”। তাহলে আজ কেন তিনি আর পারলেন না নিজেকে আরেকবার কথা বলাতে?

চেস্টার বেনিংটন কে আর কখনো গাইতে দেখবোনা। অনেক ইচ্ছা ছিল জীবনে লিনকিন পার্কের কনসার্ট এ যাবো। চামড়ার চোখে চেস্টার আর মাইক কে দেখবো। লাখ ফ্যানের মাঝে আমিও চিয়ার আপ সাউন্ড করবো আর ছবি তুলে বন্ধুদের দেখিয়ে বলব – “দেখ, আমি আমার স্বপ্নের তারকার সাথে দেখা করেছি, যাদের গানের কথা আমাদের বাচ্চাকাল থেকে অন্যতম মোটিভেশন এর কারন, আমি তাদের দেখতে এসেছি”। একটা স্বপ্ন অধরা থেকে গেল। চেস্টার চলে যাবার আগে অনেকবার তার গানের কথায় বলতে চেয়েছেন তার চলে যাওয়ার আগাম ঘোষনাকে। তার শেষ গান “Heavy” এর কথাগুলো ছিল – I don’t like my mind right now , Stacking up problems that are so unnecessary , Wish that I could slow things down. ব্যান্ড মেট মাইক শিনোডা এই লিরিক্স সম্পর্কে বলেছেন – “ যেদিন এই গানের লিরিক্স লেখা হয় সেদিনও চেস্টা বিমর্ষ ছিল। আমরা একসাথে হ্যাং আউট করার কথা তাকে জানালে সে বলে যে সে ভাল অনুভব করছে না। তার ভাল লাগছিল না। ”

 

এছাড়াও আরো অনেক গানে তিনি বলতে চেয়েছেন তা মনের আকুতি। আমরা বুঝিনি, বুঝতে পারলে কোনোদিন প্রিয় রক গায়ককে এভাবে চলে যেতে দিতাম না।

প্রিয় চেস্টার চার্লস বেনিংটন,  যেখানেই থাকো, ভাল থাকো। সারাজীবন তুমি বেচে থাকবে আমাদের মাঝে তোমার গায়কী দিয়ে।

 

রেফারেন্স –

  1.   https://goo.gl/ibZ4RZ
  2.   https://goo.gl/ZpTGBt
  3.   https://goo.gl/dCTQkq

ডুবন্ত আমি থেকে স্বনির্ভর আমি

Now Reading
ডুবন্ত আমি থেকে স্বনির্ভর আমি

“আমার জীবনে তো কিছু হলো না, হবেও না। আমি কই যাবো? কিভাবে নিজেকে উপরে তুলবো? আমার এর দুঃসময় কি আদৌ কাটবে? আমি নিজেকে কিভাবে শুধরাবো?”- ইত্যাদি ইত্যাদি চিন্তা সারাক্ষণ মাথায় ঘুরে। হতাশা আপনাকে অক্টোপাশের মত ঘিরে আছে। সাহায্যের সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। জীবনের আশার আলোর প্রদীপটা নিভু নিভু করছে। গার্লফ্রেন্ড চলে গেছে? চাকরী নাই? পড়াশোনায় খারাপ বলে আশে পাশের সামাজিক প্রাণীদের কটু বাক্য প্রতিদিন শুনেন? দেনায় ডুবে আছেন? আচ্ছা রিলাক্স। আপনার মত এমন হাজারো ভুক্তোভুগি আপনার ই আশে পাশে ঘুর ঘুর করছে । হয়ত কারো কারো সমস্যা আপনার চেয়েও বিশাল। এদের মাঝে অনেকে হাত কাটা-কাটি,নেশা করা, সুইসাইড ইত্যাদি বাজে কাজগুলোর দিকে যাচ্ছে বা যাবার চিন্তা করছে । আপনার ও অবস্থা সেদিকে যাবার পথে। কি যাবেন সেই পথে নাকি একটু নিজেকে সামলে আগের চেয়ে দ্বিগুণ তেজে নিজেকে ঝালিয়ে নিয়ে নতুন করে শুরু করতে চান জীবন? আজকের পোস্টটা সেই জীবনযুদ্ধে পরাজিত কিন্তু আশা বাচিয়ে রাখা মানুষগুলোর জন্যই ।

একটা গল্প বলি শুরুতে। একটা ছেলের গল্প। ছেলেটা না ছিল ভাল স্টুডেন্ট না ছিল দেখতে আহামরি না ছিল ধনী পরিবারের।৫ম এবং ৮ম শ্রেনীতে বৃত্তি পায়নি বলে ৩ মাস নিজ পরিবারে একঘরে করে রাখা হয়েছিল তাকে । অনেক এক্সপেকটেশন থাকা সত্বেও সে পারেনি মাধ্যমিক এ পরিবারকে ভাল রেজাল্ট এনে দিতে।  এভারেজ রেজাল্ট নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর পরিবার আর সমাজের বাক্যবাণে জর্জরিত হয়ে পাবলিক ভার্সিটি ট্রাই ই করলো না।  ২ বছর পড়ার পর আর্থিক অসঙ্গতি এর কারনে পড়াশোনা স্থগিত থাকলো তার । সমাজ জানলো রেজাল্ট খারাপ এর জন্য ভার্সিটি তাকে কিক আউট করেছে। এতটাই ভেঙ্গে পড়েছিল সে , তার ঘর ছিল তার কারাগারের সেল। এমতাবস্থায় ভালবাসার মানুষটিও তাকে একলা করে পরপারে পাড়ি জমায় । ৬ টা মাস সে তার মেসের রুম ছাড়া কিছু চিনতো না।

নাহ! ছেলেটা সুইসাইড, হাত কাটাকাটি করেনি। নিজেকে উপযুক্ত বানিয়েছে। শান দিয়েছে নিজের মস্তিষ্কে। এভারেজ রেজাল্ট করা ছেলেটা আজকে তারই সমবয়সী ছেলেগুলার মাঝে স্পেশাল । সবাই তাকে আলাদাভাবে এডামায়ার করে। সমাজ তাকে সাদরে আমন্ত্রন জানায়। নিজের পড়াশুনা আবার শুরু করেছে সে । এবার নিজেই খরচ চালায় নিজের। বাবা – কেও খুশি রাখে।  বোনের আবদার মিটায় । কিভাবে?

সবার আগে নিজের ভিতর নিজেকে খুজুন। উপরে যিনি বসে আছেন, তিনি সবাইকে প্রিমিয়াম প্রোডাক্ট হিসেবে বানিয়েছেন। প্রত্যেকের এই দুনিয়াতে আসার পিছনে কোন না কোন কারন আছে। নিজের মুল্য নিজেকে খুজতে হবে। আপনার চারপাশের মানুষগুলোর মাঝে নিজের একটা ভ্যালু সৃষ্টি করার চেস্টা করেন। আপনি বলবেন – “মাথা থেকে মন খারাপের কারন সরাতে পারিনা। কি করবো?” আমার উত্তর হবে নেশা করুন। এই নেশা মাদকের না। এই নেশা হতে পারে সঙ্গীতের, এই নেশা হতে পারে পেইন্টিং এর, এই নেশা হতে পারে বইয়ের, এই নেশা হতে পারে লেখালেখির, খেলাখুলার, বাগান করার ইত্যাদি যে কোন কিছু যা আপনার করতে ভাললাগে এবং খুব মনযোগ দিতে করতে পারেন। এমন কাজের নেশা করুন যা করার সময় অন্য কোন দিকে আপনার মন যেতেই পারবে না।

মনে রাখবেন – টাইম ইজ এ গ্রেট হিলার। নিজেকে নিজে সময় দেন। ক্ষতগুলো একসময় সেরে যাবেই। কোন কিছুই চিরস্থায়ী না আর এ তো সামান্য ছিটকে পড়া। ছিটকে পরে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আসা আমাদের উচিত না, বরং পুনরায় লেগে পরা উচিত। নিজের ভেতর একটা জিদ নিয়ে আসুন নিজেকে সফল দেখার। সময় পেলে সাফল্যে ঘেরা মানুষগুলোর জীবনী পড়ুন। দেখবেন তাদের লাইফের অবস্থা আপনার চেয়ে দুর্বিষহ ছিলো। তারা পারলে আপনি কেন পারবেন না? জ্যাক মা, কলোলেন স্যান্ডার্স কে দেখুন । জ্যাক মা টুরিস্টদের ফ্রি গাইড হিসেবে কাজ করতেন শুধু ইংরেজি শিখার জন্য কারন তিনি বুঝেছেন শিক্ষা ছাড়া নিজের অবস্থার উন্নতি সম্ভব না আর সেই শিক্ষা হতে হবে সু-শিক্ষা । আর সেই মানুষ দুনিয়ার অন্যতম সেরা অনলাইন মার্কেট আলীবাবা ডট কম এর মালিক । স্যান্ডার্স সাহেব তো ফেইলিউর এর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহারন। ফেইল ছাড়া তার লাইফে কি আছে? সুইসাইড করার স্পটে বসে মৃত্যুকে মধ্যাঙ্গুলি দেখি নিজেকে ঝাড়ি মেরে দাড়ালেন। আজকেই কে এফ সি তারই সেদিনের নিজেকে বুস্ট আপ করার ফসল।  এই মানুষগুলোর স্ট্রাগলিং পিরিয়ড এর গল্প গুলো পড়েন । নিজেকে বিশ্ব কাতারে দাড় করানোর মত সামর্থ্যে অর্জন করেন। সমসাময়িক ব্যাপারগুলোর ব্যাপারে নিজের জ্ঞান রাখুন। ভাবতে পারেন – কি লাভ হবে? ১ম লাভ, আপনি ব্যাস্ত থাকতে পারবেন। ২য় লাভ, আপনার নিজের জ্ঞান বাড়বে আর ৩য় লাভ যখন নিজেকে পুরোপুরি রিকোভারি করতে পারবেন তখন নিজের উপর প্রাউড ফিলিং আসবে এই ভেবে যে আপনি ভুল পথে পা বাড়াননি।

যতক্ষন না আপনি নিজের সাহায্যে নিজে করছেন, কেউ আপনার সাহায্য করতে পারবে না এটা লিখে রাখুন। ইভেন কোন সাইকাট্রিস্ট ও না। আপনি নিজেকে নিজের যোগ্য করে গড়ে তুলুন, প্রতিদিন একটু করে নিজেকে সমৃদ্ধ করুন যাতে ১০ বছর পর উপরে বসা বিধাতেকে ধন্যবাদ দিয়ে নিজের বুক নিজে চাপড়ে বলতে পারেন  – হ্যা, আমি নিজের উপর আর গর্ববোধ করছি।

ভালবাসার অন্তর্ধান

Now Reading
ভালবাসার অন্তর্ধান

– মামা চা দাও তো।
– আবার খাইবেন?
– হুম, ক্যান সমস্যা?
– না এই নিয়া গত ২ ঘন্টায় ১৩ কাপ খাইছেন।
– আরো লাগবে, তোমার দোকান তো সারারাত খোলা তাইনা?
– হ, সারারাত খাইবেন?
– হুম।দাও চা দাও।

দুই কাপ চা আর ২ টা ব্যানসন নিয়ে প্রতিক এসে সামির পাশে বসলো।

– নে খা, টেনশন করিস না। আল্লাহ সব ঠিক করে দিবে।
– দোস্ত, কি হবে কি জানে। ওর কিছু হলে আমি পুরা পাগল হয়ে যাবো।
– তুমি আমার বাল হবা। নে ব্যাটা খা। উপরে আল্লাহ আছে, সব ঠিক করে দিবে।
– কালও মালয়েশিয়া যাচ্ছে। মিলি কে বলে ওর সাথে দেখা করার একটা সুযোগ নিতেই হবে।
– মিলি কে জানি?
– ওর ছোট বোন।
– অহ, আচ্ছা চা শেষ করে মিলিরে কল দে। দেখ ওর আব্বু আম্মু কেবিন থেকে বের হইছে নাকি। হইলে তুই ওরেও দেখে আয় আর ওর ডক্টর এর সাথেও কথা বলে আয়।
– হুম।

সিগারেট শেষ করে মিলিকে কল দিলো সামি। আব্বু আম্মু ক্যান্টিনে চলে গেছে। সামি দৌড়ে ৫ তালায় ৫০২ নং কেবিনে গেল। তানজি শুয়ে আছে। পুরা শরীরটাই ব্যান্ডেজ এ মোড়া । কপালে হাত রেখে গালে একটা চুমু খেল সামি।

সামি এর দুনিয়ার অনেক বড় একটা অংশ তানজি। ২বছর ধরে একজন আরেকজন কে পাগলের মত ভালবাসে। ভার্চুয়াল জগতেই পরিচয়,কিন্তুকেউ কাউকে দেখেনি। ভালবাসা টা এজন্যই আরো জোরালো। সামি সেমিস্টার ফাইনাল শেষ করেই যখন ঢাকা এসে তানজি এর সাথে দেখা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ই মিলির ফোন।

– ভাইয়া
– হুম মিলি বলো।
– ভাইয়া আপু এক্সিডেন্ট করেছে। এখন হসপিটাল এ।

সামি অলমোস্ট আধামরা হয়ে কল টা কেটেই প্রতিক কে নিয়ে ঢাকা রওনা দেয়। গত দুই দিন ধরে ওর ঠিকানা হসপিটালের নিচের এই টং দোকান আর সুযোগ পেলে তানজির কেবিন।

– ডক্টর, হাউজ শী।
– এখনো কিছু বলা যাচ্ছেনা। বাচানো টাফ, আর সেটা হলেও হয়ত প্যারালাইজড হয়ে থাকতে হবে কারন লেফট সাইডের সবগুলো বোনস ড্যামেজড।
– ডোন্ট টক লাইক শীট।ওকে ভাল করে তুলুন। আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো আপনার কাছে।
– আমাদের হাতে কিছুইনেই। আল্লাহ ভরসা এখন। কাল তো মালয়শিয়া যাচ্ছে,ফর হায়ার এন্ড বেটার ট্রিটমেন্ট,হোপ ফর দ্য বেস্ট।

মাথা নিচু করে সামি ফিরেআসে।

সকালে তানজীকে নিয়ে যাবার আগে ওর মা-বাবার সাথে দেখা করবে। কি বলবে জানেনা, বাট দেখাটা করবে।

নিচে এসে আবার চা সিগারেটে ডুব দিলো।

সকাল ৭ টা। ৭.৩০ এ এম্বুলেন্স আসবে। ৯ টায় ফ্লাইট। সামি তানজীর কেবিনের সামনে গেল। ওর আব্বু সামিকে ভেতরে ডাকলো।

– বাবা তোমার কোন পেশেন্ট এখানে এডমিট?
– জ্বী আংকেল।
– কোথায় কত নং কেবিনে? তুমি দিনরাত এখানেই পড়ে আছো। গত দুদিন ধরে দেখছি। কি হয়েছে পেশেন্টের?

এমন সময় মিলি ঢুকলো। সামিকে ওর বাবার সাথে দেখে বেশ ঘাবড়ে গেল।

– ভাইয়া আপনি?
– মিলি, তুই ওকে চিনিস?
– হুম।
– কিভাবে?
– আপুর ফ্রেন্ড। দিনাজপুর থেকে এসেছে।

তানজীর বাবা, সামিকে বাইরে নিয়ে গেলেন। উনি বুঝতে পেরেছেন যে সামি কে আর কেন এসেছে। কথা বলার জন্যবাইরে নিয়ে গেলেন।

ফিরে এসে বললেন,- সামি তুমি বসো। আমি রিলিজ এর কাজ শেষ করে আসি।
সামির ফ্যাকাশে রিপ্লাই –জ্বী আংকেল, আচ্ছা।

তানজির পাশে এসে সামিবসলো। তানজির ঘুম ভেঙেছে।

– কেমন আছো ?
– চুপ, রেস্ট করো। বলতে বলতেই সামির চোখ দিয়ে ব্যাথা গড়িয়ে পড়লো।
– সামি আমার বুক জলতেছে।মাথা টা মনে হয় ফেটে যাচ্ছে।আমার হাত টা ধরো।
– কি? আমি ডক্টর ডাকছি।

সামি ডক্টর এর নাম ধরে চিল্লিয়ে উঠলো। দুজন নার্স দৌড়ে এলো।
নার্স বললো,
– আপনি বাইরে যান।
– না ও থাকুক। সামি আমার হাত টা ধরো। অনেক ভালবাসি তোমায়।
– তোমার কিচ্ছু হবেনা। সব ঠিক হয়ে যাবে। নার্স প্লিজ চেক হোয়াট ইজ হ্যাপেনিং উইথ হার। একটু শান্ত হও।
– সামি, আব্বু আম্মুর সাথে যোগাযোগ রেখ। তুমি ভাল থেক। আমাকে ভালবাসো তো তাইনা?
– অনেক ভালবাসি প্লিজ এভাবে বলো না। তোমার কিচ্ছু হবেনা।

তানজীর নাক দিয়ে রক্ত যাচ্ছে। চোখে রক্তের রগ দেখা যাচ্ছে। মুখ লাল হয়ে গেছে।

সামি আবার চিল্লিয়ে উঠলো– সামওয়ান প্লিজ চেক হোয়াটস গোইয়িং অন? আল্লহর দোহাই লাগে, কেউ একটু ওকে সুস্থ করেন।

তানজী সামির হাত ধরে একটা চুমু খেয়ে ডান দিকে মাথা এলিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো।ঘুমটা আর ভাঙ্গবে না। ঘুমটা চিরোদিনের জন্য।

আর সামি?
সারাজীবনের জন্য ঘুমহীনরাতকে আপন করে নিল।

কিছু ভালবাসা শেষ হয়েও হয়না। একটা টু বি কন্টিনিউড সাইন রেখে যায়। সময় যেমন কেটে যায়, কিন্তু কাটা দাগটা থেকে যায়, তেমনি ওদের এক হওয়ার সম্ভাবনা এখানেই শেষ কিন্তু না পাওয়ার আক্ষেপ তা সারাজীবন সামি বয়ে বেড়াবে।

কিছু ভালবাসা থেকেও না থাকার মত,
আবার কিছু ভালবাসা না থেকেও বেচে থাকে অনুভবের মাঝে।

তানজি নাহয় সেভাবেই সামির মাঝে বেচে থাকবে।

আজকাল কেউ যখন সামিকে প্রশ্ন করে – কিরে তো জি এফ নাই?
সামি সেই ফ্যাকাশে হেসে উত্তর দেয় – ভালবাসাটা সবার কপালে জোটে না রে পাগলা। যাদের কপালে জোটে তারা ভাগ্যবান।

 

ডিপ ওয়েব এর উপাখ্যানঃ ২য় পর্ব

Now Reading
ডিপ ওয়েব এর উপাখ্যানঃ ২য় পর্ব

সতর্কতাঃ আজকের আর্টিক্যালটি পড়া শুরু করার আগে আমি আপনাদের কাছে কিছু অনুরোধ রাখবো । আমরা কৌতুহলী মনে এমন অনেক কাজ করে ফেলি , যেটার জন্য পরে অনুশোচনা করতে হয় । ডিপ ওয়েব এত ক্রিটিক্যাল একটি স্থান যেখানে আপনার একটি ভূল পদক্ষেপ আপনার জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারন হতে পারে। আমি কথা গুলা এজন্য বলছি কারন আমি আজ থেকে ২ বছর আগে ডিপ ওয়েব নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করেছিলাম এবং এমন কিছু দেখে ফেলেছিলাম যা দেখা আমার উচিত হয়নি আর সেটার জন্য আমাকে পরে ৪ মাস মাশুল দিয়ে হয়েছে। তাও আমি আপনাদের শুধু জানার উদ্দেশ্যে এই লেখাটি লিখছি কারন জ্ঞান সবার থাকা উচিত , নাহলে ভাল খারাপ এর ব্যাপারে বিচার কিভাবে করবেন?

ডিপ ওয়েব এর ঘটে যাওয়া কাজ গুলোর মাঝে হ্যাকিং এর পরিমান সবচেয়ে বেশি । এই হ্যাকিং ফেসবুক হ্যাকিং, জিমেইল হ্যাকিং, ক্ল্যাশ অফ  ক্ল্যান এর আইডি হ্যাকিং না। হ্যাকিং নানা প্রকার না। প্রথম কথা বলে রাখা উচিত যে ডিপ ওয়েব এর টাকা পয়সা লেনদেন জনিত ব্যাপারগুলো ঘটে বিটকয়েন এর মাধ্যমে। বিটকয়েন এর ব্যাপারে যদি জানতে চান তাহলে এই পোস্টের শেষে আমি একটি ভিডিও লিংক দিয়ে দিব যেখানে থেকে আপনি জানতে পারবেন যে বিটকয়েন কি আর কিভাবে কাজ করে। এটি একটি অনলাইন কারেন্সি সিস্টেম। আর যা কিছুই অনলাইন এ তাই হ্যাক হবার মত যোগ্যতা রাখে। একটা জার্মান হ্যাকিং রিলেটেড মুভি যার নাম – “ নো সিস্টেম ইজ সিকিউর ”, সেখানে দেখানো হয়েছিল মাল্টিপল পার্সোনালিটি এর মাধ্যমে একজন হ্যাকার পুলিশ কে বিভ্রান্ত করে টাকা হাতিয়ে নেয় তার গ্রপ সহ। আমার এই কথা বলার মানে এই যে যত সুরক্ষা ই ব্যাবহার হয় না কেন,  সেটা ভাঙ্গার কোন না কোন নিয়ম থাকেই। নাহলে কি আর দুনিয়ার অন্যতম সেরা ওয়েব সাইট , নাসার ওয়েবসাইট দিনে কয়েক হাজার বার হ্যাকিং এর স্বীকার হয়?

হ্যাকার হওয়া কোন মামুলি ব্যাপার না। অনেক জ্ঞান আর সময়ের ব্যাপার। একজন মানুষ কেন এত সময় নস্ট করে হ্যাকিং শিখার পিছে? ১ম উত্তর আসে টাকা। কারন আমাদের ব্যাংকিং ব্যাবস্থা অনলাইনে চলে এসেছে আর অনলাইনে থাকা পণ্য চুরি করা যাবেই মানে হ্যাক করা যাবেই। আর ডিপ ওয়েব এ যেহেতু কারেন্সি হিসেবে বিটকয়েন চলে সেহেতু এখানে একবার হ্যাক করলেই হাজার হাজার টাকা কারন একটা বিটকয়েন এর মুল্য ১২০০ ডলার প্রায়।

ডিপ ওয়েব হলো গ্লোবাল ব্ল্যাক মার্কেট এ ঢুকার সুরঙ্গ । সাধারণ জীবনে যা নিষিদ্ধ , সেই জিনিসের জন্য ডিপ ওয়েব সমৃদ্ধ। যে কোন প্রকার ড্রাগস, গানস এন্ড এমোস, কন্ট্রাক্ট কিলার ভাড়া করা, রেইপ ভিডিও (এক্সপ্লিসিট কনটেন্ট) , খুনের ভিডিও, রেড রুম ভিডিও, সাটানিজম এর সিক্রেট কমিউনিটি , ক্রেডিট কার্ড এর ইনফরমেশন চুরি, ম্যাচ ফিক্সিং এর কনভারসেশনস, ফেইক কিন্তু দেখতে একসম রিয়েল পাসপোর্ট তৈরী করা সহ আরো অনেক কাজ হয়।

নিচে কিছু লিংক দেয়ার চেস্টা করলাম যেগুলো ডিপ ওয়েব এর সাইটের লিংক এবং টর ব্রাউজার ছাড়া এই লিংক গুলাতে না ঢুকার জন্য অনুরোধ করবো।

লিংক –

http://zqktlwi4fecvo6ri.onion/wiki/index.php/Main_Page – Uncensored Hidden Wiki

http://2vlqpcqpjlhmd5r2.onion/ – Gateway to Freenet

http://idnxcnkne4qt76tg.onion/ – Tor Project: Anonymity Online

http://torbrokerge7zxgq.onion/ – TorBroker – Trade securities anonymously with bitcoin, currently supports nearly 1000 stocks and ETFs

http://nr6juudpp4as4gjg.onion/doublecoins.html – Double Your BitCoins

http://lw4ipk5choakk5ze.onion/raw/4588/ – High Quality Tutorials

http://rso4hutlefirefqp.onion/ – EuCanna – Medical Grade Cannabis Buds, Rick Simpson Oil, Ointments and Creams

http://newpdsuslmzqazvr.onion/ – Peoples Drug Store – The Darkweb’s Best Online Drug Supplier!

http://74ypjqjwf6oejmax.onion/ – Beneath VT – Exploring Virginia Tech’s Steam Tunnels and Beyond

http://76qugh5bey5gum7l.onion/ – Deep Web Radio

http://edramalpl7oq5npk.onion/Main_Page – Encyclopedia Dramatica

http://ih4pgsz3aepacbwl.onion/ – Hushbox

http://ad52wtwp2goynr3a.onion/# – Dark Like My Soul

http://tns7i5gucaaussz4.onion/ – FreeFor

http://gdkez5whqhpthb4d.onion/ – Scientology Archive

http://newsiiwanaduqpre.onion/ – All the latest news for tor

http://5vppavyzjkfs45r4.onion/ – Michael Blizek

http://7ueo7ahq2xlpwx7q.onion/ – AYPSELA News

http://7hk64iz2vn2ewi7h.onion/ – Blog about Stories

http://tigas3l7uusztiqu.onion/ – Mike Tigas

http://mpf3i4k43xc2usxj.onion/ – Sam Whited

http://7w2rtz7rgfwj5zuv.onion/ – An Open Letter to Revolutionaries

http://3c3bdbvhb7j6yab2.onion/ – Totse 2

http://4fvfamdpoulu2nms.onion/ – Lucky Eddie’s Home

http://nwycvryrozllb42g.onion/searchlores/index.htm – Fravia’s Web Searching Lore

http://newsiiwanaduqpre.onion/ – OnionNews – Blog about the onionland

http://zbnnr7qzaxlk5tms.onion/ – Wiki Leaks

http://salted7fpnlaguiq.onion/ – SALT

http://yj5rbziqttulgidy.onion/ – Itanimulli

http://bbxdfsru7lmmbj32.onion/marketplace/ – Delta Initiative

http://2ogmrlfzdthnwkez.onion/ – Rent-A-Hacker

 

বিটকয়েন এর ব্যাপারে জানতে  – https://www.youtube.com/watch?v=cFj72hrUZt4

সামনে ডিপ ওয়েব নিয়ে আরো জানতে চাইলে জানাতে পারেন কমেন্ট করে। আপনাদের আগ্রহ এর ভিত্তিতেই লেখা হবে।

 

রেফারেন্স –

http://www.hackstories.com/

http://www.dailymail.co.uk

 

 

ডিপ ওয়েব এর উপাখ্যান

Now Reading
ডিপ ওয়েব এর উপাখ্যান

আমরা যারা কম্পিউটার এর ব্যাপারে সম্যক কিছু জ্ঞান রাখি তারা ডিপ ওয়েব এর নাম একবার হলেও শুনেছি। ডিপ ওয়েব এর ব্যাপারে লোকমুখে নানা কথা প্রচলিত আছে। কেউ বলেন এটা হ্যাকারদের স্বর্গ রাজ্য , আবার কেউ বলেন এখানে কালো টাকা, কন্ট্রাক্ট কিলিং এর মত ব্যাপারগুলার বোঝাপড়া হয় মাফিয়াদের মাঝে। কেউ বলেন এখানে এলিয়েনদের সাথে যোয়াযোগ করার সিস্টেম আছে তো কেউ বলেন জায়গাটাই ভৌতিক।

আপনার কি মনে হয়? কি ঘটে এখানে?  আপনি কতখানি জানেন ডিপ ওয়েব এর ব্যাপারে? সাথে থাকুন।

ডিপ ওয়েব কি?

পুরো ইন্টারনেট জগতকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। একভাগ হলো সারফেস ওয়েব , আরেকভাগ হলো ডিপ অয়েব। সারফেস ওয়েব হলো যা আমরা সহজেই এক্সেস করতে পারি বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন এর মাধ্যমে। আর ডিপ ওয়েব হলো www বা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর সে অংশ যার ইনফরমেশন আমাদের সমসাময়িক জীবনে ব্যবহৃত সার্চ ইঞ্জিন গুলোর কাছে পাওয়া যাবেনা । কি কারনে পাওয়া যাবেনা সেটা খোদ উইকিপিডিয়া ও জানায়নি। তবে আজ আমরা জানার চেস্টা করবো। সার্চ ইঞ্জিন হলো গুগল, ইয়াহু, আস্ক, বিং, দাউম, এক্সাইট,হটবট এর মত সাইট , যা দিয়ে আমরা নানা কিছু সার্চ করি।

বলা হয় সারফেস ওয়েব হলো মোট ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব এর মাত্র ২%। এই দুই শতাংশ এতই বিশাল যে একজন মানুষ জন্ম থেকে নিয়ে ব্রাউজ করা শুরু করলেও সে শতায়ু বছর হলেও মৃত্যুর সময় পর্যন্ত ব্রাউজ করলে খুব বেশি একটা এক্সপ্লোরিং করতে পারবে না। কারো একার পক্ষে এই ২% একা ব্রাউজ করা অসম্ভব কাজ।

আর ডিপ ওয়েব এ আছে বাকি ৯৮%। ভাবতে পারেন এর পরিধি কত বিশাল?

চোখ বন্ধ করে ৫ মিনিট ভাবুন।

কিভাবে ঢুকা যায় সেই ডিপ ওয়েব এ?

আমরা সাধারণত যেভাবে ইন্টারনেট ব্রাউজ করি সেভাবে আমরা ডিপ ওয়েব এ যেতে পারবো না। আমরা গুগল ক্রোম, মজিলা ফারারফক্স/ওয়াটারফক্স, ম্যাক্সথন ব্রাউজার, অপেরা মিনি দিয়ে নরম্যাল ইন্টারনেট ব্রাউজ করলেও ডিপ এ ঢুকার জন্য আমাদের ভিন্ন একটি ব্রাউজার ব্যাবহার করতে হবে। এর নাম টর ব্রাউজার। অনেকে অনিয়ন ব্রাউজার ও বলে।

ডিপ ওয়েব এ ঢুকার ক্ষেত্রে আমাদের কিছু সিকিউরিটি প্রটৌকল মেনে চলতে হবে নিজেদের সুরক্ষার জন্য। এখানে হ্যাকারদের দৌরাত্ব খুব বেশি হবার কারনে আমাদের নিজেদের কম্পিউটারের আইপি এড্রেস পরিবর্তন করে নিতে হয়। নাহলে আমাদের ফুটপ্রিট থেকে গেলে সেগুলো হ্যাকাররা নিজেরা ব্যবহার করে আর আমরা বিপদে পড়তে পারি।

উল্লেখ্য ,উইন্ডোজ বার দিয়ে যদি কালি লিনাক্স থেকে ব্রাউজ করা হয়, তাহলে হ্যাকড হবার সম্ভাবনা নেই। কারন কালি লিনাক্স নিজের সিকিউরিটির ব্যাপারে হাইয়েস্ট প্রায়োরিটি মেন্টেইন করে।

 

কি আছে এই ডিপ ওয়েব এ?

আসলেই ত, কি আছে এতে যার জন্য এত সিকিউরিটি, মানুষের মনে এত মতামত। এতক্ষণে আপনারা বুঝে গেছেন যে হ্যাকাররা রাজত্ব করে ডিপ ওয়েব এ। তারা নিজেদের ভেতর কথাবার্তা আদান-প্রদান করে ডিপ ওয়েব এর ই কিছু সাইটে।আমরা সাধারণ ব্যাবহারকারীদের সেখানে যাবার পারমিশন নেই। ডিপ ওয়েব এর কিছু সাইট আছ যেখান থেকে খুনী ভাড়া করা যায়। এরা প্রত্যকেই ট্রেইন্ড প্রফেশনাল কিলার। আর এর জন্য গুনতে হয় মিলিয়ন ডলার।কিছু সাইটে লেনদেন হয় ব্ল্যাক মানি। অসাধু লোকদের অবৈধ উপায়ে অর্জিত টাকা ব্যাংকে রাখা বা এক যায়গা থেকে অন্য জায়গায় ট্রান্সফার করা হয় এখানকার কিছু সাইটে।  ডিপ ওয়েবের কিছু সাইটে চলে অস্ত্র ব্যবসা। মাফিয়া গ্যাং গুলো বিলিয়ন ডলার দিয়ে সেই ব্যবসায়ীদের থেকে অস্ত্র কিনে নেয়। আরো কিছু সাইট আছে যেখানে প্রাইভেট ভিডিও থাকে যার বিভিন্ন ক্রাইম সিনের। যেগুলো ডাউনলোড করার সুযোগ থাকেনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কারন ডাউনলোড লিংক ই থাকেনা। অবাক করা ব্যাপার হলো এই সব সাইট গুলোর অধিকাংশ ই সার্চ করে পাওয়া যাবে না। স্পেসেফিক আইপি নাম্বার বা লিংক না থাকলে আপনি এগুলো খুজেও পাবেন না।

এগুলো তো গেল বাস্তব ফ্যাক্ট। এখন আসি ধারণা করা বিষয়গুলোতে। ধারণা করা নাসার সাথে যোগাযোগ করার জন্য এলিয়েনরা এই পথ ব্যবহার করে। কেন এই ধারণা সত্য হতে পারে আসুল বলি।

ডিপ ওয়েব এর বড় উপকারিতা হলো এর গোপনীয়তা। অনেক কনফিডেনসিয়াল ব্যাপার রক্ষা করার জন্যই এই স্থান। জুলিয়ান এস্যাঞ্জ কে মনে আছে?জ্বী, আমি উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান এস্যাঞ্জ এর কথাই বলছি যে মার্কিন সরকারের অনেক গোপন কথা ফাস করে দিয়েছিল। এই গোপন তথ্য গুলো এঈ ডিপ ওয়েবেই ছিল।

এরিয়া ৫১ এর কথা শুনেছেন সবাই? হ্যা, সারা দুনিয়ার সবচেয়ে নিখুঁত সিকিউরিটিতে আছে যেই আমেরিকান গবেষণাগার। এতটাই সিকিউর যে গুগল ম্যাপেও এই এরিয়া ৫১ এর ধারণা করা অবস্থান এর জায়গাটা কালো করে দেয়া ।

এই সব ব্যাপারে বিস্তারিত যতটা মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব হয়েছে তার পুরোটাই আপনি পাবেন ডিপ ওয়েব এ। কারন কি? কারন এখানে সিকিউরীটি সিস্টেম অনেক উন্নত। স্বাভাবিক ভাবেই আমরা বুঝি যে, যেখানে এত এত  টাকার লেনদেন, এত মাফিয়া কিলারদের দৌরাত্ব, সে জায়গা কি সুরক্ষিত না হয়ে পারে?

ইচ্ছা আছে ডিপ ওয়েব এর হ্যাকিং এবং খুঁটিনাটি অনেক ব্যাপারে ধারাবাহিক ভাবে লিখবো। সেটা সম্ভব যদি আপনারা চান। আপনাদের জানতে চাওয়ার ব্যাপারগুলো কমেন্টে লিখে জানান। আমরা চেস্টা করবো আপনাদের পছন্দের বিষয় নিয়ে লিখতে।  

reference – https://en.wikipedia.org/wiki/Deep_web

ব্যর্থতা থেকে মুক্তি পাওয়া কি সম্ভব?

Now Reading
ব্যর্থতা থেকে মুক্তি পাওয়া কি সম্ভব?

এমন কেউ কি এই আর্টিকেলটি পড়ছেন যে কোনদিন ব্যর্থ হননি? ফেইলিউর শব্দটি আপনার ধারে কাছেও ঘেষেনি কোনদিন? হয়তো না, কারন এমন মানুষ হয়তো নেই। প্রত্যেকেই কোন না কোন ভাবে ব্যর্থতার স্বাদ নিয়েছি।
আমরা কি ব্যর্থতাগুলোর সাথে সঠিকভাবে বোঝাপড়া করি? দেখা যায়, যখনই ফেইল হই কোন ব্যাপারে, আমাদের আশেপাশের কিছু মানুষগুলো আমাদের বার বার মনে করিয়ে দেয় যে আমি ব্যর্থ। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় যে বলি – ” আরে ভাই আমি জানি আমার ব্যর্থতা। দরকার নেই আমাকে বার বার স্মরণ করিয়ে দেবার”। ছোট বা বড় , ব্যর্থতা যেমনই হোক না কেন তা আমাদের বেশ পীড়া দেয়।
তো ব্যর্থতার দরুণ আমাদের সাথে কি হয়? আমরা ভিতর থেকে খারাপ অনুভব করি। কারন ব্যর্থতা কারোরই ভাল লাগার কথা না। এমন কখনই হয় নি বা হবে না যে আপনি ব্যর্থ হয়েছেন এবং সেটা আপনার ভাল লাগছে বা আপনার জন্য ব্যাপারটি উপভোগ্য। তো যখনই আমাদের খারাপ লাগে, আমরা সেই ক্রিয়ার বিপরীত এ প্রতিক্রিয়া করি, রাগ আসে আমাদের । ভিতর থেকে খুব খারাপ অনুভব করি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কান্না আসে আমাদের। এখানে কাঁদা বেশ উপকারী জিনিস হিসেবে কাজ করে কারন কাঁদলে আমাদের ভিতরটা হালকা হয়ে যায়। আমরা একটু মানসিক ভাবে ভাল বোধ করি। মন মত কাঁদুন, এটা খারাপ কিছুই না।
সমস্যা হলো আমরা পৃথিবীর সামনে আমাদের ব্যর্থতাকে গ্রহণ করতে পারিনা। নানা রকম কারন দেখানোর চেষ্টা করি এবং বলার চেষ্টা করি যে এই কারণগুলোর জন্য আমি ব্যর্থ। নিজের ভুল ঢাকার জন্য আমরা অন্য কারো উপর দোষ চাপাতে শুরু করি। যেমন – আপনি পরীক্ষায় খারাপ করেছেন। ফলাফল বের হবার পর কারন দেখাচ্ছেন – ” প্রশ্ন কঠিন ছিল তাই পরীক্ষা ভাল হয়নি। বা আপনি বেশি কঠিন টপিক পড়েছেন, কিন্তু সহজগুলো এসেছে, আপনি পারেন নি কারন সেগুলো পড়েননি”। সর্বাত্মক চেষ্টা করি পরের উপর দোষ চাপিয়ে নিজে সাধু সাজার জন্য। আমরা কেন নিজেদের ভুলগুলো স্বীকার করিনা? কেন ব্যর্থতাকে গ্রহণ করতে পারিনা?

এটাই আমাদের ভুল। আমাদের উচিত ব্যর্থতার মোকাবেলা করা। তা না হলে আমাদের হতাশা বাড়তে থাকবে আর হতাশ মন-মস্তিষ্ক অনেক ভুল সিদ্ধান্তের জন্ম দেয়। এতে করে আমরা সামনের দিকে পজেটিভ চিন্তা করতে পারবোনা। তাই আমাদের প্রথম কাজ ব্যর্থতা কে স্বীকার করে নেয়া। নিজেকে বুঝতে সাহায্য করুন যে – ” হ্যা, আমি ব্যর্থ হয়েছি আর আমি তা স্বীকার করছি”। মনে রাখবেন, যতক্ষন না আপনি নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিচ্ছেন, এর দায়বদ্ধতা থেকে আপনি উঠে আসতে পারবেন না কখনো।
আমাদের দ্বিতীয় কাজ এর কারন বের করা। পুরো ধ্যান-মন দিয়ে মনোযোগ দিন আপনার ব্যর্থতার মূলে। “কেন, কি কারনে, কিসের অভাবে আমি ব্যর্থ” – এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুজার চেষ্টা করুন। যেমন নতুন এক্সপেরিমেন্ট এর জন্য একজন বিজ্ঞানী কৌতূহল বোধ করেন, সেভাবে আপনিও লেগে যান এই প্রশ্নগুলোর পিছে। তৃতীয় পক্ষ হিসেবে বিশ্লেষন করুন নিজের ব্যর্থতাকে। বের করুন কারণগুলো যা আপনার আজকের এই অবস্থানের জন্য দায়ী। প্রয়োজনে লিখে নোট করে রাখুন যাতে এই কারণগুলোর জন্য ভবিষ্যতে আবার আপনাকে ব্যর্থতার মুখ দেখতে না হয়।
এখন আমাদের তৃতীয় কাজ আর সেটা হলো ভুল থেকে শিক্ষা নেয়া। আপনি নিজের ভুলগুলো ততক্ষন পর্যন্ত শোধরাতে পারবেন না যতক্ষন না পর্যন্ত আপনি এর থেকে শিখছেন কিছু। আগে আপনার ভুলগুলো বুঝতে হবে এবং সেগুলোর পুনরাবৃত্তি যাতে আর না হয় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যখন আপনি এটা পারবেন তখনই আপনি সামনের দিকে আগাতে পারবেন যেখানে আপনার জন্য সফলতা অপেক্ষা করছে।
আপনার জীবনের লক্ষ্য যদি হয় কোন কিছু অর্জন করা , তাহলে এটাই উপযুক্ত সময় যখন আপনি আবার ভাববেন যে আসলেই কি আমার লক্ষ্য তা হওয়া উচিত? কারন যখন আপনি কোন কিছু পেতে চান এবং সেটা হাতে পাবার পর কিছুদিন পর আপনার আসক্তি ধীরে ধীরে কমে আসবে সেই প্রাপ্ত বস্তু থেকে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ যে আমি নিজে কি হচ্ছি? নিজেকে কোনদিকে নিয়ে যাচ্ছি? কিছু পেয়েছি , কিছু হারিয়েছি আর এর মাঝে আমি নিজেকে কতটা আগে নিয়ে যেতে পারলাম? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোজা আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। ব্যর্থতায় মুখ ঢেকেছেন এটা দেখার বিষয় না, সফলতায় চারিদিকে আপনার জয়জয়কার এটাও গুরুত্ব বহণ করে না। যেটা গুরুত্বপুর্ণ সেটা হল নিজেকে কোথায় এনে স্থান দিয়েছেন?
নিজের ভেতর থেকে ভয়টা চিরদিনের জন্য ফেলে দিন। ভাবুন যে – ” যা খুশি হোক, যতই ভেঙে পড়ি না কেন, আমি আবার উঠে দাড়াতে পারবো আর সেই শক্তি আমার ভেতর আছে”। দিন-রাত খেটে পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট, হয়রান হয়ে খুজে পাওয়া ৯-৫ টা চাকরি , চাকরি হারানোর ভয়ে প্রতিদিন একটু একটু করে মরতে মরতে বেচে থাকা – এটাই কি আমাদের জীবন হওয়া উচিৎ?
ব্যর্থতা জীবনে দরকার আছে। এটা আমাদের বড় হওয়ার পথে এগিয়ে নেয়। কখন এটা হয়? যখন আমরা সেই ব্যর্থতা মেনে নিয়ে ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে চলি। অসীম পর্যন্ত নিজেকে এগিয়ে নিয়ে কে না চায়? তার জন্য শিক্ষাটাও তো অসীম হতে হবে তাইনা?

একাকীত্বের অবসান ঘটানো যায় কীভাবে?

Now Reading
একাকীত্বের অবসান ঘটানো যায় কীভাবে?

আমরা কি সত্যি একাকী নাকি একাকী নই? আমরা কি একলা হয়ে যাওয়া কে ভয় পাই? আমাদের পরিবারের সদস্য বা বন্ধু বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজন এর মৃত্যুতে কি আমরা ভীত হয়ে পড়ি? বা উনাদের থেকে দূরে চলে যাওয়াকে কি ভয় পাই?

আমরা সবাই খোলসে আবদ্ধ থাকি। বাইরের সেই খোলস টা যতই শক্ত হোক না কেন, আমাদের ভিতর থেকে খুব গভীর একটি ভয় সর্বদা কাজ করে। এই ভয় থেকে কি আদৌ বের হয়া যায়? এই ভয় কি কাটিয়ে তোলা সম্ভব?

প্রায় আমরা বলি – যখই জীবনে সমস্যায় পড়বে বা ভীত হয়ে পড়বে বা একাকী বোধ করবে, তখনই নিজের মনকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করার চেস্টা করতে হবে। কারণ মাথার ভেতর এক জিনিস নিয়ে বার বার চিন্তা ভাবনা করলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়বো বা পাগল হয়ে যাব। তাই আমাদের উচিত অন্যদিকে মনোনিবেশ করা যাতে আমরা সমস্যা এর কারণ বা একাকীত্বের কারন ভুলে যাই এবং অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।

এটাই কি আমরা করিনা? যখন ই একা হয়ে পড়ি, আমরা অন্য কারো খোজে বেড়িয়ে যাই সেই একাকীত্ব থেকে মুক্তি পাবার জন্য। একটু ভেবে দেখুন, যখন আপনাকে ছেড়ে কেউ চলে যায়, বা প্রিয় কাউকে আপনি হারিয়ে ফেলেন, তখন নিজের ভেতর রাগ কাজ করে। আমরা প্রায় রাগে স্বভাবিক কান্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলে এমন সব কাজ করি যা একদম ই অনুচিত। কারন তখন আমাদের সুস্থ চিন্তাভাবনা করার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় আর মাথার ভিতর একসাথে অনেক চিন্তা কাজ করে। তো তখন এটাই কি মুক্তির উপায় যে আমরা যে বিষয় নিয়ে আমাদের সমস্যা, সেটা দূরে ঠেলে দিয়ে অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি?  

নাহ, এটা মুক্তির উপায় হতে পারেনা। এতে আমরা যে কোন ভুল কাজে লিপ্ত হয়ে যেতে পারি যেটার দায়বদ্ধতা হয়ত আমাদের সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হতে পারে। ডাইভার্সন এর খপ্পরে আমরা এমন কারো সাথে যুক্ত হয়ে যেতেও পারি যেটা সঠিক নাও হতে পারে। আসলে সেই মুহুর্তে সঠিক বেঠিক এর বিবেচনা করার মত জ্ঞান আমাদের থাকেনা। আমরা অনেক হতাশ হয়ে পড়ি আর সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার শক্তিটাই হারিয়ে ফেলি।

আচ্ছা, তাহলে কি করা যায়? কোন সিদ্ধান্ত না নিলেই হলো। কারন সেই সময়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত গুলো ভুল হবার খুব বেশি সম্ভাবনা থাকে। যেমন ধরুন, রাগের মাথায় আপনার গাড়ি চালাতে ইচ্ছা হলো। তুলে দিলেন স্পীড ১৮০-১৯০। নিজেই ভেবে দেখুন এতে আপনার জীবন কে আপনি কি হুমকির মুখে ফেলছেন না? বা রাগের মাথায় মদ্যপান করলেন বা যার উপর রাগ তার থেকে প্রতিশোধ নিতে চাইছেন।

একবার ঠান্ডা ও সুস্থ মস্তিষ্কে ভেবে দেখুন কখনো এই কাজ গুলো করেছেন কিনা? করা কি ঠিক হয়েছে?

কেন আমরা একাকীত্ব কে ভয় পাই? কেন একাকী হয়া আমাদের দংশন করে?

আমাদের ভেতর দুটো জিনিস কাজ করে। একটা হলো আপনার বেচে থাকা। যখন আপনি বেচে থাকার জন্য কারো উপর নির্ভর করেন তখন সেই মানুষটা থেকে দূরে চলে যাওয়া আপনাকে একাকীত্ব এনে দেয়। আরেকটি হলো আপনার সুখ।

দুটোই আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপুর্ন তাইনা? বেচে থাকার সাথে সুখের সরাসরি কোন সম্পর্ক নেই, তবুও জীবনে দুটোর প্রয়োজন ই অসীম।

প্রথমে আপনাকে বেচে থাকার জন্য নিজের উপর নির্ভর করতে হবে। আমাদের মা-বাবা আমাদের খুব ভালবাসেন বলে একটা সময় পর্যন্ত কোন কাজে যুক্ত হয়া থেকে দূরে রাখেন। এতে আমরা তাদের উপর নির্ভর হয়ে যাই। আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা অনেক দীর্ঘ আর চাকরির বাজার স্বল্প হওয়ার কারনে আমরা কলেজ শেষ করার পরও বাবা-মা এর উপর নির্ভরশীল থাকি অনেকেই যদিও জীবন যুদ্ধে পা বাড়ানোর জন্য বেশ ভাল সময় সেটা। তো আমাদের আগে নিজে বেচে থাকার মত খুটি গাড়তে হবে। নিজের উপর নির্ভরশীলতা চলে আসলে আমরা অন্য কারো উপর নির্ভরশীল হবার ভয় থেকে মুক্ত হতে পারি।

সুখী আমরা কখন হই? “প্রাপ্তি” বোধ যখন কাজ করে আমরা আসলে তখন সুখ অনুভব করি। এই প্রাপ্তি বোধ যখন অন্য কারো জন্য হয় তখন তার চলে যাওয়াতে আমরা একাকীত্ব অনুভব করি। ভেবে দেখুন একটু, এই “সুখ” এর জন্য যদি আপনি নিজে সম্পুর্ন তৈরী না হোন, মানে নিজের সুখের যোগান এর চাবি যদি নিজের হাতেই রাখেন, এর জন্য কারো উপর নির্ভর না করতে হয় তবেই আপনার একাতীত্বের ভয় খুচে যাবে।  

দেখুন আমাদের দু ধরনের শান্তির প্রয়োজন এই জীবনে। আর্থিক আর মানসিক। এই দু শান্তি থাকলে শারীরিক শান্তি আপনা আপনি কাজ করে। আর্থিকভাবে যদি আপনি নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলেন তাহলে আপনাকে কারো উপর নির্ভর করতে হবেনা। চিন্তা করুন, আর্থিক সঙ্গতি থাকলে আপনি নিজের সব প্রয়োজন মিটাতে পারেন, পরিবারের প্রয়োজন মিটাতে পারেন , বন্ধুদের সাথে কোথাও সময় কাটিয়ে চিত্তের বিনোদন ঘটাতে পারেন। তখন আপনার ভিতরে হতাশা নামের বস্তুটি কাজ করবে না।

একই ভাবে আপনার মন যদি প্রফুল্ল থাকে, ভিতর থেকে শান্তি অনুভব করেন, আপনার ভিতর সুখ বাস করে এবং এর জন্য আপনি কারো উপর নির্ভর করেন না। সম্পুর্ন স্বাধীন ভাবে সুখী আপনি, তখন সেই সুখ আপনি আপনার পরিবার, বন্ধু বা আত্মীয় দের মাঝে বিলিয়ে দিলেও কমে যাবে না।যদি আপনি ই সুখের জন্য কারো উপর নির্ভরশীল হন তাহলে তার চলে যাওয়াতে খারাপ বোধ তো করবেন ই। সে কেন আপনাকে সুখ দিবে? কেন আপনি নিজের সুখ নিজে অর্জন করছেন না?

চেস্টা করে দেখুন, বেচে থাকার আর সুখের জন্য নিজের উপর নির্ভর করুন। একাকীত্ব আপনাকে ছুতে পারবেনা।