এনিগমা – এনক্রিপশন জগতের একটি বিস্ময়

Now Reading
এনিগমা – এনক্রিপশন জগতের একটি বিস্ময়

এনিগমা কি?

*enigma

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রেডিও এর মাধ্যমে যোগাযোগ খুবই দুর্বল হয়ে পড়ে। শত্রুপক্ষ সহজেই ট্রান্সমিশন হ্যাক করে ফেলত। যার ফলে জার্মান বিজ্ঞানী আর্থার শ্যাবিয়াস এনিগমা নামক ডিভাইসটি তৈরী করেন। এই এনিগমার এনক্রিপশন আগের যেকোন ডিভাইসের চাইতে অনেক জটিল ছিল। এর কারণ হচ্ছে আগে যেধরণের এনক্রিপশন ব্যবহার করা হত তার তুলনায় এটা ভিন্ন ছিল।

এনিগমা মেশিনে তাহলে কি থাকে?
একটা কিবোর্ড লেখার জন্য, প্রত্যেকটা অ্যালফাবেটের জন্য একটা করে কী, প্রত্যেকটা কী এর উপর একটা করে লাইট আর ৩ টা রোটর থাকে। তবে ট্রান্সমিশন আরো জটিল করার জন্য কোন কোনটায় ৪টা বা ৫টা করেও রোটর ছিল।

কিভাবে কাজ করে এই এনিগমা মেশিন?
আপনি যে লেখাটা এনক্রিপ্ট করে পাঠাতে চাইবেন সেটি আপনাকে কিবোর্ডে লিখতে হবে। প্রত্যেকটা অক্ষর লেখার পরে রোটর ঘুরতে থাকবে। জটিলতা আনার জন্য রোটর প্রত্যেকটা অক্ষরকেই একটা মেসেজ হিসেবে গ্রহণ করবে যার ফলে আপনাকে পুরো লেখাটাই আলাদা আলাদাভাবে এনক্রিপ্ট করতে হবে। প্রত্যেকটি অক্ষর টাইপের পরেই এনিগমার রোটর ঘুরে যেত। ভিন্ন আরেকটি সেট আসত। সাংকেতিক ম্যাসেজের কাজ হচ্ছে একটা অক্ষরের পরিবর্তে আরেকটি অক্ষর আসা।  এনিগমার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এতে আপনি যদি একই অক্ষর দুইবার টাইপ করেন তাহলে আপনি দুধরণের ইনপুট পাবেন। ধরে নেয়া যাক আপনি ‘KILL’ শব্দটি এনক্রিপ্ট করে পাঠাতে চাইলেন। সেক্ষেত্রে আপনার এনিগমায় আউটপুট আসতে পারে ‘ZQPJ’. খেয়াল করে দেখুন এখানে প্রথম L এর জন্য আউটপুট এসেছে P আর দ্বিতীয় L এর জন্য আউটপুট এসেছে J. আরেকটি L থাকলে ভিন্ন আরেকটি আসত। আপনি পুরো লেখায় একই অক্ষর টাইপ করলেও ভিন্ন ভিন্ন সংকেত হিসেবেই এনিগমা সেটাকে পাঠাবে। এখানেই অন্যান্য এনক্রিপশন যন্ত্রের সাথে এনিগমার পার্থক্য। যার জন্য কোড ভাঙ্গা কঠিন হয়ে পড়ে। একমাত্র সঠিক সেটিংস টি আপনার যদি জানা থাকে তাহলেই আপনি কোডটি ভাংতে পারবেন। এবার দেখে নেয়া যাক একটি এনিগমায় কয়টি সেটিংস থাকতে পারে।
৩,৪ ও ৫ টি রোটরের জন্য = ৫x৪x৩ = ৬০
প্রত্যেকটি রোটরেই ২৬ টা করে অ্যালফাবেট থাকে। তাহলে ২৬x২৬x২৬ = ১৭৫৭৬

এখানেই শেষ নয়। এই প্রত্যেকটি লেখাই প্লাগবোর্ডে আবার ২৬ ভাবে সাজিয়ে লেখা যায়। যেহেতু এটি ফ্যাক্টোরিয়াল আকারে বাড়তে থাকে তাহলে লেখা যায় ২৬!। ব্রিটিশরা এটা বুঝতে পেরেছিল যে জার্মানরা সকল প্লাগ ব্যবহার করে না বরং ১০ টা ব্যবহার করে। সুতরাং ১০!। যেহেতু প্রতিটা একই ধরণের শব্দজোড় তাই এই ১০ টা সংখ্যাকে ২০ টা অক্ষরে লেখা যেত। তাহলে বাকি থাকে ৬ টা শব্দ। সুতরাং ৬!। আবার প্লাগগুলো জোড়া শব্দের ক্ষেত্রে দুইভাবে থাকত। এখান থেকে পাওয়া যায় ২^১০. এখন তাহলে কি দাঁড়ায়ঃ
26/ (10!*6!*2^10)

আর ফলাফল দাঁড়ায় 150738274937250. এর সাথে পূর্বের সেটিংস গুলি গুণ করলে পাওয়া যাবে 158,962,555,217,826,360,000. দ্য ইমিটেশন গেম মুভিটায় বলা হয় ব্লেচলির এই টিম যদি প্রত্যেকটা সেটিংস একবার করেও পরীক্ষা করে দেখে তাহলে তাদের লেগে যাবে ২ মিলিয়ন বছর। ভেবে দেখুন একবার!

প্রত্যেকটা কি চাপার পরেই সকল প্রক্রিয়া শেষে একটা অক্ষর পাওয়া যেত। এটাই হচ্ছে সেই সেটিংসের মধ্যে দিয়ে যাওয়া এনক্রিপ্টেড অক্ষরটা। এরপর সেই অক্ষরটা মোর্স কোড এর মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়া হত। অন্যান্য যাদের কাছে এই এনিগমা কোডটি আছে তারা সংকেতটি রিসিভ করত এবং এনিগমা মেশিনে ইনপুট দিত। যে সেটিংসে লেখাটি এনক্রিপ্ট করা হয়েছিল সে সেটিংস এ ইনপুট দিলে লুকোন মেসেজটা পাওয়া যেত। জার্মানরা সাবধানতার জন্য ভিন্ন ভিন্ন সেটিংস ব্যবহার করত। একমাসের সেটিংস এর একটি তালিকা যেসব জার্মানদের কাছে মেশিনটি আছে তাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়া হত। আর এই সেটিংসটির তালিকা প্রতিমাসে পরিবর্তন করা হত। যেহেতু প্রতিদিন ই সেটিংস পরিবর্তন করা হত তাই ব্রিটিশদের হাতে নতুন সেটিংস খুঁজে বের করার জন্য ১ দিন সময় থাকত। এরপরেও তারা কিন্তু এনিগমা এর কোডটি ভেঙ্গেছিল।

কিভাবে এনিগমার কোড ভাঙ্গা হয়েছিল?

bombe
এনিগমার কোড ভাঙ্গা প্রায় অসম্ভব হলেও এতে একটা খুঁত ধরতে পারেন ব্লেচলির বিজ্ঞানীরা (এদের উপরেই এনিগমার কোড ভাঙ্গার দায়িত্ব দেয়া হয়)। তারা বুঝতে পারেন যে স্বাভাবিকভাবে এর কোড ভাঙ্গা যাবে না। এজন্য তারা একটি মেশিন তৈরী করে যার নাম দেয়া হয় ‘বম্ব’। এনিগমায় ৩-৫ টা রোটর থাকলেও এই বম্ব এর রোটর এর সংখ্যা ছিল শতাধিক। বম্ব মেশিনটি ২৪ ঘন্টা কাজ করতে থাকে আর সম্ভাব্য সেটিংসটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। কিভাবে কোডটি ভাঙ্গা হয়েছিল সেই বিষয়টি ‘দ্য ইমিটেশন গেম’ মুভি থেকে পাওয়া তথ্য দিয়ে আমি উপস্থাপন করব।

ব্লেচলির বিজ্ঞানীরা খেয়াল করে যে জার্মানরা প্রতিদিন ঠিক ছয়টার সময় একটা আবহাওয়া রিপোর্ট পাঠায়। ব্যাপারটি ধরতে পেরে তারা সম্ভাব্য কিছু কিওয়ার্ড (ওয়েদার, ৬ টা, হেইল হিটলার) প্রবেশ করায়। এবারেই কাজ হয়ে যায়। এভাবে তারা প্রতিদিনের সেটিংস বের করে ফেলে। তাদের এ সাফল্যের পর বিভিন্ন যায়গায় তারা ১৫০ টি ‘বম্ব’ স্থাপন করে। বলা হয় যে, এই এনিগমার জন্যই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ৪ বছর আগে শেষ হয়েছে আর ২ কোটি মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছে।

বিঃদ্রঃ মুভিতে ‘বম্ব’ এর নাম ‘ক্রিস্টোফার’।
আর্টিকেলটি আপনার কাছে ভালো লেগে থাকলে লাইক দিন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ

Reference:
https://en.wikipedia.org/wiki/Enigma_machine
https://learncryptography.com/history/the-enigma-machine
https://bigganjatra.org/

বিটকয়েন কি এবং কিভাবে কাজ করে

Now Reading
বিটকয়েন কি এবং কিভাবে কাজ করে

বিটকয়েন হচ্ছে মূলত এক ধরণের মুদ্রা যেটি সফটওয়্যার এবং ক্রিপ্টোগ্রাফি দ্বারা চালিত। বিটকয়েন কে আবিষ্কার করেছে সেটা কেউ জানে না। তবে যিনি বা যেই গ্রুপ এই বিটকয়েন এর আবিষ্কারক তারা সাতোশি নাকামোতো নামে অপারেট করে। অনলাইন দুনিয়ায় বিটকয়েন আসে ২০০৮ সালে। বিটকয়েন পিয়ার টু পিয়ার ট্রানজেকশন সিস্টেম অনুযায়ী কাজ করে। বিটকয়েন এর অর্থব্যবস্থা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। সাধারণ টাকা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যখন প্রয়োজন হয় তখনই তারা নতুন টাকা বানায়। বিটকয়েন এ এমন ধরাবাধা কিছু নেই। তবে বিটকয়েন তৈরীর সময়ই একটা সীমা তৈরী করে দেওয়া হয়েছে। ৩১ মিলিয়ন বিটকয়েন এ পৌছালেই মাইনিং স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। বিটকয়েন এর পরিমাণ অত্যধিক ভাবে বেড়ে গেলে এর দামও কমে যাবে। সেজন্যই এর ব্যবস্থা। খুব কম খরচেই বিটকয়েন এর মাধ্যমে অর্জিত টাকা তোলা যায়। বিটকয়েন যেহেতু অ্যাডভান্সড ক্রিপ্টোগ্রাফি ব্যবহার করে তাই বিটকয়েন কে ক্রিপ্টোকারেন্সিও বলা হয়ে থাকে। পৃথিবীতে বর্তমানে ২৫ মিলিয়ন বা আড়াই কোটির মত বিটকয়েন রয়েছে এবং এর মধ্যে ৫ কোটি বিটকয়েন উত্তোলন করা হয়েছে এবং বাকি ২০ কোটি ট্র্যাঞ্জেকশন এর অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতি দশ মিনিটে ২৫ টি বিটকয়েন নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে বিটকয়েন মাইনিং এর মাধ্যমে। প্রায় প্রতিদিনই বিটকয়েনের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৬ সালে ১ টি বিটকয়েনের মূল্য ছিল মাত্র ১০০০ ডলার কিন্তু ২০১৭ এর জুন মাসের মধ্যে তা ২৫০০ ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, এর দাম এ বছরেই ৫০০০ ডলার ছুঁতে পারে। বিটকয়েন বর্তমানে খুবই জনপ্রিয় একটি মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি রিসার্চে বেরিয়ে এসেছে যে প্রতিমাসেই প্রায় ২.৯ থেকে ৫.৭ মিলিয়ন ব্যবহারকারী নিয়মিত বিটকয়েন ব্যবহার করছেন।

আমরা যেমন ইউনিট হিসেবে টাকা এবং পয়সা ব্যবহার করে তেমনি বিটকয়েনের ও ইউনিট রয়েছে। বিটকয়েনের ইউনিট হচ্ছে বিটকয়েন যাকে সংক্ষেপে বিটিসিও বলা হয়। বিটকয়েনের সবচেয়ে ক্ষুদ্র রূপ হচ্ছে সাতোশি। ০.০০০০০০০১ সাতোশিতে এক বিটকয়েন হয়।

বিটকয়েনের আদানপ্রদান ব্যাপারটি কিছুটা জটিল। ধরুন, আপনার কাছে ৫০ টাকা আছে। আপনি আমাকে সেটি দিয়ে দিলেন। তাহলে, এখন থেকে এই ৫০ টাকার মালিক আমি। এই টাকাটি আপনার কাছে আর থাকলোনা। আর এই টাকাটির কোন প্রমাণ না থাকায় আপনি পরবর্তীতে এর মালিকানাও দাবি করতে পারবেন না।

বিটকয়েনে যখন টাকার লেনদেন করা হয় তখন আপনি যে টাকাটি আমাকে দেবেন এর একটি ডাটা ডিজিটালভাবে কম্পিউটারে সংরক্ষিত থাকে। সমস্যাটা এখানেই। কম্পিউটার থেকে যদি কোনভাবে এই ডাটা মুছে যায় সেক্ষেত্রে আমার কাছে আর কোন প্রমাণ থাকবেনা যে টাকাটি আমার। এরকম একটি ঘটনা ঘটেছিল এক ব্যাক্তির ক্ষেত্রে। কোন কারণে তার কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক ফরম্যাট হয়ে যাওয়ার কারণে সে প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিটকয়েন হারিয়েছিল।

আরও একটি সমস্যা আছে। যেহেতু ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত তাই এর অনেক কপিও বানানো সম্ভব। এভাবে একটি বিটকয়েন থেকে দশটি বিটকয়েন করে ফেলাও অসম্ভব কিছু না। এই সমস্যাটি দূর করার জন্য, প্রতিটি বিটকয়েন এই আলাদা আলাদা ক্রিপ্টোগ্রাফি এবং কিছু গাণিতিক সংখ্যা জুড়ে দেওয়া হয়। এই নম্বরগুলোকেই ট্র্যাক করে বোঝা যায় বিটকয়েন কার কাছে আছে। আর যারা এই ট্র্যাকিং এর কাজ করে তাদেরকে বলা হয় বিটকয়েন মাইনার। এজন্য তাদেরকে তাদের শ্রমের পুরষ্কার হিসেবে বিটকয়েন দেয়া হয়।

আমরা টাকা জমা রাখি নির্দিষ্ট কোন একটা জায়গায়। সেটা বাসা বাড়ি বা ব্যাংক ও হতে পারে। সেরকম বিটকয়েন টাও একটি জায়গায় জমা থাকে। আর যেখানে জমা থাকে তাকে বিটকয়েন অ্যাড্রেস বলা হয়। আপনি যাকে বিটকয়েন দেবেন তার বিটকয়েন অ্যাড্রেস টি আপনার জানা থাকতে হবে। তাহলেই আপনি বিটকয়েন আদান প্রদান করতে পারবেন। আবার আপনি যদি বিটকয়েন দিয়ে কোন পণ্য ক্রয় করতে চান তাহলে বিক্রেতার বিটকয়েন অ্যাড্রেস এ নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পাঠিয়ে দিলেই তারা আপনাকে পণ্য পাঠিয়ে দেবে।

বিটকয়েনের মাধ্যমে আপনি ইচ্ছামত লেনদেন করতে পারবেন। শোনা যাচ্ছে, অ্যামাজন এবং আলিবাবা খুব শীঘ্রই তাদের ওয়েবসাইটে ডলারের পাশাপাশি বিটকয়েন দিয়ে পণ্য কেনার ফিচার যুক্ত করবে।

তবে এত সুবিধার মাঝেও বিটকয়েনের কিছু অসুবিধাও রয়েছে। কিছুক্ষণ আগেই বলেছি যেহেতু প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল সুতরাং আপনার বিটকয়েন অ্যাড্রেস বা যেখানে বিটকয়েন সংরক্ষিত রয়েছে সেটা যদি ক্র্যাশ করে বা ওয়ালেটের পাসওয়ার্ড ভুলে যান সেক্ষেত্রে আর কখনই হারানো বিটকয়েন ফিরে পাবেন না। তাছাড়া প্রতিদিনই বিটকয়েনের মূল্য উঠানামা করছে। আজকে বিটকয়েন কিনলে কালকেই দাম পড়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি বড়রকমের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

তবে আশার ব্যাপার হচ্ছে বিটকয়েনের মূল্য উর্ধমূখী। আমাদের দেশের অনেকেই এখন বিটকয়েনের মাধ্যমে অনলাইনে উপার্জন করছেন। বিটকয়েন আয় করার মত অনেক ওয়েবসাইট আছে তবে অধিকাংশই স্ক্যাম। খুব অল্প আসল ওয়েবসাইট আছে যারা সত্যিকার অর্থেই টাকা প্রদান করে। এবং সেই টাকাগুলো পেইজা বা বিকাশ এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই উইথড্র করতে পারবেন।

আশা করি বিটকয়েন কি এবং কিভাবে কাজ করে তা বুঝতে পেরছেন। আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে লাইক দিন এবং অবশ্যই কমেন্ট করে জানান। পরবর্তী আর্টিকেলে আবার দেখা হবে। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

Reference: http://en.wikipedia.org/wiki/Bitcoin
http://bitcoin.org

 

 

 

এনক্রিপশনঃ ক্ল্যাসিক এনক্রিপশন – পর্ব ১

Now Reading
এনক্রিপশনঃ ক্ল্যাসিক এনক্রিপশন – পর্ব ১

এনক্রিপশন

এনক্রিপশন হচ্ছে ক্রিপ্টোগ্রাফির একটি অংশ। এনক্রিপশনে কোন একটি মেসেজ এমনভাবে পাঠানো হয় যেটা একমাত্র যিনি যার কাছে পাঠাচ্ছেন সেই বুঝতে পারে। মেসেজটাকে প্লেইন টেক্সট বলা হয়। এরপর কোন একটি পদ্ধতি/অ্যালগোরিদম ব্যবহার করে সেটাকে সাইফারে রূপান্তর করা হয়। কোন গোপন ম্যাসেজ পাঠানোর কাজে এনক্রিপশন ব্যবহার করা হয়। আমরা যে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করি সেটিও কিন্তু একধরণের এনক্রিপশন। তবে এগুলো আধুনিক যুগের এনক্রিপশন। আজকে আমি মধ্যজুগের এনক্রিপশন ব্যবস্থা গুলো নিয়ে আলোচনা করব। আজকের আলোচনায় থাকছে ১. সিজার সাইফার এবং ২. ভিজিনেয়ার সাইফার।

সিজার সাইফার

সাইফার এর জগৎ এ সবচেয়ে সহজ সাইফার হচ্ছে এই সিজার সাইফার। একে শিফট সাইফার ও বলা হয়। সিজার সাইফারে মূল লেখার অক্ষরগুলো সামনের অথবা পেছনের কোন অক্ষর দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়। ১৫র শতকে জুলিয়াস সিজার এই পদ্ধতিটি আবিষ্কার করেন। আধুনিক এনক্রিপশনের যুগে এই সাইফার ভাঙ্গা কোন ব্যাপারই না। কিন্তু সে সময়ে এটা দিয়েই কাজ চালানো যেত।

সিজার সাইফার এনক্রিপশনের সময় যেকোন একটি রাইট শিফট নম্বর বা লেফট শিফট নম্বর ধরে নেয়া হয়। আমি রাইট শিফট ২ ধরলাম। তাহলে আমি যদি “A” লিখি তাহলে এর সাইফার হবে “C”. অর্থাৎ ডানদিকে দুই নম্বরে যে অক্ষরটি আছে সেটি হবে। লেফট শিফট এর ক্ষেত্রেও তাই। লেফটি শিফট ২ ধরলে “A” এর সাইফার হবে “Y”. এবার তাহলে লেফট শিফট ৩ ধরে একটি শব্দ লেখা যাকঃ
Plain Text: Blog
Cipher Text: YILD

হঠাৎ করে যদি YILD দেখেন তাহলে বুঝে ওঠা কঠিনই হবে মূল শব্দটা কি। আপনাকে যদি YILD ডিক্রিপ্ট করতে দেয়া হয় তাহলে আপনার জানা থাকতে হবে কত শিফট ব্যবহার করা হয়েছে। যদি লেফট শিফট ৩ ব্যবহার করে এনক্রিপ্ট করে সাইফার করা হয় তাহলে রাইট শিফট ৩ ব্যবহার করে ডিসাইফার করতে হবে। তবে যদি জানা নাও থাকে তাহলেও কোন সমস্যা নেই। মাত্র ২৫ টা সম্ভাবনা রয়েছে Blog থেকে YILD আসার। অর্থাৎ Blog কে ২৫ ভাবে সাজালে এর কোন একটায় YILD অবশ্যই পাবেন।

এবার গণিতের ভাষায় আসা যাক। সিজার সাইফারকে গাণিতিক ভাবে প্রকাশ করলে এনক্রিপশনের সমীকরণটা হবে এরকমঃ
Ec(x) = (x + n)  (mod 26)

এখানে x হচ্ছে সেই অক্ষরটা যেটাকে এনক্রিপ্ট করা হবে। এবং n হচ্ছে কত শিফট হবে সেই সংখ্যাটা। যেমনঃ ১,২,৩। ডিক্রিপশনের পদ্ধতিটাও অনেকটা একইরকম।

Dc(x) = (x – n)  (mod 26)
এরপরেই মডিউলার ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ অক্ষরগুলি যদি শেষ পর্যায়ে চলে যায় তাহলে আবার শুরু থেকে শুরু হবে।
যোগাযোগের জন্য এটি নিরাপদ না হলেও বর্তমানে প্রোগ্রামিং ও ক্রিপ্টোনালাইসিস এর কাজে সিজার সাইফার ব্যবহার করা হচ্ছে।
আশা করি বুঝাতে পেরেছি সিজার সাইফার কি। তাহলে আপনাদের একটা সিজার সাইফার দেই। কমেন্ট বক্সে সাইফারের উত্তর দিন।
Cipher Text: jssxtvmrx
Plain Text: ?
ভিজিনেয়ার সাইফার

১৬র শতকে গনিতবিদ Blaise de Vigenère এই সাইফারটি আবিষ্কার করেন।  ভিজিনেয়ার সাইফার কিছুটা সিজার সাইফারের মতই। তবে আরো অনেক জটিল। প্রায় তিন শতাব্দী ধরে ভিজিনেয়ার সাইফার কিভাবে কাজ করে সেটা কেউ বের করতে পারে নি। ভিজিনেয়ার সাইফারটি জটিল হলেও কম্পিউটারে সফটওয়্যার দ্বারা ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক এর মাধ্যমে ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব।

ভিজিনেয়ার সাইফারে যে মেসেজটি এনক্রিপ্ট করে পাঠানো হবে সেটির পরিবর্তে অন্য একটি শব্দ বা কী ব্যবহার করা হয়। এরপর মূল মেসেজ এবং কী থেকে ভিজিনেয়ার টেবিল থেকে মিলিয়ে সাইফার টেক্সটটি বের করা হয়। আমি নিচে ভিজিনেয়ার টেবিল এর ছবি দিয়ে দিচ্ছি।

ধরি, আমি COASTISCLEAR এই লেখাটি ভিজিনেয়ার সাইফার করে পাঠাব। তাহলে আমাকে একটি কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে COASTISCLEAR এর পরিবর্তে। এই কি ওয়ার্ড এর আকার অবশ্যই COASTISCLEAR এর চেয়ে ছোট হতে হবে। আমি তাহলে Forest এই কিওয়ার্ড টি ধরে নিলাম। তাহলে কি টেক্সটটি হবেঃ FORESTFOREST. খেয়াল করে দেখুন, প্লেইন টেক্সট এবং কি টেক্সট উভয় তেই সমান সংখ্যক অক্ষর রয়েছে। এখন ভিজিনেয়ার টেবিল এর সাথে মিলিয়ে সাইফার টেক্সট টি পাওয়া যাবে। কিওয়ার্ড এর প্রথম অক্ষর F এবং প্লেইন টেক্সট এর প্রথম অক্ষর C নেই। ভিজিনেয়ার টেবিল এর F রো এর C কলাম হতে H অক্ষর পাওয়া যাবে। বাকি অক্ষরগুলোও একই ভাবে সাইফার করতে হবে।

Plain Text: COASTISCLEAR

Key Text: FORESTFOREST

Cipher Text: HCRWLBXQCISK

পুরো ব্যাপারটি সংক্ষেপে বললে, যে লিখাটি সাইফার করা হবে আর পরিবর্তে কি ওয়ার্ড বসাতে হবে এবং কি ওয়ার্ড ও প্লেইন টেক্সট ভিজিনেয়ার টেবিল এর সাথে মিলিয়ে সাইফার বের করতে হবে।

বীজগাণিতিক আকারে ভিজিনেয়ার সাইফারকে এভাবে প্রকাশ করা যায়,
এনক্রিপশনের ক্ষেত্রে, Ec (Mi)= (Mi + Ki) mod26

ডিক্রিপশনের ক্ষেত্রে, Dc (Ci)= (Ci – Ki) mod26

আশা করি বুঝাতে পেরেছি। আমি আপনাদের একটি সাইফার দিচ্ছি। সাইফার টেক্সট টি বের করে ফেলুন। উত্তর টি কমেন্ট বক্সে জানান।

Plain Text: BUYADOG

Key Text: TEALTEA
Cipher Text:?

পরবর্তী পর্বে আরো দুইটি আর্টিকেল নিয়ে কথা বলব। এই আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে শেয়ার দিন এবং কমেন্ট করুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

Reference: https://en.wikipedia.org/wiki/Caesar_cipher
https://en.wikipedia.org/wiki/Vigenère_cipher

পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন ১০ কম্পিউটার

Now Reading
পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতিসম্পন্ন ১০ কম্পিউটার

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে কে কার চেয়ে বেশী শক্তিশালী কম্পিউটার বানাতে পারে এরকম একটি প্রতিযোগিতা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। প্রতিযোগিতায় চীনই এগিয়ে আছে সবার আগে। আমেরিকাও পিছিয়ে নেই। চলুন তাহলে দেখে নেয়া যাক পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতির দশটি কম্পিউটার।

. সানওয়ে তাইহুলাইট

sunway taihulight

সানওয়ে তাইহুলাইট সুপারকম্পিউটারটি চীনের গুয়াংঝু ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটার সেন্টারে অবস্থিত। লিনাক্সনির্ভর সানওয়ে রেইজ ওএস ২.০.৫ ব্যবহার করা হয়েছে। ৬৪ বিটের ৪০৯৬০ টি আরআইএসসি প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিটা প্রসেসরে রয়েছে ২৫৬ টি কোর। পুরো সুপার কম্পিউটারে ১ কোটিরও বেশী কোর রয়েছে। যার ফলে এটি তিয়ানহে ২ এর তুলনায় তিন গুণেরও অধিক গতিতে কাজ করতে সক্ষম। সুপার কম্পিউটারটি নির্মাণে ২৭৩ মিলিয়ন ডলায় ব্যয় করা হয়েছে। সানওয়ে তাইহুলাইট এর কিছু তথ্য একনজরে দেখে নেয়া যাকঃ

স্পিডঃ ৯৩ পেটাফ্লপ
মেমোরিঃ ৬১৪৭৩৭০ গিগাবাইট
পাওয়ারঃ ১৫৩৭১ কিলোওয়াট
স্টোরেজঃ ২০ পেটাবাইট (২২৫১৭৯৯৮ গিগাবাইট)

. তিয়ানহে ২

Tianhe -2

তিয়ানহে ২ সুপারকম্পিউটারটি চীনের গুয়াংঝু ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটার সেন্টারে অবস্থিত। লিনাক্স নির্ভর এ কম্পিউটারটিতে ৩১,২০,০০০ কোর সম্বলিত সিপিইউ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি নির্মাণে ৩৯০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়। চীনের ১৩০০ জন কম্পিউটার সায়েন্টিস্ট এ কম্পিউটারটি ডেভেলপ করেন। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এটিই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুতগতির কম্পিউটার। তিয়ানহে ২ এর কিছু তথ্য একনজরে দেখে নেয়া যাকঃ

স্পিডঃ ৩৩.৮৬ পেটাফ্লপ
মেমোরিঃ ১৪৬৭৮৪৮ গিগাবাইট
পাওয়ারঃ ১৭৮০৮ কিলোওয়াট
স্টোরেজঃ ১২.৪ পেটাবাইট (১৩৯৬১১৫৮ গিগাবাইট)

. পিজ দেইন্ত

piz daint

পিজ দেইন্ত নামক সুপারকম্পিউটারটি সুইজারল্যান্ডের সুইস কম্পিউটিং সেন্টারে অবস্থিত। এই সুপারকম্পিউটারটি ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার এবং বিশ্বে তৃতীয়। গত বছর এর পারফরমেন্স ৮ পেটাফ্লপ থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি করে ২৫ পেটাফ্লপ করা হয়। লিনাক্সনির্ভর এই কম্পিউটারটি ২০১২ সালে তৈরী করা হয়। সুপার কম্পিউটারটিতে ইন্টেল জেনন ই-ফাইভ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। পিজ দেইন্ত এর কিছু তথ্য একনজরে দেখে নেয়া যাকঃ

স্পিডঃ ২৫ পেটাফ্লপ
মেমোরিঃ ২৬৯৯৭৬ গিগাবাইট
পাওয়ারঃ ১৩১২ কিলোওয়াট
স্টোরেজঃ ২.৫ পেটাবাইট (২৮১৪৭৪৯ গিগাবাইট)

. টাইটান

titan

টাইটান  নামক সুপারকম্পিউটারটি আমেরিকার ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে অবস্থিত। ২০১২ সালে এই সুপার কম্পিউটারটি নির্মাণ করা হয়। কম্পিউটারের কাজ করার গতি বাড়ানোর জন্য প্রসেসরের পাশাপাশি এনভিডিয়া জিটিএক্স টাইটান জিপিইউ ব্যবহার করা হয়েছে। সুপার কম্পিউটারটি নির্মাণে ৯৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণার কাজে বর্তমানে কম্পিউটারটি ব্যবহার করা হচ্ছে। টাইটান এর কিছু তথ্য একনজরে দেখে নেয়া যাকঃ

স্পিডঃ ১৮ পেটাফ্লপ
মেমোরিঃ ৭৭২৫১১ গিগাবাইট
পাওয়ারঃ ৮২০০ কিলোওয়াট
স্টোরেজঃ ৪০ পেটাবাইট (৪৫০৩৫৯৯৬ গিগাবাইট)

. সেকোয়া

sequioa

সেকোয়া  নামক সুপারকম্পিউটারটি আমেরিকার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে অবস্থিত। জলবায়ু পরিবর্তন, জিন ও মহাকাশ গবেষণা, পারমাণবিক অস্ত্র ইত্যাদি বিভিন্ন কাজে সুপার কম্পিউটারটি ব্যবহার করা হচ্ছে। লিনাক্স দ্বারা চালিত এ সুপারকম্পিউটারটিতে ১৫,৭২,৮৬৪ টি প্রসেসর কোর এবং ১.৫ পিবিবাইট মেমোরি রয়েছে। সেকোয়া এর কিছু তথ্য একনজরে দেখে নেয়া যাকঃ

স্পিডঃ ২০.১৩ পেটাফ্লপ
মেমোরিঃ ১৬৮৮৪৯ গিগাবাইট
পাওয়ারঃ ৭৯০০ কিলোওয়াট
স্টোরেজঃ …..

. কোরি

cori

কোরি সুপারকম্পিউটারটি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এনার্জি রিসার্চ সায়েন্টিফিক কম্পিউটিং সেন্টারে অবস্থিত। এটিও লিনাক্স দ্বারা চালিত। এতে মোট প্রসেসিং কোর এর সংখ্যা ৬২২,৩৩৬ টি। এটি নির্মাণে ৭০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়। বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন কাজে কম্পিউটারটি ব্যবহার করা হচ্ছে। কোরি এর কিছু তথ্য একনজরে দেখে নেয়া যাকঃ

স্পিডঃ ১৪.৪ পেটাফ্লপ
মেমোরিঃ ৮৭৮৫৯২ গিগাবাইট
পাওয়ারঃ ৩৯৩৯ কিলোওয়াট
স্টোরেজঃ ৩০ পেটাবাইট (৩৩৭৭৬৯৯৭ গিগাবাইট)

. ওকফরেস্ট-প্যাক্স

oakforest pacs

ওকফরেস্ট-প্যাক্স নামক সুপারকম্পিউটারটি জাপানের জয়েন্ট সেন্টার ফর হাই পারফরমেন্স কম্পিউটিং এ রয়েছে। উচ্চগতির নেক্সট জেনারেশন ইন্টেল জিওন প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে এতে। ফুজিতসু এই কম্পিউটারটি ২০১৬ সালে তৈরী করে। এতে ৫৫৬,১০৪ টি প্রসেসিং কোর রয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক উচ্চতর গবেষণার কাজে কম্পিউটারটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ওকফরেস্ট-প্যাক্স এর কিছু তথ্য একনজরে দেখে নেয়া যাকঃ

স্পিডঃ ১৩.৫ পেটাফ্লপ
মেমোরিঃ ৯১৯২৯৬ গিগাবাইট
পাওয়ারঃ ২৭১৮ কিলোওয়াট
স্টোরেজঃ ২৬ পেটাবাইট (২৯২৭৩৩৯৭ গিগাবাইট)

. কে কম্পিউটার

k computer

কে কম্পিউটারটি জাপানের রাইকেন ইন্সটিটিউট অফ কম্পিউটেশনাল সায়েন্স এ রয়েছে। এ কম্পিউটারটি ২০১১ সালে ফুজিতসু তৈরী করে । ৭০৫,০২৪ কোর বিশিষ্ট এ কম্পিউটারটি লিনাক্স দ্বারা চালিত। এই সুপারকম্পিউটারটি পৃথিবীর সর্বপ্রথম ১০ পেটাফ্লপ গতির সুপার কম্পিউটার। কে কম্পিউটার এর কিছু তথ্য একনজরে দেখে নেয়া যাকঃ

স্পিডঃ ১০.৫ পেটাফ্লপ
মেমোরিঃ ১৪১০০৪৮ গিগাবাইট
পাওয়ারঃ ১২৫০০ কিলোওয়াট
স্টোরেজঃ ১১ পেটাবাইট (১২৩৮৪৮৯৮ গিগাবাইট)

. মিরা

Mira

মিরা নামক সুপারকম্পিউটারটি যুক্তরাষ্ট্রের আরগোন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে রয়েছে। ৪৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই সুপার কম্পিউটারটি নির্মাণ করা হয়। এটি নির্মাণে সহায়তা করে আইবিএম। ২০১২ সালে এই কম্পিউটারটি তৈরী করা হয়। পরিবেশ, আবহাওয়া, জলবায়ু, ভূমিকম্প ইত্যাদি গবেষণার কাজে সুপার কম্পিউটারটি ব্যবহার করা হচ্ছে। মিরা এর কিছু তথ্য একনজরে দেখে নেয়া যাকঃ

স্পিডঃ ৮.৫ পেটাফ্লপ
মেমোরিঃ ৭৬৮০০০ গিগাবাইট
পাওয়ারঃ ৩৯০০ কিলোওয়াট
স্টোরেজঃ ২৪ পেটাবাইট (২৭০২১৫৯৭ গিগাবাইট)

১০. ট্রিনিটি

trinity

আমাদের তালিকার সর্বশেষ কম্পিউটার ট্রিনিটিও যুক্তরাষ্ট্রের। লস অ্যালামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে এই কম্পিউটারটি স্থাপন করা হয়েছে। এতে মোট ৩০১,০৫৬ টি প্রসেসিং কোর রয়েছে। এটি নির্মাণে ১৭৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়। মিলিটারির কাজে এই সুপার কম্পিউটারটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ট্রিনিটি এর কিছু তথ্য একনজরে দেখে নেয়া যাকঃ

স্পিডঃ ৮.১ পেটাফ্লপ
মেমোরিঃ ২০০০০০০ গিগাবাইট
পাওয়ারঃ ৪২০০ কিলোওয়াট
স্টোরেজঃ ৮২ পেটাবাইট (৯২৩২৩৭৯২ গিগাবাইট)

অনেক তো বিদেশের কথা হল, এবার দেশের কথায় আসা যাক। আমাদের দেশে আইইউবির কম্পিউটার ল্যাবে একটি সুপার কম্পিউটার রয়েছে। এতে ইন্টেল জিওন প্রসেসর এবং এনভিডিয়া কে ৮০ মডেলের জিপিইউ ব্যবহার করা হয়েছে। এতে মোট প্রসেসিং কোর রয়েছে প্রায় ১০০০০ এর মত। ২৫৬ গিগাবাইট জিডিডিআরফাইভ মেমোরিও রয়েছে এতে। ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের রিসার্চের কাজে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

এছাড়া বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে ‘নয়ন’ নামে একটি সুপার কম্পিউটার রয়েছে। তবে এই সুপার কম্পিউটারটি সম্পর্কে তেমন তথ্য পাওয়া যায় নি।

আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকলে লাইক (heart icon), রিয়েকশন দিন এবং অবশ্যই মন্তব্য করুন। পরবর্তী পোস্টে আবার দেখা হবে। ধন্যবাদ।

 

Reference:

https://en.wikipedia.org/wiki/TOP500
প্রতিটা সুপার কম্পিউটারের স্ব স্ব উইকি পাতা
www.iub.edu.bd/articles/index/588/IUB-s-First-Super-Computer

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু দশ বিল্ডিং

Now Reading
পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু দশ বিল্ডিং

উঁচু বিল্ডিং নির্মাণের যে প্রতিযোগিতা তা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়। বর্তমানের সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিংগুলোর অধিকাংশরই নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০০ এর পর। আধুনিক স্থাপত্যশিল্পের এক অসাধারণ নিদর্শন এই ভবনগুলো। তাহলে দেখে নেয়া যাক, পৃথিবীর সবচেয়ে উচুঁ দশটি বিল্ডিং।

. বুর্জ খলিফা

বুর্জ খলিফা

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভবন হিসেবে বুর্জ খলিফা পরিচিত। এটি দুবাইয়ে অবস্থিত। এর উচ্চতা ৮২৮ মিটার বা প্রায় ২৭১৭ ফুট। ১৬৩ তলা বিশিষ্ট এই বিল্ডিংটির নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০০৪ সালে আর শেষ হয় ২০০৯ সালে। এটি নির্মাণে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। নির্মাণের সময় প্রতিদিন প্রায় ১২০০০ শ্রমিক কাজ করত। প্রচন্ড গরমের কারণে সিমেন্ট জট বাঁধতে চাইত না যার ফলে রাতেও কাজ করা হত।  দ্রুতগামী এলিভেটর ব্যবহার করা হয়েছে বুর্জ খলিফায়। এটি প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিটার বেগে যেতে পারে। বিল্ডিংটি জানুয়ারি ৯, ২০১০ তারিখে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

. সাংহাই টাওয়ার

সাংহাই টাওয়ার

সাংহাই টাওয়ার চীনের সাংহাইয়ে অবস্থিত। এটি চীনের সর্বোচ্চ উঁচু বিল্ডিং। এর উচ্চতা ৬৩২ মিটার বা প্রায় ২০৭৩ ফুট। এই বিল্ডিংটি ১২৮ তলা বিশিষ্ট। সাংহাই টাওয়ারের নির্মাণ কাজ ২০০৮ সালে শুরু হয় আর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৩ সালে। এটি নির্মাণে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়। ২০১৫ সালে বিল্ডিং টি উন্মুক্ত করে দেয়। বিল্ডিংটিতে প্রতি সেকেন্ডে ২০ মিটার গতিসম্পন্ন এলিভেটর ব্যবহার করা হয়েছে।

. আবরাজ আল বাইত ক্লক টাওয়ার

এই বিল্ডিংটি রয়্যাল ক্লক টাওয়ার নামেও পরিচিত। এটি সৌদি আরবে অবস্থিত।এই বিল্ডিংটি ৬০১ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট। হোটেল এবং আবাসিক কাজে এই বিল্ডিংটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ১২০ তলা বিশিষ্ট বিল্ডিংটি নির্মাণ শুরু হয় ২০০৪ সালে আর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১১ সালে। এটি নির্মাণে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যবহার করা হয়েছে যা কোন বিল্ডিং এর জন্য সর্বোচ্চ।

. পিং আন ফাইনান্স সেন্টার

পিং আন ফাইন্যান্স সেন্টার
পিং আন ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স সেন্টার চীনের গুয়াডনের শেহজেন এ অবস্থিত। এই বিল্ডিংটি ১১৫ তলা বিশিষ্ট। এর উচ্চতা ৫৯৯ মিটার বা ১৯৬৫ ফিট। বিল্ডিংটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১০ সালে এবং নির্মাণ শেষ হয় ২০১৬ সালে। বিল্ডিংটি নির্মাণে ৬৭৮ মিলিয়ন ডলার অর্থ ব্যয় করা হয়। বিল্ডিংটার সবচেয়ে উপরের দুই তলায় অবজার্ভেশন ডেক রয়েছে। অফিস এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কাজে বিল্ডিংটি ব্যবহ্রৃত হচ্ছে।

. লট ওয়ার্ল্ড টাওয়ার

Lotte World Tower

লট ওয়ার্ল্ড টাওয়ার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল শহরে অবস্থিত। এর উচ্চতা ৫৫৫ মিটার বা ১৮১৯ ফুট। এই বিল্ডিংটি ১২৩ তলা বিশিষ্ট। ২০১১ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। আর এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৬ এর ডিসেম্বরে। হোটেল, অফিস এবং আবাসিক কাজে বিল্ডিংটি ব্যবহৃত হচ্ছে। বিল্ডিংটির ১১৭ থেকে ১২৩ তলা পর্যন্ত অবজার্ভেশন ডেক রয়েছে।

৬. ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার

one world trade center

ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার আমেরিকার নিউ ইয়র্ক শহরে অবস্থিত। ২০০১ সালের টেরোরিস্ট হামলার পর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এরপর সেই একই জায়গায় ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নামে এই বিল্ডিংটি পুনঃ স্থাপিত হয়। ১০৪ তালা বিশিষ্ট এই বিল্ডিংটির উচ্চতা ৫৪১ মিটার  বা ১৭৭৬ ফুট। এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৬ সালে আর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৩ সালে। এই বিল্ডিংটি নির্মাণে খরচ হয় ৩.৯ বিলিয়ন ডলার।

৭. সিটিএফ ফাইন্যান্স সেন্টার

ctf finance center

সিটিএফ ফাইন্যান্স সেন্টার দক্ষিণ চীনের গুয়ানঝু শহরে অবস্থিত। ১১১ তলা বিশিষ্ট এই বিল্ডিংটির উচ্চতা ৫৩০ মিটার বা ১৭৩৯ ফুট। এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০৯ সালে আর এর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৬ সালে। বিল্ডিংটি নির্মাণে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়। হোটেল এবং অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে বিল্ডিংটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

৮. তাইপেই ১০১

taipei 101

তাইপেই ১০১ তাইওয়ানের তাইপেই নামক স্থানে অবস্থিত। ২০০৪ সালে একে সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিং হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১০ সালে বুর্জ খলিফা এই রেকর্ডটি ভেঙ্গে ফেলে। ১০১ তলা বিশিষ্ট এই বিল্ডিংটি ৫০৯ মিটার বা ১৬৭১ ফুট উঁচু। ১৯৯৯ সালে বিল্ডিংটির নির্মাণকাজ শুরু হয় আর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০০৪ সালে। এটি নির্মাণে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়। বিল্ডিংটিতে দ্রুতগামী এলিভেটর ব্যবহার করা হয়েছে যেটি মাত্র ৩৭ সেকেন্ডে ৫ তলা থেকে ৮৯ তলায় যেতে পারে।

৯. সাংহাই ওয়ার্ল্ড ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার

shanghai

সাংহাই ওয়ার্ল্ড ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টার চীনের সাংহাই এর পুডোং জেলায় অবস্থিত। ১০১ তলা বিশিষ্ট এই বিল্ডিংটির উচ্চতা ৪৯২ মিটার বা ১৬১৪ ফুট। এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৭ সালে আর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০০৮ সালে। এটি নির্মাণে ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করা হয়।

১০. ইন্টারন্যাশনাল কমার্স সেন্টার

international commerce center

ইন্টারন্যাশনাল কমার্স সেন্টার হংকং এর পশ্চিম কাউলুন নামক স্থানে অবস্থিত। ১০৮ তালা বিশিষ্ট এই বিল্ডিংটির উচ্চতা ৫৮৪ মিটার বা ১৫৮৮ ফুট। এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০০২ সালে আর নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১০ সালে। এটি নির্মাণে ৯৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়।
এছাড়া কিংডম টাওয়ার বা জেদ্দা টাওয়ার নামে একটি বিল্ডিং এর নির্মাণ কাজ চলছে যেটি শেষ হবে ২০২০ সালে। ২০০র অধিক তলা বিশিষ্ট   এ বিল্ডিংটি নির্মাণের পর এর উচ্চতা হবে ১০০৮ মিটার এবং প্রথম বিল্ডিং হিসেবে ১ কিলোমিটার উচ্চতার মাইলফলক স্থাপন করবে।

আর্টিকেল টি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে লাইক বাটনে ক্লিক করুন। পরবর্তী পোস্টে আবার দেখা হবে। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি এবং কিভাবে কাজ করে

Now Reading
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি এবং কিভাবে কাজ করে

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি টেকি দুনিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়গুলির একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্যামসাং, এইচটিসি, অকুলাস রিফট এর মত বড় বড় কোম্পানিগুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নিয়ে গবেষণা করছে। যার ফলশ্রুতিতে বাজারে স্যামসাং এর গিয়ার ভিআর বা এইচটিসি ভাইব এসেছে। গুগল ও স্বল্পমূল্যে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কার্ডবোর্ড তৈরী করছে যা আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আমি আজকে আপনাদের সাথে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি এবং কিভাবে কাজ করে সেটা নিয়েই আলোচনা করব।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কি?
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সংক্ষেপে ভিআর নামে পরিচিত। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ভিআর ব্যবহারকারী ভার্চুয়াল একটি দুনিয়ায় প্রবেশ করেন। এই দুনিয়ায় তার মধ্যে বিশ্বাস তৈরী করা হয় যে সে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় অবস্থান করছে। ব্যাপারটার সাথে স্বপ্ন দেখার তুলনা করা যেতে পারে। আমরা যখন স্বপ্ন দেখি তখন আমরা স্বপ্নের জগতে উপস্থিত না থেকেও সেখানে যা যা ঘটছে সেগুলো দেখতে পারি। স্বপ্নের অদ্ভুত ঘটনাগুলোকেও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। কিন্তু আমরা যখন ঘুম থেকে উঠি তখন বুঝতে পারি কোন একটা গড়বড় রয়েছে। ভিআর যখন আমাদের ভার্চুয়াল দুনিয়ায় নিয়ে যায় তখন সেটি আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়র মধ্যে চারটিই অর্থাৎ মুখ, চোখ, কান এবং নাক নিয়ন্ত্রণ করে থাকে যেটা আমাদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা গড়ে তোলে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটির পরিবেশ বাস্তব বা কাল্পনিক উভয়ই হতে পারে।
ভার্চুয়াল রিয়ালিটি ব্রেইন কে বোঝায় যে আপনি ত্রিমাত্রিক একটি দুনিয়ায় অবস্থান করছে। এজন্য স্টেরিওস্কোপিক ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়। আমরা জানি যে আমাদের দুই চোখের সাহায্যে চোখ হতে কোন বস্তুর দূরত্ব নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে পারি। এই কৌশলই স্টেরিওস্কোপিক ডিসপ্লে তে ব্যবহার করা হয়। একই দৃশ্য দুটি সামান্য ভিন্ন অ্যাংগেল হতে দেখানো হয়। এছাড়া আরও কিছু কৌশল অবলম্বন করা হয় দৃশ্যটাকে বাস্তব করার জন্য।
Stereoscopic Vision

ভিআর এই অভিজ্ঞতা কে পূর্ণতা দান করার জন্য থ্রিডি অডিও ব্যবহার করা হয় । থ্রিডি অডিওতে ভিন্ন ভিন্ন অ্যাংগেল থেকে শব্দ উৎপন্ন হয় যেটি যথাসম্ভব রিয়েলিস্টিক আউটপুট প্রদান করে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ইতিহাসঃ


Sensorama

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি নিয়ে সর্বপ্রথম উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটে ৫০ এর দশকে। মরটন হেইলিগ নামক এক ব্যাক্তি সেনসোরামা নামক একটি যন্ত্রের উদ্ভাবন করেন। তার এই যন্ত্র দেখা, শোনা, ঘ্রাণ নেয়া এবং অনুভব করানোর ক্ষমতা ছিল। তিনি এই যন্ত্রে ৫টি শর্ট ফিল্ম প্রদর্শন করেন। শর্টফিল্মের দৃশ্য অনুযায়ী তিনি ঘ্রাণ, বাতাস চালনা, চেয়ার এর মুভমেন্ট, স্টেরিং সাউন্ড ইত্যাদি ব্যবহার করেন। যেটি দর্শকদের অন্য একটি জগতে নিয়ে যায়। মরটন হেইলিগ এর এই আবিষ্কারের জন্য তাকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জনকও বলা হয়ে থাকে। এরপর থেকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এর প্রযুক্তির উন্নতি করা হতে থাকে যা আজকে এই অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ব্যবহারঃ

ভিডিও গেমঃ
অকুলাস রিফট এবং এইচটিসি ভাইভ ভার্চুয়াল গেইমিং এর জন্য বিশেষ হেডফোন তৈরী করেছে। এছাড়া সনি প্লেস্টেশন ভিআর নিয়ে কাজ করছে যেটা কম্পিউটার এর সাহায্য ছাড়াই প্লেস্টেশনে ব্যবহার করা যাবে। অনেক জনপ্রিয় গেইম এর ই ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ভার্শন বের করা হয়েছে। জনপ্রিয় গেম মাইনক্র্যাফট এর নির্মাতা মোজ্যাং ২০১৬ সালে স্যামসাং গিয়ার ভিআর উপযোগী মাইনক্র্যাফট অকুলাস স্টোরে মুক্তি দেয়।
সিনেমাঃ
সিনেমায় ভার্চুয়াল রিয়েলিটি আপনাকে ৩৬০ ডিগ্রি এঙ্গেলে দেখার সুযোগ করে দেয়। এজন্য বিশেষ প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন খেলাধুলা, ইভেন্ট ইত্যাদি ভার্চুয়াল রিয়েলেটির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

শিক্ষাঃ

শিক্ষাদানে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অনেক বড় অবদান রাখছে। শুধু বই পড়ার ফলে কোন জিনিস কিভাবে কাজ করে সে বিষয়ে সঠিক ধারণা অনেকের মধ্যেই তৈরী হয় না। কিন্তু ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী যেকোন বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারছে।

মিলিটারি ট্রেইনিংঃ

মিলিটারি ট্রেইনিং এ ভিআর এর মাধ্যমে কমব্যাট এর প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরী করে আহত সৈনিকের কিভাবে চিকিৎসা করতে হবে তা দেখানো হচ্ছে। মিলিটারির বিভিন্ন স্কিল যেমন ফায়ারআর্মস, সাবমেরিন চালনা, বিমান চালনা ইত্যাদি কাজে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অবদান রাখছে।

চিকিৎসাঃ
চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভিআর দারুণ কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। একজন সার্জন সার্জারি সিম্যুলেটর ব্যবহার করে সার্জারি করতে পারছেন কোন প্রকারের দুর্ঘটনা ছাড়াই। যারা বাস্তবে ডিজাবল তাদেরকে ভিআর কিছুটা হলেও আনন্দ দিতে পারছে। ব্যথা কমানোর কাজে ভিআর ব্যবহার করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে ভিআর ব্যবহারের সময় রোগীর ব্রেইন ভিআর এর প্রতি থাকে যেটা তার ব্যথার অনুভূতি দূর করে দেয়।

এছাড়া আর্কিটেকচার, ইঞ্জিনিয়ারিং, ফাইন আর্টস ইত্যাদি ক্ষেত্রেও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার হচ্ছে।
ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ডিভাইসঃ
পূর্ণাঙ্গ ভিআর অভিজ্ঞতার জন্য অনেক ধরণের ডিভাইস তৈরী করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভিআর হেডসেট, মোশন ট্র্যাকার, ভিআর সিমুলেটর, হেড ট্র্যাকার, হেড মাউন্টেড ডিসপ্লে ইত্যাদি।

ডেস্কটপ কম্পিউটারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী কম্পিউটারের প্রয়োজন হয়। স্টিম পিসিতে ভিআর ব্যবহারের জন্য কমপক্ষে ইন্টেল কোর আই ৫ সিপিউ এবং এনিভিডিয়া জিটিএক্স ৯৭০ মডেলের গ্রাফিক্স কার্ড রিকমেন্ড করেছে। কিন্তু অধিকাংশ পিসিই এরকম শক্তিশালী নয়। তবে অ্যান্ড্রয়েড এ ভিআর এর জন্য কিটক্যাট অপারেটিং সিস্টেম ই যথেষ্ট।

ভিআর এর ভালো দিক থাকলেও এর নেতিবাচক দিকও আছে। এর ফলে সাইবার অ্যাডিকশন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল এবং অনেকের কাছে ভার্চুয়াল দুনিয়াই আসল দুনিয়ায় পরিণত হয়। এছাড়া আরও বিভিন্ন স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আর্টিকেল টি আপনার কেমন লেগেছে তা কমেন্ট সেকশনে জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

 

বিঃদ্রঃ অভ্র দিয়ে লেখার সময় কিছু কিছু ক্ষেত্রে লেখা ভেঙ্গে গিয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এ সমস্যার জন্য দুঃখিত।
তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া
ছবির কার্টেসীঃ গুগল ইমেজ

The Fate of the Furious রিভিউ

Now Reading
The Fate of the Furious রিভিউ

 

দ্য ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস হচ্ছে ফাস্ট অ্যান্ড দ্যা ফিউরিয়াস ফ্র্যাঞ্চাইজ এর অষ্টম মুভি। রেসিং এবং অ্যাকশননির্ভর মুভি প্রেমিদের  প্রিয় মুভির তালিকায় ফাস্ট অ্যান্ড দ্যা ফিউরিয়াস সিরিজের মুভিগুলো সবসময় উপরের তালিকায় থাকবে। প্রতিটা মুভির স্টান্ট দৃশ্যগুলো অসাধারণ এবং শ্বাসরুদ্ধকর। প্রথম দিকের মুভিগুলো রেসিং নিয়ে হলেও ধীরে ধীরে ফ্যামিলির সদস্য বেড়েছে এবং ফ্যামিলির বন্ধন আরো দৃঢ় হয়েছে। সিরিজের প্রথম মুভি বের হয় ২০০১ সালে। এরপর একের পর এক আরও সাতটি মুভি বের হয় এবং সিরিজের সর্বশেষ মুভিটি এ বছর মুক্তি পায়। মুক্তির পরেই মুভিটি বক্স অফিসে সাড়া ফেলে দেয়। ফিউরিয়াস ৭ এর পর দ্বিতীয় মুভি হিসেবে ১ বিলিয়ন ডলার এর মাইলফলক স্পর্শ করে। মুভিটি সর্বকালের সবচেয়ে বেশী আয় করা মুভির তালিকায় ১৩ নম্বর স্থানে অবস্থান করছে। মুভির বাজেট ছিল ২৫০ মিলিয়ন ডলার যেটি সবচেয়ে বেশী বাজেটওয়ালা মুভির তালিকায় ৭ নম্বরে রয়েছে।

মুভির শুরু হয় হাভানায়। ডম আর লেটি তাদের হানিমুনে হাভানায় যায়। সেখানকার রালডো নামের এক রেসার ডমকে রেস এ চ্যালেঞ্জ করে বসে। ডম রালডোর গাড়ির জন্য চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এবং অসম প্রতিযোগিতার পরেও ডম রেস জিতে যায়। সে রালডোকে তার গাড়ি তার কাছেই রেখে দিতে বলে এবং তার গাড়িটা তার চাচাতো ভাই ফার্নাদেজ কে দিয়ে দেয়। এরপরেই সাইফারের আবির্ভাব ঘটে। সে এসে ডমকে বলে তার জন্য কাজ করতে (এবং তার ফ্যামিলির বিরুদ্ধে যেতে)। সে তার ফোন থেকে ডমকে কিছু একটা দেখায় যেটা ডমের চিন্তাধারা পালটে দেয়।

ডমিনিক টোরেটোর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে লুক হবস কে জেলে যেতে হয়। সাইফারের প্ল্যান ঠেকানোর জন্য ও ডমকে সাইফারের হাত থেকে ছাড়ার জন্য মি. নোবডির আবির্ভাব ঘটে। মি. নোবডির সাথে দেখা যায় তার সহযোগী মি. লিটল নোবডিকে। তারা জেল থেকে হবস কে ছাড়িয়ে আনে এবং সাইফারের সাথে পূর্বের শত্রুতার কারণে তাদের সাথে যোগ দেয় ফিউরিয়াস ৭ এর ভিলেন ডেকার্ড শ। হবস, শ, মি. নোবডির অর্গানাইজেশন, এবং তাদের ফ্যামিলি মিলে টিম গঠিত করে সাইফারকে ঠেকানো এবং ডমকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য।

কাস্টিংঃ
ভিন ডিজেল – ডমিনিক টোরেটো এর চরিত্রে
ডোয়াইন জনসন – লুক হবস এর চরিত্রে
জেসন স্ট্যাথাম – ডেকার্ড শ এর চরিত্রে
মিশেল রড্রিগেজ – লেটি অর্টিজ এর চরিত্রে
টাইরিস গিবসন – রোমান পিয়ার্স এর চরিত্রে
ক্রিস লুডাক্রিস ব্রিজ – টেজ পার্কার এর চরিত্রে
স্কট ইস্টউড – এরিক রেসনার এর চরিত্রে
নাথালি এমানুয়েল – রামসি এর চরিত্রে
এলসা পাতাকি – এলিনা নিভস এর চরিত্রে
কার্ট রাসেল – ফ্র্যাঙ্ক পেটি এর চরিত্রে
চার্লিজ থেরন – সাইফার এর চরিত্রে

মুভিটি সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ
আইএমডিবি রেটিং – ৭/১০
রোটেন টমেটোস রেটিং – ৬৬%
পরিচালক – এফ.গ্যারি গ্রে
প্রযোজক – নিল এইচ. মরিটয, ভিন ডিজেল, মাইকেল ফটরেল, ক্রিস মর্গান
মুক্তির তারিখ – ১৪ এপ্রিল, ২০১৭
রান টাইম – ১৩৬ মিনিট
বাজেট – ২৫০ মিলিয়ন ডলার
বক্স অফিস – ১.১৬৩ বিলিয়ন ডলার
ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস ফাস্ট এন্ড দ্য ফিউরিয়াস সিরিজের নিঃসন্দেহে সেরা মুভি। পুরো মুভি জুড়েই পল ওয়াকার কে মিস করেছি। অনেকের মত আমিও ভেবেছিলাম ফিউরিয়াস ৭ ই হবে সিরিজের শেষ মুভি। কিন্তু যখন শুনলাম যে সিরিজের আরো একটি মুভি আসবে তখন ভেবেছিলাম মুভিটা হয়ত বাজে হবে। কিন্তু ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস দেখার পর বুঝলাম যে এই মুভিটার আসলেই দরকার ছিল। এই মুভিটায় ভালো একটা মুভির সবগুলো উপাদানই ছিল।  পরিচালক এফ. গ্যারি গ্রে চরিত্রগুলোর ভেতরের কাহিনী দেখিয়েছেন।  যেটির প্রয়োজন ছিল। শ কে? তার পরিচয় কি? ডম কেন তার ফ্যামিলির বিরুদ্ধে গেল? শ এর বন্ধু হয়ে যাওয়ার কারণ কি এসকল প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আপনাকে মুভিটি দেখতেই হবে।
ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস তার পূর্বের মুভিগুলোর চাইতে ব্যতিক্রমধর্মী ছিল। আগের মুভিগুলোয় কিছু বিষয় যেমন জঙ্গিবাদ, প্রতিশোধ, নেয়া ইত্যাদি বিষয় মুখ্য ছিল । কিন্তু ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াসে একশনের পাশাপাশি শক্তিশালী একটা প্লট ও আছে।  যেটা আগের মুভিগুলোয় অনুপস্থিত ছিল।  সকল চরিত্রই গুরত্বপূর্ণ রোল প্লে করেছে। রোমান চরিত্রে অভিনিত টাইরিস গিবসন পুরো মুভিতেই হাসির খোরাক জুগিয়ে গেছে। তার কর্মকান্ড দেখে না হেসে থাকা যায় না।  সবাই ভালো অভিনয় করেছে।  ভিলেন চরিত্রে এই প্রথম নারী চরিত্র সাইফারকে দেখা গিয়েছে। সাইফার হচ্ছে ঠান্ডা মাথার একজন সাইবার ক্রিমিনাল।  অ্যাকশন না থাকার কারণে তাকে কিছুটা বোরিং মনে হলেও তার মূল ভূমিকাই ছিলো কিবোর্ডের পিছনে।  ফিউরিয়াস ৭ এ কিছুটা হ্যান্ড টু হ্যান্ড কমব্যাট থাকলেও ফেট অফ দ্য ফিউরিয়াস সেটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ছিল।  পুরো মুভি জুড়ে চারটি প্রধান অ্যাকশন সিকোয়েন্স ছিল। শুরুতে ফুটবল সদৃশ বোমা যেটায় ডম বিশ্বাসঘাতকতা করে, এরপর হবস আর শ এর জেল ভাঙ্গা, ডম কে পুরো টিমের ধাওয়া এবং সাবমেরিনের সাথে লড়াই। অ্যাকশন সিকোয়েন্স ছিলো দারুণ। ফিউরিয়াস ৭ এর মতোই ৮ এও গডস আই এর ব্যবহার ছিলো।
তবে এটাই সিরিজের শেষ মুভি নয়। সিরিজের নবম মুভি মুক্তি পাবে এপ্রিল ১৯,২০১৯ সালে এবং দশম মুভিটি এপ্রিল ২,২০২১ সালে মুক্তি পাবে।

আপনি যদি মুভিটি এখনো দেখে না থাকেন তাহলে আজই দেখে ফেলুন।

আমার ব্যক্তিগত রেটিং- ৮/১০

আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে হার্ট বাটনে ক্লিক করুন। মুভিটি আপনার কেমন লেগেছে তা কমেন্ট সেকশনে জানান। ধন্যবাদ।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি এবং কিভাবে কাজ করে?

Now Reading
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি এবং কিভাবে কাজ করে?

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কে সংক্ষেপে এ.আই. বলা হয়ে থাকে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর বাংলা করলে হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এটি কম্পিউটার সায়েন্স এর একটি শাখা। কোন মেশিনের নিজের চিন্তা করার ক্ষমতা, শেখার ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ইত্যাদি কাজ কম্পিউটারের মাধ্যমে সম্পন্ন হলে তাকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বলা হয়।

এ.আই. আবিষ্কার করার মূল লক্ষ্যই ছিল এমন একটা প্রযুক্তির উদ্ভাবন করা যা মানুষের মত চিন্তা করতে পারবে, মানুষের মতই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।

এ.আই. এর ব্যবহার এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে। ভয়েস রিকগনাইজেশন, ফেস ডিটেকশন, স্ট্র্যাটেজিক গেম, পাইলটবিহীন ড্রোন, চালকবিহীন গাড়ি ইত্যাদি ক্ষেত্রে এ.আই. এর ব্যবহার হচ্ছে।

এ.আই. কিভাবে কাজ করে?

মানুষ এবং কম্পিউটার এর মধ্যকার মূল পার্থক্য হচ্ছে মানুষ একসাথে মাত্র একটা কাজই করতে পারে। কিন্তু কম্পিউটার একাধিক কাজ চালিয়ে যেতে পারে।  কোন সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বপ্রথমে কম্পিউটার বিভিন্ন সেন্সর এর মাধ্যমে বা মানুষ দ্বারা প্রবেশকৃত তথ্য সংগ্রহ করে। কম্পিউটার তার প্রাপ্ত তথ্যগুলোকে তার ভেতরে থাকা  ডেটার সাথে মিলিয়ে দেখে। এরপর সে সম্ভাব্য কিছু প্রক্রিয়া বেছে নেয় তার সমস্যা সমাধানের জন্য। এ.আই. তার বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে যে প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে সমস্যাটি সবচেয়ে সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যাবে সেই প্রক্রিয়াটিই বেছে নেয়। কম্পিউটার প্রোগ্রামগুলো শুধুমাত্র যে কাজের জন্য তৈরী সেই কাজ করতে কম্পিউটার প্রোগ্রাম গুলো পারদর্শী। কিন্তু এ.আই. তার বিশ্লেষণী ক্ষমতা ব্যবহার করে সমস্যার সমাধান করে থাকে।

বর্তমানের কিছু উন্নত রোবটের সীমিত পরিসরে শেখার ক্ষমতা আছে। তারা বিভিন্ন মুভমেন্ট দেখে দেখে শিখতে পারে। যেমন হাত পা নাড়ানো, হাঁটাচলা করা। এছাড়া নতুন কিছু শেখার পর রোবটটি সেই তথ্য তার স্মৃতিতে রেখে দেয় যেটা সে পরবর্তীতে আবার প্রয়োজনীয় মূহুর্তে ব্যবহার করতে পারে। এছাড়া কিছু রোবট আছে যারা মানুষকে হুবহু নকলও করতে পারে। কিছু কিছু রোবট আবার মানুষের মত অন্য মানুষের সাথে কথাবার্তাও স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে পারে। এ.আই. তখনই মানুষের সাথে ইন্টেরাক্ট করতে পারবে যখন সে মানুষের বুদ্ধিমত্তা অনুযায়ী কাজ করতে পারবে।

মানুষের ব্রেইন সেলে কোটি কোটি নিউরন থাকে। এবং মানুষের ব্রেইন বিচিত্রভাবে কাজ করে থাকে। তাই বিজ্ঞানীদের পক্ষে এ.আই. কে মানুষের ব্রেইন অনুযায়ী কাজ করানো খুবই জটিল একটা কাজ। তাই বিজ্ঞানীরা এ.আই. কে আরো উন্নত করার জন্য কিভাবে মানুষের ব্রেইন চিন্তা করে সেই বিষয়ে গবেষণা করছেন। এবং তারা তাদের এই গবেষণাপ্রাপ্ত ফলাফলগুলো রোবটদের উপর পরীক্ষা করে দেখছেন। মানুষের ব্রেইনের মত করে এ.আই. তৈরি করার কারণে মানুষ আরও সহজে এ.আই. এর সাথে সমন্বয় সাধন করছে।

মানুষের ব্রেইন এর মত কম্পিউটার ব্রেইন ডিজাইন করা সম্ভব নয়। তবে কৃত্রিমভাবে কম্পিউটারকে মানুষের ব্রেইন এর মত আচরণ করানোর চেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এরও আগে থেকে নিউরাল নেটওয়ার্ক নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। নিউরাল নেটওয়ার্কে তিনটা অংশ থাকে। একটি ইনপুট, অপরটি হিডেন এবং আরেকটি হচ্ছে আউটপুট। এই অংশগুলিকে লেয়ার বলা হইয়ে থাকে। ইনপুটে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত প্রবেশ করানো হয় এবং নিউরাল নেটওয়ার্ক সেই তথ্য উপাত্তের ধরণ চিনতে চেষ্টা করে। হিডেন ইউনিট সেই তথ্যগুলো তার পূর্বের জানা তথ্যের সাথে মিলিয়ে দেখে এবং আউটপুট ইউনিটে তার কাজের ফলাফল প্রকাশ করে। ডিপ লার্নিং নিউরাল নেটওয়ার্ক আরো জটিলভাবে কাজ করে থাকে। এর হিডেন সেকশনে আরো সাবসেকশন থাকে যেমন ভয়েস রিকগনাইজেশন, ফেস ডিটেকশন ইত্যাদি। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ডেভেলপমেন্ট এর কাজে পাইথন নাম প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এর ব্যবহার সবচেয়ে জনপ্রিয়। এছাড়া প্রোলোগ, লিস্প, জাভা, সি শার্প ইত্যাদিও ব্যবহার করা হয়।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কে মানুষের উপকারের কাজে বর্তমানে ব্যবহার করা হলেও এর খারাপ দিকও আছে। যদিও সেটি তেমন বড় হয়ে দেখা দেয়নি। কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন যে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কে বিভিন্ন আইনের আওতায় এনে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। একে নিয়ন্ত্রণে রাখা না গেলে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ই মানুষের ধ্বংসের কারণ হবে। এর কারণ হচ্ছে মানুষের পরিবর্তন খুব ধীরে ধীরে হয়। কিন্তু এআই খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে মানুষ এর সাথে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হবে এবং কালের বিবর্তনে হারিয়েও যেতে পারে। নিক বোস্ট্রোম তার ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ নামক বইয়ে বলেন, যদি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে কোন লক্ষ্য(ধরা যাক কোন জায়গার নিয়ন্ত্রণ নেয়া) নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী যদি কাজ করতে থাকে তাহলে তারা নিজেদের যেনো কোনভাবেই বন্ধ করা না যায় সেই ব্যবস্থাও করে ফেলতে পারে। এবং সেটা যদি ঘটে যায় তাহলে কোনভাবেই এটাকে থামানো সম্ভব নাও হতে পারে। এজন্য ওপেনএআই নামে একটি সংস্থা খোলা হয়েছে যেটি নিরাপদ এআই গবেষণা নিশ্চিত করে যাচ্ছে।

অ্যামাজন, গুগল, ফেসবুক, মাইক্রসফট এর মত বড় বড় কোম্পানিগুলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে আরো উন্নত করার জন্য একসাথে কাজ করা শুরু করেছে।

এ.আই.  নিয়ে অনেক মুভি বানানো হয়েছে। যেমনঃ দ্যা ম্যাট্রিক্স ট্রিলজি, ওয়েস্টওয়ার্ল্ড, ব্লেড রানার, টার্মিনেটর, এ.আই.ঃ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইত্যাদি।

আশা করি এ.আই. ভবিষ্যতে আরো উন্নত হবে এবং মানবজাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।

আর্টিকেলটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে তা কমেন্ট সেকশনে জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Lord of the Rings: Fellowship of the ring মুভি রিভিউ

Now Reading
Lord of the Rings: Fellowship of the ring মুভি রিভিউ

দ্যা লর্ড অফ দ্যা রিংসঃ ফেলোশিপ অফ দ্যা রিং হচ্ছে লর্ড অফ দ্যা রিংস ট্রিলজির প্রথম মুভি। জে.আর.আর টোলকিয়েন এর লেখা লর্ড অফ দ্যা রিংস বইয়ের এর উপর ভিত্তি করে মুভিটি নির্মিত। মুভিটি পরিচালনা করেছেন হলিউডের বিখ্যাত ডিরেক্টর পিটার জ্যাকসন। এই মুভিটি ২০০১ সালে মুক্তি পায়। মুক্তির পরেই ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় এবং বক্স অফিসে ৮৭১ মিলিয়ন ডলার আয় করে। যা ২০০১ সালের সর্বোচ্চ আয় করা মুভিগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় (প্রথম স্থানটি হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্যা ফিলোসোফার্স স্টোন এর দখলে) এবং সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা মুভিগুলোর তালিকায় ৫০ নম্বরে অবস্থান করছে। মুভিটি ১৩ টি বিভাগে অস্কার এর জন্য নমিনেশন পায় এবং ৪টি বিভাগে অস্কার জিতে যায়। ক্রিটিক্স মুভিটিকে সর্বকালের স্রেষ্ঠ ফ্যান্টাসি মুভির আখ্যাও দেন।

ডার্ক লর্ড সাওরন মিডল আর্থ শাসন করার জন্য একটি আংটি খুঁজতে থাকে। তার অধিকাংশ শক্তিই এই আংটির মধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে। ঘটনাক্রমে বিলবো ব্যাগিন্স নামের এক হবিট সেই আংটিটি একটি গুহায় খুঁজে পায় এবং সেটি সে শায়ারে নিয়ে আসে। এই আংটি পরলে সে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারত। কিন্তু একটা ব্যাপার তার জানা ছিলো না যে এটাই সেই একমাত্র রিং যেটা পাওয়ার জন্য সাওরন মরিয়া। বিলবো তার ১১১তম জন্মদিনে আংটিটি সে তার ভাইপো ফ্রোডো ব্যাগিন্স কে দিয়ে শায়ার ছেড়ে চলে যায়। গ্যান্ডালফ আংটিটি দেখে বুঝতে পারেন যে এটাই সেই ওয়ান রিং। মিডল আর্থ কে বাঁচানোর জন্য গ্যান্ডালফ ফ্রোডো কে দায়িত্ত্ব দেন আংটিটা মর্ডর এর মাউন্ট অফ ডুম এ নিয়ে গিয়ে ধ্বংস করার। ফ্রোডোর এই যাত্রায় সংগী হয় তার বন্ধু স্যাম, পিপিন, বেরী, জাদুকর গ্যান্ডালফ, বামন গিমলী, বোরোমির, এলফ লেগোলাস এবং আইসিলডার এর উত্তরাধিকারী অ্যারাগোর্ন।  তাদের এই অ্যাডভেঞ্চার এ তারা পদে পদে বিপদের মুখোমুখি হতে থাকে। তারা যাত্রাপথে রিংরেইথ, অর্ক, বালরগ, উরুক-হাই(সারুমান এর তৈরী অর্ক্স এবং গবলিন এর সমন্বয়ে তৈরী বিশেষ সৈন্য) এর  আক্রমণের সম্মুখীন হয়। সকল বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে তাদের অভিযান চালিয়ে যায়।

মুভির কাস্টিং টা এবার দেখে নেয়া যাকঃ

এলিজাহ উড – ফ্রোডো ব্যাগিন্স এর চরিত্রে
সিন অস্টিন – স্যাম এর চরিত্রে
ইয়ান ম্যাককেলেন – গ্যান্ডালফ এর চরিত্রে
ভিগো মরটেনসেনন – স্ট্রাইডার/অ্যারাগর্ন এর চরিত্রে
বিলি বয়েড – পিপিন এর চরিত্রে
ডমিনিক মোনাঘান – মেরী এর চরিত্রে
জন রাইস – গিমলি এর চরিত্রে
অরল্যান্ডো ব্লুম – লেগোলাস এর চরিত্রে
সিন বিন – বোরোমির এর চরিত্রে
সালা বেকার – সাওরন এর চরিত্রে
কেট ব্ল্যাঞ্চেট – গ্যালাড্রিয়েল এর চরিত্রে
ক্রিস্টোফার লি – সারুমান দ্যা হোয়াইট এর চরিত্রে এবং আরও অনেকে।

মুভির কাস্টিং ছিল পুরোপুরি পার্ফেক্ট। প্রায় ৭-৮ ছিল প্রধান চরিত্র। যেটা মুভির আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। সকলেই তাদের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন। কারো অভিনয় নিয়েই আমি কোন খুঁত ধরতে পারি নি।

মুভির রানিং টাইম প্রায় চার ঘন্টার মত। কিন্তু পুরোটা মুভিই জুড়েই উত্তেজনা ছিল। এই ধরণের মুভিগুলোর কাহিনী সাধারণত আগে থেকেই বোঝা যায় যে যারা ভাল তাদের জয় হবে এবং যারা খারাপ তাদের পরাজয় ঘটবে। কিন্তু তারপরেও মুভিটার পুরো চার ঘন্টাই ছিল উত্তেজনার। একের পর এক ক্লাইম্যাক্স আসছিল। যেটা শেষ পর্যন্ত বজায় ছিল। পুরো মুভিজুড়েই ছিল বন্ধুত্ত্ব, ভালোবাসা, সাহসিকতার ছাপ। যা আপনার মনে দাগ ফেলতে বাধ্য

মুভিটার লোকেশন ছিল অসাধারণ। মুভিটা শুটিং করার জন্য পরিচালক পিটার জ্যাকসন তার জন্মভূমি নিউজিল্যান্ড কেই বেছে নেন। মুভির কাজ শুরু হয় ১৯৯৭ সালের অগাস্টে। রিচার্ড টেইলর এবং ওয়েটা ওয়ার্কশপ কে মিডল আর্থকে যথাসম্ভব বাস্তবভাবে ফুটিয়ে তোলার দায়িত্ত্ব দেয়া হয়।

ব্যাক্তিগত মতামত

আমার দেখা সেরা মুভিগুলোর একটি হচ্ছে ফেলোশিপ অফ দ্যা রিং। ডিরেকশন, সিনেমাটোগ্রাফি, ভিজুয়াল ইফেক্টস, সাউন্ড ইফেক্টস, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সবকিছুই ছিল একদম পার্ফেক্ট। ক্যামেরার কাজ ছিল দুর্দান্ত। অসাধারণ সকল শট, সাথে চোখধাঁধানো সিনেমাটোগ্রাফি। অ্যান্ড্রিউ লেসনিয়ে যে কত বড় মাপের সিনেমাটোগ্রাফার সেটাই তিনি দেখিয়েছেন তার এই মুভিতে। তার এই কাজের জন্য তিনি অস্কারও পান। মিউজিক কম্পোজিশনের দায়িত্বে ছিলেন হাওয়ার্ড শোর। আমি হ্যান্স জিমারের অনেক বড় ফ্যান। কিন্তু হাওয়ার্ড এর কাজ দেখে আমি পুরো ফিদা হয়ে গেছি। মুভির থিম মিউজিকটা কোনদিন ভোলার মত নয়। তিনিও মিউজিক কম্পোজিশনের জন্য অস্কার জিতে নেন।
পুরো মুভি জুড়েই অসাধারণ ভিএভএক্স এর কাজ দেখা যায়। ব্যাটেল সিন গুলোর সিজিআই, ডিজিটাল এনভায়রমেন্ট তৈরী সবকিছুই অসাধারন ছিল। হবিট গুলোর অন্য চরিত্রগুলোর সাথে উচ্চতার সামঞ্জস্য দারুনভাবে রাখা হয়েছে।
সবশেষে যার কথা না বললেই নয়, তিনি হচ্ছেন পরিচালক পিটার জ্যাকসন। পুরো মুভিতেই তার অসাধারণ পরিচালনার ছাপ লক্ষ করা যায়। সবচেয়ে সফলভাবে তিনিই প্রথম বইয়ের অ্যাডাপ্টেশন করেন মুভিতে। যার জন্য তিনি প্রসংশার দাবিদার।

মুভিটি যদি না দেখে থাকেন তাহলে দেরি না করে আজই দেখে ফেলুন। আপনার দেখা অন্যতম সেরা মুভিও হয়ে যেতে পারে এটা।

মুভিটি সম্পর্কে কিছু গুরত্বপূর্ণ তথ্যঃ

আইএমডিবি রেটিংঃ ৮.৮/১০
রোটেন টমেটোস রেটিংঃ ৯১%
পরিচালকঃ পিটার জ্যাকসন
প্রযোজকঃ পিটার জ্যাকসন, ফ্রান ওয়ালশ, টিম স্যান্ডার্স এবং ব্যারি.এম.অসবর্ন
স্ক্রিনপ্লেঃ ফ্রান ওয়ালশ, ফিলিপা বয়েনস এবং পিটার জ্যাকসন
মিউজিকঃ হাওয়ার্ড শোর
বাজেটঃ ৯৩ মিলিয়ন ডলার
বক্স অফিসঃ ৮৭৩.৫ মিলিয়ন ডলার

আমার ব্যাক্তিগত রেটিংঃ ১০/১০

রিভিউটি সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

বিঃদ্রঃ মুভি সম্পর্কিত কিছু তথ্য উইকিপিডিয়া এবং আইএমডিবি হয়ে সংগ্রীহিত।

 

The Exam (2009) মুভি রিভিউ এবং ব্যাখ্যা

Now Reading
The Exam (2009) মুভি রিভিউ এবং ব্যাখ্যা

পরীক্ষায় আমরা প্রশ্নপত্র পেয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকি। কিন্তু এমন কি কোন প্রশ্নপত্রের ঘটনা শুনেছেন যেখানে কোন প্রশ্নই নেই। The Exam মুভির গল্পটা ঠিক এইরকম।

রিভিউ শুরু করার আগের মুভির ট্রেইলারটা একবার দেখে নেয়া যাক।

 

 

মুভিটি একটি সাইকোলজিকাল থ্রিলার ঘরানার মুভি। এবং এই ধরনের মুভি আমার সবসময়ই ভাল লাগে। কাহিনী খুবই সাধারণ। ৮ জন পরীক্ষার্থী একটি রহস্যময় ও বড় একটা কোম্পানিতে চাকুরির জন্য অনেক প্রতিযোগিতার পর ফাইনাল রাউন্ডের পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। তাদেরকে একটি বদ্ধ রুমে নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে কোন জানালা নেই এবং একটি মাত্র দরজা রয়েছে । তাদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে টেবিল এবং চেয়ার রয়েছে। তাদের সবাইকে একটি করে নাম্বার দেয়া হয় ক্যান্ডিডেট #১ থেকে ক্যান্ডিডেট #৮ পর্যন্ত। একজন ইনভিজিলেটর এসে পরীক্ষার তিনটি শর্ত দিয়ে দেন।

১. গার্ড বা পরিদর্শক কারো সাথে কথা বলা বা বলার চেষ্টা করা যাবে না;
২. পরীক্ষার খাতা বা উত্তরপত্র কোন অবস্থাতেই নষ্ট করা যাবে না;
৩. যেকোন অবস্থাতেই পরীক্ষার হল থেকে বের হওয়া যাবে না;
যদি এর কোন একটা শর্তও ভঙ্গ করা হয় তাকে ডিসকোয়ালিফাই করা হবে। এখানে শুধুমাত্র কোম্পানির নিয়মে এবং আইন খাটবে, বাইরের আইন নয়। তাদেরকে একটা প্রশ্নের উত্তর দেবার জন্য ৮০ মিনিট সময় দেয়া হয়। ইনভিজিলেটর স্টপওয়াচ চালু করে আর্মড সিকিউরিটি গার্ড কে রেখে বের হয়ে যান।

সময় ৮০ মিনিট এবং প্রশ্ন মাত্র একটা। উত্তরও দিতে হবে একটাই। কিন্তু সমস্যাটা বাধে এখানেই। তাদের যে উত্তরপত্র দেয়া হয় সেটা কোন প্রশ্ন নেই এবং পুরোটাই ফাঁকা পৃষ্ঠা। তারা ভাবতে থাকে প্রশ্ন ছাড়াই উত্তর দেবে কিভাবে। একজন চাইনিজ ক্যান্ডিডেট উত্তরপত্রে লেখা শুরু করার সাথে সাথেই তাকে ডিসকোয়ালিফাই করা হয়। এটা দেখে অন্যরা উত্তরপত্রে লেখা হতে বিরত থাকে। কিছুক্ষণ পরে তারা বুঝতে পারে যে সবাই একে অপরের সাথে কথা বলতে পারবে এবং কাজও করতে পারবে। ‘হোয়াইট’ নামধারী একজন ক্যান্ডিডেট অন্যদের নামকরণ করে ‘ব্লন্ড’, ‘ব্রাউন’, ‘ডার্ক’ ইত্যাদি নামে একে অপরের সাথে যোগাযোগের জন্য। তারা সবাই প্রশ্নটা কি এটা বের করার জন্য একে অপরের সাথে কাজ করার জন্য একমত পোষণ করে। তারা বিভিন্নভাবে প্রশ্ন বের করার চেষ্টা করে। প্রথমে তারা ধারণা করে যে উত্তরপত্রেই কোন ভাবে প্রশ্ন লুকিয়ে আছে। অদৃশ্য কালি, থুথু, আলো সবকিছু দিয়েই পরীক্ষা করে দেখে কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না। এভাবেই কাহিনী এগিয়ে যেতে থাকে। বাকিটুকু আমি আর বললাম না। আপনারা বরং মুভিতেই দেখে নেবেন।

মুভির সম্পর্কে এক্সপেক্টেশনটা খুব একটা বেশি ছিল না। কিন্তু মুভিটি দেখার পর জাস্ট একটা কথাই বেরিয়ে এলো, ‘ওয়াও’। প্লট টাকে দুর্দান্ত ভাবে মুভিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক মূহুর্তের জন্যও বোরিং লাগেনি। পুরো মুভিতে মাত্র দশজন অভিনিয় করেছেন। খুব অসাধারণ অভিনয় না হলেও সকলেই সাবলিল অভিনয় করেছেন। যদিও এদের কেউই জনপ্রিয় অভিনেতা নন তবুও কাস্টিং টা একবার দেখে নেয়া যাকঃ

লুক ম্যাবলি – হোয়াইট এর চরিত্রে

অ্যাডার বেক – ডার্ক এর চরিত্রে
গেমা চ্যান – চাইনিজ মহিলার চরিত্রে

নাথালি কক্স – ব্লন্ড এর চরিত্রে
জন লয়েড ফিলিংহ্যাম – বধির এর চরিত্রে
চাকুদি ইয়ুজি – ব্ল্যাক এর চরিত্রে
পলিয়ানা ম্যাকিনটশ – ব্রুনেট এর চরিত্রে

জিমি মিস্ট্রি – ব্রাউন এর চরিত্রে
কলিন স্যামন – ইনভিজিলেটর এর চরিত্রে

ক্রিস কেরি – গার্ড এর চরিত্রে

 

মুভিটি সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাকঃ
আইএমডিবি রেটিংঃ ৬.৯

রোটেন টম্যাটোস রেটিংঃ ৬৩%

পরিচালনা, গল্প লেখা, প্রযোজনাঃ স্টুয়ার্ট হ্যাজেল্ডলাইন

মুক্তির তারিখঃ  জুন ২০০৯

রানিং টাইমঃ ৯৮ মিনিট
দেশঃ যুক্তরাজ্য

বাজেটঃ ৬ লক্ষ মার্কিন ডলার

পরিচালক খুব দক্ষতার সাথে গল্পটাকে উপস্থাপন করেছেন। দেখে মনেই হয় নি যে এটা ওনার প্রথম মুভি। প্লট টা দারুন এবং লো বাজেট হওয়া সত্ত্বেও মুভিটি অসাধারণ ছিল। পুরা সিনেমা জুড়েই থ্রিল বজায় ছিলো এবং বেশ কিছু টুইস্টও আছে মুভির শেষের দিকে। স্টুয়ার্ট হ্যাজেল্ডলাইন মূল গল্প থেকে কিছুটা পরিবর্তন করে মুভিটি বানান। মূল গল্পে পরীক্ষাটি একটি স্কুলে হয় কিন্তু পরিচালক মুভির পরীক্ষাটিকে চাকরির ইন্টারভিউ হিসেবে দেখিয়েছেন।  মুভির সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও ভাল ছিল।

আপনার যদি থ্রিলার মুভির ভক্ত হয়ে থাকেন তাহলে দেরি না করে আজই দেখে ফেলুন। আশা করি আমার মত আপনারও মুভিটি ভালো লাগবে।

এই মুভিটিকে আমি ১০ এ ৮ রেটিং দিব।

 

হাই স্পয়লার এলার্ট
অনেকে মুভিটা দেখার পরেও ধরতে পারেন নি যে প্রশ্নটা আসলে কি ছিল। মুভির শেষের দিকে ভাঙ্গা গ্লাস উত্তরপত্রের উপর ধরলে দেখতে পায় যে লেখা “Question 1.?” তাহলে প্রশ্নটা আসলে কি ছিল?

মুভির শুরুতেই ইনভিজিলেটর পরীক্ষার নিয়ম বলার পর সবাইকে জিজ্ঞেস করেন কোন প্রশ্ন আছে কিনা। এটা কিন্তু কোন সাধারণ প্রশ্ন ছিল না। পরীক্ষার প্রশ্ন কিন্তু মূলত এটাই ছিল। কোন পরীক্ষার্থী যদি বলত কোন প্রশ্ন নেই তাহলে সেই তখনই পরীক্ষায় উন্নীত হত। ব্লন্ড পরবর্তীতে বুঝতে পারে যে তাদেরকে একটাই প্রশ্ন করা হয়েছিল। তাই সে উত্তর দেয় ‘নো কোয়েশ্চচেন’। এরপরেই ইনভিজিলেটর এবং সিইও প্রবেশ করে এবং তাকে জানায় যে সে পরীক্ষায় উন্নীত হয়েছে।

 

রিভিউটি কেমন লেগেছে তা জানাতে ভুলবেন না। আমি আরও রিভিউ নিয়ে আপনাদের সামনে ভবিষ্যতে হাজির হব।