“পাহাড়ের কান্না” এই সংকট নিরসনে আমাদের করণীয় কি ?

Now Reading
“পাহাড়ের কান্না” এই সংকট নিরসনে আমাদের করণীয় কি ?

প্রাকৃতিকভাবে অপরুপ গঠনশৈলী রয়েছে আমাদের দেশের।এখানে রয়েছে ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় একটা মেলবন্ধন। ঋতুর পালাবদলের সাথে সাথে তাল মিলিয়ে পাল্টে চলে তার প্রকৃতির আচরণ। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার মূলত বিস্তৃত নদী,পাহাড় আর সুবিশাল সাগর সব মিলিয়ে একটা অপরুপ সৌন্দর্যের চিত্র যেন তৈরী করা হয়েছে। অনেককাল আগে থেকে এই দেশের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যতার গুণগান করেছে ভ্রমণকারীরা।সবমিলিয়ে দেশ ও বিদেশের ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে একটা ভাল বিকল্প এই বাংলাদেশ। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মূলত পাহাড় আর নদীর এক অপূর্ব সম্মিলন রয়েছে। এই যেমন কক্সবাজারে রয়েছে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত আর বৃহত্তম চট্টগ্রামে রয়েছে এক বিশাল অংশ যা কিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম বলে পরিচিত। এই চট্টগ্রামের পাঁচ পার্বত্য জেলায় রয়েছে বিশাল এক নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস। যারা কিনা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসলেও একটা সময় সরকারের আলাদা আইনের বলে আদিবাসী জনগণ হিসেবে পাহাড়ে বাস করে আসছে। মূলত স্বাধীনতার পর তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের এক ধরণের নিশ্চয়তা পেয়ে আসছে। বর্তমানে দেশের যাবতীয় প্রেক্ষাপটে তাদের আনুপাতিক হারে উপস্থিতি অন্তত তাই বলে। দেশের শিক্ষা সহ নানাক্ষেত্রে তাদের আলাদা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এটা অবশ্যই একটা কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে গৃহীত পদক্ষেপের জন্য সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। তবে স্থানীয় কিছু বিষয় নিয়ে বিবাদমান একটা ইস্যু যেন সবসময় অদৃশ্য বা আড়ালে থেকে একটা বিদ্বেষ বা উৎকন্ঠাকে বারবার জাগিয়ে দেয়। এই বিষয়ে সর্বোচ্চ মহলের তৎপরতা বা হস্তক্ষেপ জরুরী। একটা সময়ে পাহাড়ে সমতলের লোকজনের বসবাস যারা ‍কিনা পাহাড়ীদের কাছে বাঙ্গালি বলে পরিচিত। অথচ ঐ পাহাড়ের লোকজন বাংলাদেশের সমস্ত সুযোগ সুবিধা নিয়েও তারা পাহাড়ী পরিচয় দিতেই যেন স্বস্তিবোধ করে। বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে ঘটিত কোন ইস্যুকে হাতিয়ার বানিয়ে একে অপরের প্রতি দোষারোপ বা বিদ্বেষ ছড়ানোর যে সংস্কৃতি তা হতে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। কোন কল্যাণকর রাষ্ট্র বা সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই ধরনের বিবাদমান কোন ইস্যু সার্বিক অর্থে হানিকর বটে। পাহাড়ের জনগণকে এগিয়ে নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে সরকার শিক্ষা সহ চাকরির বিভিন্ন নিয়োগে আনুপাতিক হারে তাদের জন্য সুবিধা বরাদ্দ করে দিয়েছে। তাছাড়া পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বাঙ্গালি জনগণ আর বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে একটা সুসম্পর্ক রয়েছে। পাহাড়ে নিয়োজিত সেনাবাহিনিসহ স্থানীয় প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকি কেবলই পারে পাহাড়ে একটা শান্তিময় পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে। একটা দেশকে কল্যাণকর রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করতে এই বিষয়ে তৎপর হবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।এমনটাই আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়।

সম্প্রতি লংগদুতে ঘটে যাওয়া আগ্রাসন আর বিভিন্ন সময়ে ঘটা নানান অপ্রীতিকর ঘটনা অবশ্যই একজন বিবেকবানকে নাড়া দিবে। কেননা একটা কল্যাণকর রাষ্ট্রের স্বার্থে কখনো এই ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। এই তো গেল পাহাড়ে বসবাসরত মানুষের মানবিক কারণ আর তার কারণে সৃষ্ট নানান সমস্যার আলোকপাত যার নেপথ্যে রয়েছে অনেক লম্বা ইতিহাস।তাছাড়া বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে আমাদের উচিত কোন অর্ন্তসংঘাতে না গিয়ে একটা সমৃদ্ধ দেশ গড়তে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। যেখানটায় কেবল সবাই মানুষের মর্যাদা পাবে।

প্রেক্ষাপটঃ২

বর্তমানে প্রকৃতির বিরুপ পরিবেশের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের কারণে দেশে একটা সমস্যা প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। এটা হল মানবসৃষ্ট দুর্যোগ যা কিনা পাহাড়ধস বলে পরিচিত। দেশে বর্তমানে বর্ষার স্থায়ীত্ব বেড়েছে সংগত কারণে পাহাড়ী অঞ্চলে অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড়ের গাঁথুনী ঢিলে হয়ে পড়ে। এটা স্বাভাবিক। আমাদের দেশীয় পাহাড়ের গঠন মূলত বালি যুক্ত মাটি বা দোঁ-আশ মাটির দ্বারা।তাই বৃষ্টির প্রভাবে এই মাটি সহজে ভিজে যায় এবং পাহাড় ভেঙ্গে পড়ার ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। দেশের পাহাড়গুলো মূলত টারশিয়ারী যুগের পাহাড় আর এগুলোর গঠন তেমন সুগঠিত না হওয়ায় এমন ঘটনা হচ্ছে।আমাদের দেশে এই সমস্যা একটা মানবসৃষ্ট দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল হকের উদ্ধৃতির বরাতে বলা যায়—অল্প সময়ে একটানা বৃষ্টি বা মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। তাছাড়া কোন সময় যদি খরা জনিত সমস্যার কবলে পড়ে পাহাড়গুলো তখন পাহাড়ের মাটি ফেঁপে উঠে আর মাটি আলগা হয়ে যায়। এই দুটো সমস্যা প্রাকৃতিক ছিল তার বাইরেও পাহাড় ধসের জন্য মনুষ্য সৃষ্ট কিছু কারণ রয়েছে যার মধ্যে অন্যতম হল অপরিকল্পিত ভাবে পাহাড়ের পাদদেশ হতে নির্বিচারে মাটি কাটা যার কারণে পাহাড়ের মাটি সহজে অতি বর্ষণে ভেঙ্গে পড়ে। সংশ্লিষ্ট পাহাড়গুলোতে যদি অতি হারে বৃক্ষ নিধন করা হয় তবে তা মাটির উপর ধারণক্ষমতা হারিয়ে যায়। এই কারণে পাহাড়ি অঞ্চলে অতি মাত্রায় বৃক্ষ নিধন আরো একটা কারণ যা কিনা পাহাড় ধসের নেপথ্যে বলে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশে ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে ২০১৭ সালে পাহাড়ধসের মতো ঘটনার জন্য প্রায়ই ৫০০ লোকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় বা তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিচালিত একটা গবেষণায় দেখা গেছে এই যে সম্প্রতি পাহাড়ে কৃষি জমি বেড়েছে প্রায়ই ২৫ শতাংশের বেশি যা কিনা পাহাড়কে ধ্বংস করে করা হয়েছে। এমনকি পাহাড়ি ঝরণার প্রায়ই ৬০ শতাংশের মতো ঝরণা শুকিয়ে গেছে যার কারণে পাহাড়ের যে স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে পড়ছে।বিগত এক যুগে এসব অঞ্চলে পাহাড়ি বনাঞ্চল ধ্বংসের ঘটনাও ঘটেছে যা চোখে পড়ার  মতো এই হার হবে প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি। এই ঘটনার জন্য প্রশাসন যেমন দায়ী তেমনি দায়ী ক্ষতিগ্রস্থ মানুষগুলো। কেননা ইদানীং দেখা যায় পাহাড় কেটে নেয়ার পর যে খালি জায়গা তৈরি হয় সেখানটায় গিয়ে বসত তৈরি করে কিছু মানুষ। তাদের অবশ্য আশ্রয় বা থাকার ব্যবস্থা করে দেয়ার বদৌলতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সুযোগ সুবিধা নেয়। এই সব পাহাড়ের ভাসমান জমিদার হয়ে যায় অনেকে। এই সমস্যা বিশেষত বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ দেশের সব পাহাড়ি অঞ্চলেও; সিলেটের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে মৌলভীবাজারের পাহাড় ধসের ঘটনায় ও প্রাণহানি ঘটেছে যেখানটায় অবৈধ বসতির কারণে লোকের মৃত্যু হয়েছে।

আপনি খেয়াল করে দেখবেন চট্টগ্রাম নগরীতে রেলওয়ের অধীন যে পাহাড়ী এলাকাগুলো আছে যার অনেকটায় নির্বিচারে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি।এই যেমন সিআরবির পাহাড়,আমবাগান,পাহাড়তলীর বেশ কিছু বসতি যা কিনা পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে আছে। নগরের পাহাড় ধসের বিষয়টা সামনে আসে মূলত ২০০৭ সালে। তাছাড়া এবারের পাহাড় ধসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে রাঙ্গামাটি আর বান্দরবান জেলায়। এখানে ব্যাপক প্রাণহানির সাথে যে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে আনতে প্রশাসনের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে। দুর্যোগ মনিটরিং সেলের হিসাব অনুযায়ী ধারণা করা হয় এসব এলাকায় প্রায় ৫০০ এর অধিক বাড়ি আছে যা কিনা ঝুঁকির আওতায়। নগরীর বাইরে এই ঝুঁকির আওতায় থাকা লোকের সংখ্যা নেহায়েৎ কম নয় কেননা তা মোটের উপর গিয়ে দাঁড়াবে ২০০০০ এর উপরে। এই লোকগুলোর শতকরা ৫০ ভাগও যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তা রীতিমতো একটা দুর্যোগে পরিণত হবে।

আমাদের করণীয় কি হতে পারে এই পাহাড়ের সমস্যা নিরসনে…….

প্রথমত প্রশাসনকে একটা দক্ষ কমিটি গঠন করে যাবতীয় বিষয়ের সুষ্ঠু তদারকির ব্যবস্থা করতে হবে।তাছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলে ট্যুরিস্ট স্পটগুলোর কারণে যে অপরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে উঠেছে সে বিষয়ে একটা নির্ভরযোগ্য সমাধান জরুরী। এই সবকিছুর মধ্যে রয়েছে পাহাড় কেটে রাস্তা বির্নিমাণ বা বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা।এইসব বিষয়ে যদি আমরা একটু সচেতন হয় তবে ভবিষ্যতে অনেক ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব বলে মনে হয়।

সর্বোপরি পাহাড়ে বসবাসরত সচেতন জনগণ আর সর্বস্তরের জনগণের নিজের নিরাপত্তার বিষয়টা নিজেদের সর্বাগ্রে খেয়াল করতে হবে ।কেননা আপনার বিপদ তো আপনাকে এই বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ব্যবসায়ী বা সুবিধাভোগীরা যদি একটু মানবিকভাবে নিজেদের অবস্থান থেকে সচেতন হয় তবে এত দুর্যোগ আর বিপত্তি তো আমাদের সামনে আসে না।

পুনশ্চ পাহাড় যদি এভাবে অস্থিতিশীল বা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় নগরমুখী মানুষগুলোর একটু প্রকৃতির সান্নিধ্য কিভাবে পাবে ? এই বিষয়ে আমরা সবাই নিজের অবস্থান হতে একটুখানি সোচ্চার হয় তবে দেখা যাবে সমস্যা অনেকাংশে মিটে গেছে।

সমস্যা আর সমাধান কিন্তু সবসময় পাশাপাশি অবস্থান করে।

এখানে ব্যবহৃত যাবতীয় তথ্য জাতীয় দৈনিক থেকে নেওয়া।

image from google;info about survey from national dailies.

“ঈদে আপনার ভ্রমণ কতটুকু নিরাপদ হচ্ছে তার দায়িত্ব আপনার হাতে”

Now Reading
“ঈদে আপনার ভ্রমণ কতটুকু নিরাপদ হচ্ছে তার দায়িত্ব আপনার হাতে”

প্রায় দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর বহু প্রতীক্ষিত রমযানের শেষে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের প্রায় সব প্রান্তে মানুষের আনাগোনা হবে।এই আনাগোনা সংখ্যার অনুপাতে দেশের বৃহত্তম দুই শহর ঢাকা এবং চট্টগ্রাম ছাঁড়বে প্রায় ৫০ লক্ষেরও অধিক মানুষ।এই সপ্তাহে রাস্তায় ঘরমুখো মানুষের প্রচন্ড ভীড় থাকে।তাই আমাদের বাড়তি সতর্কতা আমাদেরকে দিতে পারে বাড়তি নিরাপদ আর স্বাচ্ছ্যন্দময় একটা ভ্রমণ।ইতিমধ্যে গ্রামমুখী মানুষের যাত্রা শুরু হয়ে গেছে।আপনজনের সান্নিধ্যে যেতে আর প্রিয়জনের মুখ দেখার জন্য কত বিড়ম্বনা আর কষ্টই না সহ্য করতে হয় এই মানুষগুলোকে ।সমস্ত কষ্ট আর দুঃখ এক নিমিষেই মুছে যায় যখন প্রিয়জন তার পথ পানে চেয়ে থাকে আর পরম মমতায় মা-বাবা তার সন্তানকে,সন্তান তার বাবাকেু,ভাই-বোন একে অপরকে ,স্ত্রী তার স্বামীকে কাছে পাই।

এবারের ঈদ যেহেতু এই বর্ষা মৌসুমে পড়েছে তাই প্রতিকূল আবহাওয়া থাকবে এমনটা স্বাভাবিক ।এই প্রতিকূল পরিস্থিতি মেনে আমাদের নিজেদের কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে। যা কিনা আমাদেরকে দিতে পারে একটা নিরাপদ ভ্রমন আর প্রিয়জনের কাছে পৌঁছানোর একটা নিশ্চয়তা।এই যাত্রাপথে আপনার আমার সবার যে সকল সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী যা কিনা আপনার জন্য বা দেশের জন্য প্রকরান্তরে লাভজনক হবে।

আপনি যদি ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো বড় শহর হতে রাতের দুরপাল্লার ভ্রমণে যাবেন তবে আপনার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরী।

প্রথমত আপনার নির্দিষ্ট বাস,ট্রেন,লঞ্চের টিকিট নিয়েছেন কিনা সাথে করে তা দেখে নেয়া জরুরী।কেননা এই ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায় অনেককে।তাই শত ব্যস্ততার মাঝে একবার দেখে নিন কেননা এটা আপনাকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে।

দ্বিতীয়ত আপনি যদি দীর্ঘ এক সপ্তাহ বাড়িতে থাকবেন তবে আপনি বাসা ছাড়ার আগে দেখে নিন আপনার বাসার বৈদ্যুতিক লাইন,গ্যাসের লাইন এবং পানির লাইন সবগুলো বন্ধ করা আছে কিনা। এই কাজটা করা আপনার দেশের এবং দেশের সম্পদের অপচয় রোধে একটা দায়িত্ববোধের প্রকাশ যেমন ঘটবে তেমনি আপনার নিজের বা প্রতিবেশির কোন বিপদ না ঘটার ক্ষেত্রে একটা বাড়তি সতর্কতা বলা যায়।

তৃতীয়ত আপনারা যারা ছোট শিশু বা বয়স্কদের সাথে নিয়ে যাবেন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ঔষুধ বা ব্যবস্থাপত্র সাথে নিয়ে যাওয়া জরুরী কেননা এই একটু বাড়তি সতর্কতা আপনাকে অনেকখানি বিড়ম্বনা থেকে রেহাই দিবে বলে মনে করি।

চতুর্থত আপনি যখন জনবহুল কোন স্টেশনে হাঁটবেন বা গাড়ির জন্য যাবেন তখন আপনি যদি একা হোন তবে আপনার জন্য অনাকাঙ্খিত অনেক বিপদ আসবে এটা স্বাভাবিক। এই যেমন নিজের ছোট বাচ্চাকে সামলে রাখবেন । রেল স্টেশন বা লঞ্চ ঘাটগুলোতে এই ধরনের ঘটনা হারহামেশাই ঘটে। তাই সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখুন যেন হাত ফসকে না যায়। তাছাড়া এই সব স্টেশনে অজ্ঞান পার্টির কবল বা পকেটমার, ছিনতাইকারীর যে অত্যাচার তা তো আছেই।এইসব ঘটনা এড়াতে আপনাকে অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আপনার টাকা বা মুল্যবান অলংকারের ব্যাগগুলো নিরাপদে রাখা দরকার। কাউকে যদি আপনার সন্দেহ হয় বা কারো গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সাথে থাকা কাউকে বলুন নয়তো স্টেশনে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনির লোকজনকে জানান। এতে করে আপনার বিপদ অনেকটা কমে যেতে পারে।

পঞ্চমত আপনি রাতে যদি যাত্রা করেন অবশ্য একজন সচেতন যাত্রী হিসেবে নিজের জানমালের নিরাপত্তা আপনার তার পাশাপাশি পাশের সিটের যাত্রীর সাথে কি ধরনের সম্পর্ক রাখবেন তা অবস্থানুযায়ী  বিবেচনা করুন। বিশেষভাবে যেসকল মেয়েরা একা ভ্রমণ করবেন তাদের এই বিষয়টা খেয়াল রাখা জরুরী।

আপনি কোনভাবেই রাতের ট্রেনে ছাদে চড়ে যেতে পারেন না।এখানে একটা বিপদের সম্ভাবনায় কেবল জোরদার হয়।এই ধরনের যাত্রা কোনভাবে কাম্য নয়।আপনার একটু অসর্তকতা বা খামখেয়ালীপনা আপনাকে মৃত্যুমুখে টেলে দিতে পারে। তাই হয়তো আপনার গন্তব্যস্থানে পৌঁছাতে দেরী হবে,এই ধরনের কোন পদক্ষেপ কাম্য নয়।

রাতের বাস যাত্রায় আপনি সচেতন যাত্রী হিসেবে ড্রাইভারকে বলে রাখুন প্রতিকূল পরিস্থিতি বা দুযোর্গপূর্ণ আবহাওয়ায় যাতে নিরাপদে ড্রাইভ করে। এতে আপনার ভ্রমণ হবে নিরাপদ আর নিশ্চিন্তময়। দুরপাল্লার বাসের এখন দুর্ঘটনা যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে যেসকল যাত্রী নৌ-রুটে চলাচল করেন তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরী কেননা এখন আবহাওয়া যেকোন সময় বিরুপ পরিবেশ ধারণ করে। আপনি নিজে সজ্ঞানে কোনভাবেই অতিরিক্তি যাত্রী হয়ে উঠবেন না,দেখবেন কোন বিপদের সম্ভাবনায় রইল না। আমাদের একটু একটু অসর্তকতাই যেন কোন বিপদের পুঁজি। রাতের বেলায় লঞ্চগুলোতে যেসকল ডুবির ঘটনা বা বিপদ হয় তার অধিকাংশের নেপথ্যে অতিরিক্ত যাত্রী। তাই একজন সচেতন যাত্রীর অবস্থান হতে এই বিপদ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। এছাড়াও ফেরিঘাট দিয়ে বা দ্রুত যাতায়াতের জন্য স্পীডবোটে করে যাত্রী পার হয়।এইসব ক্ষেত্রে ফেরিতে উঠার ক্ষেত্রে বাস চালক বা যাত্রী উভয়ের সতর্ক থাকা জরুরী।কেননা এখানে অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা যা কেবল রোধ করতে পারে আমাদের বাড়তি সতর্কতা। আপনি যদি স্পীডবোটে করে যাতায়াত করেন তবে আপনাকে লাইফ জ্যাকেট পরিধান করতে হবে এবং অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে কখনো উঠবেন না। আপনার একজনের জন্য হয়তো অন্য অনেকের বিপদের কারণ হয়ে যেতে পারে।

আমাদের সড়ক পথে আরেক দুশ্চিন্তার নাম হলো বেপোরোয়া ড্রাইভিং ।আপনি যদি দক্ষ না হোন তবে দুরপাল্লার কোন পথে আপনার ভ্রমণ করাটা ঝুঁকি।অনেকে বাড়তি উৎসাহের কারণে নিজস্ব গাড়ি ড্রাইভ করে।অনেককে দেখা যায় অতি উৎসাহী হয়ে বেপোরোয়া গতিতে ড্রাইভ করে।আপনার বেপোরোয়া গতি বা কৌতুহল অন্য অনেকের বিপদের কারণ হতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা নেয়া জরুরী আপনার সন্তানকে দক্ষ না হলে এই সময়ে অন্তত ড্রাইভ করতে দিবেন না। মোটরসাইকেল আরোহীরাও বাড়তি সতর্কতা নিতে পারেন। কেননা দুরপাল্লার কোন যাত্রায় আপনি দুয়ের অধিক যাত্রী হয়ে ভ্রমণ করবেন না। এটা ‍খুবই বিপদজনক একটা পদক্ষেপ।তাছাড়া আমাদের সকল পেশাদার ড্রাইভার বা নিজস্ব গাড়ির চালকের একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরী তা হলো আমাদেরকে অবশ্য ওভারটেকিং করার মানসিকতা এড়িয়ে চলতে হবে। দেশের অধিকাংশ দুর্ঘটনা কিন্তু এই ওভারটেকিং বা সিগন্যাল ও গতিবিধি না মেনে চলার জন্য হয়।

আপনার সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি কথাটা সবাই শুনেছি।একটু ধীরস্থির হয়ে যাত্রা করুন হয়তো একটু পরে পৌঁছাবেন তাও অন্ততপক্ষে নিরাপদে পৌঁছাবেন এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আপনার।

আপনার ঈদ যাত্রা শুভ হোক।

 

“ বাংলাদেশের ” বিদায়ে রঙ হারালো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি!!

Now Reading
“ বাংলাদেশের ” বিদায়ে রঙ হারালো চ্যাম্পিয়নস ট্রফি!!

লাল সবুজের পতাকা ইংল্যান্ডের আকাশে আর মাঠে বাংলার ছেলেরা বীরদর্পে লড়েছে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। ১লা জুনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যে চ্যাম্পিয়ন ট্রফির যাত্রা তা শেষ হয় ভারতের সাথে সেমিফাইনাল ম্যাচে হেরে  কাঙ্খিত ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ দিয়ে।

এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বা খেলা দুটোই ছিল সমালোচকদের জন্য বিশেষ কিছু।কেননা ক্রিকেটে বাঘা বাঘা সব দলের ভীড়ে কয়জনই ভেবেছিল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো আসরে সেমিফাইনাল খেলবে।বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠার পর থেকে দেশ বিদেশের ক্রিকেট বোদ্ধারা প্রশংসাই করে গেলেন।এদের মধ্যে খোদ ছিলেন  ভারতের রবি শাস্ত্রী ও পাকিস্তানের রমিজ রাজা।গত সপ্তাহের  “টক অব দ্যা উইক” বলেন অর “টক অব দ্যা ডে বা টপিক” যাই বলেন না কেন সবখানে ছিল বাংলাদেশের সেমিফাইনাল যাত্রা।

দেশের হয়ে ক্রিকেটারদের এমন পারফরম্যান্সে দর্শক সমর্থকদের মনে প্রত্যাশার পারদ যেন কয়েকগুণ উঁচু হয়ে গিয়েছিল।এমনটাই হওয়া স্বাভাবিক প্রথমবারের মতো কোন মর্যাদার আসরে ফাইনাল খেলার অমিত সম্ভাবনার হাতছানি যে দিচ্ছিল বাংলাদেশকে সাথে ছিল র‌্যাংকিংয়ে উন্নতি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভালো খেলার সুবাদে বাছাই পর্বের ম্যাচ না খেলে সরাসারি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ সব মিলিয়ে একটা বর্ণিল সপ্তাহ কাটিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে যখন সেমিফাইনালে উঠে তখন একটা নতুন সম্ভাবনা সামনে চলে এসেছিল কেননা সেমিফাইনালিস্ট চার দলের দুটিই কোন সময় চ্যাম্পিয়নস ট্রফির কাপ জিততে পারে নি।তাই নতুন একটা দল যারা কিনা শিরোপা উঁচিয়ে ধরবে এমন সুযোগ তৈরি হয়েছিল।সবচেয়ে বড় কথা সেমিফাইনালে ছিল পুরোটাই এশিয়ার আধিপত্য কেননা স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশ,ভারত ও পাকিস্তান জায়গা করে নিয়েছিল। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অসাধারণ কামব্যাক হিসেবে ধরলেও আনপ্রেডিক্টবল পাকিস্তান তাদের তকমাটা আরো জোরদার করল।নিজেদের জেতা ম্যাচ হেরে যাওয়া আর অপ্রত্যাশিত ম্যাচে জয়ে দর্শককে অবাক করা যেন তাদের অভ্যাস।স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে দর্শক বানিয়ে পাকিস্তান ফাইনালে তাদের সামনে আবারো শিরোপা জয়ের সুযোগ তা ও আবার ৯২ বিশ্বকাপের পর কোন ওয়ানডে টুর্নামেন্টে।

বাংলাদেশ আর পাকিস্তান যদি ফাইনাল হতো তবে নিশ্চিত আমরা একদল নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতাম যেটা কিনা বাংলাদেশও হতে পারতো।বাংলাদেশী সমর্থকরা ভবিষৎের জন্য আবারো আশায় বুক বেঁধে আছে। বাংলাদেশের এই অগ্রগতিকে ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখতে পারে, তবে সেই দিন বেশি দূরে নয় যেদিন আমরা বিশ্বমঞ্চে উঁচিয়ে ধরব শিরোপা।ইতিমধ্যে ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ নতুন পরাশক্তি হিসেবে জানান দিয়েছে যার কারণে ভারত-পাকিস্তানের মতো উত্তেজনা পূর্ণ দ্বৈরথ যে ম্লান হতে চলছে এমনটাই ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতামত।

সেমিফাইনাল ম্যাচ ছিল বাংলাদেশের জন্য রোমাঞ্চকার ম্যাচ কেননা কোন আসরের সেমিফাইনাল ম্যাচ যেখানটায় জিতলে থাকে ফাইনাল খেলার সুযোগ আর ফাইনাল মানে শিরোপা নয়তো রানার্স আপ। এই চাপ নিয়ে খেলতে নেমে আমরা হয়তো চাপকে উপেক্ষা করতে পারি নি।পাকিস্তান উল্টাপাল্টা ক্রিকেট খেললেও ইংল্যান্ডের সাথে তাদের ম্যাচ ছিল বেশ গুছানো যেখানটায় প্রতি পদে ছিল সাবধানতা।

এবার আসি বাংলাদেশ ভারত দ্বৈরথ উত্তেজনা ।২০০৭ সালের পর থেকে বাংলাদেশ যেন ভারতের জন্য গলার কাঁটা হয়ে আছে। এই দুই দলের ম্যাচ যেন হাইভোল্টেজ ম্যাচের মর্যাদা পায় তার সাথে ভক্ত সমর্থকের বাড়তি উত্তেজনা তো আছে। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ; আর ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ; আর বাংলাদেশ –পাকিস্তান ম্যাচ এই তিন ম্যাচের মাঝে আপনি ক্রিকেট মাঠের উত্তেজনার বাইরে আরো বাড়তি কিছু আঁছ করতে পারবেন। এই দেশের সমর্থকরা ক্রিকেট মাঠের বাইরে গিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে সরগরম করে তোলে গ্যালারি।সামাজিক যোগাযোগ সাইট আর মাধ্যমগুলোতে ট্রল আর মীম করে খেলোয়াড়দের নাস্তানুবাদ বা উৎসাহ দেয়ার নানা ফিরিস্তি দেখা যায়।এই ক্ষ্যাপাটে সমর্থকদের সাথে সাবেক ক্রিকেটাররা যোগ দিলে তা বাড়তি মাত্রা পায়।এই তিন দেশে ক্রিকেট এমন বাড়তি সমাদর পায় যা কিনা কোন কোন অংশে রাজনৈতিক ইস্যুকে ম্লান করে  দেয়। এইসব কারণে আর্ন্তজাতিক আসরে বাংলাদেশ,ভারত আর পাকিস্তানের অংশগ্রহণ মানে বিশ্বগণমাধ্যমগুলো সরব হয়ে উঠার একটা সুযোগই বলা যায়। এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত,পাকিস্তান আর বাংলাদেশের প্রবাসীদের কারণে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে খোদ ইংল্যান্ডের সমর্থকরা।

সেমিফাইনাল ম্যাচে ভারতীয় সমর্থকদের টিকেট নিয়ে আধিপত্য বাংলাদেশী সমর্থকদের খেলা দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা যেন তৈরি হয়েছিল।

একটা দলে সিনিয়র খেলোয়াড়ের কতটা ভূমিকা তা যেন তামিম,মাশরাফি,সাকিব,মুশফিক,মাহমুদল্লাহ দেখিয়ে দিয়েছে। আমাদের উচিত বাংলাদেশের এই সফলতাকে এপ্রিশিয়েট করা যাতে তারা ভবিষ্যৎে আরো ভাল খেলার উৎসাহ পায়।বাংলাদেশ ভারতের সেমিফাইনাল ম্যাচে বলতে গেলে বাংলাদেশ কেবল অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল।বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুতে উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তামিমের ধীরস্থির ব্যাটিং ভালো একটা ভীত গড়ে দিয়েছে।মির্ডল অর্ডারে মুশফিকের ব্যাটিং দৃঢ়তা আবারো প্রমাণ করল বাংলাদেশের জন্য কেন তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান।সাকিব আর মাহমুদল্লাহ আগের ম্যাচের মতো উজ্জ্বল না হলেও তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন এমন কিছু আশা করাটা নিছক এক দর্শক হিসেবে বোকামি ছাড়া কিছু না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে কতটা চাপ নিয়ে ব্যাটিং বা বোলিং করতে হয় কেবল তারাই জানে।বাংলাদেশের ইনিংসের শেষের দিকে ক্যাপ্টেন মাশরাফি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা স্বার্থেও নিজের স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ব্যাটিং করে ছোট খাট একটা ক্যামিও ইনিংস প্রমাণ করে তিনি ক্রিকেটের প্রতি কতটা অর্ন্তপ্রাণ।

বাংলাদেশের বোলিংয়ের ক্ষেত্রে একমাত্র মাশরাফি ছাড়া সবাই নিষ্প্রভ ছিল তা মোটের উপর অভিজ্ঞতার কমতি।কালকের ম্যাচে নিছক একটা বড় ম্যাচ এমন ম্যাচে কিভাবে চাপ সামলিয়ে বল করে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানকে ব্যাকফুটে ফেলতে হয় তেমন অভিজ্ঞতা আমাদের ঝুলিতে কম আছে।তাসকিন মোস্তাফিজকে দোষারোপ করার কোন মানে হয় না।এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেললাম সামনের বার ফাইনাল খেলব।আমরা তো দক্ষিণ আফ্রিকার মতো চোকার না যারা কিনা এখনো সেমিফাইনালের ভুত তাড়াতে পারে নি। গতকাল ভারত ম্যাচ জেতার কারণ তাদের অভিজ্ঞতা কেননা এমন বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিছক কম না।

বাংলাদেশের ভক্তকূলের হৃদয় আশাহত হলেও ১৮ই জুন ফাইনালে ঐতিহ্যবাহী এক দ্বৈরথ হবে।ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে ক্রিকেট ছাড়াও জাতিস্বত্তা আর রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকবে না তা কি হয় ? গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত এবার চিরপ্রতিদ্বন্ধী পাকিস্তানের সামনে।এই ম্যাচটা যেন পাকিস্তানের জন্য বেশ অস্বস্তির কেননা তারা এখনো যে ভারতকে আর্ন্তজাতিক কোন টুর্নামেন্টে হারাতে পারে নি।এবার যদি এই গ্যাঁড়াকল ভাঙ্গতে পারে পাকিস্তানের ঝিমিয়ে পড়া ক্রিকেট চমক জাগানিয়া কিছু করবে যা কিনা পারে নি ওয়াকার ইউনুস, ওয়াসিম আকরাম,ইমরান খান ,ইনজামামের মতো গ্রেট ক্রিকেটাররা। এমন কিছু কি করবে সরফরাজ বাহিনি ? সরফরাজ কি আবার ধোঁকা দেবে পাকিস্তানের সমর্থকদের ? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে ১৮ই জুনের ফাইনালের জন্য।

বর্তমানে ভারতের ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে কারো সন্দেহ হওয়ার কথা নয় কেননা ভারত বরাবরই একটা ঈর্ষণীয় ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে তাদের দল গড়ে।এটাই তাদের মূল শক্তির জায়গা। ডিপেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন তকমা নিয়ে ভারত যদিও চাপে থাকবে শিরোপা পুনরুদ্ধারের ব্যাপার থেকে যায়। পাকিস্তানের সেই অর্থে নির্ভার থাকা চলে। কৌশলী পাকিস্তান মোহাম্মদ আমেরকে বসিয়ে রেখে ফাইনালের জন্য বরাদ্দ রেখেছে এটা যেমন সন্দেহাতীত তেমনি ভারতের ফিনিশার মাহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাট কিন্তু এখনো জ্বলে উঠে নি।ভারতের প্রতিটা জয়ে এই মারকুটে ফিনিশারের ছোঁয়া না লাগলে যেন তা পূর্ণতা পাই না।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে বৃষ্টির হানা না হলে ক্রিকেট সমর্থকরা শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপে রোহিত শর্মা,বিরাট কোহলি,যুবরাজ সিং আর মাহেন্দ্র সিং ধোনির ব্যাটিংয়ের সাথে  মোহাম্মদ আমের,হাসান আলী,জুনায়েদের বোলিং তোপ দেখবে। সব মিলিয়ে একটা রোমাঞ্চকর ফাইনাল হতে যাচ্ছে ১৮ই জুন।।

বাংলাদেশের এবারের সফলতার জন্য নিরন্তর ভালবাসা আর শুভকামনা থাকবে।

সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি কতখানি সৃজনশীল করেছে আমাদের ?

Now Reading
সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতি কতখানি সৃজনশীল করেছে আমাদের ?

নকল করে পাশ করার যে একটা খারাপ প্রথার প্রচলন ছিল তার গন্ডি থেকে বেরিয়ে এলেও বর্তমান সময়ে ভিন্ন সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা।বর্তমান সময়ে এই সমস্যা তেমন দৃশ্যত কোন প্রভাব তৈরি না করলেও দীর্ঘমেয়াদে তা অনেকাংশে নেতিবাচক প্রভাবই তৈরি করবে। দেশের প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতির আলোকে যেকোন শিক্ষার্থীর একটা ভাল ভিত্তি তৈরি হয় মূলত মাধ্যমিকে পড়াকালীন সময়ে। মাধ্যমিক আর উচ্চ মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে যখন কোন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার দ্বারে প্রবেশ করে তখন তার জ্ঞানার্জনের পরিধি যে অনুযায়ী বিস্তৃত হওয়া দরকার,আমাদের দেশে সে অনুপাতে হচ্ছে বলে মনে হয় না।

প্রায়শই দেশের জাতীয় দৈনিকসহ সংবাদ মাধ্যম গুলোতে ব্যাপক সমালোচনা হয় প্রচলিত শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে। এই আলোচনা আর সমালোচনার বিশাল একটা অংশ জুড়ে ছিল বর্তমানে শিক্ষার্থীদের উপর আরোপিত শিক্ষাপদ্ধতি নিয়ে।

প্রতিবেদনসূত্রে দেখা যায় পরীক্ষার প্রশ্নে শিক্ষার্থীকে যখন প্রশ্ন করা হয় কুনোব্যাঙ বা ‍উভচর প্রাণীর  বৈশিষ্ট্য নিয়ে লিখতে।এ বিষয়টা অনুতাপের বটে শিক্ষার্থী উত্তরপত্রে যা লিখেছে তাতে প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর না হলেও যা লিখা হয়েছে তা যেন প্রশাসনকে নড়েচড়ে বসার যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছে।

দেশের প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতিকে সংস্কার করার প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষা ব্যবস্থার যে প্রচলন করে তাও প্রায় অর্ধযুগ পেরিয়েছে। এখনো কি আমরা এই পদ্ধতির সুফল পেয়েছি ? এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকে দ্বিমত পোষণ করবে;এটাই স্বাভাবিক বরং আমাদের আরো কৌশলী হয়ে চিন্তা করা উচিত যে কিভাবে এই জিনিসটাকে সার্বিকভাবে ফলপ্রসু করা যায়। একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে কয়েকটা ব্যাচ যাচ্ছে তাদের সামনে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু নিয়ে আসা হয় যা রপ্ত করতে না করতে আরো একটা নতুন ধারণা সংযোজন যার ফলে মোটের উপর একটা স্থিতি অবস্থা না হয়ে বরং তটস্থ হয়ে আছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকেরা। এই বিষয়গুলো খুবই গৌণ হলেও কর্তৃপক্ষের সুষ্টু নজরদারির মাধ্যমে একটা গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা উচিত। যা কিনা এখন সময়ের দাবী। যখন কোন নতুন একটা পদ্ধতির অবতারণা করা হয় দেখা যায় বির্তকের পাশাপাশি সেটা নিয়ে শিক্ষার্থী মহলে ব্যাপক আলোড়ন এবং উৎকন্ঠা বিরাজ করে। শিক্ষাপদ্ধতির সংস্কার কিংবা বহাল রাখার জন্য কেন শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন বা প্রতিবাদের ভাষা বাছাই করে নিতে হয় ? এই পদ্ধতি কি তাদের জন্য হিতকর নয়? এই শিক্ষা ব্যবস্থা কাদের জন্য কারা এর সুফল ভোগ করবে ?

এই ধরনের পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করার আগে যাচাই বাছাই করা প্রয়োজন। এই নীতিটা গ্রহণ করার জন্য আসলে তৃণমূলসহ সর্বস্তরে শিক্ষার্থীরা তৈরি কিনা হোক সেটা মানসিক বা অবকাঠামোগত দুটোই।

সৃজনশীল পদ্ধতিগৃহীত পদক্ষেপ হিসেবে কতখানি উপযুক্ত ?

শিক্ষার্থীদের নোট কিংবা গাইড বইয়ের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে এই পদ্ধতির প্রচলন। এমন একটা  প্রচেষ্টা অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার দাবিদার, উন্নত বিশ্বে যেখানে লেখাপড়ার বিষয়টাকে ফলিত পদ্ধতি বলে বিবেচনা করা হয়,সেখানে এই ধরনের বিষয় সংযোজন অবশ্য নতুন মাত্রা যোগ করবে। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এই পদ্ধতি যুগোপযোগী যেখানে বিশ্বে প্রতিনিয়ত একটা ক্রমপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছে সেখানটায় তাল মিলিয়ে চলতে এমন কিছুই মূলত দরকারী বটে।

সৃজনশীল  শিক্ষা পদ্ধতি   তৃণমূলে কতটা প্রভাব সৃষ্টি করেছে?

শিক্ষার প্রসার বা প্রচলন কেবল নগরকেন্দ্রিক নয়। আমরা যদি কেবল নগর বা জেলা পর্যায়ের স্কুল ও কলেজগুলোকে আর্দশের মানদন্ড বলে ধরে নিই, তবে তা মূলত বিস্তর পার্থক্য দেখাবে সমীক্ষা আর বাস্তবতায়। আমাদের দেশে প্রতিটা উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামোগত অবস্থার উন্নয়ন তেমনভাবে না হওয়ায় এই সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থার প্রভাব তেমনভাবে চোখে পড়ে না । দেশের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে এইসব আধুনিক ব্যবস্থা বা পন্থা যাওয়ার গতি খুবই শ্লথ যার কারণে উন্নয়নের কথা বলা হলেও তা দৃশ্যমান নয়। চট্টগ্রাম বিভাগের কথাই যদি বিবেচনা করি প্রতি বছর এস.এস.সি কিংবা এইচ.এস.সি পরীক্ষায় পার্বত্য অঞ্চলগুলোর ফলাফলের কারণে মোটের উপর চট্টগ্রাম বোর্ড বরাবর সমীক্ষায় পিছিয়ে থাকে। এই সমস্যার আশু কোন সমাধান থাকে না।

আমরা খবর পড়ে বা দেখে অবাক হই কেননা এখনো এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যায় যেখানে কেউই উর্ত্তীণ হতে পারে না। এই বিষয়টা পরিস্কার ধারণা দেয় সৃজনশীলতার প্রভাব অবশ্যই সবখানে সমানভাবে পড়ে নি।

শিক্ষকদের কতখানি অংশীদারীত্ব বা দায়বদ্ধতা রয়েছে ? এই প্রশ্নটা এখন কোটি টাকার ?

সৃজনশীল বা যেকোন শিক্ষাব্যবস্থায় সবার অংশগ্রহণ জরুরী হোক সেটা শিক্ষার্থী বা শিক্ষকমন্ডলী। শিক্ষাব্যবস্থায় সৃজনশীলতার মতো পদ্ধতি নিয়ে আসার পূর্বে জরুরী ছিল কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে আসা। এই যেমন উপযুক্ত বা দক্ষ শিক্ষক প্যানেল তৈরি করা । তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা । এই বিষয়টা করে আসছে তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলা যায়। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের উদাসীনতা বরং লক্ষণীয়,নয়তো এতদিনে এই ব্যবস্থার সার্বিক একটা প্রভাব কেন সৃষ্টি হবে না ? এমন অনেক শিক্ষক আছে যারা কিনা কেবল নির্দিষ্ট কিছু সুযোগ সুবিধার লোভে কেবল প্রশিক্ষণ গুলোতে অংশগ্রহণ করে তাদের উদ্দেশ্য বা এখতিয়ার অতটুকুই। প্রশিক্ষণে কি শিখল তার কোন ফলপ্রসু প্রয়োগ করতে দেখা যায় না।

এখনো গ্রামাঞ্চলে দেখা যায় ক্লাসগুলোতে যথেষ্ট শিক্ষক সংকট তাছাড়া শিক্ষকেরা কোচিং নির্ভর হয়ে ক্লাসে তেমন কোন পাঠদান করানোর চিন্তাই করে না। এখনো গাইড, শীট বা কথিত সাপ্লিমেন্ট না হলে যেন শিক্ষার্থীদের পোষায় না। পরীক্ষায় নির্ধারিত কিছু পূর্ব বছরের প্রশ্নের আলোকে প্রশ্নপত্র প্রণয়ণ যেন শিক্ষার্থীদের কূপমন্ডুক করে রেখেছে। এবারের এইচ.এস.সি পরীক্ষায় বিশেষভাবে চট্টগ্রাম বোর্ডের ইংরেজী ২য় পত্রের পরীক্ষায় গ্রামার পার্টে কনটেন্টগুলো সমসাময়িক বিষয়ের আলোকে দেওয়াতে অনেক শিক্ষার্থী প্রশ্ন ভালভাবে বুঝে উঠতে পারে নি। ঐ যে তাদের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তেমন চর্চা নেই বললে চলে। ধরা যাক আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রপতির নাম তথা ব্যবহারিক নাম কি ?

আবদুল হামিদ এডভোকেট নাকি এডভোকেট আবদুল হামিদ এমন প্রশ্নের জবাবে অনেকে ভুল করবে।এইসব বিষয় নিয়ে আমাদের চর্চা থাকে না।আমরা সাহিত্য বিচারে রবীন্দ্রনাথ নজরুল নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয় আসলে কোনটা উপযুক্ত তা নিয়ে চিন্তা করি। এটাতো সৃজনশীলতার গন্ডিতে পড়ে না।

একজন বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হয়ে তাকে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি পদার্থ,রসায়ন বা জীববিজ্ঞানের বইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি সমসাময়িক আবিস্কার বা গবেষণা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা চাই। এই যেমন ব্ল্যাকহোল কি বা স্টিফেন হকিং কে এসব বিষয়ে জ্ঞান থাকা চাই। তেমনি ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীর জানা উচিত স্টক মার্কেট কি ? শেয়ার বাজার আর নিত্যনৈমিত্তিক বাজারের পার্থক্যটা কোথায় ? মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী যদি অর্থনীতি পড়তে গিয়ে অভাবের প্রায়োগিক সংজ্ঞা বা অর্থ দাঁড় করাতে না পারে,ভূগোল পড়তে গিয়ে দ্রাঘিমা বা অক্ষাংশ কি তার কোন সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দিতে পারে না তখন বুঝে নিতে হয় সৃজনশীলতা এখনো আমাদের আঁকড়ে ধরতে পারে নি।

লেখাপড়ায় কতখানি সৃজনশীলতার প্রভাব বিদ্যমান ?

এমন প্রশ্নের জবাবে কেবল বলা যায় গ্রাম আর শহরকে আলাদা করলে গ্রাম অনেকখানি পিছিয়ে। এই পিছিয়ে পড়াটা আমাদেরকে একটা সময় ভোগান্তির মধ্যে ফেলবে এটা নিশ্চিত। তথ্য প্রযুক্তি বা আইটি শিক্ষার লক্ষ্যে যে প্রচলন তা এখনো খাতা কলমে রয়ে গেছে কেননা এই বিষয়ে যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হয় তা মূলত হাস্যকর বলা চলে। আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় মৌখিক প্রশ্ন করে ছেড়ে দেয়া হয় তা অবশ্যই ভাবনার বিষয়। আমরা কি শিখছি ইনপুট কি নিচ্ছি বা আউটপুট কি দিবো  তা সময়ের কাছে তোলা রইল।

এত বাধা বিপত্তি থাকা স্বত্তেও যেসব শিক্ষার্থী উঠে আসছে তার পেছনে কিছু শিক্ষক আর প্রাইভেট টিউটরের অবদান বলা যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই পদ্ধতির আলোকে উপযুক্ত বা দক্ষ শিক্ষকের অনুপাতিক হার নগণ্য। শহর বা মফস্বলগুলোতে কলেজ পড়ুয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন পেশায় মূলত একটা ভারসাম্য রেখেছে। এই সময়ে টিউশনটা যেন একটা আশীর্বাদপুষ্ট পেশা।

শিক্ষাব্যবস্থার এমন দুর্দশার জন্য সর্বোচ্চ স্তরের উদাসীনতা যেমন দায়ী তেমনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে নিযুক্ত শিক্ষকের প্রায়ই ৬০ শতাংশ আছে যারা সৃজনশীল পদ্ধতি বা সে অনুযায়ী বিষয়াদি নিয়ে ওয়াকিবহাল নয়। আইটি কিংবা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তৃণমূলে শিক্ষকের রয়েছে যথেষ্ট জড়তা। সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতিকে সুচারুরুপে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে দরকার গ্রহণযোগ্য পদক্ষেপ।বর্তমানে শিক্ষাপেশায় নিয়োজিত অধিকাংশ শিক্ষকই নতুন পদ্ধতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে না পারায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়ছে।আমাদের উচিত যুগোপযোগি শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে আধুনিক তরুণ-তরুণীদের শিক্ষকতা পেশায় উৎসাহী করা।সর্বোপরি একটা ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষক প্যানেল গড়ে তোলা যা দ্বারা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে আমরা পৌঁছে দিতে পারব এই সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ উপযোগিতা।ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্বদান করবে বর্তমানের নবপ্রজন্ম এমনই প্রত্যাশা রইল।সৃজনশীলতার বিকাশে আলোকিত হোক জ্ঞানের প্রতিটা ধাপ,এই আলোর বিচ্ছুরণ হোক সমাজের প্রতিটি স্তরে।

 

ঈগলের চোখ!!

Now Reading
ঈগলের চোখ!!

 

 

আপনি কি কখনো নিজের Conscious & Sub-Conscious মাইন্ড নিয়ে ভেবেছেন? এটা আসলে কি ? দেখতেই বা কেমন তার আচরণটাই কেমন ? এই বিষয়গুলো একজন লেখকের লেখনীতে যেভাবে ফুটে উঠে তার চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে ধরা দেয় একজন নির্মাতার চোখে বা ক্যামেরায়। আমাদের প্রত্যেকের আচরণে একটা দ্বিস্তরের পর্দা আছে যার একটার সাথে বাহ্যিকতায় সবাই পরিচিত অন্যটার সাথে কেবল নিজেই পরিচিত,অনেক সময় কেউ কেউ এটা ধরতে পারে না। আমরা নিজেই নিজের সাথে সংলাপ করি, প্রলাপ করি নিজেকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাই। এই বিষয়গুলো কেউ আমাদের দেখিয়ে দেয় নয়তো নিজেরা কখনো এর সম্মুখীন হয়।

সিনেমা গুলো হচ্ছে সভ্য সমাজে মানুষের আচরণের দর্পণ এই দর্পণে অনেক সময় নিজের অবিকল প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে। আমরা সবাই কমবেশি সিনেমা দেখি নিজেদের সময় কাটানোর জন্য কিছু কিছু কালজয়ী সিনেমা আছে যা দেখার পর আমরা একটু নড়েচড়ে বসি। কিছু কিছু সিনেমা আছে যা আমরা বহুবার দেখি মনের খোরাক মেটানোর জন্য।

“আমাদের জীবনটা না খুবই কঠিন এর প্রতিটা বাঁকে বাঁকে রয়েছে রহস্যের মোড়, খুব কাছ থেকে দেখলে এর সবটা দেখা যায় না। একে যদি ভাল করে দেখতে হয় তবে অনেকটা উপর থেকে দেখতে হবে যেমন অনেকটা ঈগলের মত করে।”

ঈগল আকাশে উড়ছে ঠিকই কিন্তু তার শ্যোন দৃষ্টি কিন্তু রয়ে যায় নিচে যেখানে সবকিছু তার কাছে পরিস্কার।এমনই একটা সংলাপ ছিল ঈগলের চোখ ছবিতে। বর্তমানে ধুন্ধুমার এ্যাকশন আর বাহারি স্পটে গানের যুগে কিছু ছবি আছে যা আপনাকে পর্দার সামনে আটকে রাখবে করে রাখবে মন্ত্রমুগ্ধ। আপনি যদি  CRIME থ্রিলারের ভক্ত হন তবে এই ছবিটা একবার হলেও দেখবেন কেননা এখানে নায়কোচিত কোন হাবভাব নেই,নেই কোন আইটেম সং। এখানে  শক্তিশালী একটা গল্প আর সুন্দর নির্মাণশৈলী মূলত গল্পের প্রাণ বলা চলে।যা আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে।

মূল গল্পটি প্রখ্যাত উপন্যাসিক শীর্ষেন্দু মুখোপধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মাণ করেছে অরিন্দম শীল। শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের ব্যানারে প্রযোজিত ছবিটি মূলত সিক্যুয়ালের ২য় ধাপ। আগের পর্বটি ছিল এবার শবর…..

এখানে অভিনয় করেছে শ্বাশত চ্যাটার্জী,জয়া আহসান,পায়েল সরকার,অর্নিবাণ ভট্টাচার্য্ সহ আরো অনেকে ছবির ছোট একটা চরিত্রে রয়েছে পরিচালক অরিন্দম শীল।

কাহিনিসূত্র…..

পেশায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিষাণ (অনিবার্ণ) নিজের জীবনের প্রতি বেশ উদাসীন তার স্ত্রী শিবাঙ্গী (জয়া আহসান) নিজেও একজন ব্যবসায়ী। তাদের ঘরে আশ্রিত শিবাঙ্গীর বান্ধবী নন্দিনি (পায়েল সরকার) আর জাহ্নবী। সিনেমার প্রথম দৃশ্যতে দেখা যায় ঘরে ডাকাত ঢুকেছে আর ডাকাতের কবলে পড়ে মারা যায় আশ্রিত নন্দিনি,একই সাথে শিবাঙ্গী গুরুতর আহত হয়ে কোমায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ঘটনার জেরে পুলিশ মামলার তদন্তে নেমেছে যেখানে তারা স্বামী বিষাণকে দোষী প্রমাণ করতে ব্যস্ত।

এই খুনটাকে ওপেন এন্ড শাট মার্ডার কেস বলে চালিয়ে দিলেও সামনে চলে আসে নানা তথ্য যেখানে শিবাঙ্গীর সাথে বিষাণের ডির্ভোস ফাইল করা ছিল।এখানে ডির্ভোসের ক্ষতিপূরণও ছিল বিশাল। এই ক্ষতিপূরণের ঝামেলা থেকে বাঁচতে বিষাণ তার স্ত্রীকে মেরে ফেলতে চাই নি তো! নন্দীনি আর শিবাঙ্গীকে সরিয়ে জাহ্নবীকে নিয়ে বিষাণ নতুন জীবন শুরু করতে চাই এমন বিষয় বা সন্দেহ সামনে চলে আসে।

এই মামলার তদন্তভার ছিল পুলিশের ধুরন্ধর গোয়েন্দা অফিসার শবরের (শাশ্বত চট্টোপধ্যায়) হাতে। নিজে তার পেশার প্রতি এতটা ডেডিকেটেড যে নিজের যে একটা স্বাভাবিক জীবন তা যেন হারাতে বসেছে । একটা সময় মনোবিদের শরণাপন্ন হলে নিজের সমস্যা কথা জানতে পারেন। গোয়েন্দা অফিসার শবরের সমস্যা হলো ওনি নিজের একটা প্রতিচ্ছবি সকল ক্রিমিনালের মাঝে দেখেন যেখানটায় তিনি একজন মানুষের পরিচয়কে বড় করে দেখেন।

এখন একজন পুলিশ যদি অপরাধীকে এভাবে দেখেন তবে তো অপরাধী পার পেয়ে যাবে,তাই না? তবে তিনি কি করে একজন গোয়েন্দা বিভাগের বড় অফিসার হলেন?

তদন্তের স্বার্থে তিনি জানতে পারলেন শিবাঙ্গীর স্বামী বিষাণ মূলত একটা সাব-কনসাস লাইফের মোড়ক নিয়ে বেঁচে আছেন। বিষাণ আসলে একটা উন্মাদ আর অস্বাভাবিক মানুষ যে কিনা নিজের জীবনের উপর কোন কন্ট্রোলই রাখতে পারে না। এক সময়ে নন্দীনির সাথে বিষাণের পরকীয়ার সম্পর্কটার জের ধরে শবরের চোখে শিবাঙ্গী আর জাহ্নবী খুনি। এতসব কিছুর পরও পুলিশ কূল কিনারা করতে পারছে না।

নিজের জীবনের একটা কালো অতীত অধ্যায় যা বিষাণকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে যেটার জের ধরে তার সাথে স্ত্রী শিবাঙ্গীর মনোমালিন্য চলছে বিয়ের পর থেকে ফলাফল ডির্ভোস আর বিশাল টাকার মামলা,মাঝখানে নন্দীনির সাথে এক্সট্রা ম্যারিটিয়াল এ্যাফেয়ার যার কারণে নন্দীনি তাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। নিজের ঘরে একটা টিন-এজ মেয়ে জাহ্নবী যাকে কেন্দ্র করে একটা ত্রিমূখী মোড় পেল।ছবিতে বিরতির পূর্বে গল্পের গতি থেমে থেমে আপনাকে খুনীর কাছে নিয়ে যাবে।

এই গল্পে লেখক আর নির্মাতার ভাষা বুঝতে হলে আপনাকে শেষ অব্দি দেখে যেতে হবে। এখানে একটা ক্রাইম থিলারের আদলে পরিচালক মানুষের জীবনবোধের একটা গল্প বলতে চেয়েছেন তার ঢঙে। আমরা আমাদের নিজেদের পারিপার্শ্বিক যে মানুষ সবগুলোকে দেখি তবে তাদের কতটা অবলোকন করতে পারি?

মুখ দেখে যায় চেনা এই টাইপ কথাবার্তা বলি আসলে কি মুখ দেখে কাউকে চেনা যায় ?

ঈগলের চোখ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে ২০১৬ সালে আপনি যদি এখনো না দেখে থাকেন তবে অবশ্যই আপনার মাস্ট ওয়াচ লিস্টে রাখতে পারেন। এইটুকু বলতে পারি আইটেম গানের রমরমা এই  ‍যুগে আবহ সঙ্গীতের মূর্ছনায় আপনি গল্পের গতিতে এগিয়ে যাবেন।যা দ্বারা নিজের মানসিক স্বত্তাকে না হয় একটু যাচাই করে নিলেন।

হ্যাভ এ গুড টাইম উইথ মুভি।

 

“ ভারত নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা ” সেমিফাইনালে টাইগারের প্রতিপক্ষ কারা….??

Now Reading
“ ভারত নাকি দক্ষিণ আফ্রিকা ” সেমিফাইনালে টাইগারের প্রতিপক্ষ কারা….??

স্বপ্ন এবার সত্যি হলো!

বাংলাদেশ সেমিফাইনালে…..

বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কারা হচ্ছে ?

D/L Method এ ইংল্যান্ডের হাতে অজি বধ বাংলাদেশের স্ব্প্ন পূরণের পালা……..

বার্মিংহামের আকাশে বৃষ্টির আভাস যখন ছিল তখন বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের মনে নানা স্বপ্নের আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। এবার প্রথম বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতে যাচ্ছে তবে ফাইনাল কেন নয় ? ইংল্যান্ড জিতলেই যে বাংলাদেশ স্বপ্নপূরণ করবে। এখন যদি ম্যাচ ডার্ক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে যায় এমন শংকা কি উড়িয়ে দেয়া যায়। আজকের ম্যাচে এমনটাই এসেছে পরিস্থিতি ম্যাচের প্রায়ই শেষের দিকে… এই নিয়ম যে বড়ই নিষ্ঠুর ক্রিকেটের জন্য।

তবে সব জল্পনা কল্পনার মেঘ উড়িয়ে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ শুরু হল।টসে জিতে ইংল্যান্ড ফিল্ডিংয়ে যায়।অজি ওপেনারদের দ্রুত রান তোলা ক্রমশ বিপদের কারণ হয়ে আসছিল? মারকুটে ব্যাটসম্যান ফিঞ্চ তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৬তম ফিফটি। অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের সাথে বেশ ভাল এগুচ্ছিল কিন্তু ফিঞ্চ পরে মির্ডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের উপযুক্ত সঙ্গ না পাওয়ায় কোন বড় জুটি হল না। অজি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে স্মিথের ৫৬ আর ট্র্যাভিস হেডের ৭১রানের উপর ভর করে টার্গেট দাঁড়ায় ২৭৮ রানের। ইংল্যান্ডের পক্ষে মার্ক উডের গতি আর আদিল রশিদের ঘূর্ণি বলে দুজনের ঝুলিতে মোট জমা পড়ে আট উইকেট।

২৭৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মোটেও শুরুটা ভাল হয়নি ইংল্যান্ডের কোন  রান না করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় এ্যালেক্স হেলস (০)।জেসন রয় আর জো রুট দুজনে হ্যাজেলউডের বলে বোকা বনেন উইকেট দিয়ে আসে। জো রুট নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি।খেলার এই মুহুর্তে উত্তেজনার পারদ চরমে ক্রিজে আসে ইংল্যান্ড অধিনায়ক মরগান আর এই সময়ের বিধ্বংসী অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। মাঠ আর মাঠের বাইরে দুই জায়গায় আলোচনায় থাকতে পছন্দ করে এই ব্রিটিশ ক্রিকেটার। দুজনের ধীরস্থীর ব্যাটিং নৈপুণ্যে দিয়ে ম্যাচের রঙ পাল্টাতে থাকে। নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিতে মরগান রান আউট হয়ে ফিরে যায় ৮৭ রানে। এই সময় ক্রিজে আসে উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান জস বাটলার আপাতত দৌড়ের বাটন তাদের দুজনের  হাতে ছিল।এই ম্যাচের বোলিংয়ে কোন নৈপুণ্যের ছাপ রাখতে না পারলেও বেন স্টোকসের ব্যাট যেন তার হয়ে কথা বলছিল। ৪১ ওভারের ২য় বলে এ্যডাম জাম্পাকে ডীপ কাভারে চার হাঁকিয়ে নিজের শতক পূরণ করেন।

 

আজকের ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে এ্যাশেজের একটা চাপা উত্তাপ থাকবে এটা স্বাভাবিক। এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্ধী দেশের ক্রিকেট মানে সবসময় বাড়তি কিছু তা আমরা ক্রিকেট ভক্তরা সবসময় আঁচ করতে পারি। আট জাতির এই মর্যাদার আসরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খেলতে যাওয়ার পেছনে শুরু থেকে কম নাটকীয়তা ছিল না। ওয়েস্টইন্ডিজকে টপকে র‌্যাংকিংয়ে আটে স্থান করার সুবাদে এখানে সরাসরি খেলার সুযোগ পাই। তখন এই নিয়ে নিন্দুকেরা কম জল ঘোলা করে নি। সুপ্রসন্ন ভাগ্য আর ক্রিকেট পাগল এক জাতির ভালবাসায় বাংলাদেশ দল এখন সমুন্নত অবস্থানে।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ত্রিদেশীয় সিরিজেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে পুরো টিম।অনেকটা ওয়ার্মআপ সিরিজ হলেও বেশ ভালোই লড়েছে বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড আর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে একটা আভাস যেন দিয়ে রেখেছিল। বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের ম্যাচের ড্র হওয়ার পর থেকে একটা তোপে ছিল কেননা তারা যে গ্রুপ অফ ডেথে পড়েছিল । যেখানে এশিয়ার তিন প্রতিপক্ষ অন্য গ্রুপে হলেও বাংলাদেশের গ্রুপ সঙ্গী ছিল কিউইরা,বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া এবং স্বাগতিক ইংল্যান্ড। বিদেশের মাটিতে প্রতিপক্ষও বিদেশী স্বাভাবিক একটা শংকা ছিল। সব জল্পনা কল্পনা উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিকদের সাথে বুক চিতিয়ে লড়াইটা যেন একটা আগমনী বার্তা ছিল। পরের ম্যাচে অজিদের সাথে বৃষ্টির বাগড়ায় ম্যাচ পন্ড হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি হলে প্রথমবারের মত কোন বিশ্ব আসরে সেমিফাইনাল খেলা হতে একধাপ পিছে বাংলাদেশ এমনটাই পরিস্থিতি দাঁড়ায়। এই রেসে টিকে থাকতে হলে নিউজিল্যান্ডকে হারাতে হবে এমন কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে গতকালকের ম্যাচে বাংলাদেশ যেন একটা ঐতিহাসিক ম্যাচ খেলে ফেলল। আপনাদের এই ম্যাচের ফলাফল নিশ্চয়ই জানা আছে না থাকার কথা নয়। এদেশের ক্রিকেটকে আরো একবার জাগিয়ে দিয়েছে। কঠিন এক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশীরা কিভাবে চাপকে জয় করে ম্যাচ বের করে এনেছে তা যেন দেখার মত ছিল।

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আর মাহমুদল্লাহ রিয়াদ নিজেদের জাত চিনিয়েছে আরো একবার। এই জয়ের ফলাফল নিয়ে নিন্দুকেরাও প্রশংসা করতে কার্পণ্য করে নি। কার্ডিফ বরাবরের মতো বাংলাদেশের জন্য পোয়াবারো একটা মাঠ এখানে জয়টা যেন বাংলাদেশের জন্য নতুন একটা ধাপে এগিয়ে যাওয়ার সিড়ি। প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে হারানো আর কালকের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ধরাশায়ী করা দুটোই যেন রুপকথাকে হার মানায়। এবার তো গেল বাংলাদেশের টুর্নামেন্টের গ্রুপের হিসাব নিকাশ যার অনেকটা নিশ্চিত আজকের ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের উপর। দর্শকরা আজ অজিদের বধ হোক ব্রিটিশের হাতে এমনটাই বাংলাদেশের ভক্তদের বাসনা।

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকে দর্শকদের মনে একটা গোপণ হিসাব নিকাশ ছিল বাংলাদেশ যদি আটজাতি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলে তবে কে হবে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ? এরকম একটা প্রশ্নের বিচারে ধরে নিলে বাংলাদেশের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা,ভারত নয়তো পাকিস্তান বা শ্রীলংকা দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। এখন যদি দক্ষিণ আফ্রিকা চোক করবে এটা ধরে নিই তবে থাকবে শ্রীলংকা ভারত নয়তো পাকিস্তান !

এখন যা পরিস্থিতি তাতে শ্রীলংকা পাকিস্তানের ম্যাচ হতে ছিটকে যাবে যেকোন এক দল তাতে নিশ্চিতভাবে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে ভারত নয়তো দক্ষিণ আফ্রিকা !!

বি গ্রুপে ভারতের একক আধিপত্য ধরে নিয়ে হিসাব নিকাশ গড়ালেও শ্রীলংকার কাছে ম্যাচ হেরে অনেকটা ব্যাকফুটে চলে যায় ভারত। আনকোরা শ্রীলংকা পুরো পাশার ছকটা যেন পাল্টে দিয়েছে যাতে করে মূলত টুর্নামেন্টটাই উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। প্রতিটা ম্যাচের ফলাফলই নয় পরের ম্যাচে কি হচ্ছে তার জন্য মুখিয়ে থাকতে হচ্ছে দর্শককে। এই টুর্নামেন্টে “এ” গ্রুপের ম্যাচে আরো একটা প্রতিপক্ষ দল ছিল তা হল ইংল্যান্ডের অনাকাঙ্খিত বৃষ্টির বাগড়া দেয়াটা।

সম্প্রতি এশিয়ার উদীয়মান পরাশক্তি হিসেবে আর্ন্তজাতিক টুর্নামেন্টে ভারতের সাথে বাংলাদেশের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দুই দেশের ক্রিকেট ভক্তের মাঝে একটা দ্বৈরথ যেন সৃষ্টি করেছে। এটা বর্তমান সময়ে উপভোগ্য বটে ।এই দ্বৈরথ মূলত ২০০৭ সালে বিশ্বকাপে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হতে ছিটকে দেয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে।

Once More……..

BE AWARE  Team India & South Africa

TIGERS Are Roaring…..

 

“ড্রয়িংরুমে” বিদেশী চ্যানেলের দৌরাত্ম্য

Now Reading
“ড্রয়িংরুমে” বিদেশী চ্যানেলের দৌরাত্ম্য

আপনি কি কখনো হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা নিয়েছেন ? এই চিকিৎসাটা খুবই ধীরগতির তাই না ? তবে কোন ক্ষতি তো আপনার চোখে পড়ে না,উন্নতি তেমন একটা দৃশ্যমান নয় তাই নয় কি ?প্রথমেই বলে রাখি কোন ভাল জিনিসের জন্য আহামরি কোন বিজ্ঞাপণ দিতে হয় না,খারাপ কিছুকে হজম করানোর জন্য যতটা না করতে হয়।

এখনকার ব্যস্ততম দুনিয়ায় মানুষের শত কাজের ব্যস্ততায়  নেই কোন ফুরসুত তার বিনোদনের জন্য।আগে গ্রামে-গঞ্জে পালাগানের আসর হতো নাটক হতো মঞ্চে এখন এসব ধূসর অতীত বলা চলে।

আমাদের দ্রুততম জীবন গতির সাথে তাল মিলিয়ে এখন আমরা বিনোদনের মাধ্যমকে যুগোপযোগী করে নিয়েছি। আমরা সবাই যাদুর বাক্সরুপী টেলিভিশনে আটকা পড়েছি। একটা সময় দেশে কেবল বিটিভির অনুষ্ঠানমালা ছিল তখন আপনার কাছে আর কোন অপশনই ছিল না,চাইলেই আপনি তা বদলাতে পারতেন না। যখন  দেশে স্যাটেলাইট চ্যানেলের সম্প্রচার শুরু হল তখন থেকে বিনোদন একটা বহুমাত্রিক ছোঁয়া পেল।এখন আমাদের রিমোট দ্বারা কন্ট্রোল করতে হয়,একই ঘরে সাতজন মানুষ হলে তাদের রুচিবোধের প্রকারভেদ হয় পাঁচ।

দেশের স্যাটেলাইট চ্যানেলের সাথে বিদেশী কিছু চ্যানেল যারা ধীরে ধীরে আমাদের অস্তিত্বকে গ্রাস করে চলছে। কিভাবে ? কোথায় ? এটা অনেকটা ক্যানসারের মতো ধীরে ধীরে হচ্ছে বিধায় তা বেমালুম ।

কয়েক বছর আগে  ডরিমন কার্টুন দেখে গিয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে একটা ছোট ছেলে বিপদজনক স্টেপ নেওয়াতে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে উঠে।যার ফলে দেশে কার্টুনের চ্যানেলটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।এখন একই কার্টুন দেশীয় চ্যানেলগুলো ডাবিং করে সম্প্রচার করছে। এটা কলা দেখিয়ে মুলা খাওয়ানোর মত হলো না ?

আমাদের দেশে এখন প্রায়ই ৫০ টারও অধিক বিদেশী চ্যানেল আছে যার অধিকাংশই ভারতীয়। ভারত এবং বাংলাদেশের আর্ন্ত-বাণিজ্যিক চুক্তিতে দেই দেশের বন্টনে সমান অধিকারের কথা বলা থাকলেও বাস্তবে তার কোথাও ছিটেফোঁটা নেই। বরং দেশীয় প্রতিনিধিরা এসব ব্যাপারে বেশ উদাসীন কেননা আমাদের দেশের কয়টা চ্যানেল ভারতে সম্প্রচার করে সে খবর আমাদের আছে ? সঠিক কোন খবর তো নেই বরং তার জন্য নেই কোন পদক্ষেপ।

এখন আপনি প্রতিটা ঘরে ঘরে গিয়ে দেখুন খোদ দেশীয় নামকরা সেলেব্রেটিদের বাসায় যান সকাল বা সন্ধ্যা যেকোন সময়ে ভারতীয় চ্যানেলের অনুষ্ঠানমালা দেখতে পাবেন। এমন না যে বিষয়টা নতুন অনেকে সরাসরি স্বীকার করেছে। এসব নিয়ে নিউজ রির্পোট হয়েছে একাধিকবার আমাদের সচেতনতার দৌড় ততটুকুই বলা যায়।

আমাদের দেশীয় মিডিয়ায় যে কয়টি চ্যানেল বেশ বিরুপ প্রভাব ফেলছে তার মধ্যে অন্যতম হল স্টার প্লাস,সনি টিভি,জি টিভি,লাইফ ওকে,সাব টিভি,জি-বাংলা ,স্টার জলসা,কালারস হিন্দি এবং কালারস বাংলা,ইটিভি বাংলা,স্যাট ম্যাক্স,এমটিভি ,বি4ইউ মিউজিক সহ আরো অনেক চ্যানেল। হলিউড কিংবা কোরিয়ান,জাপানি,চীনা এসব চ্যানেলের প্রকোপ টিভিতে নেই।

আমাদের জাতীয় দৈনিকগুলোতে দেখবেন তারা বিদেশী চ্যানেলগুলোকে প্রমোট করতে যেন এক ধাপ এগিয়ে তারা ঐসব চ্যানেলের বিভিন্ন্ প্রোগ্রামের সিনোপসিস লিখে দেয় পাঠকদের জন্য এটা প্রকরান্তরে নেতিবাচক একটা দিক।

ভারতীয় তথা বিদেশী চ্যানেলগুলোর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে আমাদের যুব সমাজের উপর কেননা তারা একটা নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে বড় হচ্ছে যা কিনা ভবিষ্যতে আমাদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সৃজনশীল পরিভাষায় যাকে নাটক বলে এই লম্বা দৌড়ের সিরিয়াল গুলো দর্শক ধরে রাখার একটা বাজে দৌড়ে নেমে তার সংজ্ঞাটা পাল্টে দিছে। এই নাটকগুলো নাটকের নেতিবাচক অর্থই যেন দাঁড় করিয়েছে। নাটক!!

আপনি খেয়াল করবেন এখানে দেখানো হয় একটা পরিবার যা কিনা একদম প্রত্যন্ত অঞ্চলকে রিপ্রেজেন্ট করে কিন্তু আপনি সেট বা লোকেশন কোথাও পাবেন না প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোঁয়া। এখানে প্রতিটা পরিবারের অবকাঠামো অদ্ভুত যেমনটা বাস্তবের সাথে কোন মিল নেই ।এখানে সম্পর্কের মূল্য একদম ঠুনকো করে দেখানো হয়। এই যেমন তারা সম্পর্ক বা রীতি রেওয়াজের ক্ষেত্রে এমন বেহায়াপনা করে খোদ যেটা তাদের সমাজে প্রচলিত নেই। আপনি খেয়াল করে দেখবেন এখানে কিছুদিন পর পর নায়িকা বা নায়কের বিয়ে দেয়া হয়। এমন অনেক নাটক গেছে যেখানে নায়িকার বিয়ে দেখতে দেখতে খোদ দর্শকও বিরক্ত হয়ে গেছে।এখানে বিয়ে বারংবার করানোর মাধ্যমে আসলে কি ম্যাসেজ দিতে চাই এটা বোধগম্য হওয়ার বিষয় না। যে কথা বলছিলাম সম্পর্কের টানাপোড়েন এটা এতটাই অদ্ভুত আপনি চিন্তা করতে গিয়ে বমিও করে দিতে পারেন হজম হবে না বলে দিলাম।

দুইবোনের সম্পর্ক বিয়ের কারণে বউ শ্বাশুড়ির সম্পর্ক বনে যায়। এটা আমরা অধীর আগ্রহে দেখছি কতটা খারাপ জিনিস খাওয়ানো হচ্ছে খেয়াল করছি একবারও! আমরা তো নাটকের পরের দৃশ্য কি হবে তা ভেবে অর্ন্তপ্রাণ আমাদের একটা মোহের মধ্যে রাখা হয়েছে। এখানে একজন স্বামীর দুটো স্ত্রী থাকা যাবে  তবে তারা একই সাথে কখনো স্বামীর দাবি নিয়ে আসে না,কোনক্ষেত্রে ডির্ভোস হয়ে গেলেও তাকে একই ছাদে নিয়ে আসার সুযোগ আছে। যেখানে এক শ্বাশুড়ি আর বউয়ের জ্বালায় টিকে থাকা দুস্কর সেখানে শ্বাশুড়ির লেয়ারটা তিন চার স্তরের হয়ে যায়। আমাদের ঘরে সাধারণত দেখা যায় বাবার সম্পর্কের লোকজন চাচা-চাচী এরা থাকতে দেখা যায়। এসব নাটকে আপনি দেখবেন মামা-মামী-খালা খালুর সম্পর্কের লোকজনও এসে গিজগিজ করে। এটা কেবল গল্পকে নানা নাটকীয় মোড় দেয়া ছাড়া আর কিছু না। এখানে কোন সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির বন্ধন আছে বলে মনে হয় না। আপনি যখন পরিবারের মেলোড্রামা দেখতে ক্লান্ত তখন আপনার সামনে নিয়ে এসেছে মাইথোলজিক্যাল কিছু কাহিনি আর হরর কিছু গল্প যেটা অন্তত আর কিছু না হোক বর্তমানের সাথে বেমানান । এই সব গল্পের প্লট আর থিম খুবই হাস্যরসময়।

আপনার সামনে একটা বিরাট আলোকসজ্জায় ভরপুর একটা সেট,কস্টিউমে ভরপুর একেকটা ক্যারেক্টার তা দিয়ে আপনার সামনে ধুলো দিয়ে যাচ্ছে। এখানে নাটক যেখানে বিনোদনের পরিভাষা সেখানে এইসব নাটক যেন ব্যবসায়ীদের ঢাল নয়তো অনেকক্ষেত্রে অস্ত্রের ভূমিকা নিচ্ছে।

আমাদের পরিবার গুলোতে বউ-শ্বাশুড়ির দ্বন্ধ,স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্ধ,হিংসা প্রতিহিংসা বা ক্ষোভ আর নানান বিদ্বেষপূর্ণ ঘটনার বীজ এসব নাটকগুলোর মধ্যে অর্ন্তনিহিত আছে।  ঈদের বাজারগুলোতে তো এখন এইসব চ্যানেলের প্রকোপ কেননা নাটকের ক্যারেক্টারগুলো এখন বাজারে নেমে এসেছে তাদের নামসংবলিত ড্রেস বাজারও দখল করছে। এইসব জিনিসের যথেষ্ট চাহিদা আছে ।খোদ চট্টগ্রামে স্টারপ্লাস নামে শাড়ীর দোকান আছে তাতে নারীদের বেশ উপচেপড়া ভীড় দেখা যায়। ফেসবুকে নারীদের গ্রুপ বা পেজে এসব নিয়ে চর্চা হয় বেশ তারা দেখে তো দেখে তা নিয়ে নানাভাবে মশগুলও করে যেমন কোন নাটকের কোন ক্যারেক্টারের কি হলো এটা এখন ভার্সিটি পড়ুয়া হতে শুরু করে স্কুল পড়ুয়া সকল মেয়ের আলাপের বিষয়বস্তু। এটা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত দেশীয় সংস্কৃতির কাছ থেকে কোন এক অদৃশ্যে শক্তির আড়ালে যেন সরিয়ে নিচ্ছে।

দেশে নানান ফেসবুক পেইজ আর ট্রলগুলোতে এসব ক্যারেক্টার স্থান পাই যার কারণে বোঝা যায় কতটা বিরক্ত টিভি দর্শক।আমরা একটা সামাজিক অণুকরণের মধ্যে দিয়ে বড় হচ্ছি যেমন এখন একজন টিন এজ গার্ল এইসব নাটক বা সিরিয়ালে আকৃষ্ট হয়ে পড়লে স্বাভাবিক অর্থে তার মনোজাগিতক বিকাশটা হলো কোথায় ? এই মেয়ের স্বাভাবিক একটা কৈশোরের চঞ্চলতা আমাদের সামনে কেড়ে নিচ্ছে তা দেখেও আমরা নির্বিকার। এখানে নাটকগুলোতে কেবল ঘরের চৌকাঠের ভেতরকার গল্পকে হাইলাইট করা হয়।বাইরের দুনিয়ার সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল না কেননা একটা নাটকে দেখা যায় ল্যাপটপ ওয়াশ করার অর্থ পানিতে চুবিয়ে শুকাতে দেয়া এমন কাজ করছে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সেই মেয়ে একবছর পর একটা প্রতিষ্ঠানের সিইও বনে যায়। একবছর আাগে যার কাছে কোন নুন্যতম ডিগ্রীটা ছিল না। এমন কাল্পনিক কনসেপ্ট কেবল টিভিতে সম্ভবপর। এগুলো আমাদেরকে সুন্দর মোড়কে করে খাওয়ানো হচ্ছে নয়তো গিলানো হচ্ছে।

এইসব নাটকে পুরুষের ক্ষমতা গৌণ কেবল নারীরাই সর্বেসর্বা।যেহেতু গল্পের গন্ডি ঘরের ভেতরকার তাই বোঝা যায় তাদের নির্দিষ্ট দর্শককে লক্ষ্য করে এগিয়ে যায় গল্প-কাহিনি। এছাড়াও নানানভাবে এসব বিষয় আমাদের তথা দেশীয় সমাজে বিরুপ প্রভাব ফেলছে। আমাদের এখানে নাই তেমন কিছু একটা প্রথা যা  নিয়ে আসার জন্য ভবিষ্যতে ঘরের মেয়েরা সোচ্চার হবে তেমনটা ভাবা অমূলক নয়।এটা যদি হয় তবে তা হবে এক ধরনের আগ্রাসন। এটা প্রকরান্তরে আমাদের সমাজে একটা আগ্রাসনই সৃষ্টি করছে। আগ্রাসনটা কোথায় ?

আমাদের তরুণীরা যারা এটা দেখে বড় হচ্ছে তারা একটা ভুল ধারণা নিয়ে বড় হচ্ছে যা তাকে বিপদে ফেলবে।এখানে গল্পকার যেভাবে একটা নায়িকা বা চরিত্রকে স্বাধীনতা দেয় তা আমরা বাস্তবে নাও পেতে পারি।পরিবারের ভেতরকার কাল্পনিক সমস্যা আর সমাধান কল্পে যে অভূতপূর্ব সমাধান যার সাথে বাস্তবতার ব্যবধান যোজন যোজন। এখানে ইচ্ছাকৃতভাবে একটা ঘটনা বা সমস্যাকে জটিল করে তোলা হয় যা বাস্তবে তেমনটা নাও হতে পারে আমি যদি ভেবে নিই তবে তো বিপদ।

আপনি আমি যদি একটা দ্বিধাবিভক্ত সমাজের মধ্যে বড় হচ্ছি,যেখানে আমার সামনে প্রর্দশিত টিভিতে এক আর বাস্তবে অন্যকিছু তখন তো নিজেকে মানিয়ে নিতে যে কারো কষ্ট হবে। এটাই স্বাভাবিক।

একটা ঘটনার কথা শেয়ার করি … একবার এক ফ্রেন্ডের লাইক বা শেয়ারের কল্যাণে আমার টাইমলাইনে চোখ ছানাবড়া করা একটা পোস্ট আসে।যেখানে তরুণীদের পেজে পোস্ট করা আছে  “ কোন এক সিরিয়ালে নায়ক-নায়িকার শয্যাদৃশ্য না দেখিয়ে তাকে গর্ভবতী দেখানো হয়েছে।” এটা নিয়ে গ্রুপ পোস্ট আর তুখোড় সমালোচনা।

তাবৎ দুনিয়ার হাজারো টপিক থাকতে আমরা আমাদের মানসিকতা নিয়ে কোথায় আটকে আছি। এভাবে প্রতিনিয়ত আমরা আধুনিক সমাজে বাস করে কুপমুন্ডুকের মতো জীবন যাপন করছি। এমটিভি রোডিস্ বা আরো যে কয়েকটা শো হারহামেশাই যেটা কিনা অনেকটা আমেরিকান শো এর আদলে তৈরি করা হয়েছে। এখানে যেভাবে তরুণ-তরুণীর বেহায়াপনা বা অবাধ মেলামেশাকে স্বীকৃতির মানদন্ডে বিচার করা হয় তা যারা পর্দার বাইরে দেখছে তাদের জন্য অমূলক বটে।আমাদের দেশীয় ব্যবস্থা বা সমাজের মান অতটা নিচে নামে নি। যেখানে এসব জিনিসকে প্রমোট করতে মিডিয়ার দ্বারস্থ হতে হবে।

আজকাল তো আপনি গাড়িতে বা পার্কে গেলে দেখবেন বয়স্করা তাদের আলোচনায় নিয়ে আসছে এই ছাইপাশ সিরিয়ালের রসালাপ।অনেক সময় তাদের আলাপচারিতা আর ভঙ্গিমায় আপনার মনে হবে ঘটনাটা আপনার পাশের বাড়িতে ঘটেছে।আসলে তা নয়।

আমাদের দর্শকগুলো বিপথে যাচ্ছে কেন ? এটা কি তাদের একার দোষ ? এই যে দেশের সীমানা পেরিয়ে একটা কুপ্রভাব তা ও আবার বিনোদন মাধ্যমের দ্বারা হচ্ছে তা দেখে কর্তৃপক্ষ অনেকটা চোখে হাত দিয়ে রেখেছে।

এই ক্ষেত্রে তো দর্শক চোখে হাত দিয়ে রাখবে না।একটা নীরব ঘাতকের মতো সামাজিক আগ্রাসন আমাদের পেঁচিয়ে ধরেছে আমাদের গলা অব্দি আসলে বোধহয় অনুভব হবে। যখন শ্বাস নিতে কষ্ট হবে…

সর্বোপরি আমাদের এই বিরুপ আর কুরুচিপুর্ণ অনুষ্ঠানগুলোকে বয়কট করতে হবে যেখানে আমরা চাইলে ভবিষ্যতের জন্য একটা সুন্দর বিনোদনের নির্মল পরিবেশ তৈরি করতে পারি।

আপনারা যারা আধুনিক সময়ে সন্তানের বাবা মা হতে যাচ্ছেন তারা একটা গঠনমূলক পদক্ষেপ নিন।আপনার ছোট একটা পদক্ষেপ একটা মহীরুহের ন্যায় বিবেচিত হবে….

 

পরের পর্বে দেশীয় টিভিগুলোর সমাচার থাকবে……

“উচ্চ শিক্ষার সিঁড়ি” আপনি কোথায় পা বাড়াবেন ?

Now Reading
“উচ্চ শিক্ষার সিঁড়ি” আপনি কোথায় পা বাড়াবেন ?

একটা জাতি কতটা উন্নত তার মানদন্ড হলো আসলে ঐ জাতি কতটা শিক্ষিত।বর্তমান সময়ে অধিক জনসংখ্যা যেখানে বোঝা বনে যায় কোন অনগ্রসর জাতির জন্য সেখানটায় আমাদের উচিত এই সমস্যা নিয়ে ভাবা।আসলে কিভাবে আমরা আমাদের নির্দিষ্ট জনসংখ্যাকে কাম্যজনসংখ্যার স্তরে নিয়ে যেতে পারি।

এই ভাবনার উদ্রেক হয় মূলত যখন কোন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার পথে পা রাখে।এই শিক্ষা সম্পন্ন করে তাকে পাড়ি দিতে হবে বন্ধুর এক পথ।যেখানে প্রতিনিয়ত থাকবে কোন না কোন চ্যালেঞ্জ।এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার শক্তি আর সামর্থ্য দুটো থাকা চাই নয়তো যুদ্ধ শুরুর আগে আপনি এক পা পিছিয়ে গেলেন।মূলত আমাদের সিস্টেমের প্রেক্ষাপটে এই চিন্তাকে দুঃশ্চিন্তার বিষয় বানিয়ে ফেলে বাবা মা ও গার্ডিয়ানরা। এমন পরিস্থিতিতে আমরা দাঁড়িয়ে চিন্তা না করাটাই যেন অস্বাভাবিক বটে।

আমরা যদি এই বিষয়ে একটু সোচ্চার হই তবে অদূর ভবিষ্যতে অনেক দুঃশ্চিন্তা হতে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারব। কিভাবে ?

আলোচনায় আসা যাক । আমাদের শিক্ষার যে পদক্রম তা অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার পথচলা মূলত শুরু হয় যখন কোন শিক্ষার্থী নবম-দশম শ্রেনীতে উঠে। যেমন কোন শিক্ষার্থী যদি বিজ্ঞান বিভাগে বা বাণিজ্য বিভাগে নয়তো মানবিকে ভর্তি হয় তখন থেকে তার একটা গতিপথ তৈরি হয়ে যায় না বরং আমরা তৈরি করে দিই।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা মূলত ডাক্তার নয়তো ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন লালন করে,ব্যবসায় শিক্ষার একজন শিক্ষার্থী চার্টাড একাউন্টেট নয়তো প্রথিতযশা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ-এমবিএ করার স্বপ্ন দেখে।মানবিকের শিক্ষার্থীদের গন্ডি এখানে ছোট থাকে তাদের জন্য বরাদ্দ থাকে স্নাতক স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কোন সাবজেক্ট।একজন শিক্ষার্থী যে কিনা এত কিছু বোঝার আগে আমরা তার জন্য অনেকাংশে বরাদ্দ করে দিই তাকে কি করতে হবে। এটা কোন নিয়ম হতে পারে না। আমাদের শিক্ষার যে প্রচলিত ধারা সে অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিকের পর্বটা শিক্ষার্থীদের জন্য একটা রোলার মেশিন ছাড়া আর কিছু না।এখানে বিশাল একটা সিলেবাসের সাথে খুব কম সময় বরাদ্দ থাকে।এই বিষয়টাতে সবাই একমত হবেন।

তাছাড়া এখন নতুন এক পদ্ধতি যেখানে রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সবাই এগিয়ে থাকার জন্য সেটা জিপিএ র ভিত্তিতে মেধা যাচাইয়ের পদ্ধতি। আমার মতে এটা অনেকটা অযৌক্তিক বটে। ঘটনাক্রমে যদি আমার দুটো বোর্ড পরীক্ষায় জিপিএ ৫ না আসে তবে কি আমি মেডিকেল বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার যোগ্যতা হারিয়ে বসব। এখন সবখানে আপনার যোগ্যতা আপনার নামের পাশে জিপিএ কত ? এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন!  অদূর ভবিষ্যতে বিয়ে-শাদীর মামলাতে জিপিএ র মতো টার্ম চলে আসবে এটা ভেবে নিতে পারেন। এইতো গেল মেধাবীদের নিয়ে আমাদের সিস্টেম আর আমাদের কর্মকান্ডের কথা।

সম্প্রতি এইচ.এস.সি পরীক্ষা শেষ হয়েছে সকল পরীক্ষার্থীরা একরাশ স্বপ্ন নিয়ে নেমে পড়েছে প্রস্তুতির মহারণে। দেশে বিদ্যমান শিক্ষার্থীদের তুলনায় পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যোগান না থাকায় আরো একটা সংকট তৈরি হয়ে আছে।

এই প্রশ্নটা সবার জন্য শিক্ষার্থী বা গার্ডিয়ান সবার জন্য ………

আপনি তো উচ্চশিক্ষার সিঁড়িতে বসে আছেন,সামনে কোথায় পা বাড়াবেন ?যেখানটায় আপনার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।

প্রথমে আসি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে….

যারা কিনা বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়ালেখা করে তাদের জন্য এই স্টেজে এসে দুটো মোক্ষম পথ বেছে নিতে বলে যেমনঃ

১.মেডিকেল

২.ইঞ্জিনিয়ারিং

আপনি যদি সেবার মানসিকতা নিয়ে ভবিষ্যতে কাজ করতে পারবেন বলে নিজে মনে করেন,পাশাপাশি আপনি চ্যালেঞ্জ নিতে সমর্থ হলে আপনি এই দুটো পেশার যেকোন একটাতে যেতে পারেন।এখানে মেধার চেয়ে সহ্য শক্তিটাও জরুরী। এই দুই লোভনীয় পেশার বাইরে দেশের পাবলিক বা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আপনি চাইলে পদার্থ,রসায়ন,গণিত,জীববিজ্ঞান ও পরিসংখ্যানের পাশাপাশি বর্তমানের সময়োপযোগী যেকোন সাবজেক্টে ভর্তি হতে পারেন।এই যেমন ফার্মাসী,মাইক্রোবায়োলজী,ফলিত রসায়ন,ফলিত পদার্থবিদ্যা,কম্পিউটার প্রকৌশলবিদ্যা,মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিশারীজ,ফরেস্ট্রী এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স,সয়েল সায়েন্স ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং সহ আরো নানান প্রকার স্পেসিফিক ডিপ্লোমা কোর্স।

বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য আসন বরাদ্দ রয়েছে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের সকল সমন্বিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে,তাছাড়া ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি পলিটেকনিক, নার্সিং ও প্যাথলজির উপর ডিপ্লোমা কোর্স করেও ক্যারিয়ার সাজানোর সুযোগ রয়েছে।

এখন আপনি  পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও মূল বিষয়গুলোর উপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারেন।

এবার আসি ব্যবসায় শিক্ষা শাখার কথায়…..

দেশের অবকাঠামোগত ও নানান অসুবিধার কারণে সিংহভাগ শিক্ষার্থী এই বিভাগে পড়ালেখা করতে ইচ্ছুক। এখন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির চাকুরীর চটকদার বিজ্ঞাপনগুলো যেখানে একজন বিবিএ বা এমবিএ ধারীকেই প্রাধান্য দেয়।বিজ্ঞান বিষয়ে পড়ালেখা বা প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষার যথাযথ উপায় উপকরণ সরবরাহের অপ্রতুলতার জন্য শিক্ষার্থীরা বিমুখ হয়ে পড়ে বিজ্ঞান বিষয়ের প্রতি। এটা নিছক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা বলা যায়।

দেশের শতকরা ৫০ ভাগের অধিক শিক্ষার্থী যারা উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে বিশাল সংখ্যায় আসে ব্যবসায় শিক্ষার হয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে।এরা সংখ্যায় বিশাল হলেও তাদের জন্য আসন বরাবরই অপ্রতুল।দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনের পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে বেশ কিছু সংখ্যক আসন,তবে এই সব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান আর ভবিষ্যত ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অভিমুখী হয় শিক্ষার্থীরা।

এখানে একজন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে একাউন্টিং,ফিন্যান্স,মার্কেটিং,ম্যানেজমেন্ট,ব্যাংকিং ও এইচ.আর.এম,ট্যুরিজম এন্ড হোটেল ম্যানেজমেন্ট এই বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ালেখা করার। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি কেবলই মূলধারার বিষয়গুলো পাবেন।তাছাড়া একজন ব্যবসায় শাখার শিক্ষার্থী হয়ে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌথভাবে মানবিকের সাথে আনুপাতিক হারে সমন্বিত কিছু অনুষদে ভর্তি হতে পারে।এই যেমন আপনি সাহিত্য নিয়ে পড়তে চান তবে বাংলা,ইংরেজী,ফারসী,সংস্কৃত ও আরবি বিষয়ে পড়তে পারবেন।

এইসব বিষয়ের বাইরে সমন্বিত গ্রুপে আপনি অর্থনীতি,লোকপ্রশাসন,আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা,সমাজতত্ব,রাজনীতি বিজ্ঞান,নৃ-বিজ্ঞান,ইতিহাস,দর্শন,ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে পড়ালেখা করতে পারেন।

দেশে একাডেমিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে চারুকলা, নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিষয়ে পড়তে পারেন উচ্চ শিক্ষা যদি আপনার এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটি বা যোগ্যতা থাকে।তাছাড়া আপনি যদি চান স্বকীয় কিছু করে ক্যারিয়ার গড়তে তবে আইন বিষয়ে পড়ে একটা ভিন্ন প্লাটফর্মে ক্যারিয়ার গড়েত পারবেন। পাবলিক ও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সাবজেক্টের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

উপরোক্ত বিষয়গুলোতে প্রায়ই তিন শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য সিট বরাদ্দ করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের এই সময়ে এসে উচ্চ শিক্ষার সুবিধা ভোগ করার সুযোগ রয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে আইবিএর মতো আর্ন্তজাতিক মানের অনুষদ। কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন সাবজেক্টকে বিশেষায়িত করা হয়েছে যেমন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন, রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং (আইইআর/বি৭) নামে আলাদা বিভাগ খোলা হয়েছে। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত ক্রিমিনোলজী ও ফিল্ম এন্ড মিডিয়া রিলেটেড অনুষদও রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগরে রয়েছে  ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি নামে অনুষদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ফিজিক্যাল এডুকেশন এন্ড স্পোর্টস সায়েন্স নামে আলাদা অনুষদ।

এখন আপনি বা আপনারা চিন্তা করুন কোন অনুষদে আপনার জন্য যথার্থ সুবিধা রয়েছে।আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে পড়ালেখা করতে চান বা ক্যারিয়ার গড়তে চান তবে এখনই নেমে পড়ুন এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন।

ইতিমধ্যে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে বাকিগুলো খুব শীঘ্রই করবে।আপনি চিন্তা করুন আপনার জন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা কোন অনুষদ যথাযথ তা বুঝে ছক কষা শুরু করেন।আপনাদের অনেকেই একটা পরিকল্পনার মধ্যে আছেন। এখন নিজেকে আরো একবার গুছিয়ে নিন আর ভবিষ্যতের জন্য এগিয়ে রাখতে নিজেকে আরো একবার প্রস্তুত করে নিন।

এই স্বল্প সময়ে আপনার কোন পরিশ্রম যাতে বৃথা না যায় তার নিশ্চয়তা কেবল আপনিই দিতে পারেন। ভর্তি সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে আছে ,আমরা এখন যথেষ্ট আপডেট অতটা পিছিয়ে থাকার নই।

ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীদের বাবা-মা এবং গার্ডিয়ানের উদ্দেশ্য  বলতে চাই……….

আপনার সন্তান যদি স্বেচ্ছায় কিছু করতে চাই অবশ্য তাকে সেটা করতে দিন কেননা কোন শিক্ষার্থী যদি ডাক্তারী পেশাকে নিজের জন্য উপযুক্ত মনে না করে তার উপর যদি চাপিয়ে দিয়ে তাকে ডাক্তার বানাতে চাই।এক্ষেত্রে হিতে বিপরীতও হবে আমরা একটা অযোগ্য ডাক্তার যেমন পাব তেমনি সম্ভাবনাময় কোন এক প্রতিভাকে হারাব।

আপনার সুচিন্তিত একটা মতামত গড়ে দিতে পারে ভবিষ্যতের সুন্দর একটা ক্যারিয়ারের ভিত্তি।

এটা কেবল ডাক্তারীকে উদ্দেশ্য করে বলা না,এটা মূলত সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ।যার মাথায় সাহিত্যের নানান কলকাঠি খেলা করে তার মাথায় তো আইনের প্যাঁচ বা অর্থনীতির সমস্যা কিংবা ম্যাথের সূত্র বোধগম্য হবে না।

সকল ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য শুভকামনা রইল। আগামীতে সুন্দর একটা প্রজন্ম আমরা পাব সেই আশাবাদ রাখি।আমাদের শিক্ষায় যে অচলাবস্থা চলছে তা কাটিয়ে উঠতে পারব এবং মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব বিশ্ব দরবারে।

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো আমাদের দেশের নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়ালেখা শেষ করে মেধা পাচারের ফাঁদে পড়ছে বিশেষ করে যারা বুয়েট বা মেডিকেল হতে পড়ালেখা সম্পন্ন করে। কর্তৃপক্ষের এই বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো দরকার এবং যুগোপযোগী হস্তক্ষেপ কাম্য

 

 

 

পারমিতার দিনলিপি পর্ব (০২)

Now Reading
পারমিতার দিনলিপি পর্ব (০২)

প্রথম পর্বের পর

নীলা এক নিঃশ্বাসে বারকয়েক আমার কাছ থেকে জানতে চেয়েছে,আমি আসলে তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছি?

আমি নিজেই তখন একটু ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লাম।দু-মিনিটের মধ্যে আমি নীলাকে একটা রুমের সামনে নিয়ে দাঁড় করালাম।ভেতর থেকে একজন মাঝবয়সী লোক এসে আমাকে ডেকে নিল।আমার হাতে একটা সাদা কাগজও ধরিয়ে দিল।উনি যখন আমাকে বিষয়টা বুঝিয়ে দিতে লাগলেন,তখন নীলা আমার দৃষ্টি আর্কষণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।আপনারাও হয়তো নীলার মতো বিরক্ত হয়ে পড়েছেন তাই না?আসলে আজকের দিনটা আমার আর নীলার জন্য খুবই আবেগঘন একটা দিন,কেননা আজকের পর নীলার অন্ততপক্ষে একটা দুঃখ আমি ঘুচাতে পেরেছি বলে মনে করব।গতরাতে মারা যাওয়া পারমিতার জন্ম দেয়া যে কন্যা সন্তানটি ছিল তা পারমিতার ইচ্ছার কারণেই আমি দত্তক নিচ্ছি।এই কাজটা আমি লিগ্যালী করছি কেননা ভবিষ্যতে যেন কোন সমস্যায় পড়তে না হয়।নীলা যেখানে সন্তান জন্মদানের অপরাগতার দায় মাথায় নিয়ে আমাকে ছেড়ে যেতে চেয়েছে,সেই অর্থে তার জন্য এটা নিঃসন্দেহে ভাল কিছু হবে।আজকের পর নীলাকে মা ডাকার জন্য তো কেউ আসছে বাসায়।আমাদের দুজনের ঘরটা আলোকিত করে রাখবে এই ফুটফুটে শিশুটি।

আপনাদের মনে উৎকন্ঠা কেনই বা আমি পারমিতার মেয়েটিকে এতো সহসাই পেয়ে যাচ্ছি।এই বিষয়ে রহস্যে উন্মোচনের জন্য আপনাকে একটু পিছনে যেতে হবে।পারমিতা বিয়ের পর থেকে দুটো সন্তানের জন্ম দিয়েছে যার দুটোই মেয়ে ছিল।এই মেয়ে সন্তান জন্মানোর দায় বা অপরাধ নিয়ে মেয়েটি দুনিয়া ছেড়েছে।তার মনে হয়তো আক্ষেপ থাকবে কেনই বা সে একটি মেয়েকে এখানে ছেড়ে গেছে।শেষ মুহুর্তে আমার কাছে হয়তো তার শেষ অবলম্বনকে নিরাপদ ভেবেছে তাই ডাক্তারের কাছে আমার কথাই নাকি বলে গেছে।এই বিষয়ে পারমিতার শ্বশুড়বাড়ির লোকের কোন আপত্তি নেই।তারা অনেকটা উদাসীন বললে চলে।এটা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যও বটে।আমার আর নীলার কোল জুড়ে আলো আসলেও আমাদের চারদিকে একটা ঘোর অন্ধকার নেমে আসল।এই যে দত্তক নেয়া সন্তানের জন্য আমাদের অনেকে বাঁকা চোখে তাকাতে লাগল।এই বিষয়টা নতুন করে নীলার জন্য বিব্রতকর।একটা সময় আমি সিদ্ধান্ত নিলাম,এই শহরের কাঠিন্য আর বাস্তবতার জটিল ক্যানভাসের বাইরে গিয়ে কোথাও ঘর বাঁধব যেখানে আমাদের নতুন কোন পরিচয় হবে।আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম।ছোট্ট মেয়েটিকে দত্তক নেয়ার রাতে আমি শহর ছাড়লাম।রাতের আকাশের একলা চাঁদটাই যেন আমাদের যাত্রাপথের সাথী ছিল।

সকালের কুয়াশাস্নাত ভোরে নতুন শহরে আমাদের পদযাত্রা শুরু হলো।যেখানে নতুন একটা স্বপ্নকে অবলম্বন করে শুধু ভালবাসার শক্তিতে পথচলা।আমার চাকরির সুবাদে যদিও বেগ পেতে হয়েছে এসব করতে,তবে আমার কিছু শুভাকাঙ্খী ছিল যারা আমাকে বেশ সহায়তা দিয়েছে।তাদের সেই বন্ধুসুলভ ভালবাসা কখনো ভুলবার নয়।সেদিনের সকালটা আমার জীবন স্মৃতির পাতায় চিরসজীব হয়ে থাকবে।নীলা আমাকে এই অকৃত্রিম উপহারের জন্য বারকয়েক শুকরিয়া জানিয়েছে।আমি এই মেয়ের নাম কি রাখব তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে গেলাম কেননা তার জন্য উপযুক্ত কোন নাম যে পাচ্ছিলাম না।একটা সময় সিদ্ধান্ত নিলাম তার নাম আমি পারমিতা রাখব।কেননা আমি এই পারমিতাকে তো আমার জীবন থেকে হারিয়ে যেতে দিতে পারি না।পারমিতার স্বপ্নগুলো না হয় আমার বাহুডোরে থেকে লালিত হবে।কোন এক উজ্জ্বল দিনে উপযুক্ত মঞ্চে মঞ্চায়িত হবে সমস্ত নাটকের পালা।

পালাবদলের খেয়ায় ভেসে আমি আর নীলা আজ অনেকটা পরিণত।আমাদের এখন অনেক দায়বদ্ধতা নীলা তো আমাকে প্রতিদিন পাঠ শিখিয়ে যায়।এই বিষয়টা আমার বেশ ভালোই লাগে কেননা তাদের মা মেয়ের ভালবাসা আমাকে প্রেরণা জুগিয়ে যায় নিরন্তর।আমি আমার নতুন বাসার দেয়ালে পারমিতার প্রতিবছরের একটা করে ছবি রেখেছি।আমার চোখের সামনে এই যে ভালবাসার মানুষের বেড়ে উঠা তা আমি ফ্রেমবন্দী করে রেখেছি।পারমিতা আধুনিক একটা সমাজে বেড়ে উঠছে যেখানে প্রতিটা পদক্ষেপ বন্ধুর আর কোন এক অজানা বিপদের হাতছানিতে মোড়ানো।আমাদের উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা বেড়ে যায় যখন দেখি পারমিতার বয়সী কোন মেয়ে কোথাও এক নরপশুর কুলিপ্সার শিকার হয়।

পাশাপাশি বিশ্বায়নের প্রভাবে আমার মতো হাজারো বাবা-মা তাদের সন্তানের সামনে মেলে ধরেছে কোন এক সুবিশাল সিলেবাস।যেখানটায় প্রতি পাতায় থাকে বিস্তৃত কোন এক স্বপ্নের বয়ান।আমি আর নীলা পারমিতাকে এই ক্ষেত্রে ভিন্ন আঙ্গিকে তার জানার জগতটাকে খুলে দিয়েছি।পারমিতা যেদিন নিজের স্বপ্নের কথা লিখতে শিখেছে বা বুঝতে শিখেছে স্বপ্ন আসলে কি ?সেদিন ভাঙ্গা ভাঙ্গা হাতে লিখেছে সে নাকি শিক্ষিকা হতে চাই।তার কাছে ব্যাখা চাওয়া হলে বলে স্কুলের টিচারকে নাকি তার খুব ভাল লাগে।তাই ভাললাগার কাজটা করতে অর্ন্তপ্রাণ মেয়েটি।এবার বুঝলাম তার স্বপ্নের গন্ডি বড় হওয়া দরকার।আমি নিজে তার এই কাজে সাহায্য করলাম।

পারমিতা বন্ধু দিবস আর ভালবাসা দিবসে লেখা উইশ কার্ডে আমার জন্য দুটো কার্ড বরাদ্দ রাখে,কেননা আমি নাকি তার ভালবাসার এবং বন্ধু দুটো শাখায় পছন্দের পাত্র।আমি আর নীলা এখনো কোনদিন পারমিতাকে স্কুলের যে স্থান অধিকারের প্রতিযোগিতা তাতে উৎসাহিতও করি নি।মেয়েটা আমার প্রথম ধাক্কা খেয়েছে প্রথম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়।আমাদের আসলে খেয়ালই ছিল না,চারিদিকে এতো সাজসাজ রব এই সম্মানের যুদ্ধের জন্য তা তো ঘূর্ণাক্ষরে খেয়াল করিনি।কোমলমতি এই মেয়েটি যখন প্রথমবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় বসতে গেছে তখন সে আসলে এই ফলাফল নিয়ে এতো বাগবিতন্ডা হয় তার সম্পর্কে অবগতও ছিল না।পরীক্ষা শেষে যেদিন পারমিতার রেজাল্ট আসে সেদিন নাকি সবাই তাকে কটাক্ষ করেছে।কেননা পারমিতা যে এ+ পাই নি।অনেকে নাকি গোল্ডেন না পাওয়ায় স্কুলে কেঁদেছে,এইসব বিষয় আমাকে বাসায় এসে হাসতে হাসতে বলেছে।আমি সেদিন খুব ভাগ্যবান মনে করেছিলাম কেননা আমি যে তাঁকে কোন দৌড়ের সওয়ারী করি নি।এটা নেহায়েৎ তার সৌভাগ্য বটে।সেই থেকে আজ অব্দি মেয়েটি আমার মাঝারি মানের স্টুডেন্ট হয়ে দৌড়াচ্ছে।এই দৌড়ে কোন ক্লান্তি নেই কেননা তার তো কোন প্রতিদ্বন্ধী নেই।এখানে প্রতিনিয়ত নিজের সাথে নিজের একটা হালকা প্রতিযোগিতা হয়।এমন সুন্দর একটা ট্র্যাক কোন বাবা-মা হয়তো তাদের সন্তানকে দিতে পারবে না।তবে এমনটাই করা উচিত।পারমিতা মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে আজ উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ছে।এই সময়ে তার অনেক পরিবর্তন হয়েছে।কিশোরী থেকে আজ সে আঠারো বছরের তরুণী হওয়ার পথে।এই বয়সন্ধির পরিবর্তনে তার সাথে ছিল নীলা।এখন সময়ের প্রেক্ষিতে এসে মেয়ে পারমিতাই যেন নীলার মা বনে গেছে।একটা দুর্ঘটনায় নীলার পা বিকল হয়ে যাওয়াতে সে এখন হুইল চেয়ারে বন্দী।এই সময়ে নীলার কাছে একমাত্র অবলম্বন পারমিতা।পারমিতা ধীরে ধীরে মাতৃসম গুণাবলী গুলো রপ্ত করছে এমনটাই মনে হলো।

এই দুর্বার তারুণ্য আর আঠারোর গন্ডিতে সবসময় কোন এক অভূ্তপূর্ব ঘটনার জন্মের অপেক্ষায় থাকি।আমি তার চোখে আমার সমস্ত স্বপ্নের রং দেখি আর আমার স্বপ্ন ক্রমশ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে

আমি কি স্বপ্নের পানে পৌঁছাতে পারব ? এই প্রশ্ন না হয় সময়ের জন্য তোলা থাক……..

চলবে…………..

 

 

“ পরকীয়া ” পরিবার ও ভালবাসার অন্তরায় !

Now Reading
“ পরকীয়া ” পরিবার ও ভালবাসার অন্তরায় !

একটা সমাজের ভিত্তি কি ? যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয় ? এই প্রশ্নের উত্তর মতভেদে নানান রকম পার্থক্য লক্ষণীয়। এটা স্বাভাবিকই বলা চলে। একই সমাজে বসবাস করা মানুষগুলোর মধ্যে নানান মতভেদের কারণেই তো আজ এতো এতো সামাজিক নিয়মকানুন বের হয়েছে। এই মতভেদ কেবল সমাজের মধ্যে নয় একটা পরিবারের মধ্যে হয়। আমরা শক্ত একটা পারিবারিক মুল্যবোধ আর বিশ্বাস নিয়ে বেড়ে উঠি। এই বিশ্বাসের রীতি রেওয়াজ আমরা কোন না কোনভাবে সমাজে বসবাসের সময় অণুকরণ করি। একটা ভাল পরিবারের সংজ্ঞা কি যদি বলতে যায় তবে বর্তমান অনুযায়ী তা ভিন্ন হবে অবশ্যই ।

পরিবারের শক্ত একটা গাঁথুনি থাকে স্বামী-স্ত্রীর বিশ্বাসের মধ্যে।এই পরিবারের গঠন বা কার্যাবলী একটা সমাজের বাহ্যিকতাকে পরিস্ফুটিত করে। বর্তমানে পরিবারের যে ভাঙ্গন তার পেছনে অনেকাংশে দায়ী আধুনিকতা আর নগর জীবনের প্রভাব। এখন গ্রামাঞ্চলেও শহরের মতো যৌথ পরিবার ভেঙ্গে একক পরিবার গড়ে উঠতে দেখা যায়।

সাবস্ক্রাইব করে রাখুব বাংলাদেশীজম প্রজেক্টের ইউটিউব চ্যানেলে এখানে ক্লিক করে নতুন সব আপডেটের জন্য! 

আমাদের দেশে বিবাহ প্রথার মাধ্যমে একটা পরিবারের সূচনা হয় ।এই বিবাহ প্রথার মধ্যে আবার রয়েছে নানান প্রথা যেখানে পরিবারের সম্মতিতে কেউ বিয়ে করে ,আবার কেউ কেউ একে অপরকে ভালবেসে বিয়ে করতে দেখা যায়। রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে লিভ-টুগেদারের মতো রিলেশনশীপের অস্তিত্ব লক্ষণীয় যদিও তা যৎসামান্য হারে।এই তো গেল কিভাবে একটা পরিবার গঠন হয় তার নমুনা ।রোজকার দিনে চলাফেরা বা নানান আনুষাঙ্গিক কারণে এই ভালবাসা বা বিয়ের মাধ্যমে গড়ে উঠা সম্পর্কগুলোতে একটা আস্থাহীনতা বা অবিশ্বাসের আস্তরণ জমে। এই আস্তরণ গাঢ় হয়ে মূলত সমস্যাটা দেখা দেয়।

সম্প্রতি আমাদের সমাজে বিয়ে বহির্ভূত সম্পর্ক বা অনৈতিক কোন সম্পর্কের জেরে নারী পুরুষ একে অপরের সাথে বসবাস করার প্রবণতা লক্ষণীয়।এটা সামগ্রিক অর্থে সামাজিক নীতি বিরুদ্ধ একটা কর্মকান্ড।সমাজ বিশ্লেষক বা বিশারদরা এটা নিয়ে  বেশ উদ্বিগ্ন বলা যায়। একটা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে দেশের রাজধানী সহ বিভাগীয় শহরগুলোতে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যকে ডির্ভোস দেয়ার যে হার তা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। এই যে একে অপরকে ছেড়ে যাওয়ার মানসিকতা বা তাড়না তার পেছনে মুখ্য কারণ হলো স্বামী-স্ত্রীর বোঝাপড়ার অভাব।

আমরা দৈনিক পত্রিকা বা অনলাইন নিউজের বদৌলতে এই ধরনের খবর অহরহ পড়ছি। তাই সার্বিক অর্থে বলতে পারি পরকীয়া বা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ইদানীংকালে পরিবার প্রথার জন্য ক্যান্সার বনে গেছে। এই সমস্যাটা একদিনে বা হুট করে হই নি। এই যে বাজে একটা চর্চা বা প্রথা তা ক্রমশ আমাদের মাঝে এসে যেন ঝেঁকে বসেছে।

এই যে পরকীয়া বা তদসংশ্লিষ্ট ঘটনার বহুবিধ নেপথ্য কারণ থাকতে পারে যার মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য………..

স্বামী স্ত্রীর মতের অমিলঃ

দেশের অধিকাংশ বিয়ে হয় পরিবারের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তাই এখানে স্বামী স্ত্রী একে অপরকে জানার বা বোঝার সময় কোনটা পাই না। একটা সম্পর্কে থাকতে যেখানে মানসিক সমোঝতার দরকার সেখানে কোন কোন ক্ষেত্রে মানসিক অপরিপক্কতা বা বোধগম্যহীনতার কল্যাণে একটা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মনের বিরুদ্ধ আচরণ বা পরিবেশ নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য হুমকি। তাই একই সাথে থাকলেও দুজনে দুজনের সাথে দ্বিমুখী আচরণ করে।ফলাফল পারিবারিক অশান্তি আর অন্যকোন দিকে ধাবিত হওয়ার একটা সুযোগ থেকে যায়।

অর্থনৈতিক সমস্যাঃ

বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক মুক্তি হল পরম মুক্তি। আপনি আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতায় আছেন সুখপাখি আপনার কাছে এসে ধরা দিবে। যেখানে বলা হয় টাকায় নাকি বাঘের চোখ মেলে সেখানে আপনি আস্ত একটা বাঘও তো কিনে আনতে পারেন। পরিবার গুলো যেমন হোক না কেন প্রত্যেক পরিবারের একটা সীমাবদ্ধতা থাকে সেটা যদি আমরা আর্থিক মানদন্ডে মাপতে যায় তবে তা খুবই জটিল একটা বিষয়। মানুষের চাহিদা সবসময় সীমাহীন একটা রেখা ধরে ধাবিত হয়। তাই বাস্তবিক অর্থে আপনি পরিবারের রক্ষক হয়ে যদি আপনার অধীনস্ত সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তবে আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। এই আর্থিক জটিলতা বা দোটানা অনেকাংশে পারিবারিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য দায়ী। স্বামী যদি স্ত্রীর ভরণপোষণ বা নানাবিধ চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয় তবে পারিবারিক শৃঙ্খল ভেঙ্গে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। এই ধরনের ঘটনা হারহামেশাই ঘটছে আমাদের চারপাশে। এটা ঘর ভাঙ্গার কারণ যেমন তেমনি আবার পরকীয়ায় আসক্ত হওয়ার নিমিত্ত হতে পারে।

 

স্বাধীনতার কমতিঃ

নারীর উপর কর্তৃত্ব দেখানো বা প্রভাব খাটানোর যে মানসিকতা তা পুরুষের একটা সহজাত অভ্যাস। যদিও এই অভ্যাসটা ইদানীং পরিবর্তন হচ্ছে।

স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সাথে বসবাসের সে সামাজিক চুক্তি তাতে উভয়ের সমান অধিকার পাওয়াটা জরুরী। এক্ষেত্রে কোনভাবে যদি স্বামী বা কর্তার পক্ষ হতে নারী বা স্ত্রীর প্রতি একটা হস্তক্ষেপ বা নজরদারী যদি বেড়ে যায় তবে তা অনাকাঙ্খিত বটে। বনের পাখি যেমন খাঁচায় টিকবে না তেমনি মানব শিশু ও বনে টিকতে পারে না।

আমাদের পরিবারগুলোতে নজরদারীর বিষয়টা কোন কোন ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপের আওতায় পড়ে। এই আধুনিক যুগে বা সমাজে বসবাস করে আপনি একজন মানুষের অধিকার নিয়ে খেলতে পারেন না। তাই স্বামী-স্ত্রীর গন্ডি বা পরিবারের গন্ডি যেখানেই হোক না কেন কোন বাধা আসলে তা ভেঙ্গে বেড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা সবাই দেখাবে।

পারিবারিক মুল্যবোধ বা বিশ্বাস অটুট রেখে পর্যাপ্ত স্বাধীনতা নারী পুরুষ উভয়ের জন্য বহাল রাখা জরুরী।

 

পারিপার্শ্বিক পরিবেশঃ

আমরা একটা অণুকরণের রীতি বা সংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। আমদের দেশীয় কৃষ্টি কালচারের বাইরে গিয়ে ইউরোপীয় বা আমেরিকান ঘরানার যে মুল্যবোধ তা রপ্ত করাতে যেন আমরা তৎপর। এই বিষয়টা এখন আমাদের জন্য গলার কাঁটার মত বিঁধেছে। আমাদের আর্দশিক ভাবধারার সাথে সাংঘর্ষিক কিছু বিষয় যা পাশ্চাত্য হতে ধার করা তা মোটের উপর আমাদের সমাজ ব্যবস্থার মজ্জাটাই ভেঙ্গে দিচ্ছে। এইসব ওয়েস্টার্ন কালচারের চর্চার ফলে মানসিক যে বিকারগ্রস্থতা তা ধীরে ধীরে অস্তিত্বের জন্য হন্তারক। এই যেমন লেট নাইট পার্টি করা ,লীভ টুগেদারের মতো বিষয়গুলো সামাজিক ভাবধারার সাথে যায় না বললে চলে।

জৈবিক জীবনঃ

বিয়ে সামাজিক চুক্তি হলেও তার পরবর্তী শর্ত দাড়ায় জৈবিক চাহিদার বিনিময়ে সন্তান জন্ম দেয়া। এটা একটা অলিখিত শর্ত বলা চলে। মানুষের সুখের কোন মানদন্ড নেই তবে বিবাহ পরবর্তী জীবনে কে কতখানি সাবলীল তার পরিচয় বহন করে তাদের সুখী দাম্পত্য জীবন। অধিকাংশ সময়ে ফ্যান্টাসি বা মোহাচ্ছন্ন হয়ে কেউ অতিমাত্রায় উৎসাহী হয় বা কেউ কেউ নিরাসক্ত হয়ে জীবন যাপন করে। এক্ষেত্রে উপরিক্ত উপাদানগুলিও প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

আমাদের দেশে অন্য অনেক কারণের মতো এই যে জৈবিক জীবন বা সেক্স লাইফ সম্পর্কিত সমস্যার ঘটনা নিয়ে ডির্ভোস বা বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা আলোচনায় আসে না। তবে এই বিষয়টা কোন না কোনভাবে নেপথ্য কারণ বলে বিবেচিত হতে পারে।

মোহাবেশঃ

চাকচিক্যময় জীবনের হাতছানি আর কৌতুহলের বশে অনেক সময় সুস্থ স্বাভাবিক জীবনকে কঠিন আর দুর্বোধ্য মনে হয়। বিদেশী সংস্কৃতির অন্ধ অণুকরণ বা গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানো যেমন আছে তেমনি মাদকাসক্তি,স্টারডম,স্বেচ্ছাচারিতার মত বিষয়ও কারণ বনে যেতে পারে স্বামী বা স্ত্রী যে কারোর পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়ার।

 

জীবনের অর্থ উপলব্ধীতে ব্যর্থঃ

অনেকসময় দেখা যায় সন্তানের মা-বাবা হওয়ার পরও কোন নারী বা পুরুষ ভিন্ন জনের সাথে সম্পর্কে জড়ায়। এটা নিজের কামনা বাসনাকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য হলেও প্রকরান্তরে তা দ্বারা নিজের দায়িত্ব হতে সরে আসাকে ইঙ্গিত করে। যে সন্তানের বাবা-মা হয়ে একটা অনৈতিক সম্পর্কের জেরে নিজের সন্তানকে বিপদগ্রস্থ করে তোলে সে আর যাই হোক নিদানপক্ষে মনুষ্যত্ব অর্জন করতে পারে নি।

সম্প্রতি দেখেছি পরকীয়ার জেরে নিজের কোলের শিশুকে বলিদান করেছে নিষ্ঠুর মা-বাবা। ক্ষণস্থায়ী জীবনে নিছক একটা কামনার তৃপ্তির লক্ষ্যে নবজাতককে খুন করার মতো ঘটনা ঘটছে। অপরদিকে ভালবাসার মানুষের সাথে প্রতারণা ও পরিবার পরিজন সবার বিরুদ্ধে গিয়ে একটা ভিন্ন পরিস্থিতিতে নিয়ে যায় নিজের জীবনকে।এখানে অনেক সময় কাঙ্খিত সুখ অর্জিত হয় না বরং মেনে নিতে হয় অযাচিত দুঃখ কষ্টকে।

সর্বোপরি একটা ভালবাসা বা বিশ্বাসের মোড়কে যে পথচলা তাতে যদি কোনভাবে অবিশ্বাসের মতো ঘুণেপোঁকা বাসা বাঁধে তা মুহর্তেই ভেস্তে যায়। পরকীয়া মূলত স্বামী স্ত্রীর একে অপরের প্রতি অবিশ্বাসের দেয়ালে জন্ম নেয়া ভাইরাসসম কিছু। এই যে বোঝাপড়া বা অবিশ্বাসের রীতি তা বন্ধ করতে হবে প্রতিটা সৃষ্ট সমস্যা নিজেদের একটা স্বাভাবিক গন্ডিতে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। কোন কাঙ্খিত বা অলক্ষ্যের কিছুর জন্য তো আমরা পারিপার্শ্বিকতাকে নিয়ত কলুষিত করতে পারি না।

সম্প্রতি পরকীয়ার জেরে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক কোন ঘটনা আমাদের বিবেককে একটু হলেও নাড়া দিয়েছে। কোন সন্তানের কাছে বাবা-মা যেন মূর্তিমান আতংকের প্রতিচ্ছবি বনে না যায়।

তাই পরকীয়ার জেরে প্রতিনিয়ত আপনি আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটা খারাপ শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান সময়ে আমাদের সচেতন ও আধুনিক নারী পুরুষ সকলকে সোচ্চার হতে হবে। আগামীর সুন্দর পথচলায় সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে আপনার আমার সকলের যেন সম্পুরক  অবদান থাকে।