ওই চিনস আমারে?

Now Reading
ওই চিনস আমারে?

এই লেখাটির শিরোনাম কোনো বাংলা সিনেমার ডায়লগ থেকে নেয়া নয়। এটা আমাদের দেশের অনেক মানুষের মুখে ইদানীং প্রায়শই শোনা যায়। নিজের ক্ষমতা জাহির করার জন্য কিংবা অন্যকে ভয় দেখানোর জন্য এই ধরনের সিনেম্যাটিক ডায়লগ দেয় আমাদের সমাজের কিছু মানুষ। তাদের নিয়েই আজকের এই লেখা।

আমাদের দেশে এখন শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বেশি শিক্ষিত ও ধনী ব্যক্তি এখন আমাদের দেশে বিরাজমান। এছাড়াও দেশের বাইরেও অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষজন রয়েছেন। এদের মাঝে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা নিজেদের পেশি শক্তি দেখিয়ে কেমন যেন একটা পৈশাচিক আনন্দ পান। একজন রিকশা চালকের গালে সামান্য কয়টা টাকার জন্য চড় বসিয়ে দিতেও দ্বিধাবোধ করেন না। কিংবা নিজের গাড়ি দিয়ে রাস্তায় চলতে থাকা রিকশাটাকে ধাক্কা দিতেও এতটুকু বুক কাঁপে না। নিজে রাস্তার ভুল সাইড দিয়ে গাড়ী চালিয়ে গিয়ে আবার নিজেই সামনে থাকা মানুষ বা যানবাহনের চালকদের উপর চড়াও হন। ভাবখানা এমন থাকে যেন রাস্তা তার বাবার তৈরি। শুধু সে নিজেই চড়বে। এ তো গেলো শুধু রাস্তার কথা। ব্যবসা , চাকরি কিংবা স্কুল-কলেজেও এ ধরনের মানুষ বর্তমানে সয়লাব। কেন এই নৈতিক অবক্ষয়?

হয়তোবা মাত্রাতিরিক্ত টাকা আর নয়তো সুশিক্ষার অভাব। যেটাই হোক মানুষের নিজস্ব কিছু নীতি থাকাও উচিত। মানুষকে আজ মানুষ বলে মনে করা হয় না বলেই সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে আমাদের সবার অগোচরে।

যদি এই ধরনের আচরণের কারণ হয় টাকা তাহলে তো এমন নিয়ম করতে হবে যেন কেউ বড়লোক বা বিত্তবান না হন। যা সম্ভবপর নয় এবং হাস্যকর। আর সকল বিত্তবানই কি এক রকম? না তা নয়। আমরা সকলেই জানি যে, বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। অনেক মানুষই গত ১০-১৫ বছরে বিশাল অংকের টাকার মালিক হয়েছেন। নিজের কাজের জায়গায় উন্নতি করেই হোক আর দুর্নীতি করেই হোক টাকা ঠিকই তাদের হাতে এসেছে। সমস্যাটা তাদের নিয়েই যারা এই আলগা টাকার গরম সহ্য করতে পারেন না। টাকা হাতে আসতে না আসতেই তারা নিজেরদেরকে লাগামহীন মনে করা শুরু করেন। আশেপাশের মানুষ তখন তাদের কাছে তুচ্ছজ্ঞানহীন হয়ে পড়ে। এমনকি তাদের নিজের পরিবারের মানুষগুলোও। বিষয়টা পরিষ্কার করার জন্য একটা ঘটনার অবতারণা করা যাক।

মনে করুন, আপনি ও আপনার ছেলে বা ভাগ্নে বা ভাতিজা আপনার নতুন কেনা গাড়িতে যাচ্ছেন। কোনো সরু রাস্তা ক্রস করার সময় একটা রিকশা আপনার গাড়িতে ধাক্কা দিলো। আপনার নতুন গাড়ির একটু দাগ পড়লো। কি করবেন আপনি সেই মুহূর্তে? স্বাভাবিকভাবে দেখা যায় তো শতকরা ৯৯ জন মানুষই ওই রিকশা-চালকের গায়ে হাত তুলবেন। এমনকি একটা রক্তারক্তি কান্ডও ঘটিয়ে ফেলতে পারেন। আর মুখ থেকে যে সুমধুর বাক্য ক্রমাগত বের হবে তা গালি বলেই আমাদের সমাজে পরিগনিত হয়। কিন্তু এসব করার আগে একবারও কি খেয়াল করেছেন যে আপনার পাশে কে বসে আছে? সে আপনার ভবিষ্যত প্রজন্ম। আপনার পরিবারের মান সম্মান তার হাতে থাকবে ভবিষ্যতে। তার তখনকার আচরণ বলে দিবে যে আজকে আপনি তাকে কি শেখাচ্ছেন। অনেকটা সেই ছোটবেলায় পড়া প্রবাদ বাক্যটির মত, “ব্যবহারেই বংশের পরিচয়”। ছোটদের মন হয় কাঁদার মত। তাতে যেকোনো কিছুই খুব ভালোভাবে ছাপ ফেলে যায়। বিশেষ করে খারাপ কথা অথবা খারাপ ব্যবহার তারা বেশি মনে রাখে। আপনি যখন সেই ছোট বাচ্চাটির সামনে আপনার বাবার বয়সী কিংবা তাঁর চেয়েও বয়সে বড় মানুষকে গালি দিচ্ছেন অথবা তাঁর গায়ে হাত তুলছেন তখন একবারও কি ভেবে দেখেছেন ওই বাচ্চাটার মনে সেটা কি প্রভাব ফেলছে? সে কি শিখছে? হ্যাঁ মানছি আপনার গাড়ির ক্ষতি হয়েছে। হয়তোবা ওই দাগ আর কোনোদিন গাড়ি থেকে যাবেই না। কিন্তু আপনি যে দাগ ওই বাচ্চাটির মনে ফেলে দিলেন সেটাও কি আর কোনোদিন মুছে যাবে? সে দেখছে যে রাস্তার মাঝে আপনি নিজের ক্ষমতা জাহির করছেন। ক্ষণে ক্ষণে হয়তোবা এটাও বলছেন, ‘ওই আমারে চিনস? কার গাড়িতে ধাক্কা দিছোস ওইটা জানোস?’ ইত্যাদি।

কিন্তু ব্যাপারটা কি অন্যভাবে সমাধান করা যেত না? এভাবে চিৎকার করে কিংবা মারামারি করে নিজের মান সম্মানটা নষ্ট না করে ভদ্রভাবেও কিন্তু এই ধরণের পরিস্থিতি সামলানো যায়। তাতে করে ওই বাচ্চাটিও শিখতো যে গন্ডগোল বা গালি-গালাজ না করেও সমস্যার সমাধান করা যায়। কথায় আছে, শিক্ষিত মানুষ সব সময়ই তার শিক্ষার পরিচয় দেন। এটা আপনারও করা উচিত একজন শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে। কারণ, আপনাকে দেখে সমাজের আরো পাঁচটি বাচ্চা শিখছে। এটা আপনার দায়িত্ব যাতে সে আপনার দ্বারা খারাপ কিছু না শিখে বড় হয়।

অনেকেই আবার প্রায়শই বলেন, ‘অমুক এমপি আমার এই লাগে। অমুক পুলিশ কমিশনার আমার মামা বা মামার বন্ধু’। এসব বলে আপনি কি বোঝাতে চাচ্ছেন? আপনার অনেক ক্ষমতা আছে নাকি আপনার অনেক ক্ষমতাধর মানুষের সাথে উঠা বসা আছে। বাস্তবিক অর্থে, আপনার নিজের বলে তাহলে কিছুই নেই। আপনি যেটা করছেন পুরোটাই ‘পরের ধনে পোদ্দারি’ করার মত ব্যাপার। আপনার নিজের কি যোগ্যতা আছে সেটা ভেবে দেখুন তো। যাদের নাম নিয়ে আপনি এত কিছু বলছেন তারা তাদের নিজেদের যোগ্যতায় আজকে ওই পর্যায়ে গিয়েছে। আজকালের দিনে অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর দ্বারা অনেক নামী দামী মানুষের সাথেই সাধারণ মানুষের সম্পর্ক স্থাপিত হচ্ছে। অনেকের সাথে খুব ঘনিষ্ঠতাও বাড়ছে। তার মানে তো এই নয় যে সবাই সেই সম্পর্ক গুলোর সুযোগ নেবে। চাটুকারিতা কোনো সম্পর্ককেই টিকিয়ে রাখতে পারে না।

আজ এই একবিংশ শতাব্দীর যুগে আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছি। হয়তোবা অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে আমরাও উন্নত দেশের তকমা গায়ে লাগাবো। তখনও কি এই আচরণগুলো আমরা আশা করব আমাদের সমাজের মানুষগুলোর কাছ থেকে। নিশ্চয়ই না, আর তাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের সময় এখনই। নয়তো অন্য কোনো দেশের কিছুই হবে না, শুধু মূল্যবোধ ও আত্মসম্মানের যে ক্ষতি হবে সেটা আমাদেরই হবে। জাতি হিসেবে আমাদের হয়তোবা অনেক সম্পদ থাকবে কিন্তু সম্মানের ঝুলিটা শূন্যই থেকে যাবে।

একটি অসাম্প্রদায়িকতার নিদর্শনঃ নয়াবাদ মসজিদ

Now Reading
একটি অসাম্প্রদায়িকতার নিদর্শনঃ নয়াবাদ মসজিদ

আমাদের বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে অবস্থিত দিনাজপুর জেলা। এখানে বছরের প্রায় সময়েই প্রচুর পরিমাণে পর্যটকের আনাগোনা লেগেই থাকে এই জেলার প্রত্নত্বাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো দেখার জন্য। কান্তজিউ মন্দির, রামসাগরের পাঁড় কিংবা শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত পুরোনো রাজবাড়ী ও মন্দির এগুলোই বেশির ভাগ পর্যটককে আকর্ষণ করলেও শহর থেকে মাত্র ২২ কি.মি. দূরে নয়াবাদ গ্রামের মুঘল আমলে নির্মিত মসজিদটিও এখন বেশ সমাদৃত।

তৎকালীন সময়ে এই বাংলার জনপদ দিনাজপুরের জমিদার রাজা রামনাথ কান্তজিউ মন্দির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৮ শতকের শুরুর দিকে এই নির্মাণকাজ শুরু হয়। সে সময় মুঘল সম্রাট ছিলেন দ্বিতীয় শাহ আলম। জমিদার রামনাথ সে সময়ের সবচেয়ে নামকরা রাজমিস্ত্রিদের বিভিন্ন দেশ থেকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে আসেন এই মন্দির নির্মাণের জন্য। এর মধ্যে অনেকেই ছিলেন সুদূর পারস্যদেশ (বর্তমান ইরান) থেকে আগত। যাদের পূর্ব পুরুষগণ অনেকেই তাজমহলের নির্মাণকর্মী ছিলেন।

এই মন্দির নির্মাণকালে একদিন জমিদার রামনাথ আসেন নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণের জন্য। সে সময় তিনি লক্ষ্য করলেন পারস্যদেশ থেকে আগত মুসলমান নির্মাণকর্মীরা নামাজ পড়ার জন্য উপযুক্ত স্থান পাচ্ছে না। যেহেতু মন্দির নির্মাণ কাজ চলছে তাই সেখানে বা তার আশেপাশে কোনো পরিষ্কার জায়গা না থাকায় তাদের নামাজের অসুবিধা হচ্ছে। আবার মন্দিরের উলুধ্বণি, ঘণ্টার শব্দও তাদের নামাজ ব্যাহত করে মাঝে মাঝে। তাই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেন এমন একটি জায়গা খুঁজে বের করতে যেখান থেকে মন্দির খুব বেশি দূরে নয় আবার মন্দিরের ঘণ্টার শব্দ মসজিদ থেকে কিংবা মসজিদের আযানের শব্দ মন্দির থেকে শোনা যাবে না। তেমনই একটি জায়গায় নির্মাণ করা হয় এই নয়াবাদ মসজিদ।

কান্তজিউ মন্দির থেকে ৪ কি.মি. দূরে নির্মাণ করা হয় এই মসজিদ। এটি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার মাঝে অবস্থিত। ছোট্ট আর ছিমছাম এই মসজিদের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ‘ঢেপা’ নামের একটি ছোট নদী। প্রায় ১.১৫ বিঘা জমির উপর নির্মাণ করা হয় এই মসজিদটি। এই মসজিদকে ঘিরেই সেই নির্মাণ কর্মীরা এই এলাকায় থাকতে শুরু করেন। এর ফলে পরবর্তীতে এই এলাকার নামই হয়ে যায় ‘মিস্ত্রীপাড়া’। এখানে যাওয়ার পথে রাস্তার দু’ধারে দেখা যায় অসংখ্য ফলের বাগান। যা আপনাকে যাত্রাপথে দিয়ে যাবে সবুজের ছোঁয়া।

মসজিদটির স্থাপত্য কৌশল তৎকালীন সময়ের অন্যান্য স্থাপত্যের মতই। তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদের মূল আকর্ষণ এর দেয়াল জুড়ে অসাধারণ সব কারুকাজ। ফুল ও বিভিন্ন গাছের পোড়ামাটির নকশা করা টেরাকোটা সমৃদ্ধ এই মসজিদটি এক অপরূপ মোহ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বছরের পর বছর। মসজিদের চার কোণায় চারটি অষ্টভুজ মিনার দাঁড়িয়ে আছে। যা একে আরও সৌন্দর্যমন্ডিত করেছে। মসজিদের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ১.১০ মিটার। এর উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে জানালা আছে। আবার পশ্চিম দেয়ালে ৩টি মিনার আছে যেগুলো মসজিদের প্রবেশদ্বার বরাবর নির্মাণ করা হয়েছে। মাঝখানের মিনারটি অন্য দুটি মিনার থেকে একটু বড়। প্রায় ১৩০ মিটার উঁচু আর প্রস্থ ১.০৮ মিটার। সময়ের জাঁতাকলে মসজিদের অনেক কারুকাজই প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। অনেক টেরাকোটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল বা ভেঙ্গে পড়ছিল। আর মাত্র ১০৪ টি টেরাকোটা অবশিষ্ট ছিল। এই টেরাকোটাগুলো আয়তাকার এবং আকার ০.৩০ মিটার থেকে ০.৪০ মিটার। এমতাবস্থায় প্রত্নত্বাত্ত্বিক বিভাগ এটি সংস্কারের উদ্যোগ হাতে নেয় এবং এর পুরনো জৌলুস ফিরে আসে। এছাড়াও এই মসজিদের সামনে এখন ফুল ও ফলের বাগান করা হয়েছে। বসার জন্য টালীর ঘর করা হয়েছে যা এই স্থানটিকে আরও বেশি দর্শনীয় করে তুলেছে। পুরনো কিছু গাছের চারপাশে বসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। প্রায় প্রতি মাসেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নত্বাত্ত্বিক বিভাগের শিক্ষার্থীরাও এই স্থাপত্যশিল্প দেখতে আসে।

এই মসজিদের চারপাশে বেশ কয়েকটি কবর রয়েছে। উক্ত এলাকায় কথিত আছে যে, ওই কবরগুলো সেই নির্মাণকর্মীদের যারা এই মসজিদ ও কান্তজিউ মন্দির নির্মাণ করেন। বর্তমানে মসজিদের আশে পাশের এলাকায় তাদের বংশধরদের বাড়িঘর রয়েছে।

আজকের যুগে অনেক জায়গাতেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ফ্যাসাদ হয়। এতে অগণিত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আজো অনেক মানুষই আছেন যারা অন্য ধর্মের মানুষকে বিশ্বাস করতে পারেন না, তাদের সাথে চলতে কিংবা কথা বলতে অপছন্দ করেন। অনেক সময় অন্যের ধর্মকে নিয়ে মজাও কুড়ান। অথচ আজ থেকে শত শত বছর আগে যে ইট, বালু, চুন আর সুরকী দিয়ে একদল হিন্দু ও মুসলমান নির্মাণকর্মী দ্বারা একটি মন্দির নির্মিত হয়েছিল সেই একই ইট, বালু, চুন আর সুরকী দিয়ে এই মসজিদটিও নির্মিত হয়েছিল। তারা একবারও মনে করেননি আমি কেন অন্যের পূজার বা নামাজের জায়গা তৈরির জন্য কাজ করব। তারা আমাদের মত শিক্ষিত ছিলেন না। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এত জ্ঞান আর এত নামী দামী প্রযুক্তিও তাদের ছিল না কিন্তু একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, আন্তরিকতা আর ভ্রাতৃত্ববোধ ঠিকই ছিল। যার সাক্ষী হয়ে আজো দাঁড়িয়ে আছে শতাব্দী পুরনো এই ‘নয়াবাদ মসজিদ’।

 

চার্জ নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর করবে ডায়মন্ড ব্যাটারি

Now Reading
চার্জ নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর করবে ডায়মন্ড ব্যাটারি

মুঠোফোন বা মোবাইল ব্যবহার করেন না এমন মানুষ বোধহয় এযুগে আর পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। আর প্রায় প্রতিদিনই লক্ষ লক্ষ মানুষ এই মোবাইল ফোন কিনছেন। এই মোবাইল কেনার সময় সব সচেতন ক্রেতাই একটা জিনিসের প্রতি বেশি মনোযোগ দেন আর সেটা হলো ব্যাটারীর চার্জ। যে ব্র্যান্ডের মোবাইলে যত বেশি চার্জ থাকে সেই ব্র্যান্ডের মোবাইলটি তত দ্রুত বাজারে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
আবার অনেকেই চার্জ নিয়ে অনেক বিড়ম্বনায় পরেন। বার বার ব্যাটারি পরিবর্তনের ঝামেলাও পোহাতে হয়। অদূর ভবিষ্যতে এই সমস্যাগুলো থেকে স্থায়ী মুক্তি দিতেই ‘ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিস্টল’ নিয়ে এসেছে ‘ডায়মন্ড ব্যাটারি’ এর ধারণা। আজ এই ব্যাটারি নিয়ে কিছু কথা বলা।

গত ২৫শে নভেম্বর ২০১৬ কেবট ইনস্টিটিউট এর ‘উইলস মেমোরিয়াল বিল্ডিং’ এ বার্ষিক বক্তৃতায় এই ব্যাটারির ব্যাপারে আলোচনা করেন উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকগণ। এই ব্যাটারিটি নিউক্লিয়ার রিয়াক্টরে নিউট্রন মোডারেটর হিসেবে ব্যবহৃত গ্রাফাইট ব্লকের রেডিও আক্টিভিটি দিয়ে চলবে। আর তার ফলে এর চার্জের লাইফটাইম অনেক বেড়ে যাবে। ভাবছেন কতটাই বা বাড়বে? যদি বলি আপনার মোবাইলে কোনওদিন আর চার্জ দিতে হবে না তবে কি সন্তুষ্ট আপনি? হ্যাঁ, এমনটাই বলছেন গবেষকরা।

এই ব্যাটারিতে ‘সিনথেটিক ডায়মন্ড’ বা ‘আর্টিফিশিয়াল ডায়মন্ড’ ব্যবহৃত হবে। যেটি বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে যদি তাকে কোনও রেডিও একটিভ ফিল্ডে স্থাপন করা হয়। এই ধরণের বৈশিষ্ট্যের জন্য একে রেডিও একটিভ সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে আয়োনাইজ বা চার্জবাহী করে স্বল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যাবে যা দিয়ে একটি মোবাইল অনায়াসে চলবে বছরের পর বছর। সংখ্যার বিচারে একবার ফুল চার্জ হওয়া মোবাইল ৫০% চার্জ শেষ করবে ৫,৭৩০ বছরে। তার মানে আপনার জীবদ্দশায় আপনি একটি মোবাইলের চার্জ শেষ করতে পারবেন না।

এখন আসা যাক এর মূল উপাদানের আলোচনায়। কমবেশি আমরা সকলেই জানি যে , ডায়মন্ড বা হীরা কার্বনের একটি রূপ। এর মধ্যে কার্বন-১৪ অনেক বেশি রেডিও এক্টিভ বলে গবেষকরা এটিকেই বেশি ব্যবহারের চেষ্টা করে যাচ্ছেন ‘সিনথেটিক ডায়মন্ড’ তৈরির জন্য। এছাড়াও এটির বেটা রশ্মি উচ্চ মানের শক্তি নির্গত করে। এই বেটা রশ্মির গড়পড়তা শক্তি ৫০ কিলো ইলেক্ট্রো ভোল্টের সমান। মূলত এই কার্বন-১৪ কে ব্যাটারির মূল উৎস হিসেবে  নেওয়ার কারণ হলো এর বেটা রশ্মি যা খুব সহজেই যে কোনো সলিড উপাদানের সাথে মিশে যায় বা শোষিত হয়। যার ফলে এটির রেডিয়েশন ডায়মন্ডের উপরের আস্তরণ ভেদ করে বেরিয়ে আসবে না। পুরোটাই এর ভিতরে থেকে যাবে। যা একে অনেক নিরাপদ করেছে মানুষের ব্যবহারের জন্য।

এই কার্বন-১৪ পাওয়া যাবে নিউক্লিয়ার রিয়াক্টরের গ্রাফাইট ব্লক থেকে। আমাদের বর্তমান বিশ্বে উন্নত দেশগুলোর মাথা ব্যথার কারণ তাদের নিউক্লিয়ার বর্জ্য। যা সহজে নষ্ট হয় না। এই ব্যাটারি তৈরিতে এখন এসব বর্জ্য ব্যবহার করা যাবে। গ্রাফাইট ব্লক থেকে মাত্র ৩৯১৫ কেলভিন তাপমাত্রা বা ৩৬৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োগের মাধ্যমে খুব সহজেই কার্বন-১৪ আলাদা করা যায়। এরপর এই কার্বন থেকেই তৈরি করা হয় ‘আর্টিফিশিয়াল ডায়মন্ড’। এই বিশেষ ডায়মন্ড ‘বেটাভোল্টিক ডিভাইস’ হিসেবে কাজ করে এবং চার্জ উৎপন্ন করে। এভাবে একটি ব্যাটারিতে যত বেশি সংখ্যক ডায়মন্ড ব্যবহার করা সম্ভব হবে তত বেশি চার্জ উৎপন্ন হবে। এই বেটাভোল্টিক ব্যাটারি কোনো ধরনের কয়েল অথবা মটর এর তৈরি নয় যার ফলে এটির স্থায়ীত্ব  অনেক বেশি অন্যান্য ব্যাটারীর তুলনায়। আর যেহেতু এটি ডায়মন্ডের তৈরি তাই অনেক বেশি শক্ত বা মজবুত। পড়ে গেলে বা চাপ লাগলে ভাঙার সম্ভবনাও নেই। আমাদের বর্তমান সময়ে ব্যবহৃত লিথিয়াম এর ব্যাটারির চেয়ে এর শক্তি অনেক বেশি। যেখানে একটি ২০ গ্রামের নন-রিচার্জবল ব্যাটারি ১৩০০০ জুল শক্তি উৎপন্ন করে মাত্র ২৪ ঘন্টা এর মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায় সেখানে মাত্র ১ গ্রাম কার্বন-১৪ দ্বারা নির্মিত ডায়মন্ড ব্যাটারি ১৫ জুল শক্তি উৎপন্ন করে কিন্তু কখনোই শেষ হয় না। একে বার বার চার্জ দেবার প্রয়োজন নেই। শুধু মোবাইল এর জন্যই নয় বরং বিভিন্ন মেডিকেল যন্ত্রেও এটি ব্যবহার করা যাবে, যেমন পেসমেকার। যার ফলে পেসমেকার বার বার পরিবর্তন করতে হবে না। বিভিন্ন স্পেসক্রাফট ও স্যাটেলাইটেও এটি ব্যবহার করা যাবে।

সর্বশেষ আশা যাক এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  ভুমিকাতে। বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে উন্নত দেশগুলোর নিউক্লিয়ার বর্জ্য। যেগুলো হাজার বছরেও নষ্ট হয় না, মাটিতে মিশে যায় না। বরং পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি করছে। এই সমস্যার সমাধান দিতে পারবে এই ব্যাটারি। কারণ, এর তৈরির জন্য যে গ্রাফাইট ব্লক ব্যবহৃত হয় তা মূলত নিউক্লিয়ার বর্জ্য। সেগুলোকে কাজে লাগানো মানে পরিবেশের জন্য সুখবর। সর্বোপরি আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এক অনন্য আবিষ্কার এই ‘ডায়মন্ড ব্যাটারি’। যা আমাদেরকে এক অফুরন্ত শক্তির আধার উপহার দিতে চলেছে। দূর করে দেবে চার্জ নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তা। আমাদের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসগুলো পাবে এক নতুন মাত্রা।

টাইটানিক এর ইতিকথা

Now Reading
টাইটানিক এর ইতিকথা

ইতিহাসের পাতায় এতটা চর্চা আর কোনো জাহাজকে নিয়ে হয়নি যতটা হয়েছে এই টাইটানিককে নিয়ে। কারণটা বোধহয় সেই কালজয়ী চলচ্চিত্রটির জন্য। কিন্তু সেই চলচ্চিত্রের দৃশ্যমান জগতের বাইরেও রয়েছে অজানা এক টাইটানিক। সেইসব টুকিটাকি নিয়েই আজকের এই লেখা।

‘হোয়াইট স্টার লাইন’ নামক কোম্পানির অর্ডারে এই টাইটানিক নির্মাণ করে বেলফাস্টের ‘হারল্যান্ড অ্যান্ড উলফ শিপইয়ার্ড’। ‘টাইটানিক’ নামটি আসে গ্রীক দেবতা টাইটানের নাম থেকে। এটা ছিল জাহাজটির সংক্ষিপ্ত নাম। পুরোনাম ছিল ‘আর এম এস টাইটানিক’ বা ‘রয়েল মেল স্টিমার টাইটানিক’। এর দৈর্ঘ্য ৮৮২ ফুট ৯ ইঞ্চি আর প্রস্থ ৯২ ফুট ৬ ইঞ্চি। উচ্চতায় ছিল ১৭৫ ফুট। ততকালীন সময়ে এটি ছিল সবচেয়ে বড় আর বিলাসবহুল জাহাজ। টাইটানিক জনসম্মুখে প্রথম আসে ৩১শে মে ১৯১১ তে। জাহাজটি নির্মাণ করতে খরচ হয় ৭.৫ মিলিয়ন ডলার, যা বর্তমান সময়ের হিসাবে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের সমান।

নির্মাণকালের শুরু থেকেই এই জাহাজকে নিয়ে মানুষের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল এর বিপণন কোম্পানি। এমনকি তারা টিকেট এর গায়ে প্রচারের জন্য লিখেছিল, “স্বয়ং ঈশ্বরও যাকে ডোবাতে পারবে না” ধরনের শ্লোগান। এ ধরনের শ্লোগান আর টিকিটের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে থাকায় প্রচুর নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষ আমেরিকায় যাবার স্বপ্ন দেখেছিল। আবার ‘অলিম্পিক ক্লাস’ এর বিলাসবহুল বলে তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী তিন ব্যক্তি স্বপরিবারে সে জাহাজের প্রথম যাত্রার টিকেট কেটেছিলেন। প্রথম শ্রেণির টিকিটের মূল্য ছিল ৩১০০ ডলার আর ৩য় শ্রেণির জন্য ছিল মাত্র ৩২ ডলার। সাউদাম্পটনের ৪০১ নং ইয়ার্ড থেকে প্রথম যাত্রার দিনটি ছিল ১০ই এপ্রিল ১৯১২।

শুধু আকৃতি বা বিলাসিতার দিক দিয়ে নয়, গতির দিক দিয়েও এটি সেই সময়ের সেরা জলযান ছিল। প্রায় ২৪ নটিক্যাল বা ৩৯ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় ছুটে চলত এই জলদানব। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কাছে হার মেনে তাকেও ডুবতে হয় মহাসমুদ্রের অতল গহ্বরে। উত্তর অ্যাটলান্টিক সাগরে ১৯১২ সালের ১৫ই এপ্রিল রাতে একটি আইসবার্গের সাথে রহস্যজনক ভাবে ধাক্কা খায় এই জাহাজটি। ধাক্কা লাগার প্রায় ২ ঘন্টা ৪০ মিনিট পর একেবারে তলিয়ে যায় জাহাজটি। তখন প্রায় সাড়ে তিন হাজারের মত মানুষ এই জাহাজটিতে অবস্থান করছিল। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হলো, এতো বড় বিলাসবহুল জাহাজের লাইফবোট ছিল মাত্র ২০টি যা বড়জোর ১১৭৮ জনকে বাঁচাতে সক্ষম। যা মোট যাত্রীর তিন ভাগের এক ভাগ। অনেকেই এই জাহাজডুবির ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে মনে করেন। কারণ, এই জাহাজডুবির ঘটনা বিশ্বে বিপুল পরিবর্তন এনেছে। বিশেষত ফেডারেল ব্যাংক অব আমেরিকা প্রতিষ্ঠা করা সহজ করে দেয় এই জাহাজডুবি। নিম্নবিত্ত মানুষের আর্থিক সমস্যার কথা চিন্তা করে এই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী যে ব্যক্তিরা বারবার ভেটো দিয়ে আসছিলেন তাদের প্রত্যেকেই স্বপরিবারে এই দুর্ঘটনায় সলিল সমাধি হয়। যার ফলাফল স্বরুপ আজো যুক্তরাষ্ট্রকে ফেডারেল ব্যাংকের উপর অর্থের জন্য নির্ভর করতে হয়। এতো ক্ষমতাধর রাষ্ট্র হওঁয়া সত্ত্বেও তাদের নিজস্ব রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কোনো ব্যাংক নেই।

এবার আরো কিছু মজার তথ্য দেয়া যাক। এই জাহাজটির যে আর্কিটেক্ট থমাস এন্ড্রু তিনিও এই জাহাজডুবিতে মারা যান। জাহাজের ডিজাইন সংক্রান্ত সব কাগজপত্র তার সাথে থাকায় সেগুলোও সাগরের অতলে হারিয়ে যায়। এর ফলে অনুসন্ধান করার মত তেমন কোনো নথিপত্র অবশিষ্ট ছিল না। এতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও তাদের লাইফবোট এ তোলা হয়নি। কারণটা, আজো অজানা। এছাড়াও এই জাহাজের মুখ্য প্রপেলারটি ছিল অন্য জাহাজের ব্যবহৃত ভাংগা প্রপেলার যা পরবর্তীতে মেরামত করা হয় এবং টাইটানিক এ ব্যবহার করা হয়। আইসবার্গের সাথে ধাক্কা খাওয়ার আগেও একবার ‘এসএসসিটি অব নিউইয়র্ক’ জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার উপক্রম হয়েছিল টাইটানিকের কিন্তু মাত্র চার ফুট দূরত্বের জন্য বেঁচে যায়। দুর্ঘটনার আগের দিন দুপুরের দিকে ‘America’ নামক জাহাজ থেকে রেডিওর মাধ্যমে জানানো হয় যে সামনে একটি আইসবার্গ আছে। এছাড়াও ‘মেসাবা’ নামের আরো একটি জাহাজ থেকেও একই বার্তা টাইটানিক এ আসে। কিন্তু টাইটানিকের রেডিও যোগাযোগের দায়িত্বে থাকা জ্যাক পিলিপস আর হ্যারল্ড ব্রীজ সেগুলোকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন। মূলত তাদের এই দায়িত্বহীনতার ফলাফল এই জাহাজডুবি।

আর ভাগ্যও সেদিন টাইটানিকের সাথে ছিল না। নইলে এমন অংশেই আইসবার্গের সাথে ধাক্কা লাগে যার ফলে পানি প্রতিরোধের ১২টি গেটই বিকল হয়ে পড়ে। যেখানে বড়জোড় ৪টি পানিপূর্ণ কম্পারটমেন্ট নিয়ে ভাসতে পারতো সেখানে ৫টি কম্পারটমেন্ট এ পানি ঢুকে পড়েছিল। ১৫ তারিখ মধ্যরাতে লাইফবোটগুলো পানিতে নামানো হয়। এতে কিছু সংখ্যক মানুষ বেঁচে যায়। টাইটানিক চারিদিকে নিয়মিতভাবে বিপদসংকেত প্রেরণ করতে থাকে। সেসময় টাইটানিকের সবচেয়ে কাছের জাহাজ ছিল ‘Carpathia’ যেটা ৯৩ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আসতে সময় লেগেছিল ৪ ঘন্টা। এছাড়াও ‘মাউন্ট ট্যাম্পল’, ‘ফ্রাঙ্কফুর্ট’ এবং ‘অলিম্পিক’ সেই বিপদসংকেত পায়। তবে অনেক বেঁচে যাওয়া যাত্রীর মতে জাহাজ থেকে নিকটবর্তী দূরত্বে একটা জাহাজের আলো দেখা যায়। যার পরিচয় আজো রহস্যে ঘেরা। অনেকের মতে সেটি ছিল ‘Sampson’ নামক জাহাজ। ধ্বংসের মুখে থাকা টাইটানিক থেকে অনেক ওয়ারলেস এর মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জরুরী রকেট পর্যন্ত ছোঁড়া হয় কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এভাবেই প্রায় ১৫০০ যাত্রীর মৃত্যু হয় এই দুর্ঘটনায়। টাইটানিক যে জায়গায় ডুবে যায় তার নাম ‘দ্যা গ্রেট ব্যাংকস অফ নিউফাউন্ডল্যান্ড’। বেশিরভাগ লোকই প্রাণ হারিয়ে ছিল অতিরিক্ত ঠান্ডায়। কারণ, তখন পানির তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা মাইনাস ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ তাপমাত্রায় মানুষ ১৫ মিনিটের ও কম সময়ে মারা যায়। সুতরাং পানিতে থাকা অধিকাংশ মানুষই মারা যায় কিছু সাহায্য পাবার আগেই। বিশেষত নারী ও শিশুরা।

৭৩ বছর পর রবার্ট বালারড নামক ফরাসি বিজ্ঞানী টাইটানিককে খুঁজে বের করেন। যে জাহাজটিকে অডুবন্ত বা আনসিংকেবল বলে আখ্যা দেয়া হয়েছিল সেই জাহাজটিই এখন সাগরতলের ১২ হাজার ৬০০ ফুট নিচে দ্বিখন্ডিত হয়ে পড়ে আছে। আর সাক্ষী হয়ে আছে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনার।