সন্তানকে কষ্ট করে অর্জন করতে শিক্ষা দিন,সব অন্যায় আব্দার মিটানো উচিৎ নয়।

Now Reading
সন্তানকে কষ্ট করে অর্জন করতে শিক্ষা দিন,সব অন্যায় আব্দার মিটানো উচিৎ নয়।

বাংলাদেশে এমনও বাবা আছেন,যারা সন্তানের আব্দার মেটারনোর জন্য হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ফেলেন।বিশেষ করে ধনীর দুলালদের ক্ষেত্রে এটি ঘটে থাকে।এক সন্তান বাবার কাছে,মোটরবাইক কিনে দেবার আব্দার করলো।বাবা যেহেতু কৌটিপতি,কোন অসুবিধা হলো না।পরদিনই সন্তানের চাহিদা পুরন করা হলো।বাংলাদেশে এমনও কিছু ধনীর দুলাল দুলারীর কথা আমরা পত্র-পত্রিকা মারফর জানতে পেরেছি,যাদের হাত খরচ নাকি মাসে লাখ টাকা।অথচ লাখ টাকায় অনেক গুলো মধ্যবিত্ত পরিবার চালানো সম্ভব।

ঘটনা এক:কিছুদিন আগের কথা, চট্রগ্রমের ফটিকছরির এক ছেলে বাবার কাছে মোটর সাইকেল কিনে দেবার আব্দার করেছিল।বাবা ছেলের আব্দার পূরন করার অল্প দিনের মধ্যে,সেই ছেলেটি মর্মান্তিক এক রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়।এর জন্য দায়ী কে? ছেলে ? আব্দার ? নাকি বাবা ?

ঘটনা দুই: আশির দশকের একটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করি,এক গরীব ঘরের সন্তান,বাবার কাছে একটি খেলনা ভিডিও গেইম কিনে দেবার আব্দার করেছিল।তখন এর দাম ছিল মাত্র ১২০টাকা।তার বাবা তাকে কষে একটা চড় দিয়েছিলো।চড়ের চোটে তার কান পুরা তব্দ হয়েগিয়েছিল।কানটা শুধু শন শন করছিল।মনে হচ্ছিল কানের ভিতর মশা ঢুকে ভন্ ভন্ করছে।ছেলেটিতো হতভম্ব,ভেবে পাচ্ছিল না, কি এমন গুরুতর অপরাধ করেছে,যে এত জোরে চর খেতে হলো।সে পরে বুঝেছিল,চড় নয় তাকে লাঠি দিয়ে পেটানো উচিৎ ছিল।পিতা বলেই সেদিন হয়তো,তাকে চড় মেরে মাফ করে দিয়েছিল।

তখনকার দিনে ১২০টাকার অনেক মূল্য ছিল।১২০ টাকায় দশ কেজী চাল পাওয়া যেত।অথবা দশ কেজী ময়দা পাওয়া যেত।অথবা সারা মাসের বাজার খরচ চলতো।

একটা চড় দিয়ে তার বাবা তাকে বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিল, তুমি স্বর্থপর হতে চলেছ।এভাবে আব্দার অব্যাহত থাকলে,তোমার কারনে,পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কিছু মৌলিক চাহিলা থেকে বঞ্চিত হবে।

সে যখন ভিডিও গেইমটি কেনার আব্দার করেছিল,তখন ছিল মাসের শুরু।তার বাবার পকেটে বেতনের টাকা ছিল।ইচ্ছে করলে,১২০ টাকা দিয়ে একটা ভিডিও গেইম কিনে দিতে পারতো।কিন্তু দেনটি।ছেলেটি দু:খও পেয়েছিল সাথে সাথে অবাকও হয়েছিল।সে এ ঘটনার পেছনে যুক্তি খোঁজার চেষ্টা করেছিল।

অবোধ শিশুটি সেদিন থেকে মনে মনে এ ঘটনার কারন খুঁজে যাচ্ছিল।ব্যাপারটি সে ভুলতে পারেনি,তার মনে ছিল অনেকদিন।মাসের শেষে এসে দেখল,তাদের সংসারের টানাটানি চলছে।তার মা অনেক কষ্টে,জমানো মুষ্টি চালে ভাত রান্না করছে।তখন সে বুঝতে পেরেছিল,তার অপরাধটা কোথায় ছিল।চড়ের ব্যাথ্যাটা সেদিন তার মনে শিক্ষা হয়ে গেঁথে গিয়েছিল।

ছেলেটি এ শিক্ষার ফলাফল, পরবর্তীতে তার জীবনে প্রতিফলন ঘটিয়েছিল।পিতার কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করেছিল যতদুর পেরেছে। হাই স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন,সে তার নিজের ইনকাম দিয়ে পড়া লেখার খরচ জুগিয়েছিল।মাঝে মাঝে ঈদে পিতা-মাতা,ছোট ভাই-বোনদের জন্য নতুন জামা কাপড় কিনে দিয়ে তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল।বাংলাদেশের বেশীরভাগ গরীব,মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জীবন চিত্র এরকম।

ফটিকছরির ঐ ছেলেটির বাবা যদি সেদিন বাইক কিনে না দিত,তাহলে সে আজ তার জীবনটা পরিপূর্ন করতে পারতো,অকালে লাশ হতে হতো না।তার পিতা যদি তাকে দুই লক্ষ টাকা দামের বাইকের মূল্য বুঝাতে পারতো,তবে সে বড় হয়ে পিতা মাতার প্রশান্তির কারন হতে পারতো।

কষ্টার্জিত আয়ের টাকায় কেনা জামা কাপড় গরীব ছেলেটির পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিল একটা চড়ের বিনিময়ে।বাইকের আব্দার মিটিয়ে নিহত ছেলের পিতা কি পেয়েছিল?

সন্তানকে এমন শিক্ষা দিতে হবে,কিভাবে কোন কিছু কষ্ট করে অর্জন করতে হয়? প্রয়োজনে শাসন করেত হবে। তার মনে, হিতাহিত জ্ঞানের উদয় করে দিতে হবে।তাহলেই সেই সন্তান বড় হয়ে পিতা মাতাকে শান্তি দেবে।পিতামাতার মুখ উজ্জল করবে।সন্তানের প্রতি যেমন থাকতে হবে ভালোবাসা এবং তেমনি পরিমিত পরিমানে শাসন করতে হবে।

ঘটা করে বা বিশেষ কোন দিবস করে পিতা মাতাকে ভালোবাসা দিতে হয় না।ভালোবাসা আসে হ্রদয় থেকে।আবার শাসন করতে হয় হিসেব করে।সন্তান যেন,শাসনের শিক্ষাটা মস্তিস্কে গেঁথে রাখে দীর্ধদিন।

ঘটনা তিন:একটি অভিজাত শপিং মলে বাবা তার শিশুটিকে নিয়ে হাঁটছেন।হঠাৎ শিশুটি একটি দোকানের ডিসপ্লেতে রাখা মোবাইল ফোন সেট দেখিয়ে বাবাকে বললো:বাবা,আমাকে এ ফোনটা কিনে দাও,এটা দিয়ে আমি গেইম খেলবো।পিতা তৎক্ষনাৎ ঐ ফোনটি কিনে তার সন্তানের হাতে তুলে দিল।মোবাইল ফোনটি দাম ছিল ৪০,০০০ টাকা।

বাচ্চাটির কাছে ৪০,০০০টাকার কোন দাম নেই।তার কাছে শখের মূল্যটাই বেশী।পিতার কাছেও সন্তানের আব্দারটাই বেশী।পিতা যদি তার সন্তানকে সেদিন বুঝাতে সক্ষম হতো,চল্লিশ হাজার টাকা দিয়ে বাংলাদেশের কমপক্ষে চারটি সংসারের এক মাসের খরচ মেটানো যায়।তার মতো আরো কয়েক হাজার গরীব শিশুর মুখে হাসি ফোটানো যায়।তাহলে বড় হয়ে বাইক কেনার আব্দার করতো না,বিপথে যেত না অথবা লাশ হতো না।

এমনও অনেক সন্তান আজ আমাদের দেশে বিপথগামী হয়েছে এবং হচ্ছে, শুধু মাত্র পিতামাতা কর্তৃক,অন্যায় আব্দার মেটানোর কারনে।সঠিক সময়ে শাসন না করার করণে।সে ছেলেরাই বৃদ্ধ বয়সে পিতা-মাতাকে কষ্ট দেয়।

সন্তানকে কষ্ট বুঝতে দিন।কষ্ট করে অর্জন করতে শিক্ষা দিন।যারা এখন বিশ্বের বড় বড় ধনী ব্যাক্তির আসন অলংকৃত করে আছেন,তাদের পিতাদের জীবনী ঘেটে দেখুন,তাদের পিতারা কেউ এত বড় মাপের ধনী ছিলেন না।কিন্তু পিতাদের সঠিক শিক্ষায়,আজ তারা সেরা ধনী হতে পেরেছেন।

প্রসংগ: অনলাইন/অফলাইন ফট্কাবাজি।

Now Reading
প্রসংগ: অনলাইন/অফলাইন ফট্কাবাজি।

অনলাইনে ইনকাম শিরোনামে কিছু ওয়েব সাইট, ইনভেষ্টমেন্ট প্লান অধিক লাভের লোভ দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ ধান্দাবাজি করে যাচ্ছে। ধান্দাবাজি চরম প্রকাশ আমরা দেখতে পাই ২০০৯-২০১০ সালের দিকে, তখন ইউনিপে টু ইউ নামক একটি ফটকাবাজ কোম্পানী দশ মাসে দ্বিগুন লাভ দেওয়ার লোভ দেখিয়ে হাজার হাজার কৌটি টাকা মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়ে, গা ঢাকা দিয়েছে। এরপর শুরু হয় আরো অনেক কোম্পানী তারা ইউনিপে টু ইউ এর দেখিয়ে দেওয়া পথ অনুসরন করে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের বেশীরভাগ মানুষ স্বল্প আয়ের, তাদের কাছে অধিক লাভ বিষয়টা খুবই গুরুত্ব বহন করে। সাধারন মানুষ মনে করে কিছু টাকা খাটিয়ে যদি দ্বিগুন বা তিনগুন ফেরৎ পাওয়া যায়, মন্দ কি ? তাই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে তারা ফাদেঁ পা দেয় এবং স্বর্বস্বন্ত হয়। আর এ ধরনের মানসিকতাকে পূঁজি করে কিছু অসাধু ব্যাক্তি দিনের পর দিন তাদের ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খোলসে।

আমরা অনেকেই ডেসটিনির নাম শুনেছি, আবার অনেকে এর দ্বারা আক্রান্তও হয়েছি। ডেসটিনি ছিল স্বপ্ন বিক্রয়ের একটি প্লট ফরম। যেখানে বেকার যুবকদের বড় বড় স্বপ্ন দেখিয়ে মগজ ধোলাই করা হতো। স্বপ্ন পূরনের আশায় যুবকেরা সহায় সম্বল বিক্রি করে টাকা দিয়ে ডেসটিনিতে ভর্তি হতো। তার পর একের পর এক লোক ভর্তি করানোর মেহেনত শুরু করতো। দেশের লক্ষ লক্ষ যুবক ডেসটিনির পেছনে ঘুরে ঘুরে তাদের জীবনে মূল্যবান কিছু সময় এবং ক্যারিয়ার নষ্ট করেছে, ফলাফল কি ? শূন্য।

এজাতীয় অনেক অনলাইন বা অফলাইন (ইনভেষ্টমেন্ট/এমএলএম/ফটকাবাজ) কোম্পানী বাংলাদেশে ছিল, এখনো আছে। অতীতের কিছু কোম্পানীর নাম এখানে উল্লেখ করছে: জিজিএন, নিউওয়ে, ডেসটিনি, রেভনেক্স, আপট্রেন্ড, টংচং, টিয়ানশি, রিচ্, গ্যাটিচ্, ইত্যাদি।  বর্তমানে কিছু কোম্পানী চলমান আছে: ওয়ার্ল্ড মিশন ২১, মানিলজিক, নভেরা, মিশন টেন ইত্যাদি।

এ কোম্পানী গুলো পণ্যের ছদ্দবেশে মানি গেমবলিং করে যাচ্ছে। এতে কিছু লোক লাভবান হচ্ছে, বেশীরভাগ লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ সকল কোম্পানী এম এল এম পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এম এল এম পদ্ধতি এমনি একটি পদ্ধতি যেখানে কোম্পানী লাভবান হবে, এবং গুটি কয়েক লোক (একশ জনে দুই জন বা তিন জন) লাভবান হবে।

এসকল কোম্পানী তাদের নিয়োজিত কর্মী দ্বারা সাধারন মানুষকে প্রলুব্ধ করে থাকে, তাদের কাজে সম্পৃক্ত করার জন্য, অধিক লাভের লোভ দেখিয়ে। এক পর্যায়ে একটা বিশাল এমাউন্ট তাদের হস্তগত হলে কোম্পানীর কযর্ক্রম বন্ধ করে দেয়।

এক হিসাবে দেখা যায়, শুধু মাত্র ইউনিপে টু ইউ পনেরশ কৌটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল, যা তৎকালীন পত্রিকা মারফত জানা যায়। সবগুলো কোম্পানীর হিসাব করলে হাজার কৌটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

উপরের চিত্র গুলো ছিল,কিছু কাল আগের ঘটনা। হাল আমলে, ফটকাবাজরা তাদের পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে, তারা এখন ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে অনেকটা অনলাইনে ব্যাবসা পরিচালনা করছে।

অধিক লাভের বিজ্ঞাপন দিয়ে, অনলাইনে বিভিন্ন সোস্যালমিডিয়াতে তারা বিজ্ঞাপন দেয়, তা দেখে সাধারন মানুষ প্রলুব্ধ হয় এবং ফলাফল স্বর্বস্বান্ত।বিশেষ করে, ফেইসবুকে এ বিজ্ঞাপন বেশী লক্ষ্য করা যায়। অনেকে ফেইসবুকে বিভিন্ন চটকদার নামে গ্রুপ খুলেও এ কাজটি করে থাকে।

বর্তমানে অনলাইনে কিছু সাইট আছে, যারা ইনকাম দেয়ার কথা বলে ইনভেষ্ট কালেকশন করে বা কাজ করিয়ে নেয়, কিন্ত পেমেন্ট দেয় না। তেননি কিছু সাইট হল: পিটিসি সাইট গুলো, মাইপেইং এড, মাইপেইং ক্রিপটো এড্, রেভশেয়ার,এমবিসি,মানিলজিক সহ আরো অনেক নাম না জানা সাইট।

এ সব সাইটে মূল্যবান সময় নষ্ট করা, এবং টাকা নষ্ট করা ছাড়া কোন ফলাফল নেই।অনেকের অভিমত যদি পাই, এই আশায় করি। কিন্তু পাওয়া যায় না, এটাই চিরন্তন সত্য কথা।

আমরা যদি একটু ভালো ভাবে চিন্তা করি, তাহলে এ গুলোর ভিতরকার জিনিস বুঝতে পারবো। কি এমন আলাদিনের চেরাগ তাদের হাতে আছে, যে আপনার এক টাকার বিনিময়ে সে আপনাকে দুই, তিন অথবা পাঁচ টাকা দিবে। তাদের যদি এতই ক্ষমতা থাকতো,তাহলে সাধারনের কাছ থেকে টাকা নেয়ার দরকার কি ? নিজের টাকা নিজেই তৈরী করে ইনকাম করুক না কেন ?

আগে এসব ফটকাবাজদের ধরা যেত, এখন তাদের ধরা যায় না। কারন তারা এখন অনলাইনে ব্যাবসা করে। আগের ফটকাবাজদের অনেকে এখন জেলে আছে। যেমন ডেসটিনির মালিক, ইউনিপেটুইউর মালিক এরা এখন জেলে। এখনকার ফটকাবাজরা চটকদার সাইট ল্ঞ্চ করে তারপর কিছুদিন সততার সাথে পেমেন্ট দেয়, মানুষের বিশ্বস্ততা অর্জন করে নেয়। একটা সময় বিপুল পরিমান টাকা তাদের হস্তগত হওয়ার পর সাইট বন্ধ করে দেয়। এরকম অনেক নজির আছে, দীর্ঘদিন পেমেন্ট দিয়ে সাইট বন্ধ করার। যেমন: এমপিএ এরা দীর্ঘ দুই বৎসর মানুষকে পেমেন্ট দিয়েছে, তারপর এমবিসি তারা দুই বৎসর পেমেন্ট দিয়েছে তারপর আসুন রিচমন্ডবার্ক, এরা ছয়মাস পেমেন্ট দিয়েছে, ট্রাফিমুনসুনও প্রায় দুই বৎসর পেমেন্ট দিয়েছে।

এ সকল ফটকাবাজদের একটা কৌশল হলো, তারা প্রথম প্রথম সততা দেখায়। তার পর সময় বুঝে এবং তহবিল কালেকশনের অবস্থা বুঝে সাইট বন্ধ করে দেয়।

এ সকল ফটকাবাজদের তৎপরতা রোধ করা খুবই কঠিন। অফলাইনে বা ফিজিক্যালি হলে, তাদের আইনের আওতায় আনা যায়। কিন্তু অনলাইনের ফটকাবাজদের কোনভাবে ধরা যায় না বা আইনের আওতায় আনা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা। আমরা যদি সবাইকে এদের সম্পর্কে সচেতন করি, তাহলে কেউ আর ফটকাবাজদের পাতা ফাঁদে পা দেবে না। আর যখন কেউ তাদের ডাকে সাড়া দেবে না, তখন তারা বাধ্য হবে, এ জাতীয় হীন অপতৎপরতা বন্ধ করতে।তথ্য সূত্র: বিভিন্ন পত্রিকা, ফেইসবুক, নিজের অভিজ্ঞতা।

মানুষ মানুষের জন্য !!

Now Reading
মানুষ মানুষের জন্য !!

প্রত্যেকের দিন সব সময় এক রকম যায় না। কখনো সুসময় আসে কখনো দু:সময় অাসে। এক সময়কার প্রাচুর্যশালী ব্যাক্তি এখন পথের ফকির, আপনার চারপাশে ভালোভাবে তাকালে এমন অনেক নজির আপনি খুজে পাবেন।

এখানে একজন ব্যাক্তির জীবন থেকে কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি, তার অনুরোধে আত্নসম্মানের খাতিরে নাম ও পরিচয় গোপন রাখার হলো(কিছু ছদ্ম নাম ব্যাবহার করা হলো):

সালাটি ছিল ২০০৫, আরিফ সাহেব সদ্য বিবাহ করেছে, অনেকটা বেকার অবস্থায়। বিয়েটা  পরিবারের চাপে পড়ে করতে হয়। আরিফ সাহেব মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান,তাসফিয়া উচ্চ বিত্ত পরিবারের কন্যা। বিবাহটা অনেকটা হঠাৎ করেই হয়ে যায়।

অনেকটা অগোছালো অবস্থায় এবং সম্পূর্ন বেকার অবস্থায় আরিফ সাহেব বিবাহ করেন। আগেই বলেছি পরিবারের চাপে পড়ে তাতে বিয়ে করতে হয়, নিজেকে গোছানোর মতো কোন সুযোগ সে পায়নি।

সংসার শুরু করার পর সংসার চালানোর চিন্তা, তাই তিনি হন্যে হয়ে চাকুরী খুজতেঁ থাকেন। অনেক খোঁজা খুজির পর তার কাছে একটা বায়িং হাউজে মার্চেন্ডইজিং জব এর অফার আসে, এক বনধুর মারফতে। কিন্তু বিধি বাম, ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে নিরাশ হতে হয়। অভিজ্ঞতা ছাড়া নিয়োগ দেয়া সম্ভব নয়। যেহেতু রেফারেন্সের চাকুরী, বন্ধুটি পরামর্শ দিলো কোন ট্রেনিং সেন্টার থেকে কোচিং করে অভিজ্ঞ হয়ে আসার জন্য। কিন্তু ট্রেনিং সেন্টারে কোচিং করতে লাগবে বেশ কিছু  টাকার মতো। এ পরিমান টাকা আরিফ সাহেবের পক্ষে যোগাড় করা অসম্ভব।

বাসায় এসে তার স্ত্রী তাসফিয়াকে জানালো। তার স্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করে বললো, কোন চিন্তা করো না, আমি আমার মা’য়ের কাছ থেকে তোমার জন্য টাকা এনে দেবো। কোর্স করলে যদি চাকুরী হয় এবং চাকুরী যেহেতু নিশ্চিত, টাকা আনতে কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু আরিফ সাহেব রাজী হচ্ছিলেন না, আত্নসম্মানের খাতিরে।

অনিচ্ছা সত্বেও স্ত্রীর পিরাপীরীতে, আরিফ সাহেব  স্ত্রী তাসফিয়াকে সাথে করে  শ্বশুর বাড়ি গেলেন। আরিফ সাহেব টাকা ঠিকেই পেয়েছিলেন কিন্তু সাথে পেয়েছিলেন কিছু অকথ্য অপমান এবং তুচ্ছ তাচ্ছিল্য, তার শ্বশুরী এবং শ্যালকের কাছ থেকে। দিনটি ছিল ২০০৬ সালের ২৯ এপ্রিল। রাত ১১টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত শ্বাশুরী আর শ্যালক মিলে তার দারিদ্রতা,বেকারত্ব,আর্থিক অবস্থা, পৈতৃক অবস্থা ইত্যাদি উত্থাপন করে তাকে যাচ্ছেতাই অপমান করে।

অপমানের তীব্রতা এত বেশী ছিল যে, আরিফ সাহেব সে রাতে এক ফোটাঁও ঘুমাতে পারেনি। আরিফ সাহেবেন ভাস্য: ” আমি নিজে থেকে তো টাকা চাইতে আসি নাই, আমার স্ত্রী বড় মুখ করে আমাকে নিয়ে এসেছিলো তার মায়ের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দেবে, এই কথা বলে, এখন উল্টো অপমান আমাকেই সহ্য করতে হচ্ছে।”

শুশুর বাড়ি আনিয়ে তাকে চরমভাবে অপমান করা হলো,অসহায়ত্বের সুযোগে। আরিফ সাহেবের, রাগে দু:খে মরে যেতে ইচ্ছে করছিল। ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে, আল্লাহ দরবারে দু’হাত তুলে চোখেরে পানি ফেলল। তারপর কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে বেরিয়ে গেল।

এটা ছিলো এক জন আরিফ সাহেবেন ঘটনা, এরকম হাজারো আরিফের মতো অসহায় যুবক বাংলাদেশে আছে। সাহায্য সহযোগীতা করে নয় শুধু মাত্র উৎসাহ, সহমর্মিতা এবং সঠিক গাইড লাইনের মাধ্যমে তাদেরকে আমরা পথ দেখাতে পারি। সবাই রাজা বাদশার ঘরে জন্মায় না। তাই বলে তার অস্বচ্ছলতা বা দারিদ্রতায় আপনি তাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করবেন, এটা হওয়া উচিৎ নয়। বিশেষ করে দেখা যায়, আমাদের পারিবারিক জীবনে এক ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। আত্নীয় স্বজনদের মধ্যে কেউ দরিদ্র থাকলে স্বচ্ছল আত্নীয়রা তাকে পাত্তা দেয় না বা পরিচয় দিতে চায় না। পাছে, যদি সে সাহায্য চেয়ে বসে। একটি কথা চিরন্তন সত্য যে, আজ যে ধন বা টাকা পয়সা আপনার হাতে আছে, আল্লাহ যদি তা কেড়ে নেয় কাল ঐ সকল দরিদ্র আত্নীয় স্বজনদের কাতারে আপনিও সামিল হবেন, তখন কিভাবে মুখ লুকাবেন ?

কারো দারিদ্রতা, অসহায় অবস্থ্যায়, দুরাবস্থায়, দুর্দিনে তাকে উপহাস,অপমান,প্রবঞ্চনা করা উচিৎ নয়। আপনাকে সাহায্য করতে হবে না, আপনি কাউকে ধনী বা গরীব বানাবার ক্ষমতা রাখেন না। সকল ক্ষমতা আল্লাহর হাতে। আপনি সমবেদনা, সহমর্মিতা জানাতে পারেন। তার জন্য দো’য়া করতে পারেন।

এক জন ব্যাক্তি গরীবের ঘরে জন্ম গ্রহণ করেছে, এটা তার অপরাধ নয়। বরংচ  অপরাধ সেটাই আপনি তার দারিদ্রতাকে তুচ্ছ, তাচ্ছিল্য করেছেন।

মহান আল্লাহর দরবারে ধনী-গরীব কোন ভেদাভেদ নাই। মসজিদে যেমন ধনী এবং গরীব এক কাতারে নামাজ পড়ে। মৃত্যুর পর যেমন ধনী এবং গরীব একই মাটির কবরে শায়িত হয়।  তবে কেন এত ভেদাভেদ, এত উচু নীচু ফারাক ?

আমরা কি পারি না আমাদের মানবিকতাকে জাগ্রত্ব করতে ?  প্রাচুর্যের অহংকার, দম্ভ রোধ করতে। মানবিকতা, সহানুভুতিকে জাগ্রত করতে।

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যায় সময়, রয়ে যায় স্মৃতি। আরিফ সাহেব আজও দীর্ধ প্রায় বারো বছর যাবৎ বুকের মাঝে বয়ে চলছে, শ্বশুরবড়ির সেই অবজ্ঞা, অপনাম। তার প্রতিটি দীর্ধশ্বাস এখনো তাকে অশ্রুশিক্ত করছে। এখনো সেদিনের কথা মনে করে আরিফ সাহেব নীরবে কাঁদেন। এ যাতনা বিরহের নয়, এ যাতনা না পাওয়ার নয়। এ যাতনা সহানুভুতিহীনতার। আরিফ সাহেবের মতো প্রতিটি মজলুমের দীর্ধশ্বাস গুলো আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ-আকুতি হয়ে ডুকরে কাঁদছে। আর যেন কোন আরিফ সাহেবকে অসহায় অবস্থায় অবজ্ঞার সম্মুখীন হতে না, দারিদ্রতার কারনে।

আজ এ লেখাটি কিছু ব্যাক্তি বিশেষকে উপলক্ষ্য করে লেখা। যারা এর সাথে যারা সম্পৃক্ত শুধু তারাই বুঝতে পারবে। এ লেখার সাথে যদি কারো জীবনের কোন ঘটনা মিলে যায় তার কাছে ক্ষমা প্রার্থী। কাউকে আঘাত করার জন্য নয়, এখান থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য লেখাটির অবতারনা।

এটি একটি বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে লেখা তাই এখানে কোন প্রকার রেফারেন্স প্রদান করা সম্ভব হলো না।

 

স্বাধীন চাকুরী – ফ্রিল্যান্সিং

Now Reading
স্বাধীন চাকুরী – ফ্রিল্যান্সিং

আমাদের সমাজের একটি প্রচলিত নিয়ম হলো, লেখাপড়া শেষ করে চাকুরী করতে হবে। যে যত উচ্চ শিক্ষিত, সে তত বড় চাকুরী করবে।বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট খুবই নাজুক, চাকুরী যেন সোনার হরিণ। চাইলেই কেউ তার মেধা অনুযায়ী, চাকুরী যোগাড় করতে পারছে না। পদের তুলনায়, প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশী। প্রতিযোগীতা এতই বেশী যে, এতটি পদের বিপরীতে লক্ষ লক্ষ প্রার্থী প্রতিযোগীতায় অবতীর্ণ হচ্ছে। একটি চাকুরী পাওয়ার জন্য কতই না কাঠ খড় পোড়াতে হয়। সরকারী চাকুরী ? সে তো বাঘের চোখ ! একটি সরকারী চাকুরী কোন প্রকৃয়ায় পেতে হয় তা আর না ই বা বললাম।ইনকাম করার জন্য, একজন শিক্ষিত যুবকের চাকুরী করা ব্যাতীত অন্য কোন রাস্তা খোলা থাকে না।যত দিন না চাকুরী পাওয়া যায়, তত দিন পরিবারের লাঞ্চনা গঞ্জনা শুনতে হয়, এত দুর লেখা পড়া করালাম বেকার বসে থাকার জন্য ? অমুকের ছেলে কত ভালো চাকুরী করছে। তুই কেন পাচ্ছিস না।শিক্ষা একজন যুবককে ছোট কাজ করতে বাধা দেয়(না পারে রিক্সা চালাতে, না পারে চুরি করতে), তার আত্নসম্মান বোধ তাকে এটি করতে দেয় না।অপরদিকে না পাচ্ছে চাকুরী।এভাবে চাকুরী খুঁজতে খুঁজতে কত যুবকের সরকারী চাকুরীর বয়স পার হয়ে যাচ্ছে, তার কোন হিসাব নাই বা করলাম। তারপর আসুন আপনি যদি ভাগ্যগুনে কোন রকমে একটি চাকুরী পেলেন, তারপর আপনাকে অবশ্যই একটি টাইম মেইনটেইন করতে হবে।বসের কথা অনুযায়ী চলতে হবে। স্বাধীনতা নামক কোন জিনিস চাকুরীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অপিসে যথাসময়ে প্রবেশ করতে হবে, কোন প্রকার দেরী সহ্য করা হবেনা,কিন্তু কয়টায় ছুটি হবে তার জন্য বসের মুখের পানে তাকিয়ে থাকতে হবে। এরপর আছে কাজের পাহাড়,সব কাজ আজকের মধ্যেই শেষ করতে হবে, বসের এমন তাগাদা। এরকম যখন পরিস্থিতি, অপার সম্ভাবনার একটি পথ ইনকামের সুযোগ নিয়ে এসেছে-পথটি হলো ফ্রিল্যান্সিং।ফ্রিল্যান্সিং মানে হলো মুক্তপেশাজীবি।এখানে কোন বস নেই, নেই কোন টাইম ডিউরেশন, নেই কোন টেনশন। একজন ব্যাক্তি যখন এ কাজের সাথে সম্পৃক্ত হয় তাকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সার। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য কোন অফিস প্রয়োজন হয় না, আপনি স্বাধীন ভাবে নিজের ঘরে বসে এ কাজটি করতে পারবেন, আপনার সুবিধাজনক সময়ে।ফ্রিল্যান্সিং অনেক ভাবে করা যায়। যেমন: মার্কেট প্লেসে বায়ারের চাহিদানুযায়ী কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে, কোন পণ্য মার্কেটিং করার মাধ্যমে যাকে বলা হয় এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, কোন কিছু লেখা লেখির মাধ্যমে যাকে বলে আর্টিক্যাল রাইটিং, কোন কিছু না জেনেও ফ্রিল্যান্সিং করা যায়(টাইপিং জানেন ? আপনার জন্য ডাটা এন্ট্রি জব)। এরকম হাজারো কাজ অনলাইন জগতে আছে, খুজে নিতে হবে। মার্কেটপ্লেস নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়। বাংলাদেশের লক্ষাধিক শিক্ষিত যুবক মার্কেট প্লেসে কাজ করে ইনকাম করছেন। মার্কেট প্লেস হলো এমন একটি প্লাটফরম যেখানে বায়ার এবং ফ্রিল্যান্সারের যোগাযোগ, অর্ডার সাবমিট এবং পেমেন্ট প্রকৃয়া সম্পাদন করা হয়।এমনই কিছু মার্কেট প্লেস হলো: আপওয়ার্ক, ফাইভার, ফ্রিল্যান্সার, গুরু, এসইওক্লার্ক ইত্যাদি। এসব মার্কেট প্লেসে লক্ষ লক্ষ কাজ আছে, যা থেকে ফ্রিল্যান্সারা বিড করার মাধ্যমে কাজ করে ইনকাম করে থাকে। এবার আসুন বিড কাকে বলে ? বিড হলো অনেকটা নিলামের মতো, বায়ার একটি কাজের প্রস্তাব উত্থাপন করে রেইট চাইবে, ফ্রিল্যান্সাররা রেইট দিবে। সর্ব নীম্ন রেইট প্রদান কারীকে বায়ার যাচাই বাছাইয়ের পর কাজ দেবে। এভাবেই মূলত: মার্কেট প্লেস ‍গুলো থেকে ফ্রিল্যন্সাররা কাজ করে থাকে। কিছু মার্কেট প্লেস আছে যেখানে ফ্রিল্যান্সাররা রেইট উল্লেখ করে কাজের অফার দেয় এবং বায়ার সে অনুযায়ী অর্ডার সাবমিট করে।যারা প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সার তারা কোন না কোন একটি বিষয়ের উপর দক্ষ। তাই ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার আগে যে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা হলো দক্ষতা অর্জন করা। মার্কেট প্লেস গুলোতে দক্ষ ফ্রিল্যান্সারের ডিমান্ড খুব বেশী এবং কাজের তুলনায় দক্ষ ফ্রিল্যান্সারের অনেক অভাব।ক্যারিয়ার হিসাবে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য যে সব বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সে গুলো হলো: গ্রাফিক্স ডিজাইন, লোগো ডিজাইন, এসইও এক্সপার্ট জব, ই-মেইল মার্কেটিং, প্রোগ্রামিং, কোডিং, ওয়েব ডেভেলাপ, ওয়েব ডিজাইন সহ আরো অনেক বিষয়।একজন ফ্রিল্যান্সারকে আগে লক্ষ্য স্থির করতে হবে যে, সে কোন বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহী অথবা কোন বিষয়টা তাকে মজা দেয়। কারণ যে কাজে মজা নেই সে কাজ সঠিকভাবে সম্পাদন করা যায় না। যেমন মনে করুন, আমি আর্টিক্যাল রাইটিং বিষয়টায় খুব আনন্দ উপভোগ করি, তাই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আর্টিক্যাল লিখা আমার ফ্রিল্যান্সিং এর বিষয়।তাই আমি একজন আর্টিক্যাল রাইটার। তদ্রুপ আপনাকেও আগে স্থির করতে হবে বিষয়, তারপর কাজে নামতে হবে।ফ্রিল্যান্সিং ধারনাটি সর্বস্তরে তেমন পরিষ্কার নয়, অনেকটা ধোঁয়াশা। ফ্রিল্যান্সিং করে ইনকাম করা যায় অথবা আউটসোর্সিং করে ইনকাম করা যায় এমন ধারনাকে পূজি করে কিছু অসাধু ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান ধান্দাবাঁজি করে যাচ্ছে লোক চক্ষুর অন্তরালে। যেনতেন কোর্স করিয়ে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।উদিয়মান এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য দরকার সরকারী তদারকী।কারন এখাতটি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হয়, যা ফরেন রেমিটেন্স হিসাবে আসে।কিছু ভালো মানের প্রতিষ্ঠানও আছে, যারা দক্ষ ফ্রিল্যান্সার তৈরীতে ভূমিকা পালন করছে। পরিশেষে বলবো, চাকুরী নামক সোনার হরিনের পেছনে না ছুটে, সারা দিন বেহুদা মোবাইল ফোনে ফেইসবুকিং না করে আসুন সঠিকভাবে প্রশিক্ষন গ্রহণ করে ফ্রিল্যান্সিং করি।নিজে স্বাবলম্বী হই, দেশের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করি।  তথ্য সূত্র: ফেইসবুক, গুগল, ইউটিউব এবং মস্তিস্ক নি:সৃত ধারণা।

কারেন্সী ট্রেডিং প্লাটফরম: ফরেক্স-হ্যান্ডসাম ইনকামের একটি উৎস।

Now Reading
কারেন্সী ট্রেডিং প্লাটফরম: ফরেক্স-হ্যান্ডসাম ইনকামের একটি উৎস।

ফরেক্স হলো কারেন্সী ট্রেডিং এর বিশ্ব সীকৃত একটি প্লাট ফরম। যেখানে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের কারেন্সী পেয়ার আকারে ট্রেড করা হয়।যদিও বা ফরেক্স ট্রেডিং বিষয়টা উন্নত বিশ্বের জন্য অনেক পুরাতন একটি বিষয়, আমাদের দেশের সুশীল সমাজের জন্য এটি এখনো নতুন বিষয়ই রয়ে গেছে। বিশ্বে ফরেক্সের বয়স আনুমানিক প্রায় ৫০ বৎসর হতে চলেছে। হাল আমলে আমাদের দেশের কিছু শিক্ষিত যুবক এই প্লাটফর্মে কাজ করে ভালোই টাকা আয় করছে এবং সংসার চালাচ্ছে।

ফরেক্স কি ? এ বিষয়টাকে অনেকে অনেক ভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। বিশ্বঅর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বিবেচনায়, এক এক দেশের অর্থনীতির ধারা এক এক রকম।ব্যাবসায়ীক মন্দা, যুদ্ধ-বিগ্রহ, নতুন নতুন আবিষ্কার সহ প্রতিটি ঘটনা এক একটি দেশের অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলে। প্রতিটি দেশের মূদ্রা ব্যাবস্থ্যার উপর প্রভাব ফেলে। মূলত: ফরেক্স পরিবর্তিত পরিস্থিতির উপর প্রভাবান্বিত হয়ে পরিচালিত হয়। ফরেক্স ধারনাটিকে এ ভাবে এক কথায় বলা যায়, একটি দেশের মূদ্রার বিপরীতে আর একটি দেশের মূদ্রার উত্থান বা পতনের পর যে ক্রয় বা বিক্রয় মূল্য নির্ধারিত হয় তাই ফরেক্স। যে প্লাট ফরমে বা মার্কেটে এ সকল মূদ্রার কেনা-বেচা হয় তাকেই বলে ফরেক্স মার্কেট।মূদ্রার বিপরীতে মূদ্রার ক্রয় বিক্রয় করে এ মার্কেট থেকে প্রফিট করা হয়।একটি উদাহরণ দিলে আরো পরিষ্কার হবে, যেমন মনে করুন আপনার কাছে একটি ইউ এস ডলার আছে, আপনি উহা যদি এখন কোন ব্যাংক বা ব্রোকার হাউসে ভাংগান এর বিপরীতে আপনি পাবেন বাংলাদেশী টাকায় ৭৮ টাকা।আবার কোন কোন দিন, আরো বেশী টাকা পেতে পারেন ৮০ টাকাও পেতে পারেন।এখানে মূদ্রার পেয়ার হলো ইউএসডি/বিডিটি।ডলারের মান বাড়লে টাকা মান কমবে, আবার ডলারের মান কমলে টাকা মান বাড়বে।তদ্রুপ ফরেক্স মার্কেটে দুটি দেশের পেয়ার নির্দ্দিষ্ট করে ট্রেড হয়। যেমন: ইউরো/ইউএসডি,জিবিপি/ইউএসডি, ইউরো/ জিবিপি ইত্যাদি।পেয়ারে যে দেশের মূদ্রার মান বেশী থাকে সেটি থাকে উর্দ্ধগামী বা আপট্রেন্ড, আর যে দেশের মূদ্রার মান কম থাকে সেটি থাকে নীম্নগামী বা ডাউনট্রেন্ড।একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থ্যা কর্তৃক ফরেক্স নিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত হয়।

ফরেক্স ট্রেড, যে কেউ করতে পারবে, তবে প্রথমে তাকে ট্রেড শিখতে হবে। তারপর ট্রেডিং প্লাটফরর্মে ইনভেষ্টমেন্টের মাধ্যমে নামতে হবে। সমসাময়িক কালে, আমাদের দেশের বেকার যুবকগণ যথাযথভাবে ট্রেডিং না শিখে ট্রেডি করতে গিয়ে সর্বসান্ত হয়েছে এবং হচ্ছে।একটা সময় হাতে রেখে, ধৈর্য্য সহকারে ট্রেডিং শিখতে হয়। প্রথমে ডেমো প্লাট ফরমে অনুশীলন করতে হয়, তার পর পাকা হলে পুজি নিয়ে নামা উচিৎ। অনেকের মধ্যে একটা ভুল ধারনা কাজ করে, ফরেক্স থেকে রাতারাতি বড় লোক হওয়া যায় – না ধারনাটি সম্পূর্ণই ভুল। এটাতে একটা নির্দ্দিষ্ট পুজি নিয়ে শুরু করবেন, প্রফিটের টার্গেট থাকেবে দিনে ৫%, তবে আপনি দীর্ধদিন টিকে থাকতে পারবেন।মনে করুন আপনি ১০০ ডলার নিয়ে শুরু করেছেন, আপনার প্রফিট হয়েছে ৩ থেকে ৫ ডলার। যথেষ্ট, ট্রেড বন্ধ করে দিন। আবার কালকে ট্রেড করুন।

তাহলে দেখা যায় গড় পরতা আপনি মাসে কমপক্ষে ৭০ থেকে ৮০ ডলার প্রফিট রাখতে পারবেন।কেউ যদি দিনে ১০০ ডলারকে ২০০ ডলারে উন্নিত করতে যায়, লসে পরার সম্ভাবনা থাকে বেশী।এই প্লাট ফর্মে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রফিট নিয়ে আগানোই শ্রেয়।ফরেক্সে অনেক ধরনের ট্রেডিং আছে, লং টাইম ট্রেডিং, শর্ট টাইম ট্রেডিং(যাকে বলে স্ক্যাল্পিং),নিউজ ট্রেডিং, স্ট্যাট্রেজি ট্রেডিং।স্ট্যাট্রেজি ট্রেডিংটাই মূলত ভালো প্রফিট আনয়ন করে দেয়।স্ট্যাট্রেজি ট্রেডিং করার জন্য কিছুটা লেখাপড়া এবং গবেষনার প্রয়োজন পড়ে। ফরেক্সে অনেক রকম স্ট্যাট্রেজি আছে। যেমন: বাৎসরিক ট্রেড স্ট্যাট্রেজি, মানথলি ট্রেড স্ট্যাট্রেজি, উইকলি ট্রেড স্ট্যাট্রেজি, ডেইলি ট্রেড স্ট্যাট্রেজি, আওয়ারলী ট্রেড স্ট্যাট্রেজি, ক্যানড্যাল স্টিক স্ট্যাট্রেজি ইত্যাদি।ফরেক্সের প্রতিটি ট্রেড শুরু হয় এক একটি গ্রাফ বা ক্যানড্যাল নিয়ে। ক্যানড্যাল ওপেনিং এবং ক্লোজিং এর ক্যারেকটারের উপর নির্ভর করে পরবর্তী ট্রেড কি হবে। ক্যানড্যাল স্টিক এক এক সময় এক এক প্যাটার্ণে উপনিত হয়। পূর্বের প্যাটার্ণ পর্যালোচনা করে পরবর্তী ট্রেডিং ডিসিশিন নিতে হয়। শুধু মাত্র ক্যানড্যাল স্টিক স্ট্যাট্রেজি ফলো করে, একজন ট্রেডার প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার আয় করতে পারে। প্রায় ৫০০ ক্যানড্যাল স্টিক প্যাটার্ণ অদ্যাবধি আবিষ্কৃত হয়েছে। একজন ট্রেডার ইচ্ছা করলে, গ্রুপ ট্রেডিংও করতে পারে। গ্রুপ ট্রেডিং ব্যাপারটা এমন, ২ জন, ৩জন বা একাধিক ব্যাক্তি মিলে একটা টিম গঠন করে গ্রুপ ট্রেড করা হয়। গ্রুপে এক এক জনকে এক এক বিষয়ে অভিজ্ঞ হয়ে হবে।তারা তাদের মতামত সমন্বয় করে ট্রেড করতে পারে। এছাড়াও হায়ার ট্রেড করা যায়, ব্যাপারটা এমন আপনার পূজি কিন্তু ট্রেড করবে একজন অভিজ্ঞ ট্রেডার, এর জন্য ট্রেডার প্রফিটের উপর একটি পারসেনটেজ নিবে। হায়ার ট্রেডের জন্য আপনাকে কোন প্রকার অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হবে না। দরকার শুধু একজন বিশ্বস্ত এবং অভিজ্ঞ ট্রেডার।

ফরেক্স মূলত ট্রেড হয় আমাদের দেশের শেয়ার বাজারের মতো এক একটি ব্রোকার হাউসের মাধ্যমে। ‍যিনি ট্রেড করতে চান, তাকে একটি নমিনেটেড (রেগুলেটরী কমিটি কর্তৃক নিবন্ধিত)ব্রোকার হাউসে একাউন্ট করতে হয়। তার পর নীতিমালা মেনে ট্রেড করতে হয়। প্রতিটি ব্রোকার হাউস কারেন্সী হিসাবে ডিজিটাল ই-কারেন্সী ব্যাবহার করে থাকে। যেমন: স্ক্রিল,পেপাল, পেইজা, পারফেক্টমানি ইত্যাদি।অনলাইনে এ পর্যন্ত যে সব ব্রোকার হাউসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তাদের মধ্যে হটফরেক্স,ইনস্ট্যাফরেক্স,এডমিরালমার্কেটস,রোবোফরেক্সের নাম অন্যতম।সোসালমিডিয়ার কল্যানে কিছু কিছু ফরেক্স ব্রোকারেজ হাউসের ফিজিক্যাল অফিসের শাখার ঠিকানা পাবেন বাংলাদেশে।পেশা হিসাবে ফরেক্স ট্রেড শুরু করতে চাইলে কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখা আবশ্যক।যেমন: যথাযথা প্রশিক্ষণ গ্রহণ, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা, সঠিক ব্রোকারেজ হাউস(এফএসএ অথবা এফসিএ রেগুলেটর ব্রোকারেজ হাউস), লোভ বা রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন ত্যাগ করতে হবে।ফরেক্স ব্যাপারটা এতই বিশাল যা এত স্বল্প আলোচনায় বুঝিয়ে বলা সম্ভব নয়। ফরেক্স সম্পর্কে আরো জানতে উইকিপিয়া, গুগল, ইউটিউব সার্চ করুন, অনেক তথ্য পাবেন। পরিশেষে বলতে চাই, আগে শিখুন তারপর নামুন-সময় নিয়ে,তাহলেই এই সেকট্র থেকে ভালো কিছু করতে পারবেন।তথ্য সূত্র: উইকিপিয়া, গুগল, ইউটিউব এবং ফেইসবুক ফরেক্স ট্রেডিং গ্রুফ।

মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েনের জনক সাতোসি নাকামোতো।

Now Reading
মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েনের জনক সাতোসি নাকামোতো।

সাতোসি নাকমোতো ২০০৮ সালে প্রথম পিয়ার টু পিয়ার পদ্ধতিতে ডিজিটাল কারেন্সী বিটকয়েন ধারনাটি উদ্ভব করেন।অনলাইন জগতে ৯ জানুয়ারী ২০০৯ সালে এটি আত্নপ্রকাশ করে।সাতোসি নাকামোতো একজন জাপানী নাগরিক।। ১৯৭৫ সালের ৫ এপ্রিল তার জন্ম। ক্রিপটোগ্রাফী, ডিজিটাল কারেন্সী এবং কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে তিনি লেখাপড়া করেছেন।তার ব্যাক্তিজীবন নিয়ে কোন তথ্য এখনো জানা যায়নি।

বিটকয়েন আবিষ্কারের পর থেকে বহু বছর ধরে এর আবিষ্কারকে মিডিয়া খুজে বেড়াচ্ছিল। কোন ভাবেই তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সাতোসি নামামোতো একজন রহস্যময় মানব। তিনি কোনভাবেই নিজেকে আত্নপ্রকাশ করতে উৎসাহী নন।তিনি সর্বদাই আন্ডার গ্রাউন্ডে থাকতে পছন্দ করেন।কারণ বিটকয়েন এত বেশী জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে, বড় বড় অর্থনীতি বিদ এবং ব্যাংকারের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাড়িয়েছে।আর একটি কারন হলো, ব্যাংকিং সেক্টর চাইবে না বিটকয়েন পপুলার হয়ে যাক। যেহেতু বিটকয়েনের কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থ্যা বা নিকাশ ঘর নেই।সাতোসি নাকামোতো মনে করতেন, তার পরিচয় ফাঁস হয়ে গেলে তাকে হয়তো অবমূল্যায়ন করা হবে।

বিশ্বের বড় বড় গোয়েন্দ সংস্থ্যা এবং সাংবাদিকেরা, একটা সময় বিটকয়েনের মালিককে খুজে বের করার জন্য তৎপরতা শুরু করে। এবং তারা একটা সময় ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত এক ব্যাক্তি যার নাম ডোরিয়েন নাকামোতো, তাকে বিটকয়েনের আবিষ্কারক হিসাবে সনাক্ত করে। ডোরিয়েন নাকামোতো সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে বলেছিলেন, তিনি জীবনে কোনদিন বিটকয়েনের নামই শোনেন নি।এভাবে তারা আরো অনেককে সাতোসি নাকামোতো হিসাবে সনাক্ত করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু সফল হয়নি।সাতোসি নাকামোতো কখনো তার নিজের কোন ইনফরমেশন প্রকাশ করতেন না।

২০১২ সালে পি টু পি ফাইন্ডেশন প্রোফাইলে তিনি উল্লেখ করেন, তার বয়স ৩৭ বৎসর জাপানে বসবাস করতেন।তার ইংরেজী উচ্চারন সঠিক ও শুদ্ধ, বিটকয়েন সফটওয়ার জাপানী কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তৈরী করা নয়, এ দুটি বিষয় বিবেচনয়ায় বিশেষজ্ঞগণ নিশ্চিত হন তিনি জাপানি নন।উচ্চারণে বৃটিশ ইংরেজীর টান থাকায়, মনে করা হয় তিনি কমনওয়েলথ ভুক্ত কোন দেশের নাগরিক।বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থ্যা এবং মিডিয়া, কিছু কিছু লোককে সাতোসি নাকামোতো ভেবে ভুল করেছেন। সাতোসি নাকামোতো একজন দক্ষ এবং ব্রিলিয়ান্ট কোডার। তিনি তার কোডিং জ্ঞানের মাধ্যমে বিটকয়েন সার্ভার পরিচালনা করে থাকেন।তার নিজের পি টু পি একাউন্টে প্রায় এক মিলিয়ন বিটকয়েন আছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩৫০০ মিলিয়ন ডলার।তিনি যদি এই বিপুল পরিমান বিটকয়েন বাজারে ছাড়েন, তাহলে তিনিই হবেন বিশ্বের সেরা ধনীদের মধ্যে একজন।

কিন্তু আগেই বলেছি তিনি একজন রহস্যমানব, রহস্যজনক কারনে তিনি এত বিপুল পরিমান বিটকয়েন বাজারে ছাড়ছেন না।বিটকয়েনের অসাধারন ক্ষমতার কারনে, বিশ্ব নোবেল কমিটি সাতোসি নাকামোতোকে ২০১৬ সালে পুরষ্কারের জন্য মনোনীত করেছিল। বিটকয়েনের ব্যাবহার বেশী হয় ডিপ ওয়েব বা সিল্করোড সার্ভারের ব্ল্যাক মার্কেট গুলোতে।টেরোরিষ্ট এবং ড্রাগ ডিলারদের পছন্দের কারেন্সী এই বিটকয়েন।বিটকয়েন এমনই একটি কারেন্সী যা অতিমাত্রায় স্বাধীন। সাতোসি নাকামোতো সকল মনিটরিং সিস্টেম এবং তদারকীকে পাশ কাটিয়ে বিটকয়েনের উদ্ভব করেন।বর্তমান বিশ্বে সেন্ট্রাল ব্যাংক, বিশ্ব ব্যাংক এবং সরকারী যেসব তদারকী চালু আছে, বিটকয়েন প্রতিষ্ঠিত হলে সব তদারকী ব্যাবস্থ্যা ভেংগে পড়বে।

তারপরও বিটকয়েনের লাগামহীন জনপ্রিয়তাকে মেনে নিয়ে, কিছু উন্নত রাষ্ট্র বিটকয়েন ব্যাবহারকারীদের নিবন্ধন প্রকৃয়া চালু করেছে।সাতোসি নাকামোতো সম্পর্কে যতটুকু জানা গেছে তার সবটাই পি টু পি ওয়েব সার্ভারের তথ্যের উপর ভিত্তি করে। সাতোসি নাকামোতো আসলেই কি বিটকয়েনের মালিক কি না, অথবা ওয়েব সাইটে যার ছবি আমরা সাতোসি নাকামোতো হিসাবে পেয়েছি, সে আসল মালিক কিনা, এটা এখনো নিশ্চিত নয়।তারপরও এই ডিজিটাল কারেন্সীটি, যে রেভুলেশন ঘটিয়ে যাচ্ছে সেটাই এখন বিবেচ্য বিষয়।নিয়ন্ত্রন না থাকার কারনে যে কেউ মাইনিং এর মাধ্যমে বিটকয়েন উৎপাদন করতে পারে। তার জন্য প্রয়োজন ইন্টারনেট কানেকশন এবং কম্পিউটার।

এক হিসাবে দেখা যায়, এক জন ব্যাক্তি যদি শুধু বিটকয়েন মাইনিং এর কাজে নিয়োজিত থাকে,তবে সে এক বৎসর সময়ের মধ্যে একটি বিটকয়েন বানাতে পারবে। যার বাজার মূল্য ৩০০০ ডলার।বিটকয়েনের ক্ষুদ্রতম একক হলো সাতোসি।দশ কৌটি সাতোসি সমান এক বিটকয়েন।সাতোসি নাকামোতো এমন একটি সিস্টেম করেছেন, বিটকয়েন যেন অবমূল্যায়ন না হয়।তার জন্য সে প্রতি চার বৎসর অন্তর অন্তর উৎপাদিত বিটকয়েন অর্ধেকে নামিয়ে আনেন বা বাজার মূল্যের সাথে সামাঞ্জস্য করেন। এ প্রকৃয়াটিও অটো ওয়েব সার্ভারের মাধ্যমে হয়ে থাকে।সাতোসি নাকামোতো বিটকয়েনকে এমন একটি আনব্রেকএবল ক্রিপটোগ্রাফিক সীস্টেমের মাধ্যমে কোডিং করেছেন, যা হাইলি সিকিউরড্।কোন ভাবেই এটি চুরি বা হ্যাকিং করা সম্ভব নয় বা হ্যাকিং এর প্রয়োজনও পড়ে না। আপনার বিটকয়েন প্রয়োজন ? মাইনিং করে প্রয়োজন মতো উৎপাদন করুন। কোন লিমিটেশন নেই, কোন তদারকী নেই,কোন জবাবদিহিতা নেই।প্রত্যেক গ্রাহকের বিটকয়েন ওয়ালেট ডিজিটাল সিগনেচার দ্বারা ভেরিফাইড।ওয়ালেটের মালিক ব্যাতিত অন্য কেউ তা ব্যাবহার করতে পারবে না।বিশ্ব অর্থনীতি এখন ডিজিটাল কারেন্সী নির্ভর।বিটকয়েন হচ্ছে, সকল কারেন্সীর রাজা।ডিজিটাল ক্রিপটোকারেন্সীর জনক সাতোসি নাকামোতোর অবস্থান বা পরিচয় জানাটা এ মূহুর্তে খুব জরুরী বিষয় নয়, জরুরী বিষয় হলো ক্রিপটো কারেন্সীর রেভুলেশনের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতিকে সামাঞ্জস্যপূর্ণ করা।সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা।এখন দেখার বিষয়, বিটকয়েনের মূল্য কি পরিমান বৃদ্ধি পায়? বিশেষজ্ঞ মহল ধারনা করছেন ২০১৭ সালের ডিসেম্বর নাগান এর মূল্য ৫০০০ ডলারে উন্নিত হবে।

তথ্য সূত্র:ফেইসবুক বিটকয়েন মাইনিং গ্রুফ,উইকিপিডিয়া,গুগল,ইউটিউব।

মনোযোগ দিয়ে অপরের কথা শ্রবণ করা মানে তাঁকে সম্মান দেখানো।

Now Reading
মনোযোগ দিয়ে অপরের কথা শ্রবণ করা মানে তাঁকে সম্মান দেখানো।

আমরা প্রতি নিয়ত গল্প গুজব করে থাকি, আড্ডা দিয়ে থাকি। গল্পের আলোচ্য বিষয় থাকে রাজনীতি, নাটক, সিনেমা, সমসাময়িক ঘটনা ইত্যাদি। কিন্তু একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন, কিছু ব্যাক্তি আছে বিজ্ঞের মতো বক্তৃতা দিয়েই (কথা বলে) যাচ্ছে অন্যের কথা শুনছে না বা কর্ণপাত করছে না।বা অন্যকে কিছু বলার সুযোগ দিচ্ছে না।আমরা প্রতিনিয়ত একই বিষয় বিভিন্ন জনের মুখে যখন শুনতে পাই তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে বলি, জানি এটা, এটা এমন, ওটা এমন। তখন ঔ ব্যাক্তিটার মন ক্ষুন্ন হয়। মনে করুন, আপনি একই গল্প একশ জনের কাছ থেকে একশ বার শুনেছেন। একশ জনকে বলার সুযোগ দিয়েছেন। কাউকে থামিয়ে দেন নি। সম্পূর্ণ গল্পটিই বার বার শুনেছেন।ফলাফল কি হবে ? ঐ একশ জনের কাছে আপনি প্রিয় পাত্রে পরিণত হবেন। আবার কেউ কিছু বলা শুরু করেছে, তাকে ভুলেও থামিয়ে দেবেন না অথবা তার কথার মধ্যে অন্য কোন প্রসংগ উত্থাপন করবেন না।যদি তার কথায় অমনোযোগী হন, অথবা অন্য প্রসংগে চলে যান তবে সে মনে করবে তাকে অবহেলা করছেন।

প্রায়ই দেখা যায়, আপনি একজনের সাথে খুব গুরুত্বসহকারে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, সে তখন, আলোচনার মধ্যে মধ্যে ফোনে কথা বলছে অথবা তার পাশ্ববর্তী কারো সাথে অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলছে, এতে করে আপনার মনের অবস্থা কেমন হবে একবার ভাবুন তো।প্রত্যেকটা ব্যাক্তির ব্যাক্তিত্ব আছে। সে হোক বড় লোক, হোক গরীব লোক। কথা বলা এবং শোনার অধিকার সবার আছে। কথা বলতে পারলে মনটা হালকা হয়, তেমনি কথা শুনলে অপরের প্রতি আপনার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।

আমরা আমাদের ছাত্রজীবনে দেখেছি শিক্ষক ক্লাসে পড়ে শুনাতেন তারপর বুঝিয়ে দিতেন। শিক্ষকের বুঝিয়ে দেওয়া পড়াটি পরবর্তীতে শিখতে বা মনে রাখতে খুব বেশী কষ্ট হতো না।এবং সেটা অনেকদিন মনে থাকতো। পরীক্ষার খাতায় অনায়াসে লেখাও যেত।শ্রবণ করা একটি বড় গুন। যথাযথভাবে শ্রবণ করলে তা সঠিক ভাবে প্রয়োগ করা যায়। আমরা যদি ভুল শ্রবণ করি তাহলে ফলাফল হয় খুবই মারাত্নক।যেমন মনে করুন, টিভির একটা বিজ্ঞাপনের কথা বলি: স্ত্রী দুর থেকে স্বামী বললো বাজার থেকে হাঁস কিনে আনার জন্য, স্বামী শুনলো বাঁশ। ভাবুনতো ফলাফলটা কি হবে। শুধু শ্রবণ করলেই হবে না হ্রদয়াঙ্গম করতে হবে। অর্থাৎ কনফার্ম হতে হবে।আমরা বিভিন্ন মাহফিলে বা মিটিং এ জ্ঞানী ব্যাক্তিদের কথা শ্রবণ করতে যাই। কারন কি ? তাদের কথার মধ্যে দিক নির্দেশনা থাকে। থাকে বাস্তবতা।

সর্বোপরি থাকে অভিজ্ঞতা। তাদের কথা শ্রবণ করা মানে তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা। প্রকারান্তে তাঁকে সম্মান করা।কিছু লোক আছে অন্যের কথা বা মতামতকে আমলেই নেয় না বা অবজ্ঞা করে অথবা সরাসরি নাকচ করে দেয়। এটি একটি অত্যন্ত বাজে অভ্যাস। কারো কথা বা মতামত যাচাই বাছাই না করে অবজ্ঞা করার অধিকার কারো নেই।শুধু মাত্র অপরের মতামতকে অসম্মান করার কারনে, আমাদের পরিবারে এবং সমাজে প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকে।মত প্রকাশ করা, অপরকে কিছু বলা এবং অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এই তিনটি কাজ খুবই সহনশীল ভাবে করতে হয়। অপরের কথা শোনার সময় মূলত চরম সহনশীলতার পরিচয় দিতে হয়।

আরেকটি খারাপ গুণ, আমাদের মধ্যে আছে তা হলো মতামত চাপিয়ে দেয়া। এক প্রকার জোর করে, না চাইলেও মানতে হয় অপরের মতামত। হোক সেটা সঠিক বা ভুল। এমন ঘটনা পরিবারে বেশী ঘটে থাকে, স্বামী তার স্ত্রীর উপর না চাইলেও কিছু নীতি বা আদর্শ অথবা মতামত চাপিয়ে দেয়। এটি হরহামেশাই ঘটে থাকে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে স্বল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত পরিবার গুলোতে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। স্ত্রী গণও স্বামীর বাক্যকে বেদবাক্য জ্ঞান করে, তা মেনে চলে।হরহামেশাই আর একটি ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, দুর্বলের উপর সবলের মতামত চাপিয়ে দেয়া। এটাও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে গ্রামের অশিক্ষিত মানুষের মধ্যে ঘটি থাকে।

গ্রামের কিছু মোড়ল প্রকৃতির সবল ব্যাক্তি, তাদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এজাতীয় কাজ গুলো হরহামেশা করে থাকে।অপরদিকে আরো কিছু ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, ক্ষমতাধর ব্যাক্তি কর্তৃক দুর্বল ব্যাক্তিদের উপর না চাইলেও মতামত চাপিয়ে দেয়া বা মতপ্রকাশের কন্ঠকে রোধ করার মতো ঘটনা।এ জাতীয় ঘটনা গুলো শহরাঞ্চলে ঘটতে দেখা যায়। তখন আর শিক্ষিত এবং অশিক্ষিত কোন ভেদাভেদ থাকে না। বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু ঘটনা ঘটতে দেখা যায়, নেতা নেত্রী বা মন্ত্রী এমপি রা জনগনের মতামতের তোয়াক্কা না করে নিজের হীন স্বার্থ হাসিল করার জন্য গনবিরোধী কিছু কাজ করে থাকে, যা দেশ ও জাতির জন্য অনিষ্ঠকর।পারিবারিক জীবন, সমাজ জীবন এমনকি রাষ্ট্রীয় জীবন প্রতিটি ক্ষেত্রে অপরের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা সর্বোপরি অপরকে সম্মান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

বি:দ্র: এ লেখাটি সম্পূর্ণই বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া। আমাদের চারপাশের ঘটনাগুলোই এ লেখার তথ্য সূত্র।অনেক গবেষনা এবং চিন্তা ভাবনার ফল হলো আমার এ লেখাটি। অত্যন্ত দু:খজনক হলেও সত্য যে, কিছু লোক সরাসরি কপি করে আমার লেখা সোস্যালমিডিতে পাবলিশ করছে, এতে আমার কোন ক্ষোভ নেই। যদি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতো অথবা তথ্য সূত্র হিসাবে রেফারেন্স দিতো তাহলে ভালো লাগতো নিজের কষ্টটাকে স্বার্থক মনে হতো।ধন্যবাদ মনোযোগ দিয়ে আমার লেখাটি পড়ার জন্য।আশা করি আরো চিন্তা প্রসূত এবং গবেষনা লব্ধ লেখা আপনাদের উপহার দিতে পারবো ইনশাল্লাহ।

মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েন যা স্বর্ণের চেয়েও দামী।

Now Reading
মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েন যা স্বর্ণের চেয়েও দামী।

প্রথমে আসুন জানার চেষ্টা করি, ক্রিপটোকারেন্সী কাকে বলে ? ক্রিপটোকারেন্সী যার শাব্দিক অর্থ দাড়ায় গুপ্ত ধন বা লুকায়িত অর্থ।ক্রিপটোগ্রাফিক প্রোটকলের মাধ্যমে লেনদেন হওয়া সাংকেতিক মূদ্রাকে বলা হয় ক্রিপটোকারেন্সী । ক্রিপটোকারেন্সী মূলত: লেনদেন হয় ওপেন সোর্স  সার্ভারের এর মাধ্যমে।বর্তমান সময়ের মহা মূল্যবান ক্রিপটোকারেন্সী হচ্ছে বিটকয়েন।

বিটকয়েন কোন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা নিয়ন্ত্রনকারী প্রতিষ্ঠান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না, কোন কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এটির নিয়ন্ত্রন করে না বা নিয়ন্ত্রন করার প্রয়োজন পরে না।

বিটকয়েন ধারনাটি প্রথম ২০০৮ সালে ডিজিটাল কারেন্সী (পিয়ার টু পিয়ার মূদ্রা) হিসাবে অনলাইনে আর্বিভূত হয়।এবং ৯ জানুয়ারী ২০০৯ সালে এটি আত্নপ্রকাশ করে।

বিটকয়েনের আবিষ্কারক হলেন সাতোসি নাকামোতো। ১৯৭৫ সালের ৫ এপ্রিল সাতোসি নাকামোতোর জন্ম।তিনি একজন জাপানী নাগরিক।তিনি ক্রিপটোগ্রাফী, ডিজিটাল কারেন্সী এবং কম্পিউটার সাইন্স নিয়ে লেখাপড়া করেছেন।বিটকয়েন একটি সুরক্ষিত সার্ভারের মাধ্যমে মাইনিং প্রকৃয়ায় উৎপন্ন এবং সংরক্ষিত হয়।প্রতি চার বৎসর অন্তর অন্তর উৎপাদিত বিটকয়েন অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয় অথবা বিটকয়েনের সংখ্যা পুন:নির্ধারন করা হয় প্রচলিত মূদ্রার মানের সাথে সামঞ্জস্য রাখার জন্য এবং একটা নির্দ্দিষ্ট পরিমান বিটকয়েন তৈরী হয়ে গেলে আর কোন নতুন মাইনিং বা উৎপাদন করা হবে না।মজার ব্যাপার হলো, বিটকয়েন মাইনিং এর মাধ্যমে যে কেউ বিটকয়েন উৎপাদন করতে পারবে। বিটকয়েন উৎপাদনের প্রাথমিক ধাপ হলো সাতোসি উৎপাদন করা।১০,০০,০০,০০০(দশ কৌটি)সাতোসি = ১ বিটকয়েন।বিটকয়েন মাইনিং বা আয় করার অনেক সাইট আছে, যা থেকে মাইনাররা বিটকয়েন উৎপাদন করে থাকে। অনেকে বিটকয়েন ক্রয় করে সংরক্ষন করে রাখে এবং তা দাম বাড়লে বিক্রয় করে।বিটকয়েন উৎপাদনের পর, তা যার যার ডিজিটাল ওয়ালেটে সংরক্ষিত থাকে।একজন গ্রাহক বিটকয়েন ক্রয়-বিক্রয় করতে চাইলে ওয়ালেট টু ওয়ালেট ট্রান্সফার দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করতে হয়।প্রতিটি ওয়ালেট সংরক্ষিত থাকে গোপন অথচ সুরক্ষিত ইলেকট্রনিক সিগনেচারের মাধ্যমে।

বিটকয়েন মাইনিং বা আয় করার কিছু ওয়েব সাইট আছে, যে গুলো দিয়ে মাইনাররা প্রতিদিন সাতোসি এবং বিটকয়েন উৎপাদন করে থাকে।কোন কোন সাইট আছে যা প্রতি এক মিনিট অন্তর অন্তর বিটকয়েন মাইনিং করার সুযোগ দেয়, কোনটি প্রতি পাঁচ মিনিট অন্তর অন্তর, কোনটি প্রতি ঘন্টায় আবার কোন প্রতি ২৪ ঘন্টায়।এ সাইট গুলোর মধ্যে ফ্রি সাইটও আছে, পেইড সাইটও আছে।এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে, একপ্রকার অসাধু ব্যাক্তি বিটকয়েন মাইনিং এর নাম করে পেইড সাইটের মাধ্যমে সরলমনা মানুষদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, তার পর ওয়েব সাইট বন্ধ করে দিচ্ছে।তাই বিশেষজ্ঞের মতামত, মাইনিং বা বিটকয়েন আয় করার সাইটে কাজ করার পূর্বে যাচাই করে নিতে হবে, সে সাইটটি ভেরিফাইড কিনা ? অথবা এর কোন ক্লেইম আছে কিনা?

বিটকয়েন আয়ের জন্য বর্তমান সময়ের কিছু ফ্রি,জনপ্রিয় এবং ভেরিফাইড সাইট হলো: ফ্রি বিটকো ডট ইন, বিটকো ইনকার ডট কম ইত্যাদি।এরা বিগত তিন বৎসর যাবৎ ব্যাবহারকারীদের পেমেন্ট দিয়ে যাচ্ছে এবং কোন ক্লেইম নেই, রেপুটেশনও ভালো।একজন ব্যাক্তি বা মাইনার প্রতি ২৪ ঘন্টায় মাইনিং এর মাধ্যমে ৩০,০০০ সাতোসি থেকে ১,০০,০০০ সাতোসি আয় করতে পারে।মাইনিং এর মাধ্যমে একজন ব্যাক্তি যদি এক বিটকয়েন আয় করতে চায়, তাহলে তার কমপক্ষে এক বৎসর সময় লাগতে পারে।এক হিসাবে দেখা যায়, যদি কেউ এক বৎসরে এক বিটকয়েন আয় করে, তবে তার মাসে আয় দাড়ায় ২২৫ ডলার।১ বিটকয়েন = ২৭০০ ডলার। ভাগ ১২ মাস = ২২৫ ডলার।যা বাংলাদেশী টাকায় দাড়ায় ১৮,০০০ টাকা (প্রায়)। প্রতিটি সাইট থেকে আয়কৃত সাতোসি বা বিটকয়েন একটি বিটকয়েন ওয়ালেটে সংরক্ষণ করে রাখতে হয়।বিটকয়েন ওয়ালেট বা বিটকয়েন এড্রেস হলো একটি সুরক্ষিত রক্ষনাগার যেটা একটি সার্ভারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এবং পরিচালিত হয়।প্রতিটি ওয়ালেট একটি অটো সার্ভার সিগনেচার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।এই ওয়ালেট গুলো ব্যাবহারকারীরা কিছু প্রকৃয়া সম্পাদনের মাধ্যমে ব্যাবহার করে থাকে। একজন ইচ্ছা করলে, আর একজনের ওয়ালেটে প্রবেশ করতে পারবে না।এমনই কিছু বিটকয়েন ওয়ালেট এড্রেস হলো: কয়েন বেইস ডট কম, লোকাল বিটকয়েন ডট কম ইত্যাদি।

বিটকয়েনের জনপ্রিয়তা এবং ব্যাবহার এতই দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার সাথে পাল্লা দিয়ে অন্যকোন কারেন্সী দাড়াতে পারছে না। গত ২০১৬ সালের জানুয়ারী মাসে এক বিটকয়েনের মূল্য ছিলো ৪২০ ডলার তা এখন বেড়ে দাড়িয়েছে ২৭০০ ডলারের মতো(৩০ জুলাই ২০১৭ এর হিসাব অনুযায়ী)।এটি বর্তমানে স্বর্ণের চাইতেও দামী, বর্তমানে এক ভরি স্বর্ণের দাম ৪২,০০০টাকা (প্রায়)বাংলাদেশের বাজার মূল্য অনুযায়ী। বিশ্ব অর্থনীতিবিদগণ আশংকা করছেন, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এর মূল্য ৫০০০ডলারে উন্নিত হতে পারে। গুগলে btc to usd লিখে সার্চ দিলে প্রতিদিনকার আপডেট রেইট পাওয়া যাবে।বিটকয়েনের কোন নিয়ন্ত্রক না থাকায় এর ব্যাবহার আশংঙ্কাজনক ভাবে অর্থ-পাচারকারী, চোরাকারবারী এবং অবৈধ মাদক ব্যাবসায়ীদের মধ্যে দ্রুত প্রসার লাভ করছে।নিয়ন্ত্রনহীনতার কারনে, এটির মাঝে মাঝে মারাত্নকভাবে দরপতন ঘটে আবার দরের উর্ধ্বমূখী অবস্থান হয়ে যায়।মাঝে মাঝে আবার এটি দুষ্প্রাপ্যও হয়ে উঠে। এসব কারনে বিটকয়েন আলোচিত এবং সমালোচিত বিশ্ব-অর্থনীতিতে। অতি সম্প্রতি কানাডা এবং আমেরিকা সরকার অর্থ-পাচারকারী, চোরাকারবারী এবং অবৈধ মাদক ব্যাবসায়ীদের নিয়ন্ত্রনের লক্ষ্যে, বিটকয়েন ব্যাবহারকারীদের নিবন্ধনের আওতায় আনার চিন্তা ভাবনা করছে।কানাডায় বিশ্বের প্রথম বিটকয়েন এটিএম বুথ চালু করা হয়। বিটকয়েনের জনপ্রিয়তা দেখে, আরও কিছু কারেন্সী বাজারে আত্নপ্রকাশ করেছে। যেমন: ইথিরাম, সুইসকয়েন, লাইটকয়েন, ডগিকয়েন ইত্যাদি। তবে এগুলো মূল্যের দিক দিয়ে, বিটকয়েনের ধারে কাছেও ঘেষতে পারে নাই।আগামীতে ইনশাল্লাহ, সোনার চেয়েও মূল্যবান কারেন্সী বিটকয়েনের জনক সাতোসি নাকামোতোকে নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ লেখার আশা রাখি।

তথ্য সূত্র:উইকিপিডিয়া,গুগল,ইউটিউব,ফেইসবুক বিটকয়েন মাইনিং গ্রুফ।

প্রসংগ: লেনদেনের মাধ্যম-কারেন্সী ।

Now Reading
প্রসংগ: লেনদেনের মাধ্যম-কারেন্সী ।

শুরুর কথা: সৃষ্টির শুরু থেকে মানুষ, পণ্য বা সেবা তার নিজের চাহিদা অনুযায়ী আদান প্রদান করে আসছে। শুরুতে আদান প্রদান করার কোন মাধ্যম না থাকায়, মানুষ পণ্যের বিনিময়ে পণ্য বা সেবা আদান-প্রদান করতো। যেমন কারো কাছে শষ্য আছে, সে অন্যের সাথে শষ্যের বিনিময়ে বস্ত্র গ্রহণ করছে। এতে করে সমস্যা সৃষ্টি হলো, মানুষ তার চাহিদা মতো পণ্য বা সেবা আদান-প্রদান করতে পারতো না।  মূলত: চাহিদার কথা বিবেচনা করেই, বিনিময়ের জন্য একটি মাধ্যম সৃষ্টি করা হয়। প্রাথমিকভাবে স্বর্ণ মুদ্রা বা রৌপ্য মুদ্রাকে বিনিময়ের মাধ্যম করা হয়। বিনিময়ের এ মাধ্যম পরবর্তীতে কাগজী নোটে রুপান্তর হয়। আর এই কাগজী নোট বা বিনিময়ের মাধ্যমই হলো কারেন্সী। তাই এক কথায় বলা যায়, মানুষ তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্য-সেবা প্রাপ্তির জন্য যে মাধ্যমকে অবলম্বন করে লেনদেন করে থাকে তাকে কারেন্সী বলে।

কারেন্সীর প্রকার ভেদ:সৃষ্টির শুরু থেকে অদ্যাবধি যে সকল কারেন্সী ব্যাবহ্রত হয়েছে এবং হচ্ছে, সকল বিষয় বিবেচনায় কারেন্সীকে বেশ কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: কয়েন বা মেটাল কারেন্সী(ধাতব মূদ্রা), পেপার কারেন্সী(কাগজী নোট), ভার্চুয়াল কারেন্সী ইত্যাদি।

মেটাল কারেন্সী হলো: স্বর্ণ মূদ্রা, রৌপ্য মূদ্রা, ব্রোঞ্জ মূদ্রা, কপার মূদ্রা ইত্যাদি।রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গোল্ড কয়েন ব্যাবহ্রত হতো: (১) বৃহৎ কোন ক্রয়ের বিপরীতে মূল্য পরিশোধের জন্য,(২) সামরিক খাতের অর্থ পরিশোধের জন্য,(৩)রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমর্থন আদায়ের জন্য।  স্বর্ণ  বা রৌপ্য মূদ্রার প্রচলন এখন নেই বললেই চলে, এখন কিছু কিছু দেশে পিতল, তাম্র, এলুমিনিয়াম বা অন্যান্য ধাতব মূদ্রা প্রচলিত আছে।

পেপার কারেন্সী: এ কারেন্সীটি সহজে পরিবহন যোগ্য এবং বিনিময় যোগ্য হওয়ায় বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব পেপার কারেন্সীর প্রচলন করে পণ্য এবং সেবার বিনিময় করে আসছে বহুদিন যাবৎ। কিছু পেপার কারেন্সী হলো: টাকা(বাংলাদেশ),রুপি(ভারত-পাকিস্থান),ডলার(আমেরিকা),পাউন্ড(বৃটেন),রিয়েল(সৌদি আরব) ইত্যাদি।

ভার্চুয়াল কারেন্সী: বর্তমানে একটি কারেন্সী বিশ্ব অর্থনীতিকে অনেকাংশে নিয়ন্ত্রন করছে, সেটা হলো ভার্চুয়াল কারেন্সী। ব্যাবহার এবং আকার প্রকার দর্শনে ভার্চুয়াল কারেন্সীকে বেশ কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: ই-কারেন্সী, ক্রিপটো কারেন্সী, ডিজিটাল কারেন্সী ইত্যাদি।

ই-কারেন্সী: আধুনিক যুগটা হলো ইন্টারনেট নির্ভর যুগ। ই-কারেন্সী বা ইলেকট্রনিক কারেন্সী হলো ইন্টারনেট নির্ভর একটি কারেন্সী। ই-কারেন্সী কোন নির্দ্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের জন্য নয় এটার বিস্তার সারা বিশ্ব ব্যাপি। কয়েকটি ই-কারেন্সী হলো: পেপাল, পেইজা, স্ক্রিল,পারফেক্টমানি,পেইয়ার ইত্যাদি। যে কেউ এসকল ই-কারেন্সীতে হিসাব খুলতে পারবে, সুনির্দ্দিষ্ট নীতিমালা মেনে।

ক্রিপটো কারেন্সী: বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত একটি কারেন্সীর নাম হলো ক্রিপটো কারেন্সী। ক্রিপটোকারেন্সী কোন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হয় না। এটি মূলত ডিসেন্ট্রালাইজড পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। ওয়েব সার্ভার ডিজিট জেনারেট করে। সেই ডিজিট ভার্চুয়াল কারেন্সী হিসাবে ব্যাবহ্রত হয়। হাল আমলে সবচেয়ে দামী এবং জনপ্রিয় ক্রিপটোকারেন্সী হলো: বিটকয়েন। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ২৫০০ থেকে ৩০০০ ডলারের মধ্যে উঠা নামা করছে। বিটকয়েন এর জনপ্রিয়তা দেখে বাজারে আরো কিছু ক্রিপটোকারেন্সী এসেছে। যেমন: ইথিরাম, সুইসকয়েন, লাইটকয়েন,ডগিকয়েন ইত্যাদি।

ডিজিটাল কারেন্সী: বর্তমান সময়ে ডিজিটার কারেন্সী খুবই জনপ্রিয় একটি লেনদেনের মাধ্যম হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে টাকা ট্রান্সফার করার জন্য এ কারেন্সীর কোন জুড়ি নাই। ডিজিটাল কারেন্সী মূলত ডিজিট বেইসড লেনদেনের মাধ্যম। ডিজিটের আদান-প্রদানের মাধ্যমে এই লেনদেন সম্পাদিত হয়ে থাকে। অর্থের বিনিময়ে ডিজিট ক্রয় করতে হয়। বেশ কিছু ডিজিটাল কারেন্সী হলো: ওয়েষ্টার্ন ইউনিয়ন, বিকাশ, রকেট ইত্যাদি। এসব মাধ্যম দিয়ে একজন গ্রহীতা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে খুব দ্রুত এবং সহজে অর্থের আদান-প্রদান করতে পারে।

ওয়েষ্টার্ন ইউনিয়ন: এটি আর্ন্তজাতিক পরিসরে আর্থিক আদান-প্রদানের একটি ডিজিটাল মাধ্যম। বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে ডিজিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে ওয়েষ্টার্ন ইউনিয়ন দিয়ে টাকার আদান প্রদান করা হয়।

বিকাশ: এটি মোবাইল ফোন ভিত্তিক অর্থ আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম। এক জন গ্রাহক তার মোবাইল ফোনে বিকাশ ডিজিট ক্রয়ের মাধ্যমে এ লেনদেন সম্পাদন করতে পারে। বিকাশ মূলত পরিচালিত হয়, বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটির নাম হলো: ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। গ্রামাঞ্চলের জনগন যারা ব্যাংকিং কর্মকান্ডের সাথে সারাসরি সম্পৃক্ত হতে পারছে না তাদের কথা বিবেচনা করে বিকাশ কাজ শুরু করে। বিপুল পরিমান মোবাইল ব্যাবহার কারীদের মধ্যে প্রধানত এ সেবার কাজ পরিচালিত হচ্ছে।    ডিজিটাল কারেন্সী জগতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিকাশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে।

রকেট: আরেকটি বাংলাদেশী ডিজিটাল কারেন্সী আদান-প্রদানের মাধ্যম হলো রকেট। এটিও একটি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ব্যাংকটির নাম হলো ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটিড। তবে এটি বিকাশের মতো অতোটা ব্যাপকতা লাভ করতে পারেনি। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে বিকাশের অবস্থান শীর্ষে।

পরিশেষে, কারেন্সী বিষয়ক আলোচনা স্বল্প পরিসরে শেষ করা সম্ভব নয়। এটা একটা বিশল জগৎ। অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কারেন্সী। সৃষ্টির শুরু হতে আজ পর্যন্ত লেনদেনে যত মাধ্যম প্রচলন হয়েছে, সবগুলোকেই কারেন্সী হিসাবে পরিগনিত করতে হবে। এটা হোক ধাতব মুদ্রা, হোক কাগজী মূদ্রা অথবা হোক ভার্চুয়াল ডিজিট।তাবে আগামীতে কারেন্সী নিয়ে একটা বিপ্লব দেখা যাবে সারা বিশ্বে, যে বিপ্লব ঘটাবে প্রধানত ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েন।কারন এটি তার নিজস্ব গতিতে কোন নিয়ন্ত্রন ছাড়া চলতে চলতে এখন সারা বিশ্বের দামী কারেন্সীতে রুপান্তরিত হয়েছে।আগামীতে ক্রিপটোকারেন্সী বিটকয়েন নিয়ে একটি আর্টিক্যাল লিখার আশা রাখি।

বি:দ্র:এখানে উল্লেখিত সম্পূর্ন আলোচনাটি মস্তিস্ক প্রসূত মতামত নির্ভর তাই কোন তথ্য সূত্র দেয়া হলো না।